বাংলাদেশ ট্রেড এন্ড ট্যারিফ কমিশন প্রতিষ্ঠাকল্পে প্রণীত আইন৷[ [যেহেতু জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশে তাঁহার সরকারের আমলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ফরেন ট্রেড ডিভিশনের ২৮ জুলাই ১৯৭৩ খ্রিস্টাব্দ তারিখের ADMN-১E-২০/৭৩/৬৩৬ নং রেজুল্যুশনবলে একটি সম্পূর্ণ সরকারি দপ্তর হিসাবে ট্যারিফ কমিশন প্রতিষ্ঠা লাভ করিয়াছে; এবং যেহেতু বাংলাদেশ ট্রেড এন্ড ট্যারিফ কমিশন প্রতিষ্ঠাকল্পে একটি আইন প্রণয়ন করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়;] সেহেতু এতদ্বারা নিম্নরূপ আইন করা হইল:-
১৷ এই আইন বাংলাদেশ ট্রেড এন্ড ট্যারিফ কমিশন আইন, ১৯৯২ নামে অভিহিত হইবে৷
২৷ বিষয় বা প্রসংগের পরিপন্থী কোন কিছু না থাকিলে, এই আইনে,-
৩৷ (১) এই আইন বলবত্ হইবার পর, যতশীঘ্র সম্ভব, সরকার, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, বাংলাদেশ ট্রেড এন্ড ট্যারিফ কমিশন নামে একটি কমিশন প্রতিষ্ঠা করিবে৷
(২) কমিশন একটি স্থায়ী ধারাবাহিকতা সম্পন্ন বিধিবদ্ধ সংস্থা হইবে এবং ইহার-
৪৷ কমিশনের প্রধান কার্যালয় ঢাকায় থাকিবে এবং ইহা, প্রয়োজনবোধে, যে কোন স্থানে শাখা কার্যালয় স্থাপন করিতে পারিবে৷
৫৷ (১) একজন চেয়ারম্যান এবং অনূর্ধ তিনজন সদস্য সমন্বয়ে কমিশন গঠিত হইবে৷
(২) চেয়ারম্যান ও সদস্যগণ সরকার কর্তৃক নিযুক্ত হইবেন এবং তাহাদের চাকুরীর শর্তাবলী সরকার কর্তৃক নির্ধারিত হইবে৷
(৩) চেয়ারম্যান পদ শূন্য হইলে কিংবা অনুপস্থিতি, অসুস্থতা বা অন্য কোন কারনে তিনি তাহার দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হইলে, শূন্য পদে নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত কিংবা চেয়ারম্যান পুনরায় স্বীয় দায়িত্ব পালনে সমর্থ না হওয়া পর্যন্ত সরকার কর্তৃক মনোনীত কোন সদস্য চেয়ারম্যানরূপে কার্য করিবেন৷
৬৷ চেয়ারম্যান কমিশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হইবেন এবং তিনি কমিশনের অন্যান্য সদস্যদের দায়িত্ব বন্টন করিবেন৷
[৭। (১) দেশিয় পণ্য ও সেবা রপ্তানি বৃদ্ধিকল্পে দেশিয় শিল্পের স্বার্থ সংরক্ষণ ও বিকাশে শিল্পপণ্য উৎপাদন ও বিপণনে দক্ষতাবৃদ্ধি, প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ সৃষ্টি এবং আমদানি ও রপ্তানির ক্ষেত্রে তুলনামূলক সুবিধা (comparative advantage) নিরূপণকল্পে নিম্নবর্ণিত বিষয়ে কমিশন সরকারকে পরামর্শ প্রদান করিবে, যথা :-
(গ) এন্টি ডাম্পিং, কাউন্টারভেইলিং ও সেইফগার্ড সংক্রান্ত আইন ও বিধি অনুযায়ী দেশিয় শিল্পের স্বার্থ সংরক্ষণ;
(ঙ) শিল্প, বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও শুল্কনীতি প্রণয়ন;
(২) উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত বিষয়ে সরকারকে পরামর্শ প্রদান ছাড়াও কমিশন নিম্নোক্ত কার্যাবলি সম্পাদন করিবে, যথা:-
(৩) এই ধারার অধীন পেশকৃত সুপারিশ বাস্তবায়নের ফলে সম্ভাব্য ক্ষতিগ্রস্ত শিল্প, ভোক্তা ও জনসাধারণের স্বার্থ বিবেচনা করিয়া কমিশন ক্ষতি লাঘবের জন্য, উহার মতে প্রয়োজনীয় সুপারিশ সরকারের নিকট পেশ করিবে;
(৪) এই ধারার অধীন কমিশন কর্তৃক পেশকৃত সুপারিশকে সরকার স্বীকৃতি দিবে এবং যথাযথভাবে বিবেচনা করিবে।]
৮৷ [(১)]এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে কমিশন যে কোন শিল্প ও বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান অনুসন্ধান বা তদন্ত করিতে পারিবে এবং উক্তরূপ অনুষ্ঠান বা তদন্তের জন্য কমিশন কর্তৃক ক্ষমতা প্রদত্ত যে কোন ব্যক্তিকে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা প্রদান করিতে বাধ্য থাকিবে৷
[(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন তদন্তের মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্যের গোপনীয়তা নিশ্চিত করিতে হইবে :
তবে শর্ত থাকে যে, প্রাপ্ত তথ্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বা কর্তৃপক্ষের লিখিত অনুমতি সাপেক্ষে প্রকাশ করা যাইবে।]
৯৷ কমিশন কর্তৃক এই আইনের অধীন অনুসন্ধান বা তদন্ত কার্যধারায় উহা নিম্নবর্ণিত বিষয়সমূহে সেই সকল ক্ষমতা প্রয়োগ করিতে পারিবে যে সকল ক্ষমতা কোন দেওয়ানী আদালত Code of Civil Procedure, 1908 (Act V of 1908) এর অধীন উক্ত বিষয়সমূহে প্রয়োগ করিতে পারে, যথা:-
১০৷ (১) এই ধারার অন্যান্য বিধানাবলী সাপেক্ষে, কমিশন উহার সভার কার্য পদ্ধতি নির্ধারণ করিতে পারিবে৷
(২) কমিশনের সভা, উহার চেয়ারম্যানের সম্মতিক্রমে, উহার [পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ)] কর্তৃক আহূত হইবে এবং চেয়ারম্যান কর্তৃক নির্ধারিত স্থান ও সময়ে অনুষ্ঠিত হইবে৷
(৩) কমিশনের সভায় সভাপতিত্ব করিবেন উহার চেয়ারম্যান, এবং তাহার অনুপস্থিতিতে, চেয়ারম্যান কর্তৃক মনোনীত কমিশনের কোন সদস্য৷
(৪) শুধুমাত্র কোন সদস্য পদে শূন্যতা বা কমিশন গঠনে ত্রুটি থাকার কারণে কমিশনের কোন কার্য বা কার্যধারা অবৈধ হইবে না এবং তত্সম্পর্কে কোন প্রশ্নও উত্থাপন করা যাইবে না৷
১১৷ (১) কমিশনের একজন [পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ)] থাকিবেন৷
(২) [পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ)] সরকার কর্তৃক নিযুক্ত হইবেন এবং তাহার চাকুরীর শর্তাদি সরকার কর্তৃক স্থিরকৃত হইবে৷
(৩) [পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ)]-
১২৷ (১) কমিশন উহার কাজ সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার প্রয়োজনে অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিযুক্ত করিতে পারিবে এবং তাহাদের চাকুরীর শর্তাবলী বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে:
তবে শর্ত থাকে যে, সরকারের পূর্বানুমোদন ব্যতিরেকে কমিশন কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারীর পদ সৃষ্টি করিতে পারিবে না৷
[(২) গবেষণা বা সমীক্ষা কাজে সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে কমিশন, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক পরামর্শক ও গবেষণা সহায়তাকারী নিয়োগ করিতে পারিবে।]
১৩৷ কমিশন উহার দায়িত্ব পালনে উহাকে সহায়তাদানের জন্য এক বা একাধিক কমিটি নিয়োগ করিতে পারিবে৷
১৪৷ (১) কমিশনের একটি তহবিল থাকিবে এবং উহাতে সরকারের অনুদান, অন্য কোন উত্স হইতে প্রাপ্ত দান ও অনুদান এবং কমিশন কর্তৃক প্রাপ্ত ফি এবং অন্য যে কোন অর্থ জমা হইবে৷
(২) এই তহবিল কমিশনের নামে তত্কর্তৃক অনুমোদিত কোন তফসিলি ব্যাংকে জমা রাখা হইবে এবং বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে তহবিল হইতে অর্থ উঠানো যাইবে৷
(৩) এই তহবিল হইতে কমিশনের প্রয়োজনীয় ব্যয় নির্বাহ করা হইবে৷
১৫৷ কমিশন প্রতি বত্সর সরকার কর্তৃৃক নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পরবর্তী অর্থ বত্সরের বার্ষিক বাজেট বিবরণী সরকারের নিকট পেশ করিবে এবং উহাতে উক্ত অর্থ বত্সরে সরকারের নিকট হইতে কমিশনের কি পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন উহার উল্লেখ থাকিবে৷
১৬৷ (১) কমিশন যথাযথভাবে উহার হিসাব রক্ষণ করিবে এবং হিসাবের বার্ষিক বিবরণী প্রস্তুত করিবে৷
(২) বাংলাদেশের মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, অতঃপর মহাহিসাব নিরীক্ষক নামে অভিহিত প্রতি বত্সর কমিশনের হিসাব নিরীক্ষা করিবেন এবং নিরীক্ষা রিপোর্টের একটি করিয়া অনুলিপি সরকার ও কমিশনের নিকট পেশ করিবেন৷
(৩) উপ-ধারা (২) মোতাবেক নিরীক্ষার উদ্দেশ্যে মহাহিসাব নিরীক্ষক কিংবা তাহার নিকট হইতে এতদুদ্দেশ্যে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন ব্যক্তি কমিশনের সকল রেকর্ড, দলিল-দস্তাবেজ, নগদ বা ব্যাংকে গচ্ছিত অর্থ, জামানত, ভান্ডার এবং অন্যবিধ সম্পত্তি পরীক্ষা করিয়া দেখিতে পারিবেন এবং কমিশনের কোন সদস্য, কর্মকর্তা বা কর্মচারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করিতে পারিবেন৷
১৭৷ এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, সরকার কমিশনকে যে কোন নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবে এবং কমিশন উহা পালন করিতে বাধ্য থাকিবে৷
১৮৷ (১) প্রতি বত্সর ৩০শে জুনের মধ্যে কমিশন তত্কর্তৃক পূর্ববর্তী বত্সরে সম্পাদিত কার্যাবলীর খতিয়ান সম্বলিত একটি প্রতিবেদন সরকারের নিকট পেশ করিবে৷
(২) সরকার প্রয়োজনমত কমিশনের নিকট হইতে উহার যে কোন বিষয়ের উপর প্রতিবেদন এবং বিবরণী আহ্বান করিতে পারিবে এবং কমিশন উহা সরকারের নিকট সরবরাহ করিতে বাধ্য থাকিবে৷
১৯৷ এই আইন বা কোন বিধি বা প্রবিধানের অধীন সরল বিশ্বাসে কৃত কোন কাজের ফলে কোন ব্যক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হইলে বা হওয়ার সম্ভাবনা থাকিলে তজ্জন্য কমিশনের চেয়ারম্যান, সদস্য বা কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে কোন দেওয়ানী বা ফৌজদারী মামলা বা অন্য কোন আইনগত কার্যধারা দায়ের করা যাইবে না৷
২০৷ কমিশনের চেয়ারম্যান, সদস্য, কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ Penal Code (Act XLV of 1860) এর section 21 এ “public servant” (জনসেবক) কথাটি যে অর্থে ব্যবহৃত হইয়াছে সেই অর্থে “Public servant” (জনসেবক) বলিয়া গণ্য হইবেন৷
২১৷ কমিশন উহার যে কোন ক্ষমতা বা দায়িত্ব সুনির্দিষ্ট শর্তে উহার চেয়ারম্যান, কোন সদস্য বা কোন কর্মকর্তাকে অর্পণ করিতে পারিবে৷
২২৷ এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে সরকার, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে৷
২৩৷ এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে কমিশন, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে এবং সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইন বা কোন বিধির সহিত অসামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এইরূপ প্রবিধান প্রণয়ন করিতে পারিবে৷
২৪৷ (১) বাংলাদেশ ট্রেড এন্ড ট্যারিফ কমিশন প্রতিষ্ঠার সংগে সংগে বাণিজ্য মন্ত্রনালয়ের ২৮শে জুলাই, ১৯৭৩ সনের রিজিলিউশন নং এডমিন-১ই-২০/৭৩/৬৩৬, অতঃপর উক্ত রিজিলিউশন বলিয়া উল্লিখিত, বাতিল হইয়া যাইবে৷
(২) উক্ত রিজিলিউশন বাতিল হইবার সংগে সংগে-