রাসায়নিক অস্ত্র (নিষিদ্ধকরণ) আইন, ২০০৬
রাসায়নিক অস্ত্রের উন্নয়ন, উত্পাদন, মজুদকরণ ও উহার ব্যবহার নিষিদ্ধকরণ এবং উহাদের ধ্বংসকরণ সংক্রান্ত কনভেনশনের বিধানাবলী বাংলাদেশে কার্যকর করার লক্ষ্যে প্রণীত আইন
রাসায়নিক অস্ত্রের উন্নয়ন, উত্পাদন, মজুদকরণ ও উহার ব্যবহার নিষিদ্ধকরণ এবং উহাদের ধ্বংসকরণ সংক্রান্ত কনভেনশনের বিধানাবলী বাংলাদেশে কার্যকর করার লক্ষ্যে প্রণীত আইন যেহেতু রাসায়নিক অস্ত্রের উন্নয়ন, উত্পাদন, মজুদকরণ ও উহার ব্যবহার নিষিদ্ধকরণ এবং উহাদের ধ্বংসকরণ সংক্রান্ত কনভেনশনে বাংলাদেশ পক্ষভুক্ত হইয়াছে; এবং যেহেতু উক্ত কনভেনশনের বিধানাবলী বাংলাদেশে কার্যকর করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়; সেহেতু এতদ্দ্বারা নিম্নরূপ আইন করা হইলঃ-
সংক্ষিপ্ত শিরোনাম, প্রয়োগ ও প্রবর্তন
১৷ (১) এই আইন রাসায়নিক অস্ত্র (নিষিদ্ধকরণ) আইন, ২০০৬ নামে অভিহিত হইবে৷
(২) এই আইন অবিলম্বে কার্যকর হইবে৷
(৩) সমগ্র বাংলাদেশে ইহার প্রয়োগ হইবে৷
সংজ্ঞা
২৷ বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থী না হইলে, এই আইনে-
আইনের অতিরাষ্ট্রিক প্রয়োগ
৩৷ বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় সীমানার বাহিরে নিম্নবর্ণিত ক্ষেত্রে এই আইনের বিধানাবলী প্রযোজ্য হইবে-
আইনের প্রাধান্য
৪৷ আপাততঃ বলবত্ কোন আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইন ও তদধীন বিধির বিধানাবলী কার্যকর থাকিবে৷
রাসায়নিক অস্ত্র উন্নয়ন, ইত্যাদি নিষিদ্ধ
৫৷ (১) কোন ব্যাক্তি-
(২) উপ-ধারা (১) এর উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, যদি কোন ব্যক্তি অনুমোদিত উদ্দেশ্যে রাসায়নিক অস্ত্র তৈরীর কাজে ব্যবহৃত হয় এমন কোন রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করেন, তাহা হইলে উহা রাসায়নিক অস্ত্র বলিয়া গণ্য হইবে না, তবে অনুমোদিত উদ্দেশ্যের ভিত্তিতে উহা ব্যবহৃত হইয়াছে কিনা উহা নির্ধারণের জন্য উক্ত রাসায়নিক দ্রব্যের ধরন এবং পরিমাণ বিবেচনায় রাখিতে হইবে৷
রাসায়নিক অস্ত্রের উত্পাদন স্থল (premises) বা সরঞ্জাম সম্পর্কিত বিধান
৬৷ (১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, রাসায়নিক অস্ত্র উত্পাদনের বা ব্যবহারের অভিপ্রায়ে-
(২) উপ-ধারা (১) এর উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, যদি কোন বিষয়বস্তু অনুমোদিত উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়, তাহা হইলে উহা রাসায়নিক অস্ত্র উত্পাদন বা ব্যবহারের উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে না এবং অনুমোদিত উদ্দেশ্যের ভিত্তিতে উহা উত্পাদিত ও ব্যবহৃত হইয়াছে কিনা উহা নিধারণের জন্য উক্ত রাসায়নিক দ্রব্যের ধরণ এবং পরিমাণ বিবেচনায় রাখিতে হইবে।
তফলিস ১ এর অন্তর্ভুক্ত রাসায়নিক দ্রব্য উত্পাদন, ইত্যাদি সম্পর্কিত বিধান
৭৷ (১) কোন ব্যক্তি তফসিল ১ এর অন্তর্ভূক্ত রাসায়নিক দ্রব্য উত্পাদন, অর্জন, ব্যবহার, সংরক্ষণ বা স্থানান্তর করিতে পারিবেন না, যদি না-
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন তফসিল ১ এর অর্ন্তভুক্ত রাসায়নিক দ্রব্য উত্পাদনের ক্ষেত্রে নিম্নলিখিত শর্তাদি প্রযোজ্য হইবে, যথা-
(৩) উপ-ধারা (২) এর অধীন তফসিল ১ এর অন্তর্ভুক্ত কোন রাসায়নিক দ্রব্য হস্তান্তরের ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত শর্তাদি প্রযোজ্য হইবে, যথাঃ-
তফসিল ২ ও ৩ এর অন্তর্ভুক্ত রাসায়নিক দ্রব্য স্থানান্তর, ইত্যাদিতে বাধা-নিষেধ
৮৷ কোন ব্যক্তি কনভেনশনের পক্ষভুক্ত নয় এমন কোন রাষ্ট্রের কাহারো নিকট-
(১) উহা কেবল কনভেনশনের অনুমোদিত উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হইবে;
(২) উহা পুনঃস্থানান্তর করা হইবে না;
(৩) উহার ধরণ ও পরিমাণ;
(৪) উহার প্রান্ত ব্যবহার;
(৫) উহার প্রান্ত ব্যবহারকারীর নাম ও ঠিকানা; এবং
তফসিলভূক্ত রাসায়নিক দ্রব্য আমদানি ও রপ্তানী সংক্রান্ত বিধান
৯৷ Import and Exports (Control) Act, 1950 (Act No. XXXIX of 1950) এর অধীন সরকার কর্তৃক, সময় সময়, প্রণীত আমদানি বা রপ্তানী নীতি আদেশের বিধান অনুসরণ ও জাতীয় কর্তৃপক্ষের নিকট তালিকাভূক্ত ব্যতীত কোন ব্যক্তি তফসিলভূক্ত কোন রাসায়নিক দ্রব্য বাংলাদেশে আমদানি, বা বাংলাদেশ হইতে রপ্তানী করিতে পারিবেন না৷
তালিকাভূক্তি
১০৷ (১) এই আইন বলবত্ হইবার পর জাতীয় কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে, তফসিলভূক্ত রাসায়নিক দ্রব্য উত্পাদন, প্রক্রিয়া-জাতকরণ, অর্জন, ব্যবহার, স্থানান্তর, আমদানি, রপ্তানী বা ক্ষেত্রমত, স্বতন্ত্র জৈব রাসায়নিক দ্রব্যসহ ফসফরাস, সালফার বা ফ্লোরিনযুক্ত বিষাক্ত জৈব রাসায়নিক দ্রব্য উত্পাদনে নিয়োজিত ব্যক্তিকে, উক্ত রাসায়নিক দ্রব্য উত্পাদনকারী, প্রক্রিয়াজাতকারী, অর্জনকারী, ব্যবহারকারী, স্থানান্তরকারী, আমদানিকারী, রপ্তানীকারী বা, ক্ষেত্রমত, স্বতন্ত্র জৈব রাসায়নিক দ্রব্যসহ ফসফরাস, সালফার বা ক্লোরিনযুক্ত বিষাক্ত রাসায়নিক দ্রব্য উত্পাদনকারী হিসাবে, জাতীয় কর্তৃপক্ষের নিকট তালিকাভুক্ত হইতে হইবে৷
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন তালিকাভূক্তির জন্য জাতীয় কর্তৃপক্ষের নিকট আবেদন করিতে হইবে এবং এই ধারার বিধান অনুসারে কোন আবেদন দাখিল করা হইলে জাতীয় কর্তৃপক্ষ উক্ত আবেদনটি বিবেচনাক্রমে আবেদন-কারীকে আবেদন দাখিলের ৬০ (ষাট) দিনের মধ্যে বিধি দ্বারা নির্ধারিত তালিকাভুক্তির সনদ প্রদান করিবে৷
(৩) এই ধারার অধীন-
(৪) তালিকাভুক্তির প্রতিটি আবেদন জাতীয় কর্তৃপক্ষের নিকট বিধি দ্বারা নির্ধারিত ফরম ও পদ্ধতিতে দাখিল করিতে হইবে৷
(৫) জাতীয় কর্তৃপক্ষ তদকর্তৃক ইস্যুকৃত তািলাকভুক্তি সনদের মুদ্রিত অনুলিপি সংরক্ষণ করিবে৷
তালিকাভুক্তি নবায়ন ও শর্তাবলী সংশোধন
১১৷ (১) এই আইনের অধীন ইস্যুকৃত তালিকাভুক্তি সনদ, বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে, ও রাজস্ব টিকিট ব্যবহার সাপেক্ষে, নবায়নযোগ্য হইবে৷
(২) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, জাতীয় কর্তৃপক্ষ তদধীনে ইস্যুকৃত কোন তািলাকভুক্তি সনদের যে কোন শর্ত এই আইন বা বিধি অনুসারে সংশোধন করিতে পারিবে, তবে তালিকাভুক্ত ব্যক্তিকে অন্যুন ৩০ (ত্রিশ) দিনের নোটিশ না দিয়ে এই ধারার অধীনে শর্ত সংশোধন করা যাইবে না৷
কনভেনশনের অধীন পরিদর্শন
১২৷ (১) যদি কনভেনশনের অধীন বাংলাদেশে কোন নৈমিত্তিক পরিদর্শন, চ্যালেঞ্জ পরিদর্শন বা সহায়তা পরিদর্শন কার্য পরিচালনার প্রস্তাব করা হয়, তাহা হইলে জাতীয় কর্তৃপক্ষ, উপ-ধারা (২) এর বিধান সাপেক্ষে, এই ধারার অধীন পরিদর্শনের বিষয়ে প্রাধিকারপত্র জারী করিতে পারিবে৷
(২) প্রাধিকারপত্র জারীর ক্ষেত্রে, জাতীয় কর্তৃপক্ষ-
পরিদর্শন কাজে সহায়তা ও সহায়তাকারীর দায়িত্ব
১৩৷ (১) ধারা ১২ এর অধীন পরিদর্শন কার্য পরিচালনার উদ্দেশ্যে কোন পরিদর্শন দল বাংলাদেশে আগমন করিলে, উক্ত পরিদর্শন দলকে জাতীয় কর্তৃপক্ষ বা উহা হইতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান সার্বিক সহায়তা প্রদান করিবে৷
(২) উপ-ধারা (১) এর সামগ্রিকতার আওতায় সহায়তা দানের ক্ষেত্রে, সহায়তা প্রদানকারী কর্তৃপক্ষ, ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান নিম্নবর্ণিত সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব পালন করিতে পারিবে, যথাঃ-
(৩) এই ধারার অধীন পরিদর্শন দলকে সহযোগীতা দানের ক্ষেত্রে, প্রদানযোগ্য সহযোগিতার ধরণ বা, ক্ষেত্রমত, সহযোগিতার কার্যপরিধি জাতীয় কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নির্ধারিত হইবে৷
(৪) এই ধারার অধীন প্রদত্ত সহযোগীতা জাতীয় কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের তত্ত্ববধানে অনুষ্ঠিত হইবে৷
(৫) এই ধারার অধীন পরিদর্শন কার্য পরিচালনার উদ্দেশ্যে নির্ধারিত পরিদর্শন দলের সদস্যগণকে জাতীয় কর্তৃপক্ষ পরিচয়পত্র প্রদান করিবে৷
প্রাধিকারপত্র
১৪৷ ধারা ১২ এর অধীন জারীকৃত প্রাধিকারপত্রে নিম্নবর্ণিত বিবরণাদি থাকিবে, যথাঃ-
প্রাধিকারপত্র প্রদানের ফলাফল
১৫৷ (১) ধারা ১২ এর অধীন পরিদর্শন কার্য পরিচালনার জন্য কোন প্রাধিকারপত্র জারী করা হইলে সংশ্লিষ্ট পরিদর্শন দলের নিম্নবর্ণিত ক্ষমতা থাকিবে, যথাঃ-
(২) চ্যালেঞ্জ পরিদর্শনের ক্ষেত্রে, কোন পর্যবেক্ষকের, ধারা ১২ এর অধীন প্রদত্ত প্রাধিকারপত্রে উল্লিখিত ক্ষমতার অতিরিক্ত, প্রতিপাদন পরিশিষ্টের অধীন প্রদত্ত উক্ত পরিদর্শনের জন্য নির্দিষ্টকৃত যে কোন স্থাপনা, স্থান ও যে কোন ধরণের যানবাহনে প্রবেশের সকল ক্ষমতা থাকিবে৷
(৩) উপ-ধারা (১) এর দফা (ঘ) এর অধীন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কোন কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের দায়িত্ব অর্পণ করা হইলে, তিনি পরিদর্শন কার্য সুষ্ঠুভাবে ও দ্রুততার সহিত নিষ্পত্তির স্বার্থে তাহার বিবেচনায় যুক্তিসঙ্গত বলিয়া প্রয়োজনীয় এইরূপ সকল আইনানুগ ক্ষমতা প্রয়োগ করিতে পারিবেন৷
পরিদর্শন এবং পর্যবেক্ষক দলের সদস্যদের অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা
১৬৷ (১) উপ-ধারা (২) এর বিধান সাপেক্ষে, পরিদর্শন ও পর্যবেক্ষক দলের সদস্যগণ প্রতিপাদন পরিশিষ্টের দ্বিতীয় ভাগের অনুচ্ছেদ ১২ এ বিধৃত নিরাপত্তা ও অধিকারসমূহ ভোক করিতে পারিবে৷
(২) উক্ত দলের সদস্যগণ, বাংলাদেশে অবস্থানকালে, প্রদত্ত অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা নিম্নবর্ণিত ক্ষেত্রে ভোগ করিতে পারিবে, যথাঃ-
(৩) যতি প্রতিপাদন পরিশিষ্ট অনুসারে পরিদর্শন দলের কোন সদস্যের প্রাপ্ত কোন অধিকার বাংলাদেশে প্রচলিত কোন আইনের সহিত অসংগতিপূর্ণ হইবার কারণে পরিত্যক্ত হয় এবং জাতীয় কর্তৃপক্ষ কর্তৃক জারীকৃত নোটিশের মাধ্যমে উক্ত পরিত্যক্ত হইবার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট পরিদর্শন বা পর্যবেক্ষক দলের সদস্যকে ব্যক্তিগতভাবে অবহিত করা হয়, তাহা হইলে উক্ত নোটিশ জারীর সময় হইতেই এই ধারার বিধান অনুযায়ী তাহাকে প্রদত্ত অধিকার বলবত্ থাকিবে না৷
পরিদর্শন দলের কোন সদস্যের মর্যাদা সম্পর্কে উত্থাপিত প্রশ্ন নিরসন
১৭৷ কোন ব্যক্তি কোন নৈমিত্তিক পরিদর্শন, চ্যালেঞ্জ পরিদর্শন বা সহায়তা পরিদর্শন কার্য পরিচালনায় নিয়োজিত ছিলেন কি না বা পরিদর্শন দলের সদস্য বা দেশের অভ্যন্তরীণ পরিরক্ষী দলের সদস্য হিসাবে দায়িত্ব পালন করিয়াছিলেন কি না মর্মে যদি কোন প্রশ্ন উত্থাপিত হয়, তাহা হইলে জাতীয় কর্তৃপক্ষ কর্তৃক এতদুদ্দেশ্যে জারীকৃত প্রাধিকারপত্র উক্ত প্রশ্নের সমাধানের ব্যাপারে চূড়ান্ত প্রমাণ হিসাবে বিবেচিত হইবে৷
প্রাধিকারপত্রের বৈধতা
১৮৷ এই আইনের অধীন পরিচালিত কোন পরিদর্শনের জন্য ধারা ১২ এর অধীন জারীকৃত প্রাধিকারপত্রের বৈধতা সম্পর্কে কোন আদালতে কোন প্রশ্ন উত্থাপন করা যাইবে না৷
প্রাধিকারপত্র সংশোধন, ইত্যাদি
১৯৷ (১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, জাতীয় কর্তৃপক্ষ, প্রয়োজনবোধে, সময় সময়, ধারা ১২ এর অধীন জারীকৃত প্রাধিকারপত্রের নির্দ্দিষ্টকৃত কোন পরিদর্শন স্থান পরিবর্তন করিতে পারিবে৷
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন কোন প্রাধিকারপত্র সংশোধন করা হইল-
তথ্য সরবরাহ, ইত্যাদি
২০৷ (১) যদি কোন ব্যক্তি তফসিলভুক্ত রাসায়নিক দ্রব্য বা উহার সৃজন উপাদান বা তফসিল বহির্ভূত স্বতন্ত্র জৈব রাসায়নিক দ্রব্যসহ ফসফরাস, সালফার বা ফ্লোরিনযুক্ত বিষাক্ত জৈব রাসায়নিক দ্রব্যের উত্পাদন, ধারণ, ব্যবহার, স্থানান্তর, আমদানি বা রপ্তানী করেন, তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তি এতদ্সম্পর্কিত প্রয়োজনীয় তথ্য ও দলিলাদি বিধি দ্বারা নির্ধারিত ফরম ও সময়ে জাতীয় কর্তৃপক্ষকে সরবরাহ করিবেন৷
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন সরবরাহকৃত বা, ক্ষেত্রমত, সংরক্ষিত তথ্য বা দলিলাদি সম্পর্কে জাতীয় কর্তৃপক্ষ এই মর্মে নিশ্চিত হইবে যেন উহা কনভেনশন এবং এই আইন ও তদধীনে প্রণীত বিধির বিধান অনুসারে প্রতিফলিত হইয়াছে৷
গোপনীয় তথ্য ও দলিল ব্যবহার সংক্রান্ত বিধান
২১৷ (১) এই আইন বা কনভেনশনের অধীন প্রাপ্ত কোন তথ্য বা দলিল গোপনীয় হিসাবে গণ্য হইবে৷
(২) উপ-ধারা (১) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জরুরী প্রয়োজনে কোন তথ্য বা দলিল প্রকাশ করা সমীচীন বলিয়া জাতীয় কর্তৃপক্ষের নিকট বিবেচিত হইলে উক্ত তথ্য বা দলিল গোপনীয় বলিয়া গণ্য হইবে না৷
(৩) এই আইন ও কনভেনশন কার্যকর করিবার প্রয়োজন ব্যতীত, গোপনীয় তথ্য বা দলিল সংরক্ষণকারী কোন ব্যক্তি, জাতীয় কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ব্যতীত, উহা প্রকাশ করিবেন না, প্রকাশ হইতে দিবেন না বা কাউকে উহা প্রকাশের অনুমতি প্রদান করিবেন না৷
তথ্য, ইত্যাদি সরবরাহের নির্দেশ
২২৷ (১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, জাতীয় কর্তৃপক্ষ, লিখিত আদেশ দ্বারা, প্রয়োজনীয় বিবেচনায়, উক্ত আদেশে উল্লিখিত পদ্ধতি ও সময়ে, কোন তথ্য বা দলিল সরবরাহের জন্য কোন ব্যক্তিকে নিদের্শ প্রদান করিতে পারিবে৷
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন কোন তথ্য বা দলিল সরবরাহের নির্দেশ জারী করা হইলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, যদি স্বাভাবিক ব্যক্তি (natural person) হন, তাহা হইলে তিনি স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে; এবং যদি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা হয়, তাহা হইলে উক্ত সংস্থা কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তার স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে উহা জাতীয় কর্তৃপক্ষকে সরবরাহ করিতে বাধ্য থাকিবেন৷
(৩) এই ধারার অধীন প্রয়োগযোগ্য ক্ষমতা ধারা ২০ এ বিধৃত বিধানের অতিরিক্ত হইবে৷
জাতীয় কর্তৃপক্ষ
২৩৷ (১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, এই আইনের অধীন বাংলাদেশ জাতীয় কর্তপক্ষ, রাসায়নিক অস্ত্র কনভেনশন নামে একটি জাতীয় কর্তৃপক্ষ থাকিবে৷
(২) জাতীয় কর্তৃপক্ষ নিম্নবর্ণিত সদস্য সমন্বয়ে গঠিত হইবে, যথাঃ-
জাতীয় কর্তৃপক্ষের কার্যাবলী
২৪৷ এই আইনের অধীন জাতীয় কর্তৃপক্ষের কার্যাবলী হইবে নিম্নরূপ, যথাঃ-
জাতীয় কর্তৃপক্ষের সভা
২৫৷ (১) প্রতি ছয় মাসে জাতীয় কর্তৃপক্ষের কমপক্ষে একটি সভা অনুষ্ঠিত হইেবঃ
তবে শর্ত থাকে যে, জরুরী প্রয়োজনে চেয়ারম্যানের সম্মতিক্রমে ৭ (সাত) দিনের নোটিশে সভা আহবান করা যাইবে৷
(২) জাতীয় কর্তৃপক্ষের সকল সভা উহার চেয়ারম্যান কর্তৃক নির্ধারিত স্থান ও সময়ে অনুষ্ঠিত হইবে৷
(৩) এই ধারার অন্যান্য বিধানাবলী সাপেক্ষে, জাতীয় কর্তৃপক্ষ উহার সভার কার্যপদ্ধতি নির্ধারণ করিতে পারিবে৷
(৪) চেয়ারম্যান জাতীয় কর্তৃপক্ষের সকল সভায় সভাপতিত্ব করিবেন এবং তাহার অনুপস্থিতিতে সভায় উপস্থিত সদস্যগণের মধ্য হইতে জ্যেষ্ঠতম সদস্য সভাপতিত্ব করিবেন৷
(৫) জাতীয় কর্তৃপক্ষের মোট সদস্যের এক-তৃতীয়াংশের উপস্থিতিতে উহার সভায় কোরাম গঠিত হইবে৷
কমিটি
২৬৷ (১) জাতীয় কর্তৃপক্ষ উহার দায়িত্ব পালনে সহায়তা প্রদানের জন্য প্রয়োজনবোধে, এক বা একাধিক কমিটি গঠন করিতে পারিবে৷
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন গঠিত কমিটি কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নির্ধারিত সংখ্যক সদস্য সমন্বয়ে গঠিত হইবে এবং উক্তরূপ প্রত্যেক কমিটির দায়-দায়িত্ব জাতীয় কর্তৃপক্ষ নির্ধারণ করিতে পারিবে৷
ক্ষমতার্পণ
২৭৷ জাতীয় কর্তৃপক্ষ, প্রয়োজনবোধে, এই আইন বা তদ্ধীন প্রণীত বিধির অধীন উহার কোন ক্ষমতা, লিখিত আদেশ দ্বারা, উহার কোন সদস্য বা কোন কর্মকর্তাকে অর্পণ করিতে পরিবে৷
নির্বাহী সেল এবং উহার কর্মকর্তা ও কর্মচারী
২৮৷ (১) জাতীয় কর্তৃপক্ষের কার্যাবলী সম্পাদনের উদ্দেশ্যে রাসায়নিক অস্ত্র নিষিদ্ধকরণ ও নিরস্ত্রীকরণ সেল নামে একটি নির্বাহী সেল থাকিবে, যাহার প্রধান হইবেন একজন পরিচালক৷
(২) নির্বাহী সেল জাতীয় কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য দায়ী থাকিবে৷
(৩) পরিচালক নির্বাহী সেলের প্রধান নির্বাহী হইবেন এবং তিনি সরকার কর্তৃক নিযুক্ত হইবেন৷
(৪) পরিচালকের চাকুরীর শর্তাদি সরকার কর্তৃক স্থিরীকৃত হইবে৷
(৫) জাতীয় কর্তৃপক্ষের কার্যাবলী সুষ্ঠুভাবে পালনের উদ্দেশ্যে নির্বাহী সেল, বিধি-দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে বিশেষজ্ঞ, পরামর্শদাতা, প্রয়োজনীয় সংখ্যক কর্মকর্তা ও অন্যান্য কর্মচারী নিয়োগ করিতে পারিবে৷
(৬) উপ-ধারা (৩) এর অধীন পরিচালক নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের পরিচালক পদমর্যাদায় কর্মকর্তাগণের মধ্য হইতে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপ্যাল স্টাফ অফিসার কর্তৃক মনোনীত কোন কর্মকর্তা পরিচালকরূপে কাজ করিবেন৷
(৭) উপ-ধারা (৫) এর অধীন কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের বিদ্যমান কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্য হইতে সরকার কর্তৃক মনোনীত প্রয়োজনীয় সংখ্যক কর্মকর্তা ও কর্মচারী জাতীয় কর্তৃপক্ষের কার্য সম্পাদন করিবেন এবং উক্ত কর্মকর্তা, কর্মচারীগণ পরিচালকের অধঃস্তন হইবেন৷
(৮) উপ-ধারা (৩) এর অধীন পরিচালক এবং কর্মকর্তা, কর্মচারী নিয়োগের ক্ষেত্রে, প্রয়োজনে, চেয়ারম্যানের পরামর্শ গ্রহণ করা যাইবে৷
নির্বাহী সেলের ব্যয় নির্বাহ
২৯৷ সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের বাজেট হইতে নির্বাহী সেলের যাবতীয় ব্যয় নির্বাহ করা হইবে৷
জাতীয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশ প্রদানের ক্ষমতা
৩০৷ (১) এই আইন ও তদধীনে প্রণীত বিধির বিধানাবলী সাপেক্ষে, জাতীয় কর্তৃপক্ষ এই আইনের অধীন উহার দায়িত্ব সম্পাদনের উদ্দেশ্যে যে কোন ব্যক্তিকে প্রয়োজনীয় লিখিত নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবে৷
(২) এই ধারার অধীন নির্দেশপ্রাপ্ত ব্যক্তি অনুরূপ নির্দেশ পালন করিতে বাধ্য থাকিবেন৷
(৩) জাতীয় কর্তৃপক্ষ কর্তৃক এই ধারার অধীনে জারীকৃত নির্দেশে সংশ্লিষ্ট কার্য সম্পাদনের সময়সীমা নির্দিষ্ট করিয়া দেওয়া যাইবে৷
ধারা ৫ এর বিধান লঙ্ঘনের দণ্ড
৩১৷ যদি কোন ব্যক্তি ধারা ৫ এর বিধান লঙ্ঘন করেন, তাহা হইলে উক্ত লঙ্ঘন হইবে একটি অপরাধ এবং তজ্জন্য তিনি অনধিক ১৪ (চৌদ্দ) বত্সর কারাদন্ডে এবং ৫০ (পঞ্চাশ) হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদন্ডে দন্ডিত হইবেন৷
ধারা ৬ এর বিধান লঙ্ঘনের দণ্ড
৩২৷ কোন ব্যক্তি যদি ধারা ৬ এর বিধান লঙ্ঘন করেন, তাহা হইলে উক্ত লঙ্ঘন হইবে একটি অপরাধ এবং তজ্জন্য তিনি অনধিক ১০ (দশ) বত্সর কারাদন্ডে এবং ৩০ (ত্রিশ) হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদন্ডে দন্ডিত হইবেন৷
ধারা ৭ এর বিধান লঙ্ঙ্নের দণ্ড
৩৩৷ কোন ব্যক্তি যদি ধারা ৭ এর বিধান লঙ্ঘন করেন, তাহা হইলে উক্ত লঙ্ঘন হইবে একটি অপরাধ এবং তজ্জন্য তিনি অনধিক ৫ (পাঁচ) বত্সর কারাদন্ডে এবং ১৫ (পনের) হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদন্ডে দন্ডিত হইবেন৷
ধারা ৮ এর বিধান লঙ্ঘনের দণ্ড
৩৪৷ কোন ব্যক্তি যদি ধারা ৮ এর বিধান লঙ্ঘন করেন, তাহা হইলে উক্ত লঙ্ঘন হইবে একটি অপরাধ এবং তজ্জন্য তিনি অনধিক ৪ (চার) বত্সর কারাদন্ডে এবং ১২(বার) হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদন্ডে দন্ডিত হইবেন৷
ধারা ৯ এর বিধান লঙ্ঘনের দণ্ড
৩৫৷ কোন ব্যক্তি যদি ধারা ৯ এর বিধান লঙ্ঘন করেন, তাহা হইলে উক্ত লঙ্ঘন হইবে একটি অপরাধ এবং তজ্জন্য তিনি অনধিক ৩ (তিন) বত্সর কারাদন্ডে এবং ১০(দশ) হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদন্ডে দন্ডিত হইবেন৷
পরিদর্শন সংক্রান্ত অপরাধ
৩৬৷ (১) ধারা ১২ এর অধীন প্রাধিকার পত্র প্রদান করা হইলে, কোন ব্যক্তির নিম্নবর্ণিত যে কোন কাজ হইবে একটি অপরাধ, যথাঃ-
(২) কোন ব্যক্তি উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত যে কোন অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হইলে তিনি ২ (দুই) বত্সর কারাদন্ড বা অনধিক ১০ (দশ) হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদন্ডে বা উভয় দন্ডে দন্ডনীয় হইবেন৷
ধারা ২০ এর বিধান লঙ্ঘনের দণ্ড
৩৭৷ কোন ব্যক্তি যদি ধারা ২০ এর বিধান লঙ্ঘন করে, তাহা হইলে উক্ত লঙ্ঘন হইবে একটি অপরাধ এবং তজ্জন্য তিনি অনধিক ১ (এক) বত্সর কারাদন্ডে বা ৩ (তিন) হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদন্ডে বা উভয় দন্ডে দন্ডিত হইবেন৷
ধারা ২১ এর বিধান লঙ্ঘনের দণ্ড
৩৮৷ কোন ব্যক্তি যদি ধারা ২১ এর বিধান লঙ্ঘন করে, তাহা হইলে উক্ত লঙ্ঘন হইবে একটি অপরাধ এবং তজ্জন্য তিনি অনধিক ১ (এক) বত্সর কারাদন্ডে বা ৫ (পাঁচ) হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদন্ডে বা উভয় দন্ডে দন্ডিত হইবেন৷
অপরাধ বিচারার্থ গ্রহণ, ইত্যাদি
৩৯৷ ফৌজদারী কার্যবিধিতে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, সরকারের নিকট হইতে এতদুদ্দেশ্যে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন কর্মকর্তার লিখিত অভিযোগ ব্যতীত কোন আদালত এই আইনের অধীন কোন মামলা বিচারার্থ গ্রহণ করিবে না৷
অপরাধের জামিন ও আমলযোগ্যতা
৪০৷ এই আইনে অপরাধসমূহ অজামিনযোগ্য (non-bailble) এবং আমলযোগ্য (cognizable) হইবে৷
কোম্পানী, ইত্যাদি কর্তৃক অপরাধ সংঘটন
৪১৷ কোন কোম্পানী কর্তৃক এই আইনের অধীন কোন অপরাধ সংঘটিত হইলে উক্ত অপরাধের সহিত প্রত্যক্ষ সংশ্লিষ্টতা রহিয়াছে কোম্পানীর এমন প্রত্যেক পরিচালক, ম্যানেজার, সচিব, অংশীদার, কর্মকর্তা এবং কর্মচারী উক্ত অপরাধ সংঘটন করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবে, যদি না তিনি প্রমাণ করিতে পারেন যে, উক্ত অপরাধ তাহার অজ্ঞাতসারে সংঘটিত হইয়াছে অথবা উক্ত অপরাধ রোধ করিবার জন্য তিনি যথাসাধ্য চেষ্টা করিয়াছেন৷
ব্যাখ্যাঃ এই ধারায়-
ফৌজদারী কার্যবিধির প্রয়োগ
৪২৷ এই আইনের অধীন অপরাধের তদন্ত, বিচার, আপীল ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট বিষয়ে, এই আইনের বিধানাবলীর সহিত অসঙ্গতিপূর্ণ না হওয়া সাপেক্ষে, ফৌজদারী কার্যবিধি প্রযোজ্য হইবে৷
প্রবেশ, আটক, ইত্যাদির ক্ষমতা
৪৩৷ (১) এই আইনে বর্ণিত কোন বিষয়ে পরিদর্শন বা কোন অপরাধ তদন্তের উদ্দেশ্যে, জাতীয় কর্তৃপক্ষ বা এখতিয়ারসম্পন্ন্ন আদালত কর্তৃক নির্দেশিত হইলে, জাতীয় কর্তৃপক্ষ হইতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন ব্যক্তি বা ধারা ১২ এর অধীন কোন পরিদর্শন কার্য পরিচালনার জন্য প্রাধিকারপ্রাপ্ত ব্যক্তি বা পরিদর্শন দল, যে কোন যুক্তিসঙ্গত কারণে, যে কোন সময়ে যে কোন স্থাপনা, স্থান বা যে কোন ধরণের যানবাহনে প্রবেশ, তল্লাশি বা কোন কিছু আটক বা কোন কিছুর নমুনা সংগ্রহ বা উক্ত স্থাপনা বা স্থান পরিদর্শন করিতে পারিবেনঃ
তবে শর্ত থাকে যে, এই ধারার অধীন কোন স্থাপনা, স্থান বা যে কোন ধরণের যানবাহনের প্রবেশের ক্ষেত্রে মালিক বা, ক্ষেত্রমত, দখলকারের চাহিদার ভিত্তিতে জাতীয় কর্তৃপক্ষ বা আদালতের নির্দেশপত্র প্রদর্শন করিতে হইবে৷
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন কোন ব্যক্তি বা পরিদর্শন দল কোন স্থাপনা, স্থান বা যে কোন ধরণের যানবাহনে প্রবেশের সময় প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও আনুষাঙ্গিক সরঞ্জামাদি সঙ্গে নিতে পারিবে৷
(৩) উপ-ধারা (১) এর উদ্দেশ্যে পূরণকল্পে, উক্ত ব্যক্তি বা পরিদর্শন দল প্রয়োজনবোধে ফৌজদারী কার্যবিধির ধারা ৯৬ অনুসারে যে কোন ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট তল্লাশি পরোয়ানা ইস্যুর জন্য আবেদন করিতে পারিবেন৷
(৪) এই ধারার অধীন তল্লাশি, আটক বা পরিদর্শনের ক্ষেত্রে উক্ত ব্যক্তি বা পরিদর্শন দল যথাসম্ভব ফৌজদারী কার্যবিধি এবং এই আইনের অধীন এতদ্দুদ্দেশ্যে প্রণীত বিধির বিধান অনুসরণ করিবেন৷
(৫) উপ-ধারা (১) ও (২) এর অধীন প্রবেশের পর কোন স্থাপনা, স্থান বা যে কোন ধরণের যানবাহনে রাসায়নিক অস্ত্র বা সন্দেহজনক দ্রব্য পাওয়া গেলে পরিদর্শক দল বা ব্যক্তি উহা হেফাজতে লইবে, এবং-
রাসায়নিক অস্ত্র ধ্বংসকরণ
৪৪৷ (১) যদি জাতীয় কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে যে, ধারা ৪৩ এর উপ-ধারা (৫) এর অধীন আটক বা অপসারিত কোন রাসায়নিক অস্ত্র বা সন্দেহজনক দ্রব্য ধ্বংস করা প্রয়োজন, তাহা হইলে উক্ত কর্তৃপক্ষ উহা ধ্বংস করিবার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে পারিবে৷
(২) এই ধারার অধীন ধ্বংসকরণ পদ্ধতি কনভেনশনের ধ্বংসকরণ পদ্ধতি সম্পর্কিত বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে৷
(৩) ধারা ৪৩ এর উপ-ধারা (৫) এর অধীন আটক বা অপসারিত এবং এই ধারার অধীন ধ্বংসকৃত রাসায়নিক অস্ত্র বা সন্দেহজনক দ্রব্য আটকের, অপসারণের বা ধ্বংসকরণের জন্য যে ব্যয় হইবে উহা সংশ্লিষ্ট দায়ী ব্যক্তি বা যাহার দখল হইতে উক্ত অস্ত্র বা দ্রব্য অপসারণ করা হইয়াছে সেই ব্যক্তির নিকট হইতে, বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে, আদায় করা যাইবে৷
অপরাধের সহিত সংশ্লিষ্ট বস্তু, যন্ত্রপাতি বাজেয়াপ্তি, ইত্যাদি
৪৫৷ (১) এই আইনের অধীন কোন ব্যক্তি কোন অপরাধ সংঘটনের জন্য দোষী সাব্যস্ত ও দন্ডিত হইলে, উক্ত অপরাধ সংঘটনে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি বা উহার অংশ বিশেষ, যানবাহন বা অপরাধ সংশ্লিষ্ট রাসায়নিক অস্ত্র বা দ্রব্যাদি বাজেয়াপ্তযোগ্য হইবে৷
(২) উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত কোন যন্ত্রপাতি বা উহার অংশ বিশেষ, যানবাহন বা রাসায়নিক অস্ত্র বা দ্রব্যাদি বাজেয়াপ্ত করা হইলে, উহা জাতীয় কর্তৃপক্ষ কর্তৃক বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে, ধ্বংস বা, ক্ষেত্রমত, বিলিবন্দেজ করা যাইবে৷
প্রতিবেদন
৪৬৷ (১) প্রতি খ্রিস্টাব্দ পঞ্জিকা বত্সর সমাপ্তির দুই মাসের মধ্যে জাতীয় কর্তৃপক্ষ উক্ত বত্সর সম্পর্কিত কার্যাবলীর খতিয়ান সম্বলিত একটি বার্ষিক প্রতিবেদন সরকারের নিকট পেশ করিবে৷
(২) সরকার, প্রয়োজনে, জাতীয় কর্তৃপক্ষের নিকট হইতে যে কোন সময় যে কোন বিষয়ের উপর প্রতিবেদন বা বিবরণী তলব করিতে পারিবে৷
সরল বিশ্বাসে কৃত কর্ম রক্ষণ
৪৭৷ এই আইন বা তদধীনে প্রণীত বিধির অধীন সরল বিশ্বাসে কৃত বা কৃত বলিয়া আপাততঃদৃষ্টে বিবেচনা করা যায় এমন কোন কাজকর্মের ফলে কোন ব্যক্তি ক্ষতিগস্ত হইলে বা ক্ষতিগ্রস্ত হইবার সম্ভাবনা থাকিলে তজ্জন্য চেয়ারম্যান বা অন্য কোন সদস্য বা পরিচালক বা অন্য কোন কর্মকর্তা ও কর্মচারী বা পরিদর্শন দলের কোন সদস্যের বিরুদ্ধে কোন দেওয়ানী বা ফৌজদারী মামলা দায়ের বা অন্য কোন কার্যধারা গ্রহণ করা যাইবে না৷
বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা
৪৮৷ এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, জাতীয় কর্তৃপক্ষ, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে৷
আইনের ইংরেজী অনুবাদ প্রকাশ
৪৯৷ এই আইন প্রবর্তনের পর সরকার যথাশীঘ্র সম্ভব, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইনের ইংরেজী অনুবাদ প্রকাশ করিবে, যাহা অনুমোদিত ইংরেজী পাঠরূপে গণ্য হইবেঃ
তবে শর্ত থাকে যে, এই আইন ও ইংরেজী পাঠের মধ্যে কোন বিরোধ দেখা দিলে এই আইন কার্যকর হইবে৷