বাংলাদেশ চিকিৎসা শিক্ষা অ্যাক্রেডিটেশন আইন, ২০২৩
চিকিৎসা শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিতকরণের উদ্দেশ্যে চিকিৎসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহ এবং উক্ত প্রতিষ্ঠানসমূহের শিক্ষা কার্যক্রমকে অ্যাক্রেডিটেশন সনদ প্রদানের উদ্দেশ্যে প্রণীত আইন
চিকিৎসা শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিতকরণের উদ্দেশ্যে চিকিৎসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহ এবং উক্ত প্রতিষ্ঠানসমূহের শিক্ষা কার্যক্রমকে অ্যাক্রেডিটেশন সনদ প্রদানের উদ্দেশ্যে প্রণীত আইন যেহেতু চিকিৎসা শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিতকরণের উদ্দেশ্যে চিকিৎসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহ ও উক্ত প্রতিষ্ঠানসমূহের চিকিৎসা শিক্ষা কার্যক্রমকে অ্যাক্রেডিটেশন সনদ প্রদান এবং চিকিৎসা শিক্ষা প্রদানকারীদের মান নিয়ন্ত্রণ ও তদারকি করিবার লক্ষ্যে কাউন্সিল প্রতিষ্ঠাসহ আনুষঙ্গিক অন্যান্য বিষয়ে বিধান প্রণয়ন করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়; সেহেতু এতদ্দ্বারা নিম্নরূপ আইন করা হইল :-
Section ১. সংক্ষিপ্ত শিরোনাম ও প্রবর্তন
(১) এই আইন বাংলাদেশ চিকিৎসা শিক্ষা অ্যাক্রেডিটেশন আইন, ২০২৩ নামে অভিহিত হইবে।
(২) সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, যে তারিখ নির্ধারণ করিবে সেই তারিখে এই আইন কার্যকর হইবে।
- এস, আর, ও নং ০২-আইন/২০২৪, তারিখ: ০২ জানুয়ারি, ২০২৪ ইং দ্বারা ১৮ পৌষ, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ মোতাবেক ০২ জানুয়ারি, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ উক্ত আইন কার্যকর হইয়াছে।
Section ২. সংজ্ঞা
বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থি কোনো কিছু না থাকিলে, এই আইনে-
(১) “অ্যাক্রেডিটেশন” অর্থ নির্ধারিত মানদণ্ডে উত্তীর্ণ চিকিৎসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি;
(২) “অ্যাক্রেডিটেশন সনদ” অর্থ ধারা ১৬ এর অধীন কাউন্সিল কর্তৃক প্রদত্ত অ্যাক্রেডিটেশন সনদ;
(৩) “কমিটি” অর্থ এই আইনের অধীন গঠিত কমিটি;
(৪) “কাউন্সিল” অর্থ এই আইনের ধারা ৪ এর অধীন প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ চিকিৎসা শিক্ষা অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিল;
(৫) “চিকিৎসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান” অর্থ চিকিৎসক, ডেন্টাল সার্জন, নার্স ও চিকিৎসা সহায়তাকারীসহ চিকিৎসা পেশাজীবীদের ডিপ্লোমা, স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে শিক্ষাদানে নিয়োজিত চিকিৎসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান;
(৬) “চেয়ারম্যান” অর্থ কাউন্সিলের চেয়ারম্যান;
(৭) “নির্ধারিত মানদণ্ড” অর্থ প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত মানদণ্ড;
(৮) “প্রবিধান” অর্থ এই আইনের অধীন প্রণীত প্রবিধান;
(৯) “বিধি” অর্থ এই আইনের অধীন প্রণীত বিধি;
(১০) “রেজিস্ট্রার” অর্থ কাউন্সিলের রেজিস্ট্রার; এবং
(১১) “সদস্য” অর্থ কাউন্সিলের সদস্য।
Section ৩. আইনের প্রাধান্য
আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইনে ভিন্নতর যাহা কিছুই থাকুক না কেন, চিকিৎসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অ্যাক্রেডিটেশনের ক্ষেত্রে এই আইনের বিধানাবলি প্রাধান্য পাইবে।
Section ৪. কাউন্সিল প্রতিষ্ঠা
(১) এই আইন কার্যকর হইবার পর সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, বাংলাদেশ চিকিৎসা শিক্ষা অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিল নামে একটি কাউন্সিল প্রতিষ্ঠা করিবে।
(২) কাউন্সিল একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা হইবে এবং ইহার স্থায়ী ধারাবাহিকতা ও একটি সাধারণ সিলমোহর থাকিবে এবং এই আইনের বিধানাবলি সাপেক্ষে, ইহার স্থাবর ও অস্থাবর উভয় প্রকার সম্পত্তি অর্জন করিবার, অধিকারে রাখিবার ও চুক্তি সম্পাদন করিবার ক্ষমতা থাকিবে এবং ইহা স্বীয় নামে মামলা দায়ের করিতে পারিবে এবং ইহার বিরুদ্ধেও মামলা দায়ের করা যাইবে।
Section ৫. কাউন্সিলের কার্যালয়
(১) কাউন্সিলের প্রধান কার্যালয় ঢাকায় থাকিবে।
(২) কাউন্সিল, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, বাংলাদেশের যে কোনো স্থানে উহার আঞ্চলিক বা শাখা কার্যালয় স্থাপন করিতে পারিবে।
Section ৬. কাউন্সিলের গঠন
(১) কাউন্সিল নিম্নবর্ণিত সদস্য সমন্বয়ে গঠিত হইবে, যথা:-
(২) ধারা ৬ এর উপধারা (১) এর দফা (ক), (ঙ), (ত) এবং (থ) তে উল্লিখিত মনোনীত সদস্যগণ পূর্ণকালীন এবং অবশিষ্ট সদস্যগণ খণ্ডকালীন সদস্য হইবেন।
Section ৭. চেয়ারম্যান
(১) কাউন্সিলের, সরকার কর্তৃক মনোনীত, একজন চেয়ারম্যান থাকিবে, যিনি অধ্যাপক পদমর্যাদার ১ (এক) জন জ্যেষ্ঠ চিকিৎসক হইবেন।
(২) চেয়ারম্যানের নিয়োগের শর্তাদি সরকার কর্তৃক স্থিরীকৃত হইবে এবং তিনি কাউন্সিলের প্রধান নির্বাহীর দায়িত্ব পালন করিবেন ও কাউন্সিলের সভায় সভাপতিত্ব করিবেন।
(৩) চেয়ারম্যান তাহার নিয়োগের তারিখ হইতে পরবর্তী ৪ (চার) বৎসর মেয়াদে স্বীয় পদে বহাল থাকিবেন।
(৪) চেয়ারম্যান সরকার বরাবর স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে স্বীয় পদ ত্যাগ করিতে পারিবেন এবং সরকার কর্তৃক উক্ত পদত্যাগপত্র গৃহীত না হওয়া পর্যন্ত তিনি উক্ত পদে বহাল থাকিবেন।
(৫) চেয়ারম্যানের পদ শূন্য হইলে কিংবা অনুপস্থিতি, অসুস্থতা বা অন্য কোনো কারণে চেয়ারম্যান তাহার দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হইলে, শূন্যপদে নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত কিংবা চেয়ারম্যান পুনরায় স্বীয় দায়িত্ব পালনে সমর্থ না হওয়া পর্যন্ত পূর্ণকালীন সদস্যগণের মধ্য হইতে জ্যেষ্ঠতম সদস্য চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করিবেন।
Section ৮. সদস্য পদের মেয়াদ ও পদত্যাগ
(১) ধারা ৬ এর উপধারা (১) এর দফা (খ), (ঙ), (ট), (ণ) এবং (ত) এ উল্লিখিত কাউন্সিলের মনোনীত সদস্যগণের পদের মেয়াদ হইবে তাহাদের মনোনয়নের তারিখ হইতে পরবর্তী ৪ (চার) বৎসর।
(২) উপধারা (১) এ উল্লিখিত যে কোনো মনোনীত সদস্য কাউন্সিলের মাধ্যমে সরকার বরাবর স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে স্বীয় পদ ত্যাগ করিতে পারিবেন এবং সরকার কর্তৃক উহা গৃহীত হইবার তারিখ হইতে সংশ্লিষ্ট পদটি শূন্য হইবে।
(৩) চেয়ারম্যান এবং উপধারা (১) এ উল্লিখিত মনোনীত সদস্যগণ পর পর ২ (দুই) মেয়াদের অধিক সংশ্লিষ্ট পদে বহাল থাকিতে পারিবেন না।
(৪) উপধারা (১) এ উল্লিখিত কোনো মনোনীত সদস্যের পদ কোনো কারণে শূন্য হইলে উক্ত পদের নির্ধারিত মেয়াদের অবশিষ্ট সময়ের জন্য সরকার নূতন কোনো ব্যক্তিকে সদস্য হিসাবে মনোনয়ন প্রদান করিতে পারিবে।
Section ৯. চেয়ারম্যান ও সদস্যপদে অযোগ্যতা ও অপসারণ
(১) কোনো ব্যক্তি চেয়ারম্যান বা মনোনীত সদস্য হইবার বা থাকিবার যোগ্য হইবেন না, যদি তিনি-
(২) সরকার, যে কোনো সময়, আদেশ দ্বারা, চেয়ারম্যান বা যে কোনো সদস্যকে অপসারণ করিতে পারিবে।
Section ১০. কাউন্সিলের সভা
(১) এই ধারার অন্যান্য বিধান সাপেক্ষে, কাউন্সিল উহার সভার কার্যপদ্ধতি নির্ধারণ করিতে পারিবে।
(২) চেয়ারম্যান কাউন্সিলের সভা আহ্বান করিবেন এবং তৎকর্তৃক নির্ধারিত স্থান ও সময়ে উক্ত সভা অনুষ্ঠিত হইবে:
তবে শর্ত থাকে যে, প্রতি ৪ (চার) মাসে কাউন্সিলের অন্যূন একটি সভা অনুষ্ঠিত হইবে।
(৩) কাউন্সিলের সভার কোরামের জন্য অন্যূন ৫০ (পঞ্চাশ) শতাংশ সদস্যের উপস্থিতির প্রয়োজন হইবে।
(৪) কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে কাউন্সিলের সভায় উপস্থিত সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের সম্মতি প্রয়োজন হইবে।
(৫) কাউন্সিল সভায় চেয়ারম্যান ও প্রত্যেক সদস্যের একটি করিয়া ভোট থাকিবে এবং ভোটের সমতার ক্ষেত্রে সভার সভাপতির দ্বিতীয় বা নির্ণায়ক ভোট প্রদানের ক্ষমতা থাকিবে।
Section ১১. কাউন্সিলের ক্ষমতা ও কার্যাবলি
(১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, কাউন্সিলের ক্ষমতা ও কার্যাবলি হইবে নিম্নরূপ, যথা:-
(২) কাউন্সিল উহার সামগ্রিক কর্মকান্ডের জন্য সরকারের নিকট দায়ী থাকিবে।
Section ১২. উপদেষ্টা পরিষদ, ইত্যাদি
(১) কাউন্সিলকে সাধারণ দিকনির্দেশনা প্রদান ও কাউন্সিলের কার্যাবলি তত্ত্বাবধানের উদ্দেশ্যে নিম্নরূপ সদস্যগণের সমন্বয়ে একটি উপদেষ্টা পরিষদ গঠিত হইবে, যথা:-
(২) উপদেষ্টা পরিষদ উহার সভার কার্যপদ্ধতি নির্ধারণ করিতে পারিবে।
(৩) উপদেষ্টা পরিষদের সভা উহার সভাপতি কর্তৃক নির্ধারিত স্থানে ও সময়ে অনুষ্ঠিত হইবে:
তবে শর্ত থাকে যে, প্রতি বৎসর উপদেষ্টা পরিষদের অন্যূন ১ (এক) টি সভা অনুষ্ঠিত হইবে।
(৪) উপদেষ্টা পরিষদের সকল সভায় উহার সভাপতি সভাপতিত্ব করিবেন এবং তাহার অনুপস্থিতিতে সহ-সভাপতি এবং সহ-সভাপতির অনুপস্থিতিতে সভাপতি কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত উপদেষ্টা পরিষদের কোনো সদস্য সভায় সভাপতিত্ব করিবেন।
Section ১৩. কমিটি
(১) অ্যাক্রেডিটেশনের জন্য আবেদনকারী চিকিৎসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং উক্ত প্রতিষ্ঠানের কোর্সসমূহের অ্যাক্রেডিটেশনের আবেদন পরীক্ষা-নিরীক্ষা, অনুসন্ধান, পরিদর্শন ও প্রতিবেদন প্রস্তুতসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কার্য সম্পন্নের লক্ষ্যে কাউন্সিল উহার সদস্যগণের সমন্বয়ে টেকনিক্যাল কমিটি ও অ্যাক্রেডিটেশন কমিটি গঠন করিবে:
তবে শর্ত থাকে যে, কাউন্সিল, এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, উহার সদস্য বা, ক্ষেত্রমত, কর্মচারীগণের সমন্বয়ে, প্রয়োজনে, অন্যান্য কমিটি গঠন করিতে পারিবে:
আরও শর্ত থাকে যে, কাউন্সিল, প্রয়োজনে, কোনো বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিকে যে কোনো কমিটিতে সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত (Co-opt) করিতে পারিবে।
(২) কমিটির সদস্য সংখ্যা এবং উক্ত সদস্যদের যোগ্যতা, নিয়োগ, কার্যপদ্ধতি ও দায়িত্ব প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত হইবে।
Section ১৪. ফ্রেমওয়ার্ক
কাউন্সিল, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, প্রবিধান দ্বারা, চিকিৎসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য অ্যাক্রেডিটেশন ফ্রেমওয়ার্ক প্রণয়ন করিতে পারিবে।
Section ১৫. মানদন্ড নির্ধারণ
কাউন্সিল, প্রবিধান দ্বারা, অ্যাক্রেডিটেশন সনদ প্রদানের মানদন্ড নির্ধারণ করিবে:
তবে শর্ত থাকে যে, অনুরূপ প্রবিধান প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত, সরকারের অনুমোদনক্রমে, কাউন্সিল মানদন্ড নির্ধারণ করিতে পারিবে।
Section ১৬. অ্যাক্রেডিটেশন সনদ প্রদান
(১) কোনো চিকিৎসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে অ্যাক্রেডিটেশনের জন্য প্রথমে নিজস্ব জরিপ সম্পন্ন করিতে হইবে এবং পরবর্তীকালে কাউন্সিল কর্তৃক প্রাক্জরিপ ও আনুষ্ঠানিক জরিপ সম্পন্ন করত উহার প্রতিবেদন কাউন্সিলের নিকট দাখিল করিতে হইবে।
(২) অ্যাক্রেডিটেশনের জন্য চিকিৎসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে, প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত ফরমে ও পদ্ধতিতে, কাউন্সিলের নিকট আবেদন করিতে হইবে।
(৩) চিকিৎসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক অ্যাক্রেডিটেশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কাউন্সিল-
(৪) অ্যাক্রেডিটেশনের আবেদন ফরম, আবেদন পদ্ধতি, আবেদন যাচাই-বাছাই, অ্যাক্রেডিটেশনের শর্ত, সনদ প্রদান, সনদ নবায়ন ও নবায়নের মেয়াদ, সনদ প্রত্যাহার, সনদ স্থগিত বা বাতিল, সনদ বাতিলের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল ও পুনর্বিবেচনা এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থাসহ অন্যান্য বিষয় প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত হইবে।
Section ১৭. অ্যাক্রেডিটেশন সনদের মেয়াদ ও নবায়ন
(১) অ্যাক্রেডিটেশন সনদের মেয়াদ হইবে ৫(পাঁচ) বৎসর।
(২) অ্যাক্রেডিটেশন সনদের মেয়াদ শেষ হইবার অন্যূন ৬ (ছয়) মাস পূর্বে সংশ্লিষ্ট সনদ নবায়নের জন্য নির্ধারিত ফিসহ নির্ধারিত ফরমে কাউন্সিলের নিকট আবেদন করিতে হইবে।
Section ১৮. অ্যাক্রেডিটেশন ফি ও নবায়ন ফি
কাউন্সিল, সরকারের পূর্বানুমোদন সাপেক্ষে, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, অ্যাক্রেডিটেশন ফি এবং নবায়ন ফি নির্ধারণ ও পুনঃনির্ধারণ করিতে পারিবে।
Section ১৯. অ্যাক্রেডিটেশন সনদ সংরক্ষণ ও প্রদর্শন
অ্যাক্রেডিটেশন সনদপ্রাপ্ত চিকিৎসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে উক্ত সনদ সংরক্ষণ এবং, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে, চাহিদা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও সংস্থাকে প্রদর্শন করিতে হইবে।
Section ২০. তথ্য সংগ্রহ
কাউন্সিল, প্রয়োজনে, অ্যাক্রেডিটেশনের জন্য আবেদনকারী চিকিৎসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কিংবা অ্যাক্রেডিটেশন সনদপ্রাপ্ত চিকিৎসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিকট হইতে যে কোনো তথ্য সংগ্রহ করিতে পারিবে।
Section ২১. নিষেধাজ্ঞা ও জরিমানা
(১) অ্যাক্রেডিটেশন সনদ গ্রহণ ব্যতিরেকে কোনো চিকিৎসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান উহাকে অ্যাক্রেডিটেশন সনদপ্রাপ্ত বলিয়া বিজ্ঞাপন দ্বারা বা অন্য কোনোভাবে প্রচার করিতে পারিবেনা এবং উক্ত বিষয়ে কোনো তথ্য নির্দেশিকা বা পুস্তিকা প্রকাশ করিতে পারিবে না।
(২) কোনো চিকিৎসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অ্যাক্রেডিটেশন সনদ স্থগিত, বাতিল বা প্রত্যাহার করা হইলে উক্ত প্রতিষ্ঠান কাউন্সিল কর্তৃক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উক্ত সনদ সমর্পণ করিতে বাধ্য থাকিবে।
(৩) কাউন্সিল কর্তৃক মনোনীত কোনো ব্যক্তি কর্তৃক কোনো চিকিৎসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনকালে উক্ত ব্যক্তির নিকট কোনোরূপ ভুল তথ্য উপস্থাপন বা কোনো তথ্য গোপন করা যাইবে না।
(৪) এই ধারার কোনো বিধান লঙ্ঘন করিলে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অ্যাক্রেডিটেশন সনদ স্থগিত, প্রত্যাহার বা বাতিল এবং উহার অতিরিক্ত হিসাবে কাউন্সিল, তৎকর্তৃক নির্ধারিত হারে, প্রশাসনিক জরিমানা আরোপ করিতে পারিবে।
Section ২২. অ্যাক্রেডিটেশন সনদ বাতিল প্রক্রিয়া
অ্যাক্রেডিটেশন সনদপ্রাপ্ত চিকিৎসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এই আইন বা ইহার অধীন প্রণীত বিধি ও প্রবিধানে উল্লিখিত শর্ত বা নির্ধারিত মানদণ্ড লঙ্ঘন করিলে বা প্রতিপালন করিতেছেনা মর্মে কাউন্সিলের নিকট প্রতীয়মান হইলে, যথাযথ অনুসন্ধান সাপেক্ষে এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ প্রদানপূর্বক, কাউন্সিল উক্ত প্রতিষ্ঠানের অ্যাক্রেডিটেশন সনদ বাতিল করিতে পারিবে।
Section ২৩. প্রশাসনিক আদেশ পুনর্বিবেচনা ও আপিলের আবেদন
(১) কোনো চিকিৎসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক আদেশ প্রদত্ত হইলে উক্ত প্রতিষ্ঠান, প্রয়োজন মনে করিলে, আদেশ প্রদানের ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে, কাউন্সিলের নিকট উক্ত আদেশ পুনর্বিবেচনার জন্য আবেদন করিতে পারিবে এবং কাউন্সিল উক্ত আবেদন ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে বিবেচনান্তে উহার সিদ্ধান্ত প্রদান করিবে।
(২) কোনো চিকিৎসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান উপধারা (১) এর অধীন প্রদত্ত সিদ্ধান্তে সংক্ষুব্ধ হইলে উক্ত সিদ্ধান্ত প্রদানের ৬০ (ষাট) দিনের মধ্যে উপধারা (৩) এর অধীন গঠিত আপিল বোর্ডের নিকট আপিল করিতে পারিবে এবং আপিল বোর্ড ৬০ (ষাট) দিনের মধ্যে আপিল নিষ্পত্তি করিবে এবং বিবেচ্য ক্ষেত্রে আপিল বোর্ডের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত বলিয়া গণ্য হইবে।
(৩) উপধারা (২) এর উদ্দেশ্য পূরণকল্পে নিম্নরূপ সদস্যগণের সমন্বয়ে আপিল বোর্ড গঠিত হইবে, যথা:-
(৪) আপিল বোর্ডের সদস্যদের মেয়াদ, আপিল নিষ্পত্তি ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক বিষয় বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে।
Section ২৪. তথ্যের গোপনীয়তা
কাউন্সিলের কোনো সদস্য বা কর্মচারী বা কমিটি কর্তৃক এই আইনের অধীনে প্রদত্ত কোনো বিবরণ বা সরবরাহকৃত তথ্য বা সাক্ষ্যপ্রমাণ বা পরিদর্শন রিপোর্ট গোপনীয় বলিয়া গণ্য হইবে:
তবে শর্ত থাকে যে, এই আইনের অধীনে কোনো মামলার কারণে কোনো তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে এই ধারার বিধান বাধা হইবে না।
Section ২৫. রেজিস্ট্রার নিয়োগ
(১) কাউন্সিলের ১ (এক) জন রেজিস্ট্রার থাকিবে।
(২) রেজিস্ট্রারের পদ শূন্য হইলে কিংবা অসুস্থতাজনিত বা অন্য কোনো কারণে তিনি তাহার দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হইলে, কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত কিংবা রেজিস্ট্রার পুনরায় স্বীয় দায়িত্ব পালনে সমর্থ না হওয়া পর্যন্ত, কাউন্সিলের সাংগঠনিক কাঠামোর মধ্যে সর্বোচ্চ পদমর্যাদাধারী কর্মচারী রেজিস্ট্রারের দায়িত্ব পালন করিবেন।
(৩) রেজিস্ট্রার কাউন্সিলের সার্বক্ষণিক কর্মচারী হইবেন এবং তিনি-
Section ২৬. কর্মচারী নিয়োগ
(১) কাউন্সিল, উহার কার্যাবলি সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের উদ্দেশ্যে, সরকার কর্তৃক অনুমোদিত সাংগঠনিক কাঠামো অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় সংখ্যক কর্মচারী নিয়োগ করিতে পারিবে।
(২) উপধারা (১) এ উল্লিখিত কর্মচারীগণের চাকুরির শর্তাবলি প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত হইবে।
Section ২৭. চুক্তি
কাউন্সিল উহার কার্যাবলি সম্পাদনের প্রয়োজনে চুক্তি সম্পাদন করিতে পারিবে:
তবে শর্ত থাকে যে, কোনো দেশি প্রতিষ্ঠান বা সংস্থা এবং বিদেশি সরকার কিংবা বিদেশি বা আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার সহিত চুক্তি সম্পাদনের ক্ষেত্রে সরকারের পূর্বানুমোদন গ্রহণ করিতে হইবে।
Section ২৮. তহবিল
(১) কাউন্সিলের একটি তহবিল থাকিবে।
(২) নিম্নবর্ণিত উৎস হইতে প্রাপ্ত অর্থ তহবিলে জমা হইবে, যথা:-
(৩) তহবিলের অর্থ, কাউন্সিলের অনুমোদনক্রমে, কোনো তপশিলি ব্যাংকে জমা রাখিতে হইবে এবং চেয়ারম্যান ও রেজিস্ট্রারের যৌথ স্বাক্ষরে তহবিলের হিসাব পরিচালিত হইবে।
ব্যাখ্যা:- উপধারা (৩) এর উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, “তপশিলি ব্যাংক” অর্থ Bangladesh Bank Order, 1972(President’s Order 127 of 1972) এর Article 2 (j) তে সংজ্ঞায়িত Scheduled Bank।
(৪) তহবিলের অর্থ বা উহার অংশবিশেষ কাউন্সিল, প্রয়োজন অনুযায়ী, সরকার কর্তৃক স্বীকৃত বৈধ খাতে বিনিয়োগ করিতে পারিবে।
(৫) তহবিল হইতে কাউন্সিলের প্রয়োজনীয় ব্যয় নির্বাহ করা হইবে, তবে কাউন্সিলের পরবর্তী সভায় সকল ব্যয়ের অনুমোদন গ্রহণ করিতে হইবে।
Section ২৯. বার্ষিক বাজেট বিবরণী
(১) কাউন্সিল পরবর্তী অর্থ-বৎসরের জন্য ৩১ জানুয়ারির মধ্যে সরকারের নিকট বার্ষিক বাজেট পেশ করিবে এবং উহাতে পরবর্তী অর্থ-বৎসরের জন্য সরকারের নিকট হইতে কাউন্সিলের কী পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন হইবে উহার উল্লেখ করিবে।
(২) বাজেট প্রণয়নের ক্ষেত্রে সরকার কর্তৃক নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসরণ করিতে হইবে।
Section ৩০. হিসাবরক্ষণ ও নিরীক্ষা
(১) কাউন্সিল উহার আয়-ব্যয়ের যথাযথ হিসাব রক্ষণ করিবে এবং হিসাবের বার্ষিক বিবরণী প্রস্তুত করিবে।
(২) বাংলাদেশের মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, অতঃপর মহাহিসাব-নিরীক্ষক বলিয়া অভিহিত, প্রত্যেক বৎসর কাউন্সিলের হিসাব নিরীক্ষা করিবেন এবং বিদ্যমান আইনের বিধান মোতাবেক নিরীক্ষা রিপোর্ট দাখিল করিবেন।
(৩) উপধারা (২) এর অধীন হিসাব নিরীক্ষা ছাড়াও Bangladesh Chartered Accountants Order, 1973(President's Order No. 2 of 1973) এর Article 2(1)(b)-তে সংজ্ঞায়িত Chartered Accountant দ্বারা কাউন্সিলের হিসাব নিরীক্ষা করা যাইবে এবং এতদুদ্দেশ্যে কাউন্সিল এক বা একাধিক Chartered Accountant নিয়োগ করিতে পারিবে।
(৪) উপধারা (৩) এর অধীন নিয়োগকৃত Chartered Accountant এতদুদ্দেশ্যে কাউন্সিল কর্তক নির্ধারিত হারে পারিশ্রমিক প্রাপ্য হইবেন।
(৫) উপধারা (২) ও (৩) এর অধীন হিসাব নিরীক্ষার উদ্দেশ্যে মহাহিসাব-নিরীক্ষক কিংবা তাহার নিকট হইতে এতদুদ্দেশ্যে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি অথবা, ক্ষেত্রমত, Chartered Accountant কাউন্সিলের সকল রেকর্ড, দলিল-দস্তাবেজ, নগদ বা ব্যাংকে গচ্ছিত অর্থ, জামানত, ভান্ডার এবং অন্যবিধ সম্পত্তি পরীক্ষা করিয়া দেখিতে পারিবেন এবং চেয়ারম্যান, কোনো সদস্য এবং কাউন্সিলের কোনো কর্মচারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করিতে পারিবেন।
Section ৩১. বার্ষিক প্রতিবেদন
(১) প্রত্যেক অর্থ-বৎসর শেষ হইবার পরবর্তী ১ (এক) মাসের মধ্যে কাউন্সিল পূর্ববর্তী অর্থ-বৎসরের সম্পাদিত কার্যাবলি সম্পর্কে একটি প্রতিবেদন সরকারের নিকট দাখিল করিবে এবং প্রকাশের ব্যবস্থা গ্রহণ করিবে।
(২) সরকার, প্রয়োজনে, কাউন্সিলের নিকট হইতে যে কোনো সময়ে উহার যে কোনো কার্যের প্রতিবেদন বা বিবরণী যাচনা করিতে পারিবে এবং কাউন্সিল উহা সরকারের নিকট প্রেরণ করিতে বাধ্য থাকিবে।
Section ৩২. ক্ষমতা অর্পণ
(১) কাউন্সিল বিশেষ বা সাধারণ আদেশ দ্বারা নির্ধারিত শর্তাধীনে চেয়ারম্যান, কোনো সদস্য বা কাউন্সিলের কোনো কর্মচারীকে উহার যে কোনো ক্ষমতা অর্পণ করিতে পারিবে।
(২) চেয়ারম্যান, প্রয়োজনবোধে এবং তৎকর্তৃক নির্ধারিত শর্ত সাপেক্ষে, উপধারা (১) এর অধীন তাহার উপর অর্পিত ক্ষমতা ব্যতীত, এই আইনের অধীন তাহার উপর অর্পিত যে কোনো ক্ষমতা বা দায়িত্ব, লিখিত আদেশ দ্বারা, কাউন্সিলের কোনো কর্মচারীকে অর্পণ করিতে পারিবেন।
Section ৩৩. বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা
সরকার, এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে।
Section ৩৪. প্রবিধান প্রণয়নের ক্ষমতা
কাউন্সিল, এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইন বা বিধির সহিত অসামঞ্জস্যপূর্ণ নহে এইরূপ প্রবিধান প্রণয়ন করিতে পারিবে।
Section ৩৫. ইংরেজিতে অনূদিত পাঠ প্রকাশ
(১) এই আইন কার্যকর হইবার পর সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইনের ইংরেজিতে অনূদিত একটি নির্ভরযোগ্য পাঠ (Authentic English Text) প্রকাশ করিতে পারিবে।
(২) এই আইনের বাংলা ও ইংরেজি পাঠের মধ্যে বিরোধের ক্ষেত্রে বাংলা পাঠ প্রাধান্য পাইবে।