জাতীয় স্থানীয় সরকার ইনষ্টিটিউট স্থাপনকল্পে প্রণীত আইন৷ যেহেতু জাতীয় স্থানীয় সরকার ইনষ্টিটিউট নামে একটি ইনষ্টিটিউট স্থাপন করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়; সেহেতু এতদ্দ্বারা নিম্নরূপ আইন করা হইল:-
১৷ (১) এই আইন জাতীয় স্থানীয় সরকার ইনষ্টিটিউট আইন, ১৯৯২ নামে অভিহিত হইবে৷
(২) সরকার, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, যে তারিখ নির্ধারণ করিবে সেই তারিখে এই আইন বলবত্ হইবে৷
২৷ বিষয় বা প্রসংগের পরিপন্থী কোন কিছু না থাকিলে, এই আইনে,-
৩৷ (১) এই আইন বলবত্ হইবার পর, যতশীঘ্র সম্ভব, এই আইনের বিধান অনুযায়ী জাতীয় স্থানীয় সরকার ইনষ্টিটিউট নামে একটি ইনষ্টিটিউট স্থাপিত হইবে৷
(২) ইনষ্টিটিউট একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা হইবে এবং ইহার স্থায়ী ধারাবাহিকতা ও একটি সাধারণ সীলমোহর থাকিবে, এবং এই আইন ও বিধি সাপেক্ষে, ইহার স্থাবর ও অস্থাবর উভয় প্রকার সম্পত্তি অর্জন করার, অধিকারে রাখার এবং হস্তান্তর করার ক্ষমতা থাকিবে এবং ইহার পক্ষে ইহা মামলা দায়ের করিতে পারিবে বা ইহার বিরুদ্ধেও মামলা দায়ের করা যাইবে৷
(৩) ইনষ্টিটিউটের প্রধান কার্যালয় ঢাকায় থাকিবে৷
৪৷ ইনষ্টিটিউটের পরিচালনা ও প্রশাসন একটি পরিচালনা বোর্ডের উপর ন্যস্ত থাকিবে এবং ইনষ্টিটিউট যে সকল ক্ষমতা প্রয়োগ এবং কার্য সম্পাদন করিতে পারিবে পরিচালনা বোর্ড সেই সকল ক্ষমতা প্রয়োগ ও কার্য সম্পাদন করিতে পারিবে৷
৫৷ পরিচালনা বোর্ড নিম্নরূপ সদস্য সমন্বয়ে গঠিত হইবে, যথা:-
৬৷ ইনষ্টিটিউটের নিম্নরূপ দায়িত্ব থাকিবে, যথা:-
৭৷ (১) ইনষ্টিটিউটের একজন মহাপরিচালক এবং সরকার কর্তৃক নির্ধারিত সংখ্যক পরিচালক থাকিবে৷
(২) মহাপরিচালক ও পরিচালক সরকার কর্তৃক নিযুক্ত হইবেন এবং তাহাদের চাকুরীর শর্তাদি সরকার কর্তৃক স্থিরকৃত হইবে৷
(৩) মহাপরিচালক পদ শূন্য হইলে কিংবা অনুপস্থিতি বা অসুস্থতা বা অন্য কোন কারণে মহাপরিচালক দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হইলে শূন্য পদে নব নিযুক্ত মহাপরিচালক কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত কিংবা মহাপরিচালক পুনরায় স্বীয় দায়িত্ব পালনে সমর্থ না হওয়া পর্যন্ত সরকার কর্তৃক মনোনীত কোন ব্যক্তি মহাপরিচালকরূপে দায়িত্ব পালন করিবেন৷
(৪) মহাপরিচালক ইনষ্টিটিউটের মূখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা হইবেন, এবং তিনি-
৮৷ (১) বোর্ড প্রতি দুইমাসে কমপক্ষে একবার সভায় মিলিত হইবে এবং সভার তারিখ, সময় ও স্থান সভাপতি কর্তৃক স্থিরকৃত হইবে৷
(২) বোর্ডের সভায় কোরামের জন্য উহার মোট সদস্য-সংখ্যার অন্যুন এক-তৃতীয়াংশ সদস্যের উপস্থিতির প্রয়োজন হইবে, তবে মুলতবী সভার ক্ষেত্রে কোন কোরামের প্রয়োজন হইবে না৷
(৩) সভাপতি বোর্ডের সকল সভায় সভাপতিত্ব করিবেন এবং তাঁহার অনুপস্থিতিতে তত্কর্তৃক মনোনীত কোন সদস্য সভাপতিত্ব করিবেন৷
(৪) প্রত্যেক সদস্যের একটি ভোট থাকিবে এবং ভোটের সমতার ক্ষেত্রে সভায় সভাপতিত্বকারী ব্যক্তির দ্বিতীয় বা নির্ণায়ক ভোট প্রদানের ক্ষমতা থাকিবে৷
(৫) শুধু কোন সদস্য পদে শূন্যতা বা বোর্ড গঠনে ত্রুটি থাকিবার কারণে ইনষ্টিটিউটের কোন কার্য বা কার্যধারা অবৈধ হইবে না এবং তত্সম্পর্কে কোন প্রশ্নও উত্থাপন করা যাইবে না৷
৯৷ এই আইনের উদ্দেশ্যে পূরণকল্পে সরকার ইনষ্টিটিউটকে যে কোন নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবে এবং ইনষ্টিটিউট উহা পালন করিতে বাধ্য থাকিবে৷
১০৷ ইনষ্টিটিউটের স্বার্থে তাত্ক্ষণিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিলে সভাপতি যে কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিতে পারিবেন এবং তিনি তত্সম্পর্কে বোর্ডকে অবিলম্বে অবহিত করিবেন৷
১১৷ ইনষ্টিটিউট উহার দায়িত্ব পালনে উহাকে সহায়তা প্রদানের জন্য এক বা একাধিক কমিটি নিয়োগ করিতে পারিবে৷
১২৷ (১) ইনষ্টিটিউটের একটি তহবিল থাকিবে এবং উহাতে-
(২) ইনষ্টিটিউটের তহবিল বোর্ডের অনুমোদনক্রমে যে কোন তফসিলি ব্যাংকে জমা রাখা হইবে৷
(৩) ইনষ্টিটিউট উহার দায়িত্ব পালনের প্রয়োজনে উহার তহবিল ব্যবহার করিতে পারিবে৷
১৩৷ ইনষ্টিটিউট উহার কার্যাবলী সম্পাদনের প্রয়োজনে কোন তফসিলি ব্যাংক হইতে ঋণ গ্রহণ করিতে পারিবে৷
১৪৷ বোর্ড উহার যে কোন ক্ষমতা বা দায়িত্ব সুনির্দিষ্ট শর্তে মহাপরিচালক বা ইনষ্টিটিউটের অন্য কোন কর্মকর্তাকে অর্পণ করিতে পারিবে৷
১৫৷ (১) সরকার কর্তৃক সময় সময় প্রদত্ত নির্দেশাবলী সাপেক্ষে ইনষ্টিটিউট উহার দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে পালনের জন্য প্রয়োজনীয় কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ করিতে পারিবে৷
(২) ইনষ্টিটিউটের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিয়োগ ও চাকুরীর শর্তাবলী প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত হইবে৷
১৬৷ ইনষ্টিটিউট প্রতি বত্সর সরকার কর্তৃক নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পরবর্তী অর্থ বত্সরের বার্ষিক বাজেট বিবরণী সরকারের নিকট পেশ করিবে এবং উহাতে উক্ত অর্থ বত্সরে সরকারের নিকট হইতে ইনষ্টিটিউটের কি পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন উহার উল্লেখ থাকিবে৷
১৭৷ (১) ইনষ্টিটিউট যথাযথভাবে উহার হিসাব রক্ষা করিবে এবং হিসাবের বার্ষিক বিবরণী প্রস্তুত করিবে৷
(২) বাংলাদেশের মহা-হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, অতঃপর মহা-হিসাব নিরীক্ষক বলিয়া উল্লিখিত, প্রতি বত্সরে ইনষ্টিটিউটের হিসাব নিরীক্ষা করিবেন এবং নিরীক্ষা রিপোর্ট এর একটি করিয়া অনুলিপি সরকার ও ইনষ্টিটিউটের নিকট প্রেরণ করিবেন৷
(৩) উপ-ধারা (২) মোতাবেক হিসাব নিরীক্ষার উদ্দেশ্যে মহা-হিসাব নিরীক্ষক কিংবা তাহার নিকট হইতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন ব্যক্তি ইনষ্টিটিউটের সকল রেকর্ড, দলিল-দস্তাবেজ, নগদ বা ব্যাংকে গচ্ছিত অর্থ, জামানত, ভান্ডার এবং অন্যবিধ সম্পত্তি পরীক্ষা করিয়া দেখিতে পারিবেন এবং ইনষ্টিটিউটের মহা-পরিচালক, পরিচালক এবং অন্য যে কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করিতে পারিবেন৷
১৮৷ (১) প্রতি আর্থিক বত্সর শেষ হইবার সংগে সংগে ইনষ্টিটিউট উক্ত বত্সরে সম্পাদিত কার্যাবলী সম্বলিত একটি বার্ষিক প্রতিবেদন সরকারের নিকট দাখিল করিবে৷
(২) সরকার, প্রয়োজনমত, ইনষ্টিটিউটের নিকট হইতে ইনষ্টিটিউটের যে কোন বিষয়ের উপর প্রতিবেদন বা বিবরণী আহ্বান করিতে পারিবে এবং ইনষ্টিটিউট উহা সরকারের নিকট প্রেরণ করিতে বাধ্য থাকিবে৷
১৯৷ এই আইন, কোন বিধি বা প্রবিধানের অধীন সরল বিশ্বাসে কৃত কোন কাজের ফলে কোন ব্যক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হইলে বা তাঁহার ক্ষতিগ্রস্ত হইবার সম্ভাবনা থাকিলে তজ্জন্য বোর্ড, সভাপতি, সদস্য, মহাপরিচালক বা ইনষ্টিটিউটের অন্য কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে কোন দেওয়ানী বা ফৌজদারী মামলা বা অন্য কোন প্রকার আইনগত কার্যক্রম গ্রহণ করা যাইবে না৷
২০৷ এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে সরকার, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে৷
২১৷ এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে ইনষ্টিটিউট সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে এবং সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইন বা কোন বিধির সহিত অসমঞ্জস্য না হয় এইরূপ প্রবিধান প্রণয়ন করিতে পারিবে৷
২২৷ (১) ইনষ্টিটিউট প্রতিষ্ঠার সংগে সংগে রিজুলিউশন নং এম-১৩/এল জি আই-২/৬৯/৫৮৪, তারিখ ২১শে জুন, ১৯৬৯ বাতিল হইয়া যাইবে৷
(২) উক্ত রিজুলিউশনের বাতিল হইবার সংগে সংগে-