বাংলাদেশে ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম পরিচালনাকারী ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করণার্থ ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রমের দক্ষ নিয়ন্ত্রণের নিমিত্ত একটি কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা এবং আনুষঙ্গিক বিষয়াদি সম্পর্র্কে বিধান প্রণয়নকল্পে প্রণীত আইন যেহেতু বাংলাদেশে ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম পরিচালনাকারী ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করণার্থ ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রমের দক্ষ নিয়ন্ত্রণের নিমিত্ত একটি কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা এবং আনুষঙ্গিক বিষয়াদি সম্পর্কে বিধান করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়; সেহেতু এতদদ্বারা নিম্নরূপ আইন করা হইলঃ-
১৷ (১) এই আইন মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরী অথরিটি আইন, ২০০৬ নামে অভিহিত হইবে।
(২) সমগ্র বাংলাদেশে এই আইনের প্রয়োগ হইবে।
(৩) সরকার, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, যে তারিখ নির্ধারণ করিবে সেই তারিখে এই আইন কার্যকর হইবে।
* এস, আর, ও নং ২০৮-আইন/২০০৬, তারিখ: ২৭ আগস্ট, ২০০৬ ইং দ্বারা ১২ ভাদ্র, ১৪১৩ বঙ্গাব্দ মোতাবেক ২৭ আগস্ট, ২০০৬ খ্রিস্টাব্দ উক্ত আইন কার্যকর হইয়াছে।
২৷ বিষয় বা প্রসংগের পরিপন্থী কোন কিছু না থাকিলে, এই আইনে-
(১) “অর্থায়নকারী সংস্থা” অর্থ কোন ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানকে ঋণ বা অনুদান প্রদানকারী সরকারী বা বেসরকারী দেশী বা বিদেশী সংস্থা;
(২) “আমানত” অর্থ ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের সদস্য বা গ্রাহক কর্তৃক রক্ষিত কোন জমা যাহা দাবীর ভিত্তিতে বা অন্যভাবে পরিশোধযোগ্য;
(৩) “আমানতকারী” অর্থ এমন কোন ব্যক্তি যাহার নামে ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠান আমানত গ্রহণ ও ধারণ করে;
(৪) “এক্সিকিউটিভ ভাইস-চেয়ারম্যান” অর্থ ধারা ১০ এর অধীন নিযুক্ত এক্সিকিউটিভ ভাইস-চেয়ারম্যান;
(৫) “কর্তৃপক্ষ” অর্থ ধারা ৪ এর অধীন প্রতিষ্ঠিত মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরী অথরিটি;
(৬) “গঠনতন্ত্র” অর্থ কোন ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের গঠন, উহার লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও পরিচালনা সংক্রান্ত মূল দলিল, যে নামেই অভিহিত হউক না কেন;
(৭) “গ্রাহক” অর্থ এমন কোন ব্যক্তি যিনি কোন ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠান হইতে সেবা গ্রহণ করেন;
(৮) “চেয়ারম্যান” অর্থ পরিচালনা বোর্ডের চেয়ারম্যান;
(৯) “তহবিল” অর্থ ধারা ১২ এর অধীন গঠিত কর্তৃপক্ষের তহবিল;
(১০) “দরিদ্র” অর্থ ভূমিহীন বা বিত্তহীন এমন কোন ব্যক্তি এবং নির্ধারিত কোন ব্যক্তিও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে;
(১১) “নির্ধারিত” অর্থ বিধি দ্বারা নির্ধারিত;
(১২) “পরিচালনা পর্ষদ” অর্থ ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদ;
(১৩) “পরিচালনা বোর্ড” অর্থ কর্তৃপক্ষের পরিচালনা বোর্ড;
(১৪) “ফৌজদারী কার্যবিধি” অর্থ Code of Criminal Procedure, 1898 (Act No. V of 1898);
(১৫) “বিত্তহীন” অর্থ যাহার দৈনিক আয় নির্ধারিত দৈনিক আয়ের বেশী নহে বা যাহার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির বাজার মূল্য নির্ধারিত পরিমাণ জমির প্রচলিত বাজার মূল্যের কম;
(১৬) “বিধি” অর্থ এই আইনের অধীন প্রণীত বিধি;
(১৭) “ভূমিহীন” অর্থ যাহার আবাদযোগ্য মোট জমির পরিমাণ নির্ধারিত পরিমাণের কম;
(১৮) “সদস্য” অর্থ পরিচালনা বোর্ডের সদস্য;
(১৯) “সনদ” অর্থ ধারা ১৫ এর অধীন প্রদত্ত সনদ;
(২০) “সার্ভিস চার্জ” অর্থ কোন ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের নিকট হইতে উহার ঋণগ্রহীতা কর্তৃক গৃহীত নির্দিষ্ট মেয়াদের ঋণের জন্য উক্ত প্রতিষ্ঠানকে প্রদেয় পূর্ব নির্ধারিত হারের আর্থিক বিনিময় মূল্য;
(২১) “ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠান” অর্থ এই আইনের অধীন ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সনদপ্রাপ্ত কোন ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠান, যে নামেই অভিহিত হউক না কেন, যাহা-
এর অধীন নিবন্ধিত কোন ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠান;
(২২) “ক্ষুদ্রঋণ” অর্থ এই আইনের অধীন সনদপ্রাপ্ত ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠান কর্তৃক দারিদ্র্য- বিমোচন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাকে সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে প্রদত্ত ঋণ সুবিধা৷
৩৷ আপাততঃ বলবত্ অন্য কোন আইনে ভিন্নতর যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইনের বিধানাবলী কার্যকর হইবে৷
৪৷ (১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরী অথরিটি নামে একটি কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠিত হইবে৷
(২) কর্তৃপক্ষ একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা হইবে, ইহার স্থায়ী ধারাবাহিকতা ও একটি সাধারণ সীলমোহর থাকিবে এবং এই আইনের বিধান সাপেক্ষে, স্থাবর ও অস্থাবর উভয় প্রকার সম্পত্তি অর্জন করিবার, অধিকারে রাখিবার ও হস্তান্তর করিবার, চুক্তি সম্পাদন ও অন্যান্য কার্য সম্পাদন করিবার ক্ষমতা ও উদ্যোগ গ্রহণের অধিকার এই কর্তৃপক্ষের থাকিবে, এবং ইহার নামে ইহা মামলা দায়ের করিতে পারিবে এবং ইহার বিরুদ্ধেও মামলা দায়ের করা যাইবে৷
৫৷ কর্তৃপক্ষের বিষয়াদি ও কার্যাবলীর সাধারণ পরিচালনা ও প্রশাসন একটি পরিচালনা বোর্ডের উপর ন্যস্ত থাকিবে এবং কর্তৃপক্ষ যে সকল ক্ষমতা প্রয়োগ ও কার্য সম্পাদন করিতে পারিবে পরিচালনা বোর্ডও সেই সকল ক্ষমতা প্রয়োগ ও কার্য সম্পাদন করিতে পারিবে৷
৬৷ (১) কর্তৃপক্ষের একটি পরিচালনা বোর্ড থাকিবে, যাহা নিম্নবর্ণিত সদস্য সমন্বয়ে গঠিত হইবে, যথাঃ-
(২) মনোনীত সদস্যগণ তাহার নিয়োগের তারিখ হইতে সাধারণভাবে তিন বত্সর মেয়াদে স্বীয় পদে বহাল থাকিবেনঃ
তবে শর্ত থাকে যে, কোন সদস্যের পদের মেয়াদ শেষ হওয়া সত্ত্বেও তিনি তাহার উত্তরাধিকারী নিযুক্ত হইয়া কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত স্বীয় পদে বহাল থাকিবেন৷
(৩) উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত সরকারী কর্মকর্তা ব্যতীত যে কোন মনোনীত সদস্য চেয়ারম্যানের উদ্দেশ্যে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে স্বীয় পদ ত্যাগ করিতে পারিবেন৷
(৪) পরিচালনা বোর্ড গঠনে কোন শূন্যতা রহিয়াছে শুধুমাত্র এই কারণে পরিচালনা বোর্ডের কোন কার্য বা কার্যধারা বেআইনী হইবে না বা তত্সম্পর্কে কোন প্রশ্ন উত্থাপন করা যাইবে না৷
৭৷ কর্তৃপক্ষের প্রধান কার্যালয় ঢাকায় থাকিবে, তবে কর্তৃপক্ষ প্রয়োজন মনে করিলে, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, বাংলাদেশের অন্য যে কোন স্থানে উহার শাখা কার্যালয় স্থাপন করিতে পারিবে৷
৮৷ (১) এই ধারার অন্যান্য বিধানাবলী সাপেক্ষে, পরিচালনা বোর্ড উহার সভার কার্যপদ্ধতি নির্ধারণ করিবে৷
(২) চেয়ারম্যানের সহিত পরামর্শক্রমে পরিচালনা বোর্ডের সদস্য-সচিব পরিচালনা বোর্ডের সভা আহ্বান করিবেন৷
(৩) পরিচালনা বোর্ডের সকল সভায় চেয়ারম্যান সভাপতিত্ব করিবেন৷
(৪) সভা সংক্রান্ত অন্যান্য বিষয়সমূহ বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে৷
৯৷ কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব ও কার্যাবলী হইবে নিম্নরূপ, যথাঃ-
১০৷ (১) কর্তৃপক্ষের একজন এক্সিকিউটিভ ভাইস-চেয়ারম্যান থাকিবেন, যিনি সরকার কর্তৃক নিযুক্ত অন্যুন যুগ্ম-সচিব পদমর্যাদাসম্পন্ন হইবেন৷
(২) এক্সিকিউটিভ ভাইস-চেয়ারম্যানের চাকুরীর শর্তাবলী সরকার কর্তৃক নির্ধারিত হইবে৷
(৩) এক্সিকিউটিভ ভাইস-চেয়ারম্যান কর্তৃপক্ষের প্রধান নির্বাহী হইবেন এবং তিনি পরিচালনা বোর্ডের সকল সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য দায়ী থাকিবেন এবং পরিচালনা বোর্ডের নির্দেশ মোতাবেক কর্তৃপক্ষের অন্যান্য কার্য সম্পাদন করিবেন৷
১১৷ কর্তৃপক্ষের কার্যাবলী সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের উদ্দেশ্যে, কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় সংখ্যক কর্মকর্তা, উপদেষ্টা, বিশেষজ্ঞ এবং কোন কর্মচারী নিয়োগ করিতে পারিবে এবং তাহাদের চাকুরীর শর্তাবলী পরিচালনা বোর্ড কর্তৃক স্থিরিকৃত হইবে৷
১২৷ (১) কর্তৃপক্ষের একটি তহবিল থাকিবে, এবং উহাতে নিম্নবর্ণিত অর্থ জমা হইবে-
(২) পরিচালনা বোর্ডের অনুমোদনক্রমে তহবিলের সকল অর্থ কোন তফসিলি ব্যাংকে কর্তৃপক্ষের নামে রাখা হইবে এবং নির্ধারিত পদ্ধতিতে তহবিল পরিচালনা করা হইবে৷
(৩) এই আইনের অধীন সম্পাদিতব্য কার্যাবলীর এবং কর্তৃপক্ষের উদ্দেশ্য সাধন ও উন্নয়ন ব্যয় নির্বাহের জন্য উক্ত তহবিলের অর্থ ব্যবহৃত হইবেঃ
তবে শর্ত থাকে যে, তহবিলের অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে সরকারের নিয়মনীতি ও বিধি-বিধান, যদি থাকে, অনুসরণ করিতে হইবে৷
ব্যাখ্যাঃ “তফসিলি ব্যাংক” বলিতে Bangladesh Bank Order, 1972(P. O. No. 127 of 1972) এর Article 2(J) তে সংজ্ঞায়িত Scheduled Bank কে বুঝাইবে৷
১৩৷ কর্তৃপক্ষ প্রতি অর্থ বত্সর সমাপ্ত হইবার পূর্বে সরকার কর্তৃক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরবর্তী বত্সরের বার্ষিক বাজেট বিবরণী অনুমোদনের জন্য সরকারের নিকট পেশ করিবে এবং উহাতে উক্ত বত্সরে সরকারের নিকট হইতে কি পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন হইবে ইহার উল্লেখ থাকিবে৷
১৪৷ (১) কর্তৃপক্ষ যথাযথভাবে উহার হিসাব সংরক্ষণ করিবে এবং হিসাবের বার্ষিক বিবরণী প্রস্তুত করিবে৷
(২) বাংলাদেশের মহা-হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, অতঃপর মহা-হিসাব নিরীক্ষক নামে অভিহিত, প্রতি বত্সর কর্তৃপক্ষের হিসাব নিরীক্ষা করিবে এবং নিরীক্ষা রিপোর্টের একটি করিয়া অনুলিপি সরকার ও কর্তৃপক্ষের নিকট পেশ করিবে৷
১৫৷ (১) কর্তৃপক্ষের সনদ ব্যতীত কোন ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠান ক্ষুদ্রঋণ সংক্রান্ত কোন কার্যক্রম পরিচালনা করিতে পারিবে না৷
(২) এই আইন বলবত্ হইবার পূর্বে কোন ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠান ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম পরিচালনায় নিযুক্ত থাকিলে সংশ্লিষ্ট ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানকে এই আইন বলবত্ হইবার ৬ (ছয়) মাসের মধ্যে ধারা ১৬ এর বিধান অনুসারে কর্তৃপক্ষের নিকট সনদের জন্য আবেদনপত্র দাখিল করিতে হইবে৷
(৩) উপ-ধারা (১) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, উপ-ধারা (২) এর অধীন দালিখকৃত আবেদনপত্র কর্তৃপক্ষ কর্তৃক মঞ্জুর বা নামঞ্জুর হওয়া পর্যন্ত আবেদনকারী তাহার কার্যক্রম অব্যাহত রাখিতে পারিবে৷
১৬৷ (১) ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম পরিচালনার নিমিত্ত ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করিতে ইচ্ছুক ব্যক্তিকে কর্তৃপক্ষের নিকট নির্ধারিত ফরম ও পদ্ধতিতে আবেদনপত্র দাখিল করিতে হইবে৷
(২) এই ধারার অধীন সনদ ইস্যুকরণ বা নবায়নের জন্য আবেদনকারীকে নির্ধারিত ফিস প্রদান করিতে হইবে৷
(৩) উপ-ধারা (১) এর অধীন আবেদনপত্র প্রাপ্তির পর কর্তৃপক্ষ আবেদনপত্রের সাথে দাখিলীয় সকল তথ্যাদি সম্পর্কে নিশ্চিত হইবে এবং নির্ধারিত সময় ও পদ্ধতিতে আবেদনকারী বরাবরে নির্ধারিত ফরমে সনদ ইস্যু করিবে৷
(৪) কর্তৃপক্ষ কর্তৃক কোন আবেদনকারীর আবেদন যথাযথ বিবেচিত না হইলে আবেদনকারীকে যুক্তিসঙ্গত শুনানীর সুযোগ প্রদান করিয়া আবেদনটি নির্ধারিত সময় ও পদ্ধতিতে নামঞ্জুর করিতে হইবে এবং উক্ত সিদ্ধান্তের যথাযথ কারণ উল্লেখপূর্বক উহা আবেদনকারীকে লিখিতভাবে অবহিত করিতে হইবে৷
(৫) উপ-ধারা (৪) এর অধীন সনদ সংক্রান্ত আবেদন নামঞ্জুর করা হইলে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি সিদ্ধান্ত সম্পর্কে অবহিত হইবার অনধিক ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে কর্তৃপক্ষের নিকট বিষয়টি পুনর্বিবেচনার জন্য আবেদন করিতে পারিবে এবং উক্তরূপ আবেদনের ভিত্তিতে কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রদত্ত আদেশ চূড়ান্ত বলিয়া গণ্য হইবে৷
১৭৷ (১) এই আইনের অধীন মঞ্জুরীকৃত সনদের শর্ত ও অধিক্ষেত্র, সনদ বাতিল বা সাময়িক স্থগিতকরণ, প্রত্যর্পণ এবং ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের মূলধনের পর্যাপ্ততা, উপার্জনের সম্ভাব্যতাসহ আনুষঙ্গিক সকল বিষয়াদি বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে৷
(২) কোন সনদ বা উহার অধীন অর্জিত স্বত্ব, সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে, হস্তান্তরযোগ্য হইবে না এবং এইরূপ হস্তান্তর ফলবলবিহীন (void) হইবে৷
(৩) ধারা ১৬ এর উপ-ধারা (৩) এর অধীন সনদ ইস্যু করার সময় কর্তৃপক্ষ এই আইন বা তদধীন প্রণীত বিধির সহিত সঙ্গতিপূর্ণ যে কোন শর্ত সংশ্লিষ্ট সনদে উল্লেখ করিতে পারিবে এবং কর্তৃপক্ষ উক্ত শর্ত যে কোন সময় পরিবর্তন করিতে পারিবে৷
(৪) উপ-ধারা (৩) এর অধীন কোন শর্ত পরিবর্তন করা হইলে সনদপ্রাপ্ত প্রত্যেক প্রতিষ্ঠান উহা মানিয়া চলিতে বাধ্য থাকিবে৷
১৮৷ এই আইনের অধীন সনদপ্রাপ্ত প্রতিটি ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানকে নির্ধারিত বাত্সরিক ফিস বা অন্য কোন ফি কর্তৃপক্ষ বরাবরে প্রদান করিতে হইবে৷
১৯৷ (১) ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের আমানতকারীর আমানত হেফাজত ও নিরাপদ করিবার লক্ষ্যে কর্তৃপক্ষ আমানতকারী নিরাপত্তা তহবিল নামে একটি তহবিল গঠন ও সংরক্ষণ করিবে৷
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন গঠিত তহবিল নির্ধারিত পদ্ধতিতে সংরক্ষিত ও পরিচালিত হইবে৷
২০৷ কোন ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমোদন ব্যতিরেকে উহার গঠনতন্ত্রের কোন পরিবর্তন, সংশোধন, পরিবর্ধন বা উহা বাতিল করিতে পারিবে না৷
২১৷ (১) কর্তৃপক্ষ সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা সনদপ্রাপ্ত ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের নাম, ঠিকানা ও উহার স্থানীয় অধিক্ষেত্র এলাকা সম্বলিত তালিকা প্রকাশ করিবে৷
(২) প্রতি অর্থ বত্সর সমাপ্তির পরবর্তী ২ (দুই) মাসের মধ্যে কর্তৃপক্ষ এই আইনের অধীন সনদপ্রাপ্ত ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের তালিকা বাংলাদেশ ব্যাংক ও সরকারের নিকট সরবরাহ করিবে৷
(৩) এই আইনের অধীন সনদপ্রাপ্ত ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের সনদ স্থগিত বা বাতিল হওয়া সম্পর্কিত তথ্যাদি কর্তৃপক্ষ জাতীয় বা, প্রয়োজনে, স্থানীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশ করিবে৷
২২৷ (১) প্রত্যেক ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠান, কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নির্ধারিত পদ্ধতিতে ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম পরিচালনা সংক্রান্ত উহার হিসাব সংরক্ষণ করিবে৷
(২) প্রত্যেক ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠান প্রতি অর্থ বত্সর শেষ হইবার পূর্বে পরবর্তী বত্সরের জন্য নির্ধারিত পদ্ধতিতে উহার বার্ষিক হিসাব বিবরণী বা বাজেট প্রণয়ন করিবে এবং উহার বার্ষিক লাভ-লোকসান হিসাব ও ব্যালেন্স শীট প্রস্তুত করিবে এবং উহাদের একটি কপি কর্তৃপক্ষের নিকট দাখিল করিবে৷
(৩) প্রত্যেক ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠান উহার হিসাব রক্ষণ বিষয়ে কর্তৃপক্ষ কর্তৃক, সময় সময়, প্রদত্ত নির্দেশাবলী অনুসরণ করিবে৷
[(৪) এই আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, ফাইনান্সিয়াল রিপোর্টিং আইন, ২০১৫ এর ধারা ২(৮) এ সংজ্ঞায়িত ‘‘জনস্বার্থ সংস্থা’’ হিসাবে প্রতিষ্ঠিত ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব হইবে উক্ত আইনের ধারা ৪০ এর বিধান অনুযায়ী প্রণীত ফাইনান্সিয়াল রিপোর্টিং স্ট্যান্ডার্ডস এবং অডিটিং স্ট্যান্ডার্ডস অনুসরণে প্রস্ত্ততকৃত নিরীক্ষকের প্রতিবেদনসহ প্রয়োজনীয় দলিলাদি কর্তৃপক্ষের নিকট উপস্থাপন করা।
(৫) উক্ত কর্তৃপক্ষ কোন বার্ষিক প্রতিবেদন গ্রহণ করিবেন না, যদি না উহা কোন তালিকাভুক্ত নিরীক্ষকের প্রতিবেদনসহ উপস্থাপিত হয়।]
২৩৷ সনদপ্রাপ্ত প্রত্যেক ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠান উহার অর্থায়নকারী সংস্থার স্বার্থ সংরক্ষণার্থ-
২৪৷ (১) প্রতিটি ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের প্রধান কাজ হইবে এই আইনের অধীন প্রদত্ত সনদের শর্তের অধীন ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম পরিচালনা ও তত্সংশ্লিষ্ট অন্যান্য আনুষঙ্গিক সহায়তা প্রদান করা৷
(২) বিশেষ করিয়া এবং উপরি-উক্ত বিধানের সামগ্রিকতা ক্ষুণ্ন না করিয়া, কোন ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের নিম্নবর্ণিত ক্ষমতা ও দায়িত্ব থাকিবে, যথাঃ-
(৩) কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ব্যতিরেকে কোন ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠান এই ধারার বিধান ও উহার উদ্দেশ্যের পরিপন্থী কোন কার্যক্রম গ্রহণ, লেন-দেন, শিল্প বা ব্যবসা-বাণিজ্য করিতে বা অন্য কোন প্রকার সেবা প্রদান করিতে পারিবে না৷
২৫৷ কোন ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠান দেউলিয়া বলিয়া ঘোষিত হইলে উক্ত প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে দেউলিয়া বিষয়ক আইন, ১৯৯৭ (১৯৯৭ সালের ১০নং আইন) এর বিধানাবলী প্রযোজ্য হইবে৷
২৬৷ হাইকোর্ট বিভাগ কর্তৃপক্ষের দরখাস্তের ভিত্তিতে কোন ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠান অবসায়নের জন্য আদেশ প্রদান করিতে পারিবে, যদি-
২৭৷ (১) প্রত্যেক ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের একজন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা থাকিবেন, তিনি উক্ত প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদ কর্তৃক নিযুক্ত হইবেন৷
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন নিযুক্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদের সচিব হিসাবে দায়িত্ব পালন করিবেন৷
(৩) কোন ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের বেতনভোগী কর্মকর্তা বা কর্মচারী সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সাধারণ পরিষদ বা পরিচালনা পর্ষদের সদস্য হইতে পারিবেন না৷
২৮৷ (১) দেউলিয়া ঘোষিত হইয়াছেন বা কোন সময় দেউলিয়া ছিলেন বা নৈতিক স্খলনজনিত কোন অপরাধ বা দুর্নীতি বা তহবিল তসরুপের কারণে তিনি কোন ফৌজদারী আদালত কর্তৃক দন্ডিত হইয়ছেন অথবা কর্তৃপক্ষ যদি এই মর্মে সন্তুষ্ট হয় যে, উক্তরূপ কোন কারণে তাহাকে দায়িত্ব হইতে অপসারণ করা হইয়াছে এমন কোন ব্যক্তি কোন প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান বা সদস্য, বা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, বা প্রধান অর্থ কর্মকর্তা নির্বাচিত বা নিযুক্ত হইতে বা থাকিতে পারিবেন না৷
(২) এই আইনের অধীন বন্ধ ঘোষিত বা অবসায়িত কোন প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান, বা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বা উহার ব্যবস্থাপনার সহিত সরাসরিভাবে জড়িত অন্য কোন ব্যক্তি, কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমোদন ব্যতিরেকে, অন্য কোন ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বা উহার ব্যবস্থাপনার সহিত সরাসরিভাবে জড়িত হইবার মত কোন পদে নিযুক্ত হইতে পারিবেন না৷
(৩) কোন ব্যক্তি একই সময়ে একাধিক ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানে বেতনভোগী কর্মকর্তা থাকিতে পারিবেন না৷
২৯৷ (১) কর্তৃপক্ষের যদি এই মর্মে সন্তুষ্ট হয় যে, কোন প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান বা অন্য কোন সদস্য বা উহার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে প্রতিষ্ঠানের গ্রাহক ও আমানতকারীর জন্য ক্ষতিকর কার্যকলাপ রোধকল্পে বা উহার যথাযথ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করিবার লক্ষ্যে বা জনস্বার্থে অপসারণ করা প্রয়োজন, তাহা হইলে কর্তৃপক্ষের যে কোন সময়, কারণ লিপিবদ্ধ করিয়া, আদেশ দ্বারা উক্ত চেয়ারম্যান, পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে তাহার পদ হইতে অপসারণ করিতে পারিবে৷
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন কোন আদেশ প্রদানের পূর্বে যাহার বিরুদ্ধে উক্ত আদেশ প্রদান করা হইবে তাহাকে কারণ দর্শাইবার যুক্তিসঙ্গত সুযোগ প্রদান করিতে হইবে৷
৩০৷ (১) প্রত্যেক ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের একটি সংরক্ষিত তহবিল থাকিবে এবং উক্ত তহবিল নির্ধারিত পদ্ধতিতে পরিচালিত হইবে৷
(২) কর্তৃপক্ষের লিখিত পূর্বানুমোদন ব্যতিরেকে সংরক্ষিত তহবিল হইতে কোন অর্থ ব্যয় করা যাইবে না৷
৩১৷ (১) কোন ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ব্যতিরেকে কোন লভ্যাংশ প্রদান করিতে পারিবে না৷
(২) উপ-ধারা (১) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কর মওকুফ বা অব্যাহতিপ্রাপ্ত বা সরকার কর্তৃক প্রদত্ত অন্য কোন আর্থিক সুবিধাপ্রাপ্ত ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠান কোন লভ্যাংশ বিতরণ করিতে পারিবে না৷
৩২৷ (১) কোন ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠান উহার কোন সদস্য ছাড়া অন্য কোন ব্যক্তির নিকট হইতে কোন আমানত গ্রহণ করিতে পারিবে না৷
(২) উক্তরূপ কোন সদস্যের নিকট হইতে আমানত গ্রহণ করিলে উক্ত সদস্যকে তাত্ক্ষণিকভাবে আমানত গ্রহণের প্রমাণস্বরূপ ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠান কর্তৃক তাহাকে প্রদত্ত পাশ বহিতে, যদি থাকে, যথাযথ এন্ট্রি প্রদানসহ প্রযোজ্য ক্ষেত্রে রশিদ প্রদান করিবে৷
(৩) কোন ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমোদন ব্যতিরেকে কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নির্ধারিত খাত ব্যতীত অন্য কোন খাতে আমানত ব্যবহার বা বিনিয়োগ করিতে পারিবে না৷
(৪) উপ-ধারা (৩) এর অধীন ব্যক্তিস্বার্থ সংশ্লিষ্ট কোন খাতে আমানত বিনিয়োগ করার কোন অনুমোদন প্রদান করা যাইবে না৷
৩৩৷ যেক্ষেত্রে কোন ব্যক্তি কর্তৃক কোন ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠান হইতে সেবা গ্রহণের জন্য উহার বরাবরে তাহার কোন সম্পত্তির চার্জ সৃষ্টি করা হয়, সেক্ষেত্রে উক্তরূপ চার্জ রেজিিস্ট্র করিবার তারিখ হইতে তত্কর্তৃক অন্য কোন ব্যক্তির বরাবরে একই সম্পত্তির উপর সৃষ্ট অন্য সকল চার্জের উপর উক্ত প্রতিষ্ঠানের বরাবরে সৃষ্ট চার্জ অগ্রাধিকার পাইবে৷
৩৪৷ এই আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, বিভিন্নমুখী দারিদ্র বিমোচন তত্পরতা ও তত্সমর্থনে পরিচালিত প্রতিষ্ঠান ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম পরিচালনা করিতে ইচ্ছুক হইলে উক্ত প্রতিষ্ঠানকে এই আইনের অধীন সনদ গ্রহণ করিতে হইবে৷
৩৫৷ (১) কোন ব্যক্তি কর্তৃক কৃত নিম্নবর্ণিত কোন কার্য এই আইনের অধীন অপরাধ হইবে-
(২) কোন ব্যক্তি উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত অপরাধের জন্য দোষী সাব্যস্ত হইলে তিনি অনধিক ১ (এক) বত্সর কারাদন্ডে, বা অনধিক ৫ (পাচঁ) লক্ষ টাকা অর্থদন্ডে, বা উভয় দন্ডে, দন্ডনীয় হইবেন৷
৩৬৷ এই আইনের অধীন কোন পরিদর্শন, তদন্ত বা নিরীক্ষাকালে কোন ক্ষুদ্্রঋণ প্রতিষ্ঠানের কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারী, এই আইনের বিধান অনুযায়ী পরিদর্শক, তদন্তকারী বা নিরীক্ষকের চাহিদা মোতাবেক কোন হিসাব বহি, হিসাব বা দলিল-দস্তাবেজ বা তথ্য সরবরাহ করিতে ব্যর্থ হইলে বা জিজ্ঞাসাবাদে বাধা দিলে বা অসত্য সাক্ষ্য দিলে, কর্তৃপক্ষ, এই আইনের অধীন অন্য কোন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করিয়া তাহাকে, যুক্তিসংগত কারণ দর্শাইবার সুযোগ প্রদান করিয়া, এককালীন অনধিক ১ (এক) মাসের বেতনের সমপরিমাণ অর্থ প্রশাসনিক জরিমানা করিতে পারিবে, যাহা তাহার বেতন হইতে কর্তন করিয়া আদায় করা যাইবে৷
৩৭৷ (১) কোন ব্যক্তি এই আইন বা তদধীন প্রণীত কোন বিধির কোন বিধান লঙ্ঘন করিলে বা এই আইনের অধীন কোন অপরাধ করিলে বা এই আইনের যে সকল বিধান লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক জরিমানা আরোপনীয় সেই সকল ক্ষেত্রে, কর্তৃপক্ষ উক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে উক্ত লঙ্ঘন বা কৃত অপরাধের জন্য ফৌজদারী মামলা দায়ের না করিয়া উক্ত লঙ্ঘন বা অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনায় অনধিক ৫ (পাঁচ) লক্ষ টাকার প্রশাসনিক জরিমানা আরোপের ব্যবস্থা করিতে পারিবে৷
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন প্রশাসনিক জরিমানা আরোপের ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট লঙ্ঘনকারী বা অপরাধীকে এই মর্মে নোটিশ দিবে যে, উক্ত নোটিশ প্রাপ্তির পর তাহার দোষ স্বীকার করিয়া নোটিশে নির্ধারিত প্রশাসনিক জরিমানা উহাতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রদানের মাধ্যমে দায়মুক্ত হইতে পারেন এবং এই বিষয়ে তাহার কোন বক্তব্য থাকিলে তাহা তিনি কর্তৃপক্ষের নিকট লিখিতভাবে উপস্থাপন করিতে পারিবেন৷
(৩) এই ধারার অধীন নোটিশ প্রদান পদ্ধতি বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে৷
(৪) উপ-ধারা (২) এর অধীন নোটিশ জারীর পর নোটিশে উল্লিখিত লঙ্ঘন বা অপরাধের বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি উক্ত লঙ্ঘন বা অপরাধ স্বীকার করিয়া নোটিশে উল্লিখিত সম্পূর্ণ প্রশাসনিক জরিমানা জমা দিতে পারিবেন বা উক্ত জরিমানা কমানোর জন্য আবেদন করিতে পারিবেন বা অভিযোগ অস্বীকার করিয়া উহার সমর্থনে লিখিত জবাব ও প্রয়োজনীয় দলিল বা তথ্য দাখিল করিয়া উক্ত জরিমানার দায় হইতে অব্যাহতির আবেদন করিতে পারিবেন৷
(৫) উপ-ধারা (৪) এর অধীন কোন আবেদন করা হইলে কর্তৃপক্ষ উহা বিবেচনাক্রমে তত্সম্পর্কে সিদ্ধান্ত গ্রহণপূর্বক অবিলম্বে আবেদনকারীকে উক্ত সিদ্ধান্তের বিষয় অবহিত করিবে৷
(৬) উপ-ধারা (৫) এর অধীন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হইবে৷
(৭) কোন লঙ্ঘনকারী বা অপরাধী এই ধারার অধীন তাহার উপর আরোপিত প্রশাসনিক জরিমানা উহা আরোপের ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে জমা দিলে বা নোটিশের প্রেক্ষিতে হাজির না হইলে উহা এই আইনের অধীন একটি অপরাধ হিসাবে গণ্য হইবে৷
৩৮৷ এই আইন বা তদধীন প্রণীত বিধির অধীন আদায়কৃত জরিমানা তহবিলে জমা হইবে৷
৩৯৷ কর্তৃপক্ষের নিকট যদি এই মর্মে প্রতীয়মান হয় যে, বা বিশ্বাস করিবার কারণ থাকে যে, কোন ব্যক্তি এই আইনের কোন বিধান লঙ্ঘনক্রমে ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম পরিচালনা করিতেছে, তাহা হইলে কর্তৃপক্ষ বা তত্কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন কর্মকর্তা-
৪০৷ কোন কোম্পানী বা ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠান কর্তৃক এই আইনের অধীন কোন অপরাধ সংঘটিত হইলে উক্ত অপরাধের সহিত প্রত্যক্ষ সংশ্লিষ্টতা রহিয়াছে কোম্পানীর বা প্রতিষ্ঠানের এমন প্রত্যেক পরিচালক, ম্যানেজার, সচিব, অংশীদার, কর্মকর্তা এবং কর্মচারী উক্ত অপরাধ সংঘটন করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবে, যদি না তিনি প্রমাণ করিতে পারেন যে, উক্ত অপরাধ তাহার অজ্ঞাতসারে সংঘটিত হইয়াছে অথবা উক্ত অপরাধ রোধ করিবার জন্য তিনি যথাসাধ্য চেষ্টা করিয়াছেন৷
ব্যাখ্যাঃ এই ধারায়-
৪১৷ কর্তৃপক্ষ বা তত্কর্তৃক এতদুদ্দেশ্যে ক্ষমতাপ্রাপ্ত উহার কোন কর্মকর্তার লিখিত অভিযোগ ব্যতীত কোন আদালত এই আইনের অধীন কোন অপরাধ বিচারের জন্য গ্রহণ করিবে না৷
৪২৷ এই আইনের অধীন অপরাধসমূহ অ-আমলযোগ্য (non-cognizable) ও জামিনযোগ্য (bailable) হইবে৷
৪৩৷ এই আইনের বিধানাবলীর সহিত অসঙ্গতিপূর্ণ না হওয়া সাপেক্ষে, এই আইনের অধীন অপরাধের তদন্ত, বিচার, আপীল ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ফৌজদারী কার্যবিধি প্রযোজ্য হইবে৷
৪৪৷ (১) যদি কোন ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের এই মর্মে সন্দেহ করিবার কারণ থাকে যে, উহা উহার গ্রাহকদের দায় মিটাইতে অসমর্থ হইতে পারে বা উহা এমন পরিস্থিতির সম্মুখীন হইয়াছে যাহার ফলে উহার গ্রাহকের পাওনা পরিশোধ স্থগিত করিতে উহা বাধ্য হইতে পারে, তাহা হইলে উক্ত প্রতিষ্ঠান বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে অবহিত করিবে৷
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন কোন বিষয় সম্পর্কে অবহিত হইবার পর কর্তৃপক্ষ উদ্ভূত সমস্যাগুলি সমাধানের জন্য কি কি পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন তত্সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশ প্রদান করিবে এবং এইরূপে প্রদত্ত নির্দেশ প্রতিপালনে উক্ত ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠান বাধ্য থাকিবে৷
৪৫৷ প্রতি ইংরেজী বত্সর শেষ হইবার পরবর্তী ৩ (তিন) মাসের মধ্যে কর্তৃপক্ষ তত্কর্তৃক উক্ত বত্সরে সম্পাদিত কার্যাবলীর বিবরণ সম্বলিত একটি বার্ষিক প্রতিবেদন সরকারের নিকট পেশ করিবে এবং সরকার, যথাশীঘ্র সম্ভব, উহা জাতীয় সংসদে উত্থাপনের ব্যবস্থা করিবে৷
৪৬৷ এই আইনের অধীন দায়িত্ব পালনকালে সরল বিশ্বাসে কৃত কোন কাজের ফলে কোন ব্যক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হইলে বা তাহার ক্ষতিগ্রস্ত হইবার সম্ভাবনা থাকিলে, তজ্জন্য কর্তৃপক্ষ বা চেয়ারম্যান বা সদস্য বা উহার কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে কোন মামলা দায়ের বা অন্য কোন আইনগত কার্যধারা গ্রহণ করা যাইবে না৷
৪৭৷ কর্তৃপক্ষ এই আইন বা তদধীন প্রণীত বিধির অধীন উহার কোন ক্ষমতা, লিখিত আদেশ দ্বারা এক্সিকিউটিভ ভাইস-চেয়ারম্যান বা উহার কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারীকে অর্পণ করিতে পারিবে৷
৪৮৷ এই আইন বা তদধীন প্রণীত বিধির অধীন কোন আদেশ, নির্দেশ, সার্কুলার বা অন্য কোন আইনগত দলিল প্রণয়ন ও জারীর ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক ব্যাংকিং ও আর্থিক খাতের জন্য জারীকৃত আদেশ, নির্দেশ, সার্কুলার বা অন্য কোন আইনগত দলিল অনুসরণ করিবে৷
৪৯৷ এই আইনের বিধানাবলী কার্যকর করার ক্ষেত্রে কোন অসুবিধা দেখা দিলে সরকার, এই আইনের অন্যান্য বিধানের সহিত সামঞ্জস্য রাখিয়া, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, উক্ত বিধানের স্পষ্টীকরণ বা ব্যাখ্যা প্রদান করতঃ কর্তৃপক্ষের করণীয় বিষয়ে দিক নির্দেশনা প্রদান করিতে পারিেবঃ
তবে শর্ত থাকে যে, এই আইন কার্যকর হইবার ২ (দুই) বত্সর পর এই ধারার অধীন কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাইবে না৷
৫০৷ (১) ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠান এর স্থাবর সম্পত্তি অর্জন, গৃহীতব্য ও প্রদেয় ঋণের পরিমাণ, ঋণ পরিশোধের সময়সীমা, ঋণের বিপরীতে সঞ্চিতি সংরক্ষণ ও অবলোপন, সরবরাহকৃত তথ্যের গোপনীয়তা, নথিপত্র স্থানান্তর, আমানত-কারীদের নিরাপত্তা তহবিল, অনাদায়ী ঋণ, সদস্যদের সুযোগ-সুবিধা ও দায়িত্ব, যৌথ অর্থায়ন, সেবার মান ও তত্সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সকল বিষয় বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে৷
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন প্রণীত বিধিতে কারাদন্ড, অর্থদন্ড বা উভয়বিধ দন্ডের বিধান করা যাইবে, তবে কারাদন্ডের মেয়াদ ও অর্থদন্ডের পরিমাণ এই আইনে উল্লিখিত কারাদন্ডের মেয়াদ ও অর্থদন্ড আরোপের পরিমাণের অতিরিক্ত হইবে না৷
৫১৷ (১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, কর্তৃপক্ষ, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে এবং সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে৷
(২) বিশেষ করিয়া এবং উপরি-উক্ত ক্ষমতার সামগ্রিকতাকে ক্ষুণ্ন না করিয়া, অনুরূপ বিধিতে যে সব বিষয়ে বিধি প্রণয়নের জন্য সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হইয়াছে সে সব বিষয় ছাড়াও নিম্নবর্ণিত সকল অথবা যে কোন বিষয়ে বিধান করা যাইবে, যথাঃ-
(৩) এই ধারার অধীন বিধি প্রণয়ন না হওয়া পর্যন্ত কর্তৃপক্ষ সরকারী গেজেটে প্রকাশিত সাধারণ বা বিশেষ আদেশ দ্বারা, উহার কার্যাদি পরিচালনা করিতে পারিবেঃ
তবে শর্ত থাকে যে, অনুরূপ কোন আদেশ, উহা জারীর তারিখ হইতে ২ (দুই) বত্সর মেয়াদে বলবত্ থাকিবে৷
৫২৷ এই আইন প্রবর্তনের পর সরকার, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইনের বাংলা পাঠের ইংরেজীতে অনুদিত একটি নির্ভরযোগ্য পাঠ (Authentic English Text) প্রকাশ করিবেঃ
তবে শর্ত থাকে যে, বাংলা পাঠ ও ইংরেজী পাঠের মধ্যে বিরোধের ক্ষেত্রে বাংলা পাঠ প্রাধান্য পাইবে৷