জাতীয় উপাত্ত ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ, ২০২৫
জাতীয় উপাত্ত ব্যবস্থাপনা এবং ইহার সহিত সম্পর্কিত ও আনুষঙ্গিক বিষয়ে বিধান প্রণয়নকল্পে প্রণীত অধ্যাদেশ
জাতীয় উপাত্ত ব্যবস্থাপনা এবং ইহার সহিত সম্পর্কিত ও আনুষঙ্গিক বিষয়ে বিধান প্রণয়নকল্পে প্রণীত অধ্যাদেশ যেহেতু বৈশ্বিক ক্রমবিকাশমান প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতার সহিত সামঞ্জস্য বিধান করিয়া ও নাগরিক সেবার সহজ প্রাপ্তি নিশ্চিত করিতে জাতীয় উপাত্ত ব্যবস্থাপনা ও আন্তঃপরিচালনের নীতিগত ও প্রযুক্তিগত কাঠামো প্রয়োজন; এবং যেহেতু ব্যক্তিগত উপাত্তের সম্মতিভিত্তিক ও বৈধ সংগ্রহ, প্রক্রিয়াকরণ, মজুত, সংরক্ষণ, স্থানান্তর, শনাক্তকরণ ও হালনাগাদকরণের সার্বিক ব্যবস্থাপনা, উপাত্তের নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা রক্ষা এবং উদ্দেশ্যের নিরিখে উক্ত উপাত্তের আইনসম্মত ব্যবহার নিশ্চিত করা প্রয়োজন এবং দায়িত্ব পালনে আইনি বিধানের লঙ্ঘন বা বিচ্যুতির ক্ষেত্রে যথোপযুক্ত প্রতিকার নিশ্চিতকরণার্থে সুনির্দিষ্ট আইনি বিধান থাকা বাঞ্ছনীয়; এবং যেহেতু সরকারি-বেসরকারি, দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার মাঝে আইনানুগভাবে ব্যক্তিগত উপাত্ত বা অন্য কোনো উপাত্তের আন্তঃপরিচালন নিশ্চিত এবং উপাত্ত ব্যবহারের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠা করা অত্যাবশ্যক; এবং যেহেতু এই সংক্রান্ত একটি সংবিধিবদ্ধ কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা করা এবং উপরিউক্ত উদ্দেশ্যসমূহ সাধনে সংশ্লিষ্ট সকলের ঐক্যবদ্ধ সমন্বয় নিশ্চিত করা বিধেয়; এবং যেহেতু সংসদ ভাঙ্গিয়া যাওয়া অবস্থায় রহিয়াছে এবং রাষ্ট্রপতির নিকট ইহা সন্তোষজনকভাবে প্রতীয়মান হইয়াছে যে, আশু ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় পরিস্থিতি বিদ্যমান রহিয়াছে; সেহেতু গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৯৩(১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি নিম্নরূপ অধ্যাদেশ প্রণয়ন ও জারি করিলেন:-
Section ১. সংক্ষিপ্ত শিরোনাম, প্রবর্তন ও প্রয়োগ
(১) এই অধ্যাদেশ জাতীয় উপাত্ত ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ, ২০২৫ নামে অভিহিত হইবে।
(২) এই অধ্যাদেশ অবিলম্বে কার্যকর হইবে।
(৩) এই অধ্যাদেশ নিম্নবর্ণিত ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে, যথা:-
Section ২. সংজ্ঞা
বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থী কোনো কিছু না থাকিলে, এই অধ্যাদেশে-
(১) “আন্তঃপরিচালন (interoperability)” অর্থ সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন তথ্য-ব্যবস্থা ও সেবার মধ্যে এমন একটি সমন্বয়মূলক সক্ষমতা, যাহার মাধ্যমে উপাত্ত ও সেবা প্রযুক্তিগত (technological), অর্থগত (semantic), আইনি (legal) ও সাংগঠনিক (organizational) স্তরে নিরাপদ, প্রমিত ও অর্থপূর্ণভাবে বিনিময় ও ব্যবহারযোগ্য হয় এবং জনসেবামূলক উপাত্ত ব্যবস্থাপনা ও আন্তঃপরিচালন ব্যবস্থাপনার অধীন সকল প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমকে সমন্বিত, দক্ষ ও আইনসম্মতভাবে পরিচালিত করিবার উদ্দেশ্যে প্রযোজ্য;
(২) “অ্যাপ্লিকেশন (application)” অর্থ এমন কোনো ধরনের নির্দেশনা বা নির্দেশনার সমষ্টি যাহা কোনো কম্পিউটার সিস্টেমে পরিচালনা করা হইলে উক্ত সিস্টেম কম্পিউটারের কার্যসমূহ পরিচালনা করে, এবং উক্ত উদ্দেশ্যে কম্পিউটারের সিস্টেমে কার্যকর অপসারণযোগ্য মাধ্যমসমূহ দ্বারা সম্পন্ন নির্দেশাবলিসহ কম্পিউটারের সিস্টেমের ডাটাবেস-প্রোগ্রাম, ওয়ার্ড প্রসেসর, ওয়েব ব্রাউজার, স্প্রেডশিট, উন্নয়ন সরঞ্জাম, অঙ্কন, রং, ইহার ইমেজ এডিটিং প্রোগ্রাম, যোগাযোগ প্রোগ্রাম, ইত্যাদিও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে;
(৩) “উপাত্ত (data)” অর্থ ইলেকট্রনিক, অডিও, ভিজ্যুয়াল, লিখিত বা অন্য কোনো ডিজিটাল আকারে সংরক্ষিত যেকোনো তথ্য, রেকর্ড বা লগ;
(৪) “উপাত্তধারী (data-subject)” অর্থ ব্যক্তিগত উপাত্ত সংশ্লিষ্ট কোনো স্বাভাবিক ব্যক্তি যিনি শনাক্ত বা শনাক্তযোগ্য কিংবা জীবিত বা মৃত যাহাই হউক না কেন;
(৫) “উপাত্ত চ্যুতি (data breach)” অর্থ উপাত্তের নিরাপত্তার চ্যুতি যাহার ফলে কোনো উপাত্তে অননুমোদিতভাবে প্রবেশ বা বেআইনিভাবে স্থানান্তর, প্রকাশ, পরিবর্তন বা যথাযথ প্রক্রিয়া ও সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের অনুপস্থিতিতে সংঘটিত দুর্ঘটনা, বিনষ্ট, ক্ষতি, অনুপ্রবেশের সুযোগ বিদ্যমান থাকে;
(৬) “উপাত্ত-জিম্মাদার (data-fiduciary)” অর্থ কোনো ব্যক্তি যিনি, একক বা যৌথভাবে, কোনো সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে, কার্যসম্পাদনের আইনগত ভিত্তির উপস্থিতি সাপেক্ষে বা যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে, কোনো ব্যক্তিগত উপাত্ত প্রক্রিয়া করেন বা উক্ত উদ্দেশ্যে উহা তত্ত্বাবধান করেন বা ব্যক্তিগত উপাত্ত প্রক্রিয়াকরণের উদ্দেশ্যে অন্য কোনো ব্যক্তিকে ক্ষমতা প্রদান করেন;
(৭) “এপিআই (application programming interface)” অর্থ একটি মান পদ্ধতি, যাহা দ্বারা এক বা একাধিক সফটওয়্যারের উপাদানসমূহ উপাত্ত আদানপ্রদান বা প্রক্রিয়াকরণ করিতে পারে;
(৮) “কর্তৃপক্ষ” অর্থ ধারা ৮ এর অধীন প্রতিষ্ঠিত জাতীয় উপাত্ত ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ;
(৯) “কম্পিউটার” অর্থ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন, ২০০৬ (২০০৬ সালের ৩৯ নং আইন) এর ধারা ২(১৩) এ সংজ্ঞায়িত কম্পিউটার;
(১০) “গুরুত্বপূর্ণ উপাত্ত-জিম্মাদার (significant data-fiduciary)” অর্থ নিম্নবর্ণিত বিষয়াদির ভিত্তিতে কোনো উপাত্ত-জিম্মাদার:-
(১১) “ছদ্মনামীকরণ (pseudonymization)” অর্থ ব্যক্তিগত উপাত্ত এমনভাবে প্রক্রিয়াকরণ করা, যাহাতে অতিরিক্ত ও পৃথকভাবে সংরক্ষিত তথ্য ব্যবহার ব্যতীত কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে আর তথ্যের সহিত সম্পর্কিত করা যায় না;
(১২) “জাতীয় উপাত্ত ব্যবস্থাপনা (national data governance)” অর্থ রাষ্ট্রীয় ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট উপাত্তের সমগ্র জীবনচক্রে (data life-cycle) আইনসম্মত উদ্দেশ্য, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও নিরীক্ষাযোগ্যতার নীতি মানিয়া একীভূত নীতিমালা, মানদণ্ড, প্রক্রিয়া ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার মাধ্যমে নিম্নবর্ণিত কার্যক্রম পরিচালনা, যথা:-
(১৩) “জিরো-ট্রাস্ট আর্কিটেকচার (zero-trust architecture)” অর্থ একটি নিরাপত্তা মডেল, যেখানে প্রতিটি উপাত্ত, ব্যবহারকারী, ডিভাইস বা সেবা-সংক্রান্ত অনুরোধ উৎপত্তি নির্বিশেষে সন্দেহমুক্ত ধরা হয় না; বরং পূর্বনির্ধারিত নিরাপত্তা নীতি ও নিয়মাবলি অনুসরণ করিয়া প্রত্যেকটি অনুরোধের পরিচয় যাচাই, অনুমোদন ও ন্যূনতম প্রয়োজনীয় অধিকার প্রদানের মাধ্যমে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা হয়, যাহার মাধ্যমে উপাত্ত ও সেবার সার্বিক গোপনীয়তা, অখণ্ডতা ও নিরাপত্তা সংরক্ষিত থাকে;
(১৪) “টোকেন (token)” অর্থ একটি ক্রিপ্টোগ্রাফিকভাবে সুরক্ষিত, সময়-সীমাযুক্ত প্রমাণপত্র, যাহা এপিআই অ্যাক্সেসের অধিকার নিয়ন্ত্রণ করে;
(১৫) “ট্রাইব্যুনাল” অর্থ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন, ২০০৬ (২০০৬ সনের ৩৯ নং আইন) এর ধারা ৬৮ এর অধীন স্থাপিত সাইবার ট্রাইব্যুনাল;
(১৬) “ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার, ডিপিআই (Digital Public Infrastructure, DPI)” অর্থ মান-অনুগ, পুনঃব্যবহারযোগ্য ও সেক্টর (খাত)-নিরপেক্ষ মূল ডিজিটাল সক্ষমতা, নেটওয়ার্ক ও প্ল্যাটফর্মসমূহের সমষ্টি, যাহা জনসেবা, প্রশাসনিক কার্যক্রম ও বেসরকারি সেবায় পরিচয়/প্রমাণীকরণ, অনুমোদন, উপাত্ত-বিনিময়/আন্তঃপরিচালন ও নিরাপদ আদান-প্রদান/অর্থপ্রদান ইত্যাদি সক্ষমতা প্রদান করে; যাহার নকশা, পরিচালনা ও সনদায়ন কর্তৃপক্ষ ঘোষিত জাতীয় স্থাপত্য ও মানদণ্ড (যেমন “বাংলাদেশ জাতীয় উপাত্ত ও আন্তঃপরিচালন স্থাপত্য (BNDIA)” ও “জাতীয় দায়িত্বশীল উপাত্ত বিনিময় (NRDEX)”) অনুযায়ী সম্পাদিত হইবে; এবং যাহা জিরো-ট্রাস্ট নিরাপত্তা, ছদ্মনামীকরণসহ গোপনীয়তা-রক্ষাকারী নীতি, ন্যূনতমতা, উদ্দেশ্য-সীমাবদ্ধতা ও নিরীক্ষাযোগ্যতার নীতি অনুসরণে প্রতিষ্ঠিত ও ব্যবহৃত হইবে;
(১৭) “নির্বাহী চেয়ারম্যান” অর্থ ধারা ১২ এর অধীন নিয়োগপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান;
(১৮) “ন্যাশনাল রেসপন্সিবল ডেটা এক্সচেঞ্জ প্ল্যাটফর্ম, এনআরডিএক্স (National Responsible Data Exchange, NRDEX Platform)” অর্থ একটি সুরক্ষিত এপিআই (API) ভিত্তিক স্তর, যাহা সংস্থা ও সেবাসমূহের মধ্যে উদ্দেশ্য-ভিত্তিক উপাত্ত প্রবাহকে সক্ষম করে;
(১৯) “প্রক্রিয়াকরণ” অর্থ ব্যক্তিগত উপাত্তের উপর চলমান বা সম্পাদিত যেকোনো কার্যক্রম, উহা স্বয়ংক্রিয়ভাবে করা হউক বা না হউক, যেমন-উপাত্ত সংগ্রহ, লিপিবদ্ধ, বিন্যাস (organization), গঠন (structuring), মজুত (Storage), ধারণ (retention), স্থানান্তর, অভিযোজন বা পরিবর্তন, পুনরুদ্ধার, ব্যবহার, সঞ্চালনের মাধ্যমে প্রকাশ, বিতরণ বা অন্য কোনোভাবে প্রাপ্তিসাধ্য, সারিবদ্ধ (alignment) বা সংযোজন (combination), সীমিত বা বিনষ্ট করা অথবা মুছিয়া ফেলা;
(২০) “প্রক্রিয়াকারী (processor)” অর্থ কোনো ব্যক্তি বা সংস্থা, যাহারা একজন জিম্মাদারের পক্ষে ব্যক্তিগত উপাত্ত প্রক্রিয়াকরণ করে;
(২১) “বাংলাদেশ জাতীয় উপাত্ত ও আন্তঃপরিবাহিতা আর্কিটেকচার (BNDIA)” অর্থ সরকার অনুমোদিত রেফারেন্স আর্কিটেকচার, যাহা জাতীয় আন্তঃপরিবাহিতার ভিত্তি হিসাবে কাজ করে, এবং ফিজিক্যাল লেয়ার ও সফটওয়্যার উভয়ই ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে;
(২২) “বোর্ড” অর্থ ধারা ৫ এ উল্লিখিত জাতীয় উপাত্ত ব্যবস্থাপনা নীতি নির্ধারণী বোর্ড;
(২৩) “ব্যক্তি” অর্থ-
(২৪) “ব্যক্তিগত উপাত্ত” অর্থ কোনো ব্যক্তিসম্পর্কিত তথ্য-উপাত্ত, যেমন-নাম, পিতা-মাতার নাম, শনাক্তকরণ নম্বর, মোবাইল নম্বর, আর্থিক উপাত্ত (financial data), অবস্থান (location) চিহ্নিতকরণ উপাত্ত বা অনুরূপ অন্য কোনো অনলাইন শনাক্তকারী উপাত্ত অথবা কোনো একক ব্যক্তির শারীরিক, শরীরবৃত্তীয়, জেনেটিক, বায়োমেট্রিক, মনস্তাত্ত্বিক, অর্থনৈতিক বৈশিষ্ট্যসংবলিত উপাদান ও প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত অন্য কোনো বৈশিষ্ট্যসংবলিত উপাদান, যাহার দ্বারা উক্ত ব্যক্তিকে শনাক্ত করা যায়;
(২৫) “সংক্ষুব্ধতা নিরসন কাউন্সিল” অর্থ ধারা ৬১ এর অধীন গঠিত সংক্ষুব্ধতা নিরসন কাউন্সিল।
Section ৩. অধ্যাদেশের প্রাধান্য
আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইন, চুক্তি বা আইনের ক্ষমতাসম্পন্ন অন্য কোনো দলিলে ভিন্নতর যাহা কিছুই থাকুক না কেন, ব্যক্তিগত উপাত্ত সংগ্রহ, সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াকরণ, নিরাপত্তা বিধান, ব্যক্তিপরিচয় শনাক্তকরণসহ সার্বিকভাবে জাতীয় উপাত্ত ব্যবস্থাপনা এবং আন্তঃপরিচালনের ক্ষেত্রে এই অধ্যাদেশের বিধানাবলি প্রাধান্য পাইবে।
Section ৪. অধ্যাদেশের অতিরাষ্ট্রিক প্রয়োগ
এই অধ্যাদেশের বিধানাবলি বাস্তবায়নকল্পে প্রয়োজনীয়তা দেখা দিলে, বিধিমালায় নির্ধারিত পদ্ধতিতে ও ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষ এবং আদালতের অতিরাষ্ট্রিক এখতিয়ার রহিয়াছে মর্মে গণ্য হইবে।
Section ৫. জাতীয় উপাত্ত ব্যবস্থাপনা নীতি নির্ধারণী বোর্ড
(১) এই অধ্যাদেশের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, প্রধানমন্ত্রী/প্রধান উপদেষ্টাকে চেয়ারম্যান করিয়া নিম্নবর্ণিত সদস্য সমন্বয়ে জাতীয় উপাত্ত ব্যবস্থাপনা নীতি নির্ধারণী বোর্ড নামে একটি বোর্ড থাকিবে, যথা:-
(২) নির্বাহী চেয়ারম্যান, বোর্ডের সদস্য-সচিব হিসাবে দায়িত্ব পালন করিবেন, এবং বোর্ডের কার্যসম্পাদনে কর্তৃপক্ষকে সাচিবিক সহায়তা প্রদান করিবে।
(৩) উপ-ধারা (১) এর দফা (থ) ও (দ) এর অধীন মনোনীত কোনো ব্যক্তির নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হইবার পূর্বে বিধিতে নির্ধারিত কারণ দর্শানোর সুযোগ প্রদান করিয়া প্রদর্শিত কারণ উপযুক্ত প্রতীয়মান না হইলে সরকার তাহাকে তাহার সদস্যপদ হইতে অব্যাহতি প্রদান করিতে পারিবে এবং তদস্থলে অন্য একজন সদস্য মনোনীত করিবে।
Section ৬. নীতি নির্ধারণী বোর্ডের সভা
(১) এই ধারার অন্যান্য বিধান সাপেক্ষে, বোর্ড উহার সভার কার্যপদ্ধতি নির্ধারণ করিবে।
(২) বোর্ডের সকল সভা, চেয়ারম্যানের সম্মতিক্রমে, নির্বাহী চেয়ারম্যান কর্তৃক আহূত হইবে।
(৩) চেয়ারম্যান বোর্ডের সকল সভায় সভাপতিত্ব করিবেন এবং তাহার অনুপস্থিতিতে বোর্ডের জ্যেষ্ঠ্যতম মন্ত্রী সভায় সভাপতিত্ব করিবেন।
(৪) বোর্ডের সভার কোরামের জন্য উহার মোট সদস্য সংখ্যার সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের উপস্থিতির প্রয়োজন হইবে।
(৫) বোর্ডের সভায় উপস্থিত প্রত্যেক সদস্যের একটি করিয়া ভোট থাকিবে, এবং ভোটের সমতার ক্ষেত্রে সভাপতিত্বকারী ব্যক্তির একটি দ্বিতীয় বা নির্ণায়ক ভোট প্রদানের অধিকার থাকিবে।
(৬) বোর্ডের সভার কোনো আলোচ্যসূচিতে বিশেষজ্ঞের মতামত গ্রহণের সুবিধার্থে এক বা একাধিক ব্যক্তিকে সংশ্লিষ্ট সভায় অংশগ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানানো যাইবে, তবে এইরূপ আমন্ত্রিত বিশেষজ্ঞের ভোটাধিকার থাকিবে না।
(৭) প্রতি ৬ মাসে বোর্ডের অন্যূন একটি সভা অনুষ্ঠিত হইতে হইবে।
Section ৭. জরুরি পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী/প্রধান উপদেষ্টার পরামর্শ ও নির্দেশনা প্রদানের ক্ষমতা
এই অধ্যাদেশের আওতাভুক্ত বা সংশ্লিষ্টতা রহিয়াছে এইরূপ কোনো বিষয়ে জরুরি পরিস্থিতির উদ্ভব হইলে এবং উহা তাৎক্ষণিক সমাধানকল্পে প্রধানমন্ত্রী/প্রধান উপদেষ্টা স্বেচ্ছায় কিংবা কর্তৃপক্ষের অনুরোধে সিদ্ধান্ত প্রদান করিতে পারিবেন।
Section ৮. জাতীয় উপাত্ত ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা, ইত্যাদি
(১) এই অধ্যাদেশের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, জাতীয় উপাত্ত ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ নামে একটি কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠিত হইবে।
(২) কর্তৃপক্ষ প্রধানমন্ত্রী/প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সহিত সংযুক্ত একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা হইবে এবং উহার স্থায়ী ধারাবাহিকতা ও একটি সাধারণ সীলমোহর থাকিবে এবং উহার স্থাবর ও অস্থাবর উভয় প্রকার সম্পত্তি অর্জন করিবার, অধিকারে রাখিবার এবং হস্তান্তর করিবার ক্ষমতা থাকিবে এবং উহা স্বীয় নামে মামলা দায়ের করিতে পারিবে এবং উহার বিরুদ্ধেও মামলা দায়ের করা যাইবে।
Section ৯. কর্তৃপক্ষ গঠন
(১) এই অধ্যাদেশের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, ১ (এক) জন নির্বাহী চেয়ারম্যান ও নিম্নবর্ণিত ছয়টি বিশেষায়িত উইং গঠনপূর্বক উহাদের প্রধান, যাহারা হইবেন কর্তৃপক্ষের সদস্য- তাহাদের সমন্বয়ে জাতীয় উপাত্ত ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ নামে একটি কর্তৃপক্ষ গঠন করিবে, যথা:-
(২) উপ-ধারা (১) এ বর্ণিত যেকোনো সদস্য তাহার উইংয়ের প্রধান হিসেবে কর্তব্যরত থাকিবেন এবং উক্ত উইংয়ে সম্পাদিত কর্মের জন্য কর্তৃপক্ষের নিকট তাহার দায়বদ্ধতা থাকিবে।
(৩) সদস্যগণের কর্মপরিধি প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত হইবে এবং উক্ত কর্মপরিধিভুক্ত কার্যসমূহ সম্পাদনে সদস্যগণ প্রযোজ্যতা অনুযায়ী অধ্যাদেশ বা প্রবিধানের বিধান অনুসরণে বা অন্য কোনো আইন দ্বারা আরোপিত বিধান অনুসারে পরিচালিত হইবেন।
(৪) উপ-ধারা (৩) এর অধীন কোনো সদস্যের কর্মপরিধি নির্ধারণের ক্ষেত্রে উপ-ধারা (১) এর অধীন যে বিষয়ের উপর গুরুত্ব আরোপ করিয়া উইংয়ের বিভাজন করা হইয়াছে, উহার প্রাসঙ্গিকতার প্রতিফলন সংশ্লিষ্ট প্রবিধানে দৃশ্যমান হইতে হইবে।
(৫) কর্মবণ্টন ও দায়িত্ব নির্ধারণের ক্ষেত্রে সদস্যগণের শিক্ষাগত যোগ্যতা, অর্জিত অভিজ্ঞতা, নিষ্ঠা ও সততা প্রাধান্য পাইবে।
Section ১০. কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ও সদস্যগণের যোগ্যতা ও অযোগ্যতা
(১) কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান এবং সদস্যপদে নিয়োগের জন্য প্রার্থীগণের নিম্নবর্ণিত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা থাকিতে হইবে, যথা:-
(২) কোনো ব্যক্তি নির্বাহী চেয়ারম্যান বা সদস্য হিসাবে নিযুক্ত হইবার বা থাকিবার যোগ্য হইবেন না, যদি তিনি-
(৩) সরকারি চাকরিতে নিয়োজিত কোনো ব্যক্তি চেয়ারম্যান বা সদস্যপদের জন্য, এই ধারার বিধানাবলি সাপেক্ষে, তাহার যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে দরখাস্ত দাখিল করিতে পারিবেন, তবে নিয়োগের জন্য চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হইলে উক্ত ব্যক্তি সরকারি চাকরির অবসান ঘটাইয়া উক্ত পদে যোগদান করিতে পারিবেন।
(৪) কর্তৃপক্ষের আওতাভুক্ত কোনো কিছুতে ব্যবসায়িক স্বার্থ রহিয়াছে এমন কোনো ব্যক্তি নির্বাহী চেয়ারম্যান বা সদস্যপদে নিয়োগের যোগ্য হইবেন না।
(৫) নির্বাহী চেয়ারম্যান বা কোনো সদস্য ধারা ১২ এর বিধান সাপেক্ষে ৬৫ (পঁয়ষট্টি) বৎসর বয়স পর্যন্ত স্বীয় পদে অধিষ্ঠিত থাকিতে পারিবেন।
(৬) নির্বাহী চেয়ারম্যান বা সদস্য হিসাবে নিয়োগপ্রাপ্তির পর তিনি নিজ নামে বা অন্য কোনো ব্যক্তির মাধ্যমে এই অধ্যাদেশের পরিধিভুক্ত খাতে ব্যবসায়িক স্বার্থে জড়িত হইতে পারিবেন না এবং চেয়ারম্যান বা সদস্য হিসাবে নিয়োগপ্রাপ্তির পূর্বে এই ধারার বিধানাবলির সহিত তাহার যোগ্যতার অসামঞ্জস্যতা না থাকা সম্পর্কে একটি ঘোষণাপত্র নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের বা সরকারের নিকট জমা প্রদান করিবেন।
Section ১১. নির্বাহী চেয়ারম্যান ও সদস্যগণের নিয়োগের অবসান
কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান বা সদস্য হিসাবে নিয়োগ প্রাপ্তির পর যে কোনো সময় যদি উদঘাটিত হয় যে, চেয়ারম্যান বা কোনো সদস্য পদে নিয়োগ লাভের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি মিথ্যা বা প্রতারণার আশ্রয় গ্রহণ করিয়াছেন, বা দায়িত্ব পালনকালে নৈতিক স্খলন বা ক্ষমতার অপব্যবহারে অর্থলাভ বা অন্য কোনো সুবিধা লাভ করিয়াছেন, তাহা হইলে তিনি নির্বাহী চেয়ারম্যান বা সদস্যপদে বহাল থাকিবার অনুপযুক্ত বলিয়া বিবেচিত হইবেন এবং সরকার নির্ধারিত পদ্ধতিতে নির্বাহী চেয়ারম্যান বা, ক্ষেত্রমত, সদস্যের চাকরির অবসান ঘটাইতে পারিবে।
Section ১২. নির্বাহী চেয়ারম্যান ও সদস্যগণের নিয়োগ ও মেয়াদ
(১) নির্বাহী চেয়ারম্যান ও সদস্যগণ, ধারা ১০ এ বর্ণিত যোগ্যতা ও অযোগ্যতার বিধান ও বিধি দ্বারা নির্ধারিত তাহাদের যোগ্যতা ও চাকরির শর্তাদি পূরণ সাপেক্ষে, সরকার কর্তৃক নিযুক্ত হইবেন।
(২) কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ও সদস্যদের এবং সংক্ষুদ্ধতা নিরসন কাউন্সিলের সভাপতি ও সদস্যদের প্রতিটি নিয়োগের ক্ষেত্রে ৫ (পাঁচ) সদস্য বিশিষ্ট বাছাই ও পর্যালোচনা কমিটি কর্তৃক সুপারিশ অনুযায়ী সরকার নিয়োগ প্রদান করিবে।
(৩) নিম্নবর্ণিত ব্যক্তিগণের সমন্বয়ে বাছাই ও পর্যালোচনা কমিটি গঠিত হইবে, যথা:-
(৪) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ বাছাই ও পর্যালোচনা বৈঠকে সাচিবিক সহায়তা প্রদান করিবে।
(৫) বাছাই ও পর্যালোচনা কমিটি-
(৬) বাছাই ও পর্যালোচনা কমিটি বৎসরে অন্তত একবার কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ও সদস্যদের কার্যক্রম পর্যালোচনা করিবে ও বৈঠক করিবে এবং এই উদ্দেশ্যে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কর্ম-অভিজ্ঞতাসম্পন্ন বিশেষজ্ঞদের মতামত গ্রহণ করিতে পারিবে।
(৭) নির্বাহী চেয়ারম্যান ও সদস্যগণ কার্যভার গ্রহণের তারিখ হইতে ৪ (চার) বৎসর মেয়াদে স্বীয় পদে অধিষ্ঠিত থাকিবেন।
(৮) নির্বাহী চেয়ারম্যান ও সদস্যগণ ২ (দুই) মেয়াদের বেশি নিয়োগ লাভের যোগ্য হইবেন না:
তবে শর্ত থাকে যে, কোনো সদস্য প্রথম মেয়াদে সদস্য হিসাবে দায়িত্ব পালনের পর দ্বিতীয় মেয়াদে নির্বাহী চেয়ারম্যান হিসাবে নিয়োগ লাভের ক্ষেত্রে কোনো বাধা থাকিবে না।
(৯) নির্বাহী চেয়ারম্যান ও সদস্যগণ কর্তৃপক্ষের সার্বক্ষণিক কর্মচারী হইবেন, এবং তাহারা এই অধ্যাদেশ এবং তদধীন প্রণীত বিধির বিধান সাপেক্ষে, বা ক্ষেত্রবিশেষে অন্য কোনো আইন দ্বারা ক্ষমতাপ্রাপ্ত হইয়া কার্য-সম্পাদন, ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করিবেন।
(১০) কর্তৃপক্ষ এই অধ্যাদেশের অধীন উহার দায়িত্ব পালনে সরকার কর্তৃক গৃহীত নীতি-নির্দেশনা (policy guidelines) অনুসরণ করিবে।
(১১) নির্বাহী চেয়ারম্যানের পদ শূন্য হইলে, বা অনুপস্থিতি, অসুস্থতা বা অন্য কোনো কারণে নির্বাহী চেয়ারম্যান তাহার দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হইলে, শূন্য পদে নবনিযুক্ত নির্বাহী চেয়ারম্যান দায়িত্বভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত বা নির্বাহী চেয়ারম্যান পুনরায় স্বীয় দায়িত্ব পালনে সমর্থ না হওয়া পর্যন্ত জ্যেষ্ঠতম সদস্য অস্থায়ীভাবে নির্বাহী চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করিবেন।
Section ১৩. নির্বাহী চেয়ারম্যান বা সদস্য পদ পূরণ
নির্বাহী চেয়ারম্যান বা কোনো সদস্য মৃত্যুবরণ বা স্বীয় পদ ত্যাগ করিলে বা অপসারিত হইলে, সরকার উক্ত পদ শূন্য হইবার ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে কোনো উপযুক্ত ব্যক্তিকে শূন্য পদে নিয়োগ করিবে।
Section ১৪. সদস্যপদে শূন্যতার কারণে কার্য বা কার্যধারা অবৈধ না হওয়া
শুধুমাত্র কোনো সদস্য পদে শূন্যতা বা কর্তৃপক্ষ গঠনে ত্রুটি থাকিবার কারণে কর্তৃপক্ষের কোনো কার্য বা কার্যধারা অবৈধ হইবে না বা তৎসম্পর্কে কোনো প্রশ্ন উত্থাপন করা যাইবে না।
Section ১৫. নির্বাহী চেয়ারম্যান ও সদস্যদের পদমর্যাদা, বেতন, ভাতা, ইত্যাদি
(১) নির্বাহী চেয়ারম্যান ও সদস্যগণের বেতন, ভাতা, পদমর্যাদা, জ্যেষ্ঠতা ও চাকরির অন্যান্য শর্ত বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে।
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন নির্বাহী চেয়ারম্যান ও সদস্যগণের পদমর্যাদা যথাক্রমে সিনিয়র সচিব এবং সচিবের নিম্নে নির্ধারণ করা যাইবে না।
(৩) বিধি প্রণয়ন না হওয়া পর্যন্ত নির্বাহী চেয়ারম্যান ও সদস্যগণের বেতন, ভাতা ও চাকরির অন্যান্য শর্ত সরকার কর্তৃক নির্ধারিত হইবে।
(৪) নির্বাহী চেয়ারম্যান বা কোনো সদস্যের বেতন, ভাতা ও চাকরির অন্যান্য শর্ত, তাহার নিয়োগের পর, এমন তারতম্য করা যাইবে না যাহা তাহার পক্ষে অসুবিধাজনক হইতে পারে।
(৫) দেশে-বিদেশে কর্মরত মেধাবী, উদ্ভাবনশীল ও নিষ্ঠাবান ব্যক্তিগণকে কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান বা সদস্যপদে নিয়োগে আকৃষ্ট করিবার জন্য বিধি দ্বারা নির্ধারিত শর্তানুযায়ী আর্থিক ভাতা বা অন্যান্য সুবিধাদি প্রদান করা যাইবে।
Section ১৬. নির্বাহী চেয়ারম্যানের ক্ষমতা
(১) নির্বাহী চেয়ারম্যান কর্তৃপক্ষের প্রধান নির্বাহী হইবেন।
(২) নির্বাহী চেয়ারম্যান কর্তৃপক্ষের সদস্যগণের দায়িত্ব পালন ও কর্ম সম্পাদন সমন্বয় ও পরিবীক্ষণ করিতে পারিবেন।
(৩) উপ-ধারা (২) এ বর্ণিত ক্ষমতা বিধি বা প্রবিধানের বিধান অনুসরণে নির্বাহী চেয়ারম্যান এইরূপভাবে সম্পাদন করিবেন যাহাতে সদস্যগণের তাহাদের কর্মপরিধিভুক্ত বিষয়ে যৌক্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ বাধাগ্রস্ত না হয়।
(৪) নির্বাহী চেয়ারম্যান এই অধ্যাদেশের অধীন প্রণীত বিধি ও প্রবিধানের বিধানাবলি সাপেক্ষে ও অন্য কোনো আইন দ্বারা ক্ষমতাপ্রাপ্ত হইলে তদসংশ্লিষ্ট বিধি ও প্রবিধানের বিধানাবলি সাপেক্ষে তাহার ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করিবেন।
Section ১৭. নির্বাহী চেয়ারম্যানের ও সদস্যদের কার্যাবলি
নির্বাহী চেয়ারম্যান ও সদস্যগণ, এই অধ্যাদেশ বা অন্য কোনো আইন দ্বারা কর্তৃপক্ষের উপর আরোপিত কার্যাবলি উদ্দেশ্যের নিরিখে সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য সময়োপযোগী কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করিবেন।
Section ১৮. কর্তৃপক্ষের কার্যালয়
কর্তৃপক্ষের প্রধান কার্যালয় ঢাকায় থাকিবে এবং কর্তৃপক্ষ, প্রয়োজনবোধে, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, বাংলাদেশের যে কোনো স্থানে উহার শাখা কার্যালয় স্থাপন করিতে পারিবে।
Section ১৯. কর্তৃপক্ষের সভা
(১) কর্তৃপক্ষ এই অধ্যাদেশের অন্যান্য বিধান এবং উহা কর্তৃক প্রণীত প্রবিধান দ্বারা উহার সভার কার্যপদ্ধতি নির্ধারণ করিতে পারিবে।
(২) কর্তৃপক্ষের সভা নির্বাহী চেয়ারম্যান কর্তৃক নির্ধারিত স্থান ও সময়ে অনুষ্ঠিত হইবে, এবং কর্তৃপক্ষের সকল সভায় নির্বাহী চেয়ারম্যান সভাপতিত্ব করিবেন:
তবে শর্ত থাকে যে, প্রতি মাসে কর্তৃপক্ষের কমপক্ষে একটি সভা অনুষ্ঠিত হইবে।
(৩) কর্তৃপক্ষের সভায় কোরামের জন্য নির্বাহী চেয়ারম্যানসহ অন্যূন ৪ (চার) জন সদস্যের উপস্থিতির প্রয়োজন হইবে।
(৪) সভায় উপস্থিত প্রত্যেক সদস্যের একটি করিয়া ভোট থাকিবে এবং ভোটের সমতার ক্ষেত্রে সভাপতির একটি অতিরিক্ত নির্ণায়ক ভোট প্রদানের ক্ষমতা থাকিবে।
(৫) কর্তৃপক্ষের সকল সিদ্ধান্ত সভায় উপস্থিত সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের সম্মতিতে গৃহীত হইবে।
(৬) কর্তৃপক্ষের কোনো সদস্য পদে শূন্যতা থাকিবার কারণে উহার কোনো কার্য বা কার্যধারা অবৈধ হইবে না এবং তৎসম্পর্কে আদালতে কোনো প্রশ্ন উত্থাপন করা যাইবে না।
Section ২০. কর্তৃপক্ষের সচিব
(১) সরকার, যুগ্মসচিব পদমর্যাদার একজন দক্ষ কর্মকর্তাকে কর্তৃপক্ষের সচিব নিয়োগ করিবে।
(২) সচিব নিম্নবর্ণিত দায়িত্ব পালন করিবেন, যথা:-
Section ২১. কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ, ইত্যাদি
(১) কর্তৃপক্ষ উহার কার্যাবলি সম্পাদনের জন্য সরকার কর্তৃক অনুমোদিত সাংগঠনিক কাঠামো অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সংখ্যক কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ করিতে পারিবে।
(২) কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিয়োগ পদ্ধতি এবং চাকরির শর্তাবলি প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত হইবে এবং এইরূপ প্রবিধান প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত কর্তৃপক্ষ, প্রশাসনিক আদেশ দ্বারা, এই সকল বিষয়ে অনুসরণীয় নিয়মাবলি নির্ধারণ করিতে পারিবে।
(৩) কর্তৃপক্ষ, উহার কার্যাবলি দক্ষতার সহিত সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের নির্মিত্ত প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে ও যোগ্যতা সাপেক্ষে কারিগরি জ্ঞানসম্পন্ন প্রয়োজনীয় সংখ্যক কর্মকর্তা, বিশেষজ্ঞ ও অন্যান্য কর্মচারী এবং পরামর্শক নিয়োগ করিতে পারিবে, এবং এতদুদ্দেশ্যে প্রয়োজনীয় অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে নিম্নবর্ণিত কার্যাবলি সম্পাদন করিতে পারিবে, যথা:-
Section ২২. প্রেষণে কর্তৃপক্ষের জনবল নিয়োগের সীমাবদ্ধতা
(১) কর্তৃপক্ষের প্রতিষ্ঠা লগ্নে এবং প্রাথমিক অবস্থায় উহার কার্যাবলি সম্পাদনের লক্ষ্যে কর্তৃপক্ষ যে কোনো সরকারি কর্মচারী বা কোনো সংবিধিবদ্ধ সংস্থার কর্মচারীকে, তাহার নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সম্মতিক্রমে প্রেষণে নিয়োগ করিতে পারিবে।
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন প্রেষণে নিয়োগের ক্ষেত্রে যতটা কম সংখ্যক ও সময়ের জন্য কর্মচারী নিয়োগ প্রদান করা যায় তাহা বিবেচনায় রাখিতে হইবে।
Section ২৩. কর্তৃপক্ষের কার্যাবলি
কর্তৃপক্ষের কার্যাবলি হইবে নিম্নরূপ, যথাঃ-
ব্যাখ্যা।- জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত সকল নাগরিকের ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষার জন্য জাতীয় উপাত্তভান্ডার কর্তৃপক্ষের অধীনস্থ জাতীয় নাগরিক উপাত্ত উইংয়ের অধীনে পরিচালিত হইবে। যেখানে, জাতীয় পরিচয়পত্রের উপাত্তভান্ডার সংক্রান্ত উপাত্ত সংগ্রহ, সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াকরণ, এবং বিনিময়ের কার্যাবলি তদারকি করা হইবে। এই কার্যে কর্তৃপক্ষ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের সহিত সমন্বয়ের মাধ্যমে কার্য সম্পাদন করিবে। বর্তমানে প্রচলিত এনআইডি সংক্রান্ত সেবা চালু রাখিবার সুবিধার্থে প্রস্তাবিত পরিকাঠামো পূর্ণাঙ্গভাবে গঠিত না হওয়া পর্যন্ত এনআইডি সংক্রান্ত সকল কার্যক্রম অন্তত তিন বছর নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের অধীন থাকিবে;
নোট।- পেশা, জীবিকা, উপার্জন, মেধাসত্ত্ব, সম্পদ ইত্যাদির উত্তরাধিকার নিশ্চিতকরণও এই দায়িত্বের অংশ হইবে;
Section ২৪. কর্তৃপক্ষের ক্ষমতা
(১) কর্তৃপক্ষ উহার কার্যাবলি সম্পাদনের জন্য আইনানুগ যে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করিতে পারিবে।
(২) কর্তৃপক্ষ, অন্য কোনো আইন বা আইনের ক্ষমতাসম্পন্ন যেকোনো দলিল বা চুক্তি দ্বারা কর্তৃপক্ষের উপর আরোপিত যে কোনো ক্ষমতা প্রয়োজনমাফিক প্রয়োগ করিতে পারিবে।
Section ২৫. কর্তৃপক্ষের ক্ষমতা বাস্তবায়নে জটিলতা নিরসন
কর্তৃপক্ষ উহার কার্যাবলি সম্পাদনের জন্য কর্তৃপক্ষ চাহিত সহায়তা, যাচিত অনুরোধ বা প্রদত্ত নির্দেশ বাস্তবায়নে কোনো ব্যক্তি, সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান অনাগ্রহ বা অবহেলা করিলে কর্তৃপক্ষ বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী/প্রধান উপদেষ্টা সমীপে তাহার হস্তক্ষেপ কামনায় উপস্থাপন করিবে এবং উক্তরূপে প্রাপ্ত প্রতিকারের মাধ্যমে বিষয়টি চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি হইবে।
Section ২৬. অধ্যাদেশের বিধান বাস্তবায়নে জটিলতা নিরসন
এই অধ্যাদেশের কোনো বিধানের অস্পষ্টতার কারণে উহা কার্যকর কবিরার ক্ষেত্রে কোনো অসুবিধা দেখা দিলে, সরকার এই অধ্যাদেশের অন্যান্য বিধানের সহিত সামঞ্জস্য রাখিয়া, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, উক্ত বিধানের স্পষ্টীকরণ বা ব্যাখ্যা প্রদানপূর্বক উক্ত বিষয়ে করণীয় সম্পর্কে দিক-নির্দেশনা প্রদান করিতে পারিবে।
Section ২৭. কর্তৃপক্ষের কর্মের স্বাধীনতা
কর্তৃপক্ষ উহার দায়িত্ব পালন ও কার্যসম্পাদনের ক্ষেত্রে স্বাধীন থাকিবে।
Section ২৮. কর্তৃপক্ষ কর্তৃক ক্ষমতা অর্পণ
কর্তৃপক্ষ, এই অধ্যাদেশের বিধানে উল্লিখিত উহার উপর অর্পিত যে কোনো ক্ষমতা বা দায়িত্ব লিখিত আদেশ দ্বারা কর্তৃপক্ষের কর্মে নিয়োজিত বা উহার নিয়ন্ত্রণাধীন অন্য কোনো দপ্তর বা প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাকে অর্পণ করিতে পারিবে।
Section ২৯. কর্তৃপক্ষের নির্দেশ প্রদানের ক্ষমতা
(১) কর্তৃপক্ষ এই অধ্যাদেশ বা অন্য যে কোনো আইন দ্বারা উহার উপর অর্পিত দায়িত্ব, কার্যক্রম ও ক্ষমতাবলির উদ্দেশ্য সাধনকল্পে প্রবিধানের বিধানাবলি সাপেক্ষে যে কোনো সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানকে প্রযোজ্যতা অনুযায়ী নির্দেশ বা পরামর্শ প্রদান করিতে পারিবে।
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন প্রদত্ত নির্দেশ সংশ্লিষ্ট সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের জন্য বাধ্যকর হইবে।
(৩) উপ-ধারা (১) এর অধীন প্রদত্ত পরামর্শ প্রাপ্তির পর সংশ্লিষ্ট সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান পরামর্শ অনুযায়ী কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করিবে এবং গৃহীত ব্যবস্থা সম্পর্কে যথানিয়মে কর্তৃপক্ষকে অবহিত করিবে।
Section ৩০. কমিটি গঠন
কর্তৃপক্ষ উহার দায়িত্ব পালনে সহায়তার জন্য যে কোনো সদস্য এবং কর্মকর্তা বা অন্য কোনো ব্যক্তি সমন্বয়ে প্রয়োজনীয় সংখ্যক কমিটি গঠন এবং উহার কর্মপরিধি নির্ধারণ করিতে পারিবে।
Section ৩১. উপাত্ত-ভান্ডারের স্তরসমূহ
আন্তঃপরিচালন ও জাতীয় উপাত্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালনার স্বার্থে উপাত্তভান্ডারসমূহকে নিম্নবর্ণিত ৪ (চার) ভাগে বিভক্ত করা হইবে, যথা:-
Section ৩২. ব্যক্তিগত ও অন্য যেকোনো উপাত্তের জাতীয় ব্যবস্থাপনা
(১) ব্যক্তিগত ও অন্য যেকোনো উপাত্ত ব্যবস্থাপনায় জাতীয় পর্যায়ে নির্ভরযোগ্য কাঠামো বিনির্মাণের স্বার্থে পর্যায়ক্রমিক (phase-wise) কার্যক্রম গ্রহণ করিতে হইবে।
ব্যাখ্যা।- এই উপ-ধারায় বর্ণিত কার্যক্রম নিম্নবর্ণিতভাবে পর্যায়ক্রমে সম্পাদন করিতে হইবে, যথা:-
(২) বিদ্যমান চুক্তিভিত্তিক বা অন্যান্য উপায়ে সরকারি-বেসরকারি পক্ষসমূহের মধ্যে উপাত্ত বিনিময়ের পরিবর্তে ক্রমান্বয়ে কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট পক্ষগণ সংগৃহীত উপাত্তের বৈশিষ্ট্য অক্ষুণ্ণ রাখিয়া কোনো এক বা একাধিক উদ্দেশ্যের নিরীখে ব্যক্তিগত ও অন্য যেকোনো উপাত্ত পুনর্ব্যবহার (re-use) করিতে পারিবে।
(৩) বিধি, প্রবিধান, সাধারণ পরিচালন-পদ্ধতি, নীতিমালা বা আদেশ ইত্যাদি দ্বারা কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নির্ধারিত যান্ত্রিক ও প্রযুক্তিগত মান বজায় রাখিয়া উপ-ধারা (২) এ বর্ণিত পক্ষগণ ব্যক্তিগত ও অন্য যেকোনো উপাত্ত বিনিময় করিতে পারিবে।
(৪) কোনো প্রতিষ্ঠানের কর্মপরিধিতে সৃষ্ট ব্যক্তিগত উপাত্ত বা অন্য কোনো উপাত্তের, এই অধ্যায় বা অধ্যাদেশের অন্য কোনো বিধানে বর্ণিত আন্তঃপরিবাহিতা ও জাতীয় উপাত্ত ব্যবস্থাপনা প্রবিধানের বিধান অনুসারে কার্যকরভাবে সম্পন্ন করিবে।
(৫) কোনো মন্ত্রণালয় বা সংস্থা উহার অধীন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক অনুমোদিত মান ও নীতিমালা অনুসরণ করিয়া উক্ত মন্ত্রণালয় বা সংস্থার আওতাধীন সেবা ও কার্যক্রমের সহিত সঙ্গতিপূর্ণ (need and purpose based) বিষয়ভিত্তিক বা সেক্টোরাল আন্তঃপরিচালন গেটওয়ে কাঠামো গঠন করিতে পারিবে, এবং এইরূপ যেকোনো বিষয়ভিত্তিক আন্তঃপরিচালন কাঠামো অবশ্যই কর্তৃপক্ষের NRDEX প্ল্যাটফর্ম এর সহিত কারিগরিভাবে যুক্ত হইবে।
(৬) তফসিলভুক্ত সংস্থাসমূহসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠান কর্তৃক যৌক্তিকভাবে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে উহাদের তত্ত্বাবধানে রক্ষিত উপাত্তভান্ডার প্রবিধানের বিধান অনুসরণে NRDEX প্ল্যাটফর্ম এর সহিত সংযুক্তি সম্পন্ন করিবে এবং ইহার ব্যত্যয়ে কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ব্যতীত অন্য কোনো পন্থায় আন্তঃসংস্থা উপাত্ত বিনিময় হইতে বিরত থাকিবে।
(৭) NRDEX প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করিয়া এবং ইহার সহিত সংযুক্ত হইয়া সরকারের প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা ও সেবাদান প্রক্রিয়া সহজীকরণের নিমিত্ত এবং দুর্নীতি দমনের জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অ্যাপ্লিকেশনসমূহ প্রয়োগ করা যাইবে:
তবে শর্ত থাকে যে, উক্ত অ্যাপ্লিকেশনসমূহ প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার মানোন্নয়ন, পরিকল্পনা সংশ্লিষ্ট ফিজিবিলিটি স্টাডি এবং ডিপিপি প্রণয়ন ও পর্যালোচনা, পাবলিক প্রোকিউরমেন্ট প্রোসেস রিভিউ এবং পর্যালোচনা, কর-জাল বৃদ্ধি, আয়কর, শুল্ক ও ভ্যাট ফাঁকি রোধ, বিভিন্ন সংস্থার পরিসংখ্যানগত অসামাজ্যতা অডিট ও নিরীক্ষা এবং বাৎসরিক উন্নয়ন বাজেটের সঠিক বাস্তবায়ন এবং সহজ নাগরিক সেবা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে পরিচালিত করিতে হইবে।
Section ৩৩. উপযোগিতার নিরিখে আন্তঃপরিচালন ও উপাত্ত-ভান্ডারের উন্নয়ন
(১) ধারা ৩২ এর বাস্তবায়নকালে, কর্তৃপক্ষের নিকট সঙ্গত কারণে সময়োপযোগী প্রতীয়মান হইলে, তফসিলভুক্ত সংস্থাসমূহের উপাত্ত বাধ্যতামূলকভাবে জাতীয় উপাত্তভান্ডার-ব্যবস্থায় মজুত করিতে হইবে।
(২) উপ-ধারা (১) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, তফসিলভুক্ত সংস্থাসমূহ উহাদের নিজস্ব এখতিয়ারাধীন প্রযোজ্যতা অনুযায়ী ব্যক্তিগত উপাত্ত বা অন্য কোনো উপাত্ত প্রক্রিয়াকরণ এবং জাতীয় উপাত্ত-ভান্ডারে হস্তান্তরের পূর্ব পর্যন্ত এই অধ্যাদেশ বা অন্য কোনো আইনে উহাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব বাধ্যতামূলকভাবে পালন করিবে।
Section ৩৪. মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থা ও অন্যান্যদের দায়িত্ব
(১) প্রত্যেক মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, সংবিধিবদ্ধ সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের প্রধান তাহার প্রতিষ্ঠানে বা সংস্থায় আন্তঃপরিচালন বাস্তবায়নের জন্য দায়ী থাকিবেন, এবং তিনি নিম্নবর্ণিত দায়িত্বসমূহ পালন করিবেন, যথা:-
(২) এই ধারার সময়সীমা বা মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থতা “গুরুতর লঙ্ঘন” হিসাবে গণ্য হইবে এবং এই অধ্যাদেশের বিধান অনুযায়ী প্রশাসনিক জরিমানা, টোকেন স্থগিত বা এনআরডিইএক্স সংযোগের সাময়িক বিচ্ছিন্নতা আরোপযোগ্য হইবে, এবং সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের উইং শুনানি গ্রহণপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করিবে।
(৩) সকল মন্ত্রণালয়ের নূতন ডিপিআই (Digital Public Infrastructure) প্রজেক্ট ও ওয়েবসার্ভিসের ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের সহিত সমন্বয় নিশ্চিতকরণ ও বিদ্যমান সার্ভিসের ক্ষেত্রে ক্রমান্বয়িক উন্নয়ন নিশ্চিত করিতে হইবে।
Section ৩৫. সমন্বয় কার্যক্রম
(১) এই অধ্যাদেশের কার্যক্রম বাস্তবায়ন-সংশ্লিষ্টদের নিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের সভাপতিত্বে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ কার্যক্রমের পর্যালোচনা ও সমন্বয় করিবে।
(২) এই ধারার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, প্রতি ৩ (তিন) মাসে অন্তত একটি সমন্বয় সভা আয়োজন করিতে হইবে, যাহাতে কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান আমন্ত্রিত হইবেন।
Section ৩৬. কর্তৃপক্ষের তহবিল
(১) কর্তৃপক্ষের জাতীয় উপাত্ত ব্যবস্থাপনা ও আন্তঃপরিচালন তহবিল নামে একটি তহবিল থাকিবে এবং উহাতে নিম্নবর্ণিত উৎস হইতে অর্থ জমা হইবে, যথা:-
(২) তহবিলের সকল অর্থ উপ-ধারা (১) এ বর্ণিত নামে কোনো তফসিলি ব্যাংকে জমা রাখিতে হইবে এবং উক্তরূপ অর্থ হইতে কর্তৃপক্ষ উহার কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন ও ভাতাদি পরিশোধসহ ধারা ৩৭ এর অধীন গঠিত জাতীয় ডিজিটাল আন্তঃপরিচালন উন্নয়ন তহবিলে ব্যয় করিবার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যয় নির্বাহ করিতে পারিবে।
ব্যাখ্যা।- এই ধারায় উল্লিখিত “তফসিলি ব্যাংক” অর্থ Bangladesh Bank Order, 1972(P.O. 127 of 1972) এর Article 2(j) তে সংজ্ঞায়িত Scheduled Bank কে বুঝাইবে।
(৩) বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে তহবিল পরিচালিত হইবে।
(৪) কোনো অর্থ বৎসরে কর্তৃপক্ষের ব্যয় নির্বাহের পর কর্তৃপক্ষের তহবিলে উদ্বৃত্ত অর্থ থাকিলে সরকারের নির্দেশ অনুসারে উহার সম্পূর্ণ বা অংশবিশেষ সরকারের কোষাগারে জমা করিতে হইবে।
Section ৩৭. জাতীয় ডিজিটাল আন্তঃপরিচালন উন্নয়ন তহবিল
(১) ধারা ৩৬ এর অধীন গঠিত তহবিলের অর্থ হইতে এই অধ্যাদেশের উদ্দেশ্য সাধনকল্পে বাংলাদেশে সরকারি-বেসরকারি ডিজিটাল সেবার ডিজিটাইজেশন, আন্তঃপরিচালন বাস্তবায়ন, NRDEX প্ল্যাটফর্ম ও BNDIA সংযুক্তিকরণ, নিরাপত্তা সনদায়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধি, ইত্যাদি ত্বরান্বিত করিবার লক্ষ্যে বোর্ড “জাতীয় ডিজিটাল অন্তঃপরিচালন উন্নয়ন তহবিল” নামে একটি পৃথক তহবিল গঠন করিতে পারিবে।
(২) কর্তৃপক্ষ, উপ-ধারা (১) এর অধীন গঠিত তহবিলের অর্থ ব্যয়ে বোর্ড কর্তৃক অনুমোদিত হইলে যথানিয়মে স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘ মেয়াদি প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করিতে পারিবে।
(৩) উপ-ধারা (২) এ বর্ণিত প্রকল্প প্রস্তাবে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য, চিহ্নিত উপকারভোগী, বাস্তবায়নের সময়সীমা এবং সাফল্য অর্জনের যৌক্তিক সম্ভাবনার বিস্তারিত বিবরণ উহাতে থাকিতে হইবে।
Section ৩৮. বার্ষিক বাজেট বিবরণী
(১) কর্তৃপক্ষ যেকোনো অর্থবৎসর শুরু হইবার পূর্ববর্তী তিন মাসের মধ্যে প্রথম মাসে সংশ্লিষ্ট বৎসরে উহার পরিচালন ব্যয় বহন ও উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য যে অর্থের যৌক্তিক কারণে প্রয়োজন উহার বরাদ্দ চাহিয়া অর্থ বিভাগ বরাবরে প্রস্তাব প্রেরণ করিবে।
(২) অর্থবিভাগ উপ-ধারা (১) এর অধীন প্রস্তাব প্রাপ্তির পর কর্তৃপক্ষের সহিত পরামর্শক্রমে বাজেট বরাদ্দ নির্ধারণ করিবে।
(৩) কর্তৃপক্ষ আর্থিক বরাদ্দ হইতে উহার খাত ভিত্তিক খরচ করিতে পারিবে, তবে অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার নীতি অনুসরণ করিতে হইবে।
(৪) কর্তৃপক্ষ প্রতি ৬ (ছয়) মাস অন্তর অন্তর উহার আয়-ব্যয়ের বিবরণী অর্থ বিভাগে প্রেরণ করিবে এবং আর্থিক শৃংখলার সংরক্ষণ ও অনুনমোদিত ব্যয় পরিলক্ষিত হইলে অর্থ বিভাগ উহার ব্যাখ্যা কর্তৃপক্ষের নিকট চাহিতে পারিবে এবং কর্তৃপক্ষ ইহা বাধ্যতামূলকভাবে প্রতিপালন করিবে।
Section ৩৯. হিসাব ও নিরীক্ষা
(১) কর্তৃপক্ষ উহার আয়-ব্যয়ের যথাযথ হিসাবরক্ষণ করিবে এবং হিসাবের বার্ষিক বিবরণী প্রস্তুত করিবে।
(২) বাংলাদেশের মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, প্রতি বৎসর কর্তৃপক্ষের হিসাব নিরীক্ষা করিবেন এবং নিরীক্ষা প্রতিবেদনের একটি করিয়া অনুলিপি সরকার ও কর্তৃপক্ষের নিকট প্রেরণ করিবেন।
(৩) উপ-ধারা (২) অনুযায়ী হিসাব নিরীক্ষার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশের মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক কিংবা তাহার নিকট হইতে এতদুদ্দেশ্যে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি কর্তৃপক্ষের সকল রেকর্ড, দলিল-দস্তাবেজ, নগদ বা ব্যাংকে গচ্ছিত অর্থ, জামানত, ভাণ্ডার এবং অন্যবিধ সম্পত্তি পরীক্ষা করিয়া দেখিতে পারিবেন এবং কর্তৃপক্ষের যে কোনো সদস্য, কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করিতে পারিবেন।
(৪) উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত নিরীক্ষা ছাড়াও কর্তৃপক্ষ প্রতি বৎসর Bangladesh Chartered Accountants Order, 1973(P.O. No 2 of 1973) এর Article 2(1)(b) তে সংজ্ঞায়িত Chartered Accountant দ্বারা কর্তৃপক্ষের হিসাব নিরীক্ষা করিতে পারিবে।
Section ৪০. ঋণ গ্রহণের ক্ষমতা
কর্তৃপক্ষ, বোর্ডের পূর্বানুমোদনক্রমে, কোনো ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা কোনো সরকারি প্রতিষ্ঠান বা বিদেশি সংস্থা বা উন্নয়ন সহযোগী হইতে ঋণ গ্রহণ করিতে পারিবে।
Section ৪১. প্রতিবেদন, ইত্যাদি
(১) প্রতি অর্থবৎসর সমাপ্তির ৯০ (নব্বই) দিনের মধ্যে কর্তৃপক্ষ তদ্কর্তৃক সম্পাদিত কার্যাবলির বিবরণ সম্বলিত একটি বার্ষিক প্রতিবেদন সরকারের নিকট পেশ করিবে।
(২) সরকার, প্রয়োজনে, কর্তৃপক্ষের নিকট হইতে উহার কার্যাবলি বা ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত যে কোনো তথ্য, রিটার্ন, বিবরণী, প্রাক্কলন, পরিসংখ্যান অথবা অন্য কোনো তথ্য চাহিতে পারিবে এবং কর্তৃপক্ষ উহা সরবরাহ করিতে বাধ্য থাকিবে।
Section ৪২. ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষার বিধান লঙ্ঘনে প্রশাসনিক জরিমানা
(১) কর্তৃপক্ষ প্রযোজ্যতা অনুযায়ী এই অধ্যাদেশ বা অন্য কোনো আইন দ্বারা কর্তৃপক্ষের উপর আরোপিত ক্ষমতা অনুযায়ী প্রশাসনিক জরিমানা নির্ধারণ ও আরোপ করিতে পারিবে।
(২) অভিযোগের গুরুত্ব অনুসারে প্রশাসনিক জরিমানার ক্ষেত্র ও প্রশাসনিক জরিমানার পরিমাণ বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে।
Section ৪৩. এই অধ্যাদেশের বিধান লঙ্ঘনের জন্য প্রশাসনিক জরিমানা
ধারা ৪২ এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, উপাত্ত-জিম্মাদার বা প্রক্রিয়াকারী বা এই অধ্যাদেশের আওতাভুক্ত ব্যক্তিগত উপাত্ত বা প্রযোজ্যতা অনুযায়ী অন্য কোনো উপাত্তের আন্তঃপরিচালনের সহিত সংশ্লিষ্ট কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এই অধ্যাদেশ বা তদধীন প্রণীত বিধি, প্রবিধান বা আইনের ক্ষমতাসম্পন্ন অন্য কোনো দলিলের বিধান লঙ্ঘন করিলে উহা হইবে একটি অপরাধ এবং তজ্জন্য উক্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে অনধিক ২৫ (পঁচিশ) লক্ষ টাকা প্রশাসনিক জরিমানা আরোপ করা যাইবে।
Section ৪৪. প্রশাসনিক জরিমানা আদায়
ধারা ৪২ ও ৪৩ এর অধীন নির্ধারিত প্রশাসনিক জরিমানার অর্থ প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে আদায়যোগ্য হইবে।
Section ৪৫. ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ ও আদায়
(১) অভিযোগকারী বা অভিযোগ সংশ্লিষ্ট অন্য কোনো ব্যক্তি ক্ষতিগ্রস্থ বলিয়া প্রমাণিত হইলে কর্তৃপক্ষ উক্ত অভিযোগকারী বা ক্ষতিগ্রস্থ ব্যক্তির ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করিতে পারিবে এবং ইহা প্রশাসনিক জরিমানার অতিরিক্ত হইবে।
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন নির্ধারিত ক্ষতিপূরণ ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা আর্থিক লেনদেনে নিয়োজিত মোবাইল ফিন্যানশিয়াল সার্ভিস (MFS) এর মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে প্রদেয় হইবে।
(৩) উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত পদ্ধতিতে ক্ষতিপূরণ প্রদানে কোনো ব্যক্তি ব্যর্থ হইলে উহা প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে উক্ত ব্যক্তির মালিকানাধীন স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ হইতে আদায়যোগ্য হইবে।
Section ৪৬. ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দায়ের ও বিচারার্থে গ্রহণ
(১) ব্যক্তিগত উপাত্তের সুরক্ষা বিধানকল্পে এই অধ্যাদেশ বা ব্যক্তিগত উপাত্তের সুরক্ষা সম্পর্কিত অন্য যে কোনো আইনের বিধান অনুসারে অপরাধ হিসাবে চিহ্নিত যে কোনো ঘটনার প্রতিকার প্রার্থনা করিয়া উপাত্তধারী ট্রাইব্যুনালের নিকট লিখিত অভিযোগ দায়ের করিতে পারিবেন।
(২) প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে অভিযোগের সম্পর্কে যাচাই-বাছাই, প্রয়োজনে অভিযোগকারীর বক্তব্য শ্রবণ করিয়া উক্ত অভিযোগের ভিত্তি রহিয়াছে মর্মে ট্রাইব্যুনালের নিকট প্রতীয়মান হইলে, ট্রাইব্যুনাল উহা বিচারার্থে গ্রহণ করিবেন, এবং তদন্তের জন্য প্যানেলভুক্ত একজন তদন্ত কর্মকর্তার নিকট প্রেরণ করিবেন।
Section ৪৭. তদন্ত কর্মকর্তা প্যানেল ও কার্যপদ্ধতি
(১) কর্তৃপক্ষ, প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তিগণের মধ্য হইতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক ব্যক্তি সমন্বয়ে একটি তদন্ত কর্মকর্তার প্যানেল প্রস্তুত করিবে।
(২) তদন্ত পরিচালনার বিস্তারিত পদ্ধতি প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত হইবে।
Section ৪৮. তদন্তকারী কর্মকর্তার ক্ষমতা
(১) এই অধ্যাদেশের অধীন বা ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা সংশ্লিষ্ট অন্য কোনো আইনের অধীন কোনো অপরাধ তদন্তের ক্ষেত্রে তদন্তকারী কর্মকর্তার নিম্নবর্ণিত ক্ষমতা থাকিবে, যথা:-
(২) মামলায় আনীত অভিযোগ তদন্তে প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত বলিয়া প্রতীয়মান হইলে, তদন্তকারী কর্মকর্তা প্রবিধানের বিধান অনুসরণে তদন্ত প্রতিবেদন ট্রাইব্যুনালে দাখিল করিবেন।
Section ৪৯. তদন্তের সময়সীমা
(১) তদন্তকারী কর্মকর্তা, ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক কোনো অপরাধ তদন্তের দায়িত্বপ্রাপ্তির তারিখ হইতে ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে তদন্ত কার্য সম্পন্ন করিবেন।
(২) উপ-ধারা (১) এ নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে তদন্ত কার্য সম্পন্ন না হইলে, তাহার আবেদনের প্রেক্ষিতে নিয়ন্ত্রণকারী কর্মকর্তা তদন্তের সময়সীমা ১৫ (পনের) দিন বৃদ্ধি করিতে পারিবেন।
(৩) উপ-ধারা (২) এর অধীন বর্ধিত সময়ের মধ্যে তদন্ত কার্য সম্পন্ন না হইলে উহার কারণ উল্লেখ করিয়া তিনি ট্রাইবুন্যালের নিকট তদন্তের সময়সীমা বৃদ্ধির আবেদন করিতে পারিবেন এবং আবেদনে উল্লিখিত কারণ যথার্থ বিবেচিত হইলে ট্রাইব্যুনাল তদন্তের সময়সীমা যুক্তিসঙ্গত সময় পর্যন্ত বৃদ্ধি করিতে পারিবে।
Section ৫০. তদন্তের প্রাপ্ত তথ্যের গোপনীয়তা
তদন্তের স্বার্থে এবং এই অধ্যাদেশের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে তদন্তকারী কর্মকর্তা, তদন্ত সংশ্লিষ্ট উপাত্ত-জিম্মাদার বা প্রক্রিয়াকারী বা ধারণকারী বা মজুতকারী বা আন্তঃপরিচালনের সহিত সম্পর্কিত অন্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান আদালতের অনুমতি ব্যতিরেকে ব্যক্তিগত উপাত্ত বা অন্য কোনো উপাত্ত জনসম্মুখে প্রকাশ করিবেন না।
Section ৫১. কোম্পানি কর্তৃক সংঘটিত অপরাধ
কোনো কোম্পানি কর্তৃক এই অধ্যাদেশের অধীন কোনো অপরাধ সংঘটনের ক্ষেত্রে, উক্ত অপরাধের সহিত প্রত্যক্ষ সংশ্লিষ্টতা রহিয়াছে, কোম্পানির এইরূপ প্রত্যেক মালিক, প্রধান নির্বাহী, পরিচালক, ম্যানেজার, সচিব, অংশীদার বা অন্য কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী বা প্রতিনিধি উক্ত অপরাধ সংঘটন করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবেন, যদি না তিনি প্রমাণ করিতে সক্ষম হন যে, উক্ত অপরাধ তাহার অজ্ঞাতসারে হইয়াছে বা উক্ত অপরাধ রোধ করিবার জন্য তিনি যথাসাধ্য চেষ্টা করিয়াছেন।
ব্যাখ্যা।- এই ধারার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে,-
Section ৫২. বিকল্প পদ্ধতিতে অভিযোগের নিষ্পত্তি
(১) যদি কর্তৃপক্ষ কোনো অভিযোগ মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে সমাধানযোগ্য বলিয়া মনে করে, তাহা হইলে উহা সংশ্লিষ্ট পক্ষগণকে বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য মধ্যস্থতা গ্রহণের নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবে, এবং পক্ষগণ পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে মধ্যস্থতাকারী নিয়োগের মাধ্যমে, প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করিবে।
(২) এই অধ্যাদেশের সংঘটিত অপরাধ আপোষযোগ্য হইবে এবং কোনো মামলা ট্রাইবুনালে অথবা আপিল ট্রাইব্যুনালে চলমান থাকিলে, সেই ক্ষেত্রে মামলার বিষয়ে আপোষ মীমাংসার মাধ্যমে নিষ্পত্তির জন্য পক্ষগণকে অনুমতি প্রদান করা যাইবে।
Section ৫৩. সরকারি বা সংবিধিবদ্ধ সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক বিধান লঙ্ঘনের প্রতিকার
(১) সরকারি কর্মচারীদের জন্য প্রযোজ্য হয় এইরূপ অন্য কোনো আইন বা তদধীন প্রণীত বিধি বা প্রবিধান বা আইনের ক্ষমতাসম্পন্ন অন্য কোনো দলিলে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, ব্যক্তিগত উপাত্ত প্রক্রিয়াকরণ, মজুত বা ধারণ বা হস্তান্তর বা প্রকাশ বা স্থানান্তরকালে উপাত্তধারীর অধিকার লঙ্ঘিত (Violation) হয়, এইরূপ কোনো কর্ম সম্পাদনে জড়িত সরকারি কর্মচারী এই অধ্যাদেশের বিধানাবলির অধীন প্রশাসনিক জরিমানা, এবং তাহার উপর অর্পিত দায়িত্ব পালনকালে চ্যুতি (breach) ঘটিলে ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক দণ্ডনীয় অপরাধ করিয়াছেন মর্মে গণ্য হইবেন।
(২) যে কোনো সংবিধিবদ্ধ বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রযোজ্য আইন বা উহার অধীন প্রণীত বিধি, প্রবিধান, বা আইনের ক্ষমতাসম্পন্ন অন্য কোনো দলিলে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, ব্যক্তিগত উপাত্ত প্রক্রিয়াকরণ, মজুত বা ধারণ বা হস্তান্তর বা প্রকাশ বা স্থানান্তরকালে উপাত্তধারীর অধিকার লঙ্ঘিত (violation) হয়, এইরূপ কোনো কর্ম সম্পাদনে জড়িত সংবিধিবদ্ধ বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীগণ এই অধ্যাদেশের বিধানাবলির অধীন প্রশাসনিক জরিমানা, এবং তাহার উপর অর্পিত দায়িত্ব পালনকালে চ্যুতি (breach) ঘটিলে ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক দণ্ডনীয় অপরাধ করিয়াছেন মর্মে গণ্য হইবেন।
(৩) উপ-ধারা (১) ও (২) এর অধীন বর্ণিত লঙ্ঘন বা চ্যুতির বিষয় উত্থাপিত হইলে যে কর্মচারী উহার সহিত জড়িত, বা যাহার দায়িত্ব পালনে অবহেলাজনিত উক্ত লঙ্ঘন বা অসদুদ্দেশ্যে চ্যুতি সংঘটিত হইয়াছে তিনি যে পর্যায়ের কর্মচারীই হউন না কেন, তাহাকে দায়ী করা যাইবে।
(৪) উপ-ধারা (১) ও (২) এর বিধান কার্যকর করিবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্যতা অনুযায়ী সরকার বিধি, বা কর্তৃপক্ষ প্রবিধান প্রণয়ন করিতে পারিবে।
Section ৫৪. জামিন সংক্রান্ত বিধান
এই অধ্যাদেশের অধীন অপরাধসমূহ অ-আমলযোগ্য ও জামিনযোগ্য হইবে, তবে জামিন শুনানিকালে ট্রাইব্যুনাল ন্যায়বিচার নিশ্চিত করিবার স্বার্থে জামিনের আবেদন অগ্রাহ্য করিতে পারিবেন।
Section ৫৫. ফৌজদারি কার্যবিধির প্রযোজ্যতা
অভিযোগ দায়ের, তদন্ত, বিচার ও আপিলের ক্ষেত্রে এই অধ্যাদেশে যাহা বলা হইয়াছে প্রয়োজন অনুযায়ী তাহার অতিরিক্ত ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ (১৮৯৮ সনের ৫ নং আইন) এর বিধানাবলি প্রযোজ্য হইবে।
Section ৫৬. বিচারের সময়সীমা
(১) ট্রাইব্যুনাল তদন্ত কর্মকর্তার নিকট হইতে তদন্ত প্রতিবেদন প্রাপ্তির ৬০ (ষাট) দিনের মধ্যে বিচার কার্য সম্পন্ন করিবেন।
(২) ট্রাইব্যুনাল, এই অধ্যাদেশের অধীন অপরাধের বিচারকালে দায়রা আদালতে বিচারের জন্য ফৌজদারি কার্যবিধির অধ্যায় ২৩ এ বর্ণিত পদ্ধতি, এই অধ্যাদেশের বিধানাবলির সহিত অসঙ্গতিপূর্ণ না হওয়া সাপেক্ষে, অনুসরণ করিবেন।
(৩) ট্রাইব্যুনাল, ন্যায়বিচারের স্বার্থে প্রয়োজনীয় না হইলে, এবং কারণ লিপিবদ্ধ না করিয়া, কোনো মামলার বিচার কার্য স্থগিত করিবে না।
(৪) যদি কোনো মামলায় ট্রাইব্যুনালের বিশ্বাস করিবার কারণ থাকে যে, অভিযুক্ত ব্যক্তি বিচারের দায় এড়াইবার জন্য পলাতক রহিয়াছেন বা আত্মগোপন করিয়াছেন এবং তাহাকে গ্রেফতার করিয়া বিচারের জন্য উপস্থিত করা সম্ভব নহে, তাহা হইলে ট্রাইব্যুনাল অনুরূপ ব্যক্তিকে আদেশে উল্লিখিত সময়ের মধ্যে হাজির হইবার নির্দেশ প্রদান করিয়া বহল প্রচারিত একটি বাংলা ও একটি ইংরেজি দৈনিকে এবং একটি সোশ্যাল মিডিয়ায় বিজ্ঞপ্তি প্রচার করিবে।
(৫) উপ-ধারা (৪) এ উল্লিখিত বিজ্ঞপ্তির সময়সীমার মধ্যে অভিযুক্ত ব্যক্তি ট্রাইব্যুনালে হাজির না হইলে সময় অতিক্রান্ত হইবার পর তাহার অনুপস্থিতিতেই বিচার কার্য সম্পন্ন করা যাইবে।
Section ৫৭. দায়রা আদালতের ক্ষমতা
ট্রাইবুনাল একটি দায়রা আদালত বলিয়া গণ্য হইবে এবং এই অধ্যাদেশের অধীন যে কোনো অপরাধ বা তদনুসারে অন্য কোনো অপরাধ বিচারের ক্ষেত্রে দায়রা আদালতের সকল ক্ষমতা প্রয়োগ করিতে পারিবে।
Section ৫৮. পাবলিক প্রসিকিউটর
ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনাকারী আইনজীবী পাবলিক প্রসিকিউটর বলিয়া গণ্য হইবেন।
Section ৫৯. রায় প্রদানের সময়সীমা ও রায়ের কপি
(১) ট্রাইব্যুনালের বিচারক, সাক্ষ্য অথবা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে যুক্তিতর্ক সমাপ্ত হইবার তারিখ হইতে ৭ (সাত) দিনের মধ্যে রায় প্রদান করিবেন, যদি না তিনি লিখিতভাবে কারণ উল্লেখ করিয়া উক্ত সময়সীমা অনধিক আরো ৭ (সাত) দিন বৃদ্ধি করেন।
(২) ট্রাইব্যুনাল রায় প্রদানকালে মামলা সংশ্লিষ্ট মূল পক্ষগণকে প্রবিধানের বিধান অনুসরণে একটি করিয়া রায়ের কপি প্রদান করিবেন এবং উক্তরূপ কপি অবিকল সত্যায়িত নকল বলিয়া গণ্য হইবে।
Section ৬০. আপিল দায়ের সময়সীমা
ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক প্রদত্ত রায়ের কপি প্রাপ্তির ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে আপিল দায়ের করিতে হইবে এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন, ২০০৬ এর ধারা ৮৩ অনুসরণে আপীল নিষ্পত্তি করিতে হইবে।
Section ৬১. সংক্ষুব্ধতা নিরসন কাউন্সিলের গঠন
(১) ধারা ৬২ এর উদ্দেশ্য পুরণকল্পে, সংক্ষুব্ধতা নিরসন কাউন্সিল নামে একটি কাউন্সিল থাকিবে এবং উহা নিম্নবর্ণিত ব্যক্তি সমন্বয়ে গঠিত হইবে, যথা:-
(২) ধারা ১২ এ বর্ণিত বাছাই ও পর্যালোচনা কমিটি সংক্ষুব্ধতা নিরসন কাউন্সিলের সভাপতি ও সদস্যদের নির্বাচিত করিবেন।
(৩) এই অধ্যাদেশ এবং তদধীন প্রণীত বিধিমালার বিধান অনুযায়ী সংক্ষুব্ধতা নিরসন কাউন্সিল উহার কার্যাবলি সম্পাদন করিবেন।
Section ৬২. কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে সংক্ষুব্ধতা নিরসন
(১) কোনো উপাত্তধারী, বেসরকারি উপাত্ত-জিম্মাদার বা বেসরকারি কোম্পানি কর্তৃপক্ষের কোনো আদেশ, নির্দেশ বা সিদ্ধান্ত দ্বারা সংক্ষুব্ধ হইলে উহার প্রতিকার চাহিয়া সংক্ষুব্ধতা নিরসন কাউন্সিলের নিকট আবেদন দাখিল করিতে পারিবে।
(২) সংক্ষুব্ধতা নিরসনের বিস্তারিত পদ্ধতি বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে।
(৩) সংক্ষুদ্ধতা নিরসন কাউন্সিল সংক্ষুব্ধ পক্ষসমূহের বক্তব্য লিখিত ও মৌখিকভাবে গ্রহণ করিয়া পর্যালোচনাপূর্বক উক্ত সংক্ষুব্ধতার বিষয়ে কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত রদ, পরিবর্তন বা বহাল রাখিতে পারিবে।
(৪) সংক্ষুব্ধতা নিরসন কাউন্সিল কর্তৃক তৎকর্তৃক প্রদত্ত সিদ্ধান্তের কপি বোর্ডের নিকট প্রেরণ করিবে।
Section ৬৩. সংক্ষুব্ধতা নিরসন কাউন্সিলের ক্ষমতা
(১) এই অধ্যাদেশের অন্য কোনো বিধানে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, সংক্ষুব্ধতা নিরসন কাউন্সিল উহার উপর অর্পিত দায়িত্ব পালনকালে নিম্নবর্ণিত ক্ষমতাসমূহ প্রয়োগ করিতে পারিবে, যথা:-
(২) সংক্ষুব্ধতা নিরসন কাউন্সিল প্রয়োজনে কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ে বিশেষজ্ঞ ব্যক্তির মতামত গ্রহণ করিতে পারিবে।
(৩) দেশে প্রচলিত অন্য কোনো আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই ধারার অধীন সংক্ষুব্ধতা নিরসনের সকল কার্যক্রম ডিজিটাল পদ্ধতিতে সম্পন্ন করা যাইবে।
Section ৬৪. জনসেবক
কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান, সদস্যগণ এবং কর্মচারীগণ এই অধ্যাদেশের অধীন দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে Penal Code, 1860 এর section 21 এ “public servant (জনসেবক)” অভিব্যক্তিটি যে অর্থে ব্যবহৃত হইয়াছে সেই অর্থে জনসেবক বলিয়া গণ্য হইবেন।
Section ৬৫. বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা
(১) সরকার, সরকারি গেজেট প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই অধ্যাদেশের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে।
(২) সরকার, বিধিমালার খসড়া চূড়ান্ত করিবার লক্ষ্যে উহার উপর অংশীজন বা জনসাধারণের মতামত চাহিয়া ১৪ (চৌদ্দ) দিনের সময়সীমা নির্ধারণ করিয়া খসড়াটি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করিবে, এবং তদসংক্রান্ত বিষয়ে বহুল প্রচারিত কমপক্ষে একটি বাংলা দৈনিক পত্রিকা ও একটি ইংরেজি দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করিবে।
(৩) উপ-ধারা (২) এর অধীন নির্ধারিত সময়সীমা অতিক্রান্ত হইলে অংশীজন ও জনসাধারণের নিকট হইতে প্রাপ্ত মতামত পর্যালোচনাপূর্বক, বিধিমালার খসড়াটিতে প্রয়োজনীয় সংশোধনপূর্বক উহা সরকারি গেজেটে প্রকাশ করিবে।
(৪) উপ-ধারা (১) এর সামগ্রিকভাকে ক্ষুণ্ণ না করিয়া, নিম্নবর্ণিত বিষয়সহ প্রয়োজনীয় বিষয়ে সরকার বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে, যথা:-
Section ৬৬. প্রবিধান প্রণয়নের ক্ষমতা
(১) কর্তৃপক্ষ, সরকারি গেজেট প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই অধ্যাদেশের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে বিধিমালার অন্তর্ভুক্ত নয় এইরূপ যে কোনো বিষয়ে প্রবিধান প্রণয়ন করিতে পারিবে।
(২) কর্তৃপক্ষ, প্রবিধানমালার খসড়া চূড়ান্ত করিবার লক্ষ্যে উহার উপর অংশীজন বা জনসাধারণের মতামত চাহিয়া ১৪ (চৌদ্দ) দিনের সময়সীমা নির্ধারণ করিয়া খসড়াটি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করিবে, এবং তদসংক্রান্ত বিষয়ে বহুল প্রচারিত কমপক্ষে একটি বাংলা দৈনিক পত্রিকা ও একটি ইংরেজি দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করিবে।
(৩) উপ-ধারা (২) এর অধীন নির্ধারিত সময়সীমা অতিক্রান্ত হইলে অংশীজন ও জনসাধারণের নিকট হইতে প্রাপ্ত মতামত পর্যালোচনাপূর্বক প্রবিধানমালার খসড়াটিতে প্রয়োজনীয় সংশোধনপূর্বক উহা সরকারি গেজেটে প্রকাশ করিবে।
Section ৬৭. ইংরেজিতে অনূদিত পাঠ
(১) এই অধ্যাদেশ কার্যকর হইবার পর সরকার, প্রয়োজনবোধে, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা এই অধ্যাদেশের ইংরেজিতে অনূদিত একটি নির্ভরযোগ্য পাঠ (Authentic English Text) প্রকাশ করিতে পারিবে।
(২) বাংলা পাঠ এবং ইংরেজিতে অনূদিত পাঠের মধ্যে বিরোধের ক্ষেত্রে বাংলা পাঠ প্রাধান্য পাইবে।