গণভোট অধ্যাদেশ, ২০২৫
জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ অনুসারে সংবিধান সংস্কার সম্পর্কিত কতিপয় প্রস্তাবের বিষয়ে জনগণের সম্মতি রহিয়াছে কি না তাহা যাচাইয়ের জন্য গণভোটের বিধান প্রণয়নকল্পে প্রণীত অধ্যাদেশ
জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ অনুসারে সংবিধান সংস্কার সম্পর্কিত কতিপয় প্রস্তাবের বিষয়ে জনগণের সম্মতি রহিয়াছে কি না তাহা যাচাইয়ের জন্য গণভোটের বিধান প্রণয়নকল্পে প্রণীত অধ্যাদেশ যেহেতু ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত ছাত্র-জনতার সফল গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে প্রকাশিত জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতা প্রয়োগের উদ্দেশ্যে জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫ এ সংবিধান সংস্কার সম্পর্কিত কতিপয় প্রস্তাবের বিষয়ে জনগণের সম্মতি রহিয়াছে কি না তাহা যাচাইয়ের জন্য গণভোটে উপস্থাপন করিবার লক্ষ্যে জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ প্রণয়ন ও জারি করা হইয়াছে; যেহেতু জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ অনুসারে গণভোট অনুষ্ঠানের জন্য আইন প্রণয়নের নির্দেশনা রহিয়াছে; যেহেতু সংসদ ভাঙ্গিয়া যাওয়া অবস্থায় রহিয়াছে এবং রাষ্ট্রপতির নিকট ইহা সন্তোষজনকভাবে প্রতীয়মান হইয়াছে যে, আশু ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় পরিস্থিতি বিদ্যমান রহিয়াছে; সেহেতু গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৯৩(১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি নিম্নরূপ অধ্যাদেশ প্রণয়ন ও জারি করিলেন, যথা:-
Section ১. সংক্ষিপ্ত শিরোনাম ও প্রবর্তন
(১) এই অধ্যাদেশ গণভোট অধ্যাদেশ, ২০২৫ নামে অভিহিত হইবে।
(২) ইহা অবিলম্বে কার্যকর হইবে।
Section ২. সংজ্ঞা
বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থি কোনো কিছু না থাকিলে, এই অধ্যাদেশে,-
Section ৩. গণভোটের প্রশ্ন
গণভোটে নিম্নরূপ একটি প্রশ্ন উপস্থাপন করা হইবে-
"আপনি কি জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ এবং জুলাই জাতীয় সনদে লিপিবদ্ধ সংবিধান সংস্কার সম্পর্কিত নিম্নলিখিত প্রস্তাবসমূহের প্রতি আপনার সম্মতি জ্ঞাপন করিতেছেন?"; (হ্যাঁ/ না):
Section ৪. ভোটকেন্দ্র
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য যে সকল ভোটকেন্দ্র নির্ধারণ করা হইবে সেই সকল ভোটকেন্দ্রে গণভোট অনুষ্ঠিত হইবে।
Section ৫. রিটার্নিং অফিসার নিয়োগ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য কমিশন কর্তৃক যে সকল রিটার্নিং অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার নিয়োগ ও অধিক্ষেত্র নির্ধারণ করা হইবে সেই সকল রিটার্নিং অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসারগণ গণভোট অনুষ্ঠানের জন্য সংশ্লিষ্ট অধিক্ষেত্রে নিযুক্ত হইয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবে।
Section ৬. প্রিজাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসার নিয়োগ
(১) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য যে সকল প্রিজাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসারগণ নিযুক্ত হইবেন সেই সকল প্রিজাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসার গণভোট অনুষ্ঠানের জন্য সংশ্লিষ্ট ভোটকেন্দ্রে নিযুক্ত হইয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবে।
(২) প্রিজাইডিং অফিসার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সাথে একই সময়ে গণভোট গ্রহণ কার্য পরিচালনা করিবেন এবং ভোটকেন্দ্রের শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য দায়ী থাকিবেন এবং তাহার মতে ভোট গ্রহণে নিরপেক্ষতা ক্ষুণ্ন হইতে পারে এইরূপ ঘটনা সম্পর্কে রিটার্নিং অফিসারকে অথবা সহকারী রিটার্নিং অফিসারকে অবহিত করিবেন।
(৩) সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার প্রিজাইডিং অফিসারের সেই সকল ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করিবেন যে সকল ক্ষমতা ও দায়িত্ব কমিশন কর্তৃক নির্ধারণ করিয়া দেওয়া হইবে বা প্রিজাইডিং অফিসার কর্তৃক তাহার উপর অর্পণ করা হইবে।
(৪) যদি অসুস্থতা বা অন্য কোনো কারণে প্রিজাইডিং অফিসার ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত না থাকেন বা তাহার দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হন, তাহা হইলে রিটার্নিং অফিসার অথবা সহকারী রিটার্নিং অফিসার সহকারী প্রিজাইডিং অফিসারদের মধ্য হইতে একজনকে প্রিজাইডিং অফিসারের স্থলে কাজ করার ক্ষমতা অর্পণ করিবেন।
(৫) ভোট গ্রহণ চলাকালীন যে কোনো সময় সহকারী রিটার্নিং অফিসার, কারণ লিপিবদ্ধ করিয়া, যে কোনো প্রিজাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার অথবা পোলিং অফিসারকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করিতে পারিবেন এবং উক্তরূপ সাময়িকভাবে বরখাস্তকৃত অফিসারের দায়িত্ব পালনের জন্য তাহার বিবেচনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে পারিবেন৷
Section ৭. ভোটার ও ভোটার তালিকা
(১) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতকৃত ভোটার তালিকা হইবে গণভোটের ভোটার তালিকা।
(২) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য সহকারী রিটার্নিং অফিসার কর্তৃক প্রিজাইডিং অফিসারের নিকট সরবরাহকৃত প্রত্যেক ভোটকেন্দ্রের জন্য ভোটদানের অধিকারী ভোটারগণের নাম সংবলিত ভোটার তালিকা গণভোটের ভোটার তালিকা হিসাবে ব্যবহৃত হইবে।
(৩) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য বৈধ ভোটারগণ গণভোট প্রদানের অধিকারী হইবেন।
Section ৮. গণভোট গ্রহণের সময়
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণের সময় হইবে গণভোটের ভোট গ্রহণের সময়।
Section ৯. মুলতবি ভোটগ্রহণ
(১) যদি প্রিজাইডিং অফিসারের নিয়ন্ত্রণ বহির্ভূত কোনো কারণে ভোটগ্রহণ বাধাগ্রস্ত বা ব্যহত হয়, তাহা হইলে তিনি ভোট গ্রহণ স্থগিত বা বন্ধ করিয়া দিতে পারিবেন, এবং তৎসম্পর্কে রিটার্নিং অফিসার বা সহকারী রিটার্নিং অফিসারকে অনতিবিলম্বে অবহিত করিবেন।
(২) যে ক্ষেত্রে উপ-ধারা (১) এর অধীন কোনো ভোটকেন্দ্রে ভোট গ্রহণ বন্ধ করা হইয়াছে সেইক্ষেত্রে রিটার্নিং অফিসার বা সহকারী রিটার্নিং অফিসার অনতিবিলম্বে তৎসংক্রান্ত পরিস্থিতি সম্পর্কে কমিশনের নিকট প্রতিবেদন পেশ করিবেন এবং কমিশন যদি এই মর্মে সন্তুষ্ট হয় যে, অন্যান্য ভোটকেন্দ্রের ফলাফল দ্বারা গণভোটের ফলাফল নির্ধারণ করা সম্ভব নহে, তাহা হইলে কমিশন উক্ত ভোটকেন্দ্রে পুনরায় ভোট গ্রহণের নির্দেশ প্রদান করিবে।
(৩) উপ-ধারা (২) এর অধীন কমিশন কোনো ভোটকেন্দ্রে পুনরায় ভোট গ্রহণের নির্দেশ দিলে, রিটার্নিং অফিসার বা সহকারী রিটার্নিং অফিসার যথাশীঘ্র সম্ভব ভোট গ্রহণের তারিখ, স্থান ও সময় নির্ধারণ করিয়া একটি গণ-বিজ্ঞপ্তি জারী করিবেন।
Section ১০. গোপন ব্যালটের মাধ্যমে গণভোট গ্রহণ
(১) গোপন ব্যালটের মাধ্যমে গণভোট অনুষ্ঠিত হইবে এবং ৩ ধারায় উল্লেখিত প্রশ্নটিতে জনমত যাচাইয়ের উদ্দেশ্যে কমিশন কর্তৃক নির্ধারিত একক ব্যালটের মাধ্যমে প্রত্যেক ভোটার ভোটদান করিবেন।
(২) গণভোটের ব্যালট ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ব্যালট হইতে পৃথক ও ভিন্ন রঙের হইবে।
Section ১১. ভোটদান পদ্ধতি
(১) এই অধ্যাদেশে বর্ণিত বিষয় ব্যতীত ভোট প্রদানের অন্যান্য পদ্ধতির বিষয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য কমিশন কর্তৃক নির্ধারিত পদ্ধতিতে গণভোট অনুষ্ঠিত হইবে।
(২) যে প্রশ্নটিতে গণভোট অনুষ্ঠিত হইতেছে, সেই প্রশ্নে হ্যাঁ-সূচক ভোটদান করিতে চাহিলে একজন ভোটার ব্যালট পেপারে মুদ্রিত হ্যাঁ-সূচক ঘরে এবং না-সূচক ভোটদান করিতে চাহিলে না-সূচক ঘরে কমিশন কর্তৃক ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য যে সিলমোহর নির্ধারণ ও সরবরাহ করা হইবে সেই একই সিলমোহর দ্বারা নিজ ভোট প্রদান করিবেন।
(৩) উপ-ধারা (২) এ বর্ণিত পদ্ধতিতে ভোট প্রদানের পর ভোটার ব্যালট পেপারটি ভাঁজ করিয়া নির্ধারিত স্থানে রক্ষিত ব্যালট বাক্সে উহা প্রবেশ করাইবেন।
Section ১২. ব্যালট বাক্স
(১) নির্বাচন কমিশন কর্তৃক অনুমোদিত, নির্ধারিত এবং সরবরাহকৃত ব্যালট বাক্স ভোট গ্রহণের জন্য ব্যবহার করিতে হইবে:
তবে শর্ত থাকে যে, কমিশন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য সরবরাহকৃত একই ব্যালট বাক্স গণভোটের ব্যালট বাক্স হিসাবে ব্যবহার করিবার অনুমতি প্রদান করিতে পারিবে।
(২) রিটার্নিং অফিসার বা সহকারী রিটার্নিং অফিসার প্রত্যেক প্রিজাইডিং অফিসারকে প্রয়োজনীয় সংখ্যক ব্যালট বাক্স সরবরাহ করিবেন।
(৩) গণভোট গ্রহণ শুরুর নির্ধারিত সময়ের অন্যূন অর্ধ ঘণ্টা পূর্বে প্রিজাইডিং অফিসার-
(৪) একটি ব্যালট বাক্স ভরিয়া গেলে অথবা উহা আর ব্যবহার করা না গেলে প্রিজাইডিং অফিসার সেই ব্যালট বাক্সটি গালার দ্বারা সিল করিয়া নিরাপদ স্থানে রাখিবেন এবং অন্য একটি ব্যালট বাক্স উপ-ধারা (৩) এ বর্ণিত পদ্ধতি অনুযায়ী ব্যবহার করিবার জন্য স্থাপন করিবেন৷
Section ১৩. ভোট কেন্দ্রে প্রবেশ, ভোট কেন্দ্রের শৃঙ্খলা রক্ষা ও নষ্ট বা বাতিল ব্যালট পেপার
ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ, ভোটকেন্দ্রের শৃঙ্খলা রক্ষা ও নষ্ট বা বাতিল ব্যালট পেপার বিষয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য প্রযোজ্য বিধি-বিধান গণভোটের ক্ষেত্রে যতদূর প্রয়োজনীয় সেইভাবে প্রযোজ্য হইবে।
Section ১৪. ভোটগ্রহণ সমাপ্তির পর অনুসরণযোগ্য পদ্ধতি
(১) ভোটগ্রহণ সমাপ্ত হইবার অব্যবহিত পর প্রিজাইডিং অফিসার ভোটকেন্দ্রে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থীদের পক্ষে নিয়োজিত এজেন্টদের উপস্থিতিতে-
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন ভোট গণনা হইতে সেই সকল ব্যালট পেপার বাদ দিতে হইবে যে সকল ব্যালট পেপারে-
তবে শর্ত থাকে যে, সিলমোহরের বেশী অংশ যে ঘরে পড়িবে ভোটার সেই ঘরে ভোট দিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবে এবং সিলমোহর উভয় ঘরে সমানভাবে পড়িলে, সেই ভোট বাতিল বলিয়া গণ্য হইবে:
আরও শর্ত থাকে যে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোট গণনা একই সাথে করা যাইবে।
(৩) প্রিজাইডিং অফিসার হ্যাঁ-সূচক ও না-সূচক ঘরে ভোট দেওয়া ব্যালট পেপারসমূহ পৃথক পৃথক প্যাকেটে রাখিয়া প্যাকেটসমূহ গালা দ্বারা সিলমোহর করিবেন এবং প্রত্যেক প্যাকেটে রক্ষিত ব্যালট পেপারের সংখ্যা এবং কাগজপত্রাদির বিবরণ প্যাকেটের উপর লিপিবদ্ধ করিয়া প্রত্যয়ন করিবেন৷
(৪) প্রিজাইডিং অফিসার গণনা হইতে বাদ দেওয়া ব্যালট পেপারগুলি গণনা করিয়া পৃথক প্যাকেটে রাখিবেন এবং প্যাকেটটি গালা দ্বারা সিলমোহর করিবার পর প্যাকেটে রক্ষিত কাগজপত্রাদির বিবরণ প্যাকেটের উপর লিপিবদ্ধ করিয়া প্রত্যয়ন করিবেন৷
(৫) প্রিজাইডিং অফিসার ভোট গণনা সমাপ্ত হইবার অব্যবহিত পর হ্যাঁ-সূচক ব্যালট পেপারকে সম্মতিসূচক এবং না-সূচক ব্যালট পেপারকে অসম্মতিসূচক ভোট হিসাবে গণনা করিয়া উহার সংখ্যা উল্লেখপূর্বক কমিশন কর্তৃক নির্ধারিত পদ্ধতিতে একটি বিবরণী প্রস্তুত করিবেন৷
(৬) এই ধারার বিধান অনুযায়ী ভোট গণনা সমাপ্ত হইবার পর প্রিজাইডিং অফিসার কমিশন কর্তৃক নির্ধারিত পদ্ধতিতে ব্যালট পেপারের হিসাব বিবরণী প্রস্তুত করিবেন এবং উক্ত হিসাব বিবরণীতে নিম্নবর্ণিত তথ্যাদি সন্নিবেশ করিবেন, যথা:-
(৭) প্রিজাইডিং অফিসার পৃথক পৃথক প্যাকেটে নিম্নবর্ণিত কাগজপত্রাদি গালার দ্বারা সিলমোহর করিবেন, যথা:-
(৮) পূর্বোক্ত বিধানসমূহের অধীন কার্যক্রম সমাপ্ত হইবার পর প্রিজাইডিং অফিসার তৎকর্তৃক প্রস্তুতকৃত ভোট গণনার বিবরণী, ব্যালট পেপারের হিসাব বিবরণীর প্যাকেটসমূহ, এবং কমিশন কর্তৃক নির্দেশিত অন্যান্য রেকর্ডপত্র, যদি থাকে, সহকারী রিটার্নিং অফিসারের নিকট প্রেরণ করিবেন৷
Section ১৫. ফলাফল একীভূতকরণ
(১) ধারা ১৪ এর বিধান মোতাবেক প্রিজাইডিং অফিসারের নিকট হইতে প্রস্তুতকৃত ভোট গণনার বিবরণী, ব্যালট পেপারের হিসাব বিবরণী ও অন্যান্য প্যাকেটসমূহ প্রাপ্তির পর সহকারী রিটার্নিং অফিসার, যদি সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিনিধি উপস্থিত থাকেন সেক্ষেত্রে প্রতিটি রাজনৈতিক দলের একজন করিয়া প্রতিনিধির সম্মুখে, ভোট গণনার ফলাফল একীভূত করিবেন:
তবে শর্ত থাকে যে, ফলাফল একীভূতকরণের পূর্বে সহকারী রিটার্নিং অফিসার গণনা-বহির্ভূত ব্যালট পেপারসমূহ পরীক্ষা করিয়া দেখিবেন এবং উহাদের মধ্যে কোনো ব্যালট পেপার বৈধ বলিয়া তাহার নিকট প্রতীয়মান হইলে উহা বৈধ ভোটের সহিত যোগ করিবেন:
আরও শর্ত থাকে যে, যদি কোনো ভোটকেন্দ্রের ভোট গ্রহণ বন্ধ রাখা হয় সেক্ষেত্রে সহকারী রিটার্নিং অফিসার বন্ধ ঘোষিত ভোটকেন্দ্রের ফলাফলের অপেক্ষা না করিয়া অবশিষ্ট ভোটকেন্দ্রসমূহের ফলাফল একীভূত করিবেন৷
(২) সহকারী রিটার্নিং অফিসার যে সকল ভোট বাতিল করিবেন সেইগুলি কমিশন কর্তৃক নির্ধারিত ফরমে লিপিবদ্ধ করিয়া পৃথক প্যাকেটে রাখিবেন৷
(৩) উপ-ধারা (১) এ বর্ণিত পদ্ধতিতে ফলাফল একীভূতকরণের পর সহকারী রিটার্নিং অফিসার কমিশন কর্তৃক নির্ধারিত ফরমে ভোট গণনার ফলাফল রিটার্নিং অফিসারের নিকট প্রেরণ করিবেন৷
(৪) ফলাফল একীভূতকরণের উদ্দেশ্যে যে সকল বিবরণী ও প্যাকেটসমূহ সহকারী রিটার্নিং অফিসারকে খুলিতে হইবে, ফলাফল একীভূতকরণের বিবরণী প্রস্তুত করিবার পর তিনি সেই সকল বিবরণী ও প্যাকেটসমূহ গালা দ্বারা পুনরায় সিলমোহর করিবেন৷
Section ১৬. ফলাফল একীভূতকরণ ও ঘোষণা।
(১) ফলাফল একীভূতকরণের বিবরণী ধারা ১৫ অনুযায়ী সহকারী রিটার্নিং অফিসারগণের নিকট হইতে প্রাপ্তির সঙ্গে সঙ্গে রিটার্নিং অফিসার প্রাপ্ত ফলাফলের ভিত্তিতে কমিশন কর্তৃক নির্ধারিত ফরমে ফলাফল একীভূত করিবেন এবং বন্ধ ঘোষিত ভোটকেন্দ্র ব্যতিরেকে গণভোটের ফলাফল একীভূত করিয়া কমিশন কর্তৃক নির্ধারিত ফরমে ফলাফল বিবরণী প্রস্তুত করিবেন।
(২) উপ-ধারা (১) অনুযায়ী গণভোটের ফলাফলের বিবরণী প্রস্তুত করিবার পর রিটার্নিং অফিসার প্রস্তুতকৃত ফলাফলের বিবরণী কমিশনের নিকট দাখিল করিবেন৷
(৩) উপ-ধারা (২) অনুযায়ী প্রস্তুতকৃত ফলাফলের বিবরণীসমূহ রিটার্নিং অফিসারগণের নিকট হইতে প্রাপ্তির পর কমিশন উক্ত ফলাফলসমূহের ভিত্তিতে গণভোটের চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করিবে এবং তা সরকারি গেজেটে প্রকাশ করিবে:
তবে শর্ত থাকে যে, যেক্ষেত্রে ধারা ৯ অনুযায়ী কমিশন পুনরায় ভোট গ্রহণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে সেইক্ষেত্রে পুনরায় ভোটগ্রহণের মাধ্যমে প্রাপ্ত ফলাফল বিবেচনা করিয়া কমিশন গণভোটের ফলাফল ঘোষণা ও প্রকাশ করিবে।
Section ১৭. পোস্টাল ব্যালটে ভোটগ্রহণ
গণভোট পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমেও গ্রহণ করা যাইবে এবং এইক্ষেত্রে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পোস্টাল ব্যালট সম্পর্কিত বিধিবিধান ও কমিশন কর্তৃক নির্ধারিত পদ্ধতি প্রযোজ্য হইবে।
Section ১৮. কমিশনের আদেশ জারি করিবার ক্ষমতা
সততা, ন্যায়নিষ্ঠা ও নিরপেক্ষতা এবং এই অধ্যাদেশ ও বিধির বিধানাবলি অনুযায়ী গণভোট অনুষ্ঠান নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে কমিশন, উহার মতে, প্রয়োজনীয় যে কোনো নির্দেশাবলি জারি এবং উহার অধীনস্থ যে কোনো কর্মকর্তা কর্তৃক এই অধ্যাদেশ ও বিধি অনুযায়ী প্রদত্ত যে কোনো আদেশ ও নির্দেশ পুনর্বিবেচনা এবং তৎসম্পর্কে কোনো অন্তর্বর্তী আদেশ প্রদানের ক্ষমতাসহ যেকোনো ক্ষমতা প্রয়োগ করিতে পারিবে৷
Section ১৯. নির্বাচন কমিশনের পরিপত্র জারি করার ক্ষমতা
(১) এই অধ্যাদেশ ও বিধির বিধানাবলি অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনের গণভোট অনুষ্ঠান নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে পরিপত্র জারি করিবার ক্ষমতা থাকিবে।
(২) এই অধ্যাদেশের অধীন করা প্রয়োজন অথচ ইহার জন্য পর্যাপ্ত কোনো বিধান নাই, এইরূপ ক্ষেত্রে কমিশন স্বীয় বিবেচনায় পরিপত্র জারির মাধ্যমে কার্য সম্পাদন করিতে পারিবে।
Section ২০. কমিশনকে সহায়তা প্রদান
(১) এই অধ্যাদেশের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, কমিশন আদেশ দ্বারা যে কোনো ব্যক্তি বা কর্তৃপক্ষকে যে কোনো দায়িত্ব পালন ও সহায়তা প্রদান করার জন্য বাধ্য করিতে পারিবে৷
(২) সরকারের সকল নির্বাহী কর্তৃপক্ষ কমিশনকে উহার দায়িত্ব পালনে সহায়তা করিবে এবং এই উদ্দেশ্যে সরকার, কমিশনের চাহিদা মতো, প্রয়োজনীয় নির্দেশ জারি করিবে৷
Section ২১. অপরাধ, দণ্ড ও বিচার পদ্ধতি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ ও সংশ্লিষ্ট বিধিবিধান মোতাবেক যেসব কার্য অপরাধ ও নির্বাচনী আচরণবিধির লঙ্ঘন হিসাবে গণ্য, একই ধরনের কার্য গণভোটের ক্ষেত্রেও যতদূর প্রযোজ্য, অপরাধ ও আচরণবিধির লঙ্ঘন বলিয়া গণ্য হইবে, এবং এরূপ ক্ষেত্রে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ ও সংশ্লিষ্ট বিধিবিধান প্রয়োগ করিয়া এখতিয়ারসম্পন্ন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক উক্ত অপরাধের বিচার এবং আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাইবে।
Section ২২. দায়মুক্তি
এই অধ্যাদেশ বা কোনো বিধি বা উহার অধীন প্রদত্ত কোনো আদেশ বা নির্দেশ মোতাবেক সরল বিশ্বাসে কৃত বা অভিপ্রেত কোনো কিছুর জন্য কমিশন বা অন্য কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোনো দেওয়ানি বা ফৌজদারি মামলা বা অন্য কোনো আইনগত কার্যধারা দায়ের করা যাইবে না৷
Section ২৩. বিধি প্রণয়ন
এই অধ্যাদেশের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, কমিশন, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে৷