দেউলিয়া বিষয়ক আইন, ১৯৯৭
দেউলিয়াত্ব বিষয়ক বিধান প্রণয়নকল্পে প্রণীত আইন৷
দেউলিয়াত্ব বিষয়ক বিধান প্রণয়নকল্পে প্রণীত আইন৷ যেহেতু দেউলিয়াত্ব বিষয়ক বিধান প্রণয়ন করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়; সেইহেতু নিম্নরূপ আইন করা হইল :-
সংক্ষিপ্ত শিরোনামা ও প্রবর্তন
১৷ (১) এই আইন দেউলিয়া বিষয়ক আইন, ১৯৯৭ নামে অভিহিত হইবে৷
(২) সরকার, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, ৩১শে ডিসেম্বর, ১৯৯৭ এর মধ্যে যে তারিখ নির্ধারণ করিবে সেই তারিখে ইহা বলবত্ হইবে৷
সংজ্ঞা
২৷ বিষয় বা প্রসংগের পরিপন্থী কোন কিছু না থাকিলে, এই আইনে,-
(১) “অব্যাহতিপ্রাপ্ত সম্পত্তি” অর্থ কোন একক দেনাদারের এমন সম্পত্তি যাহা ধারা ৩২ এর বিধান মোতাবেক অব্যাহতিপ্রাপ্ত;
(২) “আর্জি” অর্থ দেউলিয়া ঘোষণাদেশ প্রাপ্তির উদ্দেশ্যে ধারা ১০ এর অধীনে দাখিলকৃত কোন আবেদনপত্র, এবং “আর্জিকারী” অর্থ যে ব্যক্তি আর্জি দাখিল করেন;
(৩) “আদালত” অর্থ ধারা ৪(৩) এ সংজ্ঞায়িত দেউলিয়া বিষয়ক আদালত;
(৪) “আনুষ্ঠানিক দাবীনামা” অর্থ ধারা ৯ এর উপ-ধারা (১)(ঝ) এর উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, একই ধারার উপ-ধারা (২) এর বিধান মোতাবেক নির্ধারিত ফরমে ও নির্ধারিত পদ্ধতিতে জারীকৃত কোন দাবীনামা;
(৫) “আপীল” অর্থ ধারা ৯৬ এর অধীনে দায়েরকৃত আপীল;
(৬) “আপীল আদালত” অর্থ বাংলাদেশের সুপ্রীম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ;
(৭) “আপোষ মীমাংসা” অর্থ ধারা ৪৩ এর অধীনে প্রস্তাবিত বা অনুমোদিত কোন আপোষ মীমাংসা;
(৮) “একক ব্যক্তি” অর্থ প্রাকৃতিক সত্তা বিশিষ্ট কোন ব্যক্তি এবং “একক দেনাদার” অর্থ এমন একজন দেনাদার যিনি একক ব্যক্তি;
(৯) “ক্রোক” অর্থ ধারা ১০১ এ বর্ণিত পদ্ধতিতে এই আইনের কোন বিধান অনুসরণ বাস্তবায়িত বা বাস্তবায়নযোগ্য কোন ক্রোক;
(১০) “ঘোষণাদেশ” বা “দেউলিয়া ঘোষণাদেশ” অর্থ ধারা ১০ এর অধীনে কোন ব্যক্তিকে দেউলিয়া ঘোষণা করিয়া প্রদত্ত কোন আদেশ;
(১১) “জেলা আদালত” অর্থ কোন জেলার উপর আদি এখ্তিয়ারসম্পন্ন প্রধান দেওয়ানী আদালত;
(১২) “তফসিল” অর্থ ধারা ৩৮(১) এর অধীনে প্রণীত তফসিল;
(১৩) “দণ্ডবিধি” অর্থ Penal Code, 1860 (Act XLV of 1860);
(১৪) “দাবী” অর্থ যে কোন প্রকারের বা প্রকৃতির দাবী যাহা অর্থ দ্বারা পরিমাণযোগ্য;
(১৫) “দায়গ্রস্ত দেউলিয়া” অর্থ কোন একক দেউলিয়া যাহার ব্যাপারে এই আইনের পঞ্চম অধ্যায়ের বিধান মোতাবেক দায়মুক্তির আদেশ প্রদান করা হয় নাই;
(১৬) “দায়মুক্তি” অর্থ এমন একটি অবস্থা যখন কোন একক দেউলিয়ার ব্যাপারে এই আইনের পঞ্চম অধ্যায়ের বিধান মোতাবেক প্রদত্ত দায়মুক্তি আদেশের ফলে তিনি ৩৯ ধারার অধীনে তাহার বিরুদ্ধে প্রমাণযোগ্য দেনার দায়-দায়িত্ব হইতে অব্যাহতি লাভ করেন;
(১৭) “দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা” অর্থ ধারা ২৪ (১)(ক) এর অধীনে মনোনীত দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা;
(১৮) “দেউলিয়া” অর্থ ধারা ১০ বা ধারা ৪৫ বা ধারা ৪৬(১৩) এর অধীনে দেউলিয়া হিসাবে ঘোষিত কোন দেনাদার;
(১৯) “দেউলিয়া কর্ম” অর্থ ধারা ৯ এ উল্লিখিত কোন দেউলিয়া কর্ম;
(২০) “দেওয়ানী কার্যবিধি” অর্থ Code of Civil Procedure, 1908 (Act V of 1908);
(২১) “ধারা” অর্থ এই আইনের কোন ধারা বা দেওয়ানী-কার্যবিধি বা ফৌজদারী-কার্যবিধি এর কোন section;
(২২) “নির্ধারিত” অর্থ এই আইনের অধীনে প্রণীত বিধি দ্বারা নির্ধারিত;
(২৩) “ডিক্রী” অর্থ দেওয়ানী কার্যবিধির ২(২) ধারায় সংজ্ঞায়িত decree;
(২৪) “পাওনাদার কমিটি” অর্থ ধারা ৩৬(১) বা ধারা ৪৬ (১১) (ছ) এর অধীনে গঠিত কোন পাওনাদার কমিটি;
(২৫) “পুনর্গঠন” অর্থ ধারা ৪৬ এর অধীনে যথাযোগ্য দেনাদারের দেনার ব্যাপারে প্রস্তাবিত বা অনুমোদিত পুনর্গঠন;
(২৬) “পুনর্বিন্যাস” অর্থ কোন দেনাদারের বিষয়াদির ব্যাপারে ধারা ৪৩ এর অধীনে প্রস্তাবিত বা অনুমোদিত পুনর্বিন্যাস;
(২৭) “পুনরীক্ষণ” অর্থ ধারা ৯৯ এর অধীন পুনরীক্ষণ;
(২৮) “প্রতিনিধি” অর্থে কর্মচারী অন্তর্ভুক্ত হইবে;
(২৯) “প্রমাণযোগ্য দেনা” অর্থ ধারা ৩৯ এর অধীনে দেনাদারের বিরুদ্ধে প্রমাণযোগ্য কোন দেনা;
(৩০) “প্রশাসনিক ব্যয়” অর্থ এই আইনের বিধান অনুসারে রিসিভারের প্রাপ্য ফিস ও বন্টনযোগ্য সম্পদের ব্যবস্থাপনা, পরিচালনা, বিক্রয় বা বিলি-বন্টন বাবদ ব্যয়সহ দেউলিয়া ঘোষণাদেশ প্রদানের পরে উক্ত সম্পদের বিরুদ্ধে উদ্ভূত কোন দাবী পরিশোধের ব্যয়;
(৩১) “ফৌজদারী কার্যবিধি” অর্থ Code of Criminal Procedure, 1898 (Act V of 1898);
(৩২) “বণ্টনযোগ্য অংশ” বা “বণ্টিত অংশ” অর্থ বণ্টনযোগ্য সম্পদ হইতে পাওনাদারগণের নিকট বণ্টনের উদ্দেশ্যে ধারা ৭৬ হইতে ৭৯ এর বিধান মোতাবেক নির্ধারিত অংশ;
(৩৩) “বণ্টনযোগ্য সম্পদ” অর্থ ধারা ৩১(২) এ উল্লিখিত বণ্টনযোগ্য সম্পদ এবং এই আইনের অন্যান্য বিধান অনুসারে বণ্টনযোগ্য সম্পদের অংশরূপে অন্তর্ভুক্ত হয় এইরূপ কোন বিষয় সম্পত্তি;
(৩৪) “বিধি” অর্থ এই আইনের অধীনে প্রণীত বিধি;
(৩৫) “বিশেষ ব্যবস্থাপক” অর্থ ধারা ৪৬ এর উপ-ধারা (৮) বা (৯) এ উল্লিখিত বিশেষ ব্যবস্থাপক;
(৩৬) “ব্যক্তি” অর্থ কোম্পানী, সংবিধিবদ্ধ বা অন্যবিধি সংস্থা, সমিতি ও অংশীদারী কারবার (partnership firm) অন্তর্ভুক্ত হইবে;
(৩৭) “ব্যাংক ঋণ” অর্থ ব্যাংক কোম্পানী আইন, ১৯৯১ (১৯৯১ সনের ১৪ নং আইন) এর অধীন কোন ব্যাংক কোম্পানী বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইন, ১৯৯৩ (১৯৯৩ সনের ২৭ নং আইন) এর ধারা ২(ঞ) তে সংজ্ঞায়িত কোন আর্থিক প্রতিষ্ঠান কর্তৃক প্রদত্ত ঋণ বা আর্থিক সুবিধা, যাহা দাবী হিসাবে গণ্য হইতে পারে;
(৩৮) “যথাযোগ্য দেনাদার” অর্থ এমন একজন দেনাদার যিনি একক ব্যক্তি নহেন;
(৩৯) “যথাযোগ্য পাওনাদার” অর্থ এমন পাওনাদার, যিনি একক বা যাহারা যৌথভাবে অন্তত: ৫,০০,০০০.০০ টাকার মেয়াদোত্তীর্ণ দেনার দাবীতে দেনাদারের নিকট ৯(১) ধারার (ঝ) দফা অনুসারে আনুষ্ঠানিক দাবীনামা প্রেরণ করিয়াছেন;
(৪০) “রিসিভার” অর্থ ধারা ৬৪ এর অধীনে নিযুক্ত অন্তর্বর্তী রিসিভার এবং ২৩(১) ধারা বা ৪৬(৩) ধারার অধীনে নিযুক্ত অন্তর্বর্তী রিসিভার এবং ৭৪ ধারার অধীনে নিযুক্ত সরকারী রিসিভারও অন্তর্ভুক্ত হইবেন৷
(৪১) “দেনাদারের সম্পত্তি” অর্থ দেনাদারের নিজ নামে এবং বেনামীতে তাহার স্ত্রী, পুত্র, কন্যা ও অন্য কোন ব্যক্তির নামে রক্ষিত সম্পত্তি৷
অন্যান্য আইনের প্রয়োগ
৩৷ এই আইনে ভিন্নরূপ বিধান না থাকিলে, ইহার বিধানাবলী আপাততঃ বলবত্ অন্য কোন আইনের ক্ষুণ্নকারী হইবে না, বরং অতিরিক্ত হইবে৷
দেউলিয়া বিষয়ক আদালত
৪৷ (১) এই আইনের অন্যান্য বিধান সাপেক্ষে, জেলা আদালত হইতে এই আইনের অধীন এখ্তিয়ারসম্পন্ন আদালত এবং উক্ত আদালতের এখ্তিয়ারাধীন এলাকায় এই আইনের অধীন উদ্ভূত কার্যধারাসমূহের বিচার ও নিষ্পত্তিকারী বিচারক হইবেন জেলাজজ৷
(২) জেলাজজ তাঁহার জজশীপে কর্মরত যেকোন অতিরিক্ত জেলাজজকে এই আইনের অধীন কার্যধারার বিচার ও নিষ্পত্তি করিবার ক্ষমতা প্রদান করিতে পারেন৷
(৩) উপ-ধারা (১) এবং (২) এ উল্লিখিত জজের আদালত, এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে দেউলিয়া বিষয়ক আদালত বলিয়া অভিহিত হইবে৷
দেউলিয়া বিষয়ক সকল প্রশ্নে সিদ্ধান্ত গ্রহণে আদালতের ক্ষমতা
৫৷ (১) এই আইনের বিধানাবলী সাপেক্ষে, দেউলিয়া বিষয়ক কোন কার্যধারায় উত্থাপিত যেকোন ধরনের প্রশ্ন, স্বত্ব বা অগ্রাধিকার সংক্রান্তই হউক অথবা আইনগত বা ঘটনাগত বা অন্য যে কোন ধরনের হউক না কেন, যাহা আদালতের গোচরীভূত হয় বা যাহা উক্ত মামলার পূর্ণাঙ্গ ন্যায় বিচার বা সংশ্লিষ্ট সম্পত্তির পূর্ণাঙ্গ বণ্টনের উদ্দেশ্যে নিষ্পত্তি করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয় বলিয়া আদালত মনে করে সেইরূপ সকল প্রশ্নে সিদ্ধান্ত গ্রহণের পূর্ণ ক্ষমতা আদালতের থাকিবে৷
(২) আপাততঃ বলবত্ অন্য কোন আইনে যাহা কিছু থাকুক না কেন, আদালতের প্রত্যেক সিদ্ধান্ত, এই আইনের বিধানাবলী সাপেক্ষে, একদিকে দেনাদার তথা তাহার বণ্টনযোগ্য সম্পদ (Estate) এবং অপরদিকে তাহার বিরুদ্ধে বা বণ্টনযোগ্য সম্পদের উপর দাবী উত্থাপনকারী সকল ব্যক্তি বা এইরূপ ব্যক্তিগণের এক বা একাধিকের মাধ্যমে বা অধীনে দাবী উত্থাপনকারী সকল ব্যক্তির মধ্যে সকল বিষয়ে চূড়ান্ত হইবে এবং তদনুসারে তাহাদের সকলের উপর বাধ্যতামূলক হইবে৷
(৩) যেক্ষেত্রে আদালত মনে করে যে, উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত কোন প্রশ্নে সিদ্ধান্ত প্রদান করা সমীচীন বা প্রয়োজনীয় নহে কিন্তু কোন সম্পত্তিতে দেনাদারের বিক্রয়যোগ্য স্বার্থ রহিয়াছে বলিয়া বিশ্বাস করার কারণ আছে, সেইক্ষেত্রে, অধিকতর তদন্ত ব্যতিরেকে আদালত উক্ত স্বার্থ, উহার মতে উপযুক্ত পদ্ধতি ও শর্তাধীনে, বিক্রয় করিতে পারিবে৷
আদালতের সাধারণ ক্ষমতা
৬৷ আদালত উহার আদি দেওয়ানী এখ্তিয়ার প্রয়োগের ক্ষেত্রে যেইরূপ ক্ষমতা প্রয়োগ করিতে পারে, সেই একইরূপ ক্ষমতা এই আইনের অধীন যেকোন কার্যধারার ক্ষেত্রে, এই আইনের বিধানাবলী সাপেক্ষে, প্রয়োগ করিতে পারিবে৷
আদালতের বিশেষ ক্ষমতা
৭৷ (১) যেক্ষেত্রে আদালত প্রদত্ত কোন আদেশ বা নির্দেশ পালনে বা এই আইনের অধীনে অর্পিত ক্ষমতাবলে রিসিভার বা আদালতের অন্য কোন কর্মকর্তা কর্তৃক প্রদত্ত আদেশ বা নির্দেশ পালনে কোন দেনাদার বা অন্য কোন ব্যক্তি ব্যর্থ হন, সেইক্ষেত্রে আদালত, নিজ উদ্যোগে বা রিসিভার বা উক্ত অন্য কর্মকর্তার আবেদনক্রমে, উক্ত ব্যর্থ দেনাদার বা ব্যর্থ ব্যক্তিকে উক্ত আদেশ বা নির্দেশ পালনের আদেশ দিতে পারিবে, অথবা সংগত কারণ থাকিলে উক্ত ব্যর্থ দেনাদার বা ব্যর্থ ব্যক্তিকে আদালত নির্ধারিত মেয়াদের জন্য ও শর্তাধীনে দেওয়ানী কারাগারে সোপর্দ করিবার আদেশ দিতে পারিবে৷
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন ক্ষমতা প্রয়োগের কারণে উক্ত ব্যর্থতার ব্যাপারে কোন ব্যক্তির অন্য কোন অধিকার বা প্রতিকার ক্ষুণ্ন হইবেনা, বরং উক্ত ক্ষমতা উক্তরূপ অধিকার বা প্রতিকারের অতিরিক্ত গণ্য হইবেন৷
আদালত কর্তৃক অনুসরণীয় পদ্ধতি
৮৷ (১) এই আইনের দ্বারা বা অধীনে ভিন্নরূপ কোন স্পষ্ট বিধান করা না হইলে, দেওয়ানী কার্যবিধির ধারা ১১ এর বিধান ব্যতীত অন্য কোন বিধান আদালতের কোন কার্যধারার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে না৷
(২) এই আইনের অধীন সকল কার্যধারায় আদালত এই আইন এবং বিধিতে বর্ণিত পদ্ধতি অনুসরণ করিবে৷
দেউলিয়া কর্ম
৯৷ (১) কোন দেনাদারের নিম্্নবর্ণিত যেকোন একটি কাজই হইবে দেউলিয়া কর্ম, যথা :-
ব্যাখ্যা৷- যদি কোন ব্যক্তি তাহার দেনা পরিশোধে অক্ষম থাকা অবস্থায় যুক্তিসংগত মূল্য ব্যতিরেকে তাহার সম্পত্তি বা উহার কোন অংশ হস্তান্তর করেন, তাহা হইলে তিনি তাহার পাওনাদারগণের দাবী ব্যর্থ বা বিলম্বিত করিবার উদ্দেশ্যে উক্ত হস্তান্তর করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবেন;
(২) উপ-ধারা (১)(ঝ) তে উল্লিখিত দাবীনামা নির্ধারিত ফরমে ও নির্ধারিত পদ্ধতিতে জারি করিতে হইবে এবং উক্ত দাবী অগ্রাহ্যের ফলাফলও উহাতে উল্লেখ করিতে হইবে৷
(৩) এই ধারার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, কোন প্রতিনিধি (agent) এর কাজ তাহার নিয়োগকর্তার (principal) কাজ বলিয়া গণ্য হইবে৷
ঘোষণাদেশ প্রদানের ক্ষমতা
১০৷ দেনাদার কোন দেউলিয়া কর্ম করিলে, এক বা একাধিক যথাযোগ্য (eligible) পাওনদার বা উক্ত দেনাদার, এই আইনের বিধানাবলী সাপেক্ষে, আর্জি পেশ করিতে পারিবেন, এবং আদালত উক্ত আর্জির পরিপ্রেক্ষিতে উক্ত দেনাদারকে দেউলিয়া ঘোষণা করিয়া একটি আদেশ প্রদান করিতে পারিবে; এই আইনে এইরূপ আদেশ দেউলিয়া ঘোষণাদেশ বলিয়া অভিহিত৷
দেউলিয়া বিষয়ক কার্যধারার আওতাধীন ব্যক্তিগণ
১১৷ (১) উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত কোন ব্যক্তি ব্যতীত এমন যেকোন ব্যক্তি এই আইনের সূচিত দেউলিয়া বিষয়ক কার্যধারার আওতাধীন হইবেন, যিনি-
(২) নিম্ন বর্ণিত কোন ব্যক্তি বা সংস্থার বিরুদ্ধে আদালত কোন আর্জি গ্রহণ করিবেনা, যথা :-
পাওনাদার কর্তৃক আর্জি পেশ করার শর্তাবলী
১২৷ (১) দেনাদারের বিরুদ্ধে কোন পাওনাদার আর্জি পেশ করার অধিকারী হইবেন না, যদি তিনি একজন যথাযোগ্য পাওনাদার না হন, এবং যদি-
(২) উক্ত পাওনাদার যদি একজন জামানতকারী (secured) পাওনাদার হন, তাহা হইলে তিনি তাহার আর্জিতে উক্ত জামানতের একটি আনুমানিক মূল্য উল্লেখ করিবেন, অন্যথায় তিনি জামানতবিহীন পাওনাদার বিবেচিত হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবেন৷
দেনাদার কর্তৃক আর্জি পেশ করার শর্তাবলী
১৩৷ (১) একজন দেনাদার আর্জি পেশ করার অধিকারী হইবেন না, যদি তিনি আর্জিতে সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ না করেন যে, তিনি তাহার দেনা পরিশোধে অক্ষম এবং যদি না-
(২) কোন ব্যক্তি এই আইনের অধীনে দেউলিয়া ঘোষিত হওয়ার পর তিনি তাহার দায় মুক্তির (discharge) জন্য আবেদন করিতে বা উক্ত আবেদন দাখিলের পর তত্সম্পর্কে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করিতে ব্যর্থ হওয়ার কারণে আদালত সংশ্লিষ্ট ঘোষণাদেশ রদ করিলে, উক্ত ঘোষণাদেশ রদকারী আদালতের অনুমতি ব্যতিরেকে, উক্ত দেনাদার, দেউলিয়া ঘোষিত হইবার জন্য, কোন আর্জি পেশ করিতে পারিবেন না৷
(৩) আদালত উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত অনুমতি প্রদান করিবেন না, যদি না উহা এই মর্মে সন্তুষ্ট হয় যে,-
এখ্তিয়ারসম্পন্ন আদালতে আর্জি পেশ
১৪৷ ধারা ৪ এর বিধান সাপেক্ষে প্রতিটি আর্জি সেই আদালতে পেশ করিতে হইবে, যে আদালতের স্থানীয় অধিক্ষেত্র (local limits)-
আর্জি সত্যাখ্যান
১৫৷ এই আইনের অধীন প্রতিটি আর্জি লিখিত হইবে এবং উহা দেওয়ানী কার্যবিধিতে আর্জি (plaint) স্বাক্ষরকরণ এবং সত্যাখ্যান (verification) এর যে পদ্ধতি নির্ধারিত আছে সেই পদ্ধতিতে স্বাক্ষর ও সত্যাখ্যান করিতে হইবে৷
আর্জির বিষয়বস্তু
১৬৷ (১) দেনাদার কর্তৃক পেশকৃত প্রতিটি আর্জিতে নিম্্নবর্ণিত তথ্যাদি থাকিবে, যথা:-
তবে শর্ত থাকে যে, দেনাদারের ক্ষেত্রে তাহার অব্যাহতিপ্রাপ্ত (exempted) সম্পত্তি, যদি থাকে, এইরূপ অর্পণের আওতাভুক্ত হইবে না;
(২) পাওনাদার কর্তৃক পেশকৃত প্রত্যেকটি আর্জিতে তাহার সর্বোত্তম জ্ঞান মতে উপ-ধারা (১) (খ) তে উল্লিখিত দেনাদার সম্পর্কিত তথ্যাদি থাকিতে হইবে এবং তদসহ নিম্্নরূপ তথ্যাদিও উল্লেখ করিতে হইবে, যথা :-
আর্জি প্রত্যাহার
১৭৷ দেনাদার বা পাওনাদার যিনিই দাখিল করিয়া থাকেন, আদালতের অনুমতি ব্যতীত কোন আর্জি প্রত্যাহার করা যাইবে না৷
কার্যধারা একীভূতকরণ
১৮৷ যে ক্ষেত্রে একই দেনাদারের বিরুদ্ধে দুই বা ততোধিক আর্জি পেশ করা হয়, অথবা যৌথ দেনাদারের বিরুদ্ধে পৃথক পৃথক আর্জি পেশ করা হয়, সেক্ষেত্রে আদালত যথাযথ মনে করিলে উহার বিবেচনায় উপযুক্ত শর্তসাপেক্ষে উক্তরূপ আর্জি-ভিত্তিক সকল কার্যধারা বা উহাদের মধ্যে যে কোন সংখ্যক কার্যধারাকে একীভূত করিতে পারিবে৷
আর্জি পেশকারী পাওনাদার প্রতিস্থাপনের ক্ষমতা
১৯৷ কোন পাওনাদার যথাযথ যত্ন সহকারে তাহার পেশকৃত আর্জি সম্পর্কে পদক্ষেপ গ্রহণ না করিলে, আদালত তদস্থলে অন্য যে কোন যথাযোগ্য পাওনাদারকে প্রতিস্থাপন করিতে পারিবে৷
দেনাদারের মৃত্যুর পর কার্যধারা অব্যাহত রাখা
২০৷ যে দেনাদারের পক্ষে বা বিপক্ষে আর্জি পেশ করা হইয়াছে তাহার মৃত্যু হইলে উক্ত আর্জি-ভিত্তিক কার্যধারা ততদিন অব্যাহত থাকিবে যতদিন উক্ত দেনাদারের সম্পত্তি উদ্ধার ও বণ্টনের উদ্দেশ্যে উহা উক্তরূপে অব্যাহত রাখা প্রয়োজন হয়, যদি না আদালত লিখিত কারণ উল্লেখপূর্বক ভিন্নরূপ আদেশ না দেয়৷
আর্জি গ্রহণের পদ্ধতি
২১৷ আর্জি গ্রহণের (admission) সম্পর্কে দেওয়ানী কার্যবিধিতে বর্ণিত পদ্ধতি যতদূর প্রযোজ্য হয় তাহা এই আইনের অধীন পেশকৃত আর্জির ক্ষেত্রে অনুসরণ করা হইবে:
তবে শর্ত থাকে যে, এই আইন এবং বিধিতে এতদসম্পর্কে কোন ভিন্নতর পদ্ধতি বর্ণিত থাকিলে তাহাই অনুসরণ করিতে হইবে৷
আর্জি পেশের পরবর্তী কার্যপদ্ধতি
২২৷ (১) কোন আর্জি গ্রহণ করা হইলে, আদালত উহা শুনানীর জন্য এমন এক তারিখ নির্ধারণ করিয়া আদেশ প্রদান করিবে, যেন উক্ত তারিখ আদেশ প্রদানের তারিখের পরবর্তী ৬০ (ষাট) দিনের মধ্যে হয়৷
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন প্রদত্ত আদেশের নোটিশ নিম্্নবর্ণিতভাবে জারী করিতে হইবে, যথা:-
অন্তর্বর্তী রিসিভার নিয়োগ
২৩৷ (১) কোন পাওনাদার কর্তৃক দাখিলকৃত আর্জি শুনানীর তারিখ নির্ধারণী আদেশ প্রদানকালে আদালত দেনাদারের সম্পত্তি বা উহার কোন অংশ বিশেষের জন্য একজন অন্তর্বর্তী রিসিভার নিয়োগ করিতে পারিবে, এবং দেনাদার কর্তৃক দাখিলকৃত আর্জির ক্ষেত্রে সাধারণতঃ উক্তরূপ নিয়োগ দান করিবে; এবং উক্ত সম্পত্তির দখল অবিলম্বে গ্রহণ না করিবার জন্য রিসিভারকে নির্দেশ দিবে; এবং তদ্প্রেক্ষিতে রিসিভার, আদালতের নির্দেশ সাপেক্ষে, দেওয়ানী কার্যবিধির অধীনে নিযুক্ত কোন রিসিভার কর্তৃক প্রয়োগযোগ্য ক্ষমতাসমূহ এবং তদ্সহ এই আইনের ৬৫, ৬৬, ৬৭, ৬৮ এবং ৭১ ধারায় উল্লিখিত যেকোন ক্ষমতা প্রয়োগ করিতে পারিবেন৷
(২) অন্তর্বর্তী রিসিভার নিয়োগের ব্যাপারে আদালত ৬৪(১) ধারায় বিবৃত শর্তাদি অনুসরণ করিবে৷
(৩) পূর্বোক্তরূপে কোন অন্তর্বর্তী রিসিভার নিয়োগ না করা হইলে, দেউলিয়া ঘোষণাদেশ প্রদানের পূর্বে আদালত যেকোন সময় উক্তরূপ রিসিভার নিয়োগ করিতে পারিবে৷
দেনাদারের বিরুদ্ধে অন্তর্বর্তী কার্যধারা
২৪৷ (১) আর্জি শুনানীর তারিখ নির্ধারণী আদেশ প্রদানকালে অথবা দেউলিয়া ঘোষণাদেশ প্রদানের পূর্বে যে কোন সময় আদালত, স্বীয় উদ্যোগে অথবা কোন পাওনাদারের আবেদনক্রমে, নিম্্নরূপ যেকোন এক বা একাধিক আদেশ প্রদান করিতে পারিবে, যথা:-
তবে শর্ত থাকে যে, দফা (ঘ) বা (ঙ) এর অধীনে কোন আদেশ প্রদান করা হইবে না, যদি আদালত সন্তুষ্ট না হয় যে, দেনাদার বা সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তাহার কোন পাওনাদারের দাবী ব্যর্থ বা বিলম্বিত করা বা আদালতের পরোয়ানা বা নোটিশ এড়ানোর জন্য-
দেনাদারের কর্তব্য
২৫৷ (১) আর্জি শুনানীর তারিখ নির্ধারণী আদেশ প্রদত্ত হইলে এবং তত্পরবর্তী যে কোন সময় আদালত বা রিসিভারের নির্দেশমত দেনাদারের কর্তব্য হইবে-
(২) আর্জি শুনানীর তারিখ-নির্ধারণী আদেশ প্রদত্ত হইলে, উক্ত আর্জি খারিজ না হওয়া পর্যন্ত, অথবা দেউলিয়া ঘোষণাদেশ প্রদত্ত হইলে, উহা রদ না হওয়া পর্যন্ত, অথবা আদালত ভিন্নরূপ আদেশ প্রদান না করা পর্যন্ত দেনাদার তাহার কোন পাওনাদারের বিরুদ্ধে কোন দেওয়ানী মামলা বা দাবী আদায়মূলক কোন আইনগত কার্যধারা রুজু করিতে পারিবেন না৷
গ্রেফতারকৃত বা আটক দেনাদারের মুক্তি
২৬৷ (১) কোন আদালত প্রদত্ত অর্থ পরিশোধ সংক্রান্ত ডিক্রী বাস্তবায়নের প্রক্রিয়ায় যদি কোন দেনাদার গ্রেফতার হন বা কারাগারে আটক থাকেন, তাহা হইলে আদালত, আর্জি শুনানীর তারিখ-নির্ধারণী আদেশ প্রদানকালে বা তদ্পরবর্তী যে কোন সময়, উহার বিবেচনায় যুক্তিসংগত ও প্রয়োজনীয় শর্ত সাপেক্ষে উক্ত দেনাদারকে মুক্ত করিবার আদেশ দিতে পারিবে৷
(২) এই ধারার অধীনে মুক্তি দেওয়া হইয়াছে এইরূপ যেকোন ব্যক্তিকে পুনরায় গ্রেফতার করিবার জন্য এবং যাহার হেফাজত বা যে কারাগার হইতে তাহাকে মুক্তি দেওয়া হইয়াছে সেই একই হেফাজত বা একই কারাগারে তাহাকে প্রেরণ করিবার জন্য আদালত যেকোন সময় আদেশ দিতে পারিবে৷
(৩) এই ধারার অধীনে কোন আদেশ প্রদানকালে আদালত সংশ্লিষ্ট কারণ লিপিবদ্ধ করিবে৷
দেনাদারের আপত্তি দাখিল ও শুনানীর পদ্ধতি
২৭৷ (১) কোন যথাযোগ্য পাওনাদার কর্তৃক আর্জি পেশ করার ক্ষেত্রে, দেনাদার, আদালত কর্তৃক নির্ধারিত তারিখের মধ্যে, তবে আর্জি শুনানীর তারিখের পূর্বে, উক্ত আর্জির ব্যাপারে তাহার কোন আপত্তি থাকিলে সংক্ষিপ্ত আকারে লিখিতভাবে পেশ করিতে পারিবেন; এবং সরকার প্রয়োজনবোধে এইরূপ আপত্তির ফরম বিধি দ্বারা নির্ধারণ করিতে পারিবে৷
(২) আর্জি শুনানীর জন্য নির্ধারিত তারিখে, অথবা উপ-ধারা (৩) এর বিধান সাপেক্ষে, উক্ত শুনানী মুলতবী হইলে পরবর্তী শুনানীর তারিখে আদালত নিম্্নবর্ণিত বিষয়গুলি প্রমাণের নির্দেশ দিবে, যথা-
তবে শর্ত থাকে যে, দেনাদার আর্জি দাখিল করিয়া থাকিলে, দেনা পরিশোধের দায় প্রমাণের উদ্দ্যেশ্যে, এতটুকু প্রমাণ উপস্থাপনে নির্দেশ প্রদান করিলেই চলিবে, যাহা হইতে উক্ত দায় আদালতের নিকট প্রাথমিকভাবে বিশ্বাসযোগ্য বলিয়া প্রতিপন্ন হয়: এবং আদালত তন্মর্মে সন্তুষ্ট হইলে বিষয়টি সম্পর্কে অতিরিক্ত শুনানী করার ক্ষেত্রে কোন বাধ্য-বাধকতা থাকিবেনা;
(৩) আর্জি শুনানী সাধারণতঃ ক্রমাগতভাবে প্রতিদিন অনুষ্ঠিত হইবে, এবং আর্জিকারী পাওনাদার বা পাওনাদারগণ ভিন্নরূপে সম্মত না হইলে কোন অবস্থাতেই শুনানী একবারে সাত দিনের বেশী সময়ের জন্য মুলতবী করা যাইবে না:
তবে শর্ত থাকে যে, যে মেয়াদ বা মেয়াদসমূহব্যাপী শুনানী মুলতবী থাকে উহার সাকুল্য পরিমাণ ৯০ (নব্বই) দিনের বেশী হওয়া চলিবে না৷
(৪) শুনানীর সময় দেনাদার বা, ক্ষেত্রমত, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উপস্থিত থাকিলে তাহাকে আদালত বা, তত্কর্তৃক নির্দেশিত হইলে, রিসিভার, উক্ত দেনাদারের আচরণ, লেনদেন এবং সম্পত্তি সম্পর্কে পাওনাদারগণের উপস্থিতিতে, যদি কেহ থাকেন, জিজ্ঞাসাবাদ করিবেন এবং পাওনাদারগণও উক্ত দেনাদার বা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে ঐসকল বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করিতে পারিবেন৷
(৫) উপ-ধারা (৩) এ বিনির্দিষ্ট সময়সীমা সাপেক্ষে, আদালত দেনাদার বা, ক্ষেত্রমত, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে বা কোন পাওনাদারকে তাহাদের দাবীকৃত কোন বিষয়ে সাক্ষ্য-প্রমাণ উপস্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় সময় মঞ্জুর করিতে পারে, যদি আদালত সন্তুষ্ট হয় যে, আর্জির যথাযথ নিষ্পত্তির স্বার্থে বিষয়টির উপর সাক্ষ্য গ্রহণ করা প্রয়োজন৷
(৬) দেনাদারকে জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে প্রাপ্ত তথ্যাদি এবং শুনানীর সময় গৃহীত মৌখিক সাক্ষ্যের মৌলিক ফলাফল সম্বলিত একটি বিবরণ আদালত প্রস্তুত করিবে এবং এই বিবরণ কার্যধারা নথির অংশ হিসাবে থাকিবে৷
দরখাস্ত খারিজকরণ
২৮৷ (১) পাওনাদার কর্তৃক দাখিলকৃত আর্জির ক্ষেত্রে আদালত উহা খারিজ করিয়া দিবে, যদি-
ব্যাখ্যা৷- এই উপ-ধারায় “স্বেচ্ছাকৃত খেলাপী” অর্থ এমন একজন দেনাদার যিনি, আনুষ্ঠানিক দাবীনামা জারির পর, এক বত্সর সময়ব্যাপী অন্ততঃ ৫,০০,০০০.০০ (পাঁচ লক্ষ) টাকার অধিক ব্যাংক-ঋণ অপরিশোধিত রাখিয়াছেন৷
(২) দেনাদার কর্তৃক দাখিলকৃত দরখাস্তের ক্ষেত্রে, উক্ত দরখাস্ত দাখিল করার জন্য দেনাদারের অধিকার সম্পর্কে সন্তুষ্ট না হইলে আদালত উহা খারিজ করিয়া দিবে৷
ক্ষতিপূরণ প্রদান
২৯৷ (১) কোন পাওনাদার কর্তৃক দাখিলকৃত দরখাস্ত যদি ২৮(১) ধারার অধীনে খারিজ হইয়া যায় এবং আদালত যদি এই মর্মে সন্তুষ্ট হয় যে, দরখাস্তটি ছিল অসার বা হয়রানিমূলক, তাহা হইলে, দেনাদারের আবেদনক্রমে, আদালত উক্ত দরখাস্ত এবং তজ্জনিত কার্যধারার ফলশ্রুতিতে দেনাদারের খরচ বা ক্ষতিপূরণের জন্য আদালত অনধিক ১,০০,০০০.০০ (এক লক্ষ) টাকার ক্ষতিপূরণ দেনাদারকে প্রদানের জন্য পাওনাদারকে আদেশ দিতে পারে এবং ক্ষতিপূরণের টাকা অর্থদণ্ড (fine) এর ন্যায় একই পদ্ধতিতে আদায় করা যাইবে৷
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীনে কোন ক্ষতিপূরণ প্রদানের আদেশ দেওয়া হইলে, উক্ত উপ-ধারায় উল্লিখিত দরখাস্ত এবং তজ্জনিত কার্যধারার ব্যাপারে কোন প্রকার ক্ষতিপূরণ অথবা ভিন্নরূপ প্রতিকার দাবী করিয়া অন্য কোন আইনের অধীনে কোন দেওয়ানী বা ফৌজদারী কার্যধারা রুজু করা যাইবে না৷
দেউলিয়া ঘোষণাদেশ
৩০৷ (১) কোন আর্জি খারিজ করা না হইলে আদালত-
(২) পর্যাপ্ত কারণ দর্শানো হইলে, আদালত দেনাদারের দায়মুক্তির আবেদন পেশ করার সময়সীমা বর্ধিত করিতে পারিবে এবং সেই ক্ষেত্রে এইরূপ বর্ধিতকরণের বিষয়, আদালতের বিবেচনায় উপযুক্ত পদ্ধতিতে, সংশ্লিষ্ট সকলকে অবহিত করিবে৷
দেউলিয়া ঘোষণাদেশের ফলাফল
৩১৷ (১) দেউলিয়া ঘোষণাদেশ প্রদত্ত হইলে, দেউলিয়া ঘোষিত ব্যক্তি এই আইনের বিধান মোতাবেক তাহার বিষয়-সম্পত্তি উদ্ধার এবং উহা পাওনাদারগণের মধ্যে বণ্টন করিবার নিমিত্তে আদালতকে সর্বাত্মক সহায়তা করিবে৷
(২) দেউলিয়া ঘোষণাদেশ প্রদত্ত হইলে দেনাদারের অব্যাহতিপ্রাপ্ত সম্পদ ব্যতীত অন্যান্য সকল বিষয় সম্পত্তি আপনা-আপনি রিসিভারে ন্যস্ত হইবে এবং কোন ক্ষেত্রে রিসিভার নিযুক্ত না হইয়া থাকিলে, উহা আপনা-আপনি আদালতে ন্যস্ত হইবে, এবং উক্ত সম্পদ পাওনাদারগণের মধ্যে বণ্টনযোগ্য হইবে এবং উক্তরূপে ন্যস্ত সম্পদ বণ্টনযোগ্য সম্পদরূপে অভিহিত হইবে৷
(৩) দেউলিয়া বিষয়ক কার্যধারা নিষ্পন্নাধীন থাকাকালে, এই আইনের অধীন প্রমাণযোগ্য যে কোন দেনার ব্যাপারে কোন পাওনাদার উক্ত দেনাদারের অব্যাহতিপ্রাপ্ত সম্পত্তি এবং বণ্টনযোগ্য সম্পদের বিরুদ্ধে অন্য কোন প্রতিকার দাবী করিতে বা কোন দেওয়ানী মামলা বা অন্যবিধ কার্যধারা দায়ের করিতে পারিবেন না, তবে আদালত এই বিষয়ে অনুমতি দিলে এবং কোন শর্ত আরোপ করিলে তদনুসারে উক্ত প্রতিকার দাবী বা কার্যধারা দায়ের করা যাইবে৷
(৪) এই ধারার বিধান না থাকিলে কোন জামানতকারী পাওনাদার যে পদ্ধতিতে তাহার জামানত আদায় করার বা তত্সম্পর্কে অন্য কোন ব্যবস্থা গ্রহণের অধিকারী হইতেন, এই ধারার কোন কিছুই তাহার সেই অধিকারকে খর্ব করিবে না৷
(৫) দেউলিয়া ঘোষণাদেশ প্রদত্ত হইলে উহা আর্জি পেশ করার তারিখে কার্যকর হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে৷
অব্যাহতিপ্রাপ্ত সম্পত্তি
৩২৷ এই আইনের অন্য কোন বিধানে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, একক দেনাদারের নিম্্নবর্ণিত সম্পত্তির দখল ২৩ ধারার অধীনে গ্রহণ করা যাইবে না বা উহা ৩১ ধারার অধীনে আদালতে বা রিসিভারে ন্যস্ত হইবে না এবং এইরূপ সম্পত্তি অব্যাহতিপ্রাপ্ত সম্পত্তি নামে অভিহিত হইবে, যথা:-
তবে শর্ত থাকে যে, (ক) ও (খ) দফায় উল্লিখিত সামগ্রীর মোট মূল্য ৩,০০,০০০.০০ (তিন লক্ষ) টাকার অধিক হওয়া চলিবে না৷
নিষ্পন্নাধীন মামলা ইত্যাদির স্থানান্তর
৩৩৷ (১) আপাততঃ বলবত্ অন্য কোন আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কোন দেনাদারের বিরুদ্ধে অর্থ বা অন্য কোন সম্পত্তির দাবী সংক্রান্ত কোন মামলা বা অন্য কোন কার্যধারা যেকোন আদালতে নিষ্পন্নাধীন থাকিলে, উক্ত আদালত যদি প্রমাণ পায় যে, উক্ত দেনাদারের বিরুদ্ধে এই আইনের অধীনে দেউলিয়া ঘোষণাদেশ প্রদত্ত হইয়াছে, তাহা হইলে উক্ত আদালত ঘোষণাদেশ প্রদানকারী আদালতে উক্ত মামলা বা কার্যধারা স্থানান্তর করিবে:
তবে শর্ত থাকে যে, উক্তরূপ মামলা বা অন্যবিধ কার্যধারা হইতে উদ্ভূত কোন আপীল বা রিভিশন যদি কোন উচ্চতর আদালতে নিষ্পন্নাধীন থাকে, তাহা হইলে উক্ত উচ্চতর আদালত আপীল বা রিভিশনটি ধারা ৯৬ তে উল্লিখিত আপীল আদালতে বদলী করিবে৷
(২) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, উপ-ধারা (১) এবং উহার শর্তাংশে উল্লিখিত আদালত যথাক্রমে দেউলিয়া বিষয়ক আদালত এবং আপীল আদালত বলিয়া গণ্য হইবে; এবং উক্তরূপ কোন আদালত এই ধারার অধীনে কোন মামলা বা কার্যধারা স্থানান্তরের আদেশ প্রদান বা প্রত্যাখ্যান করিলে ধারা ৯৬ বা, ক্ষেত্রমত, ৯৯ এর বিধান অনুযায়ী যথাক্রমে আপীল বা পুনরীক্ষণ ব্যতীত উক্ত আদেশের ব্যাপারে অন্য কোন আদালতে প্রশ্ন উত্থাপন করা চলিবেনা৷
(৩) উপ-ধারা (১) এর অধীনে বদলীকৃত মামলা বা অন্যবিধ কার্যধারা বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে নিষ্পত্তি করা হইবে৷
ঘোষণাদেশ প্রকাশ
৩৪৷ (১) আদালত দেউলিয়া ঘোষণাদেশ প্রদানের বিষয় বিধৃত করিয়া একটি নোটিশ সরকারী গেজেটে এবং তত্সহ বিধি দ্বারা নির্ধারিত অন্যান্য পদ্ধতিতে প্রকাশের ব্যবস্থা করিবে এবং উক্ত নোটিশে দেউলিয়ার নাম, ঠিকানা ও পরিচিতি, ঘোষণাদেশ প্রদানের তারিখ, দেনাদারের দায়মুক্তি আবেদন করার জন্য নির্ধারিত সময়সীমা এবং ঘোষণাদেশ প্রদানকারী আদালতের নাম উল্লেখ করিতে হইবে, এবং যথাযথ বিবেচনা করিলে, আদালত অন্য কোন তথ্যও নোটিশে অন্তর্ভুক্ত করিতে পারিবে৷
(২) কোন পাওনাদারের আবেদনক্রমে যদি আদালত উক্ত নোটিশ কোন পত্রিকায় প্রকাশের আদেশ দেয়, তাহা হইলে উহার প্রকাশনা-ব্যয় বহনের জন্য আদালত উক্ত পাওনাদারকে নির্দেশ দিতে পারে৷
নিরাপত্তামূলক আদেশ
৩৫৷ (১) দেউলিয়া ঘোষিত দেনাদার তাহার কোন দেনার কারণে তাহাকে গ্রেফতার বা কারাগারে আটক রাখার বিরুদ্ধে নিরাপত্তা প্রার্থনা করিয়া আদালতে আবেদন করিতে পারিবে, এবং তত্প্রেক্ষিতে আদালত, কোন পাওনাদারকে নোটিশ দেওয়া প্রয়োজন মনে করিলে, উহার বিবেচনায় উপযুক্ত পদ্ধতিতে নোটিশ প্রদান ও সংশ্লিষ্ট পাওনাদারকে শুনানীর যুক্তিসংগত সুযোগ দিয়া, উক্ত দেনাদারের নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তামূলক আদেশ দিতে পারিবে৷
(২) দেনাদারের সকল দেনা বা তন্মধ্যে আদালত কর্তৃক নির্ধারিত যে কোন দেনার ব্যাপারে নিরাপত্তামূলক আদেশ প্রদান করা যাইবে; এবং আদালত কর্তৃক নির্ধারিত তারিখে ও সময়ের জন্য উক্ত আদেশ বলবত্ হইবে এবং আদালত যখনি উপযুক্ত মনে করিবে তখনি উহা প্রত্যাহার বা নবায়ন করিতে পারিবে৷
(৩) যে দেনার ব্যাপারে নিরাপত্তামূলক আদেশ প্রদত্ত হয় সেই দেনার দায়ে কোন দেনাদারকে গ্রেফতার করা কিংবা কারাগারে আটক রাখা যাইবে না, এবং এইরূপ আদেশের খেলাপ করিয়া কোন দেনাদারকে গ্রেফতার বা আটক করা হইলে উক্ত আদেশের একটি অনুলিপি প্রদর্শন করিবামাত্র অবিলম্বে তাহাকে মুক্তি দেওয়া হইবে:
তবে শর্ত থাকে যে, যদি উক্ত নিরাপত্তামূলক আদেশ প্রত্যাহার করা হয় বা সংশ্লিষ্ট ঘোষণাদেশ রদ করা হয়, তাহা হইলে উক্ত নিরাপত্তামূলক আদেশ কোন পাওনাদারের অধিকার ক্ষুণ্ন করিবে না৷
পাওনাদার কমিটি
৩৬৷ (১) যথাযোগ্য পাওনাদারের সংখ্যা দশ এর অধিক হইলে আদালত কর্তৃক বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে অথবা এইরূপ বিধি না থাকিলে, আদালত কর্তৃক নির্দেশিত পদ্ধতিতে একটি পাওনাদার কমিটি গঠনের জন্য রিসিভারকে আদেশ দিবে এবং এই কমিটি আদালত কর্তৃক নির্ধারিত অনধিক পাঁচজন সদস্য সমন্বয়ে গঠিত হইবে৷
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীনে গঠিত পাওনাদার কমিটি রিসিভারকে তাহার দায়িত্ব পালনের ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিতে পারিবে, এবং রিসিভার, এই আইন ও বিধির বিধানাবলীর ব্যত্যয় না ঘটাইয়া, যথাসম্ভব উক্ত পরামর্শ মানিয়া চলিবে৷
ঘোষণাদেশের পর গ্রেফতারের ক্ষমতা
৩৭৷ দেউলিয়া ঘোষণাদেশ প্রদানের পর পাওনাদার কমিটি বা রিসিভার বা কোন পাওনাদারের আবেদনক্রমে, আদালতের যদি এইরূপ বিশ্বাস করার যুক্তিসংগত কারণ থাকে যে, দেনাদার বা, ক্ষেত্রমত, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এই আইনের অধীন তাহার উপর আরোপিত বা আরোপণীয় কোন দায়িত্ব (obligation) এড়ানোর উদ্দেশ্যে পলাতক রহিয়াছেন অথবা আদালতের স্থানীয় অধিক্ষেত্রের বাহিরে চলিয়া গিয়াছেন, তাহা হইলে তাহাকে গ্রেফতারের জন্য আদালত পরোয়ানা জারি করিতে পারিবে, এবং তিনি আদালতে হাজির হইলে বা তাহাকে আনীত হইলে, যদি আদালত এই মর্মে সন্তুষ্ট হয় যে, তিনি উক্ত উদ্দেশ্যে পলাতক ছিলেন বা চলিয়া গিয়াছিলেন, তাহা হইলে জামানতের ব্যাপারে যুক্তিসংগত প্রয়োজনীয় শর্তে তাহাকে মুক্তিদানের জন্য আদালত আদেশ দিতে অথবা এইরূপ জামানত প্রদত্ত না হইলে তাহাকে অনধিক তিন মাসের জন্য দেওয়ানী কারাগারে আটক রাখার নির্দেশ দিতে পারিবে৷
পাওনাদার ও পাওনা-তফসিল
৩৮৷ (১) দেউলিয়া ঘোষণাদেশ প্রদত্ত হইলে, দেউলিয়ার বিরুদ্ধে এই আইনের অধীন প্রমাণযোগ্য দেনার দাবীদার সকল ব্যক্তি বিধি দ্বারা নির্ধারিত বা আদালত কর্তৃক নির্ধারিত ফরমে তাহার দাবীকৃত দেনার পরিমাণ ও বিবরণ সম্বলিত একটি সংক্ষিপ্ত দাবীনামা এবং উহার সমর্থনে প্রয়োজনীয় সাক্ষ্য উপস্থাপন করিবে, এবং আদালত, আদেশ দ্বারা, উক্তরূপ দেনার প্রমাণকারী সকল ব্যক্তি ও তাহাদের পাওনার পরিমাণ নির্ধারণ করিবে এবং ঐ সকল ব্যক্তি ও তাহাদের পাওনার বিবরণ সম্বলিত একটি তফসিল প্রণয়ন করিবে:
তবে শর্ত থাকে যে, ধারা ৩৯(১) এর বিধান সাপেক্ষে, যদি আদালতের মতে কোন দেনার পরিমাণ মোটামুটি সঠিকভাবে (fairly) নির্ধারণ করা সম্ভব না হয়, তাহা হইলে আদালত সেই মর্মে একটি আদেশ প্রদান করিবে এবং তত্প্রেক্ষিতে উক্ত দেনা উক্ত তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করা হইবে না৷
(২) এইরূপ তফসিলের একটি অনুলিপি আদালত ভবনের নোটিশ বোর্ডে বা অন্য কোন প্রকাশ্য স্থানে সাঁটিয়া দিতে হইবে৷
(৩) উপ-ধারা (১) এর অধীনে তফসিল প্রণীত হওয়ার পরও যে কোন ব্যক্তি, একক দেনাদারের ক্ষেত্রে, দেউলিয়ার দায়মুক্তির পূর্ব পর্যন্ত যে কোন সময়, এবং একক দেনাদার ব্যতীত অন্য কোন দেনাদারের ক্ষেত্রে, এতদুদ্দেশ্যে আদালত কর্তৃক নির্ধারিত তারিখের পূর্বে যে কোন সময় বা আদালত এইরূপ তারিখ নির্ধারণ না করিলে বিধি দ্বারা নির্ধারিত তারিখের পূর্বে যে কোন সময়, এই আইনের অধীন প্রমাণযোগ্য দেনার ব্যাপারে একজন পাওনাদার হিসাবে তাহার নাম তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করিবার আদেশের প্রার্থনায় আদালতের নিকট আবেদন করিতে এবং তাহার পাওনা প্রমাণের জন্য প্রয়োজনীয় সাক্ষ্য উপস্থাপন করিতে পারিবে; এবং আদালত তত্প্রেক্ষিতে রিসিভার এবং ইতিপূর্বে পাওনাদার হিসাবে প্রমাণিত ব্যক্তিকে নোটিশ প্রদানপূর্বক এবং তাহাদের কোন আপত্তি থাকিলে তত্সম্পর্কে শুনানীর যুক্তিসংগত সুযোগ প্রদানপূর্বক আবেদনটি মঞ্জুর বা নামঞ্জুর করিবে৷
(৪) উপ-ধারা (৩) এর অধীন কোন আবেদন বা আপত্তি বিধি দ্বারা নির্ধারিত ফরমে সংক্ষিপ্ত বিবরণসহ দাখিল করিতে হইবে এবং এইরূপ বিধি না থাকিলে, আদালত কর্তৃক নির্দেশিত ফরমে সংক্ষিপ্ত বিবরণসহ দাখিল করিতে হইবে৷
প্রমাণযোগ্য দেনা
৩৯৷ (১) যথাযথ মূল্য নিরূপণ করা সম্ভব না হওয়ার কারণে যে সকল দেনা ধারা ৩৮ এর অধীন প্রণীত তফসিলে অন্তর্ভুক্ত হয় নাই, সেই সকল দেনা এবং কোন চুক্তি হইতে বা বিশ্বাস ভংগের (breach of trust) ঘটনা হইতে উদ্ভূত অনির্ধারিত (unliquidated) ক্ষতিপূরণের দাবী ব্যতীত, অন্য যেকোন ধরনের অনির্ধারিত ক্ষতিপূরণমূলক দাবী এই আইনের অধীনে প্রমাণযোগ্য হইবে, যদি এতদ্বিষয়ে আদালত ভিন্নতর কোন সিদ্ধান্ত প্রদান না করে৷
(২) একক দেনাদার ব্যতীত অন্য কোন দেনাদার দেউলিয়া ঘোষিত হওয়ার পূর্বে যেকোন সময়, এবং দেউলিয়া হিসাবে একক দেনাদারের দায়মুক্তির পূর্বে যে কোন সময়, উহার বা তাহার অর্জিত যাবতীয় দেনা এবং দায়-দায়িত্ব (liabilities), বর্তমান বা ভবিষ্যত্ অথবা নিশ্চিত (certain) বা ঘটনাপেক্ষ (contingent) যে কোন প্রকৃতির হউক না কেন, এই আইনের অধীন প্রমাণযোগ্য দেনা বলিয়া গণ্য হইবে, যদি না আদালত ভিন্নরূপ সিদ্ধান্ত প্রদান করে৷
ঘোষণাদেশ রদ করার ক্ষমতা
৪০৷ যে ক্ষেত্রে আদালতের মতে কোন দেনাদারকে দেউলিয়া ঘোষণা করা যথাযথ হয় নাই, অথবা যে ক্ষেত্রে আদালতের নিকট সন্তোষজনকভাবে প্রমাণিত হয় যে, উক্ত দেনাদারের দেনা সম্পূর্ণ পরিশোধ করা হইয়াছে, সেই ক্ষেত্রে আদালত, দেনাদার বা অন্য কোন স্বার্থবান ব্যক্তির আবেদনক্রমে, উক্ত ঘোষণাদেশ লিখিত আদেশ দ্বারা রদ করিবে; এবং আদালত নিজ উদ্যোগে অথবা রিসিভার বা কোন পাওনাদারের আবেদনক্রমে, এইরূপ যেকোন দেউলিয়া ঘোষণাদেশও রদ করিতে পারিবে, যাহা ধারা ১৩(২) এর বিধান অনুসারে আর্জি দাখিলের অধিকারী নহেন এইরূপ কোন দেনাদারের দরখাস্তের ভিত্তিতে প্রদত্ত হইয়াছে৷
একই দেনাদারের বিরুদ্ধে একাধিক সমগামী ঘোষণাদেশ রদ করার ক্ষমতা
৪১৷ কোন ক্ষেত্রে দেউলিয়া ঘোষণাদেশ প্রদানের পর উক্ত আদেশ প্রদানকারী আদালতে যদি প্রমাণিত হয় যে, একই দেনাদারের বিরুদ্ধে বাংলাদেশে বা বাংলাদেশের বাহিরে অন্য কোন আদালতে দেউলিয়া বিষয়ক বা সমফলপ্রদ অন্য কোন কার্যধারা নিষ্পন্নাধীন আছে এবং উক্ত কার্যধারায় দেনাদারের সম্পত্তি উক্ত অন্য আদালতের মাধ্যমে অধিকতর সুবিধাজনকভাবে বণ্টন করা যাইবে তাহা হইলে আদালত উক্ত ঘোষণাদেশ রদ কিংবা তত্সম্পর্কিত যাবতীয় কার্যধারা স্থগিত করিতে পারিবে৷
ঘোষণাদেশ রদ পরবর্তী কার্যধারা
৪২৷ (১) কোন দেউলিয়া ঘোষণাদেশ রদ করা হইলে, উক্ত রদকরণের পূর্বে আদালত বা, ক্ষেত্রমত, রিসিভার দেনাদারের সম্পত্তির বিক্রয় বা অন্যবিধভাবে উহাদের নিষ্পত্তিকরণ, যথাযথভাবে কোন অর্থ পরিশোধসহ এতদ্বিষয়ে যে সকল কার্য সম্পাদন করিয়াছেন সেই সকল কার্য বৈধ হইবে, এবং এইরূপ বৈধতা সাপেক্ষে, দেউলিয়া ঘোষিত দেনাদারের সম্পত্তি আদালত কর্তৃক নিযুক্ত ব্যক্তির উপর ন্যস্ত হইবে, অথবা এইরূপ ব্যক্তি নিযুক্ত না হইলে, আদালত কর্তৃক নির্ধারিত কোন শর্ত সাপেক্ষে, উক্ত সম্পত্তির যতটুকুর উপর দেনাদারের অধিকার ও স্বার্থ রহিয়াছে ততটুকু দেনাদারের উপর পুনঃন্যস্ত হইবে৷
(২) ঘোষণাদেশ রদকারী প্রতিটি আদেশ সরকারী গেজেটে এবং বিধি দ্বারা নির্ধারিত অন্য কোন পদ্ধতিতেও প্রকাশ করিতে হইবে৷
আপোষ মিমাংসা এবং পুনর্বিন্যাস পরিকল্পনা
৪৩৷ (১) দেউলিয়া ঘোষণাদেশ প্রদানের পর যদি কোন দেনাদার তাহার দেনার দায় মিটানোর জন্য কোন আপোষ-মিমাংসা (composition) প্রস্তাব বা তদুদ্দেশ্যে তাহার বিষয়াদি সম্পর্কে পুনর্বিন্যাস পরিকল্পনা (scheme of arrangement) সম্বলিত প্রস্তাব, অতঃপর এই অধ্যায়ে প্রস্তাব বলিয়া অভিহিত, উপস্থাপন করেন, তাহা হইলে আদালত উক্ত প্রস্তাব বিবেচনার জন্য একটি তারিখ নির্ধারণ করিবে এবং তদ্সম্পর্কে সকল পাওনাদারকে বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে এবং এইরূপ বিধি না থাকিলে, আদালতের বিবেচনামত যথাযথ নোটিশ প্রদান করিবে, এবং প্রস্তাবটির বাস্তবায়নযোগ্যতা সম্পর্কে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে একটি প্রতিবেদন প্রণয়ন ও দাখিল করার জন্য রিসিভারকে নির্দেশ দিবে; এবং অতঃপর রিসিভার তাহার সুনির্দিষ্ট মতামতসহ উক্ত প্রতিবেদন দাখিল করিবেন৷
(২) আদালতে প্রমাণিত সকল দেনার মূল্যমানের ভিত্তিতে এবং নথিতে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে যদি, দুই-তৃতীয়াংশ পাওনাদার আদালতে ব্যক্তিগতভাবে বা তাহাদের আইনজীবী বা তাহাদের নিকট হইতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত অন্য কোন প্রতিনিধির মাধ্যমে আদালতে উপস্থিত হইয়া উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত প্রস্তাব বিবেচনান্তে গ্রহণ করেন এবং আদালত উহা অনুমোদন করে, তাহা হইলে উক্ত প্রস্তাব সকল পাওনাদার যথাযথভাবে গ্রহণ করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবে৷
(৩) উপ-ধারা (২) এ বর্ণিতমতে প্রস্তাবটি বিবেচনার সময় দেনাদার তাহার প্রস্তাবের শর্তাবলী সংশোধন করিতে পারিবেন এবং আদালত উক্ত সংশোধন অনুমোদন করিতে পারিবে, যদি আদালতের মতে উক্ত সংশোধন সামগ্রিকভাবে সকল পাওনাদারের জন্য কল্যাণকর হয়৷
(৪) প্রস্তাবটি সম্পর্কে রিসিভারের প্রতিবেদন এবং কোন পাওনাদার কর্তৃক বা তাহার পক্ষে উত্থাপিত আপত্তি শুনানী ও বিবেচনার পর আদালত যদি মনে করে যে, প্রস্তাবটির শর্তাবলী যুক্তিসংগত নহে বা সামগ্রিকভাবে পাওনাদারগণের জন্য কল্যাণকর হইবে না, তাহা হইলে আদালত উক্ত প্রস্তাবটির অনুমোদন প্রত্যাখ্যান করিবে৷
(৫) যদি প্রস্তাবটি সম্পর্কিত এমন কোন বিষয় আদালতের গোচরীভূত হয়, যাহা প্রমাণিত হইলে আদালতকে দেনাদারের দায়মুক্তি প্রত্যাখ্যান স্থগিত বা তদ্সম্পর্কে শর্ত আরোপ করিতে হইবে, তাহা হইলে আদালত উক্ত প্রস্তাবের অনুমোদন প্রত্যাখ্যান করিবে, যদি না উক্ত বিষয়ে পাওনাদারগণকে নোটিশ প্রদান এবং শুনানীর পর পাওনাদারগণের পাওনা পরিশোধের উদ্দেশ্যে, দেনাদার আদালতের বিবেচনামতে যুক্তিসংগত জামানত প্রদান করে:
তবে শর্ত থাকে যে, এই উপ-ধারার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, জামানতবিহীন পাওনাদারগণের প্রাপ্য সকল পাওনার ১৫% হইতে ৬৫% এবং ব্যাংক ঋণের পাওনাদারগণের প্রাপ্য সকল পাওনার ২৫% হইতে ৭৫%, যাহা আদালত নির্ধারণ করে, এর সমপরিমাণ অর্থের জামানত প্রদান করা হইলে, যুক্তিসংগত জামানত প্রদত্ত হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে:
আরও শর্ত থাকে যে, উক্ত যুক্তিসংগত জামানত নির্ধারণের ক্ষেত্রে আদালত দেনাদারের দেনার সম্পর্কে নিম্্নবর্ণিত পরিস্থিতিগুলি বিবেচনা করিবে, যথা:-
(৬) আদালত এমন কোন আপোষ-মিমাংসা বা পুনর্বিন্যাস পরিকল্পনা অনুমোদন করিবে না, যাহাতে ৭৫ ধারা অনুসারে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত দেনাসমূহ অন্যান্য দেনার তুলনায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পরিশোধের ব্যবস্থা নাই৷
(৭) অন্য যে কোন ক্ষেত্রে আদালত প্রস্তাবটি অনুমোদন বা প্রত্যাখ্যান করিতে পারিবে৷
অনুমোদন আদেশ ও উহার ফলাফল
৪৪৷ ধারা ৪৩ এর অধীন কোন প্রস্তাব অনুমোদন করা হইলে-
দেনাদারকে পুনরায় দেউলিয়া ঘোষণা করার ক্ষমতা
৪৫৷ (১) অনুমোদিত আপোষ-মিমাংসা বা পুনর্বিন্যাস পরিকল্পনা অনুসারে দেনাদার যদি কোন কিস্তি পরিশোধ করিতে ব্যর্থ হন, অথবা যদি আদালতের নিকট প্রতীয়মান হয় যে, উক্ত আপোষ-মিমাংসা বা পুনর্বিন্যাস পরিকল্পনা পাওনাদারের প্রতি অবিচার না করিয়া বা অবাঞ্ছিত বিলম্ব না করিয়া বাস্তবায়ন করা যাইবে না অথবা তত্সম্পর্কে প্রতারণামূলকভাবে আদালতের অনুমোদন লাভ করা হইয়াছে, তাহা হইলে আদালত বিদ্যমান পরিস্থিতি বিবেচনাক্রমে যথাযথ বিবেচনা করিলে, দেনাদারকে পুনরায় দেউলিয়া ঘোষণা করিতে এবং আপোষ-মিমাংসা বা পুনর্বিন্যাস পরিকল্পনা রদ করিতে পারে, কিন্তু ইহার ফলে উক্ত আপোষ-মিমাংসা ও পুনর্বিন্যাস পরিকল্পনা অনুসারে যথাযথভাবে সম্পাদিত কোন হস্তান্তর বা অর্থ পরিশোধ বা অন্য কোন কিছুর বৈধতা ক্ষুণ্ন হইবে না৷
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীনে কোন দেনাদারকে পুনরায় দেউলিয়া ঘোষণা করা হইলে এবং উক্ত ঘোষণার পূর্বে তিনি কোন দেনা করিয়া থাকিলে উহা দেউলিয়া বিষয়ক কার্যধারায় প্রমাণযোগ্য হইবে৷
পুনর্গঠন আদেশ
৪৬৷ (১) দেউলিয়া ঘোষণাদেশ প্রদানের পূর্বে বা পরে যেকোন সময়, একজন যথাযোগ্য (eligible) দেনাদার তাহার দেনাসমূহ পুনর্গঠনের উদ্দেশ্যে আদালতের নিকট আবেদন করিতে পারিবেন এবং এইরূপ আবেদনপত্রে পুনর্গঠনের কারণ উল্লেখপূর্বক উহার সহিত একটি পুনর্গঠন পরিকল্পনা (plan of reorganisation) উপস্থাপন করিবেন৷
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীনে কোন আবেদন প্রাপ্তির পর যদি আদালত সন্তুষ্ট হয় যে, আবেদনকারী একজন যথাযোগ্য দেনাদার, তাহা হইলে আদালত উক্ত আবেদন প্রাপ্তির ৯০ (নব্বই) দিনের মধ্যে তত্সম্পর্কে শুনানীর একটি তারিখ নির্ধারণ করিবে; এবং কোন রিসিভার নিযুক্ত হইয়া থাকিলে তাহাকে এবং আদালতের নথিতে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে যথাযোগ্য পাওনাদারগণকে, বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে অথবা এইরূপ কোন বিধি না থাকিলে আদালতের বিবেচনামতে উপযুক্ত পদ্ধতিতে, উক্ত আবেদন শুনানীর তারিখ সম্পর্কে নোটিশ প্রদান করিবে৷
(৩) উপ-ধারা (২) এর অধীনে শুনানীর তারিখ নির্ধারণের সময় আদালত একজন অন্তর্বর্তী রিসিভার নিয়োগ করিবে, যদি ইতিপূর্বে কোন রিসিভার বা অন্তর্বর্তী রিসিভার নিযুক্ত না হইয়া থাকে৷
(৪) আবেদনটি শুনানীর তারিখ নির্ধারণের পর আদালত, প্রয়োজনীয় মনে করিলে-
(৫) যথাযোগ্য পাওনাদারগণ এবং রিসিভার আবেদন শুনানীর তারিখের পূর্বে প্রস্তাবিত পুনর্গঠনের ব্যাপারে তাহাদের লিখিত আপত্তি বা পরামর্শ দাখিল করিতে পারিবেন; এবং আদালত উপ-ধারা (৪)(খ) অনুসারে রিসিভার কর্তৃক দাখিলকৃত প্রতিবেদন, যদি থাকে, এবং উক্ত আবেদন ও কোন আপত্তি বা পরামর্শ দাখিল করা হইলে তদ্সম্পর্কে শুনানীর পর নিম্্নবর্ণিত বিষয়াদি বিবেচনায় রাখিয়া একটি পুনর্গঠন আদেশ প্রদান করিতে পারিবে, যথা:-
তবে শর্ত থাকে যে, আদালতে প্রমাণিত সকল দেনার মূল্যমানের ভিত্তিতে যদি দুই-তৃতীয়াংশ পাওনাদার, ব্যক্তিগতভাবে বা তাহাদের নিকট হইতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রতিনিধির মাধ্যমে, উক্ত পুনর্গঠন পরিকল্পনা সম্পর্কে লিখিত সম্মতি জ্ঞাপন না করেন, তাহা হইলে কোন পুনর্গঠন আদেশ প্রদান করা হইবে না;
আরও শর্ত থাকে যে, আদালত, পুনর্গঠন আদেশ প্রদানের ক্ষেত্রে, উক্ত পরিকল্পনায় সম্মতি প্রদান করে নাই এইরূপ পাওনাদার বা বিভিন্ন শ্রেণীর পাওনাদারগণ বা সাধারণভাবে সকল পাওনাদারগণের স্বার্থ সুরক্ষার উদ্দেশ্যে, বিধির বিধান সাপেক্ষে, উক্ত পরিকল্পনায় প্রয়োজনীয় রদবদলসহ উহার বিবেচনামত প্রয়োজনীয় শর্ত আরোপ করিতে পারিবে, এবং এইরূপ রদবদল ও শর্ত পরিকল্পনার অংশ হইবে৷
(৬) পুনর্গঠনের আদেশ প্রদানের তারিখের পূর্বে প্রাপ্য হয় এইরূপ দেনাসহ এই আইনের অধীন প্রমাণযোগ্য সকল দেনার ব্যাপারে উক্ত আদেশ দেনাদার এবং সকল পাওনাদারের উপর বাধ্যতামূলক হইবে৷
(৭) উপ-ধারা (৫) এর অধীনে কোন পুনর্গঠন আদেশ প্রদান করা হইলে, ইতিপূর্বে প্রদত্ত দেউলিয়া ঘোষণাদেশ, যদি থাকে, আপনা-আপনি রদ হইয়া যাইবে; কিন্তু এইরূপ রদ হওয়ার ফলে উক্ত ঘোষণাদেশ প্রদত্ত হওয়ার পর এই আইনের অধীনে যথাযথভাবে সম্পাদিত কোন হস্তান্তর বা অর্থ পরিশোধ বা অন্য কোন কিছুর বৈধতা ক্ষুণ্ন হইবে না৷
(৮) উপ-ধারা (৫) এর অধীনে পুনর্গঠন আদেশ প্রদত্ত হইলে, দেনাদারের বণ্টনযোগ্য সম্পদ (Estate) আপনা আপনি রিসিভারে ন্যস্ত হইবে, এবং দেনাদার, এই আইনের বিধানাবলী ও রিসিভারের তত্ত্বাবধান সাপেক্ষে, তাহার বণ্টনযোগ্য সম্পদ এবং তত্সংশ্লিষ্ট কোন ব্যবসা-বাণিজ্য থাকিলে তিনি উহার বিশেষ ব্যবস্থাপক (special manager) হইবেন৷
(৯) আদালত-
রিসিভার বা তৃতীয় কোন ব্যক্তিকে দেনাদারের স্থলে বিশেষ ব্যবস্থাপক, অতঃপর বিকল্প ব্যবস্থাপক বলিয়া অভিহিত, নিয়োগ করিতে পারিবে৷
(১০) এই আইনের অন্যান্য বিধানাবলী পুনর্গঠন কার্যক্রমের ক্ষেত্রে, এই ধারার বিধান সাপেক্ষে, সেই একইরূপে প্রযোজ্য হইবে যেরূপে সেগুলি কোন দেউলিয়া বিষয়ক কার্যধারার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয়৷
(১১) যে ক্ষেত্রে পুনর্গঠন আদেশ প্রদত্ত হয়, সেই ক্ষেত্রে-
তবে শর্ত থাকে যে, এইরূপ সম্পত্তির দখল গ্রহণের জন্য আদালত কোন জামানতকারী পাওনাদারকে অনুমতি দিতে পারিবে, যদি আদালত এই মর্মে সন্তুষ্ট হয় যে, পুনর্গঠনের বিষয়টি নিষ্পন্নাধীন থাকাকালে উক্ত সম্পত্তিতে তাহার স্বার্থ যথাযথভাবে রক্ষিত হয় নাই অথবা উক্ত সম্পত্তিতে দেনাদারের আর কোন ন্যায়ানুগ স্বার্থ (equity) নাই;
(১২) এতদুদ্দেশ্যে প্রণীত কোন বিধির বিধানের প্রতি লক্ষ্য রাখিয়া আদালত পুনর্গঠন আদেশে নিম্্নবর্ণিত বিষয়গুলি নির্ধারণ করিয়া দিবে, যথা:-
(১৩) পুনর্গঠন আদেশ প্রদানের পর আদালত যদি, স্বীয় উদ্যোগে বা রিসিভার বা কোন যথাযোগ্য পাওনাদারের আবেদনক্রমে, লিখিত কারণ উল্লেখপূর্বক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে যে, পুনর্গঠন আদেশ প্রদান যথাযথ হয় নাই বা পরিবর্তিত পরিস্থিততে উক্ত আদেশ সংশোধন বা প্রত্যাহার করা উচিত, অথবা আদালত এবং পাওনাদারগণের নিকট গ্রহণযোগ্য ও যুক্তিসংগত সময়ের মধ্যে পুনর্গঠন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করিতে বিশেষ ব্যবস্থাপক বা বিকল্প-ব্যবস্থাপক অক্ষম, তাহা হইলে আদালত, হয় পুনর্গঠন আদেশ, উহার বিবেচনায় যথাযথভাবে, সংশোধন করিবে নতুবা উহা রদ করিবে; এইরূপ রদকরণের ক্ষেত্রে, আদালত দেউলিয়া ঘোষণাদেশ প্রদানের উদ্যোগ গ্রহণ করিবে এবং এইরূপ আদেশ প্রদত্ত হইলে উহা আর্জি দাখিলের তারিখে কার্যকর হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে, এবং তদনুসারে এই অধ্যায় ব্যতীত এই আইনের অন্যান্য বিধানাবলী সংশ্লিষ্ট কার্যধারা ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে:
তবে শর্ত থাকে যে, উক্তরূপ সংশোধন বা রদকরণের ফলে, উহার পূর্বে অনুমোদিত পুনর্গঠন পরিকল্পনার অধীনে যথাযথভাবে সম্পাদিত কোন হস্তান্তর বা অর্থ পরিশোধ বা অন্য কোন কিছুর বৈধতা ক্ষুণ্ন হইবে না৷
দায়মুক্তি
৪৭৷ (১) কোন একক দেউলিয়ার ব্যাপারে আদালত তাহার দায়মুক্তির আদেশ দিতে পারিবে, এবং এইরূপ আদেশের ফলে উক্ত দেউলিয়া ৩৯ ধারার অধীনে প্রমাণযোগ্য সকল দাবী, দেনা ও দায় হইতে অব্যাহতি লাভ করিবেন, যদি আদেশে সুনির্দিষ্টভাবে ভিন্নরূপ কোন কিছু না থাকে৷
(২) দেনাদার আর্জি দাখিল করিলে উক্ত আর্জিতেই তিনি তাঁহার দায়মুক্তির জন্য প্রার্থনা করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবেন, এবং যেক্ষেত্রে এক বা একাধিক যথাযোগ্য পাওনাদার উক্ত দরখাস্ত দাখিল করেন, সেক্ষেত্রে ধারা ৩০(১)(খ)(অ) এর অধীনে নির্ধারিত তারিখের পূর্বে দেনাদার তাহার দায়মুক্তির জন্য আবেদন করিবেন৷
(৩) দেউলিয়া ঘোষণাদেশ প্রদানের সময় আদালত উক্ত আদেশের একটি তারিখ নির্ধারণ করিবে যে তারিখে অনুষ্ঠিতব্য শুনানীর উদ্দেশ্য হইবে দেনাদারকে দায়মুক্ত করা হইবে কি না তাহা সর্বপ্রথম বিবেচনা করা, এবং উক্ত তারিখ হইবে উক্ত আদেশ প্রদানের তারিখের ৬০ (ষাট) দিনের পরবর্তী কোন তারিখ:
তবে শর্ত থাকে যে, ধারা ২৭(৩) মোতাবেক দেউলিয়ার জিজ্ঞাসাবাদ সমাপ্ত না হইয়া থাকিলে উক্তরূপ শুনানী মুলতবী করিতে হইবে৷
(৪) উপ-ধারা (৩) এর অধীন শুনানীকালে আদালত যদি সন্তুষ্ট হয় যে, দেনাদারের নৈতিক স্খলন বা অবহেলার কারণে নহে, বরং সম্পূর্ণভাবে তাহার নিয়ন্ত্রণ বহির্ভূত কারণে তাহার দেউলিয়া অবস্থার সৃষ্টি হইয়াছে, তাহা হইলে আদালত অবিলম্বে তাহার দায়মুক্তির আদেশ প্রদান করিবে৷
(৫) উপ-ধারা (৪) এর অধীনে কোন দায়মুক্তির আদেশ প্রদান করা না হইলে, দেউলিয়া তাহার দায়মুক্তির জন্য আদালতের নিকট একটি স্বতন্ত্র আবেদন করিতে পারিবেন এবং আদালত তত্সম্পর্কে একটি শুনানীর তারিখ ধার্য করিবে, তবে ২৭(৩) ধারার অধীনে অনুষ্ঠিত দেনাদারের জিজ্ঞাসাবাদ সমাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত উক্ত শুনানী করা হইবে না৷
(৬) যদি দেনাদার বাংলাদেশের বাহিরে বসবাস করেন এবং আদালত মনে করে যে, সঙ্গতির অভাবে বা অন্য কোন সন্তোষজনক কারণে তিনি বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন করিতে অসমর্থ, অথবা যদি দেনাদার একজন উন্মাদ (lunatic) হন বা আদালত যদি মনে করে যে, দেনাদার এমন কোন দৈহিক বা মানসিক অসুস্থতা বা অক্ষমতায় ভুগিতেছেন যে, প্রকাশ্য জিজ্ঞাসাবাদে উপস্থিত থাকিবার জন্য তিনি উপযুক্ত নহেন, তাহা হইলে আদালত জিজ্ঞাসাবাদ হইতে তাহাকে অব্যাহতি দিতে বা আদালতের বিবেচনামতে যথাযথ শর্তাধীনে, পদ্ধতিতে এবং স্থানে তাহাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নির্দেশ দিতে পারিবে৷
(৭) দায়মুক্তির আবেদন সম্পর্কে শুনানীর জন্য আদালতের নথিতে লিপিবদ্ধ প্রত্যেক পাওনাদারকে বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে এবং এইরূপ কোন বিধি না থাকিলে আদালত কর্তৃক নির্দেশিত পদ্ধতিতে নোটিশ প্রদান করিতে হইবে৷
(৮) শুনানীর সময় আদালত আবশ্যিকভাবে রিসিভারের বক্তব্য শুনিবে এবং কোন পাওনাদারের বক্তব্যও শুনিতে পারে, এবং আদালত প্রয়োজন মনে করিলে দেনাদারকে কোন প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করিতে এবং সাক্ষ্য গ্রহণ করিতে পারেন৷
দায়মুক্তি প্রভাবিত করিতে পারে এমন বিষয়সমূহ
৪৮৷ (১) ধারা ৪৭(৫) এর অধীনে দাখিলকৃত আবেদনপত্রের শুনানীকালে, আদালত-
(২) আদালত দায়মুক্তির আদেশ প্রদানের আবেদন প্রত্যাখ্যান করিতে অথবা এইরূপ আদেশ প্রদত্ত হইলে উহার কার্যকারিতা নির্ধারিত মেয়াদের জন্য স্থগিত করিতে পারিবে, যদি আদালত এই মর্মে সন্তুষ্ট হয় যে-
তবে শর্ত থাকে যে, আদালত উহার নথিতে লিপিবদ্ধ মোট দেনার অন্ততঃ ৫০% এর সমপরিমাণ অর্থ দেনাদার কর্তৃক আদালতে জমাকরণের শর্ত সাপেক্ষে উক্ত স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের আদেশ দিতে পারে৷
(৩) এই ধারার অধীনে প্রদত্ত কোন শর্তযুক্ত আদেশ প্রদানের তারিখ হইতে দুই বত্সর অতিক্রান্ত হওয়ার পর যে কোন সময় আদালত যদি সংশ্লিষ্ট দায়গ্রস্ত দেউলিয়ার ব্যাপারে এই মর্মে সন্তুষ্ট হয় যে, উক্ত আদেশের শর্ত পালন করার মত অবস্থায় আসার সম্ভাবনা তাহার নাই, তাহা হইলে আদালত, উহার বিবেচনামতে উপযুক্ত পদ্ধতিতে এবং শর্তসাপেক্ষে, উক্ত আদেশ বা পরবর্তী কোন আদেশ সংশোধন করিতে পারিবে৷
(৪) উপ-ধারা (২) (খ) তে উল্লিখিত ঘটনাসমূহ হইতেছে এই যে,-
(৫) এই ধারার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে রিসিভারের প্রতিবেদন উহাতে উল্লিখিত ঘটনাসমূহের ব্যাপারে প্রাথমিক সাক্ষ্য বলিয়া গণ্য করিতে হইবে৷
(৬) দেউলিয়া বিষয়ক কার্যধারায় প্রমাণযোগ্য যে দেনা দায়মুক্তির আদেশ প্রদানের তারিখে অপরিশোধিত থাকে তত্সম্পর্কে বা উহার অংশ-বিশেষ সম্পর্কে আদালত, এই ধারার অধীন আরোপণীয় অন্যতম শর্ত হিসাবে, দেনাদারকে এইরূপ নির্দেশ দিতে পারিবে যে, তিনি উক্ত অপরিশোধিত দেনা বা উহার অংশ-বিশেষ সম্পর্কে রিসিভারের সিদ্ধান্তে সম্মতি দিবেন৷
(৭) দেনাদার উপ-ধারা (৬) এর বিধান মোতাবেক রিসিভারের কোন সিদ্ধান্তে সম্মতি প্রদান করিলে, উক্ত উপ-ধারায় উল্লিখিত অপরিশোধিত দেনা বা উহার অংশ-বিশেষ আদায়ের জন্য, আদালতের অনুমতি ব্যতীত, কোন কার্যধারা গ্রহণ করা যাইবে না; এবং আদালত এইরূপ অনুমতি প্রদান করিতে পারিবে, যদি উহা প্রমাণিত হয় যে, দেনাদারের দায়মুক্তির পর তাহার অর্জিত সম্পত্তি বা আয় উক্ত দেনা বা উহার অংশ-বিশেষ পরিশোধের জন্য পর্যাপ্ত৷
(৮) এই ধারার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে নিম্্নরূপ ধারণাগুলি (Presumptions) প্রযোজ্য হইবে, যথা:-
তবে শর্ত থাকে যে, কোন নির্দিষ্ট তারিখে দেনাদার নিজেকে দেউলিয়ারূপে জানিতেন কিনা, অথবা তাহার উক্তরূপ বিশ্বাস করিবার কারণ ছিল কিনা তাহা নিরূপণের ক্ষেত্রে, উক্ত তারিখে তাহার যে সকল দেনা বার মাসের অধিককালব্যাপী অপরিশোধিত ছিল সেই সকল দেনা পূর্বোক্ত সম্পত্তিগুলির (assets) মূল্যমান হইতে বাদ দিতে হইবে;
দায়মুক্তির আবেদন না করা, ইত্যাদির ফলাফল
৪৯৷ (১) যদি-
তাহা হইলে আদালত উক্ত দেনাদারকে দায়গ্রস্ত দেউলিয়া বলিয়া ঘোষণা করিয়া একটি আদেশ প্রদান করিবে৷
(২) এই অধ্যাদেশের অধীনে কোন দেনাদার কারাগার বা অন্য কোন হেফাজত হইতে মুক্তি লাভের পর উপ-ধারা (১) এর অধীনে দায়গ্রস্ত দেউলিয়া ঘোষিত হইলে, এবং আদালত যথাযথ মনে করিলে দেনাদারকে উক্ত কারাগার বা হেফাজতে পুনঃসোপর্দ করিতে পারিবে এবং তদনুসারে উক্ত কারাগারের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তাহার হেফাজতে রাখিবার উদ্দেশ্যে দেনাদারকে গ্রহণ করিতে বাধ্য থাকিবেন; এইরূপ ক্ষেত্রে দেনাদারের মুক্তি লাভের পূর্বে তাহাকে দৈহিকভাবে আটক অবস্থায় রাখার ব্যাপারে যে ব্যবস্থা বলবত্ ছিল, তাহা পুনঃসোপর্দ করার পরও বলবত্ আছে বলিয়া গণ্য হইবে৷
দায়গ্রস্ত দেউলিয়া
৫০৷ (১) যে ক্ষেত্রে কোন দেউলিয়া ঘোষণাদেশ প্রদান করা হয়, সেক্ষেত্রে-
(২) একজন দায়গ্রস্ত দেউলিয়া-
(৩) কোন দায়গ্রস্ত দেউলিয়া-
দায়মুক্তি আদেশের ফলাফল
৫১৷ (১) দায়মুক্তি আদেশের কারণে দেনাদার নিম্্নবর্ণিত কোন দেনার দায় হইতে অব্যাহতি লাভ করিবেন না, যথা:-
তবে শর্ত থাকে যে, সরকার, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, যে শ্রেণীর দেনাকে এতদুদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট করিবে, আদালত ঐ শ্রেণীর দেনার ব্যাপারে দায়মুক্তির আদেশ প্রদান করিতে পারিবে;
(২) দায়মুক্তি আদেশের ফলে দেনাদার, উপ-ধারা (১) এর বিধান সাপেক্ষে, এই আইনের অধীন প্রমাণযোগ্য সকল দেনার ব্যাপারে দায়মুক্ত হইবেন৷
(৩) কোন দায়মুক্তি আদেশের ফলে এইরূপ কোন ব্যক্তি দায়মুক্ত হইবেন না, যিনি, আর্জি দাখিলের তারিখে, দেনাদারের অংশীদার অথবা সহ-ট্রাষ্টী ছিলেন অথবা কোন চুক্তির আওতায় দেনাদারের সহিত যৌথভাবে দায়বদ্ধ ছিলেন বা যৌথভাবে চুক্তি সম্পাদন করিয়াছিলেন অথবা দেনাদারের জামিনদার (surety) ছিলেন৷
(৪) কোন দায়মুক্তি আদেশ দেনাদারের দেউলিয়াত্বের এবং সংশ্লিষ্ট দেউলিয়া বিষয়ক কার্যধারার বৈধতার চূড়ান্ত সাক্ষ্য হইবে, এবং দায়মুক্তি প্রদত্ত দেনা বা দাবী সম্পর্কিত অপর যে কোন কার্যধারায় দেনাদার দাবী করিতে পারিবেন যে, দেউলিয়া বিষয়ক কার্যধারাটি সূচিত হওয়ার কারণ ঘটিয়াছিল, এবং তিনি আরও দাবী করিতে পারিবেন যে, আর্জি দাখিলের পূর্বেই উক্ত দেনা বা দাবী উদ্ভূত হইয়াছিল এবং দায়মুক্তি আদেশের দ্বারা উক্ত দেনা বা দায় সম্পর্কিত অপর কার্যধারাটি বারিত৷
(৫) কোন দেনাদারের দায়মুক্তি সত্ত্বেও, রিসিভারে ন্যস্ত এবং তত্কর্তৃক উদ্ধারযোগ্য সম্পত্তি উদ্ধারের ব্যাপারে রিসিভার যেইরূপ সহায়তা করার জন্য নির্দেশ দেন, সেইরূপ সহায়তা করিতে উক্ত দেনাদার বাধ্য থাকিবেন এবং দেনাদার উহাতে ব্যর্থ হইলে, তিনি অনধিক ১ (এক) বত্সরের কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন, এবং আদালত যথাযথ বিবেচনা করিলে দায়মুক্তি আদেশ প্রত্যাহার করিতে পারিবে, তবে দায়মুক্তি আদেশ প্রদানের পর হইতে উহার প্রত্যাহার পর্যন্ত যথাযথভাবে সম্পাদিত কোন বিক্রয়, হস্তান্তর, অর্থ পরিশোধ বা কৃত অন্য কিছুর বৈধতা উক্তরূপ প্রত্যাহারের ফলে ক্ষুণ্ন হইবে না৷
ভবিষ্যতে পরিশোধযোগ্য দেনা
৫২৷ একজন পাওনাদার এমন দেনাও প্রমাণ করিতে পারিবেন যাহা দেনাদারকে দেউলিয়া ঘোষণার তারিখে পরিশোধযোগ্য না হইলেও পরবর্তী কোন তারিখে পরিশোধযোগ্য, এবং উক্ত পাওনাদার অন্যান্য পাওনাদারের সহিত সমভাবে বণ্টিত সম্পদ (dividend) গ্রহণ করিতে পারিবেন, তবে উক্ত বণ্টিত সম্পদ নির্ধারিত হওয়ার পর হইতে দেনাটি চুক্তির শর্তানুযায়ী, পরিশোধযোগ্য হওয়ার সময় পর্যন্ত মেয়াদের জন্য বণ্টিত সম্পদের উপর শতকরা বার্ষিক প্রচলিত ব্যাংক রেইট হইতে ২% বেশী হারে সুদ বাদ দিয়া নির্ধারিত বণ্টিত সম্পদের অবশিষ্টাংশ পাওনাদারকে পরিশোধ করিতে হইবে৷
পারষ্পরিক লেন-দেন এবং সমন্বয় সাধন
৫৩৷ যে ক্ষেত্রে দেনাদার এবং এই আইনের অধীনে দেনা প্রমাণকারী বা প্রমাণের দাবীকারী কোন পাওনাদারের মধ্যে পারস্পরিক লেন-দেন হইয়াছে, সে ক্ষেত্রে উক্ত লেন-দেনের কারণে এক পক্ষের নিকট হইতে অন্য পক্ষের পাওনার একটি হিসাব তৈরী করিতে হইবে, এবং এক পক্ষের নিকট পাওনা অর্থের সহিত অন্য পক্ষের নিকট পাওনা অর্থের সমন্বয় সাধন (set-off) করিতে হইবে, এবং হিসাব অনুসারে বাকী অর্থ সংশ্লিষ্ট যে কোন পক্ষ দাবী করিতে পারিবে বা উহা পাওয়ার অধিকারী পক্ষকে উহা পরিশোধ করিতে হইবে৷
জামানতধারী (secured) পাওনাদার
৫৪৷ (১) কোন জামানতধারী পাওনাদার তাহার জামানত আদায় করিয়া থাকিলে, আদায়কৃত নীট অর্থ বাদে বাকী পাওনা সম্পর্কে তিনি সাক্ষ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করিতে পারিবেন৷
(২) কোন পাওনাদার দেউলিয়া ঘোষণাদেশ প্রদান তারিখের পূর্বে তাহার জামানত সম্পূর্ণ বা আংশিক আদায় না করিয়া থাকিলে, জামানত-সাপেক্ষ সম্পত্তি, ধারা ৩১(২)-এর বিধান সত্ত্বেও, উক্ত তারিখে রিসিভারে বা, ক্ষেত্রমত, আদালতে আপনা-আপনি ন্যস্ত হইবে, এবং উক্ত সম্পত্তির দখল অবিলম্বে গ্রহণ করিতে হইবে৷
(৩) রিসিভার, আদালতের কোন নির্দেশ সাপেক্ষে, উক্ত সম্পত্তির যে আদায়যোগ্য মূল্য চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করেন, তাহা যদি-
(৪) কোন জামানতধারী পাওনাদার তাহার জামানতের দাবী বণ্টনযোগ্য সম্পদের অনুকূলে পরিত্যাগ করিলে তিনি তাহার সম্পূর্ণ পাওনা প্রমাণ করিতে পারিবেন৷
(৫) কোন জামানতধারী পাওনাদারের দাবীকৃত পাওনা অপেক্ষা উপ-ধারা (৩)(খ)(আ)-এর অধীনে তত্কর্তৃক প্রাপ্ত সম্পত্তির মূল্য যতটুকু কম হয় ততটুকু তিনি বণ্টনযোগ্য সম্পদ হইতে দাবী করিতে পারিবেন৷
(৬) উপ-ধারা (৩)(খ)(আ)-এর বিধান কার্যকর করার জন্য আদালত প্রয়োজনীয় স্বত্ব দলিল সম্পাদন করিবে এবং এতদুদ্দেশ্যে উহা আদালতের সীল-মোহরাংকিত করিয়া প্রয়োজনীয় আদেশ প্রদান করিবে; এবং এইরূপ দলিল প্রস্তুতকরণ এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে নিবন্ধন খরচ প্রদান করিবেন এবং সংশ্লিষ্ট ক্রেতা বা, ক্ষেত্রমত, পাওনাদার উক্ত খরচ প্রদানে ব্যর্থ হইলে, উক্ত সম্পত্তি ধারা ৩১(২) এর বিধান অনুযায়ী রিসিভারের বা, ক্ষেত্রমত, আদালতে ন্যস্ত থাকিবে৷
সুদ
৫৫৷ (১) যেক্ষেত্রে কোন দেনার উপর প্রদেয় সুদ নির্ধারিত না থাকে বা তত্সম্পর্কে কোন সম্মতি না থাকে এবং উক্ত দেনা বা অর্থ পরিশোধের মেয়াদ দেউলিয়া ঘোষণাদেশ প্রদানের তারিখের পূর্বেই উত্তীর্ণ হইয়া থাকে এবং উহা এই আইনের অধীন প্রমাণযোগ্য দেনা হয় সেইক্ষেত্রে পাওনাদার উক্ত দেনার উপর বার্ষিক অনধিক প্রচলিত ব্যাংক রেইট হইতে ২% বেশী হারে সুদের দাবী প্রমাণ করিতে পারিবেন, যদি-
(২) এই আইনের অধীনে প্রমাণিত কোন দেনার মধ্যে যদি সুদ বা সুদের পরিবর্তে অন্য আর্থিক সুবিধা অন্তর্ভুক্ত থাকে, তবে বণ্টনযোগ্য অংশ (dividend) নির্ধারণের উদ্দেশ্যে, বার্ষিক অনধিক প্রচলিত ব্যাংক রেইট হইতে ২% বেশী হারে উক্ত সুদ বা সুবিধার পরিমাণ নির্ণয় করিতে হইবে, কিন্তু এইরূপ নির্ধারণের ফলে বণ্টনযোগ্য সম্পদ হইতে উচ্চতর হারে সুদ লাভের জন্য পাওনাদারের অধিকার ক্ষুণ্ন হইবে না, যদি এই আইনের অধীন দেনাদারের বিরুদ্ধে প্রমাণিত যাবতীয় দেনা সম্পূর্ণরূপে পরিশোধের পরও কোন বণ্টনযোগ্য সম্পদ থাকে৷
প্রমাণের পদ্ধতি
৫৬৷ (১) কোন দেনার সত্যতা প্রতিপাদন করতঃ (verify) একটি এফিডেভিট আদালতে দাখিল করিয়া বা রেজিষ্টার্ড ডাকযোগে প্রেরণ করিয়া উক্ত দেনা প্রমাণ করা যাইবে৷
(২) উক্ত এফিডেভিটে দেনার একটি হিসাব বিবরণী থাকিতে হইবে অথবা উক্ত বিবরণীর উল্লেখ থাকিতে হইবে; এবং উক্ত দেনা প্রমাণের জন্য কোন দলিল থাকিলে উহাও এফিডেভিটে উল্লেখ করিতে হইবে; এবং আদালত যেকোন সময় এইরূপ দলিল দাখিলের নির্দেশ দিতে পারিবে৷
তফসিল হইতে কোন দেনা বর্জন, ইত্যাদি
৫৭৷ (১) যদি রিসিভার মনে করেন যে, তফসিলে কোন দেনা বা তত্সংক্রান্ত কোন তথ্য যথাযথভাবে অন্তর্ভুক্ত হয় নাই, তাহা হইলে তিনি উক্ত দেনা বা তথ্য তফসিল হইতে বর্জন বা সংশোধনের জন্য আদালতে আবেদন করিবেন, এবং আদালত, সংশ্লিষ্ট পাওনাদার ও দেনাদারকে নোটিশ প্রদান এবং, আদালতের বিবেচনামতে প্রয়োজনীয় অনুসন্ধানের পর, উক্ত দেনা বা তথ্য তফসিল হইতে বর্জন বা সংশোধন করিতে বা দেনার পরিমাণ কমাইয়া দিতে পারিবে৷
(২) রিসিভার উপ-ধারা (১) এর অধীনে আবেদন না করিলে, কোন পাওনাদার বা পাওনাদার কমিটির আবেদনক্রমে, অথবা আপোষ-মিমাংসা, পুনর্বিন্যাস পরিকল্পনা বা পুনর্গঠন পরিকল্পনার ক্ষেত্রে দেনাদারের আবেদনক্রমে, আদালত উক্ত উপ-ধারায় উল্লিখিত নোটিশ ও অনুসন্ধানের পর উক্ত দেনা বা তত্সংক্রান্ত কোন তথ্য বর্জন বা সংশোধন করিতে বা দেনার পরিমাণ কমাইয়া দিতে পারিবে৷
ডিক্রী বাস্তবায়নকালে পাওনাদারের অধিকারের উপর বাধা-নিষেধ
৫৮৷ (১) যে ক্ষেত্রে কোন দেনাদারের সম্পত্তির বিরুদ্ধে কোন ডিক্রী বাস্তবায়ন (execution) এর আদেশ প্রদান করা হইয়াছে, সেই ক্ষেত্রে রিসিভারের বিপরীতে কোন ব্যক্তিই উক্ত ডিক্রীর বাস্তবায়নজনিত সুবিধা লাভের অধিকারী হইবেন না, তবে আর্জি দাখিলের তারিখের পূর্বেই উক্ত ডিক্রী বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় বিক্রিত বিষয়-সম্পত্তির বিক্রয়লব্ধ অর্থ ইহার ব্যতিক্রম হইবে৷
(২) যে সম্পত্তির বিরুদ্ধে উক্ত ডিক্রী বাস্তবায়ন করা হইয়াছে, সেই সম্পত্তির ব্যাপারে জামানতধারী পাওনাদারের অধিকারকে এই ধারার বিধান খর্ব করিবে না৷
(৩) ডিক্রী বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় কোন ব্যক্তি সরল বিশ্বাসে দেনাদারের কোন সম্পত্তি ক্রয় করিয়া থাকিলে, তিনি, রিসিভারের বিপরীতে সকল ব্যাপারে, উত্তম স্বত্ব অর্জন করিয়াছেন বলিয়া গণ্য করিতে হইবে৷
দেনাদারের সম্পত্তির ব্যাপারে ডিক্রী বাস্তবায়নকারী আদালতের কর্তব্য
৫৯৷ যে ক্ষেত্রে কোন ডিক্রী বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় দেনাদারের বিক্রয়যোগ্য সম্পত্তির বিরুদ্ধে ডিক্রী প্রদান করা হইয়াছে এবং উক্ত সম্পত্তি বিক্রয়ের পূর্বে উক্ত ডিক্রী বাস্তবায়নকারী আদালতকে এই মর্মে নোটিশ দেওয়া হইয়াছে, যে, উক্ত দেনাদার কর্তৃক বা তাহার বিরুদ্ধে ধারা ১০ এর অধীনে আর্জি দাখিল করা হইয়াছে, সেই ক্ষেত্রে উক্ত আদালত উক্ত সম্পত্তির দখল সংশ্লিষ্ট রিসিভারের নিকট অর্পণ করিবে, যদি উহা সেই সময় আদালতের দখলে থাকে, তবে এইরূপ ক্ষেত্রে উক্ত ডিক্রী প্রদায়ক মামলা এবং উহা বাস্তবায়নের জন্য কৃত খরচ উক্তরূপে অর্পণকৃত সম্পত্তির উপর প্রথম চার্জ হইবে এবং এই চার্জের দায় মিটানোর জন্য রিসিভার উক্ত সম্পত্তি বা উহার অংশ-বিশেষ বিক্রয় করিতে পারিবেন৷
কতিপয় হস্তান্তর রহিতকরণ
৬০৷ (১) দেউলিয়া ঘোষণাদেশ প্রদান তারিখের অব্যবহিত পূর্ববর্তী ১৫ (পনর) বত্সরের মধ্যে সম্পাদিত দেনাদারের কোন সম্পত্তির হস্তান্তর, তাহা স্বয়ং দেনাদার বা তাহার আইনানুগ প্রতিনিধি বা তাহার উত্তরাধিকারী বা কোন ব্যবস্থাপক (administrator) বা অন্য কোন ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তি যাহার দ্বারাই সম্পাদিত হউক না কেন, আদালত আদেশ দ্বারা রহিত করিতে পারিবে, যদি উহা এই মর্মে সন্তুষ্ট হয় যে, উক্ত হস্তান্তরের উদ্দেশ্য ছিল কোন দেনাদারের দেনা পরিশোধ ব্যর্থ করা:
তবে শর্ত থাকে যে, নিম্্নবর্ণিত হস্তান্তরগুলির ক্ষেত্রে উক্তরূপ রহিতকরণ প্রযোজ্য হইবে না, যথা:-
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীনে কোন সম্পত্তির হস্তান্তর রহিত করিয়া আদেশ প্রদান করা হইলে, উক্ত সম্পত্তি বণ্টনযোগ্য সম্পদের অংশ হইবে এবং উহা আপনা-আপনি রিসিভারে বা, ক্ষেত্রমত, আদালতে ন্যস্ত হইয়াছে বলিয়া গণ্য করিতে হইবে, এবং তদনুসারে অবিলম্বে উহার দখল গ্রহণ করিতে হইবে৷
অগ্রাধিকার রহিতকরণ
৬১৷ (১) যেক্ষেত্রে-
সেই ক্ষেত্রে, উক্তরূপে সম্পাদিত হস্তান্তর বা অর্থ পরিশোধ বা অর্জিত দায় বা উক্ত কার্যধারার ফলাফল, রিসিভারের ব্যাপারে, প্রতারণামূলক এবং ফলবিহীন (void) বলিয়া গণ্য করিতে হইবে, এবং আদালত উক্ত হস্তান্তর, অর্থ পরিশোধ, দায় বা বিচার কার্যধারার ফলাফল রহিত করিবে, এবং তত্প্রেক্ষিতে রিসিভার হস্তান্তরিত সম্পত্তি বা পরিশোধিত অর্থ উদ্ধার করিবেন:
তবে শর্ত থাকে যে, আদালত এমন কোন অর্থ পরিশোধ রহিত করিবে না যাহা ব্যবসায়ের স্বাভাবিক গতিতে কোন পাওনাদারকে প্রদান করা হইয়াছে, অথবা নিয়মিত পণ্য বা সেবার সরবরাহকারী হিসাবে পাওনাদার দেনাদারকে ধারে কোন অতিরিক্ত পণ্য বা সেবা সরবরাহ করিয়া থাকিলে উহার দরুণ দেনাদার যে অর্থ পরিশোধ করেন তাহাও আদালত রহিত করিবে না৷
(২) যিনি, দেউলিয়ার কোন পাওনাদারের মাধ্যমে বা অধীনে, সরল বিশ্বাসে এবং উপযুক্ত মূল্যবিশিষ্ট পণ্যের বিনিময়ে কোন স্বত্ব অর্জন করিয়াছেন, তাহার অধিকার এই ধারার বিধানের কারণে খর্ব হইবে না৷
রহিতকরণের জন্য আবেদনকারী ব্যক্তি
৬২৷ কোন হস্তান্তর, অর্থ পরিশোধ, দায়বদ্ধতা বা বিচার কার্যধারার ফলাফল ধারা ৬০ বা ৬১ এর অধীনে রহিতকরণের জন্য কেবল রিসিভার বা পাওনাদার কমিটি, যদি না থাকে, আবেদন করিতে পারিবেন, অথবা কোন পাওনাদার যদি তাহার পাওনা প্রমাণ করিয়া থাকেন, এবং আদালতকে এই মর্মে সন্তুষ্ট করিতে পারেন যে, রিসিভার বা উক্ত কমিটি উক্তরূপ আবেদন করিতে বা আবেদন করার পর তত্সম্পর্কে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করিতে ব্যর্থ হইয়াছেন, তাহা হইলে, তিনিও আদালতের অনুমোদনক্রমে, আবেদন করিতে পারিবেন৷
সত্ উদ্দেশ্যে কৃত লেন-দেন রক্ষণ
৬৩৷ ধারা ৫৯, ৬০, ৬১ এবং ৬২-এর বিধান অনুযায়ী ব্যতীত, এই আইনের অন্য কোন বিধানের ফলে কোন দেউলিয়া বিষয়ক কার্যধারায় নিম্্নবর্ণিত বিষয়াবলীর বৈধতা ক্ষুণ্ন হইবে না, যথা:-
তবে শর্ত থাকে যে, উপরোক্ত বিষয়গুলির ব্যাপারে এই ধারায় প্রদত্ত সুবিধা অনুমোদনযোগ্য হইবে, যদি-
রিসিভার নিয়োগ, ইত্যাদি
৬৪৷ (১) আদালত দেউলিয়া ঘোষণাদেশ প্রদান করিবার পর, সরকার কর্তৃক সংরক্ষিত ও অনুমোদিত তালিকায় অন্তর্ভুক্ত রিসিভারগণের মধ্য হইতে এমন কোন ব্যক্তিকে রিসিভার নিয়োগ করিবেন যাহাকে আদালত উপযুক্ত মনে করে, এবং এইরূপ নিয়োগের ক্ষেত্রে নিম্নরূপ শর্তাবলী প্রযোজ্য হইবে:-
(২) কোন চিঠি-পত্র বা অন্য কোন দলিলে রিসিভারকে উল্লেখ করার ক্ষেত্রে, সংশ্লিষ্ট দেউলিয়া বিষয়ক কার্যধারার নম্বরসহ তাহার নাম এবং দেউলিয়া বিষয়ক আদালত ও দেনাদারের নাম উল্লেখ করিতে হইবে৷
(৩) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, আদালত-
(৪) আদালত, এতদুদ্দেশ্যে প্রণীত বিধি সাপেক্ষে, যে কোন সময় যে কোন রিসিভারকে এবং উপ-ধারা (৩) এর অধীনে আদালত কর্তৃক নিযুক্ত অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে অপসারণ করিতে পারিবে৷
রিসিভারের সাধারণ ক্ষমতা, কার্যাবলী ও দায়-দায়িত্ব
৬৫৷ (১) রিসিভার সংশ্লিষ্ট বণ্টনযোগ্য সম্পদের পক্ষে কার্য করিতে ও ধারা ৬৪(২) তে উল্লিখিত পরিচয়ে উক্ত সম্পদের পক্ষে মামলা করিতে পারিবেন, এবং উক্ত পরিচয়ে তাহার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা যাইবে; এবং উক্ত পরিচিতবলে তিনি যেকোন ধরণের সম্পত্তি ধারণ করিতে, চুক্তি সম্পাদন করিতে এবং বণ্টনযোগ্য সম্পদের পক্ষে বা বিপক্ষে উত্থাপিত দাবীর ব্যাপারে আপোষ-মিমাংসা করিতে বা বিষয়টি শালিসীতে প্রেরণ করিতে, বণ্টনযোগ্য সম্পদের উপর বাধ্যকর হয় এমন যেকোন ব্যবস্থায় অংশগ্রহণ করিতে এবং তাহার পদের দায়িত্ব পালনের উদ্দেশ্যে প্রয়োজনীয় ও সমীচীন অন্য যেকোন কার্য সম্পাদন করিতে পারিবেন৷
(২) রিসিভার, আদালতের নির্দেশ সাপেক্ষে, বণ্টনযোগ্য সম্পদের পরিচালনা এবং উক্ত সম্পদ বা উহার কোন অংশ সংগ্রহ, বিক্রয় ও নিষ্পত্তি (liquidate) করিবেন এবং বিক্রয়লব্ধ অর্থ পাওনাদারগণও এই আইনের বিধান অনুসারে তাহা পাইবার অধিকারী অন্য কোন ব্যক্তির নিকট বণ্টন করিবেন৷
(৩) রিসিভার আদালতের সাধারণ নির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে স্বীয় দায়িত্ব পালন করিবেন৷
(৪) রিসিভার, আদালতের নির্দেশ সাপেক্ষে, বণ্টনযোগ্য সম্পদের যে কোন অবৈধ দখলদার বা হেফাজতকারীকে উচ্ছেদ করিবে; এবং এতদুদ্দেশ্যে রিসিভার, আদালতের মাধ্যমে, পুলিশ বা অন্য কোন কর্তৃপক্ষের সহায়তা গ্রহণ করিবার অধিকারী হইবেন:
তবে শর্ত থাকে যে, বণ্টনযোগ্য সম্পদ এবং পাওনাদারগণের সর্বোত্তম স্বার্থ বিবেচনায় আদালত এইরূপ কোন দখলদারের দখলে বা হেফাজতে সংশ্লিষ্ট সম্পত্তি রাখার অনুমতি দিতে পারে:
আরও শর্ত থাকে যে, আপাততঃ বলবত্ অন্য কোন আইনের ভিন্নতর বিধান সত্ত্বেও, প্রাথমিকভাবে বণ্টনযোগ্য সম্পদের অংশরূপে প্রতীয়মান হয় এইরূপ সম্পত্তির দখল বা হেফাজতের বৈধতা সম্পর্কিত কোন প্রশ্ন নির্ধারণের এখ্তিয়ার কেবল দেউলিয়া বিষয়ক আদালতের এবং অন্য কোন আদালতের নহে৷
(৫) রিসিভার যদি-
তাহা হইলে, আদালত তাহার ব্যক্তিগত সম্পত্তি ক্রোক ও বিক্রয়ের আদেশ দিতে এবং বিক্রয়লব্ধ অর্থ হইতে উক্ত উদ্বৃত্ত বা ক্ষতিজনিত পাওনা আদায় করিতে পারিবে৷
রিসিভারের ফিস, ইত্যাদি
৬৬৷ (১) ধারা ৬৪(৩)(খ) এর বিধান এবং আদালতের অনুমোদন সাপেক্ষে, উদ্ধারকৃত বণ্টনযোগ্য সম্পদ বা উহার অংশ-বিশেষের বিক্রয়লব্ধ অর্থ হইতে রিসিভার নিম্্নবর্ণিত হারে ফিস পাওয়ার অধিকারী হইবেন, যথা:-
(২) ধারা ৭১(৪) এর অধীনে কোন পুরস্কার প্রদানের ব্যয়সহ বণ্টনযোগ্য সম্পদ বা উহার কোন অংশ-বিশেষ উদ্ধার ও বণ্টনের জন্য রিসিভার বাস্তবে কোন ব্যয় করিয়া থাকিলে তজ্জন্য তিনি প্রয়োজনীয় পুনর্ভরণ (reimbursement) পাওয়ার অধিকারী হইবেন৷
(৩) যেক্ষেত্রে রিসিভার কোন জামানতধারী পাওনাদার, বা উক্তরূপ পাওনাদার এবং বণ্টনযোগ্য সম্পদের স্বার্থে ৫৪ ধারার বিধান মোতাবেক কোন সম্পত্তি বিক্রয় করেন, সেইক্ষেত্রে তিনি সাধারণভাবে, ৫৪(৩)(খ) ধারার বিধান এবং আদালতের অনুমোদন সাপেক্ষে, উক্ত সম্পত্তির বিক্রয় মূল্যের অনধিক ৪% হারে ফিস পাওয়ার অধিকারী হইবেন এবং বিক্রয়লব্ধ বাকি অর্থ হইতে বিক্রয়ের খরচ বাদ দিয়া অবশিষ্ট অর্থ বণ্টনযোগ্য সম্পদের অন্তর্ভুক্ত করিতে হইবে৷
রিসিভার কর্তৃক জিজ্ঞাসাবাদ, ইত্যাদি
৬৭৷ (১) রিসিভার-
(২) একক ব্যক্তি নহে এইরূপ দেনাদারের ব্যাপারে তদন্ত যুক্তিসংগতভাবে সম্পন্ন হইলে, রিসিভার অবিলম্বে সেই সকল কর্মকর্তা, পরিচালক, অংশীদার, মালিক এবং অন্যান্য ব্যক্তির একটি তালিকা আদালতে দাখিল করিবেন যাহারা দেনাদারের সম্পত্তি হইতে কোন অবৈধ সুবিধালাভের কারণে বণ্টনযোগ্য সম্পদে প্রয়োজনীয় চাঁদা প্রদানের জন্য দায়ী (liable to contribute) বলিয়া প্রতীয়মান হয়৷
(৩) যেক্ষেত্রে তদন্তকালে রিসিভারের নিকট প্রতীয়মান হয় যে দেনাদার বা অন্য কোন ব্যক্তি এই আইনের অধীন অথবা দণ্ডবিধির ধারা ৪২১, ৪২২, ৪২৩ বা ৪২৪ এর অধীন কোন অপরাধ সংগঠন করিয়াছেন, সেইক্ষেত্রে তিনি, পাবলিক প্রসিকিউটরের সহিত পরামর্শক্রমে উক্ত দেনাদার বা অপর কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে ফৌজদারী কার্যধারা রুজু করিবেন; যদি তিনি মনে করেন যে, উক্ত কার্যধারায় দেনাদার বা উক্ত অপরাধ সংগঠনকারী দোষী সাব্যস্ত হওয়ার যুক্তিসংগত সম্ভাবনা রহিয়াছে৷
বণ্টনযোগ্য সম্পদের ব্যবস্থাপনা, ইত্যাদি
৬৮৷ (১) নিয়োগলাভের পর রিসিভার অবিলম্বে-
(২) বণ্টনযোগ্য সম্পদের যে সকল বিষয়-সম্পত্তি বা দলিলের দখল রিসিভার গ্রহণ করেন, এই আইনের বিধান অনুযায়ী পাওনাদারগণের সর্বোত্তম স্বার্থে এবং তাহাদের মধ্যে বণ্টনের উদ্দেশ্যে তিনি উহাদের সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা পরিচালনা করিবেন৷
(৩) উপ-ধারা (২) এর উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, রিসিভার পাওনাদারগণের অভিপ্রায়ের প্রতি যথাসম্ভব লক্ষ্য রাখিবেন এবং তাহাদের অভিপ্রায় নিরূপণকল্পে, তিনি-
দেনাদারের নিকট ঋণী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ
৬৯৷ (১) দেউলিয়া ঘোষণাদেশ প্রদত্ত হওয়ার পর যথাশীঘ্র সম্ভব, রিসিভার, দেউলিয়ার নিকট হইতে বা অন্য কোনভাবে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে, প্রাথমিকভাবে দেউলিয়ার নিকট ঋণী বলিয়া প্রতীয়মান হয় এইরূপ ব্যক্তিগণের একটি তালিকা প্রস্তুত করতঃ আদালতে পেশ করিবেন, উক্ত তালিকায় ঋণী ব্যক্তিদের নাম এবং তাহাদের প্রত্যেকের নিকট দেউলিয়ার প্রাপ্য ঋণের পরিমাণ বা পরিধি উল্লেখ থাকিবে৷
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন তালিকা পেশ করিবার পর, রিসিভার-
(৩) যে ক্ষেত্রে তালিকাভুক্ত কোন ব্যক্তি-
(৪) আদালত, উপ-ধারা (৩) এর অধীনে রিসিভারের অনুকূলে কোন আদেশ প্রদান করিলে, আইনজীবীর খরচসহ উক্ত কার্যধারার সামগ্রিক খরচ নির্ধারণ করিবেন এবং রিসিভার আদালত কর্তৃক নির্ধারিত ঋণের অতিরিক্ত পাওনা হিসাবে উক্ত খরচ আদায় করিবে৷
রিসিভার নিযুক্ত না হওয়ার ক্ষেত্রে আদালতের ক্ষমতা
৭০৷ কোন ক্ষেত্রে রিসিভার নিযুক্ত না হইলে বা রিসিভার পদ শূন্য হইলে, এই আইনের অধীনে রিসিভার কর্তৃক প্রয়োগযোগ্য সকল অধিকার ও ক্ষমতা আদালত প্রয়োগ করিতে পারিবে৷
রিসিভারের কতিপয় ক্ষমতা ও দায়িত্ব
৭১৷ (১) রিসিভার এই আইনের বিধানাবলী সাপেক্ষে, যথাক্রমে দ্রুততার সহিত বণ্টনযোগ্য সম্পদের সকল বিষয়-সম্পত্তি উদ্ধার করিবেন এবং উহা, পাওনাদারগণের অধিকারের ভিত্তিতে, তাহাদিগকে বণ্টিত অংশরূপে (dividends) প্রদান করিবেন, এবং এতদুদ্দেশ্যে তিনি-
(২) আদালতের কোন সাধারণ বা বিশেষ নির্দেশ সাপেক্ষে, পাওনাদারগণের সর্বোত্তম স্বার্থে উপযুক্ত বিবেচনা করিলে, রিসিভার-
(৩) আর্জি দাখিলের তারিখের পূর্বে কোন সম্পত্তি দেনাদার হস্তান্তর করিয়া থাকিলে বা তাহার নিকট হইতে গৃহীত হইয়া থাকিলে, রিসিভার উক্ত সম্পত্তি ৫৯, ৬০, ৬১ ও ৬২ ধারার আওতায় পুনরুদ্ধার করিবেন৷
(৪) কোন সম্পত্তির অবস্থান নির্ধারণ বা তাহা উদ্ধারের ব্যাপারে রিসিভারের জন্য সহায়ক হয় এইরূপ কোন তথ্য দেনাদার ব্যতীত অন্য কোন ব্যক্তির নিকট হইতে পাওয়া গেলে, রিসিভার, আদালতের অনুমতিক্রমে, বাস্তবে উদ্ধারকৃত সম্পত্তির মূল্যের অনধিক ১৫% এর সমপরিমাণ অর্থ পুরস্কার হিসাবে উক্ত ব্যক্তিকে প্রদান করিতে পারিবেন৷
দেউলিয়ার সম্পত্তির ব্যাপারে তথ্য তলবের ক্ষমতা
৭২৷ (১) দেউলিয়া ঘোষণাদেশ প্রদত্ত হওয়ার পরে যেকোন সময় পাওনাদার কমিটি কিংবা পাওনা প্রমাণকারী কোন পাওনাদারের আবেদনক্রমে, আদালত বা রিসিভার-
(২) উক্তরূপ নির্দেশ এবং আদালতে তাহার হাজির হওয়ার খরচ বাবদ যুক্তিসংগত অর্থ প্রদানের প্রস্তাব সত্ত্বেও যদি কোন ব্যক্তি আদালত বা রিসিভারের নিকট নির্ধারিত সময়ে হাজির হইতে ব্যর্থ হন বা অস্বীকার করেন, অথবা এমন কোন দলিল পেশ করিতে ব্যর্থ হন বা অস্বীকার করেন যাহা পেশ করার ব্যাপারে আইনগত কোন বাধার বিষয় আদালত বা রিসিভারকে জানানো হয় নাই এবং তত্কর্তৃক তাহা অনুমোদিত হয় নাই, তাহা হইলে আদালত বা রিসিভার গ্রেফতারী পরোয়ানা দ্বারা তাহাকে গ্রেফতার করাইতে এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাহাকে আনয়ন করাইতে পারিবেন৷
(৩) এই ধারার বিধান অনুসারে কোন ব্যক্তি উপস্থিত বা আনীত হইলে, আদালত বা রিসিভার তাহাকে দেনাদার বা দেনাদারের লেন-দেন বা কোন সম্পত্তি বা বণ্টনযোগ্য সম্পদ সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করিতে পারিবেন এবং এতদুদ্দেশ্যে উক্ত ব্যক্তি আইনজীবীও নিয়োগ করিতে পারিবেন৷
রিসিভারের প্রতি নির্দেশনা
৭৩৷ রিসিভার এই আইনের বিধানাবলী সাপেক্ষে-
সরকারী রিসিভার
৭৪৷ (১) সরকার উহার বিবেচনামতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক ব্যক্তিকে, নির্ধারিত এলাকা এবং নির্ধারিত শ্রেণীর দেউলিয়া বিষয়ক কার্যধারার ব্যাপারে, রিসিভার হিসাবে নিয়োগ করিতে পারিবেন; এইরূপ রিসিভারগণ সরকারী রিসিভার নামে অভিহিত হইবেন৷
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীনে কোন সরকারী রিসিভার নিযু্ক্ত হইলে, তিনি উক্ত উপ-ধারার অধীনে তাহার জন্য নির্ধারিত স্থানীয় অধিক্ষেত্রে উদ্ভূত প্রতিটি দেউলিয়া বিষয়ক কার্যধারার জন্য রিসিভার বা, ক্ষেত্রমত, অন্তর্বতী রিসিভার হইবেন, যদি না আদালত লিখিত কারণ উল্লেখপূর্বক ভিন্নরূপ আদেশ প্রদান করে৷
(৩) ধারা ৬৬-এর বিধানে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, সরকারী রিসিভার সময় সময় সরকার কর্তৃক নির্ধারিত পারিশ্রমিক পাইবেন, এবং আদালতের অনুমতি ব্যতীত, তিনি উক্তরূপে নির্ধারিত পারিশ্রমিকের অতিরিক্ত কোন পারিশ্রমিক গ্রহণ করিতে পারিবেন না৷
দেনাসমূহের অগ্রাধিকার নির্ধারণ, ইত্যাদি
৭৫৷ (১) বণ্টনযোগ্য সম্পদ বিলিবণ্টনের সময়; পাওনাদারগণের প্রাপ্য বণ্টনযোগ্য অংশ প্রদানের পূর্বে, রিসিভার যে সকল প্রয়োজনীয় খরচ করিয়াছেন তাহাসহ প্রশাসনিক ব্যয় সর্বপ্রথমে পরিশোধ করিতে হইবে, এবং তত্পর ৬৬(১) ধারা বা, ক্ষেত্রমত, ৭৪(৩) ধারা মোতাবেক রিসিভারের প্রাপ্য ফিস পরিশোধ করিতে হইবে, অতঃপর, উপ-ধারা (২) এর বিধান সাপেক্ষে, নিম্্নবর্ণিত ক্রমানুসারে অন্যান্য বণ্টনযোগ্য অংশ প্রদেয় হইবে, যথা:-
(২) উপ-ধারা (১) এর (ক) ও (খ) দফায় বর্ণিত দেনা পরিশোধের পর, সকল ব্যাংক-ঋণ সম্পূর্ণরূপে এবং সকল জামানতবিহীন দাবীর ৫০% পরিশোধের জন্য পর্যাপ্ত বণ্টনযোগ্য সম্পদ না থাকিলে, জামানতবিহীন দাবীসমূহ যাহাতে ব্যাংক-ঋণের অন্ততঃ ৫০% অনুপাতে পরিশোধিত হয় তাহা নিশ্চিত করিবার জন্য ব্যাংক-ঋণকে প্রদত্ত অগ্রাধিকার প্রয়োজনীয় অনুপাতে হ্রাস পাইবে৷
(৩) উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত প্রতিটি শ্রেণীভুক্ত দাবী বা দেনা স্ব স্ব শ্রেণীতে সমমর্যাদা লাভ করিবে, এবং বণ্টনযোগ্য সম্পদ অপর্যাপ্ত না হইলে উহাদিগকে সম্পূর্ণরূপে পরিশোধ করিতে হইবে; এবং এতদুদ্দেশ্যে বণ্টনযোগ্য সম্পদ অপর্যাপ্ত হইলে একই শ্রেণীভুক্ত দাবী বা দেনাসমূহ সমানুপাতিক হারে হ্রাস পাইবে৷
(৪) প্রশাসনিক ব্যয় এবং রিসিভারের ফিস মিটানোর জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ সংরক্ষিত রাখার পর বণ্টনযোগ্য সম্পদ পর্যাপ্ততা অনুসারে উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত দেনা ও দাবীসমূহ অবিলম্বে পরিশোধ করিতে হইবে৷
(৫) দেনাদার কোন অংশীদারী প্রতিষ্ঠান (partnership firm) হইলে, উক্ত প্রতিষ্ঠানের দেনা মিটাইবার উদ্দেশ্যে প্রথমে উক্ত প্রতিষ্ঠান হইতে প্রাপ্ত বণ্টনযোগ্য সম্পদ প্রয়োগ করা হইবে এবং এইরূপ পরিশোধের জন্য উক্ত বণ্টনযোগ্য সম্পদ পর্যাপ্ত না হইলে, উক্ত প্রতিষ্ঠানের দায়দেনা মিটাইবার ক্ষেত্রে প্রত্যেক অংশীদারের যেরূপ দায়িত্ব থাকে তদনুসারে তাহার ব্যক্তিগত সম্পত্তি প্রয়োগ করা হইবে৷
(৬) উপ-ধারা (৫) অনুসারে অংশীদারগণের ব্যক্তিগত সম্পত্তি বা, ক্ষেত্রমত, প্রতিষ্ঠানের সম্পত্তি প্রয়োগের পর কোন উদ্বৃত্ত থাকিলে, উক্ত উদ্বৃত্ত প্রতিষ্ঠানের সম্পত্তি বলিয়া গণ্য হইবে এবং প্রতিষ্ঠানের প্রত্যেক অংশীদারের স্বত্ব বা অধিকারের অনুপাতে উক্ত উদ্বৃত্ত তাহাদের মধ্যে বিভাজ্য হইবে৷
(৭) এই ধারায় পূর্ববর্তী বিধানাবলী সাপেক্ষে তফসিলে লিপিবদ্ধ সকল দেনা, কোন অগ্রাধিকার ব্যতীত, উহার পরিমাণের ভিত্তিতে আনুপাতিক হারে পরিশোধ করিতে হইবে৷
(৮) সকল খরচ, দেনা ও দাবী পরিশোধের পর কোন উদ্বৃত্ত থাকিলে, উহা হইতে, দেনাদার দেউলিয়া ঘোষিত হওয়ার তারিখের পরবর্তী সময়ের জন্য, তফসিলে উল্লিখিত দেনাসমূহের উপর বার্ষিক অনধিক ৬% হারে সুদ পরিশোধ করিতে হইবে৷
বণ্টনযোগ্য অংশ নির্ধারণের পদ্ধতি, ইত্যাদি
৭৬৷ (১) রিসিভার নিম্্ন বর্ণিত দেনা ও বিষয়াদি সম্পর্কিত ব্যয় মিটানোর জন্য পর্যাপ্ত সম্পদ হাতে রাখিয়া বণ্টনযোগ্য অংশ নির্ধারণ করিবেন, যথা:-
(২) উপ-ধারা (১) এর বিধান সাপেক্ষে, প্রাপ্ত অর্থ হইতে বণ্টনযোগ্য অংশ যথাসম্ভব দ্রুততার সহিত সেই সকল পাওনাদারগণের নিকট প্রদান করা হইবে যাহাদের দাবী বিনা আপত্তিতে প্রমাণিত হইয়াছে৷
(৩) বণ্টনযোগ্য অংশ ঘোষণা এবং প্রদানের ব্যাপারে নিম্্নবর্ণিত পদ্ধতি অনুসরণ করিতে হইবে, যথা:-
রিসিভারকে দায়িত্ব হইতে অব্যাহতি প্রদান, ইত্যাদি
৭৭৷ (১) যে ক্ষেত্রে রিসিভার-
সেইক্ষেত্রে আদালত, তাহার আবেদনক্রমে বা অন্য কোন কারণে রিসিভারের কার্যাবলীর উপর একটি প্রতিবেদন প্রণয়নের জন্য তাহাকে বা অন্য কোন ব্যক্তিকে নির্দেশ প্রদান করিবে৷
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন প্রদত্ত সকল নির্দেশ পালিত হওয়ার পর, আদালত উক্ত প্রতিবেদন এবং রিসিভারের দায়মুক্তির বিরুদ্ধে কোন পাওনাদার বা স্বার্থবান অন্য কোন ব্যক্তির কোন আপত্তি থাকিলে তাহা বিবেচনার পর রিসিভারকে তাহার দায়িত্ব হইতে অব্যাহতি প্রদান করিবে বা উহা স্থগিত রাখিবে৷
(৩) রিসিভারের অব্যাহতি প্রদান স্থগিত রাখা হইলে, কোন পাওনাদার বা স্বার্থবান কোন ব্যক্তির আবেদনক্রমে, রিসিভারের কর্তব্য পালনের সূত্রে তাহার কার্যকলাপ বা ত্রুটিজনিত দায়দায়িত্ব নির্ধারণ করিয়া আদালত উহার বিবেচনামতে আদেশ প্রদান করিতে পারিবে৷
(৪) রিসিভারকে অব্যাহতি প্রদান করিয়া আদালত কোন আদেশ প্রদান করিলে, উহার ফলে তিনি, বণ্টনযোগ্য সম্পদ ব্যবস্থাপনার ব্যাপারে, তত্কর্তৃক সম্পাদিত কার্য বা সংগঠিত ত্রুটির দায়দায়িত্ব হইতে মুক্তিলাভ করিবেন, তবে যদি প্রমাণিত হয় যে, আদেশটি নিয়মবহির্ভূতভাবে (improperly) প্রদান করা হইয়াছে বা প্রতারণামূলকভাবে বা কোন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করিয়া হাসিল করা হইয়াছে, তবে উহা প্রত্যাহার করা যাইবে৷
(৫) যদি কোন দেনাদার বা পাওনাদার বা অন্য কোন ব্যক্তি রিসিভারের কোন কার্য বা সিদ্ধান্তের ফলে সংক্ষুদ্ধ হন, তাহা হইলে তিনি সেই মর্মে আদালতের নিকট আবেদন করিতে পারিবেন এবং আদালত উহার বিবেচনামতে যথাযথ আদেশ প্রদান করিতে পারিবে৷
(৬) যেক্ষেত্রে আদালত, স্বীয় উদ্যোগে বা কোন পাওনাদারের আবেদনক্রমে, এইরূপ বিবেচনা করে যে, রিসিভার বিশ্বস্ততার সহিত তাহার কর্তব্য পালন না করার বিষয়টি, অথবা তাহার উপর কোন আইন বা বিধি দ্বারা বা অন্য কোন প্রকারে আরোপিত শর্তাবলী যথাযথ পালন না করার বিষয়টি প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হইয়াছে, সেইক্ষেত্রে আদালত রিসিভারের উক্তরূপ আচরণ আমলে লইতে পারিবে, এবং বিষয়টি সম্পর্কে তদন্ত করিতে এবং উহার বিবেচনামত যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে পারিবে৷
(৭) দেউলিয়া বিষয়ক কার্যধারায় আদালত কর্তৃক অনুষ্ঠিত যে কোন তদন্তে জবাবদিহি করার জন্য রিসিভারকে নির্দেশ দিতে এবং তাহাকে বা তাহার অধীনস্থ কোন ব্যক্তিকে সত্য কথনের শপথ বাক্য পাঠ করাইয়া (on oath) জিজ্ঞাসাবাদ করিতে পারিবে৷
(৮) এই আইন বা তদধীন প্রণীত শর্তানুযায়ী রিসিভার যে সকল সাধারণ কর্তব্য পালন করিতে বাধ্য, তাহা তিনি অন্য কোন ব্যক্তির দ্বারা করাইলে তজ্জন্য তাহাকে ৬৬(১) ধারায় নির্ধারিত ফিসের অতিরিক্ত কোন অর্থ প্রদান করা হইবে না৷
বণ্টনযোগ্য অংশ ঘোষণার পূর্বে পাওনা প্রদান করেন নাই এইরূপ পাওনাদারের অধিকার
৭৮৷ বণ্টনযোগ্য অংশ ঘোষিত হওয়ার পূর্বে কোন পাওনাদার তাহার পাওনা প্রমাণ না করিয়া থাকিলে আপাততঃ রিসিভারের হাতে যে অর্থ থাকে সেই অর্থ হইতে, ভবিষ্যতে ঘোষিতব্য বণ্টনযোগ্য অংশ প্রদানের পূর্বে, উক্ত পাওনাদার তাহার প্রাপ্য বণ্টনযোগ্য অংশ পাওয়ার অধিকারী হইবেন, তবে তাহার পাওনা প্রমাণিত হওয়ার পূর্বে ঘোষিত কোন বণ্টনযোগ্য অংশ প্রদানে তিনি বাধা প্রদানের অধিকারী হইবেন না এবং উক্ত ঘোষণা প্রক্রিয়ায় তিনি অংশ গ্রহণ করিতে পারেন নাই তাহার এমন কোন অজুহাতও গ্রাহ্য হইবে না৷
চূড়ান্ত বণ্টনযোগ্য অংশ
৭৯৷ (১) রিসিভার বণ্টনযোগ্য সম্পদ সম্পূর্ণরূপে, কিংবা তাহার মতে দেউলিয়া বিষয়ক কার্যধারাকে অযথা বিলম্বিত না করিয়া উক্ত সম্পদের যে অংশ উদ্ধার সম্ভব, সেই অংশ উদ্ধার করিয়া থাকিলে, তিনি, উপ-ধারা (২) ও (৩) এর বিধান সাপেক্ষে, চূড়ান্ত বণ্টনযোগ্য অংশ ঘোষণা করিবেন৷
(২) রিসিভার, উপ-ধারা (১) এর অধীনে চূড়ান্ত বণ্টনযোগ্য অংশ ঘোষণার পূর্বে, বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে অথবা এইরূপ বিধি না থাকিলে আদালত কর্তৃক নির্দেশিত পদ্ধতিতে, এমন সকল ব্যক্তিকে নোটিশ প্রদান করিবেন যাহাদের দাবী আদালতের নথিতে লিপিবদ্ধ আছে কিন্তু প্রমাণিত হয় নাই, এবং এইরূপ নোটিশে তিনি উল্লেখ করিবেন যে, উক্ত ব্যক্তিগণ যদি তাহাদের দাবী নোটিশে উল্লেখিত সময়ের মধ্যে আদালতের সন্তুষ্টি মোতাবেক প্রমাণ না করেন, তাহা হইলে তিনি তাহাদের দাবী উপেক্ষা করিয়া চূড়ান্ত বণ্টনযোগ্য অংশ ঘোষণার উদ্যোগ গ্রহণ করিবেন৷
(৩) উক্ত নোটিশে উল্লিখিত সময়সীমা কিংবা কোন দাবীদারের আবেদনক্রমে আদালত কর্তৃক মঞ্জুরীকৃত হইলে অতিরিক্ত সময়সীমা অতিবাহিত হওয়ার পর, বণ্টনযোগ্য সম্পদ শুধুমাত্র সেই সকল পাওনাদারগণের মধ্যে বণ্টন করা হইবে যাহারা তাহাদের দাবী প্রমাণ করিয়াছেন এবং এইরূপ বণ্টনের ক্ষেত্রে অন্য যে কোন ব্যক্তির দাবী উপেক্ষা করা হইবে৷
বণ্টনযোগ্য সম্পদের জন্য মামলা দায়ের নিষিদ্ধ
৮০৷ (১) বণ্টনযোগ্য সম্পদের দাবীতে অন্য কোন আদালতে কোন স্বতন্ত্র মামলা দায়ের করা চলিবে না, তবে এই আইনের অধীন এখ্তিয়ার-সম্পন্ন আদালত, কোন পাওনাদারের আবেদনক্রমে, উক্ত অংশ প্রদানের জন্য রিসিভারকে আদেশ দিতে পারিবে৷
(২) কোন ক্ষেত্রে আদালত যদি মনে করে যে, রিসিভার কর্তৃক নিয়মবহির্ভূতভাবে আটকাইয়া রাখা কোন বণ্টনযোগ্য অংশ বা উহার উপর কোন সুদ এবং উক্ত অংশ প্রাপ্তির জন্য আবেদন বাবদ খরচ রিসিভারের ব্যক্তিগত উত্স হইতে আদায় করার যথাযথ কারণ রহিয়াছে, তাহা হইলে আদালত উক্ত সুদ ও খরচ পরিশোধের জন্য রিসিভারকে আদেশ দিতে পারিবে৷
দেউলিয়া কর্তৃক বণ্টনযোগ্য সম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং তজ্জনিত ভাতা
৮১৷ (১) দেউলিয়া কোন একক দেনাদার হইলে, পাওনাদারগণের কল্যাণার্থে বণ্টনযোগ্য সম্পদ বা উহার কোন অংশের ব্যবস্থাপনার তদারকী করার উদ্দেশ্যে অথবা উক্ত দেনাদারের কোন কারবার থাকিলে তাহা পরিচালনা করার উদ্দেশ্যে অথবা উক্ত সম্পদ ব্যবস্থাপনার অন্য কোন ব্যাপারে সহায়তা করার উদ্দেশ্যে, আদালত কর্তৃক অনুমোদিত পদ্ধতিতে ও শর্তাধীনে, আদালত বা রিসিভার উক্ত দেনাদারকে নিয়োগ করিতে পারিবেন৷
(২) একক দেনাদারের নিজের বা তাহার পরিবারের ভরণ-পোষণ বাবদ, অথবা উপ-ধারা (১) এর অধীনে তাহাকে নিয়োগ করা হইলে তাহার প্রদত্ত সেবা বাবদ, রিসিভার বা আদালত সময় সময় তাহার বা উহার বিবেচনামতে ন্যায্য ভাতা উক্ত দেনাদারকে প্রদান করিতে পারিবেন, তবে রিসিভার কর্তৃক এইরূপ ভাতা প্রদানের ক্ষেত্রে আদালতের অনুমোদন থাকিতে হইবে৷
উদ্বৃত্ত সম্পত্তিতে দেউলিয়ার অধিকার
৮২৷ এই আইন দ্বারা আরোপিত হারে সুদ এবং তদধীন গৃহীত কার্যধারার ব্যয়সহ পাওনাদারগণের সম্পূর্ণ পাওনা পরিশোধের পর যদি কোন সম্পত্তি বা অর্থ অবশিষ্ট থাকে, তবে দেনাদার তাহা পাইবার অধিকারী হইবেন৷
রিসিভারের আদেশ ইত্যাদির বিরুদ্ধে আবেদন
৮৩৷ যদি দেনাদার বা কোন পাওনাদার বা অন্য কোন ব্যক্তি রিসিভারের কোন আদেশ, সিদ্ধান্ত বা কাজের ফলে সংক্ষুদ্ধ হন, তাহা হইলে তিনি উহার বিরুদ্ধে আদালতে আবেদন করিতে পারিবেন, এবং আদালত উক্ত আদেশ, সিদ্ধান্ত বা কাজ বহাল রাখিতে বা, ক্ষেত্রমত, রদ রহিত করিতে বা সংশোধন করিতে পারিবে, এবং তত্সম্পর্কে উহার বিবেচনামতে ন্যায্য অন্য কোন আদেশ দিতে পারিবে:
তবে শর্ত থাকে যে, বিরোধীয় আদেশ বা সিদ্ধান্ত প্রদান বা কার্য সম্পাদনের তারিখের পরবর্তী ৩০ (ত্রিশ) দিন অতিবাহিত হওয়ার পর এই ধারার অধীনে কোন আবেদন গ্রহণ করা যাইবে না৷
দেনাদারের অপরাধ ও উহাদের দণ্ড
৮৪৷ (১) এই আইনের অধীনে কোন দেনাদার দেউলিয়া হইলে বা তাহার বিষয়াদি সম্পর্কে পুনর্গঠন আদেশ প্রদান করা হইলে, তাহার নিম্্নবর্ণিত প্রতিটি কাজ অপরাধ হইবে এবং তজ্জন্য তিনি অনধিক ২ (দুই) বত্সর কারাদণ্ডে বা অর্থদণ্ডে বা উভয়দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন, যথা:-
তবে শর্ত থাকে যে, যদি তিনি আদালতের সন্তুষ্টি মোতাবেক প্রমাণ করেন যে, প্রতারণা করা বা দেউলিয়া বিষয়ক কার্যধারা ব্যর্থ বা বিলম্বিত করা তাহার উদ্দেশ্য ছিল না, তাহা হইলে উক্তরূপ তথ্য প্রকাশ না করা কোন অপরাধ হইবে না;
তবে শর্ত থাকে যে, যদি তিনি আদালতের সন্তুষ্টি মোতাবেক প্রমাণ করেন যে, প্রতারণা বা দেউলিয়া বিষয়ক কার্যধারা ব্যর্থ বা বিলম্বিত করা তাহার উদ্দেশ্য ছিল না, তাহা হইলে উক্তরূপে অর্পণ না করা কোন অপরাধ হইবে না;
তবে শর্ত থাকে যে, যদি তিনি আদালতের সন্তুষ্টি মোতাবেক প্রমাণ করেন যে, প্রতারণা বা দেউলিয়া বিষয়ক কার্যধারা ব্যর্থ বা বিলম্বিত করা তাহার উদ্দেশ্য ছিল না, তাহা হইলে উক্তরূপ অর্পণ না করা কোন অপরাধ হইবে না;
তবে শর্ত থাকে যে, যদি আদালতের সন্তুষ্টি মোতাবেক তিনি প্রমাণ করেন যে, প্রতারণা বা দেউলিয়া বিষয়ক কার্যধারা ব্যর্থ বা বিলম্বিত করা তাহার উদ্দেশ্য ছিল না, তাহা হইলে উক্তরূপে গোপন করা কোন অপরাধ হইবে না;
তবে শর্ত থাকে যে, যদি তিনি আদালতে সন্তুষ্টি মোতাবেক প্রমাণ করেন যে, প্রতারণা বা দেউলিয়া বিষয়ক কার্যধারা ব্যর্থ বা বিলম্বিত করা তাহার উদ্দেশ্য ছিল না, তাহা হইলে উক্তরূপ উল্লেখ না করা কোন অপরাধ হইবে না;
তবে শর্ত থাকে যে, যদি তিনি আদালতের সন্তুষ্টি মোতাবেক প্রমাণ করেন যে, প্রতারণা বা দেউলিয়া বিষয়ক কার্যধারা ব্যর্থ বা বিলম্বিত করা তাহার উদ্দেশ্য ছিল না, তাহা হইলে উক্তরূপ বাধা প্রদান কোন অপরাধ হইবে না;
তবে শর্ত থাকে যে, যদি তিনি আদালতের সন্তুষ্টি মোতাবেক প্রমাণ করেন যে, তাহার বিষয়াদির সম্পর্কে কোন কিছু গোপন বা দেউলিয়া বিষয়ক কার্যধারা ব্যর্থ বা বিলম্বিত করা তাহার উদ্দেশ্য ছিল না, তাহা হইলে উক্তরূপ কোন কাজ অথবা উহাতে তাহার জড়িত থাকা কোন অপরাধ হইবে না;
তবে শর্ত থাকে যে, যদি তিনি আদালতের সন্তুষ্টি মোতাবেক প্রমাণ করেন যে, তাহার বিষয়াদির সম্পর্কে কোন তথ্য গোপন বা দেউলিয়া বিষয়ক কার্যধারা ব্যর্থ বা বিলম্বিত করা তাহার উদ্দেশ্য ছিল না, তাহা হইলে উক্তরূপ তথ্য লিপিবদ্ধকরণ কোন অপরাধ হইবে না;
তবে শর্ত থাকে যে, যদি তিনি আদালতের সন্তুষ্টি মোতাবেক প্রমাণ করেন যে, প্রতারণা করা তাহার উদ্দেশ্য ছিল না, তাহা হইলে উক্তরূপ মিথ্যা ভান করা কোন অপরাধ হইবে না;
তবে শর্ত থাকে যে, যদি তিনি আদালতের সন্তুষ্টি মোতাবেক প্রমাণ করেন যে, কাহাকেও প্রতারণা করা তাহার উদ্দেশ্য ছিল না, তাহা হইলে উক্তরূপ কাজ অপরাধ হইবে না;
ব্যাখ্যা৷- এই উপ-ধারার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে ধারা ৪৬(৯) এ উল্লিখিত বিশেষ ব্যবস্থাপকের কার্যকলাপ দেনাদারের কার্যকলাপ বলিয়া গণ্য করিতে হইবে, যদি উক্ত কার্যকলাপ রিসিভারের নির্দেশে সম্পাদিত না হইয়া থাকে৷
(২) যদি-
তাহা হইলে, দেনাদার তাহার ব্যবসা-বাণিজ্যের স্বাভাবিক গতি বা নিয়ম বহির্ভূতভাবে উক্ত সম্পত্তি প্রেরণ করিয়াছেন বলিয়া গণ্য করিতে হইবে, যদি ইহার বিপরীত প্রমাণিত না হয়৷
(৩) যদি-
তাহা হইলে উক্ত অপর ব্যক্তিকেও দেনাদারের ন্যায়, উক্ত উপ-ধারার অধীন একই অপরাধ করিয়াছেন বলিয়া গণ্য করিতে হইবে এবং তদনুসারে তিনিও একই দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন৷
যথাযথ হিসাব-বহি সংরক্ষণ না করার দণ্ড
৮৫৷ (১) কোন দেউলিয়া অনধিক ২ (দুই) বত্সর সশ্রম কারাদণ্ডে বা অর্থদণ্ডে বা উভয়দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন, যদি তিনি, আর্জি দাখিল হওয়ার অব্যবহিত পূর্ববর্তী ২ (দুই) বত্সরের মধ্যে কোন সময় কোন ব্যবসা-বাণিজ্য করা সত্ত্বেও, উক্ত সম্পূর্ণ সময়ের যথাযথ হিসাব-বহি না রাখিয়া থাকেন অথবা সংশ্লিষ্ট সকল হিসাব-বহি সংরক্ষণ না করিয়া থাকেন:
তবে শর্ত থাকে যে, উক্ত দেউলিয়াকে এই উপ-ধারার অধীনে কোন অপরাধ করেন নাই বলিয়া গণ্য করিতে হইবে, যদি-
(২) আদালতের অনুমতি ব্যতীত এই ধারার অধীনে দেউলিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনিয়া কোন কার্যধারা দায়ের করা যাইবে না৷
(৩) এই ধারার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, কোন ব্যক্তিকে যথাযথ হিসাব-বহি রাখেন নাই বলিয়া গণ্য করিতে হইবে, যদি তিনি-
দায়িত্বহীনভাবে ঋণ গ্রহণ
৮৬৷ একজন দেউলিয়া অনধিক ২ (দুই) বত্সর কারাদণ্ডে বা অর্থদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন, যদি তিনি, আর্জি দাখিল হওয়ার অব্যবহিত পূর্ববর্তী ৪৮ (আটচল্লিশ) মাসের মধ্যে, এমন কোন দেনা করিয়া থাকেন যাহা পরিশোধ করার জন্য যুক্তিসংগত প্রত্যাশা করার মত অবস্থা তাহার ছিল না৷
দেনাদারের বাংলাদেশ ত্যাগ
৮৭৷ যদি কোন দেনাদার-
তাহা হইলে তিনি অনধিক ২ (দুই) বত্সর সশ্রম কারাদণ্ডে বা অর্থদণ্ডে বা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন:
তবে শর্ত থাকে যে, যদি তিনি আদালতের সন্তুষ্টি মোতাবেক প্রমাণ করেন যে, তাহার পাওনাদারগণকে প্রতারিত বা দেউলিয়া বিষয়ক কার্যধারা ব্যর্থ বা বিলম্বিত করার উদ্দেশ্যে তিনি বাংলাদেশ ত্যাগ করেন নাই, তাহা হইলে উক্তরূপ বাংলাদেশ ত্যাগ কোন অপরাধ হইবে না৷
দায়গ্রস্ত দেউলিয়ার অপরাধ
৮৮৷ একজন দায়গ্রস্ত দেউলিয়ার নিম্্নবর্ণিত যে কোন কাজ অপরাধ হইবে এবং উক্ত অপরাধের জন্য তিনি অনধিক ১ (এক) বত্সর সশ্রম কারাদণ্ডে বা অর্থদণ্ডে বা উভয়দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন, যথা:-
কতিপয় অপরাধের ব্যাপারে অভিযোগ দায়ের করার পদ্ধতি
৮৯৷ যদি কোন ক্ষেত্রে আদালতের বিবেচনামতে প্রয়োজনীয় প্রাথমিক তদন্তের পর, উহার নিকট প্রতীয়মান হয় যে, কোন দেউলিয়া ধারা ৮৪, ৮৫, ৮৬, ৮৭ বা ৮৮-এর অধীন অপরাধ করিয়াছেন, তাহা হইলে আদালত সেইমর্মে উহার সিদ্ধান্ত লিপিবদ্ধ করিতে এবং এখ্তিয়ারসম্পন্ন প্রথম শ্রেণীর কোন ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট লিখিত অভিযোগ করিতে পারে, এবং এইরূপ ক্ষেত্রে উক্ত ম্যাজিস্ট্রেট ফৌজদারী কার্যবিধির বিধান মোতাবেক অভিযোগটির ব্যাপারে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করিবেন৷
দায়মুক্তি ইত্যাদির কারণে ফৌজদারী মামলা হইতে দেনাদার অব্যাহতিপ্রাপ্ত নহেন
৯০৷ দেনাদারকে দায়মুক্তি করিয়া বা তাহার বিষয়াদি সম্পর্কে কোন আপোষ-মিমাংসা গ্রহণ করিয়া বা তাহার বিষয়াদির পুনর্বিন্যাস বা পুনর্গঠন পরিকল্পনা অনুমোদন করিয়া আদালত কোন আদেশ প্রদান করা সত্ত্বেও, এই আইনের অধীন কোন অপরাধ সংগঠনের দায়ে অভিযুক্ত হইলে উক্ত অভিযোগের ব্যাপারে গৃহীত কার্যধারা হইতে তিনি অব্যাহতি লাভ করিবেন না৷
পাওনাদার ইত্যাদির অপরাধ
৯১৷ (১) এই ধারার অধীন কোন কার্যধারায়, কোন পাওনাদার যদি এমন কোন দাবী উত্থাপন, ঘোষণা বা হিসাব প্রদান করেন যাহার গুরুত্বপূর্ণ অংশ অসত্য, তাহা হইলে তিনি অনধিক ১ (এক) বত্সর কারাদণ্ডে বা অর্থদণ্ডে বা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন, যদি না তিনি প্রমাণ করেন যে, প্রতারণা করার উদ্দেশ্য তাহার ছিল না৷
(২) এই আইনের অধীন কোন কার্যধারায় যদি কোন পাওনাদার, দেনাদারের বিরুদ্ধাচরণে বিরত থাকার (forbearing) উদ্দেশ্যে বা উহার প্ররোচনাস্বরূপ, অন্য কাহারো নিকট হইতে অর্থ বা সম্পত্তি বা জামানত গ্রহণের মাধ্যমে প্ররোচিত হন, তাহা হইলে তিনি উক্ত অর্থ, সম্পত্তি বা জামানতের মূল্যের অনধিক ৩ (তিন) গুণের সমপরিমাণ অর্থদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন৷
(৩) যদি কোন পাওনাদার-
তাহা হইলে, তিনি উক্ত অগ্রাধিকার বা সুবিধার মূল্যমানের অনধিক ৫ (পাঁচ) গুণের সমপরিমাণ অর্থদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন, এবং যাহার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরোপিত হইয়াছে, তাহাকে আরোপিত অর্থদণ্ডে অনধিক অর্ধাংশ প্রদানের জন্য আদালত আদেশ দিতে পারিবে৷
(৪) উপ-ধারা (৩) এ উল্লিখিত কোন প্রকার অগ্রাধিকার বা সুবিধা গোপন এবং যোগসাজসী বলিয়া গণ্য করিতে হইবে, যদি উহা সংশ্লিষ্ট পুনর্গঠন পরিকল্পনা বা পুনর্বিন্যাস পরিকল্পনায় সুষ্পষ্টভাবে উল্লিখিত না থাকে৷
(৫) দেউলিয়া ঘোষণাদেশ প্রদত্ত হইয়াছে জানা সত্ত্বেও, যদি কোন ব্যক্তি, উক্ত আদেশ ব্যর্থ করিবার উদ্দেশ্যে, বণ্টনযোগ্য সম্পদের কোন অংশ সরাইয়া বা লুকাইয়া ফেলেন বা নিজে গ্রহণ করেন বা অন্য কোনভাবে বিলিবণ্টন করেন, তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তি অনধিক ৩ (তিন) বত্সর সশ্রম কারাদণ্ডে অথবা উক্ত সম্পত্তির মূল্যের অনধিক ৩ (তিন) গুণের সমপরিমাণ অর্থদণ্ডে বা উভয়দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন৷
(৬) এই ধারার অধীন আরোপিত এবং আদায়কৃত অর্থদণ্ড বণ্টনযোগ্য সম্পদের অংশ বলিয়া গণ্য হইবে এবং উহা রিসিভারে ন্যস্ত হইবে৷
কোম্পানী ইত্যাদি কর্তৃক অপরাধ সংগঠন
৯২৷ এই আইনের অধীন অপরাধ সংগঠনকারী ব্যক্তি যদি কোম্পানী হয়, তাহা হইলে উক্ত কোম্পানীর মালিক, পরিচালক, ম্যানেজার, সচিব বা অন্য কোন কর্মকর্তা বা এজেন্ট কর্তৃক অপরাধ সংগঠিত হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে, যদি না তিনি প্রমাণ করিতে পারেন যে, উক্ত অপরাধ তাহার অজ্ঞাতসারে সংগঠিত হইয়াছে অথবা উক্ত অপরাধ সংগঠন রোধ করিবার জন্য তিনি যথাসাধ্য চেষ্টা করিয়াছেন৷
ব্যাখ্যা৷- এই ধারায়-
অপরাধ সংগঠনে সহায়তার দণ্ড
৯৩৷ এই আইনের অধীন শাস্তিযোগ্য অপরাধ সংগঠনে কোন ব্যক্তিকে অপর কোন ব্যক্তি সহায়তা বা প্ররোচিত করিলে, উক্ত অপর ব্যক্তিও একই অপরাধ করিয়াছেন বলিয়া গণ্য করিতে হইবে এবং তদনুসারে তিনিও দণ্ডনীয় হইবেন৷
দায়গ্রস্ত দেউলিয়ার অযোগ্যতা
৯৪৷ (১) উপ-ধারা (২) এর বিধান সাপেক্ষে, একজন দায়গ্রস্ত দেউলিয়া নিম্্নবর্ণিত ক্ষেত্রে অযোগ্য হইবে, যথা:-
(২) উপরোক্ত অযোগ্যতাসমূহের অবসান হইবে, যখন-
কার্যধারায় বণ্টনযোগ্য সম্পদের সংক্ষিপ্ত নিষ্পত্তি
৯৫৷ দেনাদার কর্তৃক বা তাহার বিরুদ্ধে আর্জি দাখিল হওয়ার পর, এফিডেভিট বা অন্য কোন কিছুর ভিত্তিতে, আদালতের নিকট যদি সন্তোষজনকভাবে প্রতীয়মান হয় যে, দেনাদারের সমুদয় সম্পত্তির মূল্য ৫,০০,০০০.০০ (পাঁচ লক্ষ) টাকার বেশী হওয়ার সম্ভাবনা নাই, তাহা হইলে আদালত দেনাদারের বণ্টনযোগ্য সম্পদের ব্যবস্থাপনা ও বিলি-বণ্টন সংক্ষিপ্ত পদ্ধতিতে সম্পন্ন করার জন্য আদেশ দিতে পারিবে, এবং এইরূপ ক্ষেত্রে এই অধ্যাদেশের বিধানাবলী, নিম্্নরূপ পরিবর্তন সাপেক্ষে, প্রযোজ্য হইবে, যথা:-
তবে শর্ত থাকে যে, আদালত যে কোন সময়ে নির্দেশ দিতে পারিবে যে, দেনাদারের বণ্টনযোগ্য সম্পদের ব্যাপারে এই আইন দ্বারা বা তদধীনে নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসৃত হইবে এবং তত্প্রেক্ষিতে উক্ত পদ্ধতি অনুসরণ করিতে হইবে৷
আপীল
৯৬৷ (১) এই আইনের অন্যান্য বিধানাবলী সাপেক্ষে, দেনাদার, যে কোন পাওনাদার, রিসিভার বা অন্য যে কোন ব্যক্তি, দেউলিয়া বিষয়ক কার্যধারায় এখ্তিয়ারসম্পন্ন কোন অতিরিক্ত জেলা জজ বা জেলা জজ প্রদত্ত সিদ্ধান্ত বা আদেশ দ্বারা সংক্ষুদ্ধ হইলে উহার বিরুদ্ধে হাইকোর্ট বিভাগের নিকট আপীল করিতে পারিবেন৷
(২) সুপ্রীমকোর্ট সময় সময় হাইকোর্ট বিভাগের এইরূপ একটি বেঞ্চ গঠন করিবে যাহার দায়িত্ব হইবে শুধুমাত্র এই আইনের অধীন দায়েরকৃত আপীলসমূহ নিষ্পত্তি করা৷
(৩) কোন ব্যক্তি এই ধারার অধীনে আপীল দায়ের করিতে চাহিলে, তিনি-
(৪) উপ-ধারা (৩) (ক) এর অধীন নোটিশ প্রাপ্ত হইলে, আদালত-
(৫) নিম্্নবর্ণিত যে কোন আদেশ বা সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে এই আইনের অধীনে আপীল করা যাইবে, যথা:-
(৬) এই আইনের বিধানাবলী সাপেক্ষে, উপ-ধারা (৫) এ উল্লিখিত আদেশ বা সিদ্ধান্ত ব্যতীত আদালতের অন্য কোন আদেশ বা সিদ্ধান্তের ব্যাপারে অন্য কোন আদালতে বা কর্তৃপক্ষের নিকট কোনভাবেই কোন প্রশ্ন উত্থাপন করা যাইবে না৷
(৭) আপীল আদালত দেউলিয়া ঘোষণাদেশের কার্যকারিত স্থগিত করিয়া সাধারণতঃ কোন আদেশ প্রদান করিবে না, এবং রিসিভার, দেউলিয়া ও পাওনাদারগণ এই আইনের বিধান মোতাবেক কার্য করিতে থাকিবে, যদি না আপীল আদালত লিখিত কারণ উল্লেখপূর্বক কোন বিশেষ কার্য করার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে:
তবে শর্ত থাকে যে, আপীলে কোন দেউলিয়া ঘোষণাদেশ রদ হইয়া গেলে উক্তরূপ রদকরণ সত্ত্বেও, দেউলিয়া ঘোষণাদেশের পরে রিসিভার, দেউলিয়া, পাওনাদারগণ বা আদালত কর্তৃক এই আইনের বিধান মোতাবেক কৃত কোন কাজের বৈধতা ক্ষুণ্ন হইবে না, যদি আপীল আদালত উক্ত কাজের ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করিয়া না থাকে৷
আপীলের অনুসরণীয় পদ্ধতি
৯৭৷ ধারা ৯৬ তে উল্লিখিত কোন আদেশ বা সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত আপীলের ক্ষেত্রে বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসরণ করিতে হইবে, এবং এইরূপ বিধি না থাকিলে আপীল আদালতের বিবেচনামত যথাযথ পদ্ধতি অনুসরণ করিতে হইবে৷
আপীল আদালতের ক্ষমতা
৯৮৷ আপীল আদালত সংশ্লিষ্ট পক্ষগণকে শুনানীর যুক্তিসংগত সুযোগ প্রদান করিয়া-
পুনরীক্ষণ
৯৯৷ (১) ধারা ৯৬ এর অধীনে আপীলযোগ্য নয় এইরূপ কোন আদেশ বা সিদ্ধান্ত আদালত বা রিসিভার কর্তৃক প্রদত্ত হইলে, উক্ত আদেশ বা সিদ্ধান্ত প্রদানের তারিখের পরবর্তী ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে, উহার ফলে সংক্ষুদ্ধ ব্যক্তি, নিম্্নবর্ণিত যে কোন কারণে উক্ত আদেশ বা সিদ্ধান্ত পুনরীক্ষণের উদ্দেশ্যে উহা প্রদানকারী আদালত বা রিসিভারের নিকট আবেদন করিতে পারিবেন, যথা-
(২) আদালত বা, ক্ষেত্রমত, রিসিভার-
(৩) উপ-ধারা (২) এর অধীনে আদালত কর্তৃক প্রদত্ত কোন আদেশের বিরুদ্ধে আপীল করা যাইবে না৷
আপীল ও পুনরীক্ষণ নিষ্পত্তির সময়সীমা
১০০৷ (১) আপীল ও পুনরীক্ষণ নিষ্পত্তির সময়সীমা হইবে নিম্্নরূপ, যথা:-
(২) উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত সময়সীমার মধ্যে কোন আপীল বা পুনরীক্ষণ নিষ্পত্তি করা না হইলে, উক্ত আপীল বা পুনরীক্ষণ না-মঞ্জুর করা হইয়াছে বলিয়া গণ্য করিতে হইবে, এবং উক্ত আপীলে বা পুনরীক্ষণে বিরোধীয় আদেশ বা সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আর কোন আপীল দায়ের বা পুনরীক্ষণ আবেদন করা যাইবে না৷
(৩) এই ধারার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত সময়সীমা গণনার ক্ষেত্রে সাপ্তাহিক ছুটি, সরকার কর্তৃক ঘোষিত অন্যান্য ছুটি এবং সুপ্রীমকোর্ট কর্তৃক ছুটির দিন বাদ দিতে হইবে, তবে কোন দিন সংশ্লিষ্ট আদালতের বিচারক বা রিসিভার যে কোন কারণে কর্মরত না থাকার কারণে উহা বাদ দেওয়া যাইবে না৷
ক্রোক, ইত্যাদি
১০১৷ (১) এই আইনের অধীন কোন ক্রোক বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতি এবং এইরূপ বিধি না থাকিলে, আদালত কর্তৃক নির্দেশিত পদ্ধতি অনুসরণ করিতে হইবে৷
(২) এই ধারার অধীন ক্রোকের ব্যাপারে দেওয়ানী কার্যবিধির ৬৪ ধারার বিধান, প্রয়োজনীয় রদবদলসহ, প্রযোজ্য হইবে৷
নোটিশ ইত্যাদির ব্যাপারে অন্যান্য আইন অনুসরণে আদালতের ক্ষমতা
১০২৷ এই আইনের বিধান মোতাবেক কোন নোটিশ জারি, গ্রেফতারী বা ক্রোকী পরোয়ানা বা অনুরূপ কোন কিছুর প্রয়োজন হইলে, এতদুদ্দেশ্যে বিধি প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত, আদালত উহার বিবেচনামত দেওয়ানী কার্যবিধি বা, ক্ষেত্রমত, ফৌজদারী কার্যবিধিতে বিধৃত প্রযোজ্য ফরম, উহাতে প্রয়োজনীয় রদ-বদল সাপেক্ষে, ব্যবহার করিতে পারিবে৷
কার্যধারা ইত্যাদির খরচ
১০৩৷ কোন দেনাদার বা অন্য কোন ব্যক্তিকে দেওয়ানী কারাগারে আটক রাখিবার খরচসহ এই আইনের অধীন কার্যধারার সকল খরচ, বিধির বিধান সাপেক্ষে, আদালত উহার ইচ্ছা অনুসারে নির্ধারণ করিতে পারিবে৷
আদালতসমূহের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা
১০৪৷ দেউলিয়া বিষয়ক কার্যধারার ব্যাপারে এখ্তিয়ার সম্পন্ন সকল আদালত এবং উহাদের সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারী উক্তরূপ সকল কার্যধারায়, প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে, পরস্পরকে সহায়তা এবং যৌথভাবে কাজ করিবে; এবং এইরূপ কোন একটি আদালত যদি কোন বিষয়ে অপর কোন এখ্তিয়ার সম্পন্ন আদালতের সহায়তার জন্য অনুরোধ করিয়া আদেশ প্রদান করে, তবে উক্ত আদেশবলে দ্বিতীয়োক্ত আদালত উক্ত আদেশের বিষয়বস্তু সম্পর্কে সেই একই এখ্তিয়ার প্রয়োগ করিতে পারিবে যে এখ্তিয়ার উহার স্বীয় অধিক্ষেত্রে উদ্ভূত অনুরূপ বিষয়ে প্রয়োগ করিতে পারে৷
তামাদি সংক্রান্ত বিধান
১০৫৷ (১) Limitation Act, 1908 (IX of 1908) এর section 4 এবং section 12 এই আইনের অধীন আপীল এবং আবেদনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে এবং উক্ত section 12 এর উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, উক্ত Act, এর section 4 এর অধীন প্রদত্ত সিদ্ধান্ত একটি ডিক্রী বলিয়া গণ্য হইবে৷
(২) এই আইনের অধীনে কোন দেউলিয়া ঘোষণাদেশ রদ করার ক্ষেত্রে, উক্ত ঘোষণাদেশ এর অনুপস্থিতিতে কোন ডিক্রী বাস্তবায়নের জন্য কোন কার্যধারা দায়ের করার ব্যাপারে অনুমোদিত সময়সীমা (limitation) গণনার উদ্দেশ্যে, দেউলিয়া ঘোষণাদেশ প্রদানের তারিখ হইতে উহা রদ হওয়ার তারিখ পর্যন্ত সময় (উভয় তারিখ অন্তর্ভুক্ত) বাদ দিতে হইবে:
তবে শর্ত থাকে যে, এই আইনের অধীনে যে দেনাটি প্রমাণযোগ্য অথচ উহা প্রমাণিত হয় নাই সেই দেনা সংক্রান্ত কার্যধারার ব্যাপারে এই ধারার কোন কিছুই প্রযোজ্য হইবে না৷
সরকারী রিসিভারের তালিকা
১০৬৷ সরকার, সময় সময়, এইরূপ ব্যক্তিগণ (একক ব্যক্তি, অংশীদারী প্রতিষ্ঠান ও কোম্পানীসহ) এর সমন্বয়ে একটি অনুমোদিত রিসিভার তালিকা প্রস্তুত ও সংরক্ষণ করিবে যাহারা উত্তম চরিত্রের অধিকারী এবং জনস্বার্থে রিসিভার হিসাবে কাজ করার জন্য উপযুক্ত, এইরূপ রিসিভারগণ সরকারী রিসিভার নামে অভিহিত হইবেন৷
সরকারী রিসিভারগণকে কতিপয় ক্ষমতা অর্পণ
১০৭৷ (১) সরকার সময় সময় এইরূপ নির্দেশ দিতে পারিবে যে, এই আইনের অধীনে যে সকল বিষয়ে আদালত এখ্তিয়ার প্রয়োগ করিতে পারে, সেই সকল বিষয় সম্পর্কে সরকারী রিসিভার, আদালতের কোন নির্দেশ থাকিলে তাহা সাপেক্ষে, নিম্্নরূপ সকল বা যে কোন ক্ষমতা প্রয়োগ করিতে পারিবে, যথা:-
(২) ধারা ৯৬ তে প্রদত্ত আপীলের অধিকার সাপেক্ষে, উপ-ধারা (১) এর বিধানাবলে সরকারী রিসিভারের যে কোন আদেশ বা কার্য আদালতের আদেশ বা কার্য বলিয়া গণ্য হইবে৷
রিসিভার, ইত্যাদি জনসেবক
১০৮৷ অন্তর্বর্তী রিসিভার ও সরকারী রিসিভারসহ এই আইনের অধীনে নিযুক্ত যে কোন রিসিভার, ধারা ৬৪(৩) এর অধীনে নিযুক্ত যে কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারী এবং ধারা ৪৬(৯) এর অধীনে নিযুক্ত কোন বিশেষ ব্যবস্থাপক, এই আইনের অধীন কোন কার্যধারা সূত্রে তাহারা যে কাজ করেন বা প্রয়োজনীয় কাজ না করেন (omission) উহার ব্যাপারে, দণ্ডবিধির ২১ ধারার তাত্পর্যাধীনে, জনসেবক (public servant) বলিয়া গণ্য হইবেন৷
কার্যধারা স্থানান্তর
১০৯৷ (১) দেনাদার, কোন যথাযোগ্য পাওনাদার বা রিসিভারের আবেদনক্রমে, জেলা আদালত, উহার বিবেচনামতে যথাযথ পক্ষগণকে নোটিশ প্রদানের পর-
ব্যাখ্যা৷-এই উপ-ধারার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, অতিরিক্ত জেলাজজ এর আদালত জেলা আদালতের অধীনস্থ বলিয়া গণ্য হইবে৷
(২) দেনাদার বা কোন যথাযোগ্য পাওনাদারের আবেদনক্রমে, হাইকোর্ট বিভাগ, উহার বিবেচনামতে যথাযথ পক্ষগণকে নোটিশ প্রদানের পর যে কোন আদালতে নিষ্পন্নাধীন কার্যধারা অপর কোন জেলার এখ্তিয়ারসম্পন্ন আদালতে স্থানান্তর করিতে পারিবে৷
(৩) জেলা আদালত বা হাইকোর্ট বিভাগ এই ধারার অধীনে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে কোন কার্যধারা স্থানান্তর করিবে না, যদি না লিখিত কারণ উল্লেখপূর্বক উহা এই মর্মে সন্তুষ্ট হয় যে, উক্তরূপ স্থানান্তর ব্যতীত আবেদনকারীর প্রতি গুরুতর অবিচার হইবে, অথবা কার্যধারাটি যে আদালতে স্থানান্তর করা হয় সেখানে সর্বাপেক্ষা সুবিধাজনক উপায়ে নিষ্পত্তি করা যাইবে৷
(৪) এই ধারার অধীন কোন আবেদন প্রাপ্তির ১৫ (পনের) দিনের মধ্যে উহা নিষ্পত্তি করিতে হইবে, এবং উক্ত আবেদনে উল্লিখিত কারণে পুনরায় এইরূপ আবেদন করা চলিবে না৷
আদালতের অন্তর্নিহিত ক্ষমতা
১১০৷ দেনাদার, কোন পাওনাদার বা রিসিভারের আবেদনক্রমে, আদালত উহার বিবেচনামতে যথাযথ এমন যে কোন আদেশ দিতে পারিবে, যাহা ন্যায় বিচারের স্বার্থে বা আদালতীয় কার্যক্রমের (process of Court) অপব্যবহার রোধকল্পে প্রয়োজনীয় বলিয়া উহা মনে করেন:
তবে শর্ত থাকে যে, এই ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতা এমন কোন ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হইবে না, যে ক্ষেত্রে এই আইনের অধীনে অন্য কোন প্রতিকারের ব্যবস্থা আছে৷
কতিপয় ভুলত্রুটি সংশোধনে আদালতের ক্ষমতা
১১১৷ যে কোন সময় আদালত-
কোর্ট ফি
১১২৷ আদালতে কোন আর্জি দাখিলের উদ্দেশ্যে ১০০.০০ (একশত) টাকার কোর্ট ফি প্রয়োজন হইবে৷
সরল বিশ্বাসে কৃত কাজকর্ম রক্ষণ
১১৩৷ এই আইনের অধীনে সরকার, রিসিভার বা অন্য কোন ব্যক্তি কর্তৃক সরল বিশ্বাসে কৃত কাজকর্ম বা অনুরূপভাবে কৃত বলিয়া বিবেচনা করা যায় এইরূপ কোন কাজকর্মের ফলে কোন ব্যক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হইলে বা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকিলে তজ্জন্য সরকার, রিসিভার বা উক্তরূপ অন্য কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোন দেওয়ানী বা ফৌজদারী বা অন্যবিধ কার্যধারা রুজু করা চলিবে না৷
অসুবিধা দূরীকরণ
১১৪৷ অস্পষ্টতার কারণে এই আইনের কোন বিধান বাস্তবায়নে কোন অসুবিধা দেখা দিলে সরকার, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, উক্ত অসুবিধা দূর করিতে পারিবে৷
অন্যান্য আদালত ইত্যাদির এখ্তিয়ার নিষিদ্ধ
১১৫৷ এই আইনের অধীন কোন কার্যধারার ব্যাপারে, এই আইনের বিধান অনুযায়ী ব্যতীত অন্য কোনভাবে, কোন আদালতে বা কর্তৃপক্ষের নিকট কোন প্রশ্ন উত্থাপন করা যাইবে না৷
অন্যান্য আইনে উল্লিখিত Insolvent শব্দের ব্যাখ্যা
১১৬৷ আপাততঃ বলবত্ অন্য কোন আইনে উল্লিখিত Insolvent শব্দ বা তদুদ্ভূত (derivative) অন্য শব্দ উল্লিখিত থাকিলে তদ্বারা যথাক্রমে "bankrupt” শব্দ বা তদুদ্ভূত অনুরূপ শব্দকে বুঝানো হইয়াছে বলিয়া গণ্য করিতে হইবে৷
বিধি প্রণয়ন ক্ষমতা
১১৭৷ (১) এই আইনের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নকল্পে সরকার বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে৷
(২) উপরিউক্ত ক্ষমতার সামগ্রিকতা ক্ষুণ্ন না করিয়া নিম্্নবর্ণিত বিষয়গুলি সম্পর্কে বিধান করা যাইবে, যথা:-
(৩) এই ধারার অধীন প্রণীত সকল বিধি সরকারী গেজেটে প্রকাশ করিতে হইবে এবং উক্তরূপে প্রকাশিত হইলে উহা বলবত্ হইবে৷
ইংরেজীতে অনুদিত পাঠ প্রকাশ
১১৮৷ এই আইন প্রবর্তনের পর সরকার, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইনের ইংরেজীতে অনুদিত একটি পাঠ প্রকাশ করিবে, যাহা এই আইনের অনুমোদিত ইংরেজী পাঠ (Authentic English Text) নামে অভিহিত হইবে:
তবে শর্ত থাকে যে, এই আইন ও উক্ত ইংরেজী পাঠের মধ্যে বিরোধের ক্ষেত্রে এই আইন প্রাধান্য পাইবে৷
রহিতকরণ ও হেফাজত
১১৯৷ (১) Insolvency (Dhaka) Act, 1909 (III of 1909) এবং Insolvency Act, 1920 (V of 1920) এতদ্দ্বারা রহিত করা হইল৷
(২) উক্তরূপ রহিতকরণ সত্ত্বেও, এই আইন প্রবর্তনের অব্যবহিত পূর্বে রহিতকৃত Act দুইটির অধীনে কোন কার্যধারা নিষ্পন্নাধীন থাকিলে, উক্ত কার্যধারা রহিতকৃত যে Act এর অধীনে নিষ্পন্নাধীন ছিল, সেই Act এর বিধান অনুসারে এইরূপ নিষ্পত্তি করিতে হইবে, যেন এই আইন প্রণীত হয় নাই৷