গুম হইতে সকল ব্যক্তিকে সুরক্ষার নিমিত্ত আন্তর্জাতিক কনভেনশন (International Convention for the Protection of All Persons from Enforced Disappearance) কার্যকর করিবার লক্ষ্যে প্রণীত অধ্যাদেশ যেহেতু জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে গুম হইতে সকল ব্যক্তিকে সুরক্ষার নিমিত্ত আন্তর্জাতিক কনভেনশন ২০০৬ সালের ২০ ডিসেম্বর গৃহীত এবং ২০১০ সালের ২৩ ডিসেম্বর কার্যকর হইয়াছে এবং যেহেতু ২০২৪ সালের ২৯ আগস্ট উক্ত সনদে বাংলাদেশ অংশীদার হইয়াছে; এবং যেহেতু সর্বজনীন মানবাধিকারের ঘোষণা (Universal Declaration of Human Rights), নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকারসংক্রান্ত আন্তর্জাতিক চুক্তি (International Covenant on Civil and Political Rights), আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালত সংক্রান্ত রোম সংবিধি (Rome Statute of the International Criminal Court) এবং অন্যান্য মানবাধিকারসংক্রান্ত চুক্তিসমূহ অনুসরণ করিতে বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ; এবং যেহেতু সংবিধানের ৩১ অনুচ্ছেদ আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার সংরক্ষণ এবং ৩২ অনুচ্ছেদে জীবন ও ব্যক্তি-স্বাধীনতার অধিকার-রক্ষণ করিয়াছে এবং ৩৩(১) অনুচ্ছেদে গ্রেপ্তারের কারণ না জানাইয়া আটক রাখা বা আইনজীবীর সহিত পরামর্শ ও আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকার হইতে বঞ্চিত করা নিষিদ্ধ করিয়াছে এবং ৩৫(৫) অনুচ্ছেদে যন্ত্রণা প্রদান কিংবা নিষ্ঠুর, অমানুষিক বা লাঞ্ছনাকর দণ্ড প্রদান কিংবা কাহারও সহিত অনুরূপ ব্যবহার করা নিষিদ্ধ করিয়াছে; এবং যেহেতু গুম হইতে সকল ব্যক্তিকে সুরক্ষার নিমিত্ত আন্তর্জাতিক কনভেনশনের অনুচ্ছেদ ৪(১) মোতাবেক বাংলাদেশ কর্তৃক গুমকে ফৌজদারি অপরাধ হিসাবে বিবেচনা করিয়া বিধান প্রণয়নে বাধ্যবাধকতা রহিয়াছে; যেহেতু বাংলাদেশে বহু ব্যক্তি গুমের শিকার হইয়াছেন, যাহা জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয়সহ বহু দেশি ও আন্তর্জাতিক সংস্থা স্বীকৃত ও নথিভুক্ত; যেহেতু উপরিউক্ত কনভেনশন ও সংবিধানে বর্ণিত অঙ্গীকারসমূহের কার্যকারিতা প্রদানে বাংলাদেশে আইনি বিধান প্রণয়ন করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়; এবং যেহেতু সংসদ ভাঙিয়া যাওয়া অবস্থায় রহিয়াছে এবং রাষ্ট্রপতির নিকট ইহা সন্তোষজনকভাবে প্রতীয়মান হইয়াছে যে, আশু ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় পরিস্থিতি বিদ্যমান রহিয়াছে; সেহেতু সংবিধানের ৯৩(১) অনুচ্ছেদ এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি নিম্নরূপ অধ্যাদেশ প্রণয়ন ও জারি করিলেন:-
(১) এই অধ্যাদেশ গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ, ২০২৫ নামে অভিহিত হইবে।
(২) ইহা অবিলম্বে কার্যকর হইবে।
বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থি কোনো কিছু না থাকিলে, এই অধ্যাদেশে-
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি);
(ঊ)সরকারি গোয়েন্দা সংস্থাসমূহ;
আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই অধ্যাদেশের বিধানাবলি প্রাধান্য পাইবে।
(১) কোনো সরকারি কর্মচারী বা শৃঙ্খলা-বাহিনীর কোনো সদস্য উক্তরূপ পরিচয়ের বলে নিজে, অথবা শৃঙ্খলা-বাহিনী বা সরকারি কোনো কর্তৃপক্ষের অনুমোদন, সমর্থন বা সম্মতির বলে যেকোনো ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গ যদি-
তবে শর্ত থাকে যে, ফৌজদারি কার্যবিধি বা অন্য কোনো আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, যদি গ্রেপ্তারের পর সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩৩(২) এ নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিকে ম্যাজিস্ট্রেটের সম্মুখে হাজির করা হয়, তবে ম্যাজিস্ট্রেটের সম্মুখে হাজির করার পূর্ব পর্যন্ত উক্ত গ্রেফতারের ঘটনা বা গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির অবস্থান বা অবস্থা রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার স্বার্থে গোপন রাখা হইলেও তাহা গুম বলিয়া গণ্য হইবে না।
ব্যাখ্যা।- এই অধ্যাদেশের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে “অপহরণ” অর্থ Penal Code, 1860 (Act No. XLV of 1860) এর section 362 এ সংজ্ঞায়িত “abduction”; এবং “স্বাধীনতা-হরণ” অর্থ কোনো ব্যক্তিকে তাহার সম্মতি ব্যতিরেকে কোনো নির্দিষ্ট স্থানে আবদ্ধ রাখা।
(২) যদি গুমের ফলে গুম হওয়া ব্যক্তির মৃত্যু ঘটে বা গুম হওয়া ব্যক্তির লাশ পাওয়া যায় অথবা গুমের ঘটনার ৫ (পাঁচ) বৎসর অতিক্রান্ত হওয়ার পরও তাহাকে জীবিত কিংবা মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব না হয়, তাহা হইলে উক্ত অপরাধের জন্য দায়ী ব্যক্তি সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা অন্য কোনো মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং উক্ত দণ্ডের অতিরিক্ত অনধিক ১ (এক) কোটি টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন:
তবে শর্ত থাকে যে, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে এই ধারার অন্য কোনো উপ-ধারা এর অধীন দায়েরকৃত মামলার বিচার সম্পন্ন হওয়া সত্ত্বেও উপ-ধারা (৩) এর অধীন নূতন মামলা দায়ের আইনত বারিত হইবে না।
(৩) যদি কোনো ব্যক্তি সজ্ঞানে গুমের সাক্ষ্যপ্রমাণ বিনষ্ট, গোপন, বিকৃত বা পরিবর্তন করেন, তাহা হইলে তিনি অনধিক ৭ (সাত) বৎসর কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং উক্ত দণ্ডের অতিরিক্ত অনধিক ২০ (বিশ) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন।
(৪) যদি কোনো ব্যক্তি গোপন আটক-কেন্দ্র নির্মাণ, স্থাপন বা ব্যবহার করেন, তাহা হইলে তিনি অনধিক ৭ (সাত) বৎসর কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং উক্ত দণ্ডের অতিরিক্ত ২০ (বিশ) লক্ষ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন।
(৫) যদি কোনো ব্যক্তি উপ-ধারা (১), (২), (৩) ও (৪) এর কোনো অপরাধ সংঘটনে-
তাহা হইলে তিনিও মূল অপরাধের জন্য নির্ধারিত দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন।
ব্যাখ্যা।- এই উপ-ধারায় উল্লিখিত “সহায়তা বা প্ররোচনা” অর্থ Penal Code, 1860 (Act No. XLV of 1860) এর section 107 এ সংজ্ঞায়িত “Abetment” এবং “ষড়যন্ত্র” অর্থ Penal Code, 1860 (Act No. XLV of 1860) এর section 120A এ সংজ্ঞায়িত “Criminal Conspiracy”।
(৬) শৃঙ্খলা-বাহিনীর কোনো উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, কমান্ডার বা দলনেতা যদি-
তাহা হইলে তিনিও মূল অপরাধের জন্য নির্ধারিত দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
ব্যাখ্যা।- (অ) “কর্তৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণ” অর্থ অধস্তনদের আদেশ দেওয়ার ক্ষমতা এবং এই ধরনের আদেশ পালনের নিশ্চয়তা বিধানের সক্ষমতা; এবং
(৭) শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য নয় এমন কোনো ঊর্ধ্বতন ব্যক্তি যদি উপ-ধারা (১), (২), (৩), (৪) ও (৫) এ উল্লিখিত যেকোনো অপরাধ সংঘটন সম্পর্কিত-
সেইক্ষেত্রে উক্ত ঊর্ধ্বতন ব্যক্তিও মূল অপরাধের জন্য নির্ধারিত দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
ব্যাখ্যা।- “কর্তৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণ” অর্থ অধস্তনদের আদেশ দেওয়ার ক্ষমতা এবং এই ধরনের আদেশ পালনের নিশ্চয়তা বিধানের সক্ষমতা।
এই অধ্যাদেশের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, গুম একটি চলমান অপরাধ হিসাবে বিবেচিত হইবে, যতক্ষণ না অপরাধ সংঘটনকারী গুম হওয়া ব্যক্তির অবস্থান, অবস্থা বা পরিণতি প্রকাশ করে অথবা যতক্ষণ না উল্লিখিত বিষয়সমূহ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়।
এই অধ্যাদেশের অধীন শাস্তিযোগ্য কোনো অপরাধ অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, রাষ্ট্রের নিরাপত্তা অথবা যেকোনো জরুরি পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে অথবা সরকারি বা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আদেশ বা নির্দেশ মোতাবেক করা হইয়াছে এইরূপ অজুহাত অগ্রহণযোগ্য হইবে।
এই অধ্যাদেশের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, কমিশনের দায়িত্ব, ক্ষমতা ও কার্যাবলি হইবে নিম্নরূপ, যথা:-
(১) এই অধ্যাদেশের অধীন গুমসংক্রান্ত কোনো অপরাধ সংঘটিত হইলে ভুক্তভোগী নিজে অথবা ঘটনার কোনো প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী অথবা ঘটনার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য জানেন এমন কোনো ব্যক্তি অভিযোগকারী হিসাবে কমিশনের মনোনীত কর্মকর্তার নিকট সরাসরি, অনলাইনে বা ডাকযোগে অভিযোগ দাখিল করিতে পারিবেন অথবা থানার অফিসার ইনচার্জ বা দায়িত্বরত প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট সরাসরি হাজির হইয়া অভিযোগ দায়ের করিতে পারিবেন:
তবে শর্ত থাকে যে, যেইক্ষেত্রে থানার অফিসার ইনচার্জ বা ক্ষেত্রমত দায়িত্বরত প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট উক্তরূপ অভিযোগ দাখিল করা হয়, সেইক্ষেত্রে থানার অফিসার ইনচার্জ অভিযোগটিকে সাধারণ ডায়ারিভুক্ত করিয়া বা, প্রযোজ্যক্ষেত্রে, প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট অভিযোগটি একটি বিবিধ মামলার অধীন রেজিস্ট্রিভুক্ত করিয়া ২৪ (চব্বিশ) ঘণ্টার মধ্যে কমিশন বরাবর প্রেরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন।
(২) উপ-ধারা (১) অনুসারে প্রাপ্ত অভিযোগের ভিত্তিতে বা অন্য কোনো উপায়ে গুমের অভিযোগ বা তথ্য পাওয়া গেলে কমিশন জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ, ২০২৫ (২০২৫ সনের ৬২ নং অধ্যাদেশ) এর প্রযোজ্য বিধান অনুসারে উক্ত অভিযোগের তদন্ত করিবার জন্য তদন্ত কর্মকর্তা নিযুক্ত করিবে এবং ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা দায়ের করিবে।
(৩) তদন্ত চলাকালে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আটক কিংবা অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজনে তদন্তকারী কর্মকর্তার হেফাজতে নেওয়ার প্রয়োজন হইলে তদন্তকারী কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালের নিকট অভিযুক্ত ব্যক্তিকে উপস্থাপনপূর্বক এই সংক্রান্ত আবেদন শুনানি করিতে পারিবেন এবং ট্রাইব্যুনাল তদন্তকারী কর্মকর্তার কেস ডায়ারি এবং সংগৃহীত সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে উক্তরূপ আবেদন নিষ্পত্তি করিবে:
তবে শর্ত থাকে যে, সরকারি ছুটির দিন অভিযুক্ত ব্যক্তিকে নিকটস্থ দায়িত্বরত প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট উপস্থাপন করা যাইবে।
(৪) তদন্তকারী কর্মকর্তার নিকট অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজের দোষ কিংবা ফৌজদারি দায় স্বীকার করিলে উক্ত ব্যক্তিকে নিকটস্থ চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা চীফ মেট্রোপলিন ম্যাজিস্ট্রেট বা প্রথম শ্রেণির জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট অথবা এতদুদ্দেশ্যে বিশেষভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত যেকোনো জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বরাবরে উপস্থাপন করা হইবে, উক্ত ম্যাজিস্ট্রেট অভিযুক্ত ব্যক্তি কর্তৃক প্রদত্ত স্বীকারোক্তিমূলক বক্তব্য ফৌজদারি কার্যবিধির section 164 অনুসারে রেকর্ড করিতে পারিবেন।
(৫) কোনো অভিযোগের তদন্ত পরিচালনার দায়িত্ব প্রাপ্তির পর তদন্তকারী কর্মকর্তা ৯০ (নব্বই) দিনের মধ্যে তদন্তকার্য সম্পন্নপূর্বক সংগৃহীত সাক্ষ্যপ্রমাণসহ একটি তদন্ত প্রতিবেদন কমিশন বরাবর দাখিল করিবেন, তবে তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তিসংগত কোনো কারণে কমিশন তদন্তের মেয়াদ ৩০ (ত্রিশ) দিন পর্যন্ত বর্ধিত করিতে পারিবে, এবং বর্ধিত সময়ের মধ্যেও তদন্তকার্য সম্পন্ন না হইলে তদন্তকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাইবে।
(৬) তদন্ত সম্পন্ন হইবার পর যাবতীয় সাক্ষ্যপ্রমাণ ও আলামতসহ প্রস্তুতকৃত তদন্ত প্রতিবেদন তদন্তকারী কর্মকর্তা কর্তৃক কমিশন বরাবর উপস্থাপিত হইবে এবং প্রাপ্ত প্রতিবেদন এবং তথ্য-প্রমাণ যাচাই-বাছাইপূর্বক কমিশন সন্তুষ্ট হইলে কমিশনের অনুমোদন সাপেক্ষে এখতিয়ারসম্পন্ন ট্রাইব্যুনালে বিচারের জন্য তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হইবে এবং উক্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ট্রাইব্যুনাল অপরাধ আমলে গ্রহণপূর্বক বিচারকার্য শুরু করিবে।
(১) ধারা ৮ এ যাহা কিছু থাকুক না কেন, যেক্ষেত্রে কোনো অভিযোগে উল্লেখ থাকে যে, কোনো ঊর্ধ্বতন ব্যক্তি ধারা ৪ এর উপ-ধারা (৬) এর দফা (গ) ও (ঘ) এর অধীন অপরাধ সংঘটন করিয়াছেন, সেইক্ষেত্রে কমিশন, উপযুক্ত মনে করিলে, তদন্তকারী কর্মকর্তাকে শুধুমাত্র উক্ত বিষয়ে একটি অন্তর্বর্তীকালীন তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করার নির্দেশ দিতে পারিবেন; তদন্তকারী কর্মকর্তা উক্তরূপ প্রতিবেদন প্রস্তুত করার নিমিত্ত সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর বা বাহিনীর আদেশ-কাঠামোর (command structure) সহিত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা ব্যক্তিসমূহের নিকট হইতে প্রয়োজনীয় তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করিবেন।
(২) যেক্ষেত্রে অন্তর্বর্তীকালীন তদন্ত প্রতিবেদনে দেখা যায় যে, ঊর্ধ্বতন ব্যক্তির বিরুদ্ধে সন্তোষজনক কোনো সাক্ষ্যপ্রমাণ নাই, সেইক্ষেত্রে কমিশন, তদন্তকারী কর্মকর্তাকে ট্রাইব্যুনালের নিকট প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিতে পারিবেন এবং এই ধরনের প্রতিবেদন প্রাপ্তির পর, ট্রাইব্যুনাল সন্তুষ্ট হইলে, অন্যান্য অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তদন্ত অব্যাহত রাখা সত্ত্বেও, উক্ত ঊর্ধ্বতন ব্যক্তিকে কার্যধারা হইতে অব্যাহতি দেওয়ার আদেশ দিতে পারিবে।
(৩) উপ-ধারা (২) এর অধীন ঊর্ধ্বতন কোনো ব্যক্তিকে অব্যাহতি দেওয়া সত্ত্বেও, যদি তদন্ত শেষে পর্যাপ্ত ও সন্তোষজনক প্রমাণের ভিত্তিতে প্রতীয়মান হয় যে, উক্ত ব্যক্তি অপরাধ সংঘটনে জড়িত, তাহা হইলে তদন্তকারী কর্মকর্তা তাহার প্রতিবেদনে উল্লিখিত ব্যক্তির নাম অন্তর্ভুক্ত করিতে পারিবেন।
(১) যতদিন না গুম হওয়া ব্যক্তির সন্ধান পাওয়া যাইবে অথবা তাহার পরিণতি সম্পর্কে জানা যাইবে, কমিশন ততদিন পর্যন্ত গুম হওয়া ব্যক্তির সন্ধান চালাইয়া যাইবে; এবং এতদুদ্দেশ্যে প্রতি ৩ (তিন) মাস অন্তর এই সম্পর্কিত একটি অগ্রগতি প্রতিবেদন প্রস্তুতপূর্বক অভিযোগকারী এবং গুম হওয়া ব্যক্তির পরিবারের নিকট উহার অনুলিপি প্রেরণ করিবে।
(২) ট্রাইব্যুনাল, বা ক্ষেত্রমত, কমিশন এই অধ্যাদেশের অধীন কোনো অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গুম হওয়া ব্যক্তিকে খুঁজিয়া বাহির করিবার উদ্দেশ্যে আটক কেন্দ্র, অন্য কোনো স্থান বা স্থাপনায় ফৌজদারি কার্যবিধির section 100 এ বর্ণিত তল্লাশি পরোয়ানা জারি করিতে পারিবে।
(৩) ট্রাইব্যুনাল, বা ক্ষেত্রমতো, কমিশন উপ-ধারা (২) এর অধীন জারিকৃত তল্লাশি পরোয়ানা পুলিশ বা অন্য কোনো শৃঙ্খলা-বাহিনীর সদস্য কিংবা উপযুক্ত যেকোনো ব্যক্তি কর্তৃক কার্যকর করিতে পারিবে।
যেক্ষেত্রে অভিযুক্ত ব্যক্তি গুম হওয়া ব্যক্তিকে জীবিত ফেরত পাইতে বা গুমের প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করিতে বা গুমের সহিত জড়িত অপরাধীদের শনাক্ত করিতে কার্যকর অবদান রাখেন, সেইক্ষেত্রে তিনি ট্রাইব্যুনালের বিবেচনায় পূর্ণাঙ্গ বা আংশিক মার্জনা পাইবার অধিকারী হইবেন।
ফৌজদারি কার্যবিধিতে ভিন্নতর যাহা কিছুই থাকুক না কেন, যেক্ষেত্রে ট্রাইব্যুনালের এই মর্মে বিশ্বাস করিবার যুক্তিসংগত কারণ থাকে যে, অভিযুক্ত ব্যক্তি তাহার গ্রেফতার বা তাহাকে বিচারের জন্য সোপর্দকরণ এড়াইবার জন্য পলাতক রহিয়াছেন বা আত্মগোপন করিয়াছেন এবং তাহার আশু গ্রেফতারের কোনো সম্ভাবনা নাই, সেইক্ষেত্রে ট্রাইব্যুনাল অভিযোগপত্র গৃহীত হইবার তারিখ হইতে পরবর্তী ২০ (বিশ) দিনের মধ্যে উক্ত অনুপস্থিত বা পলাতক অভিযুক্ত ব্যক্তিকে হাজির করিবার নিমিত্ত তথ্যপ্রযুক্তির যেকোনো উপযুক্ত মাধ্যমে বা একটি বাংলা দৈনিক জাতীয় খবরের কাগজে প্রজ্ঞাপিত আদেশ দ্বারা বা বিদেশি দূতাবাস বা ইন্টারপোলসহ অন্যবিধ যুক্তিসংগত যেকোনো উপায়ে উক্ত অভিযুক্ত ব্যক্তিকে নোটিশ জারি করিয়া হাজির হইবার নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যদি উক্ত অভিযুক্ত ব্যক্তি আদালতে হাজির না হন, তাহা হইলে ট্রাইব্যুনাল তাহার অনুপস্থিতিতে বিচার করিতে পারিবে:
তবে শর্ত থাকে যে, যদি কোনো অভিযুক্ত ব্যক্তি ট্রাইব্যুনালে হাজির হইবার পর বা তাহাকে আদালতে হাজির করিবার পর বা তাহাকে আদালত কর্তৃক জামিনে মুক্তি দেওয়ার পর পলাতক হন, তাহা হইলে তাহার ক্ষেত্রে উল্লিখিত বিধান প্রযোজ্য হইবে না, এবং সেইক্ষেত্রে ট্রাইব্যুনাল, কারণ লিপিবদ্ধ করিয়া, অভিযুক্ত ব্যক্তির অনুপস্থিতিতে তাহার বিচার সম্পন্ন করিতে পারিবে।
১৩৷ (১) এই অধ্যাদেশের অধীন অপরাধ আমলে গ্রহণ ও বিচারের জন্য সরকার প্রত্যেক বিভাগ বা জেলায় ভৌগোলিক অধিক্ষেত্র নির্ধারণপূর্বক এক বা একাধিক ট্রাইব্যুনাল গঠন করিবে; এইরূপ ট্রাইব্যুনাল গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার ট্রাইব্যুনাল নামে অভিহিত হইবে।
(২) ট্রাইব্যুনাল দায়রা আদালত হিসাবে গণ্য হইবে এবং কেবল কমিশন কর্তৃক দাখিলকৃত তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে অপরাধ আমলে গ্রহণ করিয়া তাহার বিচার করিতে পারিবে।
(৩) ট্রাইব্যুনাল এই অধ্যাদেশের অধীন অপরাধের বিচার এবং বিশেষ আদালত (অতিরিক্ত দায়িত্ব) আইন, ২০০৩ (২০০৩ সনের ৩৫ নং আইন) মোতাবেক স্থানান্তরিত মামলাসমূহের বিচার করিতে পারিবে।
(৪) একজন বিচারক সমন্বয়ে ট্রাইব্যুনাল গঠিত হইবে এবং সরকার বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিসের জেলা ও দায়রা জজ পদমর্যাদার বিচারকগণের মধ্য হইতে উক্ত ট্রাইব্যুনালের বিচারক নিযু্ক্ত করিবে।
(৫) ট্রাইব্যুনালে অভিযোগকারীর পক্ষে মামলা পরিচালনাকারী ব্যক্তি পাবলিক প্রসিকিউটর বলিয়া গণ্য হইবেন।
[(৬) ট্রাইব্যুনালে অভিযোগকারীর পক্ষে মামলা পরিচালনার জন্য কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে সরকার প্রয়োজনীয় সংখ্যক পাবলিক প্রসিকিউটর নিয়োগ করিবে:
তবে শর্ত থাকে যে, অভিযোগকারী বা ভুক্তভোগী ব্যক্তিগত উদ্যোগেও ট্রাইব্যুনালে আইনজীবী নিয়োগ করিতে পারিবেন:
আরও শর্ত থাকে যে, কমিশন গঠিত না হওয়া পর্যন্ত বা কমিশন না থাকা অবস্থায়, সরকার পাবলিক প্রসিকিউটর নিয়োগ করিতে পারিবে বা ট্রাইব্যুনাল যেই জেলায় বা বিভাগে অবস্থিত সেই জেলা বা বিভাগের বিভাগীয় সদর দপ্তরের জেলা বা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর বা অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটরকে ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটরের অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রদান করিতে পারিবে।]
(৭) যদি এই আইনের অধীন কোনো অপরাধের সহিত অন্য কোনো অপরাধ এমনভাবে জড়িত থাকে যে, ন্যায়বিচারের স্বার্থে উভয় অপরাধের বিচার একই সঙ্গে বা একই মামলায় করা প্রয়োজন, তাহা হইলে উক্ত অন্য অপরাধটির বিচার এই আইনের অধীন অপরাধের সহিত এই আইনের বিধান অনুসরণে একই সঙ্গে বা একই ট্রাইব্যুনালে করা যাইবে।
(৮) এই আইনের অধীন অপরাধের বিচার অভিযোগ গঠনের ১২০ (একশত বিশ) দিনের মধ্যে সম্পন্ন করিতে হইবে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তি না হইলে সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালের বিচারককে পরবর্তী ৩ (তিন) কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা সুপ্রীম কোর্টের নিকট প্রেরণ করিতে হইবে, যাহার একটি অনুলিপি সরকারের নিকট প্রেরণ করিতে হইবে এবং উক্ত ব্যাখ্যা বিবেচনা করিয়া কর্তৃপক্ষ যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে বা প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করিতে পারিবে।
(৯) ফৌজদারি কার্যবিধি বা অন্য আইনে যাহা কিছু থাকুক না কেন, এই অধ্যাদেশের অধীন অপরাধ আমলে গ্রহণ করিবার ক্ষেত্রে ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক সরকার বা অন্য কোনো কর্তৃপক্ষের পূর্ব অনুমোদন গ্রহণের আবশ্যকতা প্রযোজ্য হইবে না।
(১) এই অধ্যাদেশের অধীন অপরাধ আমলে গ্রহণ ও বিচার করিবার এখতিয়ার ট্রাইব্যুনালের থাকিবে, যদি-
(২) যেক্ষেত্রে অভিযুক্ত ব্যক্তি ট্রাইব্যুনালের এখতিয়ারাধীন ভূখণ্ডে উপস্থিত থাকেন, সেইক্ষেত্রে উক্ত ব্যক্তি বাংলাদেশের নাগরিক হউক বা না হউক, ট্রাইব্যুনালের তাহার বিচার চলিতে থাকিবে, যতক্ষণ না বাংলাদেশ কর্তৃক স্বীকৃত কোনো আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালের নিকট উক্ত অভিযুক্ত ব্যক্তিকে সমর্পণ করা হয় কিংবা আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা অনুসারে বাংলাদেশ অন্য কোনো রাষ্ট্রের নিকট উক্ত অভিযুক্ত ব্যক্তিকে হস্তান্তর বা প্রত্যর্পণ করে।
এই আইনের অধীন কোনো অপরাধের বিচার সম্পন্ন হওয়ার পর রায় প্রদানকালে যদি ট্রাইব্যুনালের নিকট সন্তোষজনকভাবে প্রমাণিত হয় যে, কোনো অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ মিথ্যা ও হয়রানিমূলক, তাহা হইলে উক্ত ট্রাইব্যুনাল মামলা বা অভিযোগ দায়েরকারী ব্যক্তিকে কারণ দর্শানোর সুযোগ প্রদানপূর্বক সংশ্লিষ্ট অভিযুক্ত ব্যক্তি বা ব্যক্তিগণ বরাবর যথাযথ ক্ষতিপূরণ প্রদানের আদেশ দিতে পারিবে এবং প্রয়োজন মনে করিলে ক্ষতিপূরণের আদেশ প্রদানের পাশাপাশি উক্ত মামলা বা অভিযোগ দায়েরকারী ব্যক্তিকে অনধিক ২ (দুই) বৎসর সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করিবার আদেশ প্রদান করিতে পারিবে।
ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক প্রদত্ত আদেশ, রায় বা আরোপিত দণ্ড দ্বারা সংক্ষুব্ধ পক্ষ, উক্ত আদেশ, রায় বা দণ্ডাদেশ প্রদানের তারিখ হইতে ৬০ (ষাট) দিনের মধ্যে, হাইকোর্ট বিভাগে আপিল করিতে পারিবেন।
(১) ট্রাইব্যুনাল এই অধ্যাদেশের অধীন আরোপিত অর্থদণ্ডকে ক্ষতিপূরণ হিসাবে গণ্য করিবে এবং উক্ত অর্থদণ্ড বা ক্ষতিপূরণের অর্থ ভুক্তভোগীকে প্রদান করিবে, দণ্ডিত ব্যক্তির স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি হইতে উক্ত অর্থদণ্ড বা ক্ষতিপূরণের অর্থ আদায়যোগ্য হইবে এবং এইরূপ ক্ষেত্রে উক্ত সম্পত্তির উপর অন্যান্য দাবি অপেক্ষা উক্ত অর্থদণ্ড বা ক্ষতিপূরণের দাবি প্রাধান্য পাইবে:
তবে শর্ত থাকে যে, ক্ষতিপূরণের অর্থ দণ্ডিত ব্যক্তির স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি হইতে আদায় করা সম্ভব না হইলে রাষ্ট্র ভুক্তভোগীকে অর্থদণ্ড বা ক্ষতিপূরণের অর্থ প্রদানে বাধ্য থাকিবে।
(২) উপ-ধারা (১) এর উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, ট্রাইব্যুনাল সংশ্লিষ্ট জেলার কালেক্টরকে, প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে বা অনুরূপ প্রবিধান না থাকিলে, ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক নির্ধারিত পদ্ধতিতে, অপরাধীর স্থাবর বা অস্থাবর বা উভয়বিধ সম্পত্তির তালিকা প্রস্তুতক্রমে ক্রোক ও নিলাম বিক্রয় বা ক্রোক ছাড়াই সরাসরি নিলামে বিক্রয় করিয়া বিক্রয়লব্ধ অর্থ ট্রাইব্যুনালে জমা দিবার নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবে।
(১) এই অধ্যাদেশের অধীন সংঘটিত অপরাধ আমলযোগ্য, জামিন-অযোগ্য এবং আপস-অযোগ্য হইবে।
(২) এই অধ্যাদেশের অধীন শাস্তিযোগ্য অপরাধ সংঘটনে অভিযুক্ত কোনো ব্যক্তিকে জামিনে মুক্তি দেওয়া হইবে না, যদি-
(৩) উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত কোনো ব্যক্তি নারী বা শিশু হইলে কিংবা শারীরিকভাবে অসুস্থ (sick or infirm) হইলে, সেইক্ষেত্রে উক্ত ব্যক্তিকে জামিনে মুক্তি দেওয়ার কারণে ন্যায় বিচার বিঘ্নিত হইবে না মর্মে ট্রাইব্যুনাল সন্তুষ্ট হইলে তাহাকে জামিনে মুক্তি দেওয়া যাইবে।
১৯৷ অভিযুক্ত ব্যক্তি কর্তৃক অনলাইন বা ডিজিটাল মাধ্যমে সম্পাদিত কথোপকথন বা যোগাযোগ কিংবা অপরাধসংশ্লিষ্ট স্থির বা ভিডিওচিত্রসহ যেকোনো ডিজিটাল সাক্ষ্য, ডিজিটাল ফরেনসিক যাচাই-বাছাই সাপেক্ষে, এই অধ্যাদেশের অধীন বিচার নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে সাক্ষ্য হিসাবে গ্রহণযোগ্য হইবে।
এই অধ্যাদেশে ভিন্নরূপ কিছু না থাকিলে, এই অধ্যাদেশের অধীন অপরাধের তদন্ত, বিচার, নিষ্পত্তি ও আদালত অবমাননাসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে ফৌজদারি কার্যবিধির বিধানাবলি প্রযোজ্য হইবে।
(১) কোনো ব্যক্তি যুক্তিসংগত তথ্যের ভিত্তিতে কোনো গুমের ঘটনার তথ্যপ্রমাণ আদালত, কমিশন বা, ক্ষেত্রমত, তদন্তকারী কর্মকর্তার নিকট প্রকাশ করিলে তিনি জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট তথ্য প্রকাশ (সুরক্ষা প্রদান) আইন, ২০১১ (২০১১ সনের ৭ নং আইন) এর অধীন সুরক্ষার অধিকারী হইবেন এবং উক্ত আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, ট্রাইব্যুনাল, কমিশন বা, ক্ষেত্রমত, তদন্তকারী কর্মকর্তা উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ হিসাবে গণ্য হইবে।
(২) ট্রাইব্যুনাল বা, ক্ষেত্রমত, কমিশন নিজ বিবেচনায় কিংবা ভুক্তভোগী বা তাহার প্রতিনিধির আবেদনের ভিত্তিতে গুমসংক্রান্ত ঘটনার অভিযোগকারী, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বা সংবাদমাধ্যমে তথ্য প্রকাশকারী, ভুক্তভোগী বা কোনো সাক্ষীর গোপনীয়তা রক্ষার্থে কিংবা প্রতিশোধ, ভীতিপ্রদর্শন, হুমকি বা যে-কোনো প্রকার বিরূপ কার্য হইতে নিরাপত্তা ও সুরক্ষা প্রদানের লক্ষ্যে উপযুক্ত যে-কোনো আদেশ প্রদান এবং উক্ত আদেশ বাস্তবায়নে ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে পারিবে।
(১) ভুক্তভোগীর নিম্নবর্ণিত বিষয়ে সত্য জানিবার অধিকার থাকিবে, যথা:-
(২) ভুক্তভোগীদের গুম সম্পর্কিত সংগঠন গঠন এবং স্বাধীনভাবে উহার কার্যক্রমে অংশগ্রহণের অধিকার থাকিবে।
(৩) যেকোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান ভুক্তভোগীদের সহায়তা করিতে পারিবে।
(৪) ভুক্তভোগীদের আইনগত সহায়তা প্রদান আইন, ২০০০ (২০০০ সনের ৬ নং আইন) এর অধীন সরকারি আইনগত সহায়তা পাওয়ার অধিকার থাকিবে।
(৫) গুম হওয়া ব্যক্তিকে অনুসন্ধান বা শনাক্ত করিবার উদ্দেশ্যে কিংবা গোপন আটকের ক্ষেত্রে, মুক্ত করিবার উদ্দেশ্যে কিংবা মৃত্যুর ঘটনায় উক্ত ব্যক্তির দেহাবশেষ শনাক্ত, সৎকার ও ফেরত দেওয়ার উদ্দেশ্যে উপযুক্ত শৃঙ্খলা-বাহিনী ও অন্যান্য ব্যক্তি বা কর্তৃপক্ষ যথাযথ সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে বাধ্য থাকিবে।
(১) গুম হওয়া ব্যক্তির দায় পরিশোধ, তাহার স্ত্রী বা তাহার উপর নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যদের ভরণপোষণের বা অন্য কোনো যৌক্তিক ব্যয় নির্বাহের উদ্দেশ্য গুম হওয়া ব্যক্তির স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি ব্যবহার বা হস্তান্তর করিবার নিমিত্ত গুম হওয়া ব্যক্তির স্ত্রী বা তাহার উপর নির্ভরশীল পরিবারের কোনো সদস্যের আবেদনমতে ট্রাইব্যুনাল যুক্তিসংগত পরিমাণ ব্যয় নির্বাহ করিবার উদ্দেশ্য গুম হওয়া ব্যক্তির সম্পত্তি ব্যবহার বা হস্তান্তরের জন্য একটি প্রত্যয়ন বা গুম সনদ ইস্যুসহ অনুমতি প্রদান করিতে পারিবে এবং উক্ত অনুমতি কার্যকরসহ অনুমোদিত সম্পত্তির যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিতকল্পে অন্য যে-কোনো প্রয়োজনীয় আদেশ দিতে পারিবে।
(২) এই অধ্যাদেশের অধীন দায়েরকৃত কোনো মামলায় বা এতদুদ্দেশ্যে দায়েরকৃত কোনো কার্যধারায় ট্রাইব্যুনাল উক্তরূপ আদেশ প্রদান করিতে পারিবে।
[(৩) গুম হওয়া ব্যক্তির স্ত্রী বা তাহার উপর নির্ভরশীল পরিবারের কোনো সদস্য কর্তৃক এই ধারার অধীন কার্যধারা শুরু করিবার ক্ষেত্রে কমিশনের অনুমতি গ্রহণ আবশ্যক হইবে না:
তবে শর্ত থাকে যে, ট্রাইব্যুনাল প্রয়োজন মনে করিলে আবেদনে উল্লিখিত কোনো বিষয় যাচাই করিবার উদ্দেশ্যে কমিশনের প্রতিবেদন চাহিতে পারিবেন।
(৪) The Evidence Act, 1872 এর section 108 এ যাহা কিছু থাকুক না কেন, যেক্ষেত্রে গুম হওয়া ব্যক্তি অন্যূন ৫ (পাঁচ) বছর ধরিয়া গুম থাকেন এবং জীবিত ফিরিয়া না আসেন, সেইক্ষেত্রে ট্রাইব্যুনাল, উক্ত ব্যক্তির যেকোনো বৈধ উত্তরাধিকারের আবেদনের প্রেক্ষিতে, উক্ত ব্যক্তির সম্পত্তি (যাহা এই উপ-ধারার অধীন আদেশ প্রদানের সময় বিদ্যমান), বৈধ উত্তরাধিকারগণের মধ্যে বণ্টনযোগ্য মর্মে ঘোষণা প্রদান করিতে পারিবে।
(৫) এই ধারার অধীন আবেদনপত্র, প্রত্যয়ন ও গুম সনদের ধরন ও পদ্ধতি প্রবিধান দ্বারা নির্ধারণ করা যাইবে:
তবে শর্ত থাকে যে, অনুরূপ প্রবিধান প্রণয়ন না হওয়া পর্যন্ত উক্ত বিষয়সমূহ ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক নির্ধারিত হইবে।
ব্যাখ্যা।― এই ধারার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে 'গুম হওয়া ব্যক্তি' অর্থ সেই ব্যক্তি, যিনি ১৫/০৯/২৪ তারিখে জারীকৃত এস.আর.ও. নম্বর ৩১২-আইন/২০২৪-এর অধীন গঠিত কমিশনের অনুসন্ধান কার্যক্রমে, অথবা এই অধ্যাদেশ বা International Crimes (Tribunals) Act, 1973 (Act No. XIX of 1973) এর অধীন দায়েরকৃত কোনো মামলায় গৃহীত তদন্ত প্রতিবেদনে বা প্রদত্ত রায়ে গুম হইয়াছেন মর্মে সাব্যস্ত হইয়াছেন এবং ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক এই ধারার অধীন আদেশ প্রদানের পূর্ব পর্যন্ত জীবিত ফিরিয়া আসেন নাই এমন ব্যক্তিকে বুঝাইবে।]
২৪৷ গুমের শিকার ব্যক্তির চিকিৎসা ও ভুক্তভোগীর পুনর্বাসন, ক্ষতিপূরণ ও আইনগত সহায়তার লক্ষ্যে কমিশন তাহার তহবিলে অর্থ সংগ্রহ এবং উক্ত তহবিল হইতে ব্যয় করিতে পারিবে এবং এতদুদ্দেশ্যে প্রয়োজন হইলে প্রবিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে:
তবে শর্ত থাকে যে, প্রবিধান প্রণয়ন না হওয়া পর্যন্ত কমিশনের লিখিত সিদ্ধান্তমতে, তহবিল পরিচালনা করা যাইবে।
গুম হওয়া ব্যক্তি ও তাহার পরিবারকে সহায়তা করার উদ্দেশ্যে কিংবা গুম হওয়া ব্যক্তির সন্ধান, শনাক্তকরণ ও মুক্তির উদ্দেশ্যে কিংবা মৃত্যুর ঘটনায় গুম হওয়া ব্যক্তির লাশ উত্তোলন ও পরিচয় নিশ্চিতকরণ এবং দেহাবশেষ ফেরত দেওয়ার উদ্দেশ্যে কিংবা গুমের ঘটনায় কোনো অভিযুক্তকে প্রত্যর্পণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ অন্য রাষ্ট্রকে সহযোগিতা প্রদান করিবে, যদি উক্ত রাষ্ট্র বাংলাদেশকে একই ধরনের সহযোগিতা প্রদানে চুক্তিবদ্ধ হইয়া থাকে।
(১) এই অধ্যাদেশের অধীন কোনো সরকারি কর্মচারী কিংবা শৃঙ্খলা-বাহিনীর কোনো সদস্য বা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্ত চলাকালে ট্রাইব্যুনাল বা, ক্ষেত্রমত, কমিশন উক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে অন্তবর্তীকালীন যেকোনো আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ বা সুপারিশ করিতে পারিবে, এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ট্রাইব্যুনাল বা কমিশন কর্তৃক নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে উক্ত নির্দেশ বা সুপারিশ অবিলম্বে কার্যকর করিতে বাধ্য থাকিবে।
(২) এই অধ্যাদেশের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, ট্রাইব্যুনাল কিংবা, ক্ষেত্রমত, কমিশন যে-কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে আদেশ প্রদান করিতে পারিবে এবং উক্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান ট্রাইব্যুনাল বা কমিশন কর্তৃক নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে উক্ত আদেশ প্রতিপালন করিতে বাধ্য থাকিবে।
(৩) কোনো ব্যক্তি যদি ট্রাইব্যুনাল বা, ক্ষেত্রমত, কমিশনের আদেশ প্রতিপালনে ব্যর্থ হন বা গাফিলতি প্রদর্শন করেন, তবে উক্ত অমান্যকরণ একটি দণ্ডনীয় অপরাধ বলিয়া গণ্য হইবে এবং দায়ী ব্যক্তি ট্রাইব্যুনালের আদেশক্রমে অনধিক ছয় মাস কারাদণ্ড, বা অনধিক এক লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড, অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন এবং সাক্ষ্যগ্রহণ ব্যতিরেকে কেবল অভিযুক্ত ব্যক্তিকে শুনানির সুযোগ প্রদান করিয়া সংক্ষিপ্ত পদ্ধতিতে উক্ত সাজা কার্যকর করা যাইবে।
(১) এই অধ্যাদেশের অধীন কমিশনের তত্ত্বাবধানে একটি তথ্যভান্ডার (Database) থাকিবে যেখানে গুম হওয়া ব্যক্তি বা ব্যক্তিদের তথ্য সংরক্ষিত থাকিবে।
(২) উক্ত তথ্যভান্ডারে (Database) নিম্নরূপ তথ্য অন্তর্ভুক্ত থাকিবে, যথা:-
(৩) এই তথ্যভান্ডার গুম প্রতিরোধ, জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ, নীতি প্রণয়ন ও গবেষণার ক্ষেত্রে সহায়ক হইবে।
(৪) প্রতি বৎসর কমিশন একটি বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ করিবে, যাহাতে গুমের পরিসংখ্যান, ধরন, প্রেক্ষাপট ও সুপারিশ থাকিবে।
(৫) ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও তদন্তের স্বার্থে তথ্যভান্ডারের কিছু অংশ সংরক্ষিত থাকিবে, তবে জনস্বার্থে, কমিশনের অনুমতিক্রমে সার-সংক্ষেপ তথ্য প্রকাশযোগ্য হইবে।
(১) International Crimes (Tribunals) Act, 1973 (Act No. XIX of 1973) এর section 3(2)(a) এ উল্লিখিত Crimes against humanity এর অন্তর্ভুক্ত ব্যাপক (Widespread) বা পরিকল্পিত পদ্ধতিতে (Systematic) সংঘটিত Enforced Disappearance অপরাধের ক্ষেত্রে International Crimes (Tribunals) Act, 1973 (Act No. XIX of 1973) এর বিধানাবলি প্রযোজ্য হইবে।
(২) কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে International Crimes (Tribunals) Act, 1973 (Act No. XIX of 1973) এর section 3(2)(a) এর অধীন কোনো কার্যধারা চলমান থাকিলে একই ঘটনায় উক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে এই অধ্যাদেশের অধীনে কোনো কার্যক্রম পরিচালনা করা যাইবে না।
(৩) তদন্ত কার্যক্রম সম্পন্নপূর্বক যদি প্রতীয়মান হয় যে দাখিলকৃত অভিযোগটি International Crimes (Tribunals) Act, 1973 (Act No. XIX of 1973) এর অধীন বিচার্য, তাহলে কমিশনের তদন্ত প্রতিবেদন ও সংগৃহীত সাক্ষ্যপ্রমাণ উক্ত আইনের অধীন চীফ প্রসিকিউটর বরাবর প্রেরণ করিতে হইবে।
(৪) রায় প্রদানের পূর্বে বিচার পর্যায়ে ট্রাইব্যুনালের নিকট যদি প্রতীয়মান হয় যে, মামলাটি International Crimes (Tribunals) Act, 1973 (Act No. XIX of 1973)-এর অধীন বিচার্য, সেইক্ষেত্রে ট্রাইব্যুনাল মামলাটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল বরাবর প্রেরণ করিবে এবং উক্তরূপ কোনো মামলা প্রাপ্ত হইলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল উক্ত আইনের অধীন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করিবে।
(৫) উপ-ধারা (৩) ও (৪) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কমিশন হইতে প্রাপ্ত তদন্ত প্রতিবেদন অথবা ট্রাইব্যুনালের মতামতসহ প্রাপ্ত নথি পর্যালোচনাপূর্বক যেক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এর চীফ প্রসিকিউটর মনে করেন যে, অতিরিক্ত সাক্ষ্যপ্রমাণ ও দলিলপত্রাদি সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন, সেইক্ষেত্রে অধিকতর তদন্ত পরিচালনায় আইনগত কোনো বাধা থাকিবে না।
(৬) এস.আর.ও. নম্বর ৩১২-আইন/২০২৪, তারিখ ১৫/০৯/২৪ এর অধীন গঠিত কমিশনের অনুসন্ধান কার্যক্রমের সকল অনিষ্পন্ন অভিযোগসমূহ উক্ত কমিশনের মেয়াদঅন্তে সংশ্লিষ্ট দলিলাদিসহ এই অধ্যাদেশের অধীন ক্ষমতাপ্রাপ্ত কমিশনের নিকট হস্তান্তরিত হইবে।
কমিশন, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই অধ্যাদেশের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, প্রবিধান প্রণয়ন করিতে পারিবে।
(১) এই অধ্যাদেশ প্রবর্তনের পর সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই অধ্যাদেশের একটি নির্ভরযোগ্য ইংরেজি পাঠ (Authentic English Text) প্রকাশ করিতে পারিবে।
(২) বাংলা পাঠ ও ইংরেজি পাঠের মধ্যে বিরোধের ক্ষেত্রে বাংলা পাঠ প্রাধান্য পাইবে।