মানবদেহে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজনের বিধান করার উদ্দেশ্যে প্রণীত আইন৷ যেহেতু মানবদেহে সংযোজনের নিমিত্তে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও উহার আইনানুগ ব্যবহার নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে বিধান করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়; সেহেতু এতদ্দ্বারা নিম্নরূপ আইন করা হইল :-
১৷ এই আইন মানবদেহে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন আইন, ১৯৯৯ নামে অভিহিত হইবে৷
[ ২। সংজ্ঞা।- বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থি কোন কিছু না থাকিলে, এই আইনে-
(১) ‘‘অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ” অর্থ মানবদেহের কিডনী, হৃৎপিন্ড, ফুসফুস, অন্ত্র, যকৃত, অগ্নাশয়, অস্থি, অস্থিমজ্জা, চক্ষু, চর্ম ও টিস্যুসহ মানবদেহে সংযোজনযোগ্য যে কোন অঙ্গ বা প্রত্যঙ্গ;
(২) ‘‘আইনানুগ উত্তরাধিকারী’’ অর্থ স্বামী, স্ত্রী, প্রাপ্ত বয়স্ক পুত্র ও কন্যা, পিতা, মাতা, প্রাপ্ত বয়স্ক ভাই ও বোন এবং রক্ত সম্পর্কের অন্যান্য প্রাপ্ত বয়স্ক আত্নীয়, তবে এই আইনের অধীনে আইনানুগ উত্তরাধিকারীর ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষেত্রে, প্রথমোল্লিখিত ব্যক্তিগণ ক্রমানুসারে তৎপরবর্তীতে উল্লিখিত ব্যক্তিগণের তুলনায় অগ্রাধিকার লাভ করিবেন;
(৩) ‘‘ক্যাডাভেরিক (Cadaveric)’’ অর্থ হৃদপিন্ড স্পন্দনরত এইরূপ মানবদেহ যাহা অনুমোদিত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকবৃন্দ কর্তৃক ব্রেইন ডেথ মর্মে ঘোষিত এবং যাহার অঙ্গসমূহ অন্য মানবদেহে প্রতিস্থাপনের জন্য লাইফ সাপোর্ট দ্বারা কার্যক্ষম রাখা হইয়াছে;
(৪) ‘‘নিকট আত্মীয়’’ অর্থ পিতা, মাতা, পুত্র, কন্যা, ভাই, বোন, স্বামী, স্ত্রী ও রক্ত সম্পর্কিত আপন চাচা, ফুফু, মামা, খালা, নানা, নানি, দাদা, দাদি, নাতি, নাতনি, আপন চাচাতো, মামাতো, ফুপাতো, খালাতো ভাই বা বোন;
(৫) ‘‘নির্ধারিত’’ অর্থ বিধি দ্বারা নির্ধারিত;
(৬) ‘‘প্রত্যয়ন বোর্ড’’ (Authentication Board) অর্থ এই আইনের ধারা ৭(ক) এর উপ-ধারা (১) এর অধীন গঠিত প্রত্যয়ন বোর্ড;
(৭) ‘‘বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিল’’ অর্থ বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিল আইন, ২০১০ (২০১০ সনের ৬১ নং আইন) এর ধারা ৩ এর অধীন প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিল;
(৮) ‘‘বিধি’’ অর্থ এই আইনের অধীন প্রণীত বিধি;
(৯) ‘‘ব্রেইন ডেথ’’ অর্থ ধারা ৫ এর অধীন ঘোষিত ব্রেইন ডেথ;
(১০) ‘‘মেডিকেল বোর্ড’’ অর্থ ধারা ৭ এর উপ-ধারা (১) এর অধীন গঠিত মেডিকেল বোর্ড;
(১১) ‘‘সমন্বয়কারী’’ অর্থ ধারা ৭ এর উপ-ধারা (৪) এর অধীন নিয়োগপ্রাপ্ত কোন চিকিৎসক;
(১২) ‘‘সংশ্লিষ্ট বিষয়’’ অর্থ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ভেদে-
(১৩) ‘‘হাসপাতাল’’ অর্থ চিকিৎসা সেবা প্রদানের উদ্দেশ্যে স্থাপিত কোন সরকারি বা সরকার কর্তৃক অনুমোদিত কোন বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক, নার্সিং হোম, মেডিকেল সেন্টার, মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ, ইনস্টিটিউট বা প্রতিষ্ঠান, উহা যে নামেই অভিহিত হউক না কেন।]
[ ২ক। (১) কোন হাসপাতাল সরকারের অনুমতি ব্যতীত মানবদেহে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন করিতে পারিবে না।
(২) কোন হাসপাতাল মানবদেহে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন করিতে ইচ্ছুক হইলে অনুমতির জন্য নির্ধারিত পদ্ধতি ও শর্ত পূরণ সাপেক্ষে সরকারের নিকট আবেদন করিতে হইবে।
(৩) উপ-ধারা (২) এর অধীন আবেদন প্রাপ্তির পর সরকার যদি এই মর্মে সন্তুষ্ট হন যে, আবেদনকারী হাসপাতাল নির্ধারিত শর্ত পূরণ করিয়াছে তাহা হইলে উক্ত হাসপাতালকে মানবদেহে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজনের অনুমতি প্রদান করিবে।
(৪) এই আইন কার্যকর হইবার অব্যবহিত পূর্বে যেই সকল হাসপাতালে মানবদেহে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন করা হইয়াছে বা করিতেছে সেই সকল হাসপাতালকে এই আইন কার্যকর হইবার ৬০(ষাট) দিনের মধ্যে উপ-ধারা (২) এর অধীন অনুমতির জন্য সরকারের নিকট আবেদন করিতে হইবে।
(৫) কোন হাসপাতাল উপ-ধারা (৪) এর বিধান লঙ্ঘন করিলে সরকার বা তৎকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষ উক্ত হাসপাতালের লাইসেন্স স্থগিত করিতে পারিবে।
(৬) এই ধারার অন্যান্য বিধানে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, সরকার কর্তৃক স্থাপিত বা প্রতিষ্ঠিত মানবদেহে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন সংক্রান্ত হাসপাতালের বিশেষায়িত ইউনিটে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজনের ক্ষেত্রে অনমুতির প্রয়োজন হইবে না।]
[ ৩। (১) ধারা ৪ এর বিধান সাপেক্ষে, সুস্থ ও স্বাভাবিক বুদ্ধিসম্পন্ন কোন জীবিত ব্যক্তি তাহার এমন কোন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ, যাহা বিযুক্তির কারণে তাহার স্বাভাবিক জীবন-যাপনে ব্যাঘাত সৃষ্টির আশংকা না থাকিলে উহা, তাহার কোন নিকট আত্মীয়ের দেহে সংযোজনের জন্য দান করিতে পারিবেন:
তবে শর্ত থাকে যে, চক্ষু, চর্ম, টিস্যু ও অস্থিমজ্জা সংযোজন বা প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে নিকট আত্মীয় হইবার প্রয়োজন হইবে না।
(২) এই ধারার অধীন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দানের সহিত সম্পর্কিত অন্যান্য বিষয়াবলি বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে।]
[ ৪। (১) ধারা ৫ এর বিধান সাপেক্ষে, নিম্নবর্ণিত ক্ষেত্রসমূহে কোন ব্যক্তির দেহ হইতে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ অন্য কোন ব্যক্তির দেহে সংযোজনের উদ্দেশ্যে বিযুক্ত করা যাইবে, যথা :-
(২) এই ধারার অধীন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিযুক্তির সহিত সম্পর্কিত অন্যান্য বিষয়াবলি বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে।]
[ ৫। (১) এই ধারার অন্যান্য বিধান সাপেক্ষে, মেডিসিন অথবা ক্রিটিক্যাল কেয়ার মেডিসিন, নিউরোলজি এবং এ্যানেসথেসিওলজি বিষয়ে বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক অথবা সহযোগী অধ্যাপক পদমর্যাদার অন্যূন ৩(তিন) জন চিকিৎসক সমন্বয়ে গঠিত কমিটি কোন ব্যক্তির ব্রেইন ডেথ ঘোষণা করিতে পারিবে:
তবে শর্ত থাকে যে, ব্রেইন ডেথ ঘোষণাকারী কমিটির কোন চিকিৎসক বা তাহার কোন নিকট আত্মীয় এইরূপ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ প্রতিস্থাপন বা সংযোজন প্রক্রিয়ার সহিত কোনভাবে জড়িত থাকিতে পারিবেন না।
(২) কোন ব্যক্তির ব্রেইন ডেথ ঘোষণা করা যাইবে না, যদি না নিম্নবর্ণিত শর্তসমূহ পূরণ হয়, যথা :-
তবে শর্ত থাকে যে, এই দফার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, নিম্নবর্ণিত কোন কারণে কোমা অবস্থার সৃষ্টি হইলে উহা গ্রহণযোগ্য হইবে না, যথা:-
(৩) উপ-ধারা (২) এ বর্ণিত অবস্থার অনুপস্থিতিতে নিম্নবর্ণিত পরীক্ষা দ্বারা ব্রেইন ডেথ ঘোষণা করা যাইবে, যথা:―
(৪) ২ (দুই) বৎসর হইতে ১৩ (তেরো) বৎসর বয়স্ক কোন শিশুর ব্রেইন ডেথ ঘোষণা করিতে হইলে সংশ্লিষ্ট শিশুটিকে ইলেক্ট্রোএনসেফালোগ্রাম (ইইজি) পরীক্ষা দ্বারা অন্যূন ১২ (বারো) ঘন্টা পর্যবেক্ষণ করিতে হইবে।]
[ ৬। (১) অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দাতা হিসাবে কোন ব্যক্তি উপযুক্ত বলিয়া বিবেচিত হইবেন না, যদি―
তবে শর্ত থাকে যে, চক্ষু, চর্ম, টিস্যু ও অস্থিমজ্জা সংযোজন বা প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে এই বিধান প্রযোজ্য হইবে না;
তবে শর্ত থাকে যে, পুনঃউৎপাদনশীল টিস্যুর ক্ষেত্রে দাতা ও গ্রহীতা রক্ত সম্পর্কীয় ভাই বা বোন হইলে অথবা চক্ষু, চর্ম, টিস্যু ও অস্থিমজ্জা সংযোজন বা প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে এই বিধান প্রযোজ্য হইবে না;
তবে শর্ত থাকে যে, ক্ষেত্র বিশেষে মেডিকেল বোর্ড কিংবা প্রত্যয়ন বোর্ডের অনুমোদন সাপেক্ষে যকৃত প্রতিস্থাপনে উক্ত বিধান প্রযোজ্য হইবে না;
(২) অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ গ্রহীতা হিসাবে কোন ব্যক্তি উপযুক্ত বলিয়া বিবেচিত হইবেন না, যদি―
তবে শর্ত থাকে যে ১৫ (পনেরো) বৎসর হইতে ৫০ (পঞ্চাশ) বৎসর পর্যন্ত বয়সসীমার ব্যক্তিগণ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ গ্রহীতা হিসাবে অগ্রাধিকার লাভ করিবেন:
আরও শর্ত থাকে যে কর্ণিয়া, চর্ম ও টিস্যু প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে এই বিধান প্রযোজ্য হইবে না;
[ ৭। (১) মানবদেহে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সংশ্লিষ্ট হাসপাতালে নিম্নবর্ণিত ব্যক্তিগণের সমন্বয়ে একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করিতে হইবে, যথা:―
(২) মেডিকেল বোর্ড, প্রয়োজনে, সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অভিজ্ঞতাসম্পন্ন অনধিক দুই জন সদস্য কো-অপ্ট করিতে পারিবে।
(৩) মেডিকেল বোর্ডের কার্যাবলি হইবে নিম্নরূপ, যথা:-
(৪) কোন হাসপাতালে মানবদেহে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজনের কার্যক্রম সমন্বয়ের উদ্দেশ্যে সরকার, সংশ্লিষ্ট বিষয়ের কোন অধ্যাপক বা সহযোগী অধ্যাপক বা সমপদমর্যাদার কোন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসককে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন সমন্বয়কারী হিসাবে নিয়োগ করিবে।
(৫) কোন ব্যক্তির ব্রেইন ডেথ ঘোষণা করা হইলে তৎসম্পর্কে উক্তরূপ ঘোষণাকারীগণ অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন সমন্বয়কারীকে অবহিত করিবেন এবং উক্ত সমন্বয়কারী মেডিকেল বোর্ডের মাধ্যমে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংগ্রহ ও সংযোজনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন।]
[ ৭ক। (১) অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংগ্রহ ও সংযোজনে সহায়তা প্রদানের নিমিত্ত নিম্নবর্ণিত সদস্য সমন্বয়ে একটি প্রত্যয়ন বোর্ড গঠিত হইবে, যথা:-
(২) ধারা ৭ এর উপ-ধারা (৩) এর দফা (ক) এর অধীন মেডিকেল বোর্ড কর্তৃক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দাতা ও গ্রহীতার আত্মীয়তা সম্পর্ক নির্ধারণের ক্ষেত্রে কোন সন্দেহ দেখা দিলে উহা প্রত্যয়ন বোর্ডের নিকট প্রেরণ করিতে হইবে এবং ক্ষেত্রে এই প্রত্যয়ন বোর্ডের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হইবে।
(১) ক্যাডাভেরিক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংগ্রহের অনুমতি প্রদানের লক্ষ্যে সরকার, উপ-ধারা (২) এর বিধান সাপেক্ষে, নিম্নবর্ণিত সদস্য সমন্বয়ে একটি ক্যাডাভেরিক জাতীয় কমিটি গঠন করিবে, যথা:-
(২) অঙ্গ-প্রত্যঙ্গভেদে বিষয়ভিত্তিক সুপারিশ প্রণয়নের ক্ষেত্রে উপ-ধারা (১) এর দফা (খ), (গ) এবং (চ) এ বর্ণিত প্রতিনিধিগণ অন্তর্ভুক্ত হইবেন।
(৩) ক্যাডাভেরিক জাতীয় কমিটির কার্যাবলি হইবে নিম্নরূপ, যথা:-
(৪) ক্যাডাভেরিক জাতীয় কমিটি, প্রয়োজনে, উহার কোন সদস্য সমন্বয়ে উপ কমিটি গঠন ও উহার দায়িত্ব ও কর্মপরিধি নির্ধারণ করিতে পারিবে।
(৫) ক্যাডাভেরিক জাতীয় কমিটির সভা সংক্রান্ত বিষয়াবলি বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে।
(১) নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র (আইসিইউ) সম্বলিত কোন হাসপাতাল ব্রেইন ডেথ ঘোষিত ব্যক্তির ক্যাডাভেরিক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংগ্রহের প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সমন্বয়কারীর মাধ্যমে গ্রহণ করিতে পারিবে।
(২) সমন্বয়কারী বিযুক্ত ক্যাডাভেরিক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গসমূহ সচল রাখিবার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণসহ সকল পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা গ্রহণ করিবে।
(৩) ক্যাডাভেরিক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজনের ক্ষেত্রে নিম্নবর্ণিত গ্রহীতগণ অগ্রাধিকার পাইবে, যথা :-
(৪) ক্যাডাভেরিক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন ও বিযুক্তকরণ সম্পর্কিত অন্যান্য বিষয়াবলি বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে।]
[ ৮। (১) প্রতিটি হাসপাতাল অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজনে আগ্রহী এবং মেডিকেল বোর্ড কর্তৃক উপযুক্ত ঘোষিত ব্যক্তির তথ্যাবলী সংবলিত একটি রেজিস্টার সংরক্ষণ করিবে।
(২) রেজিস্টার সংরক্ষণ সংক্রান্ত বিষয়াদি বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে।]
৯৷ মানব দেহের যে কোন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ক্রয়-বিক্রয় বা উহার বিনিময়ে কোন প্রকার সুবিধা লাভ এবং সেই উদ্দেশ্যে কোন প্রকার বিজ্ঞাপন প্রদান বা অন্য কোনরূপ প্রচারণা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ৷
[ ১০। (১) কোন ব্যক্তি নিকট আত্মীয়তা সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য প্রদান করিলে অথবা উক্তরূপ তথ্য প্রদানে উৎসাহিত, প্ররোচিত বা ভীতি প্রদর্শন করিলে উহা হইবে একটি অপরাধ এবং তজ্জন্য তিনি অনধিক ২ (দুই) বৎসর সশ্রম কারাদণ্ড বা অনধিক ৫ (পাঁচ) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন।
(২) কোন ব্যক্তি উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত অপরাধ ব্যতীত এই আইনের অন্য কোন বিধান লঙ্ঘন করিলে অথবা লঙ্ঘনে সহায়তা করিলে উহা হইবে একটি অপরাধ এবং তজ্জন্য তিনি অনধিক ৩ (তিন) বৎসর সশ্রম কারাদণ্ড বা অনধিক ১০ (দশ) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন।
(৩) এই আইনের অধীন কোন অপরাধের জন্য কোন চিকিৎসক দণ্ডিত হইলে, বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিল কর্তৃক তাহাকে প্রদত্ত রেজিস্ট্রেশন বাতিলযোগ্য হইবে।]
[ ১০ক। (১) কোন হাসপাতাল কর্তৃক এই আইনের অধীন কোন অপরাধ সংঘটিত হইলে, অপরাধের সহিত প্রত্যক্ষ সংশ্লিষ্টতা রহিয়াছে এইরূপ হাসপাতালের পরিচালনা বা ব্যবস্থাপনার সহিত জড়িত মালিক, পরিচালক, ব্যবস্থাপক, তিনি যে নামেই পরিচিত হউন না কেন, উক্ত অপরাধ করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবে, যদি না তিনি প্রমাণ করিতে সক্ষম হন যে, উক্ত অপরাধ তাহার অজ্ঞাতসারে সংঘটিত হইয়াছে এবং উহা রোধ করিবার জন্য তিনি যথাসাধ্য চেষ্টা করিয়াছেন।
(২) কোন হাসপাতাল কর্তৃক এই আইনের অধীন কোন অপরাধ সংঘটিত হইলে উহার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজনের অনুমতি বাতিল হইবে এবং সংশ্লিষ্ট অপরাধের জন্য অর্থ দণ্ড আরোপ করা যাইবে।
এই আইনের অধীন সংঘটিত অপরাধের তদন্ত, বিচার, আপিল এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়ে Code of Criminal Procedure, 1898 (Act No. V of 1898) এর বিধানাবলী প্রযোজ্য হইবে।]
১১৷ এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে সরকার, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে৷