Bangladesh Water and Power Development Boards Order, 1972 (P. O. No. 59 of 1972) -এর অধীন প্রতিষ্ঠিত Bangladesh Water Development Board সংক্রান্ত বিধানাবলী রহিত করিয়া পানি সম্পদের উন্নয়ন ও দক্ষ ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে সংশোধিত আকারে আইন প্রণয়নের উদ্দেশ্যে প্রণীত আইন৷ যেহেতু Bangladesh Water and Power Development Boards Order, 1972 (P. O. No. 59 of 1972) - এর অধীন প্রতিষ্ঠিত Bangladesh Water Development Board সংক্রান্ত বিধানাবলী রহিত করিয়া পানি সম্পদের উন্নয়ন ও দক্ষ ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে সংশোধিত আকারে আইন প্রণয়ন করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়; সেহেতু এতদ্দ্বারা নিম্নরূপ আইন করা হইল:-
১৷ এই আইন বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড আইন, ২০০০ নামে অভিহিত হইবে৷
২৷ বিষয় বা প্রসংগের পরিপন্থী কোন কিছু না থাকিলে, এই আইনে,-
৩৷ (১) এই আইন বলবত্ হইবার সংগে সংগে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড নামে একটি সংস্থা প্রতিষ্ঠিত হইবে৷
(২) বোর্ড একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা হইবে এবং ইহার স্থায়ী ধারাবাহিকতা ও একটি সাধারণ সীলমোহর থাকিবে এবং এই আইনের বিধানাবলীর সাপেক্ষে, ইহার স্থাবর ও অস্থাবর উভয় প্রকার সম্পত্তি অর্জন করার, অধিকারে রাখার ও হস্তান্তর করার ক্ষমতা থাকিবে এবং বোর্ডের নামে উহার পক্ষে বা বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা যাইবে৷
৪৷ বোর্ডের প্রধান কার্যালয় ঢাকায় থাকিবে এবং ইহার কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নের স্বার্থে বোর্ড বাংলাদেশের যে কোন স্থানে শাখা কার্যালয় স্থাপন করিতে পারিবে এবং প্রয়োজনে স্থাপিত কোন শাখা কার্যালয় স্থানান্তর বা বিলুপ্ত করিতে পারিবে৷
৫৷ (১) এই আইনের বিধানাবলী সাপেক্ষে, পানি সম্পদের উন্নয়ন ও দক্ষ ব্যবস্থাপনা এবং ধারা ৬-এ বর্ণিত কার্যাবলী সম্পাদনের লক্ষ্যে বোর্ড সমগ্র বাংলাদেশ অথবা উহার যে কোন অংশে কার্যক্রম গ্রহণ করিতে পারিবে৷
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন ক্ষমতা ও দায়িত্বের সামগ্রিকতা ক্ষুণ্ন না করিয়া, বোর্ডের নিম্্নবর্ণিত ক্ষমতা ও দায়িত্ব থাকিবে, যথা:-
৬৷ (১) সরকার কর্তৃক গৃহীত জাতীয় পানি নীতি ও জাতীয় পানি মহাপরিকল্পনার আলোকে এবং এই ধারার অন্যান্য বিধানাবলী সাপেক্ষে, বোর্ড নিম্্নবর্ণিত কার্যাবলী সম্পাদন এবং তদুদ্দেশ্যে প্রয়োজনীয় প্রকল্প প্রণয়ন, বাস্তবায়ন, পরিচালনা, রক্ষণাবেক্ষণ ও মূল্যায়ন সংক্রান্ত যাবতীয় কার্যক্রম গ্রহণ করিতে পারিবে, যথা:-
কাঠামোগত কার্যাবলী:
অ-কাঠামোগত ও সহায়ক কার্যাবলী:
(২) বোর্ড উপ-ধারা (১)-এ বর্ণিত কার্যাবলী নিম্্নবর্ণিত শর্তাদি পালন সাপেক্ষে সম্পাদন করিবে, যথা:-
৭৷ বোর্ডের বিষয়াদি ও কার্যাবলীর সাধারণ পরিচালনা ও প্রশাসন একটি পরিষদের উপর ন্যস্ত থাকিবে এবং বোর্ড যে সকল ক্ষমতা প্রয়োগ ও কার্য সম্পাদন করিতে পারিবে পরিষদও সেই সকল ক্ষমতা প্রয়োগ ও কার্য সম্পাদন করিতে পারিবে৷
৮৷ (১) পরিষদ নিম্্নবর্ণিত সদস্য সমন্বয়ে গঠিত হইবে, যথা :-
(২) উপ-ধারা (১)-এর দফা (চ), (ছ), (জ), (ঝ) ও (ঞ)- েত উল্লিখিত সদস্যগণ তাহাদের দায়িত্বভার গ্রহণের তারিখ হইতে দুই বত্সরের মেয়াদে স্বীয় পদে বহাল থাকিবেন এবং পুনরায় একই মেয়াদে নিয়োগের জন্য যোগ্য হইবেন:
তবে শর্ত থাকে যে, সরকার উক্ত মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্বেই কোন কারণ না দর্শাইয়া উক্ত-রূপ কোন সদস্যকে যে কোন সময় তাহার পদ হইতে অপসারণ করিতে পারিবে:
আরও শর্ত থাকে যে, উক্ত-রূপ কোন সদস্য তাহার মেয়াদ শেষ হইবার পূর্বে যে কোন সময় সরকারের উদ্দেশ্যে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে স্বীয় পদ ত্যাগ করিতে পারিবেন৷
(৩) পরিষদের কোন সদস্যপদ শূন্য রহিয়াছে অথবা উহা গঠনে কোন ত্রুটি রহিয়াছে কেবল এই কারণে পরিষদের কোন কার্য বা কার্যধারা অবৈধ হইবে না এবং তত্সম্পর্কে কোন প্রশ্নও উত্থাপন করা যাইবে না৷
৯৷ (১) ধারা ৭ -এর অধীন ক্ষমতা ও দায়িত্বের সামগ্রিকতা ক্ষুণ্ন না করিয়া, এই আইনের বিধানাবলী সাপেক্ষে, পরিষদের নিম্্নবর্ণিত ক্ষমতা ও দায়িত্ব থাকিবে, যথা:-
(২) পরিষদ-
১০৷ (১) এই ধারার বিধানাবলী সাপেক্ষে, পরিষদ উহার সভার কার্যপদ্ধতি নির্ধারণ করিতে পারিবে৷
(২) পরিষদের সভা চেয়ারম্যান কর্তৃক নির্ধারিত স্থান ও সময়ে অনুষ্ঠিত হইবে:
তবে শর্ত থাকে যে, প্রতি দুই মাসে পরিষদের কমপক্ষে একটি সভা অনুষ্ঠিত হইবে৷
(৩) পরিষদের সকল সভায় চেয়ারম্যান সভাপতিত্ব করিবেন এবং তাহার অনুপস্থিতিতে সভায় উপস্থিত সদস্যগণের দ্বারা নির্বাচিত কোন সদস্য সভাপতিত্ব করিবেন৷
(৪) সভার কোরামের জন্য অন্যুন ছয় জন সদস্যের উপস্থিতি প্রয়োজন হইবে৷
১১৷ পরিষদ উহার কার্য সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে উহার সদস্য এবং উহার বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অভিজ্ঞ অন্য কোন ব্যক্তির সমন্বয়ে অনধিক পাঁচজন সদস্যবিশিষ্ট এক বা একাধিক কমিটি গঠন করিতে পারিবে এবং অনুরূপ কোন কমিটি গঠিত হইলে উহার কার্যপরিধি অনুযায়ী উক্ত কমিটি দায়িত্ব পালন করিবে৷
(১) সংস্থার একজন মহাপরিচালক ও অনধিক পাঁচজন অতিরিক্ত মহাপরিচালক থাকিবে।
(২) মহাপরিচালক ও অতিরিক্ত মহাপরিচালকগণ সরকার কতর্ৃক নিযুক্ত হইবেন এবং তাহাদের চাকুরীর শর্তাবলী সরকার কতর্ৃক নির্ধারিত হইবে।
(৩) মহাপরিচালক বোর্ডের প্রধান নির্বাহী হইবেন এবং পরিষদের নির্দেশ অনুযায়ী বোর্ডের কার্য পরিচালনা করিবেন।
এই আইনের বিধান সাপেক্ষে মহাপরিচালকের নিম্নবর্ণিত ক্ষমতা ও দায়িত্ব থাকিবে, যথা:-
(১) বোর্ড উহার কার্যাবলী সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের উদ্দেশ্যে, সরকার কতর্ৃক অনুমোদিত সাংগঠনিক কাঠামো অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সংখ্যক কর্মকর্তা ও অন্যান্য কর্মচারী নিয়োগ করিতে পারিবে এবং তাহাদের চাকুরীর শর্তাবলী প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত হইবে।
(২) বোর্ড কোন অবস্থাতেই ওয়ার্কচার্জড, মাষ্টার-রোল কিংবা কন্টিনজেন্সী খাতে কোন কর্মচারী নিয়োগ করিতে পারিবে না।
(১) জাতীয় পানি নীতির বিধান অনুসারে এবং উপ-আঞ্চলিক ও স্থানীয় পানি ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনার আওতায় বোর্ড কেবল ১০০০ হেক্টরের অধিক আয়তন বিশিষ্ট প্রকল্প বাস্তবায়ন করিবে।
(২) উপ-আঞ্চলিক ও স্থানীয় পানি ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনার সহিত সংগতিপূর্ণ হওয়া সাপেক্ষে কোন স্থানীয় কতর্ৃপক্ষ কতর্ৃক অনূধর্্ব ১০০০ হেক্টর আয়তন বিশিষ্ট এফসিডিআই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা যাইবে এবং এই ব্যাপারে বোর্ড ও উক্ত কতর্ৃপক্ষের মধ্যে বিরোধ দেখা দিলে সরকার কতর্ৃক নির্ধারিত পদ্ধতিতে উহা নিষ্পত্তি করা হইবে।
(৩) অনধিক ৫০০০ হেক্টর আয়তন বিশিষ্ট প্রকল্পের ব্যবস্থাপনার দায়িত্বভার সরকার কতর্ৃক এতদুদ্দেশ্যে জারীকৃত নির্দেশিকা অনুসরণে প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের স্বার্থে গঠিত সংগঠন, যে নামেই অভিহিত হউক না কেন, এর উপর ন্যস্ত থাকিবে।
(৪) ৫০০০ হেক্টরের অধিক আয়তন বিশিষ্ট প্রকল্পের ব্যবস্থাপনা সরকার কতর্ৃক এতদুদ্দেশ্যে জারীকৃত নির্দেশিকা অনুসরণে প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের স্বার্থে গঠিত সংগঠন, বোর্ড এবং পানি সম্পদ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থার প্রতিনিধি সমন্বয়ে গঠিত একটি যৌথ পানি ব্যবস্থাপনা কমিটির উপর ন্যস্ত থাকিবে:
তবে শর্ত থাকে যে, সরকার প্রয়োজন মনে করিলে, উক্ত প্রকল্পের ব্যবস্থাপনা, প্রকল্প এলাকায় কর্মরত কোন বেসরকারী সংস্থার নিকট বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসরণপূর্বক ঠিকা প্রদান করিতে পারিবে।
(৫) এই ধারায় উলি্লখিত যে কোন শ্রেণীর প্রকল্পের আয়তন সরকার, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা হ্রাস বা বৃদ্ধি করিতে পারিবে।
(১) অনূধর্্ব ১০০০ হেক্টর আয়তন বিশিষ্ট এফসিডি ও এফসিডিআই প্রকল্পের মালিকানা পর্যায়ক্রমে স্থানীয় কতর্ৃপক্ষের নিকট হস্তান্তরিত হইবে এবং যে সমস্ত প্রকল্প উহাদের সুবিধাভোগীদের স্বার্থে গঠিত সংগঠনসমূহের দ্বারা ইতোমধ্যে সন্তোষজনকভাবে পরিচালিত হইতেছে সেইগুলি সর্বপ্রথম হস্তান্তরিত হইবে।
(২) বোর্ড কতর্ৃক বাস্তবায়িত কোন প্রকল্প বা উহার অংশবিশেষ অন্য কোন উন্নয়নমূলক কাজ কিংবা উহার রক্ষণাবেক্ষণের নিমিত্তে অন্য কোন সংস্থা বা স্থানীয় কতর্ৃপক্ষের নিকট হস্তান্তর করার প্রয়োজন হইলে বোর্ড, সরকার কতর্ৃক নির্ধারিত শর্তাধীনে, উহা করিতে পারিবে।
(৩) বোর্ড, সরকার কতর্ৃক নির্ধারিত পদ্ধতিতে ১০০০ হেক্টরের অধিক কিন্তু ৫০০০ হেক্টরের অনধিক আয়তন বিশিষ্ট প্রকল্পের ব্যবস্থাপনা পর্যায়ক্রমে উক্ত প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের স্বার্থে গঠিত সংগঠনের নিকট অর্পণ করিবে এবং ৫০০০ হেক্টরের অধিক আয়তন বিশিষ্ট প্রকল্পের ব্যবস্থাপনা ধারা ১৫-এর উপ-ধারা (৪) এর বিধান অনুসারে গঠিত যৌথ পানি ব্যবস্থাপনা কমিটির উপর ন্যস্ত করিবে।
(৪) এই ধারায় উলি্লখিত যে কোন শ্রেণীর প্রকল্পের আয়তন সরকার, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা হ্রাস বা বৃদ্ধি করিতে পারিবে।
(১) বোর্ডের কোন প্রকল্প বাস্তবায়নের স্বার্থে কোন ভূমি প্রয়োজন হইলে উহা জনস্বার্থে প্রয়োজন বলিয়া বিবেচিত হইবে এবং তদুদ্দেশ্যে উহা অপয়ঁরংরঃরড়হ ধহফ জবয়ঁরংরঃরড়হ ড়ভ ওসসড়াধনষব চৎড়ঢ়বৎঃু ঙৎফরহধহপব, ১৯৮২ (ওও ড়ভ ১৯৮২)-এর বিধান মোতাবেক হুকুমদখল বা অধিগ্রহণ করা যাইবে।
(২) বোর্ড উহার প্রয়োজনে উপ-ধারা (১) এর অধীন হুকুমদখল বা অধিগ্রহণ ব্যতীত সরাসরি ক্রয় কিংবা ইজারার মাধ্যমে কোন ভূমির স্বত্ব অর্জন করিতে পারিবে এবং একইভাবে বিক্রয় কিংবা ইজারা বাতিলের মাধ্যমে উহার স্বত্ব ত্যাগ করিতে পারিবে।
(৩) কোন প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় সাময়িক ব্যবহারের জন্য প্রয়োজন হইলে তজ্জন্য বোর্ড কোন জমি ও অস্থাবর সম্পত্তি ভাড়ায় বা স্বল্পমেয়াদী ইজারায় গ্রহণ করিতে পারিবে।
(৪) বোর্ড উহার প্রকল্প রক্ষণাবেক্ষণের জন্য নির্ধারিত জমি, সরকার কতর্ৃক গৃহীত নীতিমালা অনুযায়ী, স্বল্পমেয়াদী ইজারা প্রদান করিতে পারিবে।
বোর্ডের মালিকানাধীন কোন প্রকল্প, স্থাপনা, দপ্তর কিংবা প্রতিষ্ঠান সংকোচন, অবসায়ন, স্থানান্তর কিংবা অন্য কোন কারণে আংশিক কিংবা সম্পূর্ণরূপে অপ্রয়োজনীয় কিংবা পরিত্যাজ্য হইয়া পড়িলে বোর্ড, সম্পত্তি হস্তান্তরের জন্য প্রচলিত আইনানুগ পদ্ধতি অনুসরণপূর্বক উক্ত প্রকল্প, স্থাপনা, দপ্তর কিংবা প্রতিষ্ঠানের জমি, দালানকোঠা ও অন্যান্য অবকাঠামো যে কোন সরকারী, আধা-সরকারী বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান কিংবা স্থানীয় কতর্ৃপক্ষের নিকট অথবা কোন বেসরকারী প্রতিষ্ঠান বা কোন ব্যক্তির নিকট নগদ মূল্যে বিক্রয় করিতে পারিবে:
তবে শর্ত থাকে যে, উক্ত সম্পত্তি ক্রয়ের ক্ষেত্রে উলি্লখিত প্রতিষ্ঠান, কতর্ৃপক্ষ ও ব্যক্তির উপরে বর্ণিত ক্রম অনুসারে অগ্রাধিকার থাকিবে।
(১) বোর্ড প্রত্যেক অর্থ বৎসর সমাপ্ত হওয়ার পরবর্তী ৩০শে সেপ্টেম্বরের মধ্যে তৎকতর্ৃক উক্ত অর্থ বৎসর সংক্রান্ত একটি বার্ষিক প্রতিবেদন সরকারের নিকট পেশ করিবে যাহাতে, অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট অর্থ বৎসরে গৃহীত উন্নয়ন কৌশল, পরিকল্পিত ও বাস্তবায়িত কর্মসূচী, প্রাক্কলিত ও প্রকৃত আয় ও ব্যয়, সাফল্য নিরূপণের জন্য নির্ধারিত প্রধান নির্ণায়কসমূহের আলোকে অর্জন এবং সাংগঠনিক দক্ষতা সম্পর্কে বিস্তারিত বিবরণ এবং সংশ্লিষ্ট অর্থ বৎসরের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন, বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পসমূহের হাল অবস্থা এবং সমাপ্ত প্রকল্পসমূহের পরিচালনা ব্যবস্থার উপর বিশ্লেষণ থাকিবে।
(২) সরকার প্রয়োজনমত বোর্ডের নিকট হইতে যে কোন সময় বোর্ডের যে কোন বিষয়ের উপর প্রতিবেদন এবং বিবরণী আহ্বান করিতে পারিবে এবং বোর্ড উহা সরকারের নিকট সরবরাহ করিতে বাধ্য থাকিবে।
(১) বোর্ডের কার্য পরিচালনার জন্য উহার একটি নিজস্ব তহবিল থাকিবে এবং নিম্নবর্ণিত উৎসসমূহ হইতে প্রাপ্ত অর্থ উক্ত তহবিলে জমা হইবে, যথা:-
(২) বোর্ডের তহবিল বোর্ডের নামে যে কোন তফসিলি ব্যাংকে জমা রাখা হইবে এবং বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে তহবিল হইতে অর্থ উঠানো যাইবে।
(৩) বোর্ডের তহবিল হইতে বোর্ডের প্রয়োজনীয় ব্যয় নির্বাহ করা হইবে।
(৪) বোর্ড উহার তহবিল সরকার কতর্ৃক অনুমোদিত কোন খাতে বিনিয়োগ করিতে পারিবে।
(৫) বোর্ড প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, কোন ব্যাংক বা ঋণ প্রদানকারী সংস্থা বা অন্য কোন উৎস হইতে অর্থ ঋণ হিসাবে গ্রহণ করিতে পারিবে:
তবে শর্ত থাকে যে, উক্ত ঋণ পরিশোধের প্রক্রিয়াও ঋণ গ্রহণ প্রস্তাবে উল্লেখ থাকিতে হইবে।
বোর্ড প্রতি বৎসর সরকার কতর্ৃক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরবর্তী অর্থ বৎসরের বার্ষিক উন্নয়ন বাজেট এবং রাজস্ব বাজেট বিবরণী সরকারের নিকট পেশ করিবে এবং উহাতে উক্ত অর্থ বৎসরে সরকারের নিকট হইতে বোর্ডের কি পরিমাণ অর্থ প্রয়োজন হইবে উহার উল্লেখ থাকিবে।
(১) বোর্ড উহার যাবতীয় ব্যয়িত অর্থের যথাযথ হিসাব রক্ষণসহ অন্যান্য আনুষংগিক রেকর্ড সংরক্ষণ করিবে এবং আয়-ব্যয়ের হিসাবের বিবরণী, নগদ তহবিল প্রবাহের বিবরণী ও স্থিতিপত্রসহ হিসাবের বার্ষিক প্রতিবেদন প্রস্তুত করিবে।
(২) প্রতি অর্থ বৎসরের বোর্ডের হিসাব বাংলাদেশের মহা-হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক কতর্ৃক নিযুক্ত নিরীক্ষক দ্বারা পরীক্ষিত ও নিরীক্ষিত হইবে এবং বোর্ড প্রত্যেক অর্থ বৎসর সমাপ্তির চার মাসের মধ্যে হিসাব নিরীক্ষণ সম্পাদন নিশ্চিত করতঃ নিরীক্ষা প্রতিবেদনের অনুলিপি সরকারের নিকট পেশ করিবে।
(৩) উপ-ধারা (২) মোতাবেক হিসাব নিরীক্ষার উদ্দেশ্যে মহা-হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক কিংবা তৎকতর্ৃক নিযুক্ত নিরীক্ষক কিংবা তাহাদের নিকট হইতে এতদুদ্দেশ্যে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন ব্যক্তি বোর্ডের সকল রেকর্ড, দলিল, দস্তাবেজ, নগদ ও ব্যাংকে গচ্ছিত অর্থ, জামানত, ভান্ডার এবং অন্যবিধ সম্পত্তি পরীক্ষা করিয়া দেখিতে পারিবেন এবং বোর্ডের কোন সদস্য বা যে কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করিতে পারিবেন।
(৪) বোর্ড নিরীক্ষা প্রতিবেদনে উলি্লখিত অনিয়ম ও ত্রুটি-বিচু্যতি নিরসনকল্পে বোর্ড কতর্ৃক গৃহীত পদক্ষেপ ও মতামত সম্বলিত একটি প্রতিবেদন নিরীক্ষা প্রতিবেদন প্রাপ্তির তিন মাসের মধ্যে সরকারের নিকট পেশ করিবে।
এই আইন, বিধি বা প্রবিধানের অধীন সরল বিশ্বাসে কৃত কোন কাজকর্মের ফলে কোন ব্যক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হইলে বা তাহার ক্ষতিগ্রস্ত হইবার সম্ভাবনা থাকিলে তজ্জন্য পরিষদের চেয়ারম্যান বা অন্য কোন সদস্য বা বোর্ডের কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে কোন দেওয়ানী বা ফৌজদারী মামলা দায়ের বা অন্য কোন আইনগত কার্যধারা গ্রহণ করা যাইবে না।
চেয়ারম্যান ও অন্যান্য সদস্য এবং বোর্ডের কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ Penal Code (Act XLV of 1860) এর section 2-এ “Public servant” (জনসেবক) কথাটি যে অর্থে ব্যবহৃত হইয়াছে সেই অর্থে public servant (জনসেবক) বলিয়া গণ্য হইবেন।
এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে সরকার, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে।
এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে বোর্ড, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে এবং সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইন বা কোন বিধির সহিত অসামঞ্জস্যপূর্ণ নহে এইরূপ প্রবিধান প্রণয়ন করিতে পারিবে।
(১) Bangladesh Water and Power Development Boards Order, 1972 (P.O. No. 59 of 1972) এর অধীন প্রতিষ্ঠিত Bangladesh Water Development Boardএর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বিধানাবলী, অতঃপর উক্ত বিধানাবলী বলিয়া উলি্লখিত, এতদ্দ্বারা রহিত করা হইল।
(২) উক্ত বিধানাবলী রহিত হইবার সংগে সংগে-
(৩) উক্ত বিধানাবলী রহিত হওয়া সত্বেও-