আনসার ব্যাটালিয়ন আইন, ২০২৩
ব্যাটালিয়ন আনসার আইন, ১৯৯৫ রহিতপূর্বক যুগোপযোগী করিয়া উহা পুনঃপ্রণয়নের উদ্দেশ্যে প্রণীত আইন
ব্যাটালিয়ন আনসার আইন, ১৯৯৫ রহিতপূর্বক যুগোপযোগী করিয়া উহা পুনঃপ্রণয়নের উদ্দেশ্যে প্রণীত আইন যেহেতু বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ জননিরাপত্তা, আইন শৃঙ্খলা রক্ষা, আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও দুর্যোগ মোকাবিলায় সহায়তাকরণসহ এতদ্সংশ্লিষ্ট কার্যাবলি সম্পাদনে আনসার ব্যাটালিয়নকে আরও দক্ষ করিবার উদ্দেশ্যে ব্যাটালিয়ন আনসার আইন, ১৯৯৫ (১৯৯৫ সনের ৪ নং আইন) রহিতপূর্বক যুগোপযোগী করিয়া উহা পুনঃপ্রণয়ন করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়; সেহেতু এতদ্দ্বারা নিম্নরূপ আইন করা হইল:-
Section ১. সংক্ষিপ্ত শিরোনাম ও প্রবর্তন
(১) এই আইন আনসার ব্যাটালিয়ন আইন, ২০২৩ নামে অভিহিত হইবে।
(২) ইহা অবিলম্বে কার্যকর হইবে।
Section ২. সংজ্ঞা
বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থি কোনো কিছু না থাকিলে, এই আইনে-
Section ৩. আইনের প্রাধান্য
আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইনের বিধানাবলি প্রাধান্য পাইবে।
Section ৪. আনসার ব্যাটালিয়ন গঠন
(১) ব্যাটালিয়ন আনসার আইন, ১৯৯৫ (১৯৯৫ সনের ৪ নং আইন) এর অধীন গঠিত ব্যাটালিয়ন আনসার, আনসার ব্যাটালিয়ন নামে অভিহিত হইবে এবং উহা এমনভাবে বহাল থাকিবে যেন উহা এই আইনের অধীন গঠিত হইয়াছে।
(২) আনসার ব্যাটালিয়ন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ১৫২ অনুচ্ছেদের অধীন প্রদত্ত শৃঙ্খলা বাহিনী এর ব্যাখ্যা অনুযায়ী একটি শৃঙ্খলা বাহিনী হইবে।
(৩) আনসার ব্যাটালিয়নের নির্ধারিত প্রতীক (লোগো) এবং পতাকা থাকিবে।
Section ৫. আনসার ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তর ও দপ্তর
ঢাকায় আনসার ব্যাটালিয়নের একটি সদর দপ্তর থাকিবে এবং বিভাগীয় শহরে বা অন্য কোনো জেলায় রেঞ্জ সদর দপ্তর থাকিবে এবং প্রয়োজনে যে কোনো স্থানে আনসার ব্যাটালিয়নের দপ্তর স্থাপন করা যাইবে।
Section ৬. আনসার ব্যাটালিয়নের নিয়ন্ত্রণ, তত্ত্বাবধান ও পরিচালনা
(১) আনসার ব্যাটালিয়ন সরকারের সার্বিক নিয়ন্ত্রণ ও তত্ত্বাবধানে থাকিবে।
(২) মহাপরিচালক আনসার ব্যাটালিয়নের সুষ্ঠু পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে এই আইন, বিধি, প্রবিধান এবং সরকার কর্তৃক, সময় সময়, জারিকৃত নির্দেশনা সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আদেশ জারি করিতে পারিবেন।
Section ৭. আনসার ব্যাটালিয়নের দায়িত্ব ও কার্যাবলি
এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে আনসার ব্যাটালিয়নের দায়িত্ব ও কার্যাবলি হইবে নিম্নরূপ, যথা:-
Section ৮. ব্যাটালিয়ন সদস্যের এখতিয়ার ও ক্ষমতা
ধারা ৭ এ উল্লিখিত কার্যাবলি সম্পাদনকালে, কোনো ব্যাটালিয়ন সদস্য তাহার সম্মুখে সংঘটিত অপরাধের ক্ষেত্রে ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করিবে।
Section ৯. অস্ত্র ও গোলাবারুদ বহন
এই আইন, বিধি, প্রবিধান অথবা সরকার কর্তৃক, সময় সময়, প্রদত্ত নির্দেশনা সাপেক্ষে, ব্যাটালিয়ন সদস্য অস্ত্র ও গোলাবারুদ রাখিতে, বহন ও ব্যবহার করিতে পারিবে।
Section ১০. কর্তৃপক্ষের আদেশ পালনে বাধ্যবাধকতা
সকল ব্যাটালিয়ন সদস্য যথাযথ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রদত্ত আইনানুগ আদেশ পালন করিতে বাধ্য থাকিবেন।
Section ১১. মহাপরিচালক
(১) বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক পদাধিকারবলে আনসার ব্যাটালিয়নের মহাপরিচালক হইবেন।
(২) মহাপরিচালক, আনসার ব্যাটালিয়নকে, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, সময় সময়, নির্ধারিত সংখ্যক ব্যাটালিয়ন সদস্য সমন্বয়ে ব্যাটালিয়ন, কোম্পানি, প্লাটুন ও সেকশনে শ্রেণিবিন্যাস করিতে পারিবেন।
Section ১২. মহাপরিচালক কর্তৃক ক্ষমতা অর্পণ
মহাপরিচালক প্রয়োজনে, এই আইনের অধীন তাহার উপর অর্পিত যে কোনো ক্ষমতা বা দায়িত্ব, লিখিত আদেশ দ্বারা, তাহার অধিনস্থ যে কোনো ব্যাটালিয়ন সদস্যকে অর্পণ করিতে পারিবেন।
Section ১৩. আনসার ব্যাটালিয়নের সদস্য ও জনবল
আনসার ব্যাটালিয়ন, সরকার কর্তৃক অনুমোদিত সাংগঠনিক কাঠামো সাপেক্ষে, উহার কার্যাবলি সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের উদ্দেশ্যে তপশিল-১ এ উল্লিখিত পদসহ প্রয়োজনীয় সংখ্যক ব্যাটালিয়ন সদস্য নিয়োগ করিতে পারিবেন:
তবে শর্ত থাকে যে, ব্যাটালিয়ন সদস্য নিয়োগের পদ্ধতি ও চাকুরির শর্তাবলি বিধি বা, ক্ষেত্রমত, প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত হইবে:
আরও শর্ত থাকে যে, প্রবিধান প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত, মহাপরিচালক সন্তুষ্ট হইলে কোনো ব্যাটালিয়ন সদস্যের চাকুরি তাহার উক্ত চাকুরিতে যোগদানের তারিখ হইতে ২ (দুই) বৎসর (যাহা শিক্ষানবিশিকাল বলিয়া বিবেচিত হইবে) অতিক্রান্ত হইলে স্থায়ী করিতে পারিবে।
Section ১৪. সংগঠন, মিডিয়া, সংবাদপত্র বা ব্যবসায় অংশগ্রহণের সীমাবদ্ধতা
আনসার ব্যাটালিয়নের কোনো সদস্য-
তবে শর্ত থাকে যে, পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি বা আনসার ব্যাটালিয়নের স্বার্থে পেশাজীবী সংঘ বা সংগঠনের সদস্য হইতে পারিবেন;
Section ১৫. শৃঙ্খলা ও আচরণ
(১) সরকার, আনসার ব্যাটালিয়নের শৃঙ্খলা ও আচরণ সম্পর্কিত বিষয়ে সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে:
তবে শর্ত থাকে যে, শৃঙ্খলা ও আচরণ সংক্রান্ত কোনো বিধি প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত, উক্ত বিষয়ে সরকারি কর্মচারীর জন্য প্রযোজ্য বিধি-বিধান অনুসরণ করিতে হইবে।
(২) মহাপরিচালক এই আইন, বিধি, প্রবিধান ও সরকারের নির্দেশনা সাপেক্ষে, যদি থাকে, ব্যাটালিয়ন সদস্যের জন্য শৃঙ্খলা ও আচরণ সম্পর্কিত নির্দেশাবলি জারি করিতে পারিবেন।
Section ১৬. বিভাগীয় কার্যধারা
(১) ব্যাটালিয়ন সদস্য কর্তৃক নিম্নবর্ণিত কোনো আচরণ সংঘটিত হইলে তাহার বিরুদ্ধে বিভাগীয় কার্যধারা রুজু করা যাইবে, যথা:-
(জ)সরকারি বা ব্যাটালিয়ন সদস্যের সম্পত্তি চুরি, অসাধুভাবে আত্মসাৎ অথবা অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ করা;
(ঞ)প্রতারণার উদ্দেশ্যে অথবা কোনো ব্যক্তিকে অবৈধভাবে লাভবান বা ক্ষতিগ্রস্ত করিবার উদ্দেশ্যে কোনো কার্য সম্পাদন বা বিচ্যুতি সংঘটন করা;
(২) এই আইনের অধীন রুজুকৃত বিভাগীয় কার্যধারা বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে পরিচালিত হইবে:
তবে শর্ত থাকে যে, অনুরূপ বিধি প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপীল) বিধিমালা, ২০১৮ এ বর্ণিত পদ্ধতি অনুসরণ করিতে হইবে।
Section ১৭. বিভাগীয় কার্যধারায় আরোপযোগ্য দণ্ড
(১) বিভাগীয় কার্যধারায় দোষী সাব্যস্ত কোনো ব্যাটালিয়ন সদস্যকে নিম্নবর্ণিত যে কোনো গুরুদণ্ড প্রদান করা যাইবে, যথা:-
(২) বিভাগীয় কার্যধারায় দোষী সাব্যস্ত কোনো ব্যাটালিয়ন সদস্যকে নিম্নলিখিত এক বা একাধিক লঘুদণ্ড প্রদান করা যাইবে, যথা:-
(৩) মহাপরিচালক অথবা তদ্কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যাটালিয়ন সদস্য (অধিনায়কের নিম্নে নহে), তাহার অধীনস্থ যে কোনো ব্যাটালিয়ন সদস্যকে উপধারা (১) বা (২) এ উল্লিখিত যে কোনো এক বা একাধিক দণ্ড প্রদান করিতে পারিবেন।
(৪) আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ প্রদান না করিয়া কোনো ব্যাটালিয়ন সদস্যকে এই ধারার অধীন কোনো দণ্ড প্রদান করা যাইবে না।
Section ১৮. বিভাগীয় কার্যধারায় প্রদত্ত আদেশের বিরুদ্ধে আপিল
ধারা ১৭ এর অধীন প্রদত্ত দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আদেশ প্রদানের তারিখ হইতে ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে-
আপিল করা যাইবে এবং উক্ত আপিলে প্রদত্ত সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হইবে।
Section ১৯. আনসার ব্যাটালিয়ন আদালত গঠন
(১) ধারা ২০ এ বর্ণিত অপরাধের বিচার করিবার জন্য সংক্ষিপ্ত আনসার ব্যাটালিয়ন আদালত গঠন করা যাইবে এবং ধারা ২১ এ বর্ণিত অপরাধের বিচার করিবার জন্য বিশেষ আনসার ব্যাটালিয়ন আদালত গঠন করা যাইবে।
(২) মহাপরিচালক, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ১ (এক) জন উপ-মহাপরিচালক ও ২ (দুই) জন পরিচালকের সমন্বয়ে সংক্ষিপ্ত আনসার ব্যাটালিয়ন আদালত গঠন করিতে পারিবেন।
(৩) বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর উপ-মহাপরিচালক উপধারা (২) এ উল্লিখিত সংক্ষিপ্ত আনসার ব্যাটালিয়ন আদালতের সভাপতি হইবেন।
(৪) মহাপরিচালক, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, নিম্নবর্ণিত ৩ (তিন) জন সদস্য সমন্বয়ে বিশেষ আনসার ব্যাটালিয়ন আদালত গঠন করিতে পারিবেন, যথা:-
(৫) বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর অতিরিক্ত মহাপরিচালক উপধারা (৪) এ উল্লিখিত বিশেষ আনসার ব্যাটালিয়ন আদালতের সভাপতি হইবেন।
(৬) মহাপরিচালক, সরকারের পক্ষে মামলা দায়ের করিবার জন্য বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর একজন পরিচালককে আইন কর্মকর্তা হিসাবে নিয়োজিত করিতে পারিবেন।
(৭) মহাপরিচালক, অভিযুক্ত ব্যক্তির আবেদনের প্রেক্ষিতে, তাহার পক্ষে আইনানুগ প্রতিনিধি হিসাবে মামলা শুনানির জন্য বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর অন্যূন নবম গ্রেডের কোনো ব্যাটালিয়ন সদস্যকে দায়িত্ব প্রদান করিতে পারিবেন।
Section ২০. সংক্ষিপ্ত আনসার ব্যাটালিয়ন আদালতে বিচার্য অপরাধ ও দণ্ড
(১) কোনো ব্যাটালিয়ন সদস্য কর্তৃক নিম্নবর্ণিত কোনো কর্ম হইবে একটি অপরাধ, যাহা সংক্ষিপ্ত আনসার ব্যাটালিয়ন আদালত কর্তৃক বিচার্য হইবে, যথা:-
(২) উপধারা (১) এ বর্ণিত অপরাধ সংঘটনের ক্ষেত্রে নিম্নরূপ দণ্ড আরোপ করা যাইবে, যথা:-
Section ২১. বিশেষ আনসার ব্যাটালিয়ন আদালতে বিচার্য অপরাধ ও দণ্ড
(১) কোনো ব্যাটালিয়ন সদস্য কর্তৃক নিম্নবর্ণিত কোনো কর্ম হইবে একটি অপরাধ, যাহা বিশেষ আনসার ব্যাটালিয়ন আদালত কর্তৃক বিচার্য হইবে, যথা:-
(২) উপধারা (১) এ বর্ণিত অপরাধসমূহের জন্য নিম্নবর্ণিত যে কোনো দণ্ড আরোপ করা যাইবে, যথা:-
(৩) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড কার্যকর করিবার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির অনুমোদন গ্রহণ করিতে হইবে।
(৪) কোনো ব্যাটালিয়ন সদস্য ৯০ (নব্বই) দিনের অধিক কারাদণ্ডে দণ্ডিত হইলে তিনি স্বয়ংক্রিয়ভাবে চাকুরি হইতে বরখাস্ত হইবেন।
Section ২২. অপরাধ সংঘটনের সম্ভাবনার ক্ষেত্রে আটক
অধিনায়ক, কোম্পানি অধিনায়ক বা তৎকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যাটালিয়ন সদস্যের যদি কোনো ব্যাটালিয়ন সদস্য কর্তৃক ধারা ২১ এর উপ-ধারা (১) এ বর্ণিত কোনো অপরাধ সংঘটনের সম্ভাবনা রহিয়াছে মর্মে বিশ্বাস করিবার যুক্তিসংগত কারণ থাকে, তাহা হইলে তিনি উক্ত সদস্যকে অবিলম্বে আটক করিতে পারিবেন।
Section ২৩. দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপিল
(১) সংক্ষিপ্ত আনসার ব্যাটালিয়ন আদালতের যে কোনো দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে দণ্ডাদেশ প্রাপ্তির তারিখ হইতে ১৫ (পনের) কার্যদিবসের মধ্যে সংক্ষিপ্ত আনসার ব্যাটালিয়ন আপিল আদালতে আপিল দায়ের করা যাইবে|
(২) বিশেষ আনসার ব্যাটালিয়ন আদালতের যে কোনো দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে দণ্ডাদেশ প্রাপ্তির তারিখ হইতে ৩০ (ত্রিশ) কার্যদিবসের মধ্যে বিশেষ আনসার ব্যাটালিয়ন আপিল আদালতে আপিল দায়ের করা যাইবে|
Section ২৪. আনসার ব্যাটালিয়ন আপিল আদালত গঠন
(১) মহাপরিচালক, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, সময় সময়, নিম্নবর্ণিত ৩ (তিন) জন সদস্য সমন্বয়ে প্রয়োজনীয় সংখ্যক সংক্ষিপ্ত আনসার ব্যাটালিয়ন আপিল আদালত গঠন করিতে পারিবেন, যথা:-
(২) বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর অতিরিক্ত মহাপরিচালক সংক্ষিপ্ত আনসার ব্যাটালিয়ন আপিল আদালতের সভাপতি হইবেন|
(৩) সরকার, সরকারি গেজেট প্রজ্ঞাপন দ্বারা, সময় সময়, নিম্নবর্ণিত ৫ (পাঁচ) জন সদস্য সমন্বয়ে প্রয়োজনীয় সংখ্যক বিশেষ আনসার ব্যাটালিয়ন আপিল আদালত গঠন করিতে পারিবে, যথা:-
(৪) বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক বিশেষ আনসার ব্যাটালিয়ন আপিল আদালতের সভাপতি হইবেন|
(৫) সরকার, অভিযুক্ত ব্যক্তির আবেদনের প্রেক্ষিতে, আপিল শুনানির জন্য তাহার পক্ষে আইনানুগ প্রতিনিধি হিসাবে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর অন্যূন পরিচালক পদমর্যাদার কোনো ব্যাটালিয়ন সদস্যকে নিয়োজিত করিতে পারিবেন|
(৬) সংক্ষিপ্ত আনসার ব্যাটালিয়ন আদালত বা বিশেষ আনসার ব্যাটালিয়ন আদালতের রায় প্রদানকারী কোনো সদস্য আনসার ব্যাটালিয়ন আপিল আদালতের সদস্য হইতে পারিবেন না|
Section ২৫. আনসার ব্যাটালিয়ন আদালত ও বিচার পদ্ধতি
(১) এই আইনের বিধান অনুসারে গঠিত আদালত Code of Criminal Procedure, 1898 (Act No.V of 1898) এর অধীন গঠিত আদালত বলিয়া গণ্য হইবে|
(২) উপধারা (১) এর অধীন বর্ণিত আদালতের বিচার পদ্ধতি বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে:
তবে শর্ত থাকে যে, অনুরূপ বিধি প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত Code of Criminal Procedure, 1898 (Act No. V 1898) এর Chapter XXII অনুযায়ী সংক্ষিপ্ত বিচার পদ্ধতি, যতদূর সম্ভব, অনুসরণ করিতে হইবে|
Section ২৬. আদালতের এখতিয়ার বারিত
আনসার ব্যাটালিয়ন আদালতের কোনো কার্যধারা, রায়, আদেশ, আরোপিত দণ্ড বা সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অন্য কোনো আদালতে কোনো প্রশ্ন উত্থাপন করা যাইবে না:
তবে শর্ত থাকে যে, এই আইনের অধীন যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি কর্তৃক উক্তরূপ দণ্ডের ক্ষমা প্রার্থনা করিয়া আনসার ব্যাটালিয়ন আপিল আদালতের রায় বা আদেশ বা সিদ্ধান্ত ঘোষণার ১৫ (পনেরো) কার্যদিবসের মধ্যে যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির নিকট আবেদন দাখিল করা যাইবে|
Section ২৭. দণ্ড কার্যকরকরণ
(১) দণ্ডপ্রাপ্ত কোনো ব্যাটালিয়ন সদস্যের দণ্ড কার্যকরকরণের উদ্দেশ্যে উক্ত দণ্ডপ্রাপ্ত সদস্যকে দণ্ড প্রদানকারী আদালতের সভাপতি কর্তৃক তপশিল-২ অনুযায়ী পরোয়ানা স্বাক্ষরপূর্বক কারাগারে প্রেরণ করিতে হইবে|
(২) কোনো ব্যাটালিয়ন সদস্য এই আইনের অধীন দণ্ডপ্রাপ্ত হইলে দণ্ড প্রদানের তারিখ হইতে তিনি আনসার ব্যাটালিয়ন হইতে অপসারিত হইবেন|
(৩) এই আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইনের অধীন কৃত অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তি যদি সংবিধানের ১৫২ অনুচ্ছেদে প্রদত্ত শৃ্ঙ্খলা বাহিনী এর অর্থে অন্য কোনো শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য হিসাবে প্রেষণে নিয়োজিত থাকেন, তাহা হইলে তিনি তাহার নিজস্ব বাহিনীর আইন অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য হইবেন|
Section ২৮. ব্যাটালিয়ন সদস্য কর্তৃক সংঘটিত অন্যান্য অপরাধ
এই আইনে বর্ণিত অপরাধ ব্যতীত ব্যাটালিয়ন সদস্য কর্তৃক অন্য কোনো অপরাধ সংঘটিত হইলে উহার ক্ষেত্রে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে হইবে|
Section ২৯. পলাতক ব্যাটালিয়ন সদস্যের গ্রেপ্তার
কোনো ব্যাটালিয়ন সদস্য কর্মস্থল হইতে পলায়ন করিলে ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক তাহাকে গ্রেপ্তার করিয়া আনসার ব্যাটালিয়নে সোপর্দ করিবার জন্য উক্ত পলাতক সদস্যের স্থায়ী অথবা বর্তমান বাসস্থান যেই থানায় অবস্থিত সেই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে লিখিতভাবে অনুরোধ করিবেন এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উক্ত অনুরোধকে কোনো ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক জারিকৃত পরোয়ানা গণ্য করিয়া পলাতক ব্যাটালিয়ন সদস্যকে আনসার ব্যাটালিয়নে সোপর্দ করিবেন|
Section ৩০. বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা
এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে|
Section ৩১. প্রবিধান প্রণয়নের ক্ষমতা
এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, মহাপরিচালক, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, প্রবিধান প্রণয়ন করিতে পারিবেন|
Section ৩২. তপশিল সংশোধনের ক্ষমতা
এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, সরকার, সময় সময়, সরকারি গেজেট প্রজ্ঞাপন দ্বারা, তপশিল সংশোধন করিতে পারিবে|
Section ৩৩. রহিতকরণ ও হেফাজত
(১) ব্যাটালিয়ন আনসার আইন, ১৯৯৫ (১৯৯৫ সনের ৪ নং আইন), অতঃপর উক্ত আইন বলিয়া উল্লিখিত, এতদ্দ্বারা রহিত করা হইল|
(২) উক্ত আইনের অধীন ব্যাটালিয়ন আনসারের সকল সম্পদ, অধিকার, ক্ষমতা, কর্তৃত্ব, সুবিধা, তহবিল, নগদ ও ব্যাংকে গচ্ছিত অর্থ, দায়, স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি উক্ত সম্পত্তিতে যাবতীয় অধিকার ও স্বার্থ, সকল হিসাব বহি, রেজিস্টার, রেকর্ডপত্র এবং এতদ্সংক্রান্ত সকল দলিল এই আইনের অধীন গঠিত আনসার ব্যাটালিয়ন এর নিকট তৎক্ষণাৎ স্থানান্তরিত এবং ন্যস্ত বা অর্পিত হইবে|
(৩) উক্ত আইনের অধীন প্রণীত বিধি বা প্রবিধান, কোনো চুক্তি, আইনগত দলিল বা চাকুরির শর্তে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, ব্যাটালিয়ন আনসারের সকল কর্মচারী এই আইনের অধীন ব্যাটালিয়ন সদস্য হইবেন এবং এই আইন প্রবর্তনের অব্যবহিত পূর্বে তাহারা যে শর্তাধীনে চাকুরিতে নিয়োজিত রহিয়াছিলেন, এই আইনের বিধান অনুযায়ী পরিবর্তিত না হওয়া পর্যন্ত, সেই একই শর্তে আনসার ব্যাটালিয়নের চাকুরিতে নিয়োজিত থাকিবেন|
(৪) উক্ত আইনের অধীন ব্যাটালিয়ন আনসারের সকল দায় ও দায়িত্ব এবং উহার দ্বারা, উহার পক্ষে, বা উহার সহিত সম্পাদিত সকল চুক্তি যথাক্রমে এই আইনের অধীন আনসার ব্যাটালিয়নের দায় ও দায়িত্ব এবং উহার দ্বারা, উহার পক্ষে বা সহিত সম্পাদিত চুক্তি বলিয়া গণ্য হইবে|
(৫) উক্ত আইনের অধীন প্রণীত সকল বিধি, প্রবিধান বা আদেশ যাহা উক্ত আইন রহিত হওয়ার অব্যবহিত পূর্ব পর্যন্ত কার্যকর ছিল উহা এই আইনের অধীন প্রণীত বিধি, প্রবিধান বা আদেশ দ্বারা রহিত বা সংশোধন না হওয়া পর্যন্ত প্রয়োজনীয় অভিযোজনসহ, যতদূর পর্যন্ত এই আইনের বিধানাবলির পরিপন্থি না হয় ততদূর পর্যন্ত, কার্যকর থাকিবে|
(৬) উক্ত আইনের অধীন কৃত কোনো কর্ম বা জারিকৃত কোনো আদেশ, বিভাগীয় কার্যধারা, বাহিনীর কোনো সদস্যের উপর গৃহীত কোনো শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা বা ব্যাটালিয়ন আদালতের কার্যধারা, এই আইনের বিধানাবলির সহিত সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া সাপেক্ষে, এই আইনের অধীন রহিত বা সংশোধিত না হওয়া পর্যন্ত বলবৎ থাকিবে এবং এই আইনের অধীন কৃত, জারিকৃত ও গৃহীত কার্যধারা বলিয়া গণ্য হইবে|
(৭) উক্ত আইনের অধীন কোনো ব্যাটালিয়ন সদস্যের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত কোনো মামলা বা আইনগত কার্যধারা কোনো আদালত বা কর্তৃপক্ষের নিকট চলমান থাকিলে উহা এমনভাবে নিষ্পত্তি করিতে হইবে যেন উক্ত আইন রহিত হয় নাই|
Section ৩৪. ইংরেজিতে অনূদিত পাঠ প্রকাশ
(১) এই আইন প্রবর্তনের পর সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইনের বাংলা পাঠের ইংরেজিতে অনূদিত একটি নির্ভরযোগ্য পাঠ (authentic english text) প্রকাশ করিতে পারিবে|
(২) বাংলা ও ইংরেজি পাঠের মধ্যে বিরোধের ক্ষেত্রে বাংলা পাঠ প্রাধান্য পাইবে|