কোষ্ট গার্ড বাহিনী গঠনকল্পে বিধান প্রণয়নের জন্য প্রণীত আইন৷ যেহেতু বাংলাদেশের সামুদ্রিক এলাকা এবং কতিপয় অন্যান্য জলসীমা এবং উপকূলীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং ঐ সকল এলাকায় জাতীয় স্বার্থ সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে বিধান করা সমীচীন ও প্রয়োজন; সেহেতু এতদ্বারা নিম্নরূপ আইন করা হইল :-
১৷ এই আইন কোষ্ট গার্ড আইন, ১৯৯৪ নামে অভিহিত হইবে৷
২৷ বিষয় বা প্রসংগের পরিপন্থী কোন কিছু না থাকিলে, এই আইনে-
৩৷ আপাততঃ বলবত্ অন্য কোন আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইন, বিধি ও প্রবিধানের বিধানাবলী কার্যকর থাকিবে৷
৪৷ (১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে কোষ্ট গার্ড অধিদপ্তর নামে একটি অধিদপ্তর থাকিবে৷
(২) অধিদপ্তরের একজন মহা-পরিচালক থাকিবে; তিনি সরকার কর্তৃক নিযুক্ত হইবেন এবং তাহার চাকুরীর শর্তাবলী সরকার কর্তৃক স্থিরীকৃত হইবে৷
(৩) এই আইনের অধীন মহা-পরিচালকের ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালনের ব্যাপারে তাহাকে সহায়তা করার জন্য-
(৪) উপ-ধারা (৩) এ উল্লিখিত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের চাকুরীর শর্তাবলী সরকার কর্তৃক স্থিরীকৃত হইবে৷
৫৷ (১) এই আইনের বিধান অনুযায়ী কোষ্ট গার্ড নামে একটি বাহিনী গঠন করা হইবে৷
(২) বাহিনীর বিভিন্ন পদের শ্রেণীবিন্যাস এবং উক্ত পদসমূহের সংখ্যা সরকার কর্তৃক সময় সময় নির্ধারিত হইবে৷
(৩) উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত পদসমূহে বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে নিয়োগ দান করা হইবে:
তবে শর্ত থাকে যে, উক্তরূপ বিধি প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত, উক্ত পদসমূহে প্রতিরক্ষা কর্ম বিভাগ বা সংবিধানের ১৫২ অনুচ্ছেদে সংজ্ঞায়িত অন্য কোন শৃংখলা বাহিনীর সদস্যগণকে প্রেষণে নিয়োগ করা যাইবে৷
৬৷ বাহিনী সরকারের সার্বিক তত্ত্বাবধানে থাকিবে, এবং এই আইন, বিধি, প্রবিধান এবং উহাদের সহিত সংগতিপূর্ণ হওয়া সাপেক্ষে, সরকার কর্তৃক সময় সময় প্রদত্ত আদেশ ও নির্দেশ অনুসারে মহা-পরিচালক বাহিনী পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ করিবেন৷
৭৷ (১) উপ-ধারা (২) এর বিধান সাপেক্ষে, বাহিনীর কার্যাবলী হইবে নিম্নরূপ, যথা:-
(২) বাহিনী উহার এখতিয়ারভুক্ত এলাকায় উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত কার্যকলাপ সম্পাদন করিবে৷
৮৷ ধারা ৭ এ উল্লিখিত কার্যাবলী সম্পাদন এবং বাহিনীর পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণকল্পে মহা-পরিচালক বাহিনীর সদস্যগণের দায়িত্ব সুনির্দিষ্টভাবে নির্ধারণ করিতে পারিবেন৷
৯৷ (১) বাহিনীর প্রত্যেক সদস্য মহা-পরিচালক এবং উক্ত সদস্যের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের যে কোন আইনানুগ আদেশ পালন করিতে বাধ্য থাকিবেন৷
(২) বাহিনীর সদস্যগণের শৃংখলা সংক্রান্ত সকল বিষয় বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে:
তবে শর্ত থাকে যে, উক্তরূপ বিধি প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত বাহিনী-সদস্যগণের শৃংখলাজনিত বিষয়ে Bangladesh Rifles Order, 1972(P. O. No. 148 of 1972) এর বিধানাবলী, যতদূর সম্ভব প্রযোজ্য হইবে:
আরও শর্ত থাকে যে, বাহিনীতে ধারা ৫ এর অধীনে কোন শৃংখলা বাহিনী হইতে কোন ব্যক্তি প্রেষণে নিযুক্ত হইলে, তাহার ক্ষেত্রে উক্ত শৃংখলা বাহিনী গঠনকারী আইনের বিধানাবলী প্রযোজ্য হইবে৷
১০৷ (১) সরকার, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, নির্দেশ দিতে পারিবে যে, উক্ত প্রজ্ঞাপনে বিনির্দিষ্ট শর্ত ও সীমা সাপেক্ষে, বাহিনীর এখতিয়ারভুক্ত এলাকায় উহার কোন নির্দিষ্ট সদস্য বা কোন নির্দিষ্ট শ্রেণীর সকল সদস্য-
এর ব্যাপারে ঐ সকল আইনে উল্লিখিত কোন কর্তৃপক্ষের বা পুলিশ বাহিনীর কোন নির্দিষ্ট স্তরের সদস্য কর্তৃক প্রয়োগযোগ্য কোন নির্দিষ্ট বা সকল ক্ষমতা প্রয়োগ করিতে পারিবেন৷
১১৷ বাহিনীর কোন সদস্য কোন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার বা কোন মালামাল বা অন্য কোন কিছু আটক করিলে, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিকে বা আটককৃত মালামাল বা অন্য কোন কিছু-
১২৷ মহা-পরিচালক এই আইন, বিধি বা প্রবিধানের অধীন তাহার কোন ক্ষমতা বা দায়িত্ব, লিখিত আদেশ দ্বারা, অধিদপ্তরের যে কোন কর্মকর্তা বা বাহিনীর কোন সদস্যকে অর্পণ করিতে পারিবেন৷
১৩৷ এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে সরকার, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে৷
১৪৷ এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে মহা-পরিচালক, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে এবং সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইন বা বিধির সহিত অসংগতিপূর্ণ নহে এইরূপ প্রবিধান করিতে পারিবেন৷
১৫৷ এই আইন, তদধীন প্রণীত বিধি বা প্রবিধান বা প্রদত্ত কোন আদেশ বা নির্দেশের অধীনে সরল বিশ্বাসে কৃত কোন কাজকর্মের ফলে কোন ব্যক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হইলে বা হওয়ার সম্ভাবনা থাকিলে সরকার, মহা-পরিচালক বা অধিদপ্তরের কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারী বা কোন সদস্য বা তাহাদের আদেশ বা নির্দেশ পালনকারী ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোন ধরনের মামলা বা অন্যবিধ আইনগত কার্যধারা কোন আদালতে গ্রহণ করা হইবে না৷