কারাগারে আটক সাজাপ্রাপ্ত নারীদের বিশেষ সুবিধা প্রদানের নিমিত্ত বিধান প্রণয়নের লক্ষ্যে প্রণীত আইন যেহেতু কারাগারে আটক সাজাপ্রাপ্ত নারীদের বিশেষ সুবিধা প্রদানের লক্ষ্যে বিধান করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়; সেহেতু এতদ্দ্বারা নিম্নরূপ আইন প্রণয়ন করা হইলঃ-
১৷ (১) এই আইন কারাগারে আটক সাজাপ্রাপ্ত নারীদের বিশেষ সুবিধা আইন, ২০০৬ নামে অভিহিত হইবে৷
(২) ইহা অবিলেম্ব কার্যকর হইবে৷
২৷ বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থী কোন কিছু না থাকিলে, এই আইনে-
৩৷ এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে নিম্নবণির্ত সুবিধাসমূহ বিশেষ সুবিধা হিসাবে গণ্য হইবে, যথাঃ-
৪৷ এই আইনের অধীন ১ (এক) বত্সরের অধিক যে কোন মেয়াদে কারাদণ্ডপ্রাপ্ত কোন কয়েদি রেয়াতসহ শতকরা ৫০% কারাদণ্ড ভোগের পর বিশেষ সুবিধা পাওয়ার অধিকারী হইবে৷
৫৷ নিম্নবণির্ত শ্রেণীর কয়েদি এই আইনের অধীন প্রদত্ত বিশেষ সুবিধা পাওয়ার অধিকারী হইবেন না, যথাঃ-
৬৷ (১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে কারাগারে আটক সাজাপ্রাপ্ত নারীদের বিশেষ সুবিধা প্রদান জাতীয় কমিটি নামে একটি কমিটি থাকিবে৷
(২) জাতীয় কমিটি নিম্নবণির্ত সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত হইবে, যথাঃ-
(৩) জাতীয় কমিটির মনোনীত কোন সদস্য তাঁহার মনোনয়নের তারিখ হইতে ২ (দুই) বত্সরের জন্য সদস্য পদে বহাল থাকিবেনঃ
তবে শর্ত থাকে যে, সরকার যে কোন সময় তাহার মনোনয়ন বাতিল করিতে পারিবে৷
(৪) সরকারের উদ্দেশ্যে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে কোন মনোনীত সদস্য স্বীয় পদ ত্যাগ করিতে পারিবেন৷
৭৷ জাতীয় কমিটির দায়িত্ব ও কর্তব্য হইবে নিম্নরূপ, যথাঃ-
৮৷ (১) এই ধারার অন্যান্য বিধানাবলী সাপেক্ষে, জাতীয় কমিটি উহার সভার কার্যপদ্ধতি নির্ধারণ করিতে পারিবে৷
(২) জাতীয় কমিটির সকল সভা উহার চেয়ারম্যান কর্তৃক নির্ধারিত স্থান ও সময়ে অনুষ্ঠিত হইবেঃ
তবে শর্ত থাকে যে, প্রতি তিন মাসে জাতীয় কমিটির কমপক্ষে একটি সভা অনুষ্ঠিত হইবে৷
(৩) চেয়ারম্যান জাতীয় কমিটির সকল সভায় সভাপতিত্ব করিবেন এবং তাহার অনুপস্থিতিতে কো-চেয়ারম্যান সভাপতিত্ব করিবেন৷
(৪) অন্যুন ৪ (চার) জন সদস্যের উপস্থিতিতে জাতীয় কমিটির সভায় কোরাম হইবে৷
(৫) জাতীয় কমিটি গঠনে কোন ত্রুটি রহিয়াছে বা উহাতে কোন শূন্যতা রহিয়াছে শুধু এই কারণে জাতীয় কমিটির কোন কার্য বা কার্যধারা বে-আইনী হইবে না বা তত্সম্পর্কে কোন প্রশ্ন উত্থাপন করা যাইবে না৷
৯৷ (১) কারাগারে আটক সাজাপ্রাপ্ত নারীদের বিশেষ সুবিধা প্রদান জেলা কমিটি নামে প্রতিটি জেলায় একটি করিয়া কমিটি থাকিবে৷
(২) জেলা কমিটি নিম্নবণির্ত সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত হইবে, যথাঃ-
(৩) উপ-ধারা (২) এর দফা (জ) ও (ঝ) এর অধীন মনোনীত সদস্য মনোনয়নের তারিখ হইতে ২ (দুই) বত্সরের জন্য সদস্য পদে বহাল থাকিবেনঃ
তবে শর্ত থাকে যে, জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা ক্ষেত্রমত, জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থার জেলা কমিটির সভাপতি যে কোন সময় তাহার মনোনয়ন বাতিল করিতে পারিবেন৷
(৪) জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা ক্ষেত্রমত, জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থার জেলা কমিটির সভাপতির উদ্দেশ্যে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে মনোনীত কোন সদস্য স্বীয় পদ ত্যাগ করিতে পারিবেন৷
১০৷ জেলা কমিটির দায়িত্ব ও কর্তব্য হইবে নিম্নরূপ, যথাঃ-
১১৷ (১) জেলা কমিটি উহার সভার কার্যপদ্ধতি নির্ধারণ করিতে পারিবে৷
(২) জেলা কমিটির সকল সভা উহার সভাপতি কর্তৃক নির্ধারিত স্থান ও সময়ে অনুষ্ঠিত হইবেঃ
তবে শর্ত থাকে যে, প্রতি দুই মাসে জেলা কমিটির কমপক্ষে একটি সভা অনুষ্ঠিত হইবে৷
(৩) সভাপতি জেলা কমিটির সকল সভায় সভাপতিত্ব করিবেন এবং তাঁহার অনুপস্থিতিতে তত্কর্তৃক মনোনীত জেলা কমিটির অন্য কোন সদস্য সভাপতিত্ব করিবেন৷
(৪) অন্যুন ৬ (ছয়) জন সদস্যের উপস্থিতিতে জেলা কমিটির সভায় কোরাম হইবে৷
১২৷ (১) ধারা ৪ এর অধীন বিশেষ সুবিধা পাওয়ার অধিকারী কোন কয়েদি বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্তির লক্ষ্যে কারাগার কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে জাতীয় কমিটি বা ক্ষেত্রমত, জেলা কমিটির নিকট আবেদন করিতে পারিবেন৷
(২) উপ-ধারা (১) এর বিধান সত্ত্বেও কোন কয়েদি বিশেষ সুবিধা পাওয়ার অধিকারী হইলে প্রবেশন অফিসার উক্ত কয়েদির সুবিধাপ্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করিবার লক্ষ্যে জাতীয় কমিটি বা ক্ষেত্রমত, জেলা কমিটির নিকট প্রতিবেদন দাখিল করিবেন৷
১৩৷ জাতীয় কমিটি বা ক্ষেত্রমত, জেলা কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই আইনের অধীন বিশেষ সুবিধা প্রদান বিষয়ে প্রশাসনিক আদেশ জারী করিবে এবং এই ক্ষেত্র জাতীয় কমিটি কিংবা জেলা কমিটির সুপারিশ চূড়ান্ত বলিয়া গণ্য হইবে৷
১৪৷ (১) কোন কয়েদিকে এই আইনের অধীন বিশেষ সুবিধা প্রদান করা হইলে, তাহাকে তফসিলে উল্লিখিত ‘ছক' অনুযায়ী একটি মুচলেকা কারাগার কর্তৃপক্ষের নিকট দাখিল করিতে হইবে।
(২) বিশেষ সুবিধা প্রদানের জন্য যে শর্ত নির্ধারণ করা হইবে তাহা উপ-ধারা (১) এ বর্ণিত মুচলেকাতে উল্লেখ থাকিবে এবং বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্ত কয়েদি উক্ত শর্ত মানিয়া চলিতে বাধ্য থাকিবে।
১৫৷ (১) এই আইনের ধারা ১৪ এর অধীন প্রদত্ত কোন শর্ত কোন কয়েদি লঙ্ঘন করিলে প্রবেশন অফিসার উক্ত শর্ত লংঘনের বিষয়ে জাতীয় কমিটি বা ক্ষেত্রমত, জেলা কমিটির নিকট বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিল করিবেন৷
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন প্রতিবেদন প্রাপ্তির পর জাতীয় কমিটি বা ক্ষেত্রমত, জেলা কমিটি প্রতিবেদন বিবেচনাপূর্বক উক্ত কয়েদিকে ব্যক্তিগতভাবে শুনানীর সুযোগ প্রদান করিয়া ক্ষেত্রমত, প্রদত্ত বিশেষ সুবিধা বাতিল করিবার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এর নিকট সুপারিশ প্রেরণ করিবে৷
(৩) উপ-ধারা (২) এর অধীন প্রেরিত সুপারিশ অনুযায়ী স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রদত্ত বিশেষ সুবিধা বাতিল সংক্রান্ত প্রশাসনিক আদেশ জারী করিবে৷
(৪) উপ-ধারা (৩) এর অধীন বিশেষ সুবিধা একবার বাতিল করা হইলে কোন কয়েদি পুনরায় বিশেষ সুবিধা পাওয়ার অধিকারী হইবেন না৷
১৬৷ (১) ধারা ১৫ এর অধীন কোন কয়েদির বিশেষ সুবিধা বাতিল করা হইলে উক্ত কয়েদি বাতিল আদেশটি রিভিউ করিবার জন্য আদেশ প্রাপ্তির ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করিতে পারিবেন৷
(২) উপ-ধারা (১) অনুযায়ী কোন আবেদন করা হইলে স্বরাষ্ট মন্ত্রণালয় উক্ত আবেদন বিবেচনাপূর্বক যথাযথ আদেশ প্রদান করিতে পারিবে এবং এই ক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত বলিয়া গণ্য হইবে৷
১৭৷ (১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে সরকার প্রয়োজনীয় সংখ্যক প্রবেশন অফিসার নিয়োগ করিতে পারিবে৷
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন প্রবেশন অফিসার নিয়োগ না হওয়া পযর্ন্ত সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় কর্তৃক নিয়োগকৃত প্রবেশন অফিসারগণ এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে ‘প্রবেশন অফিসার' হিসাবে দায়িত্ব্ পালন করিবেন৷
(৩) এই ধারা অধীন নিয়োগপ্রাপ্ত প্রবেশন অফিসারের দায়িত্ব, ক্ষমতা ও কর্ম পদ্ধতি বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে৷
১৮৷ এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, সরকার, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে৷