বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬
বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০০১ এর অধিকতর সংশোধনকল্পে প্রণীত অধ্যাদেশ
বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০০১ এর অধিকতর সংশোধনকল্পে প্রণীত অধ্যাদেশ যেহেতু নিম্নবর্ণিত উদ্দেশ্যসমূহ পুরণকল্পে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০০১ (২০০১ সনের ১৮ নং আইন) এর অধিকতর সংশোধন সমীচীন ও প্রয়োজনীয়; এবং যেহেতু সংসদ ভাঙ্গিয়া যাওয়া অবস্থায় রহিয়াছে এবং রাষ্ট্রপতির নিকট ইহা সন্তোষজনকভাবে প্রতীয়মান হইয়াছে যে, আশু ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় পরিস্থিতি বিদ্যমান রহিয়াছে; সেহেতু গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৯৩(১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে, রাষ্ট্রপতি নিম্নরূপ অধ্যাদেশ প্রণয়ন ও জারি করিলেন:-
Section ১. সংক্ষিপ্ত শিরোনাম ও প্রবর্তন
(১) এই অধ্যাদেশ বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬ নামে অভিহিত হইবে।
(২) ইহা অবিলম্বে কার্যকর হইবে।
Section ২. ২০০১ সনের ১৮ নং আইনের ধারা ১ এর সংশোধন
বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০০১ (২০০১ সনের ১৮ নং আইন), অত:পর উক্ত আইন বলিয়া উল্লিখিত, এর ধারা ১ এর উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত “নিয়ন্ত্রণ” শব্দটি বিলুপ্ত হইবে।
Section ৩. ২০০১ সনের ১৮ নং আইনের ধারা ২ এর সংশোধন
উক্ত আইনের ধারা ২ এর-
“(২ক) “ওভার দ্যা টপ (ওটিটি)” অর্থ এমন সকল ধরনের কনটেন্ট, সেবা, পরিষেবা বা অ্যাপ্লিকেশন, যাহা টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক বা ইন্টারনেটের মাধ্যমে প্রান্তিক ব্যবহারকারীর নিকট প্রত্যক্ষভাবে সরবরাহ, সম্প্রচার, প্রবাহন (streaming) বা প্রাপ্তিযোগ্য করা হয়, এবং যাহার জন্য পৃথক টেলিযোগাযোগ অবকাঠামো স্থাপন বা ব্যবহারকারীর প্রান্তে নেটওয়ার্ক সংযোগের মালিকানা প্রয়োজন হয় না;”;
(২খ) “কনটেন্ট” অর্থ এমন কোনো ইলেকট্রনিক রেকর্ড, তথ্য বা উপাত্ত, যাহাতে বা যাহা হইতে ছবি, প্রতিচ্ছবি, লেখা, শব্দ, শব্দচিত্র, ভিডিও, সংকেত বা অন্যান্য দৃশ্যমান, শ্রবণযোগ্য অথবা উভয়প্রকার উপাদান সৃষ্ট, প্রদর্শিত, সংরক্ষিত, প্রেরিত, গৃহীত বা প্রাপ্তিযোগ্য হয়; এবং যাহা কোন ইলেকট্রনিক বিন্যাস, মাইক্রোফিল্ম, কম্পিউটারে প্রস্তুতকৃত মাইক্রোফিচ, সার্ভার বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক মাধ্যমের দ্বারা ধারণ বা পরিবেশিত হয়;”;
“(খ) বেতার যন্ত্রপাতির ব্যবহার বা কার্যক্ষমতাকে উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস বা বাধাগ্রস্ত অথবা উক্ত ব্যবহারে বা কার্যক্ষমতায় বিচ্যুতি ঘটায়;”;
“(৮ক) “গোয়েন্দা সংস্থা” অর্থ এমন কোনো সত্তা, যাহা কোনো আইন বা আইনে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে প্রতিষ্ঠিত এবং যা আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, জাতীয় নিরাপত্তা ও জননিরাপত্তার স্বার্থে তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ ও ব্যবহার বা প্রয়োগ কার্যক্রমের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত;”;
“(১০ক) “জাতীয় পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ লাইসেন্স” অর্থ আন্তর্জাতিক সংযোগ বিষয়ক, জাতীয় অবকাঠামো ও সংযোগ বিষয়ক নন-টেরেস্ট্রিয়াল নেটওয়ার্ক বিষয়ক, তরঙ্গ বরাদ্দের সহিত সম্পর্কিত এক্সেস নেটওয়ার্ক সেবা প্রদানকারী বিষয়ক লাইসেন্স এবং জাতীয় পর্যায়ে সেবা প্রদানকারী সেলুলার মোবাইল নেটওয়ার্ক বিষয়ক লাইসেন্স;”;
“(১১) “টেলিযোগাযোগ” অর্থ কোন কথা (speech), শব্দ (sound), চিহ্ন, সংকেত, লেখা, দৃশ্যমান প্রতিকৃতি বা অন্যবিধ যে কোন ধরনের বুদ্ধিবৃত্তিক অভিব্যক্তিকে তড়িৎ, চুম্বক-শক্তি, তড়িৎ চুম্বকীয় শক্তি, তড়িৎ-রাসায়নিক বা তড়িৎযান্ত্রিক শক্তি ইত্যাদি ব্যবহারক্রমে তার, নল, বেতার অপটিক্যাল বা অন্য কোন তড়িৎ-চুম্বকীয় বা তড়িৎ-রাসায়নিক বা তড়িৎ-যান্ত্রিক বা কৃত্রিম উপগ্রহ যোগাযোগ ব্যবস্থা ইত্যাদির মাধ্যমে প্রেরণ ও গ্রহণ;”;
“(১৫) “টেলিযোগাযোগ সেবা” অর্থ নিম্নবর্ণিত যে কোন সেবা:-
“(২৩ক) “বাংলাদেশের ভূখণ্ড” অর্থ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ২ অনুচ্ছেদে সংজ্ঞায়িত প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রীয় সীমানা;”;
“(২৬ক) “মধ্যস্থ সেবা প্রদানকারী (Intermediary)” অর্থ এমন কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা প্ল্যাটফর্ম, যাহা টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক, ইন্টারনেট বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক যোগাযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমে অন্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ হইতে ইলেকট্রনিক রেকর্ড, তথ্য, সংকেত, ডেটা বা যোগাযোগ গ্রহণ, প্রেরণ, সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াকরণ, পরিবেশন বা হোস্টিং করিয়া বাংলাদেশে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যেকোনো ধরনের সেবা প্রদান করে, কিংবা যাহার ব্যবহারকারী, গ্রাহক বা সংযোগ বাংলাদেশে অবস্থিত; এবং অনলাইনে ভিডিও, স্ট্রিমিং, টেলিভিশন, সম্প্রচার, পেমেন্ট, কনটেন্ট বা তথ্যভিত্তিক সেবা প্রদানকারীসহ অনুরূপ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মসমূহও এই সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত হইবে;”;
“(২৭) “মন্ত্রী” অর্থ সরকারের ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিষয়ক মন্ত্রণালয় বা বিভাগের দায়িত্বে নিয়োজিত মন্ত্রী বা সমমর্যাদা সম্পন্ন ব্যক্তি;”।
“(২৯ক) “শৃঙ্খলাবদ্ধ বাহিনী (disciplined force)” অর্থ
(২৯খ) “সনদ” অর্থ এই আইনের অধীন কমিশন কর্তৃক অনুমোদিত বা চিহ্নিত যে কোনো টেলিযোগাযোগ সেবা, সেবা ব্যবস্থাপনা, পরিচালনা, নিয়ন্ত্রণ অথবা তদারকি কার্য সম্পাদনের উদ্দেশ্যে কমিশন কর্তৃক প্রদত্ত অনুমোদনপত্র, নিবন্ধনপত্র, তালিকাভুক্তি সনদ অথবা যেকোনো নাম বা আকারে ইস্যুকৃত প্রত্যয়নপত্র; এবং উক্ত সকল প্রকার প্রত্যয়নপত্র, যেই নামে অভিহিত হউক না কেন, এই আইনের বিধান অনুযায়ী বৈধ অনুমোদন হিসেবে গণ্য হইবে;”;
“(৩১ক) “স্পেকট্রাম” অর্থ তারবিহীন যোগাযোগ, সম্প্রচার, তথ্য পরিবহন, ন্যাভিগেশন এবং অন্যান্য তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গভিত্তিক প্রযুক্তির জন্য ব্যবহৃত বা বরাদ্দযোগ্য রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি ব্যান্ডসমূহ, যাহা জাতীয় সম্পদ হিসাবে বিবেচিত হইবে;
(৩১খ) “স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা কমিটি” অর্থ ধারা ৩২ক এর অধীন গঠিত কমিটি;”;
Section ৪. ২০০১ সনের ১৮ নং আইনের ধারা ৩ এর সংশোধন
উক্ত আইনের ধারা ৩ এর-
“(১) এই আইন সমগ্র বাংলাদেশে এবং নিম্নবর্ণিত ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে, যথা:-
তবে শর্ত থাকে যে, বিদেশী স্থলযান, জলযান, আকাশযান বা কৃত্রিম উপগ্রহের ব্যাপারে বাংলাদেশ কোন আন্তর্জাতিক চুক্তিতে বা অনুরূপ ব্যবস্থায় পক্ষভুক্ত থাকিলে উক্ত চুক্তি বা ব্যবস্থা সাপেক্ষে এই আইন প্রযোজ্য হইবে;
(১ক) যদি কোন ব্যক্তি বাংলাদেশের বাহিরে এই আইনের অধীন কোন অপরাধ করেন যাহা বাংলাদেশে করিলে এই আইনের অধীন দণ্ডযোগ্য হইত, তাহা হইলে এই আইন এইরূপে প্রযোজ্য হইবে যেন অপরাধটি তিনি বাংলাদেশেই করিয়াছেন।
(১খ) যদি কোন ব্যক্তি বাংলাদেশের বাহির হইতে, বা বেতার ব্যবস্থা বা যন্ত্রপাতির সাহায্যে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে এই আইনের অধীন কোন অপরাধ করেন, তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে এই আইনের বিধানাবলি এইরূপে প্রযোজ্য হইবে যেন উক্ত অপরাধের সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া বাংলাদেশেই সংঘটিত হইয়াছিল।
(১গ) যদি কোন ব্যক্তি বাংলাদেশের অভ্যন্তর হইতে বাংলাদেশের বাহিরে এই আইনের অধীন কোন অপরাধ করেন, তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে এই আইনের বিধানাবলি এইরূপে প্রযোজ্য হইবে যেন উক্ত অপরাধের সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া বাংলাদেশেই সংঘটিত হইয়াছিল।
(১ঘ) কোনো ট্রাইব্যুনাল বা আদালত যেকোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে, বা কোনো সংগঠনকে, অথবা যে কোনো শৃঙ্খলাবদ্ধ বাহিনী বা গোয়েন্দা সংস্থার কোনো সদস্যকে, যিনি তার জাতীয়তা নির্বিশেষে বাংলাদেশের ভূখণ্ডের ভেতরে বা বাইরে এই আইনের দ্বারা বর্ণিত অপরাধ সংঘটন করেন বা করিয়াছেন, এই আইনের বিধানের অধীন যেকোনো অপরাধের জন্য বিচার ও দণ্ড দেওয়ার ক্ষমতা রাখিবে।
(১ঙ) এই আইনের বিধান অনুযায়ী, যেকোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী, অথবা শৃঙ্খলাবদ্ধ বাহিনী বা গোয়েন্দা সংস্থার কোনো সদস্য এই আইনের অধিক্ষেত্রভুক্ত কোনো অপরাধের জন্য ফৌজদারি দায়ে দায়ী ও দণ্ডনীয় হইবেন।”;
“(৩) সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপিত আদেশ দ্বারা, উহাতে উল্লিখিত যে কোনো প্রজন্মের টেলিযোগাযোগ যন্ত্রপাতি, বা বেতার (radio) যন্ত্রপাতি বা IOT ( internet of things) যন্ত্রপাতি, বা স্যাটেলাইট যোগাযোগ যন্ত্রপাতি, বা মেশিন টু মেশিন যন্ত্রপাতি বা মেশিন টু হিউম্যান যন্ত্রপাতি বা টেলিযোগাযোগ সংযোগ সম্পর্কিত কোনো বিশেষ সেবাকে এই আইন বা তদধীন প্রণীত প্রবিধানের মাধ্যমে কার্যকর করিতে পারিবে কিংবা অব্যাহতি প্রদান করিতে পারিবে, তবে উহার প্রয়োগ কার্যকারণ দর্শানো পূর্বক আনুপাতিক হারে সম্পাদন করিতে হইবে এবং তাহা এই আইনের ও তদধীন প্রণীত বিধি ও প্রবিধানের বিধানাবলীর সহিত সামঞ্জস্যপূর্ণ হইতে হইবে।”।
Section ৫. ২০০১ সনের ১৮ নং আইনের ধারা ৬ এর সংশোধন
উক্ত আইনের ধারা ৬ এর-
Section ৬. ২০০১ সনের ১৮ নং আইনের ধারা ৯ এর সংশোধন
উক্ত আইনের ধারা ৯ এর উপ-ধারা (২) এর পর নিম্নরূপ উপ-ধারা (৩) সন্নিবেশিত হইবে, যথা:-
“(৩) কমিশনার নিয়োগের জন্য বাছাই কমিটির গঠন ও কার্যপদ্ধতি, কমিশনারগণের শিক্ষাগত ও অন্যান্য যোগ্যতা, বাছাই পদ্ধতি, পদের শূন্যতা পূরণের সময়সীমা, কমিশনারদের কর্মবণ্টন ও জবাবদিহিতা ইত্যাদি বিষয় বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে।”।
Section ৭. ২০০১ সনের ১৮ নং আইনের ধারা ১০ এর সংশোধন
উক্ত আইনের ধারা ১০ এর উপ-ধারা (১) এর-
“(ক) দেশীয় ও আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ প্রযুক্তি ও নীতিমালা বিষয়ে অন্ততঃ ১৫ বৎসরের বাস্তব অভজ্ঞতাসম্পন্ন, দক্ষ প্রকৌশলী;
ব্যাখ্যা।– এই দফায় দক্ষ প্রকৌশলী অর্থ টেলিযোগাযোগ প্রযুক্তির চতুর্থ, পঞ্চম বা তৎপরবর্তী প্রজন্মের টেলিযোগাযোগ প্রযুক্তিসহ, ইন্টারনেট কর্পোরেশন ফর অ্যাসাইন্ড নেমস অ্যান্ড নাম্বারস (ICANN), থ্রিজিপিপি (3rd Generation Partnership Project) স্পেসিফিকেশন এবং আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়নের প্রযুক্তি-সংশ্লিষ্ট নীতিমালা ও কারিগরি স্পেসিফিকেশন সম্পর্কে সরকারি বা বেসরকারি খাতে প্রমাণিত কর্ম-অভিজ্ঞতাসম্পন্ন প্রকৌশলী;”;
“(গ) উদীয়মান প্রযুক্তি বা টেলিযোগাযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যবসা বা অর্থ (finance) বা অর্থনীতি ব্যবস্থাপনা বা প্রশাসন শীর্ষ নির্বাহী হিসাবে অন্ততঃ ১৫ (পনের) বৎসরের বাস্তব অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তি ৷”।
Section ৮. ২০০১ সনের ১৮ নং আইনের ধারা ২০ এর সংশোধন
উক্ত আইনের ধারা ২০ এর উপ-ধারা (২) এর পর নিম্নরূপ উপ-ধারা (৩) সন্নিবেশিত হইবে, যথা:-
“(৩) কোনো কমিশনার বা কমিশনের কোনো কর্মচারী বা পরামর্শক কমিশনের চাকরি সম্পন্ন করিবার অন্তত ৩ (তিন) বৎসর সময়কালের মধ্যে লাইসেন্সপ্রাপ্ত কোনো প্রতিষ্ঠানে যোগদান করিতে পারিবেন না।”।
Section ৯. ২০০১ সনের ১৮ নং আইনের ধারা ২১ এর সংশোধন
উক্ত আইনের ধারা ২১ এর-
“(৩ক) কমিশন এই আইনের ধারা ২৪ এর অধীন ফি ও চার্জ ব্যতীত অপরাপর ফি, চার্জ ও অন্যান্য রাজস্ব বাবদ প্রাপ্ত সকল অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে প্রজাতন্ত্রের সংযুক্ত তহবিলে বা ক্ষেত্রমত প্রজাতন্ত্রের সরকারি হিসাবে জমা প্রদান করিবে, এবং উক্ত অর্থ কমিশনের নিজস্ব তহবিলে সংরক্ষিত থাকিবে না।”।
Section ১০. ২০০১ সনের ১৮ নং আইনের ধারা ২১ক এর সংশোধন
উক্ত আইনের ধারা ২১ক এর-
“(১) কমিশন টেলিযোগাযোগ সুবিধাবঞ্চিত এলাকায় বা সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর মধ্যে সর্বজনীন টেলিযোগাযোগ সুবিধা বিস্তৃতকরণের লক্ষ্যে, বা টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি সম্প্রসারণের প্রয়োজনে এবং ডিজিটাল বৈষম্য হ্রাসে “সামাজিক দায়বদ্ধতা তহবিল (Social Obligation Fund)” নামে একটি তহবিল গঠন করিবে।”;
“(২) নিম্নবর্ণিত উৎস হইতে সামাজিক দায়বদ্ধতা তহবিলে অর্থ জমা হইবে, যথা:-
“(৩ক) সামাজিক দায়বদ্ধতা তহবিলের কার্যকর ও স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনার নিমিত্ত একটি তহবিল ব্যবস্থাপনা কমিটি থাকিবে এবং মন্ত্রী উহার প্রধান হইবেন;”
(৩খ) সামাজিক দায়বদ্ধতা তহবিল ব্যবস্থাপনা কমিটি নিম্নবর্ণিত দায়িত্ব পালন করিবে, যথা:-
(৩গ) সামাজিক দায়বদ্ধতা তহবিল ব্যবস্থাপনা কমিটিকে সহায়তার জন্য সরকার একটি প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটি গঠন করিবে যাহা নিম্নবর্ণিত দায়িত্ব পালন করিবে, যথা:-
Section ১১. ২০০১ সনের ১৮ নং আইনের ধারা ২৪ এর সংশোধন
উক্ত আইনের ধারা ২৪ এর-
“(খ) সরকারের অনুমোদনক্রমে প্রবিধান দ্বারা বা প্রবিধানের অবর্তমানে কমিশনের নির্বাহী আদেশ দ্বারা উক্ত চার্জ এবং ফিসের হার, বা উহা গণনার পদ্ধতি নির্ধারণ ৷”;
“নোট: যেকোনো লাইসেন্স বা পারমিটের আবেদনের জন্য আবেদন ফি হিসাবে প্রাপ্ত অর্থ কমিশনের নিজস্ব তহবিলে জমা হইবে, তবে আবেদন মঞ্জুর হইলে নির্ধারিত লাইসেন্স বা পারমিট ফি তাৎক্ষণিকভাবে প্রজাতন্ত্রের সংযুক্ত তহবিলে জমা হইবে।”।
Section ১২. ২০০১ সনের ১৮ নং আইনের ধারা ২৫ এর প্রতিস্থাপন
উক্ত আইনের ধারা ২৫ এর পরিবর্তে নিম্নরূপ ধারা ২৫ প্রতিস্থাপিত হইবে, যথা:-
“২৫৷ কর অব্যাহতি।- কমিশন উহার কোন সম্পদ ধারণ বা আয় বা প্রাপ্তির জন্য কোন প্রকার আয়কর প্রদানের জন্য দায়ী হইবে না এবং উক্ত কর প্রদান হইতে কমিশনকে এতদ্বারা অব্যাহতি প্রদান করা হইল ৷”।
Section ১৩. ২০০১ সনের ১৮ নং আইনের ধারা ২৬ এর সংশোধন
উক্ত আইনের ধারা ২৬ এর উপ-ধারা (২) এর পর নিম্নরূপ উপ-ধারা (৩) সন্নিবেশিত হইবে, যথা:-
“(৩) উপ-ধারা (১) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কমিশন উহার প্রাপ্য সকল ফিস, চার্জ, প্রশাসনিক জরিমানা এবং অন্যবিধ সকল পাওনা আদায়ের জন্য কমিশন কর্তৃক নির্ধারিত সময় অতিবাহিত হইবার পর সংশ্লিষ্ট পরিচালনাকারী বা ব্যক্তির আর্থিক তথ্য তলব ও ব্যাংক হিসাব জব্দ করতঃ আদায়ের নিমিত্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের নিকট অনুরোধ করিতে পারিবে এবং উক্তরূপ অনুরোধ প্রাপ্তির পর বাংলাদেশ ব্যাংক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশনা প্রদান করিতে পারিবে:
তবে শর্ত থাকে যে, সরকারি, আধা-সরকারি, সায়ত্তশাসিত বা সরকারি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে হইবে।”।
Section ১৪. ২০০১ সনের ১৮ নং আইনের ধারা ২৮ এর সংশোধন
উক্ত আইনের ধারা ২৮ এ উল্লিখিত “১২০ (একশত বিশ)” সংখ্যা, বন্ধনী ও শব্দগুলির পরিবর্তে “৯০ (নব্বই)” সংখ্যা, বন্ধনী ও শব্দ প্রতিস্থাপিত হইবে।
Section ১৫. ২০০১ সনের ১৮ নং আইনের ধারা ২৯ এর সংশোধন
উক্ত আইনের ধারা ২৯ এর-
“(চ) যে কোন স্বীকৃত ডিজিটাল ডিভাইড (ডিজিটাল বৈষম্য) দূরীকরণে ভূমিকা পালন।”।
Section ১৬. ২০০১ সনের ১৮ নং আইনের ধারা ৩০ এর সংশোধন
উক্ত আইনের ধারা ৩০ এর-
“(ঞ) ইন্টারমিডিয়ারি বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইন্টারমিডিয়ারি এর বিষয়ে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ, এবং এতদসংক্রান্ত নির্দেশ বা নির্দেশনা প্রদান ও গাইডলাইন বা প্রবিধানমালা প্রণয়ন;
“(ছ) সরকারের অনুমোদনক্রমে টেলিযোগাযোগ সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক বা আঞ্চলিক সম্মেলনে বা বিদেশী সংস্থার সহিত অনুষ্ঠিত সভায় বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধিত্ব করা এবং আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক টেলিযোগাযোগ সংস্থা সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে সরকারকে কারিগরি সহায়তা প্রদান;”।
“(থ) জনস্বার্থে সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াদির উপর নিয়মিত জনসংযোগ ও প্রতি ৪ (চার) মাসে অন্তত একটি গণশুনানীর ব্যবস্থা করা।”।
Section ১৭. ২০০১ সনের ১৮ নং আইনের ধারা ৩১ এর প্রতিস্থাপন
উক্ত আইনের ধারা ৩১ এর পরিবর্তে নিম্নরূপ ধারা ৩১ প্রতিস্থাপিত হইবে, যথা:-
“৩১। কমিশনের ক্ষমতা।- (১) ধারা ৩০ এ বর্ণিত কমিশনের দায়িত্ব ফলপ্রসূভাবে সম্পাদনের জন্য কমিশন, এই আইন, বিধি ও প্রবিধানের বিধানাবলী সাপেক্ষে, প্রয়োজনীয় সকল ক্ষমতা প্রয়োগ করিতে পারিবে।
(২) উপ-ধারা (১) এ বর্ণিত সামগ্রিক ক্ষমতার আওতায় নিম্নবর্ণিত সুনির্দিষ্ট ক্ষমতাগুলিও অন্তর্ভুক্ত হইবে, যথা:-
Section ১৮. ২০০১ সনের ১৮ নং আইনের নূতন ধারা ৩২ক এর সন্নিবেশ
উক্ত আইনের ধারা ৩২ এর পর নিম্নরূপ নূতন ধারা ৩২ক সন্নিবেশিত হইবে, যথা:-
“৩২ক। কমিশনের জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা।- (১) কমিশনের যাবতীয় কার্যক্রম, সিদ্ধান্ত, খরচ ও নির্দেশাবলী আইনানুগ, স্বচ্ছ এবং জবাবদিহিমূলকভাবে পরিচালিত হইবে।
(২) কমিশনের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও নীতিমালা গ্রহণের পূর্বে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামত গ্রহণ করা আবশ্যক হইবে এবং গৃহীত সিদ্ধান্তসমূহ কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করিতে হইবে, তবে জাতীয় নিরাপত্তা বা গোপনীয়তার কারণে ইহার ব্যতিক্রম করা যাইবে এবং এইরূপ ক্ষেত্রে যুক্তিসঙ্গত ব্যাখ্যা থাকিতে হইবে।
(৩) ধারা ২৮ এ বর্ণিত কমিশনের প্রতিবেদনে ট্যারিফ নির্ধারণ ও সংশোধন, লাইসেন্স ইস্যু সহ এই সংক্রান্ত যাবতীয় ব্যবস্থাপনা, জরিমানা আরোপ, গ্রাহক অভিযোগ নিষ্পত্তি এবং অন্যান্য কার্যক্রমের বিস্তারিত বিবরণ অন্তর্ভুক্ত থাকিবে।
(৪) নূতন সেবার মূল্য, ফি বা ট্যারিফ নির্ধারণ এবং পুরানো সেবার জন্য সরকারঘোষিত মূল্যস্ফীতির অতিরিক্ত মূল্য, ফি বা ট্যারিফ নির্ধারণে ‘স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা কমিটি’র সুপারিশক্রমে কমিশনকে ৮৭ ধারায় বর্ণিত উপায়ে গণশুনানী আয়োজন করিতে হইবে এবং উক্ত কমিটি এই প্রক্রিয়াটি পরিবীক্ষণ করিবে।
(৫) কমিশনের অভ্যন্তরীণ জবাবদিহিতা নিশ্চিত করিবার জন্য সরকার একটি ‘স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা কমিটি’ গঠন করিবে, যাহা কমিশনের কার্যক্রম বিষয়ক অভিযোগ এবং গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তসমূহ পর্যালোচনাপূর্বক সুপারিশ কমিশন ও সরকারের নিকট প্রদান করিবে, এবং কমিশন তাহার সভার কার্যবিবরণী কমিটির নিকট পর্যালোচনা ও জবাবদিহিতার জন্যে উপস্থাপন করিবে।
(৬) কমিশনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া, লাইসেন্স প্রদান, জরিমানা আরোপ বা অভিযোগ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে চিঠি, ইমেইল, রেকর্ড, কারণ ও যুক্তি সংরক্ষণ এবং লগ রাখা বাধ্যতামূলক হইবে, যাহা প্রয়োজনে আদালত বা নিরীক্ষা কর্তৃপক্ষের নিকট উপস্থাপনযোগ্য হইবে।
(৭) ‘স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা কমিটি ’ নিম্নরূপ সদস্য সমন্বয়ে গঠিত হইবে, যথা:-
(৮) ‘স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা কমিটি’ প্রতি ০৩ (তিন) মাসে ন্যূনতম একটি সভা করিবে এবং উহার যে কোনো সিদ্ধান্ত সভায় উপস্থিত সদস্যদের সংখ্যাগরিষ্ঠের ভোটে গৃহীত হইবে।”।
Section ১৯. ২০০১ সনের ১৮ নং আইনের ধারা ৩৩ এর সংশোধন
উক্ত আইনের ধারা ৩৩ এর-
“(১) মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব হইবে টেলিযোগাযোগের ক্ষেত্রে সাধারণ নীতিমালা নির্ধারণ এবং বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক মানের টেলিযোগাযোগ সেবা সম্প্রসারণ এবং এই খাতে ক্রমবর্ধমান উন্নয়ন সাধন।”;
“(খখ) স্থল, রেল ও নৌযোগাযোগ পথ, দুর্গম অঞ্চল ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রবণ এলাকাসহ দেশের সর্বত্র মৌলিক টেলিযোগাযোগ সেবা ও অবকাঠামোর অন্তর্ভুক্তিমূলক সম্প্রসারণের জন্য (access to basic connectivity for all) দায়িত্বপালন এবং আন্তঃ মন্ত্রণালয় ও আন্তর্জাতিক সমন্বয় সাধন;”।
“(গ) একটি কার্যকর ও আধুনিক জাতীয় টেলিযোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকারি ও বেসরকারি খাতের পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে উক্ত বিনিয়োগে উৎসাহদান;
“(৩) টেলিযোগাযোগ, ডাক ও তথ্যপ্রযুক্তি সংক্রান্ত নীতি-নির্ধারণ, সমন্বয়, তদারকি ও বাস্তবায়নের জন্য মন্ত্রণালয় নিম্নবর্ণিত দায়িত্বসমূহ পালন করিবে, যথা:-
Section ২০. ২০০১ সনের ১৮ নং আইনের ধারা ৩৪ এর প্রতিস্থাপন
উক্ত আইনের ধারা ৩৪ এর পরিবর্তে নিম্নরূপ ধারা ৩৪ প্রতিস্থাপিত হইবে, যথা:-
“৩৪। সরকারের ক্ষমতা।–(১) এই আইনের আওতায় সরকার-
(২) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, টেলিযোগাযোগ খাতে সরকারের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের অধীন সাহায্যকারী হিসাবে টেলিযোগাযোগ অধিদপ্তর দায়িত্ব পালন করিবে।”।
Section ২১. ২০০১ সনের ১৮ নং আইনের ধারা ৩৫ এর সংশোধন
উক্ত আইনের ধারা ৩৫ এর-
“(ঘ) টেলিযোগাযোগ সরঞ্জাম বা যন্ত্রপাতি আমদানি বা রপ্তানি করিবেন না বা দখলে রাখিবেন না বা ক্রয়-বিক্রয়, উৎপাদন বা বাজারজাত, প্রদর্শন ইত্যাদি করিবেন না।”;
“(৪) এই আইনে যাহা কিছু থাকুক না কেনো, সকল নাগরিককে বৈষম্যহীনভাবে টেলিযোগাযোগ সংযোগ ও সেবা প্রদান, এবং অর্থনীতির জন্য প্রয়োজনীয় তরঙ্গ উন্মুক্ত করিবার উদ্দেশ্যে আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়ন (ITU) বা ওয়ার্ল্ড রেডিও কমিউনিকেশন কনফারেন্স (WRC) কর্তৃক ঘোষিত ইন্টারন্যাশনাল মোবাইল টেলিকমিউনিকেশন স্পেকট্রাম (IMT) তরঙ্গ সর্বদা বাণিজ্যিক ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত রাখিতে হইবে এবং ইতোপূর্বে কোনো কারণে IMT তরঙ্গ WRC অনুমোদিত নয়, এমন কোনো কার্যে বরাদ্দ দেওয়া হইলে তাহা, কমিশন যথাসম্ভব দ্রুততার সহিত অবমুক্ত করিবার বাধ্যবাধকতা পালন করিবে এবং এই ধারার প্রয়োগের ক্ষেত্রে কমিশনকে অবহিতকরণ করিতে হইবে।
নোট:- আন্তর্জাতিক মোবাইল টেলিযোগাযোগ (IMT) তরঙ্গ বরাদ্দের ক্ষেত্রে আঞ্চলিক সামঞ্জস্য বজায় রাখা আবশ্যক। তদুপরি, 3rd Generation Partnership Project (3GPP) কর্তৃক প্রকাশিত সর্বশেষ প্রযুক্তিগত স্পেসিফিকেশন (TS 36.101 বা হালনাগাদকৃত সর্বশেষ ভার্সন) অনুসারে বিভিন্ন জেনারেশনের তরঙ্গ ব্যান্ড (4G, 5G, 6G ইত্যাদি) ও তাহার সহায়ক ব্যান্ডউইথ নির্ধারিত রহিয়াছে, যাহা আন্তর্জাতিকভাবে IMT তরঙ্গ ব্যবহারের ক্ষেত্রে নির্দেশক মানদণ্ড (reference framework) হিসাবে বিবেচিত হইবে।”।
Section ২২. ২০০১ সনের ১৮ নং আইনের ধারা ৩৬ এর সংশোধন
উক্ত আইনের ধারা ৩৬ এর-
“(১) ধারা ৩৫(১) এর দফা (ক) হইতে (গ) তে উল্লিখিত কার্যাবলির জন্য নিম্নবর্ণিত বিধানাবলি সাপেক্ষে টেলিযোগাযোগ খাতে লাইসেন্স প্রদানের এখতিয়ার কমিশনের; এবং এইরূপ লাইসেন্সের জন্য কমিশনের নিকট শর্তপূরণসাপেক্ষে সুনির্দিষ্ট আবেদন করিতে হইবে এবং কমিশন, এই আইনের বিধান সাপেক্ষে, টেলিযোগাযোগ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য আঞ্চলিক পর্যায়ে লাইসেন্স, পারমিট বা নিবন্ধনপত্র প্রদান করিতে পারিবে, যথা:-
তবে শর্ত থাকে যে, জাতীয় পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ লাইসেন্সের সর্বোচ্চ সংখ্যা কত হইতে পারে তাহা বাজার কাঠামো, প্রতিযোগিতা, প্রবেশগম্যতা, জাতীয় নিরাপত্তা এবং ডিজিটাল অর্থনীতির স্বার্থ রক্ষার্থে সময় সময় স্বতন্ত্র বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে স্টাডি করিয়া তাহা কমিশন নিরূপণ করিবে এবং এরূপ স্টাডি টেলিযোগাযোগের সর্বশেষ প্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন স্বনামধন্য টেলিযোগাযোগ বিশেষজ্ঞ, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, বিনিয়োগ বিশেষজ্ঞ সমন্বয়ে সম্পাদন করিতে হইবে;
“(অ) আদালত কর্তৃক বা সরকারিভাবে স্বীকৃত মেডিকেল বোর্ড কর্তৃক ঘোষিত অপ্রকৃতস্থ ব্যক্তি হন;”;
“(ঋ) একই ব্যক্তি বা তাহার পরিবারের কোনও সদস্যের নামে বা বেনামে সচল লাইসেন্স থাকে এবং একই ব্যক্তি বা পরিবার একাধিক লাইসেন্সের বেনেফিশিয়ারি হন;
“(৮) কমিশন-
Section ২৩. ২০০১ সনের ১৮ নং আইনের ধারা ৩৭ এর প্রতিস্থাপন
উক্ত আইনের ধারা ৩৭ এর পরিবর্তে নিম্নরূপ ধারা ৩৭ প্রতিস্থাপিত হইবে, যথা:-
“৩৭। লাইসেন্সের শর্তাবলী।- (১) এই আইনের বিধান অনুযায়ী অনুমোদন ব্যতিরেকে, কোন লাইসেন্স বা উহার অধীন অর্জিত স্বত্ব সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে হস্তান্তরযোগ্য হইবে না এবং এইরূপ হস্তান্তর হইবে ফলবিহীন (void)।
(২) এই আইন, বিধি বা প্রবিধানের সহিত সঙ্গতিপূর্ণ যেকোনো শর্ত লাইসেন্সে উল্লেখ থাকিবে এবং কোনো নির্দিষ্ট পরিস্থিতি অনুসারে অতিরিক্ত শর্ত উহাতে সংযোজন করা যাইবে।
(৩) উপ-ধারা (২) এ বর্ণিত ক্ষমতার সামগ্রিকতার আওতায় লাইসেন্সে নিম্নবর্ণিত যে কোন বা সকল বিষয়ে যথাযথ শর্ত অন্তর্ভুক্ত থাকিতে পারিবে, যথা:-
তবে শর্ত থাকে যে, উক্ত পূর্বানুমতি গ্রহণের ক্ষেত্রে কমিশন বিবেচনা করিবে যে, প্রস্তাবিত পরিবর্তন বা একীভূতকরণের ফলে যে ব্যক্তি, কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠান লাইসেন্সের নিয়ন্ত্রণ লাভ করিবেন তিনি বা উহা লাইসেন্স পাওয়ার যোগ্য কি না এবং অনুমতি প্রদানের ফলে লাইসেন্সকৃত কাজ-কর্ম ব্যাহত হইবে কি না;
Section ২৪. ২০০১ সনের ১৮ নং আইনের ধারা ৩৮ এর প্রতিস্থাপন
উক্ত আইনের ধারা ৩৮ এর পরিবর্তে নিম্নরূপ ধারা ৩৮ প্রতিস্থাপিত হইবে, যথা:-
“৩৮। লাইসেন্স নবায়ন।- জাতীয় পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ লাইসেন্স ব্যতীত এই আইনের অধীন ইস্যুকৃত লাইসেন্স প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে ও ফিস বা অন্যবিধ অর্থ প্রদান সাপেক্ষে নবায়নযোগ্য হইবে, এবং প্রবিধানের অবর্তমানে কমিশন প্রশাসনিক আদেশ দ্বারা ঐ সকল বিষয় নির্ধারণ করিতে পারিবে।”।
Section ২৫. ২০০১ সনের ১৮ নং আইনের নূতন ধারা ৩৮ক এর সন্নিবেশ
উক্ত আইনের ধারা ৩৮ এর পর নিম্নরূপ নূতন ধারা ৩৮ক সন্নিবেশিত হইবে, যথা:-
“৩৮ক। লাইসেন্স নবায়নে বিবেচ্য বিষয়াদি।-(১) লাইসেন্স নবায়ন কমিশন কর্তৃক নির্ধারিত মূল্যায়ন ও মানদণ্ড, অনুসারে সম্পাদিত হইবে, এবং লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠানের কার্যসম্পাদন, নিয়ম-নীতি প্রতিপালন, বিনিয়োগ, সেবা মান ও গ্রাহক সন্তুষ্টিসহ অন্যান্য প্রাসঙ্গিক দিক বিবেচনায় লইয়া কমিশন ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে নবায়ন অনুমোদন বা শর্তসাপেক্ষে নবায়ন করিবে।
(২) মানদণ্ড সম্পর্কিত বিস্তারিত পদ্ধতি, নাম্বারিং পদ্ধতি ইত্যাদি প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত হইবে।”।
Section ২৬. ২০০১ সনের ১৮ নং আইনের ধারা ৩৯ এর প্রতিস্থাপন
উক্ত আইনের ধারা ৩৯ এর পরিবর্তে নিম্নরূপ ধারা ৩৯ প্রতিস্থাপিত হইবে, যথা:-
“৩৯। লাইসেন্সের শর্তাবলি সংশোধন।- (১) জাতীয় পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ লাইসেন্স ব্যতীত কমিশন এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে তদধীন ইস্যুকৃত যে কোন লাইসেন্সের যে কোন শর্ত এই আইন বা প্রবিধান অনুসারে পরিবর্তন, পরিবর্ধন, প্রতিস্থাপন, সংযোজন বা বাতিলকরণের মাধ্যমে সংশোধন করিতে পারিবে।
(২) কমিশন স্বীয় উদ্যোগে লাইসেন্সে কোন শর্ত সংশোধনের নির্দেশ দিলে প্রস্তাবিত সংশোধনের কারণ উল্লেখ করিয়া লাইসেন্সধারীকে তৎসম্পর্কে তাহার বক্তব্য অনধিক ১৫ (পনের) দিনের মধ্যে লিখিতভাবে উপস্থাপনের সুযোগ দিয়া একটি নোটিশ প্রদান করিবে এবং তৎপ্রেক্ষিতে কোন বক্তব্য উপস্থাপন করা হইলে কমিশন তাহা বিবেচনাক্রমে বিষয়টি সম্পর্কে অনধিক ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিবে।
(৩) কমিশন কোন আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তিসংগত মনে করিলে লাইসেন্সের কোন শর্ত সংশোধন করিতে পারিবে।
(৪) জাতীয় পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ লাইসেন্সের ক্ষেত্রে সরকারের পূর্বানুমোদন গ্রহণ করিতে হইবে।
(৫) প্রযুক্তিগত ও বাজার চাহিদা এবং অপরাপর মন্ত্রণালয় বা বিভাগ বা কর্তৃপক্ষের পরামর্শ ও চাহিদা আমলে নিয়া সরকার কমিশনের পরামর্শক্রমে লাইসেন্সের শর্তাবলী সংশোধন করিতে পারিবে।”।
Section ২৭. ২০০১ সনের ১৮ নং আইনের ধারা ৪০ এর প্রতিস্থাপন
উক্ত আইনের ধারা ৪০ এর পরিবর্তে নিম্নরূপ ধারা ৪০ প্রতিস্থাপিত হইবে, যথা:-
“৪০। ব্যবসায়িক ভিত্তিতে টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যবহারে অনুমতিদানের উপর বাধা নিষেধ।- (১) কোন পরিচালনকারী, কমিশন কর্তৃক ইস্যুকৃত পারমিট ব্যতীত, তাহার লাইসেন্সকৃত টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা বা সেবা প্রদানের কোন স্থাপনা, যন্ত্রপাতি বা সুবিধা ব্যবসায়িক ভিত্তিতে বা ফিস বা অন্য কোন ধরনের মূল্য বা সুবিধা প্রাপ্তির বিনিময়ে অন্য কোন ব্যক্তিকে ব্যবহারের অনুমতি বা সুযোগ প্রদান করিবেন না।
(২) উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত অনুমতি লাভের উদ্দেশ্যে, পরিচালনকারী কোন আবেদন করিলে, কমিশন প্রয়োজনীয় অনুসন্ধানের পর যদি সন্তুষ্ট হয় যে, আবেদনকৃত অনুমতি প্রদত্ত হইলে লাইসেন্সকৃত টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা পরিচালনা বা সেবা প্রদানের উপর কোন বিরূপ প্রভাব পড়িবে না তাহা হইলে, কমিশন নির্ধারিত মেয়াদের জন্য একটি পারমিট ইস্যুর মাধ্যমে, উক্ত আবেদন মঞ্জুর করিতে পারিবে এবং সেই ক্ষেত্রে পরিস্থিতি অনুসারে পারমিটে প্রয়োজনীয় শর্তও আরোপ করিতে পারিবে।
(৩) উপ-ধারা (২) এর অধীন ইস্যুকৃত পারমিটে উল্লিখিত শর্ত লংঘিত হইলে কমিশন যে কোন সময় পারমিট বাতিল করিতে পারিবে।
(৪) কোন পরিচালনকারী উপ-ধারা (১) এর বিধান লংঘন করিলে তাহা একটি অপরাধ হইবে এবং তজ্জন্য তিনি -
Section ২৮. ২০০১ সনের ১৮ নং আইনের ধারা ৪১ এর প্রতিস্থাপন
উক্ত আইনের ধারা ৪১ এর পরিবর্তে নিম্নরূপ ধারা ৪১ প্রতিস্থাপিত হইবে, যথা:-
“৪১। লাইসেন্সধারীর দায় সীমিতকরণের ক্ষেত্রে কমিশনের এখতিয়ার।- টেলিযোগাযোগ সেবার ব্যাপারে লাইসেন্সধারী কোন ক্ষেত্রে তাহার নিজস্ব দায় সীমিতকরণের উদ্দেশ্যে কোন শর্ত আরোপ করিলে এবং কমিশন উক্ত শর্ত অযৌক্তিক মনে করিলে তাহা বাতিল করিবার জন্য কমিশন নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবে এবং উক্ত নির্দেশ পালনে লাইসেন্সধারী বাধ্য থাকিবেন।”।
Section ২৯. ২০০১ সনের ১৮ নং আইনের ধারা ৪২ এর সংশোধন
উক্ত আইনের ধারা ৪২ এর উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত “এই ধারার অন্যান্য বিধান সাপেক্ষে,” শব্দগুলির ও কমার পরিবর্তে “এই ধারার অন্যান্য বিধান সাপেক্ষে, সরকার ভিন্নতর সিদ্ধান্ত গ্রহণ না করিলে,” শব্দগুলি ও কমাগুলি প্রতিস্থাপিত হইবে।
Section ৩০. ২০০১ সনের ১৮ নং আইনের ধারা ৪৫ এর সংশোধন
উক্ত আইনের ধারা ৪৫ এর -
Section ৩১. ২০০১ সনের ১৮ নং আইনের ধারা ৪৬ এর প্রতিস্থাপন
উক্ত আইনের ধারা ৪৬ এর পরিবর্তে নিম্নরূপ ধারা ৪৬ প্রতিস্থাপিত হইবে, যথা:-
“৪৬। লাইসেন্স স্থগিতকরণ ও বাতিলকরণ।- (১) জাতীয় পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ লাইসেন্স ব্যতীত কমিশন যে কোন লাইসেন্স স্থগিত বা বাতিল করিতে পারে, যদি যুক্তিসংগত কারণে কমিশন মনে করে যে, লাইসেন্সধারী-
(২) উপ-ধারা (১) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কমিশন জনস্বার্থে, জাতীয় নিরাপত্তা বা নেটওয়ার্ক ব্যবস্থাপনার স্বার্থে প্রয়োজনীয় বিবেচিত হইলে উক্তরূপ লাইসেন্স স্থগিত বা বাতিল করিতে পারিবে।”।
Section ৩২. ২০০১ সনের ১৮ নং আইনের ধারা ৪৭ এর সংশোধন
উক্ত আইনের ধারা ৪৭ এর উপ-ধারা (২) এর দফা (খ) তে উল্লিখিত “অন্ততঃ দুইটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায়” শব্দগুলির পরিবর্তে “অন্ততঃ দুইটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় ও অনলাইন মিডিয়ায় বা কমিশনের ওয়েবসাইটে” শব্দগুলি প্রতিস্থাপিত হইবে।
Section ৩৩. ২০০১ সনের ১৮ নং আইনের ধারা ৪৮ এর প্রতিস্থাপন
উক্ত আইনের ধারা ৪৮ এর পরিবর্তে নিম্নরূপ ধারা ৪৮ প্রতিস্থাপিত হইবে, যথা:-
“৪৮। ট্যারিফ অনুমোদন।- (১) পরিচালনকারী তৎকর্তৃক প্রদেয় সেবা প্রদান শুরু করিবার পূর্বেই উক্ত সেবা বাবদ প্রদেয় সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন হার বিশিষ্ট একটি ট্যারিফ প্রস্তাব কমিশনের নিকট পেশ করিবেন এবং উহা অনুমোদিত না হওয়া পর্যন্ত উক্ত পরিচালনকারী উক্ত সেবা প্রদান বা সেবা বাবদ কোন ধরনের চার্জ আদায় শুরু করিবেন না।
(২) কমিশন বা সরকার ট্যারিফ প্রস্তাবের ভিত্তিতে প্রয়োজনবোধে সর্বনিম্ন হারও নির্ধারণ করিয়া দিতে পারিবে।
(৩) নতুন ট্যারিফ নির্ধারণ এবং বড় ধরনের আর্থিক প্রভাব (২.৫% এর বেশি ফি বা ট্যারিফ বৃদ্ধি বা হ্রাস) বিদ্যমান এমন পরিবর্তনের ক্ষেত্রে কমিশন সরকারের পূর্বানুমোদন গ্রহণ করিবে এবং কমিশন অন্যান্য ছোট পর্যায়ের ট্যারিফ পরিবর্তন এবং মূল্যস্ফীতি সমন্বয় করিবে।
(৪) উপ-ধারা (১) এর অধীন ট্যারিফ পেশ করিবার সময় পরিচালনকারী উক্ত ট্যারিফ নির্ধারণের ভিত্তি সম্পর্কিত তথ্যাদিও সংযুক্ত করিবে।
(৫) পেশকৃত ট্যারিফ অনুমোদন করিলে উহা জনসাধারণের অবগতি ও পরিদর্শনের জন্য কমিশন তৎকর্তৃক নির্ধারিত ফরমে ও পদ্ধতিতে প্রকাশ করিবে এবং প্রয়োজনে অতিরিক্ত তথ্যাদিও উহাতে সন্নিবেশ করিতে পারিবে।
(৬) পরিচালনকারী কর্তৃক ট্যারিফ পেশ করিবার ১৫ (পনের) দিনের মধ্যে এখতিয়ারাধীন ক্ষেত্রে কমিশন–
(৭) সরকারের পূর্বানুমোদন প্রয়োজন এমন ট্যারিফের ক্ষেত্রে কমিশন পর্যালোচনাসহ ১০ (দিনের) দিনের মধ্যে সরকারের নিকট প্রেরণ করিবে।
(৮) কমিশন সকল টেলিযোগাযোগ সেবার ট্যারিফ পলিসি নিয়মিত পর্যালোচনা করিবে এবং প্রয়োজনে গ্রাহক স্বার্থ, সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, মুদ্রাস্ফীতি ও প্রতিযোগিতার অবস্থা বিবেচনা করিয়া সংশোধন করিবে।”।
Section ৩৪. ২০০১ সনের ১৮ নং আইনের ধারা ৪৯ এর সংশোধন
উক্ত আইনের ধারা ৪৯ এর-
“(৪) কমিশন টেলিযোগাযোগ সেবার বিভিন্ন শ্রেণীকরণের ভিত্তিতে, যেমন স্বাস্থ্য সেবা, শিক্ষা সেবা, বা দুর্যোগপ্রবণ এলাকা, বিশেষ হ্রাসকৃত ট্যারিফ অনুমোদন করিতে পারিবে এবং ইন্টারনেটের নৈতিক এবং জনকল্যাণমূলক ব্যবহার নিশ্চিতকল্পে বিশেষ ধরনের সেবা, যা জনকল্যাণের বিপরীত, সেসব ব্যবহারের জন্য বিশেষ ট্যারিফ বা চার্জ প্রযোজ্য করিতে পারিবে।”।
Section ৩৫. ২০০১ সনের ১৮ নং আইনের নূতন ধারা ৫২ক এর সন্নিবেশ
উক্ত আইনের ধারা ৫২ এর পর নিম্নরূপ নূতন ধারা ৫২ক সন্নিবেশিত হইবে, যথা:-
“৫২ক। টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক ও টেলিযোগাযোগ সেবা বা পরিষেবার সুরক্ষা।- (১) কমিশন টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক ব্যবহার করিয়া নিরাপদ ইন্টারনেট সেবা নিশ্চিত করিবার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ এবং বিধি-বিধান বা গাইডলাইন অথবা নির্দেশনা প্রদান করিবে।
(২) টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক এবং টেলিযোগাযোগ সেবা বা পরিষেবার সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করিবার লক্ষ্যে কমিশন টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমে সৃষ্ট, উদ্ভূত, প্রেরিত, গৃহীত অথবা সংরক্ষিত ট্রাফিক বা ইন্টারনেট ডাটা সংগ্রহ ও পর্যালোচনা করিবার কার্যক্রম (for preparing analytics) গ্রহণ করিতে পারিবে বা এতদকার্যক্রম সম্পর্কে টেলিযোগাযোগ সেবা প্রদানকারীকে নির্দেশনা প্রদান করিতে পারিবে।
ব্যাখ্যা।- এই উপ-ধারার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে “ট্রাফিক বা ইন্টারনেট ডাটা” অর্থ টেলিকমিউনিকেশন নেটওয়ার্কে উৎপন্ন, প্রেরিত, প্রাপ্ত বা সংরক্ষিত কোনো ডেটা, টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক সম্পর্কিত ডেটার ধরন রাউটিং, সময়কাল বা সময় সম্পর্কিত ডেটা, ডেটা প্যাকেট, আইপি ইত্যাদি তথ্য।
(৩) কমিশন প্রয়োজনে টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক বা টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা বা ব্যবস্থার যে কোন অংশ যাহার জন্য টেলিযোগাযোগ সেবা বা পরিষেবা ব্যাহত হইতে পারে এবং ইহার ফলে জাতীয় নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক, জাতীয় ঐক্য ও জননিরাপত্তাকে প্রভাবিত করিতে পারে, সেই টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক বা টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্কের অংশকে "গুরুত্বপূর্ণ টেলিযোগাযোগ পরিকাঠামো" হিসাবে ঘোষণা করিতে পারিবে।
(৪) কমিশন টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক বা ব্যবস্থার সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করিবার লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ টেলিযোগাযোগ পরিকাঠামোর মান, নিরাপত্তা অনুশীলন, প্রয়োজনীয় উন্নয়ন এবং পরিচালনা পদ্ধতি বাস্তবায়নের বিষয়ে নির্দেশনা প্রদান করিতে পারিবে।
(৫) কমিশন প্রয়োজনে টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক বা ব্যবস্থার সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করিবার জন্য প্রয়োজনীয় যে কোন মনিটরিং বা সাইবার আক্রমণ প্রতিহতকরণ যন্ত্রপাতি স্থাপন করিবার নির্দেশনা প্রদান করিতে পারিবে।
(৬) অপ্রাপ্তবয়ষ্ক বা শিশুদের ইন্টারনেট ব্যবহার বা ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহারের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত ও হয়রানি রোধকল্পে কমিশন অভিভাবকবৃন্দের তত্ত্বাবধান (প্যারেন্টাল কন্ট্রোল) এর কারিগরি সুযোগ এবং ইহার প্রয়োগ এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে বয়স-ভিত্তিক যাচাই পদ্ধতি নিশ্চিত করিতে পারিবে এবং তদবিষয়ক বিস্তারিত পদ্ধতি বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে।”।
Section ৩৬. ২০০১ সনের ১৮ নং আইনের ধারা ৫৫ এর সংশোধন
উক্ত আইনের ধারা ৫৫ এর-
“(১) কোন ব্যক্তি কমিশন কর্তৃক প্রদত্ত লাইসেন্স বা তরঙ্গ বরাদ্দ ব্যতিরেকে বাংলাদেশের ভূখণ্ডে বা আঞ্চলিক সমুদ্রসীমায় বা উহার উপরস্থ আকাশসীমায় বেতার যোগাযোগের উদ্দেশ্যে কোন বেতার যন্ত্রপাতি স্থাপন, পরিচালনা বা ব্যবহার করিবেন না বা কোন বেতার যন্ত্রপাতিতে কমিশন কর্তৃক বরাদ্দকৃত বেতার ফ্রিকোয়েন্সি ব্যতীত অন্য কোন ফ্রিকোয়েন্সি ব্যবহার করিবেন না।”;
“(৮) এই ধারার অধীন ইস্যুকৃত লাইসেন্স বা বরাদ্দকৃত তরঙ্গ বা ব্যবহারের অধিকার হস্তান্তর যোগ্য নহে:
তবে শর্ত থাকে যে, কমিশনের পূর্বানুমোদন সাপেক্ষে তরঙ্গ বিক্রয় (Trading), শেয়ারিং (Sharing), লিজিং (Leasing) এবং সমর্পণ (Surrender) করা যাইবে, অন্যথায় তাহা ফলবিহীন হইবে।
(৯) তরঙ্গের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করিবার জন্য কমিশন তরঙ্গ ব্যান্ড রি-ফার্ম (Re-Farm) করিতে পারিবে।”।
Section ৩৭. ২০০১ সনের ১৮ নং আইনের ধারা ৫৬ এর সংশোধন
উক্ত আইনের ধারা ৫৬ এর উপ-ধারা (২) এর পরিবর্তে নিম্নরূপ উপ-ধারা (২) প্রতিস্থাপিত হইবে, যথা:-
“(২) কমিশন কর্তৃক নির্ধারিত একজন কমিশনার, অর্থ বিভাগ, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের ন্যূনতম যুগ্মসচিব পদমর্যাদার প্রতিনিধি ও অন্যান্য সদস্য সমন্বয়ে কমিটি গঠিত হইবে এবং কমিশনার উক্ত কমিটির সভাপতি হইবেন।”।
Section ৩৮. ২০০১ সনের ১৮ নং আইনের ধারা ৫৭ এর সংশোধন
উক্ত আইনের ধারা ৫৭ এর-
“(৭) উন্নত টেলিযোগাযোগ প্রযুক্তি, বেতার তরঙ্গ প্রকৌশল ও ব্যবস্থাপনা শিক্ষা এবং পলিসি গবেষণার জন্য কমিশন প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টি করিবে।
(৮) টেলিযোগাযোগ বা বেতার যন্ত্রপাতির কারিগরি গ্রহণযোগ্যতার সনদ বা টাইপ এপ্রুভাল (Type Approval) ইস্যুর উদ্দেশ্যে কমিশন প্রয়োজনীয় টেস্ট এবং সার্টিফিকেশন ল্যাবরেটরি স্থাপন করিতে পারিবে।”।
Section ৩৯. ২০০১ সনের ১৮ নং আইনের ধারা ৫৮ এর প্রতিস্হাপন
উক্ত আইনের ধারা ৫৮ এর পরিবর্তে নিম্নরূপ ধারা ৫৮ প্রতিস্হাপিত হইবে, যথা:-
“৫৮। তরঙ্গ পরিবীক্ষণ এবং তড়িৎ-চুম্বকীয় শক্তির নির্গমন ও নিয়ন্ত্রণ শর্তাবলি।– (১) বাংলাদেশ পক্ষভুক্ত হইয়াছে এইরূপ আন্তর্জাতিক চুক্তির বিধান এবং পারমাণবিক নিরাপত্তা ও বিকিরণ নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৯৩ (১৯৯৩ সনের ২১ নং আইন) ও বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (১৯৯৫ সনের ১ নং আইন) এর বিধান সাপেক্ষে, কমিশন, বাংলাদেশের ভূখণ্ডে, আঞ্চলিক সমুদ্রসীমায় (Territorial Waters) এবং উক্ত ভূখণ্ড ও সমুদ্রসীমার উপরস্থ আকাশে বেতার যোগাযোগ ও টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা হইতে সকল প্রকার তড়িৎ চুম্বকীয় শক্তির নির্গমন (Emission), পরিবীক্ষণ ও উহার ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ন্ত্রণ করিবে এবং এতদুদ্দেশ্যে যে কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিতে পারিবে এবং কমিশন আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যঝুঁকি মূল্যায়ন এবং প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ ও নীতিমালা প্রণয়ন করিবে।
(২) তরঙ্গের অবৈধ ব্যবহার রোধকরণ এবং তরঙ্গের ক্ষতিকর প্রতিবন্ধকতা (Harmful Interference) নিরসনের জন্য কমিশন একটি শক্তিশালী ও কার্যকরী তরঙ্গ পরিবীক্ষণ (Spectrum Monitoring) ব্যবস্থা স্থাপন ও পরিচালনা করিতে পারিবে।
(৩) কমিশন টেলিযোগাযোগ অবকাঠামো, জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে তড়িৎ-চৌম্বক বিকিরণ (Electromagnetic Field- EMF) ও তড়িৎ-চৌম্বক সামঞ্জস্যতা (Electromagnetic Compatibility – EMC) সম্পর্কিত মানদণ্ড নির্ধারণ, পরিমাপ, বিশ্লেষণ, পরিদর্শন ও মাননিয়ন্ত্রণ করিবে; এবং ইহা বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে কমিশনে বিশেষায়িত কারিগরি বিভাগ বা ইউনিট থাকিবে, যাহা উপযুক্ত যন্ত্রপাতি এবং কারিগরি ব্যবস্থার মাধ্যমে এতদসংক্রান্ত কার্যাবলি সম্পাদন করিবে।”।
Section ৪০. ২০০১ সনের ১৮ নং আইনের নূতন ধারা ৫৯ক এর সন্নিবেশ
উক্ত আইনের ধারা ৫৯ এর পর নিম্নরূপ নূতন ধারা ৫৯ক সন্নিবেশিত হইবে, যথা:-
“৫৯ক। ডিজিটাল অভিযোগ গ্রহণ ও নিষ্পত্তি ব্যবস্থা।- (১) কমিশন একটি ডিজিটাল অভিযোগ গ্রহণ ও নিষ্পত্তি ব্যবস্থা (Online Complaint Management System) প্রতিষ্ঠা করিবে, যাহার মাধ্যমে গ্রাহক ধারা ৫৯ এর অধীন কমিশন বরাবর অনলাইনে অভিযোগ দাখিল করিতে পারিবে;
(২) অভিযোগ দাখিলের পর-
(৩) ‘স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা কমিটি’ গ্রাহক অভিযোগ ও অভিযোগ নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করিবে এবং অভিযোগ যথাযথভাবে সমাধান না হইলে এবং গ্রাহক ক্রমাগত ক্ষতির সম্মুখীন হইলে কমিশন সংশ্লিষ্ট লাইসেন্সধারী বা সেবাদানকারীকে আর্থিক জরিমানা আরোপ করিতে পারিবে।”
Section ৪১. ২০০১ সনের ১৮ নং আইনের ধারা ৬০ এর সংশোধন
উক্ত আইনের ধারা ৬০ এ উল্লিখিত “কর্মকর্তাকে” শব্দটির পরিবর্তে “উপযুক্ত কর্মকর্তাকে” শব্দগুলি প্রতিস্থাপিত হইবে।
Section ৪২. ২০০১ সনের ১৮ নং আইনের ধারা ৬১ এর সংশোধন
উক্ত আইনের ধারা ৬১ এর উপ-ধারা (৮) এর পরিবর্তে নিম্নরূপ উপ-ধারা (৮) প্রতিস্থাপিত হইবে, যথা:-
“(৮) কোন ব্যক্তি উপ-ধারা (৭) এর বিধান লংঘন করিলে উক্ত লংঘন হইবে একটি অপরাধ এবং তজ্জন্য তিনি অনধিক ৩ (তিন) বৎসর কারাদণ্ডে বা অনধিক ৪৯ (উনপঞ্চাশ) কোটি অর্থদণ্ডে বা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন।”।
Section ৪৩. ২০০১ সনের ১৮ নং আইনের ধারা ৬৩ এর সংশোধন
উক্ত আইনের ধারা ৬৩ এর উপ-ধারা (৩) এর দফা (ক) এর পরিবর্তে নিম্নরূপ দফা (ক) প্রতিস্থাপিত হইবে, যথা:-
“(ক) উক্ত লংঘনকারীর উপর অনধিক ৯৯ (নিরানব্বই) কোটি টাকা প্রশাসনিক জরিমানা আরোপ করিতে পারিবে এবং উক্ত আদেশের পর যতদিন লংঘন চলিতে থাকিবে উহার প্রতিদিনের জন্য অনধিক ১০ (দশ) লক্ষ টাকা প্রশাসনিক জরিমানা আরোপ করিতে পারিবে:”।
Section ৪৪. ২০০১ সনের ১৮ নং আইনের ধারা ৬৪ এর সংশোধন
উক্ত আইনের ধারা ৬৪ এর উপ-ধারা (৩) এর পরিবর্তে নিম্নরূপ উপ-ধারা (৩) প্রতিস্থাপিত হইবে, যথা:-
“(৩) উক্ত ব্যক্তি উপ-ধারা (২) এর বিধান লংঘন করিলে কমিশন তাহার উপর অনধিক ৪৯ (উনপঞ্চাশ) কোটি টাকা প্রশাসনিক জরিমানা আরোপ করিতে পারিবে এবং কমিশন কর্তৃক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উক্ত জরিমানা পরিশোধ না করা হইলে উক্ত লংঘন হইবে একটি অপরাধ এবং তজ্জন্য উক্ত ব্যক্তি অনধিক ৫ (পাঁচ) বৎসর কারাদণ্ডে এবং অনধিক ৯৯ (নিরানব্বই) কোটি টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন।”।
Section ৪৫. ২০০১ সনের ১৮ নং আইনের ধারা ৬৫ এর প্রতিস্থাপন
উক্ত আইনের ধারা ৬৫ এর পরিবর্তে নিম্নরূপ ধারা ৬৫ প্রতিস্থাপিত হইবে, যথা:-
“৬৫। প্রশাসনিক জরিমানা।- (১) এই আইন বা ইহার অধীন প্রণীত বিধিমালা বা প্রবিধানমালার যে সকল বিধানে প্রশাসনিক জরিমানা আরোপের ব্যবস্থা রহিয়াছে, উহার অতিরিক্ত হিসাবে কমিশন, এই আইন বা উহার অধীন প্রণীত বিধিমালা বা প্রবিধানমালার কোন বিধান লংঘনের ক্ষেত্রে অনধিক ৪৯ (উনপঞ্চাশ) কোটি টাকা প্রশাসনিক জরিমানা আরোপ করিতে পারিবে:
তবে শর্ত থাকে যে, এই আইনের অধীন প্রশাসনিক জরিমানা আরোপ সত্ত্বেও লঙ্ঘনকারীর নিকট হইতে ক্ষতিপূরণ আদায় করা যাইবে, তবে এরূইপ জরিমানার বিধান কোম্পানির বিনিয়োগ এবং টার্নওভারের সহিত সামঞ্জস্যপূর্ণ হারে প্রয়োগ করিতে হইবে:
আরও শর্ত থাকে যে, ধারা ৩৫(১), ৫৫(১) এবং ৫৭(২) লংঘনের ক্ষেত্রে এইরূপ প্রশাসনিক জরিমানা আরোপ করা যাইবে না।
(২) এই আইন বা উহার অধীন প্রণীত বিধিমালা বা প্রবিধানমালার যে সকল বিধান লংঘনের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক জরিমানা আরোপণীয় সেই সকল ক্ষেত্রে কমিশন সংশ্লিষ্ট ধারা বা বিধি বা প্রবিধানের অধীন কার্যক্রম গ্রহণ না করিলে, সেই ক্ষেত্রে কমিশন লংঘনকারীকে এই মর্মে একটি নোটিশ দিবে যে, তিনি উক্ত নোটিশ প্রাপ্তির পর তাহার দোষ স্বীকার করিয়া নোটিশে নির্ধারিত প্রশাসনিক জরিমানা উহাতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রদানের মাধ্যমে দায়মুক্ত হইতে পারেন এবং এই ব্যাপারে তাহার কোন বক্তব্য থাকিলে তাহাও উপস্থাপন করিবেন।
(৩) উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত লংঘনের ব্যাপারে-
(৪) উপ-ধারা (৩)(গ) এর উপ-দফা (আ) বা (ই) এর অধীন আবেদন করা হইলে অথবা সংশ্লিষ্ট অন্য কোন ধারা, বিধি বা প্রবিধানের অধীন আরোপিত প্রশাসনিক জরিমানা কমানোর জন্য বা উক্ত দায় হইতে অব্যাহতির জন্য নোটিশে উল্লিখিত সময়ের মধ্যে নোটিশ গ্রহীতা তাহার লিখিত বক্তব্য দাখিল করিলে কমিশন কর্তৃক এতদুদ্দেশ্যে নিযুক্ত একজন কর্মকর্তা সমগ্র বিষয়টি বিবেচনাক্রমে লিখিতভাবে সংশ্লিষ্ট কারণ উল্লেখপূর্বক তাহার সিদ্ধান্ত প্রদান করিবেন এবং এইরূপ সিদ্ধান্তের ৩ (তিন) দিনের মধ্যে আবেদনকারীকে সিদ্ধান্তের অনুলিপি প্রদান করিবেন।
(৫) উপ-ধারা (৪) এর অধীন সিদ্ধান্ত প্রদান তারিখের অনধিক ১৫ (পনের) দিনের মধ্যে অভিযুক্ত ব্যক্তি উক্ত সিদ্ধান্ত পুনরীক্ষণের (revision) জন্য কমিশনের নিকট লিখিতভাবে আবেদন করিতে পারিবেন, এবং এইরূপ আবেদন সম্পর্কে কমিশন সংশ্লিষ্ট পরিদর্শক ও আবেদনকারীকে শুনানীর যুক্তিসংগত সুযোগ প্রদান করিয়া অনধিক ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করিবে।
(৬) লংঘনকারী উপ-ধারা (৩) এর অধীন প্রেরিত নোটিশে অভিযোগকৃত লংঘন স্বীকার করিয়া প্রশাসনিক জরিমানার অর্থ জমা দিলে বা উপ-ধারা (৪) বা (৫) এর অধীনে তাহার অনুকূলে দায় মুক্তির সিদ্ধান্ত প্রদত্ত হইলে তদনুযায়ী তিনি দায়মুক্ত হইবেন এবং এইরূপ ক্ষেত্রে উক্ত লংঘন অপরাধ হিসাবে বা প্রদত্ত জরিমানা অর্থদণ্ড হিসাবে গণ্য হইবে না।
(৭) কোন লংঘনকারী এই আইন বা উহার অধীন প্রণীত বিধিমালা বা প্রবিধানমালার অধীন তাহার উপর আরোপিত প্রশাসনিক জরিমানা জমা না দিলে বা নোটিশের প্রেক্ষিতে হাজির না হইলে উক্ত লংঘন একটি অপরাধ হিসাবে গণ্য হইবে এবং তদনুসারে তিনি দন্ডনীয় হইবেন।
(৮) এই আইন বা উহার অধীন প্রণীত বিধিমালা বা প্রবিধানমালার যে সকল বিধান লংঘনের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক জরিমানা আরোপণীয় সেই সকল ক্ষেত্রে কমিশন সংশ্লিষ্ট ধারার অধীন কার্যক্রম গ্রহণ করিলে, উপ-ধারা (৪), (৫), (৬) ও (৭) এর বিধান অনুসৃত হইবে।”।
Section ৪৬. ২০০১ সনের ১৮ নং আইনের ধারা ৬৬ এর প্রতিস্থাপন
উক্ত আইনের ধারা ৬৬ এর পরিবর্তে নিম্নরূপ ধারা ৬৬ প্রতিস্থাপিত হইবে, যথা:-
“৬৬৷ বেতার ও টেলিযোগাযোগের মাধ্যমে মিথ্যা বার্তা, ইত্যাদি প্রেরণের দণ্ড।- (১) কোন ব্যক্তি টেলিযোগাযোগ যন্ত্রপাতি বা বেতার যন্ত্রপাতি বা ডিজিটাল বা ইলেকট্রনিক মাধ্যম এবং লাইসেন্স ব্যবহার করিয়া ইচ্ছাকৃতভাবে কোন মিথ্যা বা প্রতারণামূলক বিপদ সংকেত, বার্তা বা আহ্বান বা তথ্য-উপাত্ত (Content) প্রেরণ করিলে তাহা হইবে একটি অপরাধ।
(২) কোন ব্যক্তি যদি-
Section ৪৭. ২০০১ সনের ১৮ নং আইনের ধারা ৬৬ক এর প্রতিস্থাপন
উক্ত আইনের ধারা ৬৬ক এর পরিবর্তে নিম্নরূপ ধারা ৬৬ক প্রতিস্থাপিত হইবে, যথা:-
“৬৬ক। টেলিযোগাযোগ যন্ত্রপাতি বা বেতার যন্ত্রপাতি ব্যবহারের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় অখণ্ডতা বা সার্বভৌমত্ব-এর উপর ক্ষতিকর প্রভাব পড়িতে পারে এমন কার্যক্রম, ইত্যাদি পরিচালনার দণ্ড।- (১) টেলিযোগাযোগ যন্ত্রপাতি বা বেতার যন্ত্রপাতি ও প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের মাধ্যমে নিম্নবর্ণিত কার্যক্রমগুলো হইবে অপরাধ, যথা:—
(২) কোন ব্যক্তি উপ-ধারা (১) এ বর্ণিত যেকোনো অপরাধ সংঘটন করিলে, তিনি অনধিক ৫ (পাঁচ) বৎসর কারাদণ্ড, অথবা অনধিক ৯৯ (নিরানব্বই) কোটি টাকা অর্থদণ্ড, অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন।”।
Section ৪৮. ২০০১ সনের ১৮ নং আইনের ধারা ৬৭ এর প্রতিস্থাপন
উক্ত আইনের ধারা ৬৭ এর পরিবর্তে নিম্নরূপ ধারা ৬৭ প্রতিস্থাপিত হইবে, যথা:-
“৬৭। বেতার যোগাযোগ বা টেলিযোগাযোগে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির দণ্ড।- (১) কোন ব্যক্তি-
(২) কোন ব্যক্তি উপ-ধারা (১) এর অধীন অপরাধ সংঘটন করিলে তজ্জন্য তিনি অনধিক ৩ (তিন) বৎসর কারাদণ্ডে বা অনধিক ৩ (তিন) কোটি টাকা অর্থদণ্ডে বা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন।”।
Section ৪৯. ২০০১ সনের ১৮ নং আইনের ধারা ৬৮ এর প্রতিস্থাপন
উক্ত আইনের ধারা ৬৮ এর পরিবর্তে নিম্নরূপ ধারা ৬৮ প্রতিস্থাপিত হইবে, যথা:-
“৬৮৷ কর্মচারী-কর্মকর্তা কর্তৃক টেলিযোগাযোগ বা বেতার যন্ত্রপাতি অপব্যবহারের দণ্ড।- (১) নিম্নবর্ণিত কার্যক্রমসমূহ কোন পরিচালনাকারীর কোন কর্মচারী বা কর্মকর্তা কর্তৃক সংঘটিত হইলে তাহা অপরাধ বলিয়া গণ্য হইবে, যথা:-
(২) কোন ব্যক্তি উপ-ধারা (১) এর অধীন অপরাধ সংঘটন করিলে তিনি অনধিক ৫ (পাঁচ) বৎসর কারাদণ্ডে বা অনধিক ৩৫ লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে বা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন৷”।
Section ৫০. ২০০১ সনের ১৮ নং আইনের ধারা ৬৯ এর সংশোধন
উক্ত আইনের ধারা ৬৯ এ উল্লিখিত “৫ (পাঁচ) কোটি” সংখ্যা, বন্ধনী ও শব্দগুলির পরিবর্তে “১.৫ (দেড়) কোটি” সংখ্যা, বন্ধনী ও শব্দগুলি প্রতিস্থাপিত হইবে এবং উক্ত ধারার শেষ প্রান্তে উল্লিখিত “হইবেন” শব্দের পর “এবং এইক্ষেত্রে প্রযোজ্য ক্ষেত্রে সাইবার সুরক্ষা আইনের সংশ্লিষ্ট ধারা প্রযোজ্য হইবে।” শব্দগুলি সন্নিবেশিত হইবে।
Section ৫১. ২০০১ সনের ১৮ নং আইনের ধারা ৭০ এর সংশোধন
উক্ত আইনের ধারা ৭০ এর-
“(১) কোন ব্যক্তি যুক্তিসংগত কারণ ব্যতীত যদি অন্য কোন ব্যক্তির নিকট এইরূপে বারবার সফল বা বিফল টেলি-সংযোগ স্থাপন বা উহার প্রচেষ্টা করেন যে, উহা উক্ত অন্য ব্যক্তির জন্য বিরক্তিকর হয় বা ক্ষতি করে, তাহা হইলে এইরূপ কাজ একটি অপরাধ হইবে এবং উহার জন্য দোষী ব্যক্তি অনধিক ১ (এক) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে এবং উহা অনাদায়ে অনধিক ৬ (ছয়) মাস কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন৷”
“(৩) যদি কোন ব্যক্তি যুক্তি-সংগত কারণ ব্যতীত অন্য কোন ব্যক্তির কণ্ঠস্বর ও ছবি বা ইত্যাদি ব্যক্তিগত শণাক্তযোগ্য, সংবেদনশীল বা বায়োমেট্রিক উপাত্ত নকল করিয়া কিংবা তাহা ব্যবহার করিয়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রয়োগের মাধ্যমে অন্য কোন ব্যক্তির ক্ষতি করে তাহা হইলে এইরূপ কাজ হইবে একটি অপরাধ, এবং ইহার জন্য উপ-ধারা (১) এ বর্ণিত শাস্তির বিধান প্রযোজ্য হইবে।”।
Section ৫২. ২০০১ সনের ১৮ নং আইনের ধারা ৭১ এর সংশোধন
উক্ত আইনের ধারা ৭১ এর পরিবর্তে নিম্নরূপ ধারা ৭১ প্রতিস্থাপিত হইবে, যথা:-
“৭১৷ আড়িপাতার দণ্ড।- (১) কোন ব্যক্তি যদি এই আইনের বিধান লঙ্ঘন করিয়া অপর দুই বা ততোধিক ব্যক্তির আলাপে ইচ্ছাকৃতভাবে টেলিযোগাযোগ যন্ত্রপাতি ব্যবহার করিয়া আড়ি পাতেন, তাহা হইলে এই কাজ হইবে একটি অপরাধ এবং তজ্জন্য তিনি অনধিক ২ (দুই) বৎসর কারাদণ্ডে বা অনধিক ১.৫ (দেড়) কোটি টাকা অর্থদণ্ডে বা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন।
(২) উপ-ধারা (১) বা অন্য কোনও ধারায় যাহা কিছুই বলা থাকুক না কেনো, সিম ও ডিভাইস রেজিস্ট্রেশনের সহিত জড়িত উপাত্তের মাধ্যমে নাগরিকের উপর নজরদারি বা হয়রানি হইবে একটি অপরাধ, এবং তজ্জন্য উপ-ধারা (১) এ বর্ণিত শাস্তির বিধান প্রযোজ্য হইবে।”।
Section ৫৩. ২০০১ সনের ১৮ নং আইনের ধারা ৭২ এর সংশোধন
উক্ত আইনের ধারা ৭২ এর-
“(ক) লাইসেন্সকৃত টেলিযোগাযোগ যন্ত্রপাতি বা বেতার যন্ত্রপাতির সাহায্যে টেলিযোগাযোগ বা বেতার যোগাযোগ পরিচালিত হয় এইরূপ প্রতিষ্ঠানের বা কার্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির অনুমতি ব্যতীত উহাতে প্রবেশ করিলে;”;
“(ঙ) ইচ্ছাকৃতভাবে উক্ত যন্ত্রপাতির ক্ষতিসাধন বা উহা অবৈধভাবে অপসারণ করিলে বা অবৈধভাবে উহার কার্যক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত বা বিকল করিলে, বা সাইবার সুরক্ষা আইনে উল্লিখিত বে-আইনী হস্তক্ষেপ বা হ্যাকিং এর সংজ্ঞা অনুযায়ী কোনো কাজ করিলে,”;
Section ৫৪. ২০০১ সনের ১৮ নং আইনের নূতন ধারা ৭২ক এর সন্নিবেশ
উক্ত আইনের ধারা ৭২ এর পর নিম্নরূপ নূতন ধারা ৭২ক সন্নিবেশিত হইবে, যথা:-
“৭২ক। টেলিযোগাযোগ সেবা প্রদানে ব্যাঘাত বা বিঘ্ন সৃষ্টি করা।- (১) কমিশন এর অনুমোদন ব্যতীত কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান নিম্নবর্ণিত কার্যাবলী সম্পাদন করিলে তাহা দণ্ডনীয় অপরাধ বলিয়া গণ্য হইবে, যথা:-
(২) কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান, কোনো নেটওয়ার্ক বা সিস্টেমে সাইবার হামলার চেষ্টা বা সাইবার হামলার ইন্ধন বা সাইবার হামলার মাধ্যমে নেটওয়ার্ক সেবায় কোনোরূপ বাধা তৈরি করলে তাহা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হইবে।
(৩) কমিশন বা সরকারের যথাযথ লিখিত অনুমতি ব্যতীত কোনো নিরাপত্তা সংস্থা বা কমিশন হইতে লাইসেন্স প্রাপ্ত কোনো অপারেটরের অনুমোদিত কর্মী বা অনুমোদিত প্রতিনিধি ব্যতীত কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে বা অপরের রূপ ধারণ (ছদ্মবেশ) এর মাধ্যমে টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্কে অনুপ্রবেশ, হস্তক্ষেপ বা উপাত্ত (data) সংগ্রহ বা সংগ্রহের চেষ্টা বা উপাত্ত (data) হস্তান্তর বা স্থানান্তর করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসাবে গণ্য হইবে।
ব্যাখ্যা।– এই উপ-ধারার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, “উপাত্ত” অর্থ কল এর বিবরণ (call detail record), ইন্টারনেট প্রোটোকল সংক্রান্ত উপাত্ত বা বিবরণ, ট্রাফিক ড্যাটা, গ্রাহক এর তথ্যাবলী, অপারেটর এর উপাত্ত বা তথ্যাবলী, নেটওয়ার্ক সিস্টেম এর উপাত্ত বা তথ্যাবলী এবং সংশ্লিষ্ট ড্যাটা/উপাত্ত এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, যে কোনো ধরণের অনুপ্রবেশ বা interception ।
(৪) কোন ব্যক্তি এই ধারার অধীন কোন অপরাধের জন্য অনধিক ৫ (পাঁচ) বৎসর কারাদণ্ড বা অনধিক ৪৯ (উনপঞ্চাশ) কোটি টাকা অর্থদণ্ডে বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করিতে পারিবেন।”।
Section ৫৫. ২০০১ সনের ১৮ নং আইনের ধারা ৭৩ এর সংশোধন
উক্ত আইনের ধারা ৭৩ এর উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত “৩০০ (তিনশত) কোটি” সংখ্যা, বন্ধনী ও শব্দগুলির পরিবর্তে “৯৯ (নিরানব্বই) কোটি” সংখ্যা, বন্ধনী ও শব্দগুলি প্রতিস্থাপিত হইবে।
Section ৫৬. ২০০১ সনের ১৮ নং আইনের ধারা ৭৫ এর সংশোধন
উক্ত আইনের ধারা ৭৫ এর দফা (ক) এ উল্লিখিত “৩০০ (তিনশত) কোটি” সংখ্যা, বন্ধনী ও শব্দগুলির পরিবর্তে “৯৯ (নিরানব্বই) কোটি” সংখ্যা, বন্ধনী ও শব্দগুলি প্রতিস্থাপিত হইবে।
Section ৫৭. ২০০১ সনের ১৮ নং আইনের ধারা ৭৭ এর সংশোধন
উক্ত আইনের ধারা ৭৭ এর-
“(১) ফৌজদারি কার্যবিধিতে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইন এবং ইহার অধীন প্রণীত বিধি বা প্রবিধানে বর্ণিত সকল অপরাধ আমলযোগ্য (Cognizable) এবং উপ-ধারা ৬৬ক(১) এর দফা (ক) তে বর্ণিত অপরাধ ব্যতীত অন্যান্য সকল অপরাধ জামিন যোগ্য (Bailable) হইবে এবং প্রযোজ্য ক্ষতিপূরণ ও প্রশাসনিক জরিমানা প্রদান সাপেক্ষে আপোষযোগ্য হইবে।”;
Section ৫৮. ২০০১ সনের ১৮ নং আইনের ধারা ৭৯ এর সংশোধন
উক্ত আইনের ধারা ৭৯ এর উপ-ধারা (২) এর পর নিম্নরূপ উপ-ধারা (৩) সন্নিবেশিত হইবে, যথা:-
“(৩) আপাতত বলবত অন্য কোন আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, মোবাইল কোর্ট আইন, ২০০৯ (২০০৯ সনের ৫৯ নং আইন) এর উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, এই আইনের অধীন সংঘটিত অপরাধের ক্ষেত্রে, উক্ত আইনের তফসিলভুক্ত হওয়া সাপেক্ষে, মোবাইল কোর্ট দণ্ড আরোপ করিতে পারিবে।”।
Section ৫৯. ২০০১ সনের ১৮ নং আইনের ধারা ৮২ এর প্রতিস্থাপন
উক্ত আইনের ধারা ৮২ এর পরিবর্তে নিম্নরূপ ধারা ৮২ প্রতিস্থাপিত হইবে, যথা:-
“৮২৷ আদায়কৃত প্রশাসনিক জরিমানা ও অর্থদণ্ডের নিষ্পত্তি।- (১) এই আইন বা তদধীন প্রণীত প্রবিধানের অধীন প্রশাসনিক জরিমানা আরোপ করা যাইবে, যাহা প্রজাতন্ত্রের সরকারী তহবিলে প্রদেয় হইবে ।
(২) উপধারা (১) এর অধীন উল্লিখিত প্রশাসনিক জরিমানা আরোপের ফলে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এইরূপ জরিমানার বিষয়ে ধারা ৮২ক এর অধীন আপীল দায়ের অথবা ধারা ৮২খ এর অধীন সালিসি কার্যধারা শুরু করিতে পারিবে।”।
Section ৬০. ২০০১ সনের ১৮ নং আইনের ধারা ৮২ক এর প্রতিস্থাপন
উক্ত আইনের ধারা ৮২ক এর পরিবর্তে নিম্নরূপ ধারা ৮২ক প্রতিস্থাপিত হইবে, যথা:-
“৮২ক। আপীল কর্তৃপক্ষ গঠন, ইত্যাদি।- (১) কমিশন কর্তৃক আরোপিত প্রশাসনিক জরিমানা সংক্রান্ত আদেশের বিরুদ্ধে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক ধারা ৮২ এর উপ-ধারা (২) অনুসারে আপীলের উদ্দেশ্যে সরকার, বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতি ও শর্তে, একটি আপীল কর্তৃপক্ষ গঠন করিবে।
(২) বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত একজন বিচারক এবং সরকার কর্তৃক মনোনীত অতিরিক্ত জেলা বা দায়রা জজ পদমর্যাদার নিম্নে নহেন এমন একজন এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের একজন অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদার নিম্নে নহেন এমন একজন সদস্য সমন্বয়ে আপীল কর্তৃপক্ষ গঠিত হইবে ।”।
Section ৬১. ২০০১ সনের ১৮ নং আইনের নূতন ধারা ৮২খ এর সন্নিবেশ
উক্ত আইনের ধারা ৮২ক এর পর নিম্নরূপ নূতন ধারা ৮২খ সন্নিবেশিত হইবে, যথা:-
“৮২খ। সালিস, ইত্যাদি।– (১) এই আইনের অধীন সংজ্ঞায়িত কোন অপরাধ ব্যতীত সালিসযোগ্য কোন বিরোধ, লাইসেন্সের শর্ত পালন-সংক্রান্ত বিরোধ, অডিট আপত্তি বা দাবি সংক্রান্ত বিরোধ সালিস আইন, ২০০১ (২০০১ সনের ১ নং আইন) অনুযায়ী নিষ্পত্তিযোগ্য হইবে।
(২) উপরিউক্ত কোন বিরোধ উদ্ভূত হইবার তারিখ থেকে ৩০ (ত্রিশ) কার্যদিবসের মধ্যে দুই পক্ষ মধ্যস্থতার মাধ্যমে উহা আপসে নিষ্পত্তির চেষ্টা করিবে এবং ৩০ দিনের মধ্যে মধ্যস্থতায় নিষ্পত্তিতে ব্যর্থ হইলে পরবর্তী ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে লিখিত নোটিশ প্রদানের মাধ্যমে সালিস কার্যক্রম শুরু করিবে:
তবে শর্ত থাকে যে, বিরোধের দুই পক্ষ যদি ৩০ (ত্রিশ) দিনের অধিক সময় মধ্যস্থতা প্রক্রিয়া চালাইয়া নিতে সম্মত হন তবে এইরূপ বর্ধিত সময়সীমা কোনরূপ মধ্যস্থতা ছাড়া শেষ হইলে, উহার পরবর্তী ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে সালিস কার্যক্রম শুরু হইবে।
(৩) সালিসের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হইবে এবং তাহা কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের জন্য বাধ্যতামূলক হইবে ।”।
Section ৬২. ২০০১ সনের ১৮ নং আইনের ধারা ৮৭ এর সংশোধন
উক্ত আইনের ধারা ৮৭ এর-
“(১) কোন আবেদন বা অন্য কোনভাবে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে, কমিশন যদি মনে করে যে, জনস্বার্থ রক্ষার জন্য উহার কোন ক্ষমতা প্রয়োগ বা প্রস্তাবিত প্রয়োগের বিষয়ে বা অন্য বিষয়ে যথাযথ সিদ্ধান্ত গ্রহণের উদ্দেশ্যে গণশুনানীর ব্যবস্থা করা প্রয়োজন, তাহা হইলে কমিশন বিষয়টি সম্পর্কে গণশুনানীর ব্যবস্থা করিতে পারিবে:
তবে শর্ত থাকে যে, ট্যারিফ নির্ধারণ বা সংশোধন, অথবা জনস্বার্থে প্রত্যক্ষ প্রভাব ফেলিতে পারে এইরূপ যে কোন বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের পূর্বে যথাসম্ভব গণশুনানী আয়োজন করিতে হইবে।”;
“(১১) কমিশন প্রতি ৪ (চার) মাসে অন্তত একবার গণশুনানী করিবে, যেখানে জনগণ ও অংশীদারগণ টেলিযোগাযোগ সেবা, ট্যারিফ, লাইসেন্স ও জনস্বার্থ-সম্পর্কিত অন্যান্য বিষয়ে প্রশ্ন ও মতামত প্রদান করিতে পারিবেন।
(১২) গণশুনানীতে উত্থাপিত প্রত্যেকটি গঠনমূলক প্রশ্ন, সুপারিশ বা উদ্বেগ কমিশন একটি “গণশুনানী কার্যপর্যবেক্ষণ তালিকা” (Public Hearing Action Tracker) তে অন্তর্ভুক্ত করিবে, যেখানে-
(১৩) ইচ্ছাকৃত অবহেলা অথবা অসদাচরণবশত গণশুনানী কার্যপর্যবেক্ষণ তালিকা হালনাগাদ না করা, বিলম্ব ঘটানো বা মিথ্যা তথ্য প্রদান করিলে, সরকার উক্ত বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা অথবা দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করিবে, যাহা শৃঙ্খলাভঙ্গজনিত অপরাধ বলিয়া গণ্য হইবে।
(১৪) স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা কমিটি গণশুনানীর প্রক্রিয়া পর্যালোচনা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করিবে এবং কমিশন গণশুনানীর প্রক্রিয়াকে ক্রমাগত উন্নয়ন ও স্বচ্ছ করিতে থাকিবে।”।
Section ৬৩. ২০০১ সনের ১৮ নং আইনের ধারা ৯৫ এর বিলুপ্তি
উক্ত আইনের ধারা ৯৫ বিলুপ্ত হইবে।
Section ৬৪. ২০০১ সনের ১৮ নং আইনের ধারা ৯৭ এর সংশোধন
উক্ত আইনের ধারা ৯৭ এর উপ-ধারা (২) এর পরিবর্তে নিম্নরূপ উপ-ধারা (২) প্রতিস্থাপিত হইবে, যথা:-
“(২) এই আইন বা বর্তমানে বলবত অন্য কোনো আইনে ভিন্নতর যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কোন অবস্থাতেই ইচ্ছাকৃতভাবে বা অসৎ উদ্দেশ্যে টেলিযোগাযোগ সংযোগ, টেলিযোগাযোগ সংশ্লিষ্ট যেকোনো সেবা এবং ইন্টারনেট বন্ধ করা যাইবে না, প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি বা সীমিতকরণ করা যাইবে না।”।
Section ৬৫. ২০০১ সনের ১৮ নং আইনের ধারা ৯৭ক এর প্রতিস্থাপন
উক্ত আইনের ধারা ৯৭ক এর পরিবর্তে নিম্নরূপ ধারা ৯৭ক প্রতিস্থাপিত হইবে, যথা:-
“৯৭ক। রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বা জনশৃঙ্খলার স্বার্থে বিশেষ বিধান।– (১) সংজ্ঞা ও সীমারেখা:
(২) Center for Information Support (CIS) ও উহার প্রবেশাধিকার:
(৩) ইন্টারসেপশন পরিচালনায় অনুমোদিত সংস্থা ও শর্তাবলী:
(৪) ইন্টারসেপশন অনুমোদন ও জরুরি অবস্থা:-
(৫) রিভিউ কাউন্সিল:–
(১) আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী – সভাপতি;
(২) প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ – সদস্য;
(৩) সিনিয়র সচিব বা সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় -সদস্য সচিব।
(৬) তথ্য সংরক্ষণ, সীমা ও নিরাপত্তা:
(৭) দন্ড:
(৮) সংসদীয় তদারকি ও স্বচ্ছতা:
(৯) আন্তর্জাতিক মানদণ্ড: এই ধারার অধীন গৃহীত সকল ব্যবস্থা আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়ন (ITU) ও জাতিসংঘের মানবাধিকার সনদ অনুযায়ী উত্তম অনুশীলনের সহিত সামঞ্জস্যপূর্ণ হইতে হইবে।”।
Section ৬৬. ২০০১ সনের ১৮ নং আইনের ধারা ৯৭খ এর প্রতিস্থাপন
উক্ত আইনের ধারা ৯৭খ এর পরিবর্তে নিম্নরূপ ধারা ৯৭খ প্রতিস্থাপিত হইবে, যথা:-
“৯৭খ। ইন্টারসেপশনজনিত তথ্যের সাক্ষ্য হিসাবে গ্রহণযোগ্যতা।- (১) আদালতের অনুমোদনপূর্বক বা অনুমোদনপ্রাপ্ত ইন্টারসেপশন কার্যক্রমে সংগৃহীত তথ্য আদালতে সাক্ষ্যরূপে গৃহীত হইবে।
(২) উপ-ধারা (১) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কেবলমাত্র গোয়েন্দা কার্যক্রমের উদ্দেশ্যে সংগৃহীত তথ্য আদালতে সাক্ষ্যরূপে গৃহীত হইবে না; তথ্যের উৎস, শুদ্ধতা ও সংরক্ষণ শৃঙ্খলা প্রমাণ করিতে হইবে; আদালত বা রিভিউ কাউন্সিল প্রয়োজনে সেন্ট্রাল ল’ফুল ইন্টারসেপশন প্ল্যাটফর্মের লগ বা নিরীক্ষা নথি পর্যালোচনা করিতে পারিবে।
(৩) এই ধারা এবং ধারা ৯৭ক এর অধীন প্রাপ্ত উপাত্ত সাক্ষ্য হিসাবে সংরক্ষণ করিতে হইবে।
Section ৬৭. ২০০১ সনের ১৮ নং আইনের ধারা ৯৭গ এর প্রতিস্থাপন
উক্ত আইনের ধারা ৯৭গ এর পরিবর্তে নিম্নরূপ ধারা ৯৭গ প্রতিস্থাপিত হইবে, যথা:-
“৯৭গ। নির্দেশ প্রতিপালন, শাস্তি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা।- (১) অনুমোদিত কর্তৃপক্ষের ইন্টারসেপশন আদেশ বাস্তবায়নে টেলিযোগাযোগ সেবা প্রদানকারী, পরিচালনাকারী বা সংশ্লিষ্ট সংস্থা কারিগরি সহায়তা প্রদান করিতে বাধ্য থাকিবে এবং উক্ত আদেশ শুধুমাত্র কাউন্সিল কিংবা সংসদে উপস্থাপনের জন্য সেবা প্রদানকারী, পরিচালনাকারী বা সংশ্লিষ্ট সংস্থা সংরক্ষণ করিতে পারিবে।
(২) উপ-ধারা (১) এর বিধান লঙ্ঘন করিলে আদালত অপরাধের প্রকৃতি অনুসারে পর্যায়ক্রমে অনধিক এক (০১) কোটি টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড প্রদান করিতে পারিবে।
(৩) উপ-ধারা (১) এর বিধান ৩ বারের অধিক লংঘন করিলে, চূড়ান্ত ধাপে সংশ্লিষ্ট সংস্থা বা সেবা প্রদানকারীর বিরুদ্ধে কমিশন প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে পারিবে এবং অনুমোদিত কর্তৃপক্ষ কমিশনের নিকট লাইসেন্স স্থগিতের সুপারিশ করিতে পারিবে।
(৪) ধারা ৯৭ক, ৯৭খ ও এই ধারার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে,“সরকার” অর্থ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।”।
Section ৬৮. ২০০১ সনের ১৮ নং আইনের ধারা ৯৯ এর সংশোধন
উক্ত আইনের ধারা ৯৯ এর উপ-ধারা (১) এর পরিবর্তে নিম্নরূপ উপ-ধারা (১) প্রতিস্থাপিত হইবে, যথা:-
“(১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে কমিশন, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইন ও সরকার প্রণীত বিধির সহিত সংগতিপূর্ণ প্রবিধান প্রণয়ন করিতে পারিবে।”।
Section ৬৯. ২০০১ সনের ১৮ নং আইনের ধারা ১০২ এর সংশোধন
উক্ত আইনের ধারা ১০২ এ উল্লিখিত “তবে এই আইন ও উক্ত পাঠের মধ্যে কোন বিরোধ দেখা দিলে এই আইন কার্যকর হইবে” শব্দগুলির পরিবর্তে “তবে বাংলা পাঠ এবং উহার অনুমোদিত ইংরেজি পাঠের মধ্যে কোন বিরোধ দেখা দিলে বাংলা পাঠ প্রাধান্য পাইবে” শব্দগুলি প্রতিস্থাপিত হইবে।
Section ৭০. ২০০১ সনের ১৮ নং আইনের নূতন ধারা ১০৩ এর সন্নিবেশ
উক্ত আইনের ধারা ১০২ এর পর নিম্নরূপ নূতন ধারা ১০৩ সন্নিবেশিত হইবে, যথা:-
“১০৩। হেফাজত সংক্রান্ত বিশেষ বিধান।- বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬ প্রণয়নের ফলে বিদ্যমান আইনের বিভিন্ন বিধানের কার্যকারিতা লোপ পাওয়া সত্ত্বেও অনুরূপ লোপ পাইবার পর উহার ধারাবাহিকতায় বা বিবেচিত ধারাবাহিকতায় কোন কার্যধারা সূচিত হইয়া থাকিলে বা ব্যবস্থা গৃহীত হইয়া থাকিলে উহা এই আইনের অধীনেই সূচিত বা গৃহীত হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে।”।