সুপ্রীম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, ২০২৫
অধস্তন আদালতের তত্ত্বাবধান, নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলাবিধান সংক্রান্ত বিষয়াদি যথাযথরূপে পালনের জন্য এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের জন্য একটি স্বতন্ত্র সচিবালয় প্রতিষ্ঠা করিবার উদ্দেশ্যে প্রয়োজনীয় বিধান প্রণয়নকল্পে প্রণীত অধ্যাদেশ
অধস্তন আদালতের তত্ত্বাবধান, নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলাবিধান সংক্রান্ত বিষয়াদি যথাযথরূপে পালনের জন্য এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের জন্য একটি স্বতন্ত্র সচিবালয় প্রতিষ্ঠা করিবার উদ্দেশ্যে প্রয়োজনীয় বিধান প্রণয়নকল্পে প্রণীত অধ্যাদেশ যেহেতু সংবিধানের ২২ অনুচ্ছেদে নির্বাহী বিভাগ হইতে বিচার বিভাগের পৃথকীকরণকে রাষ্ট্র পরিচালনার অন্যতম মূলনীতি হিসাবে উল্লেখ করা হইয়াছে; যেহেতু সংবিধানের ১০৯ এবং ১১৬ অনুচ্ছেদের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে অধস্তন আদালতের তত্ত্বাবধান, নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলাবিধান সংক্রান্ত বিষয়াদি যথাযথরূপে পালনের জন্য এবং বিচার বিভাগের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ভূমিকা পালনের জন্য একটি স্বতন্ত্র সচিবালয় প্রতিষ্ঠা করা আবশ্যক এবং উহার কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিয়োগ ও কর্মের শর্তসমূহ সম্পর্কে বিধান প্রণয়ন করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়; যেহেতু আপীল বিভাগের ৭৯/১৯৯৯ নম্বর সিভিল আপীলের রায় বাস্তবায়নের জন্য নির্বাহী বিভাগ হইতে বিচার বিভাগ পৃথকীকরণ বাস্তবায়নকল্পে বিচার বিভাগের জন্য স্বতন্ত্র সচিবালয় প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা রহিয়াছে; এবং যেহেতু সংসদ ভাঙ্গিয়া যাওয়া অবস্থায় রহিয়াছে এবং রাষ্ট্রপতির নিকট ইহা সন্তোষজনকভাবে প্রতীয়মান হইয়াছে যে, আশু ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় পরিস্থিতি বিদ্যমান রহিয়াছে; সেহেতু সংবিধানের ৯৩(১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি নিম্নরূপ অধ্যাদেশ প্রণয়ন ও জারি করিলেন:-
Section ১. সংক্ষিপ্ত শিরোনাম ও প্রবর্তন
(১) এই অধ্যাদেশ সুপ্রীম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, ২০২৫ নামে অভিহিত হইবে।
(২) সুপ্রীম কোর্ট সচিবালয় স্থাপন সম্পন্ন ও ইহার কার্যক্রম পূর্ণরূপে চালু হওয়া সাপেক্ষে সরকার, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের সহিত পরামর্শক্রমে, ধারা ৭ এর বিধানাবলি সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা কার্যকর করিবে।
(৩) উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত ধারা ব্যতীত এই অধ্যাদেশের অন্যান্য ধারার বিধান অবিলম্বে কার্যকর হইবে।
Section ২. সংজ্ঞা
বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থী কোনো কিছু না থাকিলে, এই অধ্যাদেশে-
Section ৩. অধ্যাদেশের প্রাধান্য
আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইন বা বিধিতে যাহা কিছুই থাকুক না কেন এই অধ্যাদেশের বিধানাবলি প্রাধান্য পাইবে।
Section ৪. সুপ্রীম কোর্ট সচিবালয় গঠন এবং নিয়ন্ত্রণ
(১) সংবিধানের ২২, ১০৯ এবং ১১৬ অনুচ্ছেদের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে সুপ্রীম কোর্ট সচিবালয় নামে একটি স্বতন্ত্র সচিবালয় থাকিবে।
(২) সুপ্রীম কোর্ট সচিবালয়ের সার্বিক নিয়ন্ত্রণ প্রধান বিচারপতির উপর ন্যস্ত থাকিবে এবং সুপ্রীম কোর্ট সচিবালয়ের সচিব উক্ত সচিবালয়ের প্রশাসনিক প্রধান হইবেন।
(৩) এই অধ্যাদেশের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে সুপ্রীম কোর্ট সচিবালয় সরকারের মন্ত্রণালয় যেইরূপ প্রশাসনিক কার্যক্রম গ্রহণ করিবার অধিকারী সেইরূপ প্রশাসনিক কার্যক্রম গ্রহণ করিতে পারিবে।
(৪) সুপ্রীম কোর্ট সচিবালয়ের ১ (এক) জন সচিব এবং অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ থাকিবেন।
(৫) সুপ্রীম কোর্ট সচিবালয়ের সচিব সরকারের সিনিয়র সচিব এর সমমর্যাদা ও সুবিধাদি ভোগ করিবেন।
(৬) সুপ্রীম কোর্ট সচিবালয়ের সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারী সুপ্রীম কোর্ট সচিবালয়ের সচিবের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে কাজ-কর্ম পরিচালনা করিবেন।
(৭) প্রধান বিচারপতি প্রশাসনিক ক্ষমতা অর্পণ করিয়া আদেশ জারি করিতে পারিবেন।
Section ৫. সুপ্রীম কোর্ট সচিবালয়ের কার্যাবলি
(১) অন্য কোনো আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেনো, সুপ্রীম কোর্ট সচিবালয়ের কার্যাবলি নিম্নরূপ হইবে, যথা:-
সার্ভিস সদস্যগণের পদায়ন ও বদলি সংক্রান্ত নীতিমালা প্রণয়ন;
এই অধ্যাদেশের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে প্রধান বিচারপতি কর্তৃক আরোপিত দায়িত্ব পালন।
(২) বিচার বিভাগের কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে আইন ও বিচার বিভাগ সুপ্রীম কোর্ট সচিবালয়কে এই অধ্যাদেশের অধীন কার্যাবলি সম্পাদনের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করিবে।
Section ৬. সুপ্রীম কোর্ট সচিবালয়ের কার্যপদ্ধতি
(১) সুপ্রীম কোর্ট সচিবালয় সরকারের যে কোনো মন্ত্রণালয়, বিভাগ, দপ্তর বা অফিসের সহিত অথবা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের সহিত সরাসরি যোগাযোগ করিতে পারিবে।
(২) কোনো ব্যক্তি বা সরকারের কোনো মন্ত্রণালয়, বিভাগ বা দপ্তর সুপ্রীম কোর্ট সচিবালয়ের সহিত কোনো বিষয়ে যোগাযোগের প্রয়োজনবোধ করিলে সরাসরি যোগাযোগ করিতে পারিবে।
(৩) প্রধান বিচারপতি আদেশ দ্বারা সুপ্রীম কোর্ট সচিবালয়ের কার্যাবলি বণ্টন, ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনার ব্যবস্থা করিতে পারিবেন।
৭। সার্ভিস প্রশাসনের দায়িত্ব পালন।- (১) সুপ্রীম কোর্ট সচিবালয় সার্ভিস প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান হইবে।
(২) সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে সুপ্রীম কোর্ট সচিবালয় সার্ভিস সদস্যদের নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলাবিধান সংক্রান্ত কাজে রাষ্ট্রপতির পক্ষে প্রয়োজনীয় সকল প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করিবে।
(৩) সার্ভিস সদস্যদের নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলাবিধান সংক্রান্ত কার্যাদি সুপ্রীম কোর্ট সচিবালয়ের সচিব কর্তৃক সুপ্রীম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের মাধ্যমে সুপ্রীম কোর্টের সংশ্লিষ্ট কমিটির পরামর্শের জন্য উপস্থাপিত হইবে।
(৪) উপ-ধারা (৩) এ উল্লিখিত কমিটির সদস্যগণ নির্ধারিত পদ্ধতিতে আপীল বিভাগের বিচারকগণ কর্তৃক মনোনীত হইবেন।
(৫) উপ-ধারা (২) এর বিধান সত্ত্বেও, আইন ও বিচার বিভাগ ও ইহার কার্যপরিধিতে বর্ণিত প্রতিষ্ঠান বা সংস্থা এবং অন্য কোনো মন্ত্রণালয়, বিভাগ, সংস্থা, প্রতিষ্ঠান বা কর্তৃপক্ষের দপ্তরে সার্ভিস সদস্যগণের পদায়ন বা বদলি সংক্রান্ত কার্যাদি এতদুদ্দেশ্যে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক সংবিধানের ১৩৩ অনুচ্ছেদের অধীন প্রণীত বিধিমালা অনুযায়ী, সুপ্রীম কোর্টের সহিত পরামর্শক্রমে, সম্পাদিত হইবে।
Section ৭. সার্ভিস প্রশাসনের দায়িত্ব পালন
(১) সুপ্রীম কোর্ট সচিবালয় সার্ভিস প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান হইবে।
(২) সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে সুপ্রীম কোর্ট সচিবালয় সার্ভিস সদস্যদের নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলাবিধান সংক্রান্ত কাজে রাষ্ট্রপতির পক্ষে প্রয়োজনীয় সকল প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করিবে।
(৩) সার্ভিস সদস্যদের নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলাবিধান সংক্রান্ত কার্যাদি সুপ্রীম কোর্ট সচিবালয়ের সচিব কর্তৃক সুপ্রীম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের মাধ্যমে সুপ্রীম কোর্টের সংশ্লিষ্ট কমিটির পরামর্শের জন্য উপস্থাপিত হইবে।
(৪) উপ-ধারা (৩) এ উল্লিখিত কমিটির সদস্যগণ নির্ধারিত পদ্ধতিতে আপীল বিভাগের বিচারকগণ কর্তৃক মনোনীত হইবেন।
(৫) উপ-ধারা (২) এর বিধান সত্ত্বেও, আইন ও বিচার বিভাগ ও ইহার কার্যপরিধিতে বর্ণিত প্রতিষ্ঠান বা সংস্থা এবং অন্য কোনো মন্ত্রণালয়, বিভাগ, সংস্থা, প্রতিষ্ঠান বা কর্তৃপক্ষের দপ্তরে সার্ভিস সদস্যগণের পদায়ন বা বদলি সংক্রান্ত কার্যাদি এতদুদ্দেশ্যে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক সংবিধানের ১৩৩ অনুচ্ছেদের অধীন প্রণীত বিধিমালা অনুযায়ী, সুপ্রীম কোর্টের সহিত পরামর্শক্রমে, সম্পাদিত হইবে।
Section ৮. পরিকল্পনা ও উন্নয়ন কমিটি
(১) অধস্তন আদালত, প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল, সুপ্রীম কোর্ট রেজিস্ট্রি এবং সুপ্রীম কোর্ট সচিবালয়-সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও প্রতিষ্ঠানসমূহ সংক্রান্ত উন্নয়ন বা কারিগরি প্রকল্প চূড়ান্ত নিরীক্ষা ও সুপারিশ করিবার লক্ষ্যে নিম্নবর্ণিত সদস্য সমন্বয়ে একটি পরিকল্পনা ও উন্নয়ন কমিটি গঠিত হইবে, যথা:-
সচিব, সুপ্রীম কোর্ট সচিবালয়, যিনি ইহার সদস্য সচিবও হইবেন।
(২) উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত কমিটি প্রধান বিচারপতির সহিত পরামর্শক্রমে উহার কার্যপদ্ধতি নির্ধারণ করিবে।
(৩) উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত কমিটি কর্তৃক সুপারিশকৃত প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ৫০ (পঞ্চাশ) কোটি টাকার মধ্যে থাকিলে প্রধান বিচারপতি অনুমোদন করিবেন এবং ইহার ঊর্ধ্বে হইলে উহা অনুমোদনের জন্য সরকারের জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে উপস্থাপনের জন্য পরিকল্পনা মন্ত্রীর নিকট সরাসরি প্রেরণ করা হইবে।
(৪) প্রকল্প গ্রহণ, প্রণয়ন ও যাচাই-বাছাই করিবার জন্য সুপ্রীম কোর্ট সচিবালয়ের সচিবের নেতৃত্বে প্রকল্প যাচাই-বাছাই কমিটি গঠন করা হইবে।
(৫) প্রকল্প যাচাই-বাছাই কমিটি প্রকল্প যাচাই-বাছাই করিবার ক্ষেত্রে “সরকারি খাতে উন্নয়ন প্রকল্প প্রণয়ন, প্রক্রিয়াকরণ, অনুমোদন ও সংশোধন নির্দেশিকা, ২০২২” অনুসরণ করিবে।
(৬) প্রকল্প যাচাই-বাছাই কমিটি কর্তৃক যাচাই-বাছাইকৃত প্রকল্প চূড়ান্ত নিরীক্ষা ও সুপারিশের জন্য উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত কমিটির নিকট প্রেরণ করিবে।
(৭) অনুন্নয়ন বাজেটের আওতায় কর্মসূচি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত কমিটি কর্তৃক সুপারিশকৃত স্কিমের প্রাক্কলিত ব্যয় ৫০ (পঞ্চাশ) কোটি টাকার মধ্যে থাকিলে প্রধান বিচারপতি অনুমোদন করিবেন এবং ইহার ঊর্ধ্বে হইলে এইরূপ স্কিম অনুমোদনের প্রস্তাব অর্থ বিভাগে প্রেরণ করা হইবে।
(৮) সরকার সময়ে সময়ে, সুপ্রীম কোর্টের সহিত পরামর্শ করিয়া, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে উপ-ধারা (৩) ও (৭) এ উল্লিখিত আর্থিক সীমা মুদ্রাস্ফীতির সহিত সমন্বয় করিয়া বা অন্য কোনো উপযুক্ত কারণে বৃদ্ধি করিতে পারিবে।
Section ৯. বিচার প্রশাসন সংক্রান্ত কমিটি
(১) এই অধ্যাদেশের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে প্রধান বিচারপতি আপীল বিভাগে কর্মরত অন্যান্য বিচারকগণের সহিত পরামর্শক্রমে সুপ্রীম কোর্টের প্রয়োজনীয় সংখ্যক বিচারকের সমন্বয়ে নির্দিষ্ট মেয়াদ ও কার্যপরিধি উল্লেখপূর্বক ধারা ৮ এ উল্লিখিত কমিটির অতিরিক্ত বিচার প্রশাসন সংক্রান্ত এক বা একাধিক কমিটি গঠন করিতে পারিবেন।
(২) কমিটি উহার নিজস্ব কার্যপদ্ধতি নির্ধারণ করিবে।
(৩) কমিটি উহার কার্যক্রম সম্পর্কে সময় সময় প্রধান বিচারপতিকে অবহিত করিবে।
Section ১০. সুপ্রীম কোর্ট সচিবালয় কমিশন
(১) নিম্নবর্ণিত সদস্যগণের সমন্বয়ে গঠিত একটি সুপ্রীম কোর্ট সচিবালয় কমিশন থাকিবে, যথা:-
(২) কমিশন দেশের বিচার প্রশাসনের উন্নয়ন এবং বিচার বিভাগের সক্ষমতা বৃদ্ধি করিবার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় দিক-নির্দেশনা ও পরামর্শ প্রদান করিবে।
(৩) কমিশন ইহার নিজস্ব কার্যপদ্ধতি নির্ধারণ করিবে।
Section ১১. বাজেট ব্যবস্থাপনা
(১) সুপ্রীম কোর্ট সচিবালয় প্রত্যেক অর্থ-বৎসরের জন্য সুপ্রীম কোর্ট সচিবালয়ের কার্যপরিধিভুক্ত আদালত, প্রতিষ্ঠান ও দপ্তরের জন্য অনুমিত আয় ও ব্যয়-সংবলিত একটি বিবৃতি এবং সুপ্রীম কোর্টের জন্য অনুমিত আয় ও ব্যয়-সংবলিত একটি বিবৃতি উক্ত অর্থ-বৎসর শুরু হইবার অন্তত ৩ (তিন) মাস পূর্বে প্রস্তুত করিবে।
(২) উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত বিবৃতিতে সুপ্রীম কোর্ট ও বিচার কর্ম-বিভাগে নিযুক্ত বিচারক, বিচার বিভাগীয় কর্মচারী এবং সুপ্রীম কোর্ট সচিবালয়ে নিযুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীগণকে প্রদেয় বেতন ও ভাতাদি এবং দেশের বিচার প্রশাসন পরিচালনার প্রশাসনিক ব্যয় এবং সুপ্রীম কোর্ট, অধস্তন আদালত, তৎসংশ্লিষ্ট দপ্তর, সংস্থা, প্রতিষ্ঠান, কমিশন, ইনস্টিটিউট, একাডেমি প্রভৃতির আবর্তক ও উন্নয়ন ব্যয়, গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয় অন্তর্ভুক্ত থাকিবে।
(৩) প্রধান বিচারপতি উক্ত বিবৃতি সরকারের আর্থিক বিবৃতির সহিত সংযুক্ত করিয়া সংসদে উপস্থাপনের জন্য অর্থমন্ত্রীর নিকট প্রেরণ করিবেন।
(৪) সরকারের বাজেট প্রণয়নের সুবিধার্থে কৌশলগত পর্যায়ের শুরুতেই সুপ্রীম কোর্ট এবং সুপ্রীম কোর্ট সচিবালয়ের রাজস্ব ও প্রাপ্তির প্রাথমিক লক্ষ্যমাত্রা এবং প্রাথমিক সম্ভাব্য ব্যয়সীমার প্রাক্কলন ও প্রক্ষেপণ সরকারের নিকট প্রেরণ করিতে হইবে।
(৫) সংবিধানের ৮৮(চ) অনুচ্ছেদ অনুসারে সুপ্রীম কোর্ট সচিবালয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন ও ভাতাদি এবং সুপ্রীম কোর্ট সচিবালয়ের সকল প্রশাসনিক ব্যয় সংযুক্ত তহবিলের উপর দায়যুক্ত ব্যয় হইবে।
(৬) সুপ্রীম কোর্টের অনুকূলে জাতীয় বাজেটে পাশকৃত অর্থ সুপ্রীম কোর্ট রেজিস্ট্রির অনুকূলে এবং সুপ্রীম কোর্ট সচিবালয়ের অনুকূলে জাতীয় বাজেটে পাশকৃত অর্থ সুপ্রীম কোর্ট সচিবালয়ের অনুকূলে পৃথকভাবে বরাদ্দ হইবে।
(৭) সুপ্রীম কোর্ট এবং সুপ্রীম কোর্ট সচিবালয়ের অনুকূলে পাশকৃত বাৎসরিক জাতীয় বাজেটে বরাদ্দকৃত অর্থ হইতে ব্যয় করিবার ক্ষেত্রে সরকারের পূর্বানুমোদন গ্রহণ করা আবশ্যক হইবে না:
তবে শর্ত থাকে যে, সময় সময় সরকার কর্তৃক জারিকৃত ব্যয় বন্ধ সম্পর্কিত বিধি-বিধান এইক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে।
(৮) সুপ্রীম কোর্ট এবং সুপ্রীম কোর্ট সচিবালয়ের অনুকূলে বাজেটে বরাদ্দকৃত অর্থ পুনঃউপযোজনের সকল ক্ষমতা প্রধান বিচারপতির থাকিবে।
(৯) এই ধারার বিধান দ্বারা সংবিধানের ১২৮ অনুচ্ছেদে প্রদত্ত মহাহিসাব-নিরীক্ষকের অধিকার ক্ষুণ্ণ করা যাইবে না।
Section ১২. অর্থ ব্যয়
(১) সুপ্রীম কোর্ট সচিবালয়ের জন্য বাজেটে বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যয় অনুমোদনে প্রধান বিচারপতি চূড়ান্ত কর্তৃপক্ষ হইবেন।
(২) ধারা ৮ অনুসারে গঠিত পরিকল্পনা ও উন্নয়ন কমিটির সুপারিশক্রমে প্রধান বিচারপতি উক্ত ধারার অধীন গৃহীত বা বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পের ক্ষেত্রে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা প্রকল্প, বিনিয়োগ প্রকল্প, কারিগরি সহায়তা প্রকল্প, কারিগরি প্রকল্প, সংশোধিত বিনিয়োগ প্রকল্প, সংশোধিত কারিগরি সহায়তা প্রকল্প ও সংশোধিত সম্ভাব্যতা সমীক্ষা প্রকল্প এবং প্রকল্পের আন্তঃঅঙ্গ ব্যয় সমন্বয়সহ প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধি এবং বরাদ্দ ব্যবহার সংশ্লিষ্ট প্রস্তাব অনুমোদন করিবেন।
(৩) উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত প্রকল্পের ব্যয় সংশোধনী ও সময়বৃদ্ধির ক্ষেত্রে তৃতীয় সংশোধনী পর্যন্ত প্রধান বিচারপতি অনুমোদন করিতে পারিবেন:
তবে শর্ত থাকে যে, এইরূপ ব্যয়বৃদ্ধি ধারা ৮ এর উপ-ধারা (৩) এ উল্লিখিত প্রধান বিচারপতি কর্তৃক অনুমোদনযোগ্য ব্যয়সীমার অধিক হইবে না।
Section ১৩. সুপ্রীম কোর্ট সচিবালয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ
(১) সুপ্রীম কোর্ট সচিবালয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে নিযুক্ত হইবেন।
(২) উপ-ধারা (১) এ বর্ণিত বিধি প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত প্রধান বিচারপতি সার্ভিসের সদস্যদের মধ্য হইতে সুপ্রীম কোর্ট সচিবালয়ের কর্মকর্তা এবং সুপ্রীম কোর্ট ও অধস্তন আদালতে কর্মরত কর্মচারীগণের মধ্য হইতে সচিবালয়ে কর্মচারী পদায়ন করিতে পারিবেন।
(৩) সুপ্রীম কোর্ট সচিবালয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণকে উপ-ধারা (১) এর অধীন প্রণীত বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে অধস্তন আদালতে বদলি বা পদায়ন করা যাইবে এবং বিচার বিভাগীয় কর্মচারীগণকে উক্ত বিধি অনুযায়ী সুপ্রীম কোর্ট সচিবালয়ে বদলি বা পদায়ন করা যাইবে।
Section ১৪. কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণের চাকরির সাধারণ শর্তাবলি
(১) এই অধ্যাদেশের অধীন প্রণীত বিধি, নীতিমালা ও আদেশ দ্বারা নির্ধারিত চাকরির শর্তাবলি সুপ্রীম কোর্ট সচিবালয়ে নিযুক্ত সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে:
তবে শর্ত থাকে যে, সার্ভিস সদস্যগণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিসের সদস্যগণের জন্য প্রণীত আইন, বিধি ও আদেশসমূহ প্রযোজ্য হইবে।
(২) উপ-ধারা (১) এ বর্ণিত বিধি, নীতিমালা বা আদেশ প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত সরকারি কর্মচারীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য চাকরির শর্তাবলি সুপ্রীম কোর্ট সচিবালয়ে নিযুক্ত সার্ভিস সদস্য ব্যতীত অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে।
Section ১৫. বেতন, ইত্যাদি সম্পর্কে বিধান
এতদ্সংক্রান্তে বিধি, প্রবিধি, আদেশ বা পরিপত্র প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত সরকারি কর্মচারীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বেতন, ভাতা, ছুটি, ভবিষ্য তহবিল, গ্রাচুইটি, পেনশন ও চাকরির অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা সংক্রান্ত আইন, বিধিমালা, প্রবিধি, আদেশ বা পরিপত্র প্রয়োজনীয় অভিযোজন সহকারে, সুপ্রীম কোর্ট সচিবালয়ে নিযুক্ত কর্মকর্তা ও কর্মচারী এবং বিচার বিভাগীয় কর্মচারীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে:
তবে শর্ত থাকে যে, সার্ভিস সদস্যগণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিসের সদস্যগণের জন্য প্রণীত আইন, বিধি ও আদেশসমূহ প্রযোজ্য হইবে।
Section ১৬. শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা
(১) সার্ভিস সদস্যদের বিরুদ্ধে সুপ্রীম কোর্ট সচিবালয় এতদুদ্দেশ্যে প্রণীত বিধি ও প্রযোজ্য আদেশ দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করিবে।
(২) আইন ও বিচার বিভাগ এবং সরকারের অন্য মন্ত্রণালয়, বিভাগ, সংস্থা, প্রতিষ্ঠান বা কর্তৃপক্ষের দপ্তরে কর্মরত সার্ভিস সদস্যগণের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা সুপ্রীম কোর্টের সহিত পরামর্শ করিয়া আইন ও বিচার বিভাগ উপ-ধারা (১) অনুসারে প্রণীত বিধি মোতাবেক গ্রহণ করিবে।
(৩) সুপ্রীম কোর্ট সচিবালয়ে নিযুক্ত কর্মকর্তা ও কর্মচারী এবং বিচার বিভাগীয় কর্মচারীদের বিরুদ্ধে গ্রহণীয় শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে।
(৪) উপ-ধারা (৩) এ বর্ণিত বিধি প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত সরকারি কর্মচারীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য শৃঙ্খলা ও আপীল সংক্রান্ত আইন ও বিধিমালা, প্রয়োজনীয় অভিযোজন সহকারে, সুপ্রীম কোর্ট সচিবালয়ে নিযুক্ত সার্ভিস সদস্য ব্যতীত অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মচারী এবং বিচার বিভাগীয় কর্মচারীগণের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে।
Section ১৭. সুপ্রীম কোর্ট রেজিস্ট্রি, সুপ্রীম কোর্ট সচিবালয়, প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল ও অধস্তন আদালতের সাংগঠনিক কাঠামো ও পদসৃজন, বিলোপ বা বিন্যাস
(১) সুপ্রীম কোর্ট রেজিস্ট্রি, সুপ্রীম কোর্ট সচিবালয়, প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল ও অধস্তন আদালতের সাংগঠনিক কাঠামো (TO&E) পরিবর্তনসহ সুপ্রীম কোর্ট রেজিস্ট্রি, সুপ্রীম কোর্ট সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী, প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালের এবং বিচার বিভাগীয় কর্মচারীদের পদ সৃজন, বিলোপ বা বিন্যাস করিবার ক্ষেত্রে আপীল বিভাগের কর্মে জ্যেষ্ঠ বিচারকের সভাপতিত্বে প্রধান বিচারপতি কর্তৃক মনোনীত আপীল বিভাগের ১ (এক) জন ও হাইকোর্ট বিভাগের ২ (দুই) জন বিচারক, সুপ্রীম কোর্ট সচিবালয়ের সচিব, আইন ও বিচার বিভাগের সচিব, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব, অর্থ বিভাগের সচিব, এবং সুপ্রীম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের সমন্বয়ে একটি পদ সৃজন কমিটি গঠিত হইবে এবং কমিটির সুপারিশ চূড়ান্ত বলিয়া গণ্য হইবে।
(২) পদ সৃজন কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী পদ সৃজনের চূড়ান্ত আদেশ জারি করা হইবে এবং উক্ত কমিটি আদেশ জারির কার্যপদ্ধতি নির্ধারণ করিবে।
(৩) বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিসের পদ সৃজনের ক্ষেত্রে সংবিধানের ১১৫ অনুচ্ছেদের অধীন প্রণীত বিধিমালায় বর্ণিত পদ্ধতি প্রযোজ্য হইবে।
Section ১৮. বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা
(১) এই অধ্যাদেশের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে সুপ্রীম কোর্ট সচিবালয় সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে।
(২) উপ-ধারা (১) এ বর্ণিত বিধি প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত, বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি, এই অধ্যাদেশের বিধানাবলির আলোকে প্রয়োজনীয় আদেশ, নির্দেশ ও পরিপত্র জারি করিতে পারিবেন।
Section ১৯. আদেশ, নির্দেশ, পরিপত্র, নীতিমালা, ইত্যাদি প্রণয়নের ক্ষমতা
(১) এই অধ্যাদেশের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে সুপ্রীম কোর্ট সচিবালয় আদেশ, নির্দেশ, পরিপত্র, নীতিমালা, ইত্যাদি প্রণয়ন ও জারি করিতে পারিবে এবং সরকারি গেজেট প্রকাশ করিতে পারিবে।
(২) উপ-ধারা (১) এ বর্ণিত আদেশ, নির্দেশ, পরিপত্র, নীতিমালা, ইত্যাদি প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত, বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি, এই অধ্যাদেশের বিধানাবলির আলোকে প্রয়োজনীয় আদেশ, নির্দেশ, পরিপত্র, নীতিমালা, ইত্যাদি জারি করিতে পারিবেন।
Section ২০. ইংরেজিতে অনূদিত পাঠ প্রকাশ
(১) এই অধ্যাদেশ প্রবর্তনের পর সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই অধ্যাদেশের ইংরেজিতে অনূদিত একটি নির্ভরযোগ্য পাঠ (Authentic English Text) প্রকাশ করিতে পারিবে।
(২) বাংলা পাঠ ও ইংরেজি পাঠের মধ্যে বিরোধের ক্ষেত্রে বাংলা পাঠ প্রাধান্য পাইবে।