স্থানিক পরিকল্পনা অধ্যাদেশ, ২০২৫
সমন্বিত স্থানিক পরিকল্পনা প্রণয়ন ও টেকসই উন্নয়নের উদ্দেশ্যে প্রণীত অধ্যাদেশ
সমন্বিত স্থানিক পরিকল্পনা প্রণয়ন ও টেকসই উন্নয়নের উদ্দেশ্যে প্রণীত অধ্যাদেশ যেহেতু বাংলাদেশের জনগণের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে পরিকল্পিত বাংলাদেশ গড়িয়া তুলিবার উদ্দেশ্যে টেকসই উন্নয়ন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, জলবায়ু ও দুর্যোগ সংবেদনশীলতা, সামাজিক ন্যায্যতা নিশ্চিতকরণ এবং কৃষি ও জলাশয় সুরক্ষাপূর্বক একটি সমন্বিত স্থানিক পরিকল্পনা প্রণয়ন করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়; এবং যেহেতু সংসদ ভাঙ্গিয়া যাওয়া অবস্থায় রহিয়াছে এবং রাষ্ট্রপতির নিকট ইহা সন্তোষজনকভাবে প্রতীয়মান হইয়াছে যে, আশু ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় পরিস্থিতি বিদ্যমান রহিয়াছে; সেহেতু গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৯৩(১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি নিম্নরূপ অধ্যাদেশ প্রণয়ন ও জারি করিলেন:-
Section ১. সংক্ষিপ্ত শিরোনাম ও প্রবর্তন
(১) এই অধ্যাদেশ স্থানিক পরিকল্পনা অধ্যাদেশ, ২০২৫ নামে অভিহিত হইবে।
(২) ইহা অবিলম্বে কার্যকর হইবে।
Section ১. সংজ্ঞা
(১) এই অধ্যাদেশ স্থানিক পরিকল্পনা অধ্যাদেশ, ২০২৫ নামে অভিহিত হইবে।
(২) ইহা অবিলম্বে কার্যকর হইবে।
২। সংজ্ঞা।- বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থি কোনো কিছু না থাকিলে, এই অধ্যাদেশে,-
Section ৩. অধ্যাদেশের প্রাধান্য
আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইনে যাহা কিছু্ই থাকুক না কেন, এই অধ্যাদেশের বিধানাবলি প্রাধান্য পাইবে।
Section ৪. পরিষদের গঠন, ইত্যাদি।
(১) এই অধ্যাদেশের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, নিম্নবর্ণিত সদস্য সমন্বয়ে জাতীয় স্থানিক পরিকল্পনা পরিষদ গঠিত হইবে, যথা:-
(২) প্রতি বৎসর পরিষদের অন্যূন ২ (দুই) টি সভা অনুষ্ঠিত হইবে, তবে জরুরি প্রয়োজনে যেকোনো সময় সভা আহ্বান করা যাইবে।
(৩) পরিষদের সভাপতি পরিষদের সকল সভায় সভাপতিত্ব করিবেন, তবে তাহার অনুপস্থিতিতে তৎকর্তৃক মনোনীত কোনো সদস্য সভায় সভাপতিত্ব করিবেন।
(৪) পরিষদের সভার কোরামের জন্য উহার মোট সদস্য সংখ্যার অন্যূন দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের উপস্থিতির প্রয়োজন হইবে, তবে মুলতুবি সভার ক্ষেত্রে কোনো কোরামের প্রয়োজন হইবে না।
(৫) সভায় উপস্থিত সদস্যগণের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে পরিষদের সকল সিদ্ধান্ত গৃহীত হইবে, তবে ভোটের সমতার ক্ষেত্রে সভায় সভাপতিত্বকারী ব্যক্তির দ্বিতীয় বা নির্ণায়ক ভোট প্রদানের ক্ষমতা থাকিবে।
(৬) পরিষদ, প্রয়োজনে, সদস্য কো-অপ্ট করিতে পারিবে।
Section ৫. আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি গঠন, ইত্যাদি
(১) নিম্নবর্ণিত সদস্য সমন্বয়ে একটি স্থানিক পরিকল্পনা বিষয়ক আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি গঠিত হইবে, যথা:-
(২) উপ-ধারা (১) এর দফা (য) ও (র) এ বর্ণিত সদস্যগণের মেয়াদ হইবে তাহাদের মনোনয়নের তারিখ হইতে ৩ (তিন) বৎসর এবং তাহারা পুনঃমনোনীত হইতে পারিবেন।
(৩) সরকার, যেকোনো সময়, কারণ দর্শানো ব্যতিরেকে উপ-ধারা (১) এর দফা (য) ও (র) এ বর্ণিত সদস্যগণের মনোনয়ন বাতিল করিতে পারিবে।
(৪) সরকারের উদ্দেশ্যে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে উপ-ধারা (১) এর দফা (য) ও (র) এ বর্ণিত কোনো সদস্য স্বীয় পদ ত্যাগ করিতে পারিবেন।
(৫) প্রতি বৎসর আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটির অন্যূন ৪ (চার)টি সভা অনুষ্ঠিত হইবে, তবে জরুরি প্রয়োজনে যেকোনো সময় সভা আহ্বান করা যাইবে।
(৬) আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটির সভাপতি আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটির সকল সভায় সভাপতিত্ব করিবেন, তবে তাহার অনুপস্থিতিতে তৎকর্তৃক মনোনীত কোনো সদস্য সভায় সভাপতিত্ব করিবেন।
(৭) আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটির সভার কোরামের জন্য উহার মোট সদস্য সংখ্যার অন্যূন দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের উপস্থিতির প্রয়োজন হইবে, তবে মুলতুবি সভার ক্ষেত্রে কোনো কোরামের প্রয়োজন হইবে না।
(৮) সভায় উপস্থিত সদস্যগণের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটির সকল সিদ্ধান্ত গৃহীত হইবে, তবে ভোটের সমতার ক্ষেত্রে সভায় সভাপতিত্বকারী ব্যক্তির দ্বিতীয় বা নির্ণায়ক ভোট প্রদানের ক্ষমতা থাকিবে।
(৯) আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি, প্রয়োজনে, সদস্য কো-অপ্ট করিতে পারিবে।
Section ৬. জেলা কমিটি গঠন, ইত্যাদি
(১) নিম্নবর্ণিত সদস্য সমন্বয়ে প্রত্যেক জেলার জন্য একটি করিয়া জেলা স্থানিক পরিকল্পনা কমিটি গঠিত হইবে, যথা:-
(২) উপ-ধারা (১) এর দফা (ট) ও (ঠ) এ বর্ণিত সদস্যগণের মেয়াদ হইবে তাহাদের মনোনয়নের তারিখ হইতে ৩ (তিন) বৎসর এবং তাহারা পুনঃমনোনীত হইতে পারিবেন।
(৩) সরকার, যেকোনো সময়, কারণ দর্শানো ব্যতিরেকে উপ-ধারা (১) এর দফা (ট) ও (ঠ) এ বর্ণিত সদস্যগণের মনোনয়ন বাতিল করিতে পারিবে।
(৪) সরকারের উদ্দেশ্যে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে উপ-ধারা (১) এর দফা (ট) ও (ঠ) এ বর্ণিত কোনো সদস্য স্বীয় পদ ত্যাগ করিতে পারিবেন।
(৫) প্রতি বৎসর জেলা কমিটির অন্যূন ৪ (চার) টি সভা অনুষ্ঠিত হইবে, তবে জরুরি প্রয়োজনে যেকোনো সময় সভা আহ্বান করা যাইবে।
(৬) জেলা কমিটির সভাপতি জেলা কমিটির সকল সভায় সভাপতিত্ব করিবেন, তবে তাহার অনুপস্থিতিতে তৎকর্তৃক মনোনীত কোনো সদস্য সভায় সভাপতিত্ব করিবেন।
(৭) জেলা কমিটির সভার কোরামের জন্য উহার মোট সদস্য সংখ্যার অন্যূন দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের উপস্থিতির প্রয়োজন হইবে, তবে মুলতুবি সভার ক্ষেত্রে কোনো কোরামের প্রয়োজন হইবে না।
(৮) সভায় উপস্থিত সদস্যগণের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে জেলা কমিটির সকল সিদ্ধান্ত গৃহীত হইবে, তবে ভোটের সমতার ক্ষেত্রে সভায় সভাপতিত্বকারী ব্যক্তির দ্বিতীয় বা নির্ণায়ক ভোট প্রদানের ক্ষমতা থাকিবে।
(৯) জেলা কমিটি, প্রয়োজনে, সদস্য কো-অপ্ট করিতে পারিবে।
(১০) আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি কর্তৃক জারীকৃত নির্দেশনা অনুযায়ী জেলা কমিটির কার্যপদ্ধতি নির্ধারিত হইবে।
(১১) সকল উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভার বহির্ভূত এলাকার ক্ষেত্রে জেলা কমিটি স্থানিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন মনিটরিং সংক্রান্ত কার্য সম্পাদন করিবে।
Section ৭. স্থানিক পরিকল্পনা প্রণয়ন ও উন্নয়ন ব্যবস্থাপনা
(১) স্থানিক পরিকল্পনা প্রণয়ন ও উন্নয়ন ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে-
(২) স্থানিক পরিকল্পনা প্রণয়নে স্বাস্থ্য সুরক্ষা, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সংবেদনশীলতার ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন এবং ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়ায় বাস্তুচ্যুতি এড়াইতে পুনর্বাসনের সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করিতে হইবে।
Section ৮. স্থানিক পরিকল্পনা অনুমোদন
(১) কর্তৃপক্ষ, স্থানিক পরিকল্পনা, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনক্রমে, মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট, কর্তৃপক্ষের ওয়েবসাইট এবং বহুল প্রচারিত অন্যূন ২ (দুই) টি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে উহার প্রাক্-প্রকাশ করিবে।
(২) স্থানিক পরিকল্পনা অনুমোদনের পূর্বে উহার খসড়ার উপর অন্যূন ৩০ (ত্রিশ) দিনব্যাপী বা সংশ্লিষ্ট আইনে উল্লিখিত সময়, যাহা অধিক হইবে, অনুযায়ী কর্তৃপক্ষ কর্তৃক গণশুনানি অনুষ্ঠিত হইবে এবং গণশুনানি কার্যক্রমের পদ্ধতি বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে।
(৩) কর্তৃপক্ষ গণশুনানি হইতে প্রাপ্ত আপত্তি বা পরামর্শ বিবেচনাপূর্বক আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটির নিকট পেশ করিবে।
(৪) আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে পরিষদ স্থানিক পরিকল্পনা সংশোধনসহ বা সংশোধন ব্যতিরেকে অনুমোদন করিবে।
(৫) পরিষদের অনুমোদন প্রাপ্তির পর কর্তৃপক্ষ, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, জাতীয়, আঞ্চলিক, স্থানীয় ও বিশেষ স্থানিক পরিকল্পনা চূড়ান্তভাবে প্রকাশ করিবে।
Section ৯. অসামঞ্জস্যতা ও দ্বৈততা নিরসন
(১) কোনো সরকারি প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন কর্মসূচি, স্কিম অথবা পরিকল্পনা ও উন্নয়ন ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট স্থানিক পরিকল্পনার সহিত সামঞ্জস্যপূর্ণ না হইলে অথবা দ্বৈততা পরিলক্ষিত হইলে কর্তৃপক্ষ উহা নিরসনের লক্ষ্যে আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটির নিকট সিদ্ধান্তের জন্য উপস্থাপন করিবে এবং আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি আলোচনাক্রমে উহা নিষ্পত্তি করিবে।
(২) উপ-ধারা (১) অনুযায়ী বিষয়টি নিষ্পত্তি না হইলে পরিষদ প্রচলিত বিধি-বিধান অনুযায়ী উহা চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি করিতে পারিবে।
Section ১০. প্রতিকার
(১) এই অধ্যাদেশের অধীন কর্তৃপক্ষের কোনো কর্মচারীর সিদ্ধান্ত দ্বারা কোনো ব্যক্তি সংক্ষুব্ধ হইলে তিনি বা তাহার মনোনীত প্রতিনিধি কর্তৃপক্ষের নিকট বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে প্রতিকার চাহিতে পারিবেন।
(২) উপ-ধারা (১) অনুযায়ী কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে উক্ত ব্যক্তি সন্তুষ্ট না হইলে সরকারের নিকট প্রতিকার চাহিতে পারিবেন।
Section ১১. স্থানিক পরিকল্পনা পরিপন্থি কার্যক্রম গ্রহণে নিষেধাজ্ঞা, ইত্যাদি
(১) এই অধ্যাদেশের অধীন প্রণীত কোনো স্থানিক পরিকল্পনা এবং উহার অধীন প্রণীত স্ট্র্যাটেজিক প্ল্যান, স্ট্রাকচার প্ল্যান, আরবান এরিয়া প্ল্যান, ডিটেইল্ড এরিয়া প্ল্যান, অ্যাকশন এরিয়া প্ল্যান, ইত্যাদির ব্যত্যয় করিয়া কোনো ব্যক্তি কোনো কার্যক্রম গ্রহণ করিতে পারিবে না।
(২) উপ-ধারা (১) এর বিধান লঙ্ঘন করিয়া কোনো ব্যক্তি কোনো কার্যক্রম গ্রহণ করিলে বা অবৈধভাবে কোনো স্থাপনা নির্মাণ করিলে, কর্তৃপক্ষ উক্ত ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে উক্ত কার্যক্রম বন্ধ করিবার নির্দেশ প্রদান করিবে এবং অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করিবার ব্যবস্থা গ্রহণ করিবে।
Section ১২. অপরাধ ও দণ্ড
কোনো ব্যক্তি ধারা ১১ এর বিধান লঙ্ঘন করিয়া কোনো কার্য সংঘটন করিলে উক্ত ব্যক্তির অনুরূপ কার্য হইবে একটি অপরাধ এবং তজ্জন্য তিনি অনধিক ২ (দুই) বৎসর কারাদণ্ড বা অনধিক ২০ (বিশ) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবে।
Section ১৩. মোবাইল কোর্ট আইন, ২০০৯ এর প্রয়োগ
এই অধ্যাদেশে উল্লিখিত অপরাধসমূহ, মোবাইল কোর্ট আইন, ২০০৯ (২০০৯ সনের ৫৯ নং আইন) এর তফসিলভুক্ত হওয়া সাপেক্ষে, মোবাইল কোর্ট কর্তৃক বিচার করা যাইবে।
Section ১৪. প্রবেশ, ইত্যাদির ক্ষমতা।
কর্তৃপক্ষ কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত যেকোনো ব্যক্তি এই অধ্যাদেশ, বিধি বা এতদ্সংক্রান্ত কোনো আদেশ বা ইস্যুকৃত কোনো নির্দেশ বাস্তবায়নের নিমিত্ত নিম্নবর্ণিত কার্য সম্পাদন করিতে পারিবেন, যথা:-
Section ১৫. বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা
এই অধ্যাদেশের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে।
Section ১৬. ইংরেজিতে অনূদিত পাঠ প্রকাশ
(১) এই অধ্যাদেশ প্রবর্তনের পর সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই অধ্যাদেশের ইংরেজিতে অনূদিত একটি নির্ভরযোগ্য পাঠ প্রকাশ করিতে পারিবে।
(২) এই অধ্যাদেশ ও ইংরেজি পাঠের মধ্যে বিরোধের ক্ষেত্রে এই অধ্যাদেশ প্রাধান্য পাইবে।