বাংলাদেশ কমপিউটার কাউন্সিল স্থাপনকল্পে প্রণীত আইন৷ যেহেতু বাংলাদেশ কমপিউটার কাউন্সিল নামে একটি কাউন্সিল স্থাপন করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়; সেহেতু এতদ্বারা নিম্নরূপ আইন করা হইল :-
১৷ (১) এই আইন বাংলাদেশ কমপিউটার কাউন্সিল আইন, ১৯৯০ নামে অভিহিত হইবে৷
(২) এই আইন ১৯৮৯ সনের ২৭শে ডিসেম্বর তারিখে বলবৎ হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে৷
২৷ বিষয় বা প্রসংগের পরিপন্থী কোন কিছু না থাকিলে, এই আইনে,-
৩৷ (১) এই আইন বলবত্ হইবার পর যত শীঘ্র সম্ভব, এই আইনের বিধান অনুযায়ী বাংলাদেশ কমপিউটার কাউন্সিল নামে একটি কাউন্সিল স্থাপিত হইবে৷
(২) কাউন্সিল একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা হইবে এবং ইহার স্থায়ী ধারাবাহিকতা ও একটি সাধারণ সীলমোহর থাকিবে এবং এই আইন ও বিধি সাপেক্ষে ইহার স্থাবর ও অস্থাবর উভয় প্রকার সম্পত্তি অর্জন করার, অধিকারে রাখার ও হস্তান্তর করার ক্ষমতা থাকিবে এবং ইহার পক্ষে ইহা মামলা দায়ের করিতে পারিবে, ইহার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা যাইবে৷
৪৷ কাউন্সিলের প্রধান কার্যালয় ঢাকায় থাকিবে এবং ইহা প্রয়োজনবোধে যে কোন স্থানে শাখা কার্যালয় স্থাপন করিতে পারিবে৷
৫৷ (১) নিম্নলিখিত সদস্য-সমন্বয়ে কাউন্সিল গঠিত হইবে, যথা :-
(২) চেয়ারম্যান ও ভাইস-চেয়ারম্যান রাষ্ট্রপতি কর্তৃক মনোনীত হইবেন এবং তাঁহারা তাঁহাদের স্থলাভিষিক্ত হওয়ার জন্য নূতন ব্যক্তি মনোনীত না হওয়া পর্যন্ত স্বীয় পদে বহাল থাকিবেন৷
(৩) কার্যনির্বাহী পরিচালক ব্যতীত কাউন্সিলের অন্যান্য সদস্য সরকার কর্তৃক সরকারী কর্মকর্তা এবং কমপিউটার প্রযুক্তি ও তারবার্তা যোগাযোগ, প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা, অর্থনীতি, শিক্ষা, প্রকৌশল, বাণিজ্য, আইন, শিল্প এবং ব্যাংকিং ক্ষেত্রে অভিজ্ঞ ব্যক্তিগণের মধ্য হইতে মনোনীত হইবেন এবং তাঁহারা তাঁহাদের মনোনয়নের তারিখ হইতে দুই বত্সর মেয়াদে স্বীয় পদে বহাল থাকিবেন :
তবে শর্ত থাকে যে, সরকার উক্ত মেয়াদ শেষ হইবার পূর্বেই কোন কারণ না দর্শাইয়া উক্তরূপ যে কোন সদস্যকে যে কোন সময় তাঁহার পদ হইতে অপসারণ করিতে পারিবে৷
(৪) কার্যনির্বাহী পরিচালক পদাধিকার বলে কাউন্সিলের সচিবও হইবেন৷
(৫) সরকারের উদ্দেশ্যে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে যে কোন সদস্য স্বীয় পদ ত্যাগ করিতে পারিবেন৷
৬৷ কাউন্সিলের কার্যাবলী হইবে নিম্নরূপ, যথা :-
(ণ)কাউন্সিলের কার্যাবলী সম্পাদনের প্রয়োজনে, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে দেশী ও বিদেশী যে কোন প্রতিষ্ঠানের সহিত চুক্তি সম্পাদন করা;
৭৷ (১) কাউন্সিলের একটি কার্যনির্বাহী পরিষদ থাকিবে, যাহা একজন চেয়ারম্যান ও অন্যুন দুই জন সদস্য-সমন্বয়ে গঠিত হইবে৷
(২) কার্যনির্বাহী পরিষদের চেয়ারম্যান ও অন্যান্য সদস্যগণ সরকার কর্তৃক নিযুক্ত হইবেন এবং তাঁহাদের চাকুরীর মেয়াদ ও শর্তাবলী সরকার কর্তৃক নির্ধারিত হইবে৷
(৩) কার্যনির্বাহী পরিষদের চেয়ারম্যান কার্যনির্বাহী পরিচালক বলিয়া অভিহিত হইবেন এবং কাউন্সিলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসাবে কার্য করিবেন৷
(৪) কার্যনির্বাহী পরিষদ কাউন্সিলকে উহার কার্যাবলী সুচারুরূপে সম্পাদনের জন্য পরামর্শ ও সহায়তা প্রদান করিবে, কাউন্সিলের যাবতীয় সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য দায়ী থাকিবে এবং কাউন্সিল কর্তৃক অর্পিত সকল ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করিবে৷
(৫) কার্যনির্বাহী পরিচালকের পদ শূন্য হইলে কিংবা অনুপস্থিতি, অসুস্থতা বা অন্য কোন কারণে তিনি তাঁহার দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হইলে, ক্ষেত্রমত শূন্য পদে নিযুক্ত নূতন কার্যনির্বাহী পরিচালক কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত কিংবা কার্যনির্বাহী পরিচালক পুনরায় স্বীয় দায়িত্ব পালনে সমর্থ না হওয়া পর্যন্ত সরকার কর্তৃক মনোনীত কার্যনির্বাহী পরিষদের কোন সদস্য কার্যনির্বাহী পরিচালক রূপে কার্য করিবেন৷
৮৷ (১) এই ধারার অন্যান্য বিধানাবলী সাপেক্ষে, কাউন্সিল উহার নিজের এবং কার্যনির্বাহী পরিষদের সভার কার্যপদ্ধতি নির্ধারণ করিতে পারিবে৷
(২) কাউন্সিলের সভা, উহার চেয়ারম্যানের সম্মতিক্রমে, উহার সচিব কর্তৃক আহূত হইবে এবং চেয়ারম্যান কর্তৃক নির্ধারিত স্থান ও সময়ে অনুষ্ঠিত হইবে৷
(৩) কাউন্সিলের সভায় সভাপতিত্ব করিবেন উহার চেয়ারম্যান বা তাঁহার অনুপস্থিতিতে, উহার ভাইস-চেয়ারম্যান, এবং তাঁহাদের উভয়ের অনুপস্থিতিতে, সভায় উপস্থিত সদস্যগণ কর্তৃক তাঁহাদের মধ্য হইতে মনোনীত কোন সদস্য৷
(৪) কার্যনির্বাহী পরিষদের সকল সভা কার্যনির্বাহী পরিচালকের নির্দেশে আহুত এবং তত্কর্তৃক নির্ধারিত স্থান ও সময়ে অনুষ্ঠিত হইবে৷
(৫) কার্যনির্বাহী পরিষদের সভায় সভাপতিত্ব করিবেন কার্যনির্বাহী পরিচালক এবং তাঁহার অনুপস্থিতিতে, তত্কর্তৃক নির্দেশিত উহার কোন সদস্য৷
(৬) শুধুমাত্র কোন সদস্য পদে শূন্যতা বা কাউন্সিল গঠনে ত্রুটি থাকার কারণে কাউন্সিলের কোন কার্য বা কার্যধারা অবৈধ হইবে না এবং তত্সম্পর্কে কোন প্রশ্নও উত্থাপন করা যাইবে না৷
৯৷ (১) কাউন্সিলের একটি তহবিল থাকিবে এবং উহাতে সরকারের অনুদান, অন্য কোন উত্স হইতে প্রাপ্ত দান ও অনুদান এবং কাউন্সিল কর্তৃক প্রাপ্ত অন্য যে কোন অর্থ জমা হইবে৷
(২) এই তহবিল কাউন্সিলের নামে তত্কর্তৃক অনুমোদিত কোন তফসিলি ব্যাংকে জমা রাখা হইবে এবং বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে তহবিল হইতে অর্থ উঠানো যাইবে৷
(৩) এই তহবিল হইতে কাউন্সিলের প্রয়োজনীয় ব্যয় নির্বাহ করা হইবে, তবে কাউন্সিল প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে এই তহবিলের কিছু অংশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত কোন খাতে বিনিয়োগ করিতে পারিবে৷
১০৷ কাউন্সিল উহার কার্যাবলী সম্পাদনের প্রয়োজনে কোন তফসিলি ব্যাংক হইতে ঋণ গ্রহণ করিতে পারিবে৷
১১৷ কাউন্সিল উহার কার্যাবলী সম্পাদনের প্রয়োজনে কমপিউটার শিল্প ও তথ্য প্রযুক্তি সম্পর্কিত ব্যবসায়-বাণিজ্যের প্রসারকল্পে কোন কোম্পানী গঠন করিতে বা গঠনে সহায়তা করিতে পারিবে৷
১২৷ কাউন্সিল উহার দায়িত্ব পালনে উহাকে সহায়তাদানের জন্য এক বা একাধিক কমিটি নিয়োগ করিতে পারিবে৷
১৩৷ কাউন্সিল উহার কার্যাবলী সম্পাদনের প্রয়োজনে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠান হইতে এবং কমপিউটার ও তথ্য প্রযুক্তির সংগে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ব্যক্তির নিকট হইতে কমপিউটার ও তথ্য প্রযুক্তি সম্পর্কিত তথ্য সংগ্রহ করিতে পারিবে এবং এই ব্যাপারে তাঁহাদের সহায়তা চাহিতে পারিবে৷
১৪৷ (১) কাউন্সিলের কার্যাবলী সম্পাদনের প্রয়োজনে কার্যনির্বাহী পরিচালকের নিকট হইতে এতদুদ্দেশ্যে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কাউন্সিলের কোন কর্মকর্তা অন্যুন বাহাত্তর ঘন্টার নোটিশ প্রদান করিয়া যে স্থান, ঘরবাড়ী বা অংগনে কোন কমপিউটার বা তথ্য প্রযুক্তি স্থাপিত হইয়াছে সেই স্থান, ঘরবাড়ী বা অংগনে দিনের বেলায় প্রবেশ করিতে, উহা পরিদর্শন করিতে এবং উক্ত কমপিউটার বা তথ্য প্রযুক্তি সম্পর্কে তাঁহার বিবেচনায় প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করিতে পারিবেন৷
(২) যদি কোন ব্যক্তি যুক্তিসংগত কারণ ছাড়া উক্ত কর্মকর্তাকে উক্তরূপ প্রবেশ, পরিদর্শন বা তথ্য সংগ্রহে বাধা প্রদান করেন তাহা হইলে, তিনি অনধিক এক হাজার টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন৷
১৫৷ কাউন্সিল প্রতি বত্সর সরকার কর্তৃক নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পরবর্তী অর্থ-বত্সরের বার্ষিক বাজেট বিবরণী সরকারের নিকট পেশ করিবে এবং উহাতে উক্ত অর্থ-বত্সরে সরকারের নিকট হইতে কাউন্সিলের কি পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন উহার উল্লেখ থাকিবে৷
১৬৷ (১) কাউন্সিল যথাযথভাবে উহার হিসাব রক্ষণ করিবে এবং হিসাবের বার্ষিক বিবরণী প্রস্তুত করিবে৷
(২) বাংলাদেশের মহা-হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, অতঃপর মহা-হিসাব-নিরীক্ষক নামে অভিহিত, প্রতি বত্সর কাউন্সিলের হিসাব নিরীক্ষা করিবেন এবং নিরীক্ষা রিপোর্টের একটি করিয়া অনুলিপি সরকার ও কাউন্সিলের নিকট পেশ করিবেন৷
(৩) উপ-ধারা (২) মোতাবেক হিসাব নিরীক্ষার উদ্দেশ্যে মহা-হিসাব-নিরীক্ষক কিংবা তাঁহার নিকট হইতে এতদুদ্দেশ্যে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন ব্যক্তি কাউন্সিলের সকল রেকর্ড, দলিল-দস্তাবেজ, নগদ বা ব্যাংকে গচ্ছিত অর্থ, জামানত, ভাণ্ডার এবং অন্যবিধ সম্পত্তি পরীক্ষা করিয়া দেখিতে পারিবেন এবং কাউন্সিলের কোন সদস্য, কার্যনির্বাহী পরিচালক, কার্যনির্বাহী পরিষদের কোন সদস্য বা কাউন্সিলের যে কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করিতে পারিবেন৷
১৭৷ কাউন্সিলের কার্যাবলী সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের উদ্দেশ্যে কাউন্সিল প্রয়োজনীয় সংখ্যক কর্মকর্তা, পরামর্শদাতা, উপদেষ্টা ও অন্যান্য কর্মচারী নিয়োগ করিতে পারিবে এবং তাঁহাদের চাকুরীর শর্তাবলী প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত হইবে৷
১৮৷ (১) প্রতি বত্সর ৩০শে জুনের মধ্যে কাউন্সিল তত্কর্তৃক পূর্ববর্তী বত্সরে সম্পাদিত কার্যাবলীর খতিয়ান-সম্বলিত একটি প্রতিবেদন সরকারের নিকট পেশ করিবে৷
(২) সরকার প্রয়োজনমত কাউন্সিলের নিকট হইতে যে কোন সময় কাউন্সিলের যে কোন বিষয়ের উপর প্রতিবেদন এবং বিবরণী আহ্বান করিতে পারিবে এবং কাউন্সিল উহা সরকারের নিকট সরবরাহ করিতে বাধ্য থাকিবে৷
১৯৷ [এই আইন বা কোন বিধি] বা প্রবিধানের অধীন সরল বিশ্বাসে কৃত কোন কাজের ফলে কোন ব্যক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হইলে বা হওয়ার সম্ভাবনা থাকিলে তজ্জন্য কাউন্সিলের কোন সদস্য, কার্যনির্বাহী পরিচালক, কার্যনির্বাহী পরিষদের কোন সদস্য বা কাউন্সিলের কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে কোন দেওয়ানী বা ফৌজদারী মামলা বা অন্য কোন আইনগত কার্যধারা দায়ের করা যাইবে না৷
২০৷ কাউন্সিলের সদস্যগণ, কার্যনির্বাহী পরিচালক, কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্যগণ এবং কাউন্সিলের কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ Penal Code, 1860 (Act XLV of 1860) এর section 21 এ "public servant” (জনসেবক) কথাটি যে অর্থে ব্যবহৃত হইয়াছে সেই অর্থে æpublic servant” (জনসেবক) বলিয়া গণ্য হইবেন৷
২১৷ (১) সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ের রিজলিউশন নং এমই/এনসিসি-০১৩/৮৭-৮৪, তারিখ ২৬শে মাঘ, ১৩৯৪/১০ই ফেব্রুয়ারী, ১৯৮৮, অতঃপর উক্ত রিজলিউশন বলিয়া উল্লিখিত, এতদ্দ্বারা রহিত করা হইল৷
(২) উক্তরূপ রহিত হইবার সংগে সংগে-
তবে শর্ত থাকে যে, পরিচালক বা কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারী, এই আইন প্রবর্তনের তিন মাসের মধ্যে, কাউন্সিলের চাকুরীতে না থাকিবার ইচ্ছা ব্যক্ত করিতে পারিবেন৷
২২৷ এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে সরকার, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে৷
২৩৷ এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে কাউন্সিল, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে এবং সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা এই আইন বা কোন বিধির সহিত অসামঞ্জস্যপূর্ণ নহে এইরূপ প্রবিধান প্রণয়ন করিতে পারিবে৷
২৪৷ (১) বাংলাদেশ কমপিউটার কাউন্সিল অধ্যাদেশ, ১৯৮৯ (অধ্যাদেশ নং ২৫, ১৯৮৯) এতদ্দ্বারা রহিত করা হইল৷
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন রহিতকরণ সত্ত্বেও, উক্ত অধ্যাদেশের অধীন কৃত সকল কাজ কর্ম বা গৃহীত ব্যবস্থা এই আইনের অধীন কৃত বা গৃহীত হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে৷