বাংলাদেশ রেশম গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট আইন, ২০০৩
বাংলাদেশ রেশম গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট আইন প্রণয়নকল্পে প্রণীত আইন৷
বাংলাদেশ রেশম গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট আইন প্রণয়নকল্পে প্রণীত আইন৷ যেহেতু বিদ্যমান রেশম গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটকে একটি সংবিধিবদ্ধ স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান হিসাবে প্রতিষ্ঠা করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়; সেহেতু এতদ্দ্বারা নিম্নরূপ আইন করা হইল:-
সংক্ষিপ্ত শিরোনামা ও প্রবর্তন
১৷ (১) এই আইন বাংলাদেশ রেশম গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট আইন, ২০০৩ নামে অভিহিত হইবে৷
(২) সরকার, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, যে তারিখ নির্ধারণ করিবে সেই তারিখে এই আইন বলবত্ হইবে৷
সংজ্ঞা
২৷ বিষয় বা প্রসংগের পরিপন্থী কোন কিছু না থাকিলে, এই আইনে,-
ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা
৩৷ (১) এই আইন বলবত্ হইবার সংগে সংগে বিদ্যমান রেশম গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট, এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, এই আইনের অধীন বাংলাদেশ রেশম গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট নামে একটি সংবিধিবদ্ধ স্বতন্ত্র সংস্থা হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হইবে৷
(২) ইনস্টিটিউটের স্থায়ী ধারাবাহিকতা ও একটি সাধারণ সীলমোহর থাকিবে এবং ইহার স্থাবর ও অস্থাবর উভয় প্রকার সম্পত্তি অর্জন করিবার, অধিকারে রাখিবার এবং হস্তান্তর করিবার ক্ষমতা থাকিবে৷
(৩) “বাংলাদেশ রেশম গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট”- এই নামে ইনস্টিটিউট কর্তৃক বা ইনস্টিটিউট এর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা যাইবে৷
প্রধান কার্যালয়
৪৷ ইনস্টিটিউটের প্রধান কার্যালয় রাজশাহীতে থাকিবে এবং ইহা প্রয়োজনবোধে, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, বাংলাদেশের যে কোন স্থানে শাখা কার্যালয় স্থাপন করিতে পারিবে৷
পরিচালনা ও প্রশাসন
৫৷ ইনস্টিটিউটের পরিচালনা ও প্রশাসন বোর্ডের উপর ন্যস্ত থাকিবে৷
পরিচালনা বোর্ড ও ইহার গঠন
৬৷ (১) ইনস্টিটিউটের একটি পরিচালনা বোর্ড থাকিবে, যাহা নিম্নবর্ণিত সদস্য সমন্বয়ে গঠিত হইবে, যথা:-
(২) শুধুমাত্র কোন সদস্য পদে শূন্যতা বা বোর্ড গঠনে ত্রুটি থাকিবার কারণে বোর্ডের কোন কার্য বা কার্যধারা অবৈধ হইবে না বা তত্সম্পর্কে কোন প্রশ্নও উত্থাপন করা যাইবে না৷
সদস্যের মেয়াদ
৭৷ (১) ধারা ৮ এর বিধান সাপেক্ষে, ধারা ৬ (১) এর দফা (ঝ) এর অধীন মনোনীত সদস্যের মেয়াদ হইবে তাহার মনোনয়নের তারিখ হইতে পরবর্তী তিন বত্সর৷
(২) উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত যে কোন মনোনীত সদস্য চেয়ারম্যানের উদ্দেশ্যে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে স্বীয় পদ ত্যাগ করিতে পারিবেন৷
সদস্যের অযোগ্যতা
৮৷ (১) কোন ব্যক্তি ধারা ৬ (১) এর দফা (ঝ) এর অধীন সদস্য হইবার বা থাকিবার যোগ্য হইবেন না, যদি-
(২) উপ-ধারা (১) এ বিদ্যমান বিধান থাকা সত্ত্বেও সরকার ধারা ৬(১) এর দফা (ক) হইতে (গ) এ উল্লিখিত সদস্য ব্যতীত যে কোন সদস্যকে লিখিত আদেশের মাধ্যমে অপসারণ করিতে পারিবেন, যদি তিনি-
ইনস্টিটিউট এর কার্যাবলী
৯৷ ইনস্টিটিউট এর কার্যাবলী হইবে নিম্নরূপ-
পরিচালক
১০৷ (১) ইনস্টিটিউটের একজন পরিচালক থাকিবেন৷
(২) পরিচালক সরকার কর্তৃক নিযুক্ত হইবেন এবং তাঁহার চাকুরীর শর্তাদি সরকার কর্তৃক স্থিরকৃত হইবে৷
(৩) পরিচালকের পদ শূন্য হইলে কিংবা অনুপস্থিতি, অসুস্থতা বা অন্য কোন কারণে পরিচালক তাঁহার দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হইলে, শূন্য পদে নবনিযুক্ত পরিচালক কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত কিংবা পরিচালক পুনরায় স্বীয় দায়িত্ব পালনে সমর্থ না হওয়া পর্যন্ত সরকার কর্তৃক মনোনীত কোন ব্যক্তি পরিচালকরূপে দায়িত্ব পালন করিবেন৷
(৪) পরিচালক ইনস্টিটিউটের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা হইবেন এবং তিনি-
বোর্ডের সভা
১১৷ (১) এই আইনের বিধানাবলী সাপেক্ষে, বোর্ড উহার সভার কার্যপদ্ধতি প্রবিধান দ্বারা নির্ধারণ করিবে৷
(২) বোর্ডের সভা চেয়ারম্যান কর্তৃক নির্ধারিত স্থান ও সময়ে অনুষ্ঠিত হইবে:
তবে শর্ত থাকে যে, প্রতি ছয় মাসে বোর্ডের কমপক্ষে একটি সভা অনুষ্ঠিত হইবে৷
(৩) চেয়ারম্যান বোর্ডের সকল সভায় সভাপতিত্ব করিবেন এবং তাঁহার অনুপস্থিতিতে ভাইস-চেয়ারম্যান সভায় সভাপতিত্ব করিবেন৷
(৪) বোর্ডের সভার সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রত্যেক সদস্যের একটি করিয়া ভোট থাকিবে এবং ভোটের সমতার ক্ষেত্রে সভায় সভাপতিত্বকারীর দ্বিতীয় বা নির্ণায়ক ভোট প্রদানের ক্ষমতা থাকিবে৷
(৫) চেয়ারম্যানের পক্ষে সময় দেওয়া সম্ভব না হইলে, চেয়ারম্যানের অনুমতিক্রমে, ভাইস-চেয়ারম্যান সভা আহ্বান ও পরিচালনা করিতে পারিবেন৷
কমিটি
১২৷ বোর্ড উহার দায়িত্ব পালনে উহাকে সহায়তাদানের জন্য এক বা একাধিক কমিটি গঠন করিতে পারিবে৷
নির্দেশ প্রদানের ক্ষমতা
১৩৷ এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে সরকার, এই আইনের বিধানাবলীর সাথে অসংগিতপূর্ণ না হওয়া সাপেক্ষে, ইনস্টিটিউটকে যে কোন নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবে এবং ইনস্টিটিউট উহা পালন করিতে বাধ্য থাকিবে৷
চেয়ারম্যান-এর বিশেষ ক্ষমতা
১৪৷ এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, এই আইনের বিধানাবলীর সাথে অসংগতিপূর্ণ না হওয়া সাপেক্ষে, ইনস্টিটিউট এর স্বার্থে তাত্ক্ষণিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিলে চেয়ারম্যান যে কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিতে পারিবেন এবং যাহা বোর্ডের পরবর্তী সভায় অনুমোদিত হইতে হইবে৷
ইনস্টিটিউটের তহবিল
১৫৷ (১) ইনস্টিটিউটের একটি তহবিল থাকিবে এবং উহাতে-
(২) ইনস্টিটিউটের তহবিল বোর্ডের অনুমোদনক্রমে যে কোন তফসিলি ব্যাংকে জমা রাখা হইবে৷
(৩) ইনস্টিটিউট উহার দায়িত্ব পালনের প্রয়োজনে উহার তহবিল ব্যবহার করিতে পারিবে৷
ঋণ গ্রহণের ক্ষমতা
১৬৷ ইনস্টিটিউট উহার কার্যাবলী সম্পাদনের জন্য, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, কোন তফসিলি ব্যাংক হইতে ঋণ গ্রহণ করিতে পারিবে৷
কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ
১৭৷ ইনস্টিটিউট উহার দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে পালনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ করিতে পারিবে এবং তাহাদের চাকুরীর শর্তাবলী প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত হইবে৷
বার্ষিক বাজেট বিবরণী
১৮৷ ইনস্টিটিউট প্রতি বত্সর সরকার কর্তৃক নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পরবর্তী বত্সরের বার্ষিক বাজেট বিবরণী সরকারের নিকট পেশ করিবে এবং উহাতে উক্ত অর্থ-বত্সরে সরকারের নিকট হইতে ইনস্টিটিউটের কি পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন উহার উল্লেখ থাকিবে৷
হিসাবরক্ষণ ও নিরীক্ষা
১৯৷ (১) ইনস্টিটিউট যথাযথভাবে উহার হিসাবরক্ষণ করিবে এবং হিসাবের বার্ষিক বিবরণী প্রস্তুত করিবে৷
(২) বাংলাদেশের মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, অতঃপর “মহা হিসাব নিরীক্ষক” নামে অভিহিত, প্রতি বত্সর ইনস্টিটিউটের হিসাব নিরীক্ষা করিবেন এবং নিরীক্ষা রিপোর্টের একটি করিয়া অনুলিপি সরকার ও ইনস্টিটিউটের নিকট প্রেরণ করিবেন৷
(৩) উপ-ধারা (২) মোতাবেক হিসাব নিরীক্ষার উদ্দেশ্যে মহা-হিসাব নিরীক্ষক কিংবা তাহার নিকট হইতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন ব্যক্তি ইনস্টিটিউটের সকল রেকর্ড, দলিল-দস্তাবেজ, নগদ বা ব্যাংকে গচ্ছিত অর্থ, জামানত, ভাণ্ডার এবং অন্যবিধ সম্পত্তি পরীক্ষা করিয়া দেখিতে পারিবেন এবং ইনস্টিটিউটের যে কোন সদস্য, কর্মকর্তা বা কর্মচারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করিতে পারিবেন৷
হিসাব বিবরণী, ইত্যাদি
২০৷ (১) ইনস্টিটিউট প্রত্যেক অর্থ-বত্সর শেষে নিরীক্ষিত হিসাব বিবরণী, মন্তব্যসহ, সরকারের নিকট দাখিল করিবে এবং এতদ্বিষয়ে ইনস্টিটিউট এর কর্মকাণ্ডের উপর একটি বার্ষিক বিবরণীও দাখিল করিবে৷
(২) ইনস্টিটিউট সরকার কর্তৃক, সময়ে সময়ে, চাহিদাকৃত বিবরণী, রিটার্ণ ও প্রতিবেদন সরকারের নিকট দাখিল করিবে৷
ক্ষমতা অর্পণ
২১৷ বোর্ড উহার যে কোন ক্ষমতা, তত্কর্তৃক নির্ধারিত শর্তে, চেয়ারম্যান বা অন্য কোন সদস্য বা পরিচালক বা ইনস্টিটিউটের অন্য কোন কর্মকর্তাকে অর্পণ করিতে পারিবে৷
দায়মুক্তি
২২৷ এই আইনের অধীন সরল বিশ্বাসে কৃত কোন কাজের ফলে কোন ব্যক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হইলে বা তাঁহার ক্ষতিগ্রস্ত হইবার সম্ভাবনা থাকিলে তজ্জন্য চেয়ারম্যান, সদস্য, পরিচালক বা ইনস্টিটিউটের অন্য কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে কোন দেওয়ানী বা ফৌজদারী মামলা বা অন্য কোন প্রকার আইনগত কার্যক্রম গ্রহণ করা যাইবে না৷
বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা
২৩৷ এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে সরকার, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে৷
প্রবিধান প্রণয়নের ক্ষমতা
২৪৷ এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, ইনস্টিটিউট, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, এবং সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, প্রবিধান প্রণয়ন করিতে পারিবে৷
রহিতকরণ ও হেফাজত
২৫৷ এই আইন বলবত্ হইবার সংগে সংগে বাংলাদেশ সেরিকালচার বোর্ড এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে ২২শে ডিসেম্বর, ২০০১ তারিখে সম্পাদিত চুক্তি, অতঃপর চুক্তি বলিয়া উল্লিখিত, বাতিল বলিয়া গণ্য হইবে৷ উক্ত চুক্তি বাতিল হইবার সংগে সংগে-