যেহেতু রাজশাহী পৌর কর্পোরেশন স্থাপনকল্পে বিধান করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়; সেহেতু এতদ্দ্বারা নিম্নরূপ আইন করা হইল:-
১৷ এই আইন রাজশাহী [সিটি] কর্পোরেশন আইন, ১৯৮৭ নামে অভিহিত হইবে৷
২৷ বিষয় বা প্রসংগের পরিপন্থী কিছু না থাকিলে, এই আইনে-
[ *]
[ *]
৩৷ (১) এই আইনের বিধান মোতাবেক রাজশাহী নগরীতে রাজশাহী [সিটি] কর্পোরেশন নামে একটি [সিটি] কর্পোরেশন প্রতিষ্ঠিত হইবে৷
(২) কর্পোরেশন একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা হইবে এবং ইহার স্থায়ী ধারাবাহিকতা ও একটি সাধারণ সীলমোহর থাকিবে, এবং এই আইন ও বিধি সাপেক্ষে, ইহার স্থাবর ও অস্থাবর উভয় প্রকার সম্পত্তি অর্জন করার, অধিকারে রাখার ও হস্তান্তর করার ক্ষমতা থাকিবে এবং ইহার নামে ইহা মামলা দায়ের করিতে পারিবে বা ইহার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা যাইবে৷
[৩ক৷ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৫৯ এর উদ্দেশ্য পূরণকল্পে কর্পোরেশন এলাকা প্রজাতন্ত্রের একটি প্রশাসনিক একাংশ হইবে৷ ]
[৪৷ (১) কর্পোরেশন নিম্নরূপে গঠিত হইবে, যথা :-
(২) মেয়র এবং কমিশনারগণ প্রত্যক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে এই আইন ও বিধি অনুযায়ী প্রাপ্তবয়স্ক ভোটাধিকারের ভিত্তিতে নির্বাচিত হইবেন৷
(৩) উপ-ধারা (১)(খ) এর অধীন নির্ধারিত কমিশনার-সংখ্যার এক-তৃতীয়াংশের সমসংখ্যক আসন, অতঃপর সংরক্ষিত আসন বলিয়া উল্লিখিত, মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত থাকিবে৷
ব্যাখ্যা৷- এই উপ-ধারার অধীন সংরক্ষিত আসনের সংখ্যা নির্ধারণের ক্ষেত্রে, যদি উক্ত সংখ্যায় ভগ্নাংশ থাকে এবং উক্ত ভগ্নাংশ ১/২ (অর্ধেক) বা তদূর্ধ হয়, তবে উহাকে পূর্ণ সংখ্যা বলিয়া গণ্য করিতে হইবে এবং যদি উক্ত ভগ্নাংশ ১/২ (অর্ধেক) এর কম হয়, তবে উহাকে উপেক্ষা করিতে হইবে৷
(৪) এই ধারার কোন কিছুই উপ-ধারা (১)(খ) তে উল্লিখিত কোন আসনে কোন মহিলার নির্বাচন নিবৃত্ত করিবে না৷
(৫) মেয়র পদাধিকারবলে একজন কমিশনার হইবেন৷]
৫৷ [মেয়র- রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন (সংশোধন) আইন, ১৯৯৩ (১৯৯৩ সনের ৯ নং আইন) এর ৪ ধারাবলে বিলুপ্ত৷]
৬৷ [ডেপুটি মেয়র- রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন (সংশোধন) আইন, ১৯৯৩ (১৯৯৩ সনের ৯ নং আইন) এর ৫ ধারাবলে বিলুপ্ত৷]
[৭৷ (১) কর্পোরেশনের মেয়াদ উহা গঠিত হইবার পর উহার প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হইবার তারিখ হইতে পাঁচ বত্সর হইবে :
তবে শর্ত থাকে যে, কর্পোরেশনের মেয়াদ শেষ হওয়া সত্ত্বেও, উহা পুনর্গঠিত কর্পোরেশনের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত কাজ চালাইয়া যাইবে৷
(২) সংরক্ষিত আসনের কমিশনার ব্যতীত, শতকরা পঁচাত্তর ভাগ কমিশনারের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হইলে এবং তাঁহাদের নাম সরকারী গেজেটে প্রকাশিত হইলে, কর্পোরেশন, এই আইনের অন্যান্য বিধান সাপেক্ষে, গঠিত হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে৷
ব্যাখ্যা৷- শতকরা পঁচাত্তর ভাগ গণনায় ভগ্নাংশের ক্ষেত্রে শতকরা দশমিক পাঁচ শূন্যের কম ভগ্নাংশ হিসাবে নেওয়া হইবে না এবং শতকরা দশমিক পাঁচ শূন্য বা উহার বেশী ভগ্নাংশকে একক সংখ্যা ধরা হইবে৷]
৮৷ [(১) মেয়র বা কোন কমিশনার পদে নির্বাচিত ব্যক্তি তাঁহার কার্যভার গ্রহণের পূর্বে নিম্নলিখিত ফরমে সরকার কর্তৃক নির্ধারিত কোন ব্যক্তির সম্মুখে শপথ গ্রহণ বা ঘোষণা করিবেন এবং শপথ বা ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষরদান করিবেন, যথা:-
আমি ................................. পিতা বা স্বামী ............................. রাজশাহী [সিটি] কর্পোরেশনের মেয়র বা কমিশনার নির্বাচিত হইয়া সশ্রদ্ধচিত্তে শপথ বা দৃঢ়ভাবে ঘোষণা করিতেছি যে, আমি আইন অনুযায়ী ও বিশ্বস্ততার সহিত আমার পদের কর্তব্য পালন করিব এবং আমি বাংলাদেশের প্রতি অকৃত্রিম বিশ্বাস ও আনুগত্য পোষণ করিব৷]
(২) কোন ব্যক্তি উপ-ধারা (১) অনুযায়ী শপথ গ্রহণ বা ঘোষণা করিবার এবং শপথ পত্রে বা ঘোষণা পত্রে স্বাক্ষরদান করিবার পূর্বে যদি কমিশনার হিসাবে কোন কাজ করেন বা ভোটদান করার জন্য একশত টাকা করিয়া অর্থ দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং এই অর্থদণ্ড তাঁহার নিকট হইতে তাঁহার উপর এই আইনের অধীনে আরোপিত কর হিসাবে আদায়যোগ্য হইবে৷
৯৷ [মেয়রের শপথ- রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন (সংশোধন) আইন, ১৯৯৩ (১৯৯৩ সনের ৯ নং আইন) এর ৮ ধারাবলে বিলুপ্ত৷]
১০৷ [ *] মেয়র এবং প্রত্যেক কমিশনার তাঁহার দায়িত্বভার গ্রহণের পূর্বে তাঁহার এবং তাঁহার পরিবারের কোন সদস্যের স্বত্ব, দখল বা স্বার্থ আছে এই প্রকার যাবতীয় স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির একটি লিখিত বিবরণ সরকার কর্তৃক নির্দ্ধারিত পদ্ধতিতে সরকার কর্তৃক নির্দ্ধারিত ব্যক্তির নিকট দাখিল করিবেন৷
ব্যাখ্যা৷- পরিবারের সদস্য বলিতে মেয়র বা সংশ্লিষ্ট কমিশনারের স্বামী বা স্ত্রী, এবং তাঁহার সংগে বসবাসকারী এবং তাঁহার উপর সম্পূর্ণভাবে নির্ভরশীল তাঁহার ছেলেমেয়ে, পিতা-মাতা ও ভাইবোনকে বুঝাইবে৷
১১৷ (১) সরকারের উদ্দেশ্যে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে মেয়র স্বীয় পদত্যাগ করিতে পারিবেন৷
(২) [ *] কোন কমিশনার মেয়রের উদ্দেশ্যে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে স্বীয় পদ ত্যাগ করিতে পারিবেন।
(৩) প্রাপক যে তারিখে পদত্যাগ পত্র পাইবেন সেই তারিখ হইতে পদত্যাগ কার্যকর হইবে।
[১২। (১) মেয়র বা কোন কমিশনার তাঁহার স্বীয় পদ হইতে অপসারণযোগ্য হইবেন, যদি তিনি-
ব্যাখ্যা৷- এই উপ-ধারায় “অসদাচরণ” বলিতে ক্ষমতার অপব্যবহার, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি এবং ইচ্ছাকৃত কুশাসনও বুঝাইবে৷
(২) মেয়র বা কোন কমিশনারকে উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত কোন কারণে অপসারণ করা যাইবে না যদি প্রয়োজনানুরূপ তদন্ত অনুষ্ঠানের পর, সরকার কর্তৃক লিখিত আদেশ দ্বারা, তাঁহাকে অপসারণযোগ্য বলিয়া ঘোষণা করা না হয়:
তবে শর্ত থাকে যে, উক্তরূপ ঘোষণার পূর্বে মেয়র বা কমিশনারকে প্রস্তাবিত ঘোষণার বিরুদ্ধে কারণ দর্শাইবার জন্য যুক্তিসংগত সুযোগ দান করিতে হইবে৷
(৩) উপ-ধারা (২) অনুযায়ী ঘোষণা প্রদান করা হইলে এবং রাষ্ট্রপতি কর্তৃক উক্ত ঘোষণা অনুমোদিত হইলে, মেয়র বা ক্ষেত্রমত, কমিশনার তাঁহার পদ হইতে অপসারিত হইয়া যাইবেন৷
(৪) এই আইনের অন্যান্য বিধানে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই ধারা অনুযায়ী অপসারিত কোন ব্যক্তি কর্পোরেশনের কার্যকালের অবশিষ্ট মেয়াদের জন্য মেয়র বা কমিশনার কোন পদে নির্বাচিত হইবার যোগ্য হইবেন না৷]
১৩৷ (১) কোন ব্যক্তি বাংলাদেশের নাগরিক হইলে ও তাঁহার বয়স পঁচিশ বত্সর হইলে এবং তাঁহার নাম কর্পোরেশনের কোন ওয়ার্ডের ভোটার তালিকায় লিপিবদ্ধ থাকিলে উপ-ধারা (২)-এ বর্ণিত বিধান সাপেক্ষে, তিনি [মেয়র বা কমিশনার নির্বাচিত হইবার এবং উক্তরূপ মেয়র বা কমিশনার] থাকিবার যোগ্য হইবেন৷
(২) কোন ব্যক্তি [মেয়র বা কমিশনার নির্বাচিত হইবার এবং উক্তরূপ মেয়র বা কমিশনার] থাকিবার যোগ্য হইবেন না, যদি-
(৩) কোন ব্যক্তি একই সময়ে দুই বা ততোধিক ওয়ার্ডের কমিশনার হইবেন না৷
(৪) উপ-ধারা (৩) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কোন ব্যক্তি একই সময়ে দুই বা ততোধিক ওয়ার্ড হইতে নির্বাচিত প্রার্থী হইতে পারিবেন৷ তবে তিনি যদি একাধিক ওয়ার্ড হইতে নির্বাচিত হন, তাহা হইলে-
(১) তাঁহার সর্বশেষ নির্বাচনের সাত দিনের মধ্যে তিনি কোন্ ওয়ার্ডের প্রতিনিধিত্ব করিতে ইচ্ছুক, তাহা জ্ঞাপন করিয়া নির্বাচন কমিশনকে একটি স্বাক্ষরযুক্ত ঘোষণা প্রদান করিবেন এবং তিনি অন্য যে সকল নির্বাচনী ওয়ার্ড হইতে নির্বাচিত হইয়াছিলেন, অতঃপর সেই সকল ওয়ার্ডের আসনসমূহ শূন্য হইবে;
(২) প্যারাগ্রাফ (১) এর বিধান মান্য করিতে অসমর্থ হইলে, তিনি যে সকল ওয়ার্ড হইতে নির্বাচিত হইয়াছিলেন সেই সকল ওয়ার্ডের আসন শূন্য হইবে; এবং
(৩) এই উপ-ধারা, উপরিউক্ত বিধানসমূহ যতখানি প্রযোজ্য, ততখানি পালন না করা পর্যন্ত নির্বাচিত ব্যক্তি কমিশনারের শপথ গ্রহণ বা ঘোষণা করিতে ও শপথ পত্রে বা ঘোষণা পত্রে স্বাক্ষরদান করিতে পারিবেন না৷
[(৫) কোন ব্যক্তি একই সংগে মেয়র এবং কমিশনার পদের জন্য নির্বাচন প্রার্থী হইতে পারিবেন না এবং যদি কোন ব্যক্তি মেয়র এবং কমিশনার পদের নির্বাচনের জন্য একই সংগে প্রার্থী হন, তাহা হইলে তাঁহার উভয় মনোনয়ন পত্র বাতিল হইয়া যাইবে৷
(৬) কর্পোরেশনের চলতি মেয়াদ অব্যাহত থাকার সময়ে মেয়র এর পদ শূন্য হইলে, কোন কমিশনার মেয়র নির্বাচনের জন্য প্রার্থী হইতে পারিবেন, এবং তিনি মেয়র নির্বাচিত হইলে মেয়র হিসাবে তিনি যে তারিখে শপথ গ্রহণ করিবেন সেই তারিখে তাঁহার কমিশনারের পদ শূন্য হইয়া যাইবে৷]
১৪৷ (১) [মেয়র এবং কমিশনারের] পদ শূন্য হইবে, যদি-
(২) [রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন (সংশোধন) আইন, ১৯৯৩ (১৯৯৩ সনের ৯ নং আইন) এর ১৩ ধারাবলে বিলুপ্ত৷]
(৩) [মেয়র বা কোন কমিশনার] তাঁহার নির্বাচনের পর ধারা ১৩(২) এর অধীনে অযোগ্য হইয়া গিয়াছেন কিনা সে সম্পর্কে কোন বিতর্ক দেখা দিলে, নিষ্পত্তির জন্য প্রশ্নটি প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কর্তৃক রাজশাহীর জেলা জজের নিকট প্রেরিত হইবে, এবং জেলা জজ যদি এই অভিমত ব্যক্ত করেন যে, উক্ত [মেয়র বা কমিশনার] অনুরূপ অযোগ্য হইয়া গিয়াছেন, তাহা হইলে তিনি স্বীয় পদে বহাল থাকিবেন না এবং জেলা জজের উক্ত অভিমত ব্যক্ত করার তারিখ হইতে [মেয়র বা উক্ত কমিশনারের] পদটি শূন্য হইবে৷
(৪) কোন [মেয়র বা কমিশনারের] পদ শূন্য হইলে তাহা সরকারী গেজেটে প্রকাশ করা হইবে৷
১৫৷ (১) কর্পোরেশনের মেয়াদ শেষ হইবার একশত আশি দিন পূর্বে কোন কমিশনারের পদ শূন্য হইলে পদটি শূন্য হইবার নব্বই দিনের মধ্যে ইহা পূরণ করিতে হইবে, এবং যিনি উক্ত পদে নির্বাচিত [ *] হইবেন তিনি কর্পোরেশনের অবশিষ্ট মেয়াদের জন্য উক্ত পদে বহাল থাকিবেন৷
(২) [ *] মেয়রের পদ শূন্য হইলে, পদটি শূন্য হইবার [নব্বই দিনের] মধ্যে ইহা পূরণ করিতে হইবে৷
১৬৷ কোন কমিশনার কর্পোরেশনের বা উহার কোন কমিটির সভায় যোগদানের জন্য কর্পোরেশন কর্তৃক সরকারের পূর্ব অনুমোদনক্রমে নির্দ্ধারিত হারে দৈনিক ভাতা পাইবার অধিকারী হইবেন৷
১৭৷ [মেয়র] সরকারের পূর্ব অনুমোদনক্রমে কর্পোরেশন কর্তৃক নির্দ্ধারিত সম্মানী ও অন্যান্য সুবিধা পাইবার অধিকারী হইবেন৷
১৮৷ (১) মেয়র কর্পোরেশনের রেকর্ডপত্র দেখিতে পারিবেন এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কিংবা অন্য কোন কর্মকর্তার নিকট হইতে কর্পোরেশন সম্পর্কিত যে কোন বিষয়ে রিপোর্ট চাহিতে পারিবেন৷
(২) কোন কমিশনার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে যথাযথ নোটিশ প্রদান করিয়া অফিস চলাকালীন সময়ে কর্পোরেশনের রেকর্ডপত্র দেখিতে পারিবেন :
তবে শর্ত থাকে যে, যদি প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মত পোষণ করেন যে, কোন বিশেষ ক্ষেত্রে অনুরূপ অধিকার প্রয়োগ করিতে দেওয়া উচিত হইবে না, তাহা হইলে তিনি বিষয়টি মেয়রের নিকট পেশ করিবেন এবং তত্সম্পর্কে মেয়রের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হইবে৷
[১৯৷ (১) অনুপস্থিতি কিংবা অসুস্থতাহেতু বা অন্য কোন কারণে মেয়র দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হইলে, তিনি পুনরায় স্বীয় দায়িত্ব পালনে সমর্থ না হওয়া পর্যন্ত তত্কর্তৃক লিখিতভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন কমিশনার মেয়রের দায়িত্ব পালন করিবেন৷
(২) পদত্যাগ, অপসারণ অথবা মৃত্যুজনিত কারণে মেয়রের পদ শূন্য হইলে, শূন্য পদে নব-নির্বাচিত মেয়র কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত সরকার কর্তৃক আদেশ প্রাপ্ত কোন কমিশনার মেয়র হিসাবে কার্য্য করিবেন৷]
[২০৷ ধারা ৪(১) এর দফা (খ) তে উল্লিখিত কমিশনার নির্বাচনের উদ্দেশ্যে সীমা নির্ধারণ কর্মকর্তা নগরীকে উক্ত দফার অধীনে নির্ধারিত সংখ্যক কমিশনারের সমসংখ্যক ওয়ার্ডে বিভক্ত করিবেন৷]
২১৷ (১) নির্বাচন কমিশন, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োজিত ব্যক্তিগণের মধ্য হইতে একজন সীমা নির্দ্ধারণ কর্মকর্তা এবং প্রয়োজনীয় সংখ্যক সহকারী সীমা নির্দ্ধারণ কর্মকর্তা নিয়োগ করিতে পারিবে৷
(২) সহকারী সীমা নির্দ্ধারণ কর্মকর্তা সীমা নির্দ্ধারণ কর্মকর্তাকে তাঁহার কার্য সম্পাদনে সহায়তা করিবেন এবং সীমা নির্দ্ধারণ কর্মকর্তার নিয়ন্ত্রণাধীনে সীমা নির্দ্ধারণ কর্মকর্তার কার্যাবলীও সম্পাদন করিতে পারিবেন৷
২২৷ (১) ওয়ার্ডসমূহের সীমা নির্ধারণের ক্ষেত্রে এলাকার অখণ্ডতা এবং যতদূর সম্ভব, জনসংখ্যা বিন্যাসের প্রতি লক্ষ্য রাখিতে হইবে৷
(২) সীমা নির্দ্ধারণ কর্মকর্তা ওয়ার্ডসমূহের সীমা নির্দ্ধারণকল্পে প্রয়োজনীয় তদন্ত অনুষ্ঠান করিতে এবং সকল সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পরীক্ষা করিতে এবং এতদসংক্রান্ত বিষয়ে প্রাপ্ত যাবতীয় অভিযোগ বিবেচনা করিতে পারিবেন; এবং নগরীর কোন এলাকা কোন ওয়ার্ডের অন্তর্ভুক্ত হইবে তাহা উল্লেখ করিয়া বিধি অনুযায়ী তিনি একটি প্রাথমিক তালিকা প্রকাশ করিবেন এবং তত্সহ নির্দ্ধারিত সময়ের মধ্যে তত্সম্পর্কে আপত্তি ও পরামর্শ দাখিল করিবার আহবান জানাইয়া একটি নোটিশও প্রকাশ করিবেন৷
(৩) উপ-ধারা (২) এর অধীনে প্রাপ্ত কোন আপত্তি বা পরামর্শ বিধি অনুযায়ী নিষ্পত্তি করা হইবে৷
(৪) সীমা নির্দ্ধারণ কর্মকর্তা, তত্কর্তৃক গৃহীত আপত্তি বা পরামর্শের ভিত্তিতে বা কোন ত্রুটি বা বিচ্যুতি দূরীকরণের প্রয়োজনে উপ-ধারা (২) এর অধীনে প্রকাশিত প্রাথমিক তালিকায় প্রয়োজনীয় সংশোধন বা পরিবর্তন করিতে পারিবেন৷
(৫) উপ-ধারা (৪) এর অধীনে কৃত সংশোধন বা পরিবর্তনের পর সীমা নির্দ্ধারণ কর্মকর্তা প্রত্যেক ওয়ার্ডের অন্তর্ভুক্ত এলাকাসমূহ উল্লেখ করিয়া বিধি অনুযায়ী ওয়ার্ডসমূহের একটি চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করিবেন৷
[২২ক৷ সংরক্ষিত আসনের কমিশনার নির্বাচনের উদ্দেশ্যে, সীমা নির্ধারণ কর্মকর্তা-
২৩৷ (১) প্রত্যেক ওয়ার্ডের জন্য নির্বাচিত কমিশন কর্তৃক প্রণীত একটি ভোটার তালিকা থাকিবে৷
(২) কোন ব্যক্তি কোন ওয়ার্ডের ভোটার তালিকাভুক্ত হইবার অধিকারী হইবেন, যদি তিনি-
২৪৷ কোন ব্যক্তির নাম যে ওয়ার্ডের ভোটার তালিকায় আপাততঃ লিপিবদ্ধ থাকিবে তিনি সেই ওয়ার্ডের [কমিশনার এবং মেয়র] নির্বাচনে ভোট দিতে পারিবেন৷
[২৪ক৷ (১) কর্পোরেশনের মেয়াদ শেষ হইবার তারিখের পূর্ববর্তী একশত আশি দিনের মধ্যে কর্পোরেশনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হইবে৷
(২) কর্পোরেশন বাতিল হইয়া গেলে, বাতিল থাকার মেয়াদ শেষ হইবার তারিখের পূর্বে কর্পোরেশন পুনর্গঠনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হইবে৷
(৩) উপ-ধারা (১) অথবা (২) এর অধীন নির্বাচিত মেয়র অথবা কমিশনার কর্পোরেশনের মেয়াদ অথবা, ক্ষেত্রমত, কর্পোরেশনের বাতিলের মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত কর্পোরেশনের কার্যভার গ্রহণ করিতে পারিবেন না৷]
২৫৷ নির্বাচন কমিশন বিধি অনুযায়ী [ [ *] মেয়র এবং] কমিশনারের নির্বাচন অনুষ্ঠান ও পরিচালনা করিবেন; এবং অনুরূপ বিধিতে নিম্নবর্ণিত সকল অথবা যে কোন বিষয়ে বিধান করা যাইবে, যথা-
২৬৷ [ [ *] মেয়র এবং কমিশনার] হিসাবে নির্বাচিত সকল ব্যক্তির নাম নির্বাচনের পর, যথাশীঘ্র সম্ভব, নির্বাচন কমিশন সরকারী গেজেটে প্রকাশ করিবেন৷
২৭৷ বিধি এবং সরকার কর্তৃক সময় সময় প্রদত্ত নির্দেশ সাপেক্ষে, কর্পোরেশন, উহার তহবিলের সংগতি অনুযায়ী, চতুর্থ খণ্ডে বর্ণিত কর্পোরেশন কর্তৃক অবশ্য সম্পাদনীয় কার্যাবলী সম্পাদন করিবে এবং উক্ত খণ্ডে বর্ণিত অন্যান্য কার্যাবলীও সম্পাদন করিতে পারিবে; এবং কর্পোরেশন কর্তৃক সম্পাদন করা যথাযথ বলিয়া সরকার কর্তৃক ঘোষিত হইলে অন্য যে কোন কাজও করিতে পারিবে৷
২৮৷ এই আইনে অথবা আপাততঃ বলবত্ অন্য কোন আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, সরকার প্রয়োজনবোধে তত্কর্তৃক নির্দ্ধারিত শর্ত সাপেক্ষে,-
২৯৷ (১) এই আইনের অধীনে যাবতীয় কার্যাবলী যথাযথভাবে সম্পাদনের জন্য প্রয়োজনীয় সব কিছু করিবার ক্ষমতা কর্পোরেশনের থাকিবে৷
(২) এই আইন এবং বিধিতে ভিন্নরূপ বিধান না থাকিলে, কর্পোরেশনের নির্বাহী ক্ষমতা মেয়রের উপর ন্যস্ত থাকিবে এবং এই আইন ও বিধি অনুযায়ী উহা মেয়র কর্তৃক প্রত্যক্ষভাবে অথবা [ *] প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বা মেয়রের নিকট হইতে ক্ষমতা প্রাপ্ত অন্য কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারীর মাধ্যমে প্রযোজ্য হইবে৷
(৩) কর্পোরেশনের নির্বাহী বা অন্য কোন কার্য কর্পোরেশনের নামে গৃহীত হইয়াছে বলিয়া প্রকাশ করা হইবে এবং উহা বিধি দ্বারা নির্দ্ধারিত পদ্ধতিতে প্রমাণীকৃত হইতে হইবে৷
[২৯ক৷ (১) কর্পোরেশনের সুষ্ঠু প্রশাসন ও যথাযথ কার্য পরিচালনার উদ্দেশ্যে সরকার নগরীকে প্রয়োজনীয় সংখ্যক জোনে বিভক্ত করিতে পারিবে৷
(২) প্রত্যেক জোনে একটি করিয়া জোনাল অফিস থাকিবে এবং ইহা কর্পোরেশন কর্তৃক প্রদত্ত কার্যাবলী মেয়রের তত্ত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রণে বিধি অনুযায়ী সম্পাদন করিবে৷]
৩০৷ কর্পোরেশনের সকল কার্য বিধি দ্বারা নির্দ্ধারিত সীমার মধ্যে ও পদ্ধতিতে উহার বা উহার স্থায়ী কমিটিসমূহের সভায় অথবা উহার মেয়র, [ *] প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বা অন্যান্য কর্মকর্তা বা কর্মচারী কর্তৃক নিষ্পন্ন করা হইবে৷
৩১৷ (১) কর্পোরেশন প্রতিমাসে অন্যুন একবার সভায় মিলিত হইবে৷
(২) মেয়র অথবা তাঁহার অনুপস্থিতিতে [ধারা ১৯ এর বিধান অনুযায়ী ক্ষমতাপ্রাপ্ত কমিশনার] প্রয়োজন মনে করিলে যে কোন সময় কর্পোরেশনের সভা আহ্বান করিতে পারিবেন, তবে কমিশনারদের মোট সদস্য-সংখ্যার দুই-তৃতীয়াংশের লিখিত অনুরোধ প্রাপ্ত হইলে তিনি কর্পোরেশনের সভা আহ্বান করিতে বাধ্য থাকিবেন৷
(৩) কমিশনারগণের মোট সংখ্যার অন্যুন এক-তৃতীয়াংশ সর্বক্ষণ উপস্থিত না থাকিলে কর্পোরেশনের কোন সভায় কোন কার্য নিষ্পন্ন করা যাইবে না৷
(৪) এই আইনে ভিন্নরূপ বিধান না থাকিলে, কর্পোরেশনের সভায় সকল সিদ্ধান্ত উপস্থিত কমিশনারগণের অধিকাংশের ভোটে গৃহীত হইবে৷
(৫) প্রত্যেক কমিশনারের একটি করিয়া ভোট থাকিবে, এবং ভোটের সমতার ক্ষেত্রে সভাপতির একটি দ্বিতীয় বা নির্ণায়ক ভোট প্রদানের ক্ষমতা থাকিবে৷
(৬) কর্পোরেশনের সকল সভায় মেয়র, অথবা তাঁহার অনুপস্থিতিতে [ধারা ১৯ এর বিধান অনুযায়ী ক্ষমতাপ্রাপ্ত কমিশনার] অথবা উভয়ের অনুপস্থিতিতে, উপস্থিত কমিশনারগণ কর্তৃক নির্বাচিত কোন কমিশনার সভাপতিত্ব করিবেন৷
[(৭) সরকার কর্তৃক নির্ধারিত কর্মকর্তাগণ কর্পোরেশনের আমন্ত্রণে উহার সভায় যোগদান করিবেন এবং সভার আলোচনায় সক্রিয় অংশগ্রহণ করতঃ বক্তব্য প্রদান করিতে পারিবেন, তবে তাঁহাদের ভোটাধিকার থাকিবে না৷]
৩২৷ (১) কর্পোরেশন প্রত্যেক বত্সর উহার প্রথম সভায়, অথবা যথাশীঘ্র সম্ভব, তত্পরবর্তী কোন সভায় নিম্নবর্ণিত বিষয়াদির প্রত্যেকটি সম্পর্কে একটি করিয়া স্থায়ী কমিটি গঠন করিবে-
(২) সরকারের পূর্ব অনুমোদনক্রমে, কর্পোরেশন প্রয়োজনবোধে অন্য কোন বিষয়ের জন্যও স্থায়ী কমিটি গঠন করিতে পারিবে৷
(৩) প্রত্যেক স্থায়ী কমিটি অনূর্ধ ছয়জন সদস্যের সমন্বয়ে গঠিত হইবে, এবং তাঁহারা কমিশনারগণ কর্তৃক তাঁহাদের নিজেদের মধ্য হইতে নির্বাচিত হইবেন, তবে কোন কমিশনার একই সময়ে দুইটির অধিক স্থায়ী কমিটির সদস্য হইবেন না৷
(৪) মেয়র [ *] পদাধিকার বলে সকল স্থায়ী কমিটির সদস্য হইবেন৷
(৫) প্রত্যেক স্থায়ী কমিটি উহার সদস্যদের মধ্য হইতে উহার একজন চেয়ারম্যান এবং একজন ভাইস-চেয়ারম্যান নির্বাচিত করিবে৷
(৬) মেয়রের উদ্দেশ্যে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে চেয়ারম্যান বা ভাইস-চেয়ারম্যান স্বীয় পদ ত্যাগ করিতে পারিবেন, এবং মেয়র কর্তৃক পদত্যাগ পত্র প্রাপ্তির তারিখ হইতে পদত্যাগ কার্যকরণ হইবে৷
(৭) কোন স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান বা ভাইস-চেয়ারম্যান অথবা অন্য কোন সদস্যের পদ আকস্মিকভাবে শূন্য হইলে, তাহা নির্বাচনের মাধ্যমে পূরণ করা হইবে এবং নব নির্বাচিত ব্যক্তি তাঁহার পূর্বসূরীর অবশিষ্ট মেয়াদের জন্য তাঁহার পদে অধিষ্ঠিত থাকিবেন৷
(৮) কোন স্থায়ী কমিটি উহার উত্তরাধিকারী স্থায়ী কমিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করিতে থাকিবে৷
৩৩৷ (১) কর্পোরেশন প্রবিধান দ্বারা প্রত্যেক স্থায়ী কমিটির কার্যাবলী নির্দ্ধারণ করিবে৷
(২) স্থায়ী কমিটির সকল কার্যধারা কর্পোরেশনের অনুমোদন সাপেক্ষে হইবে৷
৩৪৷ কর্পোরেশন প্রয়োজনবোধে অন্য কোন উদ্দেশ্যে কমিশনারগণের মধ্য হইতে বাছাইকৃত ব্যক্তিগণের সমন্বয়ে অন্যান্য কমিটি গঠন করিতে পারিবে৷
৩৫৷ (১) কর্পোরেশনের বা উহার কোন স্থায়ী কমিটি কিংবা অন্য কোন কমিটি উহার যে কোন দায়িত্ব পালনের জন্য কোন ব্যক্তির সাহায্য বা পরামর্শের প্রয়োজন বোধ করিলে উক্ত ব্যক্তিকে উহার কাজের সহিত সম্পৃক্ত করিতে পারিবে৷
(২) উপ-ধারা (১)-এর অধীনে কর্পোরেশন বা কোন কমিটির সহিত সম্পৃক্ত ব্যক্তি উহার সভায় আলোচনায় অংশ গ্রহণ করিতে পারিবেন, তবে তাঁহার কোন ভোট দানের অধিকার থাকিবে না৷
৩৬৷ (১) সংখ্যাগরিষ্ঠ কমিশনারগণের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কর্পোরেশনের কোন সভা একান্ত অনুষ্ঠিত না হইলে, উহার প্রত্যেক সভা জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকিবে৷
(২) কর্পোরেশন প্রবিধান দ্বারা উহার সভায় জনসাধারণের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করিতে পারিবে এবং সভায় প্রবেশকৃত কোন কোন ব্যক্তি উহার কার্যধারা ব্যাহত করিলে, প্রয়োজনবোধে, বলপূর্বক অপসারণের জন্যও বিধান করিতে পারিবে৷
৩৭৷ কর্পোরেশন বা উহার কোন কমিটি সভায় কোন কমিশনারের আচরণ সম্পর্কিত কোন বিষয়ের আলোচনায় অথবা তাঁহার আর্থিক স্বার্থ আছে এইরূপ কোন বিষয়ে অথবা তাঁহার ব্যবস্থাধীন বা নিয়ন্ত্রণাধীন আছে এইরূপ কোন সম্পত্তি বিষয়ক আলোচনায় তিনি অংশ গ্রহণ বা ভোট দান করিবেন না৷
৩৮৷ এই আইন সাপেক্ষে, কর্পোরেশন উহার সভা এবং উহার স্থায়ী কমিটি কিংবা অন্যান্য কমিটির সভার কার্য পদ্ধতি ও কার্য পরিচালনার জন্য প্রবিধান প্রণয়ন করিতে পারিবে৷
৩৯৷ (১) কর্পোরেশন এবং উহার প্রত্যেক স্থায়ী কমিটি বা অন্য কোন কমিটির সভায় কার্যবিবরণীতে অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে, উপস্থিত কমিশনার বা সদস্যগণের নাম উল্লেখ করিতে হইবে এবং উক্ত কার্য বিবরণী তদুদ্দেশ্যে রত্মিগত একটি বহিতে লিপিবদ্ধ করিতে হইবে, এবং সভার সভাপতি কর্তৃক তাহা স্বাক্ষরিত হইতে হইবে এবং কর্পোরেশন বা সংশ্লিষ্ট কমিটির পরবর্তী সভায় উপস্থাপিত হইতে হইবে৷
(২) উক্ত-ধারা (১) এ উল্লেখিত কার্যবিবরণী কর্পোরেশন অফিসে পরিদর্শনের জন্য উন্মুক্ত রাখিতে হইবে, তবে কমিশনার ব্যতীত অন্য যে কোন ব্যক্তি উহা পরিদর্শন করিতে চাহিলে তাহাকে তজ্জন্য এক টাকা ফিস প্রদান করিতে হইবে৷
(৩) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা প্রত্যেক সভার কার্যবিবরণীর একটি প্রতিলিপি উক্ত কার্য বিবরণী স্বাক্ষরিত হইবার তারিখ হইতে দশ দিনের মধ্যে সরকারের নিকট প্রেরণ করিবেন৷
৪০৷ (১) এই আইনের অধীনে কৃত কোন কার্য বা গৃহীত কোন কার্যধারা সম্পর্কে কেবল মাত্র-
(২) কর্পোরেশন অথবা উহার কোন কমিটির সভার কার্যবিবরণী যথাযথভাবে লিপিবদ্ধ ও স্বাক্ষরিত হইলে উহার সভা যথাযথভাবে আহবান করা হইয়াছে এবং পরিচালিত হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে৷
৪১৷ (১) কর্পোরেশন কর্তৃক বা উহার পক্ষে সম্পাদিত সকল চুক্তি-
(২) কোন চুক্তি সম্পাদনের অব্যবহিত পরে অনুষ্ঠিত কর্পোরেশনের সভায় প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা চুক্তিটি সম্পর্কে উহাকে অবহিত করিবেন৷
(৩) কর্পোরেশন প্র স্তাবের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের চুক্তি সম্পাদনের জন্য পদ্ধতি নির্দ্ধারণ করিতে পারিবে এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা চুক্তি সম্পাদনের ব্যাপারে উক্ত প্রস্তাব অনুযায়ী কাজ করিবেন৷
(৪) এই ধারার খেলাপ সম্পাদিত কোন দায়িত্ব কর্পোরেশনের উপর বর্তাইবে না৷
৪২৷ সরকার বিধি দ্বারা-
৪৩৷ কর্পোরেশন-
৪৪৷ (১) কর্পোরেশনের একজন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা থাকিবেন এবং তিনি সরকার কর্তৃক নির্ধারিত শর্তে নিযুক্ত হইবেন৷
(২) তিনি কার্যভার গ্রহণের তারিখ হইতে তিন বত্সর মেয়াদের জন্য তাঁহার পদে অধিষ্ঠিত থাকিবেন; তবে সরকার উক্ত মেয়াদ অনধিক এক বত্সর করিয়া বৃদ্ধি করিতে পারিবে৷
(৩) উপ-ধারা (২) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, সরকার যে কোন সময় কোন কারণ না দর্শাইয়া প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে তাঁহার পদ হইতে অপসারণ করিতে পারিবে; এবং এতদুদ্দেশ্যে আহুত কর্পোরেশনের বিশেষ উপস্থিত সভায় কমিশনারগণের মোট সংখ্যা তিন-পঞ্চমাংশের ভোটে তাঁহার অপসারণের জন্য প্রস্তাব গৃহীত হইলে সরকার তাঁহাকে অবশ্যই তাঁহার পদ হইতে অপসারণ করিবে:
তবে শর্ত থাকে যে, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োজিত কোন ব্যক্তি হইলে, সরকারকে এক মাসের নোটিশ না দিয়া অনুরূপ কোন বিশেষ সভা আহ্বান করা এবং অনুরূপ কোন প্রস্তাব উত্থাপন করা যাইবে না৷
(৪) এই আইন ও বিধিতে ভিন্নরূপ বিধান না থাকিলে, মেয়র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে যে ক্ষমতা বা যে দায়িত্ব প্রদান করিবেন তিনি সেই ক্ষমতা প্রয়োগ বা দায়িত্ব পালন করিবেন৷
(৫) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা স্বীয় ক্ষমতা প্রয়োগ এবং দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে মেয়রের নিকট দায়ী থাকিবেন৷
(৬) অনুপস্থিতি, অসুস্থতা বা অন্য কোন কারণে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তাঁহার দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হইলে, সরকার কর্তৃক নিযুক্ত কোন ব্যক্তি প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করিবেন৷
৪৫৷ কোন দুর্ঘটনাবশতঃ বা দুর্ঘটনার সম্ভাবনার কারণে, অথবা অদৃষ্টপূর্ব কোন ঘটনা বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে, কর্পোরেশনের সম্পত্তির ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হইলে, হওয়ার সম্ভাবনা থাকিলে, অথবা জীবন বিপন্ন হইলে বা হওয়ার সম্ভাবনা থাকিলে, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তাঁহার বিবেচনা মতে উপযুক্ত ত্বরিত ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে পারিবেন এবং তত্সম্পর্কে তিনি অবিলম্বে কর্পোরেশন কিংবা সংশ্লিষ্ট স্থায়ী কমিটির নিকট প্রতিবেদন পেশ করিবেন, এবং উক্ত প্রতিবেদনে অনুরূপ ব্যবস্থা গ্রহণের কারণ এবং তজ্জন্য যদি কোন খরচ হইয়া থাকে, বা হইতে পারে, তাহাও উল্লেখ করিবেন৷
৪৬৷ প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কর্পোরেশন ও উহার সকল কমিটির যাবতীয় কাগজপত্র, দলিল দস্তাবেজসহ, নথিপত্র ও কার্যবিবরণী হেফাজতের জন্য দায়ী থাকিবেন৷
৪৭৷ প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কর্পোরেশন বা উহার যে কোন কমিটির সভায় উপস্থিত থাকিবার এবং উহার আলোচনায় অংশ গ্রহণের অধিকার থাকিবে এবং অনুরূপ কোন সভায় তিনি সভাপতির অনুমতিক্রমে কোন বিষয়ে বিবৃতি প্রদান বা ব্যাখ্যাদান করিতে পারিবেন, তবে উহাতে তাঁহার কোন ভোটদানের বা প্রস্তাব উত্থাপনের কোন অধিকার থাকিবে না৷
৪৮৷ (১) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সময় সময় যে সমস্তপদ তাঁহার বিবেচনায় কর্পোরেশনে থাকার প্রয়োজন তাহার একটি তফসিল প্রস্তুত করিয়া কর্পোরেশনের নিকট পেশ করিবেন৷
(২) কর্পোরেশন, সরকারের পূর্ব অনুমোদনক্রমে উহার বিবেচনায় প্রয়োজনীয় সংশোধনসহ, উক্ত তফসিল চূড়ান্ত করিতে এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার মতামত গ্রহণ করিয়া সরকারের পূর্বে অনুমোদনক্রমে উহা সংশোধন করিতে পারিবে৷
৪৯৷ ধারা ৪৮ এর অধীনে অনুমোদিত তফসিল বহির্ভূত কর্পোরেশনের কোন পদে কোন ব্যক্তিকে নিয়োগদান করা যাইবে না৷
৫০৷ এই আইনের বিধান ও বিধি সাপেক্ষে, [এক হাজার সাত শত পঁচিশ টাকার] ঊর্ধ্বে বেতনের পদে মেয়র এবং অন্যান্য সকল পদে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিয়োগদান করিবেন৷
৫১৷ কর্পোরেশন, বিধি অনুসারে-
৫২৷ (১) বিভাগীয় কোন প্রবিধান লঙ্ঘন কিংবা শৃঙ্খলা ভঙ্গ, অথবা দায়িত্ব পালনে অবহেলা বা অসর্তকতা বা দুর্নীতি বা অসদাচরণের দায়ে কর্পোরেশনের কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারীকে বিধি দ্বারা নির্দ্ধারিত কোন কর্তৃপক্ষ বিধি দ্বারা নির্দ্ধারিত পদ্ধতিতে নিম্নলিখিত যে কোন শাস্তি প্রদান করতে পারিবে:-
তবে শর্ত থাকে যে, অনরূপ কর্মকর্তা বা কর্মচারীকে শাস্তিদানকারী কর্তৃপক্ষ তাঁহার নিয়োগদানকারী কর্তৃপক্ষ অপেক্ষা অধঃস্তন কর্তৃপক্ষ হইবে না৷
(২) উপ-ধারা (১) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, অনুরূপ কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারীকে তাঁহার সম্পর্কে প্রস্তাবিত ব্যবস্থা গ্রহণের বিরুদ্ধে কারণ দর্শাইবার যুক্তিসঙ্গত সুযোগদান না করা পর্যন্ত তাঁহাকে বরখাস্ত বা অপসারিত বা পদাবনতি করা যাইবে না :
তবে শর্ত থাকে যে, এই দফা সেই সকল ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে না, যেখানে-
(৩) এই ধারা অনুযায়ী শাস্তিপ্রাপ্ত কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারী বিধি দ্বারা নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট বিধি দ্বারা নির্দ্ধারিত পদ্ধতিতে আপীল করিতে পারিবেন৷
৫৩৷ এই আইনের বিধান সাপেক্ষে, সরকার বিধি দ্বারা-
৫৪৷ (১) কর্পোরেশন তহবিল নামে একটি তহবিল থাকিবে৷
(২) কর্পোরেশন তহবিলে নিম্নলিখিত অর্থ জমা হইবে, যথা :-
৫৫৷ (১) কর্পোরেশন তহবিলে জমাকৃত টাকা সরকারী ট্রেজারীর কার্য পরিচালনাকারী কোন ব্যাংকে অথবা সরকার কর্তৃক নির্দ্ধারিত অন্য কোন প্রকারে জমা রাখা হইবে৷
(২) বিধি দ্বারা নির্দ্ধারিত পদ্ধতিতে কর্পোরেশন উহার তহবিলের কিছু অংশ বিনিয়োগ করিতে পারিবে৷
(৩) কর্পোরেশন ইচ্ছা করিলে কোন বিশেষ উদ্দেশ্যে আলাদা তহবিল গঠন করিতে পারিবে, তবে সরকারের নির্দেশ থাকিলে কর্পোরেশন অনুরূপ তহবিল গঠন করিবে এবং বিধি দ্বারা নির্দ্ধারিত পদ্ধতিতে উহা পরিচালনা করিবে৷
৫৬৷ কর্পোরেশন তহবিলের অর্থ নিম্নলিখিত খাতে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে ব্যয় করা যাইবে, যথা:-
প্রথমতঃ কর্পোরেশন কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন ও ভাতা প্রদান;
দ্বিতীয়তঃ এই আইনের অধীনে কর্পোরেশন তহবিলের উপর দায়যুক্ত ব্যয়;
তৃতীয়তঃ এই আইন বা আপাততঃ বলবত্ অন্য কোন আইন দ্বারা ন্যস্ত কর্পোরেশনের দায়িত্ব সম্পাদন এবং কর্তব্য পালনের জন্য ব্যয়;
চতুর্থতঃ সরকারের পূর্ব অনুমোদনক্রমে কর্পোরেশন কর্তৃক ঘোষিত কর্পোরেশন তহবিলের উপর দায়যুক্ত ব্যয়;
পঞ্চমতঃ সরকার কর্তৃক ঘোষিত কর্পোরেশন তহবিলের উপর দায়যুক্ত ব্যয়৷
৫৭৷ (১) কর্পোরেশন তহবিলের উপর দায়যুক্ত ব্যয় নিম্নরূপ হইবে:-
(২) কর্পোরেশন তহবিলের উপর দায়যুক্ত ব্যয়ের খাতে যদি কোন অর্থ অপরিশোধিত থাকে, তাহা হইলে যে ব্যক্তির হেফাজতে উক্ত তহবিল থাকিবে সেই ব্যক্তিকে সরকার, আদেশ দ্বারা, উক্ত তহবিল হইতে যতদূর সম্ভব ঐ অর্থ পরিশোধ করার নির্দেশ দিতে পারিবে৷
৫৮৷ চলতি বাজেটে কোন ব্যয় অনুমোদিত না থাকিলে এবং উহাতে পর্যাপ্ত উদ্বৃত্ত না থাকিলে, উহা হইতে কোন অর্থ ব্যয় করা যাইবে না:
তবে শর্ত থাকে যে, ধারা ৫৭ অনুযায়ী ব্যয়িত অর্থের ক্ষেত্রে এই ধারা প্রযোজ্য হইবে না৷
৫৯৷ (১) সরকারের লিখিত নির্দেশে মেয়র জনস্বার্থের প্রয়োজনে যে কোন সময়ে যে কোন জরুরী কার্য সম্পাদন করিতে পারিবেন; এবং তিনি কর্পোরেশনের নিয়মিত কার্যে কোন প্রকার বাধার সৃষ্টি না করিয়া, যতদূর সম্ভব, উক্ত কার্য সম্পাদনের জন্য কর্পোরেশন তহবিল হইতে অস্থায়ীভাবে অর্থ খরচ করিতে পারিবেন৷
(২) অনুরূপভাবে সম্পাদিত কার্যের খরচ সরকার বহন করিবে এবং এতদুদ্দেশ্যে সরকার কর্তৃক প্রদত্ত অর্থ কর্পোরেশন তহবিলে জমা হইবে৷
(৩) এই ধারার অধীনে মেয়র কর্তৃক গৃহীত যাবতীয় ব্যবস্থা সম্পর্কে তিনি কর্পোরেশনকে অবহিত করিবেন৷
৬০৷ (১) কর্পোরেশন প্রতি বত্সর পহেলা জুনের পূর্বে উহার পরবর্তী আসন্ন অর্থ বত্সরের প্রাক্কলিত আয়-ব্যয়ের একটি বিবরণ বিধি দ্বারা নির্দ্ধারিত পদ্ধতিতে প্রস্তুত ও অনুমোদন করিবে, যাহা অতঃপর বাজেট বলিয়া অভিহিত হইবে, এবং কর্পোরেশন উহার একটি প্রতিলিপি সরকারের নিকট প্রেরণ করিবে৷
(২) কর্পোরেশন পহেলা জুনের পূর্বে উহা উপ-ধারা (১) এ বর্ণিত পদ্ধতিতে যদি উহার বাজেট প্রস্তুত ও অনুমোদন না করে, তাহা হইলে সরকার প্রয়োজনীয় বিবরণ প্রস্তুত ও প্রত্যায়ন করাইতে পারিবে, এবং অনুরূপভাবে প্রত্যায়িত বিবরণ কর্পোরেশনের অনুমোদিত বাজেট বলিয়া গণ্য হইবে৷
(৩) সরকার উপ-ধারা (১) অনুযায়ী বাজেটের প্রতিলিপি প্রাপ্তির ত্রিশ দিনের মধ্যে আদেশ দ্বারা উহা পরিবর্তন করিতে পারিবে এবং অনুরূপভাবে পরিবর্তিত বাজেট কর্পোরেশনের অনুমোদিত বাজেট বলিয়া গণ্য হইবে৷
(৪) কোন অর্থ বত্সর শেষ হওয়ার পূর্বে যে কোন সময়ে প্রয়োজন হইলে উক্ত বত্সরের জন্য সংশোধিত বাজেট প্রস্তুত ও অনুমোদন করা যাইতে পারিবে, এবং উক্ত সংশোধিত বাজেট, যথাসম্ভব, এই ধারার বিধান সাপেক্ষে হইবে৷
(৫) যে ক্ষেত্রে এই আইন অনুযায়ী কর্পোরেশন প্রথম (অফিসের) দায়িত্ব গ্রহণ করে সে ক্ষেত্রে উহা যে অর্থ বত্সরে দায়িত্ব গ্রহণ করে সেই অর্থ বত্সরের অবশিষ্ট সময়ের জন্য বাজেট হইবে, এবং এই ধারার অন্যান্য বিধান প্রয়োজনীয় সংশোধন সহকারে তত্প্রতি প্রযোজ্য হইবে৷
৬১৷ (১) কর্পোরেশনের আয় ও ব্যয়ের হিসাব নির্দ্ধারিত প্রকার ও পদ্ধতিতে রাখিতে হইবে৷
(২) প্রতি অর্থ বত্সরের শেষে বার্ষিক হিসাব-বিবরণী প্রস্তুত করিতে হইবে এবং তাহা পরবর্তী অর্থ-বত্সরের একত্রিশে ডিসেম্বরের মধ্যে সরকারের নিকট প্রেরণ করিতে হইবে৷
(৩) বার্ষিক হিসাব-বিবরণীর একটি প্রতিলিপি কর্পোরেশন উহা সর্বসাধারণের পরিদর্শনের জন্য উহার কার্যালয়ের কোন প্রকাশ্য স্থানে টাংগাইয়া দিবে এবং জনসাধারণের নিকট হইতে প্রাপ্ত সকল আপত্তি ও পরামর্শ কর্পোরেশন বিবেচনা করিবে এবং তাহা ধারা ৬২তে উল্লিখিত নিরীক্ষা কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি গোচরে নিবে৷
৬২৷ (১) কর্পোরেশনের আয়-ব্যয়ের হিসাব প্রত্যেক বত্সর বাংলাদেশের মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক (অতঃপর এই ধারায় মহা হিসাব-নিরীক্ষক নামে অভিহিত) কর্তৃক নিরীক্ষিত হইবে৷
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীনে নিরীক্ষার উদ্দেশ্যে মহা হিসাব-নিরীক্ষক কিংবা তত্কর্তৃক এতদুদ্দেশ্যে ক্ষমতা প্রদত্ত কোন ব্যক্তি কর্পোরেশনের সকল নথিপত্র, বহি, ভাউচার, দলিল, নগদ অর্থ, জামানত, ভান্ডার এবং কর্পোরেশনের অন্যান্য সম্পত্তি দেখিতে পারিবেন এবং কর্পোরেশনের মেয়র, [ *] কমিশনার, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কিংবা অন্য কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারীকে জেরা করিতে পারিবেন৷
(৩) কর্পোরেশন অবিলম্বে মহা হিসাব-নিরীক্ষক কর্তৃক উল্লিখিত ত্রুটি বা অনিয়মের প্রতিকার করিবে এবং তত্কর্তৃক গৃহীত ব্যবস্থা সম্পর্কে সরকারকে অবহিত করিবে৷
(৪) কর্পোরেশন নিরীক্ষা প্রতিবেদনের প্রতিলিপি পাইবার পর তিন মাসের মধ্যে নিরীক্ষা প্রতিবেদনসহ উহার প্রত্যেক খাতওয়ারী জবাব প্রকাশ করিবে এবং জনসাধারণের নিকট উহা বিক্রয়ার্থ মওজুদ রাখিবে৷
৬৩৷ (১) এই আইন, বিধি, Local Authorities Loans Act, 1914 (IX of 1914) এবং আপাততঃ বলবত্ অন্য কোন আইনের বিধান সাপেক্ষে, কর্পোরেশন সরকারের পূর্ব অনুমোদনক্রমে বিধি অনুসারে ঋণ সংগ্রহ করিতে পারিবে এবং সরকারের সন্তুষ্টি অনুযায়ী নির্দিষ্ট কিস্তিতে উক্ত ঋণ পরিশোধের জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে পারিবে৷
(২) কর্পোরেশন উহার উক্ত ঋণ পরিশোধের জন্য প্রয়োজনীয় পৃথক তহবিল গঠন করিতে পারিবে, তবে সরকার নির্দেশ দিলে কর্পোরেশন অনুরূপ তহবিল গঠন করিবে এবং সরকার অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে এই মর্মেও নির্দেশ দিতে পারিবে যে, কর্পোরেশনের নির্দিষ্ট কোন খাতের আয় সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কোন ঋণ পরিশোধের জন্য নির্দিষ্ট রাখিতে এবং প্রয়োগ করিতে হইবে৷
৬৪৷ (১) সরকার বিধি দ্বারা-
(২) কর্পোরেশন-
৬৫৷ কর্পোরেশনের মেয়র [ *] বা কমিশনার বা উহার কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারী অথবা প্রশাসনের দায়িত্ব প্রাপ্ত বা কর্পোরেশনের পক্ষে কর্মরত কোন ব্যক্তির প্রত্যক্ষ গাফেলতি বা অসদাচরণের কারণে কর্পোরেশনের কোন অর্থ বা সম্পদের লোকসান, অপচয় বা অপপ্রয়োগ হইলে উহার জন্য তিনি দায়ী থাকিবেন, এবং বিধি দ্বারা নির্দ্ধারিত পদ্ধতিতে সরকার তাঁহার এই দায়-দায়িত্ব নির্দ্ধারণ করিবে এবং যে টাকার জন্য তাঁহাকে দায়ী করা হইবে সেই টাকা সরকারী দাবী (Public Demand) হিসাবে তাঁহার নিকট হইতে আদায় করা হইবে৷
৬৬৷ কর্পোরেশন সরকারের পূর্ব অনুমোদনক্রমে দ্বিতীয় তফসিলে বর্ণিত সকল অথবা যে কোন কর, রেইট, টোল, সেস ও ফিস নির্দ্ধারিত পদ্ধতিতে আরোপ করিতে পারিবে৷
৬৭৷ (১) কর্পোরেশন কর্তৃক আরোপিত সমুদয় কর, রেইটে, টোল, সেস ও ফিস সরকারী গেজেটে প্রকাশ করা হইবে এবং সরকার ভিন্নরূপ নির্দেশ প্রদান না করিলে তাহা প্রাক-প্রকাশনা সাপেক্ষে হইবে৷
(২) যেক্ষেত্রে কোন কর, রেইট, টোল, সেস বা ফিস বা উহার কোন পরিবর্তন উহার অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষ কর্তৃক যে তারিখ হইতে কার্যকর হইবে বলিয়া নির্দেশ দিবে সেই তারিখ হইতে কার্যকর হইবে৷
৬৮৷ সরকার আদর্শ কর-তফসিল প্রণয়ন করিতে পারিবে, এবং অনুরূপ কর-তফসিল প্রণীত হইয়া থাকিলে, কর্পোরেশন কর, রেইট, টোল, সেস বা ফিস আরোপণের ক্ষেত্রে তদ্দ্বারা পরিচালিত হইবে৷
৬৯৷ (১) সরকার কর্পোরেশনকে-
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীনে প্রদত্ত কোন নির্দেশ নির্দ্ধারিত সময়ের মধ্যে পালন করা না হইলে, সরকার উক্ত নির্দেশ কার্যকর করার জন্য আদেশ দিতে পারিবে৷
৭০৷ (১) কোন ব্যক্তি বা জিনিসপত্রের উপর কর, রেইট, টোল বা ফিস আরোপ করা যাইবে কি না উহা নির্ধারণের প্রয়োজনে কর্পোরেশন, নোটিশের মাধ্যমে, যে কোন ব্যক্তিকে প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করিতে বা দলিলপত্র, হিসাব বই বা জিনিষপত্র দাখিল করিবার জন্য নির্দেশ দিতে পারিবে৷
(২) এতদুদ্দেশ্যে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্পোরেশনের যে কোন কর্মকর্তা, যথাযথ নোটিশ প্রদানের পর, কর আরোপযোগ্য কি না উহা যাচাই করার জন্য যে কোন ইমারত বা স্থানে প্রবেশ করিতে এবং যে কোন জিনিষপত্র পরিদর্শন করিতে পারিবেন৷
(৩) এতদুদ্দেশ্যে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্পোরেশনের যে কোন কর্মকর্তা, বিধি দ্বারা নির্দ্ধারিত পদ্ধতিতে, কোন জিনিষপত্রের উপর আরোপিত কোন কর বা টোল আদায়ের জন্য উহা বাজেয়াপ্ত ও হস্তান্তর করিতে পারিবেন৷
৭১৷ (১) এই আইনের অধীনে আরোপিত কর, রেইট, টোল, সেস ও ফিস নির্দ্ধারিত পদ্ধতিতে সংগ্রহ করা হইবে৷
(২) এই আইনের অধীনে কর্পোরেশন কর্তৃক দাবীযোগ্য সকল কর, রেইট, টোল, সেস এবং ফিস ও অন্যান্য অর্থ সরকারী দাবী (Public Demand) হিসাবে আদায়যোগ্য হইবে৷
(৩) উপ-ধারা (২) এ যাহা বলা হইয়াছে তাহা সত্ত্বেও, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির মালিকানাধীন স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোক এবং বিক্রয় করিয়া কর্পোরেশন কর্তৃক দাবীযোগ্য বকেয়া সকল কর, রেইট, টোল, সেস এবং ফিস ও অন্যান্য অর্থ আদায় করার জন্য সরকার কর্পোরেশনকে ক্ষমতা প্রদান করিতে পারিবে৷
(৪) কোন্ কোন্ কর্মকর্তা উপ-ধারা (৩) এর অধীনে ক্ষমতা প্রয়োগ করিবেন এবং উক্ত ক্ষমতা কি প্রকারে প্রয়োগ করিবেন তাহা সরকার নির্দ্ধারণ করিয়া দিবেন৷
৭২৷ বিধি দ্বারা নির্দ্ধারিত কর্তৃপক্ষের নিকট এবং বিধি দ্বারা নির্দ্ধারিত পন্থায় ও সময়ের মধ্যে পেশকৃত লিখিত দরখাস্ত ছাড়া অন্য কোন পন্থায় এই আইনের অধীন ধার্য কোন কর, রেইট, টোল, সেস বা ফিস বা এতদসংক্রান্ত কোন সম্পত্তির মূল্যায়ন অথবা কোন ব্যক্তি কর্তৃক উহা প্রদানের দায়িত্ব সম্পর্কে কোন আপত্তি উত্থাপন করা যাইবে না৷
৭৩৷ কর্পোরেশন যদি কোন পেশা বা বৃত্তির উপর কর আরোপ করে, তাহা হইলে যে ব্যক্তি উক্ত কর প্রদানের জন্য দায়ী সেই ব্যক্তির প্রাপ্য বেতন বা মঞ্জুরী হইতে উক্ত কর কর্তনের জন্য কর্পোরেশন তাঁহার নিয়োগ কর্তাকে অনুরোধ জানাইতে পারিবে এবং অনুরূপ অনুরোধ পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট নিয়োগকর্তা কর্পোরেশনের প্রাপ্য কর উক্ত ব্যক্তির বেতন বা মঞ্জুরী হইতে কর্তন করিবেন এবং কর্পোরেশনের তহবিলে জমা দিবেন :
তবে শর্ত থাকে যে, এইরূপ কর্তনকৃত অর্থ কোন ক্রমেই বেতন বা মঞ্জুরীর পঁচিশ শতাংশের অধিক হইবে না৷
৭৪৷ (১) কর্পোরেশন কর্তৃক আরোপিত সকল কর, রেইট, টোল, সেস, ফিস এবং অন্যান্য বিধি দ্বারা নির্দ্ধারিত পদ্ধতিতে পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হইবে৷
(২) এই ধারার অধীনে প্রণীত বিধিতে, অন্যান্য বিষয় ছাড়াও, কর দাতাগণের বাধ্যবাধকতার ব্যবস্থা থাকিবে এবং কর নির্দ্ধারণ ও আদায়ের জন্য দায়িত্বসম্পন্ন কর্মকর্তাগণের বা অন্যান্য এজেন্সীর কর্তব্য ও ক্ষমতা সম্পর্কে বিধান থাকিবে৷
৭৫৷ কর্পোরেশন নগরীর স্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্য দায়ী থাকিবে এবং এই আইন বা ইহার অধীনে এতদসম্পর্কে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করার থাকিলে, উহা সেই ব্যবস্থা গ্রহণ করিবে৷
৭৬৷ (১) কোন ইমারত বা জায়গা অস্বাস্থ্যকর বা ক্ষতিকর অবস্থায় থাকিলে কর্পোরেশন নোটিশ দ্বারা উহার মালিক বা দখলদারকে-
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীনে প্রদত্ত নোটিশে উল্লিখিত মেয়াদের মধ্যে নোটিশের নির্দেশ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কার্য সম্পন্ন করা না হইলে, কর্পোরেশন উক্ত ইমারত বা জায়গার মালিক বা দখলকারের খরচে প্রয়োজনীয় কার্য সম্পন্ন করিতে পারিবে, এবং ইহাতে কর্পোরেশনের যে খরচ হইবে, তাহা এই আইনের অধীনে উক্ত মালিক বা দখলকারের উপর আরোপিত কর হিসাবে গণ্য হইবে৷
৭৭৷ (১) কর্পোরেশন উহাতে অর্পিত সকল জনপথ, সাধারণ পায়খানা, প্রস্রাবখানা, নর্দমা, ইমারত ও জায়গা হইতে আবর্জনা সংগ্রহ ও অপসারণ করার যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করিবে৷
(২) কর্পোরেশনের সাধারণ নিয়ন্ত্রণ এবং তত্ত্বাবধানে, কর্পোরেশন এলাকায় অবস্থিত অন্যান্য ইমারত ও জায়গার দখলকারগণ উহা হইতে আবর্জনা অপসারণের জন্য দায়ী থাকিবেন৷
(৩) কর্পোরেশন নগরীর বিভিন্ন স্থানে ময়লা ফেলার পাত্র বা অন্যবিধ আধারের ব্যবস্থা করিবে এবং যেখানে অনুরূপ ময়লা ফেলার পাত্র বা আধারের ব্যবস্থা করা হইবে, কর্পোরেশন সাধারণ নোটিশ দ্বারা পাশ্ববর্তী বাড়ীঘর ও জায়গা-জমির দখলদারগণকে উহার ময়লা বা আবর্জনা উক্ত পাত্র বা আধারে ফেলার জন্য নির্দেশ দান করিতে পারিবে৷
(৪) কর্পোরেশনের কর্মচারীগণ কর্তৃক অথবা তাঁহাদের তত্ত্বাবধানে অপসারিত বা সংগৃহীত আবর্জনা বা ময়লা এবং কর্পোরেশন কর্তৃক স্থাপিত পাত্র বা আধারে জমাকৃত ময়লা বা আবর্জনা কর্পোরেশনের সম্পত্তি বলিয়া গণ্য হইবে৷
৭৮৷ (১) কর্পোরেশন পুরুষ ও মহিলাদের জন্য পর্যাপ্ত সংখ্যক পৃথক পৃথক পায়খানা এবং প্রস্রাবখানার ব্যবস্থা করিবে এবং তাহা যথাযথভাবে রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখার ব্যবস্থা করিবে৷
(২) যে সকল ঘরবাড়ীতে পায়খানা বা প্রস্রাবখানা আছে সেই সকল ঘরবাড়ীর মালিক তাহা কর্পোরেশনের সন্তুষ্টি অনুযায়ী সঠিক অবস্থায় রাখিবেন৷
(৩) কোন ঘরবাড়ীতে পায়খানা বা প্রসাবখানার ব্যবস্থা না থাকিলে বা পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকিলে, কিংবা কোন আপত্তিকর স্থানে পায়খানা বা প্রস্রাবখানার ব্যবস্থা থাকিলে, কর্পোরেশন উক্ত ঘরবাড়ী বাসস্থানের মালিককে নোটিশ দ্বারা-
৭৯৷ কর্পোরেশন নগরীর সীমানার মধ্যে যে সকল জন্ম, মৃত্যু ও বিবাহ হইবে তাহা প্রবিধান অনুযায়ী রেজিষ্ট্রী করিবে৷
৮০৷ (১) কর্পোরেশন বিধি বা প্রবিধান অনুযায়ী নগরীতে সংক্রামক ব্যাধি প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা গ্রহণ করিবে৷
(২) কর্পোরেশন সংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্ত রোগীদের চিকিত্সার জন্য হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা ও রক্ষণাবেক্ষণ করিবে৷
(৩) কর্পোরেশন সংক্রামক রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণকল্পে প্রকল্প প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করিতে পারিবে৷
৮১৷ কর্পোরেশন, প্রয়োজন বিবেচনা করিলে বা সরকার নির্দেশ দিলে-
৮২৷ এই আইন ও বিধি সাপেক্ষে, কর্পোরেশন স্বাস্থ্যমূলক শিক্ষাসহ জনস্বাস্থ্যের উন্নতির বিধানকল্পে প্রয়োজনীয় অন্য যে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে পারিবে৷
৮৩৷ (১) কর্পোরেশন নগরবাসীর চিকিত্সার সুবিধার জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক হাসপাতাল ও ডিসপেনসারী প্রতিষ্ঠা ও রক্ষণাবেক্ষণ করিতে পারিবে৷
(২) কর্পোরেশন কর্তৃক পরিচালিত প্রত্যেক হাসপাতাল ও ডিসপেনসারী বিধি দ্বারা নির্দ্ধারিত পদ্ধতিতে পরিচালিত হইবে৷
(৩) সরকার কর্তৃক এতদুদ্দেশ্যে প্রদত্ত নির্দেশ সাপেক্ষে, কর্পোরেশন উহার পরিচালিত প্রত্যেক হাসপাতাল ও ডিসপেনসারীর জন্য বিধি দ্বারা নির্দ্ধারিত পরিমাণ ও মানের ঔষধপত্র, যন্ত্রপাতি, সাজসরঞ্জাম আসবাবপত্রের ব্যবস্থা করিবে৷
৮৪৷ কর্পোরেশন, প্রয়োজনীয় বিবেচনা করিলে বা সরকার নির্দেশ দিলে, নিম্নবর্ণিত বিষয় সম্পর্কে ব্যবস্থা গ্রহণ করিবে, যথা:-
৮৫৷ (১) আপাততঃ বলবত্ অন্য কোন আইন সাপেক্ষে, কর্পোরেশন নগরীতে সাধারণ ও ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের ব্যবস্থা করিবে৷
(২) কর্পোরেশন, প্রয়োজনীয় বিবেচনা করিলে অথবা সরকার নির্দেশ দিলে, পানি সরবরাহ, সঞ্চয় ও বিতরণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করার লক্ষ্যে বিধি অনুযায়ী পানি সরবরাহ প্রকল্প প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করিতে পারিবে৷
(৩) যে ক্ষেত্রে নলের সাহায্যে পানি সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়, সেক্ষেত্রে কর্পোরেশন প্রবিধান অনুযায়ী সরকারী ও বেসরকারী ঘরবাড়িতে পানি সরবরাহের ব্যবস্থা করিতে পারিবে এবং তজ্জন্য অর্থ আদায় করিতে পারিবে৷
৮৬৷ (১) নগরীর অভ্যন্তরে সকল বেসরকারী পানি সরবরাহের উত্স কর্পোরেশনের নিয়ন্ত্রণ ও পরিদর্শনাধীন থাকিবে৷
(২) কর্পোরেশনের অনুমোদন ব্যতীত পানীয় জলের জন্য কোন নূতন কূপ খনন, নলকূপ স্থাপন অথবা পানি সরবরাহের জন্য অন্য কোন উত্সের ব্যবস্থা করা যাইবে না৷
(৩) পানীয় জলের জন্য ব্যবহৃত কোন বেসরকারী পানি সরবরাহের উত্সের মালিক বা নিয়ন্ত্রণকারীকে কর্পোরেশন নোটিশ দ্বারা-
৮৭৷ (১) আপাততঃ বলবত্ অন্য কোন আইন সাপেক্ষে, কর্পোরেশন নগরীতে পানি নিষ্কাশনের জন্য পর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশন নর্দমার ব্যবস্থা করিবে এবং জনসাধারণের স্বাস্থ্য ও সুবিধার প্রতি লক্ষ্য রাখিয়া নর্দমাগুলি নির্মাণ, রক্ষণাবেক্ষণ ও সংরক্ষণ করিবে এবং পরিষ্কার রাখিবে৷
(২) কর্পোরেশনের পূর্ব অনুমোদনক্রমে তত্কর্তৃক নির্দ্ধারিত শর্তে এবং ফিস প্রদানে কোন বাড়ি বা জায়গার মালিক উহার নর্দমা কর্পোরেশনের নর্দমার সহিত সংযুক্ত করিতে পারিবে৷
(৩) নগরীতে অবস্থিত সকল বেসরকারী নর্দমা কর্পোরেশনের নিয়ন্ত্রণ ও পরিদর্শনাধীনে থাকিবে এবং কর্পোরেশন প্রবিধান অনুযায়ী উহার সংস্কার করার, পরিষ্কার করার এবং বন্ধ রাখার নির্দেশ দিতে পারিবে৷
৮৮৷ (১) কর্পোরেশন, প্রয়োজনীয় বিবেচনা করিলে বা সরকার নির্দেশ দিলে, বিধি দ্বারা নির্দ্ধারিত পদ্ধতিতে সুষ্ঠুভাবে পানি বা ময়লা নিষ্কাশনের জন্য সরকারী বা বেসরকারী খরচে নর্দমা নির্মাণ বা অন্যান্য পূর্ত কার্যের জন্য পানি নিষ্কাশন প্রকল্প প্রণয়ন করিতে পারিবে৷
(২) উক্ত পানি নিষ্কাশন প্রকল্প অনুমোদনের জন্য সরকারের নিকট পেশ করিতে হইবে এবং সরকার উহা বিবেচনার পর উহাতে, সংশোধনসহ বা সংশোধন ছাড়া, উহা অনুমোদন করিতে পারিবে বা উহা প্রত্যাখ্যান করিতে পারিবে৷
(৩) উক্তরূপ অনুমোদিত পানি নিস্কাশন প্রকল্প সরকার কর্তৃক নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে ও মেয়াদের মধ্যে এবং তত্কর্তৃক নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষ কর্তৃক বাস্তবায়িত হইবে৷
(৪) নগরীতে অবস্থিত কোন বাড়ীঘর বা জায়গার মালিককে কর্পোরেশন নোটিশ দ্বারা-
৮৯৷ (১) কর্পোরেশন সময় সময়-
(২) কর্পোরেশন হইতে প্রাপ্ত লাইসেন্স ব্যতিরেকে এবং লাইসেন্সে উল্লেখিত শর্তাদি লংঘন করিয়া কোন ব্যক্তি সাধারণের ব্যবহার্য গোসলখানা প্রতিষ্ঠা বা পরিচালনা করিতে পারিবেন না৷
৯০৷ (১) কর্পোরেশন ধোপীদের ব্যবহারের ধোপী-ঘাটের ব্যবস্থা করিবে এবং প্রবিধান দ্বারা উক্ত ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ এবং উহা ব্যবহারের জন্য ফিস ধার্য করিতে পারিবে৷
(২) কর্পোরেশন প্রবিধান দ্বারা ধোপীদের লাইসেন্স এবং তাঁহাদের পেশা নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা করিতে পারিবে৷
৯১৷ (১) সরকারের পূর্ব অনুমোদনক্রমে, কর্পোরেশন ব্যক্তি মালিকানাধীন নহে নগরীর মধ্যে অবস্থিত সকল পানির উত্স, ঝর্ণা, নদী, দীঘি, পুকুর ও ধারা অথবা উহার কোন অংশকে সরকারী জলাধার হিসাবে ঘোষণা করিতে পারিবে৷
(২) কর্পোরেশন প্রবিধান অনুযায়ী কোন সরকারী জলাধারায় আমোদ-প্রমোদ এবং জীবন রত্মগার নিমিত্ত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে পারিবে এবং পানি সেচ, পানি নিষ্কাশন ও নৌচলাচল সম্পর্কিত আপাততঃ বলবত্ অন্য কোন আইনের বিধান সাপেক্ষে উহার উন্নয়ন ও সংস্কার করিতে পারিবে৷
৯২৷ (১) কর্পোরেশন প্রবিধান দ্বারা সরকারী জলাধারায় ভাড়ায় চলাচলকারী নৌকা বা অন্যান্য যানবাহনের জন্য লাইসেন্স ব্যবস্থা করিতে, লাইসেন্সের শর্ত নির্দ্ধারণ করিতে এবং তজ্জন্য প্রদেয় ফিস নির্দিষ্ট করিতে পারিবে৷
(২) সরকার কোন জলাধারার অংশ বিশেষকে সাধারণ খেয়া পারাপার হিসাবে ঘোষণা করিয়া উহার ব্যবস্থাপনা কর্পোরেশনের উপর ন্যস্ত করিতে পারিবে এবং কর্পোরেশন বিধি অনুযায়ী উক্ত খেয়া পরিচালনা করিবে এবং উহা ব্যবহারের জন্য নির্দ্ধারিত টোল আদায় করিবে৷
৯৩৷ কর্পোরেশন, সরকারের পূর্ব অনুমোদনক্রমে, কোন জলাধারাকে সাধারণ মত্স্যক্ষেত্র হিসাবে ঘোষণা করিতে পারিবে এবং উক্ত রূপ মত্স্যক্ষেত্রে সরকারী জলমহলকে মত্স্য শিকারের অধিকার কর্পোরেশনের উপর ন্যস্ত থাকিবে, এবং কর্পোরেশনের বিধি অনুসারে উক্ত অধিকার প্রয়োগ করিতে পারিবে৷
৯৪৷ কর্পোরেশন প্রবিধান দ্বারা-
৯৫৷ (১) কর্পোরেশন কর্তৃক প্রদত্ত লাইসেন্স এবং উক্ত লাইসেন্সের শর্তানুসারে ব্যতীত ব্যক্তি নগরীতে দুগ্ধ বিক্রয়ের জন্য দুগ্ধবতী গবাদী পশু পালন করিবেন না অথবা কোন দুগ্ধ আমদানী বা বিক্রয় করিবেন না, অথবা মাখন, ঘি বা দুগ্ধজাত অন্যান্য দ্রব্যাদি প্রস্তুত করিবেন না বা অনুরূপ কোন উদ্দেশ্যে ঘরবাড়ী ব্যবহার করিবেন না৷
(২) কর্পোরেশন, সরকারের পূর্ব অনুমোদনক্রমে, বিধি অনুসারে দুগ্ধ সরবরাহ প্রকল্প প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করিতে পারিবে এবং অনুরূপ প্রকল্পে অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে গোয়ালা কলোনী স্থাপন এবং নগরীর কোন এলাকায় দুগ্ধবতী গবাদি পশু পালন নিষিদ্ধ করার এবং জনসাধারণের নিকট পর্যাপ্ত পরিমাণ খাঁটি দুগ্ধ সরবরাহ নিশ্চিতকরণের জন্য বিধান থাকিবে৷
৯৬৷ (১) আপাততঃ বলবত্ অন্য কোন আইন সাপেক্ষে, কর্পোরেশন খাদ্যদ্রব্য, পানীয় ও জীবজন্তু বিক্রয়ের জন্য সাধারণের বাজার প্রতিষ্ঠা ও রক্ষণাবেক্ষণ করিতে পারিবে৷
(২) আপাততঃ বলবত্ অন্য কোন আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কর্পোরেশন সাধারণের বাজার নির্মাণের উদ্দেশ্যে তত্কর্তৃক স্থিরীকৃত শর্তাবলী সাপেক্ষে, ইচ্ছুক দখলকারগণের নিকট হইতে নির্দ্ধারিত সালামী বা আগাম ভাড়া আদায় করিতে পারিবে৷
(৩) কর্পোরেশন সাধারণের বাজারের জন্য প্রবিধান দ্বারা:-
৯৭৷ (১) কর্পোরেশন কর্তৃক প্রদত্ত লাইসেন্স এবং উহার শর্তানুযায়ী ব্যতীত কর্পোরেশন এলাকার মধ্যে কোন বেসরকারী বাজার প্রতিষ্ঠা অথবা রক্ষণাবেক্ষণ করা যাইবে না৷
(২) উপ-ধারা (১) এর যাহাই থাকুক না কেন, এই আইন বলবত্ হওয়ার পূর্বে নগরীতে কোন ব্যক্তির কোন বেসরকারী বাজার থাকিলে, তিনি এই আইন বলবত্ হওয়ার তিন মাসের মধ্যে কর্পোরেশনের নিকট লাইসেন্সের জন্য আবেদন করিবেন এবং যতদিন পর্যন্ত তাঁহাকে লাইসেন্স প্রদান করা না হয় ততদিন পর্যন্ত তিনি উক্ত বাজার রক্ষণাবেক্ষণ করিতে থাকিবেন৷
(৩) কর্পোরেশন প্রবিধান অনুযায়ী বেসরকারী বাজার হইতে ফিস আদায় করিতে পারিবে৷
(৪) কর্পোরেশন যদি এই মর্মে সন্তুষ্ট হয় যে কোন বেসরকারী বাজার জনস্বার্থে বন্ধ করিয়া দেওয়া অথবা উহার কর্তৃত্ব কর্পোরেশনের গ্রহণ করা উচিত, তাহা হইলে কর্পোরেশন বাজারটি বন্ধ করিবার জন্য নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবেন অথবা Acquisition and Requisition of Immovable Property Ordinance, 1982 (VI of 1982) এর অধীন উক্ত বাজার অধিগৃহীত হইলে উহার জন্য যে ক্ষতিপূরণ দেয় হইবে সেই ক্ষতিপূরণ প্রদান সাপেক্ষে কর্পোরেশন উক্ত বাজারের কর্তৃত্বভার গ্রহণ করিবে৷
(৫) কর্পোরেশন নোটিশ দ্বারা বেসরকারী বাজারের মালিককে উক্ত নোটিশে বর্ণিত সময়ের মধ্যে বাজারের প্রয়োজনীয় নির্মাণ কার্য সমাধা করার, বা উহাতে প্রয়োজনীয় সুবিধাদির ব্যবস্থা করার এবং উহা রক্ষণাবেক্ষণের জন্য নোটিশে উল্লেখিত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশ দিতে পারিবে৷
৯৮৷ কর্পোরেশন নগরীর সীমানার মধ্যে বা উহার বাহিরে সরকার কর্তৃক অনুমোদিত এক বা একাধিক স্থানে গোস্ত বিক্রির উদ্দেশ্যে পশু জবাই বা কসাইখানার ব্যবস্থা করিবে৷
৯৯৷ (১) কর্পোরেশন পশু হাসপাতাল ও ডিসপেনসারী প্রতিষ্ঠা ও রক্ষণাবেক্ষণ করিতে পারিবে এবং প্রবিধান দ্বারা উহাদের কার্য নিয়ন্ত্রণ ও উহার চিকিত্সা বাবদ আদায়যোগ্য ফিস ধার্য করিতে পারিবে৷
(২) কর্পোরেশন প্রবিধান দ্বারা পশুর মধ্যে সংক্রামক রোগের সংজ্ঞা নিরূপণ করিতে পারিবে এবং ঐ সকল রোগের বি স্তার রোধ করিয়া বাধ্যতামূলকভাবে টিকাদান ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের বিধান করিতে পারিবে; এবং অনুরূপ রোগ জীবানু দ্বারা যে সকল পশু আক্রান্ত হইয়াছে বলিয়া সন্দেহ হয় সেই সকল পশুর চিকিত্সার ও ধ্বংসের ব্যবস্থা করিতে পারিবে৷
১০০৷ (১) কর্পোরেশনে প্রবিধান দ্বারা রাস্তায় বা জনসাধারণের ব্যবহৃত স্থান বা কর্ষিত ভূমিতে বন্ধনহীন অবস্থায় ইতস্ততঃ বিচরণরত পশু আটক করা ও খোয়াড়ে আবদ্ধ রাখার ব্যবস্থা করিতে পারিবে৷
(২) কর্পোরেশন প্রবিধান দ্বারা গবাধি পশু আবদ্ধ করিবার জন্য খোয়াড়ের ব্যবস্থা করিতে পারিবে এবং আবদ্ধকৃত পশুর জন্য জরিমানা ও ফিস আদায়ের বিধান করিতে পারিবে৷
(৩) কর্পোরেশন কর্তৃক এতদুদ্দেশ্যে নিষিদ্ধ কোন রাস্তায় বা স্থানে কোন পশু খোঁটায় বাঁধিয়া কিংবা আটকাইয়া রাখা যাইবে না, এবং যদি উক্তরূপ কোন রাস্তায় বা স্থানে কোন পশু বাধা বা আটক অবস্থায় পাওয়া যায় তবে উহাকে বন্ধ করা এবং খোয়াড়ে আবদ্ধ রাখা যাইবে৷
১০১৷ (১) কর্পোরেশন, সরকারের পূর্ব অনুমোদনক্রমে, পশু শালা স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণ করিতে পারিবে এবং উহাতে ব্যক্তিগত মালিকানাধীন রাখিবার ব্যবস্থা করিতে পারিবে৷
(২) কর্পোরেশন, সরকারের পূর্ব অনুমোদনক্রমে, পশু ও হাসমুরগীর খামার স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণ করিতে পারিবে৷
১০২৷ কর্পোরেশন প্রবিধান দ্বারা উহাতে উল্লেখিত প্রত্যেক পশুর বিক্রয় রেজিষ্ট্রী করিবার এবং নির্দেশ দিতে পারিবে এবং অনুরূপ বিক্রয় প্রবিধান দ্বারা নির্দ্ধারিত পদ্ধতি এবং ফিস প্রদানে রেজিষ্ট্রী করার বিধান করিতে পারিবে৷
১০৩৷ কর্পোরেশন, সরকারের পূর্ব অনুমোদনক্রমে, পশুপালন উন্নয়ন প্রকল্প প্রণয়ন অথবা বাস্ত্মবায়নের ব্যবস্থা করিতে পারিবে, এবং অনুরূপ প্রকল্পে অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে কোন ব্যক্তি যাহাতে নির্দিষ্ট কোন বয়স অপেক্ষা অধিক বয়সী পশু নির্বীর্য না করিয়া অথবা কোন উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ কর্তৃক, উহা প্রজননক্ষম এই মর্মে প্রত্যয়ন না করাইয়া রাখিতে না পারে তাহার বিধানও করা যাইবে৷
১০৪৷ কর্পোরেশন প্রবিধান দ্বারা কোন পশু বিপজ্জনক পশু বলিয়া গণ্য হইবে এবং কোন্ পশু কি অবস্থায় সচরাচর বিপজ্জনক না হওয়া সত্ত্বেও কি অবস্থায় বিপজ্জনক বলিয়া গণ্য হইবে তাহার বিধান করিতে পারিবে, এবং অনুরূপ প্রবিধানে অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে অনুরূপ পশু আটক ও ধ্বংস করার ব্যবস্থা থাকিতে পারিবে৷
১০৫৷ (১) কর্পোরেশন নগরীতে গবাদি পশু প্রদর্শনী ও মেলা অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা করিতে পারিবে এবং উক্ত প্রদর্শনী ও মেলায় দর্শকদের নিকট হইতে প্রবিধান দ্বারা নির্দ্ধারিত ফিস আদায় করিতে পারিবে৷
(২) কর্পোরেশন, সরকারের পূর্ব অনুমোদনক্রমে, চিড়িয়াখানা স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণ করিতে পারিবে এবং তদুদ্দেশ্যে চাঁদা প্রদান করিতে পারিবে৷
১০৬৷ যদি কোন ব্যক্তির তত্ত্বাবধানে ব্যক্তিগত কোন পশু বিক্রয় করা বা খাওয়ার অথবা কোন ধর্মীয় উদ্দেশ্যে জবাই করা ছাড়া অন্য কোনভাবে মারা যায়, তাহা হইলে সেই ব্যক্তি-
ব্যাখ্যা৷- এই ধারায় “পশু” শিং বিশিষ্ট সকল প্রকার গবাদি পশু, হাতি, উট, ঘোড়া, টাটু-ঘোড়া, গাধা, খচ্চর, হরিণ, ভেড়া, ছাগল, শুকর, কুকুর, বিড়াল এবং অন্যান্য বৃহদাকার পশুকে বুঝাইবে৷
১০৭৷ কর্পোরেশন নগরীর জন্য একটি মহা পরিকল্পনা প্রণয়ন করিতে পারিবে এবং উহাতে অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে নিম্নবর্ণিত বিষয়াদির বিধান থাকিবে-
১০৮৷ (১) ধারা ১০৭ এর অধীনে প্রণীত কোন মহা পরিকল্পনা সরকার কর্তৃক অনুমোদিত হইলে, অনুমোদিত মহা পরিকল্পনার অন্তর্ভূক্ত কোন এলাকায় কোন জমির মালিক উক্ত এলাকার জন্য বিধি অনুযায়ী প্রণীত জমি উন্নয়ন প্রকল্পের সহিত অসামঞ্জস্য হয় এইভাবে মহা পরিকল্পনায় নির্দ্ধারিত পরিমাণের অধিক কোন জমির উন্নয়ন সাধন বা উহাতে কোন ইমারত নির্মাণ বা পুনঃনির্মাণ করিতে পারিবে না৷
(২) কোন জমি উন্নয়ন পরিকল্পনায় অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে নিম্নবর্ণিত বিষয়াদির বিধান থাকিবে, যথা-
১০৯৷ (১) জমি উন্নয়ন প্রকল্প কর্পোরেশনের পরিদর্শনাধীনে নিয়ন্ত্রণ ও বাস্তবায়িত করা হইবে, এবং ইহা বাস্তাবয়নের ব্যাপারে কর্পোরেশন প্রয়োজনীয় নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবে৷
(২) যদি জমি উন্নয়ন প্রকল্পের বিধানের খেলাপ করিয়া কোন জায়গা উন্নয়ন করা হয়, তাহা হইলে কর্পোরেশন নোটিশ দ্বারা জমির মালিককে অথবা বিধান খেলাপকারী ব্যক্তিকে নোটিশে উল্লিখিতভাবে জায়গাটিতে পরিবর্তন সাধন করিবার জন্য নির্দেশ দিতে পারিবে; এবং যদি নির্দেশ মোতাবেক পরিবর্তন সাধন না করা হয় অথবা পরিবর্তন সাধন করা সম্ভব না হয়, তাহা হইলে কর্পোরেশন প্রবিধান অনুসারে আপত্তিকর নির্মাণ কার্য ভাংগিয়া ফেলতে বা ভাংগিয়া ফেলিবার নির্দেশ দিতে পারিবে, এবং অন্য কোন আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন উক্তরূপ ভাংগিয়া ফেলার জন্য কোন ক্ষতিপূরণ প্রদেয় হইবে না৷
(৩) যদি জমি উন্নয়ন প্রকল্পের অন্তর্ভূক্ত কোন জমির, প্রকল্প নির্দ্ধারিত সময়ের মধ্যে, উন্নয়ন সাধন করা না হয় এবং কর্পোরেশন তজ্জন্য সময় বর্ধন না করে অথবা জমিটির উন্নয়ন উক্ত প্রকল্পের সহিত সামাঞ্জস্যপূর্ণ না হয়, তাহা হইলে কর্পোরেশন প্রবিধান অনুসারে জমিটি উন্নয়নের ভার স্বয়ং গ্রহণ করতঃ প্রয়োজনীয় নির্মাণ কাজ সমাধান করিতে পারিবে, এবং কর্পোরেশন কর্তৃক ব্যয়িত অর্থ জমির মালিকের নিকট হইতে তাঁহার উপর এই আইনের অধীনে আরোপিত কর হিসাবে আদায়যোগ্য হইবে৷
১১০৷ (১) যদি কর্পোরেশন কোন ইমারত বা উহার উপর স্থাপিত কোন কিছু ধ্বংসোন্মুখ অবস্থায় বা ধ্বসিয়া পড়ার সম্ভাবনাময় অবস্থায় রহিয়াছে বলিয়া মনে করে, কিংবা উহা কোন প্রকারে উহার বাসিন্দাদের অথবা উহার পার্শ্ববতী কোন ইমারত বা উহার বাসিন্দাদের বা পথচারীদের জন্য বিপদজ্জনক বলিয়া মনে করে, তাহা হইলে কর্পোরেশন নোটিশ দ্বারা উহাতে উল্লিখিত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য উক্ত ইমারতের মালিককে বা দখলকারকে নির্দেশ দিতে পারিবে, এবং যদি এই নির্দেশ পালনে কোন ত্রুটি হয় তাহা হইলে কর্পোরেশন নিজেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করিতে পারিবে এবং এতদুদ্দেশ্যে ব্যয়িত অর্থ ইমারতের মালিকের নিকট হইতে তাঁহার উপর এই আইনের অধীনে আরোপিত কর হিসাবে আদায়যোগ্য হইবে৷
(২) যদি কোন ইমারত বিপজ্জনক অবস্থায় থাকে, বা উহা মনুষ্য বসবাসের অযোগ্য হয় তাহা হইলে কর্পোরেশন উহার সন্তোষ মোতাবেক ইমারতটি মেরামত না করা পর্যন্ত উহাতে বসবাস নিষিদ্ধ করিতে পারিবে৷
১১১৷ (১) কর্পোরেশন নগরীর অধিবাসী এবং নগরীতে আগন্তকদের আরাম ও সুবিধার জন্য প্রয়োজনীয় রাস্তা এবং অন্যান্য যোগাযোগের ব্যবস্থা ও রক্ষণাবেক্ষণ করিবে৷
(২) কর্পোরেশন বিধি দ্বারা নির্দ্ধারিত পদ্ধতিতে রাস্তা রক্ষণাবেক্ষণ ও রাস্তা উন্নয়ন কর্মসূচী প্রণয়ন ও কার্যকর করিবে এবং ইহা বাবদ যাবতীয় ব্যয় বাজেটের অংশ বলিয়া গণ্য হইবে; তবে সরকার প্রয়োজনবোধে উক্ত কর্মসূচী পরিবর্তন বা সংশোধন করিতে পারিবে৷
১১২৷ (১) কর্পোরেশনের পূর্ব অনুমোদন ব্যতিরেকে এবং উক্ত অনুমোদনের শর্তানুযায়ী ব্যতীত কোন নতুন রাস্তা তৈরী করা যাইবে না৷
(২) সাধারণের রাস্তা ব্যতীত অন্যান্য সকল রাস্তা প্রবিধান দ্বারা নির্দ্ধারিত পদ্ধতিতে সংরক্ষিত হইবে৷
(৩) কর্পোরেশন নোটিশ দ্বারা, নোটিশে বর্ণিত পদ্ধতিতে কোন রাস্তা পাকা করা বা উহার পানি নিষ্কাশন বা উহার আলোর ব্যবস্থা করা বা অন্য কোন প্রকারে উহাকে উন্নত করার নির্দেশ দিতে পারিবে; এবং যদি উক্ত নির্দেশ অমান্য করা হয়, তাহা হইলে কর্পোরেশন স্বীয় এজেন্ট দ্বারা উক্ত কার্য সম্পাদন করাইতে পারিবে এবং ইহা বাবদ ব্যয়িত অর্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিকট হইতে তাঁহাদের উপর এই আইনের অধীন আরোপিত কর হিসাবে আদায়যোগ্য হইবে৷
(৪) কোন সাধারণ রাস্তা ছাড়া অন্য কোন রাস্তা কি পদ্ধতিতে সাধারণ রাস্তায় পরিবর্তিত করা যাইবে সরকার বিধি দ্বারা নির্দ্ধারণ করিতে পারিবে৷
১১৩৷ (১) কর্পোরেশন, সরকারের পূর্ব অনুমোদনক্রমে, যে কোন রাস্তার নামকরণ করিতে পারিবে এবং রাস্তার নাম উহার উপর বা উহার কোন মোড়ে কিংবা উহার শেষ প্রান্তে বা প্রবেশ পথে পরিষ্কারভাবে ফলকে লিপিবদ্ধ করিতে হইবে৷
(২) কোন ব্যক্তি কোন রাস্তা বা উহার নাম বা নাম ফলক বিনষ্ট বা ক্ষতিগ্রস্ত করিবে না কিংবা কর্পোরেশনের পূর্ব অনুমতি ব্যতীত উহার নাম ফলক অপসারণ করিবে না৷
(৩) কর্পোরেশন প্রবিধান দ্বারা নির্দ্ধারিত পদ্ধতিতে রাস্তা ও ইমারত নির্মাণের সীমারেখা অংকিত করিতে পারিবে এবং কোন রাস্তা ও ইমারত নির্মাণের ব্যাপারে এইরূপ সীমারেখা মানিয়া চলার নির্দেশ দিতে পারিবে৷
(৪) কর্পোরেশন প্রবিধান দ্বারা রাস্তার উপদ্রব এবং রাস্তা সংক্রান্ত ব্যাপারে অপরাধের সংজ্ঞা নিরূপণ করিতে পারিবে এবং উহা প্রতিরোধ ও দূরীকরণের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে পারিবে৷
১১৪৷ (১) কর্পোরেশনের কোন রাস্তা, নর্দমা, ভূমি, বাড়ী, গলি বা পার্কে কর্পোরেশন কর্তৃক প্রদত্ত লাইসেন্স ব্যতিরেকে এবং উহার শর্তাবলী ব্যতীত, কোন ব্যক্তি কোন প্রকারে অবৈধভাবে পদার্পন করিবেন না৷
(২) উক্তরূপ অবৈধ পদার্পন হইলে কর্পোরেশন নোটিশ দ্বারা নির্দ্ধারিত সময়ের মধ্যে অবৈধ পদার্পনকারী ব্যক্তিকে তাঁহার অবৈধ পদার্পন বন্ধ করিবার জন্য নির্দেশ দিতে পারিবে এবং উক্ত সময়ের মধ্যে যদি তিনি এই নির্দেশ মান্য না করেন তাহা হইলে কর্পোরেশন অবৈধ পদার্পন বন্ধ করিবার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে পারিবে এবং এই বাবদ যে ব্যয় হইবে তাহা উক্ত পদার্পনকারীর নিকট হইতে তাঁহার উপর এই আইনের অধীন আরোপিত কর হিসাবে আদায়যোগ্য হইবে৷
(৩) উপ-ধারা (২) এর অধীনে জারীকৃত নোটিশ দ্বারা সংগবদ্ধ কোন ব্যক্তি নোটিশ প্রাপ্তির পনের দিনের মধ্যে সরকারের নিকট আপীল করিতে পারিবে; এবং ইহার উপর সরকারের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হইবে৷
১১৫৷ (১) কর্পোরেশন সাধারণের রাস্তায় বা উহার উপর ন্যস্ত সর্বসাধারণের ব্যবহার্য অন্যান্য স্থান যথাযথভাবে আলোকিত করিবার ব্যবস্থা গ্রহণ করিবে৷
(২) কর্পোরেশন, সরকারের পূর্ব অনুমোদনক্রমে, প্রবিধান দ্বারা নির্দ্ধারিত পদ্ধতিতে রাস্তায় আলোকিতকরণ প্রকল্প প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করিতে পারিবে৷
১১৬৷ কর্পোরেশন জনসাধারণের আরাম ও সুবিধার জন্য সাধারণ রাস্তা পানি দ্বারা ধৌত করার ব্যবস্থা করিবে৷
১১৭৷ পথচারীগণ যাহাতে পথ চলিতে বিপদগ্রস্ত না হন এবং তাঁহারা নিরাপদে ও অনায়াসে পথে চলাফেরা করিতে পারে তন্নিমিত্ত কর্পোরেশন প্রবিধান দ্বারা যানবাহনের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করিতে পারিবে৷
১১৮৷ (১) কোন ব্যক্তি কর্পোরেশন কর্তৃক প্রদত্ত লাইসেন্স ব্যতীত নগরীতে মটরগাড়ী ছাড়া অন্য কোন সাধারণ যানবাহন রাখিতে, ভাড়া দিতে বা চালাইতে পারিবেন না৷
(২) কোন ব্যক্তি কর্পোরেশন কর্তৃক প্রদত্ত লাইসেন্স ব্যতিরেকে এবং উহার শর্তানুযায়ী ব্যতীত নগরীতে কোন সাধারণ যানবাহন টানিবার জন্য ঘোড়া বা অন্য পশু ব্যবহার করিতে পারিবে না৷
(৩) কর্পোরেশন, সরকারের পূর্ব অনুমোদনক্রমে, এবং প্রবিধান দ্বারা নির্দ্ধারিত পদ্ধতিতে সাধারণ যানবাহনের ভাড়া নির্ধারণ করিতে পারিবে এবং কোন ব্যক্তি এইরূপ নির্দ্ধারিত ভাড়ার অধিক ভাড়া দাবি করিতে পারিবেন না৷
১১৯৷ (১) কর্পোরেশন অগ্নিনিরোধ ও অগ্নিনির্বাপনের জন্য দমকল বাহিনীর গঠন করিতে পারিবে এবং উহার সদস্য সংখ্যা, যানবাহন, যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জামাদি বিধি দ্বারা নির্দ্ধারিত হইবে৷
(২) নগরীতে কোন অগ্নিকাণ্ড ঘটিলে, কোন ম্যাজিষ্ট্রেট অথবা দমকল বাহিনীর কার্য পরিচালনাকারী কোন কর্মকর্তা কিংবা অন্যুন সাব-ইন্সপেক্টরের পদ মর্যাদা সম্পন্ন কোন পুলিশ কর্মকর্তা-
(৩) এই ধারার অধীনে কোন কিছু করা হইলে অথবা সরল বিশ্বাস করার জন্য ইচ্ছা করা হইলে তজ্জন্য কোন ব্যক্তিকে কোন ক্ষতিপূরণ দিতে হইবে না৷
(৪) উপ-ধারা (৩) এ অথবা অন্য কোন আইনে বা কোন বীমা পলিসীতে যাহাই থাকুক না কেন, এই ধারার অধীনে প্রদত্ত ক্ষমতা প্রয়োগ করার ফলে কোন ক্ষতি হইলে সেই ক্ষতিকে কোন অগ্নি-বীমা পলিসীর প্রয়োজনে অগ্নিকাণ্ডজনিত ক্ষতি বলিয়া গণ্য হইবে৷
১২০৷ কর্পোরেশন বেসামরিক প্রতিরত্মগার জন্য দায়ী হইবে এবং এতদুদ্দেশ্যে উহা বিধি দ্বারা নির্দ্ধারিত কার্যাবলী সম্পন্ন করিবে৷
১২১৷ বন্যা প্রতিরোধ করিবার, বন্যা দুর্গত এলাকা হইতে জনগণকে উদ্ধার করিবার এবং বন্যা কবলিত জনগণকে সাহায্য করিবার জন্য কর্পোরেশন প্রয়োজনীয় নৌকা, সাজসরঞ্জাম এবং যন্ত্রপাতির ব্যবস্থা করিবে৷
১২২৷ দুর্ভিক্ষ দেখা দিলে সরকারের অনুমোদনক্রমে, প্রয়োজনানুসারে দুর্ভিক্ষ কবলিত লোকদের জন্য ত্রাণ ব্যবস্থা করিতে পারিবে৷
১২৩৷ (১) সরকার বিধিমালা দ্বারা কি কি দ্রব্য বা ব্যবসায় এই ধারার উদ্দেশ্যে বিপজ্জনক ও ক্ষতিকর তাহা নির্দ্ধারণ করিবে;
(২) কর্পোরেশন কর্তৃক মঞ্জুরীকৃত কোন লাইসেন্স ব্যতিরেকে এবং উহার শর্তানুযায়ী ব্যতীত কোন ব্যক্তি-
(৩) সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, কর্পোরেশন, নগরীর কোন এলাকাকে বিপজ্জনক ও ক্ষতিকর বস্তুর ব্যবসায়ের জন্য নিষিদ্ধ এলাকা বলিয়া নির্দ্ধারিত করিতে পারিবে এবং উক্ত এলাকায় উক্তরূপ বস্তুর ব্যবসায় নিষিদ্ধ করিতে পারিবে৷
১২৪৷ (১) কর্পোরেশন মৃত ব্যক্তির দাফন বা দাহের জন্য গোরস্থান ও শ্মশানের ব্যবস্থা করিবে এবং উহার রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করিবে৷
(২) সরকার, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, সর্বসাধারণের ব্যবহার্য কোন গোরস্থান বা শ্মশানকে কর্পোরেশনের উপর ন্যস্ত বলিয়া ঘোষণা করিতে পারিবে এবং অনুরূপ ঘোষণার পর উহা কর্পোরেশনে ন্যস্ত হইবে এবং কর্পোরেশন উহার রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করিবে৷
(৩) যে সকল গোরস্থান বা শ্মশান কর্পোরেশন কর্তৃক পরিচালিত হয় না সেই সকল গোরস্থান বা শ্মশান কর্পোরেশনের নিকট রেজিষ্ট্রিভুক্ত করাইতে হইবে এবং উহা প্রবিধান অনুযায়ী কর্পোরেশনের নিয়ন্ত্রণ ও পরিদর্শনাধীন থাকিবে৷
(৪) কর্পোরেশন কর্তৃক মঞ্জুরীকৃত কোন লাইসেন্স ব্যতিরেকে এবং উহার শর্তানুযায়ী ব্যতীত কোন নূতন গোরস্থান বা শ্মশান প্রতিষ্ঠা করা যাইবে না৷
১২৫৷ (১) কর্পোরেশন নগরীর সাধারণ রাস্তা ও অন্যান্য সরকারী জায়গায় বৃক্ষ রোপণ করিবে এবং উহার সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন৷
(২) কর্পোরেশন সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে বৃক্ষ-গবেষণা পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করিতে পারিবে৷
১২৬৷ (১) কর্পোরেশন নগরীর মধ্যে সর্বসাধারণের সুবিধা ও চিত্তবিনোদনের জন্য প্রয়োজনীয় সাধারণ উদ্যান নির্মাণ ও উহার রক্ষণাবেক্ষণ করিতে পারিবে, এবং প্রবিধান অনুযায়ী উক্ত উদ্যান পরিচালিত হইবে৷
(২) প্রত্যেক সাধারণ উদ্যানের উন্নয়নের জন্য কর্পোরেশন উন্নয়ন প্রকল্প প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করিবে৷
১২৭৷ কর্পোরেশন নগরীর মধ্যে সর্বসাধারণের সুবিধার্থে খোলা জায়গার ব্যবস্থা করিবে এবং উহাকে তৃণাচ্ছাদিত করার, ঘেরা দেওয়া এবং মনোরম করার যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করিবে৷
১২৮৷ কর্পোরেশন বনোন্নয়ন করিতে পারিবে এবং বন-প্রকল্প প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করিতে পারিবে এবং উহার বনাঞ্চল বৃক্ষ রোপণ ও সংরক্ষণ করিতে পারিবে৷
১২৯৷ (১) কর্পোরেশন বৃক্ষ ও চারা গাছের ধ্বংস সাধনকারী কীট-পতংগ বিনাশের ব্যবস্থা করিতে পারিবে৷
(২) যদি নগরীর কোন জমিতে বা অংগনে ক্ষতিকর গাছ পালা বা লতাগুল্ম জন্মে তাহা হইলে কর্পোরেশন নোটিশ দ্বারা জমি বা অংগনের মালিক ও দখলকারকে উহা পরিষ্কার করার জন্য নির্দেশ দিতে পারিবে, এবং যদি তিনি নির্দ্ধারিত সময়ের মধ্যে উহা করিতে ব্যর্থ হন, তাহা হইলে কর্পোরেশন নিজেই উহা পরিষ্কার করিতে পারিবে এবং উহা বাবদ কর্পোরেশনের যাবতীয় ব্যয় উক্ত মালিক ও দখলকারের নিকট হইতে তাঁহাদের উপর এই আইনের অধীন আরোপিত কর হিসাব আদায়যোগ্য হইবে৷
(৩) কর্পোরেশন, প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে, বিপজ্জনক বৃক্ষ কর্তন করিবার অথবা রাস্তার উপর ঝুলন্ত এবং রাস্তায় চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টিকারী বা অন্য কোন অসুবিধা সৃষ্টিকারী উহার শাখা ছাটিয়া দেওয়ার নির্দেশ দিতে পারিবে৷
(৪) কর্পোরেশন, নোটিশ দ্বারা, উহাতে উল্লেখিত কোন এলাকায় জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর কোন শস্য উত্পাদন নিষিদ্ধ করিতে পারিবে৷
১৩০৷ কর্পোরেশন পকুর খনন ও পুনঃখনন এবং নিম্নাঞ্চল সমূহ পুনরুদ্ধারের ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে পারিবে৷
১৩১৷ (১) কর্পোরেশন সরকারের নির্দেশ মোতাবেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রক্ষণাবেক্ষণ করিবে, এবং সরকারের পূর্ব অনুমোদনক্রমে নগরীতে শিক্ষার উন্নতির জন্য প্রয়োজনীয় যে কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করিতে পারিবে৷
(২) কর্পোরেশন যে সকল প্রতিষ্ঠান রক্ষণাবেক্ষণ করিবে সেই সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিধি দ্বারা নির্দ্ধারিত মানসম্মত শিক্ষার ব্যবস্থা করিতে হইবে৷
(৩) কর্পোরেশন বিধি দ্বারা নির্দ্ধারিত ফিস ধার্য করিতে পারিবে৷
(৪) কর্পোরেশন সরকারের পূর্ব অনুমোদনক্রমে নগরীতে অবস্থিত বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহকে অর্থ সাহায্য প্রদান করিতে পারিবে৷
১৩২৷ আপাততঃ বলবত্ অন্য কোন আইন সাপেক্ষে, কর্পোরেশন নগরীতে বাধ্যতামূলক শিক্ষা প্রবর্তনের জন্য দায়ী থাকিবে এবং নগরীতে স্কুলে যাওয়ার বয়সী সকল ছেলেমেয়ে যাহাতে কর্পোরেশনের স্বীকৃতিপ্রাপ্ত বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করে তাহা নিশ্চিত করার জন্য যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে পারিবে৷
১৩৩৷ কর্পোরেশন-
(১) শিক্ষা সমিতির উন্নয়নে সহায়তা দান করিতে পারিবে;
(২) শিক্ষা-জরিপ ব্যবস্থা এবং শিক্ষা বিষয়ক প্রকল্প বাস্তবায়ন করিতে পারিবে;
(৩) বিদ্যালয়ের ছেলে-মেয়েদের জন্য বিনামূল্যে বা স্বল্পমূল্য প্রদানে দুগ্ধ ও খাদ্য সরবরাহের ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে পারিবে; এবং
১৩৪৷ কর্পোরেশন-
১৩৫৷ কর্পোরেশন, সর্বসাধারণের ব্যবহারের জন্য সাধারণ পাঠাগার ও ভ্রাম্যমান পাঠাগার প্রতিষ্ঠা করিতে পারিবে৷
১৩৬৷ কর্পোরেশন সরকারের পূর্ব অনুমোদনক্রমে, নগরীতে কোন মেলা, প্রদর্শনী বা সাধারণ উত্সবের সময় জনস্বাস্থ্য ও জননিরাপত্তা প্রয়োজনে বা জনসুবিধার্থে প্রয়োজনীয় যে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে পারিবে এবং উহার দর্শকদের উপর ফিস ধার্য করিতে পারিবে৷
১৩৭৷ কর্পোরেশন-
১৩৮৷ (১) কর্পোরেশন নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করিতে পারিবে তবে অনুরূপ পরিকল্পনা সরকারের অনুমোদন সাপেক্ষে হইবে এবং উহাতে অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে নিম্নবর্ণিত বিষয়াদির বিধান থাকিবে যথা :-
(২) সরকার কর্পোরেশন বা উহার কোন খাত হইতে প্রাপ্ত আয়ের সম্পূর্ণ বা কিয়দংশ কোন উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্ত্মবায়নের জন্য ব্যয় করিবার নির্দেশ দিতে পারিবে৷
১৩৯৷ কর্পোরেশন প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে সমাজ উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করিতে পারিবে৷
১৪০৷ কর্পোরেশন প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে এবং সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে ব্যবসায় ও বাণিজ্য প্রকল্প প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করিতে পারিবে৷
১৪১৷ (১) প্রতি বত্সর পহেলা জুলাইয়ের পর এবং সরকার কর্তৃক নির্ধারিত তারিখের পূর্বে কর্পোরেশন সরকার কর্তৃক নির্ধারিত ফরমে পূর্ববর্তী বত্সরে উহার কার্যাবলীর উপর একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন সরকারের নিকট পেশ করিবে৷
(২) প্রতিবেদনটির প্রতিলিপি কর্পোরেশনের কার্য্যালয়ে বিক্রয়ের জন্য রাখিতে হইবে৷
১৪২৷ সরকার যে কোন সময় প্রধান কার্যনির্বাহী কর্মকর্তার নিকট হইতে কোন রেকর্ড, চিঠিপত্র, পরিকল্পনা, দলিলপত্র, বিবরণ, বিবৃতি, পরিসংখ্যান, হিসাব এবং অন্য কোন তথ্য চাহিতে পারিবে এবং তিনি উহা সরবরাহ করিতে বাধ্য থাকিবেন৷
১৪৩৷ সরকার কর্পোরেশনের যে কোন কার্যালয় বা অফিস বা উহার যে কোন কাজকর্ম বা সম্পত্তি পরিদর্শন বা পরীক্ষার জন্য এবং তত্সম্পর্কে প্রতিবেদন পেশ করিবার জন্য যে কোন কর্মকর্তাকে বিশেষ ক্ষমতা দান পূর্বক প্রেরণ করিতে পারিবে এবং কর্পোরেশন বা উহার সকল কর্মকর্তার ও কর্মচারী উক্ত কর্মকর্তার তাঁহার প্রয়োজন অনুযায়ী যুক্তিসংগত সময়ে কর্পোরেশনের যে কোন অঙ্গন বা সম্পত্তিতে প্রবেশ করিবার বা উহা পরিদর্শন করিবার এবং যে কোন রেকর্ড হিসাব-নিকাশ, দলিল-দস্তাবেজ বা অন্যান্য কাগজপত্র পরীক্ষা করিবার সুযোগ প্রদান করিতে বাধ্য থাকিবেন৷
১৪৪৷ ধারা ১৪২ এর অধীন প্রাপ্ত কোন কিছু এবং ধারা ১৪৩ এর অধীনে প্রাপ্ত প্রতিবেদন অথবা অন্য কোন তথ্য বিবেচনার পর সরকার যদি মনে করেন যে-
তবে শর্ত থাকে যে, সরকারের বিবেচনায় যদি উক্তরূপ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর করা প্রয়োজন না হয় তাহা হইলে সরকার উক্তরূপ আদেশ প্রদানের পূর্বে আদেশটি কেন দেওয়া হইবে না তাহার কারণ দর্শাইবার জন্য কর্পোরেশনকে সুযোগ দিবে৷
১৪৫৷ যদি ধারা ১৪৪ এর অধীনে প্রদত্ত আদেশে উল্লেখিত সময়ের মধ্যে উক্ত আদেশে উল্লেখিত কোন কাজ যথাযথভাবে সম্পাদন না করা হয় তাহা হইলে সরকার অনুরূপ কাজ সম্পাদনের জন্য ব্যবস্থা করিতে পারিবে এবং কর্পোরেশন তহবিল হইতে এই বাবদ সকল ব্যয় নির্বাহ করিবার নির্দেশ দিতে পারিবে৷
১৪৬৷ সরকার যদি মনে করে যে, কর্পোরেশন কর্তৃক গৃহীত কোন কার্যক্রম এই আইন বা বিধি বা প্রবিধান বা অন্য কোন আইনের সহিত অসামঞ্জস্যপূর্ণ তাহা হইলে সরকার আদেশ দ্বারা উক্ত কার্যক্রম বাতিল করিতে পারিবে এবং উক্ত কার্যক্রম উক্ত আইন বিধি বা প্রবিধানের সহিত সামঞ্জস্যপূর্ণ করার জন্য প্রয়োজনীয় সবকিছু করিতে পারিবে :
তবে শর্ত থাকে যে, অনুরূপ আদেশ প্রদানের পূর্বে, অনুরূপ আদেশ কেন দেওয়া হইবে না তাহার কারণ দর্শাইবার জন্য কর্পোরেশনকে সরকার সুযোগ দিবে৷
১৪৭৷ (১) যদি প্রয়োজনীয় তদন্তের পর সরকার এইরূপ অভিমত পোষণ করে যে, কর্পোরেশন-
তাহা হইলে সরকার, সরকারী গেজেটে প্রকাশিত আদেশ দ্বারা, কর্পোরেশনকে উহার মেয়াদের অবশিষ্ট কার্যকালের অনধিক কোন নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বাতিল করিতে পারিবে:
তবে শর্ত থাকে যে, অনুরূপ আদেশ প্রদানের পূর্বে কর্পোরেশনকে উহার বিরুদ্ধে কারণ দর্শাইবার সুযোগ দিতে হইবে৷
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীনে কোন আদেশ প্রকাশিত হইলে,-
১৪৮৷ (১) যদি প্রয়োজনীয় তদন্ত্মের পর, সরকার এইরূপ অভিমত পোষণ করে যে, কর্পোরেশন উহার কোন বিশেষ বিভাগ বা প্রতিষ্ঠানকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করিতে অক্ষম, তাহা হইলে সরকার সরকারী গেজেটে প্রকাশিত আদেশ দ্বারা উক্ত বিভাগ বা প্রতিষ্ঠানের উপর কর্পোরেশনের কর্তৃত্ব উক্ত আদেশে উল্লেখিত সময়ের জন্য স্থগিত রাখিতে পারিবে৷
(২) উপরিউক্ত স্থগিতকরণের পর সরকার উক্ত বিভাগ বা প্রতিষ্ঠানের পরিচালনার ভার নিজেই গ্রহণ করিতে পারিবে অথবা উপযুক্ত বিবেচনা করিলে, উহার পরিচালনার জন্য অন্য কোন ব্যবস্থাও গ্রহণ করিতে পারিবে; এবং কর্পোরেশনকে বা, কর্পোরেশনের ব্যর্থতার ক্ষেত্রে কর্পোরেশন তহবিলের হেফাজতকারী ব্যক্তিকে উক্ত বিভাগ বা প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা ব্যয় নির্বাহের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ সরকারের হস্তে ন্যস্ত করিবার জন্য নির্দেশ দিতে পারিবে৷
১৪৯৷ তৃতীয় তফসিলে বর্ণিত কোন করণীয় কাজ না করা এবং করণীয় নয় এই প্রকার কাজ করা এই আইনের অধীনে দন্ডনীয় অপরাধ হইবে৷
[১৫০৷ (১) এই আইনের অধীন যে সকল অপরাধের জন্য কোন দণ্ডের উল্লেখ উহাতে স্পষ্টভাবে নাই তজ্জন্য দশ হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড প্রদান করা যাইবে, এবং এই অপরাধ যদি অনবরতভাবে ঘটিতে থাকে তাহা হইলে প্রথম দিনের অপরাধের পর পরবর্তী প্রত্যেক দিনের জন্য অপরাধীকে অতিরিক্ত অনধিক পাঁচ শত টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড প্রদান করা যাইবে৷
(২) যদি কোন ব্যক্তি এই আইনের অধীন কোন অপরাধের জন্য দ্বিতীয়বার অপরাধী বলিয়া সাব্যস্ত হয় তাহা হইলে সেই ব্যক্তি অন্যুন ছয় মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড, বা অনূর্ধ পঁচিশ হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন৷
(৩) যদি কোন ব্যক্তি তৃতীয় তফসিলের ক্রমিক ৩, ১৪, ১৯, ২৪, ৪৪ বা ৫০ এ বিধৃত কোন অপরাধের জন্য অপরাধী বলিয়া সাব্যস্ত হয় তাহা হইলে অপরাধী সাব্যস্তকারী আদালত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বা ১৫১ ধারায় উল্লিখিত কোন ব্যক্তির আবেদনক্রমে-
আদেশ বা নির্দেশ দিতে পারেন৷]
১৫১৷ প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বা এতদুদ্দেশ্যে কর্পোরেশন হইতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন ব্যক্তি এই আইনের অধীন অপরাধ সংক্রান্ত কোন অভিযোগ প্রত্যাহার করিতে পারিবেন৷
১৫২৷ প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বা কর্পোরেশন হইতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন ব্যক্তির লিখিত অভিযোগ ছাড়া কোন আদালত এই আইনের অধীনে কোন অপরাধ বিচারের জন্য গ্রহণ করিতে পারিবেন না৷
১৫৩৷ (১) সরকার, বিধি দ্বারা নির্ধারিত যে পদ্ধতিতে, নগরী সংলগ্ন কোন এলাকাকে নগরীর অন্তর্ভুক্ত করিতে পারিবে বা নগরীর কোন এলাকাকে উহা হইতে বহির্ভূত করিতে পারিবে৷
(২) কোন এলাকা নগরীর অন্তর্ভুক্ত করা হইলে, এই আইন ও সকল বিধি এবং প্রবিধান এবং এই আইনের অধীনে প্রদত্ত সকল আদেশ, নির্দেশ ও ক্ষমতা উক্ত এলাকায় প্রযোজ্য হইবে৷
(৩) কোন এলাকা নগরী হইতে বহির্ভূত, করা হইলে, এই আইন ও সকল বিধি, প্রবিধান এবং এই আইনের অধীন প্রদত্ত সকল আদেশ, নির্দেশ ও ক্ষমতা উক্ত এলাকায় আর প্রযোজ্য হইবে না৷
(৪) সরকার উক্তরূপ অন্তর্ভুক্তকরণ ও বহির্ভূতকরণ কার্যকর করার প্রয়োজনে অথবা এতদসংক্রান্ত বিষয়ে যে কোন আদেশ দিতে পারিবে৷
১৫৪৷ এই আইন বা কোন বিধি বা প্রবিধান অনুসারে প্রদত্ত কর্পোরেশন বা উহার মেয়র [ *], ডেপুটি মেয়র বা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কোন আদেশ দ্বারা কোন ব্যক্তি সংক্ষুদ্ধ হইবে যে, বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে এবং সময়ের মধ্যে উহার নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট ইহার বিরুদ্ধে আপীল করিতে পারিবেন; এবং এই আপীলের উপর আপীল কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হইবে এবং ইহার বিরুদ্ধে কোন আদালতে কোন প্রশ্ন উত্থাপন করা যাইবে না৷
১৫৫৷ সময় সময় জারীকৃত স্থায়ী আদেশ দ্বারা সরকার-
১৫৬৷ (১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে সরকার, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে৷
(২) বিশেষ করিয়া, এবং উপরোক্ত ক্ষমতার সামগ্রিকভাবে ক্ষুণ্ন না করিয়া, অনুরূপ বিধিতে চতুর্থ তফসিলে উল্লেখিত সকল বা যে কোন বিষয়ে বিধান করা যাইতে পারে৷
১৫৭৷ (১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, কর্পোরেশন, সরকারের পূর্ব অনুমোদনক্রমে, এবং সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইনের বা কোন বিধির সহিত অসমঞ্জস না হয় এইরূপ প্রবিধান প্রণয়ন করিতে পারিবে৷
(২) বিশেষ করিয়া, এবং উপরোক্ত ক্ষমতার সামগ্রিকতাকে ক্ষুণ্ন না করিয়া, অনুরূপ প্রবিধানে পঞ্চম তফসিলে উল্লেখিত সকল বা যে কোন বিষয়ে বিধান প্রণয়ন করা যাইতে পারিবে৷
(৩) এই ধারাতে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, পঞ্চম তফসিলের ১০ (দশ) হইতে ২৫ (পঁচিশ) পর্যন্ত ক্রমিক নম্বরে (উভয় সমেত) উল্লেখিত বিষয়ের উপর কোন প্রবিধান পূর্ব প্রকাশনা ব্যতিরেকে কার্যকর হইবে না৷
১৫৮৷ (১) সরকার, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইন বা কোন বিধির অধীন উহার সমস্ত বা যে কোন ক্ষমতা বিভাগীয় কমিশনার বা উহার অধীনস্থ অন্য কোন কর্মকর্তাকে অর্পণ করিতে পারিবে৷
(২) কর্পোরেশন, সরকারের পূর্ব অনুমোদনক্রমে গৃহীত প্রস্তাব দ্বারা, উহার যে কোন কার্য উহার যে কোন স্থায়ী কমিটিকে বা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে অর্পণ করিতে পারিবে৷
(৩) কোন স্থায়ী কমিটি, কর্পোরেশনের পূর্ব অনুমোদনক্রমে গৃহীত প্রস্তাব দ্বারা, ধারা (২) এর অধীন তত্প্রতি অর্পিত কার্য ছাড়া তাঁহার যে কোন কার্য কর্পোরেশনের অন্য কোন কর্মকর্তাকে অর্পণ করিতে পারিবে৷
১৫৯৷ (১) এই আইন বা কোন বিধি বা প্রবিধানের অধীনে প্রদত্ত সকল লাইসেন্স, অনুমোদন বা অনুমতি লিখিতভাবে হইতে হইবে৷
(২) কর্পোরেশন কর্তৃক প্রদত্ত সকল লাইসেন্স, অনুমোদন বা অনুমতি প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বা বিধি বা প্রবিধান হইতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত অন্য কোন কর্মকর্তা কর্তৃক স্বাক্ষরিত হইতে হইবে৷
১৬০৷ (১) কর্পোরেশনের বিরুদ্ধে বা কর্পোরেশন সংক্রান্ত কোন কাজের জন্য উহার মেয়র বা [ *] কোন কমিশনার অথবা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অথবা উহার অন্য কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে কোন মামলা দায়ের করিতে হইলে মামলা দায়ের করিতে ইচ্ছুক ব্যক্তিকে মামলার কারণ এবং বাদীর নাম ও ঠিকানা উল্লেখ করিয়া একটি নোটিশ -
(২) উক্ত নোটিশ প্রদান বা পৌঁছানোর পর ত্রিশ দিন অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত কোন মামলা দায়ের করা যাইবে না, এবং মামলার আরজীতে উক্ত নোটিশ প্রদান করা বা পৌঁছানো হইয়াছে কিনা তাহারও উল্লেখ থাকিতে হইবে৷
১৬১৷ (১) এই আইন বা কোন বিধি, প্রবিধান পালনের জন্য কোন কাজ করা বা করা হইতে বিরত থাকা যদি কোন ব্যক্তির কর্তব্য হয়, তাহা হইলে কোন্ সময়ের মধ্যে ইহা করিতে হইবে বা ইহা করা হইতে বিরত থাকিতে হইবে তাহা উল্লেখ করিয়া তাঁহার উপর একটি নোটিশ জারী করিতে হইবে৷
(২) এই আইনের অধীনে প্রদেয় কোন নোটিশ গঠনগত ত্রুটির কারণে অবৈধ হইবে না৷
(৩) ভিন্নরূপ কোন বিধান না থাকিলে, এই আইনের অধীনে প্রদেয় সকল নোটিশ উহার প্রাপককে হাতে হাতে প্রদান করিয়া অথবা তাঁহার নিকট ডাকযোগে প্রেরণ করিয়া বা তাঁহার বাসস্থান বা কর্মস্থলের কোন বিশিষ্ট স্থানে আটিয়া দিয়া জারী করিতে হইবে৷
(৪) যে নোটিশ সর্বসাধারণের জন্য তাহা কর্পোরেশন কর্তৃক নির্দ্ধারিত কোন প্রকাশ্য স্থানে অঁটিয়া দিয়া জারী করা হইলে উহা যথাযথভাবে জারী হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে৷
১৬২৷ এই আইনের অধীন প্রস্তুতকৃত এবং সংরত্মিগত যাবতীয় রেকর্ড এবং রেজিষ্ট্রার, Evidence Act, 1872 (I of 1872) এ যে অর্থে ব্যবহৃত হইয়াছে সেই অর্থে, প্রকাশ্য রেকর্ড (public document) বলিয়া গণ্য হইবে এবং, বিপরীত প্রমাণিত না হইলে, উহাকে বিশুদ্ধ রেকর্ড বা রেজিষ্টার বলিয়া গণ্য করিতে হইবে৷
১৬৩৷ কর্পোরেশনের মেয়র [ *] এবং প্রত্যেক কমিশনার এবং উহার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মচারী এবং কর্পোরেশনের কাজ করার জন্য যথাযথভাবে ক্ষমতা প্রাপ্ত অন্যান্য ব্যক্তি, Penal Code (XLV 1860) এর Section 21 এ যে অর্থে ব্যবহৃত হইয়াছে সেই অর্থে, জনসেবক (public servant) বলিয়া গণ্য হইবে৷
১৬৪৷ [মেয়রের সংসদ সদস্য হওয়ার যোগ্যতা- রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন (সংশোধন) আইন, ১৯৯৩ (১৯৯৩ সনের ৯ নং আইন) এর ৩৫ ধারাবলে বিলুপ্ত৷]
১৬৫৷ এই আইনে বা কোন বিধি বা প্রবিধানের অধীনে সরল বিশ্বাসে কৃত কোন কাজের ফলে কোন ব্যক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হইলে বা তাঁহার ক্ষতিগ্রস্ত হইবার সম্ভাবনা থাকিলে তজ্জন্য সরকার, কর্পোরেশন বা উহাদের নিকট হইতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন ব্যক্তির বিরূদ্ধে কোন দেওয়ানী বা ফৌজদারী মামলা বা অন্য কোন আইনগত কার্যক্রম গ্রহণ করা যাইবে না৷
১৬৬৷ এই আইনের অন্য কোন বিধানে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই পরিচ্ছেদের বিধানাবলী কার্যকর থাকিবে৷
১৬৭৷ (১) এই আইন বা আপাততঃ বলবত্ অন্য কোন আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইন প্রবর্তন হওয়ার সংগে সংগে Paurashava Ordinance, 1977(XXVI of 1977) এর অধীনে গঠিত রাজশাহী পৌরসভা, রাজশাহী [সিটি] কর্পোরেশন বলিয়া গণ্য হইবে৷
(২) এই আইনের বিধান অনুযায়ী কর্পোরেশন গঠিত না হওয়া পর্যন্ত, কর্পোরেশন একজন প্রশাসক, একজন উপ-প্রশাসক এবং সরকার কর্তৃক নির্দ্ধারিত সংখ্যক কমিশনার সমন্বয়ে গঠিত হইবে এবং তাঁহারা সকলেই সরকার কর্তৃক নিযুক্ত হইবেন৷
(৩) প্রশাসক মেয়র-এর দায়িত্ব পালন করিবেন এবং উপ-প্রশাসক প্রশাসকের দায়িত্ব পালনে সহায়তা করিবেন৷
(৪) এই ধারার অধীনে কোন ব্যক্তিকে সরকার যে কোন সময়ে কোন কারণ না দর্শাইয়া তাঁহার পদ হইতে অপসারণ করিতে পারিবেন৷
১৬৮৷ কমিশনারগণের প্রথম সাধারণ নির্বাচনের উদ্দেশ্যে, সরকার, সরকারী গেজেটে প্রকাশিত আদেশ দ্বারা-
[১৬৮ক৷ এই অধ্যাদেশ বা আপাততঃ বলবত্ অন্য কোন আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, ১৯৯১ সনের ১৮ই সেপ্টেম্বর হইতে উক্ত ১৮ সেপ্টেম্বর তারিখের অব্যবহিত পরবর্তী এই অধ্যাদেশের অধীন নির্বাচিত ব্যক্তিদের সমন্বয়ে গঠিত কর্পোরেশনের প্রথম সভার তারিখ পর্যন্ত (উভয় দিনসহ) সময়সীমার মধ্যে কর্পোরেশন কর্তৃক প্রণীত আদেশ, কৃত কাজকর্ম, গৃহীত ব্যবস্থা বা কার্যধারাসমূহ, অথবা প্রণীত, কৃত বা গৃহীত বলিয়া বিবেচিত আদেশ, কাজকর্ম, ব্যবস্থা বা কার্যধারাসমূহ, কর্পোরেশন কর্তৃক বৈধভাবে প্রণীত, কৃত বা গৃহীত হইয়াছে বলিয়া এতদ্বারা অনুমোদিত ও সমর্থিত ও ঘোষিত হইল, এবং তত্সম্পর্কে কোন আদালত, ট্রাইবুন্যাল বা কর্তৃপক্ষের নিকট কোন কারণেই কোন প্রশ্ন উত্থাপন করা যাইবে না৷]
১৬৯৷ (১) এই আইন প্রবর্তনের সংগে সংগে Paurashava Ordinance, 1977(XXVI of 1977), অতঃপর উক্ত Ordinance বলিয়া উল্লেখিত, এর রাজশাহী নগরীর ক্ষেত্রে প্রয়োগ রহিত হইবে৷
(২) উক্ত Ordinance উক্তরূপে রহিত হইবার পর,-
১৭০৷ এই আইনে কোন কিছু করিবার জন্য বিধান থাকা সত্ত্বেও যদি উহা কোন কর্তৃপক্ষ বা কি পদ্ধতিতে করা হইবে তাহার সম্পর্কে কোন বিধান না থাকে তাহা হইলে উক্ত কাজ বিধি দ্বারা নির্দ্ধারিত পদ্ধতিতে এবং বিধি দ্বারা নির্দ্ধারিত কর্তৃপক্ষ কর্তৃক করা হইবে৷
১৭১৷ এই আইনের বিধানাবলী কার্যকর করিবার ক্ষেত্রে কোন অসুবিধা দেখা দিলে সরকার উক্ত অসুবিধা দূরীকরণার্থে, আদেশ দ্বারা, প্রয়োজনীয় যে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে পারিবে :
তবে শর্ত থাকে যে, এই আইনের বিধান অনুযায়ী কর্পোরেশন গঠিত হইবার তারিখ হইতে দুই বত্সর অতিক্রান্ত হইবার পর উক্তরূপ কোন আদেশ দেওয়া যাইবে না ৷