এডমিরালটি কোর্ট আইন, ২০০০
এডমিরালটি এখতিয়ার সংক্রান্ত আইন বাতিল ও পুনঃপ্রণয়ন করিবার উদ্দেশ্যে প্রণীত আইন৷
এডমিরালটি এখতিয়ার সংক্রান্ত আইন বাতিল ও পুনঃপ্রণয়ন করিবার উদ্দেশ্যে প্রণীত আইন৷ যেহেতু এডমিরালটি এখতিয়ার সংক্রান্ত আইন বাতিল ও পুনঃপ্রণয়ন করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়; সেহেতু এতদ্দ্বারা নিন্মরূপ আইন করা হইল:-
Section ১. সংক্ষিপ্ত শিরোনামা
এই আইন এডমিরালটি কোর্ট আইন, ২০০০ নামে অভিহিত হইবে।
Section ২. সংজ্ঞা
বিষয় বা প্রসংগের পরিপন্থী কোন কিছু না থাকিলে, এই আইনে,-
Section ৩. হাইকোর্ট বিভাগের এডমিরালটি এখতিয়ার
(১) হাইকোর্ট বিভাগ এডমিরালটি কোর্ট হইবে।
(২) এডমিরালটি কোর্টের নিম্নবর্ণিত যে কোন প্রশ্ন বা দাবী সম্পর্কে শুনানী এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিবার এখতিয়ার থাকিবে, যথা:-
(৩) কোন জাহাজের ক্ষেত্রে, উপ-ধারা (২) (খ) এর অধীন এডমিরালটি কোর্টের এখতিয়ার অর্থে পক্ষগণের মধ্যে বকেয়া এবং অমীমাংসিত হিসাবের মীমাংসা করা, জাহাজ বা উহার শেয়ার বিক্রয় করার নির্দেশ প্রদান এবং কোর্ট যেইরূপ উপযুক্ত মনে করে সেইরূপ অন্য কোন নির্দেশ প্রদান করার ক্ষমতাও অন্তর্ভুক্ত থাকিবে।
(৪) উপ-ধারা (২) (ঝ)-তে উল্লেখিত রক্ষা (salvage) হিসাবে দাবী অর্থে আপাততঃ বলবৎ কোন আইনের অধীন জাহাজ বা বিমান হইতে প্রাণরক্ষার জন্য, কোন জাহাজ বা বিমানের মালামাল, সরঞ্জাম বা ধ্বংসাবশেষ সংরক্ষণের জন্য প্রদত্ত সেবার দাবীও অন্তর্ভুক্ত হইবে।
(৫) এই ধারার পূর্ববর্তী বিধানাবলী নিম্নবর্ণিত ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে, যথা:-
তবে শর্ত থাকে যে, এই উপ-ধারার কোন কিছুই উক্ত অধ্যাদেশ-এর অধীনে আদায়যোগ্য কোন অর্থ বা সম্পদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বলিয়া গণ্য হইবে না।
Section ৪. এডমিরালটি কোর্টরূপে হাইকোর্ট বিভাগের এখতিয়ার প্রয়োগের পদ্ধতি
(১) ধারা ৫ এর বিধান সাপেক্ষে, হাইকোর্ট বিভাগের এডমিরালটি এখতিয়ার সকল ক্ষেত্রে action in personam এর মাধ্যমে প্রয়োগ করা যাইবে।
(২) ধারা ৩ এর উপ-ধারা (২) এর দফা (ক) হইতে (গ) এবং (দ)-তে উল্লেখিত দাবীর ক্ষেত্রে এডমিরালটি কোর্ট হিসাবে হাইকোর্ট বিভাগের এডমিরালটি এখতিয়ার সংশ্লিষ্ট জাহাজ বা সম্পত্তির বিরুদ্ধে action in rem এর মাধ্যমে প্রয়োগ করা যাইবে।
(৩) যদি দাবীকৃত অর্থ এমন কোন জাহাজ, বিমান বা অন্য কোন সম্পত্তি সংক্রান্ত হয় যাহার উপর সামুদ্রিক পূর্বস্বত্ব (maritime lien) বা অন্যবিধ চার্জ থাকে, তাহা হইলে উক্ত জাহাজ, বিমান বা সম্পত্তির বিরুদ্ধে এডমিরালটি কোর্ট হিসাবে হাইকোর্ট বিভাগের এডমিরালটি এখতিয়ার action in rem এর মাধ্যমে প্রয়োগ করা যাইবে।
(৪) ধারা ৩ এর উপ-ধারা (২) এর দফা (ঘ) হইতে (থ)-তে উল্লেখিত কোন জাহাজ সম্পর্কিত কোন দাবীর ক্ষেত্রে যে ব্যক্তি মামলার কারণ উদ্ভবের সময় উক্ত জাহাজের মালিক বা ভাড়াকারী বা দখলকার বা নিয়ন্ত্রণকারী হিসাবে action in prsonam-এ দায়ী থাকেন, সে ক্ষেত্রে, জাহাজটির উপর সামুদ্রিক পূর্বস্বত্বের প্রশ্ন উত্থাপিত হউক বা না হউক, এডমিরালটি কোর্ট হিসাবে হাইকোর্ট বিভাগের এডমিরালটি এখতিয়ারে নিম্নবর্ণিত জাহাজের বিরুদ্ধে action in rem আনয়ন করা যাইবে, যথা:-
(৫) কোন বিমান টানিয়া আনা (towage) অথবা বিমান চালনার (pilotage) পারিশ্রমিক সংক্রান্ত দাবীর ক্ষেত্রে, এডমিরালটি কোর্ট হিসাবে হাইকোর্ট বিভাগের এডমিরালটি এখতিয়ারে উক্ত বিমানের বিরুদ্ধে action in rem আনয়ন করা যাইতে পারে যদি মামলা দায়ের করার সময় বিমানটির এমন ব্যক্তির লাভজনক (beneficial) মালিকানায় থাকে যিনি action in rem-এ উক্ত দাবীর জন্য দায়ী হইতেন।
(৬) এই ধারার পূর্ববর্তী দফাসমূহ যাহা কিছু থাকুক না কেন, এডমিরালটি কোর্ট হিসাবে হাইকোর্ট বিভাগের এডমিরালটি এখতিয়ারে ধারা ৩ এর উপ-ধারা (২) এর দফা (ঢ)-তে উল্লেখিত কোন দাবীর জন্য action in rem আনয়ন করা যাইবে না যদি না দাবীটি সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে মজুরী সংক্রান্ত হয়।
(৭) হাইকোর্ট বিভাগ এডমিরালটি কোর্ট হিসাবে এখতিয়ার প্রয়োগ করিয়া কোন জাহাজ, বিমান বা অন্য কোন সম্পদ বিক্রয়ের আদেশ প্রদান করিলে উক্ত বিভাগ একই এখতিয়ার প্রয়োগ করিয়া সেই বিক্রয়লব্ধ অর্থের স্বত্ব বা দাবীর অগ্রাধিকার বিষয়ে উত্থাপিত প্রশ্নের উপর শুনানি করিয়া নিষ্পত্তি করিতে পারিবে।
(৮) উপ-ধারা (৪) এবং (৫) এর উদ্দেশ্য পূরণকল্পে কোন ব্যক্তি action in personam-এ দায়ী হইবেন কিনা তাহা নিরূপণের জন্য উক্ত ব্যক্তি সাধারণতঃ বাংলাদেশে বসবাস করেন বা তাহার ব্যবসার স্থান বাংলাদেশের অভ্যন্তরে অবস্থিত বলিয়া ধরিয়া লইতে হইবে।
Section ৫. সংঘর্ষ ও অনুরূপ মামলার ক্ষেত্রে কোর্টের in personam এখতিয়ার
(১) এই ধারা প্রযোজ্য হয় এমন কোন দাবী কার্যকর করণার্থ বাংলাদেশের কোন আদালত action in personam বিচারার্থ গ্রহণ করিবে না, যদি না-
(২) এই ধারা প্রযোজ্য হয় এমন কোন দাবী কার্যকর করণার্থ বাংলাদেশের কোন আদালত কোন action in personam বিচারার্থ গ্রহণ করিবে না, যদি বাংলাদেশের বাহিরের কোন আদালতে বাদী কর্তৃক পূর্বে দায়েরকৃত একই বিবাদীর বিরুদ্ধে এবং একই ঘটনা বা এক সম্পর্কযুক্ত ঘটনাবলী সংক্রান্ত কোন মামলা প্রত্যাহার করা না হয় বা অন্য কোনভাবে উহার পরিসমাপ্তি ঘটানো না হয়।
(৩) action in personam-এ প্রযোজ্য এই ধারার পূর্বোক্ত বিধানাবলী একই ঘটনা বা এক সম্পর্কযুক্ত ঘটনাবলী হইতে উদ্ভূত পাল্টা দাবী নহে এইরূপ পাল্টা দাবীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে, তবে বাদী ও বিবাদী বলিতে যথাক্রমে পাল্টা দাবীর বাদী ও পাল্টা দাবীর বিবাদীকে বুঝাইবে।
(৪) এই ধারার পূর্ববর্তী বিধানাবলী কোন মামলা বা পাল্টা দাবীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে না, যদি উক্ত মামলা বা পাল্টা দাবীর বিবাদী আদালতের এখতিয়ার মানেন বা মানিতে রাজী হন।
(৫) এই ধারা প্রযোজ্য হয় এমন সব দাবী কার্যকরণার্থে এডমিরালটি কোর্ট হিসাবে হাইকোর্ট বিভাগের উপ-ধারা (২) এর বিধানাবলী সাপেক্ষে, action in personam গ্রহণ করিবার এখতিয়ার থাকিবে যদি উপ-ধারা (১) এর শর্তাবলীর যে কোন শর্ত পূরণ হয়।
(৬) জাহাজে জাহাজে সংঘর্ষ বা এক বা একাধিক জাহাজের কৌশলী পরিচালনার (manoeuvre) বা কৌশলী পরিচালনা হইতে বিরত থাকিবার কারণে বা এক বা একাধিক জাহাজ কর্তৃক উক্ত অধ্যাদেশের অধীন প্রণীত প্রবিধান না মানার কারণে সাধিত ক্ষতিপূরণ, প্রাণহানি বা ব্যক্তিগত ক্ষতি সংক্রান্ত দাবীর ক্ষেত্রে এই ধারা প্রযোজ্য হইবে।
Section ৬. আরজি দ্বারা মামলা রুজু
Code of Civil Procedure, 1908 (Act V of 1908) এর বিধান অনুযায়ী লিখিত, স্বাক্ষরকৃত ও সত্যায়িত আরজি দ্বারা এডমিরালটি কোর্ট হিসাবে হাইকোর্ট বিভাগের এডমিরালটি এখতিয়ারে মামলা রুজু করিতে হইবে, তবে action in rem মামলার ক্ষেত্রে, অবস্থা বিশেষে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন সাপেক্ষে, যে জাহাজ বা সম্পদের বিরুদ্ধে মামলা আনয়ন করা হয় উহার নামের পরিবর্তে "মালিক বা স্বার্থ সংশ্লিষ্ট পক্ষ" বলিয়া আরজিতে বিবাদীকে বর্ণনা করা যাইবে।
Section ৭. কোর্ট ফিস
(১) এই ধারার উপ-ধারা (২) এর বিধানাবলী সাপেক্ষে, Court Fees Act, 1870 (VII of 1870) এর বিধানাবলী হাইকোর্ট বিভাগের এডমিরালটি এখতিয়ারে আনীত সকল প্রকার action in rem বা action in personam মামলা ও দাবীর ক্ষেত্রে সমভাবে প্রযোজ্য হইবে:
তবে শর্ত থাকে যে, উক্ত Court Fees Act-এ ভিন্নরূপ বিধান থাকা সত্ত্বেও এই আইনের ধারা ৩ এর উপ-ধারা (২) এর দফা (ঢ)-এ উল্লেখিত দাবী বাদে অন্য সকল দাবীর ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ কোর্ট ফি অনধিক টাঃ ১,০০,০০০ (এক লক্ষ) হইবে এবং উক্ত দফা (ঢ)-তে উল্লেখিত দাবীর ক্ষেত্রে কোর্ট ফি ১০০ (একশত) টাকা প্রদেয় হইবে।
(২) এই আইনের অধীন আরজির উপর আরোপযোগ্য সকল ফিস স্ট্যাম্পের মাধ্যমে বা বাংলাদেশের সুপ্রীম কোর্টের রেজিষ্ট্রার বা তৎকর্তৃক ক্ষমতা প্রদত্ত ব্যক্তি বরাবরে নগদ প্রদানের মাধ্যমে আদায় করা যাইবে।
Section ৮. একক বিচারক সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ কর্তৃক মামলা গ্রহণ, শুনানী ও বিচারকার্য নিষ্পন্ন, ইত্যাদি
এই আইনের অধীন দায়েরকৃত প্রত্যেক মামলা হাইকোর্ট বিভাগের এডমিরালটি এখতিয়ারে একক বিচারক সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে দায়ের, শুনানী এবং নিষ্পত্তি করা যাইবে:
তবে শর্ত থাকে যে, এই আইনের আওতায় কোন মামলা শুনানী ও নিষ্পত্তির জন্য প্রধান বিচারপতি দুই বা অধিক বিচারক সমন্বয়ে বেঞ্চ গঠন করিতে পারিবেন।
Section ৯. অব্যাহতি
এই আইনের কোন কিছুই প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে কোন দাবীর জন্য action in rem আনয়নের বা প্রজাতন্ত্রের সেনাবাহিনী, নৌ-বাহিনী, বিমান বাহিনী, বাংলাদেশ রাইফেল্স, বাংলাদেশ পুলিশ বা কোস্ট গার্ডের কোন জাহাজ বা বিমান গ্রেফতার, আটক বা বিক্রয়ের অধিকার প্রদান করে না।
Section ১০. ইংরেজীতে অনুদিত পাঠ প্রকাশ
এই আইন প্রবর্তনের পর সরকার, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইনের ইংরেজীতে অনুদিত একটি প্রমাণীকৃত পাঠ প্রকাশ করিবে, যাহা এই আইনের প্রমাণীকৃত ইংরেজীতে পাঠ (Authentic English Text) নামে অভিহিত হইবে:
তবে শর্ত থাকে যে, এই আইন ও উক্ত ইংরেজী পাঠের মধ্যে বিরোধের ক্ষেত্রে এই আইন প্রাধান্য পাইবে।
Section ১১. বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা
এই আইনের বিধানাবলী কার্যকর করণার্থে সুপ্রীম কোর্ট, রাষ্ট্রপতির পূর্বানুমোদনক্রমে এবং সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে:
তবে শর্ত থাকে যে, এই ধারার অধীন বিধি প্রণয়নের পূর্ব পর্যন্ত এই আইন কার্যকর হওয়ার অব্যবহিতপূর্বে বিদ্যমান বিধি, এই আইনের বিধানাবলীর সহিত সঙ্গতিপূর্ণ হওয়া সাপেক্ষে, কার্যকর থাকিবে।
Section ১২. রহিতকরণ ও হেফাজত
(১) The Courts of Admiralty Act, 1891 (XVI of 1891) এতদ্বারা রহিত করা হইল এবং the Admiralty Court Act, 1840 (3 & 4 Vict. e. 65), the Admiralty Court Act, 1861 (24 & 25 Vict. c. 10) এর প্রয়োগ প্রজাতন্ত্রের ক্ষেত্রে রহিত হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে।
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন আইনগুলি রহিত বা, ক্ষেত্রমত, রহিত বলিয়া গণ্য হওয়া সত্ত্বেও, রহিতকৃত আইনগুলির অধীন দায়েরকৃত যে সকল মামলা উক্তরূপ রহিত বা রহিত বলিয়া গণ্য হইবার তারিখে নিষ্পন্নের অপেক্ষায় ছিল সেই সকল মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এমনভাবে বিচারাধীন থাকিবে যেন উক্ত আইনগুলি রহিত বা রহিত বলিয়া গণ্য করার কোন বিধান করা হয় নাই।