বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন আইন, ১৯৯৮
বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন স্থাপনকল্পে প্রণীত আইন৷
বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন স্থাপনকল্পে প্রণীত আইন৷ যেহেতু বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন নামে একটি ফাউন্ডেশন স্থাপন করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়; সেহেতু এতদ্দ্বারা নিম্্নরূপ আইন করা হইল:-
সংক্ষিপ্ত শিরোনামা
১৷ এই আইন বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন আইন, ১৯৯৮ নামে অভিহিত হইবে৷
সংজ্ঞা
২৷ বিষয় বা প্রসংগের পরিপন্থী কোন কিছু না থাকিলে, এই আইনে,-
ফাউন্ডেশন স্থাপন
৩৷ (১) এই আইন বলবত্ হইবার পর, যতশীঘ্র সম্ভব সরকার, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইনের বিধান অনুযায়ী লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন নামে একটি ফাউন্ডেশন স্থাপন করিবে৷
(২) ফাউন্ডেশন একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা হইবে এবং ইহার স্থায়ী ধারাবাহিকতা ও একটি সাধারণ সীলমোহর থাকিবে, এবং এই আইনে ও বিধি সাপেক্ষে, ইহার স্থাবর ও অস্থাবর উভয় প্রকার সম্পত্তি অর্জন করার, অধিকারে রাখার এবং হস্তান্তর করার ক্ষমতা থাকিবে এবং ইহার নামে ইহা মামলা দায়ের করিতে পারিবে এবং ইহার বিরুদ্ধেও মামলা দায়ের করা যাইবে৷
ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যালয়
৪৷ ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যালয় নারায়াণগঞ্জ জেলার অন্তর্গত সোনারগাঁও এ থাকিবে এবং ইহা প্রয়োজনবোধে, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, যে কোন স্থানে শাখা কার্যালয় স্থাপন করিতে পারিবে৷
ফাউন্ডেশন পরিচালনা
৫৷ ফাউন্ডেশন পরিচালনা ও ইহার প্রশাসন একটি পরিচালনা বোর্ডের উপর ন্যস্ত থাকিবে এবং ফাউন্ডেশন যে সকল ক্ষমতা প্রয়োগ এবং কার্য সম্পাদন করিতে পারিবে পরিচালনা বোর্ডও সেই সকল ক্ষমতা প্রয়োগ ও কার্য সম্পাদন করিতে পারিবে৷
পরিচালনা বোর্ড
৬৷ পরিচালনা বোর্ড নিম্নরূপ সদস্য সমন্বয়ে গঠিত হইবে, যথা:-
ফাউন্ডেশনের কার্যাবলী
৭৷ ফাউন্ডেশনের কার্যাবলী হইবে নিম্নরূপ যথা:-
বোর্ডের সভা
৮৷ (১) এই ধারার অন্যান্য বিধানাবলী সাপেক্ষে, বোর্ড উহার সভার কার্যপদ্ধতি নির্ধারণ করিতে পারিবে৷
(২) বোর্ডের সভা চেয়ারম্যান কর্তৃক নির্ধারিত স্থান ও সময়ে অনুষ্ঠিত হইবে:
তবে শর্ত থাকে যে, প্রতি তিন মাসে বোর্ডের কমপক্ষে একটি সভা অনুষ্ঠিত হইবে৷
(৩) বোর্ডের সকল সভায় চেয়ারম্যান সভাপতিত্ব করিবেন এবং তাঁহার অনুপস্থিতিতে চেয়ারম্যান কর্তৃক সদস্যদের মধ্য হইতে মনোনীত কোন সংসদ সদস্য সভায় সভাপতিত্ব করিবেন৷
(৪) বোর্ডের মোট সদস্যের এক চতুর্থাংশের উপস্থিতিতে উহার সভার কোরাম গঠিত হইবে:
তবে শর্ত থাকে যে, মুলতবী সভার ক্ষেত্রে কোন কোরামের প্রয়োজন হইবে না৷
(৫) উপস্থিত সদস্যদের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে বোর্ডের সভায় সিদ্ধান্ত গৃহীত হইবে এবং ভোটের সমতার ক্ষেত্রে সভাপতিত্বকারী ব্যক্তির দ্বিতীয় বা নির্ণায়ক ভোট প্রদানের ক্ষমতা থাকিবে৷
(৬) শুধুমাত্র কোন সদস্যপদে শূন্যতার কারণে ফাউন্ডেশনের কার্যধারা অবৈধ হইবে না৷
ফাউন্ডেশনের তহবিল
৯৷ (১) ফাউন্ডেশনের একটি তহবিল থাকিবে এবং উহাতে নিম্নবর্ণিত অর্থ জমা হইবে, যথা:-
(২) এই তহবিল ফাউন্ডেশনের নামে কোন তফসিলী ব্যাংকে জমা রাখা হইবে এবং বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত পদ্ধতিতে এই তহবিল হইতে অর্থ উঠানো যাইবে৷
(৩) এই তহবিল হইতে ফাউন্ডেশনের প্রয়োজনীয় ব্যয় নির্বাহ করা হইবে৷
(৪) ফাউন্ডেশন এই তহবিল সরকার কর্তৃক অনুমোদিত খাতে বিনিয়োগ করিতে পারিবে৷
পরিচালক
১০৷ (১) ফাউন্ডেশনের একজন পরিচালক থাকিবে৷
(২) পরিচালক সরকার কর্তৃক নিযুক্ত হইবেন এবং তাঁহার চাকুরির শর্তাদি সরকার কর্তৃক স্থিরকৃত হইবে৷
(৩) পরিচালকের পদ শূন্য হইলে, কিংবা অনুপস্থিতি, অসুস্থতা বা অন্য কোন কারণে পরিচালক তাহার দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হইলে শূন্য পদে নবনিযুক্ত পরিচালক কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত কিংবা পরিচালক পুনরায় স্বীয় দায়িত্ব পালনে সমর্থ না হওয়া পর্যন্ত সরকার কর্তৃক মনোনীত কোন ব্যক্তি পরিচালকরূপে দায়িত্ব পালন করিবে৷
(৪) পরিচালক ফাউন্ডেশনের সার্বক্ষণিক মূখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা হইবেন, এবং তিনি-
কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ
১১৷ ফাউন্ডেশন উহার দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে পালনের জন্য প্রয়োজনীয় কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ করিতে পারিবে এবং তাহাদের চাকুরীর শর্তাবলী প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত হইবে৷
বার্ষিক বাজেট বিবরণী
১২৷ ফাউন্ডেশন প্রতি বত্সর সরকার কর্তৃক নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পরবর্তী বত্সরের বার্ষিক বিবরণী সরকারের নিকট পেশ করিবে এবং উহাতে উক্ত অর্থ বত্সরে সরকারের নিকট হইতে ফাউন্ডেশনের কি পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন উহার উল্লেখ থাকিবে৷
হিসাবরক্ষণ ও নিরীক্ষা
১৩৷ (১) ফাউন্ডেশন যথাযথভাবে উহার হিসাবরক্ষণ করিবে এবং হিসাবের বার্ষিক বিবরণী প্রস্তুত করিবে৷
(২) বাংলাদেশের মহা-হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, অতঃপর মহা-হিসাব নিরীক্ষক নামে অভিহিত, প্রতি বত্সর ফাউন্ডেশনের হিসাব নিরীক্ষা করিবেন এবং নিরীক্ষা রিপোর্টের একটি করিয়া অনুলিপি সরকার ও ফাউন্ডেশনের নিকট প্রেরণ করিবেন৷
(৩) উপ-ধারা (২) মোতাবেক হিসাব নিরীক্ষার উদ্দেশ্যে মহা-হিসাব- নিরীক্ষক কিংবা তাঁহার নিকট হইতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন ব্যক্তি ফাউন্ডেশনের সকল রেকর্ড, দলিল দস্তাবেজ, নগদ বা ব্যাংকে গচ্ছিত অর্থ, জামানত, ভাণ্ডার এবং অন্যবিধ সম্পত্তি পরীক্ষা করিয়া দেখিতে পারিবেন এবং ফাউন্ডেশনের যে কোন সদস্য, কর্মকর্তা বা কর্মচারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করিতে পারিবেন৷
প্রতিবেদন
১৪৷ (১) প্রতি আর্থিক বত্সর শেষ হইবার সংগে সংগে ফাউন্ডেশন উক্ত বত্সরে সম্পাদিত কার্যাবলীর খতিয়ান সম্বলিত একটি বার্ষিক প্রতিবেদন সরকারের নিকট পেশ করিবে৷
(২) সরকার প্রয়োজনমত ফাউন্ডেশনের নিকট হইতে যে কোন সময় উহার যে কোন বিষয়ের উপর প্রতিবেদন বা বিবরণী আহ্বান করিতে পারিবে এবং ফাউন্ডেশন উহা সরকারের নিকট প্রেরণ করিতে বাধ্য থাকিবে৷
ক্ষমতা অর্পণ
১৫৷ বোর্ড উহার যে কোন ক্ষমতা বা দায়িত্ব সুনির্দিষ্ট শর্তে চেয়ারম্যান বা অন্য কোন সদস্য বা পরিচালক বা ফাউন্ডেশনের অন্য কোন কর্মকর্তাকে অর্পণ করিতে পারিবে৷
বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা
১৬৷ এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে সরকার, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে৷
প্রবিধান প্রণয়নের ক্ষমতা
১৭৷ এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে ফাউন্ডেশন, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে এবং সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইন বা কোন বিধির সহিত অসমঞ্জস না হয় এইরূপ প্রবিধান প্রণয়ন করিতে পারিবে৷
Bangladesh Folk Arts and Crafts Foundation এর বিলোপ, ইত্যাদি
১৮৷ (১) ফাউন্ডেশন স্থাপনের সংগে সংগে তদানীন্তন Cultural Affairs and Sports Division এর ১২ই মার্চ, ১৯৭৫ তারিখের Resolution No. F. 7-2/75-Cul. অতঃপর উক্ত রেজিলিউশন বলিয়া উল্লেখিত, বাতিল হইয়া যাইবে৷
(২) উক্ত রেজিলিউশন বাতিল হইবার সঙ্গে সঙ্গে-