হাওর ও জলাভূমি সুরক্ষা, সংরক্ষণ ও উন্নয়নের লক্ষ্যে বিধান প্রণয়নের উদ্দেশ্যে প্রণীত অধ্যাদেশ যেহেতু গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ১৮ক অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নাগরিকদের জন্য জলাভূমি, জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক সম্পদের সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা বিধান করা রাষ্ট্রের অন্যতম দায়িত্ব; এবং যেহেতু হাওর বাংলাদেশের একটি অনন্য প্রতিবেশ ব্যবস্থা; এবং যেহেতু বাংলাদেশের সকল হাওর ও জলাভূমির পরিবেশ, প্রতিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও বাস্তুতন্ত্র সুরক্ষা, সংরক্ষণ ও উন্নয়নের নিমিত্ত বিধান করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়; এবং যেহেতু সংসদ ভাঙ্গিয়া যাওয়া অবস্থায় রহিয়াছে এবং রাষ্ট্রপতির নিকট ইহা সন্তোষজনকভাবে প্রতীয়মান হইয়াছে যে, আশু ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় পরিস্থিতি বিদ্যমান রহিয়াছে; সেহেতু গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৯৩(১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি নিম্নরূপ অধ্যাদেশ প্রণয়ন ও জারি করিলেন:-
(১) এই অধ্যাদেশ বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি সংরক্ষণ অধ্যাদেশ, ২০২৬ নামে অভিহিত হইবে।
(২) ইহা সমগ্র বাংলাদেশে প্রযোজ্য হইবে।
(৩) ইহা অবিলম্বে কার্যকর হইবে।
বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থি কোনো কিছু না থাকিলে, এই অধ্যাদেশে,-
(১) “অধিদপ্তর” অর্থ ধারা ৪ এর অধীন প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন অধিদপ্তর;
(২) “কান্দা” অর্থ হাওর বা জলাভূমি এলাকার মধ্যে অবস্থিত অপেক্ষাকৃত উঁচু ভূমি;
(৩) “জলাভূমি” অর্থ বাঁওড় ও বিল;
(৪) “জীববৈচিত্র্য” অর্থ বাংলাদেশ জীববৈচিত্র্য আইন, ২০১৭ (২০১৭ সনের ০২ নং আইন) এর ধারা ২(১১) এ সংজ্ঞায়িত জীববৈচিত্র্য;
(৫) “তফসিল” অর্থ এই অধ্যাদেশের তফসিল;
(৬) “নির্দেশিকা” অর্থ ধারা ২৫ এর অধীন প্রণীত নির্দেশিকা;
(৭) “পরিবেশ” অর্থ বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (১৯৯৫ সনের ১ নং আইন) এর ধারা ২(ঘ) এ সংজ্ঞায়িত পরিবেশ;
(৮) “পরিযায়ী প্রজাতি” অর্থ বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২ (২০১২ সনের ৩০ নং আইন) এর ধারা ২(২২) এ সংজ্ঞায়িত পরিযায়ী প্রজাতি;
(৯) “পানিধারক স্তর” অর্থ বাংলাদেশ পানি আইন, ২০১৩ (২০১৩ সনের ১৪ নং আইন) এর ধারা ২(১৮) এ সংজ্ঞায়িত Aquifer বা পানিধারক স্তর;
(১০) “প্রতিবেশ ব্যবস্থা” অর্থ বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ এর ধারা ২(ছ) এ সংজ্ঞায়িত প্রতিবেশ ব্যবস্থা;
(১১) “বাঁওড়” অর্থ বাংলাদেশ পানি আইন, ২০১৩ এর ধারা ২(২২) এ সংজ্ঞায়িত বাঁওড়;
(১২) “বিধি” অর্থ ধারা ২৪ এর অধীন প্রণীত বিধি;
(১৩) “বিল” অর্থ বাংলাদেশ পানি আইন, ২০১৩ এর ধারা ২(২৪) এ সংজ্ঞায়িত বিল;
১৪) “ব্যক্তি” অর্থ কোনো ব্যক্তি এবং কোনো প্রতিষ্ঠান, কোম্পানি, সমিতি, অংশীদারি কারবার, ফার্ম বা সংবিধিবদ্ধ বা অন্য কোনো সংস্থাও উহার অন্তর্ভুক্ত হইবে;
(১৫) “সংরক্ষণ” অর্থ পানি সম্পদের উপযোগিতা বৃদ্ধি, অপচয় ও ক্ষয় হ্রাসকরণ এবং সুরক্ষাও অন্তর্ভুক্ত হইবে;
(১৬) “সুরক্ষা” অর্থ হাওর ও জলাভূমির পরিবেশ, প্রতিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও বাস্তুতন্ত্রের সুরক্ষা; এবং
(১৭) “হাওর” অর্থ দুইটি ভিন্ন নদীর মধ্যস্থলে প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট কড়াই আকৃতির বৃহদাকার কোনো নিম্নভূমি।
আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, হাওর ও জলাভূমির পরিবেশ ও প্রতিবেশ সুরক্ষা, সংরক্ষণ ও উন্নয়নের ক্ষেত্রে এই অধ্যাদেশের বিধানাবলি প্রাধান্য পাইবে।
(১) এই অধ্যাদেশের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের ২৪ জুলাই ২০১৬ তারিখের ৪২.০৩১.০২২.০০.০০.০২৫.২০১৫-৫৯২ নং প্রজ্ঞাপনমূলে ঘোষিত “বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন অধিদপ্তর” এমনভাবে বহাল থাকিবে যেন উহা এই অধ্যাদেশের অধীন প্রতিষ্ঠিত।
(২) অধিদপ্তর পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সংযুক্ত দপ্তর হইবে।
অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয় থাকিবে ঢাকায় এবং অধিদপ্তর, প্রয়োজনে, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, হাওর ও জলাভূমি সংশ্লিষ্ট এলাকাসমূহে প্রয়োজনীয় সংখ্যক আঞ্চলিক বা শাখা কার্যালয় স্থাপন করিতে পারিবে।
(১) অধিদপ্তরের একজন মহাপরিচালক থাকিবেন, যিনি উহার প্রধান নির্বাহী হইবেন।
(২) মহাপরিচালক সরকার কর্তৃক নিযুক্ত হইবেন এবং তাহার চাকরির শর্তাদি সরকার কর্তৃক স্থিরীকৃত হইবে।
(১) অধিদপ্তর, এই অধ্যাদেশের বিধান সাপেক্ষে, উহার অধিক্ষেত্রাধীন হাওর ও জলাভূমির পরিবেশ ও প্রতিবেশ সুরক্ষা, সংরক্ষণ ও উন্নয়নের নিমিত্ত প্রয়োজনীয় সকল কার্যক্রম গ্রহণ করিতে পারিবে এবং যে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে প্রয়োজনীয় লিখিত আদেশ বা নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবে।
(২) অধিদপ্তর, এই অধ্যাদেশের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, উপ-ধারা (১) এর সামগ্রিকতাকে ক্ষুণ্ন না করিয়া, নিম্নবর্ণিত কার্যাবলি সম্পাদন করিতে পারিবে, যথা:-
ব্যাখ্যা।- উপ-ধারা (২) এর দফা (ঝ)-তে উল্লিখিত “পলি” বলিতে শিলা, মাটি বা জৈব কণিকামূলক পদার্থকে বুঝাইবে, যাহা প্রাকৃতিক, ভৌত, রাসায়নিক বা জৈব প্রক্রিয়ার মাধ্যমে উৎপন্ন হয় এবং পানি, বায়ু, বরফ, মাধ্যাকর্ষণ বা জীবজগতের মাধ্যমে পরিবাহিত হইয়া হাওর বা জলাভূমিতে তলানি আকারে জমা হয়।
এই অধ্যাদেশের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, জেলা প্রশাসক কর্তৃক সরবরাহকৃত তালিকার ভিত্তিতে, হাওর ও জলাভূমির তালিকা প্রণয়ন ও প্রকাশ করিবে এবং, প্রয়োজনবোধে, সময় সময়, উক্ত তালিকা সংশোধন বা হালনাগাদ করিবে।
(১) অধিদপ্তর, সরকারের বিদ্যমান নীতি, পরিকল্পনা, কৌশলপত্র, ইত্যাদির সহিত সামঞ্জস্য রাখিয়া হাওর ও জলাভূমির সুরক্ষা, সংরক্ষণ, উন্নয়ন ও সমন্বিত ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে, মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন ও হালনাগাদ করিবে।
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন মহাপরিকল্পনা প্রণয়ণের ক্ষেত্রে হাওর ও জলাভূমি নির্ভর জনগোষ্ঠী ও অংশীজনের মতামত গ্রহণ এবং উহা চূড়ান্তকরণের পূর্বে, বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে, জনমত যাচাই করিতে হইবে।
(১) এই অধ্যাদেশের অধীন কোনো ক্ষমতা প্রয়োগ বা কার্যসম্পাদনের উদ্দেশ্যে মহাপরিচালক বা তাহার নিকট হইতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি, কোনো কর্তৃপক্ষ বা আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে প্রয়োজনীয় সহায়তা করিবার জন্য অনুরোধ জ্ঞাপন করিতে পারিবেন এবং এইরূপ অনুরোধ করা হইলে উক্ত কর্তৃপক্ষ বা সংস্থা মহাপরিচালক বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে অনুরূপ সহায়তা প্রদান করিতে বাধ্য থাকিবে।
(২) অধিদপ্তর, এই অধ্যাদেশের অধীনে উহার দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে, সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকসহ পরিবেশ অধিদপ্তর, মৎস্য অধিদপ্তর, বন অধিদপ্তর, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর, বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তর, ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তর, নদী গবেষণা ইনস্টিটিউট, জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন, পানি সম্পদ পরিকল্পনা সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থাসমূহের সহিত প্রয়োজনীয় সমন্বয় সাধন করিবে।
(৩) অধিদপ্তর, ধারা ৭ এর উপ-ধারা (১) এর অধীন কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে আদেশ বা নির্দেশ প্রদানের ক্ষেত্রে, প্রয়োজনীতার নিরিখে, সংশ্লিষ্ট দপ্তর বা সংস্থার মতামত গ্রহণ করিবে।
(১) আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইনে ভিন্নতর যাহা কিছুই থাকুক না কেন, যথাযথ অনুসন্ধান, পরীক্ষা-নিরীক্ষা বা জরিপের ফলাফলের ভিত্তিতে সরকারের নিকট যদি এই মর্মে প্রতীয়মান হয় যে, মানবসৃষ্ট কারণে কোনো হাওর বা জলাভূমির জীববৈচিত্র্য, পরিবেশ, প্রতিবেশ ও বাস্তুতন্ত্র, অথবা কোনো নির্দিষ্ট প্রজাতির উদ্ভিদ বা প্রাণীর অস্তিত্ব হুমকির সম্মুখীন হইয়াছে বা হইবার আশঙ্কা রহিয়াছে, তাহা হইলে, সরকার, বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে, ধারা ১০ এর উপ-ধারা (২) এ বর্ণিত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, সংস্থা বা অন্যান্যদের মতামত গ্রহণপূর্বক, উক্ত হাওর বা জলাভূমি বা উহার কোনো অংশবিশেষ রক্ষার্থে, সুরক্ষা আদেশ জারি করিতে পারিবে।
(২) উপ-ধারা (১) এর উদ্দেশ্য পূরণকল্পে কোনো সুরক্ষা আদেশ জারি করা হইলে উক্ত আদেশে, সংশ্লিষ্ট এলাকার ‘ভূমির তফসিল ও সীমানা’ উল্লেখপূর্বক, প্রয়োজনীয় বিধিনিষেধ আরোপ করা যাইবে।
(৩) উপ-ধারা (১) এর অধীন জারীকৃত সুরক্ষা আদেশে আরোপিত বিধিনিষেধ লঙ্ঘন এই অধ্যাদেশের অধীন দণ্ডনীয় অপরাধ হিসাবে গণ্য হইবে।
(১) সরকার, কোনো হাওর বা জলাভূমি সুরক্ষাকল্পে, বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে, ধারা ১০ এর উপ-ধারা (২) এ বর্ণিত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, সংস্থা বা অন্যান্যদের মতামত গ্রহণপূর্বক, উক্ত হাওর বা জলাভূমিকে সংরক্ষিত এলাকা হিসাবে ঘোষণা করিতে পারিবে।
(২) সরকার, কোনো হাওর বা জলাভূমিকে সংরক্ষিত এলাকা হিসাবে ঘোষণার ক্ষেত্রে, সংরক্ষিত এলাকার সীমানা এবং সংরক্ষিত এলাকায় কোন্ কোন্ কাজ করা যাইবে এবং যাইবে না, সংশ্লিষ্ট ঘোষণার দ্বারা, তৎসংক্রান্ত বিধিনিষেধ আরোপ করিবে।
(৩) অধিদপ্তর, উপ-ধারা (১) এর অধীন ঘোষিত সংরক্ষিত এলাকার পানির প্রবাহ ও জীববৈচিত্র্যের জন্য ক্ষতিকর স্থাপনা, অবকাঠামো ও কার্যাদি চিহ্নিত করিয়া তাহা নিয়ন্ত্রণ, সংশোধন বা অপসারণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করিবে।
(৪) অধিদপ্তর, সরকারের অনুমোদন সাপেক্ষে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহিত সমন্বয় করিয়া, উপ-ধারা (১) এর অধীন ঘোষিত সংরক্ষিত এলাকার জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, দূষণ নিয়ন্ত্রণ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতকল্পে ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা প্রণয়ন করিবে।
(৫) পরিযায়ী প্রজাতির পাখিসহ বিরল প্রজাতির কোনো উদ্ভিদ বা প্রাণী রক্ষায় কোনো হাওর ও জলাভূমি এলাকাকে অভয়ারণ্য বা মৎস্য অভয়াশ্রম এলাকা ঘোষণা করিবার যৌক্তিকতা থাকিলে অধিদপ্তর, ক্ষেত্রমত, পরিবেশ অধিদপ্তর, বন অধিদপ্তর বা মৎস্য অধিদপ্তরকে তাহা লিখিতভাবে অবহিত করিবে এবং পরিবেশ অধিদপ্তর, বন অধিদপ্তর, মৎস্য অধিদপ্তর বা সরকারের অনুমতি সাপেক্ষে, উক্ত এলাকাকে অভয়ারণ্য বা মৎস্য অভয়াশ্রম ঘোষণা করিয়া সমন্বিত ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করিবে:
তবে শর্ত থাকে যে, অভয়ারণ্য বা মৎস্য অভয়াশ্রম ঘোষণার ক্ষেত্রে বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২; Protection and Conservation of Fish Act, 1950(Act No. XVIII of 1950) এবং বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ এর বিদ্যমান বিধান অনুযায়ী পরিবেশ অধিদপ্তর, বন অধিদপ্তর বা মৎস্য অধিদপ্তর কর্তৃক গৃহীতব্য কোনো কার্যক্রম বারিত হইবে না।
(৬) উপ-ধারা (৫) এর অধীন অভয়ারণ্য ও মৎস্য অভয়াশ্রম ঘোষণা ও ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে, ক্ষেত্রমত, বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২; Protection and Conservation of Fish Act, 1950এবং বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ এ বর্ণিত বিধানাবলি প্রযোজ্য হইবে।
ব্যাখ্যা।- এই ধারায় উল্লিখিত-
(১) হাওর ও জলাভূমির সুরক্ষা ও সংরক্ষণের নিমিত্ত নিম্নবর্ণিত কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকিবে, যথা:-
(২) ধারা ১২ এর উপ-ধারা (১) এর অধীন ঘোষিত সংরক্ষিত হাওর ও জলাভূমি এলাকায় উক্ত ধারার উপ-ধারা (২) এর অধীন আরোপিত বিধিনিষেধ এই ধারার অধীন নিষিদ্ধ কার্যক্রম হিসাবে গণ্য হইবে।
(৩) উপ-ধারা (১) ও (২) এ উল্লিখিত নিষিদ্ধ কার্যক্রম এই অধ্যাদেশের অধীন অপরাধ বলিয়া গণ্য হইবে এবং উহা তফসিল অনুসারে দণ্ডনীয় হইবে।
(১) হাওর বা জলাভূমি সংশ্লিষ্ট এলাকায় কোনো উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে অধিদপ্তরের নিকট হইতে, বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে, মতামত গ্রহণ করিতে হইবে।
(২) হাওর ও জলাভূমি সংশ্লিষ্ট এলাকায় উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের বিষয়ে অধিদপ্তরের মতামত যাচনা করা হইলে, অধিদপ্তর সংশ্লিষ্ট বিষয়ে উপযুক্ত যাচাই-বাছাই ও প্রয়োজনে সরেজমিন পরিদর্শনপূর্বক মতামত প্রদান করিবে।
(৩) অধিদপ্তর কর্তৃক উপ-ধারা (২) এর অধীন প্রদত্ত মতামতে নিম্নবর্ণিত বিষয়সমূহের সুস্পষ্ট উল্লেখ থাকিবে, যথা:-
(৪) কোনো সরকারি, বেসরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা, প্রতিষ্ঠান, কর্তৃপক্ষ বা ব্যক্তি কর্তৃক হাওর বা জলাভূমির সীমানার মধ্যে অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রকল্প প্রণয়নের ক্ষেত্রে অধিদপ্তরের নিকট হইতে, বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে, মতামত গ্রহণ করিতে হইবে এবং মতামত প্রদানের ক্ষেত্রে অধিদপ্তর উপ-ধারা (২) ও (৩) এর বিধান অনুসরণ করিবে।
(৫) এই ধারায় যাহা কিছুই থাকুক না কেন, বিদ্যমান বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের সংস্কার, মেরামত ও পুনঃনির্মাণের ক্ষেত্রে উপ-ধারা (১) হইতে (৪) এর কোনো বিধান প্রযোজ্য হইবে না:
তবে শর্ত থাকে যে, নতুন বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ পানি আইন, ২০১৩ এবং বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ অনুসরণপূর্বক সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কর্তৃক সম্ভাব্যতা সমীক্ষা অনুমোদন এবং ছাড়পত্র গ্রহণ করিতে হইবে।
(১) মহাপরিচালকের নিকট যদি এই মর্মে প্রতীয়মান হয় যে, কোনো ব্যক্তি কর্তৃক কোনো কাজ করা বা না করা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে হাওর ও জলাভূমির প্রতিবেশ ব্যবস্থার ক্ষতিসাধন করিতেছে বা করিয়াছে, তাহা হইলে তিনি উক্ত ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণপূর্বক উহা পরিশোধ এবং যথাযথ ক্ষেত্রে সংশোধনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ বা উভয় প্রকার ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবেন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি উক্ত নির্দেশ পালনে বাধ্য থাকিবেন।
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন প্রদত্ত নির্দেশ অনুসারে নির্দেশপ্রাপ্ত ব্যক্তি ক্ষতিপূরণ প্রদান না করিলে, মহাপরিচালক যথাযথ এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতে ক্ষতিপূরণ আদায়ের মামলা বা উক্ত নির্দেশ পালনে ব্যর্থতার জন্য ফৌজদারি মামলা অথবা উভয় প্রকার মামলা দায়ের করিতে পারিবেন।
(৩) উপ-ধারা (১) এর অধীন ক্ষতিপূরণ নির্ধারণের বা সংশোধনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষেত্রে মহাপরিচালক, কারিগরি কমিটি অথবা বিশেষজ্ঞ ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সহায়তা গ্রহণ করিবেন।
সরকার ও অধিদপ্তর, এই অধ্যাদেশের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, প্রয়োজনীয় সংখ্যক কমিটি গঠন করিতে পারিবে।
(১) সরকার, এই অধ্যাদেশ বা তদধীন প্রণীত বিধির অধীন উহার যে কোনো ক্ষমতা লিখিতভাবে মহাপরিচালক বা অন্য কোনো কর্মকর্তাকে অর্পণ করিতে পারিবে।
(২) মহাপরিচালক, এই অধ্যাদেশ বা তদধীন প্রণীত বিধির অধীন তাহার যে কোনো ক্ষমতা লিখিতভাবে উপযুক্ত কোনো কর্তৃপক্ষ বা কর্মকর্তাকে অর্পণ করিতে পারিবেন।
(১) সরকার, অধিদপ্তরের কার্যাবলি সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের জন্য, অনুমোদিত সাংগঠনিক কাঠামো অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় সংখ্যক কর্মচারী নিয়োগ করিতে পারিবে।
(২) অধিদপ্তরের কর্মচারীদের নিয়োগ ও চাকরির শর্তাবলি বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে।
(১) এই অধ্যাদেশে বর্ণিত যে কোনো অপরাধের তদন্ত ও বিচারসহ আনুষঙ্গিক অন্যান্য বিষয়ে, এই অধ্যাদেশের বিধান সাপেক্ষে, Code of Criminal Procedure, 1898 (Act No. V of 1898) এর বিধানাবলি প্রযোজ্য হইবে।
(২) এই অধ্যাদেশের অধীন সংঘটিত অপরাধসমূহের আমলযোগ্যতা, জামিনযোগ্যতা ও আপোষযোগ্যতা তফসিল অনুসারে নির্ধারিত হইবে।
(১) এই অধ্যাদেশের সংশ্লিষ্ট বিধানসমূহ লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে তফসিলে বর্ণিত দণ্ড আরোপনীয় হইবে।
(২) এই অধ্যাদেশের বিধান সাপেক্ষে, বিধি দ্বারা কতিপয় অপরাধ চিহ্নিত এবং উক্ত অপরাধ সংঘটনের জন্য দণ্ড নির্ধারণ করা যাইবে, তবে এইরূপ দণ্ড ২ (দুই) বৎসর কারাদণ্ড বা ২ (দুই) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডের অতিরিক্ত হইবে না।
এই অধ্যাদেশে বর্ণিত কোনো অপরাধ সংঘটনে সহায়তা করা বা প্ররোচণা প্রদান করা বা হুকুম প্রদান করা বা প্রলুব্ধ করা হইলে, সংশ্লিষ্ট সহায়তাকারী বা প্ররোচণা প্রদানকারী বা হুকুম প্রদানকারী বা প্রলুব্ধকারী মূল অপরাধ সংঘটনকারীর ন্যায় একই অপরাধে অপরাধী বলিয়া গণ্য হইবেন, যাহা মূল অপরাধ সংঘটনকারীর ন্যায় একইভাবে দণ্ডনীয় হইবে।
মহাপরিচালক বা এতদুদ্দেশ্যে তাহার নিকট হইতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো কর্মকর্তার লিখিত অভিযোগ ব্যতীত কোনো আদালত এই অধ্যাদেশের অধীন দণ্ডনীয় কোনো অপরাধ বিচারার্থে গ্রহণ করিবে না।
এই অধ্যাদেশে ভিন্নরূপ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই অধ্যাদেশের অধীন অপরাধসমূহ, মোবাইল কোর্ট আইন, ২০০৯ (২০০৯ সনের ৫৯ নং আইন) এর তফসিলভুক্ত করিয়া বিচার করা যাইবে।
সরকার, এই অধ্যাদেশের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে।
অধিদপ্তর, এই অধ্যাদেশের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, হাওর ও জলাভূমির পরিবেশ, প্রতিবেশ, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও উন্নয়নের নিমিত্ত, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই অধ্যাদেশ এবং তদধীন প্রণীত বিধির সহিত অসামঞ্জস্যপূর্ণ নহে, এইরূপ নির্দেশিকা প্রণয়ন করিতে পারিবে।
এই অধ্যাদেশের অধীন সরল বিশ্বাসে কৃত কোনো কার্যের ফলে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হইলে বা ক্ষতিগ্রস্ত হইবার সম্ভাবনা থাকিলে তজ্জন্য সরকার, মহাপরিচালক বা তৎকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো কর্মকর্তা, কর্মচারী বা ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোনো দেওয়ানি বা ফৌজদারি মামলা বা অন্য কোনো আইনগত কার্যধারা গ্রহণ করা যাইবে না।
(১) এই অধ্যাদেশ বলবৎ হইবার সঙ্গে সঙ্গে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় কর্তৃক ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৬ তারিখে জারীকৃত ৪২.০৩১.০২২.০০.০০.০২৫.২০১৫-৫৯২ নং প্রজ্ঞাপন, অতঃপর উক্ত প্রজ্ঞাপন বলিয়া উল্লিখিত, এতদ্দ্বারা রহিত হইবে।
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন রহিতকরণ সত্ত্বেও, উক্ত প্রজ্ঞাপনের অধীন বা দ্বারা-
(৩) উক্ত প্রজ্ঞাপন রহিত হইবার সঙ্গে সঙ্গে উক্ত প্রজ্ঞাপন দ্বারা ঘোষিত বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন অধিদপ্তর এর-
তবে শর্ত থাকে যে, সাবেক বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন বোর্ডের কোনো কর্মচারী এই অধ্যাদেশ প্রবর্তনের অব্যবহিত পূর্বে উক্ত ঘোষিত অধিদপ্তরের চাকরিতে নিয়োজিত থাকিলে, কোনো চুক্তি বা চাকরির শর্তে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, তিনি অধিদপ্তরের নিয়মিত বা আত্মীকৃত কর্মচারী হিসাবে গণ্য হইবেন; এবং
(৪) এই অধ্যাদেশ বলবৎ হইবার সঙ্গে সঙ্গে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় কর্তৃক ০৬ সেপ্টেম্বর ২০১৬ তারিখে জারীকৃত ৪২.০০.০০০০.০৩১.০৬.১৬.০৩৩.১৬-৭৩৫ নং প্রজ্ঞাপনমূলে গঠিত “বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন জাতীয় কমিটি” বিলুপ্ত হইবে এবং উক্তরূপে বিলুপ্ত হওয়া সত্ত্বেও উক্ত কমিটি কর্তৃক গৃহীত সকল কার্যক্রম বা ব্যবস্থা এই অধ্যাদেশের অধীন কৃত বা গৃহীত হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে এবং, এই অধ্যাদেশের সহিত সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া সাপেক্ষে, অব্যাহত থাকিবে।