জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ, ২০২৫ সংশোধনকল্পে প্রণীত অধ্যাদেশ যেহেতু নিম্নবর্ণিত উদ্দেশ্যসমূহ পূরণকল্পে, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ, ২০২৫ (২০২৫ সনের ৬২ নং অধ্যাদেশ) সংশোধন করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়; এবং যেহেতু সংসদ ভাঙ্গিয়া যাওয়া অবস্থায় রহিয়াছে এবং রাষ্ট্রপতির নিকট ইহা সন্তোষজনকভাবে প্রতীয়মান হইয়াছে যে, আশু ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় পরিস্থিতি বিদ্যমান রহিয়াছে; সেহেতু গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৯৩(১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি নিম্নরূপ অধ্যাদেশ প্রণয়ন ও জারি করিলেন:-
(১) এই অধ্যাদেশ জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫ নামে অভিহিত হইবে।
(২) ইহা অবিলম্বে কার্যকর হইবে।
২৷ জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ, ২০২৫ (২০২৫ সনের ৬২ নং অধ্যাদেশ), অতঃপর উক্ত অধ্যাদেশ বলিয়া উল্লিখিত, এর ধারা ২ এর-
৩৷ উক্ত অধ্যাদেশের ধারা ৩ এর উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত “ইহার নামে” শব্দগুলির পরিবর্তে “ইহা স্বীয় নামে” শব্দগুলি প্রতিস্থাপিত হইবে।
৪৷ উক্ত অধ্যাদেশের ধারা ৬ এর-
উপ-ধারা (৬) এ উল্লিখিত “উপ-ধারা (৩)” শব্দ, সংখ্যা ও বন্ধনীর পরিবর্তে “উপ-ধারা (৫)” শব্দ, সংখ্যা ও বন্ধনী প্রতিস্থাপিত হইবে; এবং
৫৷ উক্ত অধ্যাদেশের ধারা ৭ এর উপ-ধারা (১) এর-
“(কক) মন্ত্রিপরিষদ সচিব, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ;”; এবং
৬৷ উক্ত অধ্যাদেশের ধারা ৯ এর উপ-ধারা (২) এর দফা (খ)-তে উল্লিখিত “সার্বক্ষণিক” শব্দটি বিলুপ্ত হইবে।
৭৷ উক্ত অধ্যাদেশের ধারা ১২ এর উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত “সার্বক্ষণিক” শব্দটি বিলুপ্ত হইবে।
৮৷ উক্ত অধ্যাদেশের ধারা ১৬ এর উপ-ধারা (১) এর দফা (ঙ)-তে উল্লিখিত “১ (এক) জন” সংখ্যা, শব্দগুলি ও বন্ধনী বিলুপ্ত হইবে।
৯৷ উক্ত অধ্যাদেশের ধারা ২০ এর উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত “তদন্তকারী কর্মকর্তার” শব্দগুলির পরিবর্তে “তদন্তকারী কর্মকর্তা” শব্দগুলি প্রতিস্থাপিত হইবে।
১০৷ উক্ত অধ্যাদেশের ধারা ২৩ এর উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত “হইবে” শব্দটির পর উল্লিখিত “এই” শব্দের পরিবর্তে “;” সেমিকোলন চিহ্ন প্রতিস্থাপিত হইবে।
১১৷ উক্ত অধ্যাদেশের ধারা ২৫ এর উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত “আদেশ প্রদান” শব্দগুলির পরিবর্তে “আদেশ প্রদান করিতে পারিবে” শব্দগুলি প্রতিস্থাপিত হইবে।
১২৷ উক্ত অধ্যাদেশের ধারা ২৬ এর উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত “এবং দ্রুততম সময়ে তাহা কমিশনকে অবহিত করিতে হইবে” শব্দগুলির পরিবর্তে “করা যাইবে এবং কমিশন কোনো আদেশ প্রদান করিলে আদিষ্ট ব্যক্তি কমিশনের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নপূর্বক দ্রুততম সময়ে তাহা কমিশনকে অবহিত করিবে” শব্দগুলি প্রতিস্থাপিত হইবে।
১৩৷ উক্ত অধ্যাদেশের ধারা ৩০ এর পর নিম্নরূপ নূতন ধারা ৩০ক সন্নিবেশিত হইবে, যথা:—
“৩০ক। জাতীয় প্রতিরোধ ব্যবস্থা বিভাগ।— (১) নির্যাতন এবং অন্যান্য নিষ্ঠুর, অমানবিক বা লাঞ্ছনাকর আচরণ এবং দণ্ডবিরোধী সনদের ঐচ্ছিক প্রটোকল (Optional Protocol to the Convention against Torture and other Cruel, Inhuman or Degrading Treatment or Punishment) এর উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, কমিশন, নিম্নবর্ণিত সদস্য সমন্বয়ে জাতীয় প্রতিরোধ ব্যবস্থা বিভাগ (National Preventive Mechanism Division), অতঃপর উক্ত বিভাগ বলিয়া উল্লিখিত, গঠন করিবে, যথা:—
(২) উক্ত বিভাগ পেশাগত বৈচিত্র্যের ভিত্তিতে আইন, ফরেনসিক মেডিসিন, মনোবিজ্ঞান বা মানসিক স্বাস্থ্য, লিঙ্গ (gender) বা আটক ব্যবস্থাপনা বিষয়ে বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিদের সদস্য হিসাবে কো-অপ্ট করিতে বা পরামর্শক হিসাবে নিয়োগ করিতে পারিবে।
(৩) উক্ত বিভাগের নিম্নবর্ণিত দায়িত্ব ও এখতিয়ার থাকিবে, যথা:—
(৪) এই ধারার অধীন দায়িত্ব পালনের উদ্দেশ্যে, উক্ত বিভাগ জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনারের কার্যালয়ের নির্যাতন প্রতিরোধ বিষয়ক উপকমিটি (Subcommittee on Prevention of Torture), বিভিন্ন দেশের জাতীয় প্রতিরোধ ব্যবস্থা এবং প্রাসঙ্গিক অন্যান্য জাতীয় বা আন্তর্জাতিক সংস্থার সহিত পারস্পরিক সহযোগিতা ও যোগাযোগ বজায় রাখিবে।
(৫) উক্ত বিভাগ পরিদর্শন ও তদন্ত সম্পর্কিত বিষয়ে ধারা ২০ এ উল্লিখিত ক্ষমতা প্রয়োগ করিতে পারিবে।
(৬) উক্ত বিভাগের সুপারিশ কমিশন কর্তৃক অনুমোদিত হইলে কমিশন উহা বাস্তবায়নের জন্য এই অধ্যাদেশের অধীন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করিবে।
(৭) উক্ত বিভাগ তথ্যের গোপনীয়তা ও তথ্য প্রদানকারীর সুরক্ষা নিশ্চিত করিবার উদ্দেশ্যে ধারা ২৫ এ উল্লিখিত ক্ষমতা প্রয়োগ করিতে পারিবে।
(৮) উক্ত বিভাগের কার্যাবলি কার্যকরভাবে সম্পাদনের জন্য সরকার পর্যাপ্ত জনবল, প্রযুক্তিগত সহায়তা ও অর্থ প্রদান করিবে; এবং উক্ত বিভাগের জন্য কমিশনের অধীন একটি পৃথক ও সুরক্ষিত বাজেট বরাদ্দ থাকিবে, যাহা উক্ত বিভাগের কার্যকারিতা ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করিবার জন্য পর্যাপ্ত হইবে।
(৯) উক্ত বিভাগ উহার কার্যক্রম সম্পর্কিত একটি পৃথক বার্ষিক প্রতিবেদন প্রস্তুত করিবে এবং ধারা ২৪ এর অধীন নির্ধারিত পদ্ধতিতে উহা দাখিল ও প্রকাশ করিবে; একইসঙ্গে উক্ত প্রতিবেদন জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয়ের নির্যাতন প্রতিরোধ বিষয়ক উপকমিটিতে (Subcommittee on Prevention of Torture) প্রেরণ করা হইবে।”।
উক্ত অধ্যাদেশের ধারা ৩২ এর উপ-ধারা (৪) এ উল্লিখিত “১৯” সংখ্যার পরিবর্তে “২০” সংখ্যা এবং “আইনের” শব্দটির পরিবর্তে “অধ্যাদেশের” শব্দটি প্রতিস্থাপিত হইবে।
উক্ত অধ্যাদেশের ধারা ৩৩ এর উপ-ধারা (৫) এ উল্লিখিত “প্রবিধি” শব্দের পরিবর্তে “প্রবিধান” শব্দ প্রতিস্থাপিত হইবে।
উক্ত অধ্যাদেশের ধারা ৩৫ এর পরিবর্তে নিম্নরূপ ধারা ৩৫ প্রতিস্থাপিত হইবে, যথা:-
“৩৫। কমিশনের আর্থিক স্বাধীনতা।– (১) সরকার প্রতি অর্থ বৎসরে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের ব্যয়ের জন্য, কমিশন হইতে প্রাপ্ত প্রস্তাব বিবেচনাক্রমে, উহার অনুকূলে বাজেটে নির্দিষ্টকৃত অর্থ বরাদ্দ করিবে; এবং অনুমোদিত ও নির্ধারিত খাতে উক্ত বরাদ্দকৃত অর্থ হইতে ব্যয় করিবার ক্ষেত্রে সরকারের পূর্বানুমোদন গ্রহণ করা কমিশনের জন্য আবশ্যক হইবে না:
তবে শর্ত থাকে যে, সরকার কর্তৃক, সময় সময়, জারীকৃত ব্যয় বন্ধ সম্পর্কিত বিধি-বিধান এইক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে।
(২) এই ধারার বিধান দ্বারা সংবিধানের ১২৮ অনুচ্ছেদে প্রদত্ত মহা-হিসাব নিরীক্ষকের অধিকারকে ক্ষুণ্ন করা যাইবে না।”।