পুলিশ ষ্টাফ কলেজ আইন, ২০০২
পুলিশ ষ্টাফ কলেজ স্থাপনকল্পে প্রণীত আইন৷
পুলিশ ষ্টাফ কলেজ স্থাপনকল্পে প্রণীত আইন৷ যেহেতু পুলিশ কর্মবিভাগে নিযুক্ত ব্যক্তিগণ ও কতিপয় অন্যান্য পেশাজীবীর পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য যথোপযুক্ত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন; এবং যেহেতু উক্তরূপ প্রশিক্ষণের আয়োজন ও পরিচালনার জন্য পুলিশ ষ্টাফ কলেজ স্থাপন করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়; সেহেতু এতদ্দ্বারা নিম্নরূপ আইন করা হইল:-
সংক্ষিপ্ত শিরোনামা ও প্রবর্তন
১৷ (১) এই আইন পুলিশ ষ্টাফ কলেজ আইন, ২০০২ নামে অভিহিত হইবে৷
(২) ইহা অবিলম্বে কার্যকর হইবে৷
সংজ্ঞা
২৷ বিষয় বা প্রসংগের পরিপন্থী কোন কিছু না থাকিলে, এই আইনে,-
পুলিশ ষ্টাফ কলেজ প্রতিষ্ঠা
৩৷ (১) এই আইনের উদ্দেশ্যসমূহ পূরণকল্পে পুলিশ ষ্টাফ কলেজ নামে একটি কলেজ থাকিবে৷
(২) পুলিশ ষ্টাফ কলেজ একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা হইবে এবং ইহার স্থায়ী ধারাবাহিকতা ও একটি সাধারণ সীলমোহর থাকিবে এবং ইহার স্থাবর ও অস্থাবর উভয় প্রকার সম্পত্তি অর্জন করার, অধিকারে রাখার এবং হস্তান্তর করার ক্ষমতা থাকিবে; এবং ইহার নামে ইহা মামলা দায়ের করিতে পারিবে এবং ইহার বিরুদ্ধেও মামলা দায়ের করা যাইবে৷
পুলিশ ষ্টাফ কলেজের দায়িত্ব ও কার্যাবলী
৪৷ এই আইন ও বিধির বিধান সাপেক্ষে পুলিশ ষ্টাফ কলেজের দায়িত্ব ও কার্যাবলী হইবে নিম্নরূপ, যথা:-
পুলিশ ষ্টাফ কলেজের পরিচালনা ও প্রশাসন
৫৷ (১) পুলিশ ষ্টাফ কলেজের পরিচালনা ও প্রশাসন একটি পরিচালনা বোর্ডের উপর ন্যস্ত থাকিবে এবং পুলিশ ষ্টাফ কলেজ যে সকল ক্ষমতা প্রয়োগ এবং কার্য সম্পাদন করিতে পারিবে পরিচালনা বোর্ডও সেই সকল ক্ষমতা প্রয়োগ ও কার্য সম্পাদন করিতে পারিবে৷
(২) পরিচালনা বোর্ড ইহার ক্ষমতা প্রয়োগ ও কার্য সম্পাদনের ক্ষেত্রে, সরকার কর্তৃক সময় সময় প্রদত্ত নির্দেশ অনুসরণ করিবে৷
পরিচালনা বোর্ডের গঠন
৬৷ পরিচালনা বোর্ড নিম্নবর্ণিত সমন্বয়ে গঠিত হইবে, যথা:-
বোর্ডের সভা
৭৷ (১) এই আইনের অন্যান্য বিধানাবলী সাপেক্ষে, বোর্ড কর্তৃক উহার সভার কার্য পদ্ধতি নির্ধারিত হইবে৷
(২) বোর্ডের সভা উহার চেয়ারম্যান কর্তৃক নির্ধারিত তারিখ, সময় ও স্থানে অনুষ্ঠিত হইবে:
তবে শর্ত থাকে যে, প্রতি মাসে বোর্ডের অন্তত একটি সভা অনুষ্ঠিত হইবে৷
(৩) বোর্ডের সভায় কোরামের জন্য উহার মোট সদস্য সংখ্যার অন্যুন এক-তৃতীয়াংশ সদস্যের উপস্থিতি প্রয়োজনীয় হইবে, তবে মুলতবী সভার ক্ষেত্রে কোন কোরামের প্রয়োজন হইবে না৷
(৪) চেয়ারম্যান বোর্ডের সকল সভায় সভাপতিত্ব করিবেন এবং তাঁহার অনুপস্থিতিতে প্রথম ভাইস-চেয়ারম্যান এবং প্রথম ভাইস-চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতিতে দ্বিতীয় ভাইস-চেয়ারম্যান সভায় সভাপতিত্ব করিবেন৷
(৫) বোর্ডের প্রত্যেক সদস্যের একটি করিয়া ভোট থাকিবে এবং ভোটের সমতার ক্ষেত্রে সভায় সভাপতিত্বকারী সদস্যের দ্বিতীয় বা নির্ণায়ক ভোট প্রদানের ক্ষমতা থাকিবে৷
(৬) শুধুমাত্র কোন সদস্যপদে শূন্যতা বা বোর্ড গঠনে ত্রুটি থাকার কারণে বোর্ডের কোন কার্য বা কার্যধারা অবৈধ হইবে না বা তত্সম্পর্কে কোন প্রশ্ন উত্থাপন করা যাইবে না৷
রেক্টর
৮৷ (১) পুলিশ ষ্টাফ কলেজের একজন রেক্টর থাকিবেন৷
(২) সরকার কর্তৃক পুলিশ কর্ম বিভাগের অতিরিক্ত মহা-পুলিশ পরিদর্শক বা তদুর্ধ্ব পদমর্যাদার কর্মকর্তা বা অসাধারণ মানের যোগ্যতাসম্পন্ন সমপদমর্যাদার অন্যান্য কর্মকর্তাগণের মধ্য হইতে রেক্টর নিযুক্ত হইবেন এবং তাঁহার চাকুরীর শর্তাবলী সরকার কর্তৃক স্থিরকৃত হইবে৷
(৩) রেক্টর এর পদ শূন্য হইলে কিংবা অনুপস্থিতি, অসুস্থতা বা অন্য কোন কারণে রেক্টর তাঁহার দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হইলে, শূন্য পদে নবনিযুক্ত রেক্টর কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত কিংবা রেক্টর পুনরায় স্বীয় দায়িত্ব পালনে সমর্থ না হওয়া পর্যন্ত ভাইস-রেক্টর, রেক্টর হিসাবে দায়িত্ব পালন করিবেন৷
(৪) রেক্টর পুলিশ ষ্টাফ কলেজের সার্বক্ষণিক মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা হইবেন এবং তিনি-
(৫) এই ধারার অধীন সরকার কর্তৃক রেক্টর নিযুক্ত না হওয়া পর্যন্ত এই আইন প্রবর্তনের অব্যবহিত পূর্বে বিদ্যমান পুলিশ ষ্টাফ কলেজের কমাণ্ড্যান্ট রেক্টর হিসাবে দায়িত্ব পালন করিবেন৷
পুলিশ ষ্টাফ কলেজের অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মচারী
৯৷ (১) পুলিশ ষ্টাফ কলেজে ভাইস-রেক্টর এবং বিধিতে বর্ণিত অন্যান্য কর্মকর্তা থাকিবে৷
(২) উপ-বিধি (১) এ বর্ণিত কর্মকর্তাগণের চাকুরীর শর্তাবলী বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে৷
(৩) পুলিশ ষ্টাফ কলেজ উহার দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে পালনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ করিতে পারিবে এবং তাহাদের চাকুরীর শর্তাবলী প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত হইবে৷
তহবিল
১০৷ (১) পুলিশ ষ্টাফ কলেজ তহবিল নামে পুলিশ ষ্টাফ কলেজের একটি তহবিল থাকিবে এবং উক্ত তহবিলে নিম্নবর্ণিত অর্থ জমা হইবে, যথা:-
(২) বোর্ড কর্তৃক অনুমোদিত কোন তফসিলী ব্যাংকে তহবিলের অর্থ জমা রাখা হইবে এবং প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে তহবিলের অর্থ ব্যয় করা যাইবে৷
(৩) এই তহবিল হইতে পুলিশ ষ্টাফ কলেজের প্রয়োজনীয় ব্যয় এবং সরকার কর্তৃক অনুমোদিত কর্মসূচী বাস্তবায়নের জন্য তহবিলের অর্থ ব্যয় করা যাইবে৷
(৪) সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে তহবিলের অর্থ অন্য যে কোন খাতে বিনিয়োগ করা যাইবে৷
ক্ষমতা অর্পণ
১১৷ বোর্ড এই আইন বা তদধীন প্রণীত বিধি বা প্রবিধানের অধীনে ইহার কোন ক্ষমতা বা দায়িত্ব লিখিত আদেশ দ্বারা ইহার চেয়ারম্যান বা ভাইস-চেয়ারম্যান বা অন্য কোন সদস্য বা রেক্টর বা পুলিশ ষ্টাফ কলেজের অন্য কোন কর্মকর্তাকে অর্পণ করিতে পারিবে৷
বাজেট
১২৷ পুলিশ ষ্টাফ কলেজ প্রতি বত্সর সরকার কর্তৃক নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পরবর্তী অর্থ-বত্সরের বার্ষিক বাজেট বিবরণী সরকারের নিকট পেশ করিবে এবং উহাতে উক্ত-বত্সরে সরকারের নিকট হইতে পুলিশ ষ্টাফ কলেজের কি পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন উহার উল্লেখ থাকিবে৷
হিসাব রক্ষণ ও নিরীক্ষা
১৩৷ (১) পুলিশ ষ্টাফ কলেজ প্রচলিত আইন অনুসরণক্রমে যথাযথভাবে উহার হিসাব রক্ষণ করিবে এবং হিসাবের বার্ষিক বিবরণী প্রস্তুত করিবে৷
(২) বাংলাদেশের মহা-হিসাব নিরীক্ষক, অতঃপর মহা-হিসাব নিরীক্ষক বলিয়া উল্লিখিত, প্রতি বত্সর পুলিশ ষ্টাফ কলেজের হিসাব নিরীক্ষা করিবেন এবং নিরীক্ষা রিপোর্টের একটি করিয়া অনুলিপি সরকার ও পুলিশ ষ্টাফ কলেজের নিকট প্রেরণ করিবেন৷
(৩) উপ-ধারা (২) মোতাবেক হিসাব নিরীক্ষার উদ্দেশ্যে মহা-হিসাব নিরীক্ষক কিংবা তাহার নিকট হইতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন ব্যক্তি পুলিশ ষ্টাফ কলেজের সকল রেকর্ড, দলিল দস্তাবেজ, নগদ বা ব্যাংকে গচ্ছিত অর্থ, জামানত, ভান্ডার এবং অন্যবিধ সম্পত্তি পরীক্ষা করিয়া দেখিতে পারিবেন এবং পুলিশ ষ্টাফ কলেজের যে কোন সদস্য, কর্মকর্তা বা কর্মচারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করিতে পারিবেন৷
চুক্তি
১৪৷ পুলিশ ষ্টাফ কলেজ উহার কার্যাবলী সম্পাদনের প্রয়োজনে অন্য কোন ব্যক্তি বা সংস্থার সহিত চুক্তি সম্পাদন করিতে পারিবে:
তবে শর্ত থাকে যে, কোন বিদেশী সরকার বা আন্তর্জাতিক সংস্থার সহিত চুক্তি সম্পাদনের ক্ষেত্রে সরকারের পূর্বানুমোদন গ্রহণ করিতে হইবে৷
প্রতিবেদন
১৫৷ (১) প্রতি অর্থ-বত্সর শেষ হইবার পর সরকার কর্তৃক নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পুলিশ ষ্টাফ কলেজ উক্ত বত্সরে সম্পাদিত কার্যাবলীর বিবরণ সম্বলিত একটি বার্ষিক প্রতিবেদন সরকারের নিকট পেশ করিবে৷
(২) সরকার, প্রয়োজনবোধে, পুলিশ ষ্টাফ কলেজের নিকট হইতে যে কোন সময় উহার কার্যাবলীর উপর প্রতিবেদন বা বিবরণী আহ্বান করিতে পারিবে এবং পুলিশ ষ্টাফ কলেজ উহা সরকারের নিকট প্রেরণ করিতে বাধ্য থাকিবে৷
সরল বিশ্বাসে কৃত কাজকর্মের হেফাজত
১৬৷ এই আইন, বিধি বা প্রবিধানের অধীন সরল বিশ্বাসে কৃত কোন কাজের ফলে কোন ব্যক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হইলে বা তাহার ক্ষতিগ্রস্ত হইবার সম্ভাবনা থাকিলে তজ্জন্য বোর্ড, চেয়ারম্যান, সদস্য, রেক্টর, বা পুলিশ ষ্টাফ কলেজের অন্য কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে কোন দেওয়ানী বা ফৌজদারী মামলা বা অন্য কোন প্রকার আইনগত কার্যক্রম গ্রহণ করা যাইবে না৷
বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা
১৭৷ এই আইনের উদ্দেশ্যসমূহ পূরণকল্পে সরকার, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে৷
প্রবিধান প্রণয়নের ক্ষমতা
১৮৷ বোর্ড এই আইনের উদ্দেশ্যসমূহ পূরণকল্পে কলেজ, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে এবং সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইন বা কোন বিধির সহিত অসংগতিপূর্ণ নহে এইরূপ প্রবিধান প্রণয়ন করিতে পারিবে৷
বিশেষ বিধান
১৯৷ (১) এই আইন প্রবর্তনের অব্যবহিত পূর্বে বিদ্যমান পুলিশ ষ্টাফ কলেজের-
(২) এই আইন প্রবর্তনের অব্যবহিত পূর্বে বিদ্যমান পুলিশ ষ্টাফ কলেজে কর্মরত সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারী সরকার কর্তৃক প্রত্যাহৃত না হওয়া পর্যন্ত এই আইনের অধীন প্রতিষ্ঠিত পুলিশ ষ্টাফ কলেজের বদলীকৃত কর্মকর্তা ও কর্মচারী বলিয়া গণ্য হইবেন৷