বেসরকারী প্রাথমিক শিক্ষক কল্যাণ ট্রাস্ট আইন, ২০০০
বেসরকারী প্রাথমিক শিক্ষক কল্যাণ ট্রাস্ট স্থাপনকল্পে প্রণীত আইন৷
বেসরকারী প্রাথমিক শিক্ষক কল্যাণ ট্রাস্ট স্থাপনকল্পে প্রণীত আইন৷ যেহেতু বেসরকারী প্রাথমিক শিক্ষক কল্যাণ ট্রাস্ট স্থাপনকল্পে বিধান করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়; সেহেতু এতদ্দ্বারা নিম্্নরূপ আইন করা হইল:-
সংক্ষিপ্ত শিরোনামা ও প্রবর্তন
১৷ (১) এই আইন বেসরকারী প্রাথমিক শিক্ষক কল্যাণ ট্রাস্ট আইন, ২০০০ নামে অভিহিত হইবে৷
(২) সরকার, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, যে তারিখ নির্ধারণ করিবে সেই তারিখে এই আইন বলবত্ হইবে৷
সংজ্ঞা
২৷ বিষয় বা প্রসংগের পরিপন্থী কোন কিছু না থাকিলে, এই আইনে,-
ট্রাস্ট স্থাপন
৩৷ (১) এই আইন বলবত্ হইবার পর, যতশীঘ্র সম্ভব, সরকার এই আইনের বিধান অনুযায়ী বেসরকারী প্রাথমিক শিক্ষক কল্যাণ ট্রাস্ট নামে একটি ট্রাস্ট স্থাপন করিবে৷
(২) ট্রাস্ট একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা হইবে এবং ইহার স্থায়ী ধারাবাহিকতা ও একটি সাধারণ সিলমোহর থাকিবে এবং ইহার স্থাবর ও অস্থাবর উভয় প্রকার সম্পত্তি অর্জন করার, অধিকারে রাখার ও হস্তান্তর করার ক্ষমতা থাকিবে এবং ইহার নামে, ইহার পক্ষে বা বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা যাইবে৷
ট্রাস্টের কার্যালয়
৪৷ ট্রাস্টের প্রধান কার্যালয় ঢাকায় থাকিবে এবং ইহা প্রয়োজনবোধে, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, বাংলাদেশের যে কোন স্থানে শাখা কার্যালয় স্থাপন করিতে পারিবে৷
সাধারণ পরিচালনা
৫৷ ট্রাস্টের পরিচালনা ও প্রশাসন একটি বোর্ডের উপর ন্যস্ত থাকিবে এবং ট্রাস্ট যে সকল ক্ষমতা প্রয়োগ ও কার্য সম্পাদন করিতে পারিবে উক্ত বোর্ড সেই সকল ক্ষমতা প্রয়োগ ও কার্য সম্পাদন করিতে পারিবে৷
বোর্ড
৬৷ (১) বোর্ড নিম্নবর্ণিত সদস্য সমন্বয়ে গঠিত হইবে, যথা:-
(২) উপ-ধারা (১) (চ) ও (ছ) এর অধীন মনোনীত সদস্যগণ তাহাদের মনোনয়নের তারিখ হইতে তিন বত্সর মেয়াদে স্বীয় পদে বহাল থাকিবেন:
তবে শর্ত থাকে যে, সরকার উক্ত মেয়াদ শেষ হইবার পূর্বেই কোন কারণ না দর্শাইয়া উক্তরূপ যে কোন সদস্যকে যে কোন সময় তাহার দায়িত্ব হইতে অব্যাহতি প্রদান করিতে পারিবে:
আরও শর্ত থাকে যে, উক্তরূপ যে কোন সদস্য সরকারের উদ্দেশ্যে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে যে কোন সময় স্বীয় পদ ত্যাগ করিতে পারিবেন৷
ট্রাস্টের কার্যাবলী
৭৷ (১) ট্রাস্টের কার্যাবলী নিম্্নরূপ হইবে, যথা:-
(২) ট্রাস্ট উপ-দফা (১) এর অধীন প্রাপ্ত কোন আবেদন প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত সময় সীমার মধ্যে নিষ্পত্তি করিবে৷
বোর্ডের সভা
৮৷ (১) এই ধারার অন্যান্য বিধান সাপেক্ষে, বোর্ড উহার সভায় কার্যপদ্ধতি নির্ধারণ করিতে পারিবে৷
(২) বোর্ডের সভা, উহার চেয়ারম্যানের সম্মতিক্রমে উহার সচিব কর্তৃক আহূত হইবে এবং চেয়ারম্যান কর্তৃক নির্ধারিত স্থান ও সময়ে অনুষ্ঠিত হইবে:
তবে শর্ত থাকে যে, প্রতি তিন মাসে কমপক্ষে বোর্ডের একটি সভা অনুষ্ঠিত হইবে৷
(৩) চেয়ারম্যান বোর্ডের সভায় সভাপতিত্ব করিবেন; চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতিতে ভাইস-চেয়ারম্যান এবং তাঁহাদের উভয়ের অনুপস্থিতিতে সভায় উপস্থিত সদস্যগণ কর্তৃক তাঁহাদের মধ্য হইতে মনোনীত কোন সদস্য বোর্ডের সভায় সভাপতিত্ব করিবেন৷
(৪) বোর্ডের সভায় কোরামের জন্য মোট সদস্য সংখ্যার অন্যুন এক-তৃতীয়াংশ সদস্যের উপস্থিতি প্রয়োজন হইবে, তবে মুলতবী সভার ক্ষেত্রে কোরামের প্রয়োজন হইবে না৷
(৫) বোর্ডের সভায় উহার প্রত্যেক সদস্যের একটি করিয়া ভোট থাকিবে এবং কোন বিষয়ে ভোটের সমতার ক্ষেত্রে সভায় সভাপতিত্বকারী ব্যক্তির দ্বিতীয় বা নির্ণায়ক ভোট প্রদানের ক্ষমতা থাকিবে৷
(৬) শুধুমাত্র সদস্যপদে শূন্যতা বা বোর্ড গঠনে ত্রুটি থাকার কারণে বোর্ডের কোন কার্য বা কার্যধারা অবৈধ হইবে না এবং তত্সম্পর্কে কোন প্রশ্নও উত্থাপন করা যাইবে না৷
ট্রাস্টের তহবিল
৯৷ (১) ট্রাস্টের একটি তহবিল থাকিবে এবং এই আইনের অধীন ট্রাস্টের কার্যাবলী সম্পাদনের যাবতীয় ব্যয়ভার উক্ত তহবিল হইতে মিটানো হইবে৷
(২) এই আইনের অধীন ট্রাস্ট গঠিত হইবার পর, যতশীঘ্র সম্ভব, সরকার ট্রাস্টের কল্যাণার্থে কোন তফসিলি ব্যাংকে সরকার যে পরিমাণ নির্ধারণ করিবে সেই পরিমাণ অর্থ জমা রাখিবে এবং উক্ত জমাকৃত অর্থ হইতে প্রাপ্ত সুদ বা মুনাফা ট্রাস্টের তহবিলে সরকারের অনুদান হিসাবে জমা হইবে৷
(৩) ট্রাস্টের তহবিলে উপ-ধারা (২) এর অধীন প্রাপ্ত সুদ বা মুনাফা ব্যতীত নিম্্নবর্ণিত অর্থও জমা হইবে, যথা:
(৪) ট্রাস্টের তহবিলের সকল অর্থ যে কোন তফসিলি ব্যাংকে জমা রাখা হইবে৷
(৫) বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং কোষাধ্যক্ষের যৌথ স্বাক্ষরে ট্রাস্টের সকল ব্যাংক হিসাব পরিচালিত হইবে৷
Section ১০. বেসরকারী প্রাথমিক শিক্ষকগণ কর্তৃক চাঁদা প্রদান
(১) প্রত্যেক বেসরকারী প্রাথমিক শিক্ষক ট্রাস্টের তহবিলে, প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে ও হারে মাসিক চাঁদা প্রদান করিতে পারিবেন।
(২) যদি কোন বেসরকারী প্রাথমিক শিক্ষক উপ-ধারা (১) এ উলি্লখিত চাঁদা প্রদান না করেন অথবা একাধিক্রমে তিন মাস অনাদায়ী রাখেন তাহা হইলে তিনি বা তাহার পরিবারের কেহ এই আইনের অধীন কোন সুযোগ-সুবিধা পাইবার অধিকারী হইবেন না:
তবে শর্ত থাকে যে, চাঁদা অনাদায়ের ক্ষেত্রে বোর্ডের নিকট যদি এইরূপ প্রতীয়মান হয় যে, উক্ত অনাদায় সংশ্লিষ্ট বেসরকারী প্রাথমিক শিক্ষকের ইচ্ছাকৃত নহে বা এমন পরিস্থিতিতে চাঁদা অনাদায়ী ছিল যাহা চাঁদা প্রদানকারী বেসরকারী
প্রাথমিক শিক্ষকের নিয়ন্ত্রণ বহিভর্ূত ছিল, তাহা হইলে বোর্ড অনাদায়ী চাঁদা আদায়ের ব্যবস্থা করিয়া তাহাকে বা তাহার পরিবারকে এই আইনের অধীন সুযোগ-সুবিধা প্রদান করিতে পারিবে।
Section ১১. হিসাব রক্ষণ ও নিরীক্ষা
(১) ট্রাস্ট উহার আয়-ব্যয়ের যথাযথ হিসাব রক্ষণ করিবে এবং হিসাবের বার্ষিক বিবরণী প্রস্তুত করিবে।
(২) বাংলাদেশের মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, অতঃপর মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক বলিয়া উলি্লখিত, প্রতি বৎসর ট্রাস্টের হিসাব নিরীক্ষা করিবেন এবং নিরীক্ষা রিপোর্টের একটি অনুলিপি সরকার ও বোর্ডের নিকট পেশ করিবেন।
(৩) উপ-ধারা (২) মোতাবেক হিসাব নিরীক্ষার উদ্দেশ্যে মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক কিংবা তাহার নিকট হইতে এতদুদ্দেশ্যে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন ব্যক্তি ট্রাস্টের সকল রেকর্ড, দলিল-দস্তাবেজ, নগদ বা ব্যাংকে গচ্ছিত অর্থ, জামানত ভাণ্ডার এবং অন্যবিধ সম্পত্তি পরীক্ষা করিয়া দেখিতে পারিবেন এবং ট্রাস্টের যে কোন সদস্য, কর্মকর্তা বা কর্মচারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করিতে পারিবেন।
Section ১২. প্রতিবেদন
(১) প্রতি বৎসর সরকার কতর্ৃক নির্ধারিত তারিখের মধ্যে ট্রাস্ট তৎকতর্ৃক পূর্ববর্তী বৎসরে সম্পাদিত কার্যাবলীর বিবরণ সম্বলিত একটি প্রতিবেদন সরকারের নিকট পেশ করিবে।
(২) সরকার প্রয়োজনমত ট্রাস্টের নিকট হইতে যে কোন সময় উহার যে কোন বিষয়ের উপর প্রতিবেদন ও বিবরণী তলব করিতে পারিবে এবং ট্রাস্ট সরকারের নিকট উহা সরবরাহ করিতে বাধ্য থাকিবে।
Section ১৩. ট্রাস্টের কর্মকর্তা ও কর্মচারী
ট্রাস্ট উহার কার্যাবলী সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের উদ্দেশ্যে প্রয়োজনীয় সংখ্যক কর্মকর্তা ও অন্যান্য কর্মচারী নিয়োগ করিতে পারিবে এবং তাহাদের চাকুরীর শর্তাবলী প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত হইবে।
Section ১৪. ক্ষমতা অর্পণ
বোর্ড এই আইন বা কোন বিধি বা প্রবিধানের অধীন উহার যে কোন ক্ষমতা, লিখিত, সাধারণ বা বিশেষ আদেশ দ্বারা, উহার চেয়ারম্যান, ভাইস-চেয়ারম্যান বা অন্য কোন সদস্য অথবা ট্রাস্টের কোন কর্মকর্তার নিকট অর্পণ করিতে পারিবে।
Section ১৫. দায় মুক্তি
এই আইন বা কোন বিধি বা প্রবিধানের অধীন সরল বিশ্বাসে কৃত কোন কাজের ফলে কোন ব্যক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হইলে বা হওয়ার সম্ভাবনা থাকিলে তজ্জন্য ট্রাস্টের কোন সদস্য/কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে কোন দেওয়ানী বা ফৌজদারী মামলা বা অন্য কোন আইনগত কার্যধারা দায়ের করা যাইবে না।
Section ১৬. বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা
এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে সরকার, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে।
Section ১৭. প্রবিধান প্রণয়নের ক্ষমতা
এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে ট্রাস্ট, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে এবং সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইন বা কোন বিধির সহিত অসামঞ্জস্যপূর্ণ নহে এইরূপ প্রবিধান প্রণয়ন করিতে পারিবে।