ইট পোড়ানো নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে প্রণীত আইন৷ যেহেতু ইট পোড়ানো নিয়ন্ত্রণের বিধান করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়; সেহেতু এতদ্দ্বারা নিম্নরূপ আইন করা হইল:-
১৷ (১) এই আইন ইট পোড়ানো (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ১৯৮৯ নামে অভিহিত হইবে৷
(২) এই আইন ১৭ই আষাঢ়, ১৩৯৬ মোতাবেক ১লা জুলাই, ১৯৮৯ তারিখে কার্যকর হইবে৷
২৷ বিষয় বা প্রসংগের পরিপন্থী কোন কিছু না থাকিলে, এই আইনে,-
৩৷ আপাততঃ বলবত্ অন্য কোন আইনে বিপরীত যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইনের বিধানাবলী কার্যকর থাকিবে৷
৪৷ [(১) লাইসেন্স ব্যতীত কোন ব্যক্তি ইটের ভাঁটা স্থাপন করিতে পারিবেন না বা ইট প্রস্তুত বা ইট পোড়াইতে পারিবেন না৷]
(২) বিধি দ্বারা নির্ধারিত ফরমে এবং ফিস প্রদান করিয়া উপ-ধারা (১) এ উল্লেখিত লাইসেন্সের জন্য [সংশ্লিষ্ট] [ েজলা প্রশাসকের] নিকট দরখাস্ত পেশ করিতে হইবে৷
[(৩) জেলা প্রশাসক কর্তৃক মনোনীত একজন প্রতিনিধি, যিনি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের নিম্নে হইবেন না, উপজেলা স্বাস্থ্য প্রশাসক, পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা বা যেখানে পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা নাই সেখানে বন কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট এলাকার ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সমন্বয়ে এই ধারার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে একটি তদন্ত কমিটি থাকিবে৷
(৩ক) উপ-ধারা (২) এর অধীন প্রাপ্ত দরখাস্ত সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক কর্তৃক উপ-ধারা (৩) এর অধীন গঠিত তদন্ত কমিটির নিকট দরখাস্তে উল্লিখিত বিষয়গুলির সত্যতা সম্পর্কে সরেজমিনে তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের জন্য প্রেরিত হইবে৷
(৩খ) উপ-ধারা (৩ক) এর অধীন প্রতিবেদন প্রাপ্তির পর জেলা প্রশাসক ক্ষেত্রমত দরখাস্তকারীকে বিধিতে নির্ধারিত পদ্ধতিতে লাইসেন্স প্রদান করিবেন৷]
(৪) ইট পোড়ানোর জন্য প্রদত্ত লাইসেন্স, উহা প্রদানের তারিখ হইতে, [তিন] বত্সরের জন্য বৈধ থাকিবে, তবে উক্ত মেয়াদের মধ্যে লাইসেন্স প্রাপ্ত ব্যক্তি যদি এই আইনের কোন বিধান বা তদধীন প্রণীত কোন বিধি বা লাইসেন্সে উল্লিখিত কোন শর্ত লংঘন করেন, তাহা হইলে [জেলা প্রশাসক] উক্ত লাইসেন্স বাতিল করিতে পারিবেন :
তবে শর্র্ত থাকে যে, লাইসেন্স প্রাপ্ত ব্যক্তিকে প্রস্তাবিত লাইসেন্স বাতিলের বিরুদ্ধে কারণ দর্শাইবার সুযোগ প্রদান না করিয়া লাইসেন্স বাতিল করা যাইবে না৷
[(৫) এই ধারায় যাহা কিছু থাকুক না কেন, উপজেলা সদরের সীমানা হইতে তিন কিলোমিটার, সংরক্ষিত, রক্ষিত, হুকুম দখল বা অধিগ্রহণকৃত বা সরকারের নিকট ন্যস্ত বনাঞ্চল, সিটি কর্পোরেশন, মিউনিসিপ্যালিটি, আবাসিক এলাকা ও ফলের বাগান হইতে তিন কিলোমিটার দূরত্বের মধ্যে কোন ইটের ভাঁটা স্থাপন করার লাইসেন্স প্রদান করা যাইবে না এবং এই ধারা কার্যকর হইবার অব্যবহিত পূর্বে উক্ত সীমানার মধ্যে কোন ইটের ভাঁটা স্থাপিত হইয়া থাকিলে সংশ্লিষ্ট লাইসেন্স গ্রহীতা, সরকার কর্তৃক সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা এতদুদ্দেশ্যে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে, এই উপ-ধারার বিধান মোতাবেক, উহা যথাযথ স্থানে স্থানান্তর করিবেন, অন্যথায় সংশ্লিষ্ট লাইসেন্স বাতিল হইয়া যাইবে৷
ব্যাখ্যা৷- এই উপ-ধারায় “আবাসিক এলাকা” অর্থ অন্যুন পঞ্চাশটি পরিবার বসবাস করে এমন এলাকা এবং “ফলের বাগান” অর্থ অন্যুন পঞ্চাশটি ফলজ বা বনজ গাছ আছে এমন বাগানকে বুঝাইবে৷]
৫৷ কোন ব্যক্তি ইট পোড়ানোর জন্য [জ্বালানী কাঠ] ব্যবহার করিবেন না৷
[৬৷ (১) এই আইনের কোন ধারা লঙ্ঘন হইয়াছে কিনা তাহা নিরূপণ করার জন্য জেলা প্রশাসক বা জেলা প্রশাসক কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বা বন কর্মকর্তা বা পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা, যাঁহাদের পদমর্যাদা সহকারী বন সংরক্ষক/সমপর্যায়ের নিম্ন নহে বা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, কোন প্রকার নোটিশ ব্যতীত, যে কোন ইটের ভাঁটা পরিদর্শন করিতে পারিবেন।
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন পরিদর্শনকালে পরিদর্শনকারী কর্মকর্তার নিকট যদি ইহা প্রতীয়মান হয় যে,-
[৭৷ কোন ব্যক্তি এই আইনের কোন বিধান বা তদধীন প্রণীত কোন বিধি বা লাইসেন্সের কোন শর্ত লঙ্ঘন করিলে তিনি অনধিক এক বছরের কারাদণ্ড বা অনধিক পঞ্চাশ হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং অপরাধ বিচারকালে আদালত যদি এই সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে, ধারা ৬ এর অধীন আটককৃত ইট ও জ্বালানী কাঠ বাজেয়াপ্তযোগ্য, তাহা হইলে আদালত উক্ত ইট ও জ্বালানী কাঠ বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দিবেন৷]
[৮৷ [(১) জেলা প্রশাসক বা জেলা প্রশাসক কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বা বন কর্মকর্তা বা পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা, যাঁহাদের পদমর্যাদা সহকারী বন সংরক্ষক/সমপর্যায়ের নিম্নে নহে বা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এর লিখিত অভিযোগ ব্যতীত কোন আদালত এই আইনের অধীন কোন অপরাধ বিচারার্থে গ্রহণ করিতে পারিবেন না৷]
(২) অন্য কোন আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইনের অধীন দণ্ডনীয় সকল অপরাধ বিচারার্থ গ্রহনীয় (Cognizable) হইবে৷]
৯৷ এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে সরকার, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপনের দ্বারা, বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে৷