রাষ্ট্রপতির পদে নির্বাচন পরিচালনার বিধানকল্পে প্রণীত আইন৷ যেহেতু রাষ্ট্রপতির পদে নির্বাচন পরিচালনা এবং তত্সংক্রান্ত্ম বিষয়াবলী সম্পর্কে বিধান করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়; সেহেতু এতদ্দ্বারা নিম্নরূপ আইন করা হইল:-
১৷ (১) এই আইন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১ নামে অভিহিত হইবে৷
(২) ইহা সংবিধান (দ্বাদশ সংশোধন) আইন, ১৯৯১ কার্যকর হইবার সঙ্গে সঙ্গেই বলবত্ হইবে৷
২৷ বিষয় বা প্রসংগের পরিপন্থী কিছু না থাকিলে, এই আইনে,-
৩৷ (১) নির্বাচন কমিশনার রাষ্ট্রপতির যে কোন নির্বাচন অনুষ্ঠান পরিচালনা করিবেন এবং অনুরূপ নির্বাচনে নির্বাচনী কর্তা হইবেন৷
(২) নির্বাচন কমিশন নির্বাচন অনুষ্ঠানের নিমিত্ত ভোটার তালিকা প্রস্তুত ও প্রজ্ঞাপন জারীর মাধ্যমে প্রকাশ করিবেন৷
(৩) নির্বাচন কমিশনার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য অনুষ্ঠিত সংসদ-সদস্যদের বৈঠকে সভাপতিত্ব করিবেন এবং কমিশন কর্তৃক নিযুক্ত কর্মচারীদের সহায়তায় ভোট গ্রহণ পরিচালনা করিবেন৷
৪৷ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য সংসদ-সদস্যদের বৈঠক সংসদ কক্ষে অনুষ্ঠিত হইবে৷
৫৷ (১) রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য কমিশন সংসদ-সদস্যগণকে আহ্বান জানাইয়া সরকারী গেজেটে একটি প্রজ্ঞাপন জারী করিবেন এবং নির্বাচনের উদ্দেশ্যে উক্ত প্রজ্ঞাপন দ্বারা-
(২) যদি সংসদের অধিবেশন চলাকালীন সময়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রয়োজন হয়, তাহা হইলে কমিশন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য নির্ধারিত দিনের অন্যুন সাত দিন পূর্বে, স্পীকারের সহিত আলোচনাক্রমে, উপ-ধারা (১) এর অধীন প্রজ্ঞাপন জারী করিবেন:
তবে শর্ত থাকে যে, সংবিধান (দ্বাদশ সংশোধন) আইন, ১৯৯১ কার্যকর হইবার পাঁচ দিনের মধ্যে এই আইনের অধীন প্রথম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের নিমিত্ত, উপ-ধারা (১) এর অধীন প্রজ্ঞাপন জারী করিতে হইবে৷
(৩) যদি সংসদ অধিবেশনে না থাকে এমন কোন সময়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রয়োজন হয়, তাহা হইলে কমিশন, স্পীকারের সংগে আলোচনাক্রমে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের উদ্দেশ্যে, ভোটগ্রহণের জন্য উপ-ধারা (১) এর অধীন প্রজ্ঞাপন দ্বারা নির্ধারিত দিনের অন্যুন সাত দিন পূর্বে, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন জারী করিয়া উক্ত উপ-ধারার অধীন নির্ধারিত ভোটগ্রহণের দিনে সংসদ-সদস্যদের বৈঠক আহ্বান করিবেন৷
(৪) নির্বাচনের জন্য নির্ধারিত দিনে শুধুমাত্র নির্বাচন অনুষ্ঠিত হইবে৷
৬৷ মনোনয়নপত্র দাখিলের জন্য নির্ধারিত দিনে ও সময়ের মধ্যে কোন সংসদ-সদস্য রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচিত হইবার যোগ্যতাসম্পন্ন কোন ব্যক্তিকে ঐ পদের জন্য মনোনীত করিয়া নির্বাচনী কর্তার নিকট একটি মনোনয়নপত্র প্রদান করিতে পারিবেন, যে মনোনয়নপত্রে প্রস্তাবক হিসাবে তাঁহার স্বাক্ষর থাকিবে এবং সমর্থক হিসাবে অন্য একজন সংসদ-সদস্যের স্বাক্ষর থাকিবে; সেই সংগে যিনি রাষ্ট্রপতি পদের জন্য মনোনীত হইতে যাইতেছেন, তাঁহারও উক্ত মনোনয়নে সম্মতিসূচক স্বাক্ষরিত বিবৃতি থাকিবে:
তবে শর্ত থাকে যে, প্রস্তাবক হিসাবে বা সমর্থক হিসাবে কোন সংসদ-সদস্য একটির অধিক মনোনয়নপত্র স্বাক্ষর করিবেন না৷
৭৷ নির্বাচনী কর্তা ধারা ৫ এর উপ-ধারা (১) এর অধীন প্রজ্ঞাপন দ্বারা নির্ধারিত দিন, সময় ও স্থানে মনোনয়নপত্র পরীক্ষা করিবেন, এবং পরীক্ষার পর মাত্র একজনের মনোনয়ন বৈধ থাকিলে নির্বাচন কমিশনার উক্ত ব্যক্তিকে নির্বাচিত বলিয়া ঘোষণা করিবেন; তবে একাধিক ব্যক্তির মনোনয়ন বৈধ থাকিলে বৈধভাবে মনোনীত ব্যক্তি (অতঃপর প্রার্থী বলিয়া অভিহিত)- েদর নাম মনোনয়নপত্র পরীক্ষার দিন ঘোষণা করিবেন৷
৮৷ (১) প্রার্থীপদ প্রত্যাহারের জন্য নির্ধারিত দিনে ও সময়ের মধ্যে কোন প্রার্থী নির্বাচনী কর্তার নিকট স্বাক্ষরযুক্ত নোটিশ দাখিল করিয়া নিজের প্রার্থীপদ প্রত্যাহার করিতে পারিবেন; তবে কোন প্রার্থী অনুরূপভাবে স্বীয় প্রার্থীপদ প্রত্যাহার করিলে তাঁহাকে ঐ নোটিশ খারিজ করিতে দেওয়া হইবে না৷
(২) যদি একজন ব্যতীত সকল প্রার্থী প্রার্থীপদ প্রত্যাহার করিয়া থাকেন, তাহা হইলে নির্বাচন কমিশনার সেই একজনকে নির্বাচিত বলিয়া ঘোষণা করিবেন৷
৯৷ যদি কোন প্রার্থী প্রার্থিতা প্রত্যাহার না করিয়া থাকেন কিংবা প্রত্যাহারের পর দুই বা ততোধিক প্রার্থী থাকিয়া যান, তাহা হইলে নির্বাচন কমিশনার অনুরূপ প্রার্থীদের এবং তাঁহাদের প্রস্তাবক ও সমর্থকদের নাম ধারা ৫-এর উপ-ধারা (১)-এর অধীন ভোট গ্রহণের জন্য নির্ধারিত দিনে দ্বিপ্রহরের (দুপুর বারটার) পর সংসদ-সদস্যদের বৈঠকের শুরুতে ঘোষণা করিবেন৷
১০৷ (১) রাষ্ট্রপতি সংসদ-সদস্যগণের প্রকাশ্য ভোটে নির্বাচিত হইবেন৷
(২) এই আইনের অধীনে কোন নির্বাচনে প্রত্যেক সংসদ-সদস্যের একটি মাত্র ভোট থাকিবে৷
(৩) ভোটগ্রহণের নিমিত্ত নির্বাচন কমিশন প্রয়োজনীয় সংখ্যক ব্যালট পেপার প্রস্তুত করিবেন৷ প্রত্যেকটি ব্যালট পেপারের দুটি অংশ থাকিবে৷ কাউন্টার ফয়েলে প্রত্যেক ভোটারের নাম ও বিভক্তি সংখ্যা মুদ্রিত থাকিবে এবং ভোটারের স্বাক্ষরের জন্য স্থান নির্ধারিত থাকিবে৷ প্রত্যেকটি ব্যালট পেপারের আউটার ফয়েলে প্রত্যেক ভোটারের বিভক্তি সংখ্যা এবং রাষ্ট্রপতি পদ প্রার্থীদের নাম আদ্যাক্ষর অনুযায়ী ক্রমানুসারে সরল রেখার মধ্যে পৃথকভাবে মুদ্রিত থাকিবে এবং প্রত্যেক নামের বিপরীতে ভোটার কর্তৃক স্বাক্ষরের মাধ্যমে ভোট প্রদানের জন্য নির্দিষ্ট স্থান থাকিবে৷
(৪) প্রত্যেক ভোটার তাহার জন্য নির্দ্দিষ্ট ব্যালটের কাউন্টার ফয়েলে নিজ নাম স্বাক্ষর করিয়া ব্যালট পেপার সংগ্রহ করিবেন৷ অতঃপর উহার আউটার ফয়েলে তিনি যে প্রার্থীকে ভোট প্রদান করিবেন তাহার নামের বিপরীতে নির্দ্দিষ্ট স্থানে নিজের পূর্ণ নাম স্বাক্ষর করিয়া ভোট প্রদান করিবেন এবং উহা সংরক্ষিত ব্যালট বাক্সের অভ্যন্তরে রাখিবেন৷
(৫) নির্বাচন কমিশন প্রয়োজনবোধে সংসদ কক্ষের অভ্যন্তরে একাধিক ভোট কাউন্টার স্থাপন করিতে পারিবেন৷
ব্যাখ্যা৷- এই ধারায়,-
(১) “বিভক্তি সংখ্যা” বলিতে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালী-বিধি অনুযায়ী প্রত্যেক সংসদ-সদস্যকে বরাদ্দকৃত বিভক্তি সংখ্যা বুঝাইবে;
(২) “আউটার ফয়েল” বলিতে ব্যালট পেপারের কাউন্টার ফয়েল বা চেকমুড়ি ব্যতীত বাকী অংশ বুঝাইবে৷
১১৷ (১) ভোটগ্রহণ অন্তে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচন কমিশনার প্রকাশ্যে ভোট গণনা করিবেন৷
(২) প্রার্থীগণের মধ্যে যিনি প্রদত্ত ভোটের মধ্যে সর্বোচ্চ সংখ্যক ভোট পাইবেন নির্বাচন কমিশনার তাহাকে নির্বাচিত বলিয়া ঘোষণা করিবেন৷
(৩) যদি প্রার্থীগণ সমান সংখ্যক ভোট প্রাপ্ত হন তাহা হইলে লটারীর মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনার নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারণ করিবেন৷
(৪) রাষ্ট্রপতির নির্বাচনের ফলাফল সম্পর্কে নির্বাচন কমিশনারের ঘোষণা চূড়ান্ত হইবে৷
১২৷ এই আইনের উদ্দেশ্যসমূহ কার্যকর করিবার উদ্দেশ্যে নির্বাচন কমিশনার, সরকারের অনুমোদনক্রমে, প্রয়োজনবোধে বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবেন৷
১৩৷ Presidential Election Ordinance, 1978 (Ord. No. XIV of 1978) এতদ্বারা রহিত করা হইল৷