বাংলাদেশ ট্রাভেল এজেন্সি (নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ সংশোধনকল্পে প্রণীত অধ্যাদেশ যেহেতু অফলাইন ও অনলাইন ট্রাভেল এজেন্সি ব্যবসা পরিচালনায় গ্রাহকসেবা, টিকেটের ন্যায্যমূল্য, আকাশপথে পরিবহণ খাতে সুশাসন এবং সাধারণ যাত্রীসহ অভিবাসী কর্মীদের বিদেশ গমনের ক্ষেত্রে হয়রানি নিবারণকল্পে বাংলাদেশ ট্রাভেল এজেন্সি (নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ সংশোধন করা প্রয়োজন; যেহেতু সংসদ ভাঙ্গিয়া যাওয়া অবস্থায় রহিয়াছে এবং রাষ্ট্রপতির নিকট ইহা সন্তোষজনকভাবে প্রতীয়মান হইয়াছে যে, আশু ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় পরিস্থিতি বিদ্যমান রহিয়াছে; সেহেতু গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৯৩ (১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে, রাষ্ট্রপতি নিম্নরূপ অধ্যাদেশ প্রণয়ন ও জারি করিলেন, যথা:-
(১) এই অধ্যাদেশ বাংলাদেশ ট্রাভেল এজেন্সি (নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬ নামে অভিহিত হইবে।
(২) ইহা অবিলম্বে কার্যকর হইবে।
“২। সংজ্ঞা।- বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থি কোনো কিছু না থাকিলে, এই আইনে-
(১) “অগ্রিম” অর্থ যে-কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান বা ট্রাভেল এজেন্সি কর্তৃক অপর কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান বা ট্রাভেল এজেন্সি হইতে টিকেট সংগ্রহ বা ক্রয়ের উদ্দেশ্যে ঋণ, ওভারড্রাফট, নগদ অর্থ, প্রণোদনা (incentive), মূল্য ছাড় (discount) কিংবা অন্য যে-কোনোরূপে টিকেট ক্রয়-বিক্রয়ের পূর্বে আগাম পরিশোধের উদ্দেশ্যে প্রদত্ত আর্থিক সুবিধা;
(২) “চূড়ান্ত উপকারভোগী মালিক (Ultimate Beneficiary Owner) [UBO]” অর্থ কোনো আইনি সত্তা বা legal entity এর মালিক যিনি কোনো ব্যবসা কার্যক্রমে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সম্পৃক্ত না থাকিলেও চূড়ান্ত আর্থিক সুবিধা গ্রহণকারী;
(৩) “ট্রাভেল এজেন্সি” অর্থ ধারা ৫ এর অধীন নিবন্ধিত ট্রাভেল এজেন্সি;
(৪) “নির্ধারিত” অর্থ বিধি দ্বারা নির্ধারিত;
(৫) “নিবন্ধন কর্তৃপক্ষ” অর্থ ধারা ৩ এর অধীন নির্ধারিত কর্তৃপক্ষ;
(৬) “নিবন্ধন সনদ” অর্থ ধারা ৫ এর উপ-ধারা (২) এর দফা (ক) এর অধীন ইস্যুকৃত নিবন্ধন সনদ;
(৭) “নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ” অর্থ সরকার কর্তৃক নির্ধারিত কোনো নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ;
(৮) “পরিবহন” অর্থ নৌপথ, স্থল পথ ও আকাশপথে পরিবহন;
(৯) “পরিবার” অর্থ কোনো ট্রাভেল এজেন্সির স্বত্বাধিকারী, ব্যবস্থাপনা অংশীদার, ব্যবস্থাপনা পরিচালক এর স্বামী বা স্ত্রী, ১৮ (আঠারো) বৎসরের ঊর্ধ্ব বয়সের কোনো পুত্র ও কন্যা এবং পিতা ও মাতা;
(১০) “ফলস বুকিং বা বানোয়াট আসন সংরক্ষণ” অর্থ কোনো ট্রাভেল এজেন্সি বা ব্যক্তি কর্তৃক কোনো বিমান বা পরিবহনে আসন সুনির্দিষ্ট করিবার উদ্দেশ্যে প্রকৃত যাত্রীর সঠিক তথ্য প্রদান না করিয়া অথবা ভুয়া নাম বা তথ্য ব্যবহার করিয়া আসন আটকাইয়া রাখা বা বুকিং দেওয়া অথবা আসনটি ক্রয় বা সংগ্রহের উদ্দেশ্য ব্যতিরেকে কেবল বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করিবার লক্ষ্যে আসন ব্লক করিয়া রাখা;
(১১) “বিজনেস টু বিজনেস” অর্থ কোনো ট্রাভেল এজেন্সির সহিত অন্য কোনো ট্রাভেল এজেন্সির টিকেট ক্রয়-বিক্রয়, সংরক্ষণ, কমিশন বা প্রণোদনা, অগ্রিম, আদান-প্রদান সংক্রান্ত বাণিজ্যিক কার্যক্রম;
(১২) “বিধি” অর্থ এই আইনের অধীন প্রণীত বিধি;
(১৩) “ব্যক্তি” অর্থ যে-কোনো ব্যক্তি তবে, কোনো প্রতিষ্ঠান, কোম্পানি, অংশীদারি কারবার, ফার্ম বা অন্য কোনো সংস্থাও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে; এবং
(১৪) “স্বার্থ নিরপেক্ষ লেনদেন (Arm's Length Transaction)” অর্থ এমন এক ব্যবসায়িক লেনদেন যেখানে পক্ষসমূহের মধ্যে কোনো পূর্ব সম্পর্ক, ব্যক্তি স্বার্থ বা পারস্পরিক প্রভাব ব্যতিরেকে সম্পূর্ণ স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে ন্যায্য বাজারমূল্যে লেনদেন সম্পন্ন হয়।”।
উক্ত আইনের ধারা ২ এর পর নিম্নরূপ নূতন ধারা ২ক সংযোজিত হইবে, যথা:-
“২ক। আইনের প্রাধান্য।- আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, ট্রাভেল এজেন্সি নিবন্ধন, নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা সংক্রান্ত বিষয়ে এই আইনের বিধানাবলি প্রাধান্য পাইবে।”।
উক্ত আইনের ধারা ৫ এর উপ-ধারা (১) এর-
“(ঙ) আকাশপথে ভ্রমণের সুবিধা প্রদানের ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তির নিকট হইতে অতিরিক্ত অর্থ গ্রহণ করিবে না বা তাহাকে মিথ্যা প্রলোভন দেখাইবে না বা তাহার সহিত কোনো প্রতারণার আশ্রয় গ্রহণ করা হইবে না বা অন্য কোনো ট্রাভেল এজেন্সির নিকট হইতে টিকেট ক্রয়-বিক্রয় করা হইবে না বা ট্রাভেল এজেন্সির ঠিকানায় রিক্রুটিং এজেন্ট হিসাবে ব্যবসা পরিচালনা করা যাইবে না এবং সরকার কর্তৃক নির্ধারিত আর্থিক মাধ্যমে লেনদেন করিতে হইবে মর্মে হলফনামা;”;
“(চ) পরিবারের সদস্যবর্গের নামে ট্রাভেল এজেন্সি থাকিলে এজেন্সির নাম, নিবন্ধন নম্বর, মালিকের পাসপোর্ট নম্বর, জাতীয় পরিচয়পত্র, ছবি, উত্তরাধিকার সনদ, অর্থের উৎসসহ চূড়ান্ত উপকারভোগী মালিকের নাম ও ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য এবং স্বার্থ নিরপেক্ষ লেনদেন অনুযায়ী ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনার তথ্যাদি; এবং
উক্ত আইনের ধারা ৬ এর-
“(চ) ঋণ খেলাপি হন।”।
উক্ত আইনের ধারা ৭ এর উপ-ধারা (১) এর পরিবর্তে নিম্নরূপ উপ-ধারা (১) প্রতিস্থাপিত হইবে, যথা:-
“(১) ট্রাভেল এজেন্সি কর্তৃক প্রতি বৎসর আর্থিক বিবরণীসহ সার্বিক কার্যক্রমের প্রতিবেদন সরকারের নিকট নির্ধারিত পদ্ধতিতে দাখিল করিতে হইবে এবং দাখিলকৃত প্রতিবেদন সন্তোষজনক মর্মে বিবেচিত হইলে প্রতি ৩ (তিন) বৎসর পর পর নিবন্ধন সনদ নবায়নযোগ্য হইবে।”।
উক্ত আইনের ধারা ৯ এর-
“(ছ) টিকেটিং এর উদ্দেশ্যে কোনো এয়ারলাইন্সের প্যাসেঞ্জার সার্ভিস সিস্টেমরূপে ব্যবহৃত দেশি ও বিদেশি অ্যাপ্লিকেশন, সিস্টেম, পোর্টাল, প্ল্যাটফর্ম, Global Distribution System (GDS) বা New Distribution Capability (NDC), ইত্যাদি ডিজিটাল টিকেট ডিস্ট্রিবিউশন চ্যানেল অবৈধভাবে ব্যবহার করিলে বা ইহার লগইন আইডি ও পাসওয়ার্ড শেয়ার বা বিতরণ করিলে;
“(৩) কোনো ট্রাভেল এজেন্সির নিবন্ধন সনদ স্থগিত করা সমীচীন মর্মে প্রতীয়মান হইলে জনস্বার্থে, শুনানি গ্রহণ ব্যতীত, সরকার, সাময়িকভাবে উক্ত নিবন্ধন সনদ স্থগিত করিতে পারিবে।”।
উক্ত আইনের ধারা ১১ এর উপ-ধারা (১) এর পরিবর্তে নিম্নরূপ উপ-ধারা (১) প্রতিস্থাপিত হইবে, যথা:-
“(১) কোনো ব্যক্তি এই আইন বা তদধীন প্রণীত বিধিমালার কোনো বিধান লঙ্ঘন করিলে, উহা হইবে একটি অপরাধ এবং তজ্জন্য তিনি অনধিক ১ (এক) বৎসরের কারাদণ্ড অথবা অনধিক ১০ (দশ) লক্ষ টাকা অর্থদন্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।”।
উক্ত আইনের ধারা ১১খ এর পর নিম্নরূপ নূতন ধারা ১১গ ও ১১ঘ সংযোজিত হইবে, যথা:-
“১১গ। ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি।- প্রতারণা, দুর্নীতি বা এতদসংক্রান্ত আবশ্যকীয় ক্ষেত্রে আকস্মিক দেশত্যাগ রোধকল্পে নিবন্ধন কর্তৃপক্ষ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহিত সমন্বয় সাধনপূর্বক ট্রাভেল এজেন্সির সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের উপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করিবে।
১১ঘ। আদেশ জারির ক্ষমতা।- সরকার, সময় সময়, নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষকে এতদুদ্দেশ্যে প্রয়োজনীয় আদেশ প্রদান করিতে পারিবে এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ উহা মানিয়া চলিতে বাধ্য থাকিবে।”।