ঢাকা যানবাহন সমন্বয় বোর্ড আইন, ২০০১
ঢাকায় যানবাহন ব্যবস্থার সমন্বয়ের উদ্দেশ্যে বিধান প্রণয়নকল্পে প্রণীত আইন৷
ঢাকায় যানবাহন ব্যবস্থার সমন্বয়ের উদ্দেশ্যে বিধান প্রণয়নকল্পে প্রণীত আইন৷ যেহেতু ঢাকার যানবাহন ব্যবস্থার সমন্বয়ের উদ্দেশ্যে বিধান করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়; সেহেতু এতদ্দ্বারা নিম্্নরূপ আইন করা হইল:-
সংক্ষিপ্ত শিরোনামা ও প্রবর্তন
১৷ এই আইন ঢাকা যানবাহন সমন্বয় বোর্ড আইন, ২০০১ নামে অভিহিত হইবে৷
সংজ্ঞা
২৷ বিষয় বা প্রসংগের পরিপন্থী কোন কিছু না থাকিলে, এই আইনে,-
আইনের প্রাধান্য
৩৷ আপাততঃ বলবত্ অন্য কোন আইন, বিধি, প্রবিধান, চুক্তি বা আইনের ক্ষমতাসম্পন্ন অন্য কোন দলিলে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইনের বিধানাবলী কার্যকর থাকিবে৷
বোর্ড প্রতিষ্ঠা
৪৷ (১) এই আইন বলবত্ হইবার পর, যতশীঘ্র সম্ভব, সরকার এই আইনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, ঢাকা যানবাহন সমন্বয় বোর্ড নামে একটি বোর্ড প্রতিষ্ঠা করিবে৷
(২) বোর্ড একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা হইবে এবং ইহার স্থায়ী ধারাবাহিকতা ও একটি সাধারণ সীলমোহর থাকিবে এবং ইহার স্থাবর ও অস্থাবর উভয় প্রকার সম্পত্তি অর্জন করিবার, অধিকারে রাখিবার ও হস্তান্তর করিবার ক্ষমতা থাকিবে এবং ইহার নামে ইহা মামলা দায়ের করিতে পারিবে এবং ইহার বিরুদ্ধেও মামলা দায়ের করা যাইবে৷
প্রধান কার্যালয়
৫৷ বোর্ডের প্রধান কার্যালয় ঢাকায় থাকিবে এবং ইহা, প্রয়োজনবোধে, ঢাকার যে কোন স্থানে শাখা কার্যালয় স্থাপন করিতে পারিবে৷
বোর্ডের গঠন
৬৷ বোর্ড নিম্্নলিখিত সদস্য সমন্বয়ে গঠিত হইবে, যথা:-
বোর্ডের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য
৭৷ বোর্ডের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হইবে নিম্্নরূপ, যথা:-
বোর্ডের কার্যাবলী
৮৷ বোর্ডের কার্যাবলী হইবে নিম্্নরূপ, যথা:-
বোর্ডের সভা
৯৷ (১) এই ধারার অন্যান্য বিধানাবলী সাপেক্ষে, বোর্ড উহার সভার কার্যপদ্ধতি নির্ধারণ করিতে পারিবে৷
(২) বোর্ড প্রতি বত্সর কমপক্ষে তিনবার সভায় মিলিত হইবে এবং সভার তারিখ, সময় ও স্থান চেয়ারম্যানের সম্মতিক্রমে সচিব কর্তৃক আহূত হইবে৷
(৩) চেয়ারম্যান বোর্ডের সভায় সভাপতিত্ব করিবেন এবং তাঁহার অনুপস্থিতিতে ভাইস-চেয়ারম্যান সভায় সভাপতিত্ব করিবেন৷
(৪) আটজন সদস্য সমন্বয়ে বোর্ডের সভার কোরাম গঠিত হইবে, তবে মূলতবী সভার ক্ষেত্রে কোন কোরামের প্রয়োজন হইবে না৷
(৫) বোর্ডের সভায় প্রত্যেক সদস্যের একটি করিয়া ভোট থাকিবে এবং ভোটের সমতার ক্ষেত্রে সভায় সভাপতিত্বকারী ব্যক্তির দ্বিতীয় বা নির্ণায়ক ভোট প্রদানের ক্ষমতা থাকিবে৷
(৬) শুধুমাত্র কোন সদস্য পদে শূন্যতা বা বোর্ড গঠনের ত্রুটি থাকার কারণে বোর্ডের কোন কার্য বা কার্যধারা অবৈধ হইবে না এবং তত্সম্পর্কে কোন প্রশ্নও উত্থাপন করা যাইবে না৷
আমন্ত্রিত সদস্য
১০৷ ধারা ৬ ও ৮ এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, সদস্য নয় অথচ সভায় আলোচ্য বিষয়ে সংশ্লিষ্টতা বা অভিজ্ঞতা রহিয়াছে এমন কোন ব্যক্তি সচিব কর্তৃক আমন্ত্রিত হইলে বোর্ডের সভায় উপস্থিত থাকিবেন এবং আলোচনায় অংশগ্রহণ করার অধিকারী হইবেন, তবে তাহার কোন ভোটাধিকার থাকিবে না৷
নির্বাহী পরিচালক
১১৷ (১) বোর্ডের একজন নির্বাহী পরিচালক থাকিবেন৷
(২) নির্বাহী পরিচালক, সরকার কর্তৃক নিযুক্ত হইবেন এবং তাঁহার চাকুরীর শর্তাদি সরকার কর্তৃক স্থিরীকৃত হইবে৷
(৩) নির্বাহী পরিচালক বোর্ডের সার্বক্ষণিক মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা হইবেন এবং তিনি বোর্ডের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য দায়ী থাকিবেন৷
(৪) নির্বাহী পরিচালকের পদ শূন্য হইলে কিংবা অনুপস্থিতি, অসুস্থতা বা অন্য কোন কারণে নির্বাহী পরিচালক তাঁহার দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হইলে শূন্য পদে নব নিযুক্ত নির্বাহী পরিচালক কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত কিংবা নির্বাহী পরিচালক পুনরায় স্বীয় দায়িত্ব পালনে সমর্থ না হওয়া পর্যন্ত সরকার কর্তৃক মনোনীত কোন ব্যক্তি নির্বাহী পরিচালকরূপে দায়িত্ব পালন করিবেন৷
বোর্ডের কর্মকর্তা ও কর্মচারী
১২৷ বোর্ড উহার কার্যাবলী সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের উদ্দেশ্যে প্রয়োজনীয় সংখ্যক কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ করিতে পারিবে এবং তাহাদের চাকুরীর শর্তাবলী প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত হইবে৷
কমিটি
১৩৷ বোর্ড এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে সুস্পষ্ট দায়িত্ব পালনের জন্য এক বা একাধিক কমিটি গঠন করিতে পারিবে৷
বোর্ডের তহবিল
১৪৷ (১) বোর্ডের একটি তহবিল থাকিবে এবং উহাতে নিম্্নবর্ণিত অর্থ জমা হইবে, যথা:-
(২) এই তহবিল বোর্ডের নামে কোন তফসিলি ব্যাংকে জমা রাখা হইবে এবং নির্বাহী পরিচালক কর্তৃক নির্ধারিত পদ্ধতিতে এই তহবিল হইতে অর্থ উঠানো যাইবে৷
(৩) এই তহবিল হইতে বোর্ডের প্রয়োজনীয় ব্যয় নির্বাহ করা হইবে৷
(৪) বোর্ড তহবিলের অর্থ বা উহার অংশবিশেষ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত কোন খাতে বিনিয়োগ করিতে পারিবে৷
বার্ষিক বাজেট বিবরণী
১৫৷ বোর্ড প্রতি বত্সর সরকার কর্তৃক নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পরবর্তী অর্থ বত্সরের বার্ষিক বাজেট বিবরণী সরকারের নিকট পেশ করিবে এবং উহাতে উক্ত অর্থ বত্সরে সরকারের নিকট হইতে বোর্ডের কি পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন হইবে উহার উল্লেখ থাকিবে৷
হিসাব রক্ষণ ও নিরীক্ষা
১৬৷ (১) বোর্ড যথাযথভাবে উহার হিসাব রক্ষণ করিবে এবং হিসাবের বার্ষিক বিবরণী প্রস্তুত করিবে৷
(২) বাংলাদেশের মহাহিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, অতঃপর মহাহিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক বলিয়া উল্লিখিত, প্রতি বত্সর বোর্ডের হিসাব নিরীক্ষা করিবেন এবং নিরীক্ষা রিপোর্টের একটি অনুলিপি সরকার ও বোর্ডের নিকট পেশ করিবেন৷
(৩) উপ-ধারা (২) মোতাবেক হিসাব নিরীক্ষার উদ্দেশ্যে মহাহিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক কিংবা তাহার নিকট হইতে এতদুদ্দেশ্যে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন ব্যক্তি বোর্ডের সকল রেকর্ড, দলিল-দস্তাবেজ, নগদ বা ব্যাংকে গচ্ছিত অর্থ, জামানত, ভাণ্ডার এবং অন্যবিধ সম্পত্তি পরীক্ষা করিয়া দেখিতে পারিবেন এবং বোর্ডের যে কোন সদস্য, নির্বাহী পরিচালক এবং বোর্ডের অন্যান্য কর্মকর্তা বা কর্মচারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করিতে পারিবেন৷
(৪) প্রত্যেক অর্থ বত্সর শেষ হইবার পরবর্তী তিন মাসের মধ্যে নির্বাহী পরিচালক বোর্ডের অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা রিপোর্ট বোর্ডের সভায় অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করিবেন৷
সরল বিশ্বাসে কৃত কাজকর্ম রক্ষণ
১৭৷ এই আইন বা কোন বিধি বা প্রবিধানের অধীন সরল বিশ্বাসে কৃত কোন কাজের ফলে কোন ব্যক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হইলে বা হওয়ার সম্ভাবনা থাকিলে তজ্জন্য বোর্ড বা কোন সদস্য, নির্বাহী পরিচালক বা অন্যান্য কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে কোন দেওয়ানী বা ফৌজদারী মামলা বা অন্য কোন আইনগত কার্যক্রম গ্রহণ করা যাইবে না৷
ক্ষমতা অর্পণ
১৮৷ বোর্ড উহার যে কোন ক্ষমতা, প্রয়োজনবোধে এবং নির্ধারিত শর্ত সাপেক্ষে, চেয়ারম্যান, ভাইস-চেয়ারম্যান বা বোর্ডের অন্য কোন সদস্য, নির্বাহী পরিচালক বা অন্য কোন কর্মকর্তার নিকট অর্পণ করিতে পারিবে৷
বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা
১৯৷ এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে সরকার, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে৷
প্রবিধান প্রণয়নের ক্ষমতা
২০৷ এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে বোর্ড, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে এবং সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইন বা কোন বিধির সহিত অসামঞ্জস্যপূর্ণ না হয় এইরূপ প্রবিধান প্রণয়ন করিতে পারিবে৷
রহিতকরণ ও হেফাজত
২১৷ (১) বোর্ড প্রতিষ্ঠার সঙ্গে সঙ্গে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের ২রা আশ্বিন, ১৪০৫ বাংলা মোতাবেক ১৭ই সেপ্টেম্বর, ১৯৯৮ ইংরেজী তারিখের প্রজ্ঞাপন নং উন্নয়ন-২/ডিইউটিপি-৯/৯৭ (অংশ-২) ৩৭৪, অতঃপর উক্ত প্রজ্ঞাপন বলিয়া উল্লিখিত, বাতিল হইয়া যাইবে৷
(২) উক্ত প্রজ্ঞাপন বাতিল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে-