বাস র্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) আইন, ২০১৬
জনসাধারণকে স্বল্পব্যয়ে দ্রুত ও উন্নত সড়ক নির্ভর বাস ভিত্তিক গণপরিবহন সেবা প্রদানের লক্ষ্যে বাস র্যাপিড ট্রানজিট ব্যবস্থার অবকাঠামো নির্মাণ, পরিচালনা, উন্নয়ন, রক্ষণাবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ এবং আনুষঙ্গিক বিষয়ে বিধান প্রণয়নকল্পে প্রণীত আইন
জনসাধারণকে স্বল্পব্যয়ে দ্রুত ও উন্নত সড়ক নির্ভর বাস ভিত্তিক গণপরিবহন সেবা প্রদানের লক্ষ্যে বাস র্যাপিড ট্রানজিট ব্যবস্থার অবকাঠামো নির্মাণ, পরিচালনা, উন্নয়ন, রক্ষণাবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ এবং আনুষঙ্গিক বিষয়ে বিধান প্রণয়নকল্পে প্রণীত আইন যেহেতু জনসাধারণের জন্য নির্বিঘ্নে, স্বল্পব্যয়ে, দ্রুত ও উন্নততর সড়ক নির্ভর যাতায়াত ব্যবস্থা নিশ্চিত করা আবশ্যক; এবং যেহেতু জনসাধারণকে স্বল্পব্যয়ে দ্রুত ও উন্নত সড়ক নির্ভর বাস ভিত্তিক গণপরিবহন সেবা প্রদানের লক্ষ্যে বাস র্যাপিড ট্রানজিট ব্যবস্থার অবকাঠামো নির্মাণ, পরিচালনা, উন্নয়ন, রক্ষণাবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ এবং তদ্সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিধান করা সমীচীন ও প্রয়োজন; সেহেতু এতদ্দ্বারা নিম্নরূপ আইন করা হইল: -
Section ১. সংক্ষিপ্ত শিরোনাম, প্রবর্তন ও প্রয়োগ
(১) এই আইন বাস র্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) আইন, ২০১৬ নামে অভিহিত হইবে।
(২) এই আইন -
এবং
Section ২. সংজ্ঞা
বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থি কোন কিছু না থাকিলে, এই আইনে-
(১) ‘‘আপিল কর্তৃপক্ষ’’ অর্থ ধারা ২৬ এর অধীন গঠিত আপিল কর্তৃপক্ষ;
(২) ‘‘কমিশনার’’ অর্থ সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় কমিশনার এবং অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনারও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবেন;
(৩) ‘‘কর্তৃপক্ষ’’ অর্থ ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ আইন, ২০১২ (২০১২ সনের ৮ নং আইন) এর ধারা ৪ এর অধীন গঠিত ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ;
(৪) ‘‘জনস্বার্থ বিরোধী উদ্দেশ্য’’ অর্থ বিআরটি নির্মাণ, পরিচালনা, রক্ষণাবেক্ষণ, উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণে বাধা প্রদান, বিঘ্ন সৃষ্টি বা বিলম্বিত করিবার লক্ষ্যে কোনো কাজ বা ব্যবস্থা গ্রহণক্রমে ক্ষতিপূরণ হিসাবে বা অন্য কোনোভাবে আর্থিক সুবিধা লাভের উদ্দেশ্য বা অভিপ্রায়;
(৫) ‘‘জরুরি সেবা প্রদানকারী সংস্থা’’ অর্থ স্থানীয় প্রশাসন, স্থানীয় পুলিশ কর্তৃপক্ষ, স্থানীয় স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী কর্তৃপক্ষ, ফায়ার সার্ভিস, এ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস, বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি, অপটিক্যাল ফাইবার, টেলিযোগাযোগ সেবা, পয়ঃনিষ্কাশন ও ড্রেনেজ সেবা প্রদানকারী সংস্থা বা অনুরূপ অন্য কোনো সংস্থা;
(৬) ‘‘ডেপুটি কমিশনার’’ অর্থ Acquisition and Requisition of Immovable Property Ordinance, 1982 (Ordinance No. II of 1982) এর section 2 এর clause (b) তে সংজ্ঞায়িত Deputy Commissioner;
(৭) ‘‘নির্ধারিত’’ অর্থ এই আইনের অধীন প্রণীত বিধি বা প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত;
(৮) ‘‘নির্বাহী পরিচালক’’ অর্থ ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ আইন, ২০১২ (২০১২ সনের ৮ নং আইন) এর ধারা ১২ এর অধীন নিযুক্ত নির্বাহী পরিচালক;
(৯) ‘‘পরিদর্শক’’ অর্থ এই আইনের ধারা ২৩ এর অধীন নিযুক্ত পরিদর্শক;
(১০) ‘‘প্রবিধান’’ অর্থ এই আইনের অধীন প্রণীত প্রবিধান;
(১১) ‘‘ফৌজদারী কার্যবিধি’’ অর্থ Code of Criminal Procedure, 1898 (Act No. V of 1898);
(১২) ‘‘বাস র্যাপিড ট্রানজিট’’ বা ‘‘বিআরটি’’ অর্থ বিআরটি বাস চলাচলের জন্য সুনির্দিষ্ট পৃথক এলিভেটেডসহ ডেডিকেটেড লেন সম্বলিত সড়ক নির্ভর বাস ভিত্তিক দ্রুত গণপরিবহন ব্যবস্থা, এবং উক্ত ব্যবস্থার সহিত সংশ্লিষ্ট সকল স্থাপনা, যন্ত্রপাতি ও অন্য কোনো সরঞ্জামাদিও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে;
(১৩) ‘‘বিআরটি এলাকা’’ অর্থ বিআরটি নির্মাণ, পরিচালনা, রক্ষণাবেক্ষণ, উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণের জন্য কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নির্ধারিত এলাকা ও উক্ত এলাকায় ব্যবহৃত ভূমি ও স্থাপনা;
(১৪) ‘‘বিআরটি সেবা’’ অর্থ বিআরটি লেন সম্বলিত সড়ক নির্ভর বিআরটি বাস ভিত্তিক গণপরিবহন সেবা;
(১৫) ‘‘বিধি’’ অর্থ এই আইনের অধীন প্রণীত বিধি;
(১৬) ‘‘ব্যক্তি’’ অর্থ প্রাকৃতিক ব্যক্তিসত্তা বিশিষ্ট একক ব্যক্তি (individual), কোনো প্রতিষ্ঠান, কোম্পানি, অংশীদারী কারবার, ফার্ম বা অন্য যে কোনো সংস্থাও উহার অন্তর্ভুক্ত হইবে;
(১৭) ‘‘ভূমি অধিগ্রহণ আইন’’ অর্থ Acquisition and Requisition of Immovable Property Ordinance, 1982 (Ord. No. II of 1982);
(১৮) ‘‘লাইসেন্স’’ অর্থ এই আইনের অধীন ইস্যুকৃত লাইসেন্স; এবং
(১৯) ‘‘লাইসেন্স গহীতা’’ অর্থ এই আইনের অধীন লাইসেন্স প্রাপ্ত ব্যক্তি।
Section ৩. আইনের প্রাধান্য
আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইনের বিধানাবলী প্রাধান্য পাইবে।
Section ৪. ভূমি অধিগ্রহণ
এই আইনের অন্যান্য বিধান সাপেক্ষে, বিআরটি নির্মাণ, পরিচালনা, রক্ষণাবেক্ষণ, উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ বা এতদ্সংশ্লিষ্ট উদ্দেশ্যে কোনো ভূমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন হইলে, উহা, জনস্বার্থে, প্রয়োজন বলিয়া গণ্য হইবে এবং কর্তৃপক্ষের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে প্রচলিত আইনের বিধান অনুযায়ী ভূমি অধিগ্রহণ করা যাইবে।
Section ৫. বিশেষ বিধান
(১) বিআরটি নির্মাণ, পরিচালনা, রক্ষণাবেক্ষণ, উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ বা এতদ্সংশ্লিষ্ট উদ্দেশ্যে অধিগ্রহণাধীন বা অধিগ্রহণ হইতে পারে এইরূপ ভূমির উপর জনস্বার্থ বিরোধী উদ্দেশ্যে নির্মিত বা নির্মাণাধীন ঘর-বাড়ি বা অন্য কোনো প্রকার স্থাপনার জন্য বা একই উদ্দেশ্যে কোনো ঘর-বাড়ি বা স্থাপনার বা ভূমির শ্রেণি পরিবর্তন করা হইলে উক্তরূপ পরিবর্তনের জন্য কোনো ব্যক্তি ক্ষতিপূরণ পাইবার অধিকারী হইবেন না।
(২) ভূমি অধিগ্রহণ আইনের ধারা ৮ এর অধীন ক্ষতিপূরণ নির্ধারণকালে ডেপুটি কমিশনার যদি এই মর্মে সন্তুষ্ট হন যে, বিআরটি এর জন্য অধিগ্রহণাধীন কোনো ভূমির উপর নির্মিত বা নির্মাণাধীন কোনো ঘর-বাড়ি বা অন্য কোনো প্রকার স্থাপনা জনস্বার্থ বিরোধী উদ্দেশ্যে নির্মাণ করা হইয়াছে বা নির্মাণাধীন আছে বা একই উদ্দেশ্যে অন্য কোনভাবে আর্থিক সুবিধা লাভের জন্য কোনো ঘর-বাড়ি বা স্থাপনা বা ভূমির শ্রেণি পরিবর্তন করা হইয়াছে,তাহা হইলে তিনি উক্তরূপ ঘর-বাড়ি বা স্থাপনা পরিবর্তনকে উক্ত আইনের অধীন ক্ষতিপূরণ প্রদানের জন্য বিবেচনা করিবেন না এবং এইরূপ ক্ষতিপূরণের দাবী, যদি থাকে, তিনি উহা প্রত্যাখ্যান করিবেন।
(৩) কোনো ব্যক্তি উপ-ধারা (২) এর অধীন ক্ষতিপূরণের দাবি প্রত্যাখ্যানের কারণে সংক্ষুব্ধ হইলে, প্রত্যাখ্যান আদেশ জারির ১৫ (পনের) কার্যদিবসের মধ্যে ক্ষতিপূরণের দাবিতে কমিশনারের নিকট উক্ত প্রত্যাখ্যানের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করিতে পারিবেন।
(৪) কমিশনার, উপ-ধারা (৩) এর অধীন আপিল আবেদন প্রাপ্তির ৫(পাঁচ) কার্যদিবসের মধ্যে, আপিলের বিষয়টি সরেজমিনে তদন্ত করিবেন বা উপযুক্ত কর্মকর্তা দ্বারা তদন্ত করাইবেন এবং অতঃপর আপিলকারীকে শুনানীর সুযোগ প্রদানপূর্বক অনধিক ১০(দশ) কার্যদিবসের মধ্যে, আপিলের উপর তাঁহার সিদ্ধান্ত প্রদান করিবেন।
(৫) উপ-ধারা (৪) এর অধীন প্রদত্ত কমিশনারের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত বলিয়া গণ্য হইবে।
(৬) উপ-ধারা (৪) এর অধীন প্রদত্ত সিদ্ধান্ত দ্বারা যদি আপিল নামঞ্জুর করা হয়, তাহা হইলে উক্তরূপ সিদ্ধান্ত প্রদানের পর উহা জারির ২৪ (চব্বিশ) ঘণ্টার মধ্যে আপিলকারী সংশ্লিষ্ট ঘর-বাড়ি বা স্থাপনা নিজ খরচ ও দায়িত্বে সরাইয়া নিবেন, অন্যথায় ডেপুটি কমিশনার উক্ত ঘর-বাড়ি বা স্থাপনা বাজেয়াপ্ত করিবেন এবং প্রকাশ্য নিলামে বিক্রয় করিয়া বিক্রয়লব্ধ অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা করিবেন।
(৭) উপ-ধারা (২) এর অধীন ডেপুটি কমিশনার কর্তৃক ক্ষতিপূরণের দাবি প্রত্যাখ্যানের বিরুদ্ধে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি যদি উপ-ধারা (৩) এর অধীন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আপিল দায়ের না করেন, তাহা হইলে উক্ত সময়ের পরবর্তী ২৪ (চবিবশ) ঘণ্টার মধ্যে তিনি সংশ্লিষ্ট ঘর-বাড়ি বা স্থাপনা সরাইয়া নিবেন, অন্যথায় ডেপুটি কমিশনার উপ-ধারা (৬) এ উল্লিখিত ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন।
(৮) এই আইনের অধীন অধিগ্রহণকৃত ভূমির ক্ষতিপূরণ কর্তৃপক্ষের নিকট হইতে ৬০ (ষাট) দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ বা কাউন্সিলের কার্যালয়ে ডেপুটি কমিশনার কর্তৃক পূর্ব ঘোষিত তারিখ ও সময়সূচি অনুযায়ী প্রকাশ্যে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিকে অর্থ পরিশোধ করিবেন।
(৯) বিআরটি নির্মাণ, পরিচালনা, রক্ষণাবেক্ষণ, উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ বা এতদ্সংশ্লিষ্ট উদ্দেশ্যে অধিগ্রহণাধীন কোনো ভূমির শ্রেণি জনস্বার্থ বিরোধী উদ্দেশ্যে পরিবর্তন করা হইলে, উক্তরূপ পরিবর্তনের জন্য উক্ত ভূমির কোনো ক্ষতি হইলে, ডেপুটি কমিশনার সংশ্লিষ্ট ভূমির মালিকের নিকট হইতে উক্ত ক্ষতি বাবদ যথাযথ পরিমাণ ক্ষতিপূরণ, বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে, আদায় করিতে পারিবেন।
(১০) ভূমি অধিগ্রহণ আইনের ধারা ৩ এর অধীন নোটিশ জারির অব্যবহিত পূর্বে সংশ্লিষ্ট ডেপুটি কমিশনার কর্তৃক অধিগ্রহণাধীন ভূমির যে ভিডিও চিত্র গ্রহণ ও সংরক্ষণ করা হইয়াছে, উক্ত ভিডিও চিত্র, এই অধ্যায়ের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, এই আইনের অধীন গৃহীত ও সংরক্ষিত হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে এবং উক্ত ভিডিও চিত্রের ভিত্তিতে উক্ত ভূমির ক্ষতিপূরণ নির্ধারণপূর্বক উহা পরিশোধের ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে হইবে।
(১১) এই অধ্যায়ের অধীন প্রদত্ত কোনো আদেশ বা গৃহীত কোনো কার্যক্রমের বিরুদ্ধে কোনো আদালত কোনো মামলা বা দরখাস্ত গ্রহণ করিবে না, বা গৃহীত বা গৃহীতব্য কোনো কার্যক্রম সম্পর্কে কোনো আদালত কোনো প্রকার নিষেধাজ্ঞা জারি করিতে পারিবে না।
Section ৬. ধারা ৫ এর বিধানাবলীর প্রাধান্য
ভূমি অধিগ্রহণ আইন বা তদ্ধীন প্রণীত বিধি বা আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইন বা বিধিতে ভিন্নতর যাহা কিছুই থাকুক না কেন, বিআরটি নির্মাণ, পরিচালনা, রক্ষণাবেক্ষণ, উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ বা এতদ্সংশ্লিষ্ট উদ্দেশ্যে ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে ধারা ৫ এর বিশেষ বিধান কার্যকর থাকিবে।
Section ৭. বিআরটি নির্মাণ, পরিচালনা, উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য লাইসেন্স গ্রহণ
কোনো ব্যক্তি লাইসেন্স গ্রহণ ব্যতীত বিআরটি নির্মাণ, পরিচালনা, উন্নয়ন, রক্ষণাবেক্ষণ অথবা বিআরটি সেবা প্রদান করিতে পারিবেন না।
Section ৮. লাইসেন্সের জন্য আবেদন, ইত্যাদি
এই আইনের অধীন লাইসেন্সের জন্য আবেদন, বা লাইসেন্স নবায়ন, সংরক্ষণ, প্রদর্শন, স্থগিতকরণ, বাতিলকরণ বা সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়াদি এই আইনের অধীন প্রণীত বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে।
Section ৯. লাইসেন্স ইস্যুকরণ
(১) কর্তৃপক্ষ, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, ধারা ১১ এর অধীন গঠিত বাছাই কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে, বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতি, মেয়াদ ও শর্তে এবং ফিস আদায় সাপেক্ষে লাইসেন্স ইস্যু করিবে।
(২) উপ -ধারা (১) এ ভিন্নতর যাহা কিছুই থাকুক না কেন, সরকার কর্তৃক, বা সরকারি ব্যবস্থাপনায় বা নিয়ন্ত্রণে, পরিচালিত বিআরটি নির্মাণ, পরিচালনা বা উন্নয়নের জন্য লাইসেন্সের ক্ষেত্রে লাইসেন্স ফিস এর প্রয়োজন হইবে না।
Section ১০. লাইসেন্স হস্তান্তর
(১) কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমোদন ব্যতিরেকে কোনো লাইসেন্স হস্তান্তরযোগ্য হইবে না।
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন কোনো লাইসেন্স হস্তান্তরিত হইলে, যে শর্তে মূল লাইসেন্স ইস্যু করা হইয়াছে সেই একই শর্ত সমভাবে নূতন লাইসেন্স গ্রহীতার উপর বর্তাইবে।
(৩) এই ধারার অধীন লাইসেন্স হস্তান্তর পদ্ধতি বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে।
(৪) এই ধারার বিধান অনুসরণ ব্যতীত কোনো লাইসেন্স হস্তান্তরিত হইলে উহা আইনগতভাবে ফলবলবিহীন (void) হইবে।
Section ১১. বাছাই কমিটি
(১) কর্তৃপক্ষ, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, এই আইনের অধীন লাইসেন্স প্রদান ও নবায়নের উদ্দেশ্যে নির্বাহী পরিচালকের নেতৃত্বে কর্তৃপক্ষ ও সরকারের কর্মকর্তাগণের মধ্য হইতে অনূর্ধ্ব ৭(সাত) জন কর্মকর্তা সমন্বয়ে একটি বাছাই কমিটি গঠন করিবে।
(২) বাছাই কমিটির দায়িত্ব ও কার্যাবলী বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে।
(৩) কর্তৃপক্ষ, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, উপ-ধারা (১) এর অধীন গঠিত বাছাই কমিটির সুপারিশ বিবেচনাক্রমে বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে লাইসেন্স ইস্যু, নবায়ন, স্থগিত বা বাতিল করিবে।
Section ১২. সরকারি -বেসরকারি অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে বিআরটি নির্মাণ, পরিচালনা, উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণ
এই আইনের বিধান সাপেক্ষে, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে বিআরটি নির্মাণ, পরিচালনা, উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণ করা যাইবে।
Section ১৩. প্রবেশাধিকার
বিআরটি নির্মাণ, পরিচালনা, উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণসহ অন্য কোনো কর্মকাণ্ড সম্পাদনের উদ্দেশ্যে লাইসেন্স গ্রহীতা বা তদ্কর্তৃক এতদুদ্দেশ্যে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি যে কোনো সময়, বিধি দ্বারা নির্ধারিত বিধি-নিষেধ সাপেক্ষে, বিআরটি এলাকার পার্শ্ববর্তী কোনো ভূমি বা স্থাপনার ভূতল, সমতল ও উপরিভাগে, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জামসহ, প্রবেশ করিতে পারিবেন।
Section ১৪. নাগরিক সুবিধাদি বন্ধকরণে বিধি-নিষেধ
লাইসেন্স গ্রহীতা বিআরটি এলাকার যে কোনো স্থানে বিআরটি নির্মাণ, পরিচালনা, উন্নয়ন, রক্ষণাবেক্ষণ বা উক্ত উদ্দেশ্যে অন্য কোনো স্থাপনা নির্মাণসহ প্রয়োজনীয় কর্মকাণ্ড পরিচালনার লক্ষ্যে, জরুরি সেবা প্রদানকারী সংস্থার পূর্বানুমোদন ব্যতিরেকে, নাগরিক সুবিধাদি সাময়িক সময়ের জন্য বন্ধ, অপসারণ বা স্থানান্তর করিতে পারিবে না।
Section ১৫. বিআরটি লেনে যানবাহন প্রবেশে বিধি-নিষেধ
(১) বিআরটি লেনে বিআরটি বাস ব্যতীত অন্য কোনো ধরনের যানবাহন প্রবেশ করিতে পারিবে না।
(২) উপ-ধারা (১) এ ভিন্নতর যাহা কিছুই থাকুক না কেন, বিশেষ প্রয়োজনে, কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে, বিআরটি বাস ব্যতীত অন্য কোনো যানবাহন বিআরটি লেনে প্রবেশ করিতে পারিবে।
Section ১৬. সড়ক পথ (Route) নির্ধারণ
(১) কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নির্ধারিত সড়ক পথে বিআরটি বাস পরিচালিত হইবে।
(২) কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমোদন ব্যতীত কোনো ব্যক্তি বিআরটি সড়ক পথের সমান্তরালে কোনো সড়ক পথে বিআরটি বাস পরিচালনা করিতে পারিবেন না।
Section ১৭. কারিগরি মান অনুসরণ
(১) বিআরটি নির্মাণ, পরিচালনা, উন্নয়ন, রক্ষণাবেক্ষণ, নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা ও উহার অবকাঠামোগত সুবিধাদি এবং বিআরটি বাস পরিচালনার ক্ষেত্রে লাইসেন্স গ্রহীতা কর্তৃপক্ষ কর্তৃক, সময় সময়, নির্ধারিত কারিগরি মান সম্পর্কিত নির্দেশনা অনুসরণ করিবে।
(২) কর্তৃপক্ষের নিকট হইতে লিখিত অনুমতি গ্রহণ ব্যতীত লাইসেন্স গ্রহীতা উপ-ধারা (১) এর অধীন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নির্ধারিত কারিগরি মানের কোনোরূপ পরিবর্তন করিতে পারিবে না।
Section ১৮. কর্তৃপক্ষের নিকট প্রতিবেদন দাখিল
(১) বিআরটি এর নিরাপত্তা নিশ্চিত করিবার উদ্দেশ্যে লাইসেন্স গ্রহীতা, বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতি, সময় ও ফরমে কর্তৃপক্ষের নিকট এতদ্সংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিল করিবে।
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন প্রতিবেদনের ভিত্তিতে কর্তৃপক্ষ সময় সময় প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জারি করিতে পারিবে এবং উক্তরূপে কোনো নির্দেশনা জারি করা হইলে লাইসেন্স গ্রহীতা উহা প্রতিপালন করিতে বাধ্য থাকিবে।
Section ১৯. ভাড়া নির্ধারণ
(১) কর্তৃপক্ষ, সময় সময়, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, বিআরটি সেবা বাবদ যাত্রী কর্তৃক প্রদেয় যুক্তিযুক্ত ভাড়ার হার নির্ধারণ করিবে।
(২) উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত ভাড়ার হার নির্ধারণের ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষ ধারা ২০ এর অধীন গঠিত ভাড়া নির্ধারণ কমিটির সুপারিশ বিবেচনা করিবে।
Section ২০. ভাড়া নির্ধারণ কমিটি
(১) কর্তৃপক্ষ, ধারা ১৯ এর অধীন বিআরটি সেবা বাবদ যাত্রী কর্তৃক প্রদেয় ভাড়ার হার নির্ধারণের জন্য সুপারিশ প্রদানের উদ্দেশ্যে, নির্বাহী পরিচালকের নেতৃত্বে ৭(সাত) সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করিবে এবং উক্ত কমিটি বিআরটি ভাড়া নির্ধারণ কমিটি নামে অভিহিত হইবে।
(২) ভাড়া নির্ধারণ কমিটি বিআরটি পরিচালনা ব্যয় এবং জনসাধারণের আর্থিক সামর্থ বিবেচনাপূর্বক কর্তৃপক্ষের নিকট সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন ভাড়ার হার নির্ধারণের সুপারিশ করিবে।
(৩) ভাড়া নির্ধারণ কমিটির সদস্যগণের যোগ্যতা ও ভাড়ার নির্ধারণ পদ্ধতি বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে।
(৪) ভাড়া নির্ধারণ কমিটি কর্তৃক সুপারিশকৃত ভাড়ার হার চূড়ান্ত অনুমোদনের পর উহা যাত্রীদের দৃষ্টিগোচর হয় এমন দৃশীয় স্থানে লটকাইয়া রাখার ব্যবস্থা করিবেন।
(৫) সরকার প্রয়োজন মনে করিলে সময় সময় উক্ত ভাড়ার হার পুনঃনির্ধারণ করিতে পারিবে।
Section ২১. ভাড়া সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ
(১) কর্তৃপক্ষ যাত্রী পরিবহন ভাড়া সংক্রান্ত তথ্য উহার ওয়েব সাইটে এবং বহুল প্রচারিত জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশের ব্যবস্থা গ্রহণ করিবে।
(২) লাইসেন্স গ্রহীতা কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নির্ধারিত যাত্রী পরিবহন ভাড়ার তালিকা বিআরটি স্টেশন এবং বিআরটি বাসের অভ্যন্তরে সহজে দৃশ্যমান হয় এইরূপ স্থানে প্রদর্শন ও সংরক্ষণের ব্যবস্থা করিবে।
(৩) লাইসেন্স গ্রহীতা কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নির্ধারিত ভাড়ার অতিরিক্ত কোনো ভাড়া কোনো যাত্রীর নিকট হইতে আদায় করিতে পারিবে না।
Section ২২. আসন সংরক্ষণ
বিআরটি বাসে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা, প্রতিবন্ধী, মহিলা, শিশু ও প্রবীণদের জন্য নির্ধারিত সংখ্যক আসন সংরক্ষিত থাকিবে।
Section ২৩. পরিদর্শক নিয়োগ
এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে কর্তৃপক্ষ, সাধারণ বা বিশেষ আদেশ দ্বারা, কর্তৃপক্ষের যে কোনো কর্মকর্তাকে পরিদর্শক হিসাবে নিয়োগ প্রদান করিতে পারিবে।
Section ২৪. পরিদর্শকের ক্ষমতা
(১) পরিদর্শক এই আইনের বিধানাবলী বাস্তবায়ন এবং বিআরটি এর লাইসেন্স, যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জামের গুণগতমান, নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও যাত্রী সেবামান ও তদ্সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজনে বিআরটি এলাকার যে কোনো স্থানে প্রবেশ করিতে পারিবেন।
(২) এই আইনের অধীন পরিদর্শনকালে একজন পরিদর্শক লাইসেন্স গ্রহীতার কোনো রেজিস্টার, নথিপত্র, দলিল-দস্তাবেজ, রিপোর্ট-রিটার্ন ও অন্যান্য কাগজপত্র পর্যালোচনা করিয়া ছায়ালিপি সংগ্রহ করাসহ প্রয়োজনে লাইসেন্স গ্রহীতা বা তদ্কর্তৃক নিয়োজিত যে কোনো ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করিতে পারিবেন।
(৩) পরিদর্শক প্রতিটি পরিদর্শন কার্য সম্পন্নের পর এতদ্সম্পর্কে তাঁহার সুপারিশসহ কর্তৃপক্ষের নিকট একটি প্রতিবেদন দাখিল করিবেন।
(৪) কর্তৃপক্ষ উপ-ধারা (৩) এর অধীন প্রাপ্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে উহার বিবেচনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করিবে।
Section ২৫. পরিদর্শককে সহায়তা প্রদান
পরিদর্শক, এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, পরিদর্শনের উদ্দেশ্যে, বিআরটি এলাকার কোনো স্থানে প্রবেশ করিলে তাঁহাকে লাইসেন্স গ্রহীতা বা উক্ত স্থানে তদ্কর্তৃক নিয়োজিত যে কোনো ব্যক্তি পরিদর্শকের চাহিদা অনুযায়ী তথ্য সরবরাহসহ অন্যবিধ যুক্তিসংগত সহায়তা প্রদান করিবে।
Section ২৬. আপিল ও আপিল কর্তৃপক্ষ গঠন
(১) লাইসেন্স গ্রহীতা ধারা ২৪ এর উপ-ধারা (৪) এর অধীন প্রদত্ত আদেশ দ্বারা সংক্ষুব্ধ হইলে, উক্ত আদেশ প্রদানের ৭(সাত) দিনের মধ্যে, আপিল কর্তৃপক্ষের নিকট আপিল করিতে পারিবেন।
(২) সরকার, এই ধারার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, ৫(পাঁচ) সদস্যবিশিষ্ট একটি আপিল কর্তৃপক্ষ গঠন করিবে।
(৩) উপ-ধারা (১) এর অধীন কোনো আপিল দায়ের হইলে উহা দায়েরের ৩০(ত্রিশ) দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করিতে হইবে।
(৪) আপিল দায়ের ও নিষ্পত্তির পদ্ধতি বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে।
Section ২৭. ক্ষতিপূরণ প্রদান
বিআরটি পরিচালনাকালে উহা হইতে উদ্ভূত দুর্ঘটনার ফলে যদি কোনো ব্যক্তি আঘাতপ্রাপ্ত বা ক্ষতিগ্রস্ত হন বা আঘাতপ্রাপ্ত হইয়া মারা যান, তাহা হইলে লাইসেন্স গ্রহীতা উক্ত ব্যক্তি বা, ক্ষেত্রমত, তাহার পরিবারকে, বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতি ও পরিমাণে, ক্ষতিপূরণ প্রদানে বাধ্য থাকিবে।
Section ২৮. আঘাতপ্রাপ্ত ব্যক্তির চিকিৎসা
(১) বিআরটি পরিচালনাকালে উহা হইতে উদ্ভূত দুর্ঘটনার ফলে কোনো ব্যক্তি আঘাতপ্রাপ্ত হইলে লাইসেন্স গ্রহীতা বা তদ্কর্তৃক নিয়োজিত ব্যক্তি আঘাতপ্রাপ্ত ব্যক্তির প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করণার্থ নিকটস্থ চিকিৎসা সেবা কেন্দ্র বা হাসপাতালে প্রেরণের ব্যবস্থা করিবে।
(২) লাইসেন্স গ্রহীতা আঘাতপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে উপ-ধারা (১) এর অধীন চিকিৎসা সেবা প্রদান না করিলে উক্ত ব্যক্তি নিজ উদ্যোগে চিকিৎসা গ্রহণ করিতে পারিবেন এবং তদ্সর্ম্পকিত খরচ প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতি ও পরিমাণে লাইসেন্স গ্রহীতা তাহাকে পরিশোধ করিতে বাধ্য থাকিবে।
Section ২৯. মারাত্মক দুর্ঘটনার রিপোর্ট
বিআরটি পরিচালনাকালে কোনো মারাত্নক দুর্ঘটনা সংঘটিত হইলে লাইসেন্স গ্রহীতা উক্ত দুর্ঘটনা সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে জরুরি সেবা প্রদানকারী সংস্থাকে অবহিত করণপূর্বক উক্তরূপ দুর্ঘটনা সম্পর্কিত বিস্তারিত প্রতিবেদন অনতিবিলম্বে কর্তৃপক্ষের নিকট দাখিল করিবে।
Section ৩০. বিআরটি বাস ও যাত্রীর বাধ্যতামূলক বীমাকরণ
(১) বিআরটি পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রত্যেক লাইসেন্স গ্রহীতাকে বাধ্যতামূলকভাবে বিআরটি বাস, উহাতে যাতায়াতকারী সকল যাত্রী এবং অন্য কোনো ব্যক্তি বা সম্পদের বীমা করিতে হইবে।
(২) কোনো দুর্ঘটনা সংগঠিত হইলে লাইসেন্স গ্রহীতা নিজ উদ্যোগে ও দায়িত্বে ক্ষতিপূরণের দাবি উত্থাপনের ৯০ (নববই) দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট বীমা কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠানের নিকট হইতে ক্ষতিপূরণের অর্থ আদায়পূর্বক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি বা, ক্ষেত্রমত, তাহার পরিবারকে প্রদান করিবে।
Section ৩১. বিআরটি বাস দুর্ঘটনায় তৃতীয় পক্ষের ক্ষতিপূরণ
(১) বিআরটি বাস দুর্ঘটনায় পতিত হইবার কারণে যদি বিআরটি বাস ও উহার যাত্রী ব্যতীত অন্য কোনো ব্যক্তি বা সম্পদের ক্ষতি হয়, তাহা হইলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা সম্পদের মালিক ক্ষতিপূরণের দাবি উত্থাপন করিতে পারিবে।
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা সম্পদের মালিক কর্তৃক ক্ষতিপূরণের দাবি উত্থাপিত হইলে, লাইসেন্স গ্রহীতা, সংশ্লিষ্ট বীমা কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠানের নিকট হইতে ক্ষতিপূরণ আদায়পূর্বক, উক্ত দাবি উত্থাপনের ৯০ (নববই) দিনের মধ্যে, উক্ত ব্যক্তি বা সম্পদের মালিককে প্রদান করিতে বাধ্য থাকিবে।
Section ৩২. লাইসেন্স ব্যতীত বিআরটি নির্মাণ, উন্নয়ন বা পরিচালনার দণ্ড
কোনো ব্যক্তি যদি কর্তৃপক্ষের লাইসেন্স ব্যতীত বিআরটি নির্মাণ, উন্নয়ন বা পরিচালনা বা বিআরটি সেবা প্রদান করেন বা তদুদ্দেশ্যে কোনো যন্ত্রপাতি স্থাপন বা পরিচালনা করেন, তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তির উক্ত কার্য হইবে একটি অপরাধ, এবং তজ্জন্য তিনি অনধিক ১০ (দশ) বৎসর কারাদণ্ড, বা অনধিক ৫০(পঞ্চাশ) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন।
Section ৩৩. অনুমোদন ব্যতিরেকে লাইসেন্স হস্তান্তরের দণ্ড
কোনো ব্যক্তি যদি কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমোদন ব্যতিরেকে লাইসেন্স হস্তান্তর করেন, তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তির উক্ত কার্য হইবে একটি অপরাধ, এবং তজ্জন্য তিনি অনধিক ১০ (দশ) বৎসর কারাদণ্ড, বা অনধিক ৫০(পঞ্চাশ) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন।
Section ৩৪. প্রবেশাধিকারে বাধা প্রদানের দণ্ড
কোনো ব্যক্তি যদি বিআরটি নির্মাণ, উন্নয়ন, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষনসহ অন্য কোনো কর্মকাণ্ড সম্পাদনের জন্য লাইসেন্স গ্রহীতা বা তৎকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তি বা লাইসেন্স গ্রহীতা কর্তৃক নিয়োজিত কোনো ব্যক্তিকে বিআরটি এলাকার পার্শ্ববর্তী ভূমি ও স্থাপনায় যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জামসহ প্রবেশে বেআইনীভাবে বাধা প্রদান করেন, তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তির উক্ত কার্য হইবে একটি অপরাধ, এবং তজ্জন্য তিনি অনধিক ২(দুই) বৎসর কারাদণ্ড, বা অনধিক ১(এক) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন।
Section ৩৫. বিআরটি নির্মাণ, উন্নয়ন, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষনসহ অন্য কোনো কর্মকাণ্ড সম্পাদনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির দণ্ড
কোনো ব্যক্তি যদি আইনানুগ কারণ ব্যতীত বিআরটি নির্মাণ, উন্নয়ন, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষনসহ অন্য কোনো কর্মকাণ্ড সম্পাদনে ইচ্ছাকৃতভাবে বাধা প্রদান করেন বা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন, তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তির উক্ত কার্য হইবে একটি অপরাধ, এবং তজ্জন্য তিনি অনধিক ১(এক) বৎসর কারাদণ্ড, বা অনধিক ২(দুই) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন।
Section ৩৬. অননুমোদিতভাবে বিআরটির সংরক্ষিত স্থানে অনু্প্রবেশের দণ্ড
কোনো ব্যক্তি যদি অননুমোদিতভাবে কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ব্যতীত বিআরটি এর জন্য নির্ধারিত সংরক্ষিত স্থানে বেআইনীভাবে অনুপ্রবেশ করেন বা উক্ত স্থানে প্রবেশের পর উহা ত্যাগ করিবার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি বা তাহার অধীনস্থ ব্যক্তির অনুরোধের পরও উক্ত স্থানে অবস্থান করেন, তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তির উক্ত কার্য হইবে একটি অপরাধ, এবং তজ্জন্য তিনি অনধিক ১(এক) বৎসর কারাদণ্ড, বা অনধিক ২(দুই) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন।
Section ৩৭. বিআরটি বাস ও উহার যাত্রীদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করিবার দণ্ড
কোনো ব্যক্তি যদি বিআরটি বাস ও উহার যাত্রীদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয় বা বিঘ্নিত হইবার সম্ভাবনা থাকে এইরূপ কোনো কর্মকাণ্ড সম্পাদন করেন, তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তির উক্ত কার্য হইবে একটি অপরাধ, এবং তজ্জন্য তিনি অনধিক ৫(পাঁচ) বৎসর কারাদণ্ড, বা অনধিক ২৫ (পঁচিশ) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন।
Section ৩৮. অননুমোদিতভাবে বিআরটি টিকেট বা পাস বিক্রয় অথবা টিকেট বা পাস বিকৃত বা জাল করিবার দণ্ড
কোনো ব্যক্তি যদি অননুমোদিতভাবে বিআরটি টিকেট বা পাস বিক্রয় অথবা টিকেট বা পাস বিকৃত বা জাল করেন, তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তির উক্ত কার্য হইবে একটি অপরাধ, এবং তজ্জন্য তিনি অনধিক ১০(দশ) বৎসর কারাদণ্ড, বা অনধিক ৫০(পঞ্চাশ) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন।
Section ৩৯. বিআরটি বাস বা উহার যন্ত্রপাতি অপব্যবহারের দণ্ড
লাইসেন্স গ্রহীতা কর্তৃক নিয়োজিত কোনো ব্যক্তি যদি বিআরটি বাস বা উহার কোনো যন্ত্রপাতি এইরূপে ব্যবহার করেন যাহাতে উক্ত বাস বা যন্ত্রপাতির ক্ষতি হয় বা উহার কোনো যাত্রীর নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয় বা হইবার সম্ভাবনা দেখা দেয় এবং তাহার দায়িত্ব পালনকালে এইরূপে বিআরটি বাস ও উহার যন্ত্রপাতি ব্যবহার করেন যাহার ক্ষমতা লাইসেন্স গ্রহীতা তাহাকে প্রদান করেন নাই, তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তির উক্ত কার্য হইবে একটি অপরাধ, এবং তজ্জন্য তিনি অনধিক ২(দুই) বৎসর কারাদণ্ড, বা অনধিক ৫(পাঁচ) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন।
Section ৪০. পরিদর্শকের দায়িত্ব পালনে বাধা প্রদান অথবা মিথ্যা ও বিভ্রান্তির তথ্য প্রদানের দণ্ড
কোনো ব্যক্তি যদি পরিদর্শককে এই আইনের বিধান অনুযায়ী তাহার দায়িত্ব পালনে বাধা প্রদান বা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন অথবা মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রদান করেন, তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তির উক্ত কার্য হইবে একটি অপরাধ, এবং তজ্জন্য তিনি অনধিক ২(দুই) বৎসর কারাদণ্ড, বা অনধিক ৫(পাঁচ) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন।
Section ৪১. বীমা না করিবার দণ্ড
কোনো লাইসেন্স গ্রহীতা যদি বিআরটি বাস, উহার যাত্রী বা অন্য কোনো ব্যক্তি বা সম্পদের বীমা না করেন, তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তির উক্ত কার্য হইবে একটি অপরাধ, এবং তজ্জন্য তিনি অনধিক ১০(দশ) বৎসর কারাদণ্ড, বা অনধিক ৫(পাঁচ) কোটি টাকা অর্থদণ্ড, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন।
Section ৪২. টিকেট বা বৈধ পাস ব্যতিরেকে বিআরটি বাস ভ্রমণের দণ্ড
কোনো ব্যক্তি যদি টিকেট বা বৈধ পাস ব্যতিরেকে বা টিকেট বা বৈধ পাসে উল্লিখিত দূরত্বের অধিক বিআরটি ভ্রমণ করেন অথবা ভাড়া এড়ানোর উদ্দেশ্যে অন্য কোনো কৌশল অবলম্বন করেন, তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তির উক্ত কার্য হইবে একটি অপরাধ, এবং তজ্জন্য তিনি ভাড়ার অনধিক ৫(পাঁচ) গুণ পর্যন্ত অর্থদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন, এবং উক্ত অর্থদণ্ড অনাদায়ের ক্ষেত্রে অনধিক ৩ (তিন) মাস কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন।
Section ৪৩. কারিগরি মান অনুসরণ না করিবার দণ্ড
কোনো লাইসেন্স গ্রহীতা যদি কর্তৃপক্ষ কর্তৃক অনুমোদিত কারিগরি মান সম্পর্কিত নির্দেশনা অনুসরণ ব্যতিরেকে বিআরটি নির্মাণ, পরিচালনা, উন্নয়ন রক্ষণাবেক্ষণ, নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা ও উহার অবকাঠামোগত সুবিধাদি বৃদ্ধি করেন এবং বিআরটি বাস পরিচালনা করেন, তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তির উক্ত কার্য হইবে একটি অপরাধ, এবং তজ্জন্য তিনি অনধিক ৫(পাঁচ) বৎসর কারাদণ্ড, বা অনধিক ২৫(পঁচিশ) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন।
Section ৪৪. লাইসেন্স গ্রহীতা কর্তৃক অপরাধ সংঘটনের দণ্ড
কোনো লাইসেন্স গ্রহীতা কর্তৃক এই আইনের অধীন কোনো অপরাধ সংঘটিত হইলে উক্ত অপরাধের সহিত প্রত্যক্ষ সংশ্লিষ্টতা রহিয়াছে লাইসেন্স গ্রহীতার এইরূপ প্রত্যেক কর্মকর্তা ও কর্মচারী উক্ত অপরাধ সংঘটন করিয়াছে বলিয়া গণ্য হইবেন এবং তজ্জন্য উক্ত কর্মকর্তা ও কর্মচারী এই আইনে অন্যান্য বিধানাবলী সাপেক্ষে দণ্ডনীয় হইবেন, যদি না তিনি প্রমাণ করিতে পারেন যে, উক্ত অপরাধ তাহার অজ্ঞাতসারে সংঘটিত হইয়াছে অথবা উক্ত অপরাধ রোধ করিবার জন্য তিনি যথাসাধ্য চেষ্টা করিয়াছেন।
Section ৪৬. অপরাধ পুনঃসংঘটনের দণ্ড
কোনো ব্যক্তি যদি এই আইনে উল্লিখিত কোনো অপরাধের জন্য দণ্ডিত হইয়া দণ্ড ভোগ করিবার পর পুনরায় একই অপরাধ করেন, তাহা হইলে তিনি উক্ত অপরাধের জন্য সর্ব্বোচ্চ যে দণ্ড রহিয়াছে উহার দ্বিগুণ দণ্ডনীয় হইবেন।
Section ৪৫. অপরাধ সংঘটনে সহায়তা, প্ররোচনা ও ষড়যন্ত্রের দণ্ড
কোনো ব্যক্তি যদি এই আইনের অধীন কোনো অপরাধ সংঘটনে সহায়তা করেন বা উক্ত অপরাধ সংঘটনে প্ররোচনা দেন বা ষড়যন্ত্র করেন এবং উক্ত ষড়যন্ত্র বা প্ররোচনার ফলে সংশ্লিষ্ট অপরাধটি সংঘটিত হয়, তাহা হইলে উক্ত সহায়তাকারী, ষড়যন্ত্রকারী বা প্ররোচনা দানকারী উক্ত অপরাধের জন্য নির্ধারিত দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন।
Section ৪৭. অপরাধ বিচারার্থ গ্রহণ
ফৌজদারী কার্যবিধিতে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কর্তৃপক্ষ বা তদকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো কর্মকর্তা বা পরিদর্শক কর্তৃক লিখিত প্রতিবেদন ব্যতীত কোনো আদালত এই আইন বা বিধির অধীন কোনো মামলা বিচারার্থ গ্রহণ করিবে না।
Section ৪৮. ফৌজদারী কার্যবিধির প্রয়োগ
এই আইনের বিধানাবলীর সহিত অসংগতিপূর্ণ না হওয়া সাপেক্ষে, এই আইন বা বিধির অধীন অপরাধের তদন্ত, বিচার, আপিল ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ফৌজদারি কার্যবিধির বিধানাবলী প্রযোজ্য হইবে।
Section ৪৯. মোবাইল কোর্টের এখতিয়ার
এই আইনের অন্যান্য ধারায় ভিন্নরূপ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইনের ধারা ৩৪, ৩৫, ৩৬, ৩৯, ৪০ ও ৪২ এর অধীন অপরাধসমূহ মোবাইল কোর্ট আইন, ২০০৯ (২০০৯ সনের ৫৯ নং আইন) এর তফসিলভুক্ত করিয়া বিচার করা যাইবে।
Section ৫০. ক্ষমতা অর্পণ
সরকার, এই আইনের অধীন যে কোনো ক্ষমতা বা দায়িত্ব সুনির্দিষ্ট শর্তে, নির্বাহী পরিচালক বা কর্তৃপক্ষের যে কোনো কর্মকর্তাকে অর্পণ করিতে পারিবে।
Section ৫১. বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা
এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে।
Section ৫২. প্রবিধান প্রণয়নের ক্ষমতা
এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে কর্তৃপক্ষ, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইন বা বিধির সহিত সংগতিপূর্ণ প্রবিধান প্রণয়ন করিতে পারিবে।
Section ৫৩. ইংরেজিতে অনূদিত পাঠ প্রকাশ
(১) এই আইন প্রবর্তনের পর, সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইনের ইংরেজিতে অনূদিত একটি নির্ভরযোগ্য পাঠ (Authentic English Text) প্রকাশ করিবে।
(২) এই আইনের বাংলা ও ইংরেজি পাঠের মধ্যে বিরোধের ক্ষেত্রে বাংলা পাঠ প্রাধান্য পাইবে।