মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৯০
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ এবং মাদকাসক্তদের চিকিত্সা ও পুনর্বাসনকল্পে প্রণীত আইন৷
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ এবং মাদকাসক্তদের চিকিত্সা ও পুনর্বাসনকল্পে প্রণীত আইন৷ যেহেতু মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ এবং মাদকাসক্তদের চিকিত্সা ও পুনর্বাসনকল্পে বিধান করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়; সেহেতু এতদ্বারা নিম্নরূপ আইন করা হইল :-
সংক্ষিপ্ত শিরোনামা ও প্রবর্তন
১৷ (১) এই আইন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৯০ নামে অভিহিত হইবে৷
(২) ইহা ১৩৯৬ বাংলা সালের ১৯শে পৌষ মোতাবেক ১৯৯০ সালের ২রা জানুয়ারী তারিখ হইতে কার্যকর হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে৷
সংজ্ঞা
২৷ বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থী কোন কিছু না থাকিলে, এই আইনে-
আইনের প্রাধান্য
৩৷ আপাততঃ বলবত্ অন্য কোন আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইন ও তদধীন প্রণীত বিধির বিধানাবলী [বাংলাদেশের সর্বত্র] কার্যকর থাকিবে৷
জাতীয় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ বোর্ড প্রতিষ্ঠা
৪৷ (১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে জাতীয় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ বোর্ড নামে একটি বোর্ড থাকিবে৷
(২) বোর্ড নিম্নবর্ণিত সদস্য সমন্বয়ে গঠিত হইবে, যথা:-
[* * *]
(৩) উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত কোন মন্ত্রণালয় বা বিভাগে যদি মন্ত্রী না থাকেন, তাহা হইলে ঐ মন্ত্রণালয় বা বিভাগের প্রতিমন্ত্রী, যদি থাকেন, বোর্ডের সদস্য হইবেন৷
(৪) বোর্ডের কোন মনোনীত সদস্য তাঁহার মনোনয়নের তারিখ হইতে দুই বত্সরের জন্য সদস্য পদে বহাল থাকিবেন:
তবে শর্ত থাকে যে, সরকার যে কোন সময় তাঁহার মনোনয়ন বাতিল করিতে পারিবে৷
(৫) সরকারের উদ্দেশ্যে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে কোন মনোনীত সদস্য স্বীয় পদ ত্যাগ করিতে পারিবেন৷
বোর্ডের দায়িত্ব ও কর্তব্য
৫৷ বোর্ডের নিম্নরূপ দায়িত্ব ও কর্তব্য থাকিবে, যথা:-
সভা
৬৷ (১) এই ধারার অন্যান্য বিধানাবলী সাপেক্ষে, বোর্ড উহার সভার কার্যপদ্ধতি নির্ধারণ করিতে পারিবে৷
(২) বোর্ডের সকল সভা উহার চেয়ারম্যান কর্তৃক নির্ধারিত স্থান ও সময়ে অনুষ্ঠিত হইবে৷
(৩) চেয়ারম্যান বোর্ডের সকল সভায় সভাপতিত্ব করিবেন এবং তাঁহার অনুপস্থিতিতে তত্কর্তৃক মনোনীত বোর্ডের অন্য কোন সদস্য সভাপতিত্ব করিবেন৷
(৪) বোর্ডের মোট সদস্যের এক-চতুর্থাংশের উপস্থিতিতে উহার সভার কোরাম গঠিত হইবে৷
(৫) বোর্ড গঠনে ত্রুটি রহিয়াছে যা উহাতে কোন শূন্যতা রহিয়াছে শুধুমাত্র এই কারণে বোর্ডের কোন কার্য বা কার্যধারা বে-আইনী হইবে না বা তত্সম্পর্কে কোন প্রশ্ন উত্থাপন করা যাইবে না৷
জাতীয় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ বোর্ড তহবিল
৭৷ (১) মাদকদ্রব্য ব্যবহারের কুফল সম্পর্কে জনসাধারণকে সচেতন করা এবং মাদকাসক্তদের চিকিত্সা ও পুনর্বাসন করার প্রয়োজনে সরকারী সাধারণ বাজেট বরাদ্দের অতিরিক্ত অর্থ সংগ্রহের লক্ষ্যে বোর্ড জাতীয় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ বোর্ড তহবিল নামে একটি স্বতন্ত্র তহবিল গঠন করিতে পারিবে৷
(২) উক্ত তহবিলে নিম্নবর্ণিত অর্থ জমা হইবে, যথা:-
(৩) তহবিলে জমাকৃত অর্থ কোন তফসিলী ব্যাংকে জমা রাখা হইবে৷
(৪) বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে ও ফরমে তহবিল রক্ষণ ও উহার অর্থ ব্যয় করা যাইবে৷
(৫) বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতি ও কর্তৃপক্ষের দ্বারা তহবিলের আয়-ব্যয়ের হিসাব নিরীক্ষিত হইবে৷
(৬) তহবিল-নিরীক্ষা কর্তৃপক্ষ তহবিল সংক্রান্ত যাবতীয় বহি ও অন্যান্য দলিল নিরীক্ষা করিতে পারিবে এবং প্রয়োজনবোধে বোর্ডের যে কোন সদস্য এবং অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করিতে পারিবে৷
(৭) তহবিলের হিসাব নিরীক্ষার পর নিরীক্ষা কর্তৃপক্ষ সরকারের নিকট নিরীক্ষা প্রতিবেদন পেশ করিবে৷
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর
৮৷ (১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে সরকার মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর নামে একটি অধিদপ্তর স্থাপন করিবে৷
(২) বোর্ডের যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালনার জন্য অধিদপ্তর সহায়তা প্রদান করিবে এবং বোর্ডের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য অধিদপ্তর দায়ী থাকিবে৷
এ্যালকোহল ব্যতীত মাদকদ্রব্যের উত্পাদন ইত্যাদি নিষিদ্ধ
৯৷ (১) এ্যালকোহল ব্যতীত অন্য কোন মাদকদ্রব্যের চাষাবাদ, উত্পাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, বহন, পরিবহন, আমদানী, রপ্তানী, সরবরাহ, ক্রয়, বিক্রয়, ধারণ, সংরক্ষণ, গুদামজাতকরণ, প্রদর্শন [প্রয়োগ ও ব্যবহার করা যাইবে না, অথবা এতদুদ্দেশ্যে কোন প্রচেষ্টা বা উদ্যোগ গ্রহণ, অর্থ বিনিয়োগ কিংবা কোন প্রতিষ্ঠান স্থাপন, পরিচালনা বা উহার পৃষ্ঠপোষকতা করা যাইবে না]৷
(২) কোন মাদকদ্রব্যের উত্পাদনে ব্যবহৃত হয় এই প্রকার কোন দ্রব্য বা উদ্ভিদের চাষাবাদ, উত্পাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, বহন, পরিবহন, আমদানী, রপ্তানী, সরবরাহ, ক্রয়, বিক্রয়, ধারণ, সংরক্ষণ, গুদামজাতকরণ, প্রদর্শন [, প্রয়োগ] ও ব্যবহার করা যাইবে না৷
(৩) উপ-ধারা (১) ও (২) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, উক্ত উপ-ধারাদ্বয়ে উল্লিখিত কোন মাদকদ্রব্য, দ্রব্য বা উদ্ভিদ কোন আইনের অধীন অনুমোদিত কোন [ঔষধ প্রস্তুত শিল্পে ব্যবহার, চিকিত্সা] বা কোন বৈজ্ঞানিক গবেষণার জন্য প্রয়োজন হইলে উহা এই আইনের অধীন প্রদত্ত-
[(৪) উপ-ধারা (৩) এর অধীন উত্পাদিত, প্রক্রিয়াজাত এবং আমদানীকৃত মাদকদ্রব্যের মোড়ক ও লেবেলের উপর উহার অপব্যবহারের বিপদ সম্পর্কে সতর্কবানী স্পষ্টাক্ষরে মুদ্রণ বা ছাপাংকন করিতে হইবে৷
(৫) যাত্রী পরিবহনে নিয়োজিত কোন জলযান, আকাশযান বা স্থলযানে জরুরী চিকিত্সার প্রয়োজনে চিকিত্সকের নিয়ন্ত্রণে রক্ষিত প্রাথমিক চিকিত্সা বাক্সে, যদি থাকে, সরকার কর্তৃক, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, নির্ধারিত পরিমাণ ঔষধ হিসাবে ব্যবহার যোগ্য মাদকদ্রব্য সংরক্ষণ, বহন, পরিবহন, প্রয়োগ ও ব্যবহার করার ক্ষেত্রে এই ধারার কোন কিছুই প্রযোজ্য হইবে না৷]
এ্যালকোহল উত্পাদন ইত্যাদি সম্পর্কে বিধান
১০৷ (১) এই আইনের অধীন প্রদত্ত লাইসেন্স ব্যতিরেকে কোন ব্যক্তি-
(২) এই আইনের অধীন প্রদত্ত পারমিট ব্যতীত কোন ব্যক্তি এ্যালকোহল পান করিতে পারিবেন না; এবং চিকিত্সার প্রয়োজনে অন্যুন সিভিল সার্জন বা মেডিক্যাল কলেজের মেডিসিন বিভাগের কোন সহযোগী অধ্যাপকের লিখিত ব্যবস্থাপত্রের ভিত্তি ছাড়া কোন মুসলমানকে এ্যালকোহল পান করার জন্য পারমিট দেওয়া যাইবে না [:
তবে শর্ত থাকে যে,-
(৩) উপ-ধারা (২) এর অধীন প্রদত্ত ব্যবস্থাপত্রে যে রোগের চিকিত্সার জন্য এ্যালকোহল ব্যবহার করা আবশ্যিক সেই রোগের নাম উল্লেখ করিতে হইবে এবং উক্তরূপ আবশ্যকতা সম্পর্কে ব্যবস্থাপত্রে চিকিত্সকের প্রত্যয়ন থাকিতে হইবে৷
(৪) এই ধারায় যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কোন বিদেশী নাগরিক লাইসেন্স প্রাপ্ত বার এ বসিয়া এ্যালকোহল পান করিতে পারিবেন৷
(৫) কুটনৈতিক পাসপোর্টধারী বিদেশী নাগরিক বা শুল্ক কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রদত্ত পাসবইধারী বা প্রচলিত ব্যাগেজ রুলস এর দ্বারা স্বীকৃত ব্যক্তির ক্ষেত্রে ক্ষেত্রমত এ্যালকোহল আমদানী, রপ্তানী, ক্রয়, বহন, সংরক্ষণ বা পানের ব্যাপারে এই ধারার কোন কিছুই প্রযোজ্য হইবে না৷
মাদকদ্রব্য ইত্যাদির হিসাব রক্ষণ
[১০ক৷ ধারা ৯ ও ১০ এর অধীন উত্পাদিত বা, ক্ষেত্রমত, প্রক্রিয়াজাত মাদকদ্রব্য, উদ্ভিদ ও এ্যালকোহল এবং এতদুদ্দেশ্যে ব্যবহৃত উপকরণের হিসাব বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করিতে হইবে৷]
লাইসেন্স ইত্যাদি প্রদান
১১৷ (১) এই আইনের অধীন প্রদেয় লাইসেন্স, পারমিট ও পাস, বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে, ফরমে, শর্তে এবং ফিস প্রদানে মহা-পরিচালক বা তাঁহার নিকট হইতে এতদুদ্দেশ্যে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন কর্মকর্তা কর্তৃক প্রদান করা যাইবে৷
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন কোন লাইসেন্স, পারমিট বা পাস এর মেয়াদ উহাতে উল্লিখিত শর্তে নির্ধারিত সময় পর্যন্ত অথবা উহা প্রদানের তারিখ হইতে সংশ্লিষ্ট অর্থ বত্সর শেষ হওয়া পর্যন্ত বলবত্ থাকিবে:
[তবে শর্ত থাকে যে, এই আইনের কোন বিধান বা লাইসেন্স বা পারমিটের শর্ত লঙ্ঘন করা না হইলে এই আইনের অধীন প্রদত্ত সকল লাইসেন্স বা পারমিট, বিধি দ্বারা নির্ধারিত ফিস প্রদান সাপেক্ষে, বত্সরভিত্তিক নবায়ন করা যাইবে৷]
লাইসেন্স ইত্যাদি প্রদানের ব্যাপারে বিধি-নিষেধ
১২৷ এই আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কোন ব্যক্তি এই আইনের অধীন লাইসেন্স বা পারমিট পাইবার যোগ্য হইবেন না, যদি-
মাদকদ্রব্যের ব্যবস্থাপত্র সম্পর্কে বিধি-নিষেধ
১৩৷ (১) মহা-পরিচালকের নিকট হইতে এতদুদ্দেশ্যে লিখিত অনুমোদন ব্যতিরেকে কোন চিকিত্সক ‘ক' শ্রেণীর বা ‘খ' শ্রেণীর কোন মাদকদ্রব্য ঔষধ হিসা েব্যবস্থাপত্র দিতে পারিবেন না৷ (২) চিকিত্সক ব্যতীত অন্য কোন ব্যক্তি ‘গ' শ্রেণীর কোন মাদকদ্রব্য ঔষধ হিসা েব্যবস্থাপত্র দিতে পারিবেন না৷ (৩) উপ-ধারা (১) বা (২) এর অধীন প্রদত্ত ব্যবস্থাপত্রের ভিত্তিতে একবারের অধিক মাদকদ্রব্য ক্রয় করা যাইবে না৷
মাদকদ্রব্যের দোকান সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করার ক্ষমতা
১৪৷ (১) কোন জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা পুলিশ কমিশনার যদি এই মর্মে সন্তুষ্ট হন যে, তাঁহার এখতিয়ারাধীন কোন এলাকায় আইন শৃংখলা রক্ষার্থে কোন মাদকদ্রব্যের দোকান সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা প্রয়োজন, তাহা হইলে তিনি, লিখিত আদেশ দ্বারা, অনধিক পনের দিনের জন্য উক্ত দোকান বন্ধ রাখার আদেশ দিতে পারিবেন; এবং বোর্ডের অনুমোদনক্রমে এই মেয়াদ আরও ত্রিশ দিন পর্যন্ত বর্ধিত করিতে পারিবেন৷
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন জারীকৃত কোন আদেশের অনুলিপি অবিলম্বে মহা-পরিচালকের নিকট তাঁহার অবগতির জন্য প্রেরণ করিতে হইবে৷
মাদকাসক্তি পরামর্শ কেন্দ্র, নিরাময় কেন্দ্র ইত্যাদি
[১৫৷ (১) এই আইনের প্রয়োজনে-
(২) সরকার, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, জেল হাসপাতালসহ কোন সরকারী হাসপাতাল বা চিকিত্সা কেন্দ্রকে মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র হিসাবে ঘোষণা দিতে পারিবে৷]
মাদকাসক্তের চিকিত্সা
১৬৷ (১) যদি মহা-পরিচালক বা তাঁহার নিকট হইতে এতদুদ্দেশ্যে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন কর্মকর্তা জানিতে পারেন যে, কোন ব্যক্তি মাদকাসক্ত হওয়ার কারণে প্রায়শঃ অপ্রকৃতিস্থ থাকেন এবং তাঁহাকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরাইয়া আনার জন্য অনতিবিলম্বে তাঁহার চিকিত্সা করা প্রয়োজন, তাহা হইলে মহা-পরিচালক বা উক্ত কর্মকর্তা লিখিত নোটিশ দ্বারা মাদকাসক্ত ব্যক্তিকে নোটিশ প্রাপ্তির সাত দিনের মধ্যে চিকিত্সার্থে কোন উপযুক্ত চিকিত্সকের নিকট বা মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে নিজেকে সমর্পণ করিবার জন্য নির্দেশ দিতে পারিবেন৷
(২) যদি উপ-ধারা (১) এর অধীন প্রদত্ত নোটিশে উল্লিখিত ব্যক্তি উহার মর্মার্থ বুঝিতে অক্ষম হন, তাহা হইলে নোটিশটি তাঁহার অভিভাবক বা তত্ত্বাবধায়কের উপর জারি করিতে হইবে, এবং যাহার উপর নোটিশটি জারি করা হইবে তিনি মাদকাসক্ত ব্যক্তিকে চিকিত্সার্থে কোন চিকিত্সকের নিকট বা মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে হাজির করিবেন৷
(৩) উপ-ধারা (১) বা (২) এর অধীন নোটিশ প্রাপ্তির সাত দিনের মধ্যে নোটিশের নির্দেশ মান্য করা না হইলে নোটিশ প্রদানকারী কর্মকর্তা, উক্ত সময় অতিক্রান্ত হইবার পর, সংশ্লিষ্ট জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা মূখ্য মহানগর হাকিমের নিকট মাদকাসক্ত ব্যক্তির বাধ্যতামূলক চিকিত্সার নির্দেশ দেওয়ার জন্য আবেদন করিতে পারিবেন৷
(৪) উপ-ধারা (৩) এর অধীন আবেদন প্রাপ্তির পর জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা মূখ্য মহানগর হাকিম লিখিত নোটিশ দ্বারা মাদকাসক্ত ব্যক্তিকে কেন বাধ্যতামূলকভাবে চিকিত্সার জন্য কোন নির্দিষ্ট চিকিত্সক বা মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে পাঠানো হইবে না তজ্জন্য ব্যক্তিগতভাবে বা কোন প্রতিনিধির মাধ্যমে হাজির হইয়া, নোটিশ প্রাপ্তির সাত দিনের মধ্যে, কারণ দর্শাইবার জন্য মাদকাসক্ত ব্যক্তি বা, ক্ষেত্রমত তাহার তত্ত্বাবধায়ক বা অভিভাবককে নির্দেশ দিবেন৷
(৫) উপ-ধারা (৪) এর অধীন নির্দেশ পাওয়ার পর যথাসময়ে কারণ দর্শানো হইলে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা মূখ্য মহানগর হাকিম, অনধিক পনের দিনের মধ্যে, মাদকাসক্ত ব্যক্তি বা ক্ষেত্রমত, তাহার তত্ত্বাবধায়ক বা অভিভাবক বা তাঁহার প্রতিনিধি এবং উপ-ধারা (৩) এ উল্লিখিত আবেদনকারীকে শুনানী দেওয়ার পর মাদকাসক্ত ব্যক্তিকে, আদেশ দ্বারা, আদেশে উল্লিখিত চিকিত্সকের নিকট বা মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে বাধ্যতামূলক চিকিত্সার জন্য নির্দেশ দিতে পারিবেন বা তাহার চিকিত্সার জন্য দাখিলকৃত আবেদনটি বাতিল করিতে পারিবেন৷
(৬) উপ-ধারা (৪) এর অধীন নোটিশ প্রাপ্ত ব্যক্তি যদি যথাসময়ে কারণ দর্শাইতে ব্যর্থ হন, তাহা হইলে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা মূখ্য মহানগর হাকিম উপ-ধারা (৩) এর অধীন প্রাপ্ত আবেদন বিবেচনার পর, হয় মাদকাসক্ত ব্যক্তির বাধ্যতামূলক চিকিত্সার জন্য নির্দেশ দিতে পারিবেন অথবা আবেদনটি বাতিল করিতে পারিবেন৷
(৭) উপ-ধারা (৫) বা (৬) এর অধীন চিকিত্সার জন্য আদেশ জারির সাত দিনের মধ্যে যদি মাদকাসক্ত ব্যক্তি আদেশে উল্লিখিত চিকিত্সকের নিকট বা মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে চিকিত্সার্থে উপস্থিত না হন বা তাহাকে উপস্থিত করানো না হয় তাহা হইলে উপ-ধারা (৩) এ উল্লিখিত আবেদনকারী কর্মকর্তা মাদকাসক্ত ব্যক্তিকে চিকিত্সার্থে উক্ত চিকিত্সকের নিকট বা মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে, প্রয়োজনবোধে বল প্রয়োগ করিয়া, হাজির করিবার ব্যবস্থা করিতে পারিবেন৷
[(৭ক) কোন মাদকাসক্ত ব্যক্তিকে যদি তাহার পিতা, মাতা, পরিবার প্রধান বা উক্ত ব্যক্তি যাঁহার উপর নির্ভরশীল তিনি কোন চিকিত্সকের নিকট বা মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে চিকিত্সার্থে সমর্পণ করেন, তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তির ক্ষেত্রে উপ-ধারা (১) হইতে উপ-ধারা (৭) এর কোন কিছুই প্রযোজ্য হইবে না৷]
(৮) এই ধারার অধীন বাধ্যতামূলক চিকিত্সার যাবতীয় খরচ ও ব্যয় সরকার বহন করিবে৷
[(৯) এই ধারার অধীন চিকিত্সকের নিকট বা মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে সমর্পিত ব্যক্তি ধারা ৯, ১০ বা ২২ এর অধীন মাদকদ্রব্য ব্যবহারের অভিযোগ হইতে অব্যাহতি পাইবেন এবং তাহার বিরুদ্ধে এই জন্য কোন আদালতে অভিযোগ দায়ের করা হইবে না৷]
মাদকাসক্তি সম্পর্কে তথ্য সরবরাহ
১৭৷ (১) যদি কোন পরিবারের কোন সদস্য মাদকাসক্ত হন, তাহা হইলে তত্সম্পর্কে উক্ত পরিবারের কর্তা বা অন্য কোন বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তি মহা-পরিচালক বা তদধীন কোন কর্মকর্তাকে অবহিত করিবেন৷
(২) কোন চিকিত্সক যদি এইরূপ মনে করেন যে, তাঁহার চিকিত্সাধীন কোন ব্যক্তি মাদকাসক্ত এবং তজ্জন্য চিকিত্সার প্রয়োজন, তাহা হইলে তিনি মাদকাসক্ত ব্যক্তিকে প্রয়োজনীয় চিকিত্সার পরামর্শ দিবেন এবং এই চিকিত্সার প্রয়োজনীয়তার কথা লিখিতভাবে মহাপরিচালককে অবহিত করিবেন৷
মাদক শুল্ক
১৮৷ (১) দ্বিতীয় তফসিলে উল্লিখিত হারে সকল প্রকার উত্পাদিত এ্যালকোহলের উপর মাদক শুল্ক নামে এক প্রকার শুল্ক আরোপ করা হইবে [:
তবে শর্ত থাকে যে, কোন উত্পাদিত এ্যালকোহল রপ্তানী করা হইলে উহার উপর উক্ত মাদকশুল্ক আরোপ করা হইবে না৷]
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন আরোপিত শুল্ক বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে মহা-পরিচালক বা তদধীন কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারী কর্তৃক আদায় করা হইবে এবং বিধি দ্বারা নির্ধারিত খাতে উহা জমা করা হইবে৷
ধারা ৯ এর বিধান লঙ্ঘনের দণ্ড
১৯৷ (১) কোন ব্যক্তি নিম্ন টেবিলের কলাম (২) এ উল্লিখিত কোন মাদকদ্রব্য সম্পর্কে ধারা ৯ এর উপ-ধারা (১) বা (২) এর, চাষাবাদ [উত্পাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, প্রয়োগ ও ব্যবহার] সম্পর্কিত বিধান ব্যতীত, কোন বিধান লঙ্ঘন করিলে, তিনি উক্ত মাদকদ্রব্যের বিপরীতে টেবিলের কলাম (৩) এ উল্লিখিত দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন, যথা:-
| টেবিল | | --- | --- | --- | | | | | | ক্রমিক নং | মাদকদ্রব্যের নাম | দণ্ড | | ১ | ২ | ৩ | | ১ | হেরোইন, কোকেন এবং কোকা উদ্ভূত মাদকদ্রব্য ... ... | (ক) মাদকদ্রব্যের পরিমাণ অনূর্ধ্ব ২৫ গ্রাম হইলে অন্যুন ২ বত্সর এবং অনূর্ধ্ব ১০ বত্সর কারাদণ্ড ৷ (খ) মাদকদ্রব্যের পরিমাণ ২৫ গ্রাম এর ঊর্ধ্বে হইলে মৃত্যুদণ্ড অথবা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ৷ | | ২ | পেথিডিন, মরফিন ও টেট্রাহাইড্রোক্যানাবিনল | (ক) মাদকদ্রব্যের পরিমাণ অনূর্ধ্ব ১০ গ্রাম হইলে অন্যুন ২ বত্সর এবং অনূর্ধ্ব ১০ বত্সর কারাদণ্ড৷ (খ) মাদকদ্রব্যের পরিমাণ ১০ গ্রাম এর ঊর্ধ্বে হইলে মৃত্যুদণ্ড অথবা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড৷ |
| | | | | --- | --- | --- | | | | | | ৩ | অপিয়াম, ক্যানাবিস রেসিন বা 228[ অপিয়াম উদ্ভূত, তবে হেরোইন ও মরফিন ব্যতীত, মাদকদ্রব্য] | (ক) মাদকদ্রব্যের পরিমাণ অনূর্ধ্ব ২ কেজি হইলে অন্যুন ২ বত্সর এবং অনূর্ধ্ব ১০ বত্সর কারাদণ্ড ৷ (খ) মাদকদ্রব্যের পরিমাণ ২ কেজির ঊর্ধ্বে হইলে মুত্যুদণ্ড অথবা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ৷ | | ৪ | মেথাডন | (ক) মাদকদ্রব্যের পরিমাণ অনূর্ধ্ব ৫০ গ্রাম হইলে অন্যুন ২ বত্সর এবং অনূর্ধ্ব ১০ বত্সর কারাদণ্ড ৷ (খ) মাদকদ্রব্যের পরিমাণ ৫০ গ্রাম এর ঊর্ধ্বে হইলে মৃত্যুদণ্ড অথবা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ৷ | | ৫ | ক-শ্রেণীর অন্যান্য মাদকদ্রব্য | অন্যুন ২ বত্সর এবং অনূর্ধ্ব ১৫ বত্সর কারাদণ্ড ৷ | | 329[ * * *] | | | | ৭ | গাঁজা বা যে কোন ভেষজ ক্যানাবিস | (ক) মাদকদ্রব্যের পরিমাণ অনূর্ধ্ব ৫ কেজি হইলে অন্যুন ৬ মাস এবং অনূর্ধ্ব ৩ বত্সর কারাদণ্ড ৷ (খ) মাদকদ্রব্যের পরিমাণ ৫ কেজির ঊর্ধ্বে হইলে অন্যুন ৩ বত্সর এবং অনূর্ধ্ব ১৫ বত্সর কারাদণ্ড ৷ | | ৮ | যে কোন প্রজাতির ক্যানাবিস গাছ | (ক) ক্যানাবিস গাছের সংখ্যা অনূর্ধ্ব ২৫টি হইলে অন্যুন ৬ মাস এবং অনূর্ধ্ব ৩ বত্সর কারাদণ্ড ৷ (খ) ক্যানাবিস গাছের সংখ্যা ২৫টির বেশী হইলে অন্যুন ৩ বত্সর এবং অনূর্ধ্ব ১৫ বত্সর কারাদণ্ড ৷ |
| | | | | --- | --- | --- | | | | | | ৯ | ফেনসাইক্লিআইন, মেথাকোয়ালন এল, এস, ডি, বারবিরেটস এ্যামফিটামিন, অথবা এইগুলির যে কোনটি দ্বারা প্রস্তুত মাদকদ্রব্য | (ক) মাদকদ্রব্যের পরিমাণ অনূর্ধ্ব ৫ গ্রাম হইলে অন্যুন ৬ মাস এবং অনূর্ধ্ব ৩ বত্সর কারাদণ্ড৷ (খ) মাদকদ্রব্যের পরিমাণ ৫ গ্রাম এর ঊর্ধ্বে হইলে অন্যুন ৫ বত্সর এবং অনূর্ধ্ব ১৫ বত্সর কারাদণ্ড ৷ | | ১০ | খ-শ্রেণীভুক্ত অন্যান্য মাদকদ্রব্য | অন্যুন ৬ মাস অনূর্ধ্ব ৫ বত্সর কারাদণ্ড ৷ | | ১১ | গ-শ্রেণীর মাদকদ্রব্য | অনূর্ধ্ব এক বত্সর বা অনূর্ধ্ব ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ড ৷ |
| | | --- | | (২) কোন ব্যক্তি ক-শ্রেণীর কোন মাদকদ্রব্যের চাষাবাদ 430[ উত্পাদন বা প্রক্রিয়াজাত] করিলে, তিনি অন্যুন ২ বত্সর এবং অনূর্ধ্ব ১৫ বত্সর কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং ইহার অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হইবেন৷ | | | | (৩) কোন ব্যক্তি খ ও গ-শ্রেণীর কোন মাদকদ্রব্যের চাষাবাদ 531[ উত্পাদন বা প্রক্রিয়াজাত] করিলে, তিনি অন্যুন ২ বত্সর এবং অনূর্ধ্ব ১০ বত্সরের কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং ইহার অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হইবেন৷ | | | | 632[ (৩ক) কোন ব্যক্তি ধারা ৯ এর উপ-ধারা (১) ও (২) এ উল্লেখিত মাদকদ্রব্যের প্রয়োগ ও ব্যবহার সম্পর্কিত কোন বিধান লঙ্ঘন করিলে, তিনি- | | | | (ক) ক-শ্রেণীর কোন মাদকদ্রব্যের ক্ষেত্রে, অন্যুন ২ বত্সর এবং অনূর্ধ্ব ৭ বত্সর কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং ইহার অতিরিক্ত অর্থ দণ্ডেও দণ্ডনীয় হইবেন; | | | | (খ) খ-শ্রেণীর কোন মাদকদ্রব্যের ক্ষেত্রে, অন্যুন ১ বত্সর এবং অনূর্ধ্ব ৫ বত্সর কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং ইহার অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হইবেন; |
| | | --- | | (গ) গ-শ্রেণীর কোন মাদকদ্রব্যের ক্ষেত্রে, অন্যুন ৬ মাস এবং অনূর্ধ্ব ২ বত্সর কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং ইহার অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হইবেন; | | | | (৩খ) উপ-ধারা (৩ক) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, আদালত, অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনা করিয়া, কোন মাদকদ্রব্য ব্যবহারকারীকে উক্ত উপ-ধারায় উল্লিখিত দণ্ডের অতিরিক্ত হিসাবে বা উক্ত দণ্ডের পরিবর্তে কোন মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে চিকিত্সার জন্য প্রেরণের আদেশ দিতে পারিবে৷] | | | | (৪) উপ-ধারা (১) এর টেবিলে, ক্রমিক নং (১১) ব্যতীত, উল্লেখিত প্রত্যেক অপরাধের জন্য সংশ্লিষ্ট অপরাধী উহাতে উল্লেখিত দণ্ডের অতিরিক্ত অর্থ দণ্ডেও দণ্ডনীয় হইবেন৷ | | | | (৫) এই ধারায় উল্লিখিত কোন অপরাধের জন্য দণ্ডিত হইয়া দণ্ড ভোগ করিবার পর যদি কোন ব্যক্তি পুনরায় এই ধারার উল্লিখিত কোন অপরাধ করেন, তাহা হইলে উক্ত অপরাধের দণ্ড মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড না হইলে, তিনি উক্ত অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ যে দণ্ড রহিয়াছে উহার দ্বিগুন দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন৷ | | |
মাদকদ্রব্য উত্পাদনে ব্যবহারযোগ্য যন্ত্রপাতি ইত্যাদি রাখার দণ্ড
২০৷ এই আইনের অধীন প্রদত্ত লাইসেন্সপ্রাপ্ত নন এইরূপ কোন ব্যক্তির নিকট বা তাহার দখলকৃত কোন স্থানে যদি মাদকদ্রব্য উত্পাদনে ব্যবহারযোগ্য কোন যন্ত্রপাতি, সাজ-সরঞ্জাম [বা ওয়াশসহ অন্যান্য উপকরণ] পাওয়া যায়, তাহা হইলে তিনি অন্যুন ২ বত্সর এবং অনূর্ধ্ব ১৫ বত্সর কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং ইহার অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হইবেন৷
অপরাধ সংঘটনে গৃহ বা যানবাহন ইত্যাদি ব্যবহার করিতে দেওয়ার দণ্ড
২১৷ কোন ব্যক্তি যদি সজ্ঞানে এই আইনের অধীন কোন অপরাধ সংঘটনের জন্য তাঁহার মালিকানাধীন বা দখলীয় কোন বাড়ী-ঘর, জায়গা-জমি, যানবাহন, যন্ত্রপাতি বা সাজ-সরঞ্জাম ব্যবহার করিতে অনুমতি দেন, তাহা হইলে তিনি অনূর্ধ্ব ৫ বত্সর কারাদণ্ডে বা অর্থদণ্ডে বা উভয়দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন৷
লাইসেন্স ইত্যাদি ব্যতিরেকে কাজ করিবার দণ্ড
২২৷ যদি কোন ব্যক্তি এই আইনের অধীন প্রদেয়-
লাইসেন্স ইত্যাদির শর্ত ভঙ্গ করার দণ্ড
২৩৷(১) কোন ব্যক্তি এই আইনের অধীন প্রদত্ত-
(২) ধারা ১৩ এর অধীন মহা-পরিচালক কর্তৃক নির্ধারিত বিধি-নিষেধ লঙ্ঘন করিয়া ব্যবস্থাপত্র প্রদান করিলে তিনি অনধিক ১ বত্সর কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন৷
বেআইনী বা হয়রানিমূলক তল্লাশী ইত্যাদির দণ্ড
২৪৷ যদি এই আইনের অধীন তল্লাশী, আটক বা গ্রেফতার করিবার ক্ষমতাসম্পন্ন কোন কর্মকর্তা-
অপরাধ সংঘটনে প্ররোচনা ইত্যাদির দণ্ড
২৫৷ কোন ব্যক্তি এই আইনের অধীন কোন অপরাধ সংঘটনে কাহাকেও প্ররোচনা দিলে বা সাহায্য করিলে বা কাহারও সহিত ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হইলে [অথবা এতদুদ্দেশ্যে কোন উদ্যোগ বা প্রচেষ্টা গ্রহণ করিলে], অপরাধ সংঘটিত হউক বা না হউক, তিনি অন্যুন ৩ বত্সর এবং অনূর্ধ্ব ১৫ বত্সর কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং ইহার অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হইবেন৷
শাস্তির ব্যবস্থা করা হয় নাই, এই রকম অপরাধের দণ্ড
২৬৷ কোন ব্যক্তি যদি এই আইন বা বিধির এমন কোন বিধান লঙ্ঘন করেন যাহার জন্য উহাতে স্বতন্ত্র কোন দণ্ডের ব্যবস্থা নাই, তাহা হইলে তিনি উক্ত অপরাধের জন্য অনূর্ধ্ব ১ বত্সর কারাদণ্ডে বা অনূর্ধ্ব ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ডে বা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন৷
লাইসেন্স ইত্যাদি বাতিল
২৭৷ (১) এই আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, যদি কোন ব্যক্তি তাঁহাকে প্রদত্ত লাইসেন্স, পারমিট বা পাসের কোন শর্ত ভঙ্গ করেন, বা যদি কোন লাইসেন্স, পারমিট বা পাসধারী ব্যক্তি এই আইনের অধীন কোন অপরাধের জন্য অথবা অন্য কোন আইনের অধীন বিচারার্থ গ্রহণীয় (cognizable) কোন অপরাধের জন্য দণ্ডিত হন, তাহা হইলে লাইসেন্স, পারমিট বা পাস প্রদানকারী কর্মকর্তা তাঁহাকে কারণ দর্শানোর সুযোগ প্রদান করিয়া তাঁহার লাইসেন্স, পারমিট বা পাস বাতিল করিতে পারিবেন৷
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন প্রদত্ত কোন আদেশের দ্বারা কোন ব্যক্তি সংক্ষুব্ধ হইলে তিনি আদেশ প্রাপ্তির তারিখ হইতে ত্রিশ দিনের মধ্যে-
(৩) উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত আপীল কর্তৃপক্ষের রায় চূড়ান্ত হইবে এবং উহার বিরুদ্ধে কোন আদালতে মামলা দায়ের করা যাইবে না৷
লাইসেন্স ইত্যাদি সাময়িকভাবে স্থগিতকরণ
২৮৷ (১) ধারা ২৭ এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইনের অধীন লাইসেন্স, পারমিট বা পাস প্রদানকারী কোন কর্মকর্তার নিকট যদি ইহা প্রতীয়মান হয় যে, তত্কর্তৃক প্রদত্ত কোন লাইসেন্স, পারমিট বা পাসের শর্তাবলী যথাযথভাবে পালন করা হইতেছে না বা উহার শর্তাবলী লঙ্ঘন করা হইতেছে, তাহা হইলে উক্ত কর্মকর্তা, লিখিত আদেশ দ্বারা, এই অধ্যাদেশের অধীন অন্যান্য ব্যবস্থা গ্রহণ সাপেক্ষে, লাইসেন্স, পারমিট বা পাসটি অনূর্ধ্ব ষাট দিনের জন্য, সাময়িকভাবে স্থগিত করিতে পারিবেন৷
(২) কোন ব্যক্তি উপ-ধারা (১) এর অধীন প্রদত্ত কোন আদেশের দ্বারা সংক্ষুব্ধ হইলে তিনি আদেশ প্রাপ্তির তারিখ হইতে ত্রিশ দিনের মধ্যে-
(৩) উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত আপীল কর্তৃপক্ষের রায় চূড়ান্ত হইবে এবং উহার বিরুদ্ধে কোন আদালতে মামলা দায়ের করা যাইবে না৷
কোম্পানী কর্তৃক অপরাধ সংঘটন
২৯৷ এই আইনের অধীন কোন বিধান লঙ্ঘনকারী ব্যক্তি যদি কোম্পানী হয়, তাহা হইলে উক্ত কোম্পানীর মালিক, পরিচালক, ম্যানেজার, সচিব বা অন্য কোন কর্মকর্তা বা এজেন্ট বিধানটি লঙ্ঘন করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবেন, যদি না তিনি প্রমাণ করিতে পারেন যে, উক্ত লঙ্ঘন তাঁহার অজ্ঞাতসারে হইয়াছে অথবা উক্ত লঙ্ঘন রোধ করিবার জন্য তিনি যথাসাধ্য চেষ্টা করিয়াছেন৷
ব্যাখ্যা- এই ধারায়-
অপরাধ সম্পর্কে অনুমান (presumption)
৩০৷ যদি কোন ব্যক্তির নিকট বা তাঁহার দখলকৃত বা নিয়ন্ত্রণাধীন কোন স্থানে কোন মাদকদ্রব্য বা মাদকদ্রব্য প্রস্তুতে ব্যবহারযোগ্য সাজসরঞ্জাম বা যন্ত্রপাতি বা মাদকদ্রব্য প্রস্তুতের জন্য প্রয়োজনীয় কোন বস্তু বা উপাদান পাওয়া যায় এবং যদি উহা এই আইনের কোন ধারা লঙ্ঘনকারী হয়, তাহা হইলে তিনি উক্ত ধারা লঙ্ঘন করিয়াছেন বলিয়া আদালত অনুমান করিতে পারিবেন, এবং তিনি যে উহা করেন নাই উহা প্রমাণের দায়িত্ব তাঁহার উপর বর্তাইবে৷
অপরাধ বিচারার্থ গ্রহণ
৩১৷ অন্য কোন আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইনের অধীন দণ্ডনীয় সকল অপরাধ বিচারার্থ গ্রহণীয় (cognizable) অপরাধ হইবে৷
জামিন সংক্রান্ত বিধান
[৩১ক৷ Code of Criminal Procedure, 1898 (Act No. V of 1898) এ ভিন্নতর যাহা কিছুই থাকুক না কেন, রাষ্ট্রকে শুনানীর যুক্তিসংগত সুযোগ দিয়া এবং সংশ্লিষ্ট নথি পর্যালোচনা করিয়া আদালত কিংবা আপীল আদালত যদি এই মর্মে সন্তুষ্ট হয় যে, এই আইনের অধীন অপরাধ সংঘটনের জন্য অভিযুক্ত কিংবা, ক্ষেত্রমত, দণ্ডপ্রাপ্ত কোন ব্যক্তিকে জামিন দেওয়া ন্যায়সংগত হইবে, তাহা হইলে তদ্মর্মে কারণ লিপিবদ্ধ করিয়া আদালত কিংবা, ক্ষেত্রমত, আপীল আদালত উক্ত ব্যক্তিকে জামিনে মুক্তির আদেশ দিতে পারিবে৷]
প্রবেশ ইত্যাদির ক্ষমতা
৩২৷ মহা-পরিচালক বা তাঁহার নিকট হইতে এতদুদ্দেশ্যে সাধারণ বা বিশেষভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন কর্মকর্তা, বিধির বিধান সাপেক্ষে,-
(১) রক্ষিত হিসাব বহি বা রেজিষ্টার পরীক্ষা করিতে পারিবেন;
(২) প্রাপ্ত মাদকদ্রব্য, মাদকদ্রব্য প্রস্তুতের সাজ-সরঞ্জাম, যন্ত্রপাতি ও তৈজষপত্র পরীক্ষা, ওজন ও পরিমাপ করিতে পারিবেন;
[(৩) উপ-দফা (১) ও (২) এ উল্লিখিত কোন কিছু বেআইনী বা ত্রুটিপূর্ণ পাওয়া গেলে বা বিবেচিত হইলে উহা আটক করিতে পারিবেন৷]
বাজেয়াপ্তযোগ্য মাদকদ্রব্য ইত্যাদি
৩৩৷ (১) এই আইনের অধীন কোন অপরাধ সংঘটিত হইলে, যে মাদকদ্রব্য, সাজ-সরঞ্জাম, যন্ত্রপাতি, উপকরণ, আধার, পাত্র, মোড়ক, যানবাহন বা অন্য কোন বস্তু সম্পর্কে বা সহযোগে উক্ত অপরাধ সংঘটিত হইয়াছে সেইগুলি বাজেয়াপ্তযোগ্য হইবে৷
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন বাজেয়াপ্তযোগ্য মাদকদ্রব্যের সহিত যদি কোন বৈধ মাদকদ্রব্য অপরাধ সংঘটনের সময় পাওয়া যায় তাহা হইলে [সেই মাদকদ্রব্য এবং উহার বিক্রিত অর্থও] বাজেয়াপ্তযোগ্য হইবে৷
(৩) এই ধারায় যাহা কিছুই থাকুক না কেন, উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত কোন অপরাধ সংঘটনের জন্য যদি কোন সরকারী বা সংবিধিবদ্ধ সরকারী কর্তৃপক্ষের কোন যানবাহন বা সরঞ্জাম ব্যবহার করা হয়, তাহা হইলে বাজেয়াপ্তযোগ্য হইবে না৷
বাজেয়াপ্তকরণ পদ্ধতি
৩৪৷ (১) এই আইনের অধীন কোন অপরাধ বিচারকালে আদালত যদি এই সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে, আটককৃত কোন বস্তু ধারা ৩৩ এর অধীন বাজেয়াপ্তযোগ্য, তাহা হইলে, আদালত, অপরাধ প্রমাণিত হউক বা না হউক,-
(২) যদি কোন ক্ষেত্রে ধারা ৩৩ এর অধীন বাজেয়াপ্তযোগ্য কোন বস্তু আটক করা হয় কিন্তু উহার সহিত সংশ্লিষ্ট অপরাধীকে পাওয়া না যায় তাহা হইলে মহা-পরিচালক বা তাঁহার নিকট হইতে এতদুদ্দেশ্যে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন কর্মকর্তা, যিনি বস্তুটি আটককারী কর্মকর্তার ঊর্ধতন কর্মকর্তা হইবেন, লিখিত আদেশ দ্বারা উহা বাজেয়াপ্ত করিতে পারিবেন:
তবে শর্ত থাকে যে, উক্তরূপ বাজেয়াপ্তির আদেশ প্রদানের পূর্বে বাজেয়াপ্তির বিরুদ্ধে আপত্তি উত্থাপনের সুযোগ দেওয়ার জন্য বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে নোটিশ জারি করিতে হইবে এবং নোটিশে উল্লিখিত সময়ের মধ্যে, যাহা নোটিশ জারির তারিখ হইতে অন্যুন পনের দিন হইতে হইবে, আপত্তি উত্থাপনকারীকে শুনানীর যুক্তিসংগত সুযোগ দিতে হইবে৷
(৩) কোন ব্যক্তি উপ-ধারা (২) এর অধীন প্রদত্ত কোন আদেশের দ্বারা সংক্ষুব্ধ হইলে, তিনি আদেশপ্রাপ্তির তারিখ হইতে ত্রিশ দিনের মধ্যে-
(৪) উপ-ধারা (৩) এ উল্লিখিত আপীল কর্তৃপক্ষের রায় চূড়ান্ত হইবে এবং উহার বিরুদ্ধে আদালতে কোন মামলা দায়ের করা যাইবে না৷
বাজেয়াপ্ত ও আটককৃত দ্রব্যাদির নিষ্পত্তি বা বিলিবন্দেজ
৩৫৷ এই আইনের অধীন বাজেয়াপ্তযোগ্য কোন দ্রব্যের বাজেয়াপ্তির আদেশ প্রদানের সংগে সংগে দ্রব্যটি মহা-পরিচালকের নিকট হস্তান্তর করিতে হইবে এবং মহা-পরিচালক উহা, বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে, ব্যবহার, হস্তান্তর বা ধ্বংস করিবার বা অন্য কোন প্রকারে উহার বিলিবন্দেজের ব্যবস্থা করিবেন৷
দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির সম্পদ বাজেয়াপ্তকরণ
[৩৫ক৷ (১) যে ক্ষেত্রে কোন আদালত কোন ব্যক্তিকে এই আইনের অধীন কোন অপরাধের জন্য তিন বত্সরের অধিক কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেন, সেইক্ষেত্রে মহাপরিচালক বা তাঁহার নিকট হইতে এতদুদ্দেশ্যে ক্ষমতা প্রাপ্ত কোন কর্মকর্তা লিখিত আবেদন দ্বারা উক্ত দণ্ডিত ব্যক্তির সম্পদ, যাহার তালিকা আবেদন পত্রের সহিত দাখিল করিতে হইবে, বাজেয়াপ্তির জন্য আদালতকে অনুরোধ জানাইতে পারিবেন৷
(২) আদালত যদি এই মর্মে সন্তুষ্ট হয় যে, উপ-ধারা (১) এর অধীন দাখিলকৃত তালিকায় উল্লিখিত কোন সম্পদ এই আইনের অধীন কোন অপরাধমূলক কর্মকান্ড হইতে উদ্ভুত, আহরিত বা অর্জিত হইয়াছে তাহা হইলে আদালত উক্ত সম্পদ সরকারে বাজেয়াপ্তির আদেশ প্রদান করিতে পারিবেন:
তবে শর্ত থাকে যে, আদেশ দ্বারা সংক্ষুব্ধ হইতে পারে এমন কোন ব্যক্তিকে কারণ দর্শানোর নোটিশ এবং তাঁহার শুনানীর যুক্তিসংগত সুযোগ প্রদান ব্যতীত এই ধারার অধীন কোন আদেশ প্রদান করা যাইবে না:
আরও শর্ত থাকে যে, যদি উক্ত ব্যক্তি কোন কারণ দর্শাইতে ব্যর্থ হন অথবা আদালতে তত্কর্তৃক নির্ধারিত তারিখে উপস্থিত না হন তাহা হইলে আদালত প্রাপ্ত সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে একতরফা আদেশ প্রদান করিতে পারিবে৷
(৩) উপ-ধারা (২) এর অধীন যদি কোন কোম্পানীর শেয়ার সরকারে বাজেয়াপ্ত করা হয়, তাহা হইলে কোম্পানী আইন, ১৯৯৪ (১৯৯৪ সনের ১৮ নং আইন) অথবা আপাততঃ বলবত্ অন্য কোন আইন অথবা উক্ত কোম্পানীর সংঘবিধি (Articles of Association) তে যাহা কিছুই থাকুক না কেন উক্ত শেয়ার সরকারের নামে নিবন্ধিত হইবে৷
(৪) এই ধারার অধীন যদি কোন সম্পদ সরকারে বাজেয়াপ্তির আদেশ প্রদান করা হয়, তাহা হইলে আদালত উক্ত সম্পদ যাহার দখলে বা অধিকারে আছে তাঁহাকে উহার দখল উপ-ধারা (৬) এর অধীন নিযুক্ত প্রশাসক বা আদালত হইতে এতদুদ্দেশ্যে ক্ষমতাপ্রাপ্ত অন্য কোন ব্যক্তির নিকট, আদালত কর্তৃক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে, প্রত্যর্পণ বা হস্তান্তরের নির্দেশ দিতে পারিবে৷
(৫) যদি কোন ব্যক্তি উপ-ধারা (৪) এর অধীন প্রদত্ত নির্দেশ পালনে অস্বীকৃতি জানান বা ব্যর্থ হন, তাহা হইলে আদালত উক্ত সম্পদ যে জেলায় অবস্থিত সেখানকার পুলিশ সুপারকে উক্ত সম্পদের দখল লাভের উদ্দেশ্যে উপ-ধারা (৬) এর অধীন নিযুক্ত প্রশাসককে পুলিশী সহায়তা প্রদানের নির্দেশ দিতে পারিবে, এবং উক্ত নির্দেশ পালন করিতে পুলিশ সুপার বাধ্য থাকিবে৷
(৬) সরকার, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, উহার বিবেচনায় উপযুক্ত কোন সরকারী কর্মকর্তাকে এই ধারার অধীন বাজেয়াপ্তকৃত সম্পদের প্রশাসকের দায়িত্ব পালনের উদ্দেশ্যে নিয়োগ করিতে পারিবে৷
(৭) সরকারে বাজেয়াপ্তকৃত সম্পদের রক্ষণাবেক্ষণ ও নিষ্পত্তির জন্য সরকার যেরূপ নির্দেশ দান করিবে উপ-ধারা (৬) এর অধীন নিযু্ক্ত প্রশাসক সেইরূপ ব্যবস্থা গ্রহণ ও ক্ষমতা প্রয়োগ করিবে৷]
পরোয়ানা ব্যতিরেকে তল্লাশী ইত্যাদির ক্ষমতা
৩৬৷ (১) মহা-পরিচালক বা তাঁহার নিকট হইতে এতদুদ্দেশ্যে সাধারণ বা বিশেষভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন কর্মকর্তা বা [পুলিশের উপ-পরিদর্শক] বা তদূর্ধ্ব কোন কর্মকর্তা বা কাষ্টমসের পরিদর্শক বা সমমান সম্পন্ন বা তদূর্ধ্ব কোন কর্মকর্তা, বা [বাংলাদেশ রাইফেলস্ এর অধঃস্তন বা তদূর্ধ্ব কোন কর্মকর্তা বা কোষ্ট গার্ড বাহিনীর কোন সদস্যের] এইরূপ বিশ্বাস করিবার কারণ থাকে যে, এই [আইনের] অধীন কোন অপরাধ কোন স্থানে সংঘটিত হইয়াছে, হইতেছে বা হওয়ার সম্ভাবনা আছে, তাহা হইলে অনুরূপ বিশ্বাসের কারণ লিপিবদ্ধ করিয়া, তিনি যে কোন সময়-
(২) উপ-ধারা (১) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, সূর্যাস্ত হইতে সূর্যোদয় পর্যন্ত সময়ের মধ্যে কোন স্থানে প্রবেশ করিয়া তল্লাশী পরিচালনা না করিলে অপরাধ সম্পর্কীয় কোন বস্তু নষ্ট বা লুপ্ত হইবার বা অপরাধী পালাইয়া যাইবার সম্ভাবনা আছে বলিয়া উক্ত উপ-ধারায় উল্লিখিত কোন কর্মকর্তার বিশ্বাস করিবার সংগত কারণ থাকিলে অনুরূপ বিশ্বাসের কারণ লিপিবদ্ধ করিয়া তিনি উক্ত সময়ের মধ্যে উক্ত স্থানে প্রবেশ ও তল্লাশী করিতে পারিবেন৷
দেহ তল্লাশীর জন্য বিশেষ পরীক্ষা
৩৭৷ এই আইনের অধীন কোন তদন্ত বা তল্লাশী পরিচালনাকালে কোন কর্মকর্তার যদি ইহা বিশ্বাস করিবার যথেষ্ট কারণ থাকে যে, কোন ব্যক্তি তাঁহার শরীরে কোন অংগ প্রত্যংগে মাদকদ্রব্য লুকাইয়া রাখিয়াছেন, তাহা হইলে, অনুরূপ বিশ্বাসের কারণ লিপিবদ্ধ করিয়া, তিনি তাহাকে তাহার শরীরের এক্স-রে করিবার বা মূত্রসহ অন্য যে কোন প্রকার প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করিবার জন্য নিজকে সমর্পণ করিতে নির্দেশ দিতে পারিবেন, এবং উক্ত নির্দেশ অমান্য করিলে নির্দেশ প্রদানকারী কর্মকর্তা তাহাকে নির্দেশ পালনে বাধ্য করিবার জন্য প্রয়োজনবোধে বলপ্রয়োগসহ অন্যান্য ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে পারিবেন৷
আটক ইত্যাদি সম্পর্কে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে অবহিতকরণ
৩৮৷ এই আইনের অধীন কোন ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হইলে বা কোন বস্তু আটক করা হইলে, গ্রেফতারকারী বা আটককারী কর্মকর্তা তত্সম্পর্কে লিখিত প্রতিবেদনের মাধ্যমে তাঁহার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে অবিলম্বে অবহিত করিবেন এবং প্রতিবেদনের একটি অনুলিপি মহা-পরিচালকের নিকট প্রেরণ করিবেন৷
মহা-পরিচালক ইত্যাদির তদন্তের ক্ষমতা
৩৯৷ (১) এই আইনের অধীন অপরাধ তদন্তের ব্যাপারে মহা-পরিচালকের থানার ভারপ্রাপ্ত একজন কর্মকর্তার ক্ষমতা থাকিবে৷
(২) সরকার, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, মহা-পরিচালকের অধঃস্তন কোন কর্মকর্তাকে এই আইনের অধীন অপরাধ তদন্তের জন্য থানার ভারপ্রাপ্ত একজন কর্মকর্তার ক্ষমতা প্রদান করিতে পারিবে৷
পরোয়ানা জারীর ক্ষমতা
৪০৷ (১) মহা-পরিচালক অথবা সরকার হইতে এতদুদ্দেশ্যে ক্ষমতাপ্রাপ্ত মহা-পরিচালকের অধঃস্তন কোন কর্মকর্তা অথবা কোন প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিষ্ট্রেটের যদি এইরূপ বিশ্বাস করিবার কারণ থাকে যে,-
তাহা হইলে, অনুরূপ বিশ্বাসের কারণ লিপিবদ্ধ করিয়া, তিনি উক্ত ব্যক্তিকে গ্রেফতার করিবার জন্য বা উক্ত স্থানে দিনে বা রাতে যে কোন সময় তল্লাশীর জন্য পরোয়ানা জারী করিতে পারিবেন৷
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন প্রদত্ত কোন পরোয়ানা যাহার নিকট পাঠানো হইবে উহা কার্যকর করার ব্যাপারে তাঁহার ধারা ৩৬ এ উল্লিখিত কর্মকর্তাদের সকল ক্ষমতা থাকিবে৷
প্রকাশ্য স্থান ইত্যাদিতে আটক বা গ্রেফতারের ক্ষমতা
৪১৷ যদি ধারা ৩৬ এ উল্লিখিত কোন কর্মকর্তার এইরূপ বিশ্বাস করিবার কারণ থাকে যে, কোন প্রকাশ্য স্থানে বা কোন চলমান যানবাহনে-
তল্লাশী ইত্যাদির পদ্ধতি
৪২৷ এই আইনের ভিন্নরূপ কিছু না থাকিলে, এই আইনের অধীন জারিকৃত সকল পরোয়ানা এবং সকল তল্লাশী, গ্রেফতার ও আটক এর ব্যাপারে Code of Criminal Procedure, 1898 (Act No. V of 1898) এর বিধান অনুসরণ করা হইবে৷
গোপন অভিযান ও নিয়ন্ত্রিত বিলি
[৪২ক৷ (১) উপ-ধারা (২) এবং কোন বিদেশী রাষ্ট্রের সহিত বাংলাদেশের স্বাক্ষরিত চুক্তি বা সমঝোতা সাপেক্ষে, সরকার, এই আইন বা কোন বিদেশী রাষ্ট্রের অনুরূপ কোন আইনের অধীন সংঘটিত কোন অপরাধ সম্পর্কে বাংলাদেশে বা অন্য কোথাও প্রমাণ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে, নিয়ন্ত্রিত বিলির লিখিত অনুমোদন প্রদান করিতে পারিবে৷
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন অনুমোদন প্রদান করা হইবে না, যদি না সরকার-
(৩) সরকার অনধিক তিন মাসের জন্য সময় সময় উক্ত অনুমোদন প্রদান করিতে পারিবে৷
(৪) উপ-ধারা (১) এর সামগ্রিকতা ক্ষুণ্ন না করিয়া, উক্ত উপ-ধারার অধীন অনুমোদনপ্রাপ্ত কোন ব্যক্তি, নিয়ন্ত্রিত বিলি ও গোপন অভিযান চলাকালে এবং তদুদ্দেশ্যে, নিম্নবর্ণিত কার্যাবলী সম্পাদন করিতে পারিবেন, যথা:-
(৫) আপাততঃ বলবত্ অন্য কোন আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কোন গোপন অভিযান বা নিয়ন্ত্রিত বিলিতে অংশগ্রহণকারী কোন অনুমোদনপ্রাপ্ত ব্যক্তি, অনুমোদনের শর্ত অনুযায়ী, উক্ত অভিযান বা নিয়ন্ত্রিত বিলিতে অংশগ্রহণের জন্য কোন অপরাধের দায়ে দায়ী হইবেন না৷]
অপরাধ তদন্তের সময়সীমা
[৪২খ৷ (১) Code of Criminal Procedure, 1898 (Act No. V of 1898) এ ভিন্নতর যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইনের অধীন কোন অপরাধের তদন্ত-
(২) কোন যুক্তিসংগত কারণে উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত সময়ের মধ্যে তদন্তকার্য সম্পন্ন করা সম্ভব না হইলে, তদন্তকারী কর্মকর্তা কারণ লিপিবদ্ধ করিয়া অতিরিক্ত সাত কার্যদিবসের মধ্যে অপরাধের তদন্তকার্য সম্পন্ন করিবেন এবং তত্সম্পর্কে কারণ উল্লেখপূর্বক তাঁহার নিয়ন্ত্রণকারী কর্মকর্তা বা ক্ষেত্রমত, তদন্তের আদেশ প্রদানকারী মহাপরিচালক বা তাঁহার নিকট হইতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, ম্যাজিস্ট্রেট বা সংশ্লিষ্ট অন্য কোন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে অবহিত করিবেন৷
(৩) উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত সময়সীমার মধ্যেও তদন্তকার্য সম্পন্ন করা না হইলে, সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী কর্মকর্তা উক্ত সময়সীমা অতিক্রান্ত হইবার চব্বিশ ঘন্টার মধ্যে উক্তরূপ তদন্তকার্য সম্পন্ন না হওয়া সম্পর্কে তাঁহার নিয়ন্ত্রণকারী কর্মকর্তা কিংবা, ক্ষেত্রমত, তদন্তের আদেশ প্রদানকারী মহাপরিচালক বা তাঁহার নিকট হইতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, ম্যাজিস্ট্রেট বা সংশ্লিষ্ট অন্য কোন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে অবহিত করিবেন৷
(৪) উপ-ধারা (৩) এর অধীন তদন্তকার্য সম্পন্ন না হওয়া সম্পর্কে অবহিত হইবার পর নিয়ন্ত্রকারী কর্মকর্তা কিংবা, ক্ষেত্রমত, তদন্তের আদেশ প্রদানকারী মহাপরিচালক বা তাঁহার নিকট হইতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, ম্যাজিস্ট্রেট বা সংশ্লিষ্ট অন্য কোন কর্তৃপক্ষ উক্ত অপরাধের তদন্তভার অন্য কোন কর্মকর্তার নিকট হস্তান্তর করিত পারিবেন এবং উক্তরূপে কোন অপরাধের তদন্তভার হস্তান্তর করা হইলে তদন্তের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-
(৫) উপ-ধারা (৪) এ উল্লিখিত সময়সীমার মধ্যেও তদন্তকার্য সম্পন্ন করা না হইলে, সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী কর্মকর্তা উক্ত সময়সীমা অতিক্রান্ত হইবার চব্বিশ ঘন্টার মধ্যে উক্তরূপ তদন্তকার্য সম্পন্ন না হওয়া সম্পর্কে তাঁহার নিয়ন্ত্রণকারী কর্মকর্তা কিংবা, ক্ষেত্রমত, তদন্তের আদেশ প্রদানকারী মহাপরিচালক বা তাঁহার নিকট হইতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, ম্যাজিস্ট্রেট বা সংশ্লিষ্ট অন্য কোন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে অবহিত করিবেন৷
(৬) উপ-ধারা (২) বা (৪) এ উল্লিখিত সময়ের মধ্যে কোন তদন্তকার্য সম্পন্ন না করার ক্ষেত্রে, তত্সম্পর্কে ব্যাখ্যা সম্বলিত প্রতিবেদন পর্যালোচনার পর নিয়ন্ত্রকারী কর্মকর্তা কিংবা, ক্ষেত্রমত, তদন্তের আদেশ প্রদানকারী মহাপরিচালক বা তাঁহার নিকট হইতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, ম্যাজিস্ট্রেট বা সংশ্লিষ্ট অন্য কোন কর্তৃপক্ষ যদি এই সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন না হওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী কর্মকর্তাই দায়ী, তাহা হইলে উহা দায়ী ব্যক্তির অদক্ষতা বলিয়া বিবেচিত হইবে এবং এই অদক্ষতা তাঁহার বার্ষিক গোপনীয় প্রতিবেদনে লিপিবদ্ধ করা হইবে এবং উপযুক্ত ক্ষেত্রে চাকুরী বিধিমালা অনুযায়ী তাঁহার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাইবে৷]
পারস্পরিক সহযোগিতায় বাধ্যবাধকতা
৪৩৷ এই আইনের কোন বিধান কার্যকর করার ব্যাপারে অনুরুদ্ধ হইলে ধারা ৩৬ এ উল্লিখিত কর্মকর্তাগণ [ডাকবিভাগের কর্মকর্তাগণ এবং আনসার বাহিনী, গ্রাম প্রতিরক্ষা দল ও গ্রাম পুলিশের সদস্যগণ] পরস্পরকে সর্বপ্রকার সাহায্য ও সহযোগিতা করিতে বাধ্য থাকিবেন৷
মামলার তদন্ত হস্তান্তর
৪৪৷ এই আইনের অধীন কোন অপরাধের তদন্তকালীন সময়ে যদি মহা-পরিচালক লিখিতভাবে অনুরোধ জানান, তাহা হইলে তদন্তকারী কর্তৃপক্ষ মহা-পরিচালক কর্তৃক নির্দিষ্টকৃত কোন কর্মকর্তার নিকট তদন্তকার্য হস্তান্তর করিবেন এবং যে কর্মকর্তার নিকট উক্ত তদন্তকার্য হস্তান্তর করা হইবে, তিনি প্রয়োজনবোধে, শুরু হইতে বা যে পর্যায়ে তদন্ত কার্য হস্তান্তর হইয়াছে সে পর্যায় হইতে তদন্ত কার্য পরিচালনা করিতে পারিবেন এবং তদন্ত শেষে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে পারিবেন৷
গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি ও আটককৃত মালামাল সম্পর্কে বিধান
৪৫৷ (১) ধারা ৪০ এর অধীন জারিকৃত কোন পরোয়ানার ভিত্তিতে কোন ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হইলে বা কোন বস্তু আটক করা হইলে গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিকে এবং আটককৃত বস্তুটিকে অনতিবিলম্বে পরোয়ানা প্রদানকারী কর্মকর্তার নিকট প্রেরণ করিতে হইবে৷
(২) মহা-পরিচালক বা তাঁহার নিকট হইতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন কর্মকর্তা বা কোন পুলিশ কর্মকর্তা ব্যতীত অন্য কোন কর্মকর্তা ধারা ৩৬ এবং ৪১ এর অধীন কোন ব্যক্তিকে গ্রেফতার করিলে বা কোন বস্তু আটক করিলে তিনি অনতিবিলম্বে গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিকে বা আটককৃত বস্তুটিকে নিকটস্থ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অথবা ধারা ৩৯ এর অধীন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত নিকটস্থ কোন কর্মকর্তার নিকট প্রেরণ করিবেন৷
(৩) উপ-ধারা (১) ও (২) এর অধীন কোন ব্যক্তি বা বস্তুকে যে কর্মকর্তার নিকট প্রেরণ করা হইবে তিনি, যতশীঘ্র সম্ভব, উক্ত ব্যক্তি বা বস্তু সম্পর্কে আইনানুগ যথাযোগ্য ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন৷
[(৪) এই ধারায় যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইনের অধীন আটককৃত কোন বস্তুর যদি, কোন কারণে, তাত্ক্ষণিক বিলিবন্দেজ অপরিহার্য হয় অথবা উহা বহন বা স্থানান্তরের অযোগ্য হয় তাহা হইলে উক্ত বস্তু, উপযুক্ত নমুনা সংরক্ষণ সাপেক্ষে, বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে, ব্যবহার, হস্তান্তর, ধ্বংস বা অন্য কোন প্রকারে উহার বিলিবন্দেজ করা যাইবে৷]
ব্যাংক-হিসাব ইত্যাদি পরীক্ষা-নিরীক্ষা
৪৬৷ (১) যদি মহা-পরিচালক বা তদধীন কোন কর্মকর্তার এইরূপ বিশ্বাস করিবার যথেষ্ট কারণ থাকে যে, কোন ব্যক্তি এই আইনের অধীন কোন অপরাধের সহিত জড়িত থাকিয়া অবৈধ অর্থ ও সম্পদ সংগ্রহে লিপ্ত আছেন এবং উক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে এই আইনের বিধান অনুসারে কার্যক্রম গ্রহণের জন্য তাঁহার ব্যাংক হিসাব বা আয়কর বা সম্পদকর সম্পর্কীয় রেকর্ডপত্র পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা প্রয়োজন তাহা হইলে অনুরূপ বিশ্বাসের কারণ লিপিবদ্ধ করিয়া তিনি উক্ত হিসাব বা রেকর্ডপত্র পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার [এবং, প্রয়োজন মনে করিলে, সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাব নিষ্ক্রিয়করণের (Freezing এর)] অনুমতি প্রদানের জন্য সেসন জজের নিকট আবেদন করিতে পারিবেন:
তবে শর্ত থাকে যে, মহা-পরিচালকের অধঃস্তন কোন কর্মকর্তা উক্তরূপ আবেদন করিবার পূর্বে মহা-পরিচালকের নিকট হইতে লিখিত অনুমতি গ্রহণ করিবেন৷
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন পেশকৃত আবেদন পর্যালোচনা করিয়া, এবং আবেদনকারীকে শুনানীর সুযোগ দিয়া, সেসন জজ আবেদনটি নিষ্পত্তি করিবেন এবং যদি তিনি প্রার্থীত অনুমতি যুক্তিসংগত বলিয়া মনে করেন, তাহা হইলে অনুমতি প্রদান করিবেন এবং উহার একটি অনুলিপি সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ও কর কর্মকর্তার নিকট প্রেরণ করিবেন৷
(৩) উপ-ধারা (২) এর অধীন অনুমতি প্রাপ্ত কোন কর্মকর্তা তাঁহার পরীক্ষা-নিরীক্ষার অগ্রগতি ও ফলাফল সম্পর্কে সেসন জজকে, তত্কর্তৃক নির্ধারিত সময়ে, অবহিত করিবেন৷
সম্পত্তি হস্তান্তর ইত্যাদি নিষিদ্ধ
৪৭৷ (১) এই আইনের অধীন কোন অপরাধের তদন্তকালে যদি তদন্তকারী কর্মকর্তার এইরূপ বিশ্বাস করিবার যথেষ্ট কারণ থাকে যে, কোন ব্যক্তির নিকট উক্ত অপরাধের মাধ্যমে উপার্জিত সম্পত্তি রহিয়াছে, তাহা হইলে অনুরূপ বিশ্বাসের কারণ লিপিবদ্ধ করিয়া, উক্ত সম্পত্তির বিক্রয়, বন্ধক, হস্তান্তর বা অন্য কোন প্রকার লেনদেন, তদন্ত কার্য সমাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত, নিষিদ্ধ করিবার আদেশ প্রদানের জন্য তিনি সেসন জজের নিকট আবেদন করিতে পারিবেন৷
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন পেশকৃত আবেদন পর্যালোচনা করিয়া, এবং আবদেনকারী ও যাহার বিরুদ্ধে আবেদন করা হইয়াছে তাঁহাকে শুনানীর যুক্তি সংগত সুযোগ দিয়া, সেসন জজ আবেদনটি নিষ্পত্তি করিবেন এবং যদি তিনি প্রার্থীত আদেশ প্রদান যুক্তিসংগত বলিয়া মনে করেন, তাহা হইলে তিনি প্রার্থীত আদেশ প্রদান করিবেন:
তবে শর্ত থাকে যে, তিন মাসের মধ্যে তদন্ত কার্য সম্পন্ন না হইলে সেসন জজ, আবেদনকারী কর্মকর্তার আবেদনের ভিত্তিতে, উক্ত সময় অনূর্দ্ধ তিন মাস পর্যন্ত বর্ধিত করিতে পারিবেন:
তবে আরও শর্ত থাকে যে, উভয় পক্ষের শুনানীর পর আবেদনটির নিষ্পত্তি সাপেক্ষে, বিশেষ কারণে কেবলমাত্র আবেদনকারীকে শুনানী প্রদান করিয়া সেসন জজ আবেদনটির ব্যাপারে সাময়িক আদেশ জারি করিতে পারিবেন৷
(৩) এই আইনের অধীন কোন অপরাধের জন্য দায়েরকৃত কোন মামলা চলাকালীন সময়ে অভিযোগকারী যদি আদালতের নিকট এই মর্মে আবেদন করেন যে, অভিযুক্ত ব্যক্তির অপরাধ প্রমাণিত হইলে তাঁহার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার প্রয়োজন হইবে এবং সেই কারণে তাঁহার সম্পত্তির বিক্রয়, বন্ধক, হস্তান্তর বা অন্য কোন প্রকার লেনদেন মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত, নিষিদ্ধ করার আদেশ প্রদান প্রয়োজন, তাহা হইলে আদালত উভয় পক্ষকে যুক্তিসংগত শুনানীর সুযোগ দিয়া প্রয়োজনবোধে উক্তরূপে আদেশ প্রদান করিবেন৷
মাদকাসক্তের তালিকা
৪৮৷ (১) মাদকাসক্তের চিকিত্সার প্রয়োজনে মহা-পরিচালক তাহাদের জেলাওয়ারী তালিকা প্রস্তুত করিবেন৷
(২) কোন মাদকাসক্ত ব্যক্তি বা তাহার তত্ত্বাবধায়ক বা অভিভাবক বা চিকিত্সক ইচ্ছা করিলে লিখিতভাবে মহা-পরিচালকের নিকট তাহার নাম উপ-ধারা (১) এর অধীন প্রস্তুতকৃত তালিকায় অন্তর্ভূক্তির জন্য আবেদন করিতে পারিবেন এবং উক্তরূপ আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মহা-পরিচালক তাহার নাম তালিকাভুক্ত করিতে পারিবেন৷
(৩) এই ধারার অধীন তালিকাভুক্ত মাদকাসক্তদের চিকিত্সার জন্য বোর্ড যতদূর সম্ভব যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করিবে৷
কতিপয় লাইসেন্স প্রদানের ক্ষেত্রে বিধিনষেধ
৪৯৷ (১) কোন ব্যক্তি এই আইনের ধারা ২৪ ব্যতীত, কোন ধারায় দণ্ডপ্রাপ্ত হইলে অথবা ধারা ১৬ এর অধীন বাধ্যতামূলকভাবে চিকিত্সাধীন থাকিলে অথবা ধারা ৪৮ এর অধীন মাদকাসক্তদের তালিকাভুক্ত হইলে তাহাকে কোন আগ্নেয়াস্ত্র বা যানবাহন চালকের লাইসেন্স দেওয়া যাইবে না এবং তাহার উক্তরূপ কোন লাইসেন্স থাকিলে উহা বাতিল হইয়া যাইবে৷
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন কোন ব্যক্তির লাইসেন্স বাতিল হইলে তিনি বা ক্ষেত্রমত, তাহার তত্ত্বাবধায়ক বা অভিভাবক লাইসেন্সটি বাতিল হওয়ার দিন হইতে পনের দিনের মধ্যে লাইসেন্স প্রদানকারী কর্মকর্তা বা নিকটস্থ থানায় জমা দিবেন এবং যদি লাইসেন্সটি আগ্নেয়াস্ত্র এর জন্য হয়, তাহা হইলে আগ্নেয়াস্ত্রটিও তত্সহ জমা করিতে হইবে৷
রাসায়নিক পরীক্ষক ও তাঁহার রিপোর্ট
৫০৷ (১) এই আইনের প্রয়োজনে সরকার মাদকদ্রব্য বা মাদকদ্রব্যের কোন উপাদানের রাসায়নিক পরীক্ষার জন্য পরীক্ষাগারে স্থাপন করিতে পারিবে এবং উহার জন্য রাসায়নিক পরীক্ষক নিয়োগ করিতে পারিবে৷
(২) এই আইনের অধীন পরিচালিত কোন কার্যক্রমের কোন পর্যায়ে কোন বস্তুর রাসায়নিক পরীক্ষার প্রয়োজন দেখা দিলে উহা উপ-ধারা (১) এর অধীন স্থাপিত রাসায়নিক পরীক্ষাগারে প্রেরণ করিতে হইবে৷
(৩) রাসায়নিক পরীক্ষকের স্বাক্ষরযুক্ত রাসায়নিক পরীক্ষার রিপোর্ট এই আইনের অধীন কোন তদন্ত, বিচার বা অন্য কোন প্রকার কার্যক্রমে সাক্ষ্য হিসাবে ব্যবহার করা যাইবে৷
(৪) এই ধারার অধীন রাসায়নিক পরীক্ষাগার স্থাপিত না হওয়া পর্যন্ত সরকার কর্তৃক এতদুদ্দেশ্যে নির্ধারিত যে কোন পরীক্ষাগারে এই ধারায় উল্লিখিত রাসায়নিক পরীক্ষা করা যাইবে৷
সরল বিশ্বাসে কৃত কাজকর্ম রক্ষণ
৫১৷ এই আইনের বা কোন বিধির অধীন সরল বিশ্বাসে কৃত কোন কাজের ফলে কোন ব্যক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হইলে বা তাহার ক্ষতিগ্রস্ত হইবার সম্ভাবনা থাকিলে তজ্জন্য সরকার, বোর্ড বা কোন কর্মকর্তা বা ব্যক্তির বিরুদ্ধে দেওয়ানী বা ফৌজদারী মামলা বা অন্য কোন আইনগত কার্যক্রম গ্রহণ করা যাইবে না৷
বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে কতিপয় বিষয়ের নিষ্পত্তি
৫২৷ এই আইনে কোন কিছু করিবার জন্য বিধান থাকা সত্বেও যদি উহা কোন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক বা কি পদ্ধতিতে করা হইবে তত্সম্পর্কে কোন বিধান না থাকে, তাহা হইলে উক্ত কাজ বিধি দ্বারা নির্ধারিত কর্তৃপক্ষ কর্তৃক এবং বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে করা হইবে৷
ক্ষমতা অর্পণ
৫৩৷ মহা-পরিচালক এই আইনের অধীন তাঁহার কোন ক্ষমতা বা দায়িত্ব প্রয়োজনবোধে, লিখিত আদেশ দ্বারা, তাঁহার অধঃস্তন যে কোন কর্মকর্তাকে অর্পণ করিতে পারিবেন৷
ক্ষতিপূরণ ইত্যাদির দাবী অগ্রহণযোগ্য
৫৪৷ ধারা ২৭ বা ২৮ এর অধীন প্রদত্ত কোন আদেশের ফলে কোন লাইসেন্স, পারমিট বা পাসধারী ব্যক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হইলে তিনি তজ্জন্য, অন্য কোন আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কোন ক্ষতিপূরণ দাবী করিতে পারিবেন না বা তত্কর্তৃক প্রদত্ত কোন ফিস ফেরত্ চাহিতে পারিবেন না৷
বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা
৫৫৷ এই আইনের উদ্দেশ্যে পূরণকল্পে সরকার, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে৷
রহিতকরণ ও হেফাজত
৫৬৷ (১) এই আইন প্রবর্তনের সংগে সংগে Opium Act, 1857 (Ben. Act XIII of 1857), Opium Act, 1878 (I of 1878), Excise Act, 1909 (Ben. Act V of 1909), Dangerous Drugs Act, 1930 (II of 1930) এবং Opium Smoking Act, 1932 (Ben. Act X of 1932), অতঃপর উক্ত আইনগুলি বলিয়া উল্লিখিত, রহিত হইবে৷
(২) উক্ত আইনগুলি উক্তরূপে রহিত হইবার সঙ্গে সঙ্গে-
(৩) উক্ত আইনগুলির কোন একটির দ্বারা বা উহার অধীন আরোপিত কোন কর, শুল্ক বা ফিস বা অন্য কোন পাওনা, এই আইন প্রবর্তনের অব্যবহিত পূর্বে, অনাদায়ী থাকিলে উহা উক্ত আইন অনুযায়ী আদায় করা হইবে যেন উক্ত আইন রহিত হয় নাই৷
(৪) Excise Act, 1909 (Ben. Act V of 1909) এর অধীন প্রণীত আবগারী শুল্ক (Excise duty) সংক্রান্ত বিধিমালা এই আইনের অধীন আরোপিত মাদক শুল্ক সংক্রান্ত বিধিমালা বলিয়া গণ্য হইবে এবং মাদক শুল্ক সংক্রান্ত স্বতন্ত্র বিধিমালা প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত উক্ত বিধিমালা, প্রয়োজনীয় সংশোধন সাপেক্ষে, বহাল থাকিবে এবং উহাতে যেখানে যেখানে “আবগারী শুল্ক” শব্দগুলি রহিয়াছে, সেখানে, অসংগতি না হইলে, “মাদক শুল্ক” পড়িতে হইবে৷
(৫) মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ, ১৯৮৯ (অধ্যাদেশ নং ১৯, ১৯৮৯) এতদ্বারা রহিত করা হইল৷
(৬) উপ-ধারা (৫) এর অধীন রহিতকরণ সত্ত্বেও, রহিত অধ্যাদেশের অধীন কৃত কাজকর্ম বা গৃহীত ব্যবস্থা এই আইনের অধীন কৃত বা গৃহীত হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে৷