বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পার্লামেন্টারী স্ট্যাডিজ স্থাপনকল্পে প্রণীত আইন৷ যেহেতু বর্তমান আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে সংসদকে জটিল হইতে জটিলতর দায়িত্ব গ্রহণ করিতে হইতেছে এবং তথ্য প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশের ফলে বিশ্বের পার্লামেন্টসমূহ এবং পার্লামেন্টারিয়ানদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের প্রয়োজনীয়তা বৃদ্ধি পাওয়ায় সংসদীয় সংস্কার দ্রুত প্রসার লাভ করিতেছে; এবং যেহেতু সংসদীয় গণতন্ত্রকে শক্তিশালী, সমৃদ্ধ ও স্থিতিশীল করার জন্য সংসদ সদস্যদের মধ্যে আরো বেশী সহযোগিতা ও সহমর্মিতা সৃষ্টি করিয়া সংসদীয় সংস্কৃতিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে উপনীত করা আবশ্যক; এবং যেহেতু সহমর্মিতার রাজনীতিতে উত্তরণের জন্য সংসদের বাহিরে ভিন্ন একটি ফোরাম সৃষ্টি করা প্রয়োজন; এবং যেহেতু সংসদীয় ব্যবস্থা, সংসদ ব্যবস্থাপনা ও সংসদ কার্য সম্পর্কিত বিষয়ে গবেষণা পরিচালনার মাধ্যমে দেশের সংসদীয় ব্যবস্থাকে আরো সমৃদ্ধ ও গতিশীল করা প্রয়োজন; এবং যেহেতু সংসদ সদস্যদের সংসদে কার্যকর ভূমিকা পালনে গবেষণালব্ধ প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহের জন্য আইন ও সংসদীয় বিষয়ে অভিজ্ঞ একটি বিশেষজ্ঞ দলের সার্বক্ষণিক সহায়তা প্রয়োজন; এবং যেহেতু সংসদীয় ব্যবস্থার উন্নয়নে দক্ষ জনপ্রশাসন সৃষ্টির লক্ষ্যে সরকার ও সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সচেতনতা, কর্মতত্পরতা ও দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা অত্যাবশ্যক; এবং যেহেতু উক্তরূপ গবেষণাকার্য এবং প্রশিক্ষণের আয়োজন ও পরিচালনার জন্য বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পার্লামেন্টারী ষ্ট্যাডিজ নামে একটি ইনস্টিটিউট স্থাপন করা সমীচীন ও প্রয়োজন; সেহেতু এতদ্দ্বারা নিম্্নরূপ আইন করা হইল:
১৷ এই আইন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পার্লামেন্টারী স্ট্যাডিজ আইন, ২০০১ নামে অভিহিত হইবে৷
২৷ বিষয় বা প্রসংগের পরিপন্থী কোন কিছু না থাকিলে, এই আইনে,-
৩৷ (১) এই আইন বলবত্ হইবার পর যথাশীঘ্র সম্ভব, সংসদ সচিবালয়, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য পূরণকল্পে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পার্লামেন্টারী স্ট্যাডিজ নামে একটি ইনস্টিটিউট স্থাপন করিবে৷
(২) ইনস্টিটিউট একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা হইবে এবং ইহার স্থায়ী ধারাবাহিকতা ও একটি সাধারণ সীলমোহর থাকিবে এবং এই আইন ও বিধি সাপেক্ষে, ইহার স্থাবর ও অস্থাবর উভয় প্রকার সম্পত্তি অর্জন করার, অধিকারে রাখার এবং হস্তান্তর করার ক্ষমতা থাকিবে এবং ইহার নামে ইহা মামলা দায়ের করিতে পারিবে এবং ইহার বিরুদ্ধেও মামলা দায়ের করা যাইবে৷
৪৷ ইনস্টিটিউটের কার্যালয় ঢাকায় থাকিবে৷
৫৷ ইনস্টিটিউটের পরিচালনা ও প্রশাসন একটি পরিচালনা বোর্ডের উপর ন্যস্ত থাকিবে৷
৬৷ (১) পরিচালনা বোর্ড নিম্্নরূপ সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত হইবে, যথা-
(২) সংসদ-সদস্য ব্যতীত পরিচালনা বোর্ডের যে কোন মনোনীত সদস্য দুই বত্সর মেয়াদে তাহার পদে অধিষ্ঠিত থাকিবেন:
তবে শর্ত থাকে যে, তাহার মেয়াদ শেষ হওয়া সত্ত্বেও তাহার স্থলাভিষিক্ত ব্যক্তি কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত তিনি তাহার পদে বহাল থাকিবেন৷
৭৷ ইনস্টিটিউটের কার্যাবলী হইবে নিম্্নরূপ, যথা:-
৮৷ (১) এই ধারার অন্যান্য বিধানাবলী সাপেক্ষে, পরিচালনা বোর্ড উহার সভার কার্যপদ্ধতি নির্ধারণ করিতে পারিবে৷
(২) পরিচালনা বোর্ডের সভা চেয়ারম্যান কর্তৃক নির্ধারিত সময়ে ও স্থানে অনুষ্ঠিত হইবে:
তবে শর্ত থাকে যে, পরিচালনা বোর্ডে একটি সভা সমাপ্তি ও পরবর্তী সভার মধ্যে ৬০ (ষাট) দিনের অতিরিক্ত বিরতি থাকিবে না৷
(৩) পরিচালনা বোর্ডের সভায় চেয়ারম্যান সভাপতিত্ব করিবেন এবং তাহার অনুপস্থিতিতে উপস্থিত সদস্যগণ তাহাদের মধ্য হইতে একজনকে সভাপতি নির্বাচন করিবেন৷
(৪) পরিচালনা বোর্ডের সভায় কোরামের জন্য উহার মোট সদস্য সংখ্যার এক-তৃতীয়াংশ সদস্যের উপস্থিতি প্রয়োজন হইবে এবং মূলতবী সভার ক্ষেত্রে কোন কোরামের প্রয়োজন হইবে না৷
(৫) পরিচালনা বোর্ডের প্রত্যেক সদস্যের একটি করিয়া ভোট থাকিবে এবং ভোটের সমতার ক্ষেত্রে সভায় সভাপতিত্বকারী সদস্যের দ্বিতীয় বা নির্ণায়ক ভোট প্রদানের ক্ষমতা থাকিবে৷
(৬) শুধুমাত্র কোন সদস্য পদে শূন্যতা বা পরিচালনা বোর্ড গঠনে ত্রুটি থাকার কারণে পরিচালনা বোর্ডের কোন কার্য বা কার্যধারা অবৈধ হইবে না এবং তত্সম্পর্কে কোন প্রশ্নও উত্থাপন করা যাইবে না৷
৯৷ (১) ইনস্টিটিউটের একটি নির্বাহী কমিটি থাকিবে, যাহা নিম্্নরূপ সদস্য সমন্বয়ে গঠিত হইবে, যথা:-
(২) নির্বাহী কমিটি-
(৩) নির্বাহী কমিটি ইহার সভার কার্য পদ্ধতি নির্ণয় করিতে পারিবে৷
১০৷ (১) ইনস্টিটিউটের একটি নিজস্ব তহবিল থাকিবে এবং উহাতে নিম্্ন eেির্ণত অর্থ জমা হইবে, যথা:-
(২) এই তহবিল ইনস্টিটিউটের নামে কোন তফসিলী ব্যাংকে জমা রাখিতে হইবে এবং পরিচালনা বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত পদ্ধতিতে এই তহবিল হইতে অর্থ উঠানো যাইবে৷
(৩) এই তহবিল হইতে ইনস্টিটিউটের প্রয়োজনীয় ব্যয় নির্বাহ করা যাইবে৷
(৪) ইনস্টিটিউট এই তহবিল বা উহার অংশবিশেষ সরকারের অনুমোদিত কোন খাতে বিনিয়োগ করিতে পারিবে৷
১১৷ (১) ইনস্টিটিউটের একজন রেক্টর থাকিবে৷
(২) রেক্টর, আইন ও সংসদ বিষয়ে বিশেষ বুত্পত্তি সম্পন্ন সংসদ-সদস্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবীণ শিক্ষক অথবা সুপ্রীম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবীদের মধ্য হইতে পরিচালনা বোর্ড কর্তৃক নিযুক্ত হইবেন৷
(৩) রেক্টর বিধি দ্বারা নির্ধারিত পারিশ্রমিক, ভাতা ও বিশেষ অধিকার লাভ করিবেন৷
(৪) রেক্টরের পদ শূন্য হইলে কিংবা অনুপস্থিতি, অসুস্থতা বা অন্য কোন কারণে রেক্টর কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত কিংবা রেক্টর পুনরায় স্বীয় দায়িত্ব পালনে সমর্থ না হওয়া পর্যন্ত পরিচালনা বোর্ড কর্তৃক মনোনীত কোন ব্যক্তি রেক্টরের দায়িত্ব পালন করিবেন৷
(৫) রেক্টর, ইনস্টিটিউটের সার্বক্ষণিক মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা হইবেন; এবং
১২৷ ইনস্টিটিউটের আইন ও সংসদীয় বিষয়ে অভিজ্ঞ প্রয়োজনীয় সংখ্যক পরিচালক ও বিশেষজ্ঞ থাকিবে এবং তাহাদের চাকুরীর শর্তাবলী বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে৷
১৩৷ ইনস্টিটিউট উহার দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে পালনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ করিতে পারিবে এবং তাহাদের চাকুরীর শর্তাবলী বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে:
তবে শর্ত থাকে যে, ইনস্টিটিউটের জনবল ও সাংগঠনিক কাঠামো নির্ধারণে প্রচলিত পদ্ধতি ও সরকারী নির্দেশাবলী অনুসরণীয় হইবে৷
১৪৷ (১) ইনস্টিটিউট প্রত্যেক অর্থ বত্সর সম্পর্কে উক্ত অর্থ বত্সরের জন্য ইনস্টিটিউটের অনুমিত ব্যয় সম্বলিত একটি বিবৃতি উক্ত বত্সর শুরু হইবার অন্যুন চার মাস পূর্বে প্রস্তুত করিয়া স্পীকারের নিকট দাখিল করিবে৷
(২) উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত বিবৃতিতে ইনস্টিটিউটের ব্যয় নির্বাহের জন্য ইনস্টিটিউটের তহবিলে সরকারের নিকট হইতে অনুদান হিসাবে কি পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন উহার উল্লেখ থাকিবে৷
(৩) স্পীকার, সংসদ সচিবালয় কমিশনের সহিত পরামর্শক্রমে উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত ইনস্টিটিউটের অনুমিত ব্যয় সম্বলিত বিবৃতি সংশোধন করিতে পারিবেন এবং অনুরূপ সংশোধিত বিবৃতি ইনস্টিটিউটের অনুমোদিত বাজেট বলিয়া গণ্য হইবে৷
১৫৷ (১) ইনস্টিটিউট যথাযথভাবে উহার হিসাব সংরক্ষণ করিবে এবং হিসাবের বার্ষিক বিবরণী প্রস্তুত করিবে৷
(২) বাংলাদেশের মহা-হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, অতঃপর মহা-হিসাব নিরীক্ষক বলিয়া উল্লিখিত, প্রতি বত্সরে ইনস্টিটিউটের হিসাব নিরীক্ষা করিবেন এবং নিরীক্ষা রিপোর্ট-এর একটি করিয়া অনুলিপি সরকার ও ইনস্টিটিউটের নিকট প্রেরণ করিবেন৷
(৩) উপ-ধারা (২) মোতাবেক হিসাব নিরীক্ষার উদ্দেশ্যে মহা-হিসাব নিরীক্ষক কিংবা তাহার নিকট হইতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন ব্যক্তি ইনস্টিটিউটের সকল রেকর্ড, দলিল-দস্তাবেজ, নগদ বা ব্যাংকে গচ্ছিত অর্থ, জামানত, ভাণ্ডার এবং অন্যবিধ সম্পত্তি পরীক্ষা করিয়া দেখিতে পারিবেন এবং ইনস্টিটিউটের যে কোন সদস্য, কর্মকর্তা বা কর্মচারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করিতে পারিবেন৷
১৬৷ (১) প্রতি অর্থ বত্সর শেষ হইবার সঙ্গে ইনস্টিটিউট উক্ত বত্সরে সম্পাদিত কার্যাবলীর খতিয়ান সম্বলিত একটি বার্ষিক প্রতিবেদন রাষ্ট্রপতির নিকট পেশ করিবে৷
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন প্রতিবেদন প্রাপ্তির পর রাষ্ট্রপতি উহা সংসদে পেশ করিবার ব্যবস্থা করিবেন৷
১৭৷ পরিচালনা বোর্ড ইহার দায়িত্ব পালনে উহাকে সহায়তা দানের জন্য এক বা একাধিক কমিটি গঠন করিতে পারিবে৷
১৮৷ পরিচালনা বোর্ড, এই আইন বা বিধির সহিত অসংগতিপূর্ণ নহে এইরূপ যে কোন শর্তসাপেক্ষে উহার যে কোন ক্ষমতা বা দায়িত্ব চেয়ারম্যান বা অন্য যে কোন সদস্য বা রেক্টর বা ইনস্টিটিউটের অন্য কোন কর্মকর্তার অনুকূলে অর্পণ করিতে পারিবে৷
১৯৷ এই আইন বা বিধির অধীন সরল বিশ্বাসে কৃত কোন কাজের ফলে কোন ব্যক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হইলে কিংবা তাহার ক্ষতিগ্রস্ত হইবার সম্ভাবনা থাকিলে তজ্জন্য পরিচালনা বোর্ড বা নির্বাহী বোর্ড, চেয়ারম্যান বা কোন সদস্য, বা রেক্টর বা ইনস্টিটিউটের অন্য কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে কোন দেওয়ানী বা ফৌজদারী মামলা বা অন্য কোন প্রকার আইনগত কার্যক্রম গ্রহণ করা যাইবে না৷
২০৷ পরিচালনা বোর্ড সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে৷
২১৷ পরিচালনা বোর্ড, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইনের ইংরেজীতে অনুদিত একটি নির্ভরযোগ্য পাঠ প্রকাশ করিবে, যাহা এই আইনের অনুমোদিত ইংরেজী পাঠ (Authentic English Text) নামে অভিহিত হইবে:
তবে শর্ত থাকে যে, এই আইন ও উক্ত ইংরেজী পাঠের মধ্যে বিরোধের ক্ষেত্রে এই আইন প্রাধান্য পাইবে৷