বাংলাদেশ টেলিভিশন কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠাকল্পে প্রণীত আইন৷ যেহেতু দেশের সম্প্রচার মাধ্যমের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতকরণকল্পে একটি টেলিভিশন কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা এবং তত্সম্পর্কিত বিধান করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়; সেহেতু এতদ্দ্বারা নিম্নরূপ আইন করা হইল:-
১৷ (১) এই আইন বাংলাদেশ টেলিভিশন কর্তৃপক্ষ আইন, ২০০১ নামে অভিহিত হইবে৷
(২) সরকার, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, যে তারিখ নির্ধারণ করিবে সেই তারিখে এই আইন বলবত্ হইবে৷
২৷ বিষয় বা প্রসংগের পরিপন্থী কোন কিছু না থাকিলে, এই আইনে,-
৩৷ (১) এই আইন বলবত্ হইবার পর সরকার, যতশীঘ্র সম্ভব, এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, বাংলাদেশ টেলিভিশন কর্তৃপক্ষ নামে একটি কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা করিবে৷
(২) কর্তৃপক্ষ একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা হইবে এবং ইহার স্থায়ী ধারাবাহিকতা ও একটি সাধারণ সীলমোহর থাকিবে এবং এই আইনের বিধানাবলী সাপেক্ষে, ইহার স্থাবর ও অস্থাবর উভয় প্রকার সম্পত্তি অর্জন করিবার, অধিকারে রাখিবার ও হস্তান্তর করিবার ক্ষমতা থাকিবে এবং কর্তৃপক্ষ ইহার নামে মামলা দায়ের করিতে পারিবে এবং উক্ত নামে ইহার বিরুদ্ধেও মামলা দায়ের করা যাইবে৷
৪৷ কর্তৃপক্ষের প্রধান কার্যালয় ঢাকায় থাকিবে এবং ইহা প্রয়োজনবোধে, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, বাংলাদেশের অন্য যে কোন স্থানে শাখা কার্যালয়, এবং ঢাকাসহ যে কোন স্থানে প্রয়োজনীয় সংখ্যক টেলিভিশন কেন্দ্র স্থাপন করিতে পারিবে৷
৫৷ নিম্্নবর্ণিত সদস্যগণ সমন্বয়ে কর্তৃপক্ষ গঠিত হইবে, যথা:-
৬৷ (১) শিক্ষা, সংস্কৃতি, সাংবাদিকতা, প্রশাসন, টেলিভিশন সম্প্রচার বা ব্যবস্থাপনায় অভিজ্ঞ ব্যক্তিগণের মধ্য হইতে চেয়ারম্যান এবং ধারা ৫(খ) তে উল্লিখিত সদস্যগণ সরকার কর্তৃক নিযুক্ত হইবেন৷
(২) কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানসহ অন্যান্য সদস্য, তবে মহাপরিচালক ব্যতীত, নিম্্নবর্ণিত শর্তে কর্মরত থাকিবেন:-
(৩) চেয়ারম্যান এবং অন্যান্য প্রত্যেক সদস্য, তবে মহাপরিচালক ব্যতীত, তাঁহার নিয়োগের তারিখ হইতে ৩ (তিন) বত্সরের মেয়াদে স্বীয় পদে বহাল থাকিবেন এবং পুনরায় নিয়োগের যোগ্য হইবেন:
তবে শর্ত থাকে যে, কোন সদস্যের মেয়াদ শেষ হইবার পূর্বেও সরকার, যে কোন সময় তাঁহাকে তাঁহার দায়িত্ব হইতে অব্যাহতি প্রদান করিতে পারিবে৷
(৪) সরকারের উদ্দেশ্যে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে চেয়ারম্যান বা অন্য যে কোন সদস্য স্বীয় পদ ত্যাগ করিতে পারিবেন, কিন্তু সরকার কর্তৃক গৃহীত না হওয়া পর্যন্ত উক্ত পদত্যাগ কার্যকর হইবে না৷
(৫) চেয়ারম্যানের পদ শূন্য হইলে কিংবা অনুপস্থিতি, অসুস্থতা বা অন্য কোন কারণে তিনি তাঁহার দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হইলে, শূন্য পদে নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত কিংবা চেয়ারম্যান পুনরায় স্বীয় দায়িত্ব পালনে সমর্থ না হওয়া পর্যন্ত সরকার কর্তৃক মনোনীত কোন সদস্য চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করিবেন৷
৭৷ কর্তৃপক্ষ উহার কাজে সহায়তার জন্য, প্রয়োজনবোধে, এক বা একাধিক কমিটি নিয়োগ করিতে পারিবে এবং উক্তরূপ কমিটির সদস্য সংখ্যা, দায়িত্ব এবং কার্যধারা নির্ধারণ করিতে পারিবে৷
৮৷ কর্তৃপক্ষের কার্যাবলী হইবে নিম্্নরূপ, যথা:-
৯৷ (১) ধারা ৮ এ উল্লিখিত কার্যাবলী সম্পাদন, পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা, এই আইনের বিধান সাপেক্ষে, কর্তৃপক্ষের উপর ন্যস্ত থাকিবে৷
(২) উক্ত কার্যাবলী সম্পাদন, পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষ জনস্বার্থে, সময় সময় সরকার কর্তৃক, এই আইনের বিধান সাপেক্ষে, প্রদত্ত সাধারণ নির্দেশ ও নির্দেশনা অনুসরণ করিতে বাধ্য থাকিবে৷
(৩) কর্তৃপক্ষের উক্ত কার্যাবলী সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের নিমিত্তে চেয়ারম্যান ও মহাপরিচালক কর্তৃক পালনীয় দায়িত্বসমূহ সরকার সুনির্দিষ্টভাবে নির্ধারণ করিয়া দিতে পারিবে৷
১০৷ (১) এই ধারার অন্যান্য বিধানাবালী সাপেক্ষে, কর্তৃপক্ষ উহার সভার কার্যপদ্ধতি নির্ধারণ করিতে পারিবে৷
(২) চেয়ারম্যান কর্তৃক নির্ধারিত স্থান ও সময়ে সভা অনুষ্ঠিত হইবে এবং চেয়ারম্যানের সম্মতিক্রমে মহাপরিচালক এইরূপ সভা আহ্বান করিবেন:
তবে শর্ত থাকে যে, প্রতি দুই মাসে কর্তৃপক্ষের অন্ততঃ একটি সভা অনুষ্ঠিত হইবে৷
(৩) চেয়ারম্যান বা তাঁহার অনুপস্থিতির ক্ষেত্রে ধারা ৬(৫) এ উল্লিখিত সদস্য, এবং অপর ২ (দুই) জন সদস্যের উপস্থিতিতে সভার কোরাম গঠিত হইবে৷
(৪) চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতিতে ধারা ৬(৫) এ উল্লিখিত সদস্য কর্তৃপক্ষের সভার সভাপতিত্ব করিবেন৷
(৫) উপস্থিত সদস্যগণের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে সভার সিদ্ধান্ত গৃহীত হইবে এবং ভোটে সমতার ক্ষেত্রে চেয়ারম্যানের দ্বিতীয় বা নির্ণায়ক ভোট প্রদানের ক্ষমতা থাকিবে৷
(৬) শুধুমাত্র কোন সদস্যপদে শূন্যতা বা কর্তৃপক্ষ গঠনে ত্রুটি থাকিবার কারণে কর্তৃপক্ষের কোন কার্য বা কার্যধারা অবৈধ হইবে না এবং তত্সম্পর্কে কোন প্রশ্নও উত্থাপন করা যাইবে না৷
(৭) কর্তৃপক্ষের প্রতিটি সভার কার্যবিবরণী ও গৃহীত সিদ্ধান্তের অনুলিপি সরকারের নিকট প্রেরণ করিতে হইবে, এবং উক্ত সিদ্ধান্ত এই আইন বা জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালার পরিপন্থী হইলে উহা বাতিল বা সংশোধন করার জন্য বা কার্যকর না করার জন্য সরকার নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবে এবং তদনুসারে কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করিবে৷
১১৷ (১) কর্তৃপক্ষের একজন মহাপরিচালক থাকিবেন৷
(২) মহাপরিচালক সরকার কর্তৃক নিযুক্ত হইবেন এবং তাঁহার চাকুরীর শর্তাদি সরকার কর্তৃক স্থিরীকৃত হইবে৷
(৩) মহাপরিচালকের পদ শূন্য হইলে, কিংবা অনুপস্থিতি, অসুস্থতা বা অন্য কোন কারণে মহাপরিচালক তাঁহার দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হইলে শূন্য পদে নবনিযুক্ত মহাপরিচালক কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত কিংবা মহাপরিচালক পুনরায় স্বীয় দায়িত্ব পালনে সমর্থ না হওয়া পর্যন্ত সরকার কর্তৃক মনোনীত কোন ব্যক্তি মহাপরিচালকরূপে দায়িত্ব পালন করিবে৷
(৪) মহাপরিচালক কর্তৃপক্ষের সার্বক্ষণিক মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা হইবেন; এবং এই আইনের বিধানাবলী সাপেক্ষে, সরকার কর্তৃক নির্দেশিত কার্যাবলী সম্পাদন, ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব সম্পাদন করিবেন৷
১২৷ ধারা ২১(ঙ) এর বিধান সাপেক্ষে, কর্তৃপক্ষ উহার দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে পালনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ করিতে পারিবে এবং তাঁহাদের চাকুরীর শর্তাবলী প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত হইবে৷
১৩৷ এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে কর্তৃপক্ষ, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, ঋণ গ্রহণ করিতে পারিবে৷
১৪৷ কর্তৃপক্ষ উহার কার্যাবলী সম্পাদনের প্রয়োজনে চুক্তি সম্পাদন করিতে পারিবে:
তবে শর্ত থাকে যে, কোন বিদেশী সরকার বা আন্তর্জাতিক সংস্থার সহিত চুক্তির ক্ষেত্রে সরকারের পূর্বানুমোদন গ্রহণ করিতে হইবে৷
১৫৷ (১) কর্তৃপক্ষের একটি তহবিল থাকিবে এবং উহাতে নিম্্নবর্ণিত অর্থ জমা হইবে, যথা:-
(২) এই তহবিলে জমাকৃত অর্থ কোন তফসিলি ব্যাংকে জমা রাখা হইবে এবং প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে উক্ত অর্থ উঠানো যাইবে৷
(৩) এই তহবিল হইতে কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় ব্যয় নির্বাহ করা হইবে৷
(৪) কর্তৃপক্ষের তহবিল বা উহার অংশবিশেষ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত খাতে বিনিয়োগ করা যাইবে৷
(৫) সংশ্লিষ্ট অর্থ বত্সরে কর্তৃপক্ষের ব্যয় নির্বাহের পর কর্তৃপক্ষের তহবিলে উদ্বৃত্ত থাকিলে,সরকারের নির্দেশ অনুসারে উহার সম্পূর্ণ বা অংশবিশেষ সরকারের কোষাগারে জমা করিতে হইবে৷
১৬৷ (১) মহাপরিচালক প্রতি বত্সর সরকার কর্তৃক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরবর্তী অর্থ বত্সরের বার্ষিক বাজেট বিবরণী সরকারের নিকট পেশ করিবেন এবং উহাতে উক্ত অর্থ বত্সরে সরকারের নিকট হইতে কর্তৃপক্ষের কি পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন উহার উল্লেখ থাকিবে৷
(২) উক্তরূপ বাজেট প্রণয়নের ক্ষেত্রে সরকার কর্তৃক নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসরণ করিতে হইবে এবং প্রস্তাবিত বাজেটে কর্তৃপক্ষের অনুমোদন থাকিতে হইবে৷
১৭৷ (১) কর্তৃপক্ষ যথাযথভাবে উহার হিসাব রক্ষণ করিবে এবং হিসাবের বার্ষিক বিবরণী প্রস্তুত করিবে৷
(২) মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, অতঃপর মহা হিসাব-নিরীক্ষক নামে অভিহিত, প্রতি বত্সর কর্তৃপক্ষের হিসাব নিরীক্ষা করিবেন এবং নিরীক্ষা প্রতিবেদনের একটি করিয়া অনুলিপি সরকার ও কর্তৃপক্ষের নিকট প্রেরণ করিবেন৷
(৩) উপ-ধারা (২) মোতাবেক হিসাব নিরীক্ষার উদ্দেশ্যে মহা হিসাব-নিরীক্ষক কিংবা তাহার নিকট হইতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন ব্যক্তি কর্তৃপক্ষের সকল রেকর্ড, দলিল-দস্তাবেজ, নগদ বা ব্যাংকে গচ্ছিত অর্থ, জামানত, ভান্ডার এবং অন্যবিধ সম্পত্তি পরীক্ষা করিয়া দেখিতে পারিবেন এবং কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানসহ যে কোন সদস্য, কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করিতে পারিবেন৷
১৮৷ (১) প্রতি আর্থিক বত্সর শেষ হইবার সঙ্গে সঙ্গে কর্তৃপক্ষ উক্ত বত্সরে সম্পাদিত কার্যাবলীর বিবরণ সম্বলিত একটি বার্ষিক প্রতিবেদন সরকারের নিকট পেশ করিবে৷
(২) সরকার প্রয়োজনমত কর্তৃপক্ষের নিকট হইতে যে কোন সময় উহার যে কোন কাজের প্রতিবেদন বা বিবরণী আহ্বান করিতে পারিবে এবং কর্তৃপক্ষ উহা সরকারের নিকট প্রেরণ করিতে বাধ্য থাকিবে৷
১৯৷ সরকার, এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে৷
২০৷ কর্তৃপক্ষ, এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে এবং সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইন বা বিধির সহিত অসংগতিপূর্ণ নহে এইরূপ প্রবিধান প্রণয়ন করিতে পারিবে৷
২১৷ এই আইন কার্যকর হইবার সংগে সংগে-