নিরাপদ রক্ত সংগ্রহ, সংরক্ষণ এবং রোগীর দেহে পরিসঞ্চালন ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণকল্পে প্রণীত আইন৷ যেহেতু নিরাপদ রক্ত সংগ্রহ, সংরক্ষণ এবং রোগীর দেহে পরিসঞ্চালন ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণকল্পে বিধান করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়; সেহেতু এতদ্দ্বারা নিম্নরূপ আইন করা হইল:-
১৷ (১) এই আইন নিরাপদ রক্ত পরিসঞ্চালন আইন, ২০০২ নামে অভিহিত হইবে৷
(২) সরকার, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা যেই তারিখ নির্ধারণ করিবে সেই তারিখে এই আইন কার্যকর হইবে৷
২৷ বিষয় বা প্রসংগের পরিপন্থী ভিন্নরূপ কিছু না থাকিলে, এই আইনে,-
৩৷ আপাততঃ বলবত্ অন্য কোন আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইনের বিধানাবলী কার্যকর থাকিবে৷
৪৷ (১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে জাতীয় নিরাপদ রক্ত পরিসঞ্চালন কাউন্সিল নামে একটি কাউন্সিল থাকিবে৷
(২) নিম্্নবর্ণিত সদস্যদের সমন্বয়ে কাউন্সিল গঠিত হইবে, যথা:-
(৩) কাউন্সিলের কোন মনোনীত সদস্য তাঁহার মনোনয়নের তারিখ হইতে দুই বত্সরের জন্য সদস্য পদে বহাল থাকিবেন:
তবে শর্ত থাকে যে, সরকার যে কোন সময় তাঁহার মনোনয়ন বাতিল করিতে পারিবে৷
(৪) সরকারের উদ্দেশ্যে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে কোন মনোনীত সদস্য স্বীয় পদ ত্যাগ করিতে পারিবেন৷
৫৷ কাউন্সিলের দায়িত্ব ও কর্তব্য হইবে নিম্্নরূপ, যথা:
৬৷ (১) কাউন্সিল উহার সভার কার্যপদ্ধতি নির্ধারণ করিতে পারিবে৷
(২) কাউন্সিলের সভা সভাপতি কর্তৃক নির্ধারিত সময়ে ও স্থানে অনুষ্ঠিত হইবে৷
(৩) সভাপতি কাউন্সিলের সকল সভায় সভাপতিত্ব করিবেন এবং তাঁহার অনুপস্থিতিতে কাউন্সিলের সহ-সভাপতি সভাপতিত্ব করিবেন৷
(৪) কাউন্সিলের এক-তৃতীয়াংশ সদস্য সমন্বয়ে কাউন্সিলের সভার কোরাম গঠিত হইবে৷
(৫) কাউন্সিলের সভায় উপস্থিত সদস্যদের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে সিদ্ধান্ত গৃহীত হইবে এবং ভোটের সমতার ক্ষেত্রে সভাপতিত্বকারী ব্যক্তির দ্বিতীয় বা নির্ণায়ক ভোট প্রদানের ক্ষমতা থাকিবে৷
(৬) শুধুমাত্র কোন সদস্য পদে শূন্যতা বা কাউন্সিল গঠনে ত্রুটি থাকার কারণে কাউন্সিলের কার্য বা কার্যধারা অবৈধ হইবে না এবং তত্সম্পর্কে কোন প্রশ্নও উত্থাপন করা যাইবে না৷
৭৷ কোন ব্যক্তি এই আইনের ধারা ৯ এর অধীন লাইসেন্স গ্রহণ করিয়া বেসরকারী রক্ত পরিসঞ্চালন কেন্দ্র স্থাপন ও পরিচালনা করিতে পারিবেন৷
৮৷ বেসরকারী রক্ত পরিসঞ্চালন কেন্দ্র স্থাপন ও পরিচালনার শর্তাবলী বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে৷
৯৷ (১) বেসরকারী রক্ত পরিসঞ্চালন কেন্দ্র স্থাপন ও পরিচালনা করিতে ইচ্ছুক কোন ব্যক্তি লাইসেন্সের জন্য লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষের নিকট বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে ও ফরমে আবেদন করিতে পারিবেন৷
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন প্রাপ্ত আবেদনে উল্লিখিত তথ্যাবলীর সত্যতা যাচাইয়ের জন্য লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষ আবেদন প্রাপ্তির সাত দিনের মধ্যে উহা বাছাই কমিটির নিকট প্রেরণ করিবে৷
(৩) উপ-ধারা (২) এর অধীন আবেদন প্রাপ্তির ষাট দিনের মধ্যে বাছাই কমিটি আবেদনে উল্লিখিত স্থান সরেজমিনে পরিদর্শন করিবে এবং প্রাপ্ত তথ্যাবলী পরীক্ষা ও যাবতীয় বিষয়ে অনুসন্ধান করিবার পর তদবিষয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষের নিকট দাখিল করিবে৷
(৪) উপ-ধারা (৩) এর অধীন প্রাপ্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনার পর লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষ-
(৫) এই আইন কার্যকর হইবার অব্যবহিত পূর্বে কোন ব্যক্তি কোন বেসরকারী রক্ত পরিসঞ্চালন কেন্দ্র স্থাপন করিয়া থাকিলে তিনি এই আইন কার্যকর হইবার ত্রিশ দিনের মধ্যে উপ-ধারা (১) এ নির্ধারিত পদ্ধতিতে ও ফরমে লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষের নিকট আবেদন করিতে পারিবেন৷
(৬) উপ-ধারা (৫) এর অধীন আবেদন প্রাপ্তির পর লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষ উপ-ধারা (২), (৩) এবং (৪) এর দফা (ক) ও (খ)- েত বর্ণিত পদ্ধতি অনুসরণ করিবে৷
(৭) উপ-ধারা (৪) এর দফা (ক) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, উপ-ধারা (৫) এর অধীন প্রাপ্ত আবেদনের ক্ষেত্রে আবেদনকারীকে প্রযোজ্য শর্তাবলী পূরণের জন্য, যদি কোন শর্ত অপূরণকৃত থাকে, একশত আশি দিন সময় প্রদান করিতে হইবে৷
(৮) এই আইন কার্যকর হইবার অব্যবহিত পূর্বে বিদ্যমান কোন বেসরকারী রক্ত পরিসঞ্চালন কেন্দ্র পরিচালনার লাইসেন্সের জন্য উপ-ধারা (৫) এর অধীন আবেদন করা না হইলে লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষ উক্ত রক্ত পরিসঞ্চালন কেন্দ্রের যাবতীয় কার্যক্রম অনতিবিলম্বে বন্ধ রাখিবার নির্দেশ প্রদান করিবে৷
(৯) উপ-ধারা (৫) এর অধীন লাইসেন্স প্রাপ্তির জন্য আবেদন করা হইলে এবং এই ধারার অধীন নির্ধারিত সময়ে আবেদনকারী লাইসেন্স প্রাপ্তির শর্ত পূরণে ব্যর্থ হইলে, লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষ উক্ত আবেদন নামঞ্জুর করিয়া উক্ত বেসরকারী রক্ত পরিসঞ্চালন কেন্দ্রের যাবতীয় কার্যক্রম অনতিবিলম্বে বন্ধ রাখিবার নির্দেশ প্রদান করিবে৷
১০৷ এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহা-পরিচালক লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষ হইবেন৷
১১৷ এই অধ্যায়ের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে বিধি দ্বারা নির্ধারিত ব্যক্তিদের সমন্বয়ে প্রতিটি জেলার জন্য একটি করিয়া বাছাই কমিটি থাকিবে৷
১২৷ (১) বেসরকারী রক্ত পরিসঞ্চালন কেন্দ্র স্থাপন ও পরিচালনার জন্য প্রদত্ত লাইসেন্সের মেয়াদ হইবে লাইসেন্স ইস্যুর তারিখ হইতে তিন বছর এবং ইহা প্রতি তিন বছর অন্তর নবায়নযোগ্য হইবে৷
(২) উপ-ধারা (১)-এ বর্ণিত লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হইবার নব্বই দিন পূর্বে লাইসেন্স নবায়নের নির্ধারিত ফিসসহ নবায়নের জন্য লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষের নিকট নির্ধারিত ফরমে আবেদন করিতে হইবে৷
(৩) উপ-ধারা (২) এর অধীন আবেদন প্রাপ্তির ত্রিশ দিনের মধ্যে লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট বেসরকারী রক্ত পরিসঞ্চালন কেন্দ্রটি সরেজমিনে পরিদর্শন করিবে এবং পরিদর্শনের পর-
১৩৷ এই আইনের অধীন প্রদেয় বেসরকারী রক্ত পরিসঞ্চালন কেন্দ্র স্থাপন ও পরিচালনার লাইসেন্স ফিস্ হইবে এক লক্ষ টাকা এবং নবায়ন ফিস্ হইবে পঞ্চাশ হাজার টাকা:
তবে শর্ত থাকে যে, সরকার, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই ফিসের হার বৃদ্ধি করিয়া পুনঃনির্ধারণ করিতে পারিবে৷
১৪৷ (১) রক্ত পরিসঞ্চালন সেবা প্রদানের জন্য রোগীর নিকট হইতে আদায়যোগ্য ফিসের হার বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে৷
(২) প্রত্যেক বেসরকারী রক্ত পরিসঞ্চালন কেন্দ্র-
১৫৷ (১) সরকার, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, বেসরকারী রক্ত পরিসঞ্চালন কেন্দ্রসমূহ পরিদর্শনের জন্য এক বা একাধিক পরিদর্শন কমিটি গঠন করিতে পারিবে৷
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন গঠিত পরিদর্শন কমিটির সদস্য সংখ্যা এবং সদস্যদের যোগ্যতা সরকার কর্তৃক নির্ধারিত হইবে৷
১৬৷ (১) পরিদর্শন কমিটি, মহা-পরিচালক এবং মহা-পরিচালকের নিকট হইতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন কর্মকর্তা এই আইন, বিধি বা প্রদত্ত কোন নির্দেশ সাপেক্ষে, যে কোন বেসরকারী রক্ত পরিসঞ্চালন কেন্দ্র পরিদর্শন করিতে পারিবে৷
(২) পরিদর্শন কমিটি বা মহা-পরিচালকের নিকট হইতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন কর্মকর্তা উপ-ধারা (১) এর অধীন পরিদর্শনকালে যদি দেখিতে পায় যে, কোন বেসরকারী রক্ত পরিসঞ্চালন কেন্দ্র এই আইন বা বিধি দ্বারা নির্ধারিত শর্তাবলী পালন করিতেছে না কিংবা লাইসেন্সের শর্ত ভংগ করিয়াছে তাহা হইলে উক্তরূপ পরিদর্শনের পনের দিনের মধ্যে পরিদর্শন কমিটি সরকারের নিকট এবং ক্ষেত্রমত, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা মহা-পরিচালকের নিকট তদ্বিষয়ে একটি লিখিত প্রতিবেদন দাখিল করিবেন৷
(৩) উপ-ধারা (২) এর অধীন প্রাপ্ত লিখিত প্রতিবেদন পর্যালোচনার পর সরকার যদি এইরূপ অভিমত পোষণ করে যে, জনস্বার্থে সংশ্লিষ্ট বেসরকারী রক্ত পরিসঞ্চালন কেন্দ্রের লাইসেন্স স্থগিত রাখা বা বাতিল করা প্রয়োজন তাহা হইলে তদনুসারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য মহা-পরিচালককে নির্দেশ দিতে পারিবে৷
(৪) মহা-পরিচালক কর্তৃক স্বয়ং পরিদর্শনের পর কিংবা উপ-ধারা (২) এর অধীন প্রাপ্ত লিখিত প্রতিবেদন পর্যালোচনার পর তাহার নিকট যদি পরিলক্ষিত হয় যে, কোন বেসরকারী রক্ত পরিসঞ্চালন কেন্দ্র লাইসেন্সের কোন কোন শর্ত পূরণে শিথিলতা প্রদর্শন করিয়াছে তাহা হইলে মহা-পরিচালক উক্ত নির্দেশ দিতে পারিবেন এবং উক্ত নির্দেশ পালনে ব্যর্থ হইলে সংশ্লিষ্ট বেসরকারী রক্ত পরিসঞ্চালন কেন্দ্রের লাইসেন্স বাতিল বা স্থগিত করিতে পারিবেন৷
(৫) পরিদর্শন কমিটি, মহা-পরিচালক এবং মহা-পরিচালকের নিকট হইতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন কর্মকর্তা বেসরকারী রক্ত পরিসঞ্চালন কেন্দ্রের যে কোন স্থানে যে কোন সময়ে প্রবেশ করিতে, রেজিস্টার বা রক্ত পরিসঞ্চালন সেবা সংক্রান্ত যন্ত্রপাতি, রক্ত পরিসঞ্চালন সেবা সংক্রান্ত কাগজপত্র পরীক্ষা করিতে পারিবেন এবং প্রয়োজনে কোন রেজিস্টার বা কাগজপত্রের উদ্ধৃতাংশ (extract) সংগ্রহ করিতে পারিবেন৷
১৭৷ (১) লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষের কোন আদেশ দ্বারা কোন ব্যক্তি সংক্ষুব্ধ হইলে তিনি উক্ত আদেশের বিরুদ্ধে আদেশ জারীর তারিখ হইতে ত্রিশ দিনের মধ্যে সরকারের নিকট আপীল দায়ের করিতে পারিবেন এবং সরকার, এইরূপে প্রাপ্ত আপীল নব্বই দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করিবে৷
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন দায়েরকৃত আপীলের ক্ষেত্রে সরকারের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হইবে৷
১৮৷ (১) এই আইনের অধীন লাইসেন্স গ্রহণ ব্যতীত কোন ব্যক্তি কোন বেসরকারী রক্ত পরিসঞ্চালন কেন্দ্র স্থাপন ও পরিচালনা করিতে পারিবেন না৷
(২) কোন ব্যক্তি উপ-ধারা (১) এর বিধান লংঘন করিলে দণ্ডনীয় অপরাধ করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবেন এবং তিনি উক্ত অপরাধের জন্য অনধিক দুই বত্সর সশ্রম কারাদণ্ড, অথবা অনূর্ধ্ব এক লক্ষ টাকা অর্থ দণ্ড, অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন৷
১৯৷ (১) কোন ব্যক্তি রক্ত পরিসঞ্চালন সংক্রান্ত চিকিত্সার উদ্দেশ্যে কোন রোগী বা রক্ত গ্রহীতার মারাত্মক শারীরিক ক্ষতি, অংগহানী, পঙ্গুত্ব বা মৃত্যুর কারণ হয় কিংবা রক্তবাহিত সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হন এইরূপ ভুল ব্যবস্থাপত্র প্রদান করিবেন না৷
(২) কোন ব্যক্তি উপ-ধারা (১) এর বিধান লংঘন করিলে দণ্ডনীয় অপরাধ করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবেন এবং তিনি উক্ত অপরাধের জন্য অনধিক পাঁচ বত্সর সশ্রম কারাদণ্ড, অথবা অনূর্ধ্ব পাঁচ লক্ষ টাকা অর্থ দণ্ড, অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন৷
২০৷ (১) কোন ব্যক্তি রক্ত পরিসঞ্চালন সংক্রান্ত চিকিত্সার উদ্দেশ্যে কোন রোগী বা রক্ত গ্রহীতার মারাত্মক শারীরিক ক্ষতি, অংগহানী, পঙ্গুত্ব বা মৃত্যুর কারণ হয় কিংবা রক্তবাহিত সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হন এইরূপ পদ্ধতিতে রক্ত পরিসঞ্চালন করিবেন না৷
(২) কোন ব্যক্তি উপ-ধারা (১) এর বিধান লংঘন করিলে দণ্ডনীয় অপরাধ করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবেন এবং তিনি উক্ত অপরাধের জন্য অনধিক পাঁচ বত্সর সশ্রম কারাদণ্ড, অথবা অনূর্ধ্ব পাঁচ লক্ষ টাকা অর্থ দণ্ড, অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন৷
২১৷ (১) রক্ত পরিসঞ্চালনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কোন ব্যক্তি রক্ত পরিসঞ্চালন করিবার পর উহাতে ব্যবহৃত বিনষ্টযোগ্য উপকরণ বিনষ্টকরণ নিশ্চিত করিবেন৷
(২) রক্ত পরিসঞ্চালনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কোন ব্যক্তি উপ-ধারা (১) এর বিধান লংঘন করিলে দণ্ডনীয় অপরাধ করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবেন এবং তিনি উক্ত অপরাধের জন্য অনধিক ছয় মাস সশ্রম কারাদণ্ড, অথবা অনূর্ধ্ব পাঁচ হাজার টাকা অর্থ দণ্ড, অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন৷
২২৷ (১) কোন ব্যক্তি রক্ত পরিসঞ্চালনে ব্যবহৃত বিনষ্টযোগ্য উপকরণ পুনরায় ব্যবহার করিবেন না৷
(২) কোন ব্যক্তি উপ-ধারা (১) এর বিধান লংঘন করিলে তিনি দণ্ডনীয় অপরাধ করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবেন এবং-
২৩৷ (১) কোন ব্যক্তি কোন অনিরীক্ষিত রক্ত, রক্তের উপাদান কিংবা রক্তজাত সামগ্রী কোন রোগী বা রক্ত গ্রহীতার দেহে পরিসঞ্চালন করিবেন না৷
(২) কোন ব্যক্তি উপ-ধারা (১) এর বিধান লংঘন করিলে দণ্ডনীয় অপরাধ করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবেন এবং তিনি-
২৪৷ (১) কোন ব্যক্তি এই আইন দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতি ব্যতীত অন্য কোন পদ্ধতি বা উপায়ে রক্ত, রক্তের উপাদান ও রক্তজাত সামগ্রী সংগ্রহ, উত্পাদন ও বিতরণ করিবেন না৷
(২) কোন ব্যক্তি উপ-ধারা (১) এর বিধান লংঘন করিলে দণ্ডনীয় অপরাধ করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবেন এবং তিনি উক্ত অপরাধের জন্য অনধিক দুই বত্সর সশ্রম কারাদণ্ড, অথবা অনূর্ধ্ব পঞ্চাশ হাজার টাকা অর্থ দণ্ড, অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন৷
২৫৷ (১) কোন অননুমোদিত ব্যক্তি অন্য কোন ব্যক্তির দেহ হইতে রক্ত সংগ্রহ করিতে এবং কোন ব্যক্তির দেহে রক্ত পরিসঞ্চালন করিবেন না৷
(২) কোন ব্যক্তি উপ-ধারা (১) এর বিধান লংঘন করিলে দণ্ডনীয় অপরাধ করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবেন এবং তিনি-
২৬৷ (১) কোন ব্যক্তি অন্য কোন রক্তদাতার পরিচয় পত্র বা ভুঁয়া পরিচয় পত্র ব্যবহার করিবেন না৷
(২) কোন ব্যক্তি উপ-ধারা (১) এর বিধান লংঘন করিলে দণ্ডনীয় অপরাধ করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবেন এবং তিনি উক্ত অপরাধের জন্য অনধিক ছয় মাস পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদণ্ড, অথবা অনূর্ধ্ব দশ হাজার টাকা অর্থ দণ্ড, অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন৷
২৭৷ (১) কোন ব্যক্তি বিধি দ্বারা নির্ধারিত হারের অতিরিক্ত রক্ত পরিসঞ্চালন সেবা ফিস্ আদায় করিবেন না৷
(২) কোন ব্যক্তি উপ-ধারা (১) এর বিধান লংঘন করিলে দণ্ডনীয় অপরাধ করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবেন এবং তিনি উক্ত অপরাধের জন্য অনধিক ছয় মাস পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদণ্ড, অথবা অনূর্ধ্ব দশ হাজার টাকা অর্থ দণ্ড, অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন৷
২৮৷ সরকার, সরকারী গেজেটে প্রকাশিত আদেশ দ্বারা, প্রত্যেক সরকারী হাসপাতালের জন্য রক্ত পরিসঞ্চালন তহবিল নামে একটি করিয়া তহবিল গঠন করিতে পারিবে এবং উক্তরূপে গঠিত তহবিলের আয়-ব্যয় ও হিসাব সংরক্ষণ পদ্ধতি বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে৷
২৯৷ (১) সরকার, কাউন্সিলের সহিত পরামর্শক্রমে, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে এক বা একাধিক রক্ত পরিসঞ্চালন বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করিতে পারিবে৷
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন গঠিত কোন কমিটিকে সরকার যেইরূপ দায়িত্ব এবং ক্ষমতা অর্পণ করিবে উক্ত কমিটি সেইরূপ দায়িত্ব পালন ও ক্ষমতা প্রয়োগ করিতে পারিবে৷
৩০৷ কোন দেশীয় বা আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা, জনস্বার্থে, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, বেসরকারী রক্ত পরিসঞ্চালন কেন্দ্র এবং সরকারী হাসপাতালের সহায়তায় স্বেচ্ছায় রক্তদানকে উত্সাহিত করিবার উদ্দেশ্যে ভ্রাম্যমান রক্ত সংগ্রহ ক্যাম্প পরিচালনা করিতে পারিবে৷
৩১৷ কোন কোম্পানী কর্তৃক এই আইনের অধীন কোন অপরাধ সংঘটিত হইলে উক্ত অপরাধের সহিত প্রত্যক্ষ সংশ্লিষ্টতা রহিয়াছে কোম্পানীর এমন প্রত্যেক পরিচালক, ম্যানেজার, সচিব, অংশীদার, কর্মকর্তা এবং কর্মচারী উক্ত অপরাধ সংঘটন করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবে, যদি না তিনি প্রমাণ করিতে পারেন যে, উক্ত অপরাধ তাহার অজ্ঞাতসারে সংঘটিত হইয়াছে অথবা উক্ত অপরাধ রোধ করিবার জন্য তিনি যথাসাধ্য চেষ্টা করিয়াছেন৷
ব্যাখ্যা৷- এই ধারায়-
৩২৷ এই আইনের অধীন সংঘটিত সকল অপরাধ অআমলযোগ্য, জামিনযোগ্য ও আপোষযোগ্য হইবে৷
৩৩৷ মহা-পরিচালক বা মহা-পরিচালকের নিকট হইতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন কর্মকর্তা অথবা ক্ষতিগ্রস্ত কোন ব্যক্তি বা তাহার প্রতিনিধির লিখিত অভিযোগ ব্যতীত কোন আদালত এই আইনের অধীন সংঘটিত কোন অপরাধ বিচারের জন্য গ্রহণ করিবে না৷
৩৪৷ (১) সরকার, কাউন্সিলের সহিত পরামর্শক্রমে এবং সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে৷
(২) উপ-ধারা (১)-এ প্রদত্ত ক্ষমতার সামগ্রিকতা ক্ষুণ্ন না করিয়া নিম্নবর্ণিত বিষয়ে বিধি প্রণয়ন করা যাইবে, যথা:-
(৩) এই ধারার অধীন প্রণীত কোন বিধির বিধান লংঘনের জন্য উক্ত বিধিতে অনধিক এক লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান করা যাইবে৷
৩৫৷ এই আইন প্রবর্তনের পর সরকার, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইনের ইংরেজীতে অনূদিত একটি নির্ভরযোগ্য পাঠ প্রকাশ করিবে, যাহা এই আইনের অনুমোদিত ইংরেজী পাঠ (Authorised English Text) নামে অভিহিত হইবে:
তবে শর্ত থাকে যে, এই আইন ও উক্ত ইংরেজী পাঠের মধ্যে বিরোধের ক্ষেত্রে এই আইন প্রাধান্য পাইবে৷