বাংলাদেশ পেটেন্ট আইন, ২০২২ রহিতক্রমে পেটেন্ট সংক্রান্ত বিষয়ের গুরুত্ব অনুধাবন করিয়া নূতনভাবে প্রণয়নের উদ্দেশ্যে প্রণীত আইন যেহেতু বাংলাদেশ পেটেন্ট আইন, ২০২২ (২০২২ সনের ০৫ নং আইন) রহিতক্রমে পেটেন্ট সংক্রান্ত বিষয়ের গুরুত্ব অনুধাবন করিয়া নূতনভাবে আইন প্রণয়ন করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়; সেহেতু এতদ্দ্বারা নিম্নরূপ আইন করা হইল:-
(১) এই আইন বাংলাদেশ পেটেন্ট আইন, ২০২৩ নামে অভিহিত হইবে।
(২) সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা যে তারিখ নির্ধারণ করিবে, সেই তারিখে ইহা কার্যকর হইবে :
তবে শর্ত থাকে যে, সরকার, প্রয়োজনে, ইহার কোনো বিধান কার্যকর করিবার ক্ষেত্রে, ভিন্ন ভিন্ন তারিখ নির্ধারণ করিতে পারিবে।
* এস, আর, ও নং ৫৬-আইন/২০২৫, তারিখ: ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ইং দ্বারা ১৪ ফাল্গুন, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ মোতাবেক ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ উক্ত আইন কার্যকর হইয়াছে।
বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থি কোনো কিছু না থাকিলে, এই আইনে,-
(১) ‘‘অগ্রাধিকার তারিখ’’ অর্থ বিশ্বের যে কোনো দেশে পেটেন্টের আবেদন দাখিলের প্রথম তারিখ;
(২) ‘‘অগ্রাধিকার দাবি’’ অর্থ এই আইনের ধারা ৫ এর অধীন ঘোষিত অগ্রাধিকার সংক্রান্ত দাবি;
(৩) ‘‘অধিদপ্তর’’ অর্থ পেটেন্ট, শিল্প-নকশা ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তর (Department of Patents, Industrial Designs and Trademarks);
(৪) ‘‘আদালত’’ অর্থ Civil Courts Act, 1887 (Act No. XII of 1887) এর section 3 এ উল্লিখিত আদালত;
(৫) “একচেটিয়া লাইসেন্স” অর্থ কোনো স্বত্বাধিকারী কর্তৃক প্রদত্ত কোনো লাইসেন্স যাহা লাইসেন্সিকে, এবং তৎকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তিকে, স্বত্বাধিকারসহ পেটেন্টকৃত উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে একচেটিয়া অধিকার অর্পণ করিবে, এবং একচেটিয়া লাইসেন্সিও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে;
(৬) ‘‘উদ্ভাবন’’ অর্থ কোনো নূতন পণ্য বা প্রক্রিয়া যাহা উদ্ভাবনী পদক্ষেপের সহিত সম্পৃক্ত ও শিল্প ক্ষেত্রে প্রয়োগযোগ্য এবং এই আইনের অধীন পেটেন্টকৃত হইবার অযোগ্য নহে;
(৭) “উদ্ভাবনী ধাপ” অর্থ কোনো উদ্ভাবনের এইরূপ কোনো বৈশিষ্ট্য যাহাতে বিদ্যমান জ্ঞানের তুলনায় প্রযুক্তিগত অগ্রগতি রহিয়াছে এবং উহা জ্ঞাতপূর্বত্বের আওতাবহির্ভূত এবং উহা সুনির্দিষ্ট প্রযুক্তিতে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তির নিকট দাবিকৃত উদ্ভাবনটি সুস্পষ্টভাবে প্রতীয়মান না হয়;
(৮) ‘‘জ্ঞাত পূর্বত্ব (prior art)’’ অর্থ অগ্রাধিকার তারিখের পূর্বে সংশ্লিষ্ট উদ্ভাবনের তথ্যাদি বিশ্বের কোনো স্থানে দৃশ্যমানরূপে বা পরোক্ষভাবে প্রকাশের মাধ্যমে, প্রদর্শনের মাধ্যমে, বা ব্যবহারের মাধ্যমে যে কোনো উপায়ে, জনসমক্ষে বা অন্য কোনোভাবে, লিখিত, মৌখিক বা অন্য কোনো উপায়ে প্রকাশিত হওয়া;
(৯) ‘‘দেওয়ানি কার্যবিধি’’ অর্থ Code of Civil Procedure, 1908 (Act No. V of 1908);
(১০) “নূতনত্ব” অর্থ কোনো উদ্ভাবন প্রকাশের মাধ্যমে, পূর্বব্যবহারের মাধ্যমে, প্রদর্শনের মাধ্যমে, লিখিত, মৌখিক বা অন্য কোনো উপায়ে বিশ্বের যে কোনো স্থানে ইঙ্গিতে বা প্রকাশ্যে, জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত স্থানে দৃশ্যমানরূপে না থাকা ও জ্ঞাতপূর্বত্বের অংশ না হওয়া এবং উদ্ভাবনটি, মঞ্জুরকৃত পেটেন্ট বা প্রকাশিত পেটেন্ট আবেদনসহ, ইতোমধ্যে প্রকাশিত জ্ঞাতপূর্বত্বের এক বা একাধিক উপাদান হইতে গৃহীত না হওয়া;
(১১) “পেটেন্ট” অর্থ এই আইনের ধারা ২৫ এর অধীন কোনো উদ্ভাবনের জন্য মঞ্জুরিকৃত অধিকার;
(১২) ‘‘পেটেন্ট প্রতিনিধি’’ অর্থ এই আইনের অধীন পেটেন্ট প্রতিনিধি হিসাবে নিবন্ধিত কোনো ব্যক্তি;
(১৩) ‘‘পেটেন্ট স্বত্বাধিকারী’’ অর্থ এই আইনের অধীন পেটেন্ট এর স্বত্বাধিকারপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি;
(১৪) ‘‘ব্যক্তি’’ অর্থে কোনো স্বাভাবিক ব্যক্তি, সরকার, কোনো কোম্পানি, সমিতি বা সংঘ, নিগমিত (incorporated) হউক বা না হউক, অন্তর্ভুক্ত হইবে;
(১৫) “বস্তু” অর্থে কোনো সাধারণ প্রকৃতির বস্তু এবং জৈবিক সম্পদও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে;
(১৬) ‘‘বিধি’’ অর্থ এই আইনের অধীন প্রণীত বিধি;
(১৭) ‘‘মহাপরিচালক’’ অর্থ পেটেন্ট, শিল্প-নকশা ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তরের মহাপরিচালক।
(১৮) ‘‘লাইসেন্সি’’ অর্থ এই আইনের অধীন প্রদত্ত পেটেন্ট ব্যবহারের জন্য লাইসেন্সপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি;
(১৯) “শিল্পে প্রয়োগের জন্য উপযুক্ত” অর্থ এইরূপ কোনো উদ্ভাবন-
(২০) “স্বত্বনিয়োগী (Assignee)” অর্থে স্বত্বনিয়োগীর নিয়োগকৃত স্বত্বনিয়োগী এবং কোনো মৃত স্বত্বনিয়োগীর আইনানুগ প্রতিনিধিকেও বুঝাইবে এবং কোনো ব্যক্তির স্বত্বনিয়োগী হিসাবে উল্লেখ করা হইলে তাহার মধ্যে আইনি প্রতিনিধির স্বত্বনিয়োগী, বা উল্লিখিত ব্যক্তির স্বত্বনিয়োগীকেও বুঝাইবে;
(২১) “স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি” অর্থ এইরূপ কোনো ব্যক্তি যিনি উদ্ভাবনীর পেটেন্ট মঞ্জুরির দ্বারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে প্রভাবিত।
এই আইনের উদ্দেশ্যপূরণকল্পে, পেটেন্ট, শিল্প-নকশা ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তর (Department of Patents, Industrial Designs and Trademarks) বলিতে বাংলাদেশ শিল্প-নকশা আইন, ২০২৩ (২০২৩ সনের ২২ নং আইন) এর ধারা ৩ এর অধীন প্রতিষ্ঠিত পেটেন্ট, শিল্প-নকশা ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তর (Department of Patents, Industrial Designs and Trademarks)-কে বুঝাইবে।
নিম্নরূপ ব্যক্তিগণ পেটেন্টের জন্য আবেদন করিতে পারিবেন, যথা:-
প্রত্যেকটি সম্পূর্ণ বিশেষত্বনামার দাবির নিম্নরূপ অগ্রাধিকার তারিখ থাকিবে, যথা:-
(১)নিম্নবর্ণিত বিষয়াদি পেটেন্ট সুরক্ষার আওতা বহির্ভূত হইবে।:-
ব্যাখ্যা।- এই দফার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, লবণ, ইস্টার, ইথার, পলিমর্ফ, মেটাবলিট, পিউর ফর্ম, পার্টিক্যাল সাইজ, আইজোমার, আইজোমার মিশ্রণ, যৌগ, গঠন এবং জ্ঞাত বস্তু হইতে প্রাপ্ত অন্যান্য উপাদান সমরূপ বস্তু হিসাবে গণ্য করা হইবে;
(২) Council for Trade-Related Aspects of Intellectual Property Rights (TRIPs), অত:পর TRIPs Council বলিয়া উল্লিখিত, এর সিদ্ধান্ত মোতাবেক ফার্মাসিউটিক্যাল ও কৃষি রাসায়নিক পণ্য (Agrochemical products) এর পেটেন্ট সুরক্ষা হইতে অব্যাহতির মেয়াদ যতদিন বহাল থাকিবে, ততদিন পর্যন্ত উক্তরূপ পণ্য পেটেন্ট সুরক্ষার আওতা বহির্ভূত থাকিবে:
তবে শর্ত থাকে যে, সরকার, প্রয়োজনে, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, উক্তরূপ সময়সীমা হ্রাস-বৃদ্ধি করিতে পারিবে।
এইরূপ উদ্ভাবনসমূহের কোনো পেটেন্ট মঞ্জুর করা হইবে না যাহা উৎপাদন, নিয়ন্ত্রণ, পারমাণবিক শক্তির ব্যবহার বা নিষ্কাশন, অথবা নির্ধারিত কোনো পদার্থ বা তেজস্ক্রিয় পদার্থের অনুসন্ধান, খনন, উত্তোলন, উৎপাদন, প্রাকৃতিক এবং রাসায়নিক চিকিৎসা, নির্মাণ, উন্নতিসাধন, সংরক্ষণ বা ব্যবহার অথবা এটমিক এর্নাজি পরিচালনার ক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করে।
(১) একটি উদ্ভাবনের বিপরীতে পেটেন্টের জন্য, নির্ধারিত ফরমে, কেবল একটি আবেদন করা যাইবে এবং উক্ত আবেদন অধিদপ্তরে দাখিল করিতে হইবে।
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন দাখিলকৃত আবেদনে উদ্ভাবনটি আবেদনকারীর দখলে রহিয়াছে কিনা তাহাসহ যথার্থ ও প্রথম উদ্ভাবনের দাবিদারের নাম উল্লেখ করিতে হইবে এবং দাবিদার নিজে আবেদনকারী না হইলে বা একাধিক আবেনকারীর কোনো একজন না হইলে আবেদনে এই মর্মে একটি ঘোষণা প্রদান করিতে হইবে যে, উল্লিখিত নামের ব্যক্তিকে যথাযথ ও প্রথম উদ্ভাবক বলিয়া আবেদনকারী বিশ্বাস করেন ।
(৩) পেটেন্ট আবেদনের সহিত নিম্নবর্ণিত দলিলাদি সংযুক্ত করিতে হইবে, যথা:-
(৪) কোনো উদ্ভাবনের দাবিদার ব্যক্তি একক বা যৌথভাবে বা তাহার আইনানুগ প্রতিনিধি, বিধি দ্বারা নির্ধারিত ফরমে ও পদ্ধতিতে এবং নির্দিষ্টকৃত ফি প্রদানপূর্বক, নিম্নবর্ণিত শর্তে পেটেন্টের জন্য মহাপরিচালকের নিকট সম্পূর্ণ বিশেষত্বনামা (complete specification) বা সাময়িক বিশেষত্বনামাসহ (provisional specification) আবেদন করিতে পারিবেন, যথা:-
(৫) উপ-ধারা (১) এর অধীন দাখিলকৃত ফরমে নিম্নবর্ণিত বিষয়াদি অন্তর্ভুক্ত থাকিতে হইবে, যথা:-
(৬) প্রত্যেকটি সম্পূর্ণ বিশেষত্বনামায় নিম্নলিখিত বিষয়াদি থাকিবে, যথা:-
তবে শর্ত থাকে যে, মহাপরিচালক তৃতীয় পক্ষের নিকট অধিকতর তথ্য প্রদানের জন্য উক্ত সার-সংক্ষেপ সংশোধন করিতে পারিবেন;
(৭) উদ্ভাবনের বিষয়বস্তু-
(৮) আবেদনে বা অন্য কোনোভাবে বর্ণিত থাকিলে, আবেদনের সময় বা অগ্রাধিকার তারিখে সংশ্লিষ্ট সকল জ্ঞাতপূর্বত্বসহ উদ্ভাবনটি পেটেন্টযোগ্য হইবার জন্য আবেদনকারীর কর্তৃক জ্ঞাত গুরুত্বপূর্ণ সকল তথ্য মহাপরিচালকের নিকট প্রকাশ করিবেন।
(৯) যদি উদ্ভাবনটি ফার্মাসিউটিক্যাল পণ্য সম্পর্কিত হয় তাহা হইলে আবেদনকারী, পণ্যটির আন্তর্জাতিক স্বত্বাধিকারবিহীন নাম (International Nonproprietary Name -INN), অগ্রাধিকার তারিখে উক্ত নাম পাওয়া গেলে উহা প্রকাশ করিবে এবং আন্তর্জাতিক স্বত্বাধিকারবিহীন নাম, পাওয়া না গেলে আবেদনকারী অনূর্ধ্ব ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে উক্ত নাম অবগত হইয়া মহাপরিচালককে অবহিত করিবেন, তবে পেটেন্ট আবেদনটি নামঞ্জুর করা হইলে বা পেটেন্টটি মেয়াদোত্তীর্ণ হইলে উক্ত নাম অবহিত করিতে হইবে না।
(১০) পেটেন্টের সুরক্ষার পরিধি কেবল পেটেন্টে প্রকাশিত ও স্পষ্টভাবে দাবিকৃত ব্যবহার, উদ্দেশ্য বা কার্যক্রমের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকিবে।
(১১) সম্পূর্ণ বিশেষত্বনামার এক বা একাধিক দাবি একটি স্বতন্ত্র উদ্ভাবন সম্পর্কিত হইবে এবং উহা এইরূপে পারস্পরিক সংযুক্ত উদ্ভাবন সমষ্টি সম্পর্কিত হইবে যাহা একক উদ্ভাবনের ধারণা গঠন করে এবং উহা সুস্পষ্ট ও সংক্ষিপ্তভাবে বিশেষত্বনামায় প্রকাশিত যথাযথ বিষয়ের ভিত্তিতে হইবে।
(১২) যদি আবেদন গ্রহণের সময় মহাপরিচালকের নিকট প্রতীয়মান হয় যে, উপ-ধারা (৫), (৬), (৮), (৯), (১০) ও (১১) তে উল্লিখিত শর্তাদি পূরণ করা হয় নাই, তাহা হইলে তিনি আবেদনকারীকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনয়নের জন্য নির্দেশ প্রদান করিবেন এবং নির্দেশ মোতাবেক উক্ত সময়ের মধ্যে আবেদন প্রয়োজনীয়রূপে সংশোধন করা না হইলে আবেদন পরিত্যক্ত হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে।
(১৩) বায়োলজিক্যাল রিসোর্স এর সোর্স ও ভৌগোলিক উৎস (origin) এবং উহাদের সহিত সম্পৃক্ত এইরূপ ঐতিহ্যগত জ্ঞানের উপাদান যাহা দাবিকৃত উদ্ভাবনে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ব্যবহার করা হইয়াছে তাহা উদ্ভাবনের বিবরণীতে উল্লেখ করিতে হইবে।
(১৪) মহাপরিচালক, পেটেন্টকৃত প্রযুক্তি বাংলাদেশে ব্যবহারের বিস্তার ঘটাইবার লক্ষ্যে, পেটেন্ট মঞ্জুরের পূর্বে কোনো বিদেশি পেটেন্ট আবেদনকারীকে তাহার পেটেন্টের বর্ণনা বাংলাদেশের নাগরিকদের সাধারণ দক্ষতার উপযোগী করিয়া অভিযোজিত করিবার নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবেন।
(১৫) উদ্ভাবনের মালিকানাস্বত্ব সম্পর্কিত একটি ঘোষণা সম্পূর্ণ বিশেষত্বনামার সহিত, নির্ধারিত ফরমে, সুনির্দিষ্ট ক্ষেত্রে বা উক্ত বিশেষত্বনামা দাখিলের পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংযুক্ত করিতে হইবে।
(১) যদি উদ্ভাবনটি অণুজীব সম্পর্কিত হয় তাহা হইলে আবেদনকারী আবেদন দাখিলের পূর্বে উহার একটি কালচার বাংলাদেশের নির্দিষ্ট কোনো ডিপোজিটরি প্রতিষ্ঠানে গচ্ছিত রাখিবেন, তবে যদি উক্ত অণুজীব সম্পর্কিত উদ্ভাবনটি পরিচালনা করিতে প্রযুক্তিতে সাধারণ জ্ঞানসম্পন্ন কোনো বাংলাদেশি ব্যক্তিকে সক্ষম করা সম্ভব না হয় এবং যদি উক্ত পণ্যটি জনসাধারণের নিকট অন্য কোনোভাবে সহজলভ্য না হয়, তাহা হইলে উক্ত পক্ষ কালচারের নমুনাটি আইন অনুযায়ী ব্যবহার করিবার শর্তে কালচারটি ব্যবহার করিতে পারিবে।
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন আবেদন নিম্নলিখিত শর্তসমূহ প্রতিপালন সাপেক্ষে দাখিল করিতে হইবে, যথা:-
(১) আবেদনকারী তৎকর্তৃক দাখিলকৃত আবেদনটি মঞ্জুর হইবার পূর্ব পর্যন্ত যে কোনো সময় প্রত্যাহার করিতে পারিবেন।
(২) যেক্ষেত্রে-
(৩) বাংলাদেশে দাখিলকৃত আবেদন প্রথম আবেদন হিসাবে বিবেচিত হইবে এবং উপ-ধারা (২) এর দফা (গ) এর অধীন পুনরায় আবেদন দাখিল করা হইলে, প্রথমবার দাখিলকৃত আবেদনের জন্য কোনো অগ্রাধিকার দাবি করা যাইবে না।
(১) দাবিত্যাগ, সংশোধন বা ব্যাখ্যার মাধ্যম ব্যতীত কোনো আবেদন বা সম্পূর্ণ বিশেষত্বনামা বা তৎসম্পর্কিত কোনো দলিল সংশোধনের আবেদন করা যাইবে না এবং প্রকৃত বিষয় অন্তর্ভুক্ত করিবার উদ্দেশ্য ব্যতীত অন্য কোনো উদ্দেশ্যে কোনো সংশোধনী মঞ্জুর করা যাইবে না।
(২) সম্পূর্ণ বিশেষত্বনামায় এইরূপ কোনো সংশোধনী মঞ্জুর করা যাইবে না যাহার ফলে সংশোধিত বিশেষত্বনামায় এইরূপ কোনো বিষয় দাবি করা হয় বা বর্ণনা করা হয় যাহা সংশোধনের পূর্বের বিশেষত্বনামায় প্রকাশিত বা প্রদর্শিত হয় নাই।
(৩) যদি পেটেন্ট মঞ্জুরের তারিখের পর মহাপরিচালক বা, ক্ষেত্রমত, আদালত কর্তৃক বিশেষত্বনামা বা তৎসম্পর্কিত কোনো দলিল সংশোধনের আবেদন মঞ্জুর করা হয়, তাহা হইলে-
(৪) সংশোধিত বিশেষত্বনামা ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে সর্বপ্রথমে গৃহীত বিশেষত্বনামার উল্লেখ করিতে হইবে।
(১) মহাপরিচালক, ধারা ১১ এর বিধান সাপেক্ষে, এই ধারার অধীন কোনো আবেদনকারী বা পেটেন্ট স্বত্বাধিকারী, নির্ধারিত ফরমে, আবেদন করিলে, তৎকর্তৃক নির্ধারিত শর্তে পেটেন্টের আবেদন বা বিশেষত্বনামা বা এতৎসম্পর্কিত অন্য কোনো দলিল সংশোধনের অনুমতি প্রদান করিতে পারিবেন:
তবে শর্ত থাকে যে, যদি কোনো আদালতে উক্ত পেটেন্ট লঙ্ঘনের কোনো মামলা বা জেলা আদালতে উক্ত পেটেন্ট প্রত্যাহারের কোনো কার্যধারা চলমান থাকে, এইরূপ মামলা বা কার্যধারা উক্ত আবেদন দাখিলের পূর্বে বা পরে যখনই শুরু হউক না কেন, মহাপরিচালক, এই ধারার অধীন কোনো পেটেন্ট বা বিশেষত্বনামা বা তৎসংশ্লিষ্ট কোনো দলিল সংশোধনের আবেদন মঞ্জুর বা প্রত্যাখ্যানের কোনো আদেশ জারি করিবেন না ।
(২) এই ধারার অধীন পেটেন্ট বা সম্পূর্ণ বিশেষত্বনামা বা তৎসংশ্লিষ্ট কোনো দলিল সংশোধনের আবেদনে প্রস্তাবিত সংশোধনীর বৈশিষ্ট্য এবং এইরূপ আবেদনের বিস্তারিত কারণ উল্লেখ করিতে হইবে।
(৩) কোনো আবেদন প্রকাশ করা হইলে, স্বার্থসংশ্লিষ্ট যে কোনো ব্যক্তি উহা প্রকাশের পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উহার বিরোধিতা করিয়া আবেদনকারীকে নোটিশ প্রদান করিতে পারিবেন এবং উক্ত মেয়াদের মধ্যে এইরূপ নোটিশ প্রদান করা হইলে মহাপরিচালক উহা আবেদনকারীকে অবহিত করিবেন এবং বিষয়টি নিষ্পত্তি করিবার পূর্বে আবেদনকারী ও বিরোধিতাকারী উভয়পক্ষকে শুনানির সুযোগ প্রদান করিবেন।
(৪) যেক্ষেত্রে উপ-ধারা (৩) এর অধীন কোনো আবেদন প্রকাশিত হয় সেইক্ষেত্রে কোনো আগ্রহী ব্যক্তি উহা প্রকাশের পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে, বিরোধিতাকারী ব্যক্তিকে নোটিশ প্রদান করিতে পারিবেন এবং যেক্ষেত্রে পূর্বোক্ত সময়ের মধ্যে উক্তরূপ নোটিশ প্রদান করা হয় সেইক্ষেত্রে মহাপরিচালক এই ধারার অধীন আবেদন দাখিলের বিষয়টি উক্ত ব্যক্তিকে অবহিত করিবেন এবং উক্ত ব্যক্তি ও প্রতিপক্ষকে মামলা দায়েরের সিদ্ধান্ত গ্রহণের পূর্বে শুনানির সুযোগ দেবেন।
(৫) এই ধারার বিধান মোতাবেক বিশেষত্বনামা বা তৎসংশ্লিষ্ট অন্য কোনো দলিল সংশোধনের ভিত্তিতে আবেদনকারীর অনুকূলে পেটেন্ট মঞ্জুর করিবার পূর্বে মহাপরিচালক কর্তৃক জারীকৃত কোনো নির্দেশনা প্রতিপালনের কোনো অধিকার ক্ষুণ্ন করিবে না।
(১) জেলা জজ আদালতে পেটেন্ট বাতিলের কোনো কার্যধারার ক্ষেত্রে, ক্ষেত্রমত, ধারা ১১ এর বিধান সাপেক্ষে, পেটেন্ট স্বত্বাধিকারীকে, আদালত যেইরূপ প্রয়োজন মনে করিবে সেইরূপ পদ্ধতিতে এবং ব্যয়, বিজ্ঞাপন বা অন্য কোনো শর্ত সাপেক্ষে, তাহার বিশেষত্বনামা সংশোধনের অনুমতি প্রদান করিতে পারিবে এবং যদি আদালত পেটেন্ট অবৈধ বলিয়া রায় প্রদান করে তাহা হইলে পেটেন্টটি বাতিলের পরিবর্তে এই ধারার অধীন বিশেষত্বনামা সংশোধনের সুযোগ প্রদান করিতে পারিবে।
(২) যদি কোনো আদেশের জন্য আদালতে কোনো আবেদন করা হয়, তাহা হইলে আবেদনকারী মহাপরিচালককে উক্ত আবেদনের নোটিশ প্রদান করিবেন, এবং এইরূপ ক্ষেত্রে তাহার, মহাপরিচালকের নিকট উপস্থিত হইয়া শুনানি করিবার অধিকার থাকিবে।
(৩) জেলা জজ আদালত তৎকর্তৃক পেটেন্ট স্বত্বাধিকারীকে প্রদত্ত সংশোধনের আদেশের কপি মহাপরিচালক বরাবর প্রেরণ করিবে এবং মহাপরিচালক উহা প্রাপ্তির পর নথিভুক্ত করিয়া রেজিস্টারে উহা উল্লেখ করিবেন।
(১) কোনো ব্যক্তি এই আইনের অধীন পেটেন্টের জন্য আবেদন করিলে, অথবা সম্পূর্ণ বিশেষত্বনামাটি একাধিক উদ্ভাবনের সহিত সম্পর্কিত মর্মে মহাপরিচালক কর্তৃক উত্থাপিত অভিযোগ প্রতিকার করিবার উদ্দেশ্যে, প্রথমোক্ত আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে দাখিলকৃত সাময়িক বা সম্পূর্ণ বিশেষত্বনামায় প্রকাশিত উদ্ভাবনের জন্য বিভাজিত আবেদন (Divisional Application) করিতে পারিবেন:
তবে শর্ত থাকে যে, এইরূপ দ্বিতীয় আবেদন প্রথম আবেদন দাখিলের ৩ (তিন) বৎসরের মধ্যে দাখিল করিতে হইবে এবং এইরূপ ক্ষেত্রে অনধিক ৩ (তিন) টি আবেদন করা যাইবে।
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন পুনঃআবেদনের সহিত একটি সম্পূর্ণ বিশেষত্বনামা সংযুক্ত করিতে হইবে, তবে এইরূপ বিশেষত্বনামার পরিপ্রেক্ষিতে দাখিলকৃত সম্পূর্ণ বিশেষত্বনামায় প্রকাশিত গুরুত্বপূর্ণ নহে এইরূপ কোনো বিষয় অন্তর্ভুক্ত হইবে না।
(৩) প্রথম বা পুনঃআবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সম্পূর্ণ বিশেষত্বনামা সংশোধনের ক্ষেত্রে, মহাপরিচালক এই মর্মে নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবেন যে, সম্পূর্ণ বিশেষত্বনামার কোনোটিতেই এইরূপ কোনো দাবি নাই যাহা অপরটিতে রহিয়াছে।
(৪) উপ-ধারা (১) এর অধীন পুনঃআবেদনটি প্রথম আবেদন দাখিলের তারিখে দাখিল করা হইয়াছিল মর্মে গণ্য হইবে এবং, ক্ষেত্রমত, প্রথম আবেদনের অগ্রাধিকার তারিখ বিভাজিত আবেদনের অগ্রাধিকার তারিখ হিসাবে বিবেচিত হইবে।
(৫) বিভাজিত আবেদনটি মূল আবেদনের অনুরূপ বিবেচিত হইবে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরীক্ষার জন্য আবেদন করা হইলে উহা পরীক্ষা করা হইবে।
(১) যদি কোনো আবেদনকারী, এককভাবে বা অন্য কোনো ব্যক্তির সহিত যৌথভাবে, বাংলাদেশ ব্যতীত অন্য কোনো দেশে আবেদন করেন, তাহা হইলে সমরূপ আবেদনের ক্ষেত্রে বা যদি তাহার জানামতে অন্য কোনো ব্যক্তি কর্তৃক আবেদন দাখিল করা হয় যাহার মাধ্যমে তিনি পেটেন্ট দাবি করিয়া থাকেন বা এইরূপ ব্যক্তি কর্তৃক দাখিল করা হয় যিনি তাহার নিকট হইতে অধিকার লাভ করেন, তাহা হইলে তিনি তাহার আবেদনের সহিত বা পরবর্তী ৯০ (নব্বই) দিনের মধ্যে উপরিউক্ত আবেদন সংশ্লিষ্ট নিম্নবর্ণিত দলিলাদি দাখিল করিবেন, যথা :-
(২) আবেদনকারী কর্তৃক দলিলাদি অনুবাদের জন্য সময় প্রার্থনা করা হইলে মহাপরিচালক উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত মেয়াদ সর্বোচ্চ ৬০ (ষাট) দিন বৃদ্ধি করিতে পারিবেন।
(৩) আবেদনকারী পেটেন্ট মঞ্জুর বা প্রত্যাখ্যান না হওয়া পর্যন্ত প্রতি ৬ (ছয়) মাস পর পর উপ-ধারা (১) এ বর্ণিত আবেদন সম্পর্কিত তথ্য মহাপরিচালক বরাবর দাখিল করিবেন।
(৪) উপ-ধারা (৩) এর অধীন তথ্য প্রাপ্তির পর মহাপরিচালক উহা অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশ করিবেন।
(৫) যদি আবেদনকারী উপ-ধারা (১) ও (৩) এর শর্ত প্রতিপালনে, তাহার নিয়ন্ত্রণবহির্ভূত কোনো কারণ ব্যতীত, ব্যর্থ হন তাহা হইলে আবেদন প্রত্যাখ্যাত হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে।
মহাপরিচালক, পেটেন্ট আবেদন গ্রহণের তারিখকে পেটেন্ট আবেদন দাখিলের তারিখ হিসাবে বিবেচনা করিবেন।
(১) মহাপরিচালক, আবেদন দাখিলের ১৮ (আঠারো) মাস অতিবাহিত হইবার পর, পেটেন্ট আবেদন জনসাধারণের পরিদর্শনের জন্য উন্মুক্ত করিবেন।
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন পেটেন্ট আবেদনের বিষয়বস্তু ওয়েবসাইটে প্রকাশ বা প্রচলিত পদ্ধতিতে প্রজ্ঞাপন দ্বারা নিম্নবর্ণিত বিষয় প্রকাশের মাধ্যমে জনসাধারণকে অবহিত করিতে হইবে, যথা:-
(৩) পেটেন্ট আবেদনটি অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে বা গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রকাশিত না হওয়া পর্যন্ত, মহাপরিচালক, কোনো তৃতীয় পক্ষকে উক্ত আবেদন পরিদর্শনের সুযোগ প্রদান করিবেন না বা পেটেন্ট আবেদন সংক্রান্ত কোনো তথ্য প্রকাশ করিবেন না।
(৪) ১৮ (আঠারো) মাস মেয়াদ সমাপ্তির পূর্বে যে কোনো সময়ে বিধি দ্বারা নির্ধারিত ফি পরিশোধপূর্বক, আবেদনকারীর অনুরোধের প্রেক্ষিতে মহাপরিচালক, পেটেন্ট আবেদন জনসাধারণের পরিদর্শনের জন্য উন্মুক্ত করিতে পারিবেন।
(৫) আবেদনকারী পেটেন্ট মঞ্জুর না হওয়া পর্যন্ত উহা লঙ্ঘনের কোনো কার্যধারা দায়ের করিতে পারিবেন না।
(১) জাতীয় নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট যে কোনো পেটেন্ট আবেদন গোপন রাখিতে হইবে এবং মহাপরিচালক, কোনো আবেদন জাতীয় নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট মনে করিলে, তাহা জাতীয় নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের নিকট যাচাইয়ের জন্য প্রেরণ করিবেন।
(২) উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ জাতীয় নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট আবেদন প্রাপ্তির অনধিক ৯০ (নব্বই) দিনের মধ্যে দাবিকৃত উদ্ভাবন জাতীয় নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট কি না সে বিষয়ে মহাপরিচালককে অবহিত করিবেন এবং যদি উক্ত সময়ের মধ্যে বিষয়টি মহাপরিচালককে অবহিত করা না হয়, তাহা হইলে পেটেন্টের আবেদনটি প্রকাশ করা যাইবে।
(৩) আবেদনকারী, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থ সংশ্লিষ্ট পেটেন্ট এর বিষয়ে মহাপরিচালক কর্তৃক অবহিত না হওয়া পর্যন্ত বা, ক্ষেত্রমত, উপ-ধারা (২) এর অধীন সময়সীমা অতিক্রান্ত না হওয়া পর্যন্ত, এতৎবিষয়ক কোনো পেটেন্ট আবেদন বিদেশে দাখিল করিবেন না।
(৪) জাতীয় নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট কোনো উদ্ভাবন, উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ব্যতীত, ব্যবহার, লাইসেন্স প্রদান এবং হস্তান্তর করা যাইবে না।
(১) এই আইনের ধারা ১৭ এর উপ-ধারা (২) এর অধীন পেটেন্ট আবেদন প্রকাশের পর এবং পেটেন্ট মঞ্জুরের পূর্বে যে কোনো ব্যক্তি উক্ত পেটেন্টের বিরোধিতা করিতে পারিবেন:
শর্ত থাকে যে, উল্লিখিত প্রকাশের ০৬ (ছয়) মাস সময় পর্যন্ত উক্ত পেটেন্ট মঞ্জুর করা যাইবে না।
(২) বিরোধিতার আপত্তিপত্রে আপত্তিকৃত পেটেন্ট আবেদন শনাক্ত করিতে হইবে এবং আপত্তির কারণ উল্লেখপূর্বক উহার সমর্থনে যথেষ্ট তথ্য প্রমাণাদি দাখিল করিতে হইবে।
(৩) পেটেন্ট আবেদনের বিরোধিতাকারী ব্যক্তি নিম্নবর্ণিত বিষয়সমূহ উত্থাপন করিতে পারিবেন, যথা:-
(৪) মহাপরিচালক ওয়েবসাইটে বা অন্য কোনো অফিসিয়াল মাধ্যমে আপত্তির নোটিশ প্রকাশ করিবেন।
(৫) আবেদনকারী নির্দিষ্ট মেয়াদের মধ্যে অভিযোগ খণ্ডন করিয়া প্রতি বিবৃতি দাখিল করিতে পারিবেন।
(৬) মহাপরিচালক, আবেদনকারী ও বিরোধিতাকারী পক্ষের শুনানি গ্রহণ করিতে পারিবেন এবং উভয় পক্ষকে যুক্তি বা পাল্টা-যুক্তি প্রদানসহ যুক্তিখণ্ডনের সুযোগ প্রদান করিবেন।
(৭) পেটেন্ট আবেদনকারী কর্তৃক দাখিলকৃত লিখিত বিবৃতি ও সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং বিরোধিতাকারী কর্তৃক দাখিলকৃত বিরোধ ও সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং উভয়পক্ষ কর্তৃক উপস্থাপিত বক্তব্যের ভিত্তিতে, এবং উভয়পক্ষকে শুনানির পর, মহাপরিচালক-
(৮) মহাপরিচালক, এই ধারার অধীন কারণ উল্লেখসহ একটি লিখিত আদেশ জারি করিবেন এবং বিরোধ নিষ্পত্তি হইবার ১ (এক) মাসের মধ্যে সম্পূর্ণ বিষয়টি অবহিত করিবেন।
(১) এই আইনের ধারা ২৪ এর উপ-ধারা (২) এর অধীন পেটেন্ট মঞ্জুরির পর বিষয়টি অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হইবার ২৪ (চব্বিশ) মাসের মধ্যে যে কোনো স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি সাক্ষ্য-প্রমাণসহ মহাপরিচালক বরাবর বিরোধিতার নোটিশ প্রদান করিতে পারিবেন।
(২) নিম্নবর্ণিত ক্ষেত্রে, নির্ধারিত পদ্ধতিতে, বিরোধের নোটিশ প্রদান করা যাইবে, যথা:-
(৩) মহাপরিচালক, পেটেন্ট স্বত্বাধিকারীকে বিরোধের নোটিশ প্রদান করিবেন এবং ই-গেজেটে বা অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে উহা প্রকাশ করিবেন।
(৪) পেটেন্ট স্বত্বাধিকারী নির্দিষ্ট মেয়াদের মধ্যে বিরোধ নোটিশ খণ্ডন করিয়া প্রতি-বিবৃতি দাখিল করিতে পারিবেন।
(৫) মহাপরিচালক, একটি শুনানির ব্যবস্থা করিবেন এবং শুনাননিতে পেটেন্ট স্বত্বাধিকারী ও বিরোধী উভয়পক্ষ তাহাদের যুক্তি বা পাল্টা-যুক্তি প্রদানসহ মৌখিক ও লিখিত সাক্ষ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করিতে পারিবেন, অতঃপর মহাপরিচালক পেটেন্টটি বহাল, সংশোধন বা প্রত্যাহারের আদেশ প্রদান করিয়া বিরোধটি নিষ্পত্তি করিবেন এবং নিষ্পত্তির ১ (এক) মাসের মধ্যে উভয়পক্ষকে কারণ উল্লেখসহ তাহার সিদ্ধান্ত অবহিত করিবেন।
(১) আবেদনকারী, পেটেন্ট আবেদন দাখিলের তারিখ হইতে ৩৬ (ছত্রিশ) মাসের মধ্যে, নির্ধারিত ফি পরিশোধপূর্বক, মহাপরিচালককে তাহার পেটেন্ট আবেদন পরীক্ষার অনুরোধ করিতে পারিবেন।
(২) পেটেন্ট পরীক্ষার অনুরোধ করিয়া কোনো আবেদন দাখিল করা না হইলে, উক্ত আবেদনটি পরিত্যক্ত হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে।
(৩) উক্ত মেয়াদ সমাপ্ত হইবার পূর্বে মহাপরিচালকের নিকট নির্ধারিত ফি-সহ মেয়াদ বৃদ্ধির অনুরোধপত্র দাখিল করা হইলে, উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত মেয়াদ ৩ (তিন) মাস বৃদ্ধি করা যাইবে।
(৪) মহাপরিচালক, এই আইনের বিধান মোতাবেক পেটেন্ট আবেদন পরীক্ষার ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন।
(১) যদি ধারা ২১ এর উপ-ধারা (১) এ বর্ণিত পদ্ধতিতে কোনো পেটেন্ট আবেদন পরীক্ষার অনুরোধ করা হয়, তাহা হইলে আবেদন ও বিশেষত্বনামা এবং তৎসংশ্লিষ্ট অন্যান্য দলিল, যতদ্রুত সম্ভব, পরীক্ষকের নিকট প্রেরণ করিবেন যাহাতে তিনি নিম্নবর্ণিত বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রস্তুত করিতে পারেন, যথা:-
(২) যদি কোনো পেটেন্ট আবেদনের ক্ষেত্রে মহাপরিচালক কর্তৃক গৃহীত পরীক্ষকের রিপোর্ট আবেদনকারীর প্রতিকূলে হয় এবং অতঃপর উল্লিখিত বিধান অনুযায়ী আবেদনটি নিষ্পত্তি করিবার ক্ষেত্রে কার্যধারা প্রতিপালন নিশ্চিত করিবার জন্য আবেদন ও বিশেষত্বনামা এবং তৎসংক্রান্ত অন্যান্য দলিল সংশোধনের প্রয়োজন হয়, তাহা হইলে মহাপরিচালক, যতদ্রুত সম্ভব, আপত্তির সার-সংক্ষেপ আবেদনকারীকে অবহিত করিবেন এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদনকারী চাহিলে তাহাকে শুনানির সুযোগ প্রদান করিবেন।
(১) যাহাকে ধারা ২২ এর অধীন কোনো পেটেন্ট আবেদন প্রেরণ করা হয় তিনি কোনো সম্পূর্ণ বিশেষত্বনামার দাবিতে দাবিকৃত উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে নিম্নবর্ণিত বিষয়াদি সম্পর্কে নিশ্চিত হইবার জন্য একটি অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনা করিবেন, যথা:-
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনার অতিরিক্ত হিসাবে আবেদনকারীর সম্পূর্ণ বিশেষত্বনামা দাখিলের তারিখের পূর্বে উক্ত উদ্ভাবন বাংলাদেশে বা অন্য কোনো স্থানে কোনো দলিলে প্রকাশের মাধ্যমে অনুমিত হইয়াছে কি না, উহা নিশ্চিত হইবার জন্যও পরীক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করিবেন।
(৩) যদি কোনো সম্পূর্ণ বিশেষত্বনামা বা কোনো একটি দাবি এই আইনের অধীন পেটেন্ট মঞ্জুরের পূর্বে সংশোধন করা হয়, তাহা হইলে সংশোধিত বিশেষত্বনামা বা সংশোধিত দাবি মূল বিশেষত্বনামা বা দাবির অনুরূপ একই পদ্ধতিতে পরীক্ষা করা হইবে।
(৪) ধারা ২২ ও এই ধারার অধীন পরিচালিত পরীক্ষা ও অনুসন্ধান কোনোভাবেই কোনো পেটেন্টের বৈধতা দান করিয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে না, এবং উক্ত পরীক্ষা বা তদন্ত বা কোনো প্রতিবেদন বা উহার ফলে কোনো কার্যধারার কারণে বা এতৎসম্পর্কিত বিষয়ে সরকার বা সরকারের কোনো কর্মচারী কোনো দায় বহন করিবে না।
(১) পেটেন্ট আবেদন পরীক্ষার পর কোনো উদ্ভাবন পেটেন্ট মঞ্জুর সংক্রান্ত শর্তাবলি পূরণ করিয়াছে বলিয়া মহাপরিচালকের নিকট যথাযথভাবে প্রতীয়মান হইলে, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ধারা ১৯ এর বিধানাবলী প্রতিপালন সাপেক্ষে, তিনি উদ্ভাবনটির পেটেন্ট মঞ্জুর করিয়া আদেশ জারি করিবেন এবং উক্ত শর্তাবলি পূরণ না হইলে আবেদন প্রত্যাখ্যান করিবেন, তবে উভয় ক্ষেত্রেই, তিনি গৃহীত সিদ্ধান্ত আবেদনকারীকে যথাশীঘ্র সম্ভব লিখিতভাবে অবহিত করিবেন।
(২) মহাপরিচালক পেটেন্ট মঞ্জুরের ক্ষেত্রে নিম্নবর্ণিত ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন, যথা:-
এই আইনের অন্যান্য বিধান সাপেক্ষে, এই আইনের অধীন প্রদত্ত কোনো পেটেন্টের স্বত্বাধিকারীর নিম্নবর্ণিত অধিকার থাকিবে, যথা:-
(১) এই আইনের অন্যান্য বিধান সাপেক্ষে, প্রত্যেকটি পেটেন্টের তারিখ হইবে পেটেন্টের জন্য আবেদন দাখিলের তারিখ বা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ।
(২) প্রত্যেকটি পেটেন্টের তারিখ রেজিস্টারে নথিভুক্ত করা হইবে।
(১) প্রত্যেকটি পেটেন্ট নির্ধারিত ফরমে হইবে এবং সমগ্র বাংলাদেশে কার্যকর হইবে।
(২) একটি উদ্ভাবনের জন্য কেবল একটি পেটেন্ট মঞ্জুর করা যাইবে।
(১) এই ধারার অন্যান্য বিধানাবলি সাপেক্ষে, যে কোনো পেটেন্ট, উহার মেয়াদ শেষ না হইলে বা কার্যকারিতা না হারাইলে, পেটেন্ট আবেদন দাখিলের তারিখ হইতে বা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ হইতে ২০ (বিশ) বৎসর পর্যন্ত বলবৎ থাকিবে।
(২) পূর্ববর্তী বৎসরের বার্ষিক ফি পরিশোধ করিয়া পরবর্তী বৎসরের জন্য পেটেন্ট নবায়ন করা যাইবে।
(৩) বার্ষিক ফি প্রদানে বিলম্ব হইলে, নবায়নের সময় বৃদ্ধির জন্য আবেদন দাখিল ও বিলম্ব ফি পরিশোধ সাপেক্ষে, বার্ষিক ফি প্রদানের সময়সীমা অনূর্ধ্ব ৩ (তিন) মাস বর্ধিত করা যাইবে।
(৪) পেটেন্টে বা এই আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, যদি নবায়ন ফি প্রদানের মেয়াদ শেষ হইয়া যায় এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অথবা এইরূপ বর্ধিত সময়ের মধ্যে উক্ত ফি প্রদান না করা হয়, তাহা হইলে পেটেন্টের কার্যকরতা বাতিল হইবে।
(৫) আপাতত বলবৎযোগ্য অন্য কোনো আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, যদি নবায়ন ফি প্রদানের মেয়াদ শেষ হইয়া যাওয়া এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অথবা এইরূপ বর্ধিত সময়ের মধ্যে উক্ত ফি প্রদান না করিবার কারণে কোনো পেটেন্টের কার্যকরতা বাতিল হয়, তাহা হইলে উক্ত পেটেন্টির পেটেন্টের বিষয়বস্তুর সুরক্ষার কোনো অধিকার থাকিবে না।
(৬) যদি মহাপরিচালক এই মর্মে সন্তুষ্ট হন যে, যুক্তিসঙ্গত কারণে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নবায়ন ফি পরিশোধ করা সম্ভব হয় নাই, তাহা হইলে নবায়ন ফি পরিশোধের জন্য নির্ধারিত মেয়াদোত্তীর্ণ এর ২ (দুই) বছরের মধ্যে যে কোনো সময় নির্ধারিত নবায়ন ফি ও পেটেন্ট পুনরুদ্ধার ফি পরিশোধ সাপেক্ষে পেটেন্ট পুনরুদ্ধারের আবেদন করিতে পারিবেন।
এই আইনের অধীন কোনো পেটেন্ট এই শর্তে মঞ্জুর করা হইবে যে, ফার্মাসিউটিক্যাল পণ্যের পেটেন্টের ক্ষেত্রে, ফার্মাসিউটিক্যাল পণ্য সরকার কর্তৃক কেবল উহার নিজস্ব ব্যবহারের জন্য বা সরকার কর্তৃক বা সরকারের পক্ষে পরিচালিত কোনো ডিসপেনসারি, হাসপাতাল বা অন্য কোনো ডিসপেনসারি, হাসপাতাল বা মেডিকেল প্রতিষ্ঠানে বিতরণের জন্য আমদানি করিতে পারিবে, যাহা সরকার এই মর্মে সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা নির্ধারণ করিতে পারিবে যে, উক্ত ডিসপেনসারি, হাসপাতাল বা মেডিক্যাল প্রতিষ্ঠান সরকারের পক্ষে জনসেবা প্রদান করে।
(১) দাখিলকৃত বা গৃহীত বায়োলজিক্যাল রিসোর্স সম্পর্কিত পেটেন্টের ক্ষেত্রে উক্ত পেটেন্টের স্বার্থসংশ্লিষ্ট কোনো পক্ষ পেটেন্টের মালিকানার অংশ দাবি করিতে পারিবেন।
(২) পেটেন্টের মালিকানার অংশ হস্তান্তরের জন্য সংশ্লিষ্ট এজেন্সি বা সত্তার নাম উল্লেখপূর্বক মহাপরিচালকের নিকট আবেদন করিতে হইবে।
(৩) এই ধারার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, পেটেন্টের মালিকানার অংশ অন্যূন ২০ (বিশ) শতাংশ হইবে।
(১) পেটেন্টের মালিকানা বা উহার আবেদনে উল্লিখিত যে কোনো পরিবর্তন লিখিত হইতে হইবে এবং পেটেন্টের স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তির আবেদনের ভিত্তিতে মহাপরিচালকের কার্যালয়ে রেকর্ড করিতে হইবে, যদি না বিপরীত কোনো আবেদন করা হয় এবং মহাপরিচালক কর্তৃক উক্ত পরিবর্তন ওয়েবসাইটে বা প্রচলিত পদ্ধতিতে প্রজ্ঞাপন দ্বারা প্রকাশিত হইবে, তবে উক্তরূপ পরিবর্তন রেকর্ডভুক্তির পূর্বে তৃতীয় কোনো পক্ষের বিরুদ্ধে কার্যকর হইবে না।
(২) পেটেন্ট সংক্রান্ত যে কোনো লাইসেন্সের চুক্তি বা তৎসম্পর্কিত আবেদন মহাপরিচালকের নিকট দাখিল করিতে হইবে।
(৩) মহাপরিচালক, উপ-ধারা (১) ও (২) এর অধীন প্রাপ্ত আবেদন রেকর্ডভুক্ত করিবেন, তবে উহার বিষয়বস্তু গোপন রাখিতে হইবে এবং তৎসম্পর্কিত মন্তব্য প্রকাশ করিবেন না এবং রেকর্ডভুক্ত হইবার পূর্বে তৃতীয় পক্ষের বিরুদ্ধে লাইসেন্সের চুক্তি কার্যকর হইবে না।
(৪) নিম্নবর্ণিত ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা আরোপকারী কতিপয় শর্ত পরিহার করা যাইবে, যথা:-
(৫) পেটেন্ট অধিকার লঙ্ঘনের কোনো মোকদ্দমায় ইহা প্রমাণ করা আত্মপক্ষ সমর্থন করা হইবে যে, উহা লঙ্ঘনের সময় পেটেন্ট সংক্রান্ত এইরূপ কোনো চুক্তি কার্যকর ছিল যাহাতে উপ-ধারা (৪) এর অধীন অবৈধ ঘোষিত কোনো শর্ত ছিল:
তবে শর্ত থাকে যে, যদি বাদী চুক্তির কোনো পক্ষ না হয় এবং আদালতের সন্তোষানুযায়ী প্রমাণ করিতে সক্ষম হন যে, সীমাবদ্ধতা আরোপকারী শর্ত তাহার অজান্তে বা সম্মতি, প্রকাশ্য বা অপ্রকাশ্য যাহাই হউক না কেন, ব্যতীত সংযুক্ত করা হইয়াছিল, তাহা হইলে উপ-ধারা (৪) এর বিধান প্রযোজ্য হইবে না।
(৬) যদি মহাপরিচালক এই মর্মে নিশ্চিত হন যে, অধিকার সংক্রান্ত চুক্তিতে বা উহাতে উল্লিখিত কোনো আইনগত দলিলে উপ-ধারা (৪) এ বর্ণিত শর্তাবলি বিদ্যমান রহিয়াছে, তাহা হইলে তিনি পেটেন্টের মালিকানা পরিবর্তন বা লাইসেন্সের চুক্তি রেকর্ড করিতে অস্বীকার করিতে পারিবেন, তবে কোনো পক্ষ বা উভয় পক্ষ শুনানি গ্রহণের অনুরোধ করিলে তিনি চুক্তির সংশ্লিষ্ট পক্ষগণের শুনানি গ্রহণ করিবেন এবং এইরূপ ক্ষেত্রে চুক্তির পক্ষগণ কর্তৃক চুক্তি সংক্রান্ত প্রাসঙ্গিক সাক্ষ্যপ্রমাণ দাখিল সাপেক্ষে, মহাপরিচালক এইরূপ বিষয় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে, নির্ধারিত পদ্ধতিতে, নিষ্পত্তি করিবেন।
(৭) কোনো পক্ষ বা উভয় পক্ষ, মহাপরিচালক কর্তৃক চুক্তি রেকর্ড করিতে অস্বীকার করিবার সিদ্ধান্ত প্রদানের তারিখ হইতে ২ (দুই) মাসের মধ্যে উক্ত সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করিতে পারিবে।
(৮) স্বত্বগ্রহীতা বা লাইসেন্সগ্রহীতার উপর আরোপিত যে কোনো সীমাবদ্ধতা, যাহা লাইসেন্সকৃত অধিকারের নিবন্ধন দ্বারা উদ্ভূত নহে বা অধিকারের রক্ষাকবচের জন্য প্রয়োজনীয় নহে, তাহা অপব্যবহারমূলক বা অসম প্রতিযোগিতামূলক প্রভাবসম্পন্ন বা অসম প্রতিযোগিতামূলক বলিয়া গণ্য হইবে।
(৯) ভিন্নরূপ বিধান করা না হইলে, প্রয়োগের পরিস্থিতি, কারণ বা যৌক্তিকতা যাচাই বাছাইয়ের প্রয়োজন না থাকিলে নিম্নবর্ণিত শর্তাবলি বা দফার প্রয়োগ আইন বহির্ভূত মর্মে গণ্য হইবে, যথা:-
(১০) এই ধারার অন্যান্য বিধানে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, স্বত্বনিয়োগ এবং লাইসেন্স প্রদানের চুক্তিতে নিম্নবর্ণিত বিধান সন্নিবেশ করা যাইবে, যথা:-
(১১) যেক্ষেত্রে কোনো পেটেন্টে স্বত্বনিয়োগ বা কোনো লাইসেন্স প্রদান সংক্রান্ত চুক্তির বিষয়বস্তু চুক্তি কার্যকর হইবার পর বাতিল হয়, সেইক্ষেত্রে চুক্তিটি তাৎক্ষণিকভাবে সমাপ্ত হইবে এবং পক্ষগণ উক্ত চুক্তির অধীন যে পরিমাণ অর্থ বা সুযোগ-সুবিধা পরস্পরকে প্রদান করিয়াছে উক্ত অর্থ বা সুযোগ-সুবিধার সম্পূর্ণ বা অংশবিশেষ পুনরুদ্ধার করিতে পারিবেন, যদি না উক্ত অর্থ বা সুযোগ-সুবিধা যে পক্ষের অনুকূলে প্রদত্ত হইয়াছিল, উক্ত পক্ষ চুক্তির কারণে সরল বিশ্বাসে উহার দ্বারা লাভবান হইয়া থাকেন এবং চুক্তি বাতিলের কারণে উক্ত সুযোগ-সুবিধা বাতিল হইয়া না থাকে।
(১২) উপ-ধারা (৯) এর বিধানাবলি, প্রয়োজনীয় পরিবর্তন ও পরিবর্ধনসহ, লাইসেন্স প্রদান এবং অনিষ্পন্ন পেটেন্ট আবেদন হস্তান্তরের চুক্তির ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হইবে।
(১) স্বার্থসংশ্লিষ্ট কোনো ব্যক্তি কোনো পেটেন্ট বাতিল করিবার উদ্দেশ্য আদালতে আবেদন করিতে পারিবেন।
(২) যদি পেটেন্ট বাতিলের জন্য আবেদনকারী ব্যক্তি প্রমাণ করিতে সক্ষম হন যে, ধারা ৮ এর উপ-ধারা (৩) ও (৪) অধীন কোনো প্রয়োজনীয় শর্তাবলি পূরণ করা হয় নাই বা পেটেন্টের স্বত্বাধিকারী উহার উদ্ভাবক বা উহার স্বত্বের উত্তরাধিকারী না হন, তাহা হইলে উপযুক্ত আদালত উক্ত পেটেন্ট বাতিল করিতে পারিবে।
(৩) যেক্ষেত্রে উদ্ভাবনের অংশবিশেষ বাতিলের প্রেক্ষাপট তৈরি হয়, কেবল সেইক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দাবি বা দাবিসমূহ বাতিল হইবে।
(৪) বাতিল ঘোষিত যে কোনো পেটেন্ট বা কোনো দাবি বা দাবির অংশবিশেষ, পেটেন্ট মঞ্জুরের তারিখ হইতে বাতিল হইবে এবং উহা কখনও মঞ্জুর করা হয় নাই মর্মে গণ্য হইবে।
(৫) পেটেন্ট অধিকার সংক্রান্ত বিরোধের ক্ষেত্রে স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি পেটেন্ট বাতিল করিবার পরিবর্তে পেটেন্টের স্বত্বাধিকার তাহাকে হস্তান্তর করিবার জন্য উপযুক্ত আদালতের নিকট আবেদন করিতে পারিবেন।
(৬) আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত মহাপরিচালককে অবহিত করা হইবে এবং উক্ত সিদ্ধান্ত অবহিত হইবার পর তিনি উহা রেকর্ড করিবেন ও বিধি মোতাবেক উহার স্মারক প্রকাশ করিবেন।
(৭) মহাপরিচালকের নিকট পেটেন্ট স্বত্বাধিকারী কর্তৃক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে পেটেন্ট সংক্রান্ত বিদ্যমান বিধি-বিধান মোতাবেক পেটেন্ট বাতিল করা যাইবে।
(৮) মহাপরিচালকের নিকট পেটেন্ট স্বত্বাধিকারী কর্তৃক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে পেটেন্ট সংক্রান্ত বিদ্যমান বিধি-বিধান মোতাবেক পেটেন্ট এর স্বত্বত্যাগ ও পেটেন্ট প্রত্যাহার করা যাইবে।
(১) এই আইনের বিধানাবলি সাপেক্ষে, এই আইন প্রবর্তিত হইবার পূর্বে হউক বা পরে, কোনো ব্যক্তি বা সরকার কর্তৃক পিটিশন দাখিল করা হইলে বা উক্ত পেটেন্ট লঙ্ঘনের মোকদ্দমায় পাল্টা-দাবির ক্ষেত্রে জেলা আদালত কর্তৃক নিম্নবর্ণিত কারণে কোনো পেটেন্ট বাতিল করা যাইবে, যথা:-
(২) এই ধারার অধীন পেটেন্ট বাতিলের আবেদনের একটি নোটিশ, মহাপরিচালকের নিকট প্রতীয়মান উক্ত পেটেন্টের সকল স্বত্বাধিকারীকে বা যাহাদের উহাতে শেয়ার বা স্বার্থ আছে তাহাদেরকে, প্রদান করা হইবে এবং অন্য কোনো ব্যক্তিকে এইরূপ নোটিশ প্রদানের প্রয়োজন হইবে না।
যদি সরকারের নিকট প্রতীয়মান হয় যে, কোনো পেটেন্ট বা উহার কার্যপদ্ধতি জনস্বাস্থ্য বা জনস্বার্থের জন্য ক্ষতিকর, তাহা হইলে সরকার, পেটেন্ট স্বত্বাধিকারীকে শুনানির সুযোগ প্রদানপূর্বক, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, পেটেন্ট প্রত্যাহারের ঘোষণা প্রদান করিতে পারিবে এবং উক্ত ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে উক্ত পেটেন্ট বাতিল বলিয়া গণ্য হইবে।
এই আইনের কোনো বিধান ক্ষুণ্ন না করিয়া, এই অধ্যায়ে প্রদত্ত ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষেত্রে নিম্নবর্ণিত বিষয়াদি সাধারণ বিবেচনায় লইতে হইবে, যথা:-
(ক)উদ্ভাবনের প্রতি উৎসাহিত করিবার জন্য এবং উদ্ভাবনটি বাণিজ্যিক ভিত্তিতে বাংলাদেশে কার্যকর এবং উহা অযাচিত বিলম্ব ব্যতীত স্বাভাবিকভাবে ব্যবহারযোগ্য ইহা নিশ্চিত করিবার জন্য পেটেন্ট মঞ্জুর করা হইবে;
১। নিম্নবর্ণিত ক্ষেত্রে যে কোনো ব্যক্তি যে কোনো সময় বাধ্যতামূলক লাইসেন্সের জন্য আবেদন করিতে পারিবে, যথা:-
ব্যাখ্যা।- এই দফার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, অসম প্রতিযোগিতা অর্থে নিয়ন্ত্রণকারী অবস্থানের অপব্যবহার, যথাযথ ও ন্যায়সঙ্গত শর্তে লাইসেন্স প্রদানে অস্বীকৃতি অন্তর্ভুক্ত হইবে;
ব্যাখ্যা।- এই দফার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, একচেটিয়া অধিকারের অপব্যবহার অর্থে নিম্নবর্ণিত বিষয়াদি অন্তর্ভুক্ত হইবে, যথা:-
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন আবেদন প্রাপ্তির পর মহাপরিচালক, প্রয়োজনীয় শর্ত সাপেক্ষে, বাধ্যতামূলক লাইসেন্স মঞ্জুর করিতে পারিবেন এবং আবেদনের তারিখ হইতে ৬ (ছয়) মাসের মধ্যে বাধ্যতামূলক লাইসেন্সের আবেদন বিবেচনা ও নিষ্পত্তি করিতে হইবে।
(৩) যদি উপ-ধারা (১) এর অধীন কোনো আবেদন দাখিল করা হয়, তাহা হইলে আবেদনকারী পেটেন্ট স্বত্বাধিকারীর নিকট হইতে যথাযথ বাণিজ্যিক শর্ত সাপেক্ষে বাধ্যতামূলক লাইসেন্স প্রাপ্তির প্রচেষ্টা চালাইবেন এবং যদি যৌক্তিক সময়ের মধ্যে এইরূপ প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়, তাহা হইলে উক্ত বিধান উপ-ধারা (১) এর দফা (খ) এর অধীন কোনো সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে না।
(৪) উপ-ধারা (১) এর দফা (ঘ) এর অধীন পেটেন্টকৃত পণ্যের অকার্যকরতা বা অপর্যাপ্ত কার্যকরতার কারণে পেটেন্ট আবেদন দাখিলের তারিখ হইতে ৪ (চার) বৎসর বা পেটেন্ট মঞ্জুরের তারিখ হইতে ৩ (তিন) বৎসর, যে সময়কাল পরে অতিক্রান্ত হয়, কোনো বাধ্যতামূলক লাইসেন্স প্রযোজ্য হইবে না এবং বাধ্যতামূলক লাইসেন্স প্রদান অস্বীকার করা হইবে না, যদি না পেটেন্টের স্বত্বাধিকারী এইরূপ নিষ্ক্রিয়তা বা অপর্যাপ্ত পদক্ষেপের যুক্তিসঙ্গত কারণ উপস্থাপন করিতে সক্ষম হন।
(৫) উপ-ধারা (৪) এ উল্লিখিত বাধ্যতামূলক লাইসেন্স একচেটিয়া হইবে না এবং হস্তান্তরযোগ্যও হইবে না, এমনকি সাব-লাইসেন্সের মাধ্যমেও, তবে ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান বা সুনামের এইরূপ অংশের জন্য হস্তান্তরযোগ্য হইবে যাহার ক্ষেত্রে উক্ত লাইসেন্স ব্যবহৃত হয়।
(৬) বাধ্যতামূলক লাইসেন্সের অধীন উদ্ভাবনের ব্যবহার প্রধানত বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে সরবরাহের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে, যদি না অসম প্রতিযোগিতা প্রতিকারের উদ্দেশ্যে উপ-ধারা (১) এর দফা (খ) এর অধীন উক্ত বাধ্যতামূলক লাইসেন্স মঞ্জুর করা হয় বা ধারা ৩৯ এর অধীন উৎপাদন-সামর্থহীন বা অপর্যাপ্ত উৎপাদন-সামর্থ কোনো বিদেশি ভূখণ্ডে রপ্তানি করাই লাইসেন্সের উদ্দেশ্য হয়।
(৭) সেমি-কন্ডাক্টর প্রযুক্তির ক্ষেত্রে, উদ্ভাবনের বাধ্যতামূলক লাইসেন্স কেবল মহাপরিচালক কর্তৃক অবাণিজ্যিক ব্যবহারের উদ্দেশ্যে মঞ্জুর করা হইবে বা যেক্ষেত্রে কোনো আদালত বা আইনানুগভাবে গঠিত সংস্থা কর্তৃক স্থিরীকৃত হয় যে, পেটেন্টের স্বত্বাধিকারী বা লাইসেন্সি কর্তৃক, পেটেন্টভুক্ত উদ্ভাবনের ব্যবহারের প্রক্রিয়া অসম প্রতিযোগিতামূলক এবং সরকার এই মর্মে সন্তুষ্ট হয় যে, বাধ্যতামূলক নহে এমন কোনো লাইসেন্সের মঞ্জুরি উক্ত প্রচলিত রীতিতে যথাযথ প্রতিকার হইতে পারে, সেইক্ষেত্রে এইরূপ পরিস্থিতিতে বাধ্যতামূলক লাইসেন্স মঞ্জুর করা হইবে।
(৮) উপ-ধারা (১) এর দফা (ঙ) এর অধীন বাধ্যতামূলক লাইসেন্স মঞ্জুর করা হইলে-
(১) মহাপরিচালক, ধারা ৩৬ এর অধীন আবেদন প্রাপ্তির পর পেটেন্ট আবেদনকারী বা পেটেন্ট স্বত্বাধিকারীকে উক্ত আবেদনের একটি কপিসহ নোটিশ প্রদান করিবেন।
(২) পেটেন্ট আবেদনকারী বা পেটেন্ট স্বত্বাধিকারী যিনি উক্ত আবেদনের বিরোধিতা করিতে আগ্রহী, তিনি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিরোধের নোটিশ প্রদান করিতে পারিবেন।
(৩) এইরূপ বিরোধের কোনো নোটিশ প্রদান করা হইলে, মহাপরিচালক বাধ্যতামূলক লাইসেন্সের জন্য আবেদনকারীকে অবহিত করিবেন এবং ধারা ৩৬ এর উপ-ধারা (২) এ বর্ণিত মেয়াদের মধ্যে বিষয়টি সমাধানের পূর্বে আবেদনকারী ও বিরোধিতাকারীকে শুনানির সুযোগ প্রদান করিবেন।
(৪) ধারা ৩৬ এর উপ-ধারা (২) এর অধীন বাধ্যতামূলক লাইসেন্স মঞ্জুর করা হইলে, মহাপরিচালক পেটেন্ট স্বত্বাধিকারীকে প্রদেয় যথাযথ পারিতোষিক, যাহা মোট বিক্রয়ের অনধিক ৪% (চার শতাংশ) হইবে এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য শর্ত নির্ধারণ করিবেন।
(৫) ধারা ৩৬ এর উপ-ধারা (১) এর দফা (খ) এর অধীন কোনো সিদ্ধান্ত গৃহীত হইলে, পারিতোষিকের পরিমাণ নির্ধারনের ক্ষেত্রে লাইসেন্সি কর্তৃক পেটেন্ট এর অসম প্রতিযোগিতামূলক ব্যবহার সংশোধনের আবেদন বিবেচনা করিতে হইবে।
(৬) পেটেন্ট স্বত্বাধিকারীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মহাপরিচালক যদি এই মর্মে সন্তুষ্ট হন যে, বাধ্যতামূলক লাইসেন্স কার্যকর রাখিবার মতো প্রয়োজনীয় অবস্থা সমাপ্ত হইয়াছে এবং উহার পুনরাবৃত্তি অসম্ভব, বা বাধ্যতামূলক লাইসেন্সি লাইসেন্সের বিধান পালন করিতে ব্যর্থ হইয়াছেন, তাহা হইলে মহাপরিচালক, বাধ্যতামূলক লাইসেন্সির আইনগত স্বার্থের যথাযথ সুরক্ষার শর্ত সাপেক্ষে, বাধ্যতামূলক লাইসেন্স বাতিল করিতে পারিবেন, তবে লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত গ্রহণের পূর্বে লাইসেন্সিকে শুনানির সুযোগ প্রদান করিতে হইবে।
ধারা ৩৬ এর উপ-ধারা (২) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, যদি সরকার এই মর্মে সন্তুষ্ট হয় যে, জাতীয় জরুরি অবস্থা বা অন্যান্য চরম জরুরি পরিস্থিতি বিদ্যমান বা সরকার কর্তৃক অবাণিজ্যিক ব্যবহারের জন্য উক্ত পেটেন্টের সিলিং এর পর যে কোনো সময় বাধ্যতামূলক লাইসেন্স মঞ্জুর করা প্রয়োজন, তাহা হইলে সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই মর্মে একটি ঘোষণা প্রদান করিতে পারিবে এবং এতদ্সঙ্গে নিম্নবর্ণিত বিধানাবলি কার্যকর হইবে, যথা:-
ব্যাখ্যা।- এই ধারার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, “পরিস্থিতি” অর্থে আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য বিধি অনুযায়ী জনস্বাস্থ্যের আন্তর্জাতিক জরুরি অবস্থাসহ, জনস্বাস্থ্য সংকট, এইডস্, এইচআইভি, যক্ষা (Tuberculosis), ম্যালেরিয়া বা অন্য কোনো মহামারি (Pandemic) এবং অসংক্রামক রোগ, যেমন- কর্কট (Cancer), বহুমূত্র (Diabetes), হৃদযন্ত্রের জটিলতা (Cardiovascular Disorder), বা সমজাতীয় রোগের প্রতিষেধকের লাইসেন্স প্রদানের ক্ষেত্রে বিবেচনায় নেওয়া হইবে।
নিম্নবর্ণিত ক্ষেত্রে ফার্মাসিউটিক্যাল পণ্য রপ্তানির জন্য বাধ্যতামূলক লাইসেন্স প্রদান করা যাইবে, যথা:-
তবে শর্ত থাকে যে, এইরূপ দেশ কর্তৃক বাধ্যতামূলক লাইসেন্স প্রদান করিতে হইবে বা, ক্ষেত্রমত, প্রজ্ঞাপন দ্বারা, বাংলাদেশ হইতে পেটেন্টকৃত ফার্মাসিউটিক্যাল পণ্য আমদানির অনুমোদন প্রদান করিতে হইবে;
ব্যাখ্যা।- এই ধারার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, ‘‘ফার্মাসিউটিক্যাল পণ্য’’ বলিতে কোনো পেটেন্টকৃত ফার্মাসিউটিক্যাল পণ্য, বা পেটেন্টকৃত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে উৎপাদিত কোনো ফার্মাসিউটিক্যাল পণ্য যাহা জনস্বাস্থ্য সমস্যা সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় এবং উক্ত পণ্য উৎপাদনের উপাদান এবং রোগ নির্ণয়ক কিটও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে।
(১) এই আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, অধিদপ্তরে কোনো পেটেন্টের আবেদন দাখিলের পর বা পেটেন্ট মঞ্জুরের পর, সরকার বা তৎকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি, সরকারের প্রয়োজনে, এই ধারার বিধান মোতাবেক যে কোনো সময় উক্ত উদ্ভাবন ব্যবহার করিতে পারিবে।
ব্যাখ্যা।- “সরকারের প্রয়োজনে” বলিতে জনস্বার্থ, জনস্বাস্থ্য, পুষ্টি, পরিবেশ, পেটেন্টকৃত পণ্যের বিদ্যমান চাহিদা, পেটেন্টকৃত পণ্যের চড়া মূল্য, সরকার কর্তৃক গেজেটভুক্ত কোনো প্রকারের স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে ফার্মাসিউটিক্যাল পণ্য সরবরাহ অন্তর্ভুক্ত হইবে।
(২) উপ-ধারা (১) এর বিধান সত্ত্বেও, যে কোনো ব্যক্তি উপ-ধারা (১) এর অধীন সরকারের উদ্দেশ্যে ক্ষমতা অর্জনের জন্য সরকারের নিকট আবেদন করিতে পারিবে, এবং এইরূপ আবেদনের ক্ষেত্রে, আবেদনের ৬০ (ষাট) দিনের মধ্যে, আবেদনকারী ও পেটেন্ট স্বত্বাধিকারীকে শুনানির সুযোগ প্রদানের পর, কারণসহ সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হইবে।
(৩) কোনো উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে সরকার, পেটেন্ট মঞ্জুরের পূর্বে হউক বা পরে, এই ধারার অধীন ক্ষমতা প্রদান করিতে পারিবে এবং আবেদনকারী বা পেটেন্ট স্বত্বাধিকারী কর্তৃক, প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত হউক বা না হউক, যে কোনো ব্যক্তিকে উক্ত উদ্ভাবন উৎপাদন, ব্যবহার, চর্চা বা বিক্রয়ের জন্য অথবা যন্ত্রপাতি, সরঞ্জাম বা উক্ত পেটেন্টের আওতাভুক্ত অন্য কোনো পণ্য বা ঔষধ বা ড্রাগ আমদানির জন্য এইরূপ ক্ষমতা প্রদান করা যাইবে।
(৪) সরকার এইরূপ ব্যবহারের জন্য পেটেন্ট স্বত্বাধিকারীকে ন্যায্য বিক্রির অনধিক ৪% (চার শতাংশ) পারিতোষিক প্রদান করিবে।
(১) যদি ধারা ৩৬, ৩৭, ৩৮, ৩৯ বা ৪০ এর কোনো একটির অধীন বাধ্যতামূলক লাইসেন্স ইস্যু করা হয়, তাহা হইলে পেটেন্ট বা পেটেন্ট আবেদনের সুরক্ষিত বিষয়বস্তু উৎপাদন, ব্যবহার, বিক্রির জন্য প্রস্তাব, বিক্রি, আমদানি বা রপ্তানির উদ্দেশ্যে লাইসেন্সিকে প্রাসঙ্গিক তথ্য, যন্ত্রপাতি, প্রয়োজনীয় ডসিয়ার, পরীক্ষা ফলাফল বা অন্যান্য উপাত্ত সরবরাহ করিবার জন্য আবেদনকারী বা পেটেন্টিকে নির্দেশ প্রদান করা যাইবে।
(২) পেটেন্ট আবেদনকারী বা পেটেন্টি উপ-ধারা (১) এর অধীন কোনো অনুরোধ পালন করিতে অস্বীকার করিলে, কোনো রেগুলেটরি এজেন্সি, অন্য কোনো সরকারি কর্তৃপক্ষ বা প্রতিষ্ঠানকে, যাহাদের নিকট এইরূপ প্রাসঙ্গিক তথ্য, যন্ত্রপাতি, প্রয়োজনীয় ডসিয়ার, পরীক্ষা ফলাফল বা অন্যান্য উপাত্ত রহিয়াছে, উহা সরবরাহ করিবার জন্য নির্দেশ প্রদান করা যাইবে।
(১) “ইউটিলিটি মডেল পেটেন্ট” অর্থ সরকার কর্তৃক প্রদত্ত পেটেন্ট অধিকার, যাহা কোনো পণ্যের বা সংযোজনের গঠন বা আকৃতির সহিত সম্পৃক্ত, শিল্প ক্ষেত্রে ব্যবহারের উপযুক্ত, এবং যাহাতে প্রযুক্তির অগ্রগতির বৈশিষ্ট্য রহিয়াছে এবং যাহা জ্ঞাতপূর্বত্বের আওতাবহির্ভূত এবং এই আইনের অধীন নিবন্ধিত।
(২) নিম্নবর্ণিত বিষয়সমূহ ইউটিলিটি মডেল হিসাবে সুরক্ষা বহির্ভূত হইবে, যথা:-
(১) যে কোনো ব্যক্তি বা উদ্ভাবক ইউটিলিটি মডেল পেটেন্টের জন্য আবেদন করিতে পারিবেন।
(২) বিবৃতি সম্বলিত নির্দিষ্ট ফরমে ফি সহকারে যথাযথভাবে পূরণকৃত অনুরোধ দাখিল করিতে হইবে।
(৩) ইউটিলিটি মডেল পেটেন্টের আবেদন দাবি আকারে হইবে এবং উক্ত দাবি বা দাবিসমূহ সুস্পষ্ট ও সংক্ষিপ্ত এবং পূর্ণাঙ্গ বিবরণ দ্বারা সমর্থিত হইবে।
(৪) কোনো আবেদন সাধারণ ও কারিগরি শর্তাদি প্রতিপালন করিলে অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে বা প্রচলিত পদ্ধতিতে প্রকাশ করা হইবে।
(৫) যেক্ষেত্রে ইউটিলিটি মডেল পেটেন্টের অগ্রাধিকার দাবি করা হয়, সেইক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ কার্যকর থাকিবে।
(৬) নূতনত্ব, শিল্পে ব্যবহারযোগ্যতা ও উহা নিবন্ধন অযোগ্য ইউটিলিটি মডেল পেটেন্ট কিনা এবং এই আইন ও এর আওতায় প্রণীত বিধিমালার বর্ণিত সকল বিষয় ও শর্তাদি প্রতিপালন সম্পর্কিত পরীক্ষা সম্পন্ন করিতে হইবে। আবেদনকারীর অনুরোধ বা পরীক্ষা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে আবেদন সংশোধন করা যাইবে। পরীক্ষা প্রতিবেদন অনুযায়ী আবেদন নিবন্ধন বা প্রত্যাখ্যান করা যাইবে।
(৭) যেক্ষেত্রে তৃতীয় কোনো পক্ষ কর্তৃক ইউটিলিটি মডেল পেটেন্ট নিবন্ধনের বিরোধিতা করা হয়, সেইক্ষেত্রে উক্ত পক্ষ বা পক্ষগণকে বিরোধিতার সমর্থনে পর্যাপ্ত তথ্য ও প্রমাণাদি দাখিল করিতে হইবে। প্রাপ্ত তথ্য ও প্রমাণাদির আলোকে প্রস্তুতকৃত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে শুনানি গ্রহণ করে মহাপরিচালকের বিবেচনায় যথোপযুক্ত সিদ্ধান্ত প্রদান করিতে হইবে।
(৮) ইউটিলিটি মডেল পেটেন্ট নিবন্ধনের মেয়াদ হইবে নবায়ন সাপেক্ষে ৮ (আট) বৎসর এবং ইহা আবেদন দাখিলের তারিখ বা ক্ষেত্রমত অগ্রাধিকার তারিখ হইতে কার্যকর হইবে।
(৯) ইউটিলিটি মডেল পেটেন্ট সংক্রান্ত অন্যান্য বিষয়াদি বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে।
(১) কোনো ব্যক্তি, এই আইনের বিধান সাপেক্ষে, পেটেন্টের স্বত্বাধিকারীর সহিত চুক্তি সম্পাদন ব্যতিরেকে, ধারা ২৫ এর অধীন ঘোষিত কোনো অধিকার লঙ্ঘন করিলে, পেটেন্টের স্বত্বাধিকারী উক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে উক্ত অধিকার লঙ্ঘনের মামলা করিতে পারিবেন।
(২) যদি-
(৩) দেওয়ানি কার্যবিধি বা মামলার বিষয়বস্তুর সহিত সম্পর্কিত অন্য কোনো আইনের অধীন কোনো আদালত ধারা ২৫ এর বিধান ভঙ্গের জন্য আদেশ জারি করিতে পারিবে:
তবে শর্ত থাকে যে, যদি বিবাদি কর্তৃক পেটেন্ট প্রত্যাহারের কোনো পাল্টা-দাবি উত্থাপন করা হয়, তাহা হইলে আদালত বিধান ভঙ্গের মামলা ও পাল্টা-দাবি উভয়টি একসঙ্গে বিচার করিবে।
ধারা ৪৪ এর অধীন কোনো মোকদ্দমা কেবল জেলা আদালতের অধস্তন নয় এইরূপ কোনো উপযুক্ত আদালতে দায়ের করা যাইবে।
(১) যদি পেটেন্টের স্বত্বাধিকারীর অধিকার লঙ্ঘনের বিষয়বস্তু কোনো পণ্য লাভের পদ্ধতি হয়, তাহা হইলে আদালত স্বত্বাধিকার লঙ্ঘনকারীকে তদ্কর্তৃক উদ্ভাবিত অভিন্ন পণ্য উৎপাদনের জন্য ব্যবহৃত পদ্ধতি পেটেন্টপ্রাপ্ত পদ্ধতি হইতে পৃথক উহা প্রমাণ করিবার জন্য আদেশ প্রদান করিতে পারিবে।
(২) যদি কোনো অভিন্ন পণ্য পেটেন্টের স্বত্বাধিকারীর সম্মতি ব্যতীত উৎপাদন করা হয়, সেইক্ষেত্রে ভিন্নরূপ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত উহা পেটেন্টপ্রাপ্ত পদ্ধতি দ্বারা অর্জিত হইয়াছে মর্মে গণ্য হইবে, যদি না পেটেন্টপ্রাপ্ত পদ্ধতির দ্বারা অর্জিত উক্তরূপ পণ্য নূতন হয়।
(৩) কোনো পক্ষ তাহার উপর উপ-ধারা (১) এর অধীন প্রদত্ত আদেশ পালন করিয়াছে কি না তাহা বিবেচনাক্রমে, আদালত তাহাকে কোনো উৎপাদন বা ব্যবসার গোপনীয়তা প্রকাশ করিবার জন্য নির্দেশ প্রদান করিবে না, যদি এইরূপ নির্দেশ প্রদান করা আদালতের নিকট অযৌক্তিক মনে হয়।
(১) যদি চুক্তির লঙ্ঘন বা সুনির্দিষ্ট প্রতিপালন সংক্রান্ত কোনো মোকদ্দমা ধারা ৪৪ এর বিধান ভঙ্গের জন্য হয়, তাহা হইলে আদালত কোনো একতরফা অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা বা অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করিবে না।
(২) পেটেন্ট অধিকার লঙ্ঘন বা চুক্তির সুনির্দিষ্ট প্রতিপালন সংক্রান্ত কোনো মোকদ্দমা বিচারের পূর্বে আদালত অপর পক্ষকে শুনানির সুযোগ প্রদান করিবে।
(৩) নিম্নবর্ণিত বিষয়াদির ভিত্তিতে আদালত অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা বা অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করিতে পারিবে, যথা:-
তবে শর্ত থাকে যে, আদালত, অপর পক্ষকে শুনানির সুযোগ প্রদান ব্যতিরেকে, অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করিবে না।
(৪) কোনো পক্ষ কর্তৃক দাখিলকৃত অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আবেদন ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করিতে হইবে।
(৫) সংক্ষুব্ধ পক্ষ, অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কে অবহিত হইবার অনূর্ধ্ব ১৪ ( চৌদ্দ) দিনের মধ্যে, উহা পুনর্বিবেচনার আবেদন দাখিল করিতে পারিবেন।
(৬) যদি অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারির পর আদালত এইরূপ সিদ্ধান্তে উপনীত হয় যে, বিরোধীয় পক্ষ দ্বারা পেটেন্টের কোনো শর্ত লঙ্ঘিত হয় নাই এবং উহা লঙ্ঘিত হইবার আশঙ্কা নাই, তাহা হইলে আদালত বিরোধীয় পক্ষের আবেদনের ভিত্তিতে, অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারির কারণে সংঘটিত ক্ষতির জন্য উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদান করিতে আবেদনকারী পক্ষকে আদেশ প্রদান করিতে পারিবে।
(৭) আদালত নিম্নবর্ণিত ক্ষেত্রে, ক্ষতিপূরণ আদেশের হানি না ঘটাইয়া, ধারা ৪৪ এ উল্লিখিত শর্ত ভঙ্গের কারণে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা বা সুনির্দিষ্ট প্রতিকার মঞ্জুর করিবে না, যথা:-
(৮) যদি সরকারি কোনো সংস্থা কর্তৃক বা সরকারি সেবা প্রদানের কারণে পেটেন্টের অধিকার লঙ্ঘিত হয়, তাহা হইলে আদালত, ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের বিষয়টি ক্ষুণ্ন না করিয়া, পেটেন্টের অধিকার লঙ্ঘনকারীর নিয়ন্ত্রণাধীন সাক্ষ্য লাভের জন্য আবশ্যকতা ব্যতীত, কোনো নিষেধাজ্ঞার আদেশ জারি করিবে না।
এই আইনের ধারা ২৯, ৩৬, ৩৭, ৩৮, ৩৯, ৪০ এবং ৪১ এর অধীন কোনো কার্যের বিরুদ্ধে অস্থায়ী, অন্তর্বর্তীকালীন বা স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করা যাইবে না।
(১) শর্ত ভঙ্গের মোকাদ্দমায় আদালত প্রতিকার হিসাবে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা ও ক্ষতিপূরণ বা লাভজনক হিসাব মঞ্জুর করিতে পারিবে।
(২) উপ-ধারা (১) এর বিধান সাপেক্ষে, পেটেন্ট অধিকার লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে আদালত তৎবিবেচনায় ক্ষতিপূরণের পরিমাণ নির্ধারণ করিবে।
(৩) পেটেন্টের অধিকার লঙ্ঘনের জন্য ক্ষতিপূরণের আদেশ প্রদানের ক্ষেত্রে আদালত নিম্নবর্ণিত বিষয়াদি বিবেচনা করিতে পারিবে, যথা:-
(৪) যদি পেটেন্টের অধিকার লঙ্ঘনের মোকদ্দমায় বিবাদী আদালত কর্তৃক নির্ধারিত শর্তে লাইসেন্স গ্রহণ করিতে ইচ্ছুক হন ও প্রস্তুত থাকেন, তাহা হইলে তাহার বিরুদ্ধে কোনো স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করা যাইবে না এইরূপ ক্ষেত্রে আদালত লাইসেন্সের জন্য উপযুক্ত পারিতোষিকসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় শর্তাবলি নির্ধারণ করিবে।
(৫) অন্য কোনোভাবে প্রমাণিত না হইলে, আদালত পেটেন্টের অধিকার লঙ্ঘনকারীর আইনানুগ অধিকার ও তাহার ব্যবসায়িক গোপনীয়তা রক্ষাসহ অন্যান্য পদক্ষেপ গ্রহণ করিবে।
(১) পেটেন্টের অধিকার লঙ্ঘনের মামলায়, ধারা ৩৩ এর অধীন যেসকল কারণে পেটেন্ট রদ (Revocation) করা যায়, সেই সকল কারণ আত্মপক্ষ সমর্থনে ব্যবহার করা যাইবে।
(২) অন্য কোনো পণ্যের মেশিন, যন্ত্রপাতি তৈরি, ব্যবহার বা আমদানির মাধ্যমে বা কোনো পদ্ধতি ব্যবহারের মাধ্যমে বা কোনো চিকিৎসা সরঞ্জাম বা ঔষধ আমদানি, ব্যবহার বা বিতরণের মাধ্যমে পেটেন্টের অধিকার লঙ্ঘনের মামলায় আত্মপক্ষ সমর্থনের একটি ভিত্তি হইবে যে, এইরূপ তৈরি, ব্যবহার, আমদানি বা বিতরণ এই আইনের ধারা ২৯, ৩৬, ৩৭, ৩৮, ৩৯, ৪০, ৪১ এবং ৪৩ এ বর্ণিত এক বা একাধিক শর্ত অনুযায়ী করা হইয়াছে।
(১) পেটেন্টের অধিকার লঙ্ঘনের মামলায় বা এই আইনের অধীন কোনো কার্যধারায় আদালত, যে কোনো সময়, এবং এইরূপ উদ্দেশ্যে কোনো আবেদন দাখিল করা হউক বা না হউক, আদালতকে সহায়তা করিবার জন্য বা তদন্ত করিবার জন্য বা এইরূপ কোনো প্রশ্ন বা মতামত, আইনের ব্যাখ্যা সম্পর্কিত কোনো প্রশ্ন জড়িত থাকা ব্যতীত, সম্পর্কে রিপোর্ট প্রদানের জন্য স্বতন্ত্র বা স্বাধীন উপদেষ্টা নিয়োগ করিতে পারিবে।
(২) আদালত বৈজ্ঞানিক উপদেষ্টার পারিতোষিক নির্ধারণ করিবে এবং উহাতে প্রতিবেদন তৈরির ব্যয় এবং বৈজ্ঞানিক উপদেষ্টা আদালত কর্তৃক উহার সামনে কোনো দিবসে উপস্থিত হইবার জন্য নির্দেশিত হইলে উক্ত দিবসের উপযুক্ত দৈনিক ফি অন্তর্ভুক্ত থাকিবে।
এই আইনের অধীন, মহাপরিচালক কর্তৃক, প্রদত্ত যে কোনো সিদ্ধান্ত, বিশেষত বাধ্যতামূলক লাইসেন্সের মঞ্জুরি এবং বাধ্যতামূলক লাইসেন্স এর জন্য পারিতোষিক প্রদান সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে, সিদ্ধান্ত প্রদানের তারিখ হইতে ২ (দুই) মাসের মধ্যে, সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে আপিল দায়ের করিতে হইবে।
এই আইনের অন্যান্য বিধানাবলি সাপেক্ষে, এই আইনের অধীন মোকদ্দমা দায়ের এবং আইনগত কার্যধারা ও আদালতের কার্যপদ্ধতির ক্ষেত্রে দেওয়ানি কার্যবিধির বিধানাবলি প্রযোজ্য হইবে।
(১) যদি কোনো ব্যক্তি এই আইনের অধীন প্রদত্ত কোনো আদেশ পালনে ব্যর্থ হন, তাহা হইলে আদালত, মোকদ্দমার ঘটনা ও প্রেক্ষাপটের ভিত্তিতে, ক্ষতিপূরণ ধার্য বা তৎবিবেচনায় উপযুক্ত কোনো আদেশ প্রদান করিতে পারিবে।
(২) যদি কোনো ব্যক্তি এই আইনের অধীন সংরক্ষিত কোনো নিবন্ধন বহিতে মিথ্যা এন্ট্রি তৈরি করেন, বা তৈরি করান, বা উক্ত নিবন্ধন-বহির এন্ট্রির অনুলিপি বুঝাইবার অভিপ্রায়ে উহাতে কোনো কিছু লিপিবদ্ধ করেন, তাহা হইলে উহা হইবে এই আইনের লঙ্ঘন এবং তজ্জন্য তাহার বিরুদ্ধে অনধিক ৫০ (পঞ্চাশ) হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ প্রদানের আদেশ প্রদান করা যাইবে।
(৩) যদি কোনো ব্যক্তি মিথ্যাভাবে উপস্থাপন করেন যে, তৎকর্তৃক বিক্রীত পণ্য বা ব্যবহৃত প্রক্রিয়া বাংলাদেশে পেটেন্টপ্রাপ্ত বা বাংলাদেশে পেটেন্টের জন্য আবেদন করা হইয়াছে, তাহা হইলে উহা হইবে এই আইনের লঙ্ঘন এবং তজ্জন্য তাহার বিরুদ্ধে অনধিক ৫০ (পঞ্চাশ) হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ প্রদানের আদেশ প্রদান করা যাইবে।
(৪) যদি কোনো ব্যক্তি তাহার ব্যবসাস্থলে বা তৎকর্তৃক প্রেরিত কোনো দলিলে বা অন্য কোনোভাবে ‘‘পেটেন্ট, শিল্প-নকশা ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তর ’’ অভিব্যক্তি বা শব্দাবলি বা অন্য কোনো শব্দ ব্যবহার করেন যাহার দ্বারা বিশ্বাস হইতে পারে যে, তাহার ব্যবসা এবং ব্যবসাস্থল পেটেন্ট নিবন্ধনের কর্তৃপক্ষ, তাহা হইলে উহা হইবে এই আইনের লঙ্ঘন এবং তজ্জন্য তাহার বিরুদ্ধে ৫০ (পঞ্চাশ) হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ প্রদানের আদেশ প্রদান করা যাইবে।
(৫) যদি কোনো কোম্পানি এইরূপ বিধান লঙ্ঘন করে, তাহা হইলে উক্তরূপ লঙ্ঘনের জন্য উক্ত কোম্পানির প্রত্যেক দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি এবং কোম্পানির কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নিয়োজিত ব্যক্তি এই আইনের বিধান লঙ্ঘন করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবে, এবং তদনুযায়ী তাহাদের বিরুদ্ধে আইনগত কার্যধারা দায়ের করা যাইবে।
(১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, পেটেন্ট সংক্রান্ত বিশেষ আদালত গঠন করিতে পারিবে এবং বিশেষ আদালত গঠিত না হওয়া পর্যন্ত, Patents And Designs Act, 1911 এর অধীন, পেটেন্ট অধিকার লঙ্ঘনের জন্য দায়েরকৃত মোকদ্দমা বা আইনগত কার্যধারা নিষ্পত্তির জন্য এখতিয়ারসম্পন্ন আদালত উপযুক্ত আদালত বলিয়া গণ্য হইবে।
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন গঠিত বিশেষ আদালত বা উপযুক্ত আদালত কর্তৃক প্রদত্ত রায়ের বিরুদ্ধে, উক্ত রায় প্রদানের তারিখ হইতে ২ (দুই) মাসের মধ্যে আপিল দায়ের করা যাইবে।
এতদুদ্দেশ্যে প্রণীত বিধি সাপেক্ষে, নিম্নবর্ণিত বিষয়ে কার্যক্রম সম্পন্ন করণে মহাপরিচালকের দেওয়ানি আদালতের ন্যায়, ক্ষমতা থাকিবে, যথা:-
(১) মহাপরিচালক, এই আইনের ধারা ১১ ও ১২ তে বর্ণিত পেটেন্টের আবেদন বা সম্পূর্ণ বিশেষত্বনামা বা এতৎসম্পর্কিত অন্য কোনো দলিল সংশোধন সম্পর্কিত কোনো কিছুকে ক্ষুণ্ন না করিয়া, আবেদনকারীর আবেদনের প্রেক্ষিতে, বিধি দ্বারা নির্ধারিত ফি পরিশোধপূর্বক, পেটেন্ট নিবন্ধন বহিতে, আইন মোতাবেক পেটেন্টের জন্য আবেদনকারী কর্তৃক দাখিলকৃত কোনো আবেদনে করণিক ত্রুটি বা ভুল, বা কোনো অনুবাদ বা ভাষান্তরের ত্রুটি থাকিলে, সংশোধন করিতে পারিবেন।
(২) মহাপরিচালক, এই আইনে ভিন্নরূপ কোনো বিধান না থাকিলে, এই আইন ও তদধীন প্রণীত বিধিমালার বিধান সাপেক্ষে, লিখিত আবেদনের ভিত্তিতে যে কোনো কার্য সম্পাদন বা আইনগত কার্যধারা গ্রহণের জন্য সময় বর্ধিত করিতে পারিবেন।
(৩) মহাপরিচালক, সংশ্লিষ্ট পক্ষগণকে নোটিশ ও শর্তাদি প্রদান করিবেন এবং নির্ধারিত সময় অতিক্রান্ত হইবার ক্ষেত্রে, বিধি দ্বারা নির্ধারিত ফি পরিশোধপূর্বক, কোনো পক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে, অতিরিক্ত সময় মঞ্জুর করিতে পারিবেন।
এতৎবিষয়ে প্রণীত কোনো বিধিমালার বিধান সাপেক্ষে, এই আইনের অধীন মহাপরিচালকের নিকট উপস্থাপিত কোনো কার্যধারায়, তৎকর্তৃক ভিন্নরূপ কোনো নির্দেশ না থাকিলে, অ্যাফিডেভিটের মাধ্যমে সাক্ষ্য প্রদান করা হইবে, তবে যে কোনো ক্ষেত্রে, মহাপরিচালক যদি সঠিক মনে করেন, তাহা হইলে অ্যাফিডেভিটের মাধ্যমে সাক্ষ্য প্রদানের পরিবর্তে বা উহার সহিত মৌখিক সাক্ষ্যও গ্রহণ করা যাইবে, বা কোনো পক্ষকে অ্যাফিডেভিটের বিষয়বস্তু সম্পর্কে জেরা করা যাইবে।
মহাপরিচালক, এই আইন বা তদধীন প্রণীত বিধিমালার বিধান মোতাবেক, তাহার উপর ন্যস্ত ক্ষমতা প্রয়োগ করিতে পারিবেন, তবে এই আইনে ভিন্ন কোনোরূপ বিধান না থাকিলে, উক্ত ক্ষমতাবলে কোনো পক্ষের বিরুদ্ধে কোনো বিরূপ সিদ্ধান্ত গ্রহণের পূর্বে উক্ত পক্ষকে শুনানির সুযোগ প্রদান করিতে হইবে।
(১) বাংলাদেশের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বিলোপ নীতি (international exhaustion) প্রযোজ্য হইবে।
(২) কোনো ব্যক্তি কর্তৃক কোনো দেশের বাজারে উপস্থাপিত পেটেন্টপ্রাপ্ত পণ্যের সমান্তরাল আমদানি বাংলাদেশে পেটেন্ট আইনের লঙ্ঘন বলিয়া বিবেচিত হইবে না।
উন্নয়নের সহিত সম্পর্কিত অথবা বাংলাদেশ বা অন্য কোনো দেশে বলবৎযোগ্য কোনো পণ্য উৎপাদন, ব্যবহার, বিক্রি, আমদানি বা রপ্তানির বিষয় নিয়ন্ত্রণকারী কোনো আইনের অধীন নির্দেশিত তথ্য দাখিল সম্পর্কিত পেটেন্টকৃত কোনো পণ্য উৎপাদন, নির্মাণ, ব্যবহার, বিক্রি, আমদানি বা রপ্তানি সম্পর্কিত কোনো কার্যের ক্ষেত্রে এই আইনের ধারা ২৫ এ প্রদত্ত অধিকার প্রযোজ্য হইবে না।
পেটেন্টের অধীন কোনো অধিকার নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে না, যথা:-
(১) অধিদপ্তরে পেটেন্ট নিবন্ধন বহি নামে একটি নিবন্ধন বহি সংরক্ষণ করিতে হইবে।
(২) নিবন্ধন বহি, যে কোনো ব্যক্তি পরিদর্শন করিতে পারিবেন এবং যে কোনো ব্যক্তি অধিদপ্তর হইতে, এই আইন এবং তদধীন প্রণীত বিধিমালার বিধান সাপেক্ষে, নিবন্ধন বহির উদ্ধৃতি লাভের অধিকারী হইবেন এবং উক্ত নিবন্ধন বহি সুবিধাজনক সময়ে সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকিবে।
(৩) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, অধিদপ্তর ইহার সকল প্রকাশনা ওয়েবসাইটে বা প্রচলিত পদ্ধতিতে প্রজ্ঞাপনে প্রকাশ করিবে।
(৪) নিবন্ধন বহির সংশ্লিষ্ট অংশের প্রত্যায়িত অনুলিপি বা উদ্ধৃতাংশ, অধিদপ্তরের সীলমোহরসহ, বিধি দ্বারা নির্ধারিত ফি প্রদান সাপেক্ষে, আবেদনকারীকে সরবরাহ করা যাইবে।
(৫) নিবন্ধন বহি, এই আইনের অধীন ক্ষমতাপ্রাপ্ত বা যাচিত যে কোনো বিষয়ের প্রাথমিক সাক্ষ্য হইবে এবং সনদসমূহ মহাপরিচালক কর্তৃক স্বাক্ষরিত হইবে এবং উহাতে এই মর্মে প্রত্যয়ন করা হইবে যে, যে কোনো এন্ট্রি যাহার জন্য তিনি এই আইন বা তদধীন প্রণীত বিধি দ্বারা ক্ষমতাপ্রাপ্ত হইয়াছেন, তদনুযায়ী উক্ত সনদ তৈরি করা হইয়াছে বা হয় নাই, বা অন্য কোনো কিছু যাহা করিবার জন্য তিনি এই আইন বা তদধীন প্রণীত বিধি দ্বারা ক্ষমতাপ্রাপ্ত হইয়া উহা সম্পাদন করিয়াছেন বা করেন নাই, এইরূপ বিষয়াদি প্রাথমিক সাক্ষ্য হইবে।
(১) যেক্ষেত্রে আবেদনকারীর সাধারণ বাসস্থান বা ব্যবসার স্থান বাংলাদেশের বাহিরে অবস্থিত হয়, সেইক্ষেত্রে তাহাকে বাংলাদেশে বসবাসকারী কোনো উপযুক্ত বাংলাদেশি ব্যক্তি দ্বারা প্রতিনিধিত্ব করিতে হইবে।
(২) পেটেন্ট প্রতিনিধি হিসাবে নিবন্ধনের যোগ্যতা এবং অন্যান্য শর্তাবলি বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে।
পেটেন্টের কার্যনির্বাহ সম্পর্কিত সকল তথ্য কোনো ফি ব্যতীত জনগণের পরিদর্শনের জন্য উন্মুক্ত রাখিতে হইবে এবং এইরূপ তথ্যে নিম্নবর্ণিত বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকিবে, যথা:-
(১) মহাপরিচালক, পেটেন্ট কার্যকর থাকাকালীন যে কোনো সময়, লিখিত নোটিশের মাধ্যমে, পেটেন্ট স্বত্বাধিকারী বা লাইসেন্সিকে, একচেটিয়া হউক বা না হউক, এইরূপ নোটিশের ২ (দুই) মাসের মধ্যে বা মহাপরিচালক কর্তৃক অনুমোদিত অতিরিক্ত সময়ের মধ্যে, নোটিশে উল্লিখিত পেটেন্টপ্রাপ্ত পণ্য বাণিজ্যিকভাবে বাংলাদেশে কার্যকর থাকা সম্পর্কিত তথ্য বা সাময়িক বিবৃতি মহাপরিচালকের নিকট দাখিলের জন্য নির্দেশ দিতে পারিবেন।
(২) উপ-ধারা (১) এর বিধান ক্ষুণ্ন না করিয়া, প্রত্যেক পেটেন্ট স্বত্বাধিকারী ও লাইসেন্সি, একচেটিয়া হউক বা না হউক, নির্ধারিত পদ্ধতিতে ও ফরমে এবং নির্ধারিত বিরতিতে, পেটেন্টপ্রাপ্ত পণ্য বাণিজ্যিকভাবে বাংলাদেশে কার্যকর থাকা সম্পর্কিত তথ্য বা সাময়িক বিবৃতি মহাপরিচালকের নিকট দাখিল করিবেন:
তবে শর্ত থাকে যে, উক্তরূপ বিরতি ১ (এক) বৎসরের নিম্নে হইবে না।
মহাপরিচালক, তাহার কার্যালয়ে পেটেন্ট প্রতিনিধি নিবন্ধন বহি নামে একটি নিবন্ধন বহি সংরক্ষণ করিবেন।
সরকার, এই আইনের সামগ্রিকতাকে ক্ষুণ্ণ না করিয়া এবং উহার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, প্রয়োজনীয় আদেশ জারি বা কৌশলপত্র প্রণয়ন করিতে পারিবে।
এই আইনের বিধানাবলি কার্যকর করিবার ক্ষেত্রে কোনো অসুবিধা দেখা দিলে, সরকার, উক্ত অসুবিধা দূরীকরণার্থ, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে পারিবে।
এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, সরকার, সরকারি গেজেট প্রজ্ঞাপন দ্বারা, বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে।
(১) বাংলাদেশ পেটেন্ট আইন, ২০২২ (২০২২ সনের ০৫ নং আইন), অতঃপর উক্ত আইন বলিয়া উল্লিখিত, এর বিধানাবলি এতদ্দ্বারা রহিত করা হইল।
(২) উক্তরূপ রহিতকরণ সত্ত্বেও, উক্ত আইনের অধীন অনিষ্পন্ন কোনো আবেদন এই আইনের অধীন নিষ্পন্ন করিতে হইবে।
(৩) উপ-ধারা (২) এর বিধান প্রয়োজনীয় পরিবর্তন ও পরিবর্ধনসহ কার্যকর হইবে এবং এই আইন কার্যকর হইবার পূর্বে আদালত কর্তৃক প্রদত্ত সিদ্ধান্ত সংরক্ষিত থাকিবে।
(৪) যেক্ষেত্রে এই আইন কোনোভাবে কোনো অধিকার বৃদ্ধি করে বা নূতন অধিকার সৃষ্টি করে, সংরক্ষণে শর্তাবলি বৃদ্ধিসহ, বিদ্যমান নিবন্ধন সেইরূপ বৃদ্ধি বা সৃজন হইতে সুবিধা গ্রহণ অনুমোদন করিবে, তবে যেক্ষেত্রে এই আইন অধিকারসমূহ হ্রাস করে বা বিলুপ্ত করে বিদ্যমান নিবন্ধন সেইক্ষেত্রে কার্যকর হইবে না এবং বিদ্যমান নিবন্ধন এমনভাবে বলবৎ থাকিবে যেন এই আইন কার্যকর হয় নাই:
তবে শর্ত থাকে যে, উপ-ধারা (৩) এ উল্লিখিত সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে ইহা প্রযোজ্য হইবে না।
(৫) মহাপরিচালক, কর্তৃক সম্পাদিত কার্যাবলি এমনভাবে সংরক্ষিত থাকিবে যেন উহা এই আইনের অধীন সম্পাদিত হইয়াছে।
(৬) এই আইনের ধারা ৭০ এর অধীন বিধি প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত এবং উক্ত আইনের অধীন হেফাজত প্রদানকৃত Patents and Designs Rules, 1933, এই আইনের সহিত অসামঞ্জস্যপূর্ণ না হওয়া সাপেক্ষে, কার্যকর থাকিবে।
এই আইন প্রবর্তনের পর সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইনের ইংরেজিতে অনূদিত একটি নির্ভরযোগ্য পাঠ (Authentic English Text) প্রকাশ করিতে পারিবে:
তবে শর্ত থাকে যে, বাংলা ও ইংরেজি পাঠের মধ্যে বিরোধের ক্ষেত্রে বাংলায় প্রণীত আইন প্রাধান্য পাইবে।