বিমানের নিরাপত্তা হানিকর অপরাধ দমন ও কতিপয় কার্যকলাপ সংক্রান্ত টোকিও কনভেনশন, হেগ কনভেনশন ও মন্ট্রিল কনভেনশনের বিধানাবলীকে কার্যকর করার নিমিত্ত প্রণীত আইন৷ যেহেতু বিমানের নিরাপত্তা হানিকর অপরাধ দমন এবং এতদসংক্রান্ত কতিপয় কার্যকলাপ সংক্রান্ত টোকিও কনভেনশন, হেগ কনভেনশন ও মন্ট্রিল কনভেনশনে বাংলাদেশ পক্ষভুক্ত হইয়াছে; এবং যেহেতু উক্ত কনভেনশনগুলির বিধানাবলীকে কার্যকর করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়; সেহেতু এতদ্দ্বারা নিম্নরূপ আইন করা হইল:-
১৷ (১) এই আইন বিমান-নিরাপত্তা বিরোধী অপরাধ দমন আইন, ১৯৯৭ নামে অভিহিত হইবে৷
(২) এই আইন অবিলম্বে কার্যকরী হইবে৷
২৷ (১) বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থী কোন কিছু না থাকিলে, এই আইনে,-
(১) বাংলাদেশে নিবন্ধনকৃত কোন বিমানে আইনানুগ অধিকার বা সুবিধা লাভের অধিকার অর্জনের যোগ্যতা রাখেন; অথবা
(২) বাংলাদেশে বাস করেন বা তাহার বা উহার প্রধান কর্মস্থল বাংলাদেশে অবস্থিত; অথবা
(২) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, কোন বিমানে “উড্ডয়ন অবস্থা” বা “উড্ডয়নে থাকা” বলিতে নিম্নবর্ণিত সময় অন্তর্ভুক্ত হইবে, যথা:-
৩৷ (১) কোন বিমান উড্ডয়নে থাকাকালে বিমান অধিনায়কের যদি এই মর্মে বিশ্বাস করার কারণ থাকে যে,-
তাহা হইলে বিমান অধিনায়ক, এই ধারার অন্যান্য বিধান সাপেক্ষে, উক্ত আরোহীর উপর যুক্তিসংগত বাধানিষেধ আরোপ করিতে পারিবেন বা তাহাকে আটক করাসহ তাহার সম্পর্কে অন্য যে কোন যুক্তিসংগত ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে পারিবেন৷
(২) উপ-ধারা (১) অনুসারে কোন ব্যক্তির উপর বাধানিষেধ আরোপ বা তাহাকে আটক করার উদ্দেশ্যে বিমান-অধিনায়ক তাহাকে সহায়তা করার জন্য বিমানটির অন্য যে কোন ক্রু-সদস্যকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিতে এবং যে কোন আরোহীকে প্রয়োজনীয় অনুরোধ করিতে পারিবেন এবং উক্ত নির্দেশ বা অনুরোধ বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয় ক্ষমতা প্রদান করিতে পারিবেন৷
(৩) বিমানটির কোন ক্রু-সদস্য বা আরোহীর যদি এইরূপ বিশ্বাস করার যুক্তিসংগত কারণ থাকে যে, বিমানটির বা উহার কোন আরোহী বা উহাতে অবস্থিত কোন বস্তুর নিরাপত্তা রক্ষার জন্য তাত্ক্ষণিকভাবে কোন কাজ করা প্রয়োজন, তাহা হইলে উক্ত ক্রু-সদস্য বা আরোহী, উপ-ধারা (২) এর অধীন ক্ষমতাপ্রাপ্তি ব্যতিরেকেই, উক্ত কাজ করিতে পারিবেন৷
(৪) এই ধারার অধীনে কোন আরোহীর উপর বাধানিষেধ আরোপ বা তাহাকে আটকের পর প্রথম যখন বিমানটির উড্ডয়ন অবস্থার সমাপ্তি ঘটে তখনই উক্ত বাধানিষেধ বা আটকাবস্থার সমাপ্তি ঘটিবে:
তবে শর্ত থাকে যে, বিমান-অধিনায়ক যদি উড্ডয়ন অবস্থা সমাপ্তি স্থানের উপর এখতিয়ারসম্পন্ন বা যথাযথ কর্তৃপক্ষকে উপ-ধারা (৬) অনুসারে উক্ত বাধানিষেধ আরোপ বা আটক সম্পর্কে অবহিত করিতে না পারেন, অথবা ক্ষেত্রমত সংশ্লিষ্ট আরোহীকে উপ-ধারা (৫) এর অধীনে নামাইয়া দিতে বা সমর্পণ করিতে না পারেন, অথবা উক্ত আরোহী বাধানিষেধ আরোপিত বা আটকাবস্থায় উক্ত বিমানে তাহার যাত্রা অব্যাহত রাখিতে সম্মত হন, তাহা হইলে উড্ডয়ন অবস্থার সমাপ্তি ঘটিবে না৷
(৫) কোন আরোহী সম্পর্কে যদি বিমান-অধিনায়কের এইরূপ বিশ্বাস করার যুক্তিসংগত কারণ থাকে যে,-
(৬) বিমান হইতে কোন আরোহীকে কোন দেশে নামাইয়া দেওয়ার বা সমর্পণ করার ক্ষেত্রে, বিমান-অধিনায়ক উক্তরূপ নামাইয়া দেওয়া বা সমর্পণের ইচ্ছা এবং কারণ সম্পর্কে, যথাশীঘ্র এবং সম্ভব হইলে বিমান অবতরণের পূর্বেই, নিম্্নবর্ণিত কর্তৃপক্ষকে অবহিত করিবেন, যথা:-
৪৷ যদি টোকিও কনভেনশনভুক্ত দেশে নিবন্ধনকৃত কোন বিমানের বিমান-অধিনায়ক বাংলাদেশের যথাযথ কর্তৃপক্ষকে এই মর্মে অবহিত করেন যে, তিনি ধারা ৩ এর উপ-ধারা (৫) এর অধীনে কোন আরোহীকে বাংলাদেশে নামাইয়া দিতে বা সমর্পণ করিতে চাহেন, তাহা হইলে উক্ত কর্তৃপক্ষ-
৫৷ (১) কোন আরোহীকে ধারা ৩ এর উপ-ধারা (৫) এর অধীনে কোন বিমান হইতে বাংলাদেশে নামাইয়া দেওয়া বা সমর্পণ করা হইলে, যথাযথ কর্তৃপক্ষ-
(২) উপ-ধারা (১) এর দফা (ক) এর অধীন প্রাথমিক তদন্তের পর যথাযথ কর্তৃপক্ষ উক্ত উপ-ধারার দফা (গ) তে উল্লিখিত দেশগুলিকে তদন্তের ফলাফল সম্পর্কে, এবং উহার ভিত্তিতে কোন অপরাধ সংঘটিত হইয়াছে বলিয়া প্রতীয়মান হইলে উক্ত অপরাধের ব্যাপারে বিচার বা অন্য কোন আইনগত কার্যক্রম শুরু করিতে ইচ্ছুক কিনা সেই সম্পর্কেও, অবহিত করিবে৷
(৩) উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোন ফৌজদারী কার্যধারা বা তাহাকে বহিঃসমর্পণ সংক্রান্ত কার্যধারা গৃহীত না হইলে এবং উক্ত ব্যক্তি তাহার যাত্রা অব্যাহত রাখিতে চাহিলে, যথাযথ কর্তৃপক্ষ যাত্রা অব্যাহত রাখিবার সুযোগ দিবে; এবং তিনি যাত্রা অব্যাহত রাখিতে না চাহিলে, তিনি যে রাষ্ট্রের নাগরিক বা স্থায়ী বাসিন্দা অথবা তিনি যে দেশ হইতে বিমানে যাত্রা শুরু করিয়াছিলেন, সেই দেশের নিকট যথাযথ কর্তৃপক্ষ তাহাকে ফেরত্ দিতে পারিবে৷
৬৷ ধারা ৩ এর অধীনে বিমানের কোন আরোহীকে বাংলাদেশে নামাইয়া দেওয়া হইয়াছে বা বাংলাদেশের যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিকট তাহাকে সমর্পণ করা হইয়াছে শুধু এই কারণে উক্ত ব্যক্তিকে বাংলাদেশে প্রবেশের অধিকার দেওয়া হইয়াছে মর্মে গণ্য করা হইবে না৷
৭৷ কোন বাংলাদেশী বিমান বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় সীমানায় বাহিরে উড্ডয়নে থাকাকালে বিমানের আরোহী কোন ব্যক্তি যদি এমন কোন কাজ করেন বা করণীয় কাজ হইতে বিরত থাকেন যাহা বাংলাদেশের প্রচলিত আইনের অধীন একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ, তাহা হইলে উক্ত কাজ করা বা করণীয় কাজ হইতে বিরত থাকা বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় সীমানায় সংঘটিত অপরাধ হিসাবে গণ্য হইবে:
তবে শর্ত থাকে যে, উক্ত বিমান অন্য কোন রাষ্ট্রীয় সীমানায় উড্ডয়নে থাকাকালে বিমানটিতে যদি এমন কোন কাজ করা বা করণীয় কাজ করা হইতে বিরত থাকা হয় যাহা উক্ত রাষ্ট্রের আইনের দ্বারা বা অধীনে অনুমোদিত, তাহা হইলে উক্ত কাজ করা বা করণীয় কাজ হইতে বিরত থাকার ক্ষেত্রে এই ধারার বিধান প্রযোজ্য হইবে না৷
৮৷ উড্ডয়নে থাকাকালে কোন বিমানে যদি এই আইনসহ বাংলাদেশে বলবত্ যে কোন আইনের অধীনে কোন অপরাধ সংঘটিত হয়, তাহা হইলে উক্ত অপরাধ সংঘটনের দায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় সীমানায় যে স্থানে পাওয়া যাইবে সেই স্থানেই তিনি অপরাধটি সংঘটন করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবে এবং সেই স্থানের উপর এখতিয়ারসম্পন্ন আদালত তাহার বিচার করিতে পারিবে:
তবে শর্ত থাকে যে, ধারা ১১, ১২ এবং ১৩ এর অধীনে কোন অপরাধ বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় সীমানার বাহিরে সংঘটিত হইলে, কোন আদালত অপরাধটি আমলে লইবে না, যদি না-
৯৷ (১) Evidence Act, 1872 (Act 1 of 1872) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন যে ক্ষেত্রে কোন বিমান উড্ডয়নে থাকাকালে উহাতে সংঘটিত কোন কার্যকলাপ বা অপরাধের ব্যাপারে কোন বাংলাদেশী আদালতের কার্যধারায় এমন কোন ব্যক্তির সাক্ষ্য প্রয়োজন হয় যাহাকে, বিশেষ কোন কারণে, বা অযৌক্তিক সময়ক্ষেপণ বা খরচ ব্যতীত, বাংলাদেশে ব্যক্তিগতভাবে হাজির করান সম্ভব নহে মর্মে আদালত সন্তুষ্ট হয়, সে ক্ষেত্রে তাহার মৌখিক সাক্ষ্য (Deposition) উক্ত কার্যধারায় গ্রহণ করা যাইবে, যদি তিনি উক্ত সাক্ষ্য শপথপূর্বক-
(২) উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত বিচারক, ম্যাজিষ্ট্রেট, ব্যক্তি বা কর্মকর্তা কর্তৃক সাক্ষীর বক্তব্য স্বাক্ষরিত না হইলে এবং অভিযুক্ত ব্যক্তি সাক্ষ্য গ্রহণের সময় তাহার সম্মুখে উপস্থিত হইয়াছিলেন মর্মে উক্ত স্বাক্ষরকারী প্রত্যয়ন না করিলে, কোন মৌখিক সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য হইবে না৷
(৩) কোন আইনগত কার্যধারায় উপরি-উক্ত বিচারক, ম্যাজিষ্ট্রেট, ব্যক্তি বা কর্মকর্তার স্বাক্ষর বা তাহার পদবীর সত্যতা প্রমাণের প্রয়োজন হইবে না এবং, বিপরীত প্রমাণিত না হইলে, উক্তরূপ মৌখিক সাক্ষ্য গ্রহণের সময় অভিযুক্ত ব্যক্তির উপস্থিতির প্রমাণ হিসাবে উক্ত প্রত্যয়নপত্রই পর্যাপ্ত সাক্ষ্য হিসাবে গৃহীত হইবে৷
(৪) বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় সীমানা বহির্ভূত কোন স্থানে কোন বাংলাদেশী বিমান উড্ডয়নে থাকাকালে উহাতে কোন অপরাধ সংঘটিত হইয়াছে মর্মে কোন অভিযোগ উপরি-উক্ত কনসুলার কর্মকর্তার নিকট উত্থাপন করা হইলে, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে তদন্ত করিতে এবং এতদুদ্দেশ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে শপথবাক্য পাঠ করাইয়া তাহার সাক্ষ্য গ্রহণ করিতে পারিবেন৷
(৫) কোন মৌখিক সাক্ষ্য এই ধারা ব্যতীত অন্য কোন আইনের অধীনে সাক্ষ্য হিসাবে গ্রহণযোগ্য হইলে তাহা গ্রহণের ক্ষেত্রে এই ধারার বিধান কোন বাধা হইবে না৷
(৬) এই ধারায়-
১০৷ (১) এই আইনের যে কোন কার্যধারায় The Civil Aviation Authority Ordinance, 1982 (XXVIII of 1982) দ্বারা প্রতিষ্ঠিত Civil Aviation Authority কর্তৃক প্রকাশিত যে সকল দলিলকে “এরোনটিক্যাল ইনফরমেশন পাবলিকেশন্স” অথবা “নোটাম” অথবা “এরোনটিক্যাল ইনফরমেশন সার্কুলার” নামে অভিহিত করা হয় সেই সকল দলিল, উহাতে অন্তর্ভুক্ত বিষয়াদি সম্পর্কে, সাক্ষ্য বলিয়া গণ্য হইবে৷
(২) কোন বিমানের পরিস্থিতি সম্পর্কে উক্ত বিমান হইতে বা উহার নিকট প্রেরিত বা উহাতে প্রাপ্ত সংবাদ বা সংকেত উক্ত বিমানের পরিস্থিতি সম্পর্কে দালিলিক সাক্ষ্য হিসাবে বিবেচিত এবং সংশ্লিষ্ট যে কোন কার্যধারায় গ্রহণযোগ্য হইবে৷
১১৷ (১) কোন বিমান উড্ডয়নে থাকাকালে উহার কোন আরোহী বেআইনী বল প্রয়োগের মাধ্যমে বা বল প্রয়োগের ভীতি প্রদর্শন বা অন্য যে কোন প্রকার ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে বা অন্য কোন উপায়ে বিমানটির নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা দখল করিলে বা বিমানটিকে যে কোন প্রকারে নিয়ন্ত্রণ করিলে তাহার উক্ত কাজ বিমান ছিনতাই এর অপরাধ হইবে৷
(২) কোন বিমানের ব্যাপারে কোন ব্যক্তি উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত অপরাধ সংঘটনের চেষ্টা করিলে বা উহা সংঘটনে সহায়তা করিলে তিনিও বিমান ছিনতাই এর অপরাধ করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবেন৷
(৩) কোন ব্যক্তি বিমান ছিনতাই এর অপরাধ করিলে তিনি অন্যুন পাঁচ বত্সর এবং অনধিক বিশ বত্সর সশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে, অথবা মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন, এবং তদুপরি অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হইবেন৷
১২৷ কোন ব্যক্তি বিমান ছিনতাই এর অপরাধ সংঘটনের সূত্রে বিমানের কোন আরোহী বা কোন ক্রু-সদস্য এর প্রতি যদি এমন কোন কাজ করেন যাহা অন্য কোন আইনের অধীনে একটি অপরাধ, তাহা হইলে তিনি উক্ত কাজের জন্য উক্ত অন্য আইনের অধীন অপরাধ সংঘটনের দায়েও দোষী হইবেন এবং তদনুসারে দণ্ডনীয় হইবেন৷
১৩৷ (১) কোন ব্যক্তি যদি বেআইনী ও ইচ্ছাকৃতভাবে-
তাহা হইলে তিনি অন্যুন পাঁচ বত্সর এবং অনধিক বিশ বত্সর সশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে, অথবা মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং তদুপরি অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হইবেন৷
(২) কোন ব্যক্তি উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত কোন অপরাধ সংঘটনের চেষ্টা করিলে, বা উহা সংঘটনের সহায়তা করিলে, তিনি উক্ত উপ-ধারায় উল্লিখিত অপরাধ করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবে এবং একই দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন৷
১৪৷ (১) কোন ব্যক্তি বেআইনীভাবে এবং ইচ্ছাকৃতভাবে বিমান চলাচলের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো বা অন্যান্য সুবিধাদি ধ্বংস বা বিনষ্ট করিলে, অথবা উক্ত অবকাঠামো বা সুবিধাদির ক্রিয়াশীলতা যদি এইরূপে বিঘ্নিত করেন যে, উড্ডয়নে থাকাকালে কোন বিমানের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হইতে পারে, তাহা হইলে তিনি অন্যুন পাঁচ বত্সর এবং অনধিক বিশ বত্সর সশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে, অথবা মৃতুদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন, এবং তদুপরি অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হইবেন৷
(২) কোন ব্যক্তি উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত কোন অপরাধ সংঘটনের চেষ্টা করিলে, বা উহা সংঘটনের সহায়তা করিলে, তিনি উক্ত উপ-ধারায় উল্লিখিত অপরাধ করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবেন এবং একই দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন৷
১৫৷ কোন বিমান-অধিনায়ক ধারা ৩ এর উপ-ধারা (৬) এর বিধান পালনে ব্যর্থ হইলে, তিনি অনধিক পাঁচ বত্সর কারাদণ্ডে বা অনধিক এক লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে বা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন৷
১৬৷ কোন ব্যক্তি কোন বাংলাদেশী বিমানের বিমান-অধিনায়ককে ধারা ৩ এর অধীন তাহার ক্ষমতা প্রয়োগে বাধাদান বা বিঘ্ন সৃষ্টি করিলে, উক্ত ব্যক্তি অনধিক পাঁচ বত্সর সশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অনধিক পঞ্চাশ হাজার টাকা অর্থদণ্ডে বা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন৷
১৭৷ কোন বাংলাদেশী বিমানের বিমান-অধিনায়ক তাহাকে সহায়তা করার জন্য ধারা ৩ এর অধীনে কোন ক্রু-সদস্যকে নির্দেশ বা ক্ষমতা প্রদান করা সত্ত্বেও উক্ত ক্রু-সদস্য উক্ত সহায়তা করিতে অস্বীকার করিলে বা ব্যর্থ হইলে, তিনি অনধিক দুই বত্সর কারাদণ্ডে বা অনধিক দশ হাজার টাকা অর্থদণ্ডে বা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন৷
১৮৷ ধারা ১১, ১২, ১৩ বা ১৪ এর অধীন অপরাধ সংঘটনের অভিযোগে কোন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হইলে, যথাযথ কর্তৃপক্ষ ধারা ৫ এর উপ-ধারা (১) এর দফা (ক) হইতে (গ) এবং উপ-ধারা (২) অনুসারে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করিবে৷
১৯৷ Code of Criminal Procedure, 1898 (Act V of 1898) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইনের অধীন সকল অপরাধ উক্ত Code এর তাত্পর্যাধীনে আমলযোগ্য (Cognizable) এবং অজামিনযোগ্য (Non bailable) হইবে৷
২০৷ সরকার, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, কনভেনশনভুক্ত দেশসমূহের নাম এবং উক্ত দেশসমূহ কনভেনশনের কতটুকু গ্রহণ করিয়াছে তাহা প্রকাশ করিবে এবং উক্ত প্রজ্ঞাপন, উহাতে অন্তর্ভুক্ত বিষয়াদি সম্পর্কে, চূড়ান্ত সাক্ষ্য হইবে৷
২১৷ সরকার এই মর্মে সন্তুষ্ট হয় যে, টোকিও কনভেনশনের আর্টিকেল ১৮ বা হেগ কনভেনশনের আর্টিকেল ৫ বা মন্ট্রিল কনভেনশনের আর্টিকেল ৯ এর শর্তাবলী কোন বিমানের ক্ষেত্রে পূরণ করা হইয়াছে, তাহা হইলে সরকার, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা এবং উহাতে উক্ত বিমান এবং সংশ্লিষ্ট কনভেনশনভুক্ত দেশের নাম উল্লেখক্রমে, এইরূপ নির্দেশ দিতে পারিবে যে, এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, বিমানটিকে উক্ত দেশে নিবন্ধনকৃত একটি বিমান গণ্য করিতে হইবে৷
২২৷ Extradition Act, 1974 (LVIII of 1974), অতঃপর উক্ত Act বলিয়া উল্লিখিত, এর উদ্দেশ্য পূরণকল্পে এতদ্বারা ঘোষণা করা যাইতেছে যে,-
চুক্তিতে সুনির্দিষ্টভাবে উল্লিখিত না থাকিলেও, চুক্তিটির আওতাভুক্ত বলিয়া এবং অপরাধসমূহের ব্যাপারে চুক্তিটি আইনানুগভাবে সম্পাদিত বলিয়া গণ্য হইবে এবং সে অনুসারে উহা বাংলাদেশের উপর বাধ্যতামূলক হইবে;
২৩৷ সরকারের বা তত্কর্তৃক ক্ষমতা প্রদত্ত ব্যক্তির পূর্ব অনুমোদন ব্যতীত এই আইনের অধীন কোন অপরাধের ব্যাপারে কোন বিচার কার্যক্রম শুরু করা যাইবে না৷
২৪৷ সরকার, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, নির্দেশ দিতে পারিবে যে, ধারা ২(১)(গ) এর দফা (আ) তে বর্ণিত বিমানের ক্ষেত্রে, এই আইনের সকল বা যে কোন বিধান প্রজ্ঞাপনে উল্লেখিত সংশোধন বা পরিবর্তনসহ প্রযোজ্য হইবে৷
২৫৷ এই আইনের বিধান বা তদধীন জারীকৃত প্রজ্ঞাপন, প্রদত্ত কোন ক্ষমতা বা আদেশ বা কৃত অনুরোধ মোতাবেক সরল বিশ্বাসে কৃত কোন কিছুর জন্য সরকার বা অন্য কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোন প্রকার মামলা বা অন্য কোন আইনগত কার্যধারা চলিবে না৷
২৬৷ এই আইন প্রবর্তনের পর সরকার সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইনের ইংরেজীতে অনূদিত একটি পাঠ প্রকাশ করিবে, যাহা এই আইনের অনুমোদিত ইংরেজী পাঠ নামে অভিহিত হইবে:
তবে শর্ত থাকে যে, এই আইনের বাংলা এবং ইংরেজী পাঠের মধ্যে কোন বিরোধের ক্ষেত্রে বাংলা পাঠ প্রাধান্য পাইবে৷