কর সংক্রান্ত আইন প্রয়োগে নিয়োজিত পদাধিষ্ঠিত ব্যক্তি বা কর কর্মচারী কর্তৃক কৃত অপশাসন নিরূপণসহ উক্ত বিষয়ে তদন্ত পরিচালনা এবং তত্সম্পর্কে প্রতিকারমূলক বা সংশোধনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে কর-ন্যায়পাল নিয়োগ এবং আনুষঙ্গিক বিষয়াদি সম্পর্কে বিধানকল্পে প্রণীত আইন৷ যেহেতু কর সংক্রান্ত আইন প্রয়োগে নিয়োজিত পদাধিষ্ঠিত ব্যক্তি বা কর কর্মচারী কর্তৃক কৃত অপশাসন নিরূপণসহ উক্ত বিষয়ে তদন্ত পরিচালনা এবং তত্সম্পর্কে প্রতিকারমূলক বা সংশোধনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে কর-ন্যায়পাল নিয়োগ এবং আনুষঙ্গিক বিষয়াদি সম্পর্কে বিধান করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়; সেহেতু এতদ্দ্বারা নিম্নরূপ আইন করা হইল:-
১৷ (১) এই আইন কর-ন্যায়পাল আইন, ২০০৫ নামে অভিহিত হইবে৷
(২) সরকার, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, যেই তারিখ নির্ধারণ করিবে সেই তারিখে এই আইন বলবত্ হইবে৷
২৷ বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থী কোন কিছু না থাকিলে, এই আইনে,-
(১) কোন সিদ্ধান্ত, প্রক্রিয়া, সুপারিশ বা কার্য করা বা না করা, যাহা-
(২) প্রশাসনিক দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনে অবহেলা প্রদর্শন করা, বিলম্ব করা বা অযোগ্যতা, অদক্ষতা ও অক্ষমতার পরিচয় দেওয়া;
(৩) নিম্নবর্ণিত বিষয়াদি নিষ্পত্তির উদ্দেশ্যে অহেতুক নোটিশ প্রদান বা শুনানী গ্রহণ প্রলম্বিতকরণ-
(৪) কর বা শুল্ক রেয়াত বা প্রত্যর্পণের দাবী নিষ্পত্তিতে ইচ্ছাকৃত ভুল;
(৫) উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ কর্তৃক ইতোমধ্যে নির্ধারিত কর বা শুল্ক প্রত্যর্পণের অর্থ পরিশোধে উদ্দেশ্যমূলকভাবে বিলম্ব করা বা পরিশোধ না করা;
(৬) যে সকল ক্ষেত্রে কর বা শুল্ক পরিশোধে ব্যর্থতার বিষয় রেকর্ড দৃষ্টে প্রতীয়মান হয় না সেই সকল ক্ষেত্রে কর বা শুল্ক আদায়ে জবরদস্তিমূলক পদ্ধতি অনুসরণ করা; এবং
(৭) উপযুক্ত আপীল কর্তৃপক্ষ কর্তৃক যে কর কর্মচারীর মূল্যায়ন বা নিরূপণ আদেশ প্রতিহিংসাপরায়ন, খামখেয়ালিপূর্ণ, পক্ষপাতদুষ্ট বা স্পষ্টতঃ অবৈধ বলিয়া ঘোষিত হইয়াছে সেই কর কর্মচারীর বিরুদ্ধে শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করা;
(১) The Provisional Collection of Taxes Act, 1931 (Act XVI of 1931);
(২) The Commercial Documents Evidence Act, 1939 (Act XXX of 1939);
(৩) The Excises and Salt Act, 1944 (Act I of 1944);
(৪) The Customs Act, 1969 (Act IV of 1969);
(৫) The Income Tax Ordinance, 1984 (Ordinance XXXVI of 1984);
(৬) দান-কর আইন, ১৯৯০ (১৯৯০ সনের ৪৪ নং আইন);
(৭) ব্যাংক-কোম্পানী আইন, ১৯৯১ (১৯৯১ সনের ১৪ নং আইন);
(৮) মূল্য সংযোজন কর আইন, ১৯৯১ (১৯৯১ সনের ২২ নং আইন);
(৯) কোম্পানী আইন, ১৯৯৪ (১৯৯৪ সনের ১৮ নং আইন);
(১০) ভ্রমণ কর আইন, ২০০৩ (২০০৩ সনের ৫ নং আইন);
(১১) সরকার, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, করারোপের সহিত সম্পর্কযুক্ত আইন বলিয়া যেইরূপ নির্ধারিত করিবে সেইরূপ, অন্যান্য আইন; এবং
(১২) উপ-দফা (১) হইতে (১১) তে উল্লিখিত আইনসমূহের অধীন প্রণীত বা জারীকৃত বিধি, প্রবিধান বা প্রজ্ঞাপনসমূহ;
৩৷ আপাততঃ বলবত্ অন্য কোন আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইনের বিধানাবলী কার্যকর থাকিবে৷
৪৷ (১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, একজন কর-ন্যায়পাল থাকিবেন৷
(২) এই আইনের অন্যান্য বিধান সাপেক্ষে, কর-ন্যায়পাল রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিযুক্ত হইবেন৷
৫৷ (১) ধারা ৮ এর বিধান সাপেক্ষে, কর-ন্যায়পাল তাঁহার নিয়োগের তারিখ হইতে ৪ (চার) বত্সর মেয়াদের জন্য স্বীয় পদে অধিষ্ঠিত থাকিবেন৷
(২) কর-ন্যায়পাল শুধুমাত্র একটি মেয়াদের জন্য নিযুক্ত হইবেন এবং তিনি পুনঃনিয়োগের যোগ্য হইবেন না৷
৬৷ কর-ন্যায়পালের প্রধান কার্যালয় ঢাকায় থাকিবে; তবে কর-ন্যায়পাল, প্রয়োজনবোধে, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, দেশের যে কোন স্থানে উহার শাখা কার্যালয় স্থাপন করিতে পারিবেন৷
৭৷ (১) প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কর প্রশাসনে বা পেশায়, সাধারণ বা আর্থিক প্রশাসন, আইন বা বিচারে অন্যুন ২০ (বিশ) বত্সরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন কোন ব্যক্তি কর-ন্যায়পাল হইবার যোগ্য হইবেন৷
(২) কোন ব্যক্তি কর-ন্যায়পাল হিসাবে নিযুক্ত হইবার বা বহাল থাকিবার যোগ্য হইবেন না, যদি তিনি-
ব্যাখ্যা৷- এই ধারার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে-
৮৷ (১) কর-ন্যায়পাল রাষ্ট্রপতির উদ্দেশ্যে স্বীয় স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে তাঁহার পদ ত্যাগ করিতে পারিবেন:
তবে শর্ত থাকে যে, উক্তরূপ পদত্যাগ সত্ত্বেও পদত্যাগপত্র আনুষ্ঠানিকভাবে গৃহীত না হওয়া পর্যন্ত, রাষ্ট্রপতি প্রয়োজনে পদত্যাগকারী কর-ন্যায়পালকে তাঁহার দায়িত্ব পালনের অনুরোধ করিতে পারিবেন৷
(২) উপ-ধারা (৩) এর বিধান সাপেক্ষে, গুরুতর অসদাচরণের জন্য অথবা মানসিক বা শারীরিক অসামর্থের কারণে কর-ন্যায়পাল তাঁহার দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনে অক্ষম হইলে, রাষ্ট্রপতি কর-ন্যায়পালকে তাঁহার পদ হইতে অপসারণ করিতে পারিবেন৷
(৩) সুপ্রীম কোর্টের একজন বিচারক যেইরূপ পদ্ধতিতে অপসারিত হইতে পারেন সেইরূপ পদ্ধতি ব্যতীত কর-ন্যায়পালকে অপসারণ করা যাইবে না৷
৯৷ কোন সময় কর-ন্যায়পালের পদ শূন্য হইলে বা অনুপস্থিতি, অসুস্থতা বা অন্য কোন কারণে তিনি কার্যভার পালনে অক্ষম বলিয়া রাষ্ট্রপতির নিকট সন্তোষজনকভাবে প্রতীয়মান হইলে, ধারা ৪ এর অধীন একজন কর-ন্যায়পাল নিয়োগদান না করা পর্যন্ত বা, ক্ষেত্রমত, কর-ন্যায়পাল পুনরায় স্বীয় দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি কোন ব্যক্তিকে কর-ন্যায়পালরূপে কার্য করিবার জন্য এবং উক্ত পদের দায়িত্বভার পালনের জন্য নিয়োগদান করিতে পারিবেন৷
১০৷ কর্মাবসানের পর কর-ন্যায়পাল প্রজাতন্ত্রের কার্যে কোন লাভজনক পদে নিয়োগ লাভের যোগ্য হইবেন না৷
১১৷ (১) কর-ন্যায়পালের পদমর্যাদা হইবে সুপ্রীম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারকের পদমর্যাদার অনুরূপ৷
(২) কর-ন্যায়পালের পারিশ্রমিক, ভাতা এবং অন্যান্য সুবিধাদি সরকার কর্তৃক নির্ধারিত হইবে৷
(৩) কর-ন্যায়পালের কর্ম মেয়াদে উপ-ধারা (২) এর অধীন নির্ধারিত পারিশ্রমিক, ভাতা এবং অন্যান্য সুবিধাদির এমন তারতম্য করা যাইবে না, যাহা তাঁহার পক্ষে অসুবিধাজনক হইতে পারে৷
১২৷ (১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, কর-ন্যায়পাল তাঁহার কার্যালয়ের প্রধান নির্বাহী হইবেন৷
(২) উপ-ধারা (১) এর সামগ্রিকতার আওতায়, কর-ন্যায়পাল তাঁহার কার্যালয়ের অর্থ ব্যয় সম্পর্কে মুখ্য হিসাব কর্মকর্তা বলিয়া গণ্য হইবেন৷
১৩৷ (১) উপ-ধারা (২) এর বিধান সাপেক্ষে, কর-ন্যায়পাল কোন সংক্ষুব্ধ ব্যক্তির অভিযোগ, অথবা রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী, বা জাতীয় সংসদের রেফারেন্স, অথবা সুপ্রীম কোর্টের নির্দেশনাপ্রাপ্ত হইয়া অথবা স্বীয় বিবেচনাক্রমে বোর্ড বা কোন কর কর্মচারীর অপশাসনের অভিযোগ তদন্ত করিতে পারিবেন৷
(২) নিম্নবর্ণিত ক্ষেত্রসমূহে কর-ন্যায়পালের তদন্ত বা অনুসন্ধান করার কোন এখতিয়ার থাকিবে না, যথা:-
তবে শর্ত থাকে যে, অন্য কোন আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, আয় নিরূপন, কর বা শুল্কের দায় নির্ধারণ, পণ্যের শ্রেণীবিন্যাস বা মূল্যায়নের বিষয়ে কোন ব্যক্তি সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর অপশাসনের বিরুদ্ধে সরাসরি কর-ন্যায়পালের নিকট অভিযোগ দায়ের করিতে পারিবেন৷
(৩) উপ-ধারা (১) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কোন কর কর্মচারী কর্তৃক বা তাহার পক্ষে আনীত তাহার চাকুরী সংক্রান্ত বিষয়ে কোন অভিযোগ কর-ন্যায়পাল বিবেচনার জন্য গ্রহণ করিতে পারিবেন না৷
(৪) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, বিশেষ করিয়া, ন্যায়ভ্রষ্টতা, স্বেচ্ছাচারিতা, পক্ষপাতিত্ব বা বৈষম্যের কারণ নিরূপণার্থে কর-ন্যায়পাল, সময় সময়, সমীক্ষা বা গবেষণা করিতে পারিবেন, এবং সমীক্ষা বা গবেষণালব্ধ ফলাফলের ভিত্তিতে উক্তরূপ ন্যায়ভ্রষ্টতা, স্বেচ্ছাচার, পক্ষপাতিত্ব বা বৈষম্য দূরীকরণের জন্য অর্থমন্ত্রীর নিকট প্রয়োজনীয় সুপারিশ করিতে পারিবেন৷
১৪৷ এই আইনের অন্যান্য বিধান সাপেক্ষে, কর-ন্যায়পাল এই আইনের অধীন দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে স্বাধীন থাকিবেন৷
১৫৷ (১) কর-ন্যায়পালের সাংগঠনিক কাঠামো ও বাজেট সরকার কর্তৃক নির্ধারিত হইবে৷
(২) সরকার প্রতি বত্সর কর-ন্যায়পালের প্রয়োজনীয় ব্যয়ের জন্য যে বাজেট বরাদ্দ করিবে তাহা হইতে ব্যয় করার ক্ষেত্রে সরকারের পূর্বানুমোদন গ্রহণ করা কর-ন্যায়পালের জন্য আবশ্যক হইবে না৷
(৩) কর-ন্যায়পাল তত্কর্তৃক ব্যয়িত সকল অর্থের হিসাব সংরক্ষণ করিবেন এবং উক্ত হিসাব Comptroller and Auditor General (Additional Functions) Act, 1974 (XXIV of 1974) এর আওতাধীন একটি সংবিধিবদ্ধ সরকারী কর্তৃপক্ষ (Statutory Authority) হিসাবে মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের এখতিয়ারভুক্ত হইবে৷
১৬৷ (১) কর-ন্যায়পাল তাঁহার কার্যাবলী দক্ষতার সহিত সম্পাদনের নিমিত্তে প্রয়োজনীয় সংখ্যক কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ করিতে পারিবেন৷
(২) কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিয়োগসহ চাকুরীর অন্যান্য শর্তাবলী বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে৷
১৭৷ (১) কর-ন্যায়পাল এই আইনের অধীন তাঁহার দায়িত্ব পালনে তাঁহাকে সহায়তা করার জন্য বা তাঁহার উপর অর্পিত দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের নিমিত্ত, সম্মানী বা পারিশ্রমিকসহ বা ব্যতীত-
(২) কর-ন্যায়পাল উপ-ধারা (১) এর অধীন গঠিত পরিদর্শন টিম, উপদেষ্টা কমিটির সদস্য সংখ্যা ও উহার দায়িত্ব ও কর্মপরিধি নির্ধারণ করিতে পারিবেন৷
(৩) পরিদর্শন টিম পরিদর্শন কার্য-সম্পাদনের পর এবং উপদেষ্টা কমিটি উহার উপর অর্পিত দায়িত্ব সম্পাদনের পর সুপারিশসহ উহার প্রতিবেদন কর-ন্যায়পালের নিকট তত্কর্তৃক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাখিল করিবে৷
(৪) কর-ন্যায়পাল পরিদর্শন টিম বা উপদেষ্টা কমিটির সদস্যগণকে বা তত্কর্তৃক নিয়োজিত কোন বিশেষজ্ঞ, পরামর্শক ও অন্য কোন কর্মচারীকে প্রদত্ত সেবার জন্য সম্মানী বা, ক্ষেত্রমত, পারিশ্রমিক প্রদান করিতে পারিবেন৷
(৫) এই ধারার অধীন কোন উপদেষ্টা কমিটি গঠন করা হইলে কমিটি গঠনকারী আদেশে উহার দায়িত্ব, এখতিয়ার ও স্থানীয় অধিক্ষেত্র নির্ধারণ করিয়া দেওয়া যাইবে৷
১৮৷ (১) এই আইনের অধীন কোন অভিযোগ লিখিত হইতে হইবে এবং সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি বা, তাঁহার মৃত্যুর ক্ষেত্রে, তাঁহার আইনানুগ প্রতিনিধি কর্তৃক স্বাক্ষরিত ও কর-ন্যায়পালের উদ্দেশ্যে সম্বোধিত হইতে হইবে, যাহা কর-ন্যায়পালের নিকট অথবা তাঁহার কার্যালয়ে ব্যক্তিগতভাবে অথবা অন্য কোন মাধ্যমে জমা দেওয়া যাইবে৷
(২) কর-ন্যায়পাল কোন বেনামী বা ছদ্মনামযুক্ত অভিযোগপত্র গ্রহণ করিবেন না৷
(৩) অভিযোগে বর্ণিত বিষয় সম্পর্কে অবহিত হইবার অনূর্ধ্ব ৬ (ছয়) মাসের মধ্যে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তিকে অভিযোগ দায়ের করিতে হইবে:
তবে শর্ত থাকে যে, উক্তরূপ সময়সীমা উত্তীর্ণ হইবার পর কোন অভিযোগ দায়ের হইলে, কর-ন্যায়পালের নিকট যদি প্রতীয়মান হয় যে, নির্ধারিত তারিখের মধ্যে অভিযোগ দায়ের না করার যথাযথ কারণ ছিল, তাহা হইলে তিনি উক্তরূপ অভিযোগ দায়েরের ভিত্তিতে তদন্ত কার্য শুরু করিতে পারিবেন৷
(৪) কোন অভিযোগের ভিত্তিতে কর-ন্যায়পাল কোনরূপ তদন্ত পরিচালনার ইচ্ছাপোষণ করিলে তিনি অভিযুক্ত ব্যক্তিকে অভিযোগে বর্ণিত বিষয়ের জবাবদানের জন্য লিখিত নোটিশ প্রদান করিবেন এবং উক্ত নোটিশের একটি অনুলিপি অবগতির জন্য চেয়ারম্যানকে প্রদান করিবেন:
তবে শর্ত থাকে যে, বোর্ডের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগের তদন্তের ক্ষেত্রে, অভিযোগের বিষয়ে জবাব প্রদানের জন্য চেয়ারম্যানকে লিখিত নোটিশ প্রদান করিবেন৷
(৫) উপ-ধারা (৪) এর অধীন নোটিশ প্রাপ্তির ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে অভিযুক্ত ব্যক্তি বা, ক্ষেত্রমত, চেয়ারম্যান লিখিত জবাব প্রদান করিতে ব্যর্থ হইলে কর-ন্যায়পাল তদন্ত কার্য শুরু করিতে পারিবেন:
তবে শর্ত থাকে যে, এই ধারার অধীন জবাব দাখিলের জন্য অভিযুক্ত ব্যক্তি যুক্তিসঙ্গত কারণে সময় বৃদ্ধির লিখিত অনুরোধ করিলে উহা বিবেচনাক্রমে কর-ন্যায়পাল অতিরিক্ত ৩০ (ত্রিশ) দিন সময় বৃদ্ধি করিতে পারিবেন এবং উক্ত সময় অতিক্রান্ত হইলে কর-ন্যায়পাল তদন্ত কার্য শুরু করিতে পারিবেন৷
(৬) এই আইনের অন্যান্য বিধান সাপেক্ষে, সাধারণভাবে প্রতিটি তদন্ত গোপনে অনুষ্ঠিত হইবে; তবে কর-ন্যায়পাল, প্রয়োজনবোধে, প্রকাশ্যে তদন্ত পরিচালনা করিতে পারিবেন৷
(৭) কর-ন্যায়পাল উপ-ধারা (৬) এর অধীন তদন্ত অনুষ্ঠানের পদ্ধতি নির্ধারণ করিবেন এবং তদন্ত অনুষ্ঠানের জন্য যেইরূপ অনুসন্ধানের প্রয়োজন মনে করিবেন সেইরূপ অনুসন্ধান করিতে পারিবেন৷
(৮) তদন্তের প্রয়োজনে কোন ব্যক্তিকে উপস্থিতির জন্য কর-ন্যায়পাল কর্তৃক নোটিশ প্রদান করা হইলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি স্বয়ং অথবা তাহার নিকট হইতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রতিনিধির মাধ্যমে কর-ন্যায়পালের নিকট উপস্থিত হইতে পারিবেন৷
(৯) কর-ন্যায়পাল কোন তদন্ত পরিচালনার প্রয়োজনে কোন ব্যক্তিকে কোন কার্যধারায় উপস্থিতি বা কোন তথ্য সরবরাহের জন্য নির্ধারিত যাতায়াত ভাতা ও আনুষঙ্গিক অন্যান্য ব্যয় বাবদ প্রয়োজনীয় খরচ প্রদান করিতে পারিবেন৷
(১০) এই আইনের অধীন পরিচালিত কোন তদন্ত-
(১১) এই আইনের অধীন কোন তদন্তের উদ্দেশ্যে, কর-ন্যায়পাল যে কোন কর কর্মচারীকে প্রাসঙ্গিক ও সহায়ক যে কোন তথ্য সরবরাহ বা যে কোন দলিল পেশ করার নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবেন এবং উক্তরূপে সরবরাহকৃত বা পেশকৃত সকল তথ্য বা দলিল গোপনীয় হিসাবে বিবেচিত হইবে৷
(১২) যেইক্ষেত্রে কর-ন্যায়পাল তদন্ত পরিচালনা না করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন, সেইক্ষেত্রে তিনি অভিযোগকারীর নিকট তদন্ত পরিচালনা না করার কারণ সম্বলিত বক্তব্য প্রেরণ করিবেন এবং উহার একটি অনুলিপি অবগতির জন্য চেয়ারম্যানকে প্রদান করিবেন৷
(১৩) কার্য পরিচালনার জন্য অন্তর্ভু্ক্ত করা হইয়াছে এমন ব্যবস্থায় অতিরিক্ত কার্য পরিচালনা পদ্ধতি বা ক্ষমতার প্রয়োজন হইলে কর-ন্যায়পাল উক্ত কার্য পরিচালনা পদ্ধতি বা ক্ষমতা প্রয়োগ করিতে পারিবেন৷
১৯৷ (১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, কার্যালয়ের লিখিত সমন বা যোগাযোগ কোন পক্ষ বা ব্যক্তির উপর, অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে, নিম্নবর্ণিত এক বা একাধিক পদ্ধতিতে জারী করা হইলে উহা জারী হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে, যথা:-
(২) জারী সংক্রান্ত বিষয়ে প্রমাণের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট পক্ষের উপর বর্তাইবে; তিনি পর্যাপ্ত কারণসহ বিশ্বস্ততার সহিত প্রমাণ করিবেন যে, প্রকৃতপক্ষে সমন জারী সম্পর্কে তাহার আদৌ কোন জ্ঞান ছিল না এবং তিনি প্রকৃতই সরল বিশ্বাসে কাজ করিয়াছেন৷
(৩) যখনই কার্যালয় হইতে কোন দলিল বা সমন ডাকযোগে প্রেরণ করা হইবে, তখন সংশ্লিষ্ট খাম বা প্যাকেটের গায়ে স্পষ্টরূপে লিখিত থাকিবে যে, উহা কার্যালয় হইতে প্রেরিত হইয়াছে৷
২০৷ (১) কর-ন্যায়পাল কোন বিষয়ে যথাযথ তদন্তের ভিত্তিতে যদি এই মর্মে অভিমত পোষণ করেন যে, উহাতে অপশাসন হইয়াছে বা অপশাসনের মাধ্যমে কোন কার্য সম্পাদিত হইয়াছে, তাহা হইলে তিনি তদন্ত সমাপ্তির ১৫ (পনের) দিনের মধ্যে তাঁহার সুপারিশ বোর্ডকে লিখিতভাবে অবহিত করিবেন৷
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন সুপারিশ প্রাপ্তির ৬০ (ষাট) দিনের মধ্যে বোর্ড উক্ত সুপারিশ-
(৩) যেইক্ষেত্রে কর-ন্যায়পাল কোন অভিযোগ, অথবা রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী বা জাতীয় সংসদ কর্তৃক প্রেরিত কোন রেফারেন্স, অথবা সুপ্রীম কোর্টের কোন নির্দেশনার প্রেক্ষিতে কোন বিষয় বিবেচনা করিয়াছেন বা তদন্ত পরিচালনা করিয়াছেন, সেইক্ষেত্রে কর-ন্যায়পাল উপ-ধারা (২) অনুসারে বোর্ডের নিকট হইতে প্রাপ্ত তথ্য সম্পর্কে অভিযোগকারী অথবা, ক্ষেত্রমত, রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী, জাতীয় সংসদ বা সুপ্রীম কোর্টকে অবহিত করিবেন৷
(৪) উপ-ধারা (২) এ নির্ধারিত মেয়াদের মধ্যে কর-ন্যায়পাল যদি বিষয়টি সম্পর্কে কোন তথ্য প্রাপ্ত না হন, তাহা হইলে তিনি উহা অর্থমন্ত্রীকে অবহিত করিতে পারিবেন এবং তিনি যেইরূপ উপযুক্ত মনে করিবেন সেইরূপ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবেন৷
(৫) উপ-ধারা (৪) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কোন তদন্তের পর যদি কর-ন্যায়পালের নিকট প্রতীয়মান হয় যে, অপশাসনের ফলে কোন সংক্ষুব্ধ ব্যক্তির প্রতি অবিচার করা হইয়াছে এবং উক্ত অবিচারের প্রতিকার করা হয় নাই বা হইবে না, তাহা হইলে তিনি, উপযুক্ত মনে করিলে, অর্থমন্ত্রীর নিকট বিষয়টির উপর একটি বিশেষ প্রতিবেদন উপস্থাপন করিতে পারিবেন৷
(৬) যদি বোর্ড কর-ন্যায়পালের সুপারিশ বাস্তবায়ন না করে অথবা বাস্তবায়ন না করার কারণ কর-ন্যায়পালকে তাঁহার সন্তোষানুযায়ী জ্ঞাপন না করে, তাহা হইলে উক্ত অবাস্তবায়নের বিষয় সম্পর্কে ধারা ২১ এর বিধান অনুসারে ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাইবে৷
২১৷ (১) কর-ন্যায়পালের কোন সুপারিশ বাস্তবায়নের দায়িত্ব-
তবে শর্ত থাকে যে, এই দফার অধীন ব্যক্তিগতভাবে কোন কর কর্মচারীকে দায়ী করার পূর্বে তাহাকে প্রয়োজনীয় শুনানীর সুযোগ প্রদান করিতে হইবে৷
(২) কর-ন্যায়পালের কোন সুপারিশ বাস্তবায়ন না হইলে তিনি বিষয়টি অর্থমন্ত্রীকে অবহিত করিতে পারিবেন এবং উক্তরূপে অবহিত হইলে, তিনি-
২২৷ (১) এই আইনের অধীন কোন অভিযোগ তদন্তের ক্ষেত্রে কর-ন্যায়পাল বা তত্কর্তৃক এতদুদ্দেশ্যে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন ব্যক্তির নিম্নরূপ ক্ষমতা থাকিবে, যথা:-
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষেত্রে, কর-ন্যায়পাল (Code of Civil Procedure, 1908 (V of 1908) এর অধীন দেওয়ানী আদালতের ক্ষমতা প্রয়োগ করিতে পারিবেন৷
(৩) কর-ন্যায়পাল তদন্তাধীন কোন বিষয়ের সহায়ক বা প্রাসঙ্গিক হইতে পারে, এইরূপ কোন বিষয়ে তথ্য সরবরাহ করিবার জন্য যে কোন ব্যক্তিকে নির্দেশ দিতে পারিবেন; এবং অনুরূপভাবে নির্দেশিত ব্যক্তি তাহার হেফাজতে রক্ষিত উক্তরূপ তথ্যাদি সরবরাহ করিতে বাধ্য থাকিবেন৷
(৪) এই ধারার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, বোর্ড বা কোন কর কর্মচারী কর-ন্যায়পালের কোন আদেশ পালনে ব্যর্থ হইলে এইরূপ আদেশ অমান্যকারী-
(৫) উপ-ধারা (৪) এর অধীন কর-ন্যায়পালের নির্দেশ পালনে ব্যর্থ ব্যক্তি বা কর কর্মচারীর বিরুদ্ধে কর-ন্যায়পাল শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর-কর্মচারীর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট প্রেরণ করিতে পারিবেন৷
(৬) উপ-ধারা (১) এ বর্ণিত ক্ষমতাসমূহ এই আইনের বিধানাবলীর অধীন তদন্ত পরিচালনার সময় কর-ন্যায়পালের নিকট হইতে এতদুদ্দেশ্যে লিখিতভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত যে কোন ব্যক্তি কর্তৃক প্রয়োগ করা যাইবে৷
(৭) যে ক্ষেত্রে কর-ন্যায়পাল সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে, ধারা ১৩ এর উপ-ধারা (১) এ বর্ণিত অভিযোগ মিথ্যা, অসার ও হয়রানিমূলক, সেইক্ষেত্রে তিনি জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বা সেই কর কর্মচারী যাহার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনীত হইয়াছে এর অনুকূলে যুক্তিসঙ্গত ক্ষতিপূরণ প্রদানের নির্দেশ দান করিতে পারিবেন; উক্ত ক্ষতিপূরণের অর্থ অভিযোগকারীর নিকট হইতে বকেয়া ভূমি রাজস্ব হিসাবে আদায়যোগ্য হইবে:
তবে শর্ত থাকে যে, এই উপ-ধারার অধীন ক্ষতিপূরণের আদেশ সংক্ষুব্ধ ব্যক্তির দেওয়ানী ও ফৌজদারী প্রতিকার প্রার্থনায় বাধা হইবে না৷
(৮) যদি কর-ন্যায়পালের যুক্তিসঙ্গতভাবে বিশ্বাস করিবার কারণ থাকে যে, কোন কর কর্মচারী এইরূপ আচরণ করিয়াছেন যাহার কারণে তাহার বিরুদ্ধে ফৌজদারী বা শৃঙ্খলামূলক কার্যক্রম গ্রহণ অত্যাবশ্যক, তাহা হইলে তিনি বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর-কর্মচারীর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রেরণ করিতে পারিবেন এবং কর-ন্যায়পালের সুপারিশ অনুযায়ী উক্ত কর্তৃপক্ষ উক্ত বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করিবে৷
(৯) কর-ন্যায়পাল এই আইনের উদ্দেশ্যে শপথপাঠ পরিচালনা এবং এই আইনের অধীন সকল কার্যধারায় সাক্ষ্য হিসাবে গ্রহণযোগ্য বিভিন্ন হলফনামা বা ঘোষণা সত্যায়নের জন্য কোন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে ক্ষমতা প্রদান করিতে পারিবেন৷
(১০) কর-ন্যায়পাল কর্তৃক গৃহীত যে কোন সিদ্ধান্ত বা সুপারিশ অথবা প্রদত্ত যে কোন আদেশ সংক্ষুব্ধ ব্যক্তির আবেদনক্রমে স্বীয় উদ্যোগে পুনর্বিবেচনা করিতে পারিবেন:
তবে শর্ত থাকে যে, উক্তরূপ সিদ্ধান্ত, সুপারিশ বা আদেশ প্রদানের ৬০ (ষাট) দিন উত্তীর্ণ হইবার পর সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি কর্তৃক দাখিলকৃত কোন আবেদন পুনর্বিবেচনাযোগ্য হইবে না৷
২৩৷ (১) এই আইনের অধীন তদন্ত পরিচালনা ও সুপারিশ প্রদানের জন্য রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী, জাতীয় সংসদ কর্তৃক প্রতিটি অভিযোগ বা অন্য কোন বিষয় রেফারেন্স আকারে কর-ন্যায়পালের নিকট প্রেরণ করিতে হইবে৷
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন কোন রেফারেন্স প্রেরিত হইলে কর-ন্যায়পাল উক্ত অভিযোগ বা বিষয়ে দ্রুত তদন্ত পরিচালনা করিবেন এবং যুক্তিসঙ্গত সময়ের মধ্যে তাঁহার সুপারিশ রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী, বা জাতীয় সংসদের নিকট প্রেরণ করিবেন৷
২৪৷ (১) এই আইনের অধীন অপশাসনের অভিযোগ তদন্ত পরিচালনার উদ্দেশ্যে যদি কর-ন্যায়পাল বা তত্কর্তৃক এতদুদ্দেশ্যে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন কর্মকর্তার এইরূপ বিশ্বাস করিবার যুক্তিসঙ্গত কোন কারণ থাকে যে, কোন গৃহ, অঙ্গণ বা স্থানে কোন সামগ্রী, হিসাব-বহি বা দলিলপত্র পাওয়া যাইতে পারে, তাহা হইলে কর-ন্যায়পাল বা, ক্ষেত্রমত, উক্ত কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট অভিযুক্ত ব্যক্তির গৃহে, অঙ্গণ বা স্থানে, নিম্নবর্ণিত কার্যাদি সম্পন্নের নিমিত্ত, প্রবেশ করিতে পারিবেন-
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন প্রবেশ, তল্লাশী, জব্দ, পরীক্ষার ক্ষেত্রে, Code of Criminal Procedure, 1898 (V of 1898) এর বিধানাবলী প্রযোজ্য হইবে৷
২৫৷ কর-ন্যায়পালের কোন সুপারিশ দ্বারা জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বা কোন ব্যক্তি সংক্ষুব্ধ হইলে, উক্ত বোর্ড বা ব্যক্তি সুপারিশ প্রদানের ৬০ (ষাট) দিনের মধ্যে যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে অর্থমন্ত্রীর নিকট আবেদন করিতে পারিবেন এবং তিনি উক্ত আবেদনের উপর স্বীয় বিবেচনায় যথাযথ আদেশ প্রদান করিবে৷
২৬৷ (১) কর-ন্যায়পাল, প্রয়োজনবোধে এবং তত্কর্তৃক নির্ধারিত শর্ত সাপেক্ষে, এই আইনের অধীন তাঁহার উপর অর্পিত যে কোন ক্ষমতা বা দায়িত্ব, লিখিত আদেশ দ্বারা, কার্যালয়ের যে কোন কর্মকর্তা বা সংশ্লিষ্ট অন্য কোন ব্যক্তিকে অর্পণ করিতে পারিবেন৷
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বা ব্যক্তি তাহার উপর অর্পিত কোন নির্দিষ্ট দায়িত্ব সম্পাদনের পর তত্সম্পর্কে সুপারিশসহ একটি প্রতিবেদন কর-ন্যায়পালের নিকট দাখিল করিবেন৷
২৭৷ (১) কর-ন্যায়পাল সমীচীন মনে করিলে তিনি যে কোন সরকারী কর্মচারী বা কোন সংবিধিবদ্ধ সংস্থার কর্মচারীকে, তাহার নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সম্মতিক্রমে, কর-ন্যায়পালের এখতিয়ারাধীন কোন বিষয়ে ধারা ২২ এর উপ-ধারা (১), (২) বা (৩) এর অধীন স্বীয় কার্য সম্পাদনের জন্য ক্ষমতা প্রদান করিতে পারিবেন, এবং উক্তরূপ ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মচারীর দায়িত্ব হইবে কর-ন্যায়পাল ও উক্ত কর্তৃপক্ষের পারস্পরিক সম্মত শর্তাধীনে উক্ত কার্য সম্পাদন করা৷
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তি কর-ন্যায়পালের অন্যান্য কর্মচারীর অনুরূপ কর-ন্যায়পালের নিয়ন্ত্রণাধীন থাকিবেন, তবে তাঁহার বিরুদ্ধে কোন শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রশ্ন দেখা দিলে সংশ্লিষ্ট তথ্যাদিসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিষয়টি উক্ত ব্যক্তির মূল নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের নিকট প্রেরণ করিতে হইবে৷
২৮৷ (১) বোর্ড বা কোন কর-কর্মচারীর স্বেচ্ছাকৃত অপশাসনের কারণে কোন ব্যক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হইলে উক্ত ক্ষতির জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ক্ষতিপূরণ প্রদান করিবার জন্য কর-ন্যায়পাল, কারণ দর্শানো নোটিশ জারীর ৭ (সাত) দিনের মধ্যে বা তত্কর্তৃক নির্ধারিত অন্য কোন সময়ের মধ্যে, বোর্ড বা উক্ত কর-কর্মচারীকে কারণ দর্শানোর জন্য নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবেন৷
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন কারণ দর্শানোর প্রেক্ষিতে কোন কর-কর্মচারী বা বোর্ড কর্তৃক কোন জবাব দাখিলকৃত হইলে, কর-ন্যায়পাল উক্ত জবাব বিবেচনান্তে বোর্ড বা উক্ত কর-কর্মচারীর শুনানী গ্রহণের পর যুক্তিসঙ্গত খরচ বাবদ অর্থ পরিশোধ বা ক্ষতিপূরণ প্রদানের নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবেন৷
(৩) কোন কর-কর্মচারী বা তাহার পক্ষে অন্য কোন ব্যক্তি কর্তৃক উত্কোচ গ্রহণ বা অর্থ আত্মসাত্, বিশ্বাস ভঙ্গ বা প্রতারণা সংক্রান্ত ক্ষেত্রসমূহে কর-ন্যায়পাল উক্ত অর্থ সরকারের অনুকূলে জমা দেওয়ার নির্দেশ প্রদান অথবা তিনি যেইরূপ উপযুক্ত মনে করিবেন সেইরূপ অন্য কোন নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবেন৷
(৪) উপ-ধারা (৩) এর অধীন কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রদত্ত কোন নির্দেশ উক্ত ব্যক্তিকে অন্য কোন আইনের অধীন কোন দায়-দায়িত্ব হইতে মুক্ত (absolve) করিবে না৷
২৯৷ (১) এই আইনের অধীন কোন ক্ষমতা প্রয়োগ বা কার্য সম্পাদনের উদ্দেশ্যে কর-ন্যায়পাল যে কোন ব্যক্তি বা অন্য কোন সরকারী বা সংবিধিবদ্ধ কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের জন্য অনুরোধ করিতে পারিবেন৷
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন কোন অনুরোধ করা হইলে উক্ত ব্যক্তি বা কর্তৃপক্ষ তাহাদের ক্ষমতা ও সাধ্যানুযায়ী প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করিবে৷
৩০৷ (১) কর-ন্যায়পাল কোন অভিযোগকারীকে, অথবা কোন অভিযোগ বা তদন্ত বা রেফারেন্সের সহিত সম্পর্কিত বা সংশ্লিষ্ট কোন পক্ষকে, কর-ন্যায়পাল বা কোন কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্তৃক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে, তদুদ্দেশ্যে কোন উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের নিকট সত্যায়িত বা নোটারিকৃত হলফনামা দাখিলের নির্দেশদান করিতে পারিবেন৷
(২) ধারা ২২ এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কর-ন্যায়পাল-
৩১৷ (১) প্রত্যেক খ্রীষ্টীয় পঞ্জিকা বত্সর সমাপ্ত হইবার তিন মাসের মধ্যে কর-ন্যায়পাল রাষ্ট্রপতির নিকট বাত্সরিক প্রতিবেদন পেশ করিবেন এবং রাষ্ট্রপতি উহা সংসদে উপস্থাপনের ব্যবস্থা করিবেন৷
(২) অর্থমন্ত্রী কার্য সম্পাদন সংক্রান্ত সুনির্দ্দিষ্ট কোন বিষয়ে প্রতিবেদন প্রদানের জন্য কর-ন্যায়পালকে অনুরোধ করিলে বা কর-ন্যায়পাল কোন প্রতিবেদন প্রদান করা সমীচীন বলিয়া মনে করিলে, তিনি অর্থমন্ত্রীর নিকট উক্তরূপ প্রতিবেদন পেশ করিতে পারিবেন৷
(৩) উপ-ধারা (১) এর অধীন কোন প্রতিবেদন পেশ করা হইলে, কর-ন্যায়পাল উক্ত প্রতিবেদন জনসমক্ষে প্রকাশের ব্যবস্থা করিবেন এবং যুক্তিসংগত মূল্যে উহা জনগণের প্রাপ্তিসাধ্য করিবেন৷
(৪) কর-ন্যায়পাল, অর্থমন্ত্রীর সহিত পরামর্শক্রমে, তাঁহার কার্যালয় কর্তৃক কৃত যে কোন বিষয়ে সমীক্ষা, সিদ্ধান্ত, ফলাফল, সুপারিশ, ধীকল্প (idea) বা পরামর্শ জনসমক্ষে প্রকাশের ব্যবস্থা করিতে পারিবেন৷
৩২৷ আপাততঃ বলবত্ অন্য কোন আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কার্য সম্পাদনের প্রয়োজনে কর-ন্যায়পালকে প্রদত্ত ব্যতিক্রমী সেবা বা বিশেষ সহায়তার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে কর-ন্যায়পাল, স্বীয় বিবেচনায়, পুরস্কৃত করিতে পারিবেন:
তবে শর্ত থাকে যে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অনুরোধে কর-ন্যায়পাল উক্ত ব্যক্তির পরিচয় গোপন রাখিবেন, এবং উক্ত ব্যক্তিকে হয়রানী, দুর্ব্যবহার বা অপদস্ত হওয়ার হাত হইতে রক্ষার উদ্দেশ্যে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করিবেন৷
৩৩৷ এই আইনের অধীন কৃত বা কৃত বলিয়া গণ্য কোন কার্য, গৃহীত কোন ব্যবস্থা, প্রদত্ত কোন আদেশ বা নির্দেশের বৈধতা সম্পর্কে কোন আদালতের নিকট প্রশ্ন উত্থাপন করা যাইবে না৷
৩৪৷ এই আইন বা তদধীন প্রণীত বিধি বা প্রবিধানের অধীন দায়িত্ব পালন কালে সরল বিশ্বাসে কৃত বা বলিয়া বিবেচিত কোন কাজের ফলে কোন ব্যক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হইলে বা ক্ষতিগ্রস্ত হইবার সম্ভাবনা থাকিলে তদজন্য কর-ন্যায়পাল, কর-ন্যায়পালের প্রতিনিধি বা তাঁহার নিকট হইতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন ব্যক্তি, অথবা কর-ন্যায়পালের কর্মকর্তা ও কর্মচারীর বিরুদ্ধে দেওয়ানী বা ফৌজদারী মামলা বা অন্য কোন কার্যক্রম গ্রহণ করা যাইবে না৷
৩৫৷ এই আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কোন অভিযোগ লিপিবদ্ধকরণ বা কোন পক্ষকে আনুষ্ঠানিক নোটিশ প্রদান ব্যতিরেকে কর-ন্যায়পাল বা তত্কর্তৃক এতদুদ্দেশ্যে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন কর্মকর্তা-কর্মচারীগণের সালিশ, আপোষ-মীমাংসা বা অন্য কোন বিকল্প পদ্ধতিতে কোন উদ্ভুত বিরোধ নিষ্পন্ন করার ক্ষমতা থাকিবে৷
৩৬৷ কর-ন্যায়পাল, কর্মকর্তা-কর্মচারী, পরামর্শক, বিশেষজ্ঞ, উপদেষ্টা কমিটির সদস্য এবং কর-ন্যায়পালের ক্ষমতা প্রয়োগের বা দায়িত্ব সম্পাদনের জন্য কর-ন্যায়পালের নিকট হইতে লিখিতভাবে ক্ষমতা বা দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি Penal Code (Act XLV of 1860) এর Section 21 এ বর্ণিত Public Servant বা জনসেবক বলিয়া গণ্য হইবে৷
৩৭৷ কর-ন্যায়পালকে দেয় পারিশ্রমিক এবং উপযুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী, প্রতিনিধি ও গ্রহীতাকে দেয় পারিশ্রমিকসহ কার্যালয়ের প্রশাসনিক ব্যয়সমূহ সংযুক্ত তহবিলের উপর দায়যুক্ত ব্যয় হইবে৷
৩৮৷ এই আইনের উদ্দেশ্যপূরণকল্পে, কর-ন্যায়পাল, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে ও সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবেন৷
৩৯৷ এই আইনের মূল পাঠ বাংলাতে হইবে এবং ইংরেজীতে অনূদিত উহার একটি নির্ভরযোগ্য পাঠ থাকিবে এবং উক্ত ইংরেজী পাঠ সরকার, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, প্রকাশ করিবে:
তবে শর্ত থাকে যে, বাংলা ও ইংরেজী পাঠের মধ্যে বিরোধের ক্ষেত্রে বাংলা পাঠ প্রাধান্য পাইবে৷