২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসের গণঅভ্যূত্থান ও স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের ইতিহাস, নিদর্শন ও দলিলাদি সংরক্ষণ, গবেষণা ও প্রদর্শনের জন্য জুলাই গণঅভ্যূত্থান স্মৃতি জাদুঘর প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনার উদ্দেশ্যে প্রণীত অধ্যাদেশ যেহেতু ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে বাংলাদেশে একটি সফল গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হইয়াছে; এবং যেহেতু উক্ত গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচারী শাসকগোষ্ঠীর পতন ঘটিয়াছে; এবং যেহেতু বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবন ছিল স্বৈরাচারী সরকারের উত্থান, ক্রমবিকাশ ও সকল প্রকার নিবর্তনমূলক কার্যক্রমের সূতিকাগার এবং তাহা দমন-পীড়নমূলক বিবিধরূপ কর্মকাণ্ড ও নৃশংসতার প্রতীক হইয়া উঠিয়াছিল; এবং যেহেতু ইতিহাসের স্বার্থে ২০০৯ সাল হইতে আরম্ভ হওয়া ফ্যাসিস্ট একনায়ক শেখ হাসিনার দুঃশাসন ও অপকর্মের সকল প্রতীক, প্রমাণ, স্মারক ও দলিল দস্তাবেজ জাদুঘরে যত্ন সহকারে সংরক্ষণ করা প্রয়োজন; এবং যেহেতু ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে সংঘটিত সফল গণঅভ্যূত্থানের স্মৃতি সংবলিত সকল প্রকার নিদর্শন সংগ্রহ করিয়া জাতীয় ইতিহাসের প্রামাণিক অভিলেখাগার স্থাপন করা অত্যাবশ্যক; এবং যেহেতু ফ্যাসিবাদী শাসনের উত্থান ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রতীক হিসাবে পতিত স্বৈরাচারী সরকারের সরকার প্রধানের বাসভবন গণভবনকে একটি স্বতন্ত্র জাদুঘরে রূপান্তর করিবার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়াছে; এবং যেহেতু ২৪ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে গণভবনকে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর হিসাবে প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব অনুমোদিত হইয়াছে; এবং যেহেতু জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর স্থাপন ও পরিচালনার উদ্দেশ্যে বিধান প্রণয়ন করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়; এবং যেহেতু সংসদ ভাঙ্গিয়া যাওয়া অবস্থায় রহিয়াছে এবং রাষ্ট্রপতির নিকট ইহা সন্তোষজনকভাবে প্রতীয়মান হইয়াছে যে, আশু ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় পরিস্থিতি বিদ্যমান রহিয়াছে; সেহেতু গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৯৩(১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি নিম্নরূপ অধ্যাদেশ প্রণয়ন ও জারি করিলেন:-
(১) এই অধ্যাদেশ জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর অধ্যাদেশ, ২০২৫ নামে অভিহিত হইবে।
(২) ইহা অবিলম্বে কার্যকর হইবে।
বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থি কোনো কিছু না থাকিলে, এই অধ্যাদেশে,-
(১) “অস্থাবর নিদর্শন” অর্থ ভূমি বা কোনো কাঠামোর সহিত দৃঢ়ভাবে সংযুক্ত নহে ও সহজে স্থানান্তরযোগ্য এইরূপ কোনো নিদর্শন;
(২) “গোপন কারাগার” অর্থ এইরূপ কোনো গুপ্তস্থান যাহা ২০০৯ সাল হইতে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ফ্যাসিস্ট সরকার বা তাহার কোনো প্রতিষ্ঠান কর্তৃক অপহরণকৃত ব্যক্তিকে অবৈধভাবে অন্তরীণ রাখিয়া অত্যাচার, নিপীড়ন ও হত্যা করিবার কার্যে ব্যবহৃত হইয়াছে এবং যাহা কোনো কোনো ক্ষেত্রে আয়নাঘর নামেও অভিহিত হইয়াছে;
(৩) “জাদুঘর” অর্থ ধারা ৩ এর অধীন প্রতিষ্ঠিত জুলাই গণঅভ্যূত্থান স্মৃতি জাদুঘর, তবে ভবিষ্যতে সমরূপ স্থাপনা আবিষ্কৃত হইলে এবং জাদুঘর হিসেবে ঘোষিত হইলে তাহাও ইহার অর্ন্তভুক্ত হইবে;
(৪) “জুলাই গণঅভ্যূত্থান” অর্থ ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে ছাত্রজনতার সম্মিলিত বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে সংঘটিত গণঅভ্যূত্থান;
(৫) “তহবিল” অর্থ ধারা ১৮-তে উল্লিখিত জুলাই গণঅভ্যুত্থান জাদুঘর তহবিল;
(৬) “নিদর্শন” অর্থ সংরক্ষণ, গবেষণা বা প্রদর্শন করিবার উদ্দেশ্যে জাদুঘরে সংগৃহীত ও নিবন্ধিত বা সংগ্রহযোগ্য কোনো উপকরণ, বস্তু, দলিল, সংবাদ পত্রিকা, ফটো, ভিডিও ক্লিপ বা চলচ্চিত্র এবং নিম্নবর্ণিত বিষয়ও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে, যথা:-
(৭) “পর্যদ” অর্থ ধারা ৮ এর অধীন গঠিত পর্ষদ;
(৮) “পরিচালক” অর্থ জাদুঘরের পরিচালক;
(৯) “প্রবিধান” অর্থ এই অধ্যাদেশের অধীন প্রণীত প্রবিধান;
(১০) “বিধি” অর্থ এই অধ্যাদেশের অধীন প্রণীত বিধি;
(১১) “মহাপরিচালক” অর্থ জাদুঘরের মহাপরিচালক;
(১২) “শাখা জাদুঘর” অর্থ বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত স্থাপনাসমূহ যেইগুলি মানবতাবিরোধী অপরাধের সংঘটনস্থল হিসাবে স্বীকৃত এবং শাখা জাদুঘর হিসেবে ঘোষিত হইবে;
(১৩) “সভাপতি” অর্থ পর্ষদের সভাপতি;
(১৪) “সদস্য” অর্থ পর্ষদের কোনো সদস্য;
(১৫) “সংরক্ষণ” অর্থ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে নিদর্শনের স্থায়িত্ব প্রদান, প্রাকৃতিক ক্ষতিকর প্রভাব-হইতে রক্ষা বা পুনরায়ন (restoration) সংশ্লিষ্ট কাজ;
(১৬) “স্থাবর নিদর্শন” অর্থ ভূমি বা কোনো কাঠামোর সহিত দৃঢ়ভাবে সংযুক্ত ও সহজে স্থানান্তরযোগ্য নহে এইরূপ নিদর্শন।
(১) এই অধ্যাদেশ কার্যকর হইবার সঙ্গে সঙ্গে, এই অধ্যাদেশের উদ্দেশ্যপূরণকল্পে, জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর নামে একটি জাদুঘর প্রতিষ্ঠিত হইবে।
(২) জাদুঘর একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা হইবে এবং ইহার স্থায়ী ধারাবাহিকতা ও একটি সাধারণ সিলমোহর থাকিবে এবং এই অধ্যাদেশের বিধানাবলি সাপেক্ষে, জাদুঘরের স্থাবর ও অস্থাবর উভয় প্রকার সম্পত্তি অর্জন করিবার, অধিকারে রাখিবার ও হস্তান্তর করিবার ক্ষমতা থাকিবে এবং ইহা স্বীয় নামে মামলা দায়ের করিতে পারিবে এবং ইহার বিরুদ্ধেও মামলা দায়ের করা যাইবে।
(১) জাদুঘরের প্রধান কার্যালয় ঢাকার গণভবনে থাকিবে।
(২) এই অধ্যাদেশের উদ্দেশ্যপূরণকল্পে, জাদুঘরের বিভিন্ন বিভাগ, অনুবিভাগ, শাখা ও দপ্তর থাকিবে।
(৩) ১ জানুয়ারি ২০০৯ তারিখ হইতে ৫ আগস্ট ২০২৪ তারিখ পর্যন্ত ফ্যাসিস্ট সরকারের শাসনামলে যেসকল গোপন কারাগারে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হইয়াছে উহা জাদুঘর হিসেবে ঘোষণা, সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণ করিবার অধিকার জাদুঘরের থাকিবে।
(৪) যেক্ষেত্রে উপ-ধারা (৩) এ বর্ণিত কোনো গোপন কারাগার কোনো সংস্থার অধীন থাকে সেইক্ষেত্রে উক্ত সংস্থা তাহা জাদুঘরের নিকট যে অবস্থায় রহিয়াছে সেই অবস্থাতেই হস্তান্তর করিতে বাধ্য থাকিবে এবং উক্ত মানবতাবিরোধী কারাগারসমূহ জাদুঘরের শাখা জাদুঘর হিসাবে পরিগণিত ও পরিচালিত হইবে।
এই অধ্যাদেশের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, জাদুঘরের কার্যাবলি হইবে নিম্নরূপ, যথা:-
(১) জাদুঘরের নিম্নবর্ণিত ব্যবস্থাপনা বিভাগ থাকিবে, যথা:-
(২) পর্ষদ জাদুঘরের প্রয়োজন অনুযায়ী নূতন বিভাগ সৃজনসহ বিভাগ পুনর্বিন্যাস করিতে পারিবে, তবে ইহাতে আর্থিক সংশ্লিষ্টতা থাকিলে সরকারের পূর্বানুমোদন আবশ্যক হইবে।
(৩) জাদুঘরের প্রত্যেক বিভাগের দায়িত্ব ও কার্যাবলি প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত হইবে।
জাদুঘরের নীতিনির্ধারণী বিষয়, সাধারণ পরিচালনা ও প্রশাসন পর্ষদের উপর ন্যস্ত থাকিবে এবং জাদুঘর যে সকল ক্ষমতা প্রয়োগ ও কার্য সম্পাদন করিতে পারিবে পর্ষদও সেই সকল ক্ষমতা প্রয়োগ ও কার্য সম্পাদন করিতে পারিবে।
(১) নিম্নবর্ণিত সদস্য সমন্বয়ে পর্ষদ গঠিত হইবে, যথা:-
(২) ধারা (১) এর দফা (ক), (চ), (ছ), (জ), (ঝ) ও (ঞ) এ উল্লিখিত সদস্যগণ তাহাদের মনোনয়নের তারিখ হইতে পরবর্তী ৩ (তিন) বৎসর মেয়াদে স্বীয় পদে অধিষ্ঠিত থাকিবেন এবং অনধিক এক মেয়াদের জন্য পুনঃমনোনয়নের যোগ্য হইবেন।
(৩) পর্ষদের কোনো সদস্য যেকোনো সময় সরকারের উদ্দেশ্যে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রের মাধ্যমে পদত্যাগ করিতে পারিবেন।
পর্ষদের কার্যাবলি হইবে নিম্নরূপ, যথা:-
(১) এই ধারার অন্যান্য বিধান সাপেক্ষে, পর্ষদ উহার সভার কার্যপদ্ধতি নির্ধারণ করিতে পারিবে।
(২) সভার তারিখ, সময় ও স্থান পর্ষদের সভাপতি কর্তৃক নির্ধারিত হইবে।
(৩) প্রতি ৩ (তিন) মাসে পর্ষদের অন্যূন একটি সভা অনুষ্ঠিত হইবে:
তবে শর্ত থাকে যে, পর্ষদের সভাপতি, প্রয়োজনে, যেকোনো সময় পর্ষদের বিশেষ সভা আহবান করিতে পারিবেন।
(৪) সভাপতি পর্ষদের সকল সভায় সভাপতিত্ব করিবেন, তবে তাহার অনুপস্থিতিতে তদ্কর্তৃক মনোনীত কোনো সদস্য সভায় সভাপতিত্ব করিবেন।
(৫) অন্যূন ৯ (নয়) জন সদস্যের উপস্থিতিতে সভার কোরাম গঠিত হইবে, তবে মুলতুবি সভার ক্ষেত্রে কোনো কোরাম প্রয়োজন হইবে না।
(৬) সভায় উপস্থিত পর্ষদের প্রত্যেক সদস্যের একটি করিয়া ভোট থাকিবে এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে সভার সিদ্ধান্ত গৃহীত হইবে, তবে ভোটের সমতার ক্ষেত্রে সভায় সভাপতিত্বকারী ব্যক্তির দ্বিতীয় বা নির্ণায়ক ভোট প্রদানের ক্ষমতা থাকিবে।
(৭) কেবল কোনো সদস্যপদে শূন্যতা বা পর্ষদ গঠনে ত্রুটি থাকিবার কারণে উহার কোনো কার্য বা কার্যধারা অবৈধ হইবে না বা তদ্সম্পর্কে কোনো প্রশ্ন উত্থাপন করা যাইবে না।
(৮) সভার সিদ্ধান্তসমূহ সভাপতি ও সদস্য-সচিব কর্তৃক স্বাক্ষরিত, লিখিত ও প্রকাশিত হইবে।
(১) এই অধ্যাদেশের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, জাদুঘরের সার্বিক কর্মকাণ্ড বা কোনো বিশেষ বিষয়ে তদন্ত করিবার জন্য সরকার এক বা একাধিক কমিটি গঠন করিতে পারিবে।
(২) কমিটি, সরকার কর্তৃক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে, তদন্তের বিষয়ে উহার প্রতিবেদন সরকারের নিকট পেশ করিবে, এবং উক্ত প্রতিবেদন বিবেচনাক্রমে সরকার, প্রয়োজনে, জাদুঘর কর্তৃপক্ষকে বিদ্যমান প্রযোজ্য আইনানুসারে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবে।
(১) জাদুঘরের একজন মহাপরিচালক থাকিবেন।
(২) মহাপরিচালক সরকার কর্তৃক নিযুক্ত হইবেন এবং তাহার চাকরির শর্তাদি সরকার কর্তৃক স্থিরীকৃত হইবে।
(৩) মহাপরিচালক জাদুঘরের সার্বক্ষণিক মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা হইবেন এবং তিনি-
(৪) মহাপরিচালকের পদ শূন্য হইলে, কিংবা অনুপস্থিতি বা অসুস্থতাহেতু বা অন্য কোনো কারণে মহাপরিচালক দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হইলে শূন্য পদে নবনিযুক্ত মহাপরিচালক কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত কিংবা মহাপরিচালক পুনরায় স্বীয় দায়িত্ব পালনে সমর্থ না হওয়া পর্যন্ত জাদুঘরের পরিচালক মহাপরিচালকরূপে কার্য সম্পাদন করিবেন।
(১) জাদুঘরের একজন পরিচালক থাকিবেন।
(২) পরিচালক সরকার কর্তৃক নিযুক্ত হইবেন এবং তাহার চাকরির শর্তাদি সরকার কর্তৃক স্থিরীকৃত হইবে।
(৩) পরিচালক মহাপরিচালককে তাহার যাবতীয় প্রশাসনিক কাজকর্মে সহায়তা করিবেন।
(৪) পরিচালকের পদ শূন্য হইলে, কিংবা অনুপস্থিতি বা অসুস্থতাহেতু বা অন্য কোনো কারণে পরিচালক দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হইলে শূন্য পদে নবনিযুক্ত পরিচালক কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত কিংবা পরিচালক পুনরায় স্বীয় দায়িত্ব পালনে সমর্থ না হওয়া পর্যন্ত সরকার জাদুঘরের উপযুক্ত কোনো কর্মকর্তাকে পরিচালকের দায়িত্ব প্রদান করিতে পারিবে।
(১) জাদুঘর, উহার কার্যাবলি সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের উদ্দেশ্যে, অনুমোদিত সাংগঠনিক কাঠামো সাপেক্ষে, প্রয়োজনীয় সংখ্যক কর্মচারী নিয়োগ করিতে পারিবে।
(২) কর্মচারীদের নিয়োগ ও চাকরির শর্তাবলি প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত হইবে, তবে প্রবিধান প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত সরকার কর্তৃক নির্ধারিত হইবে।
(৩) জাদুঘর প্রচলিত বিধিবিধান অনুসরণপূর্বক প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞ নিয়োগ করিতে পারিবে।
জাদুঘর, পর্ষদের সুপারিশ ও সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, প্রদর্শন ও সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর বা অন্য কোনো জাদুঘর বা কোনো ব্যক্তির সহিত জুলাই অভ্যুত্থানের নিদর্শন স্থায়ী বা অস্থায়ীভাবে বিনিময় করিতে এবং উপহার প্রদান বা গ্রহণ করিতে পারিবে:
তবে শর্ত থাকে যে, এইরূপ স্থায়ী বা অস্থায়ী বিনিময়, উপহার প্রদান বা গ্রহণ করিতে হইলে চুক্তি সম্পাদন করিতে হইবে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান সংশ্লিষ্ট কোনো নিদর্শন কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নিকট রহিয়াছে মর্মে বিশ্বাস করিবার যুক্তিসঙ্গত কারণ থাকিলে মহাপরিচালক বা তদ্কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো কর্মচারী উক্ত স্থান পরিদর্শন করিতে পারিবেন এবং এই অধ্যাদেশ বা তদধীন প্রণীত বিধি বা প্রবিধান অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে পারিবেন।
পর্ষদ কর্তৃক নির্ধারিত প্রবেশমূল্যের বিনিময়ে জনগণের প্রবেশাধিকার থাকিবে।
(১) এই অধ্যাদেশের উদ্দেশ্যপূরণকল্পে, জুলাই গণঅভ্যুত্থান জাদুঘর তহবিল নামে জাদুঘরের একটি তহবিল থাকিবে।
(২) তহবিলে নিম্নবর্ণিত উৎস হইতে প্রাপ্ত অর্থ জমা হইবে, যথা:-
(৩) উপ-বিধি (২) এর দফা (ক) তে উল্লিখিত নিয়মিত মঞ্জুরি ও বিশেষ অনুদান ব্যতীত তহবিলের অন্যান্য অর্থ পর্ষদ কর্তৃক নির্ধারিত এক বা একাধিক তফসিলি ব্যাংকে জমা রাখা যাইবে।
(৪) বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে তহবিল পরিচালিত হইবে, তবে বিধি প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত সরকার কর্তৃক প্রদত্ত আদেশ বা নির্দেশনা অনুসারে উক্ত তহবিল পরিচালনা করা যাইবে।
(৫) তহবিল হইতে জাদুঘরের যাবতীয় ব্যয় নির্বাহ করা হইবে।
(৬) পর্ষদের পরামর্শক্রমে, সরকার কর্তৃক অনুমোদিত কোনো খাতে তহবিল বা উহার অংশ বিশেষ বিনিয়োগ করা যাইবে।
জাদুঘর, প্রতি বৎসর সরকার কর্তৃক নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পরবর্তী অর্থবৎসরের বার্ষিক বাজেট বিবরণী সরকারের নিকট পেশ করিবে এবং উহাতে উক্ত অর্থবৎসরে সরকারের নিকট হইতে জাদুঘরের কী পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন উহার উল্লেখ থাকিবে।
(১) জাদুঘর যথাযথভাবে ইহার হিসাব সংরক্ষণ করিবে এবং হিসাবের বার্ষিক বিবরণী প্রস্তুত করিবে।
(২) বাংলাদেশের মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, অতঃপর মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক বলিয়া অভিহিত, প্রত্যেক বৎসর জাদুঘরের হিসাব নিরীক্ষা করিবেন এবং বিদ্যমান আইনের বিধান মোতাবেক নিরীক্ষা প্রতিবেদন দাখিল করিবেন।
(৩) Comptroller and Auditor-General (Additional Functions) Act, 1974 (Act No. XXIV of 1974) এর বিধান ক্ষুণ্ণ না করিয়া, Bangladesh Chartered Accountants Order, 1973(President's Order No. 2 of 1973) এর Article 2(1)(b)-তে সংজ্ঞায়িত Chartered Accountant দ্বারা জাদুঘরের হিসাব নিরীক্ষা করা যাইবে এবং এতদুদ্দেশ্যে জাদুঘর এক বা একাধিক Chartered Accountant নিয়োগ করিতে পারিবে।
(৪) উপ-ধারা (২) ও (৩) এর অধীন হিসাব নিরীক্ষার উদ্দেশ্যে, মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক বা তাহার নিকট হইতে এতদুদ্দেশ্যে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি বা, ক্ষেত্রমত, Chartered Accountant জাদুঘরের সকল রেকর্ড, দলিল-দস্তাবেজ, বার্ষিক ব্যালান্স শীট, নগদ বা ব্যাংকে গচ্ছিত অর্থ, জামানত, ভাণ্ডার এবং অন্যবিধ সম্পত্তি পরীক্ষা করিয়া দেখিতে পারিবেন এবং মহাপরিচালক, সদস্য বা যেকোনো কর্মচারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করিতে পারিবেন।
(৫) জাদুঘর নিরীক্ষা প্রতিবেদনে চিহ্নিত কোনো ত্রুটি বা অনিয়ম প্রতিকার করিবার জন্য অবিলম্বে পদক্ষেপ গ্রহণ করিবে।
(১) জাদুঘর প্রতি অর্থ-বৎসরে উহার সম্পাদিত কার্যাবলির বিবরণ সংবলিত একটি বার্ষিক প্রতিবেদন পরবর্তী অর্থ বৎসরের ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রকাশ এবং সরকারের নিকট দাখিল করিবে।
(২) সরকার, প্রয়োজনে, জাদুঘরের নিকট হইতে যেকোনো সময় উহার যেকোনো বিষয়ের উপর বিবরণ, রিটার্ন ও প্রতিবেদন আহ্বান করিতে পারিবে এবং জাদুঘর উহা সরকারের নিকট সরবরাহ করিতে বাধ্য থাকিবে।
কোনো ব্যক্তি জাদুঘরের কোনো স্থাবর নিদর্শন বা উহার অংশবিশেষ ধ্বংস, বিনষ্ট, পরিবর্তন বা ক্ষতিসাধন করিলে উহা হইবে একটি অপরাধ এবং তজ্জন্য তিনি অনধিক ১০ (দশ) বৎসরের কারাদণ্ড বা অনধিক ১০ (দশ) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
কোনো ব্যক্তি জাদুঘরের কোনো অস্থাবর নিদর্শন চুরি, পাচার, ধ্বংস, বিনষ্ট, পরিবর্তন বা ক্ষতিসাধন করিলে উহা হইবে একটি অপরাধ এবং তজ্জন্য তিনি অনধিক ৫ (পাঁচ) বৎসরের কারাদণ্ড বা অনধিক ৫ (পাঁচ) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
কোনো ব্যক্তি জাদুঘরের সংগৃহীত বা নিবন্ধিত কোনো নিদর্শনের উপর খোদাইকরণ, লিখন, লিপি উৎকীর্ণ বা স্বাক্ষর করিলে উহা হইবে একটি অপরাধ এবং তজ্জন্য তিনি অনধিক ০১ (এক) বৎসরের কারাদণ্ড বা অনধিক ১০ (দশ) হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
জাদুঘরের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী ধারা ২২, ২৩ ও ২৪ এ উল্লিখিত অপরাধসমূহের দায়ে অভিযুক্ত হইলে প্রচলিত দণ্ডের পাশাপাশি শৃঙ্খলাভঙ্গের কারণে তাহার বিরুদ্ধে বিভাগীয় কার্যক্রম গ্রহণ করা যাইবে:
তবে শর্ত থাকে যে, এক্ষেত্রে আদালতে মামলা চলমান থাকিলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণে সতর্কতা অবলম্বন করিতে হইবে।
ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, ধারা ২২, ২৩ ও ২৪ এ উল্লিখিত অর্থদণ্ড, আদালতের নির্দেশ সাপেক্ষে, সমুদয় বা উহার কোনো অংশ ক্ষতিগ্রস্ত নিদর্শনটিকে উক্ত অপরাধ সংঘটনের পূর্বকালীন অবস্থায় ফিরাইয়া আনিবার নিমিত্ত ব্যয় করা যাইবে।
এই অধ্যাদেশের অধীন কোনো অপরাধের তদন্ত, বিচার, আপিল ও এতদ্সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়ের ক্ষেত্রে ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর বিধান প্রযোজ্য হইবে।
ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, প্রথম শ্রেণির জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা, ক্ষেত্রমত, মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ধারা ২২ ও ২৩ এ উল্লিখিত পরিমাণ দণ্ড আরোপ করিতে পারিবেন।
এই অধ্যাদেশের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে।
এই অধ্যাদেশের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, জাদুঘর, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই অধ্যাদেশ বা বিধির সহিত অসামঞ্জস্যপূর্ণ নহে, এইরূপ প্রবিধান প্রণয়ন করিতে পারিবে।
এই অধ্যাদেশ কার্যকর হইবার অব্যবহিত পূর্বে-
(১) এই অধ্যাদেশ প্রবর্তনের পর সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইনের ইংরেজিতে অনূদিত একটি নির্ভরযোগ্য পাঠ (Authentic English Text) প্রকাশ করিতে পারিবে।
(২) মূল পাঠ ও ইংরেজি পাঠের মধ্যে বিরোধের ক্ষেত্রে মূল পাঠ প্রাধান্য পাইবে।