কম্পিউটার প্রশিক্ষণ ও গবেষণা খাতের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রশিক্ষিত ও দক্ষ জনশক্তি সৃষ্টিসহ গবেষণা ও উন্নয়ন কর্মকান্ড পরিচালনার লক্ষ্যে একটি একাডেমী প্রতিষ্ঠার জন্য বিধান প্রণয়নকল্পে প্রণীত আইন৷ যেহেতু, কম্পিউটার শিক্ষার ক্ষেত্রে অগ্রসরমান বিশ্বের সাথে সঙ্গতি রক্ষা ও সমতা অর্জন এবং কম্পিউটার বিষয়ে উচ্চ শিক্ষা ও গবেষণা, আধুনিক ও বিজ্ঞানভিত্তিক জ্ঞান চর্চা ও পঠন-পাঠনের সুযোগ সৃষ্টি করে প্রশিক্ষিত ও দক্ষ জনশক্তি সৃষ্টির উদ্দেশ্যে একটি একাডেমী প্রতিষ্ঠা করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়; সেহেতু, এতদ্দ্বারা নিম্নরূপ আইন করা হইল:
১৷ এই আইন জাতীয় কম্পিউটার প্রশিক্ষণ ও গবেষণা একাডেমী আইন, ২০০৫ নামে অভিহিত হইবে৷
২৷ বিষয় বা প্রসংগের পরিপন্থী কোন কিছু না থাকিলে, এই আইনে-
৩৷ (১) এই আইন বলবত্ হইবার সংগে সংগে জাতীয় কম্পিউটার প্রশিক্ষণ ও গবেষণা একাডেমী নামে একটি একাডেমী প্রতিষ্ঠিত হইবে৷
(২) একাডেমী একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা হইবে এবং ইহার স্থায়ী ধারাবাহিকতা ও একটি সাধারণ সীলমোহর থাকিবে এবং এই আইনের বিধানাবলী সাপেক্ষে, ইহার স্থাবর ও অস্থাবর উভয় প্রকার সম্পত্তি অর্জন করিবার, অধিকারে রাখিবার ও হস্তান্তর করিবার ক্ষমতা থাকিবে এবং একাডেমী ইহার নামে মামলা দায়ের করিতে পারিবে এবং উক্ত নামে ইহার বিরুদ্ধেও মামলা দায়ের করা যাইবে৷
৪৷ (১) একাডেমীর প্রধান কার্যালয় বগুড়া জেলার শাহজাহানপুর উপজেলাধীন ফুলতলা নামক স্থানে থাকিবে৷
(২) একাডেমী, প্রয়োজনে, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, বাংলাদেশের যে কোন স্থানে উহার শাখা কার্যালয় স্থাপন করিতে পারিবে৷
৫৷ একাডেমীর পরিচালনা ও প্রশাসন একটি বোর্ড অব গভর্ণরস-এর উপর ন্যস্ত থাকিবে এবং একাডেমী যে সকল ক্ষমতা প্রয়োগ ও কার্য সম্পাদন করিতে পারিবে বোর্ড অব গভর্ণরসও সেই সকল ক্ষমতা প্রয়োগ ও কার্য সম্পাদন করিতে পারিবে৷
৬৷ (১) নিম্নবর্ণিত সদস্যদের সমন্বয়ে একাডেমীর বোর্ড অব গভর্ণরস গঠিত হইবে, যথা:-
(২) বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ অন্যান্য সদস্য যাহারা পদাধিকারবলে বোর্ডের সদস্য হইবেন তাঁহাদের মেয়াদ হইবে সংশ্লিষ্ট পদে কর্মরত থাকা পর্যন্ত এবং উপ-ধারা (১) এর দফা (ঝ), (ঠ), (ড) এবং (ঢ) এর অধীন মনোনীত সদস্যগণ তাঁহাদের মনোনয়নের তারিখ হইতে তিন বত্সরের জন্য সদস্য পদে বহাল থাকিবেন৷
(৩) উপ-ধারা (১) এর দফা (ঝ), (ঠ), (ড) এবং (ঢ) এর অধীন মনোনীত কোন সদস্যের মেয়াদ শেষ হইবার পূর্বেও সরকার, কোন কারণ দর্শানো ব্যতিরেকে, যে কোন সময় তাঁহাকে তাঁহার দায়িত্ব হইতে অব্যাহতি প্রদান করিতে পারিবে৷
(৪) উপ-ধারা (১) এর দফা (ঝ), (ঠ), (ড) এবং (ঢ) এর অধীন মনোনীত কোন সদস্য যে কোন সময় বোর্ডের চেয়ারম্যানকে উদ্দেশ্য করিয়া তাঁহার স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে স্বীয় পদ ত্যাগ করিতে পারিবেন৷
৭৷ (১) এই ধারার অন্যান্য বিধানাবলী সাপেক্ষে, বোর্ড উহার সভার কার্যপদ্ধতি নির্ধারণ করিতে পারিবে৷
(২) বোর্ডের সভা, উহার চেয়ারম্যানের সম্মতিক্রমে উহার সদস্য-সচিব কর্তৃক আহূত হইবে এবং চেয়ারম্যান কর্তৃক নির্ধারিত স্থান ও সময়ে অনুষ্ঠিত হইবে:
তবে শর্ত থাকে যে, প্রতি চার মাসে বোর্ডের অন্যুন একটি সভা অনুষ্ঠিত হইবে৷
(৩) চেয়ারম্যান বোর্ডের সকল সভায় সভাপতিত্ব করিবেন এবং তাঁহার অনুপস্থিতিতে ভাইস-চেয়ারম্যান এবং তাঁহাদের উভয়ের অনুপস্থিতিতে উপস্থিত সদস্যগণ কর্তৃক তাঁহাদের মধ্য হইতে মনোনীত কোন সদস্য বোর্ডের সভায় সভাপতিত্ব করিবেন৷
(৪) বোর্ডের সভার কোরামের জন্য বোর্ডের অন্যুন পাঁচজন সদস্যের উপস্থিতির প্রয়োজন হইবে, তবে মুলতবী সভার ক্ষেত্রে কোন কোরামের প্রয়োজন হইবে না৷
(৫) বোর্ডের প্রত্যেক সদস্যের একটি করিয়া ভোট থাকিবে এবং উপস্থিত সদস্যের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে সভার সিদ্ধান্ত গৃহীত হইবে এবং ভোটের সমতার ক্ষেত্রে সভায় সভাপতিত্বকারীর দ্বিতীয় ও নির্ণায়ক ভোট প্রদানের ক্ষমতা থাকিবে৷
(৬) শুধুমাত্র কোন সদস্য পদে শূন্যতা বা বোর্ড গঠনে ত্রুটি থাকিবার কারণে বোর্ডের কার্য বা কার্যধারা অবৈধ হইবে না এবং তত্সম্পর্কে কোন প্রশ্ন উত্থাপন করা যাইবে না৷
৮৷ একাডেমীর কার্যাবলী হইবে নিম্নরূপ, যথা:-
৯৷ (১) একাডেমীর একজন পরিচালক থাকিবেন৷
(২) পরিচালক সরকার কর্তৃক নিযুক্ত হইবেন এবং তাঁহার চাকুরীর শর্তাদি সরকার কর্তৃক স্থিরকৃত হইবে৷
(৩) পরিচালক একাডেমীর সার্বক্ষণিক প্রধান নির্বাহী হইবেন এবং এই আইনের বিধানাবলী সাপেক্ষে, বোর্ড কর্তৃক নির্দেশিত কার্যাবলী সম্পাদন, ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব সম্পাদন করিবেন৷
(৪) পরিচালকের পদ শূন্য হইলে, কিংবা অনুপস্থিতি, অসুস্থতা বা অন্য কোন কারণে পরিচালক তাঁহার দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হইলে শূন্য পদে নবনিযুক্ত পরিচালক কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত কিংবা পরিচালক পুনরায় স্বীয় দায়িত্ব পালনে সমর্থ না হওয়া পর্যন্ত সরকার কর্তৃক মনোনীত কোন ব্যক্তি পরিচালকরূপে দায়িত্ব পালন করিবে৷
১০৷ (১) একাডেমী উহার কার্যাবলী সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের উদ্দেশ্যে প্রয়োজনীয় সংখ্যক কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ করিতে পারিবে:
তবে শর্ত থাকে যে, সরকারের পূর্বানুমোদন ব্যতিরেকে একাডেমী কোন কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ করিতে পারিবে না৷
(২) একাডেমীর কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিয়োগ পদ্ধতি এবং তাঁহাদের চাকুরীর শর্তাবলী প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত হইবে৷
১১৷ একাডেমী এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে সুস্পষ্ট দায়িত্ব পালনের জন্য এক বা একাধিক কমিটি গঠন করিতে পারিবে৷
১২৷ (১) একাডেমীর কার্য পরিচালনার জন্য উহার একটি নিজস্ব তহবিল থাকিবে এবং নিম্নবর্ণিত উত্সসমূহ হইতে প্রাপ্ত অর্থ উক্ত তহবিলে জমা হইবে, যথা:-
(২) একাডেমীর তহবিল বা উহার অংশ বিশেষ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত খাতে বিনিয়োগ করা যাইবে৷
(৩) উক্ত তহবিলে জমাকৃত অর্থ একাডেমীর নামে তত্কর্তৃক অনুমোদিত কোন তফসিলী ব্যাংকে জমা রাখা হইবে৷
(৪) বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে উক্ত তহবিল রক্ষণ ও উহার অর্থ ব্যয় করা যাইবে৷
১৩৷ একাডেমী প্রতি বত্সর সরকার কর্তৃক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরবর্তী অর্থ বত্সরের বার্ষিক বাজেট বিবরণী সরকার কর্তৃক নির্ধারিত ফরমে অনুমোদনের জন্য সরকারের নিকট পেশ করিবে এবং উহাতে উক্ত অর্থ বত্সরে সরকারের নিকট হইতে একাডেমীর কি পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন হইবে উহার উল্লেখ থাকিবে৷
১৪৷ (১) একাডেমী যথাযথভাবে উহার তহবিলের হিসাব রক্ষণ করিবে এবং হিসাবের বার্ষিক বিবরণী প্রস্তুত করিবে৷
(২) বাংলাদেশের মহা-হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, অতঃপর মহা-হিসাব নিরীক্ষক নামে অভিহিত, প্রতি বত্সর একাডেমীর তহবিলের হিসাব নিরীক্ষা করিবেন এবং নিরীক্ষা রিপোর্টের একটি করিয়া অনুলিপি সরকার ও একাডেমীর নিকট পেশ করিবেন৷
(৩) উপ-ধারা (২) এর অধীন হিসাব নিরীক্ষার উদ্দেশ্যে মহা-হিসাব নিরীক্ষক কিংবা তাঁহার নিকট হইতে এতদুদ্দেশ্যে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন ব্যক্তি একাডেমীর সকল রেকর্ড, দলিল-দস্তাবেজ, নগদ বা ব্যাংকে গচ্ছিত অর্থ, জামানত, ভাণ্ডার এবং অন্যবিধ সম্পত্তি পরীক্ষা করিয়া দেখিতে পারিবেন এবং বোর্ডের যে কোন সদস্য, পরিচালক এবং একাডেমীর কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করিতে পারিবেন৷
১৫৷ (১) প্রতি আর্থিক বত্সর শেষ হইবার সঙ্গে সঙ্গে একাডেমী উক্ত অর্থ বত্সরের সম্পাদিত কার্যাবলীর বিবরণ সম্বলিত একটি বার্ষিক প্রতিবেদন সরকারের নিকট পেশ করিবে৷
(২) সরকার প্রয়োজনমত একাডেমীর নিকট হইতে যে কোন সময় উহার যে কোন কাজের প্রতিবেদন বা বিবরণী আহ্বান করিতে পারিবে এবং একাডেমী উহা সরকারের নিকট প্রেরণ করিতে বাধ্য থাকিবে৷
১৬৷ এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে একাডেমী, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে ঋণ গ্রহণ করিতে পারিবে৷
১৭৷ এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে একাডেমী, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, চুক্তি সম্পাদন করিতে পারিবে৷
১৮৷ পরিচালক, প্রয়োজনবোধে এবং তত্কর্তৃক নির্ধারিত শর্ত সাপেক্ষে, এই আইনের অধীন তাঁহার উপর অর্পিত যে কোন ক্ষমতা বা দায়িত্ব লিখিত আদেশ দ্বারা একাডেমীর কোন কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে অর্পণ করিতে পারিবেন৷
১৯৷ এই আইন বা কোন বিধি বা প্রবিধানের অধীন সরল বিশ্বাসে কৃত কোন কাজকর্মের ফলে কোন ব্যক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হইলে বা হওয়ার সম্ভাবনা থাকিলে তজ্জন্য একাডেমী বা বোর্ডের যে কোন সদস্য, পরিচালক বা একাডেমীর কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে দেওয়ানী বা ফৌজদারী কিংবা অন্য কোন আইনগত কার্যক্রম গ্রহণ করা যাইবে না৷
২০৷ এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে সরকার, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে৷
২১৷ এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে একাডেমী, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে এবং সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইন বা কোন বিধির সহিত অসামঞ্জস্যপূর্ণ না হয় এইরূপ প্রবিধান প্রণয়ন করিতে পারিবে৷
২২৷ (১) এই আইন প্রবর্তনের সংগে সংগে জাতীয় বহুভাষী সাঁটলিপি প্রশিক্ষণ ও গবেষণা একাডেমী, বগুড়া (নট্রামস), অতঃপর বিলুপ্ত প্রতিষ্ঠান বলিয়া উল্লিখিত, বিলুপ্ত হইবে৷
(২) উক্তরূপ বিলুপ্ত হওয়ার সংগে সংগে-