জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র স্থাপনকল্পে প্রণীত আইন৷ যেহেতু জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র নামে একটি গ্রন্থকেন্দ্র স্থাপন করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়; সেহেতু এতদ্দ্বারা নিম্নরূপ আইন করা হইল:-
১৷ (১) এই আইন জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র আইন, ১৯৯৫ নামে অভিহিত হইবে৷
(২) সরকার, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, যে তারিখ নির্ধারণ করিবে সেই তারিখে এই আইন বলবত্ হইবে৷
২৷ বিষয় বা প্রসংগের পরিপন্থী কোন কিছু না থাকিলে, এই আইনে,-
৩৷ (১) এই আইন বলবত্ হইবার পর, যতশীঘ্র সম্ভব, সরকার, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইনের বিধান অনুযায়ী ‘জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র' না েএকটি গ্রন্থকেন্দ্র স্থাপন করিবে৷
(২) গ্রন্থকেন্দ্র একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা হইবে এবং ইহার স্থায়ী ধারাবাহিকতা ও একটি সাধারণ সীলমোহর থাকিবে এবং, এই আইন ও বিধি সাপেক্ষে, ইহার স্থাবর ও অস্থাবর উভয় প্রকার সম্পত্তি অর্জন করার, অধিকারে রাখার এবং হস্তান্তর করার ক্ষমতা থাকিবে এবং ইহা মামলা দায়ের করিতে পারিবে এবং ইহার বিরুদ্ধেও মামলা দায়ের করা যাইবে৷
৪৷ গ্রন্থকেন্দ্রের প্রধান কার্যালয় ঢাকায় থাকিবে এবং ইহা প্রয়োজনবোধে, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে যে কোন স্থানে শাখা কার্যালয় স্থাপন করিতে পারিবে৷
৫৷ গ্রন্থকেন্দ্রের পরিচালনা ও প্রশাসন একটি পরিচালনা বোর্ডের উপর ন্যস্ত থাকিবে এবং গ্রন্থকেন্দ্র যে সকল ক্ষমতা প্রয়োগ এবং কার্য সম্পাদন করিতে পারিবে পরিচালনা বোর্ডও সেই সকল ক্ষমতা প্রয়োগ ও কার্য সম্পাদন করিতে পারিবে৷
৬৷ (১) পরিচালনা বোর্ড নিম্্নরূপ সদস্য সমন্বয়ে গঠিত হইবে, যথা:-
(২) উপ-ধারা (১) (ঝ) ও (ঞ)-এর অধীন মনোনীত সদস্যগণ তাহাদের মনোনয়নের তারিখ হইতে দুই বত্সরের মেয়াদে স্বীয় পদে বহাল থাকিবেন:
তবে শর্ত থাকে যে, সরকার উক্ত মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্বেই কোন কারণ না দর্শাইয়া উক্তরূপ কোন সদস্যকে তাহার পদ হইতে অপসারণ করিতে পারিবে:
তবে আরও শর্ত থাকে যে, উক্তরূপ কোন সদস্য সরকারের উদ্দেশ্যে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে স্বীয় পদ ত্যাগ করিতে পারিবেন৷
৭৷ কেন্দ্রের দায়িত্ব ও কার্যাবলী হইবে নিম্্নরূপ, যথা:-
৮৷ (১) এই ধারার অন্যান্য বিধানাবলী সাপেক্ষে বোর্ড উহার সভার কার্যপদ্ধতি নির্ধারণ করিতে পারিবে৷
(২) বোর্ডের সভা চেয়ারম্যান কর্তৃক নির্ধারিত স্থান ও সময়ে অনুষ্ঠিত হইবে:
তবে শর্ত থাকে যে, প্রতি তিন মাসে বোর্ডের কমপক্ষে একটি সভা অনুষ্ঠিত হইবে৷
(৩) বোর্ডের সকল সভায় চেয়ারম্যান সভাপতিত্ব করিবেন এবং তাহার অনুপস্থিতিতে তত্কর্তৃক লিখিতভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত অন্য কোন সদস্য এবং উভয়ের অনুপস্থিতিতে সভায় উপস্থিত সদস্যগণের দ্বারা নির্বাচিত কোন সদস্য সভায় সভাপতিত্ব করিবেন৷
(৪) বোর্ডের সভার কোরামের জন্য উহার মোট সদস্য সংখ্যার অন্যুন এক-তৃতীয়াংশ সদস্যের উপস্থিতির প্রয়োজন হইবে, তবে মুলতবী সভার ক্ষেত্রে কোন কোরামের প্রয়োজন হইবে না৷
(৫) বোর্ডের প্রত্যেক সদস্যের একটি করিয়া ভোট থাকিবে এবং ভোটের সমতার ক্ষেত্রে সভায় সভাপতিত্বকারী সদস্যের দ্বিতীয় বা নির্ণায়ক ভোট প্রদানের ক্ষমতা থাকিবে৷
(৬) শুধুমাত্র কোন সদস্যপদে শূন্যতা বা বোর্ড গঠনের ত্রুটি থাকার কারণে বোর্ডের কোন কার্য বা কার্যধারা অবৈধ হইবে না এবং তত্সম্পর্কে কোন প্রশ্নও উত্থাপন করা যাইবে না৷
৯৷ (১) কেন্দ্রের একটি তহবিল থাকিবে এবং উহাতে নিম্্নবর্ণিত অর্থ জমা হইবে, যথা:-
(২) এই তহবিল, কেন্দ্রের নামে, কোন তফসিলী ব্যাংকে জমা রাখা হইবে এবং বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত পদ্ধতিতে এই তহবিল হইতে অর্থ উঠানো যাইবে৷
(৩) এই তহবিল হইতে কেন্দ্রের প্রয়োজনীয় ব্যয় নির্বাহ করা হইবে৷
(৪) কেন্দ্রের এই তহবিল সরকার কর্তৃক অনুমোদিত কোন খাতে বিনিয়োগ করা যাইবে৷
১০৷ (১) কেন্দ্রের একজন পরিচালক থাকিবেন৷
(২) পরিচালক সরকার কর্তৃক নিযুক্ত হইবেন এবং তাহার চাকুরির শর্তাদি সরকার কর্তৃক স্থিরীকৃত হইবে৷
(৩) পরিচালকের পদ শূন্য হইলে কিংবা অনুপস্থিতি, অসুস্থতা বা অন্য কোন কারণে তিনি তাহার দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হইলে, শূন্য পদে নবনিযুক্ত পরিচালক কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত কিংবা পরিচালক পুনরায় স্বীয় দায়িত্ব পালনে সমর্থ না হওয়া পর্যন্ত সরকার কর্তৃক মনোনীত কোন ব্যক্তি পরিচালকরূপে দায়িত্ব পালন করিবেন৷
(৪) পরিচালক কেন্দ্রের সার্বক্ষণিক মূখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা হইবেন এবং তিনি -
১১৷ কেন্দ্র উহার দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে পালনের জন্য প্রয়োজনীয় কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ করিতে পারিবে এবং তাহাদের চাকুরির শর্তাবলী প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত হইবে৷
১২৷ কেন্দ্র প্রতি বত্সর সরকার কর্তৃক নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে, পরবর্তী অর্থ বত্সরের বার্ষিক বাজেট বিবরণী সরকারের নিকট পেশ করিবে এবং উহাতে উক্ত অর্থ-বত্সরে সরকারের নিকট হইতে কেন্দ্রের কি পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন, উহার উল্লেখ থাকিবে৷
১৩৷ (১) কেন্দ্র যথাযথভাবে উহার হিসাব রক্ষণ করিবে এবং হিসাবের বার্ষিক বিবরণী প্রস্তুত করিবে৷
(২) বাংলাদেশের মহা-হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, অতঃপর মহা-হিসাব নিরীক্ষক নামে অভিহিত, প্রতি বত্সর কেন্দ্রের হিসাব নিরীক্ষা করিবেন এবং নিরীক্ষা রিপোর্ট- এর একটি করিয়া অনুলিপি সরকার ও কেন্দ্রের নিকট প্রেরণ করিবেন৷
(৩) উপ-ধারা (২) মোতাবেক হিসাব নিরীক্ষার উদ্দেশ্যে মহা-হিসাব নিরীক্ষক কিংবা তাঁহার নিকট হইতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন ব্যক্তি কেন্দ্রের সকল রেকর্ড, দলিল দস্তাবেজ, নগদ বা ব্যাংকে গচ্ছিত অর্থ, জামানত, ভাণ্ডার এবং অন্যবিধ সম্পত্তি পরীক্ষা করিয়া দেখিতে পারিবেন এবং কেন্দ্রের যে কোন সদস্য, কর্মকর্তা বা কর্মচারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করিতে পারিবেন৷
১৪৷ (১) প্রতি আর্থিক বত্সর শেষ হইবার সংগে সংগে কেন্দ্র উক্ত বত্সরে সম্পাদিত কার্যাবলীর খতিয়ান সম্বলিত বার্ষিক প্রতিবেদন সরকারের নিকট পেশ করিবে৷
(২) সরকার প্রয়োজনমত কেন্দ্রের নিকট হইতে যে কোন সময় উহার বিষয়ের উপর প্রতিবেদন বা বিবরণী আহ্বান করিতে পারিবে এবং কেন্দ্র উহা সরকারের নিকট প্রেরণ করিতে বাধ্য থাকিবে৷
১৫৷ এই আইন কোন বিধি বা প্রবিধানের অধীন সরল বিশ্বাসে কৃত কোন কাজের ফলে কোন ব্যক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হইলে বা তাহার ক্ষতিগ্রস্ত হইবার সম্ভাবনা থাকিলে তজ্জন্য বোর্ড, চেয়ারম্যান, সদস্য, পরিচালক বা কেন্দ্রের অন্য কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে কোন দেওয়ানী বা ফৌজদারী মামলা বা অন্য কোন প্রকার আইনগত কার্যক্রম গ্রহণ করা যাইবে না৷
১৬৷ বোর্ড উহার যে কোন ক্ষমতা বা দায়িত্ব, সুনির্দিষ্ট শর্তে, চেয়ারম্যান বা অন্য কোন সদস্য বা পরিচালক বা কেন্দ্রের অন্য কোন কর্মকর্তাকে অর্পণ করিতে পারিবে৷
১৭৷ এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে সরকার, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে৷
১৮৷ এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে কেন্দ্র সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে এবং সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা এই আইন বা কোন বিধির সহিত অসমঞ্জস না হয় এইরূপ প্রবিধান প্রণয়ন করিতে পারিবে৷
১৯৷ (১) কেন্দ্র স্থাপনের সঙ্গে সঙ্গে ২৯শে জুলাই, ১৯৬০ সনের বিদ্যমান রেজ্যুলেশন No. F. 7-40/58-Unesco I, অতঃপর উক্ত রেজ্যুলেশন বলিয়া উল্লিখিত, বাতিল হইয়া যাইবে৷
(২) উক্ত রেজ্যুলেশন বাতিল হইবার সঙ্গে সঙ্গে-