জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহিদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের কল্যাণ ও পুনর্বাসনসহ গণঅভ্যুত্থানের মর্ম ও আদর্শকে রাষ্ট্রীয় ও জাতীয় জীবনে সুপ্রতিষ্ঠিত করা এবং ইতিহাস সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে প্রণীত অধ্যাদেশ যেহেতু তদানীন্তন পাকিস্তান সরকারের বর্ণবাদী, নিপীড়নমূলক ও বৈষম্যমূলক নীতি এবং বাংলাদেশের জনগণকে নির্বিচারে গণহত্যার কারণে মুক্তিযুদ্ধ অনিবার্য হইয়া উঠে; এবং যেহেতু ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দে সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বাংলাদেশের জনগণ সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করিয়া লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করিয়াছে; এবং যেহেতু জনগণের অব্যাহত সংগ্রাম ও ত্যাগ তিতিক্ষা সত্ত্বেও স্বাধীনতার অর্ধশতাব্দী পরও সুবিচার, মর্যাদাপূর্ণ গণতান্ত্রিক ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গঠনের কাঙ্খিত লক্ষ্য অর্জিত হয় নাই; এবং যেহেতু জানুয়ারি ২০০৯ খ্রিষ্টাব্দ হইতে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে দলীয়করণ, দুর্নীতি ও পরিবারতন্ত্র প্রতিষ্ঠার ফলে রাষ্ট্রের সকল প্রতিষ্ঠান অকার্যকর হইয়াছে; অন্যায়ভাবে শক্তি প্রয়োগ করিয়া বিরোধীমত দমন, গুম ও বিচার বহির্ভূত হত্যা সংঘটিত হইয়াছে; দেশের অর্থ পাচার ও লুটপাট নীতির ফলে অর্থনৈতিক বৈষম্য সৃষ্টি হইয়াছে; নারী ও সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী কাঠামোগত সহিংসতার শিকার হইয়াছেন এবং জনগণের বাকস্বাধীনতা ও ভোটাধিকার হরণ করিয়া জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব বিপন্ন করিবার সৃষ্ট প্রেক্ষাপট জনগণকে শঙ্কিত করিয়াছে; এবং যেহেতু জুলাই ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্বে দল-মত-ধর্ম-বর্ণ-নারী-পুরুষ নির্বিশেষে আপামর জনতার দীর্ঘ পনেরো বৎসরের ফ্যাসিবাদ ও বিচারহীনতার ফলে পুঞ্জীভূত ক্ষোভ এক দুর্দম গণআন্দোলন হইতে ক্রমান্বয়ে গণঅভ্যুত্থানে রূপ লাভ করিয়া ০৫ আগস্ট, ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দে ফ্যাসিবাদী শাসককে জনগণের কাছে পরাজিত হইয়া দেশ ছাড়িয়া পলায়নে বাধ্য করিয়াছে; এবং যেহেতু উক্ত গণঅভ্যুত্থানে ব্যাপক সংখ্যক নারী ও পুরুষ অংশগ্রহণ করিয়াছেন এবং দেশব্যাপী সহস্রাধিক নিরস্ত্র দেশপ্রেমিক ছাত্রজনতা শহিদ হইয়াছেন, অগণিত মানুষ অতি গুরুতর আহত বা গুরুতর আহত বা আহত হইয়াছেন এবং অধিকাংশই আঘাত ও নৃশংসতার বিভীষিকায় পর্যুদস্ত এবং তাঁহাদের এই আত্মত্যাগকে যথার্থ সম্মান প্রদর্শন অপরিহার্য এবং এহেন ত্যাগের দৃষ্টান্ত জাতির গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও রাষ্ট্র পুনর্গঠনের একটি গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় হিসাবে সমুন্নত রাখা কর্তব্য; এবং যেহেতু গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহিদ ও আহত জুলাই যোদ্ধাদের যথোপযুক্ত স্বীকৃতি, সম্মান, কল্যাণ ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ; এবং যেহেতু জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহিদ পরিবার ও আহত জুলাই যোদ্ধাদের কল্যাণ সাধন ও পুনর্বাসনের উদ্দেশ্যে বিধান প্রণয়ন করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়; এবং যেহেতু সংসদ ভাঙ্গিয়া যাওয়া অবস্থায় রহিয়াছে এবং রাষ্ট্রপতির নিকট ইহা সন্তোষজনকভাবে প্রতীয়মান হইয়াছে যে, আশু ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় পরিস্থিতি বিদ্যমান রহিয়াছে; সেহেতু গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৯৩(১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি নিম্নরূপ অধ্যাদেশ প্রণয়ন ও জারি করিলেন:-
(১) এই অধ্যাদেশ ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহিদ পরিবার এবং জুলাই যোদ্ধাদের কল্যাণ ও পুনর্বাসন অধ্যাদেশ, ২০২৫’ নামে অভিহিত হইবে।
(২) ইহা অবিলম্বে কার্যকর হইবে।
বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থি কোনো কিছু না থাকিলে, এই অধ্যাদেশে-
(১) শিক্ষা বা কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি; বা
(২) তাঁহার দক্ষতা ও অভিজ্ঞতাভিত্তিক উপার্জনমুখী কাজের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা; বা
(৩) যোগ্যতা অনুযায়ী কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা; বা
(৪) আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে সহজ শর্তে ঋণ বা অনুরূপ সুবিধাদি প্রদান; বা
(৫) প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহায়তা প্রদান;
আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইন বা অধ্যাদেশ বা কোনো আইনগত বা প্রশাসনিক দলিলে ভিন্নতর যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই অধ্যাদেশের বিধানাবলি প্রাধান্য পাইবে।
এই অধ্যাদেশের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহিদ পরিবার এবং জুলাই যোদ্ধাদের কল্যাণ সাধন ও পুনর্বাসনের নিমিত্ত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ১০ বৈশাখ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ মোতাবেক ২৩ এপ্রিল ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দ তারিখের প্রজ্ঞাপন নং ৪৮.০০.০০০০.০০১.৩৮. ০০৪.২০২৫.১৯২ দ্বারা মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন প্রতিষ্ঠিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান অধিদপ্তর’ এমনভাবে বহাল থাকিবে যেন উহা এই অধ্যাদেশের অধীন প্রতিষ্ঠিত হইয়াছে।
(১) অধিদপ্তরের জন্য সরকার কর্তৃক অনুমোদিত একটি সিলমোহর থাকিবে।
(২) উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত সিলমোহরের নকশা বা আকার, প্রকৃতি ও বিবরণ সরকার কর্তৃক নির্ধারিত হইবে এবং উহা সরকার কর্তৃক নির্দেশিত স্থান ও পদ্ধতিতে ব্যবহার করা যাইবে।
(৩) অধিদপ্তরের সিলমোহর মহাপরিচালকের হেফাজতে থাকিবে এবং তাঁহার উপস্থিতি ব্যতিরেকে কোনো দলিলে উক্ত সিলমোহর ব্যবহার করা যাইবে না এবং তাঁহার উপস্থিতির প্রতীক হিসাবে তিনি সিলযুক্ত দলিলে স্বাক্ষর করিবেন।
(১) অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয় ঢাকায় অবস্থিত হইবে।
(২) সরকার, প্রয়োজনে, ঢাকার বাহিরে বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে অধিদপ্তরের শাখা কার্যালয় প্রতিষ্ঠা করিতে পারিবে।
এই অধ্যাদেশের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, অধিদপ্তর নিম্নবর্ণিত কার্যাবলি সম্পাদন করিতে পারিবে, যথা:-
(১) অধিদপ্তরের একজন মহাপরিচালক থাকিবেন এবং তিনি অধিদপ্তরের প্রধান নির্বাহী হইবেন।
(২) মহাপরিচালক সরকার কর্তৃক বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে নিযুক্ত হইবেন।
অধিদপ্তরের কার্যাবলি সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের উদ্দেশ্যে, সরকার কর্তৃক অনুমোদিত সাংগঠনিক কাঠামো অনুযায়ী অধিদপ্তরের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক কর্মচারী থাকিবে এবং তাহাদের নিয়োগ ও চাকরির অন্যান্য শর্তাদি বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে:
তবে শর্ত থাকে যে, উক্ত বিধি প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত কর্মচারীদের বেতন, ভাতা ও চাকরির অন্যান্য শর্তাদি সরকার কর্তৃক নির্ধারিত হইবে।
(১) সরকার, ০১ মাঘ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ মোতাবেক ১৫ জানুয়ারি ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দ তারিখের প্রজ্ঞাপন নং ৪৮.০০.০০০০.০০৪.৩৭.২৪৩.২০২৫.০৩ দ্বারা সরকারি গেজেটে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যে ৮৩৪ (আটশত চৌত্রিশ) জন শহিদের তালিকা প্রকাশ করিয়াছে উহা এই অধ্যাদেশের অধীন প্রণীত ও প্রকাশিত হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে।
(২) সরকার, প্রয়োজনে, উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহিদের তালিকা, সময় সময়, সংশোধন ও হালনাগাদ আকারে প্রকাশ করিতে পারিবে।
(১) সরকার, ১৪ ফাল্গুন ১৪৩১ বঙ্গাব্দ মোতাবেক ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দ তারিখের প্রজ্ঞাপন নং ৪৮.০০.০০০০.০০৪.৩৭.০০২.২০২৫.২৫ দ্বারা সরকারি গেজেটে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে “ক” শ্রেণিভুক্ত যে ৪৯৩ (চারশত তিরানব্বই) জন ‘অতি গুরুতর আহত’ জুলাই যোদ্ধার তালিকা প্রকাশ করিয়াছে উহা এই অধ্যাদেশের অধীন প্রণীত ও প্রকাশিত হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে।
(২) সরকার, ১৪ ফাল্গুন ১৪৩১ বঙ্গাব্দ মোতাবেক ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দ তারিখের প্রজ্ঞাপন নং ৪৮.০০.০০০০.০০৪.৩৭.০০২.২০২৫.২৬ দ্বারা সরকারি গেজেটে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে “খ” শ্রেণিভুক্ত যে ৯০৮ (নয়শত আট) জন ‘গুরুতর আহত’ জুলাই যোদ্ধার তালিকা প্রকাশ করিয়াছে উহা এই অধ্যাদেশের অধীন প্রণীত ও প্রকাশিত হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে।
(৩) সরকার নিম্নবর্ণিত সরকারি গেজেট দ্বারা দেশের বিভিন্ন স্থানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে “গ” শ্রেণিভুক্ত যে ১০৬৪২ (দশ হাজার ছয়শত বিয়াল্লিশ) জন ‘আহত’ জুলাই যোদ্ধার তালিকা প্রকাশ করিয়াছে উহা এই অধ্যাদেশের অধীন প্রণীত ও প্রকাশিত হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে, যথা:-
(৪) সরকার, প্রয়োজনে, উপ-ধারা (১), (২) ও (৩) এ উল্লিখিত সরকারি গেজেটে প্রকাশিত আহত জুলাই যোদ্ধাদের তালিকা, সময় সময়, সংশোধন ও হালনাগাদ আকারে প্রকাশ করিতে পারিবে।
(১) জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে তৎকালীন সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা উক্ত সময়ে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের সদস্যদের আক্রমণে আহত জুলাই যোদ্ধাগণ, আহত হইবার ধরন অনুযায়ী, নিম্নবর্ণিত ৩ (তিন) টি শ্রেণিতে শ্রেণিভুক্ত হইবেন, যথা:-
| ক্রমিক নং | শ্রেণি | আহতের ধরন | আহতের ধরন ভিত্তিক বিবরণ |
| (১) | (২) | (৩) | (৪) |
| ১। | শ্রেণি- “ক” | অতি গুরুতর আহত | নিম্নবর্ণিত জুলাই যোদ্ধাগণ অতি গুরুতর আহত বলিয়া বিবেচিত হইবেন, যথা:- (ক) ন্যূনতম এক চোখ বা হাত বা পা ক্ষতিগ্রস্ত হইয়া স্বাধীনভাবে জীবনযাপনের অনুপযোগী; (খ) সম্পূর্ণ দৃষ্টিহীন; (গ) সম্পূর্ণভাবে মানসিক বিকারগ্রস্ত; (ঘ) অঙ্গহানি; এবং (ঙ) গুরুতর আহত হইয়া দৈনন্দিন জীবিকা নির্বাহের জন্য কাজ করিতে অক্ষম; |
| ২। | শ্রেণি- “খ” | গুরুতর আহত | আংশিক দৃষ্টিহীন, মস্তিষ্কে গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত বা অনুরূপ আহত ব্যক্তি; এবং |
| ৩। | শ্রেণি- “গ” | আহত | যাঁহারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শ্রবণশক্তি বা দৃষ্টিশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত, গুলিতে আহত বা অনুরূপভাবে আহত হইয়া হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণ করিয়াছেন এবং পরবর্তীতে স্বাভাবিক কাজকর্ম করিতে সক্ষম হইয়াছেন। |
(২) জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সকল সরকারি হাসপাতাল বা ক্লিনিক বা স্বাস্থ্য কেন্দ্র, মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং সরকার কর্তৃক নির্ধারিত বিশেষায়িত হাসপাতালসমূহ সকল শ্রেণির আহত জুলাই যোদ্ধাদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদান করিবে।
(৩) অধিদপ্তর অতি গুরুতর আহত জুলাই যোদ্ধাদের দেশে ও বিদেশে উন্নত চিকিৎসা প্রদানের নিমিত্ত স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকগণ কর্তৃক গঠিত মেডিকেল বোর্ডের সুপারিশ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করিবে।
(৪) এই ধারায় উল্লিখিত সকল শ্রেণির আহত জুলাই যোদ্ধাদের চিকিৎসা সংক্রান্ত যাবতীয় ব্যয় সরকার কর্তৃক বহন করা হইবে।
(১) জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহিদ পরিবারের সদস্য এবং সকল শ্রেণির আহত জুলাই যোদ্ধা বিধি দ্বারা নির্ধারিত হারে এককালীন ও মাসিক আর্থিক সহায়তা পাইবার অধিকারী হইবেন।
(২) জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহিদ পরিবারের সদস্য এবং আহত জুলাই যোদ্ধাদের পুনর্বাসন বা অনুরূপ বিষয়াদি বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে।
(১) অধিদপ্তর জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস ও স্মৃতি সংরক্ষণের জন্য গবেষণা কার্যক্রম গ্রহণ, শহিদদের গণকবর ও সমাধি সংরক্ষণ এবং স্মৃতিফলক স্থাপন করিতে পারিবে।
(২) অধিদপ্তর, জুলাই গণঅভ্যুত্থান সংক্রান্ত অপপ্রচার রোধকল্পে, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মর্ম, ইতিহাস, আদর্শ ও চেতনা দেশে ও বিদেশে প্রচার করিবার লক্ষ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগের সহিত সমন্বয় সাধন ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে পারিবে।
(১) যদি কোনো ব্যক্তি জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহিদ পরিবারের সদস্য বা যে কোনো শ্রেণির আহত জুলাই যোদ্ধা না হওয়া সত্ত্বেও উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে বা জ্ঞাতসারে কোনো মিথ্যা বা বিকৃত তথ্য প্রদান বা তথ্য গোপন করিয়া বা বিভ্রান্তিকর কাগজাদি দাখিল করিয়া নিজেকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহিদ পরিবারের সদস্য বা আহত জুলাই যোদ্ধা দাবি করিয়া এই অধ্যাদেশ বা তদ্ধীন প্রণীত বিধি বা আদেশ বা নির্দেশের অধীনে কোনো চিকিৎসা সুবিধা বা আর্থিক সহায়তা বা পুনর্বাসন সুবিধা দাবি করেন বা গ্রহণ করেন তাহা হইলে তিনি এই অধ্যাদেশের অধীন অপরাধ করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবেন।
(২) কোনো ব্যক্তি উপ-ধারা (১) এ বর্ণিত অপরাধ সংঘটন করিলে তিনি অনধিক ২ (দুই) বৎসরের কারাদণ্ড এবং অনধিক ২ (দুই) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড বা উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত গৃহীত সুবিধা বা আর্থিক সহায়তার দ্বিগুণ পরিমাণ অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
এই আইনের অধীন অপরাধ অ-আমলযোগ্য (non-cognizable) ও জামিনযোগ্য (bailable) হইবে।
এই অধ্যাদেশের অধীন সংঘটিত অপরাধের অভিযোগ দায়ের, অনুসন্ধান, তদন্ত, বিচার, আপিল এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়ে Code of Criminal Procedure, 1898 (Act No. V of 1898) এর বিধানাবলি প্রযোজ্য হইবে।
(১) অধিদপ্তরের একটি তহবিল থাকিবে যাহা ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহিদ এবং জুলাই যোদ্ধা কল্যাণ ও পুনর্বাসন তহবিল’ নামে অভিহিত হইবে এবং উক্ত তহবিলে নিম্নবর্ণিত অর্থ জমা হইবে, যথা:-
(২) তহবিলের অর্থ নিম্নবর্ণিত উদ্দেশ্যে ব্যয় করা যাইবে, যথা:-
(৩) ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহিদ এবং জুলাই যোদ্ধা কল্যাণ ও পুনর্বাসন তহবিল’ নামে কোনো তফসিলি ব্যাংকে একটি হিসাব থাকিবে এবং ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহিদ এবং জুলাই যোদ্ধা কল্যাণ ও পুনর্বাসন তহবিল’ এর সমুদয় অর্থ উক্ত হিসাবে জমা হইবে।
(৪) এই ধারায় উল্লিখিত তহবিলের ব্যাংক হিসাব বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে পরিচালিত হইবে, তবে বিধি প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত সরকার কর্তৃক প্রদত্ত আদেশ বা নির্দেশনা অনুযায়ী উক্ত তহবিল পরিচালনা করা যাইবে।
(৫) তহবিল বা উহার অংশবিশেষ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত খাতে বিনিয়োগ করা যাইবে।
ব্যাখ্যা।- “তফসিলি ব্যাংক” অর্থ Bangladesh Bank Order, 1972(President’s Order No.127 of 1972) এর Article 2 এর clause (j) এ সংজ্ঞায়িত “Scheduled Bank”।
(১) সরকার কর্তৃক নির্দেশিত পদ্ধতিতে অধিদপ্তর উহার আয়-ব্যয়ের যথাযথ হিসাবরক্ষণ করিবে এবং হিসাবের বার্ষিক বিবরণী প্রস্তুত করিবে।
(২) বাংলাদেশের মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, অতঃপর মহা হিসাব-নিরীক্ষক নামে অভিহিত, প্রতি বৎসর অধিদপ্তরের হিসাব নিরীক্ষা করিবেন এবং নিরীক্ষা প্রতিবেদনের একটি করিয়া অনুলিপি অধিদপ্তর ও সরকারের নিকট প্রেরণ করিবেন।
(৩) উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত নিরীক্ষা প্রতিবেদনের উপর কোনো আপত্তি উত্থাপিত হইলে উহা নিষ্পত্তির জন্য অধিদপ্তর অবিলম্বে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করিবে।
(৪) উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত নিরীক্ষা ছাড়াও Bangladesh Chartered Accountants Order, 1973(President's Order No. 2 of 1973) এর Article 2 (1) (b) তে সংজ্ঞায়িত “chartered accountant” দ্বারা অধিদপ্তরের হিসাব নিরীক্ষা করা যাইবে এবং এতদুদ্দেশ্যে অধিদপ্তর এক বা একাধিক “chartered accountant” নিয়োগ করিতে পারিবে।
(৫) অধিদপ্তরের হিসাব নিরীক্ষার উদ্দেশ্যে মহা হিসাব-নিরীক্ষক কিংবা তাহার নিকট হইতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি অথবা উপ-ধারা (৪) এর অধীন নিয়োগপ্রাপ্ত “chartered accountant” অধিদপ্তরের সকল রেকর্ড, দলিলাদি, তহবিল, বার্ষিক ব্যালেন্স সিট, নগদ বা ব্যাংকে গচ্ছিত অর্থ, জামানত, ভান্ডার বা অন্যবিধ সম্পত্তি, ইত্যাদি পরীক্ষা করিয়া দেখিতে পারিবেন এবং মহাপরিচালক বা অধিদপ্তরের যে কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করিতে পারিবেন।
(১) অধিদপ্তর এই অধ্যাদেশের অধীন কোনো কার্যসম্পাদন, ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন এবং তদ্কর্তৃক প্রদেয় বিভিন্ন সেবা প্রদানের প্রক্রিয়া ও কার্যক্রম সম্পাদনের ক্ষেত্রে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিসহ আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার করিতে পারিবে।
(২) উপ-ধারা (১) এর উদ্দেশ্য পূরণকল্পে সরকার অধিদপ্তরকে প্রয়োজনীয় আর্থিক ও কারিগরি সহায়তাসহ অন্যান্য সহায়তা প্রদান করিবে।
প্রতি অর্থ বৎসর সমাপ্তির ৯০ (নব্বই) দিনের মধ্যে অধিদপ্তর তৎকর্তৃক পূর্ববর্তী অর্থ বৎসরে সম্পাদিত কার্যাবলি সম্পর্কিত একটি প্রতিবেদন সরকারের নিকট পেশ করিবে।
এই অধ্যাদেশের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, সরকার প্রয়োজনে, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে।
এই অধ্যাদেশের কোনো বিধান কার্যকর করিবার ক্ষেত্রে কোনো অসুবিধার উদ্ভব হইলে বা কোনো বিষয়ে ব্যাখ্যা প্রদান আবশ্যক হইলে, উক্তরূপ অসুবিধা দূরীকরণ বা ব্যাখ্যার উদ্দেশ্যে, সরকার, এই অধ্যাদেশের অন্যান্য বিধানের সহিত সামঞ্জস্য রক্ষা করিয়া, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, উক্ত বিধানের স্পষ্টীকরণ বা ব্যাখ্যা প্রদানপূর্বক উক্ত বিষয়ে করণীয় সম্পর্কে সাধারণ বা বিশেষ আদেশ দ্বারা প্রয়োজনীয় দিক-নির্দেশনা প্রদান করিতে পারিবে।
(১) এই অধ্যাদেশ কার্যকর হইবার পর সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই অধ্যাদেশের ইংরেজিতে অনূদিত একটি নির্ভরযোগ্য পাঠ (Authentic English Text) প্রকাশ করিতে পারিবে।
(২) বাংলা ও ইংরেজি পাঠের মধ্যে বিরোধের ক্ষেত্রে বাংলা পাঠ প্রাধান্য পাইবে।
(১) এই অধ্যাদেশ কার্যকর হইবার সাথে সাথে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহিদ পরিবার ও আহত জুলাই যোদ্ধাদের কল্যাণ সাধনের লক্ষ্যে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ১১ কার্তিক ১৪৩১ বঙ্গাব্দ মোতাবেক ২৭ অক্টোবর ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দ তারিখের প্রজ্ঞাপন নং ০৪.০০.০০০০.৭১২.৯৯.০১৫.২১.১২৬ দ্বারা গঠিত ‘গণঅভ্যুত্থান সংক্রান্ত বিশেষ সেল’, অতঃপর বিলুপ্ত সেল বলিয়া অভিহিত, বিলুপ্ত হইবে।
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন বিলুপ্তি সত্ত্বেও-
(৩) এই অধ্যাদেশ প্রণয়নের পূর্বে সরকার বা সংশ্লিষ্ট অন্যান্য মন্ত্রণালয় বা বিভাগ কর্তৃক এই অধ্যাদেশের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহিদ পরিবার ও সকল শ্রেণির আহত জুলাই যোদ্ধাদের কল্যাণ সাধন ও পুনর্বাসনের লক্ষ্যে চিকিৎসা সুবিধা বা চিকিৎসার জন্য বিশেষ আর্থিক সহায়তা বা আর্থিক সহায়তা বা পুনর্বাসন বা অনুরূপ বিষয়ে যে সকল প্রজ্ঞাপন বা আদেশ বা নির্দেশ জারি করিয়াছে অথবা যে সকল কার্যক্রম গৃহীত বা সম্পাদিত হইয়াছে তাহা এই অধ্যাদেশের অধীন জারীকৃত বা গৃহীত বা সম্পাদিত হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে।