[নারায়ণগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়] স্থাপনকল্পে প্রণীত আইন যেহেতু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষায় পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নে অগ্রসরমান বিশ্বের সহিত সংগতি রক্ষা ও সমতা অর্জন এবং জাতীয় পর্যায়ে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা, বিশেষ করিয়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে আধুনিক জ্ঞানচর্চা ও পঠন-পাঠনের সুযোগ সৃষ্টি ও সম্প্রসারণের উদ্দেশ্যে নারায়ণগঞ্জ জেলায় [নারায়ণগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়] নামে একটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়; সেহেতু এতদ্দ্বারা নিম্নরূপ আইন করা হইল:-
(১) এই আইন [নারায়ণগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়] আইন, ২০২৩ নামে অভিহিত হইবে।
(২) ইহা অবিলম্বে কার্যকর হইবে।
বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থি কোনো কিছু না থাকিলে, এই আইনে,-
(১) “অনুষদ” অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষদ;
(২) “আচার্য” অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য;
(৩) “অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিল” অর্থ বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিল আইন, ২০১৭ (২০১৭ সনের ৯ নং আইন) এর অধীন গঠিত বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিল;
(৪) “ইনস্টিটিউট” অর্থ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক স্বীকৃত, অনুমোদিত বা স্থাপিত কোনো ইনস্টিটিউট;
(৫) “উপউপাচার্য” অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপউপাচার্য;
(৬) “উপাচার্য” অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য;
(৭) “একাডেমিক কাউন্সিল” অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিল;
(৮) “কর্তৃপক্ষ” অর্থ সিন্ডিকেট, একাডেমিক কাউন্সিল, অনুষদ, বিভাগ, অর্থ কমিটি, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন কমিটি, বাছাই কমিটি, শৃঙ্খলা কমিটি এবং সংবিধি অনুযায়ী গঠিত অন্যান্য কর্তৃপক্ষ;
(৯) “কর্মচারী” অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী;
(১০) “কোষাধ্যক্ষ” অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ;
(১১) “ডিন” অর্থ অনুষদের ডিন;
(১২) “তপশিল” অর্থ এই আইনের তপশিল;
(১৩) “পরিচালক” অর্থ কোনো ইনস্টিটিউটের পরিচালক;
(১৪) “পরিচালনা পর্ষদ” অর্থ ইনস্টিটিউটের পরিচালনা পর্ষদ;
(১৫) “পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক” অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক;
(১৬) “প্রবিধান” অর্থ এই আইনের অধীন প্রণীত প্রবিধান;
(১৭) “প্রক্টর” অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর;
(১৮) “প্রাধ্যক্ষ” অর্থ কোনো হলের প্রধান;
(১৯) “বিজনেস ইনকিউবেটর” অর্থ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক স্থাপিত বা পরিচালিত কোনো বিজনেস ইনকিউবেটর;
(২০) “বিধি” অর্থ এই আইনের অধীন প্রণীত বিধি;
(২১) “বিভাগ” অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো বিভাগ;
(২২) “বিভাগীয় চেয়ারম্যান” অর্থ কোনো বিভাগের প্রধান;
(২৩) “বিশ্ববিদ্যালয়” অর্থ ধারা ৩ এর অধীন প্রতিষ্ঠিত [নারায়ণগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়];
(২৪) “মঞ্জুরি কমিশন” অর্থ University Grants Commission of Bangladesh Order, 1973(President’s Order No. 10 of 1973) এর অধীন গঠিত University Grants Commission of Bangladesh;
(২৫) “মঞ্জুরি কমিশন আদেশ” অর্থ University Grants Commission of Bangladesh Order, 1973(President’s Order No.10 of 1973);
(২৬) “মূল্যায়ন” অর্থ পরীক্ষা ব্যতীত অন্য কোনো মাধ্যমে শিক্ষার্থীর অগ্রগতির মান নিরূপণ;
(২৭) “রেজিস্ট্রার” অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার;
(২৮) “রেজিস্টার্ড গ্র্যাজুয়েট” অর্থ এই আইনের বিধান অনুযায়ী গঠিত রেজিস্টার্ড গ্র্যাজুয়েট;
(২৯) “শিক্ষক” অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক, সহকারী অধ্যাপক বা প্রভাষক এবং বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক শিক্ষক হিসাবে স্বীকৃত অন্য কোনো ব্যক্তি;
(৩০) “শিক্ষার্থী” অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রমে ভর্তিকৃত কোনো শিক্ষার্থী;
(৩১) “সিন্ডিকেট” অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট;
(৩২) “সংবিধি” অর্থ এই আইনের অধীন প্রণীত সংবিধি;
(৩৩) “সংস্থা” অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো সংস্থা;
(৩৪) “সাংগঠনিক কাঠামো” অর্থ এই আইনের অধীন অনুমোদিত সাংগঠনিক কাঠামো; এবং
(৩৫) “হল” অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বসবাসের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত ছাত্রাবাস।
(১) এই আইনের বিধান অনুযায়ী [নারায়ণগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়] ([Narayanganj Science and Technology University]) নামে একটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপিত হইবে।
(২) বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য, উপাচার্য, উপউপাচার্য, কোষাধ্যক্ষ, সিন্ডিকেট এবং একাডেমিক কাউন্সিলের সদস্যগণের সমন্বয়ে [নারায়ণগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়] নামে একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা গঠিত হইবে।
(৩) বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ধারাবাহিকতা ও একটি সাধারণ সিলমোহর থাকিবে এবং এই আইনের বিধান অনুযায়ী উহার স্থাবর ও অস্থাবর সকল প্রকার সম্পত্তি অর্জন করিবার, অধিকারে রাখিবার ও হস্তান্তর করিবার ক্ষমতা থাকিবে এবং উহা স্বীয় নামে মামলা দায়ের করিতে পারিবে এবং উহার বিরুদ্ধেও মামলা দায়ের করা যাইবে।
(১) বিশ্ববিদ্যালয় জাতি, ধর্ম, বর্ণ, গোত্র, লিঙ্গ, জন্মস্থান বা শারীরিক প্রতিবন্ধকতা নির্বিশেষে সকল উপযুক্ত শিক্ষার্থীর ভর্তি, জ্ঞানার্জন এবং ডিগ্রি, ডিপ্লোমা বা সার্টিফিকেট কোর্স সমাপনের পর সার্টিফিকেট প্রাপ্তির জন্য উন্মুক্ত থাকিবে।
(২) সরকারের অনুমোদনক্রমে এবং সিন্ডিকেট কর্তৃক নির্ধারিত শর্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন কোর্স ও প্রোগ্রামে বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি করা যাইবে।
এই আইনের বিধান সাপেক্ষে, বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যাবলি নিম্নরূপ হইবে, যথা:-
বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার ক্ষেত্রে University Grants Commission of Bangladesh Order, 1973(President’s Order No.10 of 1973) এর বিধানাবলি পরিপালন করিতে হইবে।
(১)বিশ্ববিদ্যালয়ের নিম্নবর্ণিত কর্মচারী থাকিবে, যথা:-
(২) উপধারা (১) এ উল্লিখিত পদবির কর্মচারী ব্যতিরেকেও বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য কর্মচারী থাকিবে যাহা বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে।
(৩) সকল কর্মচারী নিয়োগের শর্তাবলি, নিয়োগ পদ্ধতি, অবসরভাতা, যৌথ বিমা তহবিল, কল্যাণ তহবিল ও ভবিষ্য তহবিলের বিষয়সমূহ সংবিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে।
(৪) বিশ্ববিদ্যালয়ের যে সকল কর্মচারীর নিয়োগ পদ্ধতি, দায়িত্ব ও ক্ষমতা সম্পর্কে এই আইনের কোথাও উল্লেখ নাই, সিন্ডিকেট সংবিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে, অনুমোদিত সাংগঠনিক কাঠামো অনুযায়ী সেই সকল কর্মচারীর নিয়োগ পদ্ধতি, দায়িত্ব ও ক্ষমতা নির্ধারণ করিবে।
(৫) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্যেক বেতনভোগী শিক্ষক ও কর্মচারী লিখিত চুক্তির ভিত্তিতে, সরকার কর্তৃক জারীকৃত কোনো নির্দিষ্ট বেতন স্কেলের বিপরীতে নিযুক্ত হইবেন এবং চুক্তিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের হেফাজতে তাহার কার্যালয়ে গচ্ছিত থাকিবে এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষক বা কর্মচারীকে উহার একটি অনুলিপি প্রদান করা হইবে।
(৬) বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক ও কর্মচারী সকল সময় সততা ও ন্যায়পরায়ণতার সহিত কর্তব্য পালন করিবেন এবং দায়িত্ব পালনে নিরপেক্ষ থাকিবেন।
(৭) নিয়োগের শর্তাবলিতে স্পষ্টভাবে ভিন্নরূপ কিছু উল্লেখ না থাকিলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্যেক শিক্ষক ও কর্মচারী বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বক্ষণিক শিক্ষক ও কর্মচারীরূপে গণ্য হইবেন।
(৮) বিশ্ববিদ্যালয়ের বা রাষ্ট্রের স্বার্থের পরিপন্থি কোনো কার্যকলাপের সহিত বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষক ও কর্মচারী নিজেকে জড়িত করিবেন না।
(৯) কোনো শিক্ষক ও কর্মচারীর রাজনৈতিক মতামত পোষণের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন না করিয়া তাহার চাকরির শর্তাবলি নির্ধারণ করিতে হইবে, তবে তিনি তাহার উক্ত মতামত প্রচার করিতে পারিবেন না বা তিনি নিজেকে কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের সহিত জড়িত করিতে পারিবেন না।
(১০) বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো বেতনভোগী শিক্ষক ও কর্মচারী সংসদ-সদস্য হিসাবে অথবা স্থানীয় সরকারের কোনো নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করিবার পূর্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরি হইতে ইস্তফা দিবেন।
(১১) বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো বেতনভোগী শিক্ষক ও কর্মচারীকে তাহার কর্তব্যে অবহেলা, অসদাচরণ, নৈতিক স্খলন বা অদক্ষতার কারণে সংবিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে চাকরি হইতে অপসারণ বা পদচ্যুত করা বা অন্য প্রকার শাস্তি প্রদান করা যাইবে:
তবে শর্ত থাকে যে, তাহার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সম্পর্কে কোনো তদন্ত কমিটি কর্তৃক তদন্ত অনুষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত এবং তাহাকে ব্যক্তিগতভাবে অথবা কোনো প্রতিনিধির মাধ্যমে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ প্রদান না করিয়া চাকরি হইতে অপসারণ বা পদচ্যুত করা যাইবে না।
(১) গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য হইবেন এবং তিনি এ একাডেমিক ডিগ্রি ও সম্মানসূচক ডিগ্রি প্রদানের সমাবর্তনে সভাপতিত্ব করিবেন:
তবে শর্ত থাকে যে, আচার্য অভিপ্রায় পোষণ করিলে, কোনো সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করিবার জন্য কোনো বিশিষ্ট ব্যক্তিকে মনোনয়ন প্রদান করিতে পারিবেন।
(২) আচার্য এই আইন ও সংবিধি দ্বারা অর্পিত ক্ষমতার অধিকারী হইবেন।
(৩) সম্মানসূচক ডিগ্রি প্রদানের প্রতিটি প্রস্তাবে আচার্যের অনুমোদন থাকিতে হইবে।
(৪) আচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের যে কোনো ঘটনার তদন্ত করাইতে পারিবেন এবং তদন্ত প্রতিবেদন আচার্যের নিকট হইতে সিন্ডিকেটে পাঠানো হইলে সিন্ডিকেট সংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রয়োজনীয় কার্যব্যবস্থা গ্রহণপূর্বক গৃহীত ব্যবস্থা সম্পর্কে একটি প্রতিবেদন আচার্যের নিকট প্রেরণ করিবে।
(৫) আচার্যের নিকট যদি স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম গুরুতরভাবে বিঘ্নিত হইবার মতো অস্বাভাবিক পরিস্থিতি বিরাজ করিতেছে, তাহা হইলে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম চালু রাখিবার স্বার্থে, প্রয়োজনীয় আদেশ ও নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবেন এবং অনুরূপ আদেশ ও নির্দেশ বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষ, শিক্ষক ও কর্মচারীদের জন্য বাধ্যতামূলক হইবে এবং উপাচার্য উক্ত আদেশ বা নির্দেশ কার্যকর করিবেন।
(৬) এই আইন, সংবিধি, বিশ্ববিদ্যালয় বিধি বা প্রবিধানে এতৎসম্পর্কিত বিধানের অবর্তমানে, কোনো ব্যক্তির বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো কর্তৃপক্ষ বা অন্য কোনো সংস্থার সদস্য হইবার অধিকার সম্পর্কিত কোনো প্রশ্ন উত্থাপিত হইলে উহা সিন্ডিকেটের নিকট প্রেরণ করিতে হইবে এবং সিন্ডিকেট উহা নিষ্পত্তি করিতে না পারিলে আচার্যের নিকট প্রেরিত হইবে এবং এই বিষয়ে আচার্যের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলিয়া গণ্য হইবে।
(৭) এই আইন বা সংবিধিতে বিধৃত হয় নাই এইরূপ কোনো বিষয়ে বা চুক্তি সম্পর্কে বিতর্ক বা বিরোধ দেখা দিলে বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য সিন্ডিকেটের নিকট প্রেরণ করিতে হইবে এবং সিন্ডিকেট নিষ্পত্তি করিতে না পারিলে উহা নিষ্পত্তির জন্য আচার্যের নিকট প্রেরণ করিতে হইবে এবং এই বিষয়ে আচার্যের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলিয়া গণ্য হইবে।
(১) আচার্য, তৎকর্তৃক নির্ধারিত শর্তে, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে স্বনামধন্য একজন শিক্ষাবিদকে ৪ (চার) বৎসর মেয়াদের জন্য উপাচার্য পদে নিয়োগ প্রদান করিবেন:
তবে শর্ত থাকে যে, কোনো ব্যক্তি একাদিক্রমে বা অন্য কোনোভাবে উপাচার্য হিসাবে ২ (দুই) মেয়াদের অধিক সময়ের জন্য নিয়োগ লাভের যোগ্য হইবেন না।
(২) উপধারা (১) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, আচার্য যে কোনো সময় উপাচার্যের নিয়োগ বাতিল করিতে পারিবেন।
(৩) উপাচার্য পদে নিয়োগের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে অন্যূন ২০ (বিশ) বৎসরের অধ্যাপনার অভিজ্ঞতাসহ প্রথম গ্রেডের অধ্যাপক হইতে হইবে।
(৪) মেয়াদ শেষ হইবার কারণে উপাচার্য পদটি শূন্য হইলে কিংবা ছুটি বা অন্য কোনো কারণে অনুপস্থিতির জন্য সাময়িকভাবে শূন্য হইলে কিংবা অসুস্থতা বা অন্য কোনো কারণে উপাচার্য তাহার দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হইলে বা অপারগতা প্রকাশ করিলে, শূন্য পদে নবনিযুক্ত উপাচার্য কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত কিংবা উপাচার্য পুনরায় স্বীয় দায়িত্ব পালনে সমর্থ না হওয়া পর্যন্ত আচার্যের ভিন্নরূপ সিদ্ধান্ত না থাকা সাপেক্ষে, উপউপাচার্য উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করিবেন, উভয় উপউপাচার্য কর্মরত থাকিলে জ্যেষ্ঠতর উপউপাচার্য দায়িত্ব পালন করিবেন, উপউপাচার্যের পদ শূন্য থাকিলে কোষাধ্যক্ষ এবং কোষাধ্যক্ষের অনুপস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠতম ডিন উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করিবেন।
ব্যাখ্যা।- এই উপ-ধারার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, উপউপাচার্য এবং ডিন উভয় পদে নিয়োগের তারিখের ভিত্তিতে জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণ করা হইবে এবং নিয়োগের তারিখ একই হইলে ডিন এর ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরির সাকুল্য মেয়াদের দীর্ঘতার ভিত্তিতে এবং উপউপাচার্যের ক্ষেত্রে যে কোনো সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক পদে পদোন্নতির তারিখের ভিত্তিতে জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণ করা হইবে।
(১) উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বক্ষণিক প্রধান নির্বাহী হইবেন।
(২) উপাচার্য তাহার দায়িত্ব পালনে আচার্যের নিকট দায়বদ্ধ থাকিবেন এবং তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক, প্রশাসনিক ও আর্থিক শৃঙ্খলা রক্ষার জন্যও দায়বদ্ধ থাকিবেন।
(৩) উপাচার্য, এই আইন, সংবিধি এবং বিধি ও প্রবিধান বিশ্বস্ততার সহিত পালন করিবেন এবং এতদুদ্দেশ্যে প্রয়োজনীয় ক্ষমতা প্রয়োগ করিতে পারিবেন।
(৪) উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের যে কোনো কর্তৃপক্ষের সভায় উপস্থিত থাকিতে এবং উহার কার্যাবলিতে অংশগ্রহণ করিতে পারিবেন, তবে তিনি উহার সদস্য না হইলে উহাতে কোনো ভোট প্রদান করিতে পারিবেন না।
(৫) উপাচার্য সিন্ডিকেট, অর্থ কমিটি, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন কমিটি এবং একাডেমিক কাউন্সিলের সভা আহ্বান করিবেন এবং সভার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন।
(৬) উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের যে কোনো অনুষদ, ইনস্টিটিউট বা বিভাগ পরিদর্শন করিতে ও প্রয়োজনীয় দিক-নির্দেশনা প্রদান করিতে পারিবেন।
(৭) উপাচার্য তাহার বিবেচনায় প্রয়োজন মনে করিলে তাহার যে কোনো ক্ষমতা ও দায়িত্ব, সিন্ডিকেটের অনুমোদনক্রমে, বিশ্ববিদ্যালয়ের যে কোনো শিক্ষক বা কর্মচারীকে অর্পণ করিতে পারিবেন।
(৮) উপাচার্য, সরকার ও সিন্ডিকেটের পূর্বানুমোদনক্রমে এবং আইন ও সংবিধি অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়োগ করিতে পারিবেন এবং উপাচার্য সিন্ডিকেটের অনুমোদনক্রমে তাহাদের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে পারিবেন।
(৯) উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের উপর সাধারণ তত্ত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা প্রয়োগ করিতে পারিবেন।
(১০) বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালনার ক্ষেত্রে জরুরি পরিস্থিতির উদ্ভব হইলে এবং উপাচার্যের বিবেচনায় তৎসম্পর্কে তাৎক্ষণিক কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ প্রয়োজনীয় বিবেচিত হইলে তিনি সেই ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে পারিবেন এবং যে কর্তৃপক্ষ সাধারণত বিষয়টি সম্পর্কে ব্যবস্থা গ্রহণ করিবার অধিকারপ্রাপ্ত সেই কর্তৃপক্ষকে, যথাশীঘ্র সম্ভব, তৎকর্তৃক গৃহীত ব্যবস্থা সম্পর্কে অবহিত করিবেন।
(১১) সিন্ডিকেট ব্যতীত বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের সহিত উপাচার্য একমত না হইলে তিনি উক্ত সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন স্থগিত রাখিয়া তাহার মতামতসহ সিদ্ধান্তটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট পুনর্বিবেচনার জন্য প্রেরণ করিবেন।
(১২) উপধারা (১১)এর অধীন পুনর্বিবেচনার পরও যদি উক্ত কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের সহিত উপাচার্য একমত না হইয়া থাকেন, তাহা হইলে তিনি বিষয়টি সিদ্ধান্তের জন্য সিন্ডিকেটের নিকট প্রেরণ করিবেন এবং সিন্ডিকেটেও বিষয়টি নিষ্পত্তি করা সম্ভব না হইলে উহা আচার্যের নিকট প্রেরণ করিবেন এবং সেই বিষয়ে আচার্যের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলিয়া গণ্য হইবে।
(১৩) বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদিত বাজেট বাস্তবায়নে উপাচার্য সার্বিক দায়িত্ব পালন করিবেন।
(১) আচার্য, প্রয়োজনে, তৎকর্তৃক নির্ধারিত শর্তে, ৪ (চার) বৎসর মেয়াদের জন্য ২ (দুই) জন উপউপাচার্য নিয়োগ করিবেন:
তবে শর্ত থাকে যে, কোনো ব্যক্তি একাদিক্রমে বা অন্য কোনোভাবে উপউপাচার্য হিসাবে ২ (দুই) মেয়াদের অধিক সময়ের জন্য নিয়োগ লাভের যোগ্য হইবেন না।
(২) উপধারা (১) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, আচার্য যে কোনো সময় উপউপাচার্যের নিয়োগ বাতিল করিতে পারিবেন।
(৩) উপউপাচার্য পদে নিয়োগের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে অন্যূন ১৮ (আঠারো) বৎসরের অধ্যাপনার অভিজ্ঞতাসহ অন্যূন দ্বিতীয় গ্রেডের অধ্যাপক হইতে হইবে।
(৪) উপউপাচার্যগণ সংবিধি ও বিধি দ্বারা নির্ধারিত এবং উপাচার্য কর্তৃক প্রদত্ত ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করিবেন।
(১) আচার্য, তৎকর্তৃক নির্ধারিত শর্তে, ৪ (চার) বৎসর মেয়াদের জন্য
১ (এক) জন কোষাধ্যক্ষ নিযুক্ত করিবেন:
তবে শর্ত থাকে যে, কোনো ব্যক্তি একাদিক্রমে বা অন্য কোনোভাবে কোষাধ্যক্ষ হিসাবে ২ (দুই) মেয়াদের অধিক সময়ের জন্য নিয়োগ লাভের যোগ্য হইবেন না।
(২) উপধারা (১) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, আচার্য যে কোনো সময় কোষাধ্যক্ষের নিয়োগ বাতিল করিতে পারিবেন।
(৩) কোষাধ্যক্ষ পদে নিয়োগের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে অন্যূন ১৫ (পনেরো) বৎসরের অধ্যাপনার অভিজ্ঞতাসহ অন্যূন দ্বিতীয় গ্রেডের অধ্যাপক হইতে হইবে অথবা স্নাতকোত্তর ডিগ্রিসহ প্রশাসনিক বা আর্থিক ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে অন্যূন ১৫ (পনেরো) বৎসর বাস্তব কর্ম অভিজ্ঞতা থাকিতে হইবে:
তবে শর্ত থাকে যে, তিনি দায়িত্ব গ্রহণের তারিখ হইতে ৪ (চার) বৎসর অথবা তাহার ৬৫ (পঁয়ষট্টি) বৎসর বয়স পূর্ণ হওয়া উহার মধ্যে যাহা অগ্রে ঘটে, সেইকাল পর্যন্ত স্বীয় পদে বহাল থাকিবেন।
(৪) কোষাধ্যক্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ের তহবিলের সার্বিক তত্ত্বাবধান করিবেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ সংক্রান্ত নীতি সম্পর্কে উপাচার্য, সংশ্লিষ্ট কমিটি এবং সিন্ডিকেটকে পরামর্শ প্রদান করিবেন।
(৫) কোষাধ্যক্ষ সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণ সাপেক্ষে, বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পত্তি ও বিনিয়োগ পরিচালনা করিবেন এবং তিনি বার্ষিক বাজেট ও হিসাব বিবরণী উপস্থাপনের লক্ষ্যে সিন্ডিকেটের নিকট দায়বদ্ধ থাকিবেন।
(৬) যে খাতের জন্য অর্থ মঞ্জুর বা বরাদ্দ করা হইয়াছে সেই খাতেই যেন উহা ব্যয় হয়, তাহা দেখিবার জন্য কোষাধ্যক্ষ সিন্ডিকেটের নিকট দায়বদ্ধ থাকিবেন।
(৭) কোষাধ্যক্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে অর্থ সংক্রান্ত সকল চুক্তি স্বাক্ষর করিবেন।
(৮) কোষাধ্যক্ষ সংবিধি দ্বারা নির্ধারিত এবং উপাচার্য কর্তৃক প্রদত্ত অন্যান্য দায়িত্ব পালন ও ক্ষমতা প্রয়োগ করিবেন।
(৯) ছুটি, অসুস্থতা বা অন্য কোনো কারণে কোষাধ্যক্ষের পদ সাময়িকভাবে শূন্য হইলে উপাচার্য অবিলম্বে আচার্যকে তৎসম্পর্কে অবহিত করিবেন এবং আচার্য কোষাধ্যক্ষের কার্যাবলি সম্পাদনের জন্য যে প্রকার ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন মনে করিবেন সেই ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন।
রেজিস্ট্রার বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক কর্মচারী হইবেন এবং সংশ্লিষ্ট নিয়োগ কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী সিন্ডিকেটের অনুমোদনক্রমে তিনি নিয়োগপ্রাপ্ত হইবেন এবং তিনি-
পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক পরীক্ষা পরিচালনার সহিত সম্পর্কিত সকল বিষয়ের দায়িত্বে থাকিবেন এবং সংবিধি ও বিধি দ্বারা নির্ধারিত ও উপাচার্য কর্তৃক প্রদত্ত অন্যান্য দায়িত্ব পালন করিবেন।
(১) নিম্নবর্ণিত সদস্য সমন্বয়ে সিন্ডিকেট গঠিত হইবে, যথা:-
(২) রেজিস্ট্রার সিন্ডিকেটের সাচিবিক দায়িত্ব পালন করিবেন।
(৩) উপধারা (১) এর অধীন মনোনীত কোনো সদস্য তাহার মনোনয়নের তারিখ হইতে ২ (দুই) বৎসর মেয়াদে সদস্যপদে বহাল থাকিবেন:
তবে শর্ত থাকে যে, তাহার মেয়াদ শেষ হওয়া সত্ত্বেও তাহার স্থলাভিষিক্ত ব্যক্তি কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত তিনি তাহার পদে বহাল থাকিবেন।
(৪) সিন্ডিকেটের কোনো সদস্য পদত্যাগ করিতে চাহিলে যে কোনো সময় সভাপতিকে উদ্দেশ্য করিয়া তাহার স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে স্বীয় পদ ত্যাগ করিতে পারিবেন।
(৫) সিন্ডিকেটের কোনো সদস্য যে পদ বা প্রতিষ্ঠান হইতে মনোনীত হইয়াছিলেন তিনি যদি সেই পদ বা প্রতিষ্ঠানে না থাকেন, তাহা হইলে তিনি সিন্ডিকেটের সদস্য পদে অধিষ্ঠিত থাকিবেন না।
(১) এই ধারার অন্যান্য বিধান সাপেক্ষে,সিন্ডিকেট উহার সভার কার্যপদ্ধতি নির্ধারণ করিতে পারিবে।
(২) সিন্ডিকেটের সভা উপাচার্য কর্তৃক নির্ধারিত তারিখ, স্থান ও সময়ে অনুষ্ঠিত হইবে:
তবে শর্ত থাকে যে, প্রতি ৪ (চার) মাসে সিন্ডিকেটের অন্যূন একটি সভা অনুষ্ঠিত হইবে।
(৩) উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজনে যে কোনো সময় সিন্ডিকেটের বিশেষ সভা আহ্বান করিতে পারিবেন।
(৪) কোরাম গঠনের জন্য সভার সভাপতিসহ, মোট সদস্যের অন্যূন ৫০ (পঞ্চাশ) শতাংশ সদস্যের উপস্থিতির প্রয়োজন হইবে এবং এই বিষয়ে প্রত্যেক ভগ্নাংশকে পূর্ণ সংখ্যা হিসাবে গণ্য করা হইবে।
এই আইন ও মঞ্জুরি কমিশন আদেশের বিধানাবলি সাপেক্ষে, সিন্ডিকেট-
(১) নিম্নবর্ণিত সদস্য সমন্বয়ে একাডেমিক কাউন্সিল গঠিত হইবে, যথা:-
১ (এক) জন সহকারী অধ্যাপক ও ১ (এক) জন প্রভাষক;
(ঝ)আচার্য কর্তৃক মনোনীত গবেষণা সংস্থা হইতে ২ (দুই) জন গবেষক;
(ঞ)আচার্য কর্তৃক মনোনীত ২ (দুই) জন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ; এবং
(ট)পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক।
(২) রেজিস্ট্রার, যিনি উহার সাচিবিক দায়িত্ব পালন করিবেন।
(৩) একাডেমিক কাউন্সিলের মনোনীত কোনো সদস্য ২ (দুই) বৎসর মেয়াদের জন্য উক্ত পদে অধিষ্ঠিত থাকিবেন:
তবে শর্ত থাকে যে,একাডেমিক কাউন্সিলের মনোনীত কোনো সদস্যের মেয়াদ শেষ হওয়া সত্ত্বেও তাহার স্থলাভিষিক্ত ব্যক্তি কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত তিনি তাহার পদে বহাল থাকিবেন।
(৪) একাডেমিক কাউন্সিলের কোনো সদস্য পদত্যাগ করিতে চাহিলে যে কোনো সময় সভাপতিকে উদ্দেশ্য করিয়া তাহার স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে স্বীয় পদত্যাগ করিতে পারিবেন।
(৫) একাডেমিক কাউন্সিলের কোনো সদস্য যে পদ বা প্রতিষ্ঠান হইতে মনোনীত হইয়াছিলেন তিনি যদি সেই পদ বা প্রতিষ্ঠানে না থাকেন, তাহা হইলে তিনি সিন্ডিকেটের সদস্যপদে অধিষ্ঠিত থাকিবেন না।
(১) একাডেমিক কাউন্সিল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষা বিষয়ক কর্তৃপক্ষ হইবে এবং এই আইন, সংবিধি ও বিধির বিধান সাপেক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল একাডেমিক কার্যক্রমের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নির্ধারণ,একাডেমিক বর্ষসূচি ও তৎসম্পর্কিত পরিকল্পনা প্রণয়ন, শিক্ষা প্রশিক্ষণ, পরীক্ষার মান নির্ধারণ ও সংরক্ষণের জন্য দায়ী থাকিবে এবং এই সকল বিষয়ের উপর উহার নিয়ন্ত্রণ ও তত্ত্বাবধান ক্ষমতা থাকিবে।
(২) একাডেমিক কাউন্সিল এই আইন, মঞ্জুরি কমিশন আদেশ, সংবিধির বিধানাবলি এবং উপাচার্য ও সিন্ডিকেটের ক্ষমতা সাপেক্ষে, শিক্ষাক্রম ও পাঠক্রম এবং শিক্ষাদান, গবেষণা ও পরীক্ষার সঠিক মান নির্ধারণের জন্য প্রবিধান প্রণয়ন করিতে পারিবে।
(৩) উপধারা (১) এ উল্লিখিত সামগ্রিক কার্যক্রমের আওতায় একাডেমিক কাউন্সিলের নিম্নরূপ ক্ষমতাও অন্তর্ভুক্ত থাকিবে, যথা:-
তবে শর্ত থাকে যে,-
(৪) একাডেমিক কাউন্সিল সংবিধি দ্বারা নির্ধারিত এবং সিন্ডিকেট কর্তৃক প্রদত্ত শিক্ষা বিষয়ক অন্যান্য দায়িত্ব পালন ও ক্ষমতা প্রয়োগ করিবে।
(১) বিশ্ববিদ্যালয়, এই আইন ও সংবিধির বিধান এবং বাজেটে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ সম্পর্কে নিশ্চিত হইয়া মঞ্জুরি কমিশনের অনুমতি গ্রহণ সাপেক্ষে, এক বা একাধিক অনুষদ গঠন করিতে পারিবে।
(২) একাডেমিক কাউন্সিলের সাধারণ তত্ত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রণ সাপেক্ষে, প্রত্যেক অনুষদ এই আইন ও সংবিধি দ্বারা নির্দিষ্ট বিষয়ে শিক্ষা কার্যক্রম ও গবেষণা পরিচালনার দায়িত্বে থাকিবে।
(৩) অনুষদের গঠন, ক্ষমতা ও কার্যাবলি বিধি ও সংবিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে।
(৪) অনুষদ নূতন কোর্স বা পাঠক্রম প্রবর্তনের সুপারিশ বা প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য একাডেমিক কাউন্সিলে উপস্থাপন করিবে।
(৫) প্রত্যেক অনুষদের ১ (এক) জন করিয়া ডিন থাকিবেন এবং তিনি উপাচার্যের সাধারণ নিয়ন্ত্রণ ও তত্ত্বাবধানে থাকিয়া অনুষদ সম্পর্কিত বিধি, সংবিধি ও প্রবিধান অনুসারে যথাযথভাবে দায়িত্ব পালনের জন্য দায়বদ্ধ থাকিবেন।
(৬) উপাচার্য সিন্ডিকেটের অনুমোদনক্রমে প্রত্যেক অনুষদের জন্য উহার বিভিন্ন বিভাগের অধ্যাপকবৃন্দের মধ্য হইতে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে আবর্তনক্রমে ২ (দুই) বৎসর মেয়াদের জন্য ডিন নিযুক্ত করিবেন:
তবে শর্ত থাকে যে,-
(৭) ছুটি, অসুস্থতা বা অন্য কোনো কারণে ডিনের পদ শূন্য হইলে উপাচার্য ডিন পদের দায়িত্ব পালনের যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন।
(৮) অনুষদের অন্তর্গত যে কোনো বিভাগ বা ইনস্টিটিউটের শিক্ষা সম্পর্কিত কোনো কমিটির সভায় ডিন উপস্থিত থাকিতে এবং সভার কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করিতে পারিবেন, তবে তিনি উক্ত কমিটির সদস্য না হইলে ভোট প্রদান করিতে পারিবেন না।
(১) বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষাদান করা হয়, এমন কোনো বিষয়ের সকল শিক্ষকের সমন্বয়ে একটি বিভাগ গঠিত হইবে।
(২) শিক্ষকগণের নিয়োগ পদ্ধতি সংবিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে।
(৩) বিভাগীয় চেয়ারম্যান সংবিধি ও বিধি দ্বারা নির্ধারিত ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করিবেন।
(৪) প্রত্যেক বিভাগে শিক্ষা ও গবেষণা ব্যবস্থাপনার একটি পাঠক্রম কমিটি থাকিবে, যাহার গঠন, ক্ষমতা ও কার্যাবলি সংবিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে।
(১) বিশ্ববিদ্যালয়, প্রয়োজনে, আচার্য কর্তৃক অনুমোদন সাপেক্ষে, মঞ্জুরি কমিশনের সুপারিশ, গবেষণা কার্য পরিচালনাসহ কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে উচ্চতর শিক্ষা ও গবেষণার জন্য সংবিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে উহার অঙ্গীভূত বা অধিভুক্ত ইনস্টিটিউট হিসাবে এক বা একাধিক ইনস্টিটিউট স্থাপন করিতে পারিবে বা, ক্ষেত্রমত, উক্ত বিষয় সংশ্লিষ্ট কোনো ইনস্টিটিউটকে অধিভুক্ত করিতে পারিবে।
(২) প্রতিটি ইনস্টিটিউট পরিচালনার জন্য ১ (এক) জন পরিচালকসহ পরিচালনা পর্ষদ থাকিবে, যাহা সংবিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে।
(১) বিশ্ববিদ্যালয়, প্রয়োজনে, আচার্যের অনুমোদনক্রমে, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকদের উদ্যোক্তারূপে বিকশিত করিবার লক্ষ্যে তাহাদের বাস্তবানুগ প্রস্তাবের আলোকে কারিগরি ও অন্যান্য সহায়তা প্রদানের জন্য উহার অঙ্গীভূত প্রতিষ্ঠান হিসাবে বিজনেস ইনকিউবেটর প্রতিষ্ঠা করিতে পারিবে।
(২) বিজনেস ইনকিউবেটরের গঠন ও পরিচালনা সংবিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে।
(১) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্যেক শিক্ষার্থী সংবিধি দ্বারা নির্ধারিত হল, আবাসস্থল বা স্থানে এবং বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক নির্ধারিত শর্তাধীনে বসবাস করিবে।
(২) হলের প্রাধ্যক্ষ ও অন্যান্য তত্ত্বাধানকারী কর্মচারী সংবিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে নিযুক্ত হইবেন।
(৩) হলে বসবাসের শর্তাবলি বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে।
(৪) সংবিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে কোনো হল পরিচালিত না হইলে বিশ্ববিদ্যালয় উক্ত হলের অনুমোদন প্রত্যাহার করিতে পারিবে।
(৫) সিন্ডিকেট হলসমূহের নামকরণ করিবে।
(১) বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি তহবিল থাকিবে এবং উহাতে নিম্নবর্ণিত উৎস হইতে প্রাপ্ত অর্থ জমা হইবে, যথা:-
(২) তহবিলের অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে তৎকর্তৃক অনুমোদিত কোনো তপশিলি ব্যাংকে জমা রাখা হইবে এবং প্রবিধান অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক নির্ধারিত পদ্ধতিতে উক্ত তহবিল হইতে অর্থ উত্তোলন করা যাইবে।
ব্যাখ্যা।- এই উপধারার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, “তপশিলি ব্যাংক” অর্থ Bangladesh Bank Order, 1972(President’s Order No. 127 of 1972) এর Article 2(j)-তে সংজ্ঞায়িত কোনো “Scheduled Bank”।
(৩) তহবিল হইতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজনীয় যাবতীয় ব্যয় নির্বাহ করা হইবে।
(৪) বিশ্ববিদ্যালয়ের তহবিলের উদ্বৃত্ত অর্থ সিন্ডিকেটের অনুমোদনক্রমে বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন, পরিকল্পনা ও গবেষণা খাতে ব্যয় করা যাইবে।
(৫) বিশ্ববিদ্যালয়, প্রয়োজনে, কোনো বিশেষ উদ্দেশ্যে কোনো বিশেষ তহবিল গঠন করিতে পারিবে এবং প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে উক্ত তহবিল পরিচালনা করিতে পারিবে।
(৬) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের জন্য সরকার কর্তৃক বরাদ্দকৃত অর্থ হইতে বিশ্ববিদ্যালয়ের চাহিদার নিরিখে মঞ্জুরি কমিশন যে পরিমাণ অর্থ প্রদান করা যৌক্তিক বলিয়া বিবেচনা করিবে, সেই পরিমাণ অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়কে বরাদ্দ প্রদান করিবে।
(১) বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট আচার্যের অনুমোদন সাপেক্ষে এই আইনের সহিত সংগতিপূর্ণ সংবিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে।
(২) তপশিলে বর্ণিত সংবিধি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সংবিধি হইবে।
(৩) সিন্ডিকেট কর্তৃক প্রণীত সকল সংবিধি সিন্ডিকেটের সুপারিশসহ অনুমোদনের জন্য আচার্যের নিকট পেশ করিতে হইবে এবং আচার্য কর্তৃক অনুমোদিত না হইলে সিন্ডিকেটে প্রস্তাবিত কোনো সংবিধি বৈধ হইবে না।
(৪) সংবিধি দ্বারা নিম্নবর্ণিত সকল বা যে কোনো বিষয়ে বিধান প্রণয়ন করা যাইবে, যথা:-
(১) সিন্ডিকেট, মঞ্জুরি কমিশন ও একাডেমিক কাউন্সিলের সুপারিশক্রমে এবং সরকারের অনুমোদনক্রমে বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে।
(২) এই আইন ও সংবিধির বিধান সাপেক্ষে বিধি দ্বারা নিম্নবর্ণিত সকল বা যে কোনো বিষয় সম্পর্কে বিধান প্রণয়ন করা যাইবে, যথা:-
(১) বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, সিন্ডিকেটের অনুমোদন সাপেক্ষে, নিম্নবর্ণিত বিষয়ে এই আইন, সংবিধি ও বিধির সহিত সংগতিপূর্ণ প্রবিধান প্রণয়ন করিতে পারিবে, যথা:-
(২) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্যেক কর্তৃপক্ষ উহার সভার তারিখ ও সভার বিবেচ্য বিষয় সম্পর্কে উহার সদস্যগণকে নোটিশ প্রদান এবং সভার কার্যবিবরণীর রেকর্ড সংরক্ষণ সম্পর্কে প্রবিধান প্রণয়ন করিবে।
(১) একাডেমিক কাউন্সিল প্রয়োজনীয় সংখ্যক পরীক্ষা ও মূল্যায়ন কমিটি গঠন করিবে এবং উহাদের গঠন, ক্ষমতা ও কার্যাবলি বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে।
(২) কোনো পরীক্ষা ও মূল্যায়নের বিষয়ে কোনো পরীক্ষক কোনো কারণে দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হইলে বা অপারগতা প্রকাশ করিলে উপাচার্যের নির্দেশে তাহার স্থলে অন্য একজন পরীক্ষককে নিয়োগ প্রদান করা যাইবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্ষিক প্রতিবেদন সিন্ডিকেটের নির্দেশনা অনুসারে প্রস্তুত করিতে হইবে এবং পরবর্তী শিক্ষা বৎসর আরম্ভ হইবার ৬০ (ষাট) দিনের মধ্যে বা তৎপূর্বে উহা মঞ্জুরি কমিশনের মাধ্যমে সরকারের নিকট পেশ করিতে হইবে।
(১) বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্ষিক হিসাব ও আর্থিক বিবরণী সিন্ডিকেটের নির্দেশনা অনুসারে প্রস্তুত ও সংরক্ষণ করিতে হইবে এবং বাংলাদেশের মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক এবং মঞ্জুরি কমিশন কর্তৃক মনোনীত অডিট টিম দ্বারা নিরীক্ষিত হইতে হইবে।
(২) উপধারা (১) এর অধীন নিযুক্ত অডিট টিম বাংলাদেশের মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক কর্তৃক নির্ধারিত পন্থা ও পরিধিতে হিসাব নিরীক্ষা করিবেন।
(৩) বার্ষিক হিসাব, নিরীক্ষা প্রতিবেদনের অনুলিপিসহ, মঞ্জুরি কমিশনের মাধ্যমে সরকারের নিকট পেশ করিতে হইবে।
কোনো ব্যক্তি বিশ্ববিদ্যালয় বা ইনস্টিটিউটের কোনো পদে অধিষ্ঠিত থাকিবার বা বিশ্ববিদ্যালয় বা কোনো ইনস্টিটিউটের কোনো কর্তৃপক্ষ বা অন্য কোনো সংস্থার সদস্য হইবার বা থাকিবার যোগ্য হইবেন না, যদি তিনি-
এই আইন বা সংবিধি দ্বারা কোনো কর্তৃপক্ষকে কমিটি গঠনের ক্ষমতা প্রদান করা হইলে এবং উক্ত কর্তৃপক্ষ উল্লিখিত মতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত হইয়া কোনো কমিটি গঠন করিলে উহা গঠনের আইনগত বৈধতা সম্পর্কে কোনো প্রশ্ন উত্থাপন করা যাইবে না।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো কর্তৃপক্ষ, ইনস্টিটিউট বা কোনো সংস্থার কোনো কার্য ও কার্যধারা উহার কোনো পদের শূন্যতা বা উক্ত পদে নিযুক্তি, মনোনয়ন বা নির্বাচন সংক্রান্ত ব্যর্থতা বা ত্রুটির কারণে অথবা কর্তৃপক্ষ গঠনের বিষয়ে অন্য কোনো প্রকার ত্রুটির জন্য অবৈধ হইবে না কিংবা তৎসম্পর্কে কোনো প্রশ্ন উত্থাপন করা যাইবে না।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যাবলি সম্পাদনের ক্ষেত্রে অথবা উহার কোনো কর্তৃপক্ষের প্রথম সভার বিষয়ে বা এই আইনের বিধানাবলি প্রথম কার্যকর করিবার বিষয়ে কোনো অসুবিধা দেখা দিলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষসমূহ গঠিত হইবার পূর্বে যে কোনো সময় উক্ত অসুবিধা দূরীকরণের জন্য সমীচীন বা প্রয়োজনীয় বলিয়া আচার্যের নিকট প্রতীয়মান হইলে তিনি, আদেশ দ্বারা, এই আইন ও সংবিধির সহিত, যতদূর সম্ভব, সংগতি রক্ষা করিয়া যে কোনো পদে নিয়োগ প্রদান বা অন্য কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে পারিবেন এবং এই প্রকার প্রত্যেকটি আদেশ এইরূপে কার্যকর হইবে, যেন উক্ত নিয়োগ প্রদান ও ব্যবস্থা গ্রহণ এই আইনের বিধান অনুসারে করা হইয়াছে।
(১) এই আইন প্রবর্তনের পর সরকার,প্রয়োজনে, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইনের বাংলা পাঠের ইংরেজিতে অনূদিত একটি নির্ভরযোগ্য পাঠ (Authentic English Text)প্রকাশ করিবে।
(২) বাংলা ও ইংরেজি পাঠের মধ্যে বিরোধের ক্ষেত্রে বাংলা পাঠ প্রাধান্য পাইবে।