গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ, ২০২৫ সংশোধনকল্পে প্রণীত অধ্যাদেশ যেহেতু নিম্নবর্ণিত উদ্দেশ্যসমূহ পূরণকল্পে গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ, ২০২৫ (২০২৫ সনের ৭৩ নং অধ্যাদেশ) সংশোধন করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়; এবং যেহেতু সংসদ ভাঙ্গিয়া যাওয়া অবস্থায় রহিয়াছে এবং রাষ্ট্রপতির নিকট ইহা সন্তোষজনকভাবে প্রতীয়মান হইয়াছে যে, আশু ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় পরিস্থিতি বিদ্যমান রহিয়াছে; সেহেতু গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৯৩(১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি নিম্নরূপ অধ্যাদেশ প্রণয়ন ও জারি করিলেন:–
(১) এই অধ্যাদেশ গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬ নামে অভিহিত হইবে।
(২) ইহা অবিলম্বে কার্যকর হইবে।
“(৬) ট্রাইব্যুনালে অভিযোগকারীর পক্ষে মামলা পরিচালনার জন্য কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে সরকার প্রয়োজনীয় সংখ্যক পাবলিক প্রসিকিউটর নিয়োগ করিবে:
তবে শর্ত থাকে যে, অভিযোগকারী বা ভুক্তভোগী ব্যক্তিগত উদ্যোগেও ট্রাইব্যুনালে আইনজীবী নিয়োগ করিতে পারিবেন:
আরও শর্ত থাকে যে, কমিশন গঠিত না হওয়া পর্যন্ত বা কমিশন না থাকা অবস্থায়, সরকার পাবলিক প্রসিকিউটর নিয়োগ করিতে পারিবে বা ট্রাইব্যুনাল যেই জেলায় বা বিভাগে অবস্থিত সেই জেলা বা বিভাগের বিভাগীয় সদর দপ্তরের জেলা বা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর বা অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটরকে ট্রাইবুনালের পাবলিক প্রসিকিউটরের অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রদান করিতে পারিবে।”।
উক্ত অধ্যাদেশের ধারা ২৩ এর উপ-ধারা (২) এর পর নিম্নরূপ নূতন উপ-ধারা (৩), (৪), (৫) ও ব্যাখ্যা সংযোজিত হইবে, যথা:-
“(৩) গুম হওয়া ব্যক্তির স্ত্রী বা তাহার উপর নির্ভরশীল পরিবারের কোনো সদস্য কর্তৃক এই ধারার অধীন কার্যধারা শুরু করিবার ক্ষেত্রে কমিশনের অনুমতি গ্রহণ আবশ্যক হইবে না:
তবে শর্ত থাকে যে, ট্রাইব্যুনাল প্রয়োজন মনে করিলে আবেদনে উল্লিখিত কোনো বিষয় যাচাই করিবার উদ্দেশ্যে কমিশনের প্রতিবেদন চাহিতে পারিবেন।
(৪) The Evidence Act, 1872 এর section 108 এ যাহা কিছু থাকুক না কেন, যেক্ষেত্রে গুম হওয়া ব্যক্তি অন্যূন ৫ (পাঁচ) বছর ধরিয়া গুম থাকেন এবং জীবিত ফিরিয়া না আসেন, সেইক্ষেত্রে ট্রাইব্যুনাল, উক্ত ব্যক্তির যেকোনো বৈধ উত্তরাধিকারের আবেদনের প্রেক্ষিতে, উক্ত ব্যক্তির সম্পত্তি (যাহা এই উপ-ধারার অধীন আদেশ প্রদানের সময় বিদ্যমান), বৈধ উত্তরাধিকারগণের মধ্যে বণ্টনযোগ্য মর্মে ঘোষণা প্রদান করিতে পারিবে।
(৫) এই ধারার অধীন আবেদনপত্র, প্রত্যয়ন ও গুম সনদের ধরন ও পদ্ধতি প্রবিধান দ্বারা নির্ধারণ করা যাইবে:
তবে শর্ত থাকে যে, অনুরূপ প্রবিধান প্রণয়ন না হওয়া পর্যন্ত উক্ত বিষয়সমূহ ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক নির্ধারিত হইবে।
ব্যাখ্যা।―এই ধারার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে ‘গুম হওয়া ব্যক্তি’ অর্থ সেই ব্যক্তি, যিনি ১৫/০৯/২৪ তারিখে জারীকৃত এস.আর.ও. নম্বর ৩১২-আইন/২০২৪-এর অধীন গঠিত কমিশনের অনুসন্ধান কার্যক্রমে, অথবা এই অধ্যাদেশ বা International Crimes (Tribunals) Act, 1973 (Act No. XIX of 1973) এর অধীন দায়েরকৃত কোনো মামলায় গৃহীত তদন্ত প্রতিবেদনে বা প্রদত্ত রায়ে গুম হইয়াছেন মর্মে সাব্যস্ত হইয়াছেন এবং ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক এই ধারার অধীন আদেশ প্রদানের পূর্ব পর্যন্ত জীবিত ফিরিয়া আসেন নাই এমন ব্যক্তিকে বুঝাইবে।”।