বরিশাল উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ অধ্যাদেশ, ২০২৫
বরিশাল ও উহার সন্নিহিত এলাকা সমন্বয়ে একটি পরিকল্পিত আধুনিক নগর প্রতিষ্ঠার স্বার্থে উক্ত অঞ্চলের ভূ-প্রাকৃতিক পরিবেশ ও প্রতিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখা, অপরিকল্পিত নগরায়ন রোধ করা, দুর্যোগ সহনশীল নগর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা, তথ্য-প্রযু্ক্তি ও পর্যটন শিল্পের বিকাশ এবং উন্নত নাগরিক জীবন নিশ্চিত করিবার লক্ষ্যে একটি কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে প্রণীত অধ্যাদেশ
বরিশাল ও উহার সন্নিহিত এলাকা সমন্বয়ে একটি পরিকল্পিত আধুনিক নগর প্রতিষ্ঠার স্বার্থে উক্ত অঞ্চলের ভূ-প্রাকৃতিক পরিবেশ ও প্রতিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখা, অপরিকল্পিত নগরায়ন রোধ করা, দুর্যোগ সহনশীল নগর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা, তথ্য-প্রযু্ক্তি ও পর্যটন শিল্পের বিকাশ এবং উন্নত নাগরিক জীবন নিশ্চিত করিবার লক্ষ্যে একটি কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে প্রণীত অধ্যাদেশ যেহেতু বরিশাল ও উহার সন্নিহিত এলাকা সমন্বয়ে একটি পরিকল্পিত আধুনিক নগর প্রতিষ্ঠার স্বার্থে উক্ত অঞ্চলের ভূ-প্রাকৃতিক পরিবেশ ও প্রতিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখা, অপরিকল্পিত নগরায়ন রোধ করা, দুর্যোগ সহনশীল নগর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা, তথ্য-প্রযু্ক্তি ও পর্যটন শিল্পের বিকাশ এবং উন্নত নাগরিক জীবন নিশ্চিত করিবার লক্ষ্যে একটি কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়; এবং যেহেতু সংসদ ভাঙ্গিয়া যাওয়া অবস্থায় রহিয়াছে এবং রাষ্ট্রপতির নিকট ইহা সন্তোষজনকভাবে প্রতীয়মান হইয়াছে যে, আশু ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় পরিস্থিতি বিদ্যমান রহিয়াছে; সেহেতু গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৯৩(১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি নিম্নরূপ অধ্যাদেশ প্রণয়ন ও জারি করিলেন:-
Section ১. সংক্ষিপ্ত শিরোনাম, প্রয়োগ ও প্রবর্তন
(১) এই অধ্যাদেশ বরিশাল উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ অধ্যাদেশ, ২০২৫ নামে অভিহিত হইবে।
(২) ইহা বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন এলাকা এবং সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, উক্ত সিটি কর্পোরেশন এলাকা সংলগ্ন যে সকল এলাকা নির্ধারণ করিবে সেই সকল এলাকায় প্রযোজ্য হইবে।
(৩) ইহা অবিলম্বে কার্যকর হইবে।
Section ২. সংজ্ঞা
বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থি কোনো কিছু না থাকিলে, এই অধ্যাদেশে,-
(১) “ইমারত” অর্থ Building Construction Act, 1952(Act No. II of 1953) এর section 2 এর clause (b)-তে সংজ্ঞায়িত building;
(২) “কর্তৃপক্ষ” অর্থ ধারা ৪ এর অধীন প্রতিষ্ঠিত বরিশাল উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ;
(৩) “কোম্পানি” অর্থ কোম্পানী আইন, ১৯৯৪ (১৯৯৪ সনের ১৮ নং আইন) এর ধারা ২ এর উপ-ধারা (১) এর দফা (ঘ)-তে সংজ্ঞায়িত কোনো কোম্পানি;
(৪) “চেয়ারম্যান” অর্থ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান;
(৫) “জলাধার” অর্থ বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (১৯৯৫ সনের ১ নং আইন) এর ধারা ২ এর দফা (কক)-তে সংজ্ঞায়িত জলাধার;
(৬) “তহবিল” অর্থ ধারা ৫৫-তে উল্লিখিত তহবিল;
(৭) “নির্ধারিত” অর্থ বিধি বা, ক্ষেত্রমত, প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত;
(৮) “প্রবিধান” অর্থ এই অধ্যাদেশের অধীন প্রণীত প্রবিধান;
(৯) “বিধি” অর্থ এই অধ্যাদেশের অধীন প্রণীত বিধি;
(১০) “ব্যক্তি” অর্থে কোনো প্রতিষ্ঠান, কোম্পানি, সমিতি বা সংস্থা, উহা নিবন্ধিত হউক বা না হউক অন্তর্ভুক্ত হইবে;
(১১) “মহাপরিকল্পনা” অর্থ ধারা ১২ এর অধীন প্রণীত মহাপরিকল্পনা;
(১২) “সদস্য” অর্থ কর্তৃপক্ষের কোনো সদস্য;
(১৩) “স্থানীয় কর্তৃপক্ষ” অর্থ ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ, পৌরসভা এবং সিটি কর্পোরেশনসহ এতদ্বিষয়ে কোনো আইনের অধীন প্রতিষ্ঠিত কোনো কর্তৃপক্ষ বা প্রতিষ্ঠান;
(১৪) “স্থানীয় পরিকল্পনা” অর্থ ধারা ২০ এর অধীন প্রণীত পরিকল্পনা; এবং
(১৫) “ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মচারী” অর্থ এই অধ্যাদেশের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, কর্তৃপক্ষ কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের কোনো কর্মচারী।
Section ৩. অধ্যাদেশের প্রাধান্য
আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই অধ্যাদেশের বিধানাবলি প্রাধান্য পাইবে।
Section ৪. কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা, ইত্যাদি
(১) এই অধ্যাদেশ কার্যকর হইবার পর সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, বরিশাল উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ নামে একটি কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা করিবে।
(২) কর্তৃপক্ষ একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা হইবে এবং ইহার স্থায়ী ধারাবাহিকতা ও একটি সাধারণ সিলমোহর থাকিবে এবং এই অধ্যাদেশ বা তদ্ধীন প্রণীত বিধি বা প্রবিধান সাপেক্ষে, ইহার স্থাবর বা অস্থাবর অথবা উভয় প্রকার সম্পত্তি অর্জন করিবার, অধিকারে রাখিবার বা হস্তান্তর করিবার ক্ষমতা থাকিবে এবং ইহা স্বীয় নামে মামলা দায়ের করিতে পারিবে এবং ইহার বিরুদ্ধেও মামলা দায়ের করা যাইবে।
Section ৫. কর্তৃপক্ষের কার্যালয়
(১) কর্তৃপক্ষের প্রধান কার্যালয় বরিশাল সিটি কর্পোরেশন এলাকায় থাকিবে।
(২) প্রশাসনিক কার্যাবলি সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে প্রয়োজন হইলে কর্তৃপক্ষ, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, ইহার আওতাধীন এলাকায় এক বা একাধিক শাখা কার্যালয় স্থাপন করিতে পারিবে।
Section ৬. কর্তৃপক্ষ গঠন, ইত্যাদি
(১) কর্তৃপক্ষ নিম্নবর্ণিত সদস্য সমন্বয়ে গঠিত হইবে, যথা:-
(২) কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এবং উপ-ধারা (১) এর দফা (খ) এ বর্ণিত ৪ (চার) জন সদস্য কর্তৃপক্ষের সার্বক্ষণিক কর্মচারী হইবেন।
Section ৭. কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব ও কার্যাবলি
এই অধ্যাদেশের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব ও কার্যাবলি হইবে নিম্নরূপ, যথা:-
Section ৮. চেয়ারম্যান ও সার্বক্ষণিক সদস্য নিয়োগ, মেয়াদ, অপসারণ, ইত্যাদি
(১) কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ও সার্বক্ষণিক সদস্যগণ সরকার কর্তৃক নিযুক্ত হইবেন এবং তাহাদের চাকরির শর্তাদি সরকার কর্তৃক স্থিরকৃত হইবে।
(২) চেয়ারম্যান ও সার্বক্ষণিক সদস্যগণ তাহাদের কার্যভার গ্রহণের তারিখ হইতে ৩(তিন) বৎসর মেয়াদে স্বীয় পদে অধিষ্ঠিত থাকিবেন:
তবে শর্ত থাকে যে, কোনো ব্যক্তি ২ (দুই) মেয়াদের অধিক চেয়ারম্যান বা সার্বক্ষণিক সদস্য হিসাবে নিয়োগ লাভের যোগ্য হইবেন না।
(৩) কোনো ব্যক্তি চেয়ারম্যান বা সার্বক্ষণিক সদস্য হইবার যোগ্য হইবেন না বা উক্ত পদে অধিষ্ঠিত থাকিতে পারিবেন না, যদি তিনি-
(৪) সরকার, কারণ দর্শাইবার যুক্তিসঙ্গত সুযোগ প্রদান করিয়া, চেয়ারম্যান বা কোনো সার্বক্ষণিক সদস্যকে যেকোনো সময় অপসারণ করিতে পারিবে।
(৫) চেয়ারম্যানের পদ শূন্য হইলে কিংবা তাহার অনুপস্থিতি, অসুস্থতা বা অন্য কোনো কারণে চেয়ারম্যান তাহার দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হইলে, শূন্যপদে নূতন চেয়ারম্যান কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত কিংবা চেয়ারম্যান পুনরায় স্বীয় দায়িত্ব পালনে সমর্থ না হওয়া পর্যন্ত, সরকার কর্তৃক মনোনীত যেকোনো সার্বক্ষণিক সদস্য চেয়ারম্যান হিসাবে দায়িত্ব পালন করিবেন।
(৬) চেয়ারম্যান কর্তৃপক্ষের সার্বক্ষণিক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হইবেন এবং তিনি—
Section ৯. কর্তৃপক্ষের সভা
(১) এই ধারার অন্যান্য বিধান সাপেক্ষে, কর্তৃপক্ষ উহার সভার কার্যপদ্ধতি নির্ধারণ করিবে।
(২) প্রতি ৩ (তিন) মাসে কর্তৃপক্ষের অন্যূন একটি সভা অনুষ্ঠিত হইবে এবং সভার তারিখ, সময় ও স্থান চেয়ারম্যান কর্তৃক নির্ধারিত হইবে, তবে যেকোনো সময় জরুরি সভা আহ্বান করা যাইবে।
(৩) চেয়ারম্যান, কর্তৃপক্ষের সকল সভায় সভাপতিত্ব করিবেন এবং তাহার অনুপস্থিতিতে তদ্কর্তৃক মনোনীত কোনো সদস্য সভায় সভাপতিত্ব করিবেন।
(৪) কর্তৃপক্ষের সভায় কোরামের জন্য অন্যূন ৫ (পাঁচ) জন সদস্যের উপস্থিতির প্রয়োজন হইবে, তাহার মধ্যে অন্যূন ৩ (তিন) জন হইবেন ধারা ৬ এর উপ-ধারা (১) এর দফা (ক) ও (খ) এ উল্লিখিত সদস্য এবং অন্যূন ২ (দুই) জন হইবেন ধারা ৬ এর উপ-ধারা (১) এর দফা (গ) হইতে (ছ) এ উল্লিখিত সদস্য।
(৫) কর্তৃপক্ষের সভায় সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রত্যেক সদস্যের ১ (এক)টি করিয়া ভোট থাকিবে এবং ভোটের সমতার ক্ষেত্রে সভাপতির নির্ণায়ক ভোট প্রদানের অধিকার থাকিবে।
(৬) কেবল কোনো সদস্য পদে শূন্যতা বা কর্তৃপক্ষ গঠনে ত্রুটি থাকিবার কারণে কর্তৃপক্ষের কোনো কার্য বা কার্যধারা অবৈধ হইবে না বা তদ্সম্পর্কে কোনো প্রশ্ন বা আপত্তি উত্থাপন করা যাইবে না।
(৭) প্রত্যেক সভার কার্যবিবরণী স্বাক্ষরিত হইবার অনধিক ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে সরকারের নিকট উহার অনুলিপি প্রেরণ করিতে হইবে।
Section ১০. পরামর্শ বা সহযোগিতা
কর্তৃপক্ষ উহার সভার নির্ধারিত আলোচ্য বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিশেষ অবদান রাখিতে সক্ষম বা কর্তৃপক্ষের কার্য সম্পাদনে সহায়তার জন্য, প্রয়োজনে, সদস্য নহে কিন্তু উক্তরূপ কার্যে অভিজ্ঞ এইরূপ কোনো ব্যক্তি, কর্তৃপক্ষ বা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিগণের পরামর্শ বা সহযাগিতা গ্রহণ করিতে পারিবে, তবে উক্ত ব্যক্তি বা প্রতিনিধি কোনো ভোটাধিকার প্রয়োগ করিতে পারিবেন না।
Section ১১. কমিটি গঠন
এই অধ্যাদেশের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, কর্তৃপক্ষ সাধারণ বা বিশেষ আদেশ দ্বারা উহার কার্যাবলি সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনে সহায়তা প্রদানের জন্য, প্রয়োজনে, এক বা একাধিক কমিটি গঠন করিতে পারিবে এবং এইরূপ কমিটির সদস্য সংখ্যা, মেয়াদ ও কার্যপরিধি নির্ধারণ করিতে পারিবে।
Section ১২. মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন।
(১) কর্তৃপক্ষ এই অধ্যাদেশের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, নিম্নবর্ণিত বিষয়সমূহ অন্তর্ভুক্ত করিয়া উহার আওতাভুক্ত এলাকার জন্য একটি মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন করিবে, যথা:-
(২) কর্তৃপক্ষ, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, মহাপরিকল্পনা সরকারি গেজেট, মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট, কর্তৃপক্ষের ওয়েবসাইট এবং বহুল প্রচারিত অন্যূন ২ (দুই) টি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রাক-প্রকাশ করিবে।
(৩) উপ-ধারা (২) এর অধীন প্রাক-প্রকাশিত মহাপরিকল্পনার বিষয়ে কাহারও কোনো আপত্তি বা পরামর্শ থাকিলে উহা প্রাক-প্রকাশের ৬০ (ষাট) দিনের মধ্যে লিখিতভাবে কর্তৃপক্ষের নিকট প্রেরণ করিতে হইবে।
(৪) কর্তৃপক্ষ, প্রাপ্ত আপত্তি বা পরামর্শ বিবেচনাপূর্বক উপ-ধারা (২) এর অধীন প্রাক-প্রকাশের তারিখ হইতে অনধিক ১০৫ (একশত পাঁচ) দিনের মধ্যে সংশোধনসহ বা সংশোধন ব্যতিরেকে উক্ত মহাপরিকল্পনা চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য সরকারের নিকট পেশ করিবে।
(৫) সরকার, উপ-ধারা (৪) এর অধীন মহাপরিকল্পনা প্রাপ্ত হইবার ৬০ (ষাট) দিনের মধ্যে সংশোধনসহ বা সংশোধন ব্যতিরেকে উহা অনুমোদন করিবে এবং সরকারি গেজেট প্রজ্ঞাপন দ্বারা উহার চূড়ান্ত প্রকাশ করিবে।
Section ১৩. মহাপরিকল্পনা সংশোধন
কর্তৃপক্ষ, সরকারের অনুমোদন সাপেক্ষে, সময় সময়, মহাপরিকল্পনা সংশোধন করিতে পারিবে এবং এইক্ষেত্রে ধারা ১২ এর উপ-ধারা (২), (৩), (৪) ও (৫) এর বিধানাবলি প্রযোজ্য হইবে।
Section ১৪. মহাপরিকল্পনা সম্পর্কে মামলা করিবার উপর বিধি-নিষেধ
মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন অথবা উহার সংশোধন বা পরিবর্তন গেজেটে প্রকাশিত হইবার পূর্বে এতদ্বিষয়ে কোনো আদালতে মামলা করা যাইবে না।
Section ১৫. মহাপরিকল্পনার পরিপন্থি ভূমি ব্যবহারের অনুমতি
(১) কোনো ব্যক্তি মহাপরিকল্পনায় উল্লিখিত উদ্দেশ্য ব্যতীত অন্য কোনো উদ্দেশ্যে কোনো ভূমি ব্যবহার করিতে ইচ্ছুক হইলে তাহাকে চেয়ারম্যান বরাবর আবেদন করিতে হইবে।
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন আবেদন প্রাপ্তির পর চেয়ারম্যান উহা নিষ্পত্তিক্রমে আদেশ প্রদান করিবেন।
(৩) উপ-ধারা (২) এর অধীন প্রদত্ত কোনো আদেশ দ্বারা কোনো ব্যক্তি সংক্ষুব্ধ হইলে তিনি সচিব, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় বরাবর আপিল করিতে পারিবেন।
Section ১৬. উন্নয়ন প্রকল্প প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন
(১) কর্তৃপক্ষ মহাপরিকল্পনার ভিত্তিতে উহার আওতাভুক্ত কোনো এলাকার জন্য প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তুত করিয়া উহা অনুমোদনের জন্য সরকারের নিকট পেশ করিবে।
(২) উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবে নিম্নবর্ণিত বিষয়সমূহের উল্লেখ থাকিবে, যথা:-
(৩) সরকার, উপ-ধারা (১) এর অধীন দাখিলকৃত উন্নয়ন প্রকল্প পরিবর্তনসহ বা পরিবর্তন ব্যতীত অনুমোদন করিতে পারিবে।
(৪) কর্তৃপক্ষ, উপ-ধারা (৩) এর অধীন সরকার কর্তৃক অনুমোদিত উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করিবে।
(৫) কর্তৃপক্ষ পত্রিকায় বা ইহার নিজস্ব ওয়েবসাইটে উন্নয়ন প্রকল্পের বিস্তারিত তথ্য উল্লেখ করিয়া বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করিবে এবং প্রকল্প এলাকায় দৃশ্যমান সাইনবোর্ডে প্রয়োজনীয় তথ্যসহ প্রদর্শন করিবে।
(৬) উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রাকৃতিক পরিবেশ ও ভূমির বৈশিষ্ট্য অক্ষুণ্ণ রাখিতে হইবে।
(৭) কোনো উন্নয়ন বা জনকল্যাণমূলক কাজ বাস্তবায়নকালীন কর্তৃপক্ষের আওতাভুক্ত কোনো রাস্তায় বা উহার অংশবিশেষে যানবাহন বা জনসাধারণের চলাচলের উপর কর্তৃপক্ষ সাময়িক বিধি-নিষেধ আরোপ করিতে পারিবে।
(৮) কর্তৃপক্ষ, উপ-ধারা (৭) এর অধীন সাময়িক বিধি-নিষেধ আরোপের বিষয়টি স্থানীয় জনসাধারণকে অবহিত করিবে যাহাতে, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে, উক্ত অঞ্চলের জনসাধারণ এবং বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনাকারী সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান প্রয়োজনীয় পূর্বপ্রস্তুতি গ্রহণের সুযোগ লাভ করে।
Section ১৭. উন্নয়ন প্রকল্প সংশোধন
কোনো উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদিত হইবার পর কর্তৃপক্ষ, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, উহা সংশোধন করিতে পারিবে।
Section ১৮. কতিপয় উন্নয়ন প্রকল্প প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের উপর বিধি-নিষেধ
(১) কর্তৃপক্ষের ছাড়পত্র ব্যতীত কর্তৃপক্ষের আওতাভুক্ত এলাকার কোনো অংশে কোনো ব্যক্তি, স্থানীয় কর্তৃপক্ষ, সরকারি বা বেসরকারি কোনো সংস্থা, প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানি সাধারণভাবে কোনো ধরনের অবকাঠামো, রাস্তাঘাট ও ইমারত নির্মাণ, উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ বা বাস্তবায়ন করিতে পারিবে না।
(২) নদী-নালা, খাল-বিল, জলাশয় ভরাট করিয়া অথবা উহাদের স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত করিয়া কোনো উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা যাইবে না।
(৩) পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখিয়া প্রকল্প প্রণয়ন করিতে হইবে এবং পরিবেশের উপর বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে এইরূপ কোনো উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা যাইবে না।
Section ১৯. অন্তর্বর্তীকালীন উন্নয়ন প্রকল্প
(১) ধারা ১২-তে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কর্তৃপক্ষ মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের পূর্বে সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, জনস্বার্থে, কোনো অন্তর্বর্তীকালীন উন্নয়ন প্রকল্প প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করিতে পারিবে।
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন প্রণীত অন্তর্বর্তীকালীন উন্নয়ন প্রকল্প অবাস্তবায়িত থাকা অবস্থায় মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হইলে উক্ত অন্তর্বর্তীকালীন উন্নয়ন প্রকল্প মহাপরিকল্পনার অন্তর্ভুক্ত করিতে হইবে এবং মহাপরিকল্পনা চূড়ান্ত হইবার পর উক্ত অন্তর্বর্তীকালীন উন্নয়ন প্রকল্প কার্যকর থাকিবে না।
Section ২০. স্থানীয় পরিকল্পনা
(১) কর্তৃপক্ষের আওতাধীন এলাকায় বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ, নৌ, বিমান, সড়ক ও রেল যোগাযোগ, টেলিযোগাযোগ বা অন্য কোনো সংস্থার বা কোনো স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এবং সরকারি, বেসরকারি ও স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তি বা কোম্পানি মহাপরিকল্পনার সহিত সামঞ্জস্য রাখিয়া উহাদের ভবিষ্যৎ কার্যক্রমের জন্য উন্নয়ন ও নির্মাণ পরিকল্পনা সম্পর্কিত স্থানীয় পরিকল্পনা প্রণয়ন করিবে এবং উহা অবগতির জন্য কর্তৃপক্ষের নিকট প্রেরণ করিবে।
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন অবহিত হইবার পর কর্তৃপক্ষ উহার মতামত, যদি থাকে, বিবেচনার জন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থার নিকট প্রেরণ করিবে।
Section ২১. ভূমি ব্যবহারের উপর নিষেধাজ্ঞা এবং ইমারত পরিবর্তন বা অপসারণের ক্ষমতা
যদি কর্তৃপক্ষের নিকট জনস্বার্থে প্রতীয়মান হয় যে, কোনো ভূমির ব্যবহারের উপর নিষেধাজ্ঞা বা শর্ত আরোপ করা সমীচীন অথবা কোনো ইমারত, পূর্তকার্য, কারখানা বা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান পরিবর্তন বা অপসারণ করা সমীচীন, তাহা হইলে কর্তৃপক্ষ উক্তরূপ কার্য করিবার জন্য প্রয়োজনীয় আদেশ প্রদান করিতে পারিবে।
Section ২২. ক্ষতিপূরণ বা পুনর্বাসন
এই অধ্যাদেশের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, মহাপরিকল্পনা বা কোনো উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের কারণে কোনো ব্যক্তি স্থানচ্যুত বা বাস্তুচ্যুত কিংবা ক্ষতিগ্রস্ত হইলে কর্তৃপক্ষ উক্ত ব্যক্তিকে বিদ্যমান আইন বা বিধি-বিধান অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ ও, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে, পুনর্বাসনের ব্যবস্থা গ্রহণ করিবে।
Section ২৩. রাস্তার প্রশস্ততা
কর্তৃপক্ষের আওতাভুক্ত এলাকার রাস্তার প্রশস্ততা বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে।
Section ২৪. স্থানীয় কর্তৃপক্ষের মালিকানাধীন ভূমি ও ইমারত ন্যস্তকরণ
(১) স্থানীয় কর্তৃপক্ষের মালিকানাধীন কোনো ভূমি, ইমারত, রাস্তা, চত্বর বা উহার কোনো অংশবিশেষ কর্তৃপক্ষের কোনো উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন হইলে, কর্তৃপক্ষ উক্ত ভূমি, ইমারত, রাস্তা বা উহার অংশবিশেষ উহার অধীন ন্যস্ত করিবার জন্য উক্ত স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে নোটিশ প্রদান করিবে এবং তদনুসারে বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে উক্ত ভূমি, ইমারত, রাস্তা, চত্বর বা উহার অংশবিশেষ কর্তৃপক্ষের অধীন ন্যস্ত হইবে।
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন কোনো রাস্তা, চত্বর বা উহার কোনো অংশবিশেষ কর্তৃপক্ষের অধীন ন্যস্ত হইলে উক্ত রাস্তা, চত্বর বা উহার অংশবিশেষের জন্য স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে কোনো প্রকার ক্ষতিপূরণ প্রদান করিতে হইবে না।
(৩) রাস্তা, চত্বর বা উহার অংশবিশেষ ব্যতীত অন্য কোনো ভূমি বা ইমারত উপ-ধারা (১) এর অধীন কর্তৃপক্ষের নিকট ন্যস্ত হইলে, যে উদ্দেশ্যে উক্ত ভূমি বা ইমারত অধিগ্রহণ করা হইয়াছিল উক্ত উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হইলে সংশ্লিষ্ট স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে কোনোরূপ ক্ষতিপূরণ প্রদান করিতে হইবে না:
তবে শর্ত থাকে যে, উক্ত উদ্দেশ্য ব্যতীত অন্য কোনো উদ্দেশ্যে উক্ত ভূমি বা ইমারত ব্যবহার করা হইলে সংশ্লিষ্ট স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদান করিতে হইবে এবং ইমারতের ক্ষেত্রে সাধারণ হারে উহার উপর কর আরোপযোগ্য হইবে।
(৪) এই ধারার অধীন গৃহীত কোনো সিদ্ধান্ত বা কার্যক্রমের বিষয়ে কোনো প্রশ্ন উত্থাপিত হইলে বা বিরোধ দেখা দিলে উহা ধারা ৬১ এর বিধান অনুসারে নিষ্পত্তি করিতে হইবে।
Section ২৫. সমাপ্ত প্রকল্পের অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণের জন্য স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বা সংস্থার নিকট ন্যস্তকরণ
কর্তৃপক্ষ কর্তৃক মহাপরিকল্পনা বা অন্তর্বর্তীকালীন কোনো প্রকল্পের কাজ সমাপ্ত হইবার পর কর্তৃপক্ষ, বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে, উক্ত প্রকল্পের অধীন সমাপ্ত অবকাঠামো, যথা- উদ্যান, রাস্তা, নর্দমা এবং অনুরূপ অন্যান্য সেবা ও সুবিধাসমূহ স্থানীয় কোনো কর্তৃপক্ষ বা সংস্থার নিকট রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ন্যস্ত করিতে পারিবে।
Section ২৬. সরকার বা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের মালিকানাধীন প্রকল্প বা সম্পত্তি হস্তান্তর
(১) সরকার, কর্তৃপক্ষের আওতাভুক্ত এলাকার মধ্যে সরকারি কোনো সংস্থা বা স্থানীয় কর্তৃপক্ষ কর্তৃক গৃহীত বা অনুমোদিত কোনো উন্নয়ন প্রকল্প এবং সরকারের মালিকানাধীন কোনো স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি, নির্ধারিত শর্ত সাপেক্ষে, কর্তৃপক্ষের বরাবরে হস্তান্তর করিতে পারিবে।
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন হস্তান্তরিত কোনো উন্নয়ন প্রকল্পের অবাস্তবায়িত কার্য পূর্ববর্তী অনুমোদিত আকারে অথবা, প্রয়োজনে, কর্তৃপক্ষের মহাপরিকল্পনা বা উন্নয়ন প্রকল্পের সহিত সামঞ্জস্যপূর্ণ করিবার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সংশোধন করিয়া কর্তৃপক্ষ কর্তৃক বাস্তবায়ন করা যাইবে।
Section ২৭. কর্তৃপক্ষের নিকট ন্যস্তকৃত সরকারি রাস্তা, নর্দমা, ইত্যাদির রক্ষণাবেক্ষণ
কর্তৃপক্ষের নিকট ন্যস্তকৃত সকল রাস্তা, চত্বর, ইমারত, ভূমি বা উহার অংশবিশেষ কর্তৃপক্ষ নিজে বা অন্য কোনো স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বা সংস্থার সহিত যৌথভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করিবে।
Section ২৮. ভূমি ক্রয় বা লিজ গ্রহণের ক্ষমতা
এই অধ্যাদেশের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে কর্তৃপক্ষ, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, যেকোনো ব্যক্তি মালিকানাধীন ভূমি অথবা ভূমির সংশ্লিষ্ট স্বার্থ ক্রয়, লিজ বা বিনিময়ের মাধ্যমে উহা অর্জন করিতে বা অধিকারে রাখিতে পারিবে।
Section ২৯. ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষমতা
এই অধ্যাদেশের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, কোনো ভূমি বা ভূমি সংশ্লিষ্ট স্বার্থ অধিগ্রহণ করিবার প্রয়োজন হইলে উহা জনস্বার্থে প্রয়োজনীয় বলিয়া বিবেচিত হইবে এবং ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে বিদ্যমান আইন ও বিধি-বিধান অনুসরণ করিতে হইবে।
Section ৩০. ভূমি বিলি-বন্দেজ
(১) ধারা ২৮ এর অধীন অর্জিত ভূমি বা ধারা ২৯ এর অধীন অধিগ্রহণকৃত ভূমি বা ভূমি সংশ্লিষ্ট স্বার্থ কর্তৃপক্ষ নিজ কর্তৃত্বে রাখিতে পারিবে অথবা বিক্রয়, লিজ বা বিনিময়ের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করিতে পারিবে।
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন লিজ প্রদানকৃত ভূমি, প্লট, ফ্ল্যাট বা স্পেস লিজগ্রহীতার অনুকূলে হস্তান্তর পরবর্তীকালে বিক্রয়, দান বা হেবামূলে হস্তান্তর, নামজারি, আমমোক্তারনামা, রূপান্তর বা অনুরূপ বিষয়ে কর্তৃপক্ষ বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে ও হারে ফি আদায় করিতে পারিবে।
Section ৩১. উন্নয়ন ফি ধার্যের ক্ষমতা
(১) কর্তৃপক্ষ, উহার কোনো উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের কারণে উক্ত এলাকার ভূমির মূল্য বৃদ্ধি পাইলে বা পাইবে বলিয়া বিবেচনা করিলে উক্ত ভূমির মালিক বা ভূমির স্বার্থ সংশ্লিষ্টতা রহিয়াছে এইরূপ ব্যক্তির উপর ভূমির মূল্য বৃদ্ধির অনুপাতে উন্নয়ন ফি ধার্য করিতে পারিবে।
(২) উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত উন্নয়ন ফি বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে ধার্য ও আদায় করা যাইবে।
Section ৩২. মহাপরিকল্পনার পরিপন্থি ভূমি ব্যবহারে বিধি-নিষেধ
(১) মহাপরিকল্পনায় চিহ্নিত বা উল্লিখিত উদ্দেশ্য ব্যতীত অন্য কোনো উদ্দেশ্যে কোনো ভূমি ব্যবহার করা যাইবে না।
(২) কোনো ব্যক্তি উপ-ধারা (১) এর বিধান লঙ্ঘন করিলে উক্ত লঙ্ঘন হইবে একটি অপরাধ এবং তজ্জন্য তিনি ১ (এক) বৎসর বিনাশ্রম কারাদণ্ড বা অনধিক ১০ (দশ) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন।
Section ৩৩. ইমারত নির্মাণ, জলাধার খনন, চালা অথবা উঁচু ভূমি, ইত্যাদি বিষয়ে বিধি-নিষেধ
(১) অন্য কোনো আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই অধ্যাদেশ কার্যকর হইবার পর, কর্তৃপক্ষের আওতাধীন এলাকার মধ্যে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতীত কোনো ইমারত নির্মাণ বা পুনঃনির্মাণ, পুকুর বা কৃত্রিম জলাধার খনন বা পুনঃখনন কিংবা চালা বা উঁচু ভূমি কাটা যাইবে না।
(২) কর্তৃপক্ষের আওতাধীন এলাকায় কোনো ইমারত বা স্থাপনা নির্মাণ বা পুনঃনির্মাণ, পুকুর বা কৃত্রিম জলাধার খনন বা পুনঃখননের জন্য প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে এবং ফিসহ ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মচারীর নিকট আবেদন করিতে হইবে এবং এইরূপ আবেদন প্রাপ্তির পর ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মচারী, মহাপরিকল্পনার সহিত সংগতি রাখিয়া, নির্ধারিত শর্তসাপেক্ষে, উক্তরূপ কাজের অনুমতি প্রদান করিতে পারিবেন:
তবে শর্ত থাকে যে, কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ পর্যটন সংরক্ষিত এলাকা ও বিশেষ পর্যটন অঞ্চল আইন, ২০১০ (২০১০ সনের ৩১ নং আইন) এর ধারা ৪ এর অধীন ঘোষিত পর্যটন সংরক্ষিত এলাকায় পর্যটন শিল্পের উন্নয়ন ও বিকাশের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহিত সমন্বয় সাধন করিয়া কোনো ইমারত বা স্থাপনা নির্মাণ বা কৃত্রিম জলাধার খনন, ইত্যাদির অনুমতি প্রদান করিতে পারিবে।
(৩) যদি কর্তৃপক্ষের নিকট সন্তোষজনকভাবে প্রতীয়মান হয় যে, যে সকল শর্তে উপ-ধারা (২) এর অধীন অনুমতি প্রদান করা হইয়াছিল উহা প্রতিপালন করা হয় নাই বা ভঙ্গ করা হইয়াছে বা ভঙ্গ করিবার উদ্যোগ গ্রহণ করা হইয়াছে, তাহা হইলে কর্তৃপক্ষ উক্ত অনুমতি বাতিল করিতে পারিবে।
(৪) এই ধারার কোনো কিছুই বিদ্যমান ইমারত বা স্থাপনার মেরামত বা উহাদের সাধারণ মেরামত কার্য পরিচালনা কিংবা জলাধার সংস্কারের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে না।
(৫) অন্য কোনো আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, পর্যটন এলাকায় মহাপরিকল্পনা বা উন্নয়ন প্রকল্প প্রণয়ন এবং বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের সহিত অন্য কোনো কর্তৃপক্ষ বা সংস্থার মধ্যে কোনো বিষয়ে বিরোধ দেখা দিলে উহা ধারা ৬১ এর বিধান অনুসারে নিষ্পত্তি করিতে হইবে।
(৬) যদি কোনো ব্যক্তি এই ধারার কোনো বিধান লঙ্ঘন করেন, তাহা হইলে উক্ত লঙ্ঘন হইবে একটি অপরাধ এবং তজ্জন্য তিনি অনধিক ২ (দুই) বৎসর কারাদণ্ড বা অনধিক ১০ (দশ) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন।
Section ৩৪. কৃত্রিম জলাধার খনন, ইত্যাদি স্থগিতকরণ
(১) কর্তৃপক্ষ, প্রয়োজনে, প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে খননাধীন কোনো কৃত্রিম জলাধারের খননকার্য স্থগিত বা বন্ধ করিবার জন্য উহার মালিককে নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবে।
(২) কোনো ব্যক্তি উপ-ধারা (১) এর বিধান লঙ্ঘন করিলে উক্ত লঙ্ঘন হইবে একটি অপরাধ এবং তজ্জন্য তিনি প্রথমবার অপরাধের ক্ষেত্রে অনধিক ২ (দুই) বৎসর কারাদণ্ড বা অনধিক ২ (দুই) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড এবং পরবর্তী প্রতিবার একই অপরাধের ক্ষেত্রে অন্যূন ২ (দুই) বৎসর ও অনধিক ১০ (দশ) বৎসর কারাদণ্ড বা অন্যূন ২ (দুই) লক্ষ টাকা ও অনধিক ১০ (দশ) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন।
Section ৩৫. নিচু ভূমি ভরাট বা প্রাকৃতিক জলাধারের পানি প্রবাহে বাধাগ্রস্তের উপর বিধি-নিষেধ
(১) কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতীত উহার আওতাধীন কোনো এলাকার নিচু ভূমি ভরাট বা উঁচু অথবা কোনো প্রাকৃতিক জলাধারের পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত বা কোনো নদ-নদী, খাল-বিল, জলাশয়, পুকুর, ডোবা, প্রাকৃতিক জলাধার, ইত্যাদির পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত করা যাইবে না।
(২) কোনো ব্যক্তি উপ-ধারা (১) এর বিধান লঙ্ঘন করিলে উহা হইবে একটি অপরাধ এবং তজ্জন্য তিনি প্রথমবার অপরাধ সংঘটনের ক্ষেত্রে অনধিক ২ (দুই) বৎসর কারাদণ্ড বা অনধিক ২ (দুই) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে এবং পরবর্তী প্রতিবার অপরাধ সংঘটনের ক্ষেত্রে অন্যূন ২ (দুই) বৎসর ও অনধিক ১০ (দশ) বৎসর কারাদণ্ড বা অন্যূন ২ (দুই) লক্ষ টাকা ও অনধিক ১০ (দশ) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন।
Section ৩৬. খেলার মাঠ, উন্মুক্ত মাঠ, উদ্যান এবং প্রাকৃতিক জলাধারের শ্রেণি পরিবর্তন
কর্তৃপক্ষের আওতাধীন এলাকার খেলার মাঠ, উন্মুক্ত স্থান, উদ্যান এবং প্রাকৃতিক জলাধারের শ্রেণি পরিবর্তনের ক্ষেত্রে মহানগরী, বিভাগীয় শহর ও জেলা শহরের পৌর এলাকাসহ দেশের সকল পৌর এলাকার খেলার মাঠ, উন্মুক্ত স্থান, উদ্যান এবং প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণ আইন, ২০০০ (২০০০ সনের ৩৬ নং আইন) প্রযোজ্য হইবে।
Section ৩৭. সীমানা প্রাচীর, ইত্যাদি অপসারণের উপর উপর বিধি-নিষেধ
(১) কোনো ব্যক্তি আইনগত কর্তৃত্ব ব্যতীত কর্তৃপক্ষের আওতাধীন এলাকায় কর্তৃপক্ষ কর্তৃক স্থাপিত কোনো সীমানা প্রাচীর, দেয়াল, সীমানা খুঁটি, নিরাপত্তা বেষ্টনী, গ্রোথিত কোনো বার, চেইন বা পোস্ট অথবা কোনো বাতি অপসারণ করিতে পারিবে না।
(২) কোনো ব্যক্তি উপ-ধারা (১) এর বিধান লঙ্ঘন করিলে উক্ত লঙ্ঘন হইবে একটি অপরাধ এবং তজ্জন্য তিনি অনধিক ৫ (পাঁচ) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন।
Section ৩৮. ইমারত অথবা দেয়াল অপসারণের উপর বিধি-নিষেধ
কর্তৃপক্ষের আওতাভুক্ত এলাকার মধ্যে যদি কোনো ইমারত বা দেয়ালের মালিক কর্তৃপক্ষের সহিত স্বাক্ষরিত চুক্তি বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে উক্ত ইমারত বা দেয়াল অপসারণ না করেন, তাহা হইলে উহা হইবে একটি অপরাধ এবং তজ্জন্য তিনি পাকা ইমারত বা দেয়ালের জন্য অনধিক ৫ (পাঁচ) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে এবং কাঁচা ইমারত বা দেয়ালের জন্য অনধিক ৫০ (পঞ্চাশ) হাজার টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন।
Section ৩৯. অবৈধ নির্মাণ অপসারণ
যদি আদালত কোনো ব্যক্তিকে কোনো দেয়াল, ইমারত বা স্থাপনা অপসারণের আদেশ প্রদান করে এবং উক্ত ব্যক্তি যদি আদালত কর্তৃক নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে উক্ত দেয়াল, ইমারত বা স্থাপনা অপসারণ না করেন, তাহা হইলে কর্তৃপক্ষ উহা অপসারণ করিতে পারিবে এবং উক্ত অপসারণের জন্য ব্যয়িত অর্থ সংশ্লিষ্ট মালিক বা ব্যক্তি তাৎক্ষণিকভাবে পরিশোধ না করিলে উহা Public Demands Recovery Act, 1913(Act No.III of 1913) এর বিধান অনুযায়ী সরকারি দাবি হিসাবে আদায় করা যাইবে।
Section ৪০. অনুমোদিত নকশার ব্যত্যয় করিয়া ভবন নির্মাণের উপর বিধি-নিষেধ
(১) কর্তৃপক্ষ, উহার আওতাধীন এলাকায় অনুমোদিত নকশার ব্যত্যয় করিয়া স্থাপনা নির্মাণ করিলে, উক্ত নির্মাণ কার্য স্থগিত বা কোনো নির্মাণাধীন স্থাপনা অপসারণ করিবার জন্য উহার মালিককে নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবে।
(২) উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত নির্দেশ অমান্য করিয়া কোনো ব্যক্তি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উক্ত নির্মাণ কাজ স্থগিত না করিলে বা ব্যত্যয়কৃত অংশ অপসারণ না করিলে, কর্তৃপক্ষ, স্ব-উদ্যোগে উহা অপসারণ করিতে পারিবে এবং অপসারণ কার্যক্রমের আনুষঙ্গিক ব্যয়ের সমুদয় অর্থের দ্বিগুণ অর্থ সংশ্লিষ্ট মালিক বা ব্যক্তির নিকট হইতে আদায় করা হইবে।
(৩) উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত অর্থ সংশ্লিষ্ট মালিক বা ব্যক্তি তাৎক্ষণিকভাবে পরিশোধ না করিলে Public Demands Recovery Act, 1913(Act. No.III of 1913) এর বিধান অনুযায়ী সরকারি দাবি হিসাবে আদায় করা যাইবে।
Section ৪১. অনুমোদিত নকশা বহির্ভূত স্থাপনা নির্মাণ
(১) কর্তৃপক্ষের আওতাধীন এলাকায় অনুমোদিত নকশা বহির্ভূত স্থাপনা নির্মাণ করা যাইবে না।
(২) কোনো ব্যক্তি উপ-ধারা (১) এর বিধান লঙ্ঘন করিলে উক্ত লঙ্ঘন হইবে একটি অপরাধ এবং তজ্জন্য সংশ্লিষ্ট স্থাপনা নির্মাণকারী অনধিক ২ (দুই) বৎসর কারাদণ্ড অথবা অনধিক ২০ (বিশ) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন।
Section ৪২. অননুমোদিত নির্মাণাধীন স্থাপনা অপসারণ ও উহাতে বসবাসকারীদের উচ্ছেদ
(১) কর্তৃপক্ষ, প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে, অননুমোদিত নির্মাণাধীন কোনো ইমারতের নির্মাণ কার্য স্থগিত বা কোনো নির্মাণাধীন স্থাপনা অপসারণ করিবার জন্য উহার মালিককে নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবে।
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন নির্মাণাধীন কোনো ইমারতের মালিককে নির্দেশ প্রদান করা হইলে উক্ত ইমারতের মালিক নহে এইরূপ কোনো ব্যক্তি সেখানে বসবাস করিলে কর্তৃপক্ষ, তাহাকেও প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে উক্ত ইমারত ত্যাগ করিবার জন্য নোটিশ প্রদান করিতে পারিবে।
(৩) উপ-ধারা (১) ও (২) এর অধীন নোটিশে উল্লিখিত সময়ের মধ্যে, নির্মাণ কাজ স্থগিত করা না হইলে বা সংশ্লিষ্ট স্থাপনা অপসারণ করা না হইলে অথবা সংশ্লিষ্ট বসবাসকারী উক্ত ইমারত পরিত্যাগ না করিলে কর্তৃপক্ষ, স্ব-উদ্যোগে, উক্ত ইমারত বা স্থাপনা অপসারণ করিতে অথবা সংশ্লিষ্ট বসবাসকারীকে উচ্ছেদ করিতে পারিবে এবং উক্ত অপসারণ বা উচ্ছেদ কার্যক্রমের আনুষঙ্গিক ব্যয়ের সমুদয় অর্থ সংশ্লিষ্ট মালিক বা ব্যক্তির নিকট হইতে নগদে আদায় করিবে।
(৪) উপ-ধারা (৩) এ উল্লিখিত অর্থ সংশ্লিষ্ট মালিক বা ব্যক্তি তাৎক্ষণিকভাবে পরিশোধ না করিলে উহা Public Demands Recovery Act, 1913(Act No.III of 1913) এর বিধান অনুযায়ী সরকারি দাবি হিসাবে আদায় করা যাইবে।
(৫) উপ-ধারা (১) এর বিধান বিদ্যমান ইমারত সংস্কারের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে না।
(৬) কোনো ব্যক্তি উপ-ধারা (১) ও (২) এ উল্লিখিত কর্তৃপক্ষের নির্দেশ পালনে ব্যর্থ হইলে উক্ত ব্যর্থতা হইবে একটি অপরাধ এবং তজ্জন্য তিনি অনধিক ২ (দুই) বৎসর কারাদণ্ড বা অনধিক ১০ (দশ) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন।
Section ৪৩. কর্তৃপক্ষের কার্য সম্পাদনকালে নিরাপত্তা বেষ্টনী ইত্যাদি, অপসারণ
(১) আইনগত কর্তৃত্ব ব্যতীত, কর্তৃপক্ষ কর্তৃক বা উহার নির্দেশনা অনুসারে কর্তৃপক্ষের আওতাধীন এলাকায় কোনো কার্যসম্পাদনের সময় স্থাপিত কোনো নিরাপত্তা বেষ্টনী বা তীরবর্তী খুঁটি বা গ্রোথিত কোনো বার বা চেইন বা পোস্ট বা অনুরূপ কোনো কিছু অপসারণ বা কোনো বাতি সরাইয়া লওয়া যাইবে না।
(২) কোনো ব্যক্তি উপ-ধারা (১) এর বিধান লঙ্ঘন করিলে উক্ত লঙ্ঘন হইবে একটি অপরাধ এবং তজ্জন্য তিনি অনধিক ১ (এক) বৎসর কারাদণ্ড অথবা অনধিক ৫ (পাঁচ) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন।
Section ৪৪. কর্তৃপক্ষের কর্মে নিয়োজিত কোনো ব্যক্তি কর্তৃক ইচ্ছাকৃতভাবে বা অসাধুভাবে কোনো কর্মকাণ্ডে সহায়তা
কর্তৃপক্ষের কর্মে নিয়োজিত কোনো ব্যক্তি যদি ইচ্ছাকৃতভাবে বা জ্ঞাতসারে কোনো অসাধু কাজ করিয়া বা বেআইনিভাবে কোনো কাজ করা হইতে বিরত থাকিয়া, এই অধ্যাদেশের অধীন এইরূপ কোনো অপরাধ করিবার ব্যাপারে সাহায্য করেন বা করিবার সুযোগ করিয়া দেন, যাহা প্রতিরোধ করা বা উদঘাটন করা অথবা যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কর্তৃপক্ষের গোচরে আনয়ন করা তাহার দায়িত্ব ছিল, তাহা হইলে তিনি উক্ত অপরাধ করিবার বিষয়ে সহায়তা করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবে এবং তজ্জন্য তিনি অনধিক ২ (দুই) বৎসর কারাদণ্ড বা অনধিক ১০ (দশ) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন।
Section ৪৫. স্থানীয় কর্তৃপক্ষ কর্তৃক ইমারত নির্মাণের অনুমতি প্রদানে বিধি-নিষেধ
(১) অন্য কোনো আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই অধ্যাদেশ কার্যকর হইবার পর, কর্তৃপক্ষের আওতাধীন এলাকার মধ্যে কোনো স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এই অধ্যাদেশের অধীন বিষয়সমূহ, যেমন- কোনো ইমারত নির্মাণের নকশা অনুমোদন, জলাধার খনন বা পুনঃখননের অনুমতি প্রদান করিবে না:
তবে শর্ত থাকে যে, উক্ত ক্ষেত্রে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ কর্তৃক অনুমতি প্রদানের বিশেষ প্রয়োজন হইলে এতদ্বিষয়ে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মচারীর অনুমতি গ্রহণ করিতে হইবে।
(২) ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মচারী কোনো ইমারত নির্মাণ, জলাধার বা জলাধার খননের অনুমতি প্রদান করিলে তাহাকে উক্ত ইমারত বা জলাধারের নকশাসহ তাহার স্বাক্ষরিত উক্ত অনুমতিপত্রের একটি অনুলিপি ইমারত বা জলাধার যে এলাকায় অবস্থিত সেই এলাকার মেয়র বা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের প্রধান নির্বাহীর নিকট প্রেরণ করিতে হইবে।
(৩) এই অধ্যাদেশ কার্যকর হইবার পর, কর্তৃপক্ষ ব্যতীত কোনো পৌরসভা বা সিটি কর্পোরেশন উপ-ধারা (১) এর ব্যত্যয় ঘটাইয়া কোনো অনুমতি প্রদান করিলে উহা বে-আইনি ও ক্ষমতা বহির্ভূত হিসাবে গণ্য হইবে বা অনুরূপ অনুমতির মাধ্যমে কৃত কার্যক্রম অকার্যকর ও অননুমোদিত বলিয়া গণ্য হইবে।
Section ৪৬. চেয়ারম্যান, সদস্য বা কোনো কর্মচারী কর্তৃক কর্তৃপক্ষের শেয়ার, স্বার্থ বা চুক্তিতে অংশগ্রহণে বিধি-নিষেধ
(১) চেয়ারম্যান, সদস্য বা কোনো কর্মচারী কর্তৃপক্ষের কোনো পদে বহাল থাকাকালীন কর্তৃপক্ষের ব্যবসা-বাণিজ্য বা কোনো লেনদেন বা স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কোনো শেয়ার বা স্বত্ব বা দখল গ্রহণ করিবেন না।
(২) চেয়ারম্যান, সদস্য বা কোনো কর্মচারী উপ-ধারা (১) এর বিধান লঙ্ঘন করিলে উহা হইবে একটি অপরাধ এবং তজ্জন্য তিনি অনধিক ২ (দুই) বৎসর কারাদণ্ড বা অনধিক ১০ (দশ) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন।
Section ৪৭. ক্ষতিপূরণ প্রদান না করা
এই অধ্যাদেশের কোনো বিধান লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষ কর্তৃক গৃহীত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের বিপরীতে ক্ষতিপূরণের দাবি উত্থাপন করা যাইবে না।
Section ৪৮. অপরাধ বিচারার্থ গ্রহণ
এই অধ্যাদেশের অধীন অপরাধ সংঘটনের বিষয়ে কর্তৃপক্ষ, ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মচারী বা অন্য কোনো ব্যক্তি আদালতে লিখিত অভিযোগ দায়ের করিতে পারিবে এবং আদালত উক্ত অভিযোগ আমলে গ্রহণ করিবে।
Section ৪৯. বিচার, ইত্যাদি
(১) এই অধ্যাদেশের অধীন সংঘটিত অপরাধের বিচারের ক্ষেত্রে Code of Criminal Procedure, 1898 (Act No. V of 1898) এর বিধানাবলি প্রযোজ্য হইবে।
(২) Code of Criminal Procedure, 1898 এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন-
Section ৫০. অপরাধের আমলযোগ্যতা ও জামিনযোগ্যতা
এই অধ্যাদেশের অধীন অপরাধসমূহ আমলযোগ্য এবং জামিনযোগ্য হইবে।
Section ৫১. মোবাইল কোর্টের এখতিয়ার
এই অধ্যাদেশের অন্য কোনো বিধানে ভিন্নরূপ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই অধ্যাদেশের অধীন অপরাধসমূহ মোবাইল কোর্ট আইন, ২০০৯ (২০০৯ সনের ৫৯ নং আইন) এর তফসিলভুক্ত করিয়া বিচার করা যাইবে।
Section ৫২. কোম্পানি কর্তৃক অপরাধ সংঘটন
(১) কোনো কোম্পানি কর্তৃক এই অধ্যাদেশের অধীন কোনো অপরাধ সংঘটিত হইলে, উক্ত অপরাধের সহিত প্রত্যক্ষ সংশ্লিষ্টতা রহিয়াছে উক্ত কোম্পানির এইরূপ মালিক, পরিচালক, নির্বাহী কর্মকর্তা, ব্যবস্থাপক, নির্বাহী পরিচালক, অন্য কোনো কর্মচারী উক্ত অপরাধ করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবেন, যদি না তিনি প্রমাণ করিতে পারেন যে, উক্ত অপরাধ তাহার অজ্ঞাতসারে সংঘটিত হইয়াছে এবং উহা রোধ করিবার জন্য তিনি যথাসাধ্য চেষ্টা করিয়াছেন।
(২) উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত কোম্পানি আইনগত সত্তা হইলে, উক্ত উপ-ধারায় উল্লিখিত ব্যক্তিকে অভিযুক্ত ও দোষী সাব্যস্ত করা ছাড়াও উক্ত কোম্পানিকে পৃথকভাবে একই কার্যধারায় অভিযুক্ত ও দোষী সাব্যস্ত করা যাইবে, তবে উহার উপর সংশ্লিষ্ট বিধান অনুসারে শুধু অর্থদণ্ড আরোপ করা যাইবে।
Section ৫৩. কর্মচারী নিয়োগ
(১) কর্তৃপক্ষ উহার দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের জন্য, সরকার কর্তৃক অনুমোদিত সাংগঠনিক কাঠামো অনুযায়ী, কর্মচারী নিয়োগ করিতে পারিবে।
(২) কর্মচারীদের নিয়োগ এবং চাকরির শর্তাবলি প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত হইবে।
কর্মচারীর অবসর গ্রহণ বা কর্তৃপক্ষ কর্তৃক অবসর প্রদান
[৫৩ক। (১) কর্তৃপক্ষের একজন কর্মচারী তাহার বয়স ৫৯ (ঊনষাট) বৎসর পূর্ণ হইলে এবং কর্তৃপক্ষের একজন মুক্তিযোদ্ধা কর্মচারী তাহার বয়স ৬০ (ষাট) বৎসর পূর্ণ হইলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অবসর গ্রহণ করিবেন।
(২) চাকরির মেয়াদ ২৫ (পঁচিশ) বৎসর পূর্ণ হইবার পর, একজন কর্মচারী, যেকোনো সময়, অবসর গ্রহণের অভিপ্রায় প্রকাশ করিয়া অবসর গ্রহণ করিতে পারিবেন, তবে, উক্ত অভিপ্রায় অবসর গ্রহণের তারিখের অন্যূন ৩০ (ত্রিশ) দিন পূর্বে কর্তৃপক্ষের নিকট লিখিতভাবে দাখিল করিতে হইবে।
(৩) উপ-ধারা (২) এ বর্ণিত অভিপ্রায় চূড়ান্ত বলিয়া গণ্য হইবে এবং তাহা সংশোধন বা প্রত্যাহারযোগ্য হইবে না।
(৪) কোনো কর্মচারীর চাকরির মেয়াদ ২৫ (পঁচিশ) বৎসর পূর্ণ হইবার পর, যেকোনো সময়, কর্তৃপক্ষ, জনস্বার্থে, প্রয়োজনীয় বিবেচনা করিলে, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, কোনোরূপ কারণ না দর্শাইয়া তাহাকে চাকরি হইতে অবসর প্রদান করিতে পারিবে।]
আন্তঃকর্তৃপক্ষ বদলি
[৫৩খ। সরকার, জনস্বার্থে, কর্তৃপক্ষের কর্মচারী এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন কর্তৃপক্ষসমূহের কর্মচারীদের মধ্যে পারষ্পরিক বদলি ও পদায়ন করিতে পারিবে।]
Section ৫৪. জনসেবক
চেয়ারম্যান, সদস্য এবং কর্মচারীগণ Penal Code, 1860 (Act No. XLV of 1860) এর section 21 এ সংজ্ঞায়িত অর্থে জনসেবক (Public servant) বলিয়া গণ্য হইবেন।
Section ৫৫. তহবিল
(১) বরিশাল উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ তহবিল নামে কর্তৃপক্ষের একটি তহবিল থাকিবে এবং উহাতে নিম্নবর্ণিত উৎস হইতে প্রাপ্ত অর্থ জমা হইবে, যথা:-
(২) সরকার কর্তৃক প্রদত্ত মঞ্জুরি ব্যতীত কর্তৃপক্ষের তহবিলের অন্যান্য অর্থ তফসিলি ব্যাংকে জমা রাখিতে হইবে এবং বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে উহা পরিচালনা করিতে হইবে।
(৩) চেয়ারম্যান, সদস্য ও কর্মচারীদের বেতন ও ভাতাদি, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে, সম্মানি এবং কর্তৃপক্ষের কার্যাবলি পরিচালনার প্রয়োজনীয় ব্যয় তহবিল হইতে নির্বাহ করা যাইবে:
তবে শর্ত থাকে, তহবিলের অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে এতদ্সংশ্লিষ্ট প্রচলিত বিধি-বিধান অনুসরণ করিতে হইবে।
(৪) কর্তৃপক্ষ প্রত্যেক অর্থবৎসরে উহার সকল ব্যয় নির্বাহের পর চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান রাখিয়া তহবিলের উদ্বৃত্ত অর্থ প্রজাতন্ত্রের সরকারি হিসাবে জমা প্রদান করিবে।
ব্যাখ্যা।- এই ধারার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, “তফসিলি ব্যাংক” অর্থ Bangladesh Bank Order, 1972(President’s Order No. 127 of 1972) এর Article 2(j)-তে সংজ্ঞায়িত Scheduled Bank।
Section ৫৬. বার্ষিক বাজেট
কর্তৃপক্ষ সরকার কর্তৃক নির্দিষ্টকৃত সময়ের মধ্যে সম্ভাব্য আয়-ব্যয়সহ পরবর্তী অর্থ বৎসরের বার্ষিক বাজেট বিবরণী সরকারের নিকট পেশ করিবে এবং উহাতে উক্ত বৎসরে সরকারের নিকট হইতে রাজস্ব অনুদান বা উন্নয়ন মঞ্জুরি বাবদ কর্তৃপক্ষের কোনো বাজেট সহায়তার প্রয়োজন রহিয়াছে কিনা তাহাও উল্লেখ থাকিবে।
Section ৫৭. হিসাবরক্ষণ ও নিরীক্ষা
(১) কর্তৃপক্ষ যথাযথভাবে উহার হিসাবরক্ষণ এবং হিসাব বিবরণী প্রস্তুত করিবে।
(২) বাংলাদেশের মহাহিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, অতঃপর মহাহিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক বলিয়া অভিহিত, প্রতি বৎসর কর্তৃপক্ষের হিসাব নিরীক্ষা করিবেন এবং বিদ্যমান আইনের বিধান মোতাবেক নিরীক্ষা প্রতিবেদন দাখিল করিবেন।
(৩) উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত নিরীক্ষা ছাড়াও Bangladesh Chartered Accountants Order, 1973(President’s Order No. 2 of 1973) এর Article 2(1)(b)-তে সংজ্ঞায়িত চার্টার্ড একাউনটেন্ট দ্বারা কর্তৃপক্ষের হিসাব নিরীক্ষা করিতে হইবে এবং এতদুদ্দেশ্যে কর্তৃপক্ষ এক বা একাধিক চার্টার্ড একাউনটেন্ট নিয়োগ করিতে পারিবে।
(৪) কর্তৃপক্ষের হিসাব নিরীক্ষার উদ্দেশ্যে মহাহিসাব-নিরীক্ষক কিংবা তাহার নিকট হইতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি বা উপ-ধারা (৩) এর অধীন নিয়োগকৃত চার্টার্ড একাউনটেন্ট কর্তৃপক্ষের সকল রেকর্ড, দলিলাদি, বার্ষিক ব্যালেন্স শিট, নগদ বা ব্যাংকে গচ্ছিত অর্থ, জামানত, ভান্ডার বা অন্যবিধ সম্পত্তি ইত্যাদি পরীক্ষা করিয়া দেখিতে পারিবেন এবং চেয়ারম্যান, সদস্য বা কর্তৃপক্ষের যেকোনো কর্মচারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করিতে পারিবেন।
(৫) নিরীক্ষা প্রতিবেদনে চিহ্নিত ত্রুটি বা অনিয়ম প্রতিকারের জন্য কর্তৃপক্ষ অবিলম্বে পদক্ষেপ গ্রহণ করিবে এবং নিরীক্ষা প্রতিবেদনের উপর কোনো আপত্তি উত্থাপিত হইলে উহা নিষ্পত্তির জন্য কর্তৃপক্ষ অবিলম্বে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করিবে।
(৬) এই ধারার বিধানাবলি প্রয়োগের ক্ষেত্রে ফাইনান্সিয়াল রিপোর্টিং আইন, ২০১৫ (২০১৫ সনের ১৬ নং আইন) এর বিধানাবলি, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে, অনুসরণ করিতে হইবে।
Section ৫৮. বকেয়া আদায়
এই অধ্যাদেশের অধীন কোনো ব্যক্তি অথবা প্রতিষ্ঠানের নিকট কর্তৃপক্ষের কোনো অর্থ পাওনা থাকিলে উহা সরকারি দাবি হিসাবে Public Demands Recovery Act, 1913(Act No.III of 1913) এর বিধান অনুসারে আদায়যোগ্য হইবে।
Section ৫৯. প্রতিবেদন
(১) কর্তৃপক্ষ প্রত্যেক অর্থবৎসর সমাপ্ত হইবার পরবর্তী ৯০ (নব্বই) দিনের মধ্যে উহার আয়, ব্যয় ও স্থিতির আর্থিক বিবরণসহ উক্ত বৎসরে সম্পাদিত কার্যাবলির উপর একটি বার্ষিক প্রতিবেদন সরকারের নিকট দাখিল করিবে।
(২) সরকার, প্রয়োজনে, কর্তৃপক্ষের নিকট হইতে যেকোনো সময় কর্তৃপক্ষের যেকোনো বিষয়ের উপর প্রতিবেদন ও বিবরণী আহ্বান করিতে পারিবে এবং কর্তৃপক্ষ উহা সরকারের নিকট সরবরাহ করিতে বাধ্য থাকিবে।
Section ৬০. ঋণ গ্রহণের ক্ষমতা
এই অধ্যাদেশের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে কর্তৃপক্ষ, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, ঋণ গ্রহণ করিতে পারিবে এবং উহা পরিশোধ করিতে বাধ্য থাকিবে।
Section ৬১. বিরোধ নিষ্পত্তি
(১) এই অধ্যাদেশের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, কর্তৃপক্ষের অধীন এলাকায় মহাপরিকল্পনা, উন্নয়ন প্রকল্প, অন্তর্বর্তীকালীন প্রকল্প প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন অথবা কর্তৃপক্ষ কর্তৃক গৃহীত কোনো সিদ্ধান্ত অথবা কোনো কার্যক্রমের বিষয়ে কর্তৃপক্ষের সহিত অন্য কোনো স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বা সংস্থার মধ্যে বিরোধ দেখা দিলে কর্তৃপক্ষ পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে উহা নিষ্পত্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করিবে।
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন গৃহীত পদক্ষেপের মাধ্যমে আপোস-মীমাংসা না হইলে, কর্তৃপক্ষ উক্ত বিরোধের বিষয়টি সরকারের নিকট প্রেরণ করিবে এবং সরকার উক্ত স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বা সংস্থার নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ, বা ক্ষেত্রমত, প্রশাসনিক মন্ত্রণালয় বা বিভাগের সহিত পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে উহা নিষ্পত্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করিবে।
Section ৬২. প্রবেশাধিকার
(১) চেয়ারম্যান বা তাহার নিকট হইতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো কর্মচারী, এই অধ্যাদেশ, বিধি বা প্রবিধানের বিধান সাপেক্ষে, কর্তৃপক্ষের এখতিয়ারাধীন এলাকার কোনো ভূমিতে নিম্নবর্ণিত যেকোনো উদ্দেশ্যে প্রবেশ করিতে পারিবেন, যথা:-
(২) সংশ্লিষ্ট ভূমির মালিক বা দখলদারকে উক্ত ভূমিতে প্রবেশের উদ্দেশ্য সম্পর্কে অন্যূন ২৪ (চব্বিশ) ঘণ্টা পূর্বে নোটিশ প্রদান করিয়া সূর্যোদয়ের পর ও সূর্যাস্তের পূর্বে যেকোনো সময় উপ-ধারা (১) এর অধীন প্রবেশ করা যাইবে।
(৩) উপ-ধারা (১) এর অধীন কোনো কার্যের ফলে যদি ভূমির কোনো ক্ষতি হয়, তাহা হইলে কর্তৃপক্ষ ক্ষতিপূরণ প্রদান করিবে
Section ৬৩. ক্ষমতা অর্পণ
কর্তৃপক্ষ, উহার কোনো ক্ষমতা, প্রয়োজনে, তদ্কর্তৃক নির্ধারিত শর্ত সাপেক্ষে, চেয়ারম্যান, সদস্য বা উহার কোনো কর্মচারীকে অর্পণ করিতে পারিবে।
Section ৬৪. ক্ষতিপূরণ প্রদানে কর্তৃপক্ষের সাধারণ ক্ষমতা
কর্তৃপক্ষ এই অধ্যাদেশে সুস্পষ্টভাবে বর্ণিত হয় নাই এইরূপ ক্ষেত্র ব্যতীত অন্য কোনো ক্ষেত্রে এই অধ্যাদেশ, বিধি বা প্রবিধানের কোনো বিধানের অধীন কর্তৃপক্ষ, চেয়ারম্যান, সদস্য বা উহার কোনো কর্মচারীর উপর ন্যস্তকৃত দায়িত্ব পালনকালে কোনো ব্যক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হইলে কর্তৃপক্ষ উক্ত ব্যক্তিকে যুক্তিসংগত ক্ষতিপূরণ প্রদান করিতে পারিবে।
Section ৬৫. নির্দেশ প্রদানের ক্ষমতা
এই অধ্যাদেশের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে সরকার, সময় সময়, কর্তৃপক্ষকে যেকোনো নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবে এবং কর্তৃপক্ষ উহা পালন করিতে বাধ্য থাকিবে।
Section ৬৬. বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা
এই অধ্যাদেশের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে।
Section ৬৭. প্রবিধান প্রণয়নের ক্ষমতা
এই অধ্যাদেশের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, কর্তৃপক্ষ, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই অধ্যাদেশ বা বিধির সহিত অসামঞ্জস্যপূর্ণ নহে এইরূপ প্রবিধান প্রণয়ন করিতে পারিবে।
Section ৬৮. ইংরেজিতে অনূদিত পাঠ প্রকাশ
(১) এই অধ্যাদেশ কার্যকর হইবার পর সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই অধ্যাদেশের মূল বাংলা পাঠের ইংরেজিতে অনূদিত একটি নির্ভরযোগ্য পাঠ (Authentic English Text) প্রকাশ করিবে।
(২) বাংলা ও ইংরেজি পাঠের মধ্যে বিরোধের ক্ষেত্রে বাংলা পাঠ প্রাধান্য পাইবে।