বাংলাদেশ বিল্ডিং রেগুলেটরি কর্তৃপক্ষ অধ্যাদেশ, ২০২৬
বাংলাদেশ বিল্ডিং রেগুলেটরি কর্তৃপক্ষ অধ্যাদেশ, ২০২৬ প্রণয়নকল্পে প্রণীত অধ্যাদেশ
বাংলাদেশ বিল্ডিং রেগুলেটরি কর্তৃপক্ষ অধ্যাদেশ, ২০২৬ প্রণয়নকল্পে প্রণীত অধ্যাদেশ যেহেতু বাংলাদেশে ভবন নির্মাণ ক্ষেত্রে নিরাপদ ভবন নির্মাণ ও গুণগত মান নিশ্চিতকরণ, পরিবেশ-বান্ধব গ্রিন বিল্ডিং নির্মাণ, জন-বান্ধব গণপরিসর (Public Place) নির্মাণ, ঐতিহাসিক ভবন ও এলাকা সংরক্ষণ এবং ভবন নির্মাণ সংক্রান্ত সমস্যা নিরসনকল্পে বাংলাদেশ বিল্ডিং রেগুলেটরি কর্তৃপক্ষ নামে একটি কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়; যেহেতু সংসদ ভাঙ্গিয়া যাওয়া অবস্থায় রহিয়াছে এবং রাষ্ট্রপতির নিকট ইহা সন্তোষজনকভাবে প্রতীয়মান হইয়াছে যে, আশু ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় পরিস্থিতি বিদ্যমান রহিয়াছে; সেহেতু গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৯৩ (১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি নিম্নরূপ অধ্যাদেশ প্রণয়ন ও জারি করিলেন:-
Section ১. সংক্ষিপ্ত শিরোনাম ও প্রবর্তন
(১) এই অধ্যাদেশ বাংলাদেশ বিল্ডিং রেগুলেটরি কর্তৃপক্ষ অধ্যাদেশ, ২০২৬ নামে অভিহিত হইবে।
(২) ইহা অবিলম্বে কার্যকর হইবে।
Section ২. সংজ্ঞা
বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থি কোনো কিছু না থাকিলে, এই অধ্যাদেশে,-
Section ৩. অধ্যাদেশের প্রাধান্য
আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইন বা কোডে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই অধ্যাদেশের বিধানাবলি প্রাধান্য পাইবে।
Section ৪. কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা
(১) এই অধ্যাদেশ কার্যকর হইবার পর সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, বাংলাদেশ বিল্ডিং রেগুলেটরি কর্তৃপক্ষ নামে একটি কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা করিবে।
(২) কর্তৃপক্ষ একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা হইবে এবং ইহার স্থায়ী ধারাবাহিকতা ও একটি সাধারণ সিলমোহর থাকিবে এবং এই অধ্যাদেশ বা তদ্ধীন প্রণীত বিধি বা প্রবিধান সাপেক্ষে, ইহার স্থাবর বা অস্থাবর অথবা উভয় প্রকার সম্পত্তি অর্জন করিবার, অধিকারে রাখিবার ও হস্তান্তর করিবার ক্ষমতা থাকিবে এবং ইহা স্বীয় নামে মামলা দায়ের করিতে পারিবে এবং ইহার বিরুদ্ধেও মামলা দায়ের করা যাইবে।
Section ৫. কর্তৃপক্ষের কার্যালয়
(১) কর্তৃপক্ষের প্রধান কার্যালয় ঢাকায় থাকিবে।
(২) কর্তৃপক্ষ, প্রয়োজনে, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, বাংলাদেশের যেকোনো স্থানে ইহার শাখা কার্যালয় স্থাপন করিতে পারিবে।
Section ৬. কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব ও কার্যাবলি
এই অধ্যাদেশের বিধানাবলি সাপেক্ষে, কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব ও কার্যাবলি হইবে নিম্নরূপ, যথা:-
Section ৭. পরিচালনা বোর্ড গঠন, ইত্যাদি
(১) কর্তৃপক্ষের পরিচালনা ও প্রশাসন ইহার পরিচালনা বোর্ডের উপর ন্যস্ত থাকিবে এবং কর্তৃপক্ষ যে সকল ক্ষমতা প্রয়োগ ও কার্য সম্পাদন করিতে পারিবে পরিচালনা বোর্ডও সেই সকল ক্ষমতা প্রয়োগ ও কার্য সম্পাদন করিতে পারিবে।
(২) পরিচালনা বোর্ড ৫ (পাঁচ) জন সদস্য সমন্বয়ে গঠিত হইবে এবং তাহাদের মধ্য হইতে একজনকে সরকার চেয়ারম্যান হিসাবে নিয়োগ প্রদান করিবে।
(৩) সরকার নিম্নবর্ণিত ব্যক্তিগণের মধ্য হইতে পরিচালনা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও সদস্য নিয়োগ প্রদান করিবে, যথা:-
(৪) চেয়ারম্যান ও সদস্যগণের বেতন, ভাতা, জ্যেষ্ঠতা ও চাকরির অন্যান্য শর্তাদি সরকার কর্তৃক নির্ধারিত হইবে।
(৫) চেয়ারম্যান কর্তৃপক্ষের প্রধান নির্বাহী হইবেন।
(৬) চেয়ারম্যান ও অন্যান্য সদস্যগণ কর্তৃপক্ষেরও চেয়ারম্যান ও সদস্য হিসাবে গণ্য হইবেন।
Section ৮. চেয়ারম্যান ও সদস্যগণের মেয়াদ ও নিয়োগ যোগ্যতা, অপসারণ, ইত্যাদি
(১) চেয়ারম্যান ও সদস্যগণ তাহাদের কার্যভার গ্রহণের তারিখ হইতে ৩ (তিন) বৎসর মেয়াদে স্বীয় পদে অধিষ্ঠিত থাকিবেন:
তবে শর্ত থাকে যে, কোনো ব্যক্তি ২ (দুই) মেয়াদের অধিক চেয়ারম্যান বা সদস্য হিসাবে নিয়োগ লাভের যোগ্য হইবেন না:
আরও শর্ত থাকে যে, কোনো সদস্যের বয়স ৬৭ (সাতষট্টি) বৎসর পূর্ণ হইলে তিনি চেয়ারম্যান বা সদস্য পদে নিযুক্ত হইবার বা উক্ত পদে বহাল থাকিবার যোগ্য হইবেন না।
(২) কোনো ব্যক্তি চেয়ারম্যান বা সদস্য হইবার যোগ্য হইবেন না অথবা উক্ত পদে অধিষ্ঠিত থাকিতে পারিবেন না, যদি তিনি-
(৩) সরকার, কারণ দর্শাইবার যুক্তিসঙ্গত সুযোগ প্রদান করিয়া, চেয়ারম্যান বা কোনো সদস্যকে যেকোনো সময় অপসারণ করিতে পারিবে।
(৪) চেয়ারম্যান বা সদস্যগণের অপসারণ পদ্ধতি বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে।
(৫) এই ধারার অধীন অপসারিত কোনো ব্যক্তি কর্তৃপক্ষ বা পরিচালনা বোর্ডের চেয়ারম্যান বা সদস্য হিসাবে অথবা সরকার বা গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীন কোনো সংস্থা বা কর্তৃপক্ষের অন্য কোনো পদে নিয়োজিত বা পুনঃনিয়োজিত হইতে পারিবেন না।
Section ৯. পরিচালনা বোর্ডের সভা
(১) প্রতি মাসে পরিচালনা বোর্ডের অন্যূন একটি সভা অনুষ্ঠিত হইবে।
(২) সভার কার্যপদ্ধতি ও সংশ্লিষ্ট বিষয়সমূহ বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে।
Section ১০. কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ
(১) কর্তৃপক্ষ উহার কার্যাবলি সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের নিমিত্ত, সরকার কর্তৃক অনুমোদিত সাংগঠনিক কাঠামো বা, সময় সময়, প্রদত্ত নির্দেশনা সাপেক্ষে, প্রয়োজনীয় সংখ্যক কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ করিতে পারিবে।
(২) কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিয়োগ ও চাকরির শর্তাবলি প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত হইবে।
Section ১১. বিল্ডিং কন্সট্রাকশন (বিসি) কমিটি গঠন
এই অধ্যাদেশের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভার আওতাভুক্ত এলাকা ব্যতীত দেশের অন্যান্য সকল এলাকায় ভবনের নকশা অনুমোদন ও নিরাপদ নির্মাণ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, বিল্ডিং কন্সট্রাকশন (বিসি) কমিটি গঠন এবং উহার কার্যপরিধি নির্ধারণ করিবে।
Section ১২. কর্তৃপক্ষের রেগুলেটরি ক্ষমতা প্রয়োগ
(১) ভবনের নকশা অনুমোদন ও কোডের প্রতিপালনের সহিত সম্পৃক্ত সকল উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, বিসি কমিটি, সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সংস্থার কার্যক্রমের উপর কর্তৃপক্ষ নিয়ন্ত্রক ও তদারকি সংস্থা হিসাবে কার্যক্রম পরিচালনা করিবে।
(২) উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে কর্তৃপক্ষ উক্ত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, বিসি কমিটি, সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা ও অন্যান্য সংস্থাকে নোটিশ প্রদানপূর্বক নকশা অনুমোদন সংক্রান্ত তথ্য, দলিলাদি ও নথিপত্র যাচনা করিতে পারিবে এবং উক্তরূপ চাহিত তথ্য, দলিলাদি ও নথিপত্র প্রদান করিতে উক্ত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, বিসি কমিটি, সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা ও অন্যান্য সংস্থাসমূহ বাধ্য থাকিবে।
(৩) কর্তৃপক্ষ উপ-ধারা (২) এর অধীন প্রাপ্ত তথ্য, দলিলাদি ও নথিপত্র পর্যালোচনাপূর্বক প্রয়োজনীয় দিক-নির্দেশনা প্রদান করিতে পারিবে এবং, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে, উক্ত বিষয় সম্পর্কে সরকারকে অবহিত করিবে।
Section ১৩. তহবিল
(১) এই অধ্যাদেশের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, কর্তৃপক্ষের একটি তহবিল থাকিবে এবং উহাতে নিম্নবর্ণিত উৎস হইতে প্রাপ্ত অর্থ জমা হইবে, যথা:-
(২) সরকার কর্তৃক প্রদত্ত মঞ্জুরি ব্যতীত কর্তৃপক্ষের তহবিলে অন্যান্য অর্থ কর্তৃপক্ষের নামে তফসিলি ব্যাংকে জমা প্রদান করা হইবে এবং প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে উক্ত তহবিল পরিচালনা করা হইবে।
ব্যাখ্যা।- “তফসিলি ব্যাংক” অর্থ Bangladesh Bank Order, 1972(President’s Order No. 127 of 1972) এর Article 2 এর clause (j)-তে সংজ্ঞায়িত Scheduled Bank।
(৩) কর্তৃপক্ষের সকল ব্যয় উক্ত তহবিল হইতে নির্বাহ করা হইবে:
তবে শর্ত থাকে যে, তহবিলের অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে সরকারের নিয়মনীতি ও বিধি-বিধান অনুসরণ করিতে হইবে।
(৪) সংশ্লিষ্ট অর্থ বৎসরে কর্তৃপক্ষের ব্যয় নির্বাহের পর কর্তৃপক্ষের তহবিলে কোনো অর্থ উদ্বৃত্ত থাকিলে সরকারের বিশেষ নির্দেশনা না থাকিলে উহা কর্তৃপক্ষের তহবিলে সংরক্ষণ করিতে পারিবে।
(৫) কর্তৃপক্ষ তহবিলের অর্থ বা উহার অংশ বিশেষ, সরকার কর্তৃক অনুমোদিত কোনো খাতে বিনিয়োগ করিতে পারিবে।
(৬) সরকার হইতে প্রাপ্ত অনুদান Personal Ledger Account (PLA) এ জমা হইবে।
Section ১৪. বার্ষিক বাজেট
কর্তৃপক্ষ কোনো অর্থ বৎসর শুরুর ১২০ (একশত বিশ) দিন পূর্বে অথবা সরকার কর্তৃক নির্দিষ্টকৃত সময়ের মধ্যে সম্ভাব্য আয়-ব্যয়সহ পরবর্তী অর্থ বৎসরের বার্ষিক বাজেট বিবরণী সরকারের নিকট পেশ করিবে এবং উহাতে উক্ত বৎসরে সরকারের নিকট হইতে কর্তৃপক্ষের কি পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন হইবে উহারও উল্লেখ থাকিবে।
Section ১৫. হিসাবরক্ষণ ও নিরীক্ষা।
(১) কর্তৃপক্ষ যথাযথভাবে উহার হিসাবরক্ষণ এবং হিসাব বিবরণী প্রস্তুত করিবে।
(২) বাংলাদেশের মহাহিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, অতঃপর মহাহিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক বলিয়া অভিহিত, প্রতি বৎসর কর্তৃপক্ষের হিসাব নিরীক্ষা করিবেন এবং বিদ্যমান আইনের বিধান মোতাবেক নিরীক্ষা প্রতিবেদন দাখিল করিবেন।
(৩) উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত নিরীক্ষা ছাড়াও Bangladesh Chartered Accountants Order, 1973(President’s Order No. 2 of 1973) এর Article 2(1)(b)-তে সংজ্ঞায়িত চার্টার্ড অ্যাকাউনটেন্ট দ্বারা কর্তৃপক্ষের হিসাব নিরীক্ষা করিতে পারিবে এবং এতদুদ্দেশ্যে কর্তৃপক্ষ এক বা একাধিক চার্টার্ড অ্যাকাউনটেন্ট নিয়োগ করিতে পারিবে।
(৪) কর্তৃপক্ষের হিসাব নিরীক্ষার উদ্দেশ্যে মহাহিসাব-নিরীক্ষক কিংবা তাহার নিকট হইতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি বা উপ-ধারা (৩) এর অধীন নিয়োগকৃত চার্টার্ড অ্যাকাউনটেন্ট কর্তৃপক্ষের সকল রেকর্ড, দলিলাদি, বার্ষিক ব্যালেন্স শিট, নগদ বা ব্যাংকে গচ্ছিত অর্থ, জামানত, ভান্ডার বা অন্যবিধ সম্পত্তি ইত্যাদি পরীক্ষা করিয়া দেখিতে পারিবেন এবং চেয়ারম্যান, সদস্য বা কর্তৃপক্ষের যেকোনো কর্মচারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করিতে পারিবেন।
(৫) এই ধারার অধীন কোনো চার্টার্ড অ্যাকাউনটেন্ট কর্তৃক নিরীক্ষা করা হইলে কার্য সমাপ্তির ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে চার্টার্ড অ্যাকাউনটেন্ট কর্তৃপক্ষের নিকট নিরীক্ষা প্রতিবেদন পেশ করিবে।
(৬) নিরীক্ষা প্রতিবেদনে চিহ্নিত ত্রুটি বা অনিয়ম প্রতিকারের জন্য কর্তৃপক্ষ অবিলম্বে পদক্ষেপ গ্রহণ করিবে এবং নিরীক্ষা প্রতিবেদনের উপর কোনো আপত্তি উত্থাপিত হইলে উহা নিষ্পত্তির জন্য কর্তৃপক্ষ অবিলম্বে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করিবে।
(৭) এই ধারার বিধানাবলি প্রয়োগের ক্ষেত্রে ফাইনান্সিয়াল রিপোর্টিং আইন, ২০১৫ (২০১৫ সনের ১৬ নং আইন) এর বিধানাবলি, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে, অনুসরণ করিতে হইবে।
Section ১৬. প্রতিবেদন
(১) কর্তৃপক্ষ প্রত্যেক অর্থ বৎসর সমাপ্ত হইবার পরবর্তী ৩ (তিন) মাসের মধ্যে তদ্কর্তৃক উক্ত অর্থ বৎসরে সম্পাদিত কার্যাবলির বিবরণ সংবলিত একটি বার্ষিক প্রতিবেদন সরকারের নিকট পেশ করিবে।
(২) সরকার, প্রয়োজনে, কর্তৃপক্ষের নিকট হইতে যেকোনো সময় উহার কার্যক্রম বা ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত যেকোনো তথ্য, পরিসংখ্যান, হিসাব-নিকাশ এবং আনুষঙ্গিক কাগজপত্র আহ্বান করিতে পারিবে, এবং কর্তৃপক্ষ উক্ত তথ্য ও কাগজপত্র সরকারের নিকট সরবরাহ করিতে বাধ্য থাকিবে।
(৩) সরকার, যেকোনো সময়, কর্তৃপক্ষের কার্যক্রম অথবা যেকোনো প্রকার অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত অনুষ্ঠানের নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবে।
Section ১৭. ক্ষমতা অর্পণ
কর্তৃপক্ষ, সাধারণ বা বিশেষ আদেশ দ্বারা, উহার যেকোনো ক্ষমতা বা দায়িত্ব তদ্কর্তৃক নির্ধারিত শর্তে, চেয়ারম্যান, সদস্য এবং কর্তৃপক্ষের কোনো কর্মকর্তাকে অর্পণ করিতে পারিবে।
Section ১৮. স্বার্থের বিরোধ।
(১) কোনো সভায় বোর্ডের চেয়ারম্যান, কোনো সদস্য, কর্তৃপক্ষের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী অথবা কমিটির কোনো সদস্যের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ স্বার্থ সংশ্লিষ্ট কোনো বিষয় থাকিলে, তিনি উক্ত বিষয়টি অনতিবিলম্বে কর্তৃপক্ষকে অবহিত করিবেন এবং, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে, উক্ত সভায় অংশগ্রহণ ও ভোট প্রদান হইতে বিরত থাকিবেন।
(২) কোনো চেয়ারম্যান, সদস্য, কর্মকর্তা বা কর্মচারী অথবা কমিটির সদস্য উপ-ধারা (১) এর বিধান অনুযায়ী স্বার্থ সংশ্লিষ্টতার বিষয় কর্তৃপক্ষকে অবহিত করিতে ব্যর্থ হইলে সরকারের অনুমোদনক্রমে, কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করিবে।
Section ১৯. বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা
এই অধ্যাদেশের উদ্দেশ্যে পূরণকল্পে, সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে।
Section ২০. প্রবিধান প্রণয়নের ক্ষমতা
এই অধ্যাদেশের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, কর্তৃপক্ষ, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই অধ্যাদেশ এবং তদ্ধীন প্রণীত কোনো বিধির সহিত অসামঞ্জস্যপূর্ণ না হওয়া সাপেক্ষে, প্রবিধান প্রণয়ন করিতে পারিবে।
Section ২১. ইংরেজিতে অনুদিত পাঠ প্রকাশ
(১) এই অধ্যাদেশ কার্যকর হইবার পর সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই অধ্যাদেশের মূল বাংলা পাঠের ইংরেজিতে অনূদিত একটি নির্ভরযোগ্য পাঠ (Authentic English Text) প্রকাশ করিবে।
(২) বাংলা ও ইংরেজি পাঠের মধ্যে বিরোধের ক্ষেত্রে বাংলা পাঠ প্রাধান্য পাইবে।