পুলিশ কমিশন প্রতিষ্ঠা এবং এতদসংক্রান্ত আনুষঙ্গিক বিধান প্রণয়নকল্পে প্রণীত অধ্যাদেশ যেহেতু দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ প্রতিরোধের লক্ষ্যে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের সততা, পেশাদারিত্ব, দায়বদ্ধতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা অপরিহার্য; যেহেতু শৃঙ্খলা বাহিনী হিসাবে পুলিশ যাহাতে মানবাধিকার সুরক্ষা করে ও প্রভাবমুক্তভাবে দক্ষতার সহিত দায়িত্ব পালন করিতে পারে তাহা নিশ্চিত করা প্রয়োজন এবং একটি জনবান্ধব পুলিশ বাহিনী গঠন করা প্রয়োজন; যেহেতু পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে নাগরিক অভিযোগের তদন্ত ও নিষ্পত্তি এবং পেশাগত বিষয়ে পুলিশ সদস্যদের সংক্ষোভ নিরসন ও ন্যায্য সুরক্ষা নিশ্চিতকল্পে একটি নিরপেক্ষ ও কার্যকর কর্তৃপক্ষ গঠন আবশ্যক; যেহেতু পুলিশ বাহিনীর প্রয়োজনীয় সংস্কারের জন্য একটি সংবিধিবদ্ধ ও নিরপেক্ষ পুলিশ কমিশন প্রতিষ্ঠা করা এবং তাহার কার্যাবলি ও দায়িত্ব নির্ধারণের উদ্দেশ্যে আইন প্রণয়ন সমীচীন ও প্রয়োজনীয়; এবং যেহেতু সংসদ ভাঙ্গিয়া যাওয়া অবস্থায় রহিয়াছে এবং রাষ্ট্রপতির নিকট ইহা সন্তোষজনকভাবে প্রতীয়মান হইয়াছে যে, আশু ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় পরিস্থিতি বিদ্যমান রহিয়াছে; সেহেতু গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৯৩ (১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি নিম্নরূপ অধ্যাদেশ প্রণয়ন ও জারি করিলেন:
(১) এই অধ্যাদেশ পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ, ২০২৫ নামে অভিহিত হইবে।
(২) ইহা অবিলম্বে কার্যকর হইবে।
বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থী কোনো কিছু না থাকিলে, এই অধ্যাদেশে-
আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই অধ্যাদেশের বিধানাবলি প্রাধান্য পাইবে।
(১) এই অধ্যাদেশের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, পুলিশ কমিশন নামে একটি কমিশন প্রতিষ্ঠিত হইবে।
(২) কমিশন একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা হইবে এবং উহার স্থায়ী ধারাবাহিকতা থাকিবে এবং এই অধ্যাদেশের বিধানাবলি সাপেক্ষে, ইহার স্থাবর ও অস্থাবর উভয় প্রকার সম্পত্তি অর্জন করিবার, অধিকারে রাখিবার এবং হস্তান্তর করিবার ক্ষমতা থাকিবে এবং ইহার নামে ইহা মামলা দায়ের করিতে পারিবে বা ইহার বিরুদ্ধেও মামলা দায়ের করা যাইবে।
কমিশনের একটি প্রধান কার্যালয় থাকিবে যাহা রাজধানী ঢাকায় অবস্থিত হইবে এবং পর্যায়ক্রমে ও প্রয়োজন অনুসারে সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে প্রশাসনিক বিভাগ পর্যায়ে ইহার কার্যালয় স্থাপন করা যাইবে।
(১) কমিশন নিম্নবর্ণিত সদস্যগণের সমন্বয়ে গঠিত হইবে, যথা:-
(২) কমিশন গঠনের ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের সমতা নিশ্চিত করিতে সচেষ্ট হইতে হইবে এবং কমিশনের সদস্যগণের মধ্যে কমপক্ষে দুইজন নারী হইবেন।
(৩) কমিশনের চেয়ারপার্সন অবসর গ্রহণের পূর্বে যেই পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন সেই পদের পদমর্যাদা পাইবেন এবং কমিশনের সদস্যগণের পদমর্যাদা সরকার কর্তৃক নির্ধারিত হইবে।
(৪) চেয়ারপার্সনের পদ শূন্য হইলে কিংবা অনুপস্থিতি, অসুস্থতা বা অন্য কোনো কারণে তাহার দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হইলে, শূন্য পদে নবনিযুক্ত চেয়ারপার্সন তাহার কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত কিংবা চেয়ারপার্সন পুনরায় স্বীয় দায়িত্ব পালনে সমর্থ না হওয়া পর্যন্ত, কমিশনের জ্যেষ্ঠ সদস্য চেয়ারপার্সনরূপে দায়িত্ব পালন করিবেন।
(১) রাষ্ট্রপতি, বাছাই কমিটির সুপারিশক্রমে, কমিশনের চেয়ারপার্সন ও সদস্যগণকে নিয়োগ করিবেন।
(২) চেয়ারপার্সন ও সদস্যগণ, তাহাদের যোগদানের তারিখ হইতে অনধিক ৪ (চার) বৎসর মেয়াদের জন্য নিযুক্ত হইবেন:
তবে শর্ত থাকে যে, উক্ত মেয়াদ অতিবাহিত হইবার পর সদস্যগণ পুনর্নিয়োগের যোগ্য হইবেন না।
কোনো ব্যক্তি কমিশনের সদস্য হইবার যোগ্য হইবেন না, যদি-
(১) সরকার, কমিশনের সদস্য পদে নিয়োগের জন্য সুপারিশ প্রদানের উদ্দেশ্যে নিম্নবর্ণিত সদস্য সমন্বয়ে একটি বাছাই কমিটি গঠন করিবে, যথা:-
(২) অন্যূন ৫ (পাঁচ) জন সদস্যের উপস্থিতিতে বাছাই কমিটির কোরাম গঠিত হইবে।
(৩) যেক্ষেত্রে সংসদ ভাঙ্গিয়া যাওয়া অবস্থায় থাকে, সেক্ষেত্রে উপ-ধারা (১) এর দফা (ঘ) এ উল্লিখিত কোনো সদস্য ব্যতিরেকেই বাছাই কমিটি গঠিত হইবে এবং অনুরূপ ক্ষেত্রে ৩ (তিন) জন সদস্যের উপস্থিতিতে বাছাই কমিটির কোরাম গঠিত হইবে।
(৪) বাছাই কমিটি, মৃত্যু বা অন্য কোনো কারণে সদস্যের শূন্য পদের বিপরীতে নিয়োগযোগ্য ব্যক্তিগণের নামের তালিকা প্রণয়ন করিয়া রাষ্ট্রপতির নিকট সুপারিশ প্রদান করিবে এবং সুপারিশকৃত নামের তালিকা সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইট ও গণমাধ্যমে প্রকাশ করিবে।
(৫) বাছাই কমিটির কার্য-সম্পাদনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় সাচিবিক সহায়তা প্রদান হইবে।
(৬) বাছাই কমিটি কর্তৃক বাছাই প্রক্রিয়া শুরুর ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে ইহা সম্পন্ন করিতে হইব।
কমিশনের চেয়ারপার্সন ও সদস্য পদে নিয়োগের উদ্দেশ্যে, এই অধ্যাদেশের অন্যান্য বিধানাবলি সাপেক্ষে, বাছাই কমিটি-
(১) সুপ্রীম কোর্টের একজন বিচারক যেরূপ পদ্ধতিতে অপসারিত হইতে পারেন, সেইরূপ পদ্ধতি ব্যতীত চেয়ারপার্সন বা কোনো সদস্যকে অপসারণ করা যাইবে না এবং সুপ্রীম জুডিসিয়াল কাউন্সিল এতদুদ্দেশ্যে চেয়ারপার্সন ও সদস্যগণের জন্য অনুসরণীয় আচরণবিধি প্রণয়ন করিবে।
ব্যাখ্যা-এই উপ-ধারার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে "সুপ্রীম জুডিসিয়াল কাউন্সিল” অর্থ সংবিধানের অধীন গঠিত সুপ্রীম জুডিসিয়াল কাউন্সিল।
(২) উপ-ধারা (১) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, রাষ্ট্রপতি চেয়ারপার্সন বা অন্য কোনো সদস্যকে তাহার পদ হইতে অপসারণ করিতে পারিবেন, যদি তিনি-
কমিশন, মহা-পুলিশ পরিদর্শক পদে নিয়োগের নিমিত্ত সততা, মেধা, দক্ষতা, জ্যেষ্ঠতা ও সন্তোষজনক দায়িত্ব পালনের ভিত্তিতে পুলিশ বাহিনীতে কর্মরত অতিরিক্ত মহা-পুলিশ পরিদর্শকের নিম্নপদস্থ নন, এমন ৩ (তিন) জন কর্মকর্তার নাম অন্তর্ভুক্ত করিয়া একটি প্যানেল সরকারের নিকট সুপারিশ আকারে প্রেরণ করিবে।
কমিশন নিম্নবর্ণিত কার্যাবলি সম্পাদন করিবে, যথা:-
(১) পুলিশি কার্যক্রমে দক্ষতা ও উৎকর্ষ আনয়ন, শৃঙ্খলা এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠায় প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রদান:
(২) নাগরিকের অভিযোগ অনুসন্ধান ও নিষ্পত্তি:
(৩) পুলিশ সদস্যদের সংক্ষোভ নিরসন:
(৪) পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধি, তথ্যপ্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ ও কল্যাণমূলক ব্যবস্থাপনা ইত্যাদি বিষয়ে কৌশলগত পরিকল্পনা ও কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নে পরামর্শ বা সুপারিশ প্রদান:
(৫) আইন, বিধি ও নীতি প্রণয়নে এবং গবেষণা পরিচালনায় পরামর্শ বা সুপারিশ প্রদান:
নাগরিক অভিযোগ ও পুলিশের অভ্যন্তরীণ সংক্ষোভ নিষ্পত্তির নিমিত্ত পুলিশের একটি নিজস্ব ব্যবস্থা থাকিবে, যাহা এই অধ্যাদেশের ভিত্তিতে প্রথম কমিশন গঠন হইবার তিন মাসের মধ্যে কমিশনের সুপারিশের আলোকে পুলিশ কর্তৃপক্ষ কার্যকর করিবে; উক্ত ব্যবস্থার আওতায় অভিযোগ ও সংক্ষোভ নিরসনের পর্যায়সমূহের জন্য এমনভাবে সুনির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করিতে হইবে যেন প্রাথমিক পর্যায় হইতে চূড়ান্ত পর্যায় পর্যন্ত যেকোনো ধরনের অভিযোগ বা সংক্ষোভ অনধিক ৯০ (নব্বই) দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করা যায়।
(১) কমিশন, ধারা ১৩ এর দফা (২) এর উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, কমিশনের তিনজন সদস্যের সমন্বয়ে নির্ধারিত মেয়াদ উল্লেখপূর্বক একটি "নাগরিক অভিযোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি” গঠন করিবে।
(২) কোনো নাগরিক ধারা ১৪ এর অধীন পুলিশের নিজস্ব অভিযোগ নিষ্পত্তি ব্যবস্থার সিদ্ধান্ত দ্বারা সংক্ষুব্ধ হইলে তিনি বা তাহার পক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তি অভিযোগ নিষ্পত্তির তারিখ হইতে ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে এই ধারার অধীন কমিটির নিকট আপীল করিতে পারিবেন:
তবে শর্ত থাকে যে, যেক্ষেত্রে ধারা ১৪ এর অধীন পুলিশের নিজস্ব অভিযোগ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো নাগরিকের অভিযোগ নিষ্পত্তি করিতে ব্যর্থ হয়, সেক্ষেত্রে উক্ত অভিযোগকারী সরাসরি এই ধারার অধীন কমিটির নিকট আবেদন করিতে পারিবে।
(৩) নাগরিক অভিযোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি, উপ-ধারা (২) এর অধীন প্রাপ্ত আবেদন নিষ্পত্তির নিমিত্ত নিম্নবর্ণিত পদ্ধতি অনুসরণ করিবে, যথা:-
(৪) কোনো পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে গণমাধ্যম বা অন্য কোনো মাধ্যমে কোনো অভিযোগ দৃষ্টিগোচর হইলে, নাগরিক অভিযোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি স্বতঃপ্রণোদিতভাবে (suo motu) উপ-ধারা (৩) এর প্রক্রিয়া অনুসরণ করিতে পারিবে বা ধারা ১৪ এর অধীন যথাযথ কর্তৃপক্ষ বরাবর প্রেরণপূর্বক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উক্ত অভিযোগ নিষ্পত্তিপূর্বক কমিটিকে অবহিত করিবার পরামর্শ দিতে পারিবে।
(৫) নাগরিক অভিযোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি, অভিযোগ সংক্রান্ত কার্যাবলির উপর ত্রৈমাসিক প্রতিবেদন কমিশনের চেয়ারপার্সনের নিকট দাখিল করিবে এবং কমিশন উক্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনাপূর্বক প্রয়োজনীয় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করিবে।
(৬) এই ধারার অধীন পরিচালিত তদন্তের ক্ষেত্রে সাক্ষ্য ও দলিল উপস্থাপন সংক্রান্ত বিষয়ে কমিটির দেওয়ানি কার্যবিধিতে উল্লিখিত বিধিবিধানের অনুরূপ ক্ষমতা থাকিবে।
(৭) কমিটি, অভিযোগ নিষ্পত্তি ও গৃহীত ব্যবস্থা সম্পর্কিত তথ্য নিয়মিত ওয়েবসাইটে প্রকাশ করিবে এবং অভিযোগকারীকে অবহিত করিবে।
(১) কমিশন, ধারা ১৩ এর দফা (৩) এর উদ্দেশ্য পূরণকল্পে কমিশনের ৩ (তিন) জন সদস্যের সমন্বয়ে নির্ধারিত মেয়াদ উল্লেখপূর্বক একটি "পুলিশ সংক্ষোভ নিরসন কমিটি" গঠন করিবে।
(২) কোনো পুলিশ সদস্য ধারা ১৪ এর অধীন পুলিশের নিজস্ব অভিযোগ নিষ্পত্তি ব্যবস্থার সিদ্ধান্ত দ্বারা সন্তোষজনক প্রতিকার না পাইলে তিনি বা তাহার পক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তি এই ধারার অধীন গঠিত কমিটির নিকট অভিযোগ দাখিল করিতে পারিবেন:
তবে শর্ত থাকে যে, যেক্ষেত্রে ধারা ১৪ এর অধীন পুলিশের নিজস্ব অভিযোগ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো অভিযোগ নিষ্পত্তি করিতে ব্যর্থ হয়, সেক্ষেত্রে অভিযোগকারী সরাসরি এই ধারার অধীন কমিটির নিকট আবেদন করিতে পারিবে।
(৩) পুলিশ সংক্ষোভ নিরসন কমিটি, সংক্ষোভ নিষ্পত্তির নিমিত্ত নিম্নবর্ণিত ব্যবস্থা গ্রহণ করিবে, যথা:-
(৪) গণমাধ্যম বা অন্য কোনো মাধ্যম হইতে পুলিশ সদস্যের সংক্ষোভ সংক্রান্ত কোনো বিষয় দৃষ্টিগোচর হইলে, কমিটি স্বতঃপ্রণোদিতভাবে (suo motu) উপ-ধারা (৩) এর প্রক্রিয়া অনুসরণ করিতে পারিবে বা ধারা ১৪ এর অধীন যথাযথ কর্তৃপক্ষ বরাবর প্রেরণপূর্বক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উক্ত অভিযোগ নিষ্পত্তিপূর্বক কমিটিকে অবহিত করিবার সুপারিশ করিতে পারিবে।
(৫) যদি কোনো ব্যক্তি বা সভা পুলিশের আইনানুগ কার্যক্রমে বিধি-বহির্ভূত বা অযাচিত প্রভাব বিস্তার করে এবং উক্ত বিষয়টি তদন্তে প্রমাণিত হয়, তাহা হইলে কমিটি উক্ত ব্যক্তি বা সত্তার দায়-দায়িত্ব নিরূপণপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের নিকট সুপারিশ প্রেরণ করিবে।
(৬) কমিটি, সংক্ষোভ সংক্রান্ত অভিযোগ নিষ্পত্তি করিবার পাশাপাশি সংক্ষোভ নিরসনের লক্ষ্যে নিয়মিতভাবে পুলিশ সদস্যদের শুনানি গ্রহণ করিবে এবং প্রয়োজনীয় সুপারিশসহ এই সংক্রান্ত কার্যাবলির উপর ত্রৈমাসিক প্রতিবেদন কমিশনের চেয়ারপার্সনের নিকট দাখিল করিবে, যাহার ভিত্তিতে কমিশন প্রয়োজনীয় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করিবে।
(৭) এই ধারার অধীন পরিচালিত তদন্তের ক্ষেত্রে সাক্ষ্য ও দলিল উপস্থাপন সংক্রান্ত বিষয়ে কমিটির দেওয়ানি কার্যবিধিতে উল্লিখিত বিধিবিধানের অনুরূপ ক্ষমতা থাকিবে।
(৮) কমিটি, সংক্ষোভ নিরসন সংক্রান্ত গৃহীত ব্যবস্থা ও ফলাফল সম্পর্কে আবেদনকারীকে লিখিতভাবে অবহিত করিবে।
ধারা ১৫ বা ১৬ এর অধীন তদন্তের স্বার্থে নাগরিক অভিযোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি বা পুলিশ সংক্ষোভ নিরসন কমিটি লিখিতভাবে যথোপযুক্ত কর্তৃপক্ষকে অভিযোগকারী, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বা সংবাদমাধ্যমে তথ্য প্রকাশকারী, ভুক্তভোগী বা কোনো সাক্ষীর গোপনীয়তা রক্ষার্থে কিংবা প্রতিশোধ, ভীতিপ্রদর্শন, হুমকি বা যেকোনো প্রকার বিরূপ কার্য হইতে নিরাপত্তা ও সুরক্ষা প্রদানের লক্ষ্যে উপযুক্ত যেকোনো অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশনা প্রদান করিতে পারিবে এবং কমিটি কর্তৃক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ উক্ত নির্দেশনা বাস্তবায়ন করিয়া কমিশনকে অবহিত করিবে।
কোনো ব্যক্তি যুক্তিসঙ্গত তথ্যপ্রমাণ কমিশন, নাগরিক অভিযোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি, পুলিশ সংক্ষোভ নিরসন কমিটি বা তদন্তকারী কর্মকর্তার নিকট প্রকাশ করিলে তিনি জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট তথ্য প্রকাশ (সুরক্ষা প্রদান) আইন, ২০১১ (২০১১ সনের ৭ নং আইন) এর অধীন সুরক্ষার অধিকারী হইবেন এবং উক্ত আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে কমিশন, নাগরিক অভিযোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি, পুলিশ সংক্ষোভ নিরসন কমিটি বা তদন্তকারী কর্মকর্তা উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ হিসাবে গণ্য হইবে।
(১) আদালতে বিচারাধীন বা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ন্যায়পাল কর্তৃক বিবেচ্য কোনো বিষয়ে কমিশন তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করিবে না:
তবে শর্ত থাকে যে, আদালত, বা ক্ষেত্রমত ন্যায়পালের অনুমোদনক্রমে কমিশন বিষয়টির উপর তদন্ত পরিচালনা করিতে পারিবে এবং তদন্ত শেষে তদন্ত প্রতিবেদন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার জন্য আদালত বা ন্যায়পালের নিকট পরবর্তী ব্যবস্থার জন্য দাখিল করিবে।
(২) কমিশনের তদন্তাধীন কোনো বিষয় জাতীয় মানবাধিকার কমিশন কর্তৃক বিবেচনাধীন থাকিলে কমিশন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সহিত সমন্বয়পূর্বক বিষয়টির সুরাহা করিবে এবং এই অধ্যাদেশের কারণে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের এখতিয়ার খবর হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে না।
(১) কমিশনের কার্যক্রম সভার মাধ্যমে পরিচালনা করা হইবে।
(২) কমিশনের সকল সভায় চেয়ারপার্সন সভাপতিত্ব করিবেন।
(৩) চেয়ারপার্সনের অনুপস্থিতিতে উপস্থিত সদস্যগণের মধ্য হইতে জ্যেষ্ঠ সদস্য সভার সভাপতিত্ব করিবেন।
(৪) সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যগণের উপস্থিতিতে সভার কোরাম গঠিত হইবে।
(৫) উপস্থিত সদস্যগণের সংখ্যাগরিষ্ঠ (Majority) ভোটে কমিশনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হইবে।
(৬) কোনো বিষয়ে সদস্যগণের ভোট সমান দুই ভাগে বিভক্ত হইলে চেয়ারপার্সন নির্ধারণী (কাস্টিং) ভোট প্রদান করিতে পারিবেন।
(৭) বিশেষ কোনো বিষয়ে পরামর্শের জন্য কমিশন যেকোনো বিশেষজ্ঞকে আমন্ত্রণ জানাইতে পারিবে।
(৮) কার্যাদি পরিচালনার জন্য কমিশন ইহার প্রবিধান প্রণয়ন করতে পারিবে।
কমিশন উহার কার্যাবলি দক্ষতার সহিত সম্পাদনে সহায়তা করিবার জন্য প্রয়োজনবোধে, সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অভিজ্ঞ ব্যক্তিবর্গের সমন্বয়ে এক বা একাধিক কমিটি গঠন করিতে পারিবে এবং উক্ত কমিটি বা কমিটিসমূহের সদস্য সংখ্যা, দায়িত্ব, কর্মপরিধি এবং কার্যধারা কমিশন কর্তৃক নির্ধারিত হইবে।
কমিশন, উহার বিশেষ ধরনের কারিগরি কার্য বা গবেষণা সম্পাদনের নিমিত্ত সংশ্লিষ্ট কার্যে অভিজ্ঞতা, দক্ষতা এবং সুনাম রহিয়াছে এইরূপ কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নিকট হইতে সরকার কর্তৃক বা কমিশনের প্রবিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে পরামর্শক সেবা গ্রহণ করিতে পারিবে।
(১) কমিশন ইহার কার্যাবলি সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের উদ্দেশ্যে, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, প্রয়োজনীয় সংখ্যক কর্মচারী নিয়োগ করিতে পারিবে।
(২) কর্মচারীদের নিয়োগ ও চাকরির শর্তাবলি প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত হইবে।
(৩) সরকার, কমিশনের লিখিত অনুরোধের ভিত্তিতে প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্ত কোনো ব্যক্তি বা সরকারি কর্মচারীকে কমিশনে প্রেষণে নিয়োগ করিতে পারিবে:
তবে শর্ত থাকে যে, কমিশন গঠনের প্রথম তিন বছর পর প্রেষণে নিযুক্ত ব্যক্তি বা সরকারি কর্মচারীদের সংখ্যা কমিশনের মোট জনবলের ৩০ (ত্রিশ) শতাংশের অধিক হইবে না।
(১) কমিশন, স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় হইতে আইন, অপরাধ-বিজ্ঞান, পুলিশ-বিজ্ঞানের সহিত সংশ্লিষ্ট বিষয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য নিয়মিত ইন্টার্নশিপের ব্যবস্থা করিবে।
(২) ইন্টার্নশিপের সংখ্যা ও শর্তাদি নির্ধারণে কমিশন এই সংক্রান্ত সরকারি ইন্টার্নশিপ নীতিমালা, ২০২৩ অনুসরণ করিতে পারিবে।
(১) কমিশন প্রতি বৎসর সরকার কর্তৃক নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সম্ভাব্য আয়-ব্যয়সহ পরবর্তী অর্থ বৎসরের বার্ষিক বাজেট বিবরণী পেশ করিবে এবং উহাতে উক্ত অর্থ বৎসরে সরকারের নিকট হইতে কমিশনের কী পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন হইবে উহারও উল্লেখ থাকিবে।
(২) কমিশন সামগ্রিক বাজেট পরিকল্পনা সরকারের নিকট প্রেরণ করিবে।
(১) কমিশন যথাযথভাবে উহার হিসাবরক্ষণ করিবে এবং হিসাবের বার্ষিক বিবরণী প্রস্তুত করিবে।
(২) বাংলাদেশের মহা-হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, অতঃপর মহা হিসাব-নিরীক্ষক বলিয়া উল্লিখিত, প্রতি বৎসর কমিশনের হিসাব নিরীক্ষা করিবেন এবং নিরীক্ষা রিপোর্টের একটি করিয়া অনুলিপি সরকার ও কমিশনের নিকট প্রেরণ করিবেন।
(৩) এই হিসাব নিরীক্ষার উদ্দেশ্যে মহা-হিসাব নিরীক্ষক কিংবা তাহার নিকট হইতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি কমিশনের সকল রেকর্ড, বার্ষিক স্থিতিপত্র, দলিল-দস্তাবেজ, তথ্যাদি, নগদ বা ব্যাংকে গচ্ছিত অর্থ, জামানত, ভান্ডার এবং অন্যবিধ সম্পত্তি পরীক্ষা করিয়া দেখিতে পারিবেন এবং কমিশনের চেয়ারপার্সন, সদস্য এবং কমিশনের অন্য যে কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীকে প্রশ্ন করিতে বা জানিতে পারিবেন।
(৪) উল্লিখিত নিরীক্ষা ছাড়াও, Chartered Accountants Order, 1973 (P. O. No. 2 of 1973) এর Article 2(1)(b) তে সংজ্ঞায়িত কোনো Chartered Accountant দ্বারা হিসাব নিরীক্ষা করা যাইবে এবং এতদুদ্দেশ্যে কমিশন এক বা একাধিক Chartered Accountant নিয়োগ করিতে পারিবে।
(৫) নিরীক্ষিত ব্যয় বিবরণী প্রতিবেদন প্রাপ্তির ৭ (সাত) কার্যদিবসের মধ্যে কমিশন তাহার ওয়েবসাইটে উক্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করিবে।
(১) কমিশন, প্রত্যেক অর্থবৎসর সমাপ্তির পর তাহার পরিচালনা, প্রশাসন ও তৎকর্তৃক সম্পাদিত সকল কার্যাবলির বিবরণ সংবলিত একটি বার্ষিক প্রতিবেদন প্রস্তুত করিবে।
(২) উক্ত প্রতিবেদন, অর্থবৎসর সমাপ্তির পরবর্তী ৩ (তিন) মাসের মধ্যে কমিশন রাষ্ট্রপতির নিকট পেশ করিবে। হইবে।
(৩) এই ধারার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, এতদসংক্রান্ত অন্যান্য বিষয়াবলি প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত হইবে।
চেয়ারপার্সন, সদস্য, অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মচারী এবং এই অধ্যাদেশের অধীন কার্য সম্পাদনের জন্য কমিশন হইতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রত্যেক কর্মকর্তা দণ্ডবিধির section 21 এর public servant (জনসেবক) অভিব্যক্তিটি যে অর্থে ব্যবহৃত হইয়াছে সেই অর্থে public servant (জনসেবক) বলিয়া গণ্য হইবেন।
কমিশন, লিখিত আদেশ দ্বারা, এই অধ্যাদেশ বা প্রবিধানের অধীন উহার যে কোনো ক্ষমতা বা, সরকারি আর্থিক ক্ষমতা অর্পণ সম্পর্কিত বিধি-বিধান অনুসরণপূর্বক, উহার আর্থিক ক্ষমতা কমিশনের কোনো সদস্য বা কোনো কর্মচারী বা কোনো কমিটিকে অর্পণ করিতে পারিবে।
যেক্ষেত্রে এই অধ্যাদেশের অধীন দায়িত্ব পালনকালে বিবেচনাধীন কোনো বিষয়ে কমিশনের কোনো সদস্যের স্বার্থ জড়িত থাকে, সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সদস্য যথাশীঘ্র বিষয়টি কমিশনকে অবহিত করিবেন এবং উক্ত বিষয়ে কমিশনের অনুসন্ধান, তদন্ত ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করা হইতে বিরত থাকিবেন।
এই অধ্যাদেশের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে।
এই অধ্যাদেশের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে কমিশন, সরকারের অনুমোদনক্রমে, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, প্রবিধান প্রণয়ন করিতে পারিবে।
(১) এই অধ্যাদেশ প্রবর্তনের পর সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই অধ্যাদেশের ইংরেজিতে অনূদিত একটি নির্ভরযোগ্য পাঠ (Authentic English Text) প্রকাশ করিতে পারিবে।
(২) বাংলা ও ইংরেজি পাঠের মধ্যে বিরোধের ক্ষেত্রে বাংলা পাঠ প্রাধান্য পাইবে।