বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা শিক্ষা আইন, ২০২৩
Bangladesh Homoeopathic Practitioners Ordinance, 1983 রহিতক্রমে সময়োপযোগী করিয়া নূতনভাবে প্রণয়নকল্পে প্রণীত আইন
Bangladesh Homoeopathic Practitioners Ordinance, 1983 রহিতক্রমে সময়োপযোগী করিয়া নূতনভাবে প্রণয়নকল্পে প্রণীত আইন যেহেতু সংবিধান (পঞ্চদশ সংশোধন) আইন, ২০১১ (২০১১ সনের ১৪ নং আইন) দ্বারা ১৯৮২ সনের ২৪ মার্চ হইতে ১৯৮৬ সনের ১১ নভেম্বর পর্যন্ত সময়ের মধ্যে সামরিক ফরমান দ্বারা জারিকৃত অধ্যাদেশসমূহের অনুমোদন ও সমর্থন সংক্রান্ত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের চতুর্থ তপশিলের ১৯ অনুচ্ছেদ বিলুপ্ত হইয়াছে এবং সিভিল আপিল নং ৪৮/২০১১ তে বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের আপিল বিভাগ কর্তৃক প্রদত্ত রায়ে সামরিক আইনকে অসাংবিধানিক ঘোষণাপূর্বক উহার বৈধতা প্রদানকারী সংবিধান (সপ্তম সংশোধন) আইন, ১৯৮৬ (১৯৮৬ সনের ১ নং আইন) বাতিল ঘোষিত হওয়ায় উক্ত অধ্যাদেশসমূহের কার্যকারিতা লোপ পাইয়াছে; এবং যেহেতু ২০১৩ সনের ৭ নং আইন দ্বারা উক্ত অধ্যাদেশসমূহের মধ্যে কতিপয় অধ্যাদেশ কার্যকর রাখা হইয়াছে; এবং যেহেতু উক্ত অধ্যাদেশসমূহের আবশ্যকতা ও প্রাসঙ্গিকতা পর্যালোচনা করিয়া আবশ্যক বিবেচিত অধ্যাদেশসমূহ সকল স্টেক-হোল্ডার ও সংশ্লিষ্ট সকল মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মতামত গ্রহণ করিয়া প্রয়োজনীয় সংশোধন ও পরিমার্জনক্রমে সময়ের চাহিদার প্রতিফলনে বাংলায় নূতন আইন প্রণয়ন করিবার জন্য সরকার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিয়াছে; এবং যেহেতু সরকারের উপরি-বর্ণিত সিদ্ধান্তের আলোকে, Bangladesh Homoeopathic Practitioners Ordinance, 1983 (Ordinance No. XLI of 1983) রহিতক্রমে উহার বিধানাবলি বিবেচনাক্রমে সময়ের চাহিদার প্রতিফলনে নূতন আইন প্রণয়ন করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়; সেহেতু এতদ্দ্বারা নিম্নরূপ আইন করা হইল:-
Section ১. সংক্ষিপ্ত শিরোনাম ও প্রবর্তন
(১) এই আইন বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা শিক্ষা আইন, ২০২৩ নামে অভিহিত হইবে।
(২) ইহা অবিলম্বে কার্যকর হইবে।
Section ২. সংজ্ঞা
বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থি কোনো কিছু না থাকিলে, এই আইনে,-
(১) ‘‘কাউন্সিল’’ অর্থ ধারা ৪ এর অধীন প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা শিক্ষা কাউন্সিল;
(২) ‘‘কর্মচারী’’ অর্থে কর্মকর্তাও অন্তর্ভুক্ত হইবেন;
(৩) “গভর্নিং বডি” অর্থ ধারা ৮ এর অধীন গঠিত গভর্নিং বডি;
(৪) ‘‘চেয়ারম্যান’’ অর্থ ধারা ১২ এর উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত নির্বাহী পরিষদের চেয়ারম্যান;
(৫) “নির্ধারিত” অর্থ বিধি বা প্রবিধি দ্বারা নির্ধারিত;
(৬) “নির্বাহী পরিষদ” অর্থ ধারা ১১ এর অধীন গঠিত নির্বাহী পরিষদ;
(৭) ‘‘প্রবিধান’’ অর্থ এই আইনের অধীন প্রণীত প্রবিধান;
(৮) ‘‘প্রেসিডেন্ট’’ অর্থ গভর্নিং বডির প্রেসিডেন্ট;
(৯) ‘‘বিধি’’ অর্থ এই আইনের অধীন প্রণীত বিধি;
(১০) ‘‘ভাইস-প্রেসিডেন্ট’’ অর্থ গভর্নিং বডির ভাইস-প্রেসিডেন্ট;
(১১) ‘‘রেজিস্ট্রার’’ অর্থ কাউন্সিলের রেজিস্ট্রার;
(১২) ‘‘হোমিওপ্যাথি’’ অর্থ ডা. স্যামুয়েল হ্যানিম্যান (Dr. Christian Friedrich Samuel Hahnemann) এবং ডা. সুষলার (Dr. Wilhelm Heinrich Schuessler) প্রবর্তিত ও প্রতিষ্ঠিত হোমিওপ্যাথিক এবং বায়োকেমিক চিকিৎসা পদ্ধতি;
(১৩) ‘‘হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক (Homoeopathic Doctor)’’ অর্থ এই আইনের অধীন নিবন্ধিত কোনো হোমিওপ্যাথিক ডা.;
(১৪) “হোমিওপ্যাথিক ফার্মাকোপিয়া” অর্থ নির্বাহী পরিষদ কর্তৃক প্রণীত হোমিওপ্যাথিক ঔষধ প্রস্তুত সংক্রান্ত পুস্তক বা নির্দেশিকা যাহাতে ঔষধের উৎস, প্রস্তুত প্রণালী, যৌগিক গঠন, গুণগত মান এবং অনুরূপ বিষয়াদির বিস্তারিত বর্ণনা থাকে; এবং
(১৫) ‘‘হোমিওপ্যাথিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান’’ অর্থ কাউন্সিল কর্তৃক স্বীকৃত বা অনুমোদিত কোনো হোমিওপ্যাথিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ।
Section ৩. আইনের প্রাধান্য
আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন এই আইনের বিধানাবলি প্রাধান্য পাইবে।
Section ৪. কাউন্সিল প্রতিষ্ঠা, ইত্যাদি
(১) এই আইন কার্যকর হইবার সঙ্গে সঙ্গে, এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা শিক্ষা কাউন্সিল নামে একটি কাউন্সিল প্রতিষ্ঠিত হইবে।
(২) কাউন্সিল একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা হইবে এবং ইহার স্থায়ী ধারাবাহিকতা ও একটি সাধারণ সিলমোহর থাকিবে এবং ইহার স্থাবর ও অস্থাবর উভয় প্রকার সম্পত্তি অর্জন করিবার, অধিকারে রাখিবার ও হস্তান্তর করিবার ক্ষমতা থাকিবে এবং কাউন্সিল স্বীয় নামে মামলা দায়ের করিতে পারিবে এবং উক্ত নামে ইহার বিরুদ্ধেও মামলা দায়ের করা যাইবে।
Section ৫. কাউন্সিলের কার্যালয়
(১) কাউন্সিলের প্রধান কার্যালয় ঢাকায় থাকিবে।
(২) কাউন্সিল, প্রয়োজনবোধে, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, বাংলাদেশের যে কোনো স্থানে উহার আঞ্চলিক বা শাখা কার্যালয় স্থাপন করিতে পারিবে।
Section ৬. কাউন্সিলের পরিচালনা ও প্রশাসন
কাউন্সিলের একটি গভর্নিং বডি থাকিবে এবং এই আইনের অন্যান্য বিধান সাপেক্ষে, কাউন্সিলের পরিচালনা ও প্রশাসন উক্ত গভর্নিং বডির উপর ন্যস্ত থাকিবে এবং কাউন্সিল যে সকল দায়িত্ব ও কার্যাবলি সম্পাদন করিতে পারিবে গভর্নিং বডিও সেই সকল দায়িত্ব ও কার্যাবলি সম্পাদন করিতে পারিবে।
Section ৭. কাউন্সিলের দায়িত্ব ও কার্যাবলি
কাউন্সিলের দায়িত্ব ও কার্যাবলি হইবে নিম্নরূপ, যথা:̶
Section ৮. গভর্নিং বডি
(১) কাউন্সিলের একটি গভর্নিং বডি থাকিবে, যাহা নিম্নরূপ সদস্য সমন্বয়ে গঠিত হইবে, যথা:̶
(২) উপধারা (১) এর দফা (ক) এবং দফা (জ) হইতে (ঢ) এর অধীন মনোনীত সদস্যগণ তাহাদের মনোনয়নের তারিখ হইতে অনধিক ৩ (তিন) বৎসরের জন্য সদস্য পদে বহাল থাকিবেন:
তবে শর্ত থাকে যে, সরকার, কোনো কারণ দর্শানো ব্যতিরেকে, মেয়াদ শেষ হইবার পূর্বে কোনো মনোনীত সদস্যকে অব্যাহতি প্রদান করিতে পারিবে।
(৩) কোনো সদস্য প্রেসিডেন্টের অনুমোদন ব্যতীত গভর্নিং বডির পরপর ৩ (তিন) টি সভায় অনুপস্থিত থাকিলে তাহার সদস্য পদের অবসান হইবে।
(৪) উপধারা (১) এর দফা (ক) এবং দফা (জ) হইতে (ঢ) এ উল্লিখিত কোনো মনোনীত সদস্য, যে কোনো সময়, প্রেসিডেন্টকে উদ্দেশ্য করিয়া স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে স্বীয় পদ ত্যাগ করিতে পারিবেন।
Section ৯. প্রেসিডেন্ট ও ভাইস-প্রেসিডেন্ট
সরকার গভর্নিং বডির সদস্যগণের মধ্য হইতে একজনকে গভর্নিং বডির প্রেসিডেন্ট এবং একজনকে ভাইস-প্রেসিডেন্ট হিসাবে মনোনয়ন প্রদান করিবে।
Section ১০. গভর্নিং বডির সভা
(১) এই ধারার অন্যান্য বিধান সাপেক্ষে, গভর্নিং বডি উহার সভার কার্যপদ্ধতি নির্ধারণ করিতে পারিবে।
(২) গভর্নিং বডির সভা উহার প্রেসিডেন্টের সম্মতিক্রমে উহার সদস্য-সচিব কর্তৃক আহুত হইবে এবং প্রেসিডেন্ট কর্তৃক নির্ধারিত তারিখ, স্থান ও সময়ে অনুষ্ঠিত হইবে।
(৩) প্রতি ৩ (তিন) মাসে গভর্নিং বডির অন্যূন একটি সভা অনুষ্ঠিত হইবে, তবে জরুরি প্রয়োজনে গভর্নিং বডি যে কোনো সময় সভা আহবান করিতে পারিবে।
(৪) প্রেসিডেন্ট গভর্নিং বডির সকল সভায় সভাপতিত্ব করিবেন, তবে তাহার অনুপস্থিতিতে ভাইস-প্রেসিডেন্ট গভর্নিং বডির সভায় সভাপতিত্ব করিবেন।
(৫) গভর্নিং বডির সভার কোরামের জন্য উহার অন্যূন পঞ্চাশ শতাংশ সদস্যের উপস্থিতির প্রয়োজন হইবে, তবে মুলতবি সভার ক্ষেত্রে কোনো কোরামের প্রয়োজন হইবে না।
(৬) গভর্নিং বডির প্রত্যেক সদস্যের একটি করিয়া ভোট থাকিবে এবং উপস্থিত সদস্যগণের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে সভার সিদ্ধান্ত গৃহীত হইবে, তবে ভোটের সমতার ক্ষেত্রে সভায় সভাপতিত্বকারী ব্যক্তির দ্বিতীয় বা নির্ণায়ক ভোট প্রদানের ক্ষমতা থাকিবে।
(৭) কেবল কোনো সদস্য পদে শূন্যতা বা গভর্নিং বডি গঠনে ত্রুটি থাকিবার কারণে গভর্নিং বডির কোনো কার্য বা কার্যধারা অবৈধ হইবে না এবং তৎসম্পর্কে কোথাও কোনো প্রশ্ন উত্থাপন করা যাইবে না।
Section ১১. নির্বাহী পরিষদ
(১) কাউন্সিলের একটি নির্বাহী পরিষদ থাকিবে, যাহা নিম্নরূপ সদস্য সমন্বয়ে গঠিত হইবে, যথা:̶
(২) উপধারা (১) এর দফা (ঙ) হইতে (জ) এর অধীন মনোনীত সদস্যগণ তাহাদের মনোনয়নের তারিখ হইতে অনধিক ৩ (তিন) বৎসরের জন্য নির্বাহী পরিষদের সদস্য পদে বহাল থাকিবেন:
তবে শর্ত থাকে যে, সরকার, কোনো কারণ দর্শানো ব্যতিরেকে, মেয়াদ শেষ হইবার পূর্বে কোনো মনোনীত সদস্যকে অব্যাহতি প্রদান করিতে পারিবে।
(৩) উপধারা (১) এর দফা (ঙ) হইতে (জ) এ উল্লিখিত কোনো মনোনীত সদস্য চেয়ারম্যানের অনুমোদন ব্যতীত নির্বাহী পরিষদের পরপর ৩ (তিন) টি সভায় অনুপস্থিত থাকিলে তাহার সদস্য পদের অবসান হইবে।
(৪) উপধারা (১) এর দফা (ঙ) হইতে (জ) এ উল্লিখিত কোনো মনোনীত সদস্য, যে কোনো সময়, চেয়ারম্যানকে উদ্দেশ্য করিয়া স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে স্বীয় পদ ত্যাগ করিতে পারিবেন।
Section ১২. চেয়ারম্যান নিয়োগ
(১) নির্বাহী পরিষদের একজন চেয়ারম্যান থাকিবেন এবং তিনি নির্বাহী পরিষদের প্রধান নির্বাহী হইবেন।
(২) চেয়ারম্যান সরকার কর্তৃক নিযুক্ত হইবেন এবং তাহার চাকুরির মেয়াদ ও শর্তাবলি সরকার কর্তৃক স্থিরীকৃত হইবে।
(৩) চেয়ারম্যান নির্বাহী পরিষদের সার্বক্ষণিক কর্মচারী হইবেন এবং তিনি নির্বাহী পরিষদের দৈনন্দিন প্রশাসন পরিচালনা করিবেন।
(৪) চেয়ারম্যানের পদ শূন্য হইলে কিংবা অনুপস্থিতি, অসুস্থতা বা অন্য কোনো কারণে চেয়ারম্যান তাহার দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হইলে, শূন্য পদে নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান যোগদান না করা পর্যন্ত কিংবা চেয়ারম্যান পুনরায় স্বীয় দায়িত্ব পালনে সমর্থ না হওয়া পর্যন্ত, সরকার কর্তৃক মনোনীত ব্যক্তি সাময়িকভাবে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করিবেন।
Section ১৩. মনোনীত সদস্যগণের অযোগ্যতা ও অপসারণ
(১) কোনো ব্যক্তি গভর্নিং বডি বা নির্বাহী পরিষদের মনোনীত সদস্য হইবার বা থাকিবার যোগ্য হইবেন না, যদি তিনি -
(২) সরকার লিখিত আদেশ দ্বারা প্রেসিডেন্ট, ভাইস-প্রেসিডেন্ট, চেয়ারম্যান বা কোনো মনোনীত সদস্যকে তাহার পদ হইতে অব্যাহতি প্রদান করিতে পারিবে, যদি তিনি-
Section ১৪. নির্বাহী পরিষদের দায়িত্ব ও কার্যাবলি
(১) নির্বাহী পরিষদের দায়িত্ব ও কার্যাবলি হইবে নিম্নরূপ, যথা:-
(২) নির্বাহী পরিষদ উহার দায়িত্ব পালন ও কার্যাবলি সম্পাদনের জন্য কাউন্সিলের নিকট দায়ী থাকিবে।
Section ১৫. নির্বাহী পরিষদের সভা
(১) এই ধারার অন্যান্য বিধান সাপেক্ষে, নির্বাহী পরিষদ উহার সভার কার্যপদ্ধতি নির্ধারণ করিতে পারিবে।
(২) নির্বাহী পরিষদের সভা চেয়ারম্যানের সম্মতিক্রমে উহার সদস্য-সচিব কর্তৃক আহুত হইবে এবং চেয়ারম্যান কর্তৃক নির্ধারিত স্থান, তারিখ ও সময়ে অনুষ্ঠিত হইবে।
(৩) প্রতি ৩ (তিন) মাসে নির্বাহী পরিষদের অন্যূন ১ (এক) টি সভা অনুষ্ঠিত হইবে, তবে জরুরি প্রয়োজনে যে কোনো সময় সভা আহবান করা যাইবে।
(৪) চেয়ারম্যান নির্বাহী পরিষদের সকল সভায় সভাপতিত্ব করিবেন, তবে তাহার অনুপস্থিতিতে তৎকর্তৃক মনোনীত ১ (এক) জন সদস্য সভায় সভাপতিত্ব করিবেন।
(৫) নির্বাহী পরিষদের সভার কোরামের জন্য উহার অন্যূন এক তৃতীয়াংশ সদস্যের উপস্থিতির প্রয়োজন হইবে, তবে মুলতবি সভার ক্ষেত্রে কোনো কোরামের প্রয়োজন হইবে না।
(৬) নির্বাহী পরিষদের প্রত্যেক সদস্যের একটি করিয়া ভোট থাকিবে এবং উপস্থিত সদস্যগণের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে সভার সিদ্ধান্ত গৃহীত হইবে, তবে ভোটের সমতার ক্ষেত্রে সভায় সভাপতিত্বকারী ব্যক্তির দ্বিতীয় বা নির্ণায়ক ভোট প্রদানের ক্ষমতা থাকিবে।
(৭) কেবল কোনো সদস্য পদে শূন্যতা বা নির্বাহী পরিষদ গঠনে ত্রুটি থাকিবার কারণে নির্বাহী পরিষদের কোনো কার্য বা কার্যধারা অবৈধ হইবে না এবং তৎসম্পর্কে কোথাও কোনো প্রশ্ন উত্থাপন করা যাইবে না।
Section ১৬. চেয়ারম্যানের দায়িত্ব
চেয়ারম্যান নিম্নবর্ণিত দায়িত্ব পালন করিবেন, যথা:̶
Section ১৭. রেজিস্ট্রার
(১) কাউন্সিলের একজন রেজিস্ট্রার থাকিবেন এবং তাহার নিয়োগ ও কর্মের শর্তাদি প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত হইবে।
(২) রেজিস্ট্রার নিম্নবর্ণিত দায়িত্ব পালন করিবেন, যথা:̶
Section ১৮. কমিটি গঠন
(১) কাউন্সিল এই আইনের অধীন উহার কোনো ক্ষমতা প্রয়োগ বা কোনো দায়িত্ব পালনে সহায়তা করিবার উদ্দেশ্যে, তৎকর্তৃক নির্ধারিত সীমা ও শর্ত সাপেক্ষে, গভর্নিং বডি বা নির্বাহী পরিষদের কোনো সদস্য বা কাউন্সিলের কর্মচারী সমন্বয়ে এক বা একাধিক কমিটি গঠন করিতে পারিবে, এবং, প্রয়োজনবোধে, উক্ত কমিটিতে অন্য কোনো ব্যক্তিকেও অন্তর্ভুক্ত করিতে পারিবে।
(২) উপধারা (১) এর অধীন গঠিত কমিটির দায়িত্ব ও কার্যাবলি কাউন্সিল কর্তৃক নির্ধারিত হইবে।
Section ১৯. হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকগণের নিবন্ধন, ইত্যাদি
(১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, কাউন্সিল, হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকদের নিবন্ধন করত তাহাদের নাম, এতদ্সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় বিবরণসহ, একটি নিবন্ধন বহিতে অন্তর্ভুক্ত করিবে, এবং উক্ত নিবন্ধন বহি সংরক্ষণ ও হালনাগাদ করিয়া প্রকাশ করিবে।
(২) হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা বিষয়ে স্নাতকোত্তর, ব্যাচেলর অব হোমিওপ্যাথিক মেডিসিন এন্ড সার্জারি বা ডিপ্লোমা ইন হোমিওপ্যাথিক মেডিসিন এন্ড সার্জারি সনদধারী কোনো ব্যক্তি বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে ও ফি পরিশোধ সাপেক্ষে কাউন্সিলের নিকট নিবন্ধনের জন্য আবেদন করিতে পারিবেন।
(৩) উপধারা (২) এর অধীন আবেদন প্রাপ্তির পর কাউন্সিল-
(৪) বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিল আইন, ২০১০ (২০১০ সনের ৬১ নং আইন) এর অধীন চিকিৎসক হিসাবে নিবন্ধিত কোনো ব্যক্তি প্রবিধি দ্বারা নির্ধারিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া সাপেক্ষে, এই আইনের অধীন হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক হিসাবে নিবন্ধনের জন্য আবেদন করিতে পারিবেন।
(৫) কোনো স্বীকৃত বিদেশি হোমিওপ্যাথিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হইতে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় স্নাতকোত্তর, ব্যাচেলর অব হোমিওপ্যাথিক মেডিসিন এন্ড সার্জারি বা ডিপ্লোমা ইন হোমিওপ্যাথিক মেডিসিন এন্ড সার্জারি সনদধারী কোনো ব্যক্তি এই আইনের অধীন প্রণীত প্রবিধি দ্বারা নির্ধারিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া সাপেক্ষে, এই আইনের অধীন হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক হিসাবে নিবন্ধনের জন্য আবেদন করিতে পারিবেন।
(৬) বিদেশে নিবন্ধিত কোনো হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক বাংলাদেশে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করিতে চাহিলে তাহাকে উক্ত চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু করিবার পূর্বেই নির্ধারিত পদ্ধতিতে কাউন্সিলের অনুমতি গ্রহণ করিতে হইবে।
Section ২০. নিবন্ধন স্থগিত, বাতিল, নিবন্ধন বহি হইতে নাম কর্তন, ইত্যাদি
(১) কোনো হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক এই আইন বা তদধীন প্রণীত বিধি বা প্রবিধির কোনো বিধান লঙ্ঘনের কারণে দোষী সাব্যস্ত হইলে, কাউন্সিল বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে উক্ত ব্যক্তির নিবন্ধন স্থগিত বা, ক্ষেত্রমত, বাতিল করিতে পারিবে:
তবে শর্ত থাকে যে, এই ধারার অধীন কাউন্সিল কর্তৃক কোনো ব্যবস্থা গ্রহণের পূর্বে উক্ত হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসককে বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে কারণ দর্শানোর সুযোগ প্রদান করিতে হইবে।
(২) উপধারা (১) এর বিধান অনুযায়ী কোনো হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকের নিবন্ধন বাতিল করা হইলে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক নিবন্ধন বহি হইতে তাহার নাম কর্তন করিতে হইবে।
(৩) উপধারা (২) এর অধীন নাম কর্তন করিবার অনধিক ৭ (সাত) কার্যদিবসের মধ্যে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসককে লিখিতভাবে অবহিত করিতে হইবে।
Section ২১. হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকের তালিকা প্রকাশ
(১) কাউন্সিল, প্রতি ২ (দুই) বৎসর অন্তর, প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে নাম, ঠিকানা, নিবন্ধনের তারিখ বা, অনুরূপ অন্যান্য বিষয় নিবন্ধন বহিতে অন্তর্ভুক্ত করিয়া হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকগণের তালিকা হালনাগাদ ও প্রকাশ করিবে।
(২) উপধারা (১) এর অধীন প্রকাশিত তালিকায় কোনো হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকের নাম না থাকিলে তিনি বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে তাহার নাম অন্তর্ভুক্তির জন্য কাউন্সিলের নিকট আবেদন করিতে পারিবেন।
(৩) এই ধারার অধীন প্রকাশিত তালিকায় যে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকের নাম থাকিবে তিনি একজন নিবন্ধিত ও তালিকাভুক্ত হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক (Homoeopathic Doctor) হিসাবে বিবেচিত হইবেন।
Section ২২. নিবন্ধন বহি, ইত্যাদি সরকারি দলিল
এই আইন বা তদধীন প্রণীত কোনো বিধি বা প্রবিধির অধীন প্রণীত, প্রকাশিত ও সংরক্ষিত নিবন্ধন বহি বা অনুরূপ দলিলাদি Evidence Act, 1872 (Act No. I of 1872) এর অধীন সরকারি দলিল (public document) বলিয়া গণ্য হইবে।
Section ২৩. ভর্তি ও চিকিৎসা শিক্ষা যোগ্যতা
এই আইনের অধীন স্বীকৃত বিভিন্ন কোর্স, ডিগ্রি বা অনুশীলনে ভর্তি ও চিকিৎসা শিক্ষা যোগ্যতাসহ আনুষঙ্গিক বিষয়াদি প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত হইবে।
Section ২৪. পরীক্ষা
হোমিওপ্যাথিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান উহার শিক্ষার্থীদের হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি, ব্যাচেলর অব হোমিওপ্যাথিক মেডিসিন এন্ড সার্জারি, ডিপ্লোমা ইন হোমিওপ্যাথিক মেডিসিন এন্ড সার্জারি অথবা এই আইন বা তদধীন প্রণীত কোনো বিধি বা প্রবিধি দ্বারা স্বীকৃত বা অনুমোদিত অন্য কোনো কোর্সের সনদ প্রদানের উদ্দেশ্যে প্রতি বৎসর অন্তত ১ (এক) বার করিয়া প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে পরীক্ষা গ্রহণ করিবে।
Section ২৫. পরিদর্শন
(১) কাউন্সিল এই আইন বা তদধীন প্রণীত কোনো বিধি বা প্রবিধি দ্বারা হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা শিক্ষা প্রদানকারী হোমিওপ্যাথিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন, উহার সক্ষমতা যাচাই বা নির্বাহী পরিষদ কর্তৃক পরিচালিত পরীক্ষা তদারকি করিবার জন্য চেয়ারম্যান বা নির্বাহী পরিষদের কোনো সদস্য বা কাউন্সিলের কোনো কর্মচারীকে দায়িত্ব প্রদান করিতে পারিবে।
(২) উপধারা (১) এর অধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি তাহার উপর অর্পিত দায়িত্ব সম্পন্ন করিয়া চেয়ারম্যানের নিকট প্রতিবেদন দাখিল করিবেন।
(৩) উপধারা (২) এর অধীন প্রতিবেদন পাইবার পর নির্বাহী পরিষদ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে পারিবে।
Section ২৬. হোমিওপ্যাথিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তালিকা প্রকাশ
(১) কাউন্সিল প্রতি বৎসর প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে স্বীকৃত বা অনুমোদনপ্রাপ্ত দেশি ও বিদেশি হোমিওপ্যাথিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহের তালিকা প্রকাশ করিবে।
(২) উপধারা (১) এর অধীন প্রকাশিত তালিকায় কোনো হোমিওপাথিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নাম না থাকিলে প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে, উক্ত তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির সুযোগ প্রদান করা যাইবে।
Section ২৭. স্বীকৃতি বা অনুমোদন স্থগিত, প্রত্যাহার, ইত্যাদি
(১) কাউন্সিল স্বীকৃতিপ্রাপ্ত বা অনুমোদিত হোমিওপ্যাথিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহ প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে সরেজমিনে পরিদর্শন করিয়া প্রতিবেদন দাখিল করিবার জন্য এক বা একাধিক কমিটি গঠন করিতে পারিবে।
(২) উপধারা (১) এর অধীন গঠিত কমিটি উহার পরিদর্শন প্রতিবেদন রেজিস্ট্রারের নিকট প্রেরণ করিবে এবং রেজিস্ট্রার উক্ত প্রতিবেদনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য প্রতিবেদনটি কাউন্সিলের নিকট উপস্থাপন করিবে।
(৩) উপধারা (১) অনুযায়ী প্রাপ্ত প্রতিবেদন যাচাই-বাছাইক্রমে, কাউন্সিল সংশ্লিষ্ট হোমিওপ্যাথিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহের কার্যক্রম সম্পর্কে সন্তুষ্ট না হইলে, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, উহার স্বীকৃতি বা অনুমোদন নির্ধারিত পদ্ধতিতে স্থগিত বা প্রত্যাহার করিতে পারিবে।
Section ২৮. আপিল
(১) কাউন্সিলের কোনো সিদ্ধান্তের ফলে কোনো ব্যক্তি, হোমিওপ্যাথিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক সংক্ষুব্ধ হইলে তিনি উক্ত সিদ্ধান্ত অবহিত হইবার তারিখ হইতে অনধিক ৩০ (ত্রিশ) কার্যদিবসের মধ্যে উক্ত সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্ধারিত পদ্ধতিতে সরকারের নিকট আপিল করিতে পারিবেন।
(২) সরকার, কাউন্সিল কর্তৃক প্রদত্ত সিদ্ধান্ত বিবেচনা করিয়া প্রয়োজনীয় আদেশ প্রদান করিতে পারিবে।
(৩) উপধারা (২) এর অধীন প্রদত্ত আদেশ চূড়ান্ত বলিয়া গণ্য হইবে এবং উক্ত সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কোথাও কোনো প্রশ্ন উত্থাপন করা যাইবে না।
Section ২৯. কাউন্সিলের জবাবদিহিতা
(১) কাউন্সিল উহার দায়িত্ব ও কার্যাবলি সম্পাদনের জন্য সরকারের নিকট দায়ী থাকিবে।
(২) সরকার কাউন্সিলের যে কোনো বিষয় পরিদর্শন বা তদন্ত করিতে পারিবে।
(৩) উপধারা (২) এর অধীন পরিচালিত পরিদর্শন বা তদন্তের পর সরকার তদনুযায়ী কাউন্সিলকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা প্রদান করিতে পারিবে এবং উক্তরূপে নির্দেশনা প্রদান করা হইলে কাউন্সিল উহা প্রতিপালন করিতে বাধ্য থাকিবে।
Section ৩০. ভূয়া ডিগ্রি, উপাধি, ইত্যাদি ব্যবহার নিষিদ্ধ
(১) কোনো হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক তদ্দ্বারা এই আইনের বিধান অনুযায়ী অর্জিত হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা শিক্ষা যোগ্যতা ব্যতীত অন্য কোনো কোর্সের নাম, ডিগ্রি, সনদ, উপাধি, পদবি, বিবরণ বা প্রতীক ব্যবহার, প্রকাশ বা প্রচার করিতে পারিবেন না।
(২) কোনো ব্যক্তি উপধারা (১) এর বিধান লঙ্ঘন করিয়া তদ্দ্বারা এই আইনের বিধান অনুযায়ী অর্জিত চিকিৎসা শিক্ষা যোগ্যতা ব্যতীত অন্য কোনো কোর্সের নাম, ডিগ্রি, সনদ, উপাধি, পদবি, বিবরণ বা প্রতীক ব্যবহার, প্রকাশ বা প্রচার করিলে উহা হইবে একটি অপরাধ, এবং তজ্জন্য তিনি অনধিক ১ (এক) বৎসর কারাদণ্ড বা অনধিক ১ (এক) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ড দণ্ডনীয় হইবেন।
Section ৩১. ব্যবস্থাপত্রে অ-অনুমোদিত ঔষধ লিখিবার দণ্ড
(১) কোনো হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক হোমিওপ্যাথিক ফার্মাকোপিয়াতে অন্তর্ভুক্ত নেই এমন কোনো ঔষধ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা ব্যবস্থাপত্রে লিখিতে বা বলিতে পারিবেন না।
(২) কোনো ব্যক্তি উপধারা (১) এর বিধান লঙ্ঘন করিয়া হোমিওপ্যাথিক ফার্মাকোপিয়াতে অন্তর্ভুক্ত নেই এমন কোনো ঔষধ চিকিৎসা ব্যবস্থাপত্রে লিখিলে বা বলিলে উহা হইবে একটি অপরাধ, এবং তজ্জন্য তিনি অনধিক ১ (এক) বৎসর কারাদণ্ড বা অনধিক ১ (এক) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দন্ডে দণ্ডনীয় হইবেন।
Section ৩২. নিবন্ধন ব্যতীত চিকিৎসা পেশা পরিচালনা, ঔষধ প্রদান, মজুদ, বিক্রয়, ইত্যাদি
(১) নিবন্ধন ব্যতীত হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক হিসাবে হোমিওপ্যাথিক পদ্ধতিতে চিকিৎসা প্রদান বা হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা সংক্রান্ত কোনো দায়িত্ব পালন বা শিক্ষাদান করা যাইবে না।
(২) কোনো হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক হোমিওপ্যাথিক ফার্মাকোপিয়াতে অন্তর্ভুক্ত ঔষধ ব্যতীত অন্য কোনো ঔষধ মজুদ, প্রদর্শন বা বিক্রয় করিতে পারিবেন না।
(৩) কোনো ব্যক্তি উপধারা (১) এর বিধান লঙ্ঘন করিয়া নিবন্ধন ব্যতীত হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক হিসাবে হোমিওপ্যাথিক পদ্ধতিতে চিকিৎসা প্রদান বা হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা সংক্রান্ত কোনো দায়িত্ব পালন বা শিক্ষাদান করিলে অথবা উপধারা (২) এর বিধান লঙ্ঘন করিয়া হোমিওপ্যাথিক ফার্মাকোপিয়াতে অন্তর্ভুক্ত ঔষধ ব্যতীত অন্য কোনো ঔষধ মজুদ, প্রদর্শন বা বিক্রয় করেন তাহা হইলে উহা হইবে একটি অপরাধ এবং তজ্জন্য তিনি অনধিক ১ (এক) বৎসরের কারাদণ্ড বা অনধিক ১ (এক) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দন্ডে দণ্ডনীয় হইবেন।
Section ৩৩. অননুমোদিত ডিগ্রি বা সনদ ইস্যু, অনুকরণ, ইত্যাদি নিষিদ্ধ
(১) কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এই আইন বা তদধীন প্রণীত বিধি বা প্রবিধির অধীন প্রদত্ত ডিগ্রি বা সনদের সদৃশ বা অনুকরণে হোমিওপ্যাথিক পদ্ধতিতে চিকিৎসা করিবার অধিকার প্রদান করিয়া কোনো ডিগ্রি বা সনদ মঞ্জুর বা ইস্যু করিতে পারিবে না।
(২) স্বীকৃতি বা অনুমোদনবিহীন কোনো হোমিওপ্যাথিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা সংক্রান্ত কোনো কোর্স পরিচালনা বা সনদ প্রদান করিতে পারিবে না।
(৩) কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান উপধারা (১) এর বিধান লঙ্ঘন করিয়া এই আইন বা তদধীন প্রণীত বিধি বা প্রবিধির অধীন প্রদত্ত ডিগ্রি বা সনদের সদৃশ বা অনুকরণে হোমিওপ্যাথিক পদ্ধতিতে চিকিৎসা করিবার অধিকার প্রদান করিয়া কোনো ডিগ্রি বা সনদ মঞ্জুর বা ইস্যু করিলে অথবা উপধারা (২) এর বিধান লঙ্ঘন করিয়া স্বীকৃতিবিহীন কোনো হোমিওপ্যাথিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা সংক্রান্ত কোনো কোর্স পরিচালনা বা সনদ প্রদান করিলে উহা হইবে একটি অপরাধ এবং তজ্জন্য তিনি বা উক্ত প্রতিষ্ঠানের মালিক বা স্বত্বাধিকারী, চেয়ারম্যান, প্রধান নির্বাহী, পরিচালক, ব্যবস্থাপক, অংশিদার বা অন্য কোনো কর্মকর্তা বা এজেন্ট বা প্রতিনিধি বা অন্য যে কোনো নামেই অভিহিত হউক না কেন, অনধিক ৩ (তিন) বৎসরের কারাদণ্ড বা অনধিক ৫ (পাঁচ) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন, যদি না তিনি প্রমাণ করিতে পারেন যে, উক্ত অপরাধ তাহার অজ্ঞাতসারে হইয়াছে অথবা উক্ত অপরাধ রোধ করিবার জন্য তিনি যথাসাধ্য চেষ্টা করিয়াছেন।
Section ৩৪. অপরাধের তদন্ত, বিচার, ইত্যাদি
এই আইনের অধীন কোনো অপরাধের অভিযোগ দায়ের, তদন্ত, বিচার, আপিল ও এতদ্সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়ের ক্ষেত্রে Code of Criminal Procedure, 1898 (Act No. V of 1898) এর বিধান প্রযোজ্য হইবে।
Section ৩৫. অপরাধের জামিনযোগ্যতা ও আপোষযোগ্যতা
ধারা ৩৩ এ উল্লিখিত অপরাধ ব্যতীত এই আইনে উল্লিখিত অন্যান্য অপরাধসমূহ জামিনযোগ্য (bailable) এবং আপোষযোগ্য (compoundable) হইবে।
Section ৩৬. অর্থদণ্ড আরোপের ক্ষেত্রে ম্যাজিস্ট্রেটের বিশেষ ক্ষমতা
Code of Criminal Procedure, 1898 (Act No. V of 1898) এর section 32 এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা, ক্ষেত্রমত, মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এই আইনের ধারা ৩০, ৩১, ৩২ ও ৩৩ এ উল্লিখিত পরিমাণ অর্থদণ্ড আরোপ করিতে পারিবেন।
Section ৩৭. মোবাইল কোর্ট আইন, ২০০৯ এর প্রয়োগ
এই আইনে ভিন্নরূপ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইনের অধীন সংঘটিত কোনো অপরাধ মোবাইল কোর্ট আইন, ২০০৯ (২০০৯ সনের ৫৯ নং আইন) এর তপশিলভুক্ত করিয়া বিচার করা যাইবে।
Section ৩৮. তহবিল
(১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা শিক্ষা কাউন্সিল তহবিল নামে কাউন্সিলের একটি তহবিল থাকিবে এবং উক্ত তহবিলে নিম্নবর্ণিত উৎসসমূহ হইতে প্রাপ্ত অর্থ জমা হইবে, যথা:̶
(২) তহবিলের অর্থ গভর্নিং বডির অনুমোদনক্রমে কোনো তপশিলি ব্যাংকে কাউন্সিলের নামে জমা রাখিতে হইবে এবং বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে তহবিল হইতে অর্থ উত্তোলন ও তহবিল পরিচালনা করা যাইবে।
(৩) কাউন্সিল ও নির্বাহী পরিষদের দায়িত্ব ও কার্যাবলি সম্পাদন এবং চেয়ারম্যান ও রেজিস্ট্রারসহ কাউন্সিলের অন্যান্য কর্মচারীদের বেতন, ভাতা ও আনুষঙ্গিক সকল ব্যয় তহবিল হইতে বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে নির্বাহ করা হইবে।
Section ৩৯. কর্মচারী নিয়োগ, ইত্যাদি
(১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে কাউন্সিল, সরকার কর্তৃক অনুমোদিত সাংগঠনিক কাঠামো অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সংখ্যক কর্মচারী নিয়োগ করিতে পারিবে।
(২) কাউন্সিলের কর্মচারীদের নিয়োগ ও চাকুরির শর্তাবলি প্রবিধানমালা দ্বারা নির্ধারিত হইবে।
Section ৪০. বাজেট
কাউন্সিল, সরকার কর্তৃক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে, প্রতি অর্থ বৎসরের সম্ভাব্য আয় ও ব্যয় এবং উক্ত অর্থ বৎসরে সরকারের নিকট হইতে কি পরিমাণ অর্থ প্রয়োজন হইবে উহা উল্লেখ করিয়া একটি বাজেট বিবরণী সরকারের অনুমোদনের জন্য পেশ করিবে।
Section ৪১. হিসাবরক্ষণ ও নিরীক্ষা
(১) কাউন্সিল যথাযথভাবে উহার হিসাবরক্ষণ করিবে এবং হিসাবের বার্ষিক বিবরণী প্রস্তুত করিবে।
(২) বাংলাদেশের মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, অতঃপর মহা হিসাব-নিরীক্ষক নামে অভিহিত, প্রত্যেক বৎসর কাউন্সিলের হিসাব নিরীক্ষা করিবেন এবং বিদ্যমান আইনের বিধান মোতাবেক নিরীক্ষা রিপোর্ট দাখিল করিবেন।
(৩) উপধারা (২) এ উল্লিখিত হিসাব নিরীক্ষা ছাড়াও Bangladesh Chartered Accountants Order, 1973(President’s Order No. 2 of 1973) এর Article 2(1)(b) তে সংজ্ঞায়িত Chartered Accountant দ্বারা কাউন্সিলের হিসাব নিরীক্ষা করা যাইবে এবং এতদুদ্দেশ্যে কাউন্সিল এক বা একাধিক Chartered Accountant নিয়োগ করিতে পারিবে।
(৪) উপধারা (৩) এর অধীন নিয়োগকৃত Chartered Accountant এতদুদ্দেশ্যে কাউন্সিল কর্তৃক নির্ধারিত হারে পারিশ্রমিক প্রাপ্য হইবেন।
(৫) উপধারা (২) ও (৩) এর অধীন হিসাব নিরীক্ষার উদ্দেশ্যে মহা হিসাব-নিরীক্ষক কিংবা তাহার নিকট হইতে এতদুদ্দেশ্যে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি অথবা, ক্ষেত্রমত, Chartered Accountant কাউন্সিলের সকল রেকর্ড, দলিল-দস্তাবেজ, নগদ বা ব্যাংকে গচ্ছিত অর্থ, জামানত, ভান্ডার এবং অন্যবিধ সম্পত্তি পরীক্ষা করিয়া দেখিতে পারিবেন এবং প্রেসিডেন্ট, ভাইস প্রেসিডেন্ট, চেয়ারম্যান, রেজিস্ট্রার এবং গভর্নিং বডি বা নির্বাহী পরিষদের কোনো সদস্যসহ কাউন্সিলের কোনো কর্মচারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করিতে পারিবেন।
Section ৪২. বার্ষিক প্রতিবেদন
(১) কাউন্সিল প্রত্যেক অর্থ বৎসর শেষে ৩১ জুলাই এর মধ্যে উক্ত বৎসরে সম্পাদিত কার্যাবলির বিবরণ সংবলিত একটি বার্ষিক প্রতিবেদন সরকারের নিকট পেশ করিবে।
(২) সরকার, প্রয়োজনে, কাউন্সিলের নিকট হইতে যে কোনো সময় যে কোনো বিবরণী, হিসাব, পরিসংখ্যান এবং কাউন্সিলের নিয়ন্ত্রণাধীন যে কোনো বিষয় সম্পর্কিত তথ্য বা উক্তরূপ যে কোনো বিষয় সম্পর্কিত প্রতিবেদন যাচনা করিতে পারিবে এবং কাউন্সিল উহা সরকারের নিকট প্রেরণ করিতে বাধ্য থাকিবে।
Section ৪৩. বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা
এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে।
Section ৪৪. প্রবিধান প্রণয়নের ক্ষমতা
এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, কাউন্সিল, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইন ও তদধীন প্রণীত বিধির সহিত সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া সাপেক্ষে, প্রবিধান প্রণয়ন করিতে পারিবে।
Section ৪৬. ইংরেজিতে অনূদিত পাঠ প্রকাশ
(১) এই আইন কার্যকর হইবার পর, সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইনের ইংরেজিতে অনূদিত একটি নির্ভরযোগ্য পাঠ (Authentic English Text) প্রকাশ করিতে পারিবে।
(২) এই আইন ও ইংরেজি পাঠের মধ্যে বিরোধের ক্ষেত্রে বাংলা পাঠ প্রাধান্য পাইবে।
Section ৪৫. রহিতকরণ ও হেফাজত
(১) Bangladesh Homoeopathic Practitioners Ordinance, 1983 (Ordinance No. XLI of 1983), অতঃপর উক্ত Ordinance বলিয়া উল্লিখিত, এতদ্দ্বারা রহিত করা হইল।
(২) উপধারা (১) এর অধীন উক্তরূপ রহিতকরণ সত্ত্বেও, উক্ত Ordinance এর অধীন-
(৩) উক্ত Ordinance রহিত হইবার সঙ্গে সঙ্গে উক্ত Ordinance এর অধীন প্রতিষ্ঠিত Bangladesh Board of Homoeopathic System of Medicine এর-