মহাজনী ঋণের কবল হইতে কৃষকগণকে রক্ষা করার উদ্দেশ্যে প্রণীত আইন৷ যেহেতু মহাজনী ঋণের কবল হইতে কৃষকগণকে রক্ষা করার উদ্দেশ্যে বিধান করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়; সেহেতু এতদ্দ্বারা নিম্নরূপ আইন করা হইল :-
১৷ (১) এই আইন বাংলাদেশ ঋণ সালিসি আইন, ১৯৮৯ নামে অভিহিত হইবে৷
(২) ইহা রাংগামাটি পার্বত্য জেলা, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা ও বান্দরবন পার্বত্য জেলা ব্যতীত বাংলাদেশের সর্বত্র প্রযোজ্য হইবে৷
(৩) ইহা ১লা বৈশাখ, ১৩৮৯ বাংলা মোতাবেক ১৪ই এপ্রিল, ১৯৮২ ইংরেজী তারিখে কার্যকর হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে৷
২৷ বিষয় বা প্রসংগের পরিপন্থী কোন কিছু না থাকিলে, এই আইনে,-
৩৷ আপাততঃ বলবত্ অন্য কোন আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইন ও তদধীন প্রণীত বিধির বিধানাবলী কার্যকর থাকিবে৷
৪৷ কোন ব্যক্তি মহাজনী ঋণের জামানত হিসাবে কোন কৃষকের নিকট হইতে তাঁহার দস্ত্মখত বা টিপসহিযুক্ত অলিখিত স্ট্যাম্প কাগজ গ্রহণ করিতে পারিবেন না৷
৫৷ কোন ব্যক্তি মহাজনী ঋণের শর্ত হিসাবে ঋণ গ্রহীতার জমির উত্পাদিত ফসল কোন প্রকারের অগ্রিম ক্রয় করিতে পারিবেন না বা তাঁহার নির্ধারিত কোন স্থানে উঠাইতে পারিবেন না৷
৬৷ (১) এই আইন বলবত্ হইবার পর অনধিক তিন একর কৃষি জমির মালিক কোন কৃষক প্রাকৃতিক দুর্যোগে তগতিগ্রস্ত হওয়ার বা জীবন ধারণে অতগমতাজনিত অসহায়তার কারণে কোন কৃষি জমি বিক্রয় করিলে, এবং-
উক্ত কৃষক বোর্ড গঠিত হইবার ছয় মাস, বা বিক্রয় দলিল রেজিিষ্ট্র হইবার ছয় মাস, যাহাই পরে হয়, এর মধ্যে উক্ত বিক্রয়কে খায়খালাসী বন্ধক হিসাবে ঘোষণা করিবার জন্য বোর্ডের নিকট বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে দরখাস্ত্ম করিতে পারিবেন এবং বোর্ড, দরখাস্তটি বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে শুনানীর পর, দরখাস্তর যথার্থতা সম্পর্কে সন্তুষ্ট হইলে, উক্ত বিক্রয়কে সাত বত্সর মেয়াদী খায়খালাসী বন্ধক হিসাবে ঘোষণা করিবে :
তবে শর্ত থাকে যে, উক্ত জমি ১লা জানুয়ারী, ১৯৮৯ তারিখের পূর্বে পুনরায় হস্তান্তরিত হইয়া থাকিলে বা ঐ তারিখের পূর্বে উহার উপর কোন শিল্প কারখানা, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান বা ইমারত স্থাপনের বা অন্য কোন কারণে উহার প্রকৃতি স্থায়ীভাবে পরিবর্তিত হইয়া থাকিলে, উক্ত জমির ক্ষেত্রে এই উপ-ধারার অধীন কোন দরখাস্ত গ্রহণযোগ্য হইবে না৷
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন কোন বিক্রয় খায়খালাসী বন্ধক হিসাবে ঘোষিত হইলে বোর্ড, তত্কর্তৃক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে, যাহা তিন মাসের অধিক হইবে না, বিক্রীত জমির দখল বিক্রেতার নিকট প্রত্যর্পণ করিবার জন্য ক্রেতাকে নির্দেশ দান করিবে৷
(৩) যদি উপ-ধারা (২) এর অধীন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ক্রেতা জমি প্রত্যর্পণ না করেন বা করিতে ব্যর্থ হন, তাহা হইলে ধারা ৮ এর বিধান অনুযায়ী উক্ত প্রত্যর্পণ কার্যকর করা হইবে৷
(৪) যে ক্ষেত্রে বোর্ড উপ-ধারা (২) এর অধীন কোন বিক্রয়কে খায়খালাসী বন্ধক হিসাবে গণ্য করে সে ক্ষেত্রে বিক্রয়মূল্য বন্ধকী অর্থ বলিয়া গণ্য হইবে এবং বিক্রেতা কর্তৃক পরিশোধ্য বন্ধকী অর্থের পরিমাণ বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত হইবে৷
(৫) উপ-ধারা (৪) এর অধীন পরিশোধ্য বন্ধকী অর্থের পরিমাণ নির্ধারণের সময় বোর্ড বিক্রয়মূল্য হইতে এক-দশমাংশ পৃথক করিয়া ক্রেতা উক্ত জমি যত বত্সর ভোগ করিয়াছেন উহার প্রতি বত্সরের জন্য উক্ত এক-দশমাংশ হইতে উহার এক-সপ্তমাংশ হারে বাদ দিবে এবং বাকী অংশ বিক্রয়মূল্যের অবশিষ্ট নয়-দশমাংশের সহিত যোগ করিয়া মোট পরিশোধ্য অর্থের পরিমাণ নির্ধারণ করিবে :
তবে শর্ত থাকে যে, যদি ক্রেতা উক্ত জমি সাত বত্সরের অধিক কাল ভোগ করিয়া থাকেন, তাহা হইলে উক্ত এক-দশমাংশ সম্পূর্ণরূপে বিক্রয় মূল্য হইতে বাদ দিয়া পরিশোধ্য অর্থের পরিমাণ নির্ধারণ করিতে হইবে৷
(৬) উপ-ধারা (৫) এর অধীন নির্ধারিত পরিশোধ্য অর্থ অনধিক দশটি বার্ষিক কিস্ততে শতকরা বার্ষিক বিশ টাকা হারে সরল সুদসহ ক্রেতাকে পরিশোধের জন্য বোর্ড বিক্রেতাকে নির্দেশ দিবে৷
(৭) উপ-ধারা (৬) এর অধীন নির্ধারিত কোন কিস্ত অনাদায়ী থাকিলে অনাদায়ী কিস্ত্র অর্থ সরকারী দাবী (public demand) বলিয়া গণ্য হইবে এবং তদনুসারে ইহা আদায়যোগ্য হইবে :
তবে শর্ত থাকে যে, ক্রেতা যদি অনধিক দুই একর জমির মালিক হন অথবা ক্রেতা যদি অনধিক তিন একর জমির মালিক হন এবং জীবন ধারণে অতগমতাজনিত অসহায় হন তবে উক্ত উক্ত ধারা ‘৬' প্রাজ্য হইবে না৷
৭৷ (১) এই আইন বলবত্ হইবার পর অনধিক দুই একর কৃষি জমির মালিক কোন কৃষক প্রাকৃতিক দুর্যোগে তগতিগ্রস্ত হওয়ার বা জীবন ধারণে অতগমতাজনিত অসহায়তার কারণে অনধিক ত্রিশ হাজার টাকা মূল্যে অনধিক এক একর পরিমাণ কৃষি জমি বিক্রয় করিলে এবং উক্ত জমির বিক্রয় মূল্য বিক্রয়কালীন সমশ্রেণীর জমির প্রচলিত বাজারমূল্য হইতে কম হইয়া থাকিলে, উক্ত কৃষক এই বিক্রয় বাতিল ঘোষণা করার জন্য বোর্ড গঠিত হইবার ছয় মাস, বা বিক্রয় দলিল রেজিষ্ট্রী হইবার ছয় মাস, যাহাই পরে হয়, এর মধ্যে বোর্ডের নিকট বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে দরখাস্ত্ম করিতে পারিবেন এবং বোর্ড, দরখাস্ত্মটি বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে শুনানীর পর, দরখাস্ত্মের যথার্থতা সম্পর্কে সন্তুষ্ট হইলে, উক্ত বিক্রয়কে বাতিল ঘোষণা করিতে পারিবে :
তবে শর্ত থাকে যে, উক্ত জমি ১লা জানুয়ারী, ১৯৮৯ তারিখের পূর্বে পুনরায় হস্তান্তরিত হইয়া থাকিলে বা ঐ তারিখের পূর্বে উহার উপর কোন শিল্প কারখানা, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান বা ইমারত স্থাপনের বা অন্য কোন কারণে উহার প্রকৃতি স্থায়ীভাবে পরিবর্তিত হইয়া থাকিলে উক্ত জমির ক্ষেত্রে এই উপ-ধারার অধীন কোন দরখাস্ত গ্রহণযোগ্য হইবে না৷
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীনে কোন বিক্রয় বাতিল ঘোষিত হইলে বোর্ড, তত্কর্তৃক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে, যাহা তিন মাসের অধিক হইবে না, বিক্রিত জমির দখল বিক্রেতার নিকট প্রত্যর্পণ করার জন্য ক্রেতাকে নির্দেশ দান করিবে৷
(৩) যদি উপ-ধারা (২) এর অধীন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ক্রেতা জমি প্রত্যর্পণ না করেন বা করিতে ব্যর্থ হন, তাহা হইলে ধারা ৮ এর বিধান অনুযায়ী উক্ত প্রত্যর্পণ কার্যকর করা হইবে৷
(৪) যে ক্ষেত্রে উপ-ধারা (১) এর অধীন কোন বিক্রয় বাতিল ঘোষিত হয় সে ক্ষেত্রে বিক্রয়মূল্য সুদমুক্ত ঋণ বলিয়া গণ্য হইবে৷
(৫) বোর্ড বিক্রয় দলিল রেজিিষ্ট্রর তারিখ হইতে উপ-ধারা (৩) এর অধীন জমি প্রত্যর্পণের তারিখ পর্যন্ত্ম সময়ে ক্রেতা উক্ত জমি হইতে যে পরিমাণ আয় করিয়াছেন তাহার সমপরিমাণ অর্থ বিক্রয়মূল্য হইতে বাদ দিয়া পরিশোধ্য সুদমু্ক্ত ঋণের পরিমাণ নির্ধারণ করিবে এবং উহা অনধিক দশটি বার্ষিক কিস্ততে ক্রেতাকে পরিশোধের জন্য বিক্রেতাকে নির্দেশ দান করিবে৷
(৬) উপ-ধারা (৫) এর অধীন কোন কিস্ত অনাদায়ী থাকিলে অনাদায়ী কিস্ত্র অর্থ সরকারী দাবী (public demand) বলিয়া গণ্য হইবে এবং তদনুসারে উহা আদায়যোগ্য হইবে :
তবে শর্ত থাকে যে, ক্রেতা যদি অনধিক দুই একর জমির মালিক হন এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগে তগতিগ্রস্ত বা জীবন ধারণে অক্ষমতাজনিত অসহায় হন তবে উক্ত ধারা ‘৭' প্রযোজ্য হইবে না৷
৮৷ ক্রেতা বোর্ডের নির্দেশানুসারে জমির দখল প্রত্যর্পণ না করিলে বা করিতে ব্যর্থ হইলে, জমির দখল পাওয়ার জন্য বিক্রেতা উক্ত জমি যে উপজেলায় অবস্থিত সেই উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) এর নিকট দরখাস্ত করিতে পারিবেন এবং উক্ত সহকারী কমিশনার ক্রেতাকে নোটিশ প্রদানপূর্বক উচ্ছেদ করিয়া বিক্রেতাকে জমির দখল প্রদান করিবেন৷
৯৷ কোন কৃষক ধারা ৬ বা ধারা ৭ এর অধীন তাঁহার নিকট প্রত্যর্পিত কোন কৃষি জমি প্রত্যর্পণের তারিখ হইতে তিন বত্সরের মধ্যে হস্ত্মান্ত্মর করিতে পারিবেন না :
তবে শর্ত থাকে যে, ধারা ৬ বা ধারা ৭ এর অধীন পরিশোধ্য অর্থ তিনটির অধিক বার্ষিক কিস্ততে পরিশোধের নির্দেশ থাকিলে তিন বত্সর অতিক্রান্ত হওয়ার পর পরিশোধ্য বাকী অর্থ একযোগে বা নির্ধারিত কিস্ত অনুসারে পরিশোধিত হইলে প্রত্যর্পিত জমি হস্ত্মান্ত্মর করা যাইবে৷
১০৷ কোন ব্যক্তি খায়খালাসী বন্ধক ব্যতীত অন্য কোন উপায়ে মহাজনী ঋণের জামানত হিসাবে কোন কৃষকের কোন কৃষি জমির দখল গ্রহণ অথবা নিজের বা অন্য কাহারও অনুকূলে উহা দায়বদ্ধ করিতে পারিবেন না৷
১১৷ (১) কোন মহাজনী ঋণ গ্রহীতা তত্কর্তৃক গৃহীত ঋণের পরিমাণ এবং উহার উপর প্রদেয় সুদের ন্যায়সংগত হার ও পরিমাণ, পরিশোধ্য ঋণ ও উহার উপর প্রদেয় সুদের পরিমাণ নির্ধারণ এবং উক্তরূপ নির্ধারিত ঋণ ও সুদ পরিশোধের জন্য ন্যায়সংগত কিস্ত নিরূপণের জন্য বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে বোর্ডের নিকট দরখাস্ত করিতে পারিবেন৷
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন দরখাস্তটি বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে শুনানীর পর, বোর্ড-
(৩) ঋণগ্রহীতার সম্পদ, আয় ও সার্বিক আর্থিক অবস্থা বিবেচনা করিয়া বোর্ড ঋণ ও সুদ পরিশোধের কিস্ত, যাহা দশটির অধিক হইবে না, নির্ধারণ করিয়া উহা ঋণদাতাকে পরিশোধ করার জন্য ঋণগ্রহীতাকে নির্দেশ দান করিবে৷
(৪) উপ-ধারা (৩) এর অধীন কোন কিস্ত অনাদায়ী থাকিলে অনাদায়ী কিস্ত্মির অর্থ সরকারী দাবী (public demand) বলিয়া গণ্য হইবে এবং তদনুসারে উহা আদায়যোগ্য হইবে৷
১২৷ (১) কোন মহাজনী ঋণগ্রহীতা ঋণের জামানত হিসাবে তাঁহার দস্ত্মখত বা টিপসহিযুক্ত অলিখিত ষ্ট্যাম্প কাগজ ঋণদাতার নিকট জমা দিয়া থাকিলে, তিনি বোর্ড গঠিত হইবার ছয় মাসের মধ্যে উহা ফেরত পাইবার জন্য বোর্ডের নিকট বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে দরখাস্ত্ম করিতে পারিবেন এবং বোর্ড, দরখাস্ত্মটি বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে শুনানীর পর দরখাস্ত্মের যথার্থতা সম্পর্কে সন্তুষ্ট হইলে, উক্ত ষ্ট্যাম্প কাগজ বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত তারিখের মধ্যে প্রত্যর্পণ করিবার জন্য ঋণদাতাকে নির্দেশ প্রদান করিবে৷
(২) মহাজনী ঋণদাতা উপ-ধারা (১) এর অধীন নির্ধারিত তারিখের মধ্যে উক্ত অলিখিত ষ্ট্যাম্প কাগজ প্রত্যর্পণ না করিলে বা করিতে ব্যর্থ হইলে, উক্ত ষ্ট্যাম্প কাগজ বাতিল বলিয়া গণ্য হইবে এবং উহা দ্বারা যে কোন সময়ে সম্পাদিত বা রেজিিষ্ট্রকৃত যে কোন দলিল আইনতঃ অসিদ্ধ বলিয়া গণ্য হইবে৷
১৩৷ (১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে সরকার, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, প্রত্যেক বা যে কোন উপজেলায় একটি ঋণ সালিসি বোর্ড গঠন করিবে৷
(২) প্রত্যেক বোর্ড একজন চেয়ারম্যান এবং অন্যুন দুই এবং অনধিক চার সদস্য-সমন্বয়ে গঠিত হইবে৷
(৩) বোর্ডের চেয়ারম্যান ও সদস্যগণ সরকার কর্তৃক তিন বত্সরের জন্য নিযুক্ত হইবেন :
তবে শর্ত থাকে যে, সরকার, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, যে কোন সময় চেয়ারম্যান বা সকল বা যে কোন সদস্যকে অপসারণ করিতে পারিবে৷
(৪) চেয়ারম্যান বোর্ডের অধিবেশনে সভাপতিত্ব করিবেন৷
(৫) বোর্ডের চেয়ারম্যানের পদ শূন্য হইলে কিংবা অনুপস্থিতি, অসুস্থতা বা অন্য কোন কারণে তিনি তাঁহার দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হইলে, তেগত্রমত, শূন্য পদে নিযুক্ত নূতন চেয়ারম্যান কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত্ম কিংবা চেয়ারম্যান পুনরায় স্বীয় দায়িত্ব পালনে সমর্থ না হওয়া পর্যন্ত্ম সরকার, বা সরকারের নিকট হইতে এতদুদ্দেশ্যে প্রাপ্ত তগমতাবলে ডেপুটি কমিশনার কর্তৃক মনোনীত বোর্ডের কোন সদস্য চেয়ারম্যানরূপে কার্য করিবেন৷
(৬) চেয়ারম্যান এবং অপর একজন সদস্য-সমন্বয়ে বোর্ডের অধিবেশনের জন্য কোরাম গঠিত হইবে৷
(৭) বোর্ডের সকল সিদ্ধান্ত্ম সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে গৃহীত হইবে৷
(৮) বোর্ডের অধিবেশন উপজেলা সদরে বসিবে, তবে প্রয়োজনবোধে দরখাস্ত্মকারীর ইউনিয়নেও উহার অধিবেশন বসিতে পারে এবং চেয়ারম্যান বোর্ডের অধিবেশনের স্থান, তারিখ ও সময় নির্ধারণ করিবেন৷
১৪৷ বোর্ডের এখতিয়ার হইবে নিম্্নরূপ, যথা :-
১৫৷ এই আইনের বিধানাবলী সাপেতেগ, বোর্ডের কার্যপদ্ধতি সংক্রান্ত্ম যাবতীয় বিষয় বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে৷
১৬৷ (১) এই আইনের অধীন কোন দরখাস্ত্ম বোর্ডের নিকট পেশ করা হইলে, বোর্ড অবিলম্বে উক্ত দরখাস্ত্মের একটি অনুলিপি সংশিস্্নষ্ট উপজেলার সহকারী জজের আদালতে প্রেরণ করিবে৷
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীনে কোন দরখাস্ত্মের অনুলিপি প্রাপ্ত হইলে সংশিস্্নষ্ট আদালত দরখাস্ত্মে উলিস্্নখিত বিচার্য বিষয় সম্পর্কিত কোন বিচারাধীন মামলায় উক্ত বিচার্য বিষয়ে কোন পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ করিবে না৷
(৩) বোর্ডের নিকট এই আইনের অধীন কোন দরখাস্ত্ম পেশ করার পর যে কোন সময়ে দরখাস্ত্মে উলিস্্নখিত বিচার্য বিষয় সম্পর্কিত কোন মামলায় কোন আদালত উক্ত বিচার্য বিষয়ে সিদ্ধান্ত্ম প্রদান করিলে সেই সিদ্ধান্ত্ম বাতিল গণ্য হইবে এবং উক্ত বিষয়ে বোর্ডের সিদ্ধান্ত্ম কার্যকর থাকিবে৷
(৪) উপ-ধারা (১) এর অধীন প্রাপ্ত কোন দরখাস্ত্মে উলিস্্নখিত বিচার্য বিষয় সম্পর্কিত কোন মামলা কোন আদালতে গ্রহণযোগ্য হইবে না৷
১৭৷ এই আইনের অধীন কোন দরখাস্ত্মের বিচার সমাপ্ত হইলে, বোর্ডের সিদ্ধান্ত্মের একটি অনুলিপি সংশিস্্নষ্ট উপজেলার সহকারী জজের আদালতে এবং সংশিস্্নষ্ট সহকারী কমিশনার (ভূমি) এর নিকট প্রেরণ করা হইবে৷
১৮৷ (১) বোর্ড কর্তৃক বিচার্য কোন বিষয়ের প্রয়োজনে বোর্ড কোন সাক্ষী বা কোন ব্যক্তির উপস্থিতি বা কোন দলিল অনুসন্ধান বা উপস্থাপনের প্রয়োজন হইলে, উক্ত উপস্থিতি, অনুসন্ধান বা উপস্থাপন নিশ্চিত করার জন্য বোর্ড Code of Civil Procedure, 1908 (Act V of 1908) এর বিধান অনুসারে এতদসংক্রান্ত্ম বিষয়ে কোন দেওয়ানী আদালত যে তগমতা প্রয়োগ করিতে পারে সেই তগমতা প্রয়োগ করিতে পারিবে৷
(২) বোর্ডে কোন দরখাস্ত্ম নিষ্পত্তির জন্য প্রয়োজনীয় কোন দলিল বা কাগজপত্র কোন ব্যক্তির নিয়ন্ত্রণ বা হেফাজতে থাকিলে উহা বোর্ডের নিকট উপস্থাপনের জন্য বোর্ড উক্ত ব্যক্তিকে নির্দেশ দান করিতে পারিবে৷
১৯৷ (১) বোর্ডের সিদ্ধান্ত্মের বিরম্্নদ্ধে জেলার অতিরিক্ত কালেক্টরের নিকট বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে আপীল দায়ের করা যাইবে এবং এই আপীলের উপর প্রদত্ত সিদ্ধান্ত্ম চূড়ান্ত্ম হইবে৷
(২) বোর্ডের সিদ্ধান্ত্মের তারিখ হইতে ত্রিশ দিনের মধ্যে আপীল দায়ের করিতে হইবে৷
(৩) আপীল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত্ম বোর্ডের সিদ্ধান্ত্মের বাস্ত্মবায়ন স্থগিত থাকিবে৷
২০৷ (১) এই আইনের আওতায় বোর্ডের সকল কার্যক্রম সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন থাকিবে৷
(২) সরকার কর্তৃক এতদুদ্দেশ্যে নিযুক্ত কোন কর্মকর্তা বোর্ডের সম্পদ, দলিলপত্র, রেজিষ্টার ও রেকর্ডপত্র পরিদর্শন করিতে পারিবেন এবং সরকার সময় সময় বোর্ডের নিকট হইতে যে কোন প্রকার তথ্য বা বিবরণী তলব করিতে পারিবে৷
২১৷ বোর্ডের চেয়ারম্যান ও সদস্যগণ Penal Code (Act XLV of 1860) এর section 21 এ জনসেবক (public servant) অভিব্যক্তিটি যে অর্থে ব্যবহৃত হইয়াছে সেই অর্থে জনসেবক বলিয়া গণ্য হইবেন৷
২২৷ এই আইনের অধীন বোর্ডের কার্যক্রম Penal Code (Act XLV of 1860) এর section 228 এর তাত্পর্যাধীন বিচার বিভাগীয় কার্যক্রম (judicial proceeding) বলিয়া গণ্য হইবে৷
২৩৷ (১) কোন ব্যক্তি-
তিনি অনধিক তিন বত্সর সশ্রম কারাদন্ডে বা অনধিক দশ হাজার টাকা অর্থদন্ডে বা উভয়বিধ দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন৷
(২) জেলা প্রশাসকের লিখিত পূর্ব অনুমতি ব্যতিরেকে কোন ব্যক্তিকে এই ধারায় অভিযুক্ত করা যাইবে না৷
২৪৷ এই আইনে ভিন্নরূপ বিধান না থাকিলে, Evidence Act, 1872 (I of 1872) এবং Code of Civil Procedure, 1908 (Act V of 1908) এর বিধানাবলী বোর্ডের কার্যক্রমের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে না৷
২৫৷ (১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে সরকার, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে৷
(২) বিশেষ করিয়া এবং উপরি-উক্ত ক্ষমতার সামগ্রিকতাকে তগুণ্ন না করিয়া, অনুরূপ বিধিতে নিম্নবর্ণিত সকল বা যে কোন বিষয়ে বিধান করা যাইতে পারে, যথা :-
২৬৷ এই আইন বা তদধীন প্রণীত বিধির অধীনে সরল বিশ্বাসে কৃত কোন কাজের ফলে কোন ব্যক্তি ক্ষতিগ্রস্ত্ম হইলে বা তাঁহার ক্ষতিগ্রস্ত্ম হইবার সম্ভাবনা থাকিলে, তজ্জন্য সরকার বা বোর্ডের চেয়ারম্যান বা সদস্য বা বোর্ড বা সরকারের কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে কোন দেওয়ানী বা ফৌজদারী মামলা বা অন্য কোন আইনগত কার্যধারা দায়ের বা রুজু করা যাইবে না৷
২৭৷ (১) বাংলাদেশ ঋণ সালিসি অধ্যাদেশ, ১৯৮৮ (অধ্যাদেশ নং ৩৬, ১৯৮৮) এতদ্বারা রহিত করা হইল৷
(২) অনুরূপ রহিতকরণ সত্ত্বেও, রহিত অধ্যাদেশের অধীন কৃত কোন কাজকর্ম বা গৃহীত কোন ব্যবস্থা এই আইনের অধীন কৃত বা গৃহীত হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে৷