জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন, ২০০৯ (২০০৯ সনের ৫৩ নং আইন) রহিতক্রমে উহা পুনঃপ্রণয়নের উদ্দেশ্যে প্রণীত অধ্যাদেশ যেহেতু গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান অনুসারে মানবাধিকার সংরক্ষণ, উন্নয়ন এবং নিশ্চিতকরণ রাষ্ট্রের অন্যতম মূল লক্ষ্য; যেহেতু সর্বজনীন মানবাধিকারের ঘোষণা (Universal Declaration of Human Rights), নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক চুক্তি (International Covenant on Civil and Political Rights), অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অধিকার সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক চুক্তি (International Covenant on Economic, Social and Cultural Rights), নারীর প্রতি সকল প্রকার বৈষম্য বিলোপ সনদ [Convention on the Elimination of All forms of Discrimination Against Women (CEDAW)] এবং অন্যান্য মানবাধিকার সংক্রান্ত চুক্তিসমূহ পরিপালন করিতে বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ; এবং যেহেতু জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন, ২০০৯ (২০০৯ সনের ৫৩ নং আইন) রহিতক্রমে মানবাধিকার সংরক্ষণ, উন্নয়ন ও নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে উহা সময়োপযোগী করিয়া পুনঃপ্রণয়ন করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়; এবং যেহেতু সংসদ ভাঙ্গিয়া যাওয়া অবস্থায় রহিয়াছে এবং রাষ্ট্রপতির নিকট ইহা সন্তোষজনকভাবে প্রতীয়মান হইয়াছে যে, আশু ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় পরিস্থিতি বিদ্যমান রহিয়াছে; সেহেতু সংবিধানের ৯৩(১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি নিম্নরূপ অধ্যাদেশ প্রণয়ন ও জারি করিলেন:-
(১) এই অধ্যাদেশ জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ, ২০২৫ নামে অভিহিত হইবে।
(২) সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, যে তারিখ নির্ধারণ করিবে, সেই তারিখ হইতে এই অধ্যাদেশের ধারা ২৮ এর উপ-ধারা (৩) এর বিধান কার্যকর হইবে।
(৩) উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত বিধান ব্যতীত, এই অধ্যাদেশের অন্যান্য ধারার বিধান অবিলম্বে কার্যকর হইবে।
বিষয় বা প্রসংগের পরিপন্থি কোনো কিছু না থাকিলে, এই অধ্যাদেশে,-
(১) এই অধ্যাদেশের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন, ২০০৯ (২০০৯ সনের ৫৩ নং আইন) এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, এমনভাবে বহাল থাকিবে যেন উহা এই অধ্যাদেশের অধীন প্রতিষ্ঠিত হইয়াছে।
(২) কমিশন একটি স্বাধীন সংস্থা হইবে যাহা সরকারের কোনো মন্ত্রণালয় বা বিভাগের আওতাধীন হইবে না এবং উহার স্থায়ী ধারাবাহিকতা থাকিবে এবং এই অধ্যাদেশের বিধানাবলি সাপেক্ষে, ইহার স্থাবর ও অস্থাবর উভয় প্রকার সম্পত্তি অর্জন করিবার, অধিকারে রাখিবার এবং হস্তান্তর করিবার ক্ষমতা থাকিবে এবং [ইহা স্বীয় নামে] মামলা দায়ের করিতে পারিবে বা ইহার বিরুদ্ধেও মামলা দায়ের করা যাইবে।
(১) কমিশনের প্রধান কার্যালয় ঢাকায় হইবে এবং প্রতি বিভাগে ইহার বিভাগীয় কার্যালয় থাকিবে।
(২) কমিশন, প্রয়োজনে, জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও ইহার কার্যালয় স্থাপন করিতে পারিবে।
(১) চেয়ারপার্সন ও ৪ (চার) জন কমিশনার সমন্বয়ে কমিশন গঠিত হইবে।
(২) কমিশনের চেয়ারপার্সন ও ৪ (চার) জন কমিশনার সার্বক্ষণিক হইবেন।
(৩) কমিশনারগণের মধ্যে কমপক্ষে ১ (এক) জন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর বা সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর সদস্য হইবেন।
(৪) কমিশন গঠনের ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের সমতা নিশ্চিত করিতে সচেষ্ট হইতে হইবে এবং কমিশনারগণের মধ্যে কমপক্ষে ২ (দুই) জন নারী হইবেন।
(৫) চেয়ারপার্সন কমিশনের প্রধান নির্বাহী হইবেন।
(১) রাষ্ট্রপতি, বাছাই কমিটির সুপারিশক্রমে, কমিশনের চেয়ারপার্সন ও কমিশনারগণকে নিয়োগ করিবেন।
(২) বিষয়ভিত্তিক ও পেশাগত বৈচিত্র্যের ভিত্তিতে আইন, বিচার, শিক্ষা, স্বাস্থ্য সুরক্ষা, সমাজসেবা, মানবকল্যাণ, পরিবেশ সংরক্ষণ সংক্রান্ত এক বা একাধিক বিষয়সহ মানবাধিকারের উন্নয়ন বা বাস্তবায়নে অন্যূন ১০ (দশ) বৎসরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তিগণের মধ্য হইতে চেয়ারপার্সন ও কমিশনার নিযুক্ত হইবেন।
(৩) কোনো ব্যক্তি কমিশনার পদে নিয়োগ লাভে অযোগ্য হইবেন, যদি-
(৪) কমিশনের চেয়ারপার্সন ও কমিশনার পদে নিয়োগ প্রদানের লক্ষ্যে বাছাই কমিটি উপ-ধারা (২) ও (৩) এ উল্লিখিত বিষয়সমূহের অতিরিক্ত নিম্নবর্ণিত বিষয়সমূহ বিবেচনা করিবে, যথা:-
(৫) কমিশনের চেয়ারপার্সন এবং কমিশনারগণ অনধিক ৪ (চার) বৎসর মেয়াদের জন্য নিযুক্ত হইবেন:
তবে শর্ত থাকে যে, একই ব্যক্তি চেয়ারপার্সন বা কমিশনার হিসাবে বা উভয় পদ মিলিয়ে ২ (দুই) মেয়াদ [*] দায়িত্ব পালন করিলে তিনি পুনরায় চেয়ারপার্সন বা কমিশনার হিসাবে নিয়োগ লাভ করিবেন না।
(৬) [উপ-ধারা (৫)] এর অধীন নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হইবার পূর্বে চেয়ারপার্সন বা কোনো কমিশনার রাষ্ট্রপতির উদ্দেশ্যে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে যেকোনো সময় স্বীয় পদ ত্যাগ করিতে পারিবেন।
(৭) চেয়ারপার্সনের পদ শূন্য হইলে কিংবা অনুপস্থিতি, অসুস্থতা বা অন্য কোনো কারণে চেয়ারপার্সন তাহার দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হইলে, নবনিযুক্ত চেয়ারপার্সন তাহার পদে যোগদান না করা পর্যন্ত কিংবা চেয়ারপার্সন পুনরায় স্বীয় দায়িত্ব পালনে সমর্থ না হওয়া পর্যন্ত বয়োজ্যেষ্ঠ [*] কমিশনার চেয়ারপার্সন হিসাবে দায়িত্ব পালন করিবেন।
(১) চেয়ারপার্সন ও কমিশনারগণের শূন্য পদে নিয়োগের লক্ষ্যে সুপারিশ প্রদানের জন্য নিম্নবর্ণিত ৭ (সাত) জন সদস্য সমন্বয়ে একটি বাছাই কমিটি গঠিত হইবে, যথা:-
(২) লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ বাছাই কমিটির কার্য-সম্পাদনে প্রয়োজনীয় সাচিবিক সহায়তা প্রদান করিবে।
(৩) অন্যূন ৫ (পাঁচ) জন সদস্যের উপস্থিতিতে বাছাই কমিটির কোরাম গঠিত হইবে।
(৪) যেক্ষেত্রে সংসদ ভাঙ্গিয়া যাওয়া অবস্থায় থাকে, সেইক্ষেত্রে উপ-ধারা (১) এর দফা (খ) এ উল্লিখিত কোনো সদস্য ব্যতিরেকেই বাছাই কমিটি গঠিত হইবে এবং অনুরূপ ক্ষেত্রে ৪ (চার) জন সদস্যের উপস্থিতিতে বাছাই কমিটির কোরাম গঠিত হইবে।
(৫) এই ধারার অন্যান্য বিধানে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, বাছাই কমিটির সভাপতির অবর্তমানে বা অনুপস্থিতিতে কমিটির সভায় উপস্থিত সদস্যগণের সম্মতিতে যেকোনো সদস্য সভায় সভাপতিত্ব করিবেন।
(৬) চেয়ারপার্সন ও কমিশনার নিয়োগে সুপারিশ প্রদানের উদ্দেশ্যে সভায় উপস্থিত সদস্যগণের সংখ্যাগরিষ্ঠের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে বাছাই কমিটি সুপারিশ প্রণয়ন করিবে এবং সিদ্ধান্তের সমতার ক্ষেত্রে সভায় সভাপতিত্বকারী ব্যক্তির নির্ণায়ক সিদ্ধান্ত প্রদানের অধিকার থাকিবে।
(৭) বাছাই কমিটি নিয়োগ সম্পর্কিত কার্যক্রমে নাগরিক সমাজ ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনের সহিত পরামর্শ করিতে পারিবে।
(৮) বাছাই কমিটি উহার সভার কার্যপদ্ধতি নির্ধারণ করিতে পারিবে।
কমিশনের চেয়ারপার্সন ও কমিশনার পদে নিয়োগের উদ্দেশ্যে, এই অধ্যাদেশের অন্যান্য বিধানাবলি সাপেক্ষে, বাছাই কমিটি-
(১) সুপ্রীম কোর্টের ১ (এক) জন বিচারক যেইরূপ পদ্ধতিতে অপসারিত হইতে পারেন, সেইরূপ পদ্ধতি ব্যতীত চেয়ারপার্সন বা কোনো কমিশনারকে অপসারণ করা যাইবে না এবং সুপ্রীম জুডিসিয়াল কাউন্সিল এতদুদ্দেশ্যে চেয়ারপার্সন ও কমিশনারগণের জন্য অনুসরণীয় আচরণবিধি প্রণয়ন করিবে।
(২) উপ-ধারা (১) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, রাষ্ট্রপতি চেয়ারপার্সন বা অন্য কোনো কমিশনারকে তাহার পদ হইতে অপসারণ করিতে পারিবেন, যদি তিনি-
ব্যাখ্যা।-এই ধারার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে “সুপ্রীম জুডিসিয়াল কাউন্সিল” অর্থ সংবিধানের ৯৬ অনুচ্ছেদের দফা (৩) এর অধীন গঠিত সুপ্রীম জুডিসিয়াল কাউন্সিল।
কেবল কোনো কমিশনার পদে শূন্যতার কারণে কমিশনের কোনো কার্য বা কার্যধারা অবৈধ হইবে না।
(১) চেয়ারপার্সন সুপ্রীম কোর্টের আপীল বিভাগের বিচারকের বেতন, ভাতা ও অন্যান্য সুবিধাদি পাইবার অধিকারী হইবেন।
(২) কমিশনারগণ সুপ্রীম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারকের অনুরূপ বেতন, ভাতা ও অন্যান্য সুবিধাদি পাইবার অধিকারী হইবেন।
(১) এই অধ্যাদেশের বিধানাবলি সাপেক্ষে, কমিশন উহার সভার কার্যপদ্ধতি নির্ধারণ করিতে পারিবে।
(২) চেয়ারপার্সন কমিশনের সকল সভায় সভাপতিত্ব করিবেন এবং তাহার অনুপস্থিতিতে উপস্থিত কমিশনারগণের মধ্য হইতে বয়োজ্যেষ্ঠ [*] কমিশনার সভায় সভাপতিত্ব করিবেন।
(৩) কমিশনারগণের মধ্য হইতে অন্যূন ৩ (তিন) জনের উপস্থিতিতে কমিশনের সভার কোরাম গঠিত হইবে।
(৪) কমিশনের সভায় সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রত্যেক কমিশনারের ১ (এক) টি ভোট থাকিবে এবং ভোটের সমতার ক্ষেত্রে সভায় সভাপতিত্বকারী ব্যক্তি নির্ণায়ক সিদ্ধান্ত প্রদান করিবেন।
(৫) চেয়ারপার্সন, আবশ্যক মনে করিলে, কমিশনের সভায় কমিশনের সদস্য নহেন এমন কোনো ব্যক্তিকে কেবল মতামত ও পরামর্শ প্রদান করিবার জন্য উপস্থিত থাকিতে অনুরোধ করিতে পারিবেন।
(৬) প্রতি মাসে কমিশনের কমপক্ষে ১ (এক) টি সভা অনুষ্ঠিত হইবে।
(৭) কমিশনের সকল সভায় অনুষ্ঠিত আলোচনার বিষয়বস্তু ও গৃহীত সিদ্ধান্ত লিপিবদ্ধ করিতে হইবে এবং সভায় উপস্থিত সকল কমিশনার কর্তৃক উহা স্বাক্ষরিত হইবে।
কমিশন নিম্নবর্ণিত সকল বা যেকোনো কার্যাবলি সম্পাদন করিবে, যথা:-
ধারা ১৩ এর দফা (য) এর উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, অন্য কোনো আইনে কমিশনের উপর কোনো দায়িত্ব বা ক্ষমতা অর্পণ করা হইলে এবং উক্ত দায়িত্ব বা ক্ষমতা প্রয়োগে বিশেষ কার্যধারা বলা হইলে এই অধ্যাদেশের কোনো বিধান উক্ত দায়িত্ব বা ক্ষমতা প্রয়োগে বা উক্ত বিশেষ কার্যধারা অনুসরণ করিবার পথে বাধা হইবে না বা কমিশনের ক্ষমতাকে সীমিত করিবে না।
সংবিধান বা বলবৎ কোনো আইন দ্বারা স্পষ্টভাবে সমর্থিত না হইলে, কেবল সরকারি বা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আদেশ বা নির্দেশ মোতাবেক করা হইয়াছে, এইরূপ অজুহাতে মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায় হইতে রেহাই পাওয়া যাইবে না।
(১) এই অধ্যাদেশের অধীন মানবাধিকার লঙ্ঘন বা লঙ্ঘনের প্ররোচনা সম্পর্কে কমিশন নিম্নবর্ণিত উপায়ে অভিযোগ গ্রহণ, অনুসন্ধান, তদন্ত ও নিষ্পত্তি করিবে, যথা:-
তবে শর্ত থাকে যে, ভুক্তভোগীর অসামর্থ্য, ভয়ভীতি, বিশেষ পরিস্থিতি বা জনস্বার্থের কারণে কমিশন যুক্তিসঙ্গত কারণ দর্শাইয়া আবেদন দাখিলে বিলম্ব মওকুফ করিতে পারিবে;
তবে শর্ত থাকে যে, যেক্ষেত্রে কমিশন অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা সম্পর্কে সন্তুষ্ট, সেইক্ষেত্রে কারণ উল্লেখপূর্বক অনুসন্ধান ব্যতিরেকে সরাসরি তদন্তের আদেশ দিতে পারিবে;
তবে শর্ত থাকে যে, যেইক্ষেত্রে কমিশনের আদেশ বাস্তবায়নে বিশেষ কোনো অসুবিধা তৈরি হয়, সেইক্ষেত্রে সুপারিশ প্রাপ্তির ২ (দুই) মাসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কমিশনকে অবহিত করিবে এবং কমিশন বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করিয়া যে সুপারিশ প্রেরণ করিবে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ উক্ত সুপারিশ কমিশন কর্তৃক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাস্তবায়ন করিয়া কমিশনকে অবহিত করিবে;
(২) যেইক্ষেত্রে কোনো আদালত বা ট্রাইব্যুনালে কোনো ফৌজদারি অপরাধের বিচারিক কার্যধারা আরম্ভ করিবার নিমিত্ত তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনায় কমিশন ক্ষমতাপ্রাপ্ত হয়, সেইক্ষেত্রে উক্ত অপরাধ কমিশন কর্তৃক বা, ক্ষেত্রমত, কমিশনের তত্ত্বাবধানে নিম্নবর্ণিত প্রক্রিয়ায় তদন্তযোগ্য হইবে, যথা:-
তবে শর্ত থাকে যে, কোনো সরকারি কর্মচারী বা শৃঙ্খলা-বাহিনীর কোনো সদস্য কোনো অপরাধে অভিযুক্ত হইলে উক্ত কর্মচারী বা শৃঙ্খলা-বাহিনীর সদস্য যে প্রতিষ্ঠানে বা বাহিনীতে কর্মরত, সেই প্রতিষ্ঠান বা বাহিনীর কোনো ব্যক্তি দ্বারা উক্ত অভিযোগ তদন্ত করা যাইবে না:
আরও শর্ত থাকে যে, তদন্তকারী কর্মকর্তা যে প্রতিষ্ঠানেরই হউক না কেন, কমিশন ব্যতিরেকে অন্য কেহ তদন্তকারী কর্মকর্তাকে কোনো প্রকার নির্দেশনা প্রদানের এখতিয়ার রাখিবে না এবং তদন্তকারী কর্মকর্তা তাহার প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার মাধ্যমে নহে, বরং সরাসরি কমিশন বরাবর তাহার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করিবেন:
আরও শর্ত থাকে যে, কমিশন, প্রয়োজনে, তদন্তকারী কর্মকর্তা পরিবর্তনের আদেশ দিতে পারিবে এবং অনুরূপ আদেশ প্রদান করা হইলে ৪৮ (আটচল্লিশ) ঘণ্টার মধ্যে উক্ত মামলার কেস ডকেট কমিশনের নির্দেশ অনুসারে হস্তান্তর করিতে হইবে;
তবে শর্ত থাকে যে, অভিযুক্ত ব্যক্তি সরকারি কর্মচারী বা শৃঙ্খলা-বাহিনীর সদস্য হইলে তাহাকে গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে আদালত বা ট্রাইব্যুনাল বা, ক্ষেত্রমত, কমিশনের পূর্বানুমতি গ্রহণ করিতে হইবে এবং এইরূপ ক্ষেত্রে সরকার বা সংশ্লিষ্ট নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতির প্রয়োজন হইবে না।
(১) ধারা ১৬ এর উপ-ধারা (১) এর অধীন অভিযোগ চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি হইবার আগে যেকোনো পর্যায়ে উভয়পক্ষ যদি অভিযোগের বিষয়টি সমঝোতার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করিতে আগ্রহী হয় এবং বিষয়টি প্রচলিত আইন অনুসারে আপসঅযোগ্য অপরাধ সম্পর্কিত না হয়, তাহা হইলে কমিশন অনুসন্ধান, তদন্ত বা প্রতিকার প্রদানের প্রক্রিয়া স্থগিত করিয়া বা, ক্ষেত্রমত, চালু রাখিয়া বিষয়টি মধ্যস্থতার মাধ্যমে নিষ্পত্তির ব্যবস্থা করিতে পারিবে এবং উক্ত মধ্যস্থতা সফল না হইলে, যেইক্ষেত্রে কার্যধারা স্থগিত রাখা হয়, সেইক্ষেত্রে কার্যধারা যেই পর্যায়ে স্থগিত হইয়াছিল, সেই পর্যায় হইতে পুনরায় কার্যধারা আরম্ভ করিবে:
তবে শর্ত থাকে যে, যেক্ষেত্রে মধ্যস্থতা চলাকালে অনুসন্ধান, তদন্ত বা প্রতিকার প্রদানের প্রক্রিয়া স্থগিত করা হয়, সেইক্ষেত্রে অনধিক ৬০ (ষাট) কার্যদিবসের মধ্যে মধ্যস্থতা কার্যক্রম সম্পন্ন করিতে হইবে।
(২) এই ধারার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, কমিশন এক বা একাধিক ব্যক্তিকে মধ্যস্থতা বা সমঝোতার জন্য নিয়োগ করিতে পারিবে।
(৩) মধ্যস্থতা ও সমঝোতাকারীর নিয়োগের পদ্ধতি এবং ক্ষমতা প্রবিধান দ্বারা নির্ধারণ করা যাইবে।
(৪) মীমাংসা কার্যকর করণার্থে কমিশন তৎকর্তৃক যথাযথ বিবেচিত ক্ষতিপূরণ বা, ক্ষেত্রমত, জরিমানা প্রদানের নির্দেশসহ অন্যান্য নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবে।
(১) অনুসন্ধান বা তদন্তকালে যেইক্ষেত্রে কমিশনের নিকট প্রতীয়মান হয় যে, ভুক্তভোগী অবিলম্বে বিশেষ কোনো সহায়তা বা সুরক্ষা না পাইলে গুরুতর ক্ষতির সম্মুখীন হইবেন, সেইক্ষেত্রে কমিশন যথোপযুক্ত কর্তৃপক্ষকে লিখিত আদেশ দ্বারা অন্তর্বর্তীকালীন সহায়তা, সুরক্ষা বা অন্য যেকোনো প্রয়োজনীয় আদেশ প্রদান করিতে পারিবে এবং কমিশন কর্তৃক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ উক্ত আদেশ বাস্তবায়ন করিবে।
(২) কোনো সরকারি কর্মচারী কিংবা শৃঙ্খলা-বাহিনীর কোনো সদস্য বা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্ত চলাকালে কমিশন উক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে যেকোনো আইনানুগ অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ বা সুপারিশ করিতে পারিবে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কমিশন কর্তৃক নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে উক্ত নির্দেশ বা সুপারিশ কার্যকর করিবে।
(৩) যেইক্ষেত্রে এই ধারার অধীন অন্তর্বর্তীকালীন সহায়তা প্রদান করিতে অর্থ ব্যয় হয়, সেইক্ষেত্রে কমিশন পরবর্তীতে দায়ী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নিকট হইতে উক্ত অর্থ আদায় করিবার ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে পারিবে।
(১) সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের অধীন আবেদন হইতে উদ্ভূত কোনো বিষয় তদন্তক্রমে প্রতিবেদন পেশ করিবার জন্য সুপ্রীম কোর্ট, কমিশনের নিকট প্রেরণ করিতে পারিবে।
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন প্রেরিত বিষয়ে কমিশন তদন্ত করিয়া রেফারেন্সে উল্লিখিত সময়সীমা, যদি থাকে, এর মধ্যে সুপ্রীম কোর্টে প্রতিবেদন প্রেরণ করিবে।
(১) এই অধ্যাদেশের অধীন কার্যাবলি সম্পাদনের ক্ষেত্রে কিংবা অনুসন্ধান বা তদন্তের ক্ষেত্রে কমিশন, কমিশন কর্তৃক নিযুক্ত ব্যক্তি বা তদন্তকারী কর্মকর্তার নিম্নবর্ণিত বিষয়ে Code of Civil Procedure (Act No. V of 1908) এর অধীন একটি দেওয়ানি আদালতের অনুরূপ ক্ষমতা থাকিবে, যথা:-
(২) কমিশন, তদ্কর্তৃক নিযুক্ত ব্যক্তি বা [তদন্তকারী কর্মকর্তা] কোনো রাষ্ট্রীয় বা সরকারি প্রতিষ্ঠান বা শৃঙ্খলা-বাহিনীর যেকোনো পর্যায়ের কর্তৃপক্ষ হইতে প্রতিবেদন বা তথ্য-প্রমাণ তলব করিতে পারিবে এবং উক্ত কর্তৃপক্ষ এইক্ষেত্রে তদন্তকারী কর্মকর্তাকে সহযোগিতা করিবে।
(৩) অন্য কোনো আইনে ভিন্নরূপ যাহা কিছু থাকুক না কেন, কমিশন তাহার কার্যাবলি সম্পাদনের উদ্দেশ্যে যেকোনো সময় যেকোনো স্থান পরিদর্শন করিতে পারিবে এবং এইরূপ ক্ষেত্রে উক্ত স্থানের নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমোদন গ্রহণ বা তাহাদিগকে অবহিত করিবার আবশ্যকতা প্রযোজ্য হইবে না এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কমিশনের পরিদর্শন কাজে সহযোগিতা করিবে।
(৪) কমিশন ইহার কার্যাবলি সম্পাদনের ক্ষেত্রে কিংবা তদন্ত বা অনুসন্ধান কার্যক্রমে জনগণ কিংবা যেকোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ বা সম্পৃক্ততার বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিতে পারিবে।
(১) কমিশনের নিকট সাক্ষ্য প্রদানকারী ব্যক্তি আদালতে সাক্ষ্য প্রদানকারী ব্যক্তির ন্যায় সকল সুযোগ-সুবিধার অধিকারী হইবেন।
(২) কমিশনের সম্মুখে সাক্ষ্য প্রদানকালে কোনো ব্যক্তি কর্তৃক প্রদত্ত বিবৃতি বা বক্তব্যের জন্য তাহার বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি বা দেওয়ানি মামলা রুজু করা যাইবে না বা উক্ত বিবৃতি বা বক্তব্য তাহার বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি বা দেওয়ানি কার্যধারায় ব্যবহার করা যাইবে না, তবে উক্তরূপ বিবৃতি বা বক্তব্যের মধ্যে কোনো মিথ্যা সাক্ষ্য থাকিলে তজ্জন্য তিনি ফৌজদারি দায় হইতে অব্যাহতি পাইবেন না।
(১) এই অধ্যাদেশের অধীন প্রত্যেক সমন চেয়ারপার্সন বা কমিশনার বা কমিশন কর্তৃক তদুদ্দেশ্যে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কমিশনের কোনো কর্মকর্তার স্বাক্ষরে জারি করা হইবে।
(২) প্রত্যেক সমন উহাতে উল্লিখিত ব্যক্তির নিকট এবং যেইক্ষেত্রে তাহা সম্ভব না হয় সেইক্ষেত্রে জানামতে তাহার সর্বশেষ বাসস্থানের ঠিকানায় সরবরাহ করিয়া বা রেজিস্ট্রিকৃত ডাকযোগে প্রেরণ করিয়া জারি করা হইবে এবং ইহা ছাড়াও উপযুক্ত ক্ষেত্রে তথ্যপ্রযুক্তির যেকোনো মাধ্যমে প্রেরণ করা হইবে।
(৩) যে ব্যক্তির নিকট সমন জারি করা হয় তিনি উহাতে উল্লিখিত সময় ও স্থানে কমিশনের সম্মুখে উপস্থিত থাকিবেন এবং কমিশন কর্তৃক তাহাকে জিজ্ঞাসিত সকল প্রশ্নের জবাব দিবেন এবং তাহার নিকট হইতে যাচিত এবং তাহার দখলে আছে এইরূপ সকল দলিল সমনের মর্মার্থ অনুসারে উপস্থাপন করিবেন।
(১) এই অধ্যাদেশের অধীন আরোপিত ক্ষতিপূরণ বা জরিমানার অর্থ দায়ী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিদ্যমান বা ভবিষ্যৎ সম্পত্তি হইতে আদায়যোগ্য হইবে।
(২) এই অধ্যাদেশের অধীন ক্ষতিপূরণ বা জরিমানার অনাদায়ী অর্থ প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট বা, ক্ষেত্রমত, কালেক্টর এর মাধ্যমে আদায় করা যাইবে এবং অনাদায়ী অর্থ আদায়ের জন্য কমিশন এখতিয়ারসম্পন্ন প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট বা, ক্ষেত্রমত, কালেক্টর এর নিকট অনুরোধপত্র প্রেরণ করিলে উহার ভিত্তিতে ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৮৬ ও ৩৮৭ এর প্রক্রিয়া অনুসারে অর্থ আদায় প্রক্রিয়া আরম্ভ হইবে [;] প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট, অনাদায়ী অর্থ আদায়ের জন্য ফৌজদারি কার্যবিধিতে জরিমানা আদায়ের জন্য বর্ণিত পদ্ধতিতে পরোয়ানা জারি করিতে পারিবেন এবং জারির পর অনাদায়ী সম্পূর্ণ অর্থ বা উহার কোনো অংশের জন্য দায়ী ব্যক্তিকে অনধিক ৩ (তিন) মাস অথবা পরিশোধ হওয়া পর্যন্ত, যাহা পূর্বে ঘটে, কারাদণ্ডের আদেশ প্রদান করিতে পারিবে।
(১) প্রতি বৎসরের ৩১ মার্চ এর মধ্যে কমিশন উহার পূর্ববর্তী বৎসরের কার্যাবলি সম্পর্কে একটি প্রতিবেদন রাষ্ট্রপতি ও বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতির নিকট পেশ করিবে।
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন প্রতিবেদনের সহিত একটি স্মারকলিপি থাকিবে, যাহাতে, অন্যান্যের মধ্যে, কমিশনের সুপারিশ অনুসারে সরকার বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কর্তৃক কোনো ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম বা ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হইলে সেইক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম বা ব্যবস্থা গ্রহণ না করিবার কারণ কমিশন, যতদূর অবগত ততদূর, লিপিবদ্ধ থাকিবে।
(৩) উপ-ধারা (১) এর অধীন প্রতিবেদন দাখিল করার ৭ (সাত) কার্যদিবসের মধ্যে কমিশন তাহার ওয়েসবাইটে উক্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করিবে এবং উক্ত প্রতিবেদন মূল্যায়ন এবং কমিশনের পরবর্তী কর্মসূচি নির্ধারণে পরামর্শ গ্রহণের লক্ষ্যে মানবাধিকার রক্ষায় নিয়োজিত নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের সহিত, যথাশীঘ্র সম্ভব, একটি উন্মুক্ত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক মতবিনিময় সভার আয়োজন করিবে।
(১) কোনো ব্যক্তি যুক্তিসঙ্গত তথ্যের ভিত্তিতে কোনো মানবাধিকার লংঘনের ঘটনার তথ্য প্রমাণ কমিশন বা, ক্ষেত্রমত, তদন্তকারী কর্মকর্তার নিকট প্রকাশ করিলে তিনি জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট তথ্য প্রকাশ (সুরক্ষা প্রদান) আইন, ২০১১ (২০১১ সনের ৭ নং আইন) এর অধীনে সুরক্ষার অধিকারী হইবেন এবং উক্ত আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে কমিশন বা, ক্ষেত্রমত, তদন্তকারী কর্মকর্তা উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ হিসাবে গণ্য হইবে।
(২) কমিশন নিজ বিবেচনায় বা ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি বা তাহার প্রতিনিধির আবেদনের ভিত্তিতে মানবাধিকার লংঘন সংক্রান্ত ঘটনার অভিযোগকারী, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বা সংবাদমাধ্যমে তথ্য প্রকাশকারী, ভুক্তভোগী বা কোনো সাক্ষীর গোপনীয়তা রক্ষার্থে কিংবা প্রতিশোধ, ভীতিপ্রদর্শন, হুমকি বা যেকোনো প্রকার বিরূপ কার্য হইতে নিরাপত্তা ও সুরক্ষা প্রদানের লক্ষ্যে উপযুক্ত যেকোনো [আদেশ প্রদান করিতে পারিবে] এবং উক্ত আদেশ বাস্তবায়নে ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাইবে।
(১) এই অধ্যাদেশের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, কমিশন যেকোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে প্রয়োজনীয় আদেশ প্রদান করিতে পারিবে এবং উক্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান উক্ত আদেশ প্রতিপালন করিতে বাধ্য থাকিবে।
(২) কোনো ব্যক্তি কমিশনের আদেশ প্রতিপালনে ব্যর্থ হইলে বা গাফিলতি প্রদর্শন করিলে, তাহা দায়ী ব্যক্তির অদক্ষতা ও অসদাচরণ বলিয়া বিবেচিত হইবে এবং যদি উক্ত ব্যক্তি কোনো সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকেন, তবে উক্ত অদক্ষতা ও অসদাচরণ প্রযোজ্য ক্ষেত্রে তাহার বার্ষিক গোপনীয় প্রতিবেদনে লিপিবদ্ধ এবং প্রযোজ্য চাকরি বিধি অনুযায়ী তাহার বিরুদ্ধে ব্যবস্থাসহ উপযুক্ত শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাইবে এবং যেইক্ষেত্রে দায়ী ব্যক্তি কোনো প্রতিষ্ঠানে চাকরিরত না থাকেন, সেইক্ষেত্রে তাহার বিরুদ্ধে কমিশনের বিবেচনায় যেকোনো ব্যবস্থা গ্রহণ [করা যাইবে এবং কমিশন কোনো আদেশ প্রদান করিলে আদিষ্ট ব্যক্তি কমিশনের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নপূর্বক দ্রুততম সময়ে তাহা কমিশনকে অবহিত করিবে]।
(৩) কোনো প্রতিষ্ঠান কমিশনের আদেশ প্রতিপালনে ব্যর্থ হইলে বা গাফিলতি প্রদর্শন করিলে, যেইক্ষেত্রে উক্ত প্রতিষ্ঠান রাষ্ট্রীয় বা সরকারি প্রতিষ্ঠান বা শৃঙ্খলা-বাহিনী হয়, সেইক্ষেত্রে উহার সচিব বা প্রত্যক্ষভাবে সংশ্লিষ্ট অন্য কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী এবং যেইক্ষেত্রে উক্ত প্রতিষ্ঠান কোনো কোম্পানি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান হয়, সেইক্ষেত্রে উহার মালিক, অংশীদার, স্বত্ত্বাধিকারী, চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, পরিচালক, জেনারেল ম্যানেজার, ম্যানেজার বা এজেন্ট, কমিশনের আদেশ প্রতিপালনে ব্যর্থ হইয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবেন, যদি না তিনি প্রমাণ করিতে সক্ষম হন যে, উক্ত ব্যর্থতা তাহার অজ্ঞাতসারে হইয়াছে অথবা উক্ত ব্যর্থতা প্রতিরোধে তিনি যথাসাধ্য চেষ্টা করিয়াছেন।
আদালতে বিচারাধীন বা ন্যায়পাল কর্তৃক বিবেচ্য কোনো বিষয়ে কমিশন তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করিবে না:
তবে শর্ত থাকে যে, উল্লিখিত বিষয়ের সহিত যদি মানবাধিকার লংঘনের বিষয় জড়িত থাকে, সেইক্ষেত্রে আদালত বা, ক্ষেত্রমত, ন্যায়পালের অনুমোদনক্রমে কমিশন বিষয়টির উপর তদন্ত পরিচালনা করিতে পারিবে এবং তদন্ত শেষে তদন্ত প্রতিবেদন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আদালত বা ন্যায়পালের নিকট দাখিল করিবে।
(১) কমিশনের একজন সচিব থাকিবে।
(২) এই অধ্যাদেশের অধীন কমিশন উহার কার্যাবলি সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সংখ্যক অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ করিতে পারিবে:
তবে শর্ত থাকে যে, কমিশনের মানবাধিকার সংরক্ষণমূলক কার্যক্রমে কর্মকর্তা নিয়োগের ক্ষেত্রে আইন বা মানবাধিকারের সহিত সংশ্লিষ্ট বিষয়ে শিক্ষাগত যোগ্যতাকে প্রাধান্য দিতে হইবে।
(৩) সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বেতন, ভাতা, ছুটি, ভবিষ্য তহবিল, গ্র্যাচুইটি, পেনশন ও চাকরির অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা সংক্রান্ত আইন ও বিধিমালা, প্রয়োজনীয় অভিযোজন সহকারে, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনে নিযুক্ত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে এবং চাকরির অন্যান্য শর্তাদি প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত হইবে।
(৪) সরকার, কমিশনের লিখিত অনুরোধের ভিত্তিতে এবং কমিশনের অনুমোদন সাপেক্ষে, প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্ত কোনো ব্যক্তি বা সরকারি কর্মচারীকে, কমিশনে, প্রেষণে নিয়োগ করিতে পারিবে:
তবে শর্ত থাকে যে, প্রেষণে নিযুক্ত ব্যক্তি বা সরকারি কর্মচারীদের সংখ্যা কমিশনের মোট জনবলের ৩০ (ত্রিশ) শতাংশের অধিক হইবে না।
(১) কমিশন, স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয়সমূহ হইতে আইন বা মানবাধিকারের সহিত সংশ্লিষ্ট বিষয়ে স্নাতক বা স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী শিক্ষার্থীদের জন্য নিয়মিত ইন্টার্নশিপের ব্যবস্থা করিবে এবং অর্থ বিভাগ এই খাতে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ করিবে।
(২) কমিশন, ইন্টার্নশিপের সংখ্যা ও শর্তাদি নির্ধারণে এতদ্সংক্রান্ত সরকারি বিধিবিধান অনুসরণ করিতে পারিবে বা প্রবিধান প্রণয়ন করিতে পারিবে।
(১) কমিশনের প্রয়োজনীয় সংখ্যক কর্মকর্তা ও কর্মচারীর সমন্বয়ে অনুসন্ধান ও তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনার জন্য কমিশন এক বা একাধিক তদন্ত দল গঠন করিতে পারিবে।
(২) কমিশনের লিখিত সুপারিশ ও মতামতের ভিত্তিতে সরকার, প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্ত যেকোনো ব্যক্তি বা সরকারি কর্মচারীকে, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা কমিশনের তদন্ত দলে প্রেষণে নিয়োগ প্রদান করিতে পারিবে এবং উক্ত নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য শর্তাবলি নির্ধারণ করিতে পারিবে।
[৩০ক। (১) নির্যাতন এবং অন্যান্য নিষ্ঠুর, অমানবিক বা লাঞ্ছনাকর আচরণ এবং দণ্ডবিরোধী সনদের ঐচ্ছিক প্রটোকল (Optional Protocol to the Convention against Torture and other Cruel, Inhuman or Degrading Treatment or Punishment) এর উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, কমিশন, নিম্নবর্ণিত সদস্য সমন্বয়ে জাতীয় প্রতিরোধ ব্যবস্থা বিভাগ (National Preventive Mechanism Division), অতঃপর উক্ত বিভাগ বলিয়া উল্লিখিত, গঠন করিবে, যথা:—
(২) উক্ত বিভাগ পেশাগত বৈচিত্র্যের ভিত্তিতে আইন, ফরেনসিক মেডিসিন, মনোবিজ্ঞান বা মানসিক স্বাস্থ্য, লিঙ্গ (gender) বা আটক ব্যবস্থাপনা বিষয়ে বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিদের সদস্য হিসাবে কো-অপ্ট করিতে বা পরামর্শক হিসাবে নিয়োগ করিতে পারিবে।
(৩) উক্ত বিভাগের নিম্নবর্ণিত দায়িত্ব ও এখতিয়ার থাকিবে, যথা:—
(৪) এই ধারার অধীন দায়িত্ব পালনের উদ্দেশ্যে, উক্ত বিভাগ জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনারের কার্যালয়ের নির্যাতন প্রতিরোধ বিষয়ক উপকমিটি (Subcommittee on Prevention of Torture), বিভিন্ন দেশের জাতীয় প্রতিরোধ ব্যবস্থা এবং প্রাসঙ্গিক অন্যান্য জাতীয় বা আন্তর্জাতিক সংস্থার সহিত পারস্পরিক সহযোগিতা ও যোগাযোগ বজায় রাখিবে।
(৫) উক্ত বিভাগ পরিদর্শন ও তদন্ত সম্পর্কিত বিষয়ে ধারা ২০ এ উল্লিখিত ক্ষমতা প্রয়োগ করিতে পারিবে।
(৬) উক্ত বিভাগের সুপারিশ কমিশন কর্তৃক অনুমোদিত হইলে কমিশন উহা বাস্তবায়নের জন্য এই অধ্যাদেশের অধীন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করিবে।
(৭) উক্ত বিভাগ তথ্যের গোপনীয়তা ও তথ্য প্রদানকারীর সুরক্ষা নিশ্চিত করিবার উদ্দেশ্যে ধারা ২৫ এ উল্লিখিত ক্ষমতা প্রয়োগ করিতে পারিবে।
(৮) উক্ত বিভাগের কার্যাবলি কার্যকরভাবে সম্পাদনের জন্য সরকার পর্যাপ্ত জনবল, প্রযুক্তিগত সহায়তা ও অর্থ প্রদান করিবে; এবং উক্ত বিভাগের জন্য কমিশনের অধীন একটি পৃথক ও সুরক্ষিত বাজেট বরাদ্দ থাকিবে, যাহা উক্ত বিভাগের কার্যকারিতা ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করিবার জন্য পর্যাপ্ত হইবে।
(৯) উক্ত বিভাগ উহার কার্যক্রম সম্পর্কিত একটি পৃথক বার্ষিক প্রতিবেদন প্রস্তুত করিবে এবং ধারা ২৪ এর অধীন নির্ধারিত পদ্ধতিতে উহা দাখিল ও প্রকাশ করিবে; একইসঙ্গে উক্ত প্রতিবেদন জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয়ের নির্যাতন প্রতিরোধ বিষয়ক উপকমিটিতে (Subcommittee on Prevention of Torture) প্রেরণ করা হইবে।]
(১) আইনগত কার্যক্রম পরিচালনার জন্য কমিশনের একটি পৃথক শাখা থাকিবে।
(২) যেক্ষেত্রে মানবাধিকার লংঘনের কোনো অভিযোগ বা ঘটনা প্রচলিত আইন বা ব্যবস্থায় কোনো আদালত, মীমাংসা প্রতিষ্ঠান বা অনুরূপ অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান কর্তৃক কার্যকর সুরাহা করা সম্ভব মর্মে কমিশনের নিকট প্রতীয়মান হয়, সেইক্ষেত্রে কমিশন, উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত শাখার মাধ্যমে, অভিযোগকারীর পক্ষে উপযুক্ত আদালত বা প্রতিষ্ঠানে মামলা বা অন্যান্য আইনগত কার্যধারা দায়ের ও পরিচালনা, অভিযোগকারী ও ভুক্তভোগীর আইনগত সহায়তা ও সুরক্ষা প্রদান এবং প্রয়োজনীয় অন্য যেকোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করিতে পারিবে।
(৩) কমিশন, মামলা বা আইনি কার্যধারা পরিচালনার জন্য, অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আইনজীবীগণের সমন্বয়ে একটি প্যানেল গঠন করিবে এবং প্রবিধান দ্বারা তাহাদের নিয়োগের শর্ত বা সম্মানীর পরিমাণ নির্ধারণ করিতে পারিবে।
(১) কমিশন, এই অধ্যাদেশের অধীন অর্পিত কার্যাবলি সম্পাদন, মানবাধিকার সুরক্ষা ও উন্নয়নকল্পে গবেষণা, পর্যালোচনা ও প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রণয়নের লক্ষ্যে, ধর্মীয় সংখ্যালঘু, পার্বত্য অঞ্চল ও সমতলে বসবাসকারী ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠী, সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠী, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, হিজড়া জনগোষ্ঠী, নারী, শিশু, প্রবীণ, শ্রমিক, প্রবাসী জনগোষ্ঠীর অধিকার, পরিবেশগত অধিকারসহ অন্যান্য বিষয়ে কমিশনের বিবেচনায় প্রয়োজনীয় সংখ্যক বিষয়ভিত্তিক কমিটি গঠন করিতে পারিবে।
(২) উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত কমিটি সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধি, বিষয়ভিত্তিক বিশেষজ্ঞ ও মানবাধিকারকর্মীদের সমন্বয়ে গঠিত হইবে এবং কমিশন কর্তৃক মনোনীত একজন কমিশনার উক্ত কমিটির সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব পালন করিবেন।
(৩) উক্ত কমিটি, কমিশনের অনুমোদন সাপেক্ষে, ইহার কার্যপদ্ধতি ও কর্মসূচি নির্ধারণ করিতে পারিবে।
(৪) উক্ত কমিটি, কমিশনের অনুমোদন সাপেক্ষে, ধারা [২০] এর অধীন ক্ষমতা প্রয়োগ করিতে পারিবে এবং কমিটির সুপারিশ কমিশন কর্তৃক অনুমোদন হইলে কমিশন উহা বাস্তবায়নের জন্য এই [অধ্যাদেশের] অধীন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করিবে।
(১) এই অধ্যাদেশের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, মানবাধিকার কমিশন তহবিল নামে একটি তহবিল গঠিত হইবে।
(২) মানবাধিকার কমিশন তহবিল, অতঃপর এই ধারায় তহবিল বলিয়া উল্লিখিত, এর পরিচালনা ও প্রশাসন, কমিশনের উপর ন্যস্ত থাকিবে।
(৩) তহবিল হইতে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির চিকিৎসা, পুনর্বাসন, ক্ষতিপূরণ ও আইনগত সহায়তা প্রদানের ব্যয়সহ অনুরূপ অন্যান্য ব্যয় নির্বাহ করা হইবে।
(৪) তহবিলে নিম্নবর্ণিত অর্থ জমা হইবে, যথা:-
তবে শর্ত থাকে যে, স্বার্থের সংঘাত সৃষ্টি হইতে পারে কিংবা এই অধ্যাদেশের সহিত অসংগতির কারণ হইতে পারে, এমন কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান হইতে অনুদান গ্রহণ করা যাইবে না।
(৫) কমিশন [প্রবিধান] দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে তহবিল পরিচালনা করিবে এবং আয়-ব্যয়ের হিসাব সংরক্ষণ করিবে।
[৩৫। (১) সরকার প্রতি অর্থ বৎসরে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের ব্যয়ের জন্য, কমিশন হইতে প্রাপ্ত প্রস্তাব বিবেচনাক্রমে, উহার অনুকূলে বাজেটে নির্দিষ্টকৃত অর্থ বরাদ্দ করিবে; এবং অনুমোদিত ও নির্ধারিত খাতে উক্ত বরাদ্দকৃত অর্থ হইতে ব্যয় করিবার ক্ষেত্রে সরকারের পূর্বানুমোদন গ্রহণ করা কমিশনের জন্য আবশ্যক হইবে না:
তবে শর্ত থাকে যে, সরকার কর্তৃক, সময় সময়, জারীকৃত ব্যয় বন্ধ সম্পর্কিত বিধি-বিধান এইক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে।
(২) এই ধারার বিধান দ্বারা সংবিধানের ১২৮ অনুচ্ছেদে প্রদত্ত মহা-হিসাব নিরীক্ষকের অধিকারকে ক্ষুণ্ন করা যাইবে না।]
(১) কমিশন যথাযথভাবে উহার হিসাব রক্ষণ করিবে করিবে এবং হিসাবের বার্ষিক বিবরণী প্রস্তুত করিবে।
(২) বাংলাদেশের মহা-হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, অতঃপর মহা-হিসাব নিরীক্ষক নামে অভিহিত, প্রতি বৎসর কমিশনের হিসাব নিরীক্ষা করিবেন এবং নিরীক্ষা রিপোর্টের একটি করিয়া অনুলিপি সরকার ও কমিশনের নিকট পেশ করিবেন।
(৩) উপ-ধারা (২) এর অধীন হিসাব নিরীক্ষার উদ্দেশ্যে মহা-হিসাব নিরীক্ষক কিংবা তদ্কর্তৃক এতদুদ্দেশ্যে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি কমিশনের সকল রেকর্ড, দলিল দস্তাবেজ, নগদ বা ব্যাংকে গচ্ছিত অর্থ, জামানত, ভাণ্ডার এবং অন্যবিধ সম্পত্তি পরীক্ষা করিয়া দেখিতে পারিবেন এবং কমিশনের কোনো কমিশনার বা যেকোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর সহিত উক্ত বিষয়ে আলোচনা করিতে পারিবেন।
কমিশন উহার যেকোনো ক্ষমতা, তৎকর্তৃক নির্ধারিত শর্তে, চেয়ারপার্সন, কমিশনার, সচিব বা যেকোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীকে অর্পণ করিতে পারিবে।
(১) কমিশন বা, ক্ষেত্রমত, ইহার ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো কর্মকর্তার কার্য সম্পাদনে বাধা তৈরি করা হইলে কিংবা আইনগত কর্তৃত্ব অবমাননা সম্পর্কিত দণ্ডবিধির CHAPTER X ও section 228 এ উল্লিখিত কোনো অপরাধ সংঘটিত হইলে ফৌজদারি কার্যবিধির CHAPTER XXXV এর বিধান, যতদূর সম্ভব, অনুসরণ করিয়া ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাইবে।
(২) কমিশন, ফৌজদারি কার্যবিধির CHAPTER XXXV এর উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, দেওয়ানি আদালত হিসাবে গণ্য হইবে এবং ইহার কার্যধারা দণ্ডবিধির section 193 ও section 228 এর উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, বিচারিক কার্যধারা (Judicial Proceeding) হিসাবে গণ্য হইবে।
(৩) চেয়ারপার্সন, কমিশনার, সচিব, অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মচারী এবং এই অধ্যাদেশের অধীন কার্য সম্পাদনের জন্য কমিশন হইতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রত্যেক কর্মকর্তা দণ্ডবিধির section 21 এর public servant অভিব্যক্তিটি যে অর্থে ব্যবহৃত হইয়াছে সেই অর্থে public servant বলিয়া গণ্য হইবেন।
যেইক্ষেত্রে এই অধ্যাদেশের অধীন দায়িত্ব পালনকালে বিবেচনাধীন কোনো বিষয়ে কোনো কমিশনারের স্বার্থ জড়িত থাকে, সেইক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কমিশনার, যথাশীঘ্র সম্ভব, বিষয়টি কমিশনকে অবহিত করিবেন এবং উক্ত বিষয়ে কমিশনের অনুসন্ধান, তদন্ত ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করা হইতে বিরত থাকিবেন।
এই অধ্যাদেশের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, কমিশন, রাষ্ট্রপতির অনুমোদনক্রমে, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, প্রবিধান প্রণয়ন করিতে পারিবে:
তবে শর্ত থাকে যে, প্রবিধান প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত, কমিশন লিখিত আদেশ দ্বারা যে পদ্ধতি নির্ধারণ করিবে, কমিশন উহার কার্য নির্বাহের ক্ষেত্রে উক্ত পদ্ধতি অনুসরণ করিবে।
(১) এই অধ্যাদেশ প্রবর্তনের পর সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই অধ্যাদেশের ইংরেজিতে অনূদিত একটি নির্ভরযোগ্য পাঠ প্রকাশ করিতে পারিবে।
(২) এই অধ্যাদেশ ও ইংরেজি পাঠের মধ্যে বিরোধের ক্ষেত্রে এই অধ্যাদেশ প্রাধান্য পাইবে।
(১) জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন, ২০০৯ (২০০৯ সনের ৫৩ নং আইন), অতঃপর উক্ত আইন বলিয়া উল্লিখিত, এতদ্দ্বারা রহিত করা হইল।
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন রহিতকরণ সত্ত্বেও, উক্ত আইনের অধীন-